করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে সবচেয়ে বেশি বিপদ হয়ে দাঁড়ায় যারা হৃদরোগ, কিডনি, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিসে ভুগছেন তাদের জন্য। এই মরণঘাতী ভাইরাসটি মুহূর্তেই কাবু করে ফেলে এমন রোগাক্রান্তদের। আর এই অসংক্রামক রোগগুলোর জন্য প্রধানত দায়ী ট্রান্স ফ্যাট যুক্ত খাবার। কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের সময় স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং রোগ- প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। সেইসাথে করোনা ভাইরাসে সেলফ-কোয়েরেন্টাইন এবং আইসলেশনে থাকার সময় শিল্পোৎপাদিত ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার বর্জন করে প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক খাবার খেতেও পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদরোগীরা করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ঝূঁকপূর্ণ। বাংলাদেশে প্রতিবছর ২ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ হৃদরোগে মারা যায়। ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবারের কারণে স্ট্রোক এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। উচ্চমাত্রায় ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণের কারণে সার্বিকভাবে মৃত্যুঝুঁকি ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ২১ শতাংশ এবং হৃদরোগজনিত মৃত্যুঝুঁকি ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এছাড়া, লকডাউনের কারণে ঘরে বন্দী থাকায় মানুষের শারীরিক কর্মকান্ড অনেকটাই কমেছে। তাই রোগ- প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের উপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ট্রান্স ফ্যাট এক প্রকার হাইড্রোজেনেটেড অয়েল। এই আংশিক হাইড্রোজেনেটেড তেলই শিল্পোৎপাদিত ট্রান্স ফ্যাটের প্রধান উৎস, যা ডালডা বা বনস্পতি ঘি নামেও পরিচিত। ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাদ্যদ্রব্য যেমন, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্টফুড, স্ন্যাক্স ফুড, ভাজাপোড়া খাবার, বিস্কুট, কুকিজ, মার্জারিন এগুলোতে ট্রান্স ফ্যাট থাকে।
খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো খাবার সংরক্ষণের সুবিধার্থে এবং বিভিন্ন ভাজা পোড়া ও বেকারি খাদ্য পণ্যের স্বাদ, ঘ্রাণ এবং স্থায়িত্ব বাড়ানোর জন্য আংশিক হাইড্রোজেনেটেড তেল ব্যবহার করে থাকে। এছাড়া ভাজা পোড়া খাদ্যে একই ভোজ্য তেল উচ্চ তাপমাত্রায় বারবার ব্যবহারের কারণেও খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাট সৃষ্টি হয়। সাধারণত খরচ কমানোর জন্য হোটেল-রেঁস্তোরায় সিঙ্গারা, সমুচা, পুরি, জিলাপি, চিকেন ফ্রাইসহ বিভিন্ন ধরনের ভাজা পোড়া খাবার তৈরির সময় একই তেল বারবার ব্যবহার করা হয়। এ কারণে এসব খাবারে ট্রান্স ফ্যাটের পরিমাণ বেড়ে যায়।
সম্প্রতি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) দেশে প্রচলিত ফাস্টফুড, বেকারিপণ্য, স্ট্রিট ফুড কিংবা রেস্তোরায় তৈরিকৃত ভাজা-পোড়া খাদ্যপণ্য তৈরিতে হাইড্রোজেনেটেড তেলের ব্যবহার কমাতে এবং ভোজ্যতেল বারবার ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
বিএসটিআই এর সহকারী পরিচালক এনামুল হক বলেন, কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে মানুষ এখন ঘরে অবস্থান করছে এবং অধিকাংশের শারীরিক কর্মকান্ড অনেকটাই কমে গেছে, তাই সুস্থ থাকতে ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। ট্রান্স ফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণে ইতিমধ্যে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে, বলে জানা তিনি।
এ বিষয়ে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর বাংলাদেশ এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, হৃদরোগসহ সকল অসংক্রামক ব্যাধি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। উচ্চমাত্রায় ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণের কারণে সার্বিকভাবে মৃত্যুঝুঁকি ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির দৈনিক ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণের পরিমাণ হওয়া উচিত মোট খাদ্যশক্তির ১ শতাংশের কম, অর্থাৎ দৈনিক ২০০০ ক্যালোরির ডায়েটে তা হতে হবে ২.২ গ্রামের চেয়েও কম। ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার পরিহার করার একমাত্র পথ হলো সচেতনতা। তাই সচেতনতাই পারে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে।
শিল্পোৎপাদিত ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিড নির্মূল ক্রমেই বিশ্বজুড়ে একটি অগ্রাাধিকার হয়ে উঠছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৩ সালের মধ্যে শিল্পোৎপাদিত ট্রান্স ফ্যাটমুক্ত বিশ্ব অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ভারত, থাইল্যান্ড, ইরান, অস্ট্রিয়া, নরওয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ব্রাজিলসহ মোট ৩০টি দেশে খাদ্য দ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ কার্যকর করেছে। এছাড়া আরো ২৪টি দেশ ট্রান্স ফ্যাটের সর্বোচ্চ মাত্রা ২ শতাংশে নামিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) সূত্রে জানা গেছে ট্রান্স ফ্যাটের সর্বোচ্চ মাত্রা ২ শতাংশে নামিয়ে আনতে একটি নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে তারা। ভোজ্যতেল এবং অন্যান্য খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাটের মাত্রা কমিয়ে আনতে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং উক্ত কমিটি এরই মধ্যে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারবিশেষজ্ঞ এবং ভোক্তাদের সাথে আলোচনা করেছে। সংস্থাটি বলছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড মেনেই শিগগিরই এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে।
করোনা থেকে বাঁচতে ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার বর্জন করুন; বিকল হতে পারে হৃদপিণ্ড, কিডনি, লিভার, দাবি বিশেষজ্ঞদের
বিড়ি- সিগারেট উৎপাদন ও কেনাবেচা বন্ধে রাজি হয়নি শিল্প মন্ত্রণালয়, গ্রহণ হয়নি স্বাস্থ্য বিভাগের অনুরোধ; ক্ষুব্ধ তামাক বিরোধীরা
বিড়ি-সিগারেট ও অন্যান্য তামাকজাতীয় পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধ গ্রহণ করেনি শিল্প মন্ত্রণালয়।
বুধবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধ গ্রহণ না করার কথা জানানো হয়।
গত সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল থেকে এক চিঠিতে করোনা পরিস্থিতির কারণে জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে সব ধরনের তামাক পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন বন্ধের অনুরোধ জানিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে শিল্পমন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তামাক বিরোধী সংগঠনগুলো। তাদের মতে করোনাভাইরাসের এই দুর্যোগকালিন সময়ে জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধ বিবেচনা করা দরকার ছিলো। তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞা’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ধুমপানসহ তামাকজাত দ্রব্য সেবনে ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রে মারাত্বক ক্ষতি করে। আর করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ আক্রান্ত করে ফুসফুসকে। এ দিকটি বিবেচনা করেই সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ তামাক পণ্য উৎপাদন বিপণন ক্রয় বিক্রয় বন্ধ রাখার কথা বলেছিল, যা একটা ভালো উদ্যোগ। প্রজ্ঞার পক্ষ থেকে বলা হয় ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাসহ অনেক দেশই সাময়িক ভাবে তামাকজাত পণ্য উৎপাদন বিপণন বন্ধ রেখেছে। বাংলাদেশেও সাময়িক ভাবে হলেও তা বন্ধ রাখা দরকার ছিলো বলে মনে করে প্রজ্ঞা।
এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধ না রাখার পেছনে কয়েকটি যুক্তি তুলে ধরেছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে । এতে বলা হয়, অর্থনৈতিক কারণে ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি চিন্তা করে হুট করে তামাকের উৎপাদন ও বিপণন বন্ধ করা সম্ভব নয়। আবার সাময়িক নিষিদ্ধ করলেও ধূমপান বন্ধ হবে না। বরং কালোবাজারি হবে, সরকার রাজস্ব হারাবে। সামগ্রিক বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ শিল্প চালু রাখা যুক্তিসংগত হবে বলে শিল্প মন্ত্রণালয় মনে করে।
