হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়েজীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় এক নারী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন এক নারী।
পুলিশ সূত্র জানায়, মামলায় বলা হয়, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ফেসবুকের মাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে জাকারিয়া নোমান ফয়েজীর পরিচয় হয়। মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে তিনি ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখান এবং তাঁকে হাটহাজারীতে আসতে বলেন।
মামলায় বলা হয়, ওই নারী পরে হাটহাজারী আসেন। তাঁকে ২০১৯ সালের নভেম্বরে ফয়েজী বাসা ভাড়া করে দেন। এক বছর ধরে ভাড়া বাসায় অবস্থানকালে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে নারীকে ধর্ষণ করেন ফয়েজী।
মামলায় আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে ওই নারী হাটহাজারী থেকে চট্টগ্রাম শহরে এক আত্মীয়ের বাসায় চলে আসেন। এরপর ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে বিভিন্ন বাসা ও হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়।
গত বুধবার কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে ফয়েজীকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাঁকে হাটহাজারী থানায় হওয়া সহিংসতার এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে উপস্থাপন করে রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। আদালত বৃহস্পতিবার তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাকারিয়া নোমান ফয়েজীর দুই নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। এ ছাড়া তিনি হাটহাজারীর সহিংসতার ‘মাস্টারমাইন্ড’।
এসএম রশিদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, হেফাজত নেতা ফয়েজীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে হওয়া মামলাটির তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
হেফাজত নেতা নোমান ফয়েজীর বিরুদ্ধে এক নারীর ধর্ষণ মামলা
রাজধানী ছেঁয়ে গেছে মাদকে; করোনা আর লকডাউনেও বাঁধা মানছে না, প্রতিদিন উদ্ধার হচ্ছে বস্তা বস্তা গাঁজা, ইয়াবা
করোনা, লকডাউন কোনো কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না মাদকপাচারকারিদের। খোদ রাজধানীতেই বস্তায় বস্তায় গাঁজা আর লাখ লাখ পিস ইয়াবা ঢুকছে প্রতিদিন। পুলিশ কিছু উদ্ধার করছে কিন্তু বেশীরভাগই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাত্র এক সপ্তাহে রাজধানীতেই উদ্ধার হয়েছে অন্তত ৫শ কেজি গাঁজা আর এক লাখ পিস ইয়াবা। উদ্ধার হয়েছে ফেনসিডিল,হেরোইনসহ নানা ধরণের মাদক। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিট বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করছে। তবে বেশিরভাগই ধরতে পারে না পুলিশ। রাজধানীর কয়েকটি স্পটে প্রকাশ্যেই বিক্রি হয় ইয়াবা,গাঁজা,ফেনসিডিল।করোনার মহামারীর কারণে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। সারাদেশের সঙ্গে রাজধানীর যান চলাচল বন্ধ। কিন্তু তাতেও ঠেকছে না মাদক আসা। এতো পথ ডিঙ্গিয়ে রাজধানীতে এসব মাদক কিভাবে ঢুকছে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। সীমান্তরক্ষীর চোখ এড়িয়ে, বিভিন্ন থানা পুলিশ, জেলা পুলিশ, গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাজধানীতে এসব মাদক কি ভাবে পৌঁছে তাও রহস্যজনক। শুধু পৌঁছাই নয়,রাজধানীর অলিগলিতে তা বিলিবন্টন হয় বিক্রির জন্য। রয়েছে নির্ধারিত বাজার। যেখানে কখনো প্রকাশ্যে কখনো গোপনে বিক্রি হচ্ছে এসব মাদক। তবে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এই অভিযান চললেও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নামক সংস্থাটির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা চোখে পড়ছে না। জীবন ধংসকারি ইয়াবা, হেরোইন,গাঁজা,ফেনসিডিল উদ্ধারে তাদের তৎপরতা নেই বললেই চলে। “আইন আদালত”এর পাঠকদের জন্য শুধু ঢাকা মহানগর পুলিশের অনলাউন নিউজ পোর্টাল ‘ডিএমপি নিউজ’এ গত এক সপ্তাহের ইয়াবা আর গাঁজা উদ্ধারের খবরগুলো জানাচ্ছি ,যা পড়লেই বোঝা যাবে মাদক দ্রব্যের সার্বিক চিত্র।
**সাড়ে ১৯ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার:
ডিএমপি নিউজ সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য বিক্রি ও সেবনের দায়ে ৩৯ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ।এ সময় ১৯,৪৪৭ পিস ইয়াবা, ৩২ গ্রাম ৬০ হেরোইন ও ২ কেজি ৬শ৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে মঙ্গলবার (৪ মে) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে।

