হেফাজতে ইসলামের সহিংসতার আরেকটি মামলায় মামুনুল হককে ৩ দিনের রিমান্ডে দিয়েছে আদালত। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার নারায়ণগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিম ফারহানা ফেরদৌসের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, হেফাজতে ইসলামের সহিংসতার একটি মামলায় মামুনুল হককে গ্রেফতার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পিবিআই। আদালত শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক আরিফুর রহমান জানান, এক আসামি তার জবানবন্দিতে হেফাজতে ইসলামের সাবেক কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার নাম প্রকাশ করেন। তারা জানান, হরতালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে জ্বালাও-পোড়াওসহ গাড়ি ভাঙচুরের নির্দেশ দেন মামুনুল হক। তাই তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৬ মার্চ রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে হেফাজতের কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের জেরে সহিংসতা হয় নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জসহ আরও কয়েক জেলায়।
পরে ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি রিসোর্টে এক নারীসহ স্থানীয়দের হাতে অবরুদ্ধ হন মামুনুল। এরপর ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে মামুনুলকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ। গত ১২ মে পাঁচ মামলায় মামুনুলকে ১৫ দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ।
সহিংসতার আরেক মামলায় মামুনুল হক ৩ দিনের রিমান্ডে
বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা ও তাদের সন্তানরা পাবেন এসএসএফের নিরাপত্তা
ক্ষমতায় না থাকলেও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যরা এসএসএফের বিশেষ নিরাপত্তা পাবেন। আর বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যরা হলেন তাঁর দুই কন্যা ও তাদের সন্তানেরা। সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ মে) মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক শেষে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আনোয়ারুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ৮৬ সালের এক অধ্যাদেশ অনুযায়ী এসএসএফ পরিচালিত হতো। তবে সামরিক সরকারের অধ্যাদেশ আইনে পরিবর্তন করার জন্য আদালতের রায় রয়েছে। সেই রায় বাস্তবায়ন করতে গিয়ে এটিকে আইনে পরিবর্তন করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই আইনে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ মেহমানদের দৈহিক নিরাপত্তা দেবে এসএসএফ। এর বাইরে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদেরকেও দৈহিক নিরাপত্তা দেবে এই বিশেষ বাহিনী।
তিনি জানান, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য হিসেবে তার দুই মেয়ে, তাদের সন্তান ও তাদের সন্তানরা বিশেষ বাহিনীর এ নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন।
এসময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য আলাদা আইন রয়েছে, এরপরেও আলাদাভাবে এই সুবিধা কেন?
জবাবে সচিব বলেন, ওইটি আলাদা একটি আইন। সেই আইনের সঙ্গে এই আইনের সম্পর্ক নেই। এসএসএফ আইনে বঙ্গবন্ধুর সদস্যরা নিরাপত্তার সুবিধা পাবেন।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি বৈঠকে যুক্ত হন। অন্যদিকে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা সচিবালয় থেকে যুক্ত হন।
রিমান্ড শেষে কারাগারে বাবুল আক্তার,স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন নি, সোর্স মুছাকে চিনতে পেরেছেন
চট্টগ্রামে মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তার স্বামী সাবেক এসপি বাবুল আক্তারকে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার তাকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন- পিবিআই।
পুলিশ বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিলেও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হননি বাবুল আক্তার। পিবিআইয়ের পক্ষ থেকেও নতুন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়নি।
পরে চট্টগ্রামের মহানগর হাকিম সরোয়ার জাহান পিবিআইয়ের আবেদনে বাবুল আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিচারকের খাস কামরা থেকে বের হওয়ার সময় বাবুল আক্তারকে বিমর্ষ দেখা যায়। এসময় তিনি কিছু বলতে চেষ্টা করলেও পুলিশের ঘেরাওয়ের মধ্যে সুযোগ পাননি।

