ঢাকা   মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩   রাত ১১:০১ 

Home Blog Page 169

সীমিত পরিসরে আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত

0

চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সীমিত পরিসরে সুপ্রিম কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারপতির সঙ্গে সীমিত পরিসরে আদালত খুলে দেওয়ার বিষয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করেন। সে বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব সিদ্ধান্ত নেয় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অতি জরুরি বিষয়গুলো শুনানির জন্য ছুটিকালীন সময়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্টে বসবেন।
তাছাড়া ছুটিকালীন সময়ে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান সব অধিক্ষেত্রের অতি জরুরি বিষয়গুলো শুনানির জন্য হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
আদালত পরিচালনার কর্মপন্থা নির্ধারণ এবং সামাজিক দূরত্ব অনুসরণের নিয়ম-কানুন বিষয়ে বিচারপতি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবেন।
এদিকে, আইনজীবীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং বিচার প্রার্থীদের কথা চিন্তা করে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও প্রতি সপ্তাহে অন্তত দু’দিন দেশের সব জেলা ও দায়রা জজ আদালত খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্ভূত করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলার জেলা ও দায়রা জজকে এবং মহানগর এলাকার মহানগর দায়রা জজকে ছুটিকালীন সময়ে তার সুবিধামতো প্রতি সপ্তাহে যে কোনও দুই দিন কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জরুরি জামিন শুনানির জন্য সীমিত আকারে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।
‘চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিজে অথবা তার নিয়ন্ত্রণাধীন এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা ছুটিকালীন সময়ে তার/তাদের সুবিধামতো প্রতি সপ্তাহে যেকোনও দুই দিন কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জরুরি জামিন শুনানির (কারাগারে থাকা হাজতি আসামির আবেদনসহ) সীমিত আকারে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।’
এছাড়া ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের গত ১১ এপ্রিলের নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় পুনরায় উল্লেখ করা হচ্ছে যে, যেসব ফৌজদারি মামলায় আসামিকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে বা যেসব মামলায় উচ্চ আদালত থেকে অধস্তন আদালতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে বা যেসব মামলায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা/স্থিতাবস্থা/স্থগিতাদেশের আদেশ প্রদান করা হয়েছে, সেসব মামলার আদেশের কার্যকারিতা আদালত নিয়মিতভাবে খোলার তারিখ থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বর্ধিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। সাধারণ ছুটিকালীন সময়ে ওই মামলাগুলোর বিষয়ে কোনও আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে না।’
‘একটি মামলার জামিন শুনানিতে কেবল একজন আইনজীবী অংশগ্রহণ করবেন। আদালত প্রাঙ্গণে এবং এজলাস কক্ষে সামাজিক দূরত্বের নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে অনুসরণ করা না হলে আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করতে হবে। আদালত প্রাঙ্গণে এবং এজলাস কক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে স্ব-স্ব আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং কার্যকরী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে জেলা ও দায়রা জজ/মহানগর দায়রা জজ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবেন।’
এছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে জামিন শুনানিকালে কারাগারে থাকা আসামিদের কারাগার থেকে প্রিজনভ্যান বা অন্য কোনোভাবে আদালত প্রাঙ্গণে ও এজলাস কক্ষে হাজির না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাহেবী মানসিকতা ছেড়ে মাঠে নামতে হবে সচিবদের

