ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পরীক্ষা ও প্রেজেন্টেশন চলাকালে প্রত্যেক ছাত্রীর কান ও মুখমণ্ডল খোলা রাখতে হবে বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে আগামী ২ মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত রিট পিটিশনটি নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. নুরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন। আপিল বিভাগ বলেন, শিক্ষকরা পিতার সমতুল্য। সেজন্য পরিচয় শনাক্তকরণের জন্য তারা ছাত্রীদের মুখ মণ্ডল দেখতে পারেন।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পরীক্ষা ও প্রেজেন্টেশন চলাকালে প্রত্যেক ছাত্রীর কানসহ মুখ খোলা রাখার নোটিশের বৈধতা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের একটি আইন নোটিশ দেয়া হয়। তবে সে নোটিশের জবাব না পেয়ে ঢাবি কর্তৃপক্ষের নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। ভুক্তভোগী তিন শিক্ষার্থীর পক্ষে আইনজীবী মো. ফয়জুল্লাহ ফয়েজ এ রিট দায়ের করেন। রিট আবেদনে ঢাবি ভিসি, বাংলা বিভাগের প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়। সূত্র-মানবজমিন।
ঢাবির পরীক্ষায় ছাত্রীদের কান-মুখমণ্ডল খোলা রাখতে হবে: আপিল বিভাগ
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে মাদকের পাচার ঠেকানো যাচ্ছে না
বাংলাদেশে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি মাদকের চালান আটক করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। জব্দ করা মাদকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় রয়েছে ইয়াবা।
বিভিন্ন সময়ে পাচারের সঙ্গে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কথাও অনেক সময় উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত শুক্রবার রাতে কক্সবাজারে ২০ হাজার ইয়াবাসহ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এর একজন এসআই ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্র্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এছাড়া চলতি বছরেই বিভিন্ন সময় কক্সবাজার, টেকনাফসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ইয়াবা জব্দ করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রকাশিত সবশেষ হিসাব অনুযায়ী চলতি বছরের মার্চ মাসেই প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৫০৯পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।
আর বাংলাদেশের ২০২২ সালের বার্ষিক ড্রাগ রিপোর্ট অনুযায়ী, সব সংস্থা মিলে গত ৫ বছরে প্রায় ২১ কোটি ৬৬ লাখেরও বেশি ইয়াবা জব্দ করেছে।
ইয়াবার চালান ঠেকাতে সরকারি নানা পদক্ষেপ সত্ত্বেও ঠেকানো যাচ্ছে না এই মাদকের বিস্তার। এখন ইয়াবার পাশাপাশি ক্রিস্টাল মেথ বা আইসের মতো ভয়ঙ্কর মাদকও আসছে বাংলাদেশে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক চক্র একসময় বাংলাদেশকে মাদকের করিডোর হিসেবে ব্যবহার করলেও এই ব্যবসায় বাণিজ্যিক লাভের যে সুযোগ আছে তাতে অভ্যন্তরীণ বাজারও তৈরি হয়েছে।
অন্যতম রুট টেকনাফ :
বাংলাদেশে ইয়াবা-আইসের মতো মাদক প্রবেশের অন্যতম রুট হলো কক্সবাজার ও মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা টেকনাফ রুট।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক গবেষক ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এম ইমদাদুল হক বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন – আশির দশকে ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা ফেনসিডিলের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছিল মাদকসেবীদের কাছে। এরপর কিছু সময় হেরোইনে আসক্ত হয় মাদকসেবীরা। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই জায়গাটা দখল করে নিয়েছে মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবা।
বিবিসিকে তিনি বলেন-“ স্বাধীনতার আগে থেকে টেকনাফ অঞ্চল মাদক চোরাচালানের অন্যতম রুট। আশির দশকে হেরোইন চোরাচালানের রুট হিসেবে এটা বেশ ব্যবহার করতো চোরাকারবারিরা। আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর জন্য বাংলাদেশকে একটা করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে দৃশ্যপট পাল্টে গেছে”।
“মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে এখন ইয়াবা পাচারের অন্যতম রুট টেকনাফের রুট”- বলেন অধ্যাপক ইমদাদুল হক।
২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশে যেভাবে মাদক কারবার বেড়েছে তাতে দেশের ভেতরে এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন “মাদকসেবীদের প্রথম পছন্দই এখন ইয়াবা”।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে গত পাঁচ বছরে শুধুমাত্র কক্সবাজার জেলা থেকেই আট কোটির বেশি ইয়ারা উদ্ধার করা হয়েছে। আর গত দুই বছরে এই জেলা থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার আইস উদ্ধার করা হয়েছে।
