ঢাকা   বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩   রাত ২:৪৭ 

Home Blog Page 11

রিফাত হত্যা : মিন্নির জামিন আবেদন শুনতে হাইকোর্টের অপারগতা

0

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন আবেদন শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার জামিন আবেদনটি শুনতে অপারগতা জানান।
আদালতে মিন্নির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সৈয়দা নাসরিন ও অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল। পরে জামিউল আহসান ফয়সাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত মিন্নির জামিন আবেদন শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। বেঞ্চের কনিস্ট বিচারপতি আবেদনটি শুনতে চাননি। পরে আবেদন ফেরত দেন। আমরা এখন হাইকোর্টের অন্য কোনো বেঞ্চে জামিন আবেদনটি শুনানির জন্য উত্থাপন করব।’ গত ১৬ অক্টোবর বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন।

২০১৯ সালের ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজ রোডের ক্যালিক্স একাডেমির সামনে স্ত্রী মিন্নির সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে জখম করে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীর সহযোগীরা। গুরুতর অবস্থায় রিফাতকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাত মারা যান।
এরপর রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ডকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও পাঁচ/ ছয়জনের বিরুদ্ধে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় প্রথমে মিন্নিকে প্রধান সাক্ষী করেছিলেন নিহত রিফাতের বাবা। পরে ২০১৯ সালের ২ জুলাই ভোরে জেলা সদরের বুড়িরচর ইউনিয়নের পুরাকাটা ফেরিঘাট এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রধান আসামি নয়ন বন্ড (২৫) নিহত হন।
হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন পর ওই বছরের ১৬ জুলাই মিন্নিকে তার বাবার বাসা থেকে বরগুনা পুলিশ লাইনে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ হত্যায় তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে মনে হওয়ায় ওই দিন রাতেই মিন্নিকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। পরে একই বছরের ২৯ আগস্ট হাইকোর্ট মিন্নিকে জামিন দেন। ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক—দুই ভাগে বিভক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জন রয়েছেন। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।
পরে সাক্ষ্য গ্রহণ, যুক্তিতর্ক শেষে ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। রায়ে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মধ্যে ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি ছয় আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার দণ্ডেও দণ্ডিত করেন। বাকি চারজনকে খালাস দেয়া হয়।

ম্যুরালে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এমপির ছবি: ৭ দিনের মধ্যে সরাতে বলেছে হাইকোর্ট

0

ম্যুরালে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবির সঙ্গে নিজের ছবি যুক্ত করে দিয়েছিলেন সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। শুধু তিনিই নন, তার ভাই উপজেলা চেয়ারম্যান মোজাম্মলে হোসেন রুকনের ছবিও যুক্ত করে দেন। থাকা অন্য ছবি সরাতে সাত দিনের সময় দিয়েছেন আদালত। সম্প্রতি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় সরকারিভাবে নির্মিত ম্যুরালের মূল নকশা পরিবর্তন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবির নিচে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও তার ভাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রুকনের ছবি যুক্ত করা হয়।
গত রোববার এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। এ ঘটনায় আদালত বলেন, ‘এটা তো গুরুতর অসদাচরণ।’ এ সময় সাত দিনের মধ্যে এসব ছবি অপসারণ করতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন আদালত।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে দেশের ৬১টি জেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’-এর ম্যুরাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এডিপির অর্থায়নে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এই ম্যুরাল নির্মাণ করা হয়। এতে ম্যুরালের মূল নকশা পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবির সঙ্গে স্থানীয় এমপি ও তার ভাইয়ের ছবি জুড়ে দেওয়া হয়।
এই ছবি কেন যুক্ত করা হয়েছে, তার ব্যাখ্যা চেয়ে ম্যুরাল নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রানা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. ইজাজুর রহমান রানাকে চিঠি দেন সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান। এরপর এ ঘটনায় হাইকোর্টে রিট করেন মধ্যনগরের অধিবাসী রাসেল আহম্মেদের স্ত্রী আওয়ামী লীগ নেত্রী সাজেদা আহম্মেদ। সূত্র-দৈনিক কালবেলা।