শিল্প মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ২০৪১ সালের মধ্যে ধূমপানমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নীতিকে শিল্প মন্ত্রণালয়ও পূর্ণাঙ্গভাবে সমর্থন করে। এ লক্ষ্যে তারা কাজ করছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছিল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তামাককে কোভিড-১৯ সংক্রমণে সহায়ক হিসেবে চিহ্নিত করে এর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার কথা বলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি জানিয়েছে, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের কোভিড-১৯ সংক্রমণে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
উল্লেখ্য গত ৪ এপ্রিল ইউনাইটেড ঢাকা টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড সিগারেট উৎপাদন, তামাক ক্রয় এবং উৎপাদিত সিগারেট বিতরণ ও বিক্রির অনুমতি চেয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মোখলেছুর রহমান আকন্দকে চিঠি দেয়। তারা উল্লেখ করে যে ১৯৫৬ সালের জরুরি পণ্য আইন অনুযায়ী সিগারেট একটি জরুরি পণ্য। এর পরদিন আবেদন অনুযায়ী তাদের সব ধরনের সহায়তা করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে চিঠি পাঠায় শিল্প মন্ত্রণালয়।
বুধবার শিল্প মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলেছে, তামাক বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প। এ শিল্পের সঙ্গে দেশের হাজার হাজার প্রান্তিক চাষি ও শ্রমিকের কর্মসংস্থানের বিষয়টি জড়িত। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও শিল্পোন্নত দেশসহ গোটা বিশ্বে এখন পর্যন্ত তামাক শিল্প চালু রয়েছে। বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এককভাবে এ শিল্পের অবদান সবচেয়ে বেশি। জাতীয় রাজস্ব আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ এ শিল্প খাত থেকে আসে।
শিল্প মন্ত্রণালয় মনে করে, তামাক শিল্প হুট করে বন্ধ করে দেওয়া হলে একদিকে দেশ বিরাট অঙ্কের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগও বন্ধ হয়ে যাবে। তামাক পাতা না কিনলে প্রান্তিক চাষিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণা দেবে। ফলে বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ধূমপান কিংবা তামাক জাতীয় পণ্যের ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও এর সেবনকারীরা তা জেনেশুনেই করছেন বলে উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে। বলা হয়, এ শিল্প সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিলেও তাঁরা এটি সেবন করবেন। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ‘মোটিভেশন’ ছাড়া শুধু সাময়িক উৎপাদন বন্ধ করে করোনাকালে ধূমপান প্রতিরোধ করা যাবে না। উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে কালোবাজারিরা উৎসাহিত হবে।
শিল্প মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল ধূমপায়ী ও তামাক জাতীয় পণ্যসেবীদের মধ্যে এটি পরিহারের জন্য প্রচার জোরদার করতে পারে।
করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই বৈশ্বিক অর্থনীতির মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যথেষ্ট চাপে হয়েছে বলে উল্লেখ করে শিল্প মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, আগামী দিনে অনিবার্যভাবে এই চাপ বাড়বে। এই অবস্থায় বিদ্যমান কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং শিল্প উৎপাদন বন্ধ করলে তা হবে মারাত্মক ক্ষতি।
তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল প্রয়োজনীয় ‘মোটিভেশনাল’ কার্যক্রম গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করে শিল্প মন্ত্রণালয়।
হে মানব সাবধান! সময় ফুরিয়ে এসেছে!
শুধু মানুষ কেনো সমস্ত প্রাণিকূলই তো প্রকৃতির সৃষ্টি। অথচ মানুষ এককভাবে গ্রাস করছে প্রকৃতিকে। পাহাড় বন উজাড় হচ্ছে, নদী ভরাট করে গড়ে তোলা হচ্ছে অট্টালিকা। বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে কতো প্রাণি। প্রকৃতিকে তার মতো করে থাকতে দিচ্ছি না। সে এখন প্রতিশোধ নেয়া শুরু করেছে কি না কে জানে? কোরোনাভাইরাস তারই কোনো উপজাত কিনা তাও ভাববার বিষয়। এ নিয়ে লিখেছেন, রূপরতন পাইন।
কোরোনাকে আমরা যে যার মতো ব্যাখ্যা করছি। কেউ ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে, কেউবা দিচ্ছি বৈজ্ঞানিক ব্যাখা। কেউ আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোকে, আবার অন্যদিকে কেউ নৃ-তাত্বিক-গোষ্ঠীগত আচরণের বিষয়টি আলোচনায় আনছেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে পৃথিবীর ইকোসিস্টেমস, খাদ্যশৃংখল, প্রাণী উদ্ভিদের জীবন চক্রসহ বিভিন্ন বিষয়ের যে ইতিমধ্যেই অলক্ষ্যে অনেক পরিবর্তন ঘটে গেছে তা পরিবেশ বিজ্ঞানীরা অনেকদিন থেকে বলে আসলেও বিশ্বমোড়লরা সে কথা বিশ্বাস করতেই চাচ্ছেন না। তারা উন্নয়ন ছাড়া কিছুই বুঝতে চান না।
কয়েকশ বছর আগে চার্লস ডারউইন যে বিবর্তনবাদের কথা বলে গেছেন অধিকাংশ বিজ্ঞানী এ বিষয়ে একমত হলেও ধর্মীয় কারণে বিবর্তনবাদ বিশ্বাসতো দূরের কথা ডারউইনকে বানরের সাথে তুলনা করার লোকেরও অভাব নেই। পৃথিবীর কিছু দেশেতো ওসব বই পুস্তক থেকেও বাদ দেয়া হয়েছে। এতো কিছুর পরেও বিবর্তনতো থেমে নেই। যতদূর জানি কোরোনা একধরনের ভাইরাস গোষ্ঠীর সদস্য। যারা আগে থেকেই পৃথিবীতে ছিলো। ভাইরাস জীব ও জড়ের মাঝামাঝি এক কোষী একটা প্রাণী যারা পোষক দেহেই জীবনের লক্ষণ প্রকাশ করে এবং দ্রুত প্রতিলিপি (বংশ বৃদ্ধি) তৈরি করে। তো এ নতুন জাতের কোরোনা বিবর্তনেরই ফসল বলে বিশেষজ্ঞরা একমত ।
কোরোনা নিয়ে আমার এ লেখার উদ্দেশ্য নয়। তাছাড়া আমার এ বিষয়ে জ্ঞানও নেই। আমি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর যে প্রভাব পরেছে তার দুটি ঘটনা আমার বন্ধুদের জানানোর জন্য এতো কিছুর অবতারণা করলাম। আমাদের কৃত কর্মই যে আমাদের শেষ করবে এর দুটি ঘটনা বলবো। একটি হচ্ছে গবেষণালব্ধ। নেট থেকে জানলাম। আর অন্যটা আজ চোখে দেখলাম।
হাইবারনেশন বা শীতনিদ্রা কিছু কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে জীবনে বেঁচে থাকার বাস্তবতা। জীবনধারনের প্রতিকূল পরিবেশ-যেমন শীত বা তুষারপাত, খাদ্যের অভাবসহ বিভিন্ন কারণে অনেক প্রাণী শীতের সময়ে হাইবারনেশনে যায়। এসময়ে তারা পাহাড়ের গুহায় বা মাটির নীচে আশ্রয় নেয়। শ্বাসপ্রশ্বাস ছাড়া জীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রম মোটামুটি অফ রাখে।
ভল্লুক বা বিয়ার এরকম একটি প্রাণী যারা শীতকালে হাইবারনেশনে চলে যায়। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে কোনো কোনো দেশের ভল্লুককূল মানুষের সংস্পর্শে এসে মানুষের দেয়া খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পরেছে। ফলে এদের হাইবারনেশনের সময়কাল কমে যাচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় তাদের বংশ বৃদ্ধি আশংকাজনক হারে কমে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা এর ফলে তাদের বিলুপ্ত হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। এর প্রভাব পরবে খাদ্যশৃংখলসহ পুরো ইকোসিস্টেমে। চূড়ান্ত বিচারে মানব জীবনেও এর প্রভাব এড়ানো যাবে না বলে আশংকা।
অন্য ঘটনাটি আজকের দেখা। সাধারণত আমাদের দেশে নভেম্বর-ডিসেম্বরে সারমেয়রা বংশবৃদ্ধি করে থাকে। আজকে সন্ধ্যায় দেখলাম রাস্তার ধারে এক মা সারমেয় সদ্যোজাত সন্তানদের দুগ্ধপান করানোতে ব্যস্ত। আমি অবাক হয়ে চিন্তা করলাম সাত আটমাস আগেই কিভাবে সে বাচ্চা পেলো। তার মানে প্রকৃতিতে এতো পরিবর্তন ঘটে গেছে যা আমরা টের পাচ্ছি না।
এতো বড়ো লেখার উদ্দেশ্য হলো আমরা মানবকূল যারা আমাদের প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে লোভে পড়ে প্রকৃতিকে তার মতো করে থাকতে দিচ্ছি না। আমাদের মতো করে তাকে থাকতে বাধ্য করছি। সে কিন্তু নানানভাবে আমাদের জানান দিচ্ছে সে ভালো নেই। সে এখন প্রতিশোধ নেয়া শুরু করেছে কি না কে জানে। কোরোনা তারই কোনো উপজাত কিনা তাও ভাববার বিষয়।
এ লেখার সময় আম্ফানের তান্ডব এবং এর ক্ষয়ক্ষতিতে আমরা অস্থির হয়ে পরেছি। বিজ্ঞানীরা হিসেব করে বলে দিচ্ছেন জলোচ্ছ্বাস ঘূর্ণিঝড় আশংকাজনক হারে বেড়ে যাচ্ছে। মনে রাখার জন্য সুন্দর সুন্দর নামও দিচ্ছি আমরা। কোনো কাজ হবে না। যতোদূর মনে পড়ে এ যুগের সবচেয়ে বড়ো তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বলে গেছেন মানবের কারণেই মানবজাতির ধ্বংস আসবে। তাই হে মানব সাবধান! সময় ফুরিয়ে এসেছে!
