ঢাকা   বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩   রাত ১২:১৫ 

Home Blog Page 168

ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম চালু হচ্ছে; অধ্যাদেশ জারি

0

করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ রেখে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভা গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশের খসড়ায় অনুমোদন দেওয়ার পর শনিবার রাষ্ট্রপতি এ অধ্যাদেশ জারি করেন যা লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে।
কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে সবার সশরীরে উপস্থিতিতে আদালত পরিচালনার সুযোগ না থাকায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে যার যার অবস্থানে থেকে বিচার কার্যক্রম চালানোর ব্যবস্থা করতে সরকারকে অনুরোধ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট।

বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী আদালতে মামলার পক্ষ-বিপক্ষ বা তাদের পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবীদের সশরীরে উপস্থিতি থেকে মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়।ভিডিও কনফারেন্সে বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় তার দরকার হবে না।

দীর্ঘ সময় ধরে আদালত বন্ধ থাকায় মামলাজট বাড়ার পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীরা বিচারপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম করার অধ্যাদেশের খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করে আইন মন্ত্রণালয়। কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ রেখে অধ্যাদেশ প্রকাশ হওয়ায় এখন সুপ্রিম কোর্ট প্র্যাকটিস নির্দেশনা জারি করবে।

সেই নির্দেশনার আলোকেই তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আদালতের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
মামলার বিচার, বিচারিক অনুসন্ধান, দরখাস্ত বা আপিল শুনানি, সাক্ষ্য বা যুক্তিতর্ক গ্রহণ, আদেশ বা রায় দিতে পক্ষদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আদালতকে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে অধ্যাদেশে।

সেখানে বলা হয়েছে, “সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বা ক্ষেত্রমত হাই কোর্ট বিভাগ, সময় সময়, প্র্যাকটিস নির্দেশনা (বিশেষ বা সাধারণ) জারি করতে পারবে।”
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, “ফৌজদারি কার্যবিধি বা দেওয়ানি কার্যবিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে ভিন্নতর যাই থাকুক না কেন, যে কোনো আদালত এই অধ্যাদেশের ধারা ৫ এর অধীন জারিকৃত প্র্যাকটিস নির্দেশনা (বিশেষ বা সাধারণ) সাপেক্ষে, অডিও-ভিডিও বা অন্য কোনো ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে বিচারপ্রার্থী পক্ষরা বা তাদের আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তি বা সাক্ষীদের ভার্চুয়াল উপস্থিতি নিশ্চিত করে যে কোনো মামলার বিচার বা বিচারিক অনুসন্ধান বা দরখাস্ত বা আপিল শুনানি বা সাক্ষ্য গ্রহণ বা যুক্ততর্ক গ্রহণ বা আদেশ বা রায় প্রদান করতে পারবে।”
অডিও-ভিডিও বা অন্য কোনো ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে বিচারপ্রার্থী পক্ষ বা তাদের আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তি বা সাক্ষীদের ভার্চুয়াল উপস্থিতি নিশ্চিত করা ছাড়া অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধি বা ক্ষেত্রমতে দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসরণ করতে হবে বলে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে।
“কোনো ব্যক্তির ভার্চুয়াল উপস্থিতি নিশ্চিত করা হলে ফৌজদারি কার্যবিধি বা দেওয়ানি কার্যবিধি বা অন্য কোনো আইনের অধীন আদালতে তার সশরীরে উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা শর্ত পূরণ হয়েছে বলে গণ্য হবে।”
অধ্যাদেশে ভার্চুয়াল উপস্থিতির সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, “অডিও-ভিডিও বা অনুরূপ অন্য কোনো ইলেকট্রনিক পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির আদালতের বিচার বিভাগীয় কার্যধারায় উপস্থিত থাকা বা অংশগ্রহণ।”

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পক্ষে সাফাই আইনমন্ত্রীর; বাতিল চান সম্পাদকরা

0

বহুল বিতর্কিত ডিজিটাইল নিরাপত্তা আইনের পক্ষেই সাফাই গাইলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বললেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অপব্যবহারের দোষ হতে পারে, কিন্তু আইনের তো কোনো দোষ নেই। বড় বড় অপরাধ রোধকল্পে এ আইন থাকা দরকার বলেও মনে করেন তিনি।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল চেয়ে সম্পাদক পরিষদের দেওয়া বিবৃতির বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় শনিবার তিনি এ মন্তব্য করেন।

মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে অন্যের স্বাধীনতা হরণ করা মারাত্মক অপরাধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি আইন মানুষের সুরক্ষার জন্য। মানুষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইনের প্রয়োগ সঠিক হলে কোনো উদ্বেগ থাকার কথা নয়। প্রশ্ন ওঠে, আইনের প্রয়োগ নিয়ে। অপপ্রয়োগ হয় না, আমি তা অস্বীকার করছি না। কিন্তু তাই বলে কোনো আইনকে দোষারোপ করতে পারি না।
গত ৭ মে সম্পাদক পরিষদ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানান। পাশাপাশি ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট ও লেখকের মুক্তি চান সম্পাদক পরিষদের নেতারা। সংগঠনের সভাপতি মাহফুজ আনাম ও সাধারণ সম্পাদক নঈম নিজাম এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
সম্পাদক পরিষদের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, আটকের বিষয়ে আমি সম্পূর্ণ অবগত না। কারা, কোন অপরাধে আটক হয়েছেন, তা বিস্তারিত জানি না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত না হলে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলবে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যেখানে অপব্যবহার হবে, সরকার নিশ্চয়ই সেখানে ব্যবস্থা নেবে। নির্দোষ কোনো মানুষ আদালতে হয়রানির শিকার হবে না বলে জানান তিনি।

