ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩   বিকাল ৪:০৯ 

Home Blog Page 155

সংসদে আতর নিষিদ্ধ 

0

সংসদ সচিবালয়ের দাপুটে কর্মচারী আতর আলীকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে সংসদ এলাকায়। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নেতা আতর আলী অবশ্য বলেছেন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি রাষ্ট্রপতিকে খারাপ কিছু বলেন নি।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সংসদ সচিবালয়ের অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মচারী হয়েও রাষ্ট্রপ্রধানকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য দেয়ায় এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

গত ১৭ আগস্ট সংসদের শপথ কক্ষে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কর্মচারীদের পক্ষ থেকে আতর আলী সেখানে তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ স্পিকার থাকার সময় ‘এ ধরনের অনুষ্ঠান হয়নি’। তার এ বক্তব্যকে অসত্য বলে দাবি করা হয় সংসদ সচিবালয় থেকে ।
গত ৬ সেপ্টেম্বর সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ খালেদুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

নোটিশে বলা হয়, “আপনি মোহাম্মদ আতর আলী বিগত ১৭ আগস্ট ২০২০ খ্রিস্টাব্দ তারিখে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় আয়োজিত আলোচনা সভা দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে অসত্য বক্তব্য প্রদান করেন। যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করেন, কোনো ব্যক্তির পক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো অসত্য বক্তব্য প্রদান দেশের সংবিধান পরিপন্থী।

“যেহেতু আপনি মহামান্য রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে অসত্য বক্তব্য প্রদান করেছেন যা একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে অনুচিত ও যেহেতু আপনার উপরোক্ত আচরণ একজন সরকারি কর্মচারীদের জন্য অশোভনীয় আচরণ এবং সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা পরিপন্থী যা জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা মোতাবেক অসদাচারণ হিসেবে গণ্য যেহেতু আপনাকে জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্মচারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা ২০০৫ এর ৩ এর ক দায়ে অভিযুক্ত করে কেন উক্ত বিধিমালা অধীনে যথোপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না সে বিষয়ে এ নোটিশ প্রাপ্তির তিন কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।’’
নোটিশের বিষয়টি স্বীকার করেছেন আতর আলী। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ আমি রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে আপত্তিকর কথা বলিনি। এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। ওই বক্তব্য দেওয়ার কারণে আমাকে সংসদ এলাকায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেহেতু আমাকে যেতে নিষেধ করা হয়ে গেছে এজন্য আমি এখন আর সংসদ সচিবালয় যাই না। তবে কারণ দর্শানোর নোটিস পাওয়ার পরদিনই আমি জবাব দিয়েছি।’
প্রসঙ্গত, চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি আতর আলী সংসদ সচিবালয়ে সংসদ নেতার দফতরে দায়িত্ব পালন করেন। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হয়েও আতর আলী সংসদ সচিবালয়ে খুবই প্রভাবশালী। অনেক কর্মকর্তাও আতর আলীর কাছে পাত্তা পান না।

করোনায় আর্থিক সংকট মোকাবেলায় স্বল্প সুদে দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ পাবেন আইনজীবীরা- আইনমন্ত্রী

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় আড়াই মাস আইনজীবী বিশেষ করে জুনিয়র আইনজীবীরা তাঁদের প্রাকটিস থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এতে অনেকেই আর্থিক সংকটে পতিত হয়েছেন। অনেকেই কষ্টে আছেন। তাঁদের এই কষ্ট লাঘবের জন্য স্বল্পসুদে দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের মাধ্যমে এই ঋণ দেওয়া হবে।

ফরিদপুরে ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আট তলা বিশিষ্ট চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রবিবার ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

শেখ হাসিনার আমলে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও জেল হত্যা মামলার বিচার হয়েছে, মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচার হয়েছে এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, হেফাজতে মৃত্যুর কারণে এই উপমহাদেশে প্রথম সাজাও তাঁর সরকারের সময় হয়েছে। তিনি বলেন, অপরাধীদের সাজা দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা যায়। কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়, এই দেশে সকলকেই আইন মানতে হবে এবং এর ব্যত্যয় ঘটালে তার বিচার হবে এবং আইনসংগত সাজা হবে। এটা সকলকে মনে রাখতে হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, জনগণ আমাদের উপরে তখনি আস্থা রাখবে, যখন তারা সঠিক বিচার পাবে। বলেন, বিচারক ও আইনজীবীরা বিচার বিভাগকে কার্যকর করার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান দুটি অর্গান। রাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অর্গানের মধ্যে বিচার বিভাগ যেমন একটি, ঠিক তেমনি বিচার বিভাগকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য বিচারক ও আইনজীবীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি ইনস্টিটিউশন। এই দুই ইনষ্টিটিউশন মিলে জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের যে উন্নয়নের ধারা তা চলবে। দুই হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে যে ই-জুডিসিয়ারি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে সেটাও বাস্তবায়ন হবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করলে জনগণ এসব কাজের সুফল পাবেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ৩৭ লাখ মামলা জট রয়েছে। এ জট কমাতে হবে। আমরা Justice delayed is justice denied এবং Justice hurried is justice Buried এই দুটির মাঝ দিয়ে চলে এই মামলা জট কমানোর চেষ্টা করবো এবং জনগণের কাছে ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবো। জনগণের কাছে ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়া না গেলে তার পরিণতি কি হবে সেটা মুখে উচ্চারণ করাও উচিত নয়।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর পিতার মতই বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় ও উন্নয়নে বিশ্বাসী। বলেন, ব্রিটিশরা যে আদালত ভবনগুলো তৈরি করে গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত অন্যান্য সরকার সেগুলোর কোন পরিবর্তন করেনি। জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর বিচার বিভাগে বৃহদাকারে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজে হাত দেন। তাঁর সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। সরকার জেলায় জেলায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন ও জেলা জজ আদালত ভবন নির্মাণ করে দিচ্ছে। বিচারকদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে তাদের বেতন ভাতা বাড়িয়ে দিয়েছেন। কারণ শেখ হাসিনা মনে করেন বিচারকরা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল থাকলে তাঁরা কাজে মনোনিবেশ করতে পারবেন এবং জনগণ সুষ্ঠু বিচার পাবেন।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর দেওয়া সংবিধানে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের কথা থাকলেও সামরিক ও খালেদা জিয়ার সরকার তা বাস্তবায়ন করেনি। শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিচার বিভাগের অনেক পজেটিভ পরিবর্তন আনেন এবং এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালের ১লা নভেম্বর বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ করা হয়।

ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. সেলিম মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ফরিদপুর ১ ও ৪ আসনের সংসদ সদস্য যথাক্রমে মনজুর হোসেন ও মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন),আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান,জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এওএম খালেদ প্রমুখ বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা।

ইউএনও ওয়াহিদার ভ্যানেটি ব্যাগ থেকে ৫০ হাজার টাকা চুরি করেছিল মালি রবিউল, ধরা পড়ে হয় বরখাস্ত, প্রতিশোধ নিতেই হামলা?

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদা খানমের উপর হামলার ঘটনায় মোড় ঘুরে গেলো। পুলিশের তদন্তে বের হয়ে এসেছে, ইউএনওর উপর হামলা করেছে তারই অফিসে চুরির অভিযোগে বরখাস্তকৃত এক কর্মচারী রবিউল।
শনিবার বিকেলে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে এ কথা জানান রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য।


ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গ্রেপ্তার রবিউল বিরল উপজেলার ধামহার গ্রামের বাসিন্দা। জিজ্ঞাসাবাদে সে হামলার কথা স্বীকার করেছে।
বিকেলেই তাকে আদালতে হাজির করে ৬ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পাওয়া গেছে।
ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের বরখাস্ত এক মালি রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য বলেছেন, এই ব্যক্তিই ওই হামলায় জড়িত।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বাসভবনের ভেন্টিলেটর দিয়ে ঢুকে ইউএনও ওয়াহিদা ও তার বাবা ওমর আলীর উপর হামলা চালানো হয়। মাথায় হাতুড়ির আঘাতে গুরুতর আহত ওয়াহিদা এখন ঢাকায় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, ইউএনওর উপর হামলার ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে শোরগোলের মধ্যে দুদিন পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১৩ অধিনায়ক রেজা আহমেদ ফেরদৌস রংপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসে বলেন, চুরি করতে ওই বাড়িতে ঢুকেছিল আসাদুল (৩৫)। তার সহযোগী ছিল নবীরুল ইসলাম (৩৪) ও সান্টু কুমার বিশ্বাস (২৮)।
আলোচিত এই ঘটনার ছায়া তদন্তে নামা র‌্যাব এটাও বলেছিল যে আসাদুল ‘নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার’ করেছেন।
র‌্যাব বলেছিল, এই আসাদুল হক চুরি করতে গিয়ে ইউএনওর উপর হামলা চালিয়েছিল; এখন পুলিশ বলছে অন্য কথা।
তবে এই ঘটনা নিছক চুরির ঘটনা কি না এ নিয়ে নানা সন্দেহ হয়।
নিজেদের তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে শনিবার ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে আসেন।
তিনি বলেন, “ইতিপূর্বে আটক আসাদুল জড়িত নয়।”
ঘোড়াঘাট উপজেলার সাগরপুর এলাকার আসাদুল এখন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে রয়েছেন। ডিবিই এই মামলার তদন্ত করছে।
আসাদুল যুবলীগে যুক্ত ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বরখাস্ত মালি রবিউল ইসলামকে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান ডিআইজি দেবদাস। রবিউলের বাড়ি বিরল উপজেলার বিজোড়া গ্রামে।

ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, “রবিউলকে গ্রেপ্তারের পর রাতেই তাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। সে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।”

রবিউলের উদ্দেশ্য কী ছিল- তা জানতে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
“এই ঘটনার সাথে আর কারা জড়িত আছে কি না, কী কারণে এই ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়গুলো তদন্ত করা হবে।”
শনিবার বিকালে রবিউলকে আদালতে হাজির করে ৬ দিনের রিমান্ডের অনুমতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা ডিবির ওসি ইমাম জাফর।
ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ একজন কর্মচারী জানিয়েছেন, চার মাস আগে ইউএনওর ভ্যানেটি ব্যাগ থেকে ৫০ হাজার টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। এতে মালি রবিউলকে সন্দেহ হলে সে অস্বীকার করে। পরে সিসি ক্যামেরায় দেখা যায় রবিউল টাতা চুরি করছে। এ অভিযোগে রবিউলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
হামলার পর ইউএনওর ভাই শেখ ফরিদ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন। যা তদন্ত করছে ডিবি।

তারেক রহমান দেশে আসুন দলই তা চায় না, জানালেন মির্জা ফখরুল, চীনের কূটনীতি নিয়ে সন্দিহান

0

এই মুহূর্তে তারেক রহমান দেশে ফিরুন দলই তা চায় না৷ তিনি বলেন, ‘‘তারেক রহমানের দেশে ফেরা সরকারই বন্ধ করে দিয়েছেন৷ যেসব মামলাতে একতরফা রায় দিয়ে দিয়েছেন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৩৬-৩৭টা মামলায় তার অন্য সাজাও হয়েছে৷ সুতরাং এই মুহূর্তে তার দেশে ফেরাটা দলই মনে করছে না নিরাপদ হবে৷ দলের সার্বিক নেতৃত্বেও এর ফলে সংকট সৃষ্টি হতে পারে৷”
ডয়চে ভেলে বাংলার সাপ্তাহিক ইউটিউব টক শো ‘খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চায়’-এর অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানান।

