সবকিছু আইনের গতিতে চললে হয় না,চলেও না। রাজনৈতিক সরকারের অনেক সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে নিতে হয়। আমলা-কামলাদের সিদ্ধান্তের দিকে রাজনৈতিক সরকার তাকিয়ে থাকলে সেই সরকার জনবান্ধব হবে না।
অন্য দলেতো নেইই আওয়ামী লীগেও আর জনবান্ধব জননেতা নেই। সামাদ আজাদ নেই,জিল্লুর রহমান নেই, সুরঞ্জিত সেন নেই, আব্দুল জলিল নেই, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নেই। অন্ধের যষ্টির মতো তোফায়েল আহমদ, আমির হোসেন আমু আছেন। কিন্তু তারা শুধু গণাতেই আছেন, অস্তগামি সূর্যের মতো।

রাজনীতিতে এখন কোনো জননেতা নেই। না আওয়ামী লীগে, না বিএনপিতে। জননেতাদের বাড়ির দড়জা জনতার জন্য উন্মুক্ত থাকতো। দিন রাতে কে আসতো কে যেতো কেউ জানতো না। এলাকার মানুষ, দেশের মানুষ, সাংবাদিক, লেখকরা এসব জননেতার সংস্পর্শে যখন খুশী যেতে পারতেন। সমস্যার কথা বলতে পারতেন। তারা মন্ত্রী মিনিস্টার হলেও জনতা থেকে দূরে যেতে পারতেন না। আমি নিজেও প্রয়াত জননেতা আব্দুস সামাদ আজাদের কলাবাগান ডলফিন গলির বাসা, সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের জিগাতলার বাসায় সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি। এলাকার হিসেবে এলাকার মানুষের সঙ্গে যেতাম। তাদের বাসা সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল।
কিন্তু তাদের উত্তরাধিকাররা এর ধারে কাছেও নেই। এই দুই নেতার বাসায় এখন কেউ যায় না। কারণ তাদের উত্তরাধিকাররা কর্পোরেট সংস্কৃতিতে উত্তোরণ ঘটিয়েছেন।
যেটা বলছিলাম, রাজনীতিতে জননেতা তো নেইই, কথা বলার মতো নেতাও নেই। সবাই এখন কর্পোরেট নেতা। স্যুটেড বুটেড নেতা। সবার দড়জা জনতার জন্য বন্ধ। দেখা করতে হলে পিএস,এপিএস, পিআরওর সঙ্গে এপোয়েন্টমেন্ট করতে হয়। নেতারা ফোন ধরেন না, মানুষের কথা শুনেন না। মানুষ তাদের কাছে যাক সেটা তারা পছন্দও করেন না। সেটা যে স্তরের মানুষই হোক। সারাক্ষণ ঘিরে রাখেন সচিব, উপসচিব, পিএস এপিএসরা।
আমি নিশ্চিত সাংবাদিক রোজিনা থেকে উদ্ভুত যে জটিলতা এবং এ থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে সরকারের যে দূরত্ব বাড়ছে আওয়ামী লীগে যদি সেই জননেতারা থাকতেন তা হলে সেটা ২৪ ঘন্টার মধ্যে সমাধান হয়ে যেতো। সাংবাদিক নেতারদের ডেকে নিয়ে সমাধান করে দিতেন। আইনের গতিতে আইন চলুক সেটা বলতেন না। মানুষের পালস বুঝেই তারা সমাধান দিতেন। রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে এখনকার কর্পোরেট নেতাদের মৌলিক পার্থক্য এটাই।
কর্পোরেট নেতা চলেন আমলার কথায় আর রাজনৈতিক নেতা চলেন জনতার কথায়।
কর্পোরেট নেতারা বুঝতে পারছেন না, রোজিনার ঘটনায় সরকারের ক্ষতি কতটুকু হলো। প্রতিপক্ষের হাতে তারা কি অস্ত্র তুলে দিলেন। সাংবাদিক নির্যাতনের কি কি পোষ্টার হবে তার ছবি কিন্তু তৈরী করে দিলেন এই আমলা আর কর্পোরেট নেতারা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া আর একজন মন্ত্রী নেতাও কি নেই যিনি ধমক দিয়ে বলতে পারেন যে এটা ভুল হচ্ছে? দোষি আমলা -সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে জবাব চাইতে পারেন? সাংবাদিক নেতাদের ডেকে নিয়ে আদালতের বাইরেই এটা সমাধান করে দিতে পারেন? আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা জরুরী তারপর দেখা যাবে কে দোষী আর নির্দোষী। এটাইতো রাজনৈতিক বিচক্ষণতা।
সবকিছু প্রধানমন্ত্রীকে করতে হবে কেনো? প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে কেনো? তা হলে দলের নেতাকে তথ্যমন্ত্রী করা হয়েছে কেনো? তিনি কি শুধু চটকদার কথা বলবেন? তিনি পারেন না দায়িত্ব নিয়ে বিষয়টি সমাধান করে দিতে? তিনি সাংবাদিকদের অভিভাবক না?
