কানাডায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এসএমবি নূর চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর জন্য বিকল্প পথ খুঁজতে কানাডার হাইকমিশনারকে অনুরোধ জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। মঙ্গলবার (০১ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে কানাডার হাই কমিশনার লিলি নিকোলস সৌজন্য সাক্ষাত করতে গেলে তাকে এ অনুরোধ জানান।
পরে সাংবাদিকদের আইনমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামি নূর চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কানাডা আইনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ফেরত দেয়া সম্ভব না বলে হাইকমিশনার জানিয়েছেন। আমি তাদের অনুরোধ করেছি, বিকল্প পন্থা বের করা যায় কি-না। তাকে বলেছি একজন খুনিকে আশ্রয় দেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন। তিনি বলেন, আমি হাইকমিশনারকে অনুরোধ করেছি, যেসব আইন ও বিধি-বিধান আছে তা যদি পর্যবেক্ষণ করে দেখি তাহলে কানাডা যাতে তাকে ফিরিয়ে দিতে পারে সে পন্থা খুঁজতে পারে। হাইকমিশনার বলেছেন, কানাডা সরকারকে বিষয়টি তিনি জানাবেন৷ আইনমন্ত্রী বলেন, হাই কমিশনার জানতে চেয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ‘অ্যালাউ’ করবে কি-না? এ প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী সুষ্পষ্টভাবে জানান, এটা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। তারা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সুষ্ঠু নির্বাচন করা। সেখানে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। বাংলাদেশ সরকার বদ্ধপরিকর যে, বাংলাদেশে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। ডাটা সুরক্ষা আইন নিয়ে আনিসুল হক হাই কমিশনারকে জনান এ আইনের খসড়া প্রণয়নের ব্যাপারে অংশিজনদের সাথে একবার সভা হয়েছে। আরও ২-৩ বার সভা হবে। ডাটা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এ আইন করা হবে না, ডাটা সুরক্ষার জন্য করা হবে। তিনি বলেন, এবছর বাংলাদেশ-কানাডা সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্ণ হয়েছে। উভয় দেশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এ সম্পর্ক দেখে। ফলে উভয় দেশের মধ্যে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে।এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও গভীর হোক, বাংলাদেশ সেটাই চায়।
নূর চৌধুরীকে ফেরত পাঠাতে কানাডাকে বিকল্প পথ খোঁজার অনুরোধ আইনমন্ত্রীর
রাজধানীতে সমাবেশে পুলিশের নিষেধাজ্ঞার বিধি কেন অবৈধ নয় জানতে হাই কোর্টের রুল
রাজধানীতে সমাবেশ বা মিছিল নিষিদ্ধের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পুলিশ অধ্যাদেশের ২৯ ধারার বিধান কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সরকারের কাছে তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট।
এক রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাই কোর্ট বেঞ্চ রোববার এ রুল জারি করে।
আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদেরকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল মোমেন চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল মোমেন চৌধুরী, কে এম জাবির, চাঁদপুর আইনজীবী সমিতির সদস্য সেলিম আকবর এবং ঢাকার বাসিন্দা শাহ নুরুজ্জামান, মোহাম্মদ ইয়াসিন ২০ অক্টোবর ‘জনস্বার্থে’ এ রিট আবেদন করেন। এরপর গত বুধ ও বৃহস্পতিবার আদালতে শুনানি হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশ-১৯৭৬ এর ২৯ ও ১০৫ ধারা এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এ রিট মামলায়।
পুলিশ অধ্যাদেশের ২৯ ধারায় বলা হয়েছে, জনসাধারণের শান্তি বা নিরাপত্তা রক্ষার জন্য পুলিশ কমিশনার যখনই প্রয়োজন মনে করবেন এবং যতদিনের প্রয়োজন বিবেচনা করবেন, লিখিত আদেশ দিয়ে সমাবেশ বা মিছিল নিষিদ্ধ করতে পারবেন। তবে শর্ত হল, সরকারের অনুমতি ছাড়া ৩০ দিনের বেশি এমন নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে না।
১০৫ ধারায় বলা হয়েছে, এ অধ্যাদেশের কোনো বিধান অথবা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইন বা তদুদ্দেশ্যে প্রণীত কোনো বিধি, প্রবিধান আদেশ বা নির্দেশের অধীন ‘সরল বিশ্বাসে কৃত’ কোনো কাজ বা ক্ষতির জন্য কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাবে না।
