বঙ্গবন্ধুর খুনি আব্দুল মাজেদ গত প্রায় ২০ বছর ধরে কলকাতাতেই ছিল। সেখানে নামধাম পাল্টে ভারতীয় নাগরিক সেজে ঘর সংসারও করে মাজেদ। রয়েছে স্ত্রী সন্তান। পেশা ছিল প্রাইভেট টিউশনি। ইংরেজীর শিক্ষক হিসেবে বেশ নামও হয়েছিল। পার্কস্ট্রিটের বাসিন্দারা তাকে চিনতেন ইংরেজীর মাষ্টারমশাই হিসেবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্য প্রকাশ হল। গত ফেব্রুয়ারিতেই ধরা পড়ে মাজেদ। পরে তাকে আসামের ডাউকি সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানো হয় বাংলাদেশে। ৭ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। আর গত শনিবার রাতে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
কলকাতার দৈনিক পত্রিকা বর্তমান এ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটির রিপোর্টার সুজিত ভৌমিকের তিন পর্বের প্রতিবেদনের শেষ পর্বটি তুলে ধরা হল। *****
সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: দুটি নম্বরে প্রতিদিন নিয়মিত ফোন করে বাংলাদেশে কথা বলতেন বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী আব্দুল মাজেদ। নম্বর দুটি হল +৮৮০১৫৫২৩৮৭৯১৩ এবং +৮৮০১৭১১১৮৬২৩৯। সম্ভবত এই ফোনালাপই কাল হয়ে দাঁড়াল তাঁর জীবনে!
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের অনুমান, বাংলাদেশে মাজেদের পরিবারের সদস্যদের ফোনে নিয়মিত আড়ি পাততো সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা। ফলে মাজেদ কোথায় লুকিয়ে রয়েছেন, সেই তথ্য সহজেই জেনে যায় তারা। এরপরই মাজেদকে গ্রেপ্তারের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়। তবে কলকাতা শহরে মাজেদের অবস্থান জানতে খুব সম্ভবত ভারতের কোনও গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্য নিয়েছিলেন বাংলাদেশের গোয়েন্দারা। যদিও এনিয়ে কোনও সরকারই মুখ খোলেনি। তদন্তে জানা গিয়েছে, কলকাতায় মাজেদ যে দুটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন, তার একটিও নিজের নামে ছিল না। তিনি স্ত্রীর নামে সিম কার্ড কিনেছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে আওয়ামি লিগ সরকার গঠন হওয়ার পর রাতারাতি দেশ ছেড়েছিলেন মাজেদ। সেই সময় ভারত হয়ে লিবিয়া ও পাকিস্তানে যান তিনি। কিন্তু সুবিধা করতে না পারায় সেখান থেকে কলকাতায় চলে আসেন। কলকাতায় কি কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির সাহায্য পেয়েছিলেন মাজেদ? সঙ্গত কারণেই এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে গোয়েন্দাদের মনে। তাঁর পার্ক স্ট্রিটের ভাড়া বাড়ি থেকে ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়া গিয়েছে।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক সূত্র জানিয়েছে, ২০১৭ সালে ওই পাসপোর্ট বানানো হয়েছে। নিয়ম মেনে পার্ক স্ট্রিট থানা পুলিস ভেরিফিকেশন করার পর পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে। পাসপোর্টে জন্মস্থান হিসেবে হাওড়া উল্লেখ করা হয়েছে। সত্যি কথা বলতে কী, ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের সব কাগজপত্রই ছিল মাজেদের। আধার কার্ডও বানিয়েছেন অনায়াসে। তাঁর আধার কার্ড নম্বর হল ৭৯৪১ ৯৫৯১ ২৮৬৪। এছাড়াও ২০১২ সালে মাজেদ সচিত্র ভোটার কার্ড বানিয়েছিলেন।
মাজেদের স্ত্রী সেলিনা ওরফে জরিনা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে চলতেন মাজেদ। এমনকী খেতে দিতে সামান্য দেরি হলে রেগে আগুন হয়ে যেতেন তিনি।
মাজেদ নিখোঁজ রহস্যের তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হয়েছেন যে, বেডফোর্ড লেনের বাড়ি থেকে বেরনোর পর তাঁকে কেউ জোর করে অপহরণ করেনি। তেমন হলে চিৎকার কিংবা ধস্তাধস্তির প্রমাণ থাকত। তাছাড়া একজন হলেও প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যেত। এর মানে মাজেদ স্বেচ্ছাতেই ওই চার ষণ্ডামার্কা লোকের সঙ্গে গিয়েছিলেন। তবে কি সেদিন মাজেদের পরিচিত কাউকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন গোয়েন্দারা?
গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, এমনিতে সুদের কারবার ও টিউশনির টাকায় সংসার চললেও সম্প্রতি তালতলা এলাকায় ২৫ লাখ টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট বুক করেছিলেন মাজেদ। গোয়েন্দারা মনে করছেন, সম্ভবত বাংলাদেশ থেকে টাকা আসত মাজেদের কাছে। কিন্তু সেই ফ্ল্যাটে আর পা দেওয়া হল না তাঁর। তার আগেই ফাঁসিকাঠে নিথর হলেন তিনি। (শেষ)
ভারতীয় নাগরিক সেজে সংসার পেতেছিল মাজেদ,রোজ ফোন করতো বাংলাদেশে
ফেব্রুয়ারিতেই আটক হয় মাজেদ,ডাউকি বর্ডার দিয়ে দেশে ফিরে
বঙ্গবন্ধুর খুনি আব্দুল মাজেদ গত ২২ ফেব্রুয়ারীই কলকাতায় আটক হয়। তাকে কোন সংস্থা আটক করে তা গণমাধ্যমের কাছে স্পষ্ট না হলেও কলকাতার পুলিশ এটা নিশ্চিত যে তাকে আটক করে আসামের শিলং হয়ে ডাউকি বর্ডারে দিয়ে তুলে দেয়া হয়। প্রায় ২০ বছর ধরে কলকাতাতেই ছিল। সেখানে নামধাম পাল্টে ভারতীয় নাগরিক সেজে ঘর সংসারও করে মাজেদ। রয়েছে স্ত্রী সন্তান। পেশা ছিল প্রাইভেট টিউশনি। ইংরেজীর শিক্ষক হিসেবে বেশ নামও হয়েছিল। পার্কস্ট্রিটের বাসিন্দারা তাকে চিনতেন ইংরেজীর মাষ্টারমশাই হিসেবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্য প্রকাশ হল। ধরা পড়ে ফেরত পাঠানো হয় বাংলাদেশে। ৭ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। আর গত শনিবার রাতে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
কলকাতার দৈনিক পত্রিকা বর্তমান এ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটির রিপোর্টার সুজিত ভৌমিকের দ্বিতীয় কিস্তির রিপোর্টটি তুলে ধরা হল। *****
সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: এক ঝলক দেখলে যে কেউ ভুল করে তাঁদের কাবুলিওয়ালা ভাববেন। ষণ্ডামার্কা চেহারা। গালে ঘন কালো চাপ দাড়ি। ব্যাক ব্রাশ করা চুল। একজনের পরনে ডেনিম জিন্স আর নীল ফুল হাতা টি-শার্ট। অন্যজনের গায়ে বড় চেক শার্ট। দু’জনের হাতেই মোবাইল ফোন।
সিসিটিভি’র ফুটেজ ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৪ মিনিটে বেডফোর্ড লেনের ভাড়া বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর একটি ওষুধের দোকানে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর খুনি আব্দুল মাজেদ। সেখানে মিনিট আটেক কাটানোর পর ঠিক ১০টা ১২ মিনিটে যখন রিপন স্ট্রিটের দিকে মুখ করে ফের পথ চলতে শুরু করেন, তখন থেকেই তাঁকে অনুসরণ করা শুরু করে ওই দুই ব্যক্তি। পরে তাঁদের সঙ্গে আরও দু’জন যোগ দেন। মোট চারজন সেদিন পিছু নিয়েছিলেন মাজেদের। সিসিটিভি’র ফুটেজে সবার ছবিই ধরা আছে। তদন্তে নেমে পুলিস ও এসটিএফ-এর অফিসাররা পিছু নেওয়া ওই ষণ্ডামার্কাদের কাবুলিওয়ালা ভেবে প্রথমে ভুল করেছিল। উল্লেখ্য, মাজেদ ছোটখাট সুদের কারবারও চালাতেন।
আলিমুদ্দিন স্ট্রিট ধরে এসে রাস্তা পার হয়ে এজেসি বোস রোডে আসেন মাজেদ। উদ্দেশ্য, বাস ধরা। গন্তব্য পিজি হাসপাতাল। এর পরের ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ওই চারজন মাজেদের সঙ্গে কথা বলছে। তবে ক্যামেরা উন্নত না হওয়ায় কী কথা হয়েছিল, তা শোনার উপায় নেই। ঠিক তখনই মৌলালির দিক থেকে আসা একটি সল্টলেক-সাঁতরাগাছি রুটের বাসে উঠতে দেখা যায় মাজেদকে। যথারীতি সেই বাসে চাপেন ওই চারজনও। এরপর আর কোনও ফুটেজ নেই।
তদন্তে নেমে পুলিস এজেসি বোস রোডের প্রতিটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেছে। না, আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের বাস স্টপ থেকে পিজি হাসপাতাল পর্যন্ত কোথাও বাস থেকে নামতে দেখা যায়নি আব্দুল মাজেদকে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক সূত্র জানিয়েছে, মাজেদের মোবাইলের সর্বশেষ টাওয়ার লোকেশন ছিল মালদহ। যা থেকে গোয়েন্দাদের অনুমান, মাজেদকে ঘুরপথে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল হাওড়া স্টেশনে। সেখান থেকে ট্রেনে প্রথমে গুয়াহাটি। পরে শিলং হয়ে ডাওকি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ যান তিনি। তবে তিনি স্বেচ্ছায় গিয়েছিলেন, নাকি বাধ্য করা হয়েছিল, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। মনে করা হচ্ছে, ট্রেন মালদহ স্টেশনের আশপাশে থাকাকালীন তিনি তাঁর মোবাইলটি একবার অন করেছিলেন।