জানি এ প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর নেই।
জননেতা নেই
সাহিনুদ্দিন হত্যা: সাবেক এমপি আউয়াল রিমান্ডে, হত্যা মামলার আসামী মানিক বন্দুকযুদ্ধে নিহত
রাজধানীর পল্লবীতে সাহিনুদ্দিন (৩৪) হত্যা মামলায় লক্ষ্মীপুর-১ আসনের তরিকত ফেডারেশনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এম এ আউয়ালের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
শুক্রবার শুনানি শেষে ঢাকা ঢাকা মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসি তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এসময় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার হোসেন। শুনানি শেষে তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
এদিকে সাহনুদ্দিন হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত আসামী মানিক র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভৈরব এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি এম এ আউয়ালকে গ্রেফতার করে র্যাব। এ হত্যা মামলায় আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার (১৬ মে) রাজধানীর পল্লবীতে ছেলের সামনে বাবা সাহিনুদ্দিকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। বিকেল সাড়ে ৪টায় পল্লবীর ১২ নম্বর ডি ব্লক ৩১ নম্বর রোডের ৩৬ নম্বর বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। তিনি পল্লবীর ১২ নম্বর সিরামিক রোডের বাসিন্দা।
ওইদিন রাতেই নিহতের মা আকলিমা বেগম পল্লবী থানায় আউয়ালসহ ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
এদিকে সাহীনুদ্দিন হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত পাঁচ নম্বর আসামি মো. মানিক র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার সকালে র্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘কয়েকজন সন্ত্রাসী অস্ত্র নিয়ে’ রূপনগর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় অবস্থান করছে খবর পেয়ে শুক্রবার ভোরে সেখানে যায় র্যাবের একটি দল।
“র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। র্যাবও তখন পাল্টা গুলি চালায়। মিনিট দশেক গোলাগুলির পর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে একজনকে সেখানে পড়ে থাকতে দেখা যায়।”
গুলিবিদ্ধ মানিককে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন । “স্থানীয়রা ওই যুবককে মানিক হিসেবে শনাক্ত করেছেন। যে দুজন সাহিনুদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করেছিল, সে তাদের একজন। ভিডিওতে দেখা যায়, মানিক পায়ের দিকে কোপাচ্ছিল।“
তরিকতের সাবেক এমপি আউয়ালের নির্দেশে ভাড়াটে খুনিরা কুপিয়ে হত্যা করে সাহিনুদ্দিনকে
রাজধানীর পল্লবীতে প্রকাশ্যে সাহিনুদ্দিনকে (৩৩) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তরিকত ফেডারেশন নেতা এম এ আউয়ালকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র্যাব)।
র্যাব জানায়, ভৈরবে অভিযান চালিয়ে আউয়ালকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি রাজধানীর পল্লবীতে সন্তানের সামনে বাবাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার মূলপরিকল্পনাকারী ও হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি।
বৃহস্পতিবার র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক এএসপি ইমরান খান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত রোববার (১৬ মে) পল্লবীতে আধিপত্য বিস্তার ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে শাহিন উদ্দিন (৩৪) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত সাহিনউদ্দিনের মাশরাফি নামে ৭ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। ঘটনার সময় সে তার বাবার সঙ্গে ছিল।
জানা গেছে, বিকেলে মাশরাফি তার বাবার সঙ্গে মোটরসাইকেলে ঘুরছিল। এমন সময় একজন তার বাবাকে ফোন করে ৩১ নম্বর রোডে দেখা করার কথা বলে। সেখানে পৌঁছালে মাশরাফিকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে তার বাবার সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ায় ওই ব্যক্তি।
এরপর তার চোখের সামনেই তার বাবাকে লাথি মেরে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেয় ৬-৭ জন। এরপর তারা তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। বাঁচার জন্য নিহত ওই ব্যক্তি পাশের একটি বাড়ির গ্যারেজে আশ্রয় নিলেও সন্ত্রাসীরা সেখানে ঢুকে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বুধবার মো. সুমন ব্যাপারী (৩৩) ও মো. রকি তালুকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুমন ব্যাপারীকে যাত্রাবাড়ী থানার রায়েরবাগ এলাকা থেকে এবং রকিকে পল্লবী থানার স্কুল ক্যাম্প কালাপানি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, সাহিন উদ্দিন হত্যা মামলাটি গতকাল বুধবার ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই ঘটনায় পল্লবী থানার পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাংসদ এম এ আউয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