আর সমাবেশের স্বাধীনতা সংক্রান্ত সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনে উল্লেখিত ‘যুক্তিসঙ্গত’ বিধি নিষেধ-সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হবার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।
রিট আবেদনে বাদী দাবি করেছেন, ঢাকা মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশের ওই দুটি ধারা এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিডি নিউজ।
লালবাগ থানার ওসিসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা
সাড়ে চার লাখ টাকা লুটপাট ও মারধরের অভিযোগে রাজধানীর লালবাগ থানার ওসি এমএস মুর্শেদসহ পুলিশের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম ফারাহ দিবা ছন্দার আদালতে মো. বিল্লাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি মামলাটি করেন।
এদিন আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। শুনানি শেষে মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আগামী ৩০ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- লালবাগ থানার উপপরিদর্শক তারেক নাজির, তারেক আজিজ, মো. আতোয়ার হোসেন ও কৃষ্ণ চন্দ্র মিত্র। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও তিন পুলিশকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর লালবাগ থানার পৃথক দুই মামলায় বিল্লাল হোসেনকে আসামি বানিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর আগে ভুক্তভোগী বিল্লালকে গ্রেপ্তার করতে লালবাগ ইয়াছিন সমবায় সমিতি লিমিটেড অফিসে যায় পুলিশ। এ সময় আসামিরা তার অফিসের টেবিলের ড্রয়ারে সংরক্ষিত চার লাখ ৫০ হাজার টাকা, সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার, সিসি ক্যামেরার ডিবিআর ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রাদি ড্রয়ারের তালা ভেঙে লুটপাট করে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী প্রতিবাদ করলে আসামিরা তাকে মারধর এবং গালাগাল করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তারের সাত দিন পর বিল্লাল আদালত থেকে দুই মামলায় জামিন পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। গত ২২ অক্টোবর তিনি লালবাগ থানায় যোগাযোগ করে ওই টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কারের বিষয়ে জানতে চান। তখন আসামিরা পুনরায় তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়। তাকে গা ধাক্কা দিয়ে থানা থেকে বের করে দেয় এবং হুমকি দিয়ে বলে, ‘তুই যা পারিস করিস’। সূত্র-দৈনিক কালবেলা।
জনগণকে সর্বোত্তম সেবা প্রদান করতে সাব-রেজিষ্ট্রারদের প্রতি আইনমন্ত্রীর নির্দেশ
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক জনগণকে কোনরূপ হয়রানি না করে দ্রুততম সময়ে সর্বোত্তম সেবা প্রদান করতে রেজিস্ট্রারদের নির্দেশ দিয়েছেন। জাল-জালিয়াতি রোধে সাব-রেজিস্ট্রারদের সর্বদা সচেষ্ট থাকারও পরামর্শ দেন তিনি। বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সাব-রেজিস্ট্রারদের জন্য আয়োজিত দু’দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে সকল মানুষ ভোগান্তিহীনভাবে দ্রুত নাগরিক সেবা পাবেন। সমাজ, অর্থনীতি, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, যোগাযোগ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ইত্যাদি সর্বক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর এই স্বপ্ন পূরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার নিরলস ও নিবেদিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকার আন্তর্জাতিকমানের প্রযুক্তি নির্ভর, আধুনিক, কর্মদক্ষ ও মেধাসম্পন্ন জনশক্তি তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে। ফলে দৈনন্দিন সাধারণ কাজকর্ম থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রে নাগরিকগণ আজ প্রযুক্তির সহায়তায় সেবাগ্রহণে তৎপর হয়ে উঠেছেন। নতুন প্রজন্ম সহজাত প্রবণতায় শুরু থেকেই সময়োপযোগী টেকনোলজির সাথে পরিচিত হয়ে বেড়ে উঠছে। সেবার ধরণ বদলে যাওয়ায় অপেক্ষাকৃত বয়োবৃদ্ধ নাগরিকগণও অনলাইন সেবা গ্রহণে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। দেশের এই অগ্রযাত্রায় রেজিস্ট্রেশন বিভাগকে পিছিয়ে থাকলে চলবে না। এ বিভাগের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকেও যুগের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সেবাপ্রার্থী জনগণকে দ্রুত প্রযুক্তি নির্ভর সেবা প্রদানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের চিন্তা-চেতনা ও মন-মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। আনিসুল হক বলেন, জনগণকে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর মানসম্মত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার নিবন্ধন অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করে সমস্ত ভূমি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াকে ডিজিটাইজড্ করতে চায়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতিমধ্যেই আমরা ১৭টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ই-রেজিস্ট্রেশন পাইলটিং প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতার আলোকে সারাদেশের সকল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ডিপিপি তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১২২১ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে সারাদেশে ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হলে কোন রকম জটিলতা ছাড়াই নির্ভুলতার সাথে হয়রানীমুক্ত পরিবেশে দলিলের দাতা এবং গ্রহীতা রেজিস্ট্রেশন কার্য সম্পাদন করতে পারবেন। ফলে সরকারি রাজস্ব আদায়েও গতিশীলতা বাড়বে। এছাড়া সারা দেশের রেকর্ড রুমে রক্ষিত বালাম বহিসমূহ ই-আর্কাইভে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যাবে। অনলাইন ব্যবস্থায় রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চালু হলে জনগণ সহজেই নিবন্ধিত দলিলের অনুলিপি তাৎক্ষণিক সংগ্রহ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ বহুলাংশে হ্রাস পাবে এবং জাল-জালিয়াতির পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে। নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শহীদুল আলম ঝিনুকের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার বক্তৃতা করেন।
লেকভিউ বারের মালিককে আটকের পর ছেড়ে দিলো গোয়েন্দা পুলিশ
রাজধানীর উত্তরার কিংফিশার রেস্টুরেন্ট ও লেকভিউ বারের মালিক মো. মুক্তার হোসেনকে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গত রাতে দেশত্যাগের সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পরও মাদক মামলার এই আসামিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় ডিবি পুলিশ। কারণ, উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছিলেন মুক্তার হোসেন। জামিনের নথি দেখিয়েই ডিবি পুলিশের কাছ থেকে মুক্ত হোন তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি প্রধান) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, মামলার আসামি হওয়ায় দেশত্যাগের সময় বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ প্রথমে তাকে আটক করে। পরে তারা ডিবি পুলিশকে খবর দেয়।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, মুক্তার অন্তর্বর্তী জামিনের একটি ছবি দেখায়। কিন্তু, সেটাতে ছিল না দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি। অন্তর্বর্তী জামিনের মূল কাগজ বাসা থেকে আনতে পাঠিয়েছেন মোক্তার। সেটা দেখাতে পারলে জিডি করে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠাবে ইমিগ্রেশন পুলিশ। আর যদি জামিনের কাগজ দেখাতে না পারেন তাহলে ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হবেন মোক্তার হোসেন। পরে জামিনের কাগজ দেখালে তাকে ছেড়ে দেয় ডিবি।
জানা গেছে, ২০০৮ সালের দিকে রাজধানীর বারিধারায় ‘এভিনিউ’ নামে একটি রেস্টুরেন্টে ওয়েটার হিসেবে কাজ শুরু করেন মো. মুক্তার হোসেন। এরপর গুলশানে ‘লেক ভিউ’ রেস্টুরেন্টেও ওয়েটার হিসেবে ছিলেন। সেই মুক্তার এখন শতকোটি টাকার মালিক। তার যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি-বাড়ি আছে। সেখানে বসবাস করেন তার স্ত্রী ও সন্তানরা।
রাজধানীর উত্তরায় মুক্তার হোসেনের একটি বার রয়েছে। এই বারে প্রতিদিন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের যাতায়াত ছিল। তাদের মধ্যে রয়েছেন সরকারি উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, আইনজীবী, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।সূত্র- মানবজমিন।