এই টেকনাফ রুট দিয়ে এলএসডি এবং আইসের মতো মাদক আসছে। যেটা বেশ ‘অ্যালার্মিং’ বলে উল্লেখ করছেন মি. হক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থায় গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের কাছাকাছি হওয়ায় সহজেই এই পথ বেছে নিতে পারছেন মাদক ব্যবসায়ীরা। তারা রাতের আঁধারে বা ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে বিভিন্ন সময় এই রুট বেছে নিচ্ছেন।
টেকনাফের সীমান্ত ঘেঁষা মিয়ানমারে বেশ কিছু ইয়াবা কারখানা তৈরি হয়েছে, যেখান থেকে ইয়াবার চালানগুলো বাংলাদেশে এসে ঢুকছে।
“মিয়ানমার এবং বাংলাদেশি সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন উপায়ে ইয়াবার চালান মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসছে এবং এখান থেকে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ার মতো দেশে সেগুলো পাচার করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় রাতের আঁধারে হয়তো তারা সীমান্ত অতিক্রম করছে, তখন হয়তো তাদের আটকানো যাচ্ছে না”- বলছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক সঞ্জয় কুমার চৌধুরী।
অন্যদিকে কক্সবাজারের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এর অধিনায়ক মো: আমির জাফর মনে করেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো থাকার কারণে এখন মাদক পাচারের পরিধিও বেড়েছে।
“মিয়ানমারের যেখান থেকে মূলত ইয়াবার চালান এসে ঢুকে রোহিঙ্গাদের আবাসস্থল সেই একই জায়গায়। পথঘাট চেনা। সেটা তাদের আনার জন্য সহজ। যেহেতু সংখ্যায় প্রায় দশ লাখের বেশি মানুষ বাস করছে”।
যেসব চালেঞ্জ তারা মোকাবেলা করছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো ইয়াবা, আইসের মতো মাদক পাচার ঠেকানো।
‘কম পরিশ্রমে বেশি লাভ’
ইয়াবার মতো মাদক ব্যবসায় বাণিজ্যিক লাভের যে সুযোগ রয়েছে সেই কারণে এর নিয়ন্ত্রণ সহজে সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
অধ্যাপক ইমদাদুল হক বলছেন, “ইয়াবা, আইসের মতো মাদক পাচার ঠেকাতে না পারার অন্যতম কারণ হলো বড় ধরনের বাণিজ্যিক লাভের যে সুযোগ এই লোভটা সংবরণ করতে পারছে না ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়ভাবে ব্যবসায়ী, চোরাকারবারী, বিনিয়োগকারীর সংখ্যা যে বাড়ছে এর কারণ আন্তর্জাতিক চক্রও এখানে কাজ করছে”।
তার মতে, আর্থিক লাভের কথা ভেবেই বেপরোয়াভবে এই ব্যবসার কাজটি পরিচালনা করে যাচ্ছে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চক্র।
অনেকটা একই ধরনের মত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক সঞ্জয় কুমার চৌধুরীর। তার ভাষ্য অনুযায়ী “যারা ইয়াবার ব্যবসা করেন তারা অতি কম পরিশ্রমে অনেক টাকা লাভ করতে পারেন। প্রতি পিস ইয়াবার দাম ২০০ টাকা যদি হয় তাহলে এর বাজারটা কত বড় সেটা নিশ্চয়ই আঁচ করা যায়। এজন্য মানুষ ঝুঁকি নিয়ে কাজটা করে”।
এছাড়া সীমান্ত এলাকায় যারা মাদকের পাচার রোধে কাজ করে তারাও লোভে পড়েই এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে যায় বলে মনে করেন মি. চৌধুরী।
তবে অধ্যাপক ইমদাদুল হকের মনে করেন, ২০১৮ সালের মে মাসে বাংলাদেশের সরকার যে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেছিল সেই সময়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সম্পৃক্ততাও বেড়ে যায়।
“মাদকবিরোধী যে অভিযান চলেছিল ফিলিপিন্সের অনুকরণে- যাদের দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা হবে ভাবা হয়েছিল তাদেরই একটা অংশ বেনেফিশিয়ারিতেপরিণত হয়। অর্থাৎ এই ব্যবসায় যে লাভ সেই সুবিধাটা তারা গ্রহণ করে। ফলশ্রুতিতে ওসি প্রদীপের মতো মানুষের সম্পৃক্ততাও তখন বেড়ে গিয়েছে। বাহিনীর অনেককে ব্যবসার প্রমোটারে পরিণত হতে দেখেছি” বলেন মি. হক।
এছাড়া মাদক পাচারের অভিযোগে বড় কোনও শাস্তিও হতে দেখেনি ব্যবসায়ীরা এটাও পাচার না ঠেকাতে পারার অন্যতম একটি কারণ বলে মনে করেন ইমদাদুল হক।
তার মতে, আটককৃতরা বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্নভাবে পার পেয়ে যাওয়ায় তারা উৎসাহী হয় এই ব্যবসা চালিয়ে যেতে।
“আন্তর্জাতিক চক্র তাদের নেটওয়ার্ক চেইন, বিভিন্ন পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে পরিবেশটা তৈরি করেছে, দেশে একটা চাহিদা তৈরি করেছে- এখন এই ব্যবসার সুযোগটা তারা নিচ্ছে”।
সার্বিকভাবে জনসচেতনতা তৈরির মাধ্যমে এই মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করেন মি. হক।
অন্যদিকে সঞ্জয় কুমার চৌধুরীর মতে – মাদক পাচার ঠেকাতে প্রত্যেকটা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, আলাদাভাবে কাজ করলে মাদকের বিস্তার ঠেকানো সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি।