বিরোধে জড়িয়ে যাচ্ছেন আইনজীবী ও বিচারকরা

0

দেশের অধস্তন তথা বিচারিক আদালতে চার মাসে চারটি ঘটনায় দেখা গেছে, বিচারকদের সঙ্গে আদালতেই বাদানুবাদ-কলহবিবাদে জড়িয়ে পড়েছেন আইনজীবীরা। এমনকি রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটরও (পিপি) জড়িয়েছেন এমন অপ্রীতিকর ঘটনায়। তাঁদের বিরুদ্ধে এজলাসেই বিচারকদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে।
সর্বশেষ গত ২ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর এজলাসে হট্টগোল, বিচারক ও আদালতের কর্মচারীদের ‘গালিগালাজ ও অশালীন আচরণের’ ঘটনা ঘটে। দুই বিচারক ও একজন নাজিরের অপসারণ চেয়ে আইনজীবীরা গত বৃহস্পতিবার থেকে কার্যদিবস আদালত বর্জন করেছেন; বঞ্চিত করেছেন বিচারপ্রার্থী নাগরিকদের। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ তিনজনকে আগামী ১৭ জানুয়ারি হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ৫ জানুয়ারি আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।
এর আগে বিদায়ী বছরের শেষ তিন মাসে অনুরূপ আরও তিনটি ঘটনার নজির আছে, যার দুটিতে সংশ্নিষ্ট আইনজীবীরা হাইকোর্টে ক্ষমা চেয়ে নিস্কৃতি পেয়েছেন। এর একটিতে পিরোজপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর মো. নোমান গত ১৯ সেপ্টেম্বর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) খান মো. আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে খারাপ আচরণের অভিযোগ এনে সুপ্রিম কোর্টের
রেজিস্ট্রার জেনারেলকে চিঠি দেন। পরে প্রধান বিচারপতি লিখিত অভিযোগটি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে পাঠান। আলাউদ্দিনকে ১৫ নভেম্বর হাইকোর্টে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল। তিনি আদালতে হাজির হয়ে ক্ষমার আবেদন করেন।
অপরটিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর খুলনা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের সাবেক বিচারক (বর্তমানে যুগ্ম জেলা জজ) নির্মলেন্দু দাশের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনায় খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলামসহ তিন আইনজীবীর বিরুদ্ধে নালিশ জানিয়ে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দেওয়া হয়। পরে সাইফুল ইসলামসহ তিন আইনজীবীকে তলব করেন হাইকোর্ট। তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুলও জারি করা হয়। ২৩ নভেম্বর হাইকোর্টে হাজির হয়ে ক্ষমা চাইলে তা মঞ্জুর করা হয়।
অধস্তন আদালতের একাধিক বিচারক বলেছেন, বিচারকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনায় কারও শাস্তি না হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটে চলছে।
গত নভেম্বর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জজ শারমিন নিগারের বিরুদ্ধে আইনজীবীরা ‘আদালতে দুর্নীতি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করার অভিযোগে’ তাঁর অপসারণ দাবি করে আসছেন।
এ ছাড়া গত দুই বছরে ঝিানইদহ, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারকদের সঙ্গে আইনজীবীদের বাদানুবাদের ঘটনা ঘটেছে। বর্জন করা হয়েছে সংশ্নিষ্ট আদালতের বিচারকাজ।
বিচার ব্যবস্থায় বার (আইনজীবী) ও বেঞ্চের (বিচারক) সুসম্পর্ক অতীব গুরুত্বপূর্ণ। আইনজীবীদের ভূমিকার জন্য বিচারকরা আইনের সঠিক প্রয়োগের সুযোগ পান, বিচারপ্রার্থীরাও সহায়তা পান। কোনো রায় ও আদেশ নিয়ে বিচারপ্রার্থী বা আইনজীবীদের ভিন্নমত থাকলে সংক্ষুব্ধরা সংশ্নিষ্ট আদালতে আইন অনুযায়ী অনাস্থা আবেদন করতে পারেন। এতে মামলাটি পরে অন্য আদালতে নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। আর প্রশাসনিক কোনো বিষয়ে ভিন্নমত থাকলে সংশ্নিষ্ট বিচারকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, অর্থাৎ জেলা জজ বা সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানানোর সুযোগ রয়েছে। তার পরও অঘটন ঘটছে।