অর্থপাচার: সেই পাপুলের ২ কুয়েতি সহযোগীর ৫ বছর করে কারাদণ্ড
বাংলাদেশের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শহীদুল ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে দায়ের করা অর্থপাচার মামলায় তার ২ কুয়েতি সহযাগীকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন কুয়েতের উচ্চ আদালত।
একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ দশমিক ৩৬ মিলিয়ন কুয়েতি দিনার জরিমানা করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি শেখ মাজেন আল-জাররাহ এবং পার্লামেন্টের সাবেক প্রার্থী নাওয়াফ আল-শালাহি।
গত বুধবার কুয়েতের আরবি সংবাদপত্র দৈনিক কাবাস এবং আরব টাইমসের অনলাইন সংস্করণে এ খবর প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কাউন্সেলর ওয়ায়েল আল-আতেকির নেতৃত্বে আপিল আদালত ফৌজদারি আদালতের রায় বাতিল করে পাপুলের কাছ থেকে পাওয়া ঘুষের টাকা পাচারে ২ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় ঘোষণা করেন।
পাবলিক প্রসিকিউশন অভিযুক্ত ২ জনের বিরুদ্ধে চেকের মাধ্যমে ৮ লাখ ৬০ হাজার কুয়েতি দিনার পাচারের অভিযোগ করে, যা পাপুলের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে নেয়া হয়েছিল।
এর আগে গত বছরের ২৮ নভেম্বর কুয়েতের আপিল আদালত মানবপাচার ও অর্থপাচারের মামলার চূড়ান্ত রায়ে পাপুলকে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ২৭ লাখ কুয়েতি দিনার (সে সময়ে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৭ কোটি টাকা) জরিমানা করেন। সাজার পর পাপুলকে কুয়েত থেকে বিতাড়িত করার নির্দেশও দেন আদালত।
একই মামলায়, ঘুষ নেয়ার অভিযোগে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি মেজর জেনারেল মাজেন আল-জাররাহ এবং জনশক্তি বিভাগের পরিচালক হাসান আল খিদরকেও ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তাদেরকে সরকারি পদ থেকে বরখাস্ত করারও আদেশ দেয়া হয়।
এ ছাড়া, আদালত একই মামলার কুয়েতের সাবেক এমপি সালাহ খুরশেদকে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ৭ লাখ ৪০ কুয়েতি দিনার জরিমানা দেয়ার নির্দেশ দেন।
২০২০ সালের ৭ জুন পাপুলকে গ্রেপ্তার করে কুয়েতের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। সে সময় তিনি লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ছিলেন।
৫ জন বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার এবং কোম্পানির কর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগ আনে সিআইডি।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে পাপুল অর্থের বিনিময়ে জাল চুক্তিতে অভিবাসী শ্রমিক আনার ক্ষেত্রে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনশক্তি বিভাগ, জনপ্রতিনিধির সহায়তা পাওয়ার কথা স্বীকার করেন।
সাধারণ প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে পাপুল দীর্ঘদিন ধরে কুয়েতে ছিলেন। এক সময় জনশক্তি আমদানির মাধ্যমে বড় ব্যবসায়ী হয়ে উঠেন তিনি। পরে দেশে ফিরে সংসদ সদস্য হন। পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য। সূত্র-ডেইলী স্টার।
সংবাদের উৎস জানাতে সাংবাদিকদের চাপ দেয়া যাবে না : হাইকোর্ট
সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নে হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়টি প্রকাশ হয়েছে। এতে আদালত বলেছেন সংবাদের উৎস জানাতে কোনো সাংবাদিককে চাপ দেয়া যাবে না । রোববার রাষ্ট্র বনাম দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ এ রায় প্রকাশিত হয়েছে।
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর এ মামলার ৫১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, ‘সার্বিক দিক বিবেচনায় আমাদের মতামত হলো সংবাদমাধ্যম এবং সাংবাদিকরা সাংবিধানিকভাবে এবং আইনত দুর্নীতি এবং দুর্নীতিকারীদের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে সংবাদ পরিবেশন করতে পারবেন।’
কোনো সাংবাদিক তার সংবাদের তথ্যের উৎস কারও কাছে প্রকাশে বাধ্য নয় বলে জানান আদালত।
আদালত বলেন, বর্তমান সময়ে প্রতিটি সেক্টরে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। গণমাধ্যম দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি বিশেষের দুর্নীতি-অর্থ পাচার ফলাও করে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে হলুদ সাংবাদিকতা কখনো সমর্থন করা যায় না।
