ঢাকায় আদালত এলাকায় তীব্র গরমের মধ্যে ‘হিট স্ট্রোকে’ এক আইনজীবীর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম সৈয়দ শফিউল ইসলাম আলাউদ্দিন(৩০)। তিনি ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ছিলেন।
তার বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায়। তিনি ২০২১ সালে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার একটি মামলার শুনানি শেষ বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মেট্রো বারের সামনে কালো কোট ও গাউন পরা অবস্থায় মাথা ঘুরে পড়ে যান শফিউল। অন্য একজন আইনজীবী তাকে ধরে ফেলেন।
আইনজীবী মো. ওসমান গনি তখন তাকে রিকশায় তুলে ঢাকা বারের ক্লিনিকে নিয়ে যান। এ সময় আরও একজন আইনজীবী তাপদাহের শিকার শফিউলকে মাথা ও মুখে পানি ছিটিয়ে দেন।
তাকে দেখে ক্লিনিকের চিকিৎসক বলেন, “এটা গরমের কারণে হয়েছে। এটা হিট স্ট্রোক।”
এরপর সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নেয়া হয় পাশের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হয় এই তরুণ আইনজীবীর।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান মামুন বলেন, “ডাক্তারের কাছ থেকে আমরা তথ্য পেয়েছি শফিউল হিট স্ট্রেকে মারা গেছেন। মাদারীপুরের কালকিনিতে তার গ্রামের বাড়িতে মরদেহ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছি।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
ঢাকার আদালত চত্বরে ‘হিট স্ট্রোকে’ আইনজীবীর মৃত্যু
ইলিয়াস-বাবুলসহ ৪ জনের বিচার শুরু
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় বিদেশে পলাতক ইউটিউবার ইলিয়াস হোসেন ও সাবেক এসপি বাবুল আক্তারসহ চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১১মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশেক ইমাম এ চার্জশিট গ্রহণ করেন। আদালতের ধানমন্ডি থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মাহফুজুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামের মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যা মামলায় ‘অসত্য তথ্য’ সরবরাহ করা এবং তা প্রচারের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বাবুল আক্তার ও ইলিয়াস হোসাইনসহ চার জনের বিরুদ্ধে করা মামলাটির বিচার চলবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে।
মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. আশেক ইমাম মামলাটি মুখ্য মহানগর হাকিম রেজাউল করিমের কাছে পাঠান। তিনি সেটি সাইবার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর অনুমতি দেন।
আদালতে ধানমণ্ডি থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মাহফুজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সম্প্রতি ধানমণ্ডি মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রবিউল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। এ মামলায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ইউটিউবার ইলিয়াস হোসেনকে পলাতক দেখিয়ে তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রের অন্য দুই আসামি হলেন বাবুল আক্তারের ভাই হাবিবুর রহমান লাবু ও বাবা আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া।
গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার মামলাটি করেন। এতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে অভিযোগ আনা হয়।
এজাহারে পিবিআই প্রধান লেখেন, তদন্তে মিতু হত্যায় তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
“জেল হাজতে থাকা বাবুল আক্তার ও বিদেশে অবস্থানরত ইউটিউবার ইলিয়াসসহ বাকি আসামিরা বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত ও পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেন ।
“এরই ধারাবাহিকতায় বাবুল আক্তার ও অন্যান্য আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় ‘কথিত সাংবাদিক’ ইলিয়াস হোসাইন ২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তার ফেসবুক আইডির মাধ্যমে ‘স্ত্রী খুন স্বামী জেলে, খুনি পেয়েছে তদন্তের দায়িত্ব’ শিরোনামে একটি ভিডিও ক্লিপ আপলোড করেন।