বিভিন্ন সময়ে তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকেও দলের দায়িত্বে নিয়ে আসার কথা শোনা গেছে৷ তবে এমন তথ্যকে ‘মনগড়া’ বলে দাবি করেন বিএনপির মহাসচিব৷ তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের সাংবাদিকরা মাঝেমধ্যে গল্প তৈরি করতে পছন্দ করেন এবং তা নিয়ে আলোচনাও হয়৷ এটা জাতিগত বিনোদনও বটে৷”
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুস্থ রয়েছেন, খালেদা জিয়াও যথেষ্ট সক্ষম রয়েছেন বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল৷ ফলে মামলা থেকে বের হয়ে আসতে পারলে বা কোনোভাবে ‘রাজনৈতিক পটপরিবর্তন’ হলে খালেদা জিয়াই দেশের নেতৃত্ব দিতে সম্পূর্ণ সক্ষম বলেও মন্তব্য করেন তিনি৷
১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিনে উপহার পাঠালেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করার সংবাদও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে৷ তবে এর সত্যতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল৷ তিনি বলেন, ‘‘চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে এমন কোনো বক্তব্য আসেনি, এসেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে৷ আমরা নিজেরাও কনফিউজড৷ চীনের কূটনীতি এতটা কাঁচা নয়৷”
আলোচনায় উঠে আসে মহাসচিব হিসেবে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থতার অভিযোগের প্রসঙ্গও৷ এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘এটা আমার বিবেচনার বিষয় নয়, এটা জনগণ বলবে, পার্টি সিদ্ধান্ত নেবে৷ কিন্তু দল এখনও আমাকে এমন কোনো কথা বলেনি৷”
তিনি বলেন, ‘‘দেশে কী আসলেই কোনো রাজনীতি আছে? ২০১২ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পর থেকে আওয়ামী লীগ একদলীয় সরকারব্যবস্থা চালু করতে চাচ্ছে৷ রাজনৈতিক দলগুলোকে অকার্যকর করে দেয়া, রাজনৈতিক নেতৃত্বদের হেনস্তা করা হচ্ছে৷ এখন রাজনৈতিক দল, এমনকি মিডিয়াও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না৷”

বিএনপি এখন রাজনীতির ঠিক পথেই আছে বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল৷ তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি উদারপন্থি রাজনৈতিক দল৷ কিন্তু দেশে এখন স্বাভাবিকভাবে রাজনীতি করার কোনো উপায় নেই৷ দেশে গণতন্ত্রের কোনোকিছুই অবশিষ্ট নেই৷”

গবেষণায় চুরির অভিযোগ প্রমাণিত; সামিয়া রহমান ও মারজানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

0

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিয়া রহমান এবং অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের বেশ কয়েকটি গবেষণা নিবন্ধে চৌর্যবৃত্তির প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

তাদের বিষয়ে একাডেমিক অপরাধের শাস্তি সুপারিশ করতে ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

তিনি বলেন, “তদন্ত কমিটি ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পেয়েছে মর্মে সিন্ডিকেটের সভায় রিপোর্ট পেশ হয়েছে।

“সভায় ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু কাদের নিয়ে এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে, এটা নির্ধারণ হয়নি। এটা নির্ধারণ করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।”

এবিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নিয়ম-নীতি অনুযায়ীই সব কিছু হবে।”
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে সামিয়া রহমান ও মাহফুজুল হক মারজানের যৌথভাবে লেখা ‘এ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার : এ কেস স্ট্যাডি অব দ্য কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ নামক আট পৃষ্ঠার একটি গবেষণা প্রবন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সোশ্যাল সায়েন্স রিভিউ’ নামের একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়।

তবে তা ১৯৮২ সালের শিকাগো ইউনিভার্সিটির জার্নাল ‘ক্রিটিক্যাল ইনকোয়ারি’তে প্রকাশিত ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর ‘দ্য সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ নামের একটি নিবন্ধ থেকে প্রায় পাঁচ পৃষ্ঠা হুবহু নকল বলে অভিযোগ ওঠে।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে এক লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এই চুরির কথা জানিয়েছিল ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস।

শুধু মিশেল ফুকোই নন, বুদ্ধিজীবী এডওয়ার্ড সাঈদের ‘কালচার অ্যান্ড ইমপেরিয়ালিজম’ গ্রন্থের পাতার পর পাতাও সামিয়া ও মারজান হুবহু নকল করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরিন আহমেদকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট।

দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে গত বছর ওই কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রত

যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বাংলাদেশে পাই সেটা পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না : রিভা গাঙ্গুলী

0

আরও বড় দায়িত্ব নিয়ে দেশে ফিরে যাচ্ছেন ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাশ। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বাঙালী এই নারী কূটনীতিক বাংলাদেশের মানুষকে আপন করে নিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বিদায়ী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, এখানে যে আতিথেয়তা পাওয়া যায়, তা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।
তিনি বলেন, ‘আমি গত বছরের মার্চ মাসে এসেছি। আমাদের একটা অনেক ক্লোজ রিলেশনশিপ বাংলাদেশের সঙ্গে হয়ে যায়। আমি সবসময় বলি, আমরা যে হসপিটালিটি, যে বন্ধন, যে ফ্রেন্ডশিপটা এই দেশে পাই সেটা পৃথিবীর কোনো জায়গায় পাওয়া যায় না।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে রিভা গাঙ্গুলি বলেন, ‘অনেক সময় আপনাদের স্টরিগুলোর সঙ্গে আমাদের ভিন্ন মত থাকে। এটা ভুল, ওটা ভুল কোট হয়েছে ইত্যাদি। দ্যাট ইস দ্যা পার্ট অফ দ্যা রিলেশনশিপ। সেটাই আমাদের ক্লোজনেস, সেটাই আমাদের ক্লোজ রিলেশনশিপ দেখায়।’


করোনা মহামারির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন ভালো সময়ের মধ্যেই নেই আমরা। তবে খুব লাকি অ্যান্ড ভেরি ইম্পরট্যান্ট যে, একটা সময় আমি এখানে এসেছি, নতুন সরকার এসেছে আমাদের দেশে। এখানে, অনেক কিছু করার অপরচুনিটি পেয়েছি। গত বছর অনেক কিছু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দুইবার ভারতে গিয়েছেন।’