আদালত আশা প্রকাশ করে বলেন, সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে গণমাধ্যমকে মনোযোগী হতে হবে। দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও জনস্বার্থ আছে— এ ধরনের সব সংবাদ সাংবিধানিকভাবে ও আইনগতভাবে সাংবাদিকরা তুলে ধরতে পারেন। সাংবাদিকদের সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে যে সুরক্ষা দেয়া হয়েছে তাতে সাংবাদিকরা তাদের নিউজের তথ্যের সোর্স প্রকাশ করতে বাধ্য নন।
রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেন, ‘সংবাদের সোর্স জানাতে সাংবাদিকদের বাধ্য করা যাবে না। কোনো সংবাদে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তিনি প্রেস কাউন্সিলে প্রতিকার চাইতে পারবেন।’
’২০ কোটিতে প্রকৌশলী আশরাফুলের দায়মুক্তি! দুর্নীতি দমনে দুদক স্টাইল’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্ট একথা বলেন।
একপর্যায়ে আদালত এ সংক্রান্ত স্বতঃপ্রণোদিত রুল নিস্পত্তি করে গণপূর্তের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম ও তার স্ত্রীর জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন বিষয় অনুসন্ধানে আগের কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে নতুন তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পুনরায় অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন। রায়ে আশরাফুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে পুনরায় অনুসন্ধানে দুদককে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। রায় প্রাপ্তির ৬ মাসের মধ্যে এই অনুসন্ধান শেষ করতে বলা হয়েছে।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি গণহত্যাকে স্বীকৃতির প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে
১৯৭১ সালে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে একটি প্রস্তাব আনা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) দেশটির দুই আইনপ্রণেতা ভারতীয় বংশোদ্ভূত রো খান্না এবং স্টিভ চ্যাবট এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ভারতীয় বার্তাসংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) এই খবর দিয়েছে।
প্রস্তাবটিতে ১৯৭১ সালে বাঙালি এবং হিন্দুদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর চালানো নৃশংসতাকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাবটির নাম ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যার স্বীকৃতি’।
এ ছাড়া পাকিস্তানকে বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার জন্য এবং যেসব অপরাধী এখনো বেঁচে আছে তাদের বিচার করার জন্যও আহ্বান জানানো হয় এতে।
প্রস্তাব উত্থাপনের পর এক টুইট বার্তায় চ্যাবট বলেন, ওই বছরের লাখ লাখ মানুষকে হত্যার স্মৃতি আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়। ওই হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তা ইতিহাসের দলিলকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আমাদের সহকর্মী আমেরিকানরা তা থেকে শিক্ষালাভ করবে। আর অপরাধীরা জানবে এই ধরনের অপরাধ মেনে নেয়া হবে না বা ভুলে যাওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে একটি গণহত্যা হয়েছিল। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, এখন যেটি বাংলাদেশ- সেখানে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। নিহতদের ৮০ ভাগ ছিল হিন্দু। আমার মতে, তা অন্যান্য গণহত্যার মতোই গণহত্যা ছিল। যেমনটা হলোকাস্টে ঘটেছিল। অন্যান্য যে গণহত্যা হয়েছিল সেটিও তেমন একটি ছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত সত্যিই গণহত্যার সংজ্ঞা দিয়ে তা ঘোষিত হয়নি। আমরা এখন এটি নিয়ে কাজ করছি। এ ছাড়া রো খান্না টুইটে বলেন, তিনি চ্যাবটের সঙ্গে মিলে ১৯৭১ সালের বাঙালি গণহত্যার স্মরণে প্রথম প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেছেন। ১৯৭১ সালে লাখ লাখ বাঙালি ও হিন্দুকে হত্যা বা বাস্তুচ্যুত করা হয়েছিল যা বর্তমান সময়ে ভুলে যাওয়া গণহত্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম।