লেখকঃ ব্যাংক কর্মকর্তা।
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুসফুস ; বিড়ি সিগারেটসহ সব ধরনের তামাক পণ্য উৎপাদন বন্ধ রাখার অনুরোধ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের
করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুসফুস। আর এই ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো সিগারেট,বিড়িসহ তামাকজাত দ্রব্য। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে বিড়ি সিগারেটসহ সব ধরনের তামাকজাত পণ্য উৎপাদন ও ক্রয় বিক্রয় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ১৮ মে সোমবার শিল্পমন্ত্রণালয়ের সচিবকে দেয়া এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানিয়েছে। তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী যুগ্ম সচিব মো. খায়রুল আলম শেখ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশের তামাক কোম্পানিগুলোকে উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিশেষ অনুমতিপত্র প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানানো হয়।
প্রসঙ্গত তামাক পণ্য বলতে সব ধরনের সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল, তামাক পাতা, তামাক ডাঁটা ইত্যাদিকে বোঝানো হয়ে থাকে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তামাককে কোভিড-১৯ সংক্রমণ সহায়ক হিসেবে চিহ্নিত করে এর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার কথা বলছে। ধূমপানের কারণে শ্বাসতন্ত্রের নানাবিধ সংক্রমণ এবং কাশিজনিত রোগ তীব্র হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাধিক গবেষণা পর্যালোচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি জানিয়েছে, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের কোভিড-১৯ সংক্রমণে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এছাড়াও গবেষণা দেখা গেছে, কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত ধূমপায়ীর মৃত্যুঝুঁকিও ১৪ গুণ বেশি। কোভিড-১৯ সংক্রমণ মোকাবিলায় ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সাময়িকভাবে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য ক্রয়-বিক্রয়, সীসা বার, উন্মুক্ত স্থানে পানের পিক ফেলার মতো বিষয়গুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সরকার কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ক্রমবর্ধমান কোডিড-১৯ রোগ প্রতিরোধে, শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসেবা প্রদানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের তামাক কোম্পানিগুলোকে উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিশেষ অনুমতিপত্র প্রদান করা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা মোকাবিলা এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হ্রাস করতে প্রণীত সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮-এ সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে বাজার, গণজমায়েত সাময়িকভাবে বন্ধ, দেশের অভ্যন্তরে এক স্থান থেকে অনা স্থানে চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলো শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনার অজুহাতে এ আইন লঙ্ঘন করে চলেছে।
এ কারণে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী তামাকমুক্ত বাংলাদেশ পড়ার প্রত্যয় এগিয়ে নিতে সব তামাক কোম্পানির উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন ও তামাকপাতা ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে এ ব্যাপারে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতাও কামনা করা হয়।
চিঠিতে বলা হয় বাংলাদেশে ১৫ বছরের উর্ধ জনগোষ্ঠীর ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাক সেবন করে। তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর ১ লাখ ৬১ হাজারের বেশি লোক মারা যায়। এছাড়া তামাক খাত থেকে রাজস্ব আয়ের চেয়ে তামাকজনিত রোগব্যাধির চিকিৎসা খরচ অনেক বেশি।
করোনা সংক্রমণ রুখতে ধুমপান বন্ধ করতে হবে, বাজেটে তামাক পণ্যের দাম বাড়ানোর দাবি সংগঠনগুলোর
করেনাভাইরাস তথা কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় তামাকপণ্যের কর ও দাম বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো।
তারা সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রবর্তন, সিগারেটে ২টি মূল্যস্তর এবং তামাকপণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর ৩ শতাংশ সারচার্জ আরোপসহ প্রস্তাবিত কর ও দাম বাড়ানের দাবি জানিয়েছে।
দাবি বাস্তবায়ন করা হলে ১১ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে, যা সরকার কোভিড-১৯ মহামারী সংক্রান্ত স্বাস্থ্য ব্যয় এবং প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ব্যয় করতে পারবে।
এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে ৬ লাখ ধূমপায়ীর অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে এবং প্রায় ২০ লাখ ধূমপায়ী ধূমপান ছেড়ে দিতে উৎসাহিত হবে। একইসাথে করোনার মতো যেকোন ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস পাবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) তামাককে করোনা সংক্রমণ সহায়ক হিসেবে চিহ্নিত করে এর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার কথা বলছে। ধূমপানের কারণে শ্বাসতন্ত্রের নানাবিধ সংক্রমণ এবং শ্বাসজনিত রোগ তীব্র হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন গবেষণা পর্যালোচনা করে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে যে, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের কোভিড-১৯ সংক্রমণে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এই সতর্কতা আমলে নিলে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি তামাক ব্যবহারকারী মারাত্মকভাবে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তামাকের সহজলভ্যতা এবং ত্রুটিপূর্ণ করকাঠামোই এর প্রধান কারণ। তামাকের দাম বেশি হলে তরুণ জনগোষ্ঠী তামাক ব্যবহার শুরু করতে নিরৎসাহিত হয় এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী তামাক ছাড়তে উৎসাহিত হয়। তামাক কর ও মূল্যবৃদ্ধির দাবিতে রবিবার প্রজ্ঞা এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স-আত্মা’র উদ্যোগে তামাকবিরোধী সংগঠন এসিডি, ঢাকা আহছানিয়া মিশন, ইপসা, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, তামাকবিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ) এবং বিটা ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য তামাক কর ও দাম সংক্রান্ত বাজেট প্রস্তাব গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরে।
এই বাজেট প্রস্তাব সমর্থন করে জাতীয় তামাকবিরোধী মঞ্চের আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, আমরা জানি যেকোনো ভাবে তামাক সেবন স্বাস্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং এই কোভিড-১৯ মহামারী আবারও বুঝিয়ে দিল সুস্থ থাকার জন্য তামাকপণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ কতটা জরুরি। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তামাক ব্যবহারের ক্ষতির শিকার বিপুল সংখ্যক মানুষ বর্তমানে মারাত্মকভাবে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যেও রয়েছে। করোনার অভিঘাত কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সুস্থ সমাজ গঠন ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য তামাকমুক্ত জাতীয় পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি। তাই আসন্ন বাজেটে সকল তামাকপণ্যের কর ও মূল্য বাড়িয়ে তরুণ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠির ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করছি। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের বিদ্যমান চারটি মূল্যস্তর বিলুপ্ত করে দুটি নির্ধারণ করা দরকার। কারণ একাধিক মূল্যস্তর এবং বিভিন্ন দামে সিগারেট কেনার সুযোগ থাকায় ভোক্তা স্তর পরিবর্তন করার সুযোগ পায়। ফলে তামাক ব্যবহার হ্রাসে কর ও মূল্য পদক্ষেপ সঠিকভাবে কাজ করে না। তামাক খাত থেকে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং তামাকপণ্যের ব্যবহার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কমানোর জন্য একটি সহজ ও শক্তিশালী তামাক করনীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা খুবই জরুরি বলে তিনি মনে করেন।বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এর রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মাহফুজ কবীর বলেন, কোভিড -১৯ সংকট মোকাবেলায় তামাক কর সংস্কার একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। এক্ষেত্রে তামাকপণ্যের জন্য নির্ধারিত সম্পূরক শুল্কের একটি অংশ সুনির্দিষ্ট কর আকারে আরোপ করা যেতে পারে এবং অন্যান্য কর পদক্ষেপের সাথে সব ধরনের তামাকপণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর ৩ শতাংশ হারে সারচার্জ আরোপ করা যেতে পারে। সবমিলিয়ে, তামাক-কর বিষয়ক এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে সম্পূরক শুল্ক এবং ভ্যাট বাবদ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব এবং সারচার্জ থেকে আরো প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আয় অর্জন করা সম্ভব হবে। এই অর্থ সরকার তামাক ব্যবহারের ক্ষতি হ্রাস, করোনা মহামারী সংক্রান্ত স্বাস্থ্য ব্যয় এবং প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ব্যয় করতে পারবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বাংলাদেশ এখন তরুণদের দেশ। এই তরুণদের ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যত বাংলাদেশের উন্নতি। সেজন্য তামাকের মতো স্বাস্থ্য হানিকর পণ্য থেকে তরুণ সমাজকে দূরে রাখতে তামাকপণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি করে ধূমপান সামগ্রীর দাম তরুণ প্রজন্মের নাগালের বাইরে রাখতে হবে। পাশাপাশি তরুণ এবং শিক্ষার্থীদের তামাকের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম চালাতে হবে।
কোভিড-১৯ মহামারী সংক্রান্ত স্বাস্থ্য ব্যয় এবং প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত অর্থ সংস্থান এবং একইসাথে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনের পথ সুগম করতে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের কর ও মূল্য বৃদ্ধির জন্য নিম্নোক্ত দাবিসমূহ তুলে ধরা হয়:
বাজেট প্রস্তাব:
১। সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা ৪টি থেকে ২টিতে (নিম্ন এবং প্রিমিয়াম) নামিয়ে আনা:
ক. ৩৭+ টাকা এবং ৬৩+ টাকা এই দুইটি মূল্যস্তরকে একত্রিত করে নিম্নস্তরে নিয়ে আসা; নিম্নস্তরে ১০ শলাকা সিগারটের খুচরা মূল্য ন্যূনতম ৬৫ টাকা নির্ধারণ করে ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ১০ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা;
খ. ৯৩+ টাকা ও ১২৩+ টাকা এই দুইটি মূল্যস্তরকে একত্রিত করে প্রিমিয়াম স্তরে নিয়ে আসা; প্রিমিয়াম স্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ন্যূনতম ১২৫ টাকা নির্ধারণ করে ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ১৯ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা;
২। বিড়ির ফিল্টার এবং নন-ফিল্টার মূল্য বিভাজন তুলে দেয়া: ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ৪০ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫% সম্পূরক শুল্ক ও ৬.৮৫ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা; এবং ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ৩২ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫% সম্পূরক শুল্ক এবং ৫.৪৮ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা;
৩। ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের (জর্দা ও গুল) মূল্য বৃদ্ধি করা: প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৪০ টাকা এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ২৩ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫% সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা; এবং প্রতি ১০ গ্রাম জর্দা ও গুলের উপর যথাক্রমে ৫.৭১ টাকা এবং ৩.৪৫ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা; সকল ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বলবৎ রাখা।
৪। সকল তামাকপণ্যের খুচরামূল্যের ওপর ৩ শতাংশ হারে সারচার্জ আরোপ করা।
উল্লিখিত তামাক-কর ও মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে সম্পূরক শুল্ক এবং ভ্যাট বাবদ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব আয় অর্জিত হবে। এছাড়াও ৩ শতাংশ সারচার্জ থেকে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আয় অর্জন করা সম্ভব হবে। অতিরিক্ত এই অর্থ সরকার তামাক ব্যবহারের ক্ষতি হ্রাস, করোনা মহামারী সংক্রান্ত স্বাস্থ্য ব্যয় এবং প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ব্যয় করতে পারবে।
করোনা নিয়ে চীন- মার্কিন দ্বৈরথ; ২০ বছরে ৫ ধরনের ভাইরাস ছড়িয়েছে চীন, সব সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিশ্বে জুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার জন্য চীনকে আগেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, করোনার মতো মহামারি ছড়ানোর দায়ে চীনের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্কই শেষ করে দেয়া হবে।
আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রায়েন আরো কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, গত ২০ বছরে চীন থেকে পাঁচ ধরনের সংক্রামক ব্যধির আমদানি হয়েছে। এবার এটা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, সময় এসেছে, সমগ্র বিশ্বের মানুষকে সমস্বরে বলতে হবে, চীন থেকে উৎপন্ন হওয়া সংক্রমণ আর আমরা সহ্য করব না।’
মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ‘ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ক’-কে ১৪ মে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, চীন সক্রিয় ভাবে প্রথমেই তা রুখে দিলে, গোটা বিশ্বে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ত না আর তা মহামারির আকারও নিত না। চীনের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘‘(করোনা-মোকাবিলায়) চীনের ভূমিকায় আমরা একেবারেই সন্তুষ্ট নই। গোটা (করোনা) পরিস্থিতি নিয়েও সন্তুষ্ট নই। কারণ আমাদের বিশ্বাস, একে (করোনা-সংক্রমণকে) গোড়াতেই রোখা যেত। এবং দ্রুত রোখা হলে তা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ত না।
করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেনি চীন। মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কম করে দেখিয়েছে। কোভিড-১৯ ভাইরাস উহানের ল্যাবে তৈরি করে ছাড়া হয়েছে— বেজিং-এর বিরুদ্ধে এমন গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বার সরাসরি চীনের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বললেন। চীনের ভূমিকায় অত্যন্ত হতাশ বলে জানিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য, ‘‘ওঁর সঙ্গে আমি কথা বলতে চাই না।’’
সাক্ষাৎকারে এ বছরের জানুয়ারিতে চীনের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের বক্তব্য, ‘‘ওঁদের এটা হতে দেওয়া উচিত হয়নি (করোনাভাইরাস ছড়াতে দেওয়া)। আমি যে বাণিজ্য চুক্তি করেছিলাম, সেটা বিশাল কিছু বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু এখন আর সেটা মনে হয় না।’’ রূপকের আশ্রয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কালি শুকিয়ে গিয়েছে এবং মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে। এখন আর আগের মতো মনে হয় না।’’
কিন্তু সম্পর্ক শেষ করবেন কী ভাবে? কোন পথে? নির্দিষ্ট কোনও বিষয় স্পষ্ট না করে বলেন, ‘‘আমরা অনেক কিছুই করতে পারি। আমরা সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারি। আর সেটা করলে কী হবে? ৫০০ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে আমেরিকার।’’ চীন থেকে প্রতি বছর প্রায় এই পরিমাণ টাকার পণ্য আমদানি করে। সেটাই উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
হুশিয়ারী জাতীয় উপদেষ্টারঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রায়েন দাবি করলেন, গত ২০ বছরে চীন থেকে পাঁচ ধরনের সংক্রামক ব্যধির আমদানি হয়েছে। এবার এটা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের জেরে সমগ্র বিশ্বে এখনও পর্যন্ত আড়াই লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সংখ্যাটি কোথায় গিয়ে থামবে, বলা যাচ্ছে না। তাই সময় এসেছে, সমগ্র বিশ্বের মানুষকে সমস্বরে বলতে হবে, চীন থেকে উৎপন্ন হওয়া সংক্রমণ আর আমরা সহ্য করব না।’