প্রতিহিংসা নয়,সরকারের সঠিক সমালোচনা করুন।

0

করোনাকালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগের এতো তোড়জোড় কেনো? কি এমন ঘটনা ঘটছে যে বিতর্কিত এই আইনটি প্রয়োগের এতো এতো দরকার পড়ে গেলো? বিশেষ করে এ দুঃসময়ে? সুনামগঞ্জে এক এমপির মামলায় স্থানীয় এক সাংবাদিক এবং হবিগঞ্জে আরেক এমপির মামলায় ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার ঘটনাগুলোতো আছেই।
ত্রাণ নিয়ে অনিয়মের কথা বললেই দেখা যাচ্ছে মামলা, গ্রেফতার করা হচ্ছে। আমি মনে করি সরকার পর্যাপ্ত ত্রাণ দিচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। তাঁর সাহসী নেতৃত্বে সবকিছু সামলাচ্ছেন। পুলিশ, সেনাবাহিনী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী সবাই যার যার অবস্থান থেকে প্রাণপনে খাটছেন।
এসবের মাঝেও একটা দুষ্টচক্র রয়েছে। যারা এই ক্রান্তিলগ্নেও দুনাম্বারী স্বভাব ছাড়তে পারছে না। এই চক্রটি ত্রাণ নিয়ে অনিয়ম করছে, স্বাস্থ্যখাতের কেনাকাটায় দুর্নীতি করছে। এদের অপকর্মের দায়ভার পড়ছে সরকারের উপর, সরকারের নীতিনির্ধারকদের উপর। এই সুযোগসন্ধানী হাইব্রিডদের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ আনেলেই এরা মামলা করে দিচ্ছে। প্রভাবখাটিয়ে জেলেও পুড়ছে। এরা নিজেরাই দুর্নীতিবাজ।
এ কথা তো সত্যি, সরকারের সব কাজের বিরোধিতা করার একটা চক্র রয়েছে। এদের বড় একটা অংশ বিরোধিতা করে রাজনৈতিক কারণে। এরা জন্মগত ও আদর্শগত কারণেই বর্তমান সরকারকে পছন্দ করে না, আওয়ামী লীগকে পছন্দ করে না, শেখ হাসিনাকে পছন্দ করে না। ভারতের নাম শুনতে পারে না, হিন্দুদের দেখতে পারে না। এটা এদের মজ্জাগত স্বভাব। জিনগত সমস্যা। এরা কারা এবং এই পছন্দ কারা করেনা এটা বুঝিয়ে বলার কিছু নেই। তাদের মাইন্ডসেটই সরকার ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনা যদি নিজে গিয়েও এদের বাড়িতে ত্রাণ দিয়ে আসেন তাতেও এরা সমালোচনা করবে। এদের আমরা ভালো করেই চিনি।
এখন খবর আদানপ্রদানের সবচেয়ে বড় মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব রয়েছে। এর কল্যাণে সবাই সবকিছু লিখতে পারছেন,মন্তব্য করতে পারছেন। আপনি ফেসবুক আর ইউটিউবে ঘুরে আসুন দেখবেন সরকারের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করার লোকের অভাব নেই। নানা কল্পকাহিনী সাজিয়ে এরা প্রচার করছে। এসব দেখে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হলে সরাকার কি তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে না? নিতে পারবে না?
গ্রেপ্তার হয়েছে,মামলা হয়েছে এমন কয়েক জনের ফেসবুক বা ইউটিউব ঘুরে মনে হয়েছে তারা এমন সব বক্তব্য দিয়েছেন বা দিচ্ছেন যা শুধু অতিরঞ্জিতই নয় অবাস্তবও। এদের অনেককেই ব্যক্তিগত ভাবে চিনি পেশাগত কারণে। এরা বর্তমান সরকারকে, শেখ হাসিনাকে তাদের নীতিগতকারণেই শত্রু মনে করেন। শেখ হাসিনার জন্য ভালো একটি বাক্যও তাদের মুখ থেকে বের হয় নি। দেশ বিদেশ থেকে এরা বাঁশের কেল্লা চালান। তাদের পোস্টগুলোতে থাকে সরকারের বিরুদ্ধে বিষদাগার, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিষদাগার। তারা যে ভাষায় লিখে, মন্তব্য করে সেগুলো সমালোচনার ভাষা না। সেগুলো হলো প্রতিহিংসা।
আমার কথা হলো এই কঠিন সময়ে সবাই জান-প্রাণ হাতের মুঠোয় নিয়ে কাজ করছে। তাদের ভুলত্রুটি হবে, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে অশ্লীল ভাষায় ঝাপিয়ে পড়বেন কেনো? গঠনমূলক সমালোচনা করুন। ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বাতলে দিন। এতে তারা উৎসাহ পাবে।
যারা দুর্নীতি করছে আর খবর হচ্ছে তারা কী রক্ষা পাচ্ছে? মাস্ক নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাইতো ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন৷ এটা কি অস্বীকার করবেন? স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রাণ নিয়ে যাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠছে তাদের বরখাস্ত করা হচ্ছে,জেলে দেয়া হচ্ছে। সরকারি বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ হচ্ছে। সেখানে স্বজনপ্রীতি,দলপ্রীতি হতেই পারে। এই বাংলাদেশে এটা কী অবাস্তব? আমাদের নিজেদের জাতটাকেওতো চিনতে হবে।
সরকারিভাবে এমন কোথাও কি বলা হয়েছে যে বিএনপি বা জামাত সমর্থকদের ত্রাণ দেয়া হবে না? সহায়তা করা হবে না? বরং উল্টোটা শুনছি। বিএনপি জামাত অধ্যুষিত এলাকায় দল,মত, ধর্ম বিবেচনা করে ত্রাণ দেয়া হয়। জামাতের যে সব প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে ত্রাণ দেয়া হয় তারা একজন ভিন্নধর্মী লোককেও ত্রাণ দেননা। কদিন আগে শ্রীমঙ্গলে জামাতের এক এনজিও ত্রাণ বিতরণ করে হিন্দুদের ধর্মান্তরীত করার চাপ দেয়া হয়েছে প্রকাশ্যে । এ নিয়ে সমালোচনার মুখে প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। সিলেটে এক বিএনপি নেতা ত্রাণ দেয়ার সময় প্রকাশ্যে বলেছেন হিন্দুদের কোনো ত্রাণ দেয়া হবে না। যারা ত্রাণ আনতে গিয়েছিলো তারা ফেরত এসেছে৷ এগুলোতো সংবাদ মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে। কিন্তু যেসব বিপ্লবীরা সরকারের গোষ্ঠী উদ্ধার করছেন,শেখ হাসিনার সমালোচনা করছেন তারা কী একটিবার সেই জামাতি এনজিও বিএনপি নেতাকে নিয়ে কথা বলেছেন? সমালোচক ডক্টররা তখন নিরব থাকেন কেনো?
ভাবুনতো কতো নিচু, অসভ্য মানসিকতার হলে এমনটা হতে পারে। মানুষের বিপদের সময়েও যারা জাত ধর্ম বিবেচনা করে এরা কি মানুষের সংজ্ঞায় পড়ে? বিপদেতো পশুও পরস্পরকে আশ্রয় দেয়। ঘূর্ণিঝড়ে সাপ আর ব্যাঙ একসাথে আশ্রয় নেয়ার ছবি আমাদের দেশের মিডিয়াতেইতো কতো ছাপা হয়েছে।
পক্ষান্তরে এটা যদি কোনো আওয়ামী লীগ নেতা করতো কিংবা অন্য কোনো ধর্মের এনজিও করতো তা হলে কি প্রতিক্রিয়া হতো ভাবা যায়? এই ডক্টররাই ঝাঁপিয়ে পড়তেন। সরকারের,শেখ হাসিনার গোষ্ঠী উদ্ধারতো হতোই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাও লাগাতো।
তাই বলছি সরকারের অন্ধ সমালোচনা করবেন না,প্রতিহিংসার মানসিকতায় সমালোচনা করবেন না। সরকার সবার। রাষ্ট্রের সবচেয়ে সংগঠন সরকার। সবার দায়িত্ব সরকারকে সহায়তা করা। সরকারের ভুল ত্রুটি তুলে ধরুন। আমলা কামলাদের ওপর সব দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না। নিজেদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