0

প্রতি জেলায় একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আছেন।
তারা কোথায়? এমপিরা কোথায়? জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কোথায়? উপজেলা চেয়ারম্যান কোথায়?
পৌরসভার চেয়ারম্যান কোথায়? সিটি করপোরেশনের মেয়ররা কোথায়? ঢাকার দুই সিটির মেয়র কোথায়? কোথায়?
তাদের কোথাও দেখা মিলছে না।
ত্রাণ নিয়ে দৌঁড়াচ্ছেন শুধু ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আর মেম্বাররা।
করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন চিকিৎসক ও স্বাস্খ্যকর্মিরা। আর আছেন আইনশৃংখলা বাহিনী।
তা হলে জনপ্রতিনিধিরা কখন আসবেন? তারা গেলেন কোথায়?
জনতার কাছে তাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই?
তারা সবাই কী ত্রাণ লুট করবে? তাদের প্রতি কোনো বিশ্বাস নেই?
দেশের মানুষের এই বিপদের মুহূর্তে জনপ্রতিনিধিরা কী দেশপ্রেমের পরিচয় দেবেন না?
জনপ্রতিনিধি চাইলে প্রতিটি গ্রামে পাড়া মহল্লায় ত্রাণ নিতে ইচ্ছুক কিংবা দরিদ্র মানুষের তালিকা করা কোনো বিষয়?
২৪ ঘন্টার মধ্যেই তা করা সম্ভব।
প্রতিটা গ্রামে মহল্লায় স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করুন।
দলমতের উর্ধে উঠে তাদের নির্বাচিত করুন।
দেশের তরুণরা এগিয়ে আসবে।
ভালোভাবে ডাক দিন।
এ লড়াই বাঁচার লড়াই।
মাথার উপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থাকুন। তিনি আমাদের ভরসা।
কিন্তু একা সব পারবেন না।
অন্যদেরও ডাকুন।
এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা না। রাজনৈতিক সমস্যা না। আওয়ামীগ বিএনপির সমস্যা না। এটা বৈশ্বিক সমস্যা।
এ সমস্যায় মহা ক্ষমতাশালী রাষ্ট্র ধরাশায়ী হয়ে যাবে। কিন্তু টিকে যাবে বাংলাদেশসহ কৃষিপ্রধান দেশগুলো। আমরা যদি ফসলটা তুলতে পারি, জীবনের এই একটিবার অস্তিত্বের লড়াইয়ে দেশপ্রেমের পরিচয় দিই তা হলে আমাদের কোনো অভাব হবে না। আমাদের চাহিদা কম। ঘরে চাল ডাল থাকলেই হবে। মাছ, মাংস,ডিমের উৎপাদন নিশ্চিত করুন। এ শিল্পগুলোকে সহায়তা করুন। দেখবেন চাহিদার কয়েকগুণ বেশি উৎপাদন হবে। উর্বর মাটি আমাদের। যত্ন পেলে শাক সবজিতে ভরে যাবে দেশ। গার্মেন্টসওলাদের কথা পরে ভাবুন। তাদের প্রণোদনা পরে দিন। উন্নয়নকাজ বছরখানেক বন্ধ রাখুন। বিলাসী পণ্যের দরকার নেই। চুরি চামারিটা বন্ধ রাখুক। বিদেশে টাকা পাচারকারিরা টাকা ফেরত এনে দেশের কাজে লাগাক। মোটকথা এবার সবাই ভাবুন দেশটা আমার। এ দেশ ছাড়া কোথাও রক্ষা নেই। আমেরিকা,কানাডা,ইংল্যান্ড সব ধরাশায়ী। মুত্যুপুরি হয়ে গেছে। সবার ক্ষমতা শূণ্যে নেমেছে।
বড়ত্বের অহমিকা করে আর লাভ নেই।
সজাগ হোন।
জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আস্থা নেই বলেই হয়তো ৬৪ জেলায় ৬৪ সচিবকে দায়িত্ব দেয়া হলো। জনগণের সেবক হিসেবে তারা মাঠে নামবেন এটা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু তাদের অফিসারগিরি মানসিকতা, সাহেবী মানসিকতা,আমলাতান্ত্রিকতা পরিহার করতে হবে। সেবক হিসেবে মাঠে নামবেন এটাই প্রত্যাশা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ থেকে দিকনির্দেশনা দেয়া আপাতত বন্ধ রাখবেন সচিবরা এটাই প্রত্যাশা।
হাওরে এ মুহুর্তে ধান ওঠছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, কয়েকজন সচিব,সেনা কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য সেখানে পাঠান। তারা হাওর এলাকায় থেকে তদারকি করুন। দেখবেন সোনার ফসল নির্বিঘ্নে কৃষকের গোলায় ওঠবে। শুরুতেই সরকারি উদ্যোগে ধানচাল কিনে ফেলা হোক।
থানায় থানায় কৃষি কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের দায়িত্বটা সঠিকভাবে পালন করতে বলুন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এক ইঞ্চি জায়গাও পতিত না রাখার জন্য। কিন্তু বেশিরভাগ কৃষকই জানেন না কোন জমিতে কোন ফসল কখন এবং কোন উপায়ে ফলানো যাবে। তারা আন্দাজের উপর ফসল ফলান। ফলে শত শত একর জমি অনাবাদি থাকে সঠিক ফসল ফলে না। থানার কৃষিকর্মকর্তা যদি সঠিক পরামর্শ দেন তা হলে এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি থাকবে না এটা নিশ্চিত।
আবারো বলছি দেশের অস্তিত্বের লড়াই,আমাদের বেঁচে থাকার লড়াই। হিংসা, দোষারোপ, রাজনৈতিক বাগবিতণ্ডা পরিহার করে সবাই চলুন দেশের জন্য দাঁড়াই । ##

সত্য বলা যাবে না?