ভারতীয় হাইকমিশনার আরো বলেন, ‘আমরা খুব এক্সাইটেড ছিলাম যে, মুজিব বর্ষে আমরা অনেক কিছু এক সঙ্গে করবো। আনফরচুনেটলি, কিন্তু আমরা এই লিমিটেড ওয়ের মধ্যেও একটা গুড গিফটিং সিরেমনি করেছি ১০০টা কলেজ-ইউনিভার্সিটিকে। বঙ্গবন্ধুর উপর একটা কবিতার প্রোগ্রাম করেছি। আগামীতে আরো প্রোগ্রাম করবো।’

এসময় তিনি বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে রেল কন্টেইনারে পণ্য পরিবহনের কথা বলেন তিনি। এছাড়া নদী পথে ভারতের ত্রিপুরায় বাংলাদেশি পণ্য যাওয়ার কথাও বলেন। ত্রিপুরায় বাংলাদেশ থেকে প্রিমিয়ার সিমেন্টের একটি চালান যায়। এসবের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দেন।
বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ও তাদের স্মরণ করার কথা উল্লেখ করে বিদায়ী এই হাইকমিশনার বলেন, ‘কোভিডের মধ্যে অনেক রেস্ট্রিকশন ছিলো। ফিজিক্যাললি মুভমেন্ট, কোথাও যাওয়া-আসায়। তারপরেও আমরা সবাই বাড়িতে বসেই কাজ করেছি। অনেক রকমের ডেভেলপমেন্ট হয়েছে। আপনারা অনেকেই বলছিলেন আমাকে মিস করবেন, আমিও আপনাদের সবাইকে মিস করবো।’

ইসলামিক রাষ্ট্রের পরিচয় মুছে, ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ দেশ হচ্ছে সুদান, সংবিধান সংশোধনে ঐকমত্য

0

দীর্ঘ ৩০ বছর পর ইসলামিক রাষ্ট্রের পরিচয় মুছতে চলেছে সুদান। উত্তর আফ্রিকার এই দেশটির শতকরক ৯৭ ভাগ মানুষই ইসলাম ধর্মাবলম্বী। ১৯৮৯ সাল থেকে সুদানে ইসলামিক আইনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু হয়। কিন্তু সুদান সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত সশস্ত্র আন্দোলন করে চলছিল “পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট” নামে এক বিপ্লবী সংগঠন। তারা বরাবর চেয়েছিল সুদানকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলতে। খবর রয়টার্স /এপি।

অবশেষে সুদানের প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামদক ও পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট এর নেতা আবদেল আজিজ আল হিলু এক শান্তি চুক্তি করলেন। এই শান্ত চুক্তিটি ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবাতে সংগঠিত হয়। সেখানে বিবাদমান দুইপক্ষই দেশের সংবিধানকে ধর্মনিরপেক্ষ করতে সম্মত হয়েছেন।
৪ সেপ্টেম্বর চুক্তি সাক্ষরের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সুদানের প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হ্যামদক এবং পিওপল’স লিবারেশনের নেতা আজিজ আল-হিলু। দুজনেই একবাক্যে স্বীকার করে নেন সমস্ত মানুষের সমানাধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত, কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব সব সময় মুক্তচিন্তার পক্ষে থাকা। আর ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসাবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও সুদানের ভাবমূর্তি উন্নত হবে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী। সেইসঙ্গে দীর্ঘ সশস্ত্র লড়াইয়ের অবসান নিঃসন্দেহে খুশির খবর।
শান্তি চুক্তিতে বলা হয়েছে- “ধর্ম এবং রাষ্ট্রকে পৃথক করে এক ধর্মনিরপেক্ষ সুদান গড়ে তোলাই প্রধান লক্ষ্য। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার সুনিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
যদিও এই শান্তিচুক্তি এতোটা সহজ হয়নি। কারণ- পিপলস্ লিবারেশন মুভমেন্টের বেশ কিছু শাখা সুদানকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসাবে মান্যতা দিতে চায়নি।
এক নজরে সুদান:
১৮২০ সালে মিসরের ওসমানীয় শাসক মুহাম্মদ আলি পাশা সুদান দখল করেন। নামেমাত্র ওসমানীয়দের অধীনে থাকলেও পাশা মূলত নিজেকে মিসরের স্বাধীন শাসক হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। পাশা তার ছেলে ইসমাইলকে সুদান শাসনের দায়িত্ব দেন। ইসমাইল ও তার পরবর্তী শাসকরা সুদানে বহু অবকাঠামো গড়ে তোলেন।
১৮৭৯ সালে ইসমাইল পদত্যাগে বাধ্য হন এবং ইসমাইলের ছেলে প্রথম তৌফিক বাবার স্থলাভিষিক্ত হন। তবে তৌফিকের দুর্নীতির কারণে সেখানে অল্প দিনের মধ্যেই একটি বিপ্লব হয়। তৌফিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ব্রিটিশদের সাহায্য কামনা করেন। এ সুযোগে ব্রিটিশরা ১৮৮২ সালে মিসর দখল করে নেয়। স্বাভাবিকভাবে সুদানও ব্রিটিশদের দখলে চলে আসে। তখন শুরু হয় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন। এতে নেতৃত্ব দেন মুহাম্মদ আহমদ ইবনে আবদ আল্লাহ। ১৮৮৫ সালে সুদানে ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল গর্ডনের পতন হয়। সুদান থেকে প্রত্যাহার করা হয় মিসরীয় ও ব্রিটিশ সৈন্য।
ব্রিটিশ শাসনের শুরু থেকেই মিসরীয়রা দাবি করতে থাকে, মিসর ও সুদান এক রাষ্ট্র হবে। কিন্তু মিসরীয়রা শেষ পর্যন্ত উপলব্ধি করে, সুদানের ওপর মিসরীয় সার্বভৌমত্ব দাবি বাতিল না করলে ব্রিটিশরা স্বাধীনতাকে বিলম্বিত করবে। এ উপলব্ধির পর ১৯৫৪ সালে মিসরীয়রা ব্রিটিশদের সাথে একটি চুক্তি করে। ওই চুক্তি অনুসারে ১৯৫৬ সালের ১ জানুয়ারি সুদান স্বাধীনতা লাভ করে। ইসমাইল আল আজহারি সুদানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও আধুনিক সুদানের প্রথম সরকারের নেতৃত্ব দেন।
তবে স্বাধীনতার এক বছর আগে ১৯৫৫ সালে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। খ্রিষ্টান অধ্যুষিত দক্ষিণাঞ্চলের আশঙ্কা, স্বাধীন সুদানে নেতৃত্ব দেবে উত্তরের মুসলমান জনগোষ্ঠী। কারণ উত্তরাঞ্চলের মুসলমানদের সাথে মিসরসহ আরব বিশ্বের সুসম্পর্ক রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে দুই অঞ্চলে দুই ধরনের প্রশাসন চালুর দাবি জানায় ব্রিটিশরা।
১৯৫৫ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলে। গৃহযুদ্ধ চলতে থাকলে স্বাধীনতার পরপরই একজন সামরিক কর্মকর্তা দেশটির ক্ষমতা দখল করেন। ১৯৭২ সালে এক চুক্তিতে দেশটিতে গৃহযুদ্ধের অবসান হলেও ১৯৮৩ সালেই আবার গৃহযুদ্ধ শুরু হয় দেশটিতে।
১৯৮৯ সালের ৩০ জুন কর্নেল ওমর আল বশির একদল সামরিক কর্মকর্তার সমর্থন নিয়ে রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থান ঘটান। তিনি দেশটিতে সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করেন এবং ইসলামি আইন চালু করেন।
ক্ষমতা দখলের পরপরই তিনি গেরিলাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। ১৯৯৬ সালের ১৬ অক্টোবর তিনি নিজেকে সুদানের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। সে বছর দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও হয়। একমাত্র প্রার্থী ছিলেন তিনি নিজেই। এর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র সুদানকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে।
প্রেসিডেন্ট বশির শান্তিপ্রক্রিয়াকে তরান্বিত করতে নানা পদক্ষেপ নেন। তিনি ২০০৫ সালের ৯ জানুয়ারি একটি চুক্তি করেন। চুক্তি অনুসারে চুক্তির পর থেকেই দক্ষিণাঞ্চল স্বায়ত্তশাসন ভোগ করবে এবং স্বাধীনতার জন্য ছয় বছর পর গণভোট হবে। কিন্তু চুক্তির পর দক্ষিণের এক নেতা বিমান দুর্ঘটনায় মারা গেলে দেশটিতে আবার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০০৫ সালের ২৪ মার্চ দেশটিতে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তবে এ বাহিনী মোতায়েনের বিরোধিতা করেন প্রেসিডেন্ট বশির।