ভারত যাওয়ার চেষ্টা,জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ১৭ সদস্য কারাগারে

0

রাজধানীর কাকরাইল মসজিদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত- উল – মুজাহিদিন বাংলাদেশ, জেএমবির ১৭ সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হকিম সরাফুজ্জামান আনছারীর আদালতে তাদের হাজির করলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এসময় গ্রেফতারকৃতদের পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি, পুলিশও তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করেনি।
সোমবার জেএমবির এই সদস্যদের রাজধানীর কাকরাইল মসজিদের উল্টোদিক থেকে গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট।
সংস্থাটির এডিসি তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৯ টি মোবাইল ফোন ২ লাখ ৩৪ হাজার বাংলাদেশী টাকা ও ৯২২ আমেরিকান ডলার জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জেএমবির সদস্য বলে স্বীকার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ হায়দার আলী (৪৪), মোঃ মাহমুদুল হাসান ওরফে মাসুম, মোঃ জামিরুল ইসলাম (২৪), মোঃ বিল্লাল হোসেন (৩৮), মোঃ শেখ আরাফাত ওরফে জনি (৪৮), মোঃ ইমরুল হাসান ওরফে ইমন (২৫), মোঃ সাইফুল ইসলাম (২৫), মোঃ মোজাম্মেল হক (৩৩), মোঃ শাহজালাল(৩৪), মোঃ আক্তারুজ্জামান (৩০), মোঃ মাহমুদুল হাসান ওরফে সাব্বির (২৩), মোঃ আবিদ উল মাহমুদ ওরফে আবিদ (২২), মোঃ সোহাইল সরদার (৩৩), মোঃ ওবায়দুল ইসলাম ওরফে সুমন (৩০), মাহমুদ হাসান ওরফে শরীফ (১৮), মোঃ মাজেদুল ইসলাম ওরফে মুকুল ( ২৮) ও মোঃ সোহাগ হাসান (২০)।
প্রাথমিক জিজ্ঞসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, ভারতের কাশ্মীর,পাকিস্তান হয়ে সৌদিআরব যাওয়ার চেষ্টা করছিল তারা।
এ জন্য গত ১৮ মার্চ তারা রওনা হয়। ভারতে প্রবেশের জন্য প্রথমে সাতক্ষীরা ও পরে যশোর সীমান্তের কাছে বিভিন্ন মসজিদে অবস্থান করে। লক্ষ্য ছিলো তারা প্রথমে ভারতের কাশ্মীর যাবে।সেখানকার জঙ্গিদের সঙ্গেও রয়েছে তাদের যোগাযোগ। কাশ্মীরে জিহাদে অংশ নেবে, সেখান থেকে যাবে পাকিস্তান, তারপর সৌদি আরব। কিন্তু সাতক্ষীরা ও যশোর সীমান্ত দিয়ে পার হতে পারে নি। ফিরে আসে ঢাকায়। অবস্থান নেয় কাকরাইল মসজিদে। সেখান তাবলিগ জামাতের সঙ্গে মিশে যায়। পরবর্তি লক্ষ্য সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতের আসাম হয়ে কাশ্মীর যাওয়া। সে অনুযায়ী সোমবার তাবলিগের বেশে রওনা হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। কাকরাইল এলাকা থেকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।
অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া এডিসি তহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, জনৈক ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমান বাংলাদেশ থেকে ২০১৭ সালে সৌদি আরবে যান এবং সেখানে অবস্থান করছেন। তিনি জিহাদের পক্ষে ঈমাম মাহাদীর সৈনিক হিসাবে বিভিন্ন বক্তব্য দেন এবং ভারতসহ বিভিন্ন স্থানে মুসলিমদের পক্ষে জিহাদ করার আহবান জানিয়ে অডিও ভিডিও প্রকাশ করেন। গ্রেফতারকৃতরা তাঁর বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে ঈমাম মাহাদীর সৈনিক হিসাবে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টা করেন। গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা পলাতক রবিউল সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমান এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় তারা পরস্পর যোগাযোগ করে ভারত ও সৌদি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাবলিগ-জামাতের আড়ালে সাতক্ষীরা বা বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তারা ভারত-কাশ্মীর সীমান্ত হয়ে সৌদি আরব পৌঁছাবে এটাই ছিলো লক্ষ্য।
গোয়েন্দারা জানায়, সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমানের প্ররোচনায় এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইতিমধ্যে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ ছাত্র গত জানুয়ারি মাসে ওমরা পালন করতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। এছাড়াও বিভিন্ন সময় সা’দ, কাউসার, শরীফ, তোফাজ্জল, গিয়াসউদ্দিন, আলী আজম এবং রাশেদ নামে আরও ৭ জন ঈমাম মাহাদির সৈনিক হিসেবে যোগদানের উদ্দ্যেশে সৌদিআরব গেছেন বলে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে।