অতিরিক্ত সচিব জেবুন্নেছার বিরুদ্ধে গরম অবস্থায় তদন্ত শুরু করবে না দুদক
সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে আটকে রাখার ঘটনায় আলোচনায় আসা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেছার বিরুদ্ধে, গরম অবস্থায় নয়,ঠাণ্ডা অবস্থায় তদন্ত করবে দুর্নীতি দমন কমিশন,দুদক। ‘সুনির্দিষ্ট’ অভিযোগ আর পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো: জহুরুল হক বলেছেন “কাজী জেবুন্নেছার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোজিনাকে আটকে রাখার ঘটনায় তুমুল আলোচনার মধ্যে বৃহস্পতিবার সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন তিনি।
কাজী জেবুন্নেছার ‘দুর্নীতি’ সংক্রান্ত যেসব অভিযোগ সোস্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আসছে- সেই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জহুরুল বলেন, “অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ডকুমেন্টস থাকতে হবে। গরম অবস্থার মধ্যে নয়, ঠাণ্ডা অবস্থায় তদন্ত করতে হবে।”
সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের এক কর্মকর্তার কক্ষে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনাকে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।
পরে শাহবাগ থানায়, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট এবং দণ্ডবিধির কয়েকটি ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। সেই মামলায় এখন কারাগারে রয়েছেন এই সাংবাদিক।
রোজিনার বিরুদ্ধে সরকারি গোপন নথি ‘চুরির চেষ্টা’ এবং ‘ছবি তোলার’ অভিযোগ আনা হয়েছে, তবে তিনি কোনো অপরাধ করার কথা অস্বীকার করেছেন। বরং তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের জন্য রোজিনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আক্রোশের শিকার হয়েছেন বলে তার সহকর্মীদের অভিযোগ।
রোজিনাকে আটকে রাখার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব জেবুন্নেছা। ‘হেনস্তাকারী’ হিসেবে তার নাম উল্লেখের পাশাপাশি তাকেও ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ হিসেবে বিভিন্ন মিডিয়ায় অনেকে চিহ্নিত করছেন।
এদিকে এ ঘটনা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের বক্তব্য নিয়ে যে বিজ্ঞাপন দিয়েছে, তাতে সেখানে জেবুন্নেছার উপস্থিতির কথা স্বীকার করা হলেও তাকে নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় ‘বিভ্রান্তিকর ও অসত্য’ তথ্য প্রচার হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
জেবুন্নেছার অস্বীকার:
এদিকে জেবুন্নেছা দাবি করেছেন, রোজিনা ইসলামকে নির্যাতনকারী হিসেবে যে নারীর ছবি ছড়ানো হয়েছে সেই নারী তিনি নন।
তিনি বলেন, ‘আমার বন্ধুবান্ধব আছেন, আত্মীয়স্বজন আছেন, সিনিয়র-জুনিয়র আছেন। আমার সাথে যারা কর্মরত আছেন বা আমার সাথে কাজ করেছেন অথবা যারা আমার সাথে ফেসবুকে আছেন, আপনারা খুব সহজেই অনুমান করতে পারবেন আসলে ওই ছবিটিতে দেখানো হচ্ছে যে, সাংবাদিক রোজিনার সাথে যার ক্লোজ দাঁড়ানোর ছবি, সেটি আমার নয়।’ জেবুন্নেছা বলেন, ‘আমি একজন মোটামুটি বয়স্ক মহিলা। আপনারা জানেন আমার বয়স ৫৭ বছর অতিক্রম করছে। আমি কখনোই ওই গেটাপের মানুষ নই। যখন ঘটনাটি ঘটে তখন আমি ১০ মিনিট আগে আরেকটি প্রেস কনফারেন্সে ছিলাম। তিনি বলেন, আমি কিন্তু ওই ধরনের পোশাক পরিধান করিনি। আমি শাড়ি পরা অবস্থায় ছিলাম। সেটার ছবি আমার কাছে আছে। প্রতিটি মিডিয়াতে আছে।’ ‘আপনারা দয়া করে মিলিয়ে দেখবেন সেই ছবিটি আমার নয়।
সাংবাদিক রোজিনার জামিন আদেশ রোববার
অফিশিয়াল সিক্রেটস আইন ও দণ্ডবিধি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার প্রথম আলোর প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের জামিন শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী রোববার এ বিষয়ে আদেশ দেবেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত।