‘সীমান্তে কীভাবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় তা নিয়ে যুগপৎভাবে কাজ করতে হবে বাহিনীগুলোকে’ বলেন মি, চৌধুরী। বিবিসি বাংলা।
শ্রম আইন সংশোধনে দ্রুতগতিতে কাজ করছে সরকার: আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সরকার যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন নিশ্চিত করার জন্য জোরালোভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, আইন সংশোধন একটি জটিল প্রক্রিয়া, বিশেষ করে শ্রম আইন যা ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যম ঘটে থাকে। তাই এই আইন সংশোধনে যুক্তিসঙ্গত সময়ের প্রয়োজন।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে শ্রম আইন সংশোধন বিষয়ক টেকনিক্যাল নোট ও গ্লোবাল গুড প্রাকটিস নিয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা সভার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেক শ্রমিকের কাজের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শ্রম মান এবং মৌলিক নীতি ও অধিকার অনুযায়ী শ্রম খাতকে উন্নত করার জন্য সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আইএলও গভর্নিং বডিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে বাংলাদেশের শ্রমের মান উন্নয়নে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা তিনি প্রতিবারই গভর্নিং বডির কাছে তুলে ধরেছেন বলেও জানান তিনি।
শ্রম বিষয়ক আইনি কাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা সংশোধন করা হয়েছে এবং ইপিজেড শ্রম বিধিমালা জারি করা হয়েছে। শ্রম বিধিমালা সংশোধনের প্রথম রাউন্ডে বিশেষজ্ঞ কমিটির বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। আগামীতেও তাদের পর্যবেক্ষণ বিবেচনায় নেয়ার সুযোগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, শ্রম সচিব মো. এহছানে এলাহী, আইএলও-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর তোমো পুটিআইনেন, বাংলাদেশ এমপ্লোয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি আরদাশির কবির, এনসিসিডব্লিউই-এর সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন বক্তৃতা করেন।
সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়-সিইসি
সরকারের সদিচ্ছা না থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন করা কঠিন বলে মনে করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল।
“নির্বাচনটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হওয়া বাঞ্ছনীয়। এর মাধ্যমেই নির্বাচনে এক ধরনের ভারসাম্য গড়ে ওঠে”
নির্বাচনকালীন সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করা ‘কঠিন হবে’ বলে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সোমবার নির্বাচন ভবনে জাতীয় পার্টির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।
সিইসি বলেন, “… এটা গ্রাউন্ড রিয়েলিটি যে, সরকারের যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকে তবে নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে এককভাবে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন।”
পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে কিছু অভিযোগ ও কিছু দাবি জানাতে এদিন কমিশনে গিয়েছিল সংসদের প্রধান বিরোধী দলটির প্রতিনিধি দল।
দলটির মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নুর অভিযোগ, সিটি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে ‘ব্যাপক’, কিন্তু পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। বরিশাল সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তকে প্রত্যাহারের দাবিও জানান তিনি।
সিইসি বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা তারা পাচ্ছেন। আগামীতেও তা থাকবে বলে আশা করছেন তারা।
বরিশালে যা হয়েছে
বরিশালের রিটার্নিং কর্মকর্তা সম্প্রতি বরিশালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে তদন্ত করে কমিশনে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের অনুরোধ ‘উপেক্ষা করে’ জাতীয় সংসদের উপনেতা বৃহস্পতিবার বরিশালে দলের প্রার্থীর পক্ষে সমাবেশে অংশ নিয়েছেন বলে তথ্য পেয়েছে ইসি। এরপর সেদিনই নির্বাচন কমিশন থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ এলেও প্রতিবেদনে কী আছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে সংসদ সদস্য, মন্ত্রীসহ সরকারি সুবিধাভোগী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রচারে অংশ নেয়ায় বিধিনিষেধ রয়েছে।
জি এম কাদের সংসদ সদস্য। পাশাপাশি সংসদে উপনেতা হিসেবে তিনি প্রতিমন্ত্রীর সমান মর্যাদা পান। তাই তাকে বরিশালে জাপা প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে নিষেধ করেছিল নির্বাচন কমিশন।
জাপার কী বক্তব্য :