চল্লিশ দিন সূর্য উঠবে না, করোনায় মারা যাবে সব কাফের; ভারত যাওয়ার চেষ্টায় ১৭ জেএমবি গ্রেপ্তার

0

তাদের বলা হয়েছিলো করোনার দূর্যোগে আকাশ থেকে একধরনের গজব নেমে আসবে এবং সমস্ত কিছু ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে যাবে তখন বাংলাদেশ – ভারত সীমান্তে কোন পাহারা থাকবেনা। আগামী চল্লিশ দিন সূর্য উঠবে না, আকাশ ধোঁয়ায় ছেয়ে যাবে, কাফেররা সবাই মারা যাবে, ঈমানদারদের শুধু হালকা কাঁশি হবে, এই রমজানেই ঈমাম মাহাদির আগমন ঘটবে সৌদি আরবে। তাই তারা যেভাবে পারে সেভাবেই যেনো আসার চেষ্টা করে। এই বিশ্বাস নিয়েই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ১৭ অনুসারী গত ১৮ মার্চ রওনা হয়। প্রথমে সাতক্ষীরা ও পরে যশোর সীমান্তের কাছে বিভিন্ন মসজিদে অবস্থান করে ভারতে যাওয়ার জন্য। তারা ভারতের কাশ্মীর যাবে, জিহাদে অংশ নেবে, সেখান থেকে যাবে পাকিস্তান, তারপর সৌদিআরব। কিন্তু সাতক্ষীরা ও যশোর সীমান্ত দিয়ে পার হতে না পেরে ঢাকা হয়ে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সে মোতাবেক তারা ঢাকায় আসে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। জেএমবির ১৭ অনুসারীকে রাজধানীর কাকরাইল এলাকা থেকে সোমবার গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।
এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ১৯টি মুঠোফোন ২ লাখ ৩৪ হাজার বাংলাদেশী টাকা ও ৯২২ আমেরিকান ডলার জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জেএমবির সদস্য বলে স্বীকার করে
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ হায়দার আলী (৪৪), মোঃ মাহমুদুল হাসান ওরফে মাসুম, মোঃ জামিরুল ইসলাম (২৪), মোঃ বিল্লাল হোসেন (৩৮), মোঃ শেখ আরাফাত ওরফে জনি (৪৮), মোঃ ইমরুল হাসান ওরফে ইমন (২৫), মোঃ সাইফুল ইসলাম (২৫), মোঃ মোজাম্মেল হক (৩৩), মোঃ শাহজালাল(৩৪), মোঃ আক্তারুজ্জামান (৩০), মোঃ মাহমুদুল হাসান ওরফে সাব্বির (২৩), মোঃ আবিদ উল মাহমুদ ওরফে আবিদ (২২), মোঃ সোহাইল সরদার (৩৩), মোঃ ওবায়দুল ইসলাম ওরফে সুমন (৩০), মাহমুদ হাসান ওরফে শরীফ (১৮), মোঃ মাজেদুল ইসলাম ওরফে মুকুল ( ২৮) ও মোঃ সোহাগ হাসান (২০)।
অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগের এডিসি তহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ৪ মে, সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় কাকরাইল মসজিদের উল্টোদিকে পাবলিক হেলথ্ কার্যালয়ের সামনে থেকে তাঁদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি বলেন, জনৈক ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমান বাংলাদেশ হতে ২০১৭ সালে সৌদি আরবে যান এবং সেখানে অবস্থান করছেন। তিনি জিহাদের পক্ষে ঈমাম মাহাদীর সৈনিক হিসাবে বিভিন্ন বক্তব্য এবং গাজওয়াতুল হিন্দ নামক স্থানে মুসলিমদের পক্ষে জিহাদ করার আহবান জানিয়ে অডিও ভিডিও প্রকাশ করেন। গ্রেফতারকৃতরা তাঁর বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে ঈমাম মাহাদীর সৈনিক হিসাবে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টা করেন। গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা পলাতক রবিউল সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমান এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় তারা পরস্পর যোগাযোগ করে হিজরতের সিদ্ধান্ত নেন। তাবলিগ-জামাতের আড়ালে সাতক্ষীরা বা বেনাপল সীমান্ত দিয়ে তারা ভারত-কাশ্মীর সীমান্ত হয়ে সৌদি আরব পৌঁছাবে।
এডিসি তোহিদ বলেন, সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমানের প্ররোচনায় এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইতিমধ্যে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ ছাত্র গত জানুয়ারি মাসে ওমরা পালন করতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। এছাড়াও বিভিন্ন সময় সা’দ, কাউসার, শরীফ, তোফাজ্জল, গিয়াসউদ্দিন, আলী আজম এবং রাশেদ নামে আরও ৭ জন ঈমাম মাহাদির সৈনিক হিসেবে যোগদানের উদ্দ্যেশে সৈাদিআরব হিজরত করেছেন বলে গ্রেফতারকৃতরা জানান।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসঃ হাইকোর্টের নির্দেশ পালিত হয়নি,আদালত অবমাননার মুখে স্বাস্থ্য সচিব, ডিজিসহ সংশ্লিষ্টরা

0

করোনাভাইরাস থেকে রক্ষায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম তৈরি না করা, এবং বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে টেস্টের সুযোগ না রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের আইনী বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। স্বাস্থ্য সচিব,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক( ডিজি)সহ সংশ্লিষ্টরা আদালত অবমাননার মুখেমুখি হচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনী নোটিশ দিয়েছে নাগরিক অধিকার রক্ষায় যুক্ত দুটি সংগঠন। একটি নোটিশে চিকিৎসক-নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মিদের কাছে নিরাপত্তা সামগ্রী ঠিক মতো না পৌঁছানোসহ আদালতের দেওয়া নির্দেশনা প্রতিপালন না করায় আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে। আরেক নোটিশে বিনামূল্যে করোনা টেস্ট এবং বেসরকারি হাসপাতালে কোনো প্রকার ফি আরোপ না করতে বলা হয়েছে।