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুলকে আদালত থেকে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নেওয়ার সময়ও ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী সাহাবুদ্দিন আহমদ বলেন, “উনাকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে বলা হলেও তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। আমরা কোনো রিমান্ডের আবেদন করিনি। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।”
২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় খুন হন চট্টগ্রামে বিভিন্ন জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতস্ত্রী হত্যার বিচার চেয়ে বাবুল আক্তার নিজে বাদী হয়ে যে মামলা করেছিলেন, তার তদন্ত করতে গিয়ে সম্প্রতি হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা জানায় পিবিআই। এরপর সেই মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। বাবুলের বিরুদ্ধে নতুন মামলা করেন তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন।
গত ১২ মে ওই মামরায় বাবুলকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান বিচারক।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বেশ কিছু প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন, আবার কিছু এড়িয়েও গেছেন। সবকিছু তদন্তের স্বার্থে বলা যাবে না।”
তবে মিতু হত্যার আসামি কামরুল ইসলাম শিকদার মুছা যে বাবুলের ‘সোর্স’ ছিলেন, সে কথা তিনি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন বলে তদন্ত কর্মকর্তার দাবি।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় উপস্থিত ছিলেন, এমন একজন পিবিআই কর্মকর্তা বলেন, “প্রথম কয়েকদিন বাবুল আক্তার মুখ খোলেননি। তিনি শুধু বলে গেছেন, সবকিছু যেহেতু আমরা জানি, সেহেতু তদন্ত করে বের করা হোক।”
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ভিডিও দেখে ওই খুনে একাধিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছিল পুলিশ। যাদের মধ্যে ছিলেন বাবুলের ‘সোর্স’ মুছাও। কিন্তু তখন তাকে ‘চিনতেই পারেননি’ বাবুল। কিন্তু রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে এক পর্যায়ে মুছাকে তিনি চিনতে পেরেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
পাঁচলাইশ থানায় মোশাররফ হোসেনের করা নতুন মামলায় বাবুলের পাশাপাশি মুছাকেও আসামি করা হয়েছে। তাকে পাঁচ বছর আগে পুলিশ ‘তুলে নিয়ে যায়’ বলে দাবি করে আসছেন মুছার স্ত্রী পান্না আক্তার। তবে পুলিশের দাবি, তারা মুছাকে ‘খুঁজছে’। তথ্য সূত্র-বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
রাজধানীর পল্লবীতে জমি নিয়ে বিরোধ, ছেলের সামনে বাবার মাথা বিচ্ছিন্ন করল সন্ত্রাসীরা
রাজধানীর পল্লবীতে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ৭ বছরের ছেলের সামনে প্রকাশ্যে তার বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম মো. শাহিনউদ্দিন (৩৪)। রোববার বিকেলে পল্লবীর ১২ নম্বর ডি-ব্লকে ৩১ নম্বর রোডের ৩৬ নম্বর বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুমন ও তার বাহিনী এ ঘটনা ঘটিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাস আগেও সুমনের বাহিনী শাহিনউদ্দিনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় ওই সময় পল্লবী থানায় সুমন ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলাও হয়। এ ছাড়া গত কয়েক মাসের ব্যবধানে সুমন ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজীসহ অন্তত চারটি মামলা হয়েছে পল্লবী থানায়।
ব্যাটারিচালিত রিকশার টোকেন বাণিজ্য, মাদক ও জুয়া খেলাসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে সুমন বাহিনীর বিরুদ্ধে। কিন্তু স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় সুমন ও তার বাহিনীর সদস্যরা হয়ে ওঠেন বেপরোয়া।
পুলিশের ধারণা, জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে খুনের ঘটনাটি ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে অভিযুক্ত সুমন পলাতক রয়েছেন। তবে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাতে অভিযুক্ত সুমনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ওপাশ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি।
হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী নিহত শাহিনউদ্দিনের ৭ বছরের ছেলে মাশরাফি ও তার স্বজনরা জানায়, পল্লবীর ১২ নম্বর সিরামিক রোডে সপরিবারে থাকতেন শাহিনউদ্দিন। রোববার বিকেলে বাসা থেকে ছেলে মাশরাফিকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বের হন শাহিনউদ্দিন। বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে সুমন নামের এক যুবক মোবাইল ফোনে কল দিয়ে শাহিনউদ্দিনকে পল্লবীর ১২ নম্বর ডি-ব্লক ৩১ নম্বর রোডে দেখা করার জন্য আসতে বলেন।