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চার দিন আগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা রোজিনা ইসলাম কেন জামিন পাবেন, তাঁর স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবীরা। অন্যদিকে কেন জামিন দেওয়া যায় না সে কথা আদালতে বলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৭ ধারা তুলে ধরে রোজিনার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেন, রোজিনা একজন নারী। তিনি অসুস্থ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি নিয়ে প্রথম আলোয় প্রতিবেদন করার কারণে ষড়যন্ত্র করে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। গত ৫০ বছরে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে কোনো সাংবাদিকের নামে মামলা হয়নি। সচিবালয় আইনগত কোনো গোপন স্থান নয়। রোজিনার বিরুদ্ধে গুপ্তচর বৃত্তির কোনো অভিযোগ নেই। আবার থানায় করা এজাহার আমলে নেওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ মামলার এজাহারে কী ধরনের তথ্য চুরি হয়েছে, তাঁর কোনো বর্ণনা নেই। আইন অনুযায়ী জব্দ তালিকাও হয়নি।
রোজিনা ইসলামের আইনজীবীরা বলছেন, দণ্ডবিধি ও অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের যে ধারায় রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, সেসব ধারা জামিন যোগ্য। জামিনযোগ্য ধারার অপরাধে আসামি জামিন পাওয়ার অধিকার রাখেন।
অবশ্য রোজিনা ইসলামের জামিনের বিরোধিতা করে বক্তব্য তুলে ধরেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। তাঁদের যুক্তি, রোজিনা ইসলাম অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ভঙ্গ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নথি চুরি করেছেন। আর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিওতে রোজিনা ইসলাম অপরাধ করার কথা স্বীকারও করেছেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে সেই ভিডিও আদালতে উপস্থাপন করা হবে। আগামী সপ্তাহে জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য দিন রাখা হোক।
অবশ্য আদালত আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের ঘণ্টাব্যাপী ভার্চুয়াল শুনানি গ্রহণ করে আগামী রোববার জামিন আবেদনের ওপর আদেশ দেবেন বলে জানান।
রোজিনা নারী এবং অসুস্থ
রোজিনা ইসলামের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী আদালতে বলেন, ‘সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম একজন নারী এবং অসুস্থ এই বিষয়টি ইতিমধ্যে রেকর্ডে এসেছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারা অনুযায়ী, জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে যারা প্রিভিলেজ পারসন তাদের মধ্যে নারী আছেন। তিনি অসুস্থ।
জামিন যোগ্য
রোজিনা ইসলামের আইনজীবীরা আদালতের কাছে দাবি করেছেন, দণ্ডবিধির যে দুটি ধারায় (৩৭৯ ও ৪১১) এবং অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ও ৫ ধারায় রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, এসব ধারা জামিনযোগ্য। জামিনযোগ্য ধারার অপরাধের মামলার আসামির জামিন পাওয়ার অধিকার রাখেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর আইনজীবী ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৬ ধারা এবং এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন।
আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেন, রোজিনার বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ধারার অপরাধ হচ্ছে গুপ্তচর বৃত্তি। তবে রোজিনার বিরুদ্ধে ৩ ধারার কোনো অভিযোগ নেই।
গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ছাড়া অন্যান্য কোনো অপরাধ যদি থাকে, সেই অপরাধ আমলযোগ্য ও জামিনযোগ্য। স্বাভাবিকভাবে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৬ ধারা অনুযায়ী, রোজিনা ইসলামের নামে জামিনযোগ্য ধারার মামলা হওয়ায় তিনি জামিন পাওয়ার অধিকারী। সাম্প্রতিক কালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের প্রচারিত রায়েও আমরা দেখেছি, উচ্চ আদালত বলেছেন, জামিনযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন দেওয়া ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অন্য কোনো বিকল্প নেই। সুতরাং যেহেতু এটি জামিনযোগ্য অপরাধ, তাই তিনি জামিনে মুক্তি পাওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করেন।
এহসানুল হক সমাজী আরও বলেন, জামিনযোগ্য ধারার মামলায় জামিন পাওয়া কোনো দয়া নয়। রোজিনা ইসলামের প্রতি কোনো অনুকম্পাও নয়। তাঁর প্রতি কোনো সহানুভূতি নয়।
সচিবালয় নিষিদ্ধ স্থান নয়, মামলা সাজানো
রোজিনা ইসলামের জামিন শুনানিতে তাঁর আইনজীবীরা বারবারই বলেছেন, সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম গত সোমবার পেশাগত দায়িত্বপালনের জন্য সচিবালয়ে যান। ষড়যন্ত্র করে তাঁকে টানা পাঁচ ঘণ্টা সেখানে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনও করা হয়। পরে মন্ত্রণালয়ের নথি চুরির কল্পিত অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। মামলার ঘটনার সময় এবং আলামত জব্দ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আইন মেনে যথাযথভাবে জব্দ তালিকা হয়নি।