স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়া ওই চারজন কারা? তাঁরা কি বাংলাদেশের কোনও গোয়েন্দা এজেন্সির অফিসার? সত্যিই এনিয়ে তদন্ত হাওয়া দরকার, বলছেন পার্ক স্ট্রিটের বাসিন্দারা।
কলকাতা পুলিসের অজান্তে কে বা কারা তুলে নিয়ে গেল মাজেদকে? কেননা, আইনত কোনও বিদেশি গোয়েন্দা এজেন্সি বিনা অনুমতিতে অন্য দেশে ঢুকে অভিযান চালাতে পারে না।
বাংলাদেশ সরকারিভাবে ৭ এপ্রিল জানিয়েছে, করোনার ভয়েই মার্চ মাসের শেষদিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনি। বাংলাদেশের কাউন্টার টেররিজমের গোয়েন্দারা তাঁকে মীরপুর থেকে গ্রেপ্তার করেন।
এই যুক্তি অবশ্য ধোপে টিকছে না। কারণ ভারতে প্রথম করোনা আক্রান্তের খোঁজ মেলে ৩০ জানুয়ারি। তাও আবার দক্ষিণ ভারতের রাজ্য কেরলে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর খুনি লুকিয়ে ছিলেন কলকাতায়। এখানে করোনা ধরা পড়ে ১৮ মার্চ। ফলে ২২ ফেব্রুয়ারি মাজেদ কলকাতা থেকে বাংলাদেশে যাবেন কেন?
আব্দুল মাজেদের নিখোঁজ হওয়া থেকে বাংলাদেশে তাঁকে গ্রেপ্তার—গোটা পর্বই রহস্যে ঘেরা।
সেই রহস্যের কি আদৌ কোনওদিন কিনারা হবে? (ক্রমশ)
ঋণ পাবেন ঢাকা বারের আইনজীবীরা
করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে আদালতপাড়া বন্ধ। এই অবস্থায় বিপাকে পড়া আইনজীবীদের বিনা সুদে দুই বছর মেয়াদি ঋণ দেবে ঢাকা আইনজীবী সমিতি। এ ঋণ পেতে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য ঢাকা বারের ওয়েবসাইটে ২০ এপ্রিলের মধ্যে আইনজীবীদের আবেদন করতে হবে। আবেদন বিবেচনা করে ঋণ দেয়া হবে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যনিবাহী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে ২৪ মার্চ থেকে ঢাকার আদালতপাড়া বন্ধ। ঢাকা বারের ২৫ হাজার ২০৯ জন তালিকাভুক্ত সদস্য রয়েছেন। সদস্যদের সেল ফোনে মেসেজের মাধ্যমে জানানো হচ্ছে আবেদন করার জন্য। আবেদনের পর আমরা সিদ্ধান্ত নেব কাকে কত ঋণ দেব। কতজন সদস্য আবেদন করবেন সেটার ওপর মূলত নির্ভর করবে কত টাকা দেয়া হবে।
অনলাইনের মাধ্যমে যে ইমেইল ও ওয়েভ ঠিকানার মাধ্যমে আবেদন করা যাবে তা হল- Email: dhakabarassociation@gmail.com, Web: www.dhakabarassociation.com
সাহস নিয়ে দাঁড়ান,সরকার জনগণের পাশে আছেঃ শেখ হাসিনা
করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় দেশবাসীকে সাহস নিয়ে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; এই লড়াইয়ে সরকার জনগণের পাশে আছে বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
মহামারী ঠেকানোর লড়াইয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের উৎসবে রাশ টানার মধ্যে সোমবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ নিয়ে আসেন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা।
সবাইকে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপ তিনি তুলে ধরেন জাতির সামনে।
অর্থনীতির সম্ভাব্য ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নানা প্রণোদনার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের কাতারে থাকা চিকিৎসাকর্মীদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি তাদের বিশেষ সম্মানী এবং স্বাস্থ্যবীমার ঘোষণাও দেন তিনি।
বৈশ্বিক মহামারী আকার ধারণ করা নভেল করোনাভাইরাস বাংলাদেশে সংক্রমিত হওয়ার পর এনিয়ে টানা তৃতীয়বার জাতির সামনে দিক-নির্দেশনা দিতে হাজির হলেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্বজুড়ে লক্ষ প্রাণ হরণকারী ছোঁয়াচে এই রোগের বিস্তার এড়াতে গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটিতে রয়েছে দেশ; লকডাউনের মতো এই অবস্থায় দেশ কার্যত অচল হয়ে আছে।
মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতা দিবসের পর বাংলাদেশে বাংলা নববর্ষের উৎসবও করোনাভাইরাস কেড়ে নিলেও প্রথা ভেঙে বৈশাখী আমেজের সেটে সোমবার জাতির সামনে আসেন শেখ হাসিনা।
তিনি শুরুতেই সবাইকে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দেশ চলছে, তার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এবার পহেলা বৈশাখ ঘরে উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “সবাইকে অনুরোধ করব কাঁচা আম, জাম, পেয়ারা, তরমুজসহ নানা মওসুমী ফল সংগ্রহ করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে বসেই নববর্ষের আনন্দ উপভোগ করুন।
