চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের নিমার্ণাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারকে ‘আপাতত’ ৫ লাখ টাকা করে দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবি সমিতিসহ (বেলা) পাঁচটি সংগঠনের আলাদা দুটি রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার রুলসহ এ আদেশ দেয়।
নিহতদের পরিবারকে ওই টাকা পরিশোধ করতে এস আলম গ্রুপকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এস আলম গ্রুপের আইনজীবী মো. আরশাদুল রউফ শুনানিতে বলেন, নিহতদের পরিবারকে ইতোমধ্যে ৩ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
তখন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, “৩ লাখ টাকা করে দিয়েছেন, আরও ২ লাখ টাকা করে দেন।”
গত ১৭ এপ্রিল বাঁশখালীর গণ্ডামারা ইউনিয়নে এস আলম গ্রুপের নির্মাণাধীন ১৩২০ মোগাওয়াট ক্ষমতার ‘এস এস পাওয়ার প্ল্যান্টে’ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। সে সময় গুলিতে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে আরও দুজন মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত শ্রমিকদের ভাষ্য, বকেয়া বেতন ও রোজায় কাজের সময় পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ থেকে সেদিন সেখানে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
বাঁশখালী সংঘর্ষ: নিহতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে দিতে এস আলমকে হাই কোর্টের নির্দেশ
কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও নারীবিদ্বেষী করা হচ্ছে, বললেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি
শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, “আমরা যখন কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন, ২০১০ সালের শিক্ষানীতি অনুসরণ করার চেষ্টা করছি, তখন কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের জাতিবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী নারীবিদ্বেষী গুজবের কারখানা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চূড়ান্ত অপব্যবহার করছে স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি।”
শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৯২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারের আয়োজন করে। সেখানেই শিক্ষামন্ত্রীর এমন পর্যবেক্ষণ আসে বলে নির্মূল কমিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
‘সকল কওমি মাদ্রাসা সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে’- এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ ওয়েবিনারে নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সহসভাপতি শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সদস্য লেখক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোটের সভাপতি মওলানা জিয়াউল হাসানও বক্তব্য দেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা একমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক শিক্ষাব্যবস্থার চিন্তা দেখতে পাই। কিন্তু সেই শিক্ষাভাবনা নিয়ে আমরা আর এগোতে পারিনি’ ৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর স্বাধীনতাবিরোধী, একাত্তরের পরাজিত মৌলবাদী গোষ্ঠীর রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের মাধ্যমে দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক শিক্ষার বিস্তার করে।”
দীপু মনি বলেন, সামাজিক আন্দোলনের মানুষ হিসেবে সত্য-মিথ্যার হিসাব করা ‘সহজ’ হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক সময় তা সহজ হয় না। সরকার নতুন যে কারিকুলাম করছে, তার ভিত্তি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু।
“এই মুহূর্তে একবারে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা সম্ভব নয়। কিন্তু সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছি, একটি দেশের মধ্যে যেন দুটো জাতি গড়ে না ওঠে। যে মূল্যবোধের কারণে বাঙালি হিসেবে আমরা গর্ব করি, সেই অসাম্প্রদায়িক মানবিকতা, পরমতসহিষ্ণুতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা শিক্ষা আইন ও শিক্ষানীতি প্রণয়ন করছি।”