0

নার্সদের গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলতে নির্দেশ দিয়েছেন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। গত ১৫ এপ্রিল এ নির্দেশ জারি করা হয়।
কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে খাবার সঙ্কটসহ নানাবিধ সমস্যার কথা গণমাধ্যমে জানিয়েছিলেন একজন নার্স। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলো। এই নার্সের অপরাধ তিনি সত্য বলেছিলেন। এ জন্য তাদের সবার মুখ বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। মনে হয় এই নার্সের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।
নোয়াখালি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক আবু তাহেরকে শোকজ করেছে তার উর্ধতন কতৃর্পক্ষ। কারণ ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি বলেছিলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রুগিদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের চিকিৎসকদের পিপিই,মাস্ক কোনো কিছুই নেই। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি, স্বাস্থ্য সচিব প্রতিদিন বলে আসছেন পর্যাপ্ত পিপিই মাস্ক সব চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
বাস্তবতা হচ্ছে শুধু নোয়াখালীর এই চিকিৎসকই নন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনেক হাসপাতালেই পিপিই পাওয়া যায় নি। অনেক চিকিৎসকই এমন অভিযোগ করেছেন। খোদ প্রধানমন্ত্রীর নিজ জেলা গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, তারা পিপিই মাস্ক কিছুই পাননি।
পিপিই পেয়ে থাকলে চিকিৎসকরা মিথ্যা বলবেন কেনো? চিকিৎসা নিয়ে তো অবহেলার কথা বলা হচ্ছে না। যে রোগের ওষুধই আবিস্কার হয় নি তার আবার চিকিৎসা হবে কেমনে? আনুষাঙ্গিক অন্যান্য উপসর্গের চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে। কিন্তু যে রোগটা ভয়ংকর ছুঁয়াচে সেটা জানার পরও পর্যাপ্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ছাড়া একজন চিকিৎসক রোগি দেখবেন কেনো? একজন নার্স সেবা দিবেন কেনো? তার কী জীবনের মায়া নেই?
কিন্তু এ সত্য বলতে পারছেন না চিকিৎসকরা।বললেই গর্দান নেমে আসছে, তাকে শোকজ করা হচ্ছে, হয়রানি করা হচ্ছে। নোয়াখালীর চিকিৎসক আবু তাহেরের অপরাধ তিনি সত্য বলেছিলেন।
আমরা ভুলে যাইনি মিটফোর্ড হাসপাতালের সেই পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোর্শেদ রশিদের কথা। ২১ মার্চ যিনি নোটিশ দিয়ে জানিয়েছিলেন, সম্পদের স্বল্পতার কারণে পর্যাপ্ত মাস্ক না থাকায় চিকিৎসকরা যেনো নিজ নিজ উদ্যোগে তা সংগ্রহ করেন। এ নোটিশ প্রকাশ হলে হৈচৈ পড়ে যায়। কারণ একদিন আগেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি এমন কি মন্ত্রীও জানিয়েছিলেন, করোনা মোকাবেলায় সরকারের ব্যাপক প্রস্তুতির কথা আর পিপিই মাস্কের কোনো সংকটও নেই। কিন্তু মিটফোর্ডের পরিচালক যখন থলের বেড়াল বের করে দিলেন তখন গেলো গেলো রব ওঠলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে।
এ ঘটনায়ও ক্ষিপ্ত হন মন্ত্রণালয়ের বড় সাহেবরা। দুদিন পরেই মিটফোর্ডের সেই পরিচালককেও প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এখানেও তার অপরাধ তিনি সত্য বলেছিলেন।