রোজিনা ইসলামের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেন, ‘মামলার ঘটনার সময় দুপুর ২ টা ৫৫ মিনিট। অথচ জব্দ তালিকা তৈরি হয়েছে ৭ টা ২০ মিনিট। এজাহারের আগেই যে জব্দ তালিকা তৈরি হয়েছে, সেই তালিকা এই এজাহারের নেই। এই এজাহারের মধ্যে জব্দ তালিকার রেফারেন্স নেই। তাহলে এই জব্দ তালিকা, আদৌ কোনো সময়ে, কোন স্থানে, কার কাছ থেকে কি ডকুমেন্টস তৈরি হয়েছে, তার সু-স্পষ্ট তথ্য নেই। জব্দ তালিকাটাই একটা তর্কিত বিষয়। কোনো মামলার জব্দ তালিকা করতে গেলে, ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারা অনুযায়ী, জব্দ তালিকা প্রস্তুত করতে হয়। আইন অনুসরণ না করে জব্দ তালিকা করা হয়েছে। এ মামলার সমস্ত ডকুমেন্টস সো কলড ডকুমেন্টস। এটা হচ্ছে একটা কল্পকাহিনী। এই হচ্ছে সৃজিত কাহিনি।’
অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট অনুযায়ী, সচিবালয় কোনো গোপনস্থান নয়
আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেন, ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ধারাটি কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রযোজ্য নয়। এই মামলার যেখানে ঘটনাস্থল, সেটা কিন্তু নিষিদ্ধ এলাকা নয়। রাষ্ট্রপক্ষের কাছে কী এমন তথ্য আছে, যে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ঘটনাস্থল (মামলার ঘটনাস্থল) নিষিদ্ধ এলাকা ঘোষণা করেছেন সরকার। নিষিদ্ধ স্থান ঘোষণার পর সেই গেজেট উন্মুক্ত স্থানে টাঙ্গিয়ে নোটিশ দিতে হবে। রোজিনা ইসলামের সচিবালয়ে আমার যাওয়ার আইনগত অধিকার আছে।
কারণ প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্টের (পিআইডি) কার্ড আছে। তথ্য সংগ্রহের জন্য তিনি সচিবালয়ে গিয়েছিলেন। রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে কল্প-কাহিনি বানানো হয়েছে? কারণ রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।
আদালতে ভিডিও’র কথা বলছে রাষ্ট্রপক্ষ
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের একান্ত সচিবের কক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরির তথ্য তুলে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিনের বিরোধিতা করে যুক্তি তুলে ধরেন রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হেমায়েত উদ্দিন খান। রাষ্ট্রপক্ষের এই সরকারি কৌঁসুলি বলেন, আসামিপক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে যে ধারায় মামলা করা হয়েছে, সেটি জামিনযোগ্য। বাস্তবে এসব ধারা মোটেও জামিনযোগ্য নয়। রোজিনা ইসলাম গোপন নথি চুরি করেছেন। আর সম্প্রতি রোজিনা ইসলামের একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
হেমায়েত উদ্দিন খান বলেন, কোনো সাংবাদিক যদি অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য অপর কোনো শত্রুপক্ষের সঙ্গে আঁতাত করে, কোনো ন্যক্কারজনক কাজ করেন, তাহলে সেই আসামি কিন্তু ৪৯৭ এর সুবিধা পেতে পারেন না। আসামি আটক হওয়ার পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সমস্ত কথা কিন্তু তিনি স্বীকার করেছেন। তিনি যেসব কাজ করেছেন, সেগুলো তিনি স্বীকার করেছেন। এই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
অবশ্য রোজিনার আইনজীবীরা বলছেন, সাক্ষ্য আইনের ২৪ ও ২৫ ধারা অনুযায়ী, পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি, মুচলেকার সাক্ষ্যগত কোনো মূল্য নেই।
সাংবাদিক হেনস্তা, অতিরিক্ত সচিবের বিরুদ্ধে তদন্ত করবেন যুগ্ম সচিব! মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি
সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে হেনস্তা করার অভিযোগ একজন অতিরিক্ত সচিবসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। কিন্তু ঘটনা তদন্তে মন্ত্রণালয়ের যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে সেটার প্রধান করা হয়েছে একজন যুগ্মসচিবকে। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠছে উর্ধতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অধস্তন কর্মকর্তা তদন্ত করবেন কেমনে? এটা কি মন্ত্রণালয়ের লোক দেখানো তদন্ত ? মঙ্গলবার (১৮ মে) স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ তিন সদস্য তদন্ত কমিটি গঠনের কথা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে এটাও সোমবারের তারিখ দিয়ে করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম-সচিব (উন্নয়ন অধিশাখা) মো. সাইফুল্লাহিল আজমকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপসচিব (প্রশাসন-২ শাখা) মো. আবদুছ সালাম ও উপসচিব (জনস্বাস্থ্য-১) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।