“ভিডিওতে বিভিন্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্যের মাধ্যমে মিতু হত্যা মামলার তদন্তকে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়। “
ইলিয়াসের সেই ভিডিওতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উসকানি দেয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয় বনজের মামলায়। বলা হয়, সেই ভিডিওতে পুলিশ এবং পুলিশের বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থা পিবিআই ও বিশেষ করে তার ‘মান-সম্মান ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করার অপপ্রয়াস চালানো হয়।
“রাষ্ট্রের হিন্দু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট ও অস্থিরতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিরও অপপ্রয়াস করা হয়েছ “, এমন অভিযোগও করেন বনজ।
এজাহারে ওই ভিডিও ডকুমেন্টারি বিভিন্ন তথ্য ও বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ উল্লেখ করে নানা প্রমাণ এবং তথ্যও উপস্থাপন করেন বনজ কুমার।
এর আগে ৯ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে চার্জশিট দাখিল করেন। তবে তিনি বিশেষ ক্ষমতা আইনে অব্যাহতির আবেদন করেন। চার্জশিটভুক্ত অন্য দুই আসামি হলেন বাবুল আক্তারের ভাই মো. হাবিবুর রহমান লাবু ও বাবা মো. আবদুল ওয়াদুদ মিয়া।
২০২২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় পিবিআইপ্রধান বনজ কুমার মজুমদার বাদী হয়ে মামলাটি করেন। ওই বছরের ১০ নভেম্বর বাবুল আক্তারকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় বাবুল আক্তারের ভাই লাবু ও বাবা ওয়াদুদ জামিনে রয়েছেন। তবে ইউটিউবার ইলিয়াস পলাতক।
যৌন নিপীড়নের দায়ে ট্রাম্পকে ৫০ লাখ ডলার জরিমানা
উনিশশ নব্বই’র দশকে নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে একটি ম্যাগাজিনের কলামিস্টকে যৌন আক্রমণ করার জন্য ডেনাল্ড ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করেছে ম্যানহাটনের একটি জুরি।
তবে ই জিন ক্যারোল নামের ওই নারীকে বার্গডর্ফ গুডম্যান নামের স্টোরের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে ধর্ষণ করার বিষয়ে মি. ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।
জুরি বলেছে , মিজ ক্যারোল-এর আনা অভিযোগকে “প্রতারণা এবং মিথ্যা” বলে অভিহিত করার মাধ্যমে মি. ট্রাম্প ওই নারীর মানহানি করেছেন। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো যৌন আক্রমণে জড়িত থাকার জন্য মি. ট্রাম্প আইনগতভাবে দায়ী হলেন।
এ ঘটনায় ম্যানহাটনের আদালত মি. ট্রাম্পকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার আদেশ দিয়েছে।
মঙ্গলবার ছয় জন পুরুষ ও তিন জন নারীর সমন্বয়ে গঠিত জুরি তিন ঘণ্টারও কম সময় যুক্তি-তর্ক উপস্থাপনের পর তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
রায়ের পর মিজ ক্যারোল এক বিবৃতিতে লিখেছেন, “আজ অবশেষে বিশ্ব সত্য জানলো।”
“এই জয় শুধু আমার জন্য নয় বরং প্রতিটি নারীর জন্য যারা এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন কিন্তু কেউ তাদের কথা বিশ্বাস করেনি।”
মি. ট্রাম্পের আইনজীবী বলেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট।
বিচারকাজটি ফৌজদারি আদালতে না হয়ে দেওয়ানি আদালতে হওয়ার কারণে মি. ট্রাম্পকে একজন যৌন নির্যাতক হিসেবে নথিবদ্ধ হতে হবে না।
সাবেক প্রেসিডেন্ট যিনি মিজ ক্যারোলের আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি ম্যানহাটন ফেডারেল কোর্টে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিচারকাজে উপস্থিত ছিলেন না।
৭৯ বছর বয়সী মিজ ক্যারোল রায় পড়ার সময় তার দুই আইনজীবীর হাত ধরে ছিলেন এবং বিচারকরা তাকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার পক্ষে রায় দেয়ার পর তিনি হাসেন।
মি. ট্রাম্পের আইনজীবী জো টাকোপিনা বিচারকাজ শেষ হওয়ার পর তার সাথে করমর্দন করে বলেন, “অভিনন্দন এবং শুভ কামনা।”
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রবার্টা কাপলান এক বিবৃতিতে জানান: “এই জয় শুধু ই জিন ক্যারোলের নয়, বরং গণতন্ত্রের জন্য এবং সব নির্যাতিতার জন্য।”
বিচারের পর ৭৬ বছর বয়সী ট্রাম্প তার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে সব হরফে লিখেছেন: “আমার আসলেই কোন ধারণা নেই যে এই নারী কে?”