২০২০ সালের ৩ মার্চ পিরোজপুর-১ আসনে সাবেক এমপি এ কে এম এ আউয়াল ও তাঁর স্ত্রী লায়লা পারভীনকে জামিন না দেওয়ার ঘটনায় জেলার সংশ্নিষ্ট বিচারকের সঙ্গে আইনজীবীদের অশোভন আচরণের ঘটনা ঘটে। শতাধিক ‘আইনজীবীদের তোপের মুখে’ ওই দিন দুপুরে জেলার সংশ্নিষ্ট জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল মান্নানকে বদলি করে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরে জেলার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ নাহিদ নাসরিনকে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ওই দিন বিকেলেই এ কে এম এ আউয়াল ও তাঁর স্ত্রী লায়লা পারভীনকে জামিন দেন। এ ঘটনা দেশবাসীকে স্তম্ভিত করে।
গত ২৭ ডিসেম্বর দেশের জেলা জজদের উদ্দেশে দেওয়া অভিভাষণে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, ‘আইনজীবীদের কোনো অন্যায় দাবির কাছে মাথা নত করবেন না। বিচারকদের সুশৃঙ্খলভাবে আদালত পরিচালনা করতে হবে।’
বিচারকরা চাকরিবিধি অনুযায়ী গণমাধ্যমে সরাসরি কথা বলতে না পারলেও তাঁদের কয়েকজন একান্ত আলাপে বলেছেন, বিভিন্ন জেলা আইনজীবী সমিতির প্রভাবশালী আইনজীবীদের কেউ কেউ ক্ষমতার দাপট দেখাতে অভ্যস্ত। তাঁদের সিদ্ধান্তের বাইরে আদেশ হলে আদালতেই তাঁরা হৈ-হট্টগোল শুরু করেন। বিচারকরা সিদ্ধান্তে অটল থাকলে দেখা গেছে, দুর্নীতি-অনিয়ম ধরনের অভিযোগ এনে সমিতিগুলো আদালত বর্জনের প্রস্তাব গ্রহণ করে। কখনও কখনও নামে-বেনামে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) মিথ্যা বা হয়রানিমূলক অভিযোগ পাঠানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে জেলা আদালতে অনেক বিচারক দায়িত্ব পালনে তটস্থ থাকেন।
জানতে চাইলে অধস্তন আদালতের বিচারকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন’-এর মহাসচিব (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মজিবুর রহমান বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনার একটি ভিডিওতে যা তাঁরা দেখেছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি বলেন, ‘কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তার ভাষা এটা হতে পারে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো যেত। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
তবে এ ধরনের ঘটনার জন্য বিচার ব্যবস্থার পদ্ধতিগত ত্রুটিও দায়ী বলে মনে করেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহ্‌দীন মালিক। তিনি সমকালকে বলেন, ‘দেশে প্রতিবছর গড়ে ১৫ লাখ মামলা দায়ের হচ্ছে। বিচারকাজ করছেন গড়ে সাড়ে ১ হাজার ৮০০ বিচারক। সেই হিসাবে বিচারকপ্রতি মামলা প্রতিবছর দায়ের হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০। অর্থাৎ, বিচারকরা প্রচণ্ড চাপে থাকেন। অন্যদিকে, গত ১০-১২ বছরে আইনজীবীর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। ফলে আইনজীবীদের বছরে গড় মামলাও অনেকটা কমেছে।
আবার বার কাউন্সিলও (আইনজীবীদের সনদ প্রদানকারী সরকারি সংস্থা) আইনজীবীদের সনদ দেওয়ার ব্যাপারে মান বজায় রাখতে পারছে না। তুলনামূলক কম দক্ষতাসম্পন্ন আইনজীবীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। ফলে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের ওপর নানাভাবে অহেতুক চাপ তৈরি হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে বিচারকাজ এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। এর প্রতিফলন ঘটছে বিচারক ও আইনজীবীদের প্রকাশ্যে তির্যক বাদানুবাদের মধ্য দিয়ে।’ তাঁর মতে, জেলা বারের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সার্বক্ষণিক পদ হিসেবে তাঁদের পদে থাকা অবস্থায় আইন পেশা থেকে বিরত থাকা উচিত। এটাই উন্নত ও গণতান্ত্রিক দেশের রেওয়াজ।
গত ২ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ ফারুকের এজলাসে হট্টগোলের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পরে সংশ্নিষ্ট বিচারকের পক্ষ থেকে বিষয়টি লিখিত আকারে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে জানানো হয়। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে অভিযোগের বিষয়টি বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠান সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল। এরই ধারাবাহিকতায় ৫ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তানভীর আহমেদ ভূঞা, সম্পাদক (প্রশাসন) মো. আক্কাস আলী ও জুবায়ের ইসলামকে তলবসহ রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ১৭ জানুয়ারি তাঁদের আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।সূত্র-দৈনিক সমকাল।