১৮ এপ্রিল বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের এক জরিপে বলা হয়েছে কোভিট -১৯ রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের ২৫ শতাংশ এবং নার্সদের ৬০ শতাংশ পিপিই পাননি। আর যারা পেয়েছেন সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন এবং মানদণ্ড অনুযায়ী এগুলো তৈরী হয় নি।
মানদণ্ড অনুযায়ী যে হয় নি তার প্রমাণও মিলছে। অনেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা সেগুলো পরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। আইনশৃংখলা বাহিনী রাজধানীতেই অভিযান চালিয়ে ভেজাল মাস্ক,পিপিই উদ্ধার করেছে, কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। গণমাধ্যমে খবর এসেছে প্রভাশালী একটা সিন্ডিকেট এই ভেজাল এ নিম্নমানের পিপিই,মাস্ক তৈরির সঙ্গে জড়িত। এরা দেশের কারখানাতেই এন -৯৫ মাস্ক তৈরী করে ভুয়া আমদানি দেখিয়ে সরবারাহ করেছে। আশ্রয় নিয়েছে ভয়াবহ জালিয়াতির। প্যাকেটের গায়ে লেখা এন-৯৫ আর প্যাকেট খুলে পাওয়া যায় সার্জিক্যাল মাস্ক। মুগদা জেনারেল হাসপাতালে এসব মাস্ক পাওয়ার পর হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি এ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালককে চিঠি দিয়ে এর কারণ জানতে চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদ উল্লাহ জানান, এসব সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক। প্যাকেটের গায়ে ভুল করে এন-৯৫ লেখা হয়েছিল।
কি বিপজ্জনক কথা ! প্যাকেটের গায়ে সিল মারা একটা আর ভেতরে আরেকটা। কতোবড় জালিয়াতি।
এটা কী সাধারণ ভুল? যেখানে চিকিৎসকের জীবন মরণ প্রশ্ন। ডায়রিয়ার রোগীকে ক্যান্সারের ওষুধ খাইয়ে দিলে সেটা কী ভুল স্বীকার করলেই হয়ে যাবে? কারা এমন ভুল করলো? কেনো করলো? তা কী জানার অধিকার নেই দেশের নাগরিক হিসেবে?
কিন্তু না, তা না করে উল্টো হুমকি দেয়া হচ্ছে, এ নিয়ে লেখালেখি করলে ডিজিটাল আইনে মামলার করা হবে । তার মানে সত্য বলা যাবে না? প্রশ্ন তোলা যাবে না?
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে জীবন বাঁচাতেও সত্য বলা যাবে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরের সব কাজকে সঠিক বলতে হবে,সমর্থন দিয়ে যেতে হবে। অথচ স্তরে স্তরে তাদের ব্যর্থতা। তাদের কথা ও কাজে মিল নেই। এই ব্যর্থতার মাশুল পুরো জাতিকে দিতে হবে।
যেমন দিচ্ছে চীন আর চীনের কারণে ধুকছে বিশ্ববাসী। চীন যদি শুরুতেই মিথ্যার আশ্রয় না নিতো,লুকোচুরি না করতো তা হলে করোনাভাইরাস সারাবিশ্বে ছড়াতো না।
করোনা ভাইরাসের শুরুতেই গত ডিসেম্বরে চীনের উহানের একজন চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াং এই ভাইরাসের কথা বলায় তাকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করা হয়। পরে তার মৃত্যু হয়। চীনের সাংবাদিক, চিকিৎসকরা এই ভাইরাস, মহামারী নিয়ে কোনো কথা বললে তার উপর নির্যাতন নেমে আসতো। অথচ চীন যদি শুরুতে তথ্য গোপন না করতো, তা হলে বিশ্ববাসীর আজ এ পরিণতি হতো না।
আমরাও কী চীনের পথ অনুসরণ করছি?