এই বিচারকে একটি ‘কলঙ্ক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন মি, ট্রাম্প।
দেওয়ানি আদালতে যে ধরণের প্রমাণ হাজির করা হয়, তার গুণগত মান ফৌজদারি আদালতের চেয়ে কম।
বিচার অনুষ্ঠানের সময় মি. ট্রাম্প এবং মিস ক্যারোলের আইনজীবীরা উত্তেজনাপূর্ণ জেরায় অংশ নেন।
তার আইনি দল ১১ জন সাক্ষীকে ডেকে তার দাবির সত্যতা প্রমাণ করে যে মি. ট্রাম্প তাকে ১৯৯৫ বা ১৯৯৬ সালে বিলাসবহুল দোকানের অন্তর্বাস বিভাগে লাঞ্ছিত করেছিলেন।
এদের মধ্যে দু’জন নারীও রয়েছেন যারা আরও বলেছে যে, তারা কয়েক দশক আগে মি. ট্রাম্পের কাছে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। একজন নারী বিচারকদের বলেছিলেন যে মি. ট্রাম্প ১৯৭০ এর দশকে একটি ফ্লাইটের সময় তাকে ধরেছিলেন। অন্য একজন নারী বলেছেন যে, ২০০৫ সালে লেখা একটি নিবন্ধের জন্য সাক্ষাৎকার নিতে গেলে মি. ট্রাম্প তাকে জোরপূর্বক চুম্বন করেছিলেন।
মিস ক্যারোলের দীর্ঘ দিনের দুই বন্ধু তাদের সাক্ষ্যতে বলেছেন যে, ওই ঘটনার পর পরই মিস ক্যারোল তা তাদেরকে জানিয়েছিলেন।
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মিস ক্যারো তার সাথে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা তুলে ধরেন এবং এর কারণে তাকে যে মানসিক কষ্টদায়ক সময় পার করতে হয়েছে তাও তুলে ধরেন।
আদালতে তিনি বলেন, “আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাকে ধর্ষণ করেছিলেন এবং যখন আমি এটি সম্পর্কে লিখেছিলাম, তখন তিনি মিথ্যা বলেছিলেন এবং বলেছিলেন যে এটি ঘটেনি।”
মি. ট্রাম্প তার পক্ষে কোন সাক্ষীকে ডাকেননি এবং বিচারকদের জন্য চালানো একটি জবানবন্দিমূলক ভিডিওতেই তার উপস্থিতি ছিল। যেখানে তিনি ধর্ষণ করার কথা অস্বীকার করেছেন।
ভিডিওতে মি. ট্রাম্প বলেন, “এটি সবচেয়ে হাস্যকর, জঘন্য গল্প।” “এটা পুরোটাই বানোয়াট।”
মিস ক্যারোলের মামলায় আরও যুক্তি দেয়া হয়েছে যে, মি. ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে ২০২২ সালের অক্টোবরে একটি পোস্টে তার মানহানি করেছিলেন। যেখানে তিনি তার অভিযোগগুলোকে “সম্পূর্ণ ভুল কাজ” এবং “একটি প্রতারণা এবং মিথ্যা” বলে অভিহিত করেছিলেন।
তার আইনি দল যুক্তি দিয়েছিল যে, মি. ট্রাম্প তার জবানবন্দির সময় “নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষী” হিসাবে কাজ করেছেন। ওই জবানবন্দীতেও তিনি ২০০৫ সালে যে মন্তব্য করেছিলেন সেটিই আবারো বলেছেন।
অ্যাকসেস হলিউড টেপ নামে পরিচিত এবং ২০১৬ সালে ফাঁস হওয়া অডিওতে মি. ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে নারীরা তারকাদের যে কোনো কিছু করতে দেয় এমনকি তাদের যৌনাঙ্গ ধরার মতো কাজও।
মিস ক্যারোলের আইনজীবী বলেন, তিনি তার সাথে সেটিই করেছিলেন।
রেকর্ড করা ভিডিও জবানবন্দিতে, মি. ট্রাম্প এক পর্যায়ে মিস ক্যারোলকে তার প্রাক্তন স্ত্রী মার্লা ম্যাপলসের সাথে গুলিয়ে ফেলেন। যা মিস ক্যারোলের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়ে বলেন যে, এটি মি. ট্রাম্প যে দাবি করেছিলেন যে, তিনি(মিস ক্যারোল) “তাঁর টাইপ নন”, সেটিকে দুর্বল করে দিয়েছে।
মি. টাকোপিনা মিস ক্যারোলের গল্পে সন্দেহ প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন, যাকে তিনি “কল্পকাহিনী” বলে অভিহিত করেছিলেন।
তিনি প্রশ্ন করেছিলেন যে, কেন মিস ক্যারোল হামলার তারিখ নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি। এই বিষয়টি ওই ঘটনার সময় মি. ট্রাম্প যে সেই স্থানে উপস্থিত ছিলেন না সেটি প্রমাণ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে বলে যুক্তি তুলে ধরেন।
“কোন তারিখ, কোন মাস, কোন বছর উল্লেখ না থাকলে আপনি এই আর্জি উপস্থাপন করতে পারবেন না, আপনি সাক্ষীদের ডাকতে পারবেন না,” মি. টাকোপিনা বলেছিলেন।
“তারা যা চায় তা হল আপনি তাকে এমন ঘৃণা করবেন যে সত্যটা আপনি জানতে পারবেন না।”
মি. টাকোপিনা আরো জোর দিয়ে বলেন যে, ঘটনা ঘটার পর পরই কেন তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেননি বা ঘটনা ঘটার সময় কেন তিনি চিৎকার করেননি।
প্রাক্তন এলি ম্যাগাজিনের কলামিস্ট ২০২২ সালে নিউইয়র্ক অ্যাডাল্ট সারভাইভারস অ্যাক্ট পাস করার পর মি. ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা আনতে সক্ষম হন।
রাজ্যটিতে এই আইনটি যৌন নিপীড়নের ভুক্তভোগীদের জন্য ঘটনা ঘটার এক বছর পর সময় পর্যন্ত মামলা দায়ের করার সুযোগ দিয়েছে।বিবিসি।