সোমবার (১৭ মে) বিকেল ৩টার দিকে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। স্বাস্থ্য সচিবের একান্ত সচিবের কক্ষে ফাইল থেকে নথি সরানোর অভিযোগে তাকে ওই রুমে আটকে রাখা হয় এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। নিজের ওপর নির্যাতনেরও অভিযোগ তোলেন রোজিনা। একপর্যায়ে সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর তাকে শাহবাগ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সাংবাদিক রোজিনাকে হেনস্তা ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে অতিরিক্ত সচিব জেবুন্নেছার বিরুদ্ধে। তিনি রোজিনার গলা চেপে ধরেন এবং তার ব্যাগ, মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিকও জানান, অতিরিক্ত সচিব ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং তার সঙ্গে দুজন উপসচিবও ছিলেন। প্রশ্ন হলো অতিরিক্ত সচিবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যুগ্মসচিব তদন্ত করবেন কি ভাবে? উল্লেখ্য সোমবার রাতে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় চুরি ও অফিসিয়াল সিক্রেটস আইনে মামলা করা হয়। মঙ্গলবার সকালে রোজিনাকে আদালতে তুলে পাঁচদিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। আদালত জামিন ও রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বৃহস্পতিবার তার জামিন আবেদনের ওপর শুনানির তারিখ রাখা হয়। পরে তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম ন্যায়বিচার পাবেন, আশ্বাস আইনমন্ত্রীর
অফিসিয়াল সিক্রেটস আইনে গ্রেপ্তার সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম ন্যায়বিচার পাবেন বলে সাংবাদিক নেতাদের আশ্বাস দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রতিনিধিদল গুলশানের আইনমন্ত্রীর অফিসে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আশ্বাস দেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, “আমি সবই শুনেছি। আমি এটুকু বলব যে এ রকম একটা ঘটনায় সরকার ও সাংবাদিকদের সঙ্গে দুরত্ব সৃষ্টি হোক, এরকম কোনো কাজ, যদি কোনো সন্দেহ থাকে, এটা দূরীকরণের জন্য সরকার চেষ্টা করে। আর এ ঘটনার যে তদন্তের কথা বলেছেন নিশ্চয়ই আলাপ-আলোচনা করব।” আইনমন্ত্রী বলেন, “আপনারা জানেন, আগামী পরশুদিন এটার জামিনের শুনানি রয়েছে। আদালত জামিনের শুনানি দেখবেন। নিশ্চয়ই আদালত সব কিছু বিবেচনা করবেন। আমি প্রসিকিউশনকে মামলাটা খতিয়ে দেখার জন্য বলব। ন্যায় বিচার অবশ্যই পাবে, এটুকু আমি আপনাদের বলতে পারি।”
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সচিবালয় বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সভাপতি তপন বিশ্বাসের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদল রাত নয়টার দিকে আইনমন্ত্রীর অফিসে যান।
তারা রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার, নিঃশর্ত মুক্তি এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে জামিনের জন্য আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। এসব দাবি জানানোর পর আইনমন্ত্রী আশ্বাস দেন রোজিনা ইসলাম শতভাগ ন্যায়বিচার পাবেন, কোনো অবিচার করা হবে না। এ ছাড়া কারাগারে এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে যাতে রোজিনা ইসলামের কোনো অসুবিধা না হয় সেটিরও নিশ্চয়তা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী।
সাক্ষাৎ শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে সাক্ষাতের বিষয়বস্তু ও দাবির কথা তুলে ধরেন।
সাংবাদিক রোজিনা গোপন নথি নিয়েছিলেন, বাইরে গেলে দেশের ক্ষতি হত, বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে ‘নির্যাতন করা হয়নি’ দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, প্রথম আলোর ওই প্রতিবেদক টিকা আমদানি সংক্রান্ত এমন কিছু নথি ‘সরিয়েছিলেন’ যেগুলো প্রকাশ হলে ‘দেশের ক্ষতি’ হতে পারত।
সরকারি নথি ‘চুরির চেষ্টার’ অভিযোগে রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস’ আইনে মামলার ঘটনায় বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মধ্যে মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী এমন মন্তব্য করলেন।
রোজিনাকে গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে এদিন বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) তা বর্জন করে।
পরে দুপুরে আগারগাঁওয়ে একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
জাহিদ মালিক বলেন, সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে যেটুকু তিনি শুনেছেন, তাতে স্বাস্থ্য সচিবের পিএসের অনুপস্থিতিতে সোমবার দুপুরে তার কক্ষে ঢুকেছিলেন রোজিনা।
“ওখানে যে ডিউটিতে ছিল, সে দেখল যে একজন ব্যক্তি ওখানে ফাইলের ছবি তুলতেছে, ফাইল কিছু বের করে ব্যাগে ঢুকাইছে, শরীরেও ঢুকাইছে। তখন সে চিল্লাচিল্লি করছে, আমাদের মহিলা অফিসাররা আসেছে, এসে তারা ধরছে যে ‘আপনি কেন এইসব করছেন?’ তখন তার কাছ থেকে ওই কাগজ আর ফাইলগুলো নিছে।
“এর মধ্যে পুলিশে খবর দিছে, পুলিশ কর্মকর্তারা আসছে, তারা এটা টেকওভার করছে। প্লাস মোবাইলটাও নিছে, মোবাইলেও অনেক ছবি পাইছে।”