সেখানে পৌঁছালে মাশরাফিকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে তার বাবার সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ায় সুমন। একপর্যায়ে মাশরাফির চোখের সামনেই তার বাবাকে লাথি মেরে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেয় সুমনসহ আরও ৬ থেকে ৭ জন। এরপর তারা শাহিনউদ্দিনকে মাটিতে ফেলে বড় বড় ছুরি (চাপাতি, রামদা) দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। একজন বড় একটি পাথর ছুঁড়ে মারে তার বাবার ওপর। বাঁচার জন্য শাহিনউদ্দিন পাশের একটি বাড়ির গ্যারেজে আশ্রয় নিলে সন্ত্রাসীরা সেখানে ঢুকেও তাকে কোপায়। এ সময় ধর থেকে তার বাবার মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পুলিশ সূত্র জানায়, স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত সুমন গ্রুপের সঙ্গে প্রভাব বিস্তার নিয়ে শাহিনউদ্দিনের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। এ ছাড়া সরকারি জমি দখল নিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে একাধিকবার হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনায় পল্লবী থানায় উভয়ের নামেই একাধিক মামলা রয়েছে। চলমান বিরোধের জেরে রোববার বিকেলে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে শাহিনউদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন পলাতক খুনীদের গ্রেপ্তার করলেই ঘটনার আদ্যপান্ত পরিস্কার হওয়া যাবে।
পল্লবী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে শাহিনউদ্দিন নামের ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যার পেছনে সম্ভাব্য সব বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে। তথ্য সূত্র-আমাদের সময়।
মিতু হত্যা: নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে দুই আসামি ওয়াসিম ও আনোয়ারকে
রোববার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সরোয়ার জাহান এই আদেশ দেন। এই দুই আসামি মোতালেব মিয়া ওয়াসিম ও আনোয়ার হোসেন ‘সরাসরি হত্যাকাণ্ডে’ অংশ নিয়েছিলেন বলে গ্রেপ্তারের পর দাবি করেছিল পুলিশ।
২০১৬ সালের ২৬ জুলাই থেকে তারা চাঞ্চল্যকর এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী সাহাবুদ্দিন আহমদ জানান, পিবিআই মিতু হত্যা মামলায় আনোয়ার ও ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে তা মঞ্জুর করেছে।
মিতু হত্যার ২০ দিন পর ২০২৬ সালের ২৬ জুন ওয়াসিম ও আনোয়ারকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছিল পুলিশ। ওই দিনই মহানগর হাকিম হারুন অর রশীদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন তারা।
হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল আক্তার বাদি হয়ে করা মামলায় চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছিল।
গত ১২ মে মিতুর বাবা মোশারফ হোসেনের করা মামলাতেও তারা যথাক্রমে ৪ ও ৫ নম্বর আসামি।
এই দু’জন ‘সরাসরি হত্যাকাণ্ডে’ জড়িত ছিলেন বলে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের তৎকালীন কমিশনার ইকবাল বাহার জানিয়েছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পর মোটরসাইকেলে যে তিনজনকে পালাতে দেখা গিয়েছিল, ওয়াসিম তাদের একজন। সেই (ওয়াসিম) মিতুকে গুলি করেছে। আনোয়ার অনুসরণকারীদের একজন ছিলেন বলে ওই সময় জানিয়েছিলেন ইকবাল বাহার আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে ওয়াসিম জানায়, নবী, কালু, মুছা ও তিনি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেন, নবী ও কালু মিতুকে ছুরিকাঘাত করে।
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি বাবুল আক্তারের সোর্স হিসেবে পরিচিত নগরীর বাকলিয়া এলাকার এহেতেশামুল হক ভোলা সরবরাহ করেছিল বলেও জবানবন্দিতে ওয়াসিম জানায়।
২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় খুন হন চট্টগ্রামে বিভিন্ন জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া এবং পরে পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু।
প্রকাশ্য সড়কে কুপিয়ে ও গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় তাকে।
এদিকে মামলার প্রথম তদন্তকারী সংস্থা চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ মিতু হত্যারহস্যের কোনো কূলকিনারা করতে না পারায় ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তে আসে পিবিআই।
দেড় বছর তদন্তের পর গত ১২ মে পিবিআই জানায়, ভাড়াটে খুনি দিয়ে বাবুল আক্তার স্ত্রীকে খুন করিয়েছিলেন বলে প্রমাণ পেয়েছেন তারা।
এরপর চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় বাবুলসহ আটজনকে আসামি করে মামলা করেন শ্বশুর মোশাররফ হোসেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বাবুলের ‘সোর্স’ কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছা, এহতেশামুল হক ভোলা, মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, সাইদুল আলম শিকদার ওরফে সাক্কু, শাহজাহান ও খায়রুল ইসলাম কালু।