সংসদের অধিবেশন বিকেলে বসছে

0

একাদশ জাতীয় সংসদের সপ্তম অধিবেশন বসবে আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকাল ৫টায়। করোনাভাইরাসের কারণে এই অধিবেশনের মেয়াদ অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হতে পারে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া সংসদ সদস্যদের অধিবেশন কক্ষে বসার সময় শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হবে। কোরাম (৬০ সদস্য) পূর্ণ হলেই অধিবেশন শুরু হবে।
ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘সংসদে জনসমাগম এড়াতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি যাতে কম হয় তা নিশ্চিত করা হবে। দরকার নেই এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আসতে নিরুৎসাহিত করা হবে।’

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এখন ঢাকায় আছেন এবং বয়সে তরুণ এমন এমপিদেরই শুধু সংসদে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হবে। সংসদে প্রবেশের সময় এমপিদের তাপমাত্রা মাপা হবে।
সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের সময়সীমা বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংসদের গণসংযোগ অধিশাখার পরিচালক তারিক মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে করোনাভাইরাসের কারণে জাতীয় সংসদের এই অধিবেশনে সাংবাদিকদের উপস্থিত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সংসদ বিটে কর্মরত সব গণমাধ্যমের সাংবাদিক ভাইদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন, একাদশ জাতীয় সংসদের সপ্তম অধিবেশন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে ১৮ এপ্রিল শনিবার বিকাল ৫টায় আহ্বান করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে সবার জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে এ অধিবেশন অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করা হবে। এ প্রেক্ষাপটে সব সাংবাদিক ভাইদের সরাসরি সংসদে না এসে সংসদ টেলিভিশন থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত অধিবেশন কভার করার জন্য বিনীত অনুরোধ করা হচ্ছে।’
করোনভাইরাসের এই মহাদুর্যোগেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে সংসদের সপ্তম অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। এক অধিবেশন শেষ হওয়ার পর ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে আবার বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সর্বশেষ ষষ্ঠ অধিবেশন শেষ হয়েছিল ১৮ ফেব্রুয়ারি। সেই হিসাবে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে সংসদের অধিবেশন শুরুর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। খবর বাসস।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মায়ের মৃত্যু

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এর মা জাহানারা হক, শুক্রবার দিবাগত রাত ৩:৪০ মিনিটে রাজধানীর এপোলো হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

আজ শনিবার বাদযোহর বনানীর ১১ নম্বর রোড সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের জামে মসজিদে পারিবারিকভাবে ও সীমিত পরিসরে মরহুমার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

গতবছরের ২৭ অক্টোবর থেকে এপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ হৃদরোগ সহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮৫ বছর ০৫ মাস ২১ দিন।

তিন বছরের ব্যবধানে মন্ত্রী তাঁর ভাই, বোনের পর মাকে হারালেন। ২০১৭ সালের ১০ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে একটি হাসপাতালে মন্ত্রীর একমাত্র ছোট ভাই আরিফুল হক রনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র ও এক কন্যা রেখে গেছেন।

মন্ত্রীর একমাত্র বড় বোন সায়মা ইসলাম ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই ঢাকায় মারা যান। তিনি স্বামী ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

বিয়ের কিছুদিন পর ১৯৯১ সালের ২ জানুয়ারি সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী নূর আমাতুল্লাহ্ রিনা হককে হারান আইনমন্ত্রী। এরপর তিনি আর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হননি। তাঁর কোন সন্তান নেই।

২০০২ সালের ২৮ অক্টোবর মারা যান বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ট সহচর আনিসুল হকের পিতা এডভোকেট সিরাজুল হক। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার, সংসদ সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, অন্যতম সংবিধান প্রণেতা ও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চিফ প্রসিকিউটর ছিলেন।

আনিসুল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

ঘরে বসে আইনগত সহায়তা

0

বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘরে বসে যে কোনো আইনগত প্রয়োজনে আইনগত পরামর্শ বা তথ্য প্রাপ্তিতে সরকারি আইনগত সহায়তায় ২৪ ঘণ্টা সেবা পাওয়া যাচ্ছে জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টারের টোল ফ্রি (১৬৪৩০) নম্বরটিতে। বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ের জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা।

সংস্থার সহকারী পরিচালক (মনিটরিং) মাসুদা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আর্থিকভাবে অসচ্ছল সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনগত সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন ২০০০ প্রণয়ন করা হয়।

এ আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে সারাদেশে সংস্থার তত্ত্বাবধানে সরকারি আইনগত সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোভিড-১৯ এর বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘরে বসে যে কোনো আইনগত প্রয়োজনে আইনি পরামর্শ বা তথ্য প্রাপ্তির উদ্দেশে সরকারি আইনগত সহায়তা জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টার টোল ফ্রি ১৬৪৩০ নম্বরটি ২৪ ঘণ্টা চালু হয়েছে।

পুরো দেশ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা

0

দুই-তৃতীয়াংশ জেলায় নভেল করোনাভাইরাসের দেড় হাজারের বেশি রোগী পাওয়ার পর গোটা দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, “যেহেতু বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় এই রোগের সংক্রমণ ঘটেছে। সেহেতু সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ এর ১১(১) ধারার ক্ষমতাবলে সমগ্র বাংলাদেশকে সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করা হল।”