বৈঠক শেষে জাপা মহাসচিব অভিযোগ করেন, বরিশালের রিটার্নিং কর্মকর্তার ‘বাজে ব্যবহার’ এবং ‘পক্ষপাতমূলক’ আচরণ করেছেন।
বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন বলে জানান সিইসি।
পাঁচ সিটি নির্বাচন নিয়ে চুন্নু বলেন, “পাঁচ সিটি ভোটে জাপা কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল। সেগুলো সুরাহা করার জন্য এসেছি।
“…ভালো নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি মূলত ইসির দায়িত্ব, রাজনৈতিক দলেরও আছে। প্রার্থীদেরও আছে, যারা ক্ষমতায় আছেন তাদেরও আছে। কাজেই সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আমাদের মনের মধ্যে একটা শঙ্কা, যে নির্বাচনটা ফ্রি, ফেয়ার হয় কি না।”
গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে ভোট বাতিল হলেও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘দৃশ্যমান’ ব্যবস্থা না নেয়ার বিষয়টি নিয়েও কথা বলে জাপা প্রতিনিধি দল।
বৈঠকের পর জাতীয় পার্টির মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নু সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
চুন্ন বলেন, “কমিশনকে আমরা বলেছি যে, শাস্তিমূলক বিষয়গুলো যদি দৃশ্যমান না হয়, জনগণ যদি জানতে না পারে তাহলে তো আস্থাটা আসবে না।”
সাহস দিতে নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। বলেন, “ইসির প্রতি আমাদের আস্থা আছে। আছে বলেই তো আসছি তাদের সহযোগিতা করতে এবং সহযোগিতা নিতে।”
জাপা প্রতিনিধি দলের অন্যদের মধ্যে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন ভূইয়া, দপ্তর সম্পাদক-২ এম এ রাজ্জাক খানও উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের ওপর চাপ রাখবে ইসি :
সিইসি জাপার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন যত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে, ততই অধিকতর অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে।
“নির্বাচনটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হওয়া বাঞ্ছনীয়। এর মাধ্যমেই নির্বাচনে এক ধরনের ভারসাম্য গড়ে ওঠে”, বলেন তিনি।
হাবিবুল আউয়াল বলেন, “আমরাও স্বীকার করেছি এবং আমরাও জোর দিয়ে বলেছি যে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে সরকার বিদ্যমান থাকবে, তাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অবশ্যই প্রয়োজন হবে।”
অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিদ্বন্দ্বী দল, সরকারের যে প্রশাসন, পুলিশসহ সবার ‘সহযোগিতা’ পাওয়ার কথাও জানান তিনি।
সিইসি বলেন, “আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর সরকারের তরফ থেকে আজ অবধি কোনো নির্বাচনে হস্তক্ষেপ পাইনি। এখন সকলের দৃষ্টি জাতীয় নির্বাচনের দিকে। প্রশাসনের যে সহায়তা এখন পর্যন্ত যা পেয়েছি উনারা যদি একটা নিউট্রাল অবস্থানে থাকেন তাহলে আমাদের পক্ষে নির্বাচন ভালোভাবে করা সম্ভব হবে।
“ভবিষ্যতে কী হবে আমরা তো নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। সরকারের ওপর আমাদের তরফ থেকে চাপটা থাকবে।”
গণমাধ্যমের বরাতে নির্বাচন প্রভাবিত হলে দেখতে পেলে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাসও দেন সিইসি।
তিনি বলেন, “নির্বাচন প্রভাবিত হলে, সোশ্যাল মিডিয়া নয়, (মূল ধারার) গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমাদের কাছে তথ্য এলে… নেগেটিভ কোনো বিষয় যদি আমরা দেখি, তাহলে কমিশন যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।”
‘লোম বাছতে গিয়ে কম্বল উজাড়’ বাস্তব নয় :
সিলেট সিটিসহ অনেক এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সিইসি বলেন, “অসংখ্য আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে। সবকিছু আমলে নেয়ার মত হবে না। কারণ হচ্ছে লোম বাছতে গিয়ে যদি কম্বল উজাড় করে ফেলি সেটা খুব বাস্তব হবে না।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল।
“আমি বলেছি- দিন শেষে মানুষ জানতে চায় যে নির্বাচনটা কেমন হলো।”
সিইসি বলেন, “নির্বাচনটা ভালো হয়েছে কিনা-দৃশ্যমান করতে হবে; দৃশ্যমান না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
“আমরা আশাবাদী সরকারের সদিচ্ছা থাকবে এবং জাপা মহাসচিবকে বলেছি প্রতিদ্বন্দ্বিতা আপনাদের করতে হবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে। যদি ভালোভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করেন তাহলেও নির্বাচনের শুদ্ধতা বিঘ্নিত হতে পারে।”
সিইসির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব খান, ইসি সচিব জাহাংগীর আলমও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সালাউদ্দিনসহ বাফুফে কর্মকর্তাদের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদককে হাইকোর্টের নির্দেশ