অবস্থানগত দিক থেকে দেশটির অবস্থান উত্তর আফ্রিকায়। লৌহিত সাগরের সাথে দেশটির ৮৫৩ কিলোমিটার উপকূল রয়েছে। আয়তনে আফ্রিকা মহাদেশে সবচেয়ে বড় ও বিশ্বে দশম সুদান। এর আয়তন ২৫ লাখ ৫ হাজার ৮১০ বর্গকিলোমিটার। সুদনের উত্তরে মিসর, পূর্বে ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়া, দক্ষিণ-পূর্বে কেনিয়া ও উগান্ডা, দক্ষিণ-পশ্চিমে কঙ্গো ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, পশ্চিমে শাদ ও উত্তর-পশ্চিমে লিবিয়া। এর বেশির ভাগ ভূমি সমতল। তবে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে পর্বতমালা। পৃথিবীর দীর্ঘতম নদ নীলের একটি অংশ সুদানের রাজধানী খার্তুমের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। 
সুদানের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেশি হয়। উত্তরে নুবিয়ান অঞ্চলে সামান্য মরুভূমি রয়েছে। তবে দেশটিতে মরুকরণ অব্যাহত রয়েছে। 
দেশটির ৭০ শতাংশ জনগণই ইসলাম ধর্মাবলম্বী। আদিবাসী ২৫ শতাংশ ও মাত্র ৫ শতাংশ খ্রিষ্টান। এখানকার খ্রিষ্টানরা রোমান ক্যাথলিক চার্চের অনুসারী। সব মুসলমানই সুন্নি।

ট্রান্সফ্যাটজনিত হৃদরোগে মৃত্যুর সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