হাজী সেলিমের জামিন

0

দুর্নীতির মামলায় ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে জামিন দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে ১০ বছর দণ্ডের বিরুদ্ধে হাজী সেলিমকে আপিলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। দুদকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশিদ আলম খান।
২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলায় ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল তাকে দুই ধারায় ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। ২০০৯ সালের ২৫ অক্টোবর এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন হাজী সেলিম। ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক রায়ে তার সাজা বাতিল করেন। পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। ওই আপিলের শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টের রায় বাতিল করে পুনরায় শুনানির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।
সে অনুসারে শুনানি শেষে ২০২১ সালের ৯ মার্চ বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন। রায়ে ১০ বছরের দণ্ড বহাল থাকলেও তিন বছরের সাজা থেকে খালাস পান হাজী সেলিম। একইসঙ্গে রায় পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়।
চলতি বছরের ৯ মার্চ এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। রায়ে ৩০ দিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। এসময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় থাইল্যান্ডের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন হাজী সেলিম। আদালতের দণ্ড মাথায় নিয়ে হাজী সেলিম দেশ ছাড়ায় শুরু হয় বিতর্ক।
এরপর ৫ মে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দেশে ফেরেন হাজী সেলিম। দেশে ফিরেই লালবাগে তার নির্বাচনী এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দার জানাজায় অংশ নেন। পরে লালবাগ থেকে আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে স্ত্রীর কবর জিয়ারত করেন তিনি।
২২ মে হাইকোর্টের রায় অনুসারে আত্মসমর্পণ করার পর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক শহিদুল ইসলাম তার জামিন নামঞ্জুর করেন। এসময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে কারাগারে ডিভিশন ও সুচিকিৎসার আবেদন জানান। বিচারক কারাবিধি অনুযায়ী জেল কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। ২৪ মে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় দণ্ডের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন। একইসঙ্গে জামিন আবেদনও করেছিলেন হাজী সেলিম।

হিযবুত তাহরীর ৬ জঙ্গিকে ধরিয়ে দিতে সহায়তা চায় পুলিশ

0

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘হিযবুত তাহরীর’ পলাতক ৬ জঙ্গিকে ধরিয়ে দিতে বা তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিট। বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন এন্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার (মিডিয়া অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস উইং) মোহাম্মদ আসলাম খান।
এন্টি টেররিজম ইউনিট জানিয়েছে, বাংলাদেশে চলমান বেশকিছু উগ্রবাদী ও জঙ্গি সংশ্লিষ্ট সংগঠনের মধ্যে সরকার বিভিন্ন সময়ে ৮টি জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ‘হিযবুত তাহরীর’ অন্যতম। এই সংগঠনটিকে ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘হিযবুত তাহরীর’র বেশ কিছু সক্রিয় সদস্য ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অনলাইনে একটি সমাবেশ করেন।
তাদের ভাষ্যমতে, খিলাফত রাষ্ট্রের সংবিধান কীভাবে জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করবে, খিলাফত রাষ্ট্রের সংবিধান কীভাবে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও উন্নত অবকাঠামো নিশ্চিত করবে, খিলাফতে রাশিদাহ অতি সন্নিকটে এবং আসন্ন খিলাফত রাষ্ট্র কীভাবে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করবে সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। ওই সময় মো. ফয়সাল সেই অনলাইন সমাবেশে কোরআন তিলাওয়াত করেন। পরবর্তীতে আবারও ২০২০ সালের ১৬ অক্টোবর অনলাইনে সমাবেশ করে সংগঠনটি। সেই সমাবেশে মো. আবু জায়িদ বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি আজ এই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে কেন?’ এই বিষয়ে প্রায় ৩০ মিনিট বক্তব্য দেন তিনি।
আব্দুর রহমান তার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলেন, ‘ধ্বংসপ্রায় অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এবং নেতৃত্বশীল অর্থনীতি প্রতিষ্ঠায় আসন্ন খিলাফত রাষ্ট্রের নীতিমালা’ নিয়ে প্রায় ৩৩ মিনিট আলোকপাত করেন। পরে প্রায় ২৩ মিনিট ধরে ‘খিলাফতে রাশিদাহ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে বাধাসমূহ ও সেগুলো উত্তরণে জনগণের প্রতি তাদের দিকনির্দেশনা দেন মো. ইমাদুল আমিন। এদিন অনলাইন সমাবেশে কোরআন তিলাওয়াত করেন হাফিজ আল রাজি।
এন্টি টেররিজম ইউনিট আরও জানায়, এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘হিযবুত তাহরীর’র উগ্রবাদী কার্যক্রম প্রচারের জন্য মো. আবু জায়িদ (৩৫ থেকে ৪০), শিবলি আহম্মেদ (৪০ থেকে ৪৫), মো. ইমাদুল আমিন (৪০ থেকে ৪৩), মো. ফয়সাল (২২ থেকে ২৬), আ. রহমান (২৫ থেকে ৩০) এবং হাফিজ আল রাজি (৩০ থেকে ৩৫) এর বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করা হয়। মামলার পরই আসামিরা বিভিন্ন অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপনে চলে যান।
এ বিষয়ে এন্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার (মিডিয়া অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস উইং) মোহাম্মদ আসলাম খান বলেন, ‘গুলশানে দায়ের হওয়া মামলার আসামিরা দেশ থেকে চলমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে উচ্ছেদ করে যে কোনো মূল্যে কথিত ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশ রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, ভীতি ও দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্নভাবে পরিকল্পনা করে আসছে। এ ছাড়া তারা সাধারণ জনগণকে তাদের সংগঠনের প্রতি এবং উগ্রবাদী কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে সাইবার স্পেস ব্যবহারের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মামলাটির তদন্ত সম্পন্ন ও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর পলাতক জঙ্গিদের আসল নাম, ঠিকানা শনাক্তকরণের জন্য এবং তাদেরকে আইনে সোপর্দ করার জন্য সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।’সূত্র-দৈনিক কালবেলা।

মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি করে দিলো হাইকোর্ট

0

স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ঝুঁকি বিবেচনায় মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশনের আন্তর্জাতিক মাত্রা ১০ শতাংশের এক শতাংশ নির্ধারণ করা যৌক্তিক কিনা, সে বিষয়ে মতামত জানতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
চার মাসের মধ্যে এ কমিটিকে মতামত দিতে বলেছে উচ্চ আদালত।
মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) আবেদনে সোমবার (১৪ নভেম্বর) এ আদেশ দেন বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
সাত সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক সদস্য মো. কামরুজ্জামানকে।
সদস্য সচিব করা হয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পরিচালক মো. গোলাম রাজ্জাককে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।
পরে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, যেসব দেশের ভিত্তিতে বিকিরণমাত্রা প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৪ দশমিক ৫ ওয়াট করা হয়েছে সেসব দেশ শীত প্রধান। সেখানে জনবসতি কম। কিন্তু বাংলাদেশ উষ্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ।
ভারতে একটি রায়ের পর আন্তর্জাতিক মাত্রা নির্ধারণের পর নিজের দেশের প্রেক্ষাপটে মাত্রা দশমিক ৪৫ মাত্রা অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মাত্রার ১০ শতাংশের এক শতাংশ করেছে। কিন্তু আমাদের দেশে তা করা হয়নি।
মোবাইল টাওয়ার বিকিরণের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন হলে সেসব প্রতিবেদন যুক্ত করে মোবাইল ফোন টাওয়ারের রেডিয়েশন নিঃসরণ নিয়ে ২০১২ সালে হাইকোর্টে রিট করে পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। এ রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে।
ওই বিশেষজ্ঞ কমিটি ঢাকার মতিঝিল, গুলশান ও মিরপুর এলাকায় ছয়টি মোবাইল কোম্পানির ১৮টি টাওয়ারের বিকিরণ পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করে ২০১৩ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে তিন দফা সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব টাওয়ারের মধ্যে মাত্র একটি টাওয়ারে মাত্রাতিরিক্ত রেডিয়েশন পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের দেয়া নির্দেশনার আলোকে বিটিআরসি নীতিমালা করে। পরবর্তীতে আদালতের দেয়া আদেশে কয়েক দফা এ নীতিমালা সংশোধন করে বিটিআরসি। এ প্রেক্ষাপটে মামলাটি চলমান রেখে ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল রায় দেন উচ্চ আদালত। রায়ে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বিকিরণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলেন আদালত।
বিটিআরসি সম্ভাব্যতা যাচাই না করে নীতিমালা চূড়ান্ত করে তা আদালতে দেয়। বিটিআরসির চূড়ান্ত নীতিমালায় বিকিরণের মাত্রা আগের মতো রাখা হয়। পরে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মত নিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। সূত্র- বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

২০২৩ সালের মাঝামাঝি শ্রম আইন সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে; জেনেভায় আইএলওর সভায় আইনমন্ত্রী