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগসহ সংস্থাটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য দুর্নীতি দমন কমশিন,দুদককে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
আগামী চার মাসের মধ্যে তদন্ত করে দুদককে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের বেঞ্চ সোমবার(১৫ মে) রুলসহ এই আদেশ দেন।
রুলে বাফুফের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এর আগে বাফুফের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান চেয়ে গত রোববার ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন হাইকোর্টে রিট করেন। সোমবার ওই রিটের ওপর শুনানি হয়। রিটের পক্ষে ব্যারিস্টার সুমন নিজেই শুনানি করেন। বাফুফে কর্মকর্তাদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ মামুন ও ব্যারিস্টার মারগুব কবির। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।
এর আগে বাফুফের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান চেয়ে ৩ মে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক। এতে ফল না পেয়ে তিনি রিটটি দায়ের করেন।
রিটে মবাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি, সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম নিতে অনুসন্ধানে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে ব্যাপারে রুল চাওয়া হয়। রুল হলে তা বিচারাধীন অবস্থায় অভিযোগ অনুসন্ধান করতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়ার আরজি জানানো হয়। পাশাপাশি ৩ মে দুদকে করা রিট আবেদনকারীর আবেদনটি নিষ্পত্তি করতে সংস্থাটির (দুদক) চেয়ারম্যানের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়। যুব ও ক্রীড়া সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, দুদক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাফুফের সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদককে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
থমকে আছে পাচারকৃত অর্থ ও পলাতকদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ: নিস্ক্রিয় দুদক, টাস্কফোর্স
ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ, শেয়ার ও ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি এবং অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের বাইরে অর্থ পাচারের অভিযোগে ৫০ জনকে চিহ্নিত করে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ৩ বছর আগে একটি উদ্যোগ নিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু সেই উদ্যোগের এখন আর সাড়াশব্দ নেই। থমকে আছে সেই উদ্যোগ।
এ ছাড়া বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনতে ৪ বছর আগে উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল। কথা ছিল এই টাস্কফোর্স বিদেশে অবস্থানরত আসামিদের বিচারের জন্য দেশে ফিরিয়ে আনতে তাদের নামের তালিকা প্রণয়ন, আসামিদের অবস্থান চিহ্নিতকরণ, দেশে ফিরিয়ে আনার উপায় নির্ধারণ, ফেরত আনার কার্যক্রম তদারকি এবং কোনো আসামি ইতিমধ্যে বিদেশে নাগরিকত্ব গ্রহণ করে থাকলে সে ক্ষেত্রে তাকে ফিরিয়ে আনার উপায় নির্ধারণ ও এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম তদারকি করার। কিন্তু সেই কাজও গতি পায়নি।
ফলে দুদক ও টাক্সফোর্স দুটির কার্যক্রমই এখন স্থবির।
দুদক সূত্রে জানা যায়, সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দায়িত্বে থাকা কালিন ৫০ জনের একটি তালিকা তৈরী করে তাদের পাচার করা অবৈধ অর্থের সন্ধান দিতে বেশ কয়েকটি দেশে এমএলএআর (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়।
ওই তালিকায় নাম ছিল মানবপাচারের অপরাধে কুয়েত কারাগারে বন্দি সাবেক এমপি শহীদুল ইসলাম পাপুল, আর্থিক খাতের কেলেঙ্কারির হোতা প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার) যুবলীগের বহিষ্কৃত দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী, বেসিক ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলাম, ঢাকা ট্রেডিংয়ের কর্ণধার টিপু সুলতান, এবি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান ও অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী, শেয়ার খাতের ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান বাদল, নিম্ন আদালতের একজন বিচারকও।
এদের দেশে ফেরত আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেয়ার কথা বলা হয়েছিল। বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে দুদকের কাছে তথ্য ছিল এরা দেশ থেকে অবৈধ উপায়ে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া,ভারত ও হংকংয়ে অর্থ পাচার করেছেন। এজন্য এমএলএআর পাঠানোর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু এই অনুরোধের পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে আর কিছুই জানেনা দুদক। এখন আর এ নিয়ে মাথাই ঘামাচ্ছে না সংস্থাটি।