এর আগে ৪৩ জেলায় এই পর্যন্ত এক হাজার ৫৭২ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত করার কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনের মৃত্যু ঘটে করোনাভাইরাসে, এই সময়ে আক্রান্ত হন ৩৪১ জন। একদিনে এত বেশি নতুন রোগী আর মৃত্যু বাংলাদেশকে দেখতে হয়নি।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকায় ৫৪৬ জন, নারায়ণগঞ্জে ২১৪ জন, গাজীপুরে ৫৩ জন, চট্টগ্রামে ৩১ জন, নরসিংদীতে ২৮ জন, মুন্সিগঞ্জে ২১ জন, মাদারীপুরে ১৯ জন, কিশোরগঞ্জে ১৭ জন, কুমিল্লায় ১৪ জন; গাইবান্ধা ও জামালপুরে ১২ জন করে, বরিশালে ১০ জন; গোপালগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে ৯ নয় করে করোনাভাইরাসের রোগী পাওয়া গেছে।
এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৮ জন, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহে ৭ জন করে; চাঁদপুর, নিলফামারী ও রাজবাড়ীতে ৬ জন করে; মানিকগঞ্জ ও শরিয়তপুরে ৫ জন করে; বরগুনা, নেত্রকোণা, পিরোজপুর ও রাজশাহীতে ৪ জন করে; ঝালকাঠি, শেরপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে ৩ জন করে; ফরিদপুর, কুরিগ্রাম, লালমনিরহাট, মৌলভীবাজার, পটুয়াখালী ও রংপুরে ২ জন করে এবং চুয়াডাঙ্গা, কক্সবাজার, হবিগঞ্জ, খুলনা, লক্ষ্মীপুর, নড়াইল, নোয়াখালী ও সুনামগঞ্জে একজন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে।
ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ইতোমধ্যে ৪৮টি জেলা লকডাউন করেছে প্রশাসন। এর বাইরেও কিছু উপজেলা এবং কিছু অঞ্চলে লকডাউন জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারী আকারে বিস্তার লাভ করেছে। এ কারণে লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে এক লাখের বেশি মানুষ। বাংলাদেশেরও বিভিন্ন জায়গায় এই রোগের সংক্রমণ ঘটেছে।
“এখন পর্যন্ত এই রোগের কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী এ রোগের একমাত্র প্রতিষেধক পরস্পর থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান করা।”
সংক্রমণ এড়াতে মানুষের ঘরে থাকার উপর জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
“অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে। এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হলো। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কেউ ঘরের বাইরে যেতে পারবে না।” আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

কৃষিখাতে ৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি, ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা

0

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ক্ষতি সামালে ভর্তুকি হিসেবে কৃষকদের জন্য ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে করণীয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এই তথ্য জানান।

মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এবং কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ ও বিপণনে গুরুত্ব দিয়ে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

“বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার কৃষকদের স্বার্থে সার, সেচ, ইক্ষুচাষসহ কৃষিখাতে ভর্তুকি বাবদ ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।”
করোনাভাইরাসের কারণে বোরো ধান কাটার শ্রমিকের সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হাওর অঞ্চলের ধান কাটার জন্য জরুরি ভিত্তিতে নতুন ১৮০টি কম্বাইন হারভেস্টার এবং ১৩৭টি রিপার সরবরাহের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
“হাওরে গমনেচ্ছুক শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সাবান, স্যানিটাইজার, মাস্ক প্রভৃতি উপকরণ প্রদান, নিরাপদ যাতায়াতের জন্য আলাদা গাড়ি, নির্বিঘ্ন গমনাগমন, ধান কাটা স্থলে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রাখার ব্যবস্থা ইত্যাদি কার্যক্রম চলছে।”