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি নাগাদ বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং সংশোধিত এ শ্রম আইন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতেও প্রযোজ্য হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন এবং বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন দুটির মধ্যে কোনটি- নতুন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে প্রয়োগ হবে তা নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি ঘোষণা করেন, সংশোধিত বাংলাদেশ শ্রম আইনই বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে প্রয়োগ হবে।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) গভর্নিং বডির ৩৪৬তম অধিবেশনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে একথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ।
আইন মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন্স অফিসার ড. মো. রেজাউল করিম সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ অধিবেশনে অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দিচ্ছেন। প্রতিনিধি দলে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. এহছানে এলাহী, সুইজারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মো. সুফিউর রহমান এবং অতিরিক্ত শ্রম সচিব জেবুন্নেছা করিমও অংশ নিয়েছেন।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, কোভিড-১৯ অতিমারির প্রভাবে বিশ্বব্যাপী কর্মক্ষেত্রগুলো কঠিন সময় অতিক্রম করছে। বিশ্বের বিভিন্ন অংশে রাজনৈতিক সংকটের কারণে এটি আরও প্রকট হয়েছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়৷ এই ধরনের দুর্দশার মধ্যে, বাংলাদেশ আইএলও কনস্টিটিউশনের ২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিষ্পত্তির জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে৷ গত মার্চ মাসে আইএলও’র গভর্নিং বডির সভায় প্রতিবেদন দাখিল করার পর প্রায় সাত মাসে বাংলাদেশ সরকার রোডম্যাপ বাস্তবায়নে লক্ষ্যণীয় অগ্রগতি সাধন করেছে। সরকার দেশের সামগ্রিক শ্রম পরিস্থিতির সুষমভাবে উন্নতি করতে রোডম্যাপের চারটি ক্লাস্টারে অগ্রগতি সুরক্ষিত করার চেষ্টা করেছে। আইনমন্ত্রী বলেন, করোনার অতিমারির সময় লকডাউন, কর্মঘণ্টা সংক্ষিপ্তকরণসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শ্রম অধিকার বিষয়ক আইনি সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণে বাংলাদেশ সরকার অবিচল ছিলো। সরকার ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা সংশোধন করেছে এবং বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। এই প্রক্রিয়ায় আইএলও বিশেষজ্ঞ কমিটির পর্যবেক্ষণকে যথাযথ বিবেচনা করা হয়েছে। আইএলও-কে আশ্বস্ত করে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনি সংস্কারের পরবর্তী ধাপ হিসেবে শ্রম আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে৷ এবিষয়ে এখন পর্যন্ত ১৭টি স্টেকহোল্ডারের কাছ থেকে সংশোধনী প্রস্তাব পাওয়া গেছে৷ ত্রিপক্ষীয় ওয়ার্কিং গ্রুপ গুরুত্ব সহকারে এ সংশোধনী প্রস্তাবগুলো সংকোলনের কাজ করছে। তিনি জানান, ত্রিপক্ষীয় শ্রম আইন পর্যালোচনা কমিটি সংকলিত সুপারিশ/প্রস্তাবগুলোর ওপর আরও আলোচনা-পর্যালোচনা করবে এবং জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ কাউন্সিলের অনুমোদন চাইবে। আশা করি, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি নাগাদ বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং সংশোধিত এ শ্রম আইন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলেও প্রযোজ্য হবে। ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, অধিকতর জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়াটিকে পুরোপুরি ডিজিটাইজড করা হয়েছে। শ্রম অধিদপ্তর তার চারটি শিল্প সম্পর্কিত ইনস্টিটিউট এবং ৩২টি শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের সহায়তায় শ্রমিক ও নিয়োগকর্তাদের ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এবিষয়ে সহায়তা করার জন্য শ্রম অধিদপ্তরে একটি প্রি-অ্যাপলিকেশন সার্ভিস চালু করা হয়েছে। প্রয়োজনে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে। রোডম্যাপের সাথে সামঞ্জস্য রেখে শ্রম পরিদর্শন এবং প্রয়োগকে শক্তিশালী করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা উল্লেখ করে মি. হক বলেন, শ্রম খাতে গুণগত পরিবর্তন আনতে দেশি-বিদেশি সামাজিক অংশীদার এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গভর্নিং বডির ৩৪৪ তম অধিবেশনে আইএলও’র মহাপরিচালকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আইএলও কনভেনশন ১৩৮ অনুসমর্থনের দলিল হস্তান্তর করার কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতেও বাংলাদেশ সরকার ‘জবরদস্তি শ্রম সম্পর্কিত আইএলও কনভেনশন, ১৯৩০’ এর প্রটোকল ২৯ অনুসমর্থন করেছে। স্পষ্টতই, এগুলো আইএলও শ্রম মানদণ্ডের প্রতি আমাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির প্রদর্শন।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষার নির্দেশ হাইকোর্টের

0

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং সেখানে আর কোনো স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (৯ নভেম্বর) বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে আদালত অবমাননার আবেদন নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেন।
শুনানির সময় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে, প্রশাসন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকায় অবৈধভাবে নির্মিত ৪১৭টি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসককে আজই একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) দায়ের করা আদালত অবমাননার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশ দিয়েছেন।
শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মুরসেদ এবং কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন ফকির।
আইনজীবী মনজিল মুরসেদ জানান, হাইকোর্ট ২০১১ সালের ৭ জুন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ঝিলোঞ্জা, সুগন্ধা ও লাবনী এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। কিন্তু তারা হাইকোর্টের রায় সঠিকভাবে বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেননি, যা আদালত অবমাননার সমতুল্য।

প্রতিটি বিভাগে বিকেএসপি করার ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