**১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার:
রাজধানীর হাতিরঝিল থানা এলাকায় ৩ মে সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে ১৪ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- বায়েজিদ হোসেন শুভ (২৬) ও মোঃ মিজানুর হোসেন (৩০)। এসময় তাদের হেফাজত হতে গাঁজা বহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা কুমিল্লা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে গাঁজা সংগ্রহ করে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করতো বলে জানিয়েছে পুলিশ।
**১২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার:
রাজধানীর আদাবর থানা এলাকা থেকে ১২ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ,ডিএমপি, গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-নুরুল ইসলাম ওরফে রিগান (৩৩), জামাল হোসেন (৩৬), জাবের হোসেন নিলয় (১৮) আলী হোসেন তন্ময় (২১) ও রাজীব সূত্রধর (২৫)। আদাবর থানার শেখেরটেক প্রবাল হাউজিং রিং রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ৩ মে পুলিশ এসব ইয়াবা উদ্ধার করে।

**৪৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার:
পুলিশ জানিয়েছে রবিবার (২ মে) হাতিরঝিল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৪ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মোঃ আলমগীর (৪৩) ও মোঃ সোহেল (২৯)। হাতিরঝিল থানার শিশু পার্কের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম হাতিরঝিল থানার শিশু পার্কের সামনে দুটি পাটের বস্তা ও একটি প্লাষ্টিকের বাজারের ব্যাগ তল্লাশী করে ৪৪ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে, সীমান্তবর্তী কুমিল্লা জেলা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে তারা ঢাকা ও আশাপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতো।
**১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার:
পুলিশ জানিয়েছে ২ মে রবিবার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকা থেকে ইয়াবাসহ সেলিম উদ্দিন (১৯) ও সৈয়দ আলম (২৬) নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের হেফাজত থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার বিজি প্রেস উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

**সাড়ে ৯ হাজার পিস ইয়াবা,পিকআপভ্যানসহ ২ জন গ্রেপ্তার:
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় গত বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য ইয়াবা ও পিকআপ ভ্যানসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো সফিকুল ইসলাম ওরফে মনা (৩৫) ও মোঃ আলমগীর মিয়া (২৮)। এসময় তাদের হেফাজত থেকে ৯৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান উদ্ধার করা হয়।
**১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার:
পুলিশ জানিয়েছে ২৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানা এলাকা হতে ১০ কেজি গাঁজাসহ দু’জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মোঃ সাগর (২২) ও মোঃ মনিরুল ইসলাম মানিক (২৫)। উত্তরা পূর্ব থানার ৬ নং সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
**৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার:
রাজধানীর মিরপুর মডেল থানা এলাকা হতে ২৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ৮ কেজি গাঁজাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তর বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মোঃ হোসেন আলী (৫২), আমেনা বেগম (৪০) ও মোঃ ফুল মিয়া (৫৫)। এসময় তাদের হেফাজত হতে ৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায় মিরপুর মডেল থানার উত্তর পীরের বাগ, ৬০ ফিট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা কুমিল্লা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে গাঁজা সংগ্রহ করে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

**৫শ পিস ইয়াবা উদ্ধার:
রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকা থেকে ২৮ এপ্রিল বুধবার ৫শ পিস ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে তুরাগ থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতের নাম-মোহাম্মদ তাকবির হোসাইন(২৬)। এসময় তার হেফাজত হতে ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
**৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার:
রাজধানীর বংশাল থানা এলাকা থেকে গত ২৮ এপ্রিল বুধবার ৫০ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো বাপ্পি (৩৮) ও মনির হোসেন (৪২)। এ সময় তাদের হেফাজত হতে গাঁজা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয় । পুলিশ জানায় বংশাল থানার ফুলবাড়িয়া বিআরটিসি বাস স্ট্যান্ডের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