বিশ্বের যাবতীয় বড় বড় ব্যধির জন্য চীনকে দায়ী করে ও’ব্রায়েন বলেন, ‘আমরা জানি, করোনা উহান থেকেই এসেছে। সেটা ভাইরোলজি ল্যাব অথবা বাজার থেকে আসতে পারে। যদিও চীনের কাছে এই প্রশ্নের সদুত্তর নেই। গত ২০ বছরে আমরা চীনের কাছ থেকে পাঁচটি সংক্রমক রোগ উপহার পেয়েছি। আমরা পেয়েছি, সিভিয়ার অ্যাকুয়েট রেসপাইরেটরি সিন্ড্রম (সার্স), এভিয়েন ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, কোভিড-১৯ ইত্যাদি। এখন প্রশ্ন, আর কতদিন গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের দ্বারা ছড়িয়ে পড়া রোগের জন্য বিশ্ববাসীকে ভুগতে হবে?’ চারটি রোগের কথা উল্লেখ করলেও পাঁচ নম্বর কোন ভাইরাসের কথা তিনি জানাননি।
এদিাে শুধু অভিযোগেই ক্ষান্ত থাকছে না আমেরিকা। চীনের প্রতি আক্রোশ মেটাতে এবার যাবতীয় অনুমোদন বন্ধ করতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাবনা এনেছেন ন’জন প্রভাবশালী সিনেটর। তাঁদের বক্তব্য, করোনা মহামারী নিয়ে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা না করলে চীনের বিরুদ্ধে যাবতীয় অনুমোদন বন্ধ করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে ক্ষমতা দেওয়া হোক।
প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাইকোর্টে প্রথম রিট, নিম্ন আদালতেও ‘ভার্চুয়াল কোর্ট ‘এ শুনানি
তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে দেশের বিচারাঙ্গনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় দুমাস ধরে দেশের সবকিছু বন্ধ। আদালত বন্ধ থাকায় বিচারপ্রার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। এমনিতেই মামলাজটের কারণে আদালতে অচলাবস্থা, তার ওপর দিনের পর দিন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগের মাত্রা যে আরো বাড়বে তা নিশ্চিতই বলা যায়। এ থেকে পরিত্রানের পথ খুঁজতে গিয়ে আপাতত মিলেছে ভার্চুয়াল কোর্টের দাওয়াই। সিদ্ধান্ত হয় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আপতকালিন সময়ে বিচারকাজ চালানোর। সরকারি এ সিদ্ধান্তের পর রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি করে ভার্চুয়াল কোর্টের অনুমোদন দেয়া হয়। এর ফলে আইনজীবী ও আসামী বা বিচারপ্রার্থীকে সশরীরে আদালতে হাজির না হয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে শুনানি করবেন। এজন্য হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে পৃথক বেঞ্চ গঠন করা হয়ছে। জজ আদালত ও সিএমএম এবং সিজিএম আদালতেও দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছে। আইনজীবীরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘরে বসেই মামলা পরিচালনা করবেন।
মঙ্গলবার প্রথম দিনেই হাইকোর্টে এক রিটে চট্টগ্রামের হালদা নদীর ডলফিন হত্যা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালককে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ই-মেইলের মাধ্যমে হাইকোর্টকে জানাতে বলা হয়েছে।
হালদা নদীতে ডলফিন হত্যা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে করা একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেয় বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, প্রযুক্তির মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম শুরুর পর প্রথম আদেশ আসলো উচ্চ আদালত থেকে।
এ দিকে ঢাকার সিএমএম কোর্টে চারটি ভার্চুয়াল আদালতে প্রথম দিনে ১৮ মামলায় ৩৪ জনকে জামিন দেয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা আদালতেও ভার্চুয়াল কোর্টে মামলার শুনানি হয়েছে। যার মাধ্যমে দেশের বিচারবিভাগে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
সোমবার হাইকোর্টে ভার্চুয়াল আদালতে প্রথম রিট আবেদনটি করেন ব্যারিস্টার আবদুল কাইয়ুম লিটন।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার ও সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।
এদিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের চারটি ভার্চুয়াল কোর্টে ১৮ মামলায় ৩৪ জনকে জামিন দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার এ চার আদালতে মোট ২৫টি জামিন আবেদন জমা পড়ে। চারটি কোর্টে ধারাবাহিকভাবে এসব আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ১৮টির আবেদন মঞ্জুর হয় বলে আদালত সূত্রে জানা যায়।
এর আগে সোমবার হাজতি আসামিদের জামিন শুনানির জন্য ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চারটি ভার্চ্যুয়াল কোর্ট গঠন করা হয়। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) এএম জুলফিকার হায়াত স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ আদালত গঠনের কথা জানানো হয়।
নোটিশে বলা হয়, ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০’ এর ক্ষমতাবলে সুপ্রিমকোর্ট কর্তৃক জারি করা ‘বিশেষ প্র্যাকটিস নির্দেশনা’ অনুসারে এ কোর্ট গঠন করা হয়। সাপ্তাহিক ছুটি ও অন্য সরকারি ছুটি ব্যতীত অন্য সময়ে এসব আদালতে ই-মেইল ও ই-ফাইলিংয়ের মাধ্যমে জামিন আবেদন করা যাবে।
ঢাকার সিএমএম আদালতে ভার্চ্যুয়াল কোর্ট ১ এর দায়িত্বে রয়েছেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাফুজ্জামান আনছারী, কোর্ট ২ এর দায়িত্বে সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী, কোর্ট ৩ এর দায়িত্বে দেবদাস চন্দ্র অধিকারী ও কোর্ট ৪ এর দায়িত্বে রয়েছেন রাজেশ চৌধুরী।
মঙ্গলবার এমন তথ্য জানিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।
গত ১০ মে নিম্ন আদালতের ভার্চ্যুয়াল কোর্টে শুধু জামিন শুনানি করতে নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। এ বিষয়ে ওইদিন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলা এবং এর ব্যাপক বিস্তার রোধকল্পে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত সব আদালতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ছুটির সময়ে বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর এলাকার মহানগর দায়রা জজ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, বিশেষ জজ আদালতের বিচারক, সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক, জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারকক এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিজে অথবা তার নিয়ন্ত্রণাধীন এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০ এবং উচ্চ আদালতের জারিকৃত বিশেষ প্র্যাকটিস নির্দেশনা’ অনুসরণ করে শুধু জামিন সংক্রান্ত বিষয়গুলো তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার উদ্দেশ্যে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।
এরপর সোমবার থেকে জামিন শুনানি শুরু হয়। প্রথমবারের মতো কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ এক আসামিকে জামিন দেন।
মঙ্গলবার সুপ্রিমকোর্ট জানায়, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ৪টি মামলার শুনানি নিয়ে ৪ জনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন। পাশাপাশি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালত ১৯ মামলার শুনানি নিয়ে ৩৪ জনকে জামিন দিয়েছেন।
নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সিজেএম) মোট আবেদন ২০ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১০টির শুনানিতে ৪ জনের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ৭টি মামলার মধ্যে ২টির শুনানি হয়েছে। একটিতে একজনের মঞ্জুর করে অপরটি খারিজ করা হয়েছে।
ফেনীর সিজেএম আদালতে ২২টি আবেদনের মধ্যে ৩টির শুনানি শেষে ৬ জনকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিজেএম আদালতে মোট আবেদন জমা পড়েছে ২০০টি। এর মধ্যে ২টি মামলার শুনানি শেষে ২ জন জামিন পেয়েছেন।
দিনাজপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালত ৮টি মামলায় শুনানি নিয়ে ৬টি মঞ্জুর করে ৬ জনকে জামিন দিয়েছেন। অপর ২টি আবেদন খারিজ করা হয়।
দিনাজপুর সিজেএম আদালতে মোট আবেদন পড়েছে ৮০টি। এরমধ্যে ২৬টির শুনানি শেষে ২০টিতে ২৪ জনকে জামিন দিয়েছেন আদালত। খারিজ করা হয় ৬টি আবেদন।