এদের মধ্যে বাবুল আক্তার বাদি হয়ে করা মামলায় জামিনে থাকা সাইদুল আলম শিকদার ওরফে শাক্কুকে গত সপ্তাহে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রানীরহাট থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তথ্য সূত্র-বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
দু’ধরনের ভ্যাকসিনের ডোজ নেওয়া কতটা ক্ষতিকর? অক্সফোর্ডের গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ভ্যাকসিন নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে বলছেন চিকিৎসকরা। সব দেশেই জোরকদমে চলছে টিকাকরণও। কিন্তু এরই মধ্যে একাধিক বার এমন খবরও এসেছে যে, একই ব্যক্তি দু’বারে, দু’টি ভিন্ন টিকার ডোজ পেয়েছেন। প্রথমে কোভিশিল্ড নিলেও পরে হয়তো ভুলবশত কোভ্যাক্সিনের ডোজ দেওয়া হয়েছে তাকে। কিংবা ঘটেছে উল্টোটাও। যেমন অ্যাস্টেজেনিকার কোভিশিল্ট টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন কিন্তু দ্বিতীয় ডোজটি পাওয়া যায় নি। সে ক্ষেত্রে অন্য কোম্পানির টিকা দেয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই ধরনের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে পরিণতি সম্পর্কে। স্বাস্থ্যের কোনও সংকট ঘনিয়ে আসবে না তো, এই প্রশ্নই জেগেছে টিকা প্রাপকদের মনে। সম্প্রতি একটি সমীক্ষা রিপোর্টে সেই সব প্রশ্নেরই উত্তর দেওয়া হয়েছে।
ওই রিপোর্টে জানা গিয়েছে, যাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ‘ভ্যাকসিন মিক্সআপ’—এর ঘটনা ঘটেছে, তাদের বড় ধরনের কোনও বিপদ না ঘটলেও অল্প থেকে মাঝারি কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। আর এই তালিকায় রয়েছে জ্বর, কাঁপুনি, ক্লান্তি, মাথাব্যথা প্রভৃতি। এই রিপোর্টটি ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। আর সেখানে গবেষকরা জানিয়েছেন, দু’ধরনের ভ্যাকসিন ডোজ নিলে, ঠিক সেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলিই দেখা যাচ্ছে, যা, যে কোনও প্রতিষেধকের প্রথম ডোজ গ্রহণের পর ঘটছে। পার্থক্য একটাই। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলি বার বার ঘটছে। এমনটাই জানিয়েছেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির, পেডিয়াট্রিক্স ও ভ্যাকসিনোলজির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, ডা. ম্যাথিউ স্ন্যাপ। যিনি এই সমীক্ষার ফলকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে ঘোষণা করেছেন।

যে সমীক্ষা থেকে এই রিপোর্ট জানা গিয়েছে, সেটি পরিচালনা করেছিল অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপের কম কভ ভ্যাকসিন ট্রায়াল। ব্যবহৃত হয়েছিল চারটি বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি টিকা এবং ফাইজার-বায়োএনটেকের তৈরি টিকা। সমীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন ৮৩০ জন। প্রথম দফায় একটি দলকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ডোজ এবং ২৮ দিন পরে, তাদের ফাইজারের টিকার ডোজ দেওয়া হয়েছিল। আবার অন্য দলকে, দু’বারই হয় অ্যাস্ট্রাজেনেকার ডোজ বা ফাইজারের টিকার ডোজ দেওয়া হয়েছিল। দেখা যায়, যাদের ‘মিক্সড’ ডোজ দেওয়া হয়েছিল, অন্যদের তুলনায় তাঁদের শরীরে বেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। তবে হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর প্রয়োজনীয়তা কারোই পড়েনি।
প্রসঙ্গত বাংলাদেশেও এ সমস্যা দেখা দেয়ার আশংকা রয়েছে। ভারতের সেরাম ইন্সস্টিটিউটের অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন এমন ১৪ লাখ লোক দ্বিতীয় ডোজ পাবেন না বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ চুক্তি থাকলেও সেরাম ইন্সস্টিটিউট টিকা উৎপাদন করতে না পরায় বাংলাদেশে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে সেরামের টিকা পাওয়া তাদের জন্য অনিশ্চিত। এ অবস্থায় চীন থেকে পাওয়া টিকা নিলে শরীরে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয় কি না এ নিয়ে অনেকেই চিন্তিত।
এসপি বাবুল মত্ত থাকতেন পরনারীতে; ঠাণ্ডা মাথায় খুন করান স্ত্রী মিতুকে,বেরুচ্ছে চাঞ্চল্যকর তথ্য
এক নারী লিপ্সু পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন সাবেক এসপি বাবুল আক্তার। ২০ বছরের চাকরি জীবনে যেখানেই চাকরি করেছেন সেখানেই জড়িয়েছেন নারী কেলেংকারিতে। এসব জানতেন স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। জানতো দুই পরিবারের লোকজনও। বাবুলের অসৎ চরিত্র থেকে ফিরিয়ে আনতে অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু নারী লিপ্সু বাবুলকে কোনো ভাবেই নিবৃত্ত করা যায় নি। এ নিয়ে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকতো। দুই সন্তানের দিকে তাকিয়ে সবকিছু সহ্য করেছেন মিতু। কিন্তু তাতেও তার শেষ রক্ষা হলো না। পরিকল্পিত ভাবে ঠাণ্ডা মাথায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে তাকে খুন করা হলো। আর এর মধ্যে দিয়ে বাবুলের ভয়ঙ্কর চরিত্রের প্রকাশ পেলো।