**১২২ কেজি গাঁজা, ইয়াবা উদ্ধার:
পুলিশ জানিয়েছে ২৮ এপ্রিল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য বিক্রি ও সেবনের দায়ে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ১২৮৯ পিস ইয়াবা, ৩০ গ্রাম হেরোইন, ১২২ কেজি ২৮০ গ্রাম গাঁজা ও ৪৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২১ টি মামলা রুজু হয়েছে।
**৭০ কেজি গাঁজা উদ্ধার:
রাজধানীর রমনা থানা এলাকায় ২৭ এপ্রিল অভিযান চালিয়ে ৭০ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো কাশেম (৩০) ও মনির হোসেন (২৫)। মালিবাগ রেলগেট সংলগ্ন রহমান হোমিও হলের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সহকারী পুলিশ কমিশনার জাবেদ ইকবাল জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা হবিগঞ্জ থেকে পিকআপে করে গাঁজা নিয়ে আসছে এমন খবর পেয়ে ডিবির একটি টিম মালিবাগ রেলগেট এলাকায় অবস্থানকালে দেখতে পায় রহমান হোমিও হলের সামনে দুইজন ব্যক্তি পিকআপ থেকে ৩ টি চটের বস্তা নামাচ্ছে। বিষয়টা সন্দেহ হলে ডিবি পুলিশ পিকআপের দিকে এগিয়ে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পিকআপ চালক ৩ টি চটের বস্তা রেখে দ্রুত পিকআপ চালিয়ে রামপুরার দিকে পালিয়ে যায়। এসময় বস্তা তল্লাশী করে ৭০ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা জানায়, সীমান্তবর্তী হবিগঞ্জ জেলা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে পিকআপে করে ঢাকায় এনে তারা ঢাকা ও আশাপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতো।
**২০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার:
রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় ২৭ এপ্রিল অভিযান চালিয়ে ২০০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারী বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- তোফায়েল আহম্মদ (৬০) ও মোঃ আপন মিয়া (২৮)।
**৩০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার:
রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে গত ২৭ এপ্রিল ৩০০০ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গুলশান জোনের গোয়েন্দা ইউনিট। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- রুবেল খন্দকার (২১) ও মোঃ জিয়া (২২)। গ্রেপ্তারকৃতরা দেশের সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ঢাকা মহানগর এলাকায় বিক্রি করতো বলে পুলিশ জানিয়েছে।
** ৫ হাজার ৮শ পিস ইয়াবা,হেরোইন উদ্ধার:
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৮১৪ পিস ইয়াবা, ২৫০ গ্রাম হেরোইন, ৪ লিটার দেশী মদ ও ৮৬০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। গত ২৭ এপ্রিল এ অভিযান চালানো হয়। ।এ সময় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করে এবং ১৯ টি মামলা রুজু হয়েছে।
** ৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার:
রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় ২৬ এপ্রিল অভিযান চালিয়ে ৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা রমনা বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো তকি ওসমান (২১) ও প্রভাষ মন্ডল (৩৪)। পুলিশ জানায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, হকি স্টেডিয়ামের সামনে থেকে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
**৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার:
ডিএমপি’র কদমতলী থানা পুলিশ ৩০ এপ্রিল অভিযান চালিয়ে ৪ কেজি গাঁজাসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মোঃ আবুল কাশেম ও মোঃ সোহেল মিয়া। কদমতলী থানার ওসি জামাল উদ্দীন মীর জানান, সন্ধ্যায় কদমতলী থানার শনির আখড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার হেফাজত হতে ৩ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই দিন বিকেলে অপর এক অভিযানে কদমতলী থানার মাতুয়াইল শিশু মাতৃ স্বাস্থ্য ইউনিষ্টিটিউট এর সামনে থেকে এক কেজি গাঁজাসহ মোঃ সোহেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
**৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার:
পুলিশ জানায় কদমতলী থানা এলাকায় ৫০০ পিস ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৩০ এপ্রিল এক অভিযান চালিয়ে এগুলো উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মিজান সরকার (৩০)।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটা বন্ধে আইনি নোটিস, আনা হবে আদালত অবমাননার অভিযোগ
ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সৌন্দর্য বাড়ানোর নামে গাছ কাটা বন্ধে সরকারকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বৃহস্পতিবার এই নোটিস পাঠান। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংরক্ষণে আদালতের এক আদেশ স্মরণ করিয়ে দিয়ে নোটিসে বলা হয়েছে, গাছ কেটে রেস্তোরাঁ নির্মাণ বন্ধ না হলে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ, গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. শামিম আকতার ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি মীর মঞ্জুরুর রহমানকে ই মেইলে নোটিসটি পাঠানো হয়েছে বলে মনজিল মোরসেদ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে উদ্যান সংক্রান্ত হাই কোর্টের একটি রায় দিয়েছিল। সে রায়ে বলা হয়েছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নিছক একটি এলাকা নয়। এই এলাকাটি ঢাকা শহর পত্তনের সময় থেকে একটি বিশেষ এলাকা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই এলাকার ঐতিহাসিক ও পরিবেশগত ঐতিহ্য আছে। শুধু তাই নয়, দেশের সকল গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা আন্দোলনের কেন্দ্র এই এলাকা। ফলে সম্পূর্ণ এলাকাটি একটি বিশেষ এলাকা হিসাবে সংরক্ষণের দাবি রাখে।
এ আইনজীবী বলেন, “গত ১১ বছর হাই কোর্টের ওই রায় বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়,পূর্ত মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। যখনই যোগাযোগ করেছি তখনই বলা হয়েছে, এ সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
“কিন্তু আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আসলে কী হচ্ছে গত ১১ বছরেও আমরা জানতে পারিনি। এমনকি সংবাদ মাধ্যমেও এ সংক্রান্ত বিস্তারিত কিছু আসেনি। ফলে মনে হচ্ছে আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করা হচ্ছে বা পাশ কাটানো হচ্ছে।”
ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণের (৩য় পর্যায়) মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে রেস্তোরাঁ, হাঁটার পথ, গাড়ি রাখার স্থান নির্মাণে শতাধিক গাছ কাটা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।
তার প্রতিবাদে বুধবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মানববন্ধন হলে মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘কিছু গাছ’ কাটা হলেও সেখানে আরও এক হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রায় বাস্তবায়ন নিয়েও উষ্মা ছিল উচ্চ আদালতের
এ দিকে বিডিনিউজ জানিয়েছে, রেসকোর্স ময়দানে একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের স্থান ও একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থান সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়ে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার কে এম সফিউল্লাহ ও অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন জনস্বার্থে ২০০৯ বছরের ২৫ জুন হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন।
এর এক বছর পরে দেওয়া রায়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একাত্তর-পরবর্তী স্থাপনা, যেমন- শিশু পার্ক, মহানগর পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, ফুলের মার্কেট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত রায়ে এক বা একাধিক কমিটি গঠন করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সাতটি স্থান চিহ্নিত করতে নির্দেশ দিয়েছিল।
এগুলো হল- ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দেওয়া ভাষণের স্থান; ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের স্থান; একাত্তর সালের ৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় ও প্রাদেশিক সংসদে নির্বাচিত সদস্যদের শপথের স্থান; ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের স্থান; পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থান; ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের স্থান এবং ১৯৭২ সালের ১৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভাষণের স্থান।
এই সাতটি স্থান ছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সব ধরনের স্থাপনা অপসারণ করতে বলা হয়েছিল রায়ে।
গত বছর এ সংক্রান্ত আরেকটি রিট আবেদনে শুনানিতে এ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে এ রায়ের আদেশ বাস্তবায়নের প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছিল।
পরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দেয় আদালতে।
সেসব প্রতিবেদন দেখে গত বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত উষ্মা প্রকাশ করে বলেছিল, গত ১০ বছরে অন্য কোথাও শিশু পার্ক সরাতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। ঢাকায় বাচ্চাদের খেলার জায়গা নেই।
“আদেশ বাস্তবায়ন না করলে কোর্ট বন্ধ করে দেওয়া হোক। শুধু বঙ্গবন্ধু ভাষণের স্থানটি চিহ্নিত করার উদ্যোগ ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সরকার।”
বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৬১০ সালে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে সুবেদার ইসলাম খাঁর সময়ে ঢাকা নগরী প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর যে উদ্যান গড়ে ওঠে তাই আজকের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা পার্ক। ব্রিটিশ শাসনামলে এটি রেসকোর্স ময়দান নামে পরিচিতি পায়, পাকিস্তান আমলেও ছিল তাই। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এর নাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হয়, আরেক অংশ হয় রমনা পার্ক।
প্রায় দুই কোটি মানুষের ঢাকা নগরে ‘ফুসফুস’ হিসেবে বিবেচিত এই দুই উদ্যান।
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ মানুষের পাশে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জানালেন আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এম.পি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখনই সুযোগ পেয়েছেন তখনই মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের চেষ্টা করেছেন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ও ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেছেন। যে কারণে বাংলাদেশ এখন মর্যাদার আসনে অবস্থান করছে। আজকে যেভাবে একজন প্রধানমন্ত্রী দুস্থ মানবতার পাশে দাঁড়িয়েছেন তা ১৯৭৫ সালের পর বাংলাদেশে আর দেখা যায় নি।
বৃহস্পতিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা পরিষদ মাঠে প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
এরপর আখাউড়ার এক হাজার মানুষের প্রত্যেকের মাঝে ১০ কেজি চাল, এক কেজি সয়াবিন তেল, এক কেজি পিঁয়াজ, অাধা কেজি মসুর ডাল ও এক প্যাকেট সেমাই বিতরণ করা হয়।
সুবিধাভোগিরা খাদ্য সহায়তা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন, আখাউড়া পৌরসভার মেয়র মো. তাকজিল খলিফা কাজল, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাসেম ভূইয়া, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নূর-এ আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক মো. জয়নাল আবেদীন, আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ স্থানীয়রা।
এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে এই রোজায় কেউ যেন কষ্ট না পান সে কারণে প্রধানমন্ত্রী উপহার পাঠিয়েছেন। আপনারা আল্লাহর কাছে প্রার্থণা করবেন তিনি যেন আমাদেরকে এ মহামারী থেকে রক্ষা করেন।
ভার্চুয়াল আদালতে জামিনে কারামুক্ত ২৯ হাজার ২৯১ হাজতি,তথ্য আদালত প্রশাসনের
করোনা সংক্রমণ রোধকল্পে দ্বিতীয় দফার লকডাউনে সারাদেশের অধস্তন আদালতসমূহে ৩ হাজার ৮৭টি আবেদনের ভার্চুয়াল শুনানি ও নিষ্পত্তি করে এক হাজার ৪৪৭ জন আসামিকে জামিন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সর্বমোট ১৭ কার্যদিবসে ৫৪ হাজার ৯৬৯টি মামলায় ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে মোট ২৯ হাজার ২৯১ জন হাজতি জামিনে কারামুক্ত হলেন। বৃহস্পতিবার (৬ মে) সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মুহাম্মদ সাইফুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ‘করোনা সংক্রমণ রোধকল্পে দ্বিতীয় দফায় সারাদেশে অধস্তন আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে শারীরিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে জামিন এবং অতীব জরুরি ফৌজদারি দরখাস্তের ওপর শুনানি হয়েছে। ৫ মে সারাদেশের অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে ভার্চুয়াল শুনানিতে ৩ হাজার ৮৭ টি জামিন-দরখাস্ত নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং এক হাজার ৪৪৭ জন হাজতি অভিযুক্ত আসামিকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
এর আগে দ্বিতীয় দফায় ভার্চুয়াল আদালতের প্রথম দিনে সারাদেশে অধস্তন আদালতসমূহে এক হাজার ৬০৪ জন, দ্বিতীয় দিনে ৩ হাজার ২৪০ জন, তৃতীয় দিনে ২ হাজার ৩৬০ জন, চতুর্থ দিনে এক হাজার ৮৪২ জন, পঞ্চম দিনে এক হাজার ৬৩৫ জন, ষষ্ঠ দিনে এক হাজার ৫৭৬ জন, সপ্তম দিনে এক হাজার ৩৪৯ জন, অষ্টম দিনে এক হাজার ৫৯২ জন, নবম দিনে এক হাজার ৮৩৯ জন, দশম দিনে এক হাজার ৫৯৩ জন, ১১তম দিনে এক হাজার ৩৯৫ জন, ১২তম দিনে এক হাজার ৪২২ জন, ১৩তম দিনে এক হাজার ৪১২ জন, ১৪তম দিনে এক হাজার ৭২১ জন, ১৫তম দিনে এক হাজার ৭১৪ জন এবং ১৬তম দিনে এক হাজার ৫৩৬ জন আসামিকে জামিন দেওয়া হয়।
১৭ কার্যদিবসে সবমিলিয়ে ৫৪ হাজার ৯৬৯টি মামলায় ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে মোট ২৯ হাজার ২৯১ জন হাজতি কারামুক্ত হয়েছেন। এ সময়ে জামিনপ্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা ৩৮৮ জন।
এর আগে ভার্চুয়াল আদালত শুরু হওয়ার পর প্রথম দফায় ২০২০ সালের ১১ মে থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৫৮ কার্যদিবসে সারাদেশে অধস্তন আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে ভার্চুয়াল শুনানিতে মোট এক লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৯টি ফৌজদারি মামলায় জামিন-দরখাস্ত নিষ্পত্তি হয় এবং ৭২ হাজার ২২৯ জন অভিযুক্ত ব্যক্তির (শিশুসহ) জামিন মঞ্জুর করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে বলা হয়, প্রাদুর্ভূত মহামারি (কোভিড-১৯) এর ব্যাপক বিস্তার রোধকল্পে ১২ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে জামিন ও অতীব জরুরি ফৌজদারি দরখাস্তসমূহ নিষ্পত্তি করার উদ্দেশে আদালত ও ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।’