“আপনারা বিনা কারণে ঘরের বাইরে যাবেন না। অযথা কোথাও ভিড় করবেন না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন, পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করুন।”
বৈশ্বিক মহামারীতে রূপ নেওয়া নভেল করোনাভাইরাসে ইতোমধ্যে লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, ১৮ লাখের বেশি মানুষ হয়েছে আক্রান্ত। বাংলাদেশেও ৬ শতাধিক আক্রান্তের মধ্যে ৩৯ জন মারা গেছে।
এই রোগের কোনো টিকা-ওষুধ এখনও আবিষ্কৃত না হওয়ায় সংক্রমণ এড়ানোই একমাত্র পথ; তাই বিভিন্ন দেশ লকডাউন করে সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। এজন্য পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।
“এটা করা হয়েছে বৃহত্তর জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে। কারণ, ইতোমধ্যেই এই ভাইরাস আমাদের দেশেও ভয়াল থাবা বসাতে শুরু করেছে “ বলেন শেখ হাসিনা।
সঙ্কটময় এই পরিস্থিতি সাহসের সঙ্গে মোকাবেলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা ভয় পাবেন না। ভয় মানুষের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে। কেউ আতঙ্ক ছড়াবেন না। আমাদের সকলকে সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। সরকার সব সময় আপনার পাশে আছে।”
ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাঙালি বীরের জাতি। অতীতে নানা দুর্যোগ-দুর্বিপাকে বাঙালি জাতি সাহসের সঙ্গে সেগুলো মোকাবেলা করেছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। বিজয়ী জাতি আমরা। আমরা সম্মিলিতভাবে করোনাভাইরাসজনিত মহামারীকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হব।”
নববর্ষের এই ক্ষণে অতীতের জঞ্জাল-গ্লানি ধুয়ে-মুছে আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দেশবাসীকে অভয় দিয়ে তিনি বলেন, “করোনাভাইরাসের যে গভীর আঁধার আমাদের বিশ্বকে গ্রাস করেছে, সে আঁধার ভেদ করে বেরিয়ে আসতে হবে নতুন দিনের সূর্যালোকে।”
ভাষণে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতার চরণ উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, “মেঘ দেখ কেউ করিসনে ভয়/ আড়ালে তার সূর্য হাসে/ হারা শশীর হারা হাসি/ অন্ধকারেই ফিরে আসে“।
বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদ ২০ বছর ধরে কলকাতায়, ছদ্মপরিচয়ে করেছিলো ঘর সংসার
বঙ্গবন্ধুর খুনি আব্দুল মাজেদ গত প্রায় ২০ বছর ধরে কলকাতাতেই ছিল। সেখানে নামধাম পাল্টে ভারতীয় নাগরিক সেজে ঘর সংসারও করে। রয়েছে স্ত্রী সন্তান। পেশা ছিল প্রাইভেট টিউশনি। ইংরেজীর শিক্ষক হিসেবে বেশ নামও হয়েছিল। পার্কস্ট্রিটের বাসিন্দারা তাকে চিনতেন ইংরেজীর মাষ্টারমশাই হিসেবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্য প্রকাশ হল। ধরা পড়ে ফেরত পাঠানো হয় বাংলাদেশে। ৭ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। আর গত শনিবার রাতে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
কলকাতার দৈনিক পত্রিকা বর্তমান এ নিয়ে সোমবার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটির রিপোর্টার সুজিত ভৌমিকের রিপোর্টটি তুলে ধরা হল। *************
বঙ্গবন্ধুর ঘাতক মাস্টারমশাই! বিশ্বাস
হচ্ছে না পার্কস্ট্রিটের সেই মহল্লার
সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: মহল্লা তাঁকে কখনও উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখেনি। হিংসা-বিবাদ তো দূর অস্ত! লোকটা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন নিয়ম করে। সেই তাদের মাস্টারমশাই নাকি বঙ্গবন্ধুর খুনি! এখনও ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারছে না লকডাউনের পার্ক স্ট্রিট। এই পার্ক স্ট্রিটের বেডফোর্ড লেনের ভাড়া বাড়িতে থাকতেন বঙ্গবন্ধুর ঘাতক আব্দুল মাজেদ।
গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশের মীরপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি আব্দুল মাজেদ গ্রেপ্তারের পর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে রীতিমতো অবাক পার্ক স্ট্রিটের বেডফোর্ড লেনের বাসিন্দারা!