দুদক সূত্রে জানা যায়, কাজী আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের তদন্তে অন্তত একশ’ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য মিলেছে। তিনি মালয়েশিয়া ও ভারতে টাকা পাচার করেছেন বলে দুদকের তদন্তে ওঠে আসে।
লিজিং কোম্পানি ও আর্থিক খাত থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচারে জড়িত প্রশান্ত কুমার হালদার। যিনি ভারতের কারাগারে আটক আছেন। পিকে হালদারের বিরুদ্ধে অন্তত ৪০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অফিসিয়াল তথ্য পায় দুদক। দুদক ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ পিকে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে।
বেসিক ব্যাংকের সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলাম দুদকের ৬১ মামলার আসামি। বেসিক ব্যাংক থেকে ঋণের নামে অন্তত সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা লোপাটে জড়িত কাজী ফখরুল এখন কানাডায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এবি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তিনি পাচারের টাকার একটি অংশ দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে কয়েকটি বাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করেছেন।
একই ব্যাংকের মোহাম্মদ আলীও অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে পালিয়ে যান। ঢাকা ট্রেডিংয়ের কর্ণধার টিপু সুলতান ঋণের নামে জনতা ব্যাংক থেকে ১৯০ কোটি টাকা ও বিডিবিএল ব্যাংক থেকে ১৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে দেশের চলে যান।
একইভাবে শেয়ার কেলেঙ্কারিতে জড়িত লুৎফর রহমান বাদলও বিদেশে টাকা পাচার করে পালিয়ে আছেন। এসব ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল তা থমকে আছে।
এদিকে,২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর ১১ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এর সভাপতি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী। সদস্য হিসেবে রয়েছেন-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল, পররাষ্ট্র সচিব, জননিরাপত্তা সচিব, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালক এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক। জননিরাপত্তা বিভাগ এ টাস্কফোর্সকে সাচিবিক সহায়তা দিয়ে থাকে। কিন্তু টাক্সফোর্স গঠনের পর আজ পর্যন্ত একজন পলাতককেও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
প্রসঙ্গত বাংলাদেশের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তি রয়েছে মাত্র দুই দেশের। দেশ দুটি হচ্ছে-ভারত ও থাইল্যান্ড। এ ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (দুবাই) সঙ্গে বন্দিবিনিময় (দণ্ডিত) চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশের। অন্যান্য দেশ থেকে অপরাধীদের ফিরিয়ে আনতে হলে বন্দিবিনিময় চুক্তি করতে হবে । এ ছাড়া ইন্টারপোলের সহায়তা নিতে হবে। কিন্তু এ ধরণের কার্যক্রমে গতি মন্থর হওয়ায় বিদেশে পাচারকৃত অর্থ আদৌ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কী না এ প্রশ্ন রয়েছে।
শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার বিকালে দৌলতপুর উপজেলার হোসেনাবাদ ফজলুল হক উলুম বহুমুখী মাদ্রাসা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ওসি মজিবুর রহমান।
গ্রেপ্তার সিরাজুল হক (২৫) ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ও নাটোর জেলার বড়বাড়িয়া গ্রামের আইনাল হকের ছেলে।
এর আগে শনিবার দুপুরে নির্যাতিত শিশুটির বাবা বলাৎকারের অভিযোগে সিরাজুলকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন।
মামলার এজাহারের সূত্রে ওসি জানান, মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রকে শুক্রবার রাত ১২টার দিকে নিজ কক্ষে ডেকে নেন সিরাজুল হক। এ সময় তিনি শিশুটিকে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন এবং ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে শিশুটি শনিবার সকালে বলাৎকারের ঘটনা তার বাবাকে জানায়।
এ বিষয়ে হোসেনাবাদ ফজলুল হক উলুম বহুমুখী মাদ্রাসার সুপার শামসুজ্জোহা বলেন, “এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষক সিরাজুল হককে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।”
ওসি মজিবুর রহমান বলেন, ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে মাদ্রাসা শিক্ষক সিরাজুলকে আটক করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেন।
রোববার ওই শিক্ষককে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানান ওসি। সূত্র-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