রোববার (৩ মে) ই-মেইলের মাধ্যমে পৃথক দুটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নোটিশকারী আইনজীবীরা।

তিন দিনের মধ্যে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করা না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক করোনাকে মহামারি ঘোষণার পরেও করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম না থাকার বিষয় গত ২০ মার্চ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।
ওই সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ জনস্বার্থে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। সংস্থাটির আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং অন্তবর্তী কিছু আদেশ দেন।

আদেশে স্বাস্থ্য সচিবকে দ্রুত পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করতে বলা হয়। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পিপিই, গ্লাভস, স্যানিটাইজার, সার্জিক্যাল মাক্স, গাউন, সু-কাভার, স্বাস্থ্য সুরক্ষা যন্ত্রপাতি ও মেডিসিনের তালিকা করে তা তৈরির নির্দেশ দেন।

একইসঙ্গে ওই নিরাপত্তা সামগ্রী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিকট পৌঁছানোর জন্য নির্দেশ দেন।
নোটিশে বলা হয়, আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে পালিত না হওয়ায় প্রায় ৩ শ-এর বেশি চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর দায়-দায়িত্ব তারা এড়াতে পারেন না। এখনো অনেক হাসপাতালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সামগ্রী পৌঁছায়নি এমন সংবাদও প্রকাশ হচ্ছে।

আদালতের এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে পালিত না হওয়ায় স্বাস্থ্য সচিব আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ, অতিঃসচিব (হাসপাতাল) সিরাজুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদুল্লাহকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
এদিকে প্রত্যেক নাগরিককে করোনাভাইরাসের বিনামূল্যে টেস্ট এবং বেসরকারি হাসপাতালে করোনা টেস্টে কোনো প্রকার ফি আরোপ না করতে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন আরো দুই আইনজীবী।
রোববার স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজি এবং আইইডিসিআরের পরিচালকসহ ৬ জনকে এ নোটিশ পাঠান ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউসার।

আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, “করোনা টেস্টের বাণিজ্যিকীকরণ প্রতিরোধে বিনামূল্যে টেস্ট সাধারণ জনগণের জন্য ব্যবস্থা করার জন্য ল’ এন্ড লাইফ ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে ইমেইলের মাধ্যমে এ আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে করোনা টেস্টের অনুমতি দিয়েছে যেখানে সরকার একটি নির্ধারিত মূল্য টেস্টের জন্য দিয়েছেন সেটা হল তিন হাজার পাঁচশত টাকা। যেটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধকরণের পরিবর্তে তাদের নিরুৎসাহিত করা হবে। যেহেতু করোনা একটি জাতীয় সমস্যা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে যত বেশি টেস্ট করা সম্ভব হবে অল্প সময়ে তত তাড়াতাড়ি এবং সঠিকভাবে এই করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। কিন্তু একটি টেস্টের দাম যদি নির্ধারণ করা হয় ৩৫০০ টাকা তাহলে আমাদের সাধারণ মানুষ টেস্টে আগ্রহী হবে না এবং এখানে একটি বাণিজ্যিকীকরণ হবে টেস্ট নিয়ে।’
এটি একটি বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, ‘কিছু মানুষ বিনামূল্যে টেস্ট করতে পারবে আর কিছু মানুষ ৩৫০০ টাকায় টেস্ট করাতে হবে এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলো এই বিষয়টি নিয়ে একটি ব্যাপক বাণিজ্য করার সুযোগ পাবে যেটা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অপ্রত্যাশিত। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।’ না হলে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে বলা হয়েছে।

অনুপ্রবেশ মামলায় সাংবাদিক কাজলের জামিন,৫৪ ধারায় কারাগারে

0

নিখোঁজ সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে অনুপ্রবেশ মামলায় জামিন দিলেও ৫৪ ধারায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে বিজিবি রঘুনাথপুর সীমান্ত থেকে আটক করে বেনাপোল বন্দর থানায় হস্তান্তর করে। দুপুরে তাকে আদালতে তোলা হলে বিচারক এ আদেশ দেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হওয়ার পর প্রায় দুই মাস ধরে নিখোঁজ সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের খোঁজ মিলেছে বেনাপোল সীমান্তে।

বেনাপোল বন্দর থানার ওসি মামুন খান জানান, শনিবার গভীর রাতে বিজিবি রঘুনাথপুর সীমান্ত থেকে এ ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তি ঢাকা থেকে নিখোঁজ ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল। বিজিবি অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে থানায় একটি মামলা করে ও পরে কোর্টে পাঠায়

এদিকে কাজলের স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসী জানান, শনিবার রাত পৌনে ৩টার দিকে বেনাপোল থানা থেকে একজন পুলিশ কর্মকর্তা ফোন করে তার স্বামীর সঙ্গে তাদের কথা বলিয়ে দেন।

“আমার ছেলেকে ও ফোনে বলেছে, ‘আব্বু আমি বেঁচে আছি, তোমরা সবাই আমাকে নিতে আস’।”
তাদের ছেলে মনোরম পলক সকালে আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বেনাপোলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান বলে জানান জুলিয়া।

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যটালিয়নের রঘুনাথপুর ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার আশেক আলী বলেন, “বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে প্রবেশের সময় ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাকে আটক দেখিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