প্রস্তাবটিতে বলা হয়, ১৯৭০ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনে জয়লাভ এবং পরবর্তীতে ইয়াহিয়া ও ভুট্টোর সঙ্গে তাঁর আলোচনা ব্যর্থ হয়। জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তার জেনারেলদের বলেছিল ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা করো এবং বাকিরা আমাদের হাত চাটবে। এতে আরও বলা হয়, ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার এবং সামরিক বাহিনী ও উগ্র ইসলামিক দলের সহায়তায় অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে। এদিকে উত্থাপিত এ প্রস্তাবটিকে বাংলাদেশিরা স্বাগত জানিয়েছেন।
জাতীয় গণহত্যা দিবস:
১৯৭১ সালের এই দিনে রাতের আঁধারে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। অপারেশন সার্চলাইট নামে তারা মেতে ওঠে ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যায়। জাতির জীবনে আসা এই ‘ভয়াল কালরাত’-এ ঘুমন্ত বাঙালিকে নির্বিচারে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনারা।
জাতীয় সংসদে ২০১৭ সালের ১১ মার্চ এদিন অর্থাৎ ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। তখন থেকে দিনটি জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
ওইদিন পিলখানা, রাজারবাগ, নীলক্ষেত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একযোগে আক্রমণ করে পাকিস্তানি সেনারা। মেশিন গানের গুলিতে, ট্যাংক-মর্টারের গোলা আর আগুনের লেলিহান শিখায় পুরো নগরীতে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৯ শিক্ষককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়, তাদের আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পায়নি রোকেয়া হলও। বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে চলে নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ।
ওই রাতে বাঙালি জাতির মুক্তির দিশারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তান নিয়ে যায় হানাদার বাহিনী। তার আগেই ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে (২৫ মার্চ মধ্যরাতে) দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু। যে কোনো মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি জাতি অর্জন করে স্বাধীনতা।
তামাকজনিত মৃত্যুর প্রতীকী লাশের কফিন নিয়ে রাজধানীতে মানববন্ধন
অবিলম্বে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিতে প্রতীকী লাশের কফিন নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান), অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) এবং প্রত্যাশা মাদক
বিরোধী সংগঠন। এসময় বক্তারা বলেন বাংলাদেশে বছরে তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ মারা যায়। আইন সংশোধনে যত দেরি হবে তামাকজনিত মৃত্যু ততই বাড়তে থাকবে। মানববন্ধন শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, তামাকের ব্যবহার হ্রাসে সংশোধনীর মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
ইতিমধ্যে খসড়া সংশোধনী প্রস্তাব ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং অংশীজনের মতামত গ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলো সরকারের এই মহতি উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে নানাবিধ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এফসিটিসি-তে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা ও পদক্ষেপসমূহ তামাক কোম্পানির ব্যবসায়িক ও অন্যান্য স্বার্থ থেকে সুরক্ষা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। বিশেষ করে এফসিটিসি আর্টিক্যাল ৫.৩ এ তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে সরকারকে তামাক কোম্পানির প্রভাবমুক্ত থাকতে সুপারিশ করা হয়েছে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে আরো জানানো হয়, বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ৩৫.৩ শতাংশ (৩ কোটি ৭৮ লক্ষ) তামাক ব্যবহার করে। দেশে তামাক ব্যবহারজনিত মৃত্যু ও অসুস্থতায়