বাফুফের সালাউদ্দিনসহ তিনজনের দুর্নীতি তদন্তে রিট
দুর্নীতি ও লুটপাটের তদন্ত চেয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগের রিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন এক আইনজীবী। রোববার ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন।
পরে ব্যারিস্টার সুমন সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনসহ ৯ জনকে বিবাদী করে রিট আবেদন করা হয়েছে। আশা করি আগামীকাল(১৫ মে) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের বেঞ্চে এ রিট আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে। তিনি বলেন, যে পরিমাণ অর্থ ফিফা থেকে পায় তার পুরোটাও যদি অনিয়ম করে তাহলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ফিফা থেকে টাকা বাংলাদেশের নামে এনে পুরোটাও যদি লুটপাট করে ফেলে তাহলে বাংলাদেশে এই ভাবে আইনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি যে তাকে সাজা দেবে। তিনি আরো বলেন, এদের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নতি হচ্ছে না। ফুটবলকে বাঁচাতে হলে তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
রিট আবেদনে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, ক্রীড়া সচিব, এনবিআর চেয়ারম্যান, ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতিসহ নয়জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
সেবা প্রদানে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে বিচারকদের প্রতি পরামর্শ আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে সবসময় নিজেকে খাপ খাইয়ে চলতে হয়। তাছাড়া কোন ব্যক্তি এমনকি কোন প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে না। সেজন্য সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বিচারকদের নতুন নতুন আইন, জুডিসিয়াল ডিসিশন, পরিবর্তিত কর্মপরিধি ও কর্মপরিবেশ সম্পর্কে হালনাগাদ থাকতে হবে। চিন্তা-চেতনায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগাতে হবে। কার্যক্ষেত্রে পুরনো ধ্যান-ধারণা পরিহার করে আধুনিক প্রযুক্তি, কারিগরি জ্ঞান এবং তত্ত্বীয় বিষয় সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে, সেবা প্রদানে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে হবে।
শনিবার (১৩ মে) ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সিনিয়র সহকারী জজ এবং সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত ১৪৯তম রিফ্রেসার কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সেবা সহজীকরণ প্রক্রিয়া চলছে। কে, কত দ্রুত ও কত সহজে মানসম্পন্ন সেবা দিতে পারে, তা নিয়ে রীতিমত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সামীল হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সেবাকে স্বল্প সময়ে, স্বল্প ব্যয়ে ও সহজে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই এর সুফল জনগণ ইতিমধ্যে পেতে শুরু করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিচারপ্রার্থী জনগণকে দ্রুত বিচারিক সেবা প্রদানে বিচার বিভাগকেও সমান তালে এগিয়ে যেতে হবে।
মি. হক বলেন, আমরা জনগণের সেবক। তাই আমাদের জবাবদিহিতার মূলে রয়েছেন জনগণ। তাদেরকে সেবা প্রদানের জন্যই আমরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব নিয়েছি। এই দায়িত্ব আমরা কে, কত সুন্দরভাবে পালন করতে পারি, তার উপরেই নির্ভর করে আমাদের সুনাম ও সফলতা, সর্বোপরি প্রতিষ্ঠানের সফলতা। জনগণকে সেবা প্রদানের দায়িত্ব নিয়ে, আমরা যদি যথাসময়ে তা দিতে না পারি বা সেবা প্রদানের নামে জনগণকে হয়রানি করি, তাহলে নিজের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষুন্ন হবে, তেমনি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হবে।
তিনি প্রশিক্ষণার্থী উদ্দেশ্যে বলেন, জ্ঞান, দক্ষতা ও সামর্থ্য উন্নয়নের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়িয়ে যেকোন প্রতিযোগিতা মোকাবিলার উপযোগী হতে হবে, প্রতিযোগিতা মোকাবিলার মনোভাব সৃষ্টি করতে হবে। কেননা প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি করে যেকোনো জটিল পরিস্থিতি সহজে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের অভিযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ধাপে ধাপে সফলতার সাথে অগ্রসর হচ্ছে। প্রথম ধাপ রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের পথ ধরে এখন তাঁর সরকার এসডিজি ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের পথে দুর্বার গতিতে অগ্রসর হচ্ছে। ২০৪১ সালে আমরা অবশ্যই নতুন এক বাংলাদেশ দেখতে পাবো, যে বাংলাদেশ হবে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সুখী-সমৃদ্ধ-উন্নত বাংলাদেশ; আধুনিক ও উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার উপযোগী স্মার্ট বাংলাদেশ, যেখানে গড়ে উঠবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ। এই জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট বাংলাদেশের উপযোগী হতে হলে আমাদের দক্ষ মানব সম্পদ গড়ার বিকল্প নেই।