0

ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের ফলে হৃদরোগ ও হৃদরোগজনিত মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য। বিশ্ব জুড়ে ট্রান্সফ্যাট নির্মূলে প্রশংসনীয় অগ্রগতি হলেও থেমে নেই এই মৃত্যু। ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত “WHO REPORT ON GLOBAL TRANS FAT ELIMINATION 2020” শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয় বিশ্বে ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ঘটে ১৫টি দেশে, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশে প্রতিবছর হৃদরোগে যত মানুষ মারা যায় তার ৪.৪১ শতাংশের জন্য দায়ি ট্রান্সফ্যাট। ১৫টি দেশের তালিকায় থাকা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, লাটভিয়া ও স্লোভেনিয়া ইতোমধ্যে ট্রান্সফ্যাট নির্মূলে ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত সর্বোত্তম নীতি গ্রহণ অর্থাৎ সকল ফ্যাট, তেল এবং খাবারে প্রতি ১০০ গ্রাম ফ্যাটে  ট্রান্সফ্যাটের  সর্বোচ্চ পরিমাণ ২ গ্রামে সীমিত করা, অথবা পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল- পিএইচও’র উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। বাকি ১১টি দেশকে (বাংলাদেশ, ইরান, ভারত, মেক্সিকো, নেপাল, পাকিস্তান, কোরিয়া, মিশর, আজারবাইজান,  ভুটান, ইকুয়েডর) দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। প্রকাশিত প্রতিবেদনে  আরো বলা হয় এ পর্যন্ত মোট ৫৮টি দেশ ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের নীতি গ্রহণ করেছে যার মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে ৩.২ বিলিয়ন মানুষ সুরক্ষা পাবে। তবে নীতিমালার অভাবে এখনও ১০০ টির অধিক দেশ ট্রান্সফ্যাট ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এই বৈশ্বিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ড. টেড্রস অ্যাডহানম গেব্রেইয়েসুস বলেন, এমন একটা সময় যখন গোটা বিশ্ব কোভিড-১৯ মহামারী নিয়ে লড়াই করছে এবং আমাদের অবশ্যই একইসাথে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এরমধ্যে অবশ্যই অসংক্রামক রোগ মোকাবিলার জন্য সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে কারণ করোনাভাইরাসে এগুলো আরও তরান্বিত হয়ে অকাল মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তিনি আরো বলেন, “২০২৩ সালের মধ্যে ট্রান্সফ্যাট মুক্ত বিশ্ব অর্জনের যে লক্ষ্য রয়েছে তাতে আমাদের কোনাভাবেই বিলম্ব করা যাবে না।” রিজলভ টু সেইভ লাইভস (আরটিএসএল) এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও ডা. টম ফ্রিডেন বলেন, “বিশ্ব জুড়ে চলমান অর্থনৈতিক মন্দার কারণে দেশসমূহ জনস্বাস্থ্যের জন্য সাশ্রয়ী পন্থা খুঁজছে। খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট মুক্ত করার মাধ্যমে একইসাথে জীবন ও অর্থ দুটোই বাঁচবে, এবং সেইসাথে হৃদরোগ প্রতিরোধের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থার উপর চাপও কমানো যাবে।”
এ বছরের প্রতিবেদনে দুইটি বিশেষ ইতিবাচক প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রথমত, ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের জন্য যেসমস্ত দেশ নতুন আইন বা নীতি গ্রহণ করেছে তারা এ বিষয়ে সর্বোত্তম পন্থাই বেছে নিয়েছে। এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায় ব্রাজিল, তুরস্ক এবং নাইজেরিয়ার নাম। দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক সংগঠনসমূহ যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), প্যান অ্যামেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন (পাহো), গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) অঞ্চল ভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে অধিক রাষ্ট্রে ট্রান্সফ্যাট নির্মূলে উৎসাহ যোগাচ্ছে। তবে এই অর্জনের বিপরীতে একটি শঙ্কার বিষয় হলো, উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশসমুহ ট্রান্সফ্যাট নির্মূলে সর্বোত্তম পন্থা গ্রহণ করলেও নিম্ন বা নিম্নমধ্যম আয়ের কোনো দেশই এধরনের নীতিমালা এখনও গ্রহণ করতে পারেনি।
অতিসম্প্রতি ঢাকার শীর্ষস্থানীয় পিএইচও (পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল) ব্র্যান্ডসমূহের নমুনার ৯২ শতাংশে ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২% মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট (ট্রান্স ফ্যাটি এসিড) পেয়েছেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট এর গবেষকগণ।  গবেষণায় ঢাকার পিএইচও নমুনা বিশ্লেষণ করে প্রতি ১০০ গ্রাম পিএইচও নমুনায় সর্বোচ্চ ২০.৯ গ্রাম পর্যন্ত ট্রান্সফ্যাট এর উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে, যা ডব্লিউএইচও এর সুপারিশকৃত মাত্রার তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি। বাংলাদেশে ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা না থাকায় মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে জনস্বাস্থ্য। এমতাবস্থায়, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সবধরনের ফ্যাট, তেল এবং খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা মোট ফ্যাটের ২ শতাংশ নির্ধারণ এবং তা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

 

রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার: ন্যাদারল্যান্ডস থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বাংলাদেশে স্থানান্তরের অনুরোধ আইনজীবীদের

0

রোহিঙ্গাদের হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যে শুনানি হবে, সেটি যেন নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের পরিবর্তে অন্য কোন দেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশে আদালত বসিয়ে করা হয়, সেরকম একটি আবেদন পেশ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসির সব কার্যক্রম সাধারণত চলে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে। কিন্তু এই প্রথম এরকম কোন উদ্যোগ নেয়া হলো, যেখানে ভিক্টিম বা নির্যাতিতদের শুনানির জন্য আদালতকেই অন্য কোন দেশে বসানোর আবেদন জানানো হয়েছে। বিবিসি বাংলার সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন বুধবার এই সংবাদ পরিবেশন করেন।


বিবিসি বাংলা জানায়, আইসিসিতে এরকম একটি আবেদনের কথা জানা গেল এমন এক সময়, যখন মিয়ানমারের দুজন সৈন্য, যারা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হত্যা এবং ধর্ষণের ঘটনায় সরাসরি অংশ নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন এবং দ্য হেগে গিয়ে পৌঁছেছেন বলে খবর বেরিয়েছে।

মিয়ানমারকে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য যে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন, সেখানে এই দুটি ঘটনাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবীরা।

সম্ভাব্য দেশ বাংলাদেশ।
দ্য হেগের যে বিচার আদালতে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের হত্যা-নিপীড়নের অভিযোগের শুনানি হওয়ার কথা, সেই আদালত যেন অন্য কোন দেশে বসিয়ে শুনানি করা হয়, সেরকম একটি আবেদন পেশ করা হয় গত মাসে।

আবেদনটি করেন রোহিঙ্গাদের পক্ষে কাজ করছে এমন তিনটি ‘ভিকটিম সাপোর্ট গ্রুপ‌ে’র আইনজীবীরা। তারা এমন একটি দেশে এই শুনানির অনুরোধ জানিয়েছেন, যেটি নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের কাছাকাছি কোন দেশে হবে।

আবেদনে দেশের কথা উল্লেখ না থাকলেও, আইসিসি এই আবেদনের অগ্রগতির যে বিবরণী প্রকাশ করেছে, তাতে এই দেশটি ‘সম্ভবত বাংলাদেশ‌‌‌’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আইসিসির তিন নম্বর ‘প্রি ট্রায়াল চেম্বার‌’ আদালতের রেজিস্ট্রি বিভাগকে আদেশ দিয়েছে, দ্য হেগ থেকে অন্য কোন দেশ, যেমন বাংলাদেশে আদালতের কার্যক্রম সরিয়ে নেয়ার সম্ভাব্যতা যাচাই করতে। আগামী ২১শে সেপ্টেম্বরের আগেই এই সম্ভাব্যতা যাচাই করে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