কিন্তু আব্দুল মাজেদ নয়। পার্ক স্ট্রিট তাঁকে চেনে আলি আহমেদ ওরফে ইংরেজির মাস্টারমশাই হিসেবে। এলাকার লোকে জানত, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে থেকে পাশ করেছেন মাস্টারমশাই। টিউশন পড়িয়ে সংসার চালাতেন তিনি। প্রথমে তালতলার ভাড়া বাড়িতে একাই থাকতেন মাজেদ। পরে পার্ক স্ট্রিটে চলে আসেন।
২০১১ সালে তাঁর থেকে ৩২ বছরের ছোট উলুবেড়িয়ার সেলিনা বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের ছ’বছরের এক মেয়ে রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই বছর বাহাত্তরের মাজেদের শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পিজি হাসপাতালে একপ্রস্থ পরীক্ষা নিরীক্ষাও হয়।
দিনটা ছিল গত ২২ ফেব্রুয়ারি। পিজি হাসপাতাল থেকে সেই রিপোর্ট আনতে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। সেটাই শেষ। আর বাড়ি ফেরা হয়নি মাজেদের। স্বভাবতই উদ্বিগ্ন স্ত্রী রাতে পার্ক স্ট্রিট থানায় মিসিং ডায়েরি করেন। তদন্তে শুরু করে পার্ক স্ট্রিট থানা। পিজি হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ তন্নতন্ন করে ঘাঁটলেও হদিশ মেলে না মাজেদের।
এরপর পুলিস মাজেদের ভাড়া বাড়ি থেকে একটি ব্যাগ পায়। সেই ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে সিম কার্ড, আধার কার্ড, ভোটার আইডি, ভারতীয় পাসপোর্ট এবং এক মহিলা সহ তিনজন শিশুর ছবি পাওয়া যায়। স্ত্রী সেলিনা পুলিসকে জানায়, ব্যাগের মতো তাঁর অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসে কাউকে হাত দিতে দিতেন না মাজেদ।
মহল্লায় খুব একটা মেলামেশা করতেন না তিনি। টিউশনির পাশাপাশি বড়জোর এলাকার এক চায়ের দোকান, রেশন দোকান এবং এক বিল্ডার্সের দোকানে আড্ডা দিতেন মাজেদ। বাড়ির সদর দরজায় সব সময় তালা লাগানো থাকত। বাইরের কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হতো না। এক আধ বছর নয়, এভাবেই আঠারো-উনিশ বছর ডেরা বেঁধে কলকাতায় আত্মগোপন করেছিলেন আব্দুল মাজেদ।
২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৪ মিনিটে বেডফোর্ড লেনের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আব্দুল মাজেদের যাত্রাপথের একাংশের সিসিটিভি ফুটেজ হাতে এসেছে পুলিসের। কী আছে সেই ফুটেজে? (ক্রমশ)
কসবায় ৮শ পরিবারের মাঝে আইনমন্ত্রীর ত্রাণ বিতরণ
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় করোনা ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্থ কর্মহীন হতদরিদ্র মানুষের মাঝে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার ত্রাণ বিতরণ চলছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ২৩ হাজার ৮৫৭ জনকে এ ত্রাণসামগ্রী প্রদান করা হচ্ছে। ত্রাণ হিসেবে চাল,ডাল,তেল,আলু,পিঁয়াজ ও সাবানের একটি করে প্যাকেট দেওয়া হচ্ছে।
হত দরিদ্র কর্মহীন মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসব ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
কসবা-আখাউড়ার সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সার্বক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম মনিটরিং করছেন। যারা ফােন করে খাদ্য সমস্যার কথা বলছেন,দলীয় নেতাকর্মী অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে তাদের বাসায় জরুরি ভিত্তিতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন তিনি।
আইনমন্ত্রীর নির্দেশে কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট রাশেদুল কাওসার ভুঁইয়া জীবন সকল ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের সঙ্গে উপস্থিত থেকে এ ত্রাণ বিতরণ করছেন।
সোমবারের মধ্যে কসবার ১০টি ইউনিয়নে প্রাথমিক পর্যায়ের এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শেষ হবে। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ের
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
অন্যদিকে কসবা পৌরসভা ৪০০ জনকে ৪ মেট্রিক টন চাল , ২৫০ জনকে নগদ ৭৫ হাজার টাকা এবং দরিদ্র প্রসূতি মা’দের ১৫ হাজার টাকার শিশু খাদ্য প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এ দিকে
করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হকের ব্যক্তিগত অর্থায়নে তাঁর নির্বাচনী এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ৮০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে।
রোববার রাত থেকে আখাউড়া আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সহায়তায় ৮০০ পরিবারের মাঝে এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে।
খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে প্রতি পরিবারের জন্য ১০ কেজি চাল, এক লিটার তেল, দুই কেজি আলু, মসুর ডাল দুই কেজি, লবণ এক কেজি ও সাবান একটা।
এসব খাদ্যসামগ্রী তিনদিনের মধ্যে রিকশা, অটো রিকশা ও ঠেলাগাড়ি চালক, ফেরিওয়ালা, ভিক্ষুক, ভবঘুরে, ফুটপাতের দোকানী, গৃহকর্মী, নৈশ প্রহরী ও শ্রমিক সহ দরিদ্র-অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেওয়া হবে।
এজন্য আখাউড়ার ৫টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভার ৫৪টি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ওয়ার্ড ভিত্তিক ৮০০ পরিবারের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে প্রথম পর্যায়ে আখাউড়ার ৪০০ পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