আরাভ খানকে ফিরিয়ে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশ হত্যা মামলার আসামী আরাভ খানকে দেশে ফিরিয়ে আনা অসম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন,বাংলাদেশ পারে না, এমন কিছু নেই। তাকে অবশ্যই ফিরিয়ে আনা হবে।
বুধবার (১০ মে)পুলিশ স্টাফ কলেজে বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন।
পুলিশ পরিদর্শক মামুন খান হত্যা মামলায় পলাতক আসামি রবিউল ইসলাম ওরফে আরাভ খান দুবাইতে অবস্থান করছেন। ৯মে মঙ্গলবার অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের জেল:
রাজধানীর রমনা থানায় করা অস্ত্র আইনের মামলায় দুবাই পলাতক স্বর্ণ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম ওরফে আরাভ খানকে মঙ্গলবার ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুর্শিদ আহাম্মদ এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারায় তাকে সাজা প্রদান করেন। তবে ১৯(এফ) ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়। আসামি আরাভ খান পলাতক থাকায় সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আরাভ খান তার শ্বশুর সেকেন্দার আলীকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করতে তার মগবাজারের বাসায় যান। খবর পেয়ে গুলিভর্তি রিভলবারসহ শ্বশুরের বাসার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় আরাভের বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেন ডিবি পশ্চিমের গাড়ি চুরি প্রতিরোধ ও উদ্ধার টিমের তৎকালীন উপপরিদর্শক সুজন কুমার কুণ্ডু। এ মামলায় ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ জামিন পান রবিউল।
এরপর পলাতক থাকায় ওই বছরের ২৪ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। আরাভের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে আরও তিনটি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে পুলিশ পরিদর্শক মামুন হত্যা ও ডিএসএসআর চুরির মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। হত্যা মামলায় নিজের পরিবর্তে অন্য আসামিকে আদালতে উপস্থাপনের ঘটনায় কোতোয়ালি থানার আরেকটি মামলা গঠনের পর্যায়ে রয়েছে।
আরাভ খান সম্প্রতি আলোচনায় আসেন দুবাইয়ে বিশাল স্বর্ণের দোকান দিয়ে। যার উদ্ভোধন করতে গিয়েছিলেন সুপারস্টার ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান,অভিনেতা হিরো আলম।
‘পাকিস্তান’ শব্দ থাকা আইনের তালিকা চেয়েছে হাইকোর্ট
‘পাকিস্তান’, ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তান’ ও ‘ইস্ট পাকিস্তান’ শব্দ যুক্ত থাকা দেশের প্রচলিত আইনগুলোর তালিকা চেয়েছে হাইকোর্ট।
জনস্বার্থে সুপ্রিমকোর্টের এক আইনজীবীর করা রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মুহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন।
রুলে আইন অনুসারে দেশের প্রচলিত আইন থেকে পাকিস্তান, ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তান এবং ইস্ট পাকিস্তান শব্দ বাদ দিয়ে সংশোধন করতে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেনো অবৈধ হবে না- তা জানতে চেয়েছে আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনটি দায়ের করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মো. রবিউল আলম সৈকত। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও আইনজীবী কামরুল ইসলাম।
আইনজীবীরা জানান, স্বাধীনের পর প্রচলিত (পাকিস্তান আমলের) আইনগুলো অ্যাডাপ্ট করা হয়। তখন ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ লজ (রিভিশন ও ডিক্লারেশন) অ্যাক্ট এ পাকিস্তান, ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তান এবং ইস্ট পাকিস্তান শব্দগুলো বাদ দিতে বলা হয়। এরপর কিছু আইনে বাদ দেয়া হয়। তবে এখনও অনেক আইনে শব্দগুলো রয়ে যায়। যেমন- দ্য ক্যাটল (প্রিভেনশন অব ট্রেসপাস) অর্ডিন্যান্স ১৯৫৯, দ্য ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি অর্ডিন্যান্স ১৯৬১, দ্য এগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি অর্ডিন্যান্স ১৯৬১, দ্য এগ্রিকালচারাল পেস্টস অর্ডিন্যান্স ১৯৬২, দ্যা ইনডিসেন্ট অ্যাডভার্টাইজমেন্টস প্রভিহিশন অ্যাক্ট ১৯৬২, দ্য সেন্সরশিপ অব ফিল্মস অ্যাক্ট ১৯৬৩, দ্য পাইলটেজ অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯ এবং দ্য গভর্নমেন্ট লোকাল অথরিটি ল্যান্ডস অ্যান্ড বিল্ডিংস (রিকভারি অব পজেশন) অর্ডিন্যান্স ১৯৭০ উল্লেখযোগ্য।