সোমবার দুপুরের পর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের একান্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম ভূঞার কক্ষে রোজিনাকে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একজন উপসচিব তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।
সেখানে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় চুরি এবং ১৯২৩ সালের ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের’ ৩ ও ৫ ধারায় গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রীয় গোপন নথি নিজের দখলে রাখার অভিযোগ আনা হয় এই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে।
এজাহারে বলা হয়েছে, রোজিনা যেসব নথির ‘ছবি তুলেছেন’, তার মধ্যে ‘টিকা আমদানি’ সংক্রান্ত কাগজপত্রও ছিল।
সেই প্রসঙ্গ টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “এই জিনিসটাও দুঃখজনক। কেননা এই ফাইলগুলো ছিল টিকা সংক্রান্ত। আমরা যে রাশিয়ার সাথে টিকার চুক্তি করছি, চায়নার সাথে টিকার চুক্তি করছি। সেগুলো নন ডিসক্লোজার আইটেম। আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে বলেছি, আমরা এটা গোপনে রাখব, এগুলো বলব না।
“তো সেইগুলো যদি বাইরে চলে যায়, তাহলে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলাম, এবং আমরা টিকা নাও পেতে পারি। এতে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য বিরাট ক্ষতি হতে পারে। এগুলো সিক্রেট ডকুমেন্ট, বাইরে যাওয়া ঠিক হয় নাই।”
রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে আটকে রেখে ‘শারীরিকভাবে হেনস্তা’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠু।
ওই অভিযোগ অস্বীকার করে জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের বলেন, “যেটা শুনলাম, তাকে অনেকক্ষণ আটকাইয়ে রাখছে। এটা পুলিশ ছিল… সে নিজেই শুয়ে পড়ছে, বসে পড়ছে। তাকে নিতে পারছিল না। শারীরিকভাবে কোনো নির্যাতন বা আঘাত করা হয়নি। এটা সঠিক নয়।”
রোজিনা ইসলাম ওই অফিস থেকে কোনো নথি সরানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আর তার সহকর্মীরা বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করায় এখন ‘অন্যায়ের’ শিকার হচ্ছেন এই সাংবাদিক।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “দুর্নীতির রিপোর্টিংয়ের জন্য তো আজকের ঘটনা না। ওটা ওখানের ঘটনার, এর উপরই পরবর্তী ঘটনা ঘটতেছে।”
তিনি বলেন, “সিনিয়র অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি ও ডেপুটি সেক্রেটারি লেভেলের দুইজন ছিল, প্রাথমিকভাবে তারাই ডিল করছে। পরে যখন রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার বিষয় আসছে, তখন তারা পুলিশ ডেকেছে।”
বর্তমান সরকার যেখানে দুর্নীতির তথ্য প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের পুরস্কৃত করার নিয়ম করেছে, সেখানে রোজিনার বিরুদ্ধে কেন ঔপনিবেশিক আমলের ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস’ আইনে মামলা দেওয়া হল- সেই প্রশ্ন রেখেছিলেন একজন সাংবাদিক।
উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি তো আইনজ্ঞ না। আইনের বিষয়ে কিছু বলব না।” তথ্য সূত্র-বিডি নিউজ টোয়েন্টফোর ডটকম।
সাংবাদিক রোজিনা কারাগার, জামিন শুনানি বৃহস্পতিবার
রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুরের পর প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার জামিন আবেদনের ওপর বৃহস্পতিবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আদালতের আদেশের পর তাকে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার একটু পরে রোজিনা ইসলামকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে নেওয়া হয়। পুলিশ ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায়। ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম তার রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগামী বৃহস্পতিবার তার জামিনের শুনানি হতে পারে।

এর আগে সকাল ৮টা বাজার আগেই শাহবাগ থানা হাজত থেকে থানার পুলিশ পরিদর্শক আরিফুর রহমান সরদার সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সিএমএম আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালতে রোজিনার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এহসানুল হক সামাজি, আশরাফ উল আলম, প্রশান্ত কুমার কর্মকার। এ ছাড়া, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে আইনজীবী আব্দুর রশীদ, ব্লাস্টের পক্ষে আইনজীবী মশিউর রহমান এবং আইনজীবী সুমন কুমার রায় শুনানিতে ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু।