কেন আদালত অন্য দেশে বসানোর উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবি আহমেদ জিয়াউদ্দীন বিবিসি বাংলাকে বলেন, অন্য দেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের শুনানির জন্য আদালত বসানোর উদ্যোগ খুবই বিরল এক ঘটনা। যেহেতু নির্যাতনের শিকার হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশেই আছেন, তাই এটি বাংলাদেশে হলে শুনানিতে তাদের সাক্ষ্য-প্রমাণ দেয়া সহজ হবে।
আবেদনকারি আইনজীবীরাও এরকম যুক্তিই দিয়েছেন।
শ্যানন রাজ সিং নামে একজন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবি এ নিয়ে একটি ব্লগে লিখেছেন, “পাখির মত উড়ে গেলে, বৃষ্টিস্নাত দ্য হেগ থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব আনুমানিক ৮,০০০ কিলোমিটার। সেখানকার শরণার্থী শিবিরে নির্যাতনের শিকার যে রোহিঙ্গারা থাকেন, তাদের জন্য এই দূরত্ব একেবারেই অনতিক্রম্য‍।”

এই ব্লগে তিনি আরও বলেছেন যে, আইসিসির রুল অনুযায়ী, স্বাগতিক দেশের (নেদারল্যান্ডস) বাইরে অন্য কোন দেশেও এই আদালতের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ আছে। রোম স্ট্যাটিউটের একটি ধারা উল্লেখ করে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক আদালত প্রয়োজন অনুযায়ী কোন মামলার পুরো বা আংশিক শুনানির জন্য অন্য কোন স্থানেও বসতে পারে।

মিয়ানমারের জন্য বড় ধাক্কা

এ সপ্তাহে প্রকাশ পাওয়া এই দু্টি ঘটনা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচারের দাবিতে যারা সোচ্চার, তাদের ভীষণভাবে উৎসাহিত করেছে। তাদের মতে, এর ফলে মিয়ানমার এখন রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) বড় ধরণের চাপের মুখে পড়তে পারে।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন দেশত্যাগ করা মিয়ানমারের দুই সৈনিকের অপরাধের স্বীকারোক্তির যে বিশদ বর্ণনা প্রকাশ করেছে, সেটিকে অবশ্য মানবাধিকার আইনজীবীরা খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

ব্রাসেলসে কর্মরত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী আহমেদ জিয়াউদ্দীন বিবিসি বাংলাকে বলেন, নিউ ইয়র্ক টাইমস বা অন্যান্য মিডিয়ার রিপোর্টে এই দুই সৈনিকের যে ভিডিও টেস্টিমোনি বা স্বীকারোক্তিমূলক ভাষ্যের কথা বলা হচ্ছে, সেটার হয়তো সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতদিন যে অভিযোগগুলো মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে করা হচ্ছিল, তাদেরই দুজন সদস্য সেই অপরাধের কথা স্বীকার করছেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এখনো পর্যন্ত এই দু্ই সৈনিকের ব্যাপারে কোন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। প্রসিকিউটরের অফিস থেকেও কিন্তু বলা হয়নি এরকম দুজন সৈনিক তাদের তত্ত্বাবধানে আছে। যদি এই খবর সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের তদন্তে হয়তো এই দুই সৈনিকের ঘটনা একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর ফলে মিয়ানমারের বিপদে পড়ার সম্ভাবনা আছে। এটা একদিক থেকে খুবই ভালো খবর।

কিন্তু নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টে যে ভিডিও সাক্ষ্যের কথা বলা হচ্ছে, সেটার কি কোন মূল্য আছে?

আহমেদ জিয়াউদ্দীন বলছেন, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট বা আইসিসির কাছে এই সাক্ষ্যের কোন মূল্য সেভাবে নেই।

“এর প্রথম কারণ হচ্ছে, আইসিসি নিজেই এখনো মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করছে। সেই তদন্ত এখনো প্রক্রিয়াধীন আছে। তদন্ত চলাকালে আইসিসি বিভিন্ন সূত্র থেকে বিভিন্ন তথ্য পেতে পারে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের যে রিপোর্টটির কথা বলা হচ্ছে, সেখানে দুজন সৈনিকের যে বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে, আইসিসির তদন্তকারীরা সেসব তথ্যকে কেবল অতিরিক্ত কিছু তথ্য হিসেবে গণ্য করবেন। এর চেয়ে বেশি কিছু করার নেই।

“কারণ কেউ যদি কোন অপরাধ স্বীকার করতে চান, সেটা আইসিসির আইন বা নিয়ম অনুসরণ করে হতে হবে। আর এই কাজটা কেবল মাত্র আইসিসির প্রসিকিউটর বা তদন্ত কর্মকর্তাই করতে পারেন। অন্য কারও কাছে দেয়া স্বীকারোক্তি, সেটা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাছেই হোক, বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষের কাছে হোক, আইসিসির এখন যে তদন্ত চলছে, এর চেয়ে বেশি কোন মূল্য তাদের কাছে আছে বলে আমার মনে হয় না।
“আমরা যারা মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত এসব অপরাধের বিচার চাচ্ছি, তাদের কাছে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বলতে পারি, এতদিন মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যেসব কথা বলা হচ্ছিল, এটা তার প্রমাণ। এটা আমাদের কাছে প্রমাণ বলে মনে হতে পারে, কিন্তু আইসিসির কাছে এটা কোন প্রমাণ নয়।”

কিন্তু কথিত দুই সৈনিক যদি আইসিসির কাছে একই সাক্ষ্য দেন তখন কী হবে?