0

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাজয়ী বাংলাদেশ দলের প্রত্যেক সদস্যকে পাঁচ লাখ ও কোচিং স্টাফদের দুই লাখ টাকা করে আর্থিক পুরস্কার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে শিরোপাজয়ীদের সংবর্ধনা ও আর্থিক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ পুরস্কার তুলে দেন।
এ সময় লেখাপড়ার পাশাপাশি সন্তানদের খেলাধুলায় আগ্রহ করে তুলতে অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া প্রতিটি বিভাগে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) করার ঘোষণাও দেন তিনি। ক্রীড়াক্ষেত্রে ভালো ফলাফলের জন্য প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৯৬ সালে সরকার গঠন করার পর থেকে এদিকে যেমন জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, অন্য দিকে খেলাধুলায় যাতে আরও উন্নতি হয় সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিই। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল প্রথমবারের মতো আইসিসি ট্রফি পায়। ‘৯৮ সালে মিনি বিশ্বকাপের সফল আয়োজন আমরা করেছিলাম। আইসিসিতে যখন আমাদের ক্রিকেট দল জিতে আসে তখন বিরাট সংবর্ধনাও দিয়েছিলাম যাতে মানুষ উৎসাহিত হয়।
দুর্ভাগ্য যে, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর ক্রীড়াঙ্গনে আবার একটা কলঙ্কজনক অধ্যায় চলে আসে। বিকেএসপিকে উন্নত করা, খেলার মানের উৎকর্ষতা সাধন, বিশেষ করে মেয়েদের ফুটবল খেলা; প্রমীলা ফুটবল টিম গঠন করে এই প্রতিযোগিতা আমরা শুরু করি। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশের একটি অঞ্চলে এই খেলা তখন হতে দেয়নি—মেয়েরা আবার খেলবে কেন? এ রকম প্রচণ্ড বাধা আসে। আমরা বাধ্য হয়েছিলাম রাজশাহীতে বন্ধ করে দিতে। এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। ২০০৯-এ সরকারে আসার পরে আমি শুরু করি প্রাইমারি থেকে প্রতিযোগিতা। স্কুলে স্কুলে যদি প্রতিযোগিতা হয় তাহলে এর মধ্য দিয়ে ভালো খেলয়াড় তৈরি হয় এবং আস্তে আস্তে তারা জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসে। আজকে সেটাই হচ্ছে। এখানে না বলে পারি না, আমাদের ছেলেরা যা পারে না মেয়েরা তার থেকে বেশি পারে। শুনলে আবার ছেলেরা রাগ করবে, রাগ করার কিছু নেই-ছেলেদের প্রতিযোগিতা একটু বেশি। তাও আমি বলবো, আমাদের মেয়েরা যথেষ্ট ভালো করছে—বলেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় নারীদের ক্রিকেট ও ফুটবল উন্নয়নে সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এই ১৪ বছরে আমাদের ক্রীড়াঙ্গনে যথেষ্ট উৎকর্ষ সাধন হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড যারা, অটিস্টিক, প্রতিবন্ধী, তাদেরকেও উৎসাহিত করছি আমরা। কারণ সবার জন্য ক্রীড়া এই নীতিতে বিশ্বাস করি আমরা। তারা পিছিয়ে থাকবে কেন?
তাদের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলও কিন্তু ভালো করছে। প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৮টি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে সব কটায় তারা চ্যাম্পিয়ন। প্রতিবন্ধীদের জন্য জাতীয় সংসদ ভবনের পাশে যে প্রায় সাড়ে ৪ একর জায়গা আছে সেখানে বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য মিনি স্টেডিয়াম করে দিচ্ছি। আসলে ওটা সমাজ কল্যাণেরই জায়গা ছিল। এক সময় সেখানে মুক ও বধির স্কুল ছিল। তাছাড়া আমরা তাদের জন্য একটা অ্যাকাডেমিও করে দিচ্ছি।
শিশুদের খেলার প্রতি মনোযোগ দিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকার বাচ্চারা ফ্ল্যাটে থেকে ফার্মের মুরগির মতো হয়ে যাচ্ছে। খেলাধুলায় যায়-ই না। এটা হলো বাস্তব কথা। এখন তো ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি, সারাক্ষণ হয় মোবাইল ফোন না হয় ট্যাব নিয়ে বসে থাকে। কাজেই ফিজিক্যাল চর্চা হচ্ছে না। কিন্তু এটা খুবই দরকার। প্রত্যেকটা অভিভাবকদের আমি অনুরোধ করবো, অন্তত কিছুক্ষণ হলেও আপনারা আপনাদের বাচ্চাদের খেলাধুলার দিকে নজর দিন। তাদের খেলতে নিয়ে যান।
প্রত্যেকটা ব্যবসায়ী-শিল্পকারখানার মালিকদের আমি আহ্বান করি, প্রত্যেকে যেন আমাদের খেলোয়াড়দের চাকরি দেয়, কাজ দেয়। হিজড়া-প্রতিবন্ধীদের যদি তারা চাকরি দেয় তাহলে কর মওকুফ করা হয়। সেইসঙ্গে আমি বলবো, তাদের উচিত খেলোয়াড়দেরও কাজ দিয়ে উৎসাহিত করা। প্রত্যেকে নিজস্ব টুর্নামেন্টও করতে পারে। নিজেদের টিম তৈরি করতে পারে। আগে তো তাই করতো, শুধু সরকার থেকে করবে কেন! যত বেশি প্রতিযোগিতা হবে ততবেশি আমাদের খেলাধুলায় উৎকর্ষতা বাড়বে। আর যারা খেলাধুলা শেষ করে ব্যবসা করে বেশ টাকা-পয়সার মালিক হচ্ছে তাদের তো উচিত এদিকটা আরও বেশি করে দেখা, বলেন শেখ হাসিনা।