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সাওয়ার ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) শেখ আশফাকুর রহমান বক্তৃতা করেন।
কর্নেল নাজমুল হুদাকে হত্যার ৪৮ বছর পর কন্যার মামলা, ‘জিয়া-তাহেরের’ নির্দেশে হত্যার অভিযোগ
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর শহীদ কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা বীরবিক্রমকে হত্যার ৪৮ বছর পর তার মেয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
মামলায় ১০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর (অব.) আব্দুল জলিলকে নামীয় আসামি করা হয়েছে। সে সময়কার সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান ও জাসদ নেতা কর্নেল তাহেরের নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন নিহতের মেয়ে ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইজহার খান।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উৎপল বড়ুয়া মামলার বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, আমার বয়স যখন ৫ বছর ও আমার বড় ভাইয়ের ৮ বছর, তখন আমার বাবা রংপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭২ বিশেষ কমান্ডার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিপথগামী, বিশৃঙ্খল সদস্যদের হাতে নিহত (শহীদ) হন। তার সঙ্গে অপর ২ সেক্টর কমান্ডার শহীদ মেজর জেনারেল খালেদ মোশারফ বীর উত্তম এবং শহীদ লে. কর্নেল এ টি এম হায়দার বীর উত্তমও নিহত (শহীদ) হন।
পরবর্তীতে আমরা বড় হয়ে বাবার কোর্সমেট, কলিগ ও বিভিন্ন সূত্র থেকে নিজেদের অনুসন্ধানে জানতে পারি, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সকালে বাবাসহ অপর ২ সামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের অফিসে, যেটি তখন জাতীয় সংসদ ভবনের এমপি হোস্টেলে অবস্থান করছিল। সকালে বাবারা নাশতা করা অবস্থায় দ্বিতীয় ফিল্ড আর্টিলারি থেকে একটি টেলিফোন আসে দশম ইস্ট বেঙ্গলের সিও লে. কর্নেল নওয়াজেশের কাছে। এরপর বাবাসহ অপর ২ সামরিক কর্মকর্তাকে বাইরে নিয়ে আসে দশম ইস্ট বেঙ্গলের কর্মকর্তারা। আমাদের অনুসন্ধানে আমরা আরও জানতে পারি, তৎকালীন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং জাসদের নেতা লে. কর্নেল আবু তাহেরের (অব.) নির্দেশে ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের কর্মকর্তা, জেসিও ও সৈনিকরা সংঘবদ্ধভাবে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটায়। লে. কর্নেল সিরাজ (তৎকালীন ক্যাপ্টেন) ও মেজর মুকতাদির, সাবেক পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান (তৎকালীন ক্যাপ্টেন) ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। আমরা আরও জানতে পারি ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের কর্মকর্তা, জেসিও ও সৈনিকদের সঙ্গে মেজর মো. আসাদউজ্জামান (অব.) এই ৩ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে গুলি করার পর বেয়নেট চার্জ করা হয়।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মহান মুক্তিযুদ্ধে বাবা যোগদান করেন এবং সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন যশোর ৮ নম্বর সেক্টরের বয়রা সাব-সেক্টর কমান্ডার। তার সরাসরি নেতৃত্বে পরিচালিত বিখ্যাত গরিবপুরের ট্যাঙ্ক যুদ্ধ, চৌগাছা যুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনী পরাজিত হয়েছিল এবং ৬ ডিসেম্বর বাবার নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রথম জেলা হিসেবে যশোর মুক্ত হয়। আমাদের জন্য সময়টা এতটাই প্রতিকূল ছিল যে, একবার ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকার কাছে আমার ভাই গিয়েছিল বাবার নামে রাস্তার নামকরণের জন্য। তখন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে রাস্তার নামকরণ করা হচ্ছিল। তিনি ভাইয়ের আবেদনপত্র হাতে নিয়ে আমার বাবার নাম দেখে ভাইকে তার অফিস কক্ষ থেকে বের করে দেন।’
মামলায় বলা হয়, ‘বর্তমানে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সরকার ক্ষমতায় আছে। মানুষ ন্যায়বিচার পাচ্ছে। তাই আমি আমার বাবাসহ ৩ বীর মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক কর্মকর্তার হত্যার বিচার দাবি করছি।
‘সরকারের কাছে আবেদন এই ৩ বীর মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক কর্মকর্তার হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট তদন্ত করে দোষীদের বিচার অনতিবিলম্বে করা হোক।সূত্র-ডেইলি স্টার,বিডি নিউজ।