আহমেদ জিয়াউদ্দীন বলেন, এই দুই সৈনিক যদি আদালতের কর্মকর্তাদের কাছে একই সাক্ষ্য দেন, তাহলে সেটার অনেক মূল্য থাকবে। তবে আইসিসির তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে তারা যদি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়, শুধু দিলেই হবে না, তার সঙ্গে প্রমাণও দিতে হবে। তাহলে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং আইসিসির বিচারকরা এসব কিছু বিবেচনা করবে।

এই সৈনিকরা নিজেরাই তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করছেন বলে দাবি করা হচ্ছে, কাজেই তাদের কি করা হবে?
আহমেদ জিয়াউদ্দীন বলেন, এই সৈনিকদের আসামী করা হবে, নাকি তাদের সাক্ষী বানানো হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন তদন্ত কর্মকর্তারা। এক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে বিবেচ্য বিষয় হবে, সত্য উদঘাটন বা ঘটনার সুবিচার নিশ্চিত করা।

তবে তিনি বলেন, এই দুজন সৈনিক মনে হচ্ছে খুবই নিম্নপদস্থ। সাধারণত যারা “ফুট সোলজার’ বা সামনের কাতারের সৈনিক, তাদের খুব কম ক্ষেত্রেই আসামী করা হয়।

“আইসিসির আইনে আসামী করা হয় তাদেরই, যার সর্বোচ্চ দায়িত্ব আছে, ‍’দ্য পার্সন উইথ হাইয়েস্ট ক্রিমিনাল রেসপন্সিবিলিটি’। সেখান থেকেই শুরু হয় আইসিসির প্রক্রিয়া। যারা এর পরিকল্পনা করেছে তাদের, যারা এটি কার্যকর করেছে, বাস্তবায়ন করেছে, তাদের। এর মাঝে যারা আছেন, তাদের যে ধরা হবে না তা নয়, একমাত্র আইসিসি সিদ্ধান্ত নেবে এদের প্রসিকিউশন করা হবে কি হবে না।”

তিনি বলেন, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত হবে প্রসিকিউশনের জন্য। এই লোকগুলোকে সাক্ষী হিসেবে আনা হবে, নাকি অভিযুক্ত হিসেবে দাঁড় করানো হবে, এটা প্রসিকিউটর সিদ্ধান্ত নেবেন।

আহমেদ জিয়াউদ্দীন বলেন, আইসিসিতে এসে বা আইসিসির প্রসিকিউটরদের কাছে এরকম সাক্ষ্য দেয়ার ঘটনা অতীতেও ঘটেছে। কারণ ফুট সোলজার যারা থাকে, তারা তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ উৎস যে কোন প্রসিকিউশন বা ইনভেস্টিগেশনের জন্য।
তিনি বলেন, “এরকম সাক্ষী দিতে আসা লোকজন যদিও নিজেরাই দোষী, তাদের কি করা হবে, সেই বিবেচনা প্রসিকিউটরকে করতে হবে। তারা দেখবে, ন্যায় বিচারের স্বার্থে, এদের বিচার করা ভালো হবে নাকি তাদের কাছ থেকে তথ্য আদায় করে আরও বড় বড় যারা আছেন, যাদের দায়িত্ব অনেক বেশি, তাদেরকে শাস্তি দেয়া ভালো।”

থানা হেফাজতে পিটিয়ে হত্যা, ৩ পুলিশ কর্মকর্তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, জরিমানা

0

রাজধানীর পল্লবী থানায় ২০১৪ সালে পুলিশ হেফাজতে ইশতিয়াক হোসেন জনি নামের এক যুবকের মৃত্যুতে দায়ের হওয়া মামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তার যাবজ্জীবন এবং পুলিশের দুই সোর্সের সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত।
বুধবার দুপুরে মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েস এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় পাঁচ আসামির মধ্যে তিন জন উপস্থিত ছিলেন। দুজন পলাতক।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন এসআই জাহিদুর রহমান জাহিদ, এএসআই রাশেদুল ইসলাম, এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু। এছাড়া এ মামলায় পুলিশের দুই সোর্স রাসেল ও সুমনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রায়ে একই সঙ্গে তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে । এছাড়া এই তিন পুলিশ সদস্যের প্রত্যেককে নিহতের পরিবারকে দুই লাখ টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মামলার অন্য দুই আসামিকে সাত বছর করে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর-১১ নম্বর সেক্টরে স্থানীয় সাদেকের ছেলের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান চলাকালে পুলিশের সোর্স সুমন মেয়েদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। এ সময় জনি ও তার ভাই সুমনকে চলে যেতে বলেন। সুমন চলে গেলেও পরদিন এসে আবার আগের মতো আচরণ করতে থাকেন। তখন জনি ও তার ভাই তাকে চলে যেতে বললে সুমন পু্লিশকে ফোন করে তাদের ধরে নিয়ে যান। তাদের নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকার লোকজন ধাওয়া দিলে পুলিশ গুলি ছোড়ে।
পরে থানায় নিয়ে জনিকে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে জনির অবস্থা খারাপ হলে ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিচারক তার রায়ে বলেছেন, ২০১৩ সালের নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে কোনো মামলায় দেশে এটাই প্রথম রায়। আর তিন পুলিশ সদস্যকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, এ আইনে সেটাই সর্বোচ্চ সাজা।

রায়ের পর্যবেক্ষণে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ বলেন, “ভিকটিমের তিনজন বন্ধু এ মামলার চাক্ষুষ সাক্ষী। তারা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন, নির্যাতনের সময় ভিকটিম পানি চাইলে তার মুখে থুথু ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা কেবল আইনের বরখেলাপ নয়, মানবাধিকারের চরম লংঘন।”

জনির ভাই এ মামলার বাদী ইমতিয়াজ হোসেন রকি আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার রায় শুনে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, তারা জজ আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

আসামিদের মধ্যে পল্লবী থানার তখনকার এসআই জাহিদুর রহমান খান ও পুলিশের সোর্স সুমন কারাগারে আছেন। এএসআই রাশেদুল জামিনে ছিলেন, রায়ের পর তাকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আর এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু এবং পুলিশের সোর্স রাসেল জামিনে গিয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছেন। তাদের পলাতক ঘোষণা করে এই রায় দেওয়া হয়েছে।