বুধবার মিতুর বাবা তার মেয়েকে হত্যার জন্য বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরর পর পিবিআই বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার জাহানের আদালতে শুনানি শেষে এ আদেশ দিয়েছেন। একই সময় আদালত রিমান্ডের প্রতিবেদন ১০ দিনের মধ্যে দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।’
২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় সড়কে খুন হন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু। খুনিরা গুলি করার পাশাপাশি ছুরিকাঘাতে তাকে হত্যা করে। ঘটনার সময় বাবুল আক্তার ঢাকায় ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল আক্তার নিজে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পায়। এরপর গত ১০ মে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেয় পিবিআই।
অন্যদিকে, বুধবার দুপুরে মিতু হত্যা মামলায় বাবুলের দায়ের করা হত্যা মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পিবিআই। এরপর দুপুর ১টার দিকে পাঁচলাইশ থানায় হাজির হয়ে বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন। মামলায় বাবুল আক্তারসহ আট জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর বাদী মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মামলায় বাবুলের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযোগ আনা হয়। এ মামলায় আট জনকে আসামি করা হয়েছে। অপর আসামিদের সঙ্গে সমন্বয় করে সে তার স্ত্রীকে হত্যা করে। কক্সবাজার থাকা অবস্থায় ২০১৩ সাল থেকে অন্য নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে বাবুল। এটি নিয়ে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। ওই ঘটনার জের ধরেই সে মিতুকে হত্যা করে।’ তিনি বলেন, ‘একজন এনজিও কর্মীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। ওই নারী মিতুকে মোবাইলে এসএমএস দিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। বাবুল আক্তারের অন্তরঙ্গ ছবি পাঠিয়ে বাবুলের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা জানায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ শুরু হয়।’ এতদিন পর কেন মামলা করলেন জানতে চাইলে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘একটি ঘটনায় দুটি মামলা হয় না। আসামি ছাড়াও মামলা হতে পারে। আইও তদন্ত করে আসামি বের করবে। আর যেহেতু প্রথম মামলাটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তাই আমি মামলাটি দায়ের করেছি। না হলে সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশকে মামলাটি করতে হতো। যেহেতু পুলিশ করেনি, তাই আমি মামলাটি দায়ের করেছি। আগের মামলায় কয়েকজন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যগুলো এই মামলায় যোগ হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে তার (বাবুল) সঙ্গে আমাদের কোনও যোগাযোগ নেই। শুনেছি সে একটা বিয়ে করেছে।’ মামলার বাকি আসামিরা হলেন—কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুসা, এহতেশামুল হক ভোলা, মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম, আনোয়ার হোসেন, খায়রুল ইসলাম ওরফে কালু, সাইফুল ইসলাম সিকদার ওরফে শাকু ও শাহজাহান মিয়া। বাবুল ছাড়া এই সাত আসামি আগের দায়ের করা মামলারও আসামি ছিলেন। এর আগে বেলা ১১টার দিকে ঢাকায় পিবিআই সদর দফতরে এক প্রেস ব্রিফিং এ সংস্থাটির ডিআইজি বনজ কুমার সাংবাদিকদের জানান, বাবুল আক্তার বর্তমানে চট্টগ্রামের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) হেফাজতে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাবুল আক্তারের করা মিতু হত্যার মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে আমাদের সামনে কিছু প্রশ্ন এসেছে। সেগুলোর সমাধান খুঁজতে গিয়ে মামলা অন্যদিকে মোড় নিয়েছে। তাই বাবুল আক্তারের মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় মিতুর বাবা একটি মামলা করবেন, সেই মামলায় প্রধান আসামি হবেন বাবুল আক্তার। এই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে।’ মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাবুল আক্তার খ্যাতিমান পুলিশ অফিসার ছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে তার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে। এই হত্যা মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি। এই মামলাটি আমরা তদন্ত করছি। হাইকোর্টেও এই মামলা নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে। তখন এই মামলাটি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। সেই সময় মামলার বাদী হয়েছিলেন মাহমুদা খানমের স্বামী বাবুল আক্তার। সেই মামলায় দুজন আসামি আনোয়ার ও ওয়াসিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সেখানে বাবুল আক্তারের কোনও সম্পৃক্ততা আসেনি। দেড় বছর ধরে কোভিড-১৯-এর কারণে তদন্তে কিছুটা বিলম্ব হয়। মামলাটি নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে, দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। তাই মামলাটি নিষ্পত্তি করতে কিছু প্রশ্ন আমাদের সামনে আসে। সেই প্রশ্নগুলো সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
আরও যা জানা যায়:
২০১৩ সালে কক্সবাজারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে ভিনদেশি এক এনজিও কর্মীর সঙ্গে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েন বাবুল আক্তার। বিষয়টি তার স্ত্রী মিতুর কান পর্যন্ত পৌঁছে। ২০১৪ সালে বাবুল আক্তার সুদানে জাতিসংঘের মিশনে যান। তখন তার বাসায় দুটি বই উপহার পাঠান ওই নারী। বাংলাদেশে রেখে যাওয়া বাবুলের মোবাইল ফোনেও একাধিক মেসেজও পাঠান তিনি। একটি বইয়ে ওই নারী লিখেছেন- আমাদের ভালো স্মৃতিগুলো অটুট রাখতে তোমার জন্য এই উপহার। আশা করি এই উপহার আমাদের বন্ধনকে চিরস্থায়ী করবে। ভালোবাসি তোমাকে…। ওই নারী বাবুল আক্তারের সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতিচারণও করেন। মিতুর বাবা জানান, এসব ঘটনায় বাবুল ও মিতুর পারিবারিক অশান্তি চরমে পৌঁছে। বাবুলের এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তিনি মিতুকে নির্যাতন করেন বলে মিতু মৃত্যুর আগে তাদের জানান।
সংসদ ভবনে তলোয়ার নিয়ে হামলার পরিকল্পনা: গ্রেপ্তার দুই জঙ্গি ফের রিমান্ডে
জাতীয় সংসদ ভবনে ‘জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা ও উসকানির’ ঘটনায় গ্রেপ্তার আবু সাকিব ওরফে আল আমিন এবং আলী হাসান ওসামাকে দ্বিতীয় দফায় দুইদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত।
প্রথম দফায় পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে বুধবার আসামিদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। তদন্তের স্বার্থে ফের সাতদিন করে তাদের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক কাজী মিজানুর রহমান।
শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান তাদের দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মহানগর পুলিশের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার জাফর হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে ৬ মে দুই আসামিকে পাঁচদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিল আদালত। দুইজনের মধ্যে আবু সাকিব ওরফে আল আমিন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য এবং আলী হাসান ওসামা একজন ‘উগ্রবাদী বক্তা’ বলে পুলিশের ভাষ্য।
গত ৫ মে সন্ধ্যায় শেরে বাংলা নগর থেকে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এ ছাড়া এই হামলার পরিকল্পনায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে একইদিন উগ্রবাদী বক্তা আলী হাসান ওসামাকে রাজবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামিলার নথি থেকে জানা যায়, গত ৫ মে সন্ধ্যার পর সংসদ ভবনের সামনে থেকে ‘তলোয়ার এবং কালো পতাকাসহ’ আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উগ্রবাদী বক্তা আলী হাসান ওসামার কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সে শহীদ হতে সংসদ ভবনে হামলার জন্য এসেছি
বাজেট অধিবেশন বসছে ২ জুন
জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন আগামি ২ জুন বসবে। সংসদ সচিবালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মঙ্গলবার এই অধিব্শেন আহ্বান করেছেন।
২ জুন বিকাল পাঁচটায় অধিবেশন শুরু হবে। এই অধিবেশনে ২০২১-২২ অর্থ বছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী।
পুরো অধিবেশন জুড়ে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা।
গত বছর বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছিল ১০ জনু।
সংক্ষিপ্ত ওই অধিবেশনে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আ. হ. ম. মুস্তাফা কামাল। পরে ৩০ জুন আকার ঠিক রেখে ওই বাজেট পাস হয় সংসদে। ওই বাজেট আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৩.২৪ শতাংশ বেশি ছিল।