ঠাকুরগাঁও সিজেএম আদালতে একটি আবেদন মঞ্জুর করে একজনকে জামিন দেওয়া হয়েছে। খারিজ করা হয়েছে তিনটি আবেদন।
সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ৫টির শুনানি নিয়ে তিনটি আবেদন খারিজ করা হয়েছে। অপর দুই মামলায় ২ জনকে জামিন দেন আদালত।
সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালত ৮ আবেদনের মধ্যে ২টি মঞ্জুর করে ৮ জনকে জামিন দিয়েছেন।
সিলেট সিজেএম আদালতে ৯টির শুনানি নিয়ে ৮টিতে ১৫ জনকে জামিন দেওয়া হয়।
সিলেট সিএমম আদালতে ১৩টি আবেদনের শুনানি নিয়ে ৭টিতে ৭ জনের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। খারিজ করা হয়েছে ৬টি আবেদন।
সিলেট শিশু আদালতে একটি আবেদনের শুনানি নিয়ে এক শিশুকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সিজেএম আদালতে ৮টি আবেদনের শুনানি নিয়ে ৫টি মঞ্জুর করে ৫ জনকে জামিন দেওয়া হয়েছে। বাকি তিনটি আবেদন খারিজ করা হয়েছে।
নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত ৪টি আবেদনের শুনানি নিয়ে ৪ জনকে জামিন দিয়েছেন।
নেত্রকোনা সিজেএম আদালতে তিনটি আবেদনের শুনানি নিয়ে ৪ জনকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
মাগুরা সিজেএম আদালত ১৫টি আবেদনের মধ্যে ১৩টি মঞ্জুর করে ১৮ জনকে জামিন দিয়েছেন। বাকি দু’টি খারিজ করা হয়েছে।
আরো একটি বেঞ্চ গঠনঃ
সুপ্রিম কোর্টে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে শুনানির জন্য আরও একটি বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিচারপতি জেবিএম হাসান-এর বেঞ্চে অতিব জরুরি সব ধরনের ফৌজদারি মোশন ও তৎসংক্রান্ত জামিনের আবেদনপত্র ই-মেইলে পাঠানো যাবে।
এর আগে গত ১০ মে আপিল বিভাগে চেম্বার আদালত ও হাইকোর্ট বিভাগে তিনটি বেঞ্চ গঠন করেছিলেন প্রধান বিচারপতি।
আপিল বিভাগের বিচারকার্য পরিচালনার জন্য চেম্বার জজ হিসেবে বিচারপতি মো. নূরুজ্জামানকে প্রধান বিচারপতি মনোনয়ন দিয়েছেন।
বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান আগামী ১৪ ও ২০ মে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে শুধু ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে চেম্বার কোর্টে শুনানি গ্রহণ করবেন।
করোনা থেকে বাঁচতে এক বছরের জন্য দেবী শেঠি’র ১৬ পরামর্শ
ভয়াবহ করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে সবারই চাই বাড়তি সতর্কতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সাবধানতা ২/১ মাস নয় বরং টানা ১ বছর মেনে চলতে হবে । আগামী এক বছরের জন্য আমাদের লাইফস্টাইল কেমন হবে সে পরামর্শ দিয়েছেন বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা.দেবী শেঠি। তাঁর পরামর্শগুলো হচ্ছে,
(১) এক বছরের জন্য বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত।
(২) আগামী এক বছর বাইরের খাবার খাবেন না। (৩) বিয়ে বা অন্যান্য অনুরূপ অনুষ্ঠানে যাবেন না। (৪) অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ করবেন না।
(৫) কমপক্ষে এক বছর কোনো ভিড়ের জায়গায় যাবেন না।
(৬) সামাজিক দূরত্বের নিয়মাবলী সম্পূর্ণরূপে অনুসরণ করুন।
(৭) কাশি হাঁচি থেকে দূরে থাকুন।
(৮) বাইরে মাস্ক পরিধান করুন।
(৯ ) আগামী ৬ মাস সিনেমা হল, শপিং মল, ভিড়ের বাজারে যাবেন না। সম্ভব হলে পার্ক, পার্টি ইত্যাদিও এড়িয়ে চলবেন।
(১০) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান।
(১১) নাপিতের দোকানে বা বিউটি পার্লারে থাকাকালীন খুব যত্নশীল হন।
(১২) অপ্রয়োজনীয় সভাগুলি এড়িয়ে চলুন, সর্বদা সামাজিক দূরত্বের কথা মাথায় রাখুন। (১৩) বাইরে বেরোনোর সময় বেল্ট, আঙুলের রিং, ঘড়ি পরবেন না।
(১৪) ঘরে জুতো আনবেন না। বাইরে রেখে দিন। (১৫) হাত সাবান দিয়ে পরিষ্কার করুন।
(১৬) যখন মনে করবেন সন্দেহজনক রোগীর কাছ থেকে এসেছেন তখন ঘরে ফিরেই পুরো গোসল করুন।
সবশেষে দেবী শেঠি মনে করিয়ে দেন, করোনার ঝুঁকি কিন্তু খুব শিগগিরই শেষ হচ্ছে না। তাই নিয়মগুলো মানতেই হবে। সতর্ক থাকতে হবে।
বিচার বিভাগের নতুন অধ্যায় ; ভার্চুয়াল আদালতে কাজ শুরু,মিশ্র প্রতিক্রিয়া আইনজীবীদের
দেশের বিচারবিভাগের নতুন অধ্যায় শুরু হলো। করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় দুমাস ধরে অফিস আদালত বন্ধ।। আদালতে বিচারপ্রার্থীরা চরম বিপদে। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তার নিশ্চয়তা নেই। এ অবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আদালতে কার্যক্রম শুরু হলো। যেখানে শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। দেশের বিচারবিভাগের ক্ষেত্রে এক নতুন ইতিহাস।
উচ্চ আদালতে সোমবার সকাল থেকে আইনজীবীদের নিবন্ধন ও আবেদন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ভিডিও কনফারেন্সসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে আদালত পরিচালনার ‘প্র্যাকটিস’ নির্দেশনা মেনে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে আবেদন করেন আইনজীবীরা।
সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান,সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান “সোমবার সকাল থেকে সারা দেশে ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উচ্চ আদালতেও বিজ্ঞ আইনজীবীরা আবেদন ফাইল করেছেন।
“একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে অনিবার্য কারণেই দেশে ভার্চুয়াল কোর্ট চালু হল। বলা যায়, আজকের দিনটি দেশের বিচার বিভাগের জন্য একটি বিশেষ দিন। আশা করছি, এই প্রক্রিয়াটিতে বিচার বিভাগের কার্যক্রম সফলভাবেই সম্পন্ন হবে।”
কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আদালতের বিচারকাজ চালানোর অধ্যাদেশ জারির পর ‘প্র্যাকটিস ডাইরেকশন’ জারি করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তার ভিত্তিতে শুরু হল নতুন ধরনের আদালত কার্যক্রম।
মহামারীর কারণে সাধারণ ছুটি ও অবকাশের মধ্যে এই আদালত পরিচালনার জন্য হাই কোর্টে তিনটি বেঞ্চ পুনর্গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। এছাড়া আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত পরিচালনার জন্য মনোনয়ন দেন বিচারপতি নুরুজ্জামানকে।
রোববার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর, রেজিস্ট্রার মো. বদরুল আলম ভূঞা ও হাই কোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়া এ সংক্রান্ত আলাদা তিনটি বিজ্ঞপ্তি দেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বিচারকদের বিচারিক এখতিয়ার উল্লেখ করে বলা হয়, জরুরি সকল প্রকার রিট ও দেওয়ানি মোশন এবং এ সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্র গ্রহণ করবেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
জরুরি সব ধরনের ফৌজদারি মোশন ও এ সংক্রান্ত জামিনের আবেদন গ্রহণ করবেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন।
আর বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার আদীম অধিক্ষেত্রাধীন জরুরি বিষয়; যেমন,সম্পত্তি, বিয়ে,কোম্পানিসহ বিভিন্ন বিষয়ের আপিল ও আবেদন গ্রহণ ও শুনানি করবেন।
তিন ক্ষেত্রেই আইনজীবীরা তিনটি আলাদা ইমেইল ঠিকানায় আবেদন করছেন।
এদিকে চেম্বার আদালতের দিনক্ষণ উল্লেখ করে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চেম্বার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান আগামী ১৪ ও ২০ মে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শুনানি নেবেন।
কিছু সমস্যা দেখছেন আইনজীবীরা
ভার্চুয়াল আদালতে আবেদন জানিয়ে কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন আইনজীবীরা।
সোমবার সকালে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চে তিনটি জামিন আবেদন জমা পড়ে।
আইনজীবী দেওয়ান মো.আবু ওবায়েদ হোসেন, আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী মো.শাহীন মিয়া এ তিনটি আবেদন করেন। তিনটিই জামিন সংক্রান্ত আবেদন।
রাষ্ট্রেপক্ষে এ আদালতে দায়িত্বে আছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশিরুল্লাহ। তার সঙ্গে আছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।
বশিরুল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সকাল ১১টা থেকে আবেদনের কার্যক্রম শুরু হয়।
সর্বমোট ১৬টি জামিন আবেদন জমা পড়ে প্রথম দিনে। এ আবেদনগুলো বেঞ্চ কর্মকর্তা স্বচ্ছতা যাচাই করে বিচারপতির কাছে পাঠাবেন। বিচারপতি দেখবেন আবেদনটি জরুরি কি না?