যুব মহিলা লীগের নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার ওয়েস্টিন হোটেলকেন্দ্রিক কারবারে ‘জড়িত’দের নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে, তাতে আসামির তালিকায় কাজলের নামও রয়েছে।
মাগুরা-১ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর গত ৯ মার্চ শেরেবাংলা নগর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ওই মামলা দায়ের করেন।
মামলা হওয়ার পর গত ১০ মার্চ থেকে কাজলের খোঁজ মিলছে না জানিয়ে প্রথমে চকবাজার থানায় জিডি ও পরে মামলা করেন তার ছেলে মনোরম পলক।
এক সময়ের জাসদ ছাত্রলীগ নেতা কাজল নিখোঁজ হওয়ার পর তার সন্ধান দাবিতে পুরনো রাজনৈতিক সহকর্মী, স্বজন ও সাংবাদিকরা মাঠে নেমেছিলেন।
তাদের আন্দোলনের মধ্যে এক পর্যায়ে কাজলের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। ভিডিওতে কাজল নিখোঁজ হওয়ার কিছুক্ষণ আগের চিত্র উঠে এসেছে বলে দাবি সংস্থাটির।
ওই ফুটেজে কাজলকে একটি জায়গায় রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল রেখে পাশের কোথাও যেতে দেখা যায়। বেশ কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে মোটরসাইকেল চালিয়ে যান তিনি। এর মধ্যে তার ওই মোটরসাইকেল ঘিরে কয়েকজনকে তৎপরতা চালাতে দেখা যায়।
তবে ওই ফুটেজ ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে তেমন কিছু মেলেনি বলে জানিয়েছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

টেংরাটিলায় গ্যাস কূপ বিস্ফোরণে দায়ী নাইকো, ৮ হাজার কেটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

0

সুনামগঞ্জের ছাতকে টেংরাটিলা গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খননের সময় ২০০৫ সালে দুবার বিস্ফোরণের ঘটনায় কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকোকে দায়ী করে বিশ্ব ব্যাংকের আন্তর্জাতিক সালিশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের পক্ষে রায় দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটের (ইকসিড) ট্রাইব্যুনাল থেকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেওয়া ওই সিদ্ধান্তের ফলে নাইকোকে এখন টেংরাটিলা দুর্ঘটনার জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাপেক্সকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ ক্ষতিপূরণের পরিমান ৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ রোববার একটি ভার্চুয়াল সংবাদ ব্রিফিংয়ে মামলার রায়ের খবর প্রকাশ করেন।

ইকসিডে এই সালিশি মামলায় বাংলাদেশের পক্ষের অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার মইনুদ্দিন বলেন, “ওই বিস্ফোরণে বাংলাদেশের যে ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়টি রিকগনাইজ করেছে ট্রাইব্যুনাল। এই ক্ষতির জন্য নাইকোকে দায়ী করেছে, তাদেরকে এর ক্ষতিপূরণ বাংলাদেশকে দিতে বলেছে।”

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের একটি ক্ষতিপূরণের দাবি ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে। তবে ট্রাইব্যুনাল ওই ক্ষতির সঙ্গে পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতির দিকটি যোগ করতে বলেছে।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ব্রিফিংয়ে বলেন, “গত ১০ বছরে অনেক ডেটা হারিয়ে গিয়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করব আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে স্বাস্থ্যগত ক্ষতি ও পরিবেশগত ক্ষতি নিরূপণ করতে। এর সঙ্গে রাষ্ট্রের যে ক্ষতি হয়েছে তাও যুক্ত করা হবে।”
চলমান কভিড-১৯ মহামারী কেটে গেলে ক্ষতি নিরূপণের জন্য আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ছাতকের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়নে ২০০৩ সালে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে চুক্তি করে রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনকারী কোম্পানি বাপেক্স। নাইকো সেখানে অনুসন্ধান কূপ খনন করার সময় ২০০৫ সালের জানুয়ারি ও জুন মাসে দুই দফা বিস্ফোরণ ঘটে।
সেই ঘটনায় গ্যাস মজুদ পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিরাট এলাকায় সম্পদের ক্ষতি হয়। সেজন্য নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে পেট্রোবাংলা।
২০১০ সালের মে মাসে নাইকো পরিচালিত ফেনী গ্যাসক্ষেত্রটি বন্ধ হয়ে গেলে টেংরাটিলার জরিমানা আদায় না হওয়ায় নাইকোর গ্যাস বিল বাবদ পাওনা দুই কোটি ৭০ লাখ ডলার আটকে দেয় পেট্রোবাংলা। টেংরাটিলায় নাইকোর সম্পদও বাজেয়াপ্ত করে রাখা হয়েছে।
এরপর নাইকো ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সালিসি প্রতিষ্ঠান ইকসিডে দুটি মামলা করে। একটি গ্যাসের বকেয়া বিল আদায় সংক্রান্ত, অন্যটি টেংরাটিলা বিস্ফোরণে ক্ষতিপূরণ দাবির মামলার বৈধতা নিয়ে।
এর মধ্যে ক্ষতিপূরণ দাবির বিরুদ্ধে নাইকোর আবেদন ২০১৩ সালের অগাস্টে খারিজ করে দেয় ইকসিড। পরের বছর আরেক সিদ্ধান্তে এই সালিশি ট্রাইব্যুনাল জানায়, টেংরাটিলায় বিস্ফোরণের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে ফায়সালার আগে বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাওনা অর্থ নাইকো পাবে না।
নাইকো এরপর এ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুললে ২০১৯ সালে তাও খারিজ হয়ে যায়। এক বছরের মাথায় টেংরাটিলার বিস্ফোরণের জন্য নাইকোকে দায়ী করে বাংলাদেশের পক্ষে রায় দিল ইকসিড।
প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, “ওই গ্যাস ক্ষেত্রের কার্যক্রমে নাইকোর অনেক ত্রুটি ছিল, তারা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে কাজ করেনি। যেভাবে পেট্রোবাংলা বা বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়েছে সে চুক্তি তারা ভঙ্গ করেছে। ট্রাইব্যুনাল এই কথাগুলো স্পষ্ট বলেছে।”
তিনি জানান, এর আগে গ্যাসের ক্ষতি বাবদ ১১৮ মিলিয়ন এবং রাষ্ট্রের ক্ষতি বাবদ ৮৯৬ মিলিয়ন ডলারের একটি হিসাব ট্রাইব্যুনালে দেওয়া হয়েছিল। এর সঙ্গে এখন পরিবেশগত ক্ষতি ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতির হিসাব যোগ করা হবে।
“২০০৫ সালে ওই বিস্ফোরণের পর এখন পর্যন্ত সেখানে গ্যাস বের হচ্ছে। সুতরাং এখানে রাষ্ট্রীয় বা পেট্রোবাংলার ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। আন্তর্জাতিক এক্সপার্টরা সেটা যাচাই-বাছাই করে বের করবেন।”
আর ব্যারিস্টার মইন বলেন, “আগামী ছয় মাসের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়। এর এক বছরের মধ্যে আমরা চূড়ান্ত রায় পাব।”
কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো ইতোমধ্যে দেউলিয়া হয়ে গেছে। তাহলে ক্ষতিপূরণের টাকা সরকার কীভাবে আদায় করবে তা জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা।
উত্তরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের ৯ নম্বর ব্লকে নাইকোর যে শেয়ার ছিল বাংলাদেশ তার পুরোপুরি মালিকানা নিয়ে নেবে। এছাড়া ফেনী গ্যাস ফিল্ডে বাংলাদেশ সরকারের কাছে গ্যাসের বিল বাবদ নাইকো যে ৩০ মিলিয়ন ডলার দাবি করছে সেটারও নিষ্পত্তি হবে। এর বাইরে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে তাদের যে সম্পদ আছে সেখান থেকে আমরা এ টাকা আদায় করার চেষ্টা করব।”
আইনজীবী মইন বলেন, ফেনী ক্ষেত্রের গ্যাসের বিল বাবদ নাইকোর দাবির পরিমাণ তিন কোটি ডলারের মত।
“আর ট্রাইব্যুনালের রায়ে বাংলাদেশের ইতোমধ্যে অন্তত এক বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ প্রাপ্য হয়েছে যা আরো বাড়বে। ফলে নাইকোকে আর কোনো টাকা বাংলাদেশের দিতে হবে না।
টেংরাটিলায় বিস্ফোরণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে তখনকার বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেনকে নাইকো একটি এসইউভি গাড়ি ঘুষ দেয় বলে তখন সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
কানাডার একটি আদালতেও নাইকোর কর্মকর্তারা ঘুষ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলে প্রতিষ্ঠানটিকে ৯৫ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়।
বাংলাদেশের ৯ নম্বর ব্লকে নাইকোর ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মালিকানা রয়েছে বলে জানানো হয় সংবাদ ব্রিফিংয়ে।