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “লক্ষ লক্ষ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে মূলধারায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। মানুষ শুধু দারিদ্র্যের কারণে নয়, ধর্মের কারণেও সন্তানকে কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। এই বাস্তবতাও আমাদের বুঝতে হবে। “আমাদের সবার দায়িত্ব সমাজে সচেতনতার ক্ষেত্র তৈরি করা। মাদ্রাসাগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষা না জিহাদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে- সে সম্পর্কে বাবা-মাকে জানাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই যথাসময়ের যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাংলাদেশকে তার লক্ষ্যে পৌঁছে দেবেন। সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সহজ হবে।”
জামায়াত-হেফাজতিরা বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বা পাকিস্তানের মতো ‘জঙ্গি-মৌলবাদী-সন্ত্রাসী’ রাষ্ট্র বানানোর জন্য কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের ‘ব্যবহার করছে’ বলে অভিযোগ করেন শাহরিয়ার কবির।
তিনি বলেন, “২৫ হাজারের বেশি কওমি মাদ্রাসার ৩০ লক্ষাধিক ছাত্র-শিক্ষককে আমরা জামায়াত-হেফাজতের সন্ত্রাসী রাজনীতিক অভিলাষ পূরণের জন্য তাদের কাছে জিম্মি রাখতে পারি না।”
হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ অবস্থানের পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসায় সরকারের পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি।
তিনি বলেন, “দেশে পৃথক পৃথক আলিয়া-কওমি-নূরানি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার কোনো প্রয়োজন নেই। সব মাদ্রাসায় একই পাঠ্যসূচি প্রচলন করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-চেতনা, জাতির পিতার জীবনী, বাংলাদেশের সংবিধান, বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য পাঠ, জাতীয় সংগীত গাওয়া এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন সকল মাদ্রাসায় বাধ্যতামূলক করতে হবে।”
শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, জামায়াত-হেফাজতের একমাত্র উদ্দেশ্য ‘ক্ষমতায়’ যাওয়া এবং স্বাধীনতাকে ‘ভূলুণ্ঠিত’ করা।
“কিন্তু ৩০ লক্ষ শহীদ ও প্রায় সোয়া ৪ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশে আমরা তা মেনে নেব না। মাদ্রাসার ছাত্ররা পাকিস্তানি ভাবধারায় গড়ে উঠছে। শিক্ষার মূলধারায় তাদের আনতে হবে।”
অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, “প্রকৃতপক্ষে হেফাজত রাজনৈতিক দল। সুযোগ পেলেই তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ঝাঁপিয়ে পড়বে। তাদের বিশাল কর্মীবাহিনী আছে। এই কর্মীবাহিনীরা হচ্ছে মাদ্রাসার ছাত্র, যাদের লেখাপড়া করার কথা।
“কিন্তু লেখাপড়ার বাইরে গিয়ে কওমি মাদ্রাসায় তারা ধর্মান্ধ, মৌলবাদী হিসেবে গড়ে ওঠে। এজন্য আমরা দায়ী। বাবা-মা দারিদ্র্যের কারণে তাদেরকে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিচ্ছে। তাদের সাধারণ শিক্ষার ব্যবস্থা আমরা করে দিতে পারছি না।”
বাবা-মার যেন সন্তানকে মাদ্রাসায় পাঠাতে না হয়, সেজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হোস্টেলের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক বলেন, “খবরের কাগজে মাদ্রাসায় যৌন নির্যাতনের খবর পড়ে আমার খুব কষ্ট লেগেছে। এ সব থেকে পরিত্রাণের জন্য বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে।”বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোটের সভাপতি মওলানা জিয়াউল হাসান বলেন, “কোরআন অনুযায়ী ‘হেফাজত-ই ইসলাম’ নামটি পরিপন্থি। কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষক ছাত্রের বৈষম্য প্রকট। কওমি মাদ্রাসায় মানবতার শিক্ষা, দেশপ্রেমের শিক্ষা দেওয়া হয় না। জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে কোনো মাদ্রাসায় এখন পর্যন্ত একটি চিঠি যায়নি।“মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতি যাদের আনুগত্য নেই, তাদেরকে আমরা কেন স্বীকৃতি দিলাম? মাদ্রাসাগুলোতে মাতৃভাষায় শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে, যে বিষয়ে ইসলামে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আছে। শিক্ষামন্ত্রীকে আহ্বান জানাই, অবিলম্বে কওমি মাদ্রাসাগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক মানবতাবাদী শিক্ষা ব্যবস্থায