উল্লেখ্য পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে সেখানে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। রাত পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ জানায়, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা হয়েছে। তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিকেরা বিকেলে সচিবালয়ে এবং রাতে শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ করেন। এর নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে), অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংগঠন। এ ছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
মামলার প্রতিবেদন ১৫ জুলাই:
রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি নথি ‘চুরির চেষ্টার’ অভিযোগে ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস’ আইনে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৫ জুলাই দিন ধার্য করেছে আদালত। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসীম মামলার এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের এ দিন ধার্য করেন। এর আগে একই বিচারক সকালে রোজিনার রিমান্ডের আবেদন নাকচ করেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলন ‘বয়কট’:
প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে আটকে রেখে পুলিশে দেওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলন ‘বয়কট’ করেছে সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ)।
রোজিনাকে গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় এই সংবাদ সম্মেলন ডাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হয় তাদের বয়কটের কথা জানান।
বিএসআরএফ এর এক নোটিসে ওই সংবাদ সম্মেলন ‘বয়কটের’ ঘোষণা দিয়ে বলা হয়, ফোরামের সদস্য রোজিনা ইসলামকে ‘হেনস্তা’ করে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনের সংবাদ সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি করলে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জরিমানা, হবে ফৌজদারি মামলা,সংশোধন হচ্ছে আইন
দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হলে ব্যাংক কর্মকর্তাদের শুধু ফৌজদারি মামলাই নয় বড় অংকের জরিমানার মুখে পড়তে হবে। এমন বিধান রেখে ‘ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০২১’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এতে ব্যাংক কোম্পানি পুনর্গঠন ও একত্রীকরণের বিধানও রাখা হয়েছে।
সোমবার (১৭ মে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে কর্মরত ব্যাংক কোম্পানিসমূহের কার্যক্রম ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১’-এর আওতায় পরিচালিত হয়। ব্যাংকসমূহের মোট সংখ্যা, মোট সম্পদ, আমানত, ঋণ, লিজ, বিনিয়োগ ইত্যাদি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ওই আইন সবকিছু কাভার করছিল না।
সেজন্য ব্যাংকিং ব্যবসা পরিচালনা, তদারকি, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, দেশের আর্থিক খাতের সুশাসন এবং স্থিতিশীলতার জন্য এই আইনটি করা প্রয়োজন ছিল। সেজন্য এই সংশোধনী আনা হয়েছে। সেই আলোকে বিভিন্ন দেশের ব্যাংক কোম্পানি আইন সংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে আইনের সংশোধনী খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কতগুলো জিনিস রয়েছে, তা হলো- ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতার সংজ্ঞা এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এই জিনিসটি আগের আইনে অতটা স্পষ্ট ছিল না। যেহেতু ১৯৯১ সালের অবস্থায় আইনটি করা হয়েছিল। নতুন আইনে সেটা পরিষ্কারভাবে বলে দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দুর্বল ব্যাংক কোম্পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত নতুন একটি ধারা সংযোজন করা হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানির জন্য সংকটাপন্ন অবস্থার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি আছে। ব্যাংক কোম্পানি পুনর্গঠন ও একত্রীকরণের বিধানও নতুন আইনে আছে।
খসড়া আইনে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে জানিয়ে খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, যদি ব্যাংকের পরিচালকরা বা যেই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকবে তাকে বড় জরিমানা দিতে হবে। পাশাপাশি ক্রিমিনাল প্রসিডিংও (ফৌজদারি মামলা) তার বিরুদ্ধে চলবে। এটা আজকের মিটিংয়ে বিশেষভাবে বলা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কারো ১ কোটি টাকা জরিমানা হলে সে জরিমানা দিয়ে বেঁচে যেতে পারে, সে যদি ১০ বা ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে থাকে। সেজন্য প্যানাল কোডের আইনও তার জন্য প্রযোজ্য হবে। তার যে জরিমানা হলো, সেটা ক্রিমিনাল প্রসিডিংয়ের জন্য কোনো বাধা হবে না।