এগুলোয় এ সব শব্দ থাকাটা ১৯৭৩ সালের আইনের লঙ্ঘন বিধায় আইনজীবী মো. রবিউল আলম রিট করেন। রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দিয়েছেন। আর আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ সব আইনের তালিকা করতে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করতে বলেছেন। আর ৬০ দিনের একটি তালিকা দাখিল করতে বলেছেন আদালত। বাসস।
শিশু বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় ৪ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে হাইকোর্টে রুল
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ফেনীর ছাগলনাইয়ায় বাম হাত হারানো ১১ বছরের শিশু ও তার পরিবারকে কেনো ৪ কোটি ২২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হবে না-তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
ওই শিশুর বাবার আনা এক রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
একইসঙ্গে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের অবহেলা, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নিস্ক্রিয়তা কেনো অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- রুলে তাও জানতে চেয়েছেন।
রিটকারী পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম মিয়া জানান,
চার সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ সচিব, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চেয়ারম্যান ও মহাব্যবস্থাপক, ছাগলনাইয়া জোনের উপ মহাব্যবস্থাপক এবং সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিক শেখ আজিজুল হক নিশানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার দক্ষিণ মটুয়ার শেখ আবুল হোসেন মাস্টারের ছেলে শেখ আজিজুল হক নিশানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন রেজাউল করিম সোহাগ সরকার।
রিটের পক্ষে আইনজীবী জানান, গত বছরের ৩১ জুলাই বিকাল ৪টায় ওই ভাড়া বাসায় রেজাউল করিম সোহাগ সরকারের ১১ বছরের ছেলে রাফি বারান্দায় খেলা করছিল। এ অবস্থায় তার হাতে থাকা ‘দৈর্ঘ্য পরিমাপের কাজে ব্যবহৃত একটি স্টিলের টেপ’ বারান্দা ঘেষা কাভারবিহীন বৈদ্যুতিক তারের উপর পড়ে। বৈদ্যুতিক শকের কারণে রাফির বাম হাত, পা-সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পুড়ে গুরুত্বর জখম হয়।
এরপর তাকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার প্রয়োজনে তার বাম হাতের কব্জি কেটে ফেলা হয়। এখন তার কৃত্রিম হাত সংযোজনে ৪০ লাখ টাকা লাগবে। এছাড়া এ পর্যন্ত ২২ লাখ টাকা চিকিৎসা বাবদ খরচ হয়েছে। বিকলাঙ্গ হওয়ায় ভবিষ্যত ক্ষতিপূরণ ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। মোট চার কোটি ২২ লাখ টাকা ক্ষতি দেখিয়েছে শিশুটির বাবা। এ বিষয়টি জানিয়ে ছাগলনাইয়া জোনের উপ-মহাব্যবস্থাপক বরাবরে জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বাসস।
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা চলবে: সুপ্রিমকোর্ট
শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলা বাতিলের আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. নূরুজ্জামানের নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চে সোমবার (৮ মে) এ আদেশ দেন।
ফলে তার বিরুদ্ধে মামলা চলবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।
এর আগে গত ৩ এপ্রিল এ বিষয়ে শুনানি শেষে আদেশের জন্য ৮ মে দিন রাখা হয়। গত বছরের ১৭ আগস্ট মামলা বাতিলে ইউনূসের আবেদনে জারি করা রুল খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট । এর বিরুদ্ধে ড. মুহাম্মদ ইউনূস আপিল বিভাগে আবেদন করেন।
২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে ড. ইউনূসসহ চার জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। ড. ইউনূস ছাড়াও এমডি মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহানকে মামলায় বিবাদী করা হয়।
মামলায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করায় শ্রম আইনের ৪-এর ৭, ৮, ১১৭ ও ২৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। পরে ওই মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।
একই বছরের ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল দিয়েছিলেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে।
ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে মামলা বাতিলে জারি করা রুল দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়া হয়। এ সময় পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। সেই রুলের শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট। বাসস।
মোবাইলে ৩০ মিনিটের বেশি সময় কথা বললেই বাড়ে রক্তচাপ! বলছে গবেষণা
ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ফোনে কথা বলা এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে অনেকের। প্রেমালাপ হোক কিংবা কর্মক্ষেত্রের আলোচনা, ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলার মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হতে পারে মানুষের শরীরে। সপ্তাহে আধঘণ্টার বেশি ফোনে কথা বললে উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনা বেড়ে যায় অন্ত ১২ শতাংশ। নতুন গবেষণায় উঠে এল এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
গোটা বিশ্বের জনসংখ্যার নিরিখে ১০ বছরের বেশি বয়সিদের এক তৃতীয়াংশেরই মোবাইল ফোন রয়েছে। আর মোবাইল থেকে যে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি এনার্জির বের হয়, তা-ই শরীরে রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে। এই উচ্চ রক্তচাপ থেকেই হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং সময়ের আগেই মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে দুনিয়াজুড়ে। চিনের গুয়ানঝাউয়ের মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, আপনার হার্টের সুস্থতা নির্ভর করে আপনি কতক্ষণ ফোনে কথা বলছেন, তার উপর। যত বেশি কথা বলবেন, ঝুঁকি তত বাড়বে।
ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নাল ডিজিটাল হেল্থে এই সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। মোবাইল ফোন ব্যবহারে শরীরে কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে, তা জানতে একটি সমীক্ষা করা হয়। ৩৭ থেকে ৭৩ বছরের মধ্যে যাদের বয়স, এমন ২ লক্ষ ১২ হাজার ৪৬ জনের উপর সমীক্ষা করা হয়। কত বছর ধরে তাঁরা মোবাইল ব্যবহার করেন, সপ্তাহে কত ঘণ্টা ফোনে কথা বলেন, হ্যান্ডস ফ্রি কিংবা স্পিকার ব্যবহার করে কথা বলেন কি না- এই সবই আলাদা আলাদা করে খতিয়ে দেখা হয়েছে। তারই মধ্যে জানা গিয়েছে, প্রতি সপ্তাহে যারা ৩০ মিনিট বা তার বেশি সময় কথা বলে, তাদের ১২ শতাংশের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা গিয়েছে। পুরুষ ও মহিলার ক্ষেত্রে একই ফল মিলেছে।
যাঁরা সপ্তাহে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা ফোনে কথা বলে সময় কাটায়, তাদের ২৫ শতাংশের এই ঝুঁকি থাকে। তবে যারা বহুদিন মোবাইল ব্যবহার করছে কিংবা যারা হ্যান্ডসফ্রি কিংবা স্পিকার ব্যবহার করে, তাদের ঝুঁকি কতখানি, তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। তবে প্রত্যেককেই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সৌজন্যে- সংবাদ প্রতিদিন, ভারত।
আপনি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঋষি সুনাক
যুক্তরাজ্যের (ইউকে) প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একজন সফল অর্থনৈতিক নেতা হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ‘আপনি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা।’
সুনাক বলেন, ‘আমি আপনাকে অনেক বছর ধরে অনুসরণ করছি। আপনি একজন সফল অর্থনৈতিক নেতা।’
শুক্রবার (স্থানীয় সময়) কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের দ্বিপাক্ষিক সভা কক্ষে তাদের প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সুনাককে উদ্ধৃত করে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম এ কথা বলেন।
তাসনিম বলেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার দুই মেয়ে এবং স্ত্রী তাঁর (শেখ হাসিনা) বড় ভক্ত। তিনি গত অক্টোবরে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তার কন্যারা শেখ হাসিনার মতো মহান নেতা হবেন এই কামনা করেছেন।
সুনাক বলেন, ‘আপনি আমার দুই মেয়ের জন্য মহান অনুপ্রেরণা।’
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, ভূমিহীন ও গৃহহীন বাংলাদেশের জনগণকে সরকারি খরচে বাড়ি দেয়া, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তাঁর গৌরবময় ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