করোনা নিয়ে চীন – আমেরিকা বিবাদ; হু’র প্রধানের বিরুদ্ধে ১০ লাখ মানুষের পিটিশন

1

বিশ্বেজুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার জন্য চীনকে আগেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, করোনার মতো মহামারি ছড়ানোর দায়ে চীনের কাছে মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণও দাবি করতে পারে তাঁর সরকার। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে করোনা-সংক্রমণ ছড়ানোয় চীনের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসন।
এদিকে চীনে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পরও তা নিয়ে লুকোচুরি করা এবং ব্যবস্থা না নেয়ায় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানের পদত্যাগ চেয়ে বিশ্বজুড়ে অনলাইনে পিটিশন দেয়া শুরু হয়েছে।
ইতিমধ্যে আবেদনকারির সংখ্যা ১০ লাখ ছড়িয়ে গেছে।
খবর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের।
ট্রাম্প মনে করেন আগামী নির্বাচনে তিনি যাতে ফের জিততে না পারেন এ জন্য চীন নানামুখি চেষ্টা চালাচ্ছে।
করোনা-সংক্রমণ রোধে চীনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তুষ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, চীন সক্রিয় ভাবে প্রথমেই তা রুখে দিলে, গোটা বিশ্বে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ত না আর তা মহামারির আকারও নিত না। চীনের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘‘(করোনা-মোকাবিলায়) চীনের ভূমিকায় আমরা একেবারেই সন্তুষ্ট নই। গোটা (করোনা) পরিস্থিতি নিয়েও সন্তুষ্ট নই। কারণ আমাদের বিশ্বাস, একে (করোনা-সংক্রমণকে) গোড়াতেই রোখা যেত। এবং দ্রুত রোখা হলে তা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ত না।’’

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে মধ্য চীনের উহান শহরে প্রথম নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। যা এখন ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। লকডাউন-সহ একাধিক বিধিনিষেধ সত্ত্বেও তাতে রাশ টানা যায়নি। বিশ্ব জুড়ে এই ভাইরাসে ৩০ লাখেরও বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ লক্ষ ২০ হাজারের উপরে। তবে করোনায় আক্রান্তের নিরিখে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র । সে দেশের সংক্রমিতের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখের বেশি। মৃত্যু হয়েছে ৬০ হাজারেরও বেশি। এই ভাইরাসের সংক্রমণ বিশ্বে ছড়িয়ে প়ড়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও বহু বার চীনকে দায়ী করেছে। গোটা পরিস্থিতির জন্য ফের এক বার চীনকে দুষেছেন তিনি। সে জন্য চীনকে বড়সড় আর্থিক ক্ষতিপূরণও দিতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘‘নানা ভাবেই তাদের (চীন সরকারকে) দায়ী করা যায়।’’

শুধুমাত্র ট্রাম্প প্রশাসনই নয়, এর আগে জার্মানির একটি সংবাদপত্রও সংক্রমণ ছড়ানোর জন্য চীনকে দায়ী করেছে। এমনকি, ওই সংবাদপত্রের সম্পাদকীয়তে মন্তব্য, চীনের উচিত জার্মানিকে ১৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দেওয়া। চীনের কাছ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের কথা বললেও, তার পরিমাণ কত হবে, তা নিয়ে এখনই অবশ্য কোনও মন্তব্য করেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘আমরা এখনও চূড়ান্ত আর্থিক অঙ্ক ঠিক করে উঠতে পারিনি। তবে তা বেশ বড়সড় অঙ্কের হবে। কারণ এতে শুধু আমেরিকার ক্ষত তৈরি করেনি, বিশ্বজোড়াই ক্ষতি হয়েছে।’’

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা মহামারি রুখতে একেবারে ব্যর্থ। হু প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসুস চীনের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট। এই অভিযোগ তুলে হু প্রধানের পদত্যাগ দাবি করলেন অন্তত ১০ লক্ষ মানুষ।