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশিরুল্লাহ বলেন, “যদি জরুরি মনে করেন তাহলে মঙ্গলবার আমাদের কাছে আবেদনের অনুলিপি পাঠাবেন। মাননীয় বিচারপতি আবেদনগুলো শুনানির জন্য গ্রহণ করলে মঙ্গলবার কার্যতালিকায় আসবে এবং পরশু শুনানি হতে পারে। ওইদিন থেকে আদালতের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে বলা যায়।”
বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের ভার্চুয়াল আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে দায়িত্বে আছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার ও সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।
এই আদালতে একটি রিট আবেদন জমা পড়েছে। চট্টগ্রামের হালদা নদীতে ডলফিন শিকার বা হত্যা বন্ধ চেয়ে আবেদনটি করা হয়েছে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা আসলে জানতে পারব উনারা (বিচারপতি) যাচাই-বাছাই করে আমাদের আমাদের কাছে পাঠানোর পর। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো আবেদনের অনুলিপি আসেনি।”
বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের ভার্চুয়াল আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে দায়িত্বে আছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল মাগমার ও অমিত দাশগুপ্ত।
অমিত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে খোঁজ নিয়েছি। কোনো আবেদন জমা পড়েনি এই আদালতে।”
আদালত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটাতে আসলে এক ধরনের অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে।
“ক্লিয়ার পিকচার কেউ দিতে পারছে না। ইউএনডিপি বলছে, তারা একটি লিঙ্ক দেবে এবং একটি সফটওয়ার দেবে। এটা উদ্বোধনের পর তারা একটা ইমেইল ক্রিয়েট করে দেবে, সেটার মধ্যে সবাই আবেদন পাঠাবে। এখন আইনজীবীরা আবেদন কীভাবে জমা দিয়েছেন, বুঝতে পারছি না।”
বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চে জমা পড়া তিনটি জামিন আবেদনের মধ্যে একটি করেছেন আইনজীবী শিশির মনির।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জরুরি বিবেচনায় দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদ সাহেবের জামিন চেয়ে আবেদনটি করা হয়েছে। পাঁচ মাস ধরে কাস্টডিতে আছেন তিনি।”
ভার্চুয়াল আদালত নিয়ে শিশির মনির বলেন, “সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করলে বলতে হবে, কোর্ট খুলেছে, এটাই তো একটা বিরাট সুবিধা। অন্ততপক্ষে কিছুটা জরুরি বিষয় আদালতের নজরে আনা যাবে। আমি এটিকে সমর্থন জানাই। কারণ এই পদ্ধতি থাকলে দুর্নীতিটাও কম হবে।”
দুটি সমস্যা তুলে ধরে শিশির মনির বলেন, “আমি যখন আবেদন করলাম, আমি কিন্তু আবেদনটাকে ট্রেক করতে পারছি না। আমাকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে উনারা সেটার রিপ্লাই দেওয়ার পর। এখানে এই সিস্টেমটার উন্নতি দরকার আছে বলে মনে করি।
“আরেকটি বিষয়ও আছে। সেটি হলো আমাদের ওকালতনামা সংগ্রহ করতে হয় জেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। এই পরিস্থিতিতে জেল থেকে ওকালতনামার হার্ডকপি আমি কেমনে পাব? আমাকে তো যেতে হবে। অথবা আসামির আত্মীয়-স্বজনদের যেতে হবে। তাইলে তো আর ভার্চুয়াল থাকল না।
“জেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ওকালতনামারও যদি একটি ভার্চ্যুয়াল সিস্টেম করা যেত অর্থাৎ আবেদন করলে জেল কর্তৃপক্ষ আমাদের ইমেইলে ওকালতনামা পাঠিয়ে দিতেন, তাহলে আর কোনো অসুবিধা হত না। এই দুটি জায়গায় উন্নতি করার আছে বলে আমি মনে করি।”
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এই সঙ্কটকালে ভার্চুয়াল আদালত চালু হওয়া ‘অসম্ভব ভালো’ একটি পদক্ষেপ।
“এই মুহুর্তে এর চেয়ে ভালো পদক্ষেপ আর কিছু হতে পারে না। মানুষের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার জন্য একটা ব্যবস্থা করে দেওয়া হল।”
অনভ্যস্ততার কারণে শুরুতে কিছু সমস্যা হলেও পরে তা কেটে যাবে বলে আশাবাদী আইনজীবীদের এই নেতা।
“বিচারকরা এই প্রক্রিয়াটির সাথে অভ্যস্ত না থাকার কারণে, আইনজীবীরা অভ্যস্ত না থাকার কারণে, কোর্টের স্টাফরা অভ্যস্ত না থাকার কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা হয়ত কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হব। তবে আমি বিশ্বাস করি যে আমরা যদি প্রশিক্ষণ নিই, সবাইকে যদি এই প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত করতে পারি, তাহলে এর সুফল আমরা পাব।”
ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার জন্য একটি ওয়েব পোর্টাল ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এই আদালত ব্যবহারে ‘আমার আদালত : ভার্চুয়াল কোর্টরুম ব্যবহার ম্যানুয়াল’ ও দেওয়া হয়েছে।
আবেদন, শুনানি সবই হবে ওই পোর্টালে। ইমেইলে শুনানির সময় ও ভিডিও কনফারেন্সের লিংক পাঠানো হবে আইনজীবীকে। এসএমএসে দেওয়া হবে অ্যালার্ট। নির্দিষ্ট সময়ে বিচারক ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবী যুক্ত হবে ভিডিও কনফারেন্সে।
শুরুতে এ পদ্ধতিতে শুধু জামিন আবেদন দাখিল, শুনানি ও বেইল বন্ড দাখিলের সুযোগ পাবেন আইনজীবীরা।
এজন্য mycourt.judiciary.org.bd ওয়েবসাইটে ঢুকে একজন আইনজীবীকে মোবাইল নম্বর, নিজের পূর্ণ নাম, ছবি, ইমেইল দিয়ে নিবন্ধন করতে হচ্ছে।
৪৩ টি ভেজাল পণ্য নিষিদ্ধ করেছে বিএসটিআই; রয়েছে ড্যানিস,বোম্বে ফুডের শিশুখাদ্য, সুরেশসহ শর্ষের তেল রয়েছে ১০ কোম্পানীর
খোলাবাজার থেকে পণ্য কিনে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে যথাযথ মানের না হওয়ায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৪৩ টি পণ্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারি সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডাডর্স অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন,বিএসটিআই। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানিয়েছে, পণ্যগুলোর মান উন্নত করে নতুন করে অনুমোদন ছাড়া উৎপাদনকারী, সরবরাহকারী, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের বিক্রি-বিতরণ ও বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে না। পাশাপাশি উৎপাদনকারীদের বাজার থেকে তাদের পণ্য তুলে নিতে হবে।
