নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা শুনতে হাইকোর্টে বেঞ্চ সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ১০ জুন এই বেঞ্চ গঠন করে দেন। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত এই বেঞ্চ ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করবে।
বেঞ্চ গঠন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অনুসারে, এই বেঞ্চ আগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুধু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশ কনফার্মেশনের রেফারেন্স এবং একই রায় হতে উদ্ভূত ফৌজদারি বিবিধ ও ফৌজদারি রিভিশন যদি থাকে এবং উল্লেখিত বিষয়াদি সংক্রান্ত রুল,আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অ্যটর্নি জেনারেল সো. রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রধান বিচারপতির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এর ফলে নারী ও শিশু নির্যাতনের যেসব মামলার বিচার নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টে বিলম্ব হচ্ছে এগুলোর বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।
হাইকোর্টের আইনজীবীরাও প্রধানবিচারপতির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তারা বলছেন, বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি হলে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্তা বাড়বে।
উল্লেখ্য, রাজধানীর পল্লবীতে গত ১৯ মে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন তুলে। ক্ষোভে ফেটে পড়ে মানুষ। এই ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ আসাসী সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করে। মামলাটির দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে পাঁচ কার্যদিবস শুনানি শেষে ৭ জুন রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ফাঁসি দেওয়া হয়।
নিয়ম অনুযায়ী বিচারিক আদালতের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আসামীদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু হাইকোর্টে এ ধরনের মামলা কয়েক হাজার বিচারাধীন রয়েছে আর কোনো বেঞ্চও সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকে না। ফলে এসব মামলা নিষ্পত্তি হতে বিলম্ব হয়। চাঞ্চল্যকর অনেক মামলার বিচার নিষ্পত্তি না হওয়ায় জনমনে আস্থাহীনতা দেখা দেয়।
হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠনের ফলে এই শ্রেণির মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হবে এমন প্রত্যাশা করছেন বিচারপ্রার্থীরা