করোনা রুখতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে হু প্রধানের বিরুদ্ধে একটি অনলাইন পিটিশন তৈরি করা হয়। যাতে লেখা ছিল, ‘গত ২৩ জানুয়ারি ২০২০ সালে টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসুস করোনা ভাইরাসকে মহামারি ঘোষণা করতে অস্বীকার করেন। আমরা সকলেই জানি এই মুহূর্তে করোনা ভাইরাসের কোনও প্রতিষেধক নেই। সেদিনের পর মাত্র ৫ দিনে করোনার সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১০ গুণ বেড়ে যায়। আর এর দায় অনেকাংশে টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসুসের। তিনি এই ভাইরাসের ক্ষমতাকে গুরুত্ব দেননি। আমাদের মনে হয় টেড্রোস আধানম হু প্রধানের পদে থাকার উপযুক্ত লোক নন। তাই, এখনই তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। আমরা বিশ্বাস করি হু রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ। কিন্তু চীন সরকার যে আক্রান্ত ও মৃতের তালিকা দিয়েছিল, সেটাই অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছেন ঘেব্রেইসুস।’ অনলাইনে এই পিটিশনটিতে এখনও পর্যন্ত ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ সই করেছেন।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চীনের তাবেদারি করার অভিযোগ তুলেছিলেন হু’র বিরুদ্ধে। তিনি বলেছিলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের যে সংখ্যা চীন দেখাচ্ছে, তাতে গলদ আছে। আসল তথ্য চেপে যাওয়া হচ্ছে।

আদালত আপাতত বন্ধই থাকছে, ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করতে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ

0

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের সব আদালত আপাতত বন্ধই থাকছে। প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারপতিদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্টের ফুল কোর্ট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

রোববার (২৬ এপ্রিল) ভিডিও কনফারেন্সে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে ফুল কোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফুল কোর্ট সভায় একটি অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করতে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানানোর সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, হাইকোর্ট বিভাগের রুলস সংশোধন করে ভার্চুয়াল আদালত স্থাপনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফুল কোর্ট সভা।

ফুল কোর্ট সভায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট উভয় বিভাগের অধিকাংশ বিচারপতি অংশগ্রহণ করেন।
মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে প্রায় একমাস ধরে আদালত বন্ধ রয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানির জন্য ছুটির মধ্যে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত এবং একজন বিচারক দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে কাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল।

ওই সিদ্ধান্তে জেলা ও মহানগরের দায়রা জজ ও মুখ্য বিচারিক হাকিমের সুবিধা মতো সপ্তাহে দুই দিন নিম্ন আদালতে জরুরি জামিন শুনানির সিদ্ধান্তও এসেছিল সুপ্রিম কোর্ট থেকে।

গত ২৩ এপ্রিল সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সীমিত পরিসরে সুপ্রিম কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছিলেন।

এতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারপতির সঙ্গে সীমিত পরিসরে আদালত খুলে দেওয়ার বিষয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করেন। সে বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব সিদ্ধান্ত নেয় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অতি জরুরি বিষয়গুলো শুনানির জন্য ছুটিকালীন সময়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্টে বসবেন।

তাছাড়া ছুটিকালীন সময়ে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান সব অধিক্ষেত্রের অতি জরুরি বিষয়গুলো শুনানির জন্য হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
আদালত পরিচালনার কর্মপন্থা নির্ধারণ এবং সামাজিক দূরত্ব অনুসরণের নিয়ম-কানুন বিষয়ে বিচারপতি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবেন।
এ ছাড়া বিচার প্রার্থীদের কথা চিন্তা করে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও প্রতি সপ্তাহে অন্তত দু’দিন দেশের সব জেলা ও দায়রা জজ আদালত খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্ভূত করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলার জেলা ও দায়রা জজকে এবং মহানগর এলাকার মহানগর দায়রা জজকে ছুটিকালীন সময়ে তার সুবিধামতো প্রতি সপ্তাহে যে কোনও দুই দিন কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জরুরি জামিন শুনানির জন্য সীমিত আকারে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।
‘চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিজে অথবা তার নিয়ন্ত্রণাধীন এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা ছুটিকালীন সময়ে তার/তাদের সুবিধামতো প্রতি সপ্তাহে যেকোনও দুই দিন কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জরুরি জামিন শুনানির (কারাগারে থাকা হাজতি আসামির আবেদনসহ) সীমিত আকারে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।’
এছাড়া ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের গত ১১ এপ্রিলের নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় পুনরায় উল্লেখ করা হচ্ছে যে, যেসব ফৌজদারি মামলায় আসামিকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে বা যেসব মামলায় উচ্চ আদালত থেকে অধস্তন আদালতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে বা যেসব মামলায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা/স্থিতাবস্থা/স্থগিতাদেশের আদেশ প্রদান করা হয়েছে, সেসব মামলার আদেশের কার্যকারিতা আদালত নিয়মিতভাবে খোলার তারিখ থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বর্ধিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। সাধারণ ছুটিকালীন সময়ে ওই মামলাগুলোর বিষয়ে কোনও আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে না।’
‘একটি মামলার জামিন শুনানিতে কেবল একজন আইনজীবী অংশগ্রহণ করবেন। আদালত প্রাঙ্গণে এবং এজলাস কক্ষে সামাজিক দূরত্বের নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে অনুসরণ করা না হলে আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করতে হবে। আদালত প্রাঙ্গণে এবং এজলাস কক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে স্ব-স্ব আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং কার্যকরী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে জেলা ও দায়রা জজ/মহানগর দায়রা জজ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবেন।’
এছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে জামিন শুনানিকালে কারাগারে থাকা আসামিদের কারাগার থেকে প্রিজনভ্যান বা অন্য কোনোভাবে আদালত প্রাঙ্গণে ও এজলাস কক্ষে হাজির না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে আদালত খোলা রাখার এ সিদ্ধান্তে আইনজীবীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বেশিরভাগ আইনজীবী এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান এবং মনে করেন এর ফলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবেন আইনজীবীরা। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে আদালত খোলার সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়।।