কভিড-১৯ মহামারি পরবর্তী সময়ে ছয় শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার কথা উল্লেখ করে সুনাক বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য।
তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
৩৫ মিনিট স্থায়ী বৈঠকে দুই নেতা উভয় দেশের পারস্পরিক সুবিধা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
‘৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের চমৎকার সম্পর্ক বিদ্যমান’ এ কথা উল্লেখ করে সুনাক বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ককে মূল্য দেয়।
বৈঠকের শুরুতে শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় ঋষি সুনাককে অভিনন্দন জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এশীয় ঐতিহ্য থেকে আপনি এত অল্প বয়সে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এমন তরুণ নেতৃত্ব দেখে আমার ভালো লাগছে।’
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ইতিমধ্যে সাত লাখ পরিবারকে বাড়ি দিয়েছে।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর কাছে আরও বড় বিনিয়োগ চেয়েছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নত করেছি।’
তিনি ঢাকা ও লন্ডনের মধ্যে একটি যৌথ ইস্তেহার স্বাক্ষর করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
দুই নেতা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও কথা বলেন।
সুনাক বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেছেন।
সুনাক বলেন, যুক্তরাজ্য বুঝতে পেরেছে, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য বড় বোঝা।
শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সমর্থন দেয়ায় যুক্তরাজ্যকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য বড় বোঝা এবং বড় নিরাপত্তা হুমকি।’
রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দেখতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানালে সুনাক ইতিবাচক সাড়া দেন।
লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে রাজা তৃতীয় চার্লসের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৩০টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা লন্ডনে পৌঁছেছেন।
দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বাংলাদেশের হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ তাদের মধ্যে মাত্র সাতজনের সাথে সুনকের বৈঠক হয়েছে যা প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে যুক্তরাজ্যের সাথে বাংলাদেশের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে।’
রাষ্ট্রদূত মুনা তানিম বলেন, অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধন কৌশলগত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ব্রিফিংয়ের সময় প্রধানমন্ত্রীর স্পিচরাইটার এম নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। বাসস।
জামায়াতের বিচারের জন্য আইন সংশোধন হচ্ছে : আইনমন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দল হিসেবে জামায়াত ইসলামীর বিচারের জন্য আইন সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন
আইন মন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, জামায়াতের বিচারে সরকারের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই।
শনিবার ( ৬ মে) ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সিনিয়র সহকারী জজ এবং সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত ১৪৮তম রিফ্রেসার কোর্সের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, এই সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করেছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে জামায়াতের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট যথেষ্ট নয়। এই আইনটি সংশোধন করা দরকার এবং সেই প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী আরো জানান, বিচার বিভাগকে সবধরণের সহযোগিতা দিতে সরকারের কোনো কার্পন্য থাকবে না। কিন্তু বিচার বিভাগের কাছে একটি চাওয়া থাকবে, সেটি হচ্ছে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায় এবং তারা যেন মামলার দীর্ঘসূত্রতার অবস্থান থেকে পরিত্রান পায়।
