ঢাকা   , ,     

সর্বশেষ সংবাদ

ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেফতার নিয়ে পুলিশকে সতর্ক করলো হাইকোর্ট, নালিশী মামলা নিয়েও নির্দেশনা

ভুয়া ওয়ারেন্ট এর মাধ্যমে গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধে পুলিশ অফিসারকে সেন্ট্রাল ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানার সত্যতা যাচাই করা এবং পুলিশের আইজিকে এই মর্মে সার্কুলার জারি করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতে নালিশী মামলা দায়েরের সময় বাদি ও আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম এবং বিচারপতি মুরাদ এ মাওলা সোহেল এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সোমবার একটি রিট মামলার শুনানি শেষে  এই রায় ঘোষণা করেন।
ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার মাধ্যমে  ওয়ারেন্ট  ইস্যু করে প্রতিপক্ষকে গ্রেফতার ও হয়রানি করার বিষয় বিভিন্ন মিডিয়ায় রিপোর্ট প্রকাশিত হলে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচ আর পি বি) জনস্বার্থে এই  রিট দায়েরন করেছিলো।
২০১২ সালে গুলশান থানায় জনৈক আরিফ নিয়াজীকে ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেফতার নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে এই রিট দায়ের হয়েছিলো। হাইকোর্ট রুল  জারি করে এবং আরিফ নিয়াজীকে  গ্রেফতারের বিষয়ে গুলশান থানার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছিলো।
আদালত রায়ে বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গেলে কেন্দ্রীয় ডাটা ব্যবস্থাপনা সিস্টেম থেকে সত্যতা যাচাই   করে  তারপরে গ্রেফতারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ।  একই সাথে আদালত  পুলিশের মহাপরিদর্শককে আদালতের নির্দেশনা উল্লেখ করে সার্কুলার ইস্যু করে সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানোর  নির্দেশ দেন।  আদালত অপর এক  আদেশে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশনা দেন, সকল জেলা জজ,  মহানগর জজ, সিজিএম,  সিএমএমসহ বিচারকরা যেনো কোনো নালিশি মামলা দায়েরের  সময় বাদি এবং আইনজীবীর পরিচয়  নিশ্চিত হন। এ জন্য আইনজীবীর পরিচয়পত্র এবং বাদীর  এনআইডির কপি মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করে দিতে হবে এবং পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।
আদালত রায় বলেন যে কোনো নাগরিককে গ্রেফতার করতে হলে ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের যে বিধি বিধান রয়েছে তা অনুসরণ করতে হবে। আদালত বলেন,ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে গ্রেফতার হলে একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন হয়। এই অধিকার  নিশ্চিত করা আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। আদালতের মাধ্যমে মানুষ যাতে হয়রানি না হয় সে জন্য কোনো মামলা দায়ের এবং গ্রেফতারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
আদালতে শুনানিতে এইচ আর পি বি এর পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন গুলশানের একজন নাগরিক আরিফ নিয়াজীকে ২০১২ সালে তার গুলশানের বাসা থেকে এক ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা বলে গ্রেফতার করে  এবং আদালতে সোপর্দ করার পরে তিনি জানতে পারেন তার বিরুদ্ধে একটি ভুয়া মামলা ও ভুয়া ওয়ারেন্ট হয়েছে। যে আদালতে উপস্থাপন করা হয় ওই আদালতের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি হলে সেখানেও প্রমাণিত হয় ভুয়া মামলার মাধ্যমে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে  রিপোর্ট প্রকাশিত হয় যে, ভুয়া  ওয়ারেন্টের মাধ্যমে শত্রুতা হাসিলের জন্য অনেক সাধারন মানুষকে হয়রানি করা হয়। এসব সংবাদ সংযুক্ত করে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ একটি রিট পিটিশন  দায়ের করে এবং এ ধরনের ভুয়া ওয়ারেন্ট ও নালিশি মামলা বন্ধ করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা  চাওয়া হয়।

সরকার পক্ষে ডিএ জি জে আর  খান রবিন রুলের বিরোধিতা করে বলেন ইতিমধ্যে সেন্ট্রাল ডাটা সিস্টেম চালু করা  হয়েছে এবং যার কারণে ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে গ্রেফতারের সুযোগ নেই। তিনি বলেন এই মামলাটা যেহেতু ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ করেনি সুতরাং তার কোনো প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নাই। আদালত এই বক্তব্য গ্রহণ করেন নি।

রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহযোগিতা করেন এডভোকেট মোহাম্মদ ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ,  এডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল এবং এডভোকেট নাসরিন সুলতানা। সরকার পক্ষে ছিলেন ডিএজি জে আর খান রবিন  এবং এ এ জি মোহাম্মদ হুমায়ন হোসেন তুহিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে আলোচিত