বাজেট অধিবেশন সাধারণ দীর্ঘ হয়। তবে করোনাভাইরাস মাহামীরর মধ্যে গত বছর বাজেট অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হয়। নয় কার্যদিবসের ওই অধিবেশন ছিল ইতিহাসের সংক্ষিপ্ততম বাজেট অধিবেশন।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহামারীকালের এই অধিবেশনও সাম্প্রতিক সময়ের অধিবেশনগুলোর মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে। গত অর্থবছরের মতো এবারও বাজেট অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হতে পারে।
জীবাণুঅস্ত্র তৈরীর পরীক্ষানিরীক্ষা; চীনা সেনাবাহিনীর গবেষণাগার থেকেই ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস, দাবি চীনা ভাইরাস বিশেষজ্ঞের
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে জীবাণুঅস্ত্র ব্যবহারের পরীক্ষানিরীক্ষা চালাচ্ছিলো চীন। চীনের সেনাবাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র গবেষণাগার এ নিয়ে চলছিলো গবেষণা। আর সেই গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। যা আজ বিপর্যয় নেমে এসেছে পৃথিবীজুড়ে। চীনা সেনাবাহিনী ও বিজ্ঞানীরা ধারনাই করতে পারেন নি করোনাভাইরাসের এই ভয়ংকর রূপ হবে। দেশটির হুবেই প্রদেশের উহান শহরের গবেষণাগার থেকে যখন ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ ও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে, হাসপাতালে বাড়তে থাকে রোগির সংখ্যা তখন টনক নড়ে চীন সরকারের। শুরুতে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয় এক চিকিৎসক এই ভাইরাসের কথা প্রকাশ করায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে তার আর খোঁজ পাওয়া যায় নি। সংবাদ মাধ্যমেও কোনো খবর প্রকাশ করতে দেয়নি সরকার। দুজন সাংবাদিক খবরটি সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন এবং তাদেরও পরে খোঁজ মেলেনি। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ছড়িয়ে পড়া এই করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৩৫ লাখ লোকের মৃত্যু হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পৃথিবী।
বিশ্বজুড়ে এই মহাবিপর্যয়ের জন্য শুরু থেকে চীনকে দায়ি করে আসছে বিভিন্ন দেশ। দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ। কিন্তু চীন বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে। তবে শেষ পর্যন্ত চীনের একজন ভাইরাস বিশেষজ্ঞ স্বীকার করেছেন চীন সেনাবাহিনীর গবেষণাগার থেকেই এই করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে। আর জীবানুঅস্ত্র বানানোর জন্য এই গবেষণাগারে গবেষণা চলছিলো। জীবাণুযুদ্ধের মহড়া হিসাবে তা ইচ্ছাকৃত ভাবেই ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল পরিবেশে।
chaina corona

অষ্ট্রেলিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা বিজ্ঞানীরা করোনা ভাইরাসকে জীবাণুঅস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন ২০১৫ সালে। ‘দ্য আন-ন্যাচারাল অরিজিন অব সার্স অ্যান্ড নিউ স্পেসিস অব ম্যান-মেড ভাইরাসেস অ্যাজ জেনেটিক বায়োউইপনস’ শীর্ষক এক ডকুমেন্টে বলা হয়েছে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে এই জীবাণুঅস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করা যাবে। ওই ডকুমেন্টটি ২০১৫ সালে লিখেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। এতে বলা হয়েছে সার্স করোনা ভাইরাস হলো নতুন এক জেনেটিক অস্ত্র। যাকে কৃত্রিমভাবে মানবরোগের ভাইরাস হিসেবে আবির্ভাব করানো যেতে পারে। তারপর তাকে জীবাণুঅস্ত্র হিসেবে অবমুক্ত করা যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার উইকলি অস্ট্রেলিয়ান-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে এসব কথা লিখেছে এনডিটিভি।
এতে দেখা যায়, কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর ৫ বছর আগে সার্স করোনা ভাইরাসকে জীবাণুঅস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন চীনের সামরিক বাহিনীর বিজ্ঞানীরা। এ বিষয়ে উইকলি অস্ট্রেলিয়ানের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে news.com.au এই সাইটে। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট (এএসপিআই)-এর নির্বাহী পরিচালক পিটার জেনিংস বলেছেন, আমরা যা পেয়েছি এই ডকুমেন্ট থেকে তা বন্দুকের গুলি ছুড়ে দেয়ার সময় যে ধোয়া বের হয় তারই মতো। আমি মনে করি এটা খুব উল্লেখযোগ্য বিষয়। কারণ এ ডকুমেন্ট খুব পরিষ্কারভাবে দেখিয়ে দেয় যে, করোনাভাইরাসের বিভিন্ন স্ট্রেইনের সামরিক ব্যবহারের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছিলেন চীনা বিজ্ঞানীরা।