এদিকে, ঢাকায় বেকারিতে কাজ করা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার পৌর এলাকার মসজিদ পাড়ার এক শ্রমিক বাড়িতে এসে কোনো কাজ পাচ্ছিলেন না। ঘরে খাবার নেই। ফোন করেন নিজ এলাকার সংসদ সদস্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে। রাতেই খাবার পৌঁছে যায় ওই শ্রমিকের বাসায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রীর ঘনিষ্টজন আখাউড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. তাকজিল খলিফা কাজল।
রবিবার বিকেলে তিনি জানান, ওই যুবক ছাড়াও আরো ১২ জনের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।
ধরখারের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার মো. কাউছার ফোন করে মন্ত্রীকে জানান, তার বাড়ির আশেপাশের কয়েকজন দরিদ্র এখনো কোনো সহায়তা পাননি। মন্ত্রীর নির্দেশে তাদের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছানো হয়।
বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের ফাঁসি কার্যকর, নারায়ণগঞ্জে দাফন
বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আব্দুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১২ টা ১ মিনিটে ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ফাঁসি কার্যকরের সময় ঢাকার জেলা প্রশাসক,এসপি, সিভিল সার্জন,নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আইজি (প্রিজন্স), কারা চিকিৎসকসহ কারাকর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ফাঁসি কার্যকরের পর তার মরদেহ ময়নাতদন্ত হয়। সেখান থেকে মরদেহ কফিনে ভরে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এটাই প্রথম ফাঁসি। আর বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের মধ্যে মোট ৬ জনের ফাঁসি কার্যকর হল।
মাজেদের লাশ নিয়ে বের হওয়ার সময় কারাফটকের সামনে জড়ো হওয়া আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের কর্মিরা জুতা ও থুথু নিক্ষেপ করেন।
এদিকে খুনি মাজেকে তার জন্মস্থান ভোলায় দাফন করতে দেয়া হবে না বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন ভোলার এমপি শাওনের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশংকায় প্রশাসন রিস্ক না নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মাজেদের শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুসারে শম্ভুপুরা ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে অত্যন্ত গোপনে রাত তিনটার দিকে দাফন করা হয়।
এদিকে বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের লাশ সোনারগাঁওয়ে দাফন করার খবর সকালে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বৃহস্পতিবার সকালে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা নাকোচের চিঠি কারাগারে পৌঁছে।
জানা যায়, আদালত থেকে আসা মৃত্যু পরোয়ানা কারা কর্তৃপক্ষ মাজেদের কাছে দেয়। সেটি পাওয়ার পর রাতেই মানবিক বিবেচনায় রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান খুনি আব্দুল মাজেদ। এর প্রেক্ষিতে রাতেই সেই আবেদন রাষ্টপতির কাছে প্রেরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে রাষ্ট্রপতি তার সেই প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দেন। প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ হওয়ার পর শুধু ফাঁসির অপেক্ষায় ছিল আব্দুল মাজেদ।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার আবদুল মাজেদের পরিবারের সদস্যরা কারাগারে এসে তার সঙ্গে শেষ দেখা করে যান।
এর আগে, ৬ এপ্রিল সোমবার দিবাগত রাতে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামিকে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে পেশ করার পর তার মামলার সমস্ত নথি দেখে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেফতারের পর মাজেদ জানান, তিনি ২৪-২৫ বছর ধরে ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে তিনি নিজেই বাংলাদেশে এসেছেন। তবে কবে এসেছেন সে সম্পর্কে কিছু বলেননি তিনি।
মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে ফৌজদারি কার্যবিধি ৫৪ ধারায় তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। এসময় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় গ্রেফতার না দেখানো পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে কাউন্টার টেরোরিজম। আদালত শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
বুধবার বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ হেলাল চৌধুরী। সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিয়ে ওই কোর্টের ছুটির আদেশ বাতিল করা হয়। এরপর বিচারক মাজেদের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন। লাল কাপড়ে মোড়ানো এই মৃত্যু পরোয়ানা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া পরোয়ানার একটি কপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পাঠানো হয়। মৃত্যু পরোয়ানা কারাগারে পাঠানোর পর তা খুনি মাজেদকে পড়ে শোনায় কারা কর্তৃপক্ষ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পলাতক ছয় আত্ম-স্বীকৃত খুনির মধ্যে তিনি অন্যতম। পলাতক বাকি পাঁচ খুনিরা হলো আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এম রাশেদ চৌধুরী, এসএইচএমবি নূর চৌধুরীও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ৩৪ বছর পর এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর। খুব ধীরে দীর্ঘ বারো বছরে নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে আইনের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছতার সঙ্গে অতিক্রম করে সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে স্বঘোষিত খুনিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামির মধ্যে কারাবন্দি পাঁচ আসামির ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি দিবাগত রাতে ফাঁসি কার্যকর হয়। তারা হলেন সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মুহিউদ্দিন আহমেদ, বজলুল হুদা ও এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য পাঁচ আসামি এখনো পলাতক। তারা হলেন—খন্দকার আবদুর রশিদ, শরীফুল হক ডালিম, এ এম রাশেদ চৌধুরী, এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী ও মোসলেম উদ্দিন। এদের মধ্যে লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার আব্দুর রশিদ (বরখাস্ত) লিবিয়া ও বেলজিয়ামে অবস্থান করছেন। বেশিরভাগ সময় লিবিয়াতে থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। লে. কর্নেল (অব.) শরীফুল হক ডালিম (বরখাস্ত) পাকিস্তানে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। পাকিস্তান থেকে হংকংয়ে তার যাতায়াত রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে প্রকাশ। লে. কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরী (বরখাস্ত) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে, লে. কর্নেল (অব.) এন এইচ এমবি নূর চৌধুরী (বরখাস্ত) কানাডায় রয়েছেন। আরো একজন ভারতে কারাগারে আটক বলে অনেকে ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে যার নাম রিসালদার মোসলেম উদ্দিন।
মৃত্যুর আগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক মাজেদকে
বঙ্গবন্ধু হত্যাকারিদের অন্যতম আব্দুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকরের আগে তাকে কয়েকটি বিষয়ে জিজ্ঞসাবাদ করা দরকার বলে আমরা মনে করি।
১. কাদের নির্দেশনায় সপরিবারে বঙ্গবন্ধু ও পরবর্তীতে কারাগারে জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল। (দুই মামলার বিচারে এ প্রশ্নের মীমাংসা হয় নি। নেপথ্যের ক্রীড়নক কারা ছিল তা বের হয়নি) ।
২.বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যার পর জেনারেল জিয়াউর রহমান খুনিদের বিদেশ পাঠিয়েছিলেন, দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিলেন। মাজেদকে পরবর্তীতে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক, অর্থমন্ত্রণালয়ের উপসচিব করা হয়েছিল। তাকে সেনানিবাস এলাকায় জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল (অবশ্য ফারুক, রশিদসহ অন্য খুনিদেরও পুরস্কৃত করা হয়েছিল)। জিয়ার পর এরশাদ, এমন কি ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত খুনিদের পুরস্কার দেয়া অব্যাহত ছিল। খুনিদের এভাবে পুরস্কৃত করা, পুনর্বাসন করার নেপথ্যে কি ছিল তা মাজেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বের করা হোক।
৩. দীর্ঘ ২৫ বছর সে কোথায় পালিয়েছিল, দেশে সে কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতো,অন্য পলাতক খুনিরা কোথায় আছে সেগুলোও জিজ্ঞাসাবাদ করে বের করা দরকার।
আমি মনে করি বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় ৪ নেতা হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত এই খুনিরা ইতিহাসের অংশ। আলোকিত দিক যেমন ইতিহাসের অংশ অন্ধকারটাও ইতিহাসেরই অংশ। অন্ধকারটাও আমাদের জানতে হবে। নিশ্চিত মৃত্যুর আগ মুহূর্তে খুনি হয়তো ইতিহাসের অনেক অপ্রকাশিত তথ্য দিয়ে যেতে পারে। একটা জাতির জন্য,বঙ্গবন্ধুর কন্যাদের জন্য এসব তথ্য জানা দরকার।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও জাতীয় ৪ নেতা হত্যা মামলার বিচারের ইতিহাসে প্রত্যক্ষ সাক্ষী আমরা কয়েকজন সাংবাদিকও। দিনের পর দিন আদালতে থেকে আমরা বিচারের খবর সংগ্রহ করেছি। গ্রেপ্তারকৃত খুনিদের কাছ থেকে দেখেছি। ফারুক রশিদের ঔদ্ধত্যও দেখেছি। বিচারের সর্বশেষ ধাপ পর্যন্ত দেখে মনে হয়েছে, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় ৪ নেতাকে সরাসরি যারা খুন করেছে এমন কয়েকজন খুনির বিচার হয়েছে, প্রাণদণ্ড হয়েছে মাত্র। কিন্তু একটা জাতির ইতিহাস পাল্টে দিতে, বাঙালী জাতিসত্বাকে নিঃশেষ করে দিতে কয়েকজন নিম্নমাঝারিস্তরের সেনাকর্মকর্তা খুনি হয়েছে তা বিশ্বাস হয় না। এর সঙ্গে জড়িত ছিলে দেশী ও আন্তর্জাতিক শক্তি। নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারিরা চিহ্নিত হয় নি বিচারে। তাই দাবি ছিল ষড়যন্ত্রকারিদের চিহ্নিত করতে একটি কমিশন গঠন করার। সুপ্রিমকোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে হতে পারে এ কমিশন। এই কমিশনের মাধ্যমে চিহ্নিত হতে পারে ষড়যন্ত্রকারিরা। খুনি মাজেদকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
খুনি মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ,ফাঁসি যেকোনো দিন
বঙ্গবন্ধুর খুনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এর ফলে তার ফাঁসি হতে পারে যে কোনো দিন। বৃহস্পতিবার সকালে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা নাকোচের চিঠি কারাগারে পৌঁছেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারা প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকতা। তিনি বলেছেন, ফাঁসি কিভাবে এবং কোথায় সম্পন্ন হবে, তা বিকালে জানা যাবে। কারা প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্মকতা আগের পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকরের সময়ও উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, আদালত থেকে আসা মৃত্যু পরোয়ানা কারা কর্তৃপক্ষ মাজেদের কাছে দেয়। সেটি পাওয়ার পর রাতেই মানবিক বিবেচনায় রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান খুনি আব্দুল মাজেদ। এর প্রেক্ষিতে রাতেই সেই আবেদন রাষ্টপতির কাছে প্রেরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে রাষ্ট্রপতি তার সেই প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দেন। প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ হওয়ার পর এখন শুধু ফাঁসির অপেক্ষা আব্দুল মাজেদের।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আবদুল মাজেদকে কবে ফাঁসি দেওয়া হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে তার ফাঁসির পথে আর কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে আজ বিকালে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে।