এছাড়াও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় প্রত্যেক চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক শারীরিক উপস্থিতিতে দায়িত্বপালন করবেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
তলোয়ার নিয়ে সংসদ ভবনে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা, গ্রেপ্তার ২ জঙ্গি রিমান্ডে
সংসদ ভবনে তলোয়ার নিয়ে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য আল আমিন এবং ‘উগ্রবাদী’ বক্তা আলী হাসান ওসামার পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ মে) তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে বিচারক পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
‘তলোয়ার নিয়ে’ জাতীয় সংসদ ভবনে হামলার ‘পরিকল্পনা এবং তাতে উসকানি’ দেওয়ার অভিযোগে সংসদ ভবনের সামনে থেকে একজনকে এবং রাজবাড়ি থেকে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার দুজনের মধ্যে ২২ বছর বয়সী আবু সাকিব নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য। আর আলী হাসান ওসামা নামে অন্যজন একজন উগ্রবাদী বক্তা। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (ইভেস্টিগেশন) উপ কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, বুধবার সন্ধ্যার পর সংসদ ভবনের সামনে থেকে ‘তলোয়ার এবং কালো পতাকাসহ’ সাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। “সে জানায় উগ্রবাদী বক্তা আলী হাসান ওসামার কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সে শহীদ হতে সংসদ ভবনে হামলার জন্য এসেছিল।” এরপর বৃহস্পতিবার সকালে রাজবাড়ী থেকে ওসামা নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সাকিব সিরাজগঞ্জের একটি কলেজের স্নাতক শ্রেণীর ছাত্র জানিয়ে উপ কমিশনার সাইফুল বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাকিব বলেছে, ফেইসবুকে একটি গ্রুপ খুলে সংসদ ভবনে হামলার জন্য তলোয়ার এবং কলেমা লেখা পতাকা নিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলে সে। “পরে কাল সন্ধ্যায় সে সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে দেখে, তার ডাকে সাড়া দিয়ে কেউ আসেনি।” সাইফুল বলেন, আলী হাসান ওসামার বক্তব্যে ‘উদ্বুদ্ধ হয়েই’ সংসদ ভবনে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ওই ফেইসবুক গ্রুপ খোলার কথা জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন সাকিব।এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আর কারা জড়িত তা তদন্ত করে বের করা হবে।
আদালতের সময় নষ্ট করায় আইনজীবী ই্উনুছ আলীকে হাইকোর্টের জরিমানা
আদালতের ‘সময় নষ্ট করায়’ আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দকে হাইকোর্ট যে জরিমানা করেছে এই আদেশের বিরুদ্ধে তিনি আইনী লড়াই করবেন বলে জানিয়েছেন। মি. ইউনুছ বলেন,ভার্চুয়াল আদালতের ইন্টারনেটের জুম লাইনে তিনি ঢুকতে পারেন নি। এ ছাড়া তিনি যে লকডাউন নিয়ে রিট করেছিলেন তা ইতিমধ্যে অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ায় এই রিট এমনিতেই অকার্যকর হয়ে গেছে। ফলে তার অনুপস্থিতিতে যে জরিমানা করা হয়েছে তা সঠিক হয়নি এবং আদেশটি তিনি প্রত্যাহার ও পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন।
উল্লেখ্য মামলা করার পর শুনানি না করে এবং আদেশের সময় হাজির না থেকে আদালতের ‘সময় নষ্ট করায়’ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দকে বুধবার ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে হাই কোর্ট।
নির্ধারিত সময়ে তার অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারক প্রশ্ন করেছেন, গণমাধ্যমকে দেখানোর জন্যই তিনি মামলা করেন কি না।
আদালত অবমাননার দায়ে এর আগেও সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ তিনমাসের জন্য তার আইনপেশার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলো। আর এবার হাইকোর্ট তাকে জরিমানা করলো।
মহামারী সামাল দিতে সরকারের বিধিনিষেধ জারির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ২৫ এপ্রিল হাই কোর্টে এই রিট করেছিলেন মি.ইউনুছ আলী। কিন্তু এরপর তিনি এই মামলার শুনানি করতে আদালতে আসেন নি। ফলে বুধবার ওই রিট আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের ভার্চুয়াল বেঞ্চ। সেই সঙ্গে আদালতের সময় নষ্ট করায় ‘খরচ বাবাদ’ আদালত ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
রিট মামলায় মি.ইউনুছ দাবি করেছিলেন,জরুরি অবস্থা জারি করা ছাড়া লকডাউন দেওয়ার সুযোগ নেই। চলমান লকডাউনের ওপর স্থগিতাদেশ এবং আর যাতে লকডাউন দেওয়া না হয়, সে জন্য নির্দেশনা চেয়েছিলেন তিনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জাতীয় কারিগরি উপদেষ্টা কমিটিকে বিবাদী করা হয়েছিল তার ওই রিট আবেদনে।
সেখানে তিনি যুক্তি দেখান, “জরুরি অবস্থা জারি করা ছাড়া জনগণের চলাফেরার অধিকার, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার সরকার স্থগিত রাখতে পারে না। এটা সংবিধান পরিপন্থি। কিন্তু সরকার জরুরি অবস্থা জারি না করেই লকডাউন দিয়েছে, যা সংবিধানের ২৭, ২৮, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৫ ও ৩৬ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি।”
বিডি নিউজ জানিয়েছে, গত ২৭ এপ্রিল রিট আবেদনটি উপস্থাপন করলে শুনানির জন্য তা কার্যতালিকায় ওঠে। গত রোববার আদালত কার্যতালিকার ক্রমানুসারে ইউনুছ আলী আকন্দকে ডাকে। সেদিনও তিনি ছিলেন না। তখন আদালত মামলাটির শুনানি না করে মঙ্গলবার আদেশের জন্য রাখেন।
কিন্তু মঙ্গলবারও কার্যতালিকা ধরে ডেকে ইউনুছ আলী আকন্দকে পায়নি আদালত। বুধবার কার্যতালিকার প্রথমেই এ রিট মামলাটি ছিল।
এদিনও কার্যতালিকা ধরে কয়েকবার ডেকে রিটকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দের সাড়া পাচ্ছিল না আদালত। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক এম ইনায়েতুর রহিম তখন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খানের কাছে পরামর্শ চান যে, শুনানি বা আদেশের সময় আদালতে আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় মামলা খারিজের সাথে খরচ বাবদ জরিমানা করা যায় কিনা।
জবাবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার এবং আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, জনস্বার্থের মামলায় এ রকম হলে খরচ বাবদ জরিমানা করা যায়।
বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম তখন বলেন, “এই আবেদন (লকডাউন চ্যালেঞ্জ করা রিট) দিয়ে চার দিন পাঁচ দিন (তিনি) নাই। লকডাউন চ্যালেঞ্জ করে মাঝে মাঝে উঁকি দেন, আর মামলা ধরলে থাকেন না। প্রতিদিনই এ কাজ করেন। ঠিক আছে, ডিসমিস ফর ডিফল্ট কস্ট অব টাকা টেন থাউসেন্ড।”
তখন একজন আইনজীবী খরচ বাবাদ জরিমানার ১০ হাজার টাকা মাফ করে দেওয়ার আর্জি জানান।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম তখন বলেন, “কেন মাফ করবো? কোর্ট কাচারি নিয়ে ফাজলামো নাকি? লকডাউনের মধ্যে একটা মামলা করেছেন, উনাকে একদিনও পাওয়া যায় না। উনি মামলা করে মিডিয়ায় আগে বলে দেন যে মামলা ফাইল করা হয়েছে।
“পাঁচ দিন ছয় দিন ধরে মামলা লিস্টে, উনি আসেন না। কী ধরনের কথা! লিস্টে দিয়ে উনি পেপার পত্রিকায় নিউজ দেবেন!”
ভার্চুয়াল আদালতে উপস্থিত একজন আইনজীবী তখন বলেন, “তাকে (ইউনুছ আলী আকন্দকে) সিরিয়াসলি সতর্ক করা উচিৎ। আপিল বিভাগ থেকেও তাকে একবার সতর্ক করা হয়েছে।”
আদেশের পর যোগাযোগ করা হলে আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি তো লাইন টাইন পাই নাই জুমে। এখন মিডিয়ার মাধ্যমেই শুনলাম যে ১০ হাজার টাকা ফাইন ফর ডিফল্ট।
“এখন আমার কথা হইল, আমি যে মোশনটা ফাইল করেছিলাম, সেটা প্রথম এবং দ্বিতীয় লকডাউন চ্যালেঞ্জ করে। কিন্তু এই মামলার শুনানি হতে হতে আরও দুইবার লকডাউন বাড়ানো হয়েছে। সেগুলো আমি চ্যালেঞ্জ করি নাই। ফলে এই রিটটা এমনিতেই অকার্যকর হয়ে গেছে।”
আর শাস্তির বিষয়ে ইউনুছ বলেন, “মোশন মামলা ডিফল্ট ফর ডিসমিস (আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় খারিজ) হতে পারে। কিন্তু কস্ট (খরচ বাবদ জরিমানা) দেওয়ার কোনো বিধান নাই। এরকম কোনো নজির নাই।”
হাই কোর্ট রুলস অনুযায়ী এ আদেশটি প্রত্যাহার (রিকল) চেয়ে এই বেঞ্চেই আবেদন করবেন বলে জানান আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।
আর যদি তাতে ব্যর্থ হন, তাহলে আদেশটি পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জনস্বার্থের মামলায় খরচ বাবদ জরিমানা করা যায় কিনা তা জানতে চেয়েছিলেন হাই কোর্ট। আমি বলেছি যে, কস্ট ইমপোজ করা যায়।”
বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “লকডাউনের সময় কোর্ট সীমিত আকারে চলছে জরুরি সব মামলা শোনার জন্য। আমরা সবাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে থাকি। জনস্বার্থের নামে মামলা করে আদালতের সময় নষ্ট করার তো কোনো মানে হয় না।”
বিচার বিভাগ নিয়ে ফেইসবুকে কিছু মন্তব্যের কারণে গতবছর অক্টোবরে আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দকে গুরুতর আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সর্বসম্মত ওই রায়ে ইউনুছ আলীকে তিন মাস তাকে সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশা থেকে বিরত থাকার শাস্তি দেওয়া হয়।