তারা চিন্তাভাবনা করছিলেন এই করোনা ভাইরাসের স্ট্রেইনকে কিভাবে ছড়িয়ে দেয়া যায়। আমরা এখন যে অবস্থায় আছি, এটা হতে পারে সামরিক ব্যবহারের প্যাথোজেন (করোনা ভাইরাস) দুর্ঘটনাক্রমে অবমুক্ত হয়ে থাকতে পারে। তিনি আরো বলেন, এই ডকুমেন্টই বলে দেয় কেন কোভিড-১৯ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর তদন্তের ক্ষেত্রে চীন এত অনীহা প্রকাশ করে। যদি চীনের সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তো তাহলে নিজেদের স্বার্থেই তদন্তে সহযোগিতা করার কথা ছিল চীনের।কিন্তু আমরা চীনকে দেখতে পাচ্ছি বিপরীত অবস্থানে।
সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রবার্ট পটার চীন সরকারের ফাঁস হওয়া ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ করেছেন। তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন দ্য অস্ট্রেলিয়ান পত্রিকার সাংবাদিক। জবাবে রবার্ট পটার বলেছেন, এই ডকুমেন্টটি কোনোভাবেই ভুয়া হতে পারে না। আমরা উচ্চ পর্যায়ে আস্থায় পৌঁছেছি যে, এটা প্রকৃত ডকুমেন্ট। এটা ভুয়া নয়। কিন্তু এ বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে অন্যদের। পটার আরো বলেন, চীন সরকার যে এই গবেষণাকে আরো সামনে এগিয়ে নেয়নি বা নিতে চায়নি তা এই ডকুমেন্ট বলে না। রবার্ট পিটার বলেন, এই ডকুমেন্ট চমৎকার মজার একটি বিষয়। এটা বলে দেয় চীনের বৈজ্ঞানিক গবেষকরা কি চিন্তাভাবনা করছেন।
উল্লেখ্য, সার্স-কোভ-২ নামের করোনা ভাইরাস সারাবিশ্বে কোভিড-১৯ মহামারি সৃষ্টি করেছে। এর উৎপত্তি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে। করোনা ভাইরাস ভাইরাসের বিশাল একটি পরিবার। এর মধ্যে আছে নানা রকম স্ট্রেইন। এর মধ্যে কিছু স্ট্রেইন মানবদেহে শ্বাসপ্রশ্বাসে মারাত্মক সঙ্কট সৃষ্টি করে। এর মধ্যে সাধারণ ঠাণ্ডা থেকে শুরু করে সেভার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (সার্স) পর্যন্ত সংক্রমণ রয়েছ
**সেনাবাহিনীর গবেষণাগার থেকেই ছড়ানো হয় করোনাভাইরাস, দাবি চীনা ভাইরাস বিশেষজ্ঞের:
মহামারি শুরুর ঠিক পরেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (‘হু’)-র বিবৃতি চীনকে বাঁচিয়েছিল। হু বলেছিল, চীনের কোনও গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়েনি করোনাভাইরাস। কিন্তু এ বার চীনের এক ভাইরাস বিশেষজ্ঞই অভিযোগ করলেন, করোনাভাইরাসকে ইচ্ছাকৃত ভাবেই পরিবেশে ছড়িয়েছিল বেইজিং। একটি সর্বভারতীয় ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চীনের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক লে-মেং-ইয়ানের অভিযোগ, বাদুড়, প্যাঙ্গোলিন বা পরিবেশ থেকে অন্য কোনও ভাবে ছড়িয়ে পড়েনি সার্স-কোভ ২ ভাইরাস। তা ছড়িয়ে পড়েছিল চীনের সেনাবাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি(পিএলএ)-র গবেষণাগার থেকেই। আর জীবাণুযুদ্ধের মহড়া হিসাবে তা ইচ্ছাকৃত ভাবেই ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল পরিবেশে।
এ ব্যাপারে প্রমাণিত তথ্যাদি আমেরিকার বিদেশ দফতরের হাতে রয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল মহামারি শুরুর পরপরই। তাতে বলা হয়েছিল, চীনা সেনাবাহিনীর বিজ্ঞানীরা জীবাণুযুদ্ধের মহড়া হিসাবে করোনাভাইরাসকে ব্যবহার করার পরীক্ষা নিরীক্ষা গবেষণাগারে শুরু করেন ২০১৫ থেকে। বেইজিং ওই অভিযোগ অস্বীকার করতে দেরি করেনি। এমনকি চীন ঘুরে এসে হু-র বিশেষজ্ঞ দলও ঘোষণা করেছিল সার্স-কোভ ২ ভাইরাস উহানের বাজার থেকেই বাতাসে ছড়িয়েছিল। তা কোনও গবেষণাগার থেকে বেরিয়ে আসেনি। আর তা ইচ্ছাকৃত ভাবেও ছড়ানো হয়নি। হু-র সেই বিবৃতিতে চীনের আপাত স্বস্তি মিলেছিল।
কিন্তু সেই সন্দেহটাকেই ফের উস্কে দিলেন চীনের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক লে-মেং-ইয়ান। তিনি বলেছেন, ‘‘আমেরিকার বিদেশ দফতরের হাতে আসা ওই তথ্যাদি একেবারেই সঠিক। গোটা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অপ্রচলিত জীবাণু অস্ত্র ব্যবহারের কর্মসূচি বেইজিংয়ের অনেক দিনের পুরনো। কী ভাবে সেই জীবাণু অস্ত্র ধাপে ধাপে বানানো যায় আর তা ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে চীন দীর্ঘ দিন ধরে কী কী পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়েছে, গত মার্চে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে আমিও সবিস্তারে তার উল্লেখ করেছি। করোনাভাইরাস গবেষণাগার থেকেই ছড়িয়েছে এটা রটে গেলে, মানুষকে বিভ্রান্ত করতে কী কী পদক্ষেপ জরুরি বেইজিং তা-ও অনেক আগেই ভেবে রেখেছিল।’’
কিসের ভিত্তিতে তাঁর এই অভিযোগ, জানতে চাওয়া হলে ইয়ান বলেন, ‘‘আমি গত জানুয়ারি থেকেই তথ্যপ্রমাণসহ এই সব কথা ইউটিউবে বলে চলেছি। এও বলেছি, এই ভাইরাস আবিষ্কারের জন্য প্রচুর পরিমাণে অর্থবরাদ্দ করেছিল বেইজিং। আর ইচ্ছাকৃত ভাবেই তা বাতাসে ছড়ানো হয়েছিল, যাতে মানুষের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়া যায় এবং যাতে শত্রু দেশগুলির চিকিৎসা ব্যবস্থাকেও নড়বড়ে করে দেওয়া যায়।’’