বহু বিষয়ে অগ্রগতি নেই, তবে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের যোগদান আশাপ্রদ : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

0

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে বিশ্বকে রক্ষায় উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি, আন্ত:দেশীয় প্রযুক্তিগত সহযোগিতাসহ নানা ক্ষেত্রে তেমন অগ্রগতি না হওয়ার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি এবার কপ-২৭ সম্মেলনে বহু বিশ্ব নেতৃবৃন্দের যোগদানকে আশাব্যঞ্জক বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
মিশরের শান্তির নগর বলে খ্যাত শারম আল শায়খ শহরে ৬ নভেম্বর থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলমান বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের ২৭তম আসরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে যোগদানরত ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এ বছরের সম্মেলনে পৃথিবীর বহু দেশের রাষ্ট্র প্রধান ও সরকার প্রধানরা অংশগ্রহণ করছেন। যেটি প্যারিসে, কোপেনহেগেনে হয়েছিল, কিন্তু গত কয়েকটি কপে হয়নি। এটি আশার কথা। কারণ রাষ্ট্র প্রধান ও সরকার প্রধানরা যখন অংশ নেন তখন গ্লোবাল কমিউনিটি বা বিশ্বসমাজ, পরিবেশকর্মী এবং আমাদের মতো হার্ড-ভিক্টিম বা সর্বাধিক ভুক্তভোগীদের কথা তাদের কানে যায়। ফলে গ্লোবাল রেসপন্স ডেলিভার করার বৈশ্বিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একটা নতুন মোমেন্টাম বা গতি সঞ্চারিত হয়। এটি ভাল দিক।
একইসাথে পরিবেশ বিজ্ঞানের শিক্ষক ড. হাছান বলেন, প্রতিটি কপ সম্মেলন থেকে অনেক আশা নিয়ে আমরা নিজ নিজ দেশে ফিরে যাই। যে আশার বাণীগুলো শোনানো হয়, সে অনুযায়ী পরবর্তী বছরে যে কাজগুলো হওয়ার কথা, সেগুলো যথাযথভাবে হয় না। এর সাথে নতুন অনুষঙ্গ যুক্ত হয়েছে। সেটি হচ্ছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এখন ফোকাসটা অন্যদিকে চলে গেছে। অর্থনীতি একটা টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে।
‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি- এ বিষয়গুলো বহু আগে থেকে আলোচিত হচ্ছে কিন্তু, বছরে একশ’ কোটি ডলার যা ক্লাইমেট ফান্ড হিসেবে দেয়ার কথা ছিল, তা আশাই থেকে গেছে, আরো নানা ইস্যুতেও তেমন অগ্রগতি হয়নি’, উল্লেখ করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের অন্যতম দাবি ছিল টেকনোলজি ট্রান্সফার। অর্থাৎ যে সব দেশে এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি নেই, সে সব দেশে প্রযুক্তি সরবরাহ করা। এ বিষয়েও তেমন অগ্রগতি নেই।’
ঢাকা থেকে সোমবার শারম আল শায়খে এসে পৌঁছান মন্ত্রী। মূল সম্মেলনের পাশাপাশি ১০ ও ১১ নভেম্বর সেখানে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে যথাক্রমে খাদ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘বাংলাদেশের খাদ্য ব্যবস্থায় জলবায়ু সহনীয়তা ও ওয়াটার এইড সংস্থা আয়োজিত ‘দেশে পানি সরবরাহ ও পয়:নিষ্কাশনের ওপর দুর্যোগজনিত ক্ষতি’ সেমিনার দু’টিতে যোগ দেবেন ড. হাছান।
উল্লেখ্য মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামেহ শুকরি ৬ নভেম্বর উদ্বোধনী সাধারণ অধিবেশনে কপ-২৭ এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালের বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ-২১ এ ১৯৬টি পার্টি স্বাক্ষরিত প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় করণীয়গুলো কার্যকর করাসহ বিশ্বকে পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষার উদ্দেশে অন্তত ১২০টি দেশের শীর্ষ নেতারা এ বছর শারম আল শায়খে মিলিত হচ্ছেন। বাসস।