এর আগে, সোমবার দিবাগত রাতে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামিকে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে পেশ করার পর তার মামলার সমস্ত নথি দেখে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেফতারের পর মাজেদ জানান, তিনি ২৪-২৫ বছর ধরে ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে তিনি নিজেই বাংলাদেশে এসেছেন। তবে কবে এসেছেন সে সম্পর্কে কিছু বলেননি তিনি।
মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে ফৌজদারি কার্যবিধি ৫৪ ধারায় তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। এসময় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় গ্রেফতার না দেখানো পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে কাউন্টার টেরোরিজম। আদালত শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
বুধবার বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ হেলাল চৌধুরী। সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিয়ে ওই কোর্টের ছুটির আদেশ বাতিল করা হয়। এরপর বিচারক মাজেদের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন। লাল কাপড়ে মোড়ানো এই মৃত্যু পরোয়ানা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া পরোয়ানার একটি কপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পাঠানো হয়। মৃত্যু পরোয়ানা কারাগারে পাঠানোর পর তা খুনি মাজেদকে পড়ে শোনায় কারা কর্তৃপক্ষ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পলাতক ছয় আত্ম-স্বীকৃত খুনির মধ্যে তিনি অন্যতম। পলাতক বাকি পাঁচ খুনিরা হলো আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এম রাশেদ চৌধুরী, এসএইচএমবি নূর চৌধুরীও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ৩৪ বছর পর এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর। খুব ধীরে দীর্ঘ বারো বছরে নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে আইনের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছতার সঙ্গে অতিক্রম করে সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে স্বঘোষিত খুনিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামির মধ্যে কারাবন্দি পাঁচ আসামির ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি দিবাগত রাতে ফাঁসি কার্যকর হয়। তারা হলেন সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মুহিউদ্দিন আহমেদ, বজলুল হুদা ও এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য পাঁচ আসামি এখনো পলাতক। তারা হলেন—খন্দকার আবদুর রশিদ, শরীফুল হক ডালিম, এ এম রাশেদ চৌধুরী, এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী ও মোসলেম উদ্দিন। এদের মধ্যে লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার আব্দুর রশিদ (বরখাস্ত) লিবিয়া ও বেলজিয়ামে অবস্থান করছেন। বেশিরভাগ সময় লিবিয়াতে থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। লে. কর্নেল (অব.) শরীফুল হক ডালিম (বরখাস্ত) পাকিস্তানে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। পাকিস্তান থেকে হংকংয়ে তার যাতায়াত রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে প্রকাশ। লে. কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরী (বরখাস্ত) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে, লে. কর্নেল (অব.) এন এইচ এমবি নূর চৌধুরী (বরখাস্ত) কানাডায় রয়েছেন। আরো একজন ভারতে কারাগারে আটক বলে অনেকে ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে যার নাম রিসালদার মোসলেম উদ্দিন।
বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদ ঢাকায় গ্রেপ্তার
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি ক্যাপ্টেন মাজেদকে ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার রাতে তাকে রাজধানীর মিরপুর থেকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আব্দুল মাজেদসহ ১২ আসামিকে ২০০৯ সালে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। এর মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমান,সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান,বজলুল হুদা,এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ ও মুহিউদ্দিন আহমেদের ফাঁসি কার্যকর হয় ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারী। পলাতক অবস্থায় ২০০২ সালে জিম্বাবুয়েতে মারা যায় আজিজ পাশা। আব্দুল মাজেদসহ পলাতক ছিল ৬ জন। এরা হল খন্দকার আব্দুর রশীদ,শরিফুল হক ডালিম,নূর চৌধুরী, এ এম রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেম উদ্দিন। এরা বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে। মাজেদ ধরা পড়ায় এখন আরো ৫ জন পলাতক রইলো। এ দিকে ক্যাপ্টেন মাজেদকে আজ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে এবং রায় অনুযায়ী তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।