বছরে ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়, যা তামাকখাত থেকে অর্জিত রাজস্ব আয়ের চেয়ে অনেক বেশি। তামাক ব্যবহারজনিত এই ক্ষয়ক্ষতি এবং ভয়াবহতা উপলব্ধি করে প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং এ লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল- এফসিটিসি’র সাথে সামঞ্জস্য রেখে ২০১৬ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের খসড়া সংশোধনীতে যেসব প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তারমধ্যে রয়েছে সকল পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ‘ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান’ রাখার বিধান বিলুপ্ত করা; বিক্রয়কালে তামাকজাত দ্রব্য বা প্যাকেট প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা; তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা; সব ধরনের খুচরা বা খোলা তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা; ই-
সিগারেট, ভ্যাপিং, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টসহ এধরনের সকল পণ্য উৎপাদন, আমদানি ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা; এবং তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট বা মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৯০ শতাংশ করা ইত্যাদি। ক্যাম্পেইন ফর
টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে) এর সহায়তায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন, টিসিআরসি, ডরপ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, নাটাব, ধূমপান মাদক ও দুর্নীতি বিরোধী ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহছানিয়া মিশনসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত বাংলাদেশ
সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে আগামী তিন বছরের জন্য জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৩ সাল থেকে এ মেয়াদ শুরু হবে।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের হলে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি সাবা কোরেসি।
এ নির্বাচনের ভোট প্রদানের সময় সাধারণ পরিষদের হলে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। নির্বাচনে জয়লাভের পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে ৪৭ সদস্যের এই কাউন্সিলে বাংলাদেশ পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হলো। এটি জাতিসংঘের মানবাধিকার ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবদানের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গভীর আস্থা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাউন্সিলের দায়িত্ব পালনে আমাদের দক্ষতারই একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ।’
নির্বাচনকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিত। বিপুল ভোটে বাংলাদেশকে মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত করায় সদস্য দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান তিনি। বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারের প্রচার ও সুরক্ষায় জাতিসংঘের নেতৃত্বকে শক্তিশালী করতে সবার সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিত।
এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ থেকে সর্বোচ্চ ১৬০ ভোট পেয়েছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া এ অঞ্চল থেকে নির্বাচিত অন্য সদস্যরা হলো−মালদ্বীপ (১৫৪), ভিয়েতনাম (১৪৫) ও কিরগিজস্তান (১২৬)।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এবারের নির্বাচন ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, বিশেষ করে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ছয়টি দেশ এ অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত চারটি আসনের জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। জাতিসংঘ বিশেষ করে মানবাধিকার কাউন্সিলে আমাদের গঠনমূলক ও নীতিগত উপস্থিতির ফলে আজ আমরা বিপুলসংখ্যক ভোটে জয়লাভ করতে পেরেছি।’
নির্বাচনের পর সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান। তাঁরা গণতন্ত্র, মানবাধিকার, শাসন ব্যবস্থা এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক নেতৃত্ব এবং বিশ্ব শান্তির জন্য তার সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন।
সবার প্রত্যাশা, মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ মানবাধিকারের ক্ষেত্রে বিশেষ করে উদীয়মান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের আদর্শ বাস্তবায়নে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।