প্রশিক্ষণার্থী বিচারকদের জুডিসিয়াল ডিসিপ্লিন মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সুপ্রতিষ্ঠত জুডিসিয়াল ডিসিশনগুলো মেনে না চললে জুডিসিয়াল অ্যানার্কি তৈরি হতে পারে। নিশ্চয়ই আমরা কেউই এই অ্যানার্কি চাই না। তার কারণ সমাজ ও দেশের উপর এর ইমপ্যাক্ট ভয়াবহ হবে। তিনি বলেন, দেশের দীর্ঘদিনের পূঞ্জিভূত মামলাজট কমানোর দায়িত্ব আমাদের কাঁধে নিতে হবে এবং এই দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে জনগণ যাতে তড়িৎ সুষ্ঠু বিচার পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। মি. হক বলেন, অন্য যেকোনো সরকারের চেয়ে বিচার বিভাগের জন্য বাজেট বাড়ানো হয়েছে। বিচারকদের দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন বিচারকদের দায়িত্ব মানুষ যেন দ্রুত বিচার পায়, সেটা নিশ্চিত করা।
তিনি প্রশিক্ষণার্থী বিচারকদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, সহকারী জজ থাকা অবস্থায় তারা সকলেই এই ইনস্টিটিউটে একটি মানসম্পন্ন বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করে গেছেন। এরপর পদোন্নতি পেয়ে অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে আবারও নতুন প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছেন। একটি সুদক্ষ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দ্রুত মানসম্পন্ন সেবা প্রদানের জন্য এমনটিই হওয়া উচিত। কিন্তু অন্যান্য সরকারের আমলে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের কি অবস্থা ছিল, তার ইতিহাস অনেকেরই জানা। এক কথায় বলা যায়, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক কোনো প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটই ছিল না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথমবার সরকার গঠন করার পর প্রথম বিচারকদের জন্য এই প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে দেন। তাঁর সরকারের সদিচ্ছার কারণেই দেশে আরও একটি বিশ্বমানের ন্যাশনাল জুডিসিয়াল একাডেমি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলছে। যেখানে বিচারকরা বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন।
আনিসুল হক বিচারকদের আশ্বস্ত করে বলেন, তাদের প্রশিক্ষণের এই ধারা অব্যাহত থাকবে। শুধু তাই নয়, দেশিও প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি বিদেশি প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রমও চলমান থাকবে।
আইনমন্ত্রী একথাও স্মরণ করিয়ে দেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রধান লক্ষ্য ছিল এমন এক শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা- যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হবে। জাতির পিতা তাঁর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিজয়ের মাত্র ১০ মাস ১৮ দিনের মাথায় সদ্য স্বাধীন বাঙালি জাতিকে যে অনন্য সংবিধান উপহার দেন, সেই সংবিধানের পরতে পরতে তাঁর দর্শনের প্রতিচ্ছবি পরিলক্ষিত হয়। এই সংবিধানের অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো প্রজাতন্ত্রের সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান, সকলেই আইনের সমান আশ্রয়লাভের অধিকারী এবং ফৌজদারী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচারলাভের অধিকারী। বঙ্গবন্ধুর এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের সকল অঙ্গ-প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলেও যুগযুগ ধরে ন্যায়, সাম্য ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার মতো সূক্ষ্ণ ও স্পর্শকাতর দায়িত্বগুলো সুচারুরূপে পালন করায় এদেশের জন-মানুষের হৃদয়ে ও মননে গভীর আস্থা ও নির্ভরশীলতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের বিচার বিভাগ। দক্ষতার সাথে সুচারুরূপে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আদালতের বিভিন্ন সমস্যার যুক্তিসঙ্গত সমাধানসহ বিজ্ঞ বিচারকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো অপরিহার্য বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী। আর পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। সেকারণে তাঁরা দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ কোর্স আয়োজন করে যাচ্ছে।
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সাওয়ার ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) শেখ আশফাকুর রহমান বক্তৃতা করেন।