বিএসটিআইয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সংস্থাটি বিভিন্ন পণ্যের ৫২১টি নমুনা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে প্রাপ্ত ২৫১টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৭টি নিম্নমানের পাওয়া যায়। যা আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাকি ২৭০টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪৩টি নিম্নমানের পাওয়া যায়। এসব পণ্যের সংশ্লিষ্ট ব্যাচ/উৎপাদনের তারিখ/লটের বিক্রিত নিম্নমানের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
যেসব পণ্য নিম্নমানের পাওয়া যায় সেগুলো হলো নরসিংদীর অন্নপূর্ণা অয়েল মিলসের সুরেশ ব্র্যান্ডের শর্ষের তেল (উৎপাদন, তারিখ ১২/২০১৯), ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার বেঙ্গল অয়েল মিলসের চাওলি ফ্লাওয়ার ব্র্যান্ডের শর্ষের তেল (উৎপাদন তারিখ ০৯-০২-২০২০), ময়মনসিংহের বিএল অয়েল মিলসের রুবি ব্র্যান্ডের শর্ষের তেল (উৎপাদন তারিখ: ০৪-১১-২০১৯), ময়মনসিংহের পদ্মা অয়েল মিলসের হিলসা ব্র্যান্ডের শর্ষের তেল (উৎপাদন তারিখ: ০১/০১/২০২০), ময়মনসিংহের রূপন অয়েল মিলসের রিং ব্র্যান্ডের শর্ষের তেল (উৎপাদন তারিখ: ০১/০৩/২০২০), নরসিংদীর লোকনাথ অয়েল মিলসের টাইগার ব্র্যান্ডের শর্ষের তেল, জামালপুরের আলী ন্যাচারাল অয়েল মিলস অ্যান্ড অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কল্যাণী ব্র্যান্ডের ফর্টিফাইড এডিবল রাইস ব্রান অয়েল (উৎপাদন তারিখ: ১৫/০৩/২০২০), গাজীপুরের ময়মনসিংহ অ্যাগ্রো লি.–এর সান ড্রপ ব্র্যান্ডের ফ্রুট অ্যান্ড ভেজিটেবল জুস (অ্যলো ভেরা) (উৎপাদন তারিখ: ১০/০৮/২০১৯), নারায়ণগঞ্জের ড্যানিশ ফুডসের ড্যানিশ ব্র্যান্ডের ধনেগুঁড়া (উৎপাদন তারিখ: ২৪/০২/২০২০), নারায়ণগঞ্জের ড্যানিশ ফুডসের ড্যানিশ ব্র্যান্ডের কারি পাউডার (বিফ মাসালা) (উৎপাদন তারিখ: ১৩/০৯/২০১৯), নারায়ণগঞ্জের ড্যানিশ ফুডস লিমিটেডের ড্যানিশ ব্র্যান্ডের কারি পাউডার (চিকেন মাসালা) (উৎপাদন তারিখ: ১২/০৯/২০১৯), নারায়ণগঞ্জের বোম্বে সুইটস অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড-২–এর বোম্বে আলুজ ব্র্যান্ডের চিপস (আলুজ) (উৎপাদন তারিখ: ফেব্রুয়ারি, ২০২০), নারায়ণগঞ্জের আইডিয়াল অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস (প্রা.) লিমিটেডের আইডিয়াল ব্র্যান্ডের কারি পাউডার (উৎপাদন তারিখ: ০২/০৫/২০১৯), নেত্রকোনার প্রিয়া ফুড প্রোডাক্টসের প্রিয়া স্পেশাল ব্র্যান্ডের প্রিয়া লাচ্ছা সেমাই, ঢাকার ধামরাইয়ের সাউদিয়া ফুড প্রোডাক্টস (প্রা.) লিমিটেডের সাউদিয়া ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, ঢাকার ফোর স্টার ফুড প্রোডাক্টসের ফোর স্টার ব্র্যান্ডের কারি পাউডার (বারবিকিউ মাসালা) (উৎপাদন তারিখ: অক্টোবর, ২০১৯), ঢাকার এ জেড এ আইডিয়াল অ্যাগ্রো ফুড অ্যান্ড বেভারেজ (প্রা.) লিমিটেডের এ জেড এ আইডিয়াল ব্র্যান্ডের কারি পাউডার (মিট কালা ভুনা মাসালা) (উৎপাদন তারিখ: ০১/০২/২০১৯), নারায়ণগঞ্জের সুরভী সল্ট আয়োডেশনের ডলফিন ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ (উৎপাদন তারিখ: নভেম্বর, ২০১৯), নারায়ণগঞ্জের সপ্তডিঙ্গা সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের মেয়র ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ (উৎপাদন তারিখ: ১৫/০৪/২০১৮), নারায়ণগঞ্জের পূবালী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের পূবালী ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ (উৎপাদন তারিখ: জুন, ২০১৯), নারায়ণগঞ্জের আলী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের টমেটো ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ (উৎপাদন তারিখ: ০১/১০/২০১৮), নারায়ণগঞ্জের নিউ কোয়ালিটি সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের তৃপ্তি ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ (উৎপাদন তারিখ: ০৫/২০১৯), নারায়ণগঞ্জের প্রগতি সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের দিগন্ত ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ (উৎপাদন তারিখ: ০৩/২০১৭), নারায়ণগঞ্জের আলী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের আলী ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ (উৎপাদন তারিখ: ০১/১০/২০১৮), নারায়ণগঞ্জের শক্তি এডিবল প্রোডাক্টসের শক্তি ব্র্যান্ডের শর্ষের তেল (উৎপাদন তারিখ: ০৭/১০/২০১৯), গাজীপুরের তুরাগ অয়েল মিলসের তুরাগ ব্র্যান্ডের সরিষার তেল (উৎপাদন তারিখ: জানুয়ারি, ২০২০), নারায়ণগঞ্জের এস কে অ্যাগ্রো ফুড প্রসেসরের শর্ষের তেল (উৎপাদন তারিখ: ২০/০৪/২০১৯), ঢাকার প্রমি অ্যাগ্রো ফুডসের প্রমি ব্র্যান্ডের শর্ষের তেল (উৎপাদন তারিখ: ০২/০২/২০২০), রংপুরের বদরগঞ্জের আনিস স্টোরের নামবিহীন খোলা ড্রামের ফর্টিফাইড পাম অয়েল, লালমনিরহাটের পাটগ্রামের ঈসমাইল স্টোরের নামবিহীন খোলা ড্রামের ফর্টিফাইড পাম অয়েল, লালমনিরহাটের পাটগ্রামের গরিবুল্লাহ শাহ স্টোরের নামবিহীন খোলা ড্রামের ফর্টিফাইড সয়াবিন অয়েল, ঢাকার আরামবাগের ফিহাত ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্সের আমদানি করা রিফাইন্ড সুগার, ঢাকার আরামবাগের ফিহাত ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্সের আমদানি করা অটোগি কারি হট ব্র্যান্ডের কারি পাউডার (উৎপাদন তারিখ: ২৯/১২/২০১৯), রাজশাহীর নওদাপাড়ার ছন্দা ফিলিং স্টেশনের হাই স্পিড ডিজেল, রাজশাহীর নওদাপাড়ার জিএম ফিলিং স্টেশনের হাই স্পিড ডিজেল, রাজশাহীর পবার মতিউর ফিলিং স্টেশনের হাই স্পিড ডিজেল, রাজশাহীর নওদাপাড়ার ছন্দা ফিলিং স্টেশনের আনলোডেড মোটর গ্যাসোলিন-প্রিমিয়াম (অকটেন), রাজশাহীর নওদাপাড়ার ছন্দা ফিলিং স্টেশনের আনলোডেড মোটর গ্যাসোলিন-রেগুলার (পেট্রোল), রাজশাহীর নওদাপাড়ার জিএম ফিলিং স্টেশনের আনলোডেড মোটর গ্যাসোলিন-প্রিমিয়াম (অকটেন), রাজশাহীর নওদাপাড়ার জিএম ফিলিং স্টেশনের আনলোডেড মোটর গ্যাসোলিন-রেগুলার (পেট্রোল), রাজশাহীর পবার আসাদুল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনের আনলোডেড মোটর গ্যাসোলিন-প্রিমিয়াম (অকটেন), রাজশাহীর পবার আসাদুল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনের আনলোডেড মোটর গ্যাসোলিন-রেগুলার (পেট্রোল) এবং রাজশাহীর পবার মতিউর ফিলিং স্টেশনের আনলোডেড মোটর গ্যাসোলিন-রেগুলার (পেট্রোল)।