দেশে বিভিন্ন ঘটনার পর রিট মামলা করে আলোচিত ইউনুস আলী আকন্দ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচন করে হেরে যান। গতবছর বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে আবেদন করে তিনি নতুন আলোচনার জন্ম দেন।
ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে নারীর মৃত্যু
রাজধানীর মতিঝিলে ‘ব্যাগ ধরে’ প্রাইভেট কারে থাকা ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত সুনিতা রাণী দাস থাকতেন ঢাকার গোপীবাগে। একটি বাসায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন ৫০ বছর বয়সী এই নারী।
পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার নূরুল ইসলাম জানান, বুধবার ভোর ৬টার দিকে মতিঝিল বাস ডিপোর কাছে ছিনতাইয়ের ওই ঘটনা ঘটে।
“একটি প্রাইভেটকার থেকে ওই নারীর ব্যাগ টান মেরে নিয়ে যায়। এসময় তিনি রিকশা থেকে পড়ে যান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুরের পর তিনি মারা যান।”
গোপীবাগের বাসা থেকে বের হয়ে রিকশায় শান্তিনগর যাচ্ছিলেন সুনিতা রাণী। সাথে তার ভাগনে ছিলেন। ওই ঘটনার পর সুনিতাকে প্রথমে মুগদা হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম বলেন, “খবরটি আমরা ঘটনার বেশ পরে পেয়েছি। পুলিশ ছিনতাইকারীদের ধরতে কাজ করছে।”
এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রাইভেট কারটি শনাক্তের জন্য আশেপাশের সিসিটিভির ভিডিও সংগ্রহ করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য কয়েকবছর আগে একইভাবে রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকায় রিকশাযাত্রী এক মহিলার ব্যাগ ধরে ছিনতাইকারীরা টান দিলে তিনি পড়ে যান,পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, জানালেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের মানুষের মুক্তি ও ভাগ্য উন্নয়নে আজীবন লড়াই করে গেছেন। তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, দুর্দিনে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের জন্য তিনি তাঁর তহবিল থেকে খাদ্য উপহার পাঠিয়েছেন। মন্ত্রী মহামারি প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানিয়ে সকলকে অগ্রীম ঈদ শুভেচ্ছা জানান।
বুধবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় টি.আলী কলেজ মাঠে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য উপহার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি কসবার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নের কোভিড- ১৯ এর প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার নিম্ন আয়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক খাদ্য সহায়তা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
তাছাড়া কৃষি বিভাগের ৬টি ধান কাটার হারভেস্টার মেশিন এবং উপজেলা মৎস্য অফিসের উদ্যোগে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বৃহত্তর কুমিল্লা মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে ৫৪০টি সেলাই মেশিন বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট রাশেদুল কাওসার ভূইয়া জীবন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ উল আলম, কসবা পৌর মেয়র মো. এমরান উদ্দিন জুয়েল, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক এমজি হাক্কানী ও আলহাজ্ব রুহুল আমিন ভূইয়া বকুল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাছিবা খান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা সিদ্দিকী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-সাংবাদিক, মু্ক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
হেফাজতের মামুনুল দুই মামলায় আরও ৫ দিনের রিমান্ডে
পল্টন থানার নাশকতার দুই মামলায় হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও ৫ দিনের হেফাজতে নেওয়ার অনুমতি পেয়েছে পুলিশ।
ঢাকার মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার মঙ্গলবার এ আদেশ দেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু জানান।
এ সময় আসামির পক্ষে আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মেজবাহ রিমান্ড বাতিল করে তার জামিন চাইলে বিচারক তা নামঞ্জুর করেন।
এর আগে দুই দফায় ১৪ দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার মামুনুলকে আদালতে হাজির করে চলতি বছর মার্চে বায়তুল মোকাররম মসজিদে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় দুটি মামলায় ১০ দিন ও সাত দিন করে রিমান্ড চায় পুলিশ।
শুনানি শেষে বিচারক এক মামলায় ৩ দিন ও আরেক মামলায় ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামুনুল হকের পক্ষে তার আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধীতা করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।
১৮ এপ্রিল দুপুরে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।