কৃষি শ্রমিকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাওরে যাওয়া শুরু করেছেন জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “ইতোমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে। আশা করা যায়, হাওরে ধান কাটায় কোনো সমস্যা হবে না।”
কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী কৃষিখাতে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। এর সুদ ৪ শতাংশ হলেও কৃষিখাতে ৯ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকিসহ অন্যান্য প্রণোদনা বিবেচনায় নিলে এটি ‘অত্যন্ত ভালো’।
“এ প্রণোদনার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করে মৎস্য ও প্রাণি খাতসহ কৃষির সকল সেক্টরে সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হবে।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব প্রণোদনার বাইরে কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষি পুনর্বাসনে ১২০ কোটি টাকা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতিপূরণ ও সমবায়ভিত্তিক চাষাবাদের জন্য ৫০ কোটি টাকা এবং ফসলে নতুন জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণের জন্য প্রদর্শনী স্থাপন ও গ্রহণকরণ বাবদ ৭৫ কোটি টাকা ইতোমধ্যে বরাদ্দ দিয়েছে।
এছাড়া সম্প্রতি কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও বীজ, সেচখাতে সহায়তা বাবদ ১৫০ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে সার ও বীজ বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আউশ উৎপাদন নিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সাধারণত প্রতি বছর ৩০ লাখ মেট্টিক টন আউশ ধান উৎপাদিত হয়। আসন্ন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা হল ৩৫ লাখ মেট্টিক টন।
“এজন্য আসন্ন আউশ মৌসুমে বিএডিসির সেচের রেট ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সাড়ে ৬ হাজার মেট্টিক টন হাইব্রিড ও উফশি জাতের বীজ ইতোমধ্যে কৃষকদের বিতরণ করা হয়েছে।”
এছাড়া কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ কোটি টাকায় ৮০০টি কম্বাইন হারভেস্টার এবং ৪০০টি রিপারসহ বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
বাকি ১০০ কোটি টাকা দিয়ে সমপরিমাণ কৃষি যন্ত্রপাতি অচিরেই কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “করোনাভাইরাসের সংকটকালীন সাধারণ ছুটির সময় কৃষি কার্যক্রম সক্রিয় রাখতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
“তাদেরকে নিয়মিতভাবে মাঠে গিয়ে এই দুর্যোগময় অবস্থায় কৃষকের সাথে এবং কৃষকের পাশে থাকতে বলা হয়েছে। যারা কর্মস্থলে থাকবেন না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আরিফুর রহমান অপু ও মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল এবং বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. সায়েদুল ইসলাম সভায় উপস্থিত ছিলেন। সূত্রঃ বিডি নিউজ।

র‌্যাব এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন চৌধুরী মামুন

0

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনি সদ্য সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের স্থলভিষিক্ত হলেন।

বুধবার সকালে র‌্যাব সদরদপ্তর থেকে পাঠানো ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। নতুন দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির প্রধানের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

১৯৬৪ সালের ১২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের শ্রীহেলা গ্রামের মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল্লাহ আল মামুন। তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার শ্রীহাইলে।

১৯৮৬ সালে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে পুলিশের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট (এএসপি) হিসেবে যোগ দেন। গত বছরের মে মাসে তিনি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পান। এর আগে তিনি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ছিলেন।

কর্মজীবনে আবদুল্লাহ আল মামুন পুলিশ সদর দপ্তর, মেট্রোপলিটন পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া জাতিসংঘ শান্তি মিশনে কাজ করার মাধ্যমে তিনি বিশ্ব শান্তিরক্ষার জন্য উজ্জ্বল অবদান রেখেছেন।

তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর সার্কেল এএসপি, সিরাজগঞ্জের রাইগনজ সার্কেল এএসপি, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ সার্কেল এএসপি, চাঁদপুরের অতিরিক্ত এসপি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (ডিএমপি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের এএসপি, এডিসি (ডিএমপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া নীলফামারী জেলার সুপারিনটেনডেন্ট পুলিশ (এসপি), ডিএমপির ডেপুটি কমিশনার (ডিসি), এআইজি (এস্টাবলিশমেন্ট) এবং পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (গোপনীয়) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। পরে ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ও ডিআইজি হন।
অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পেয়েছেন।

পুলিশ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন বেনজীর আহমেদ

0

পুলিশ বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ডক্টর বেনজীর আহমেদ। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ইন্সপেক্টর জেনারেলের র‌্যাংক ব্যাজ পরানো হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন ব্যাজ পরিয়ে দেন।
এ সময় বিদায়ী আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীসহ পুলিশ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন পুলিশের নবনিযুক্ত আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ। এসসময় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরে বিদায়ী ও নবনিযুক্ত আইজিপির সম্মানে বরণ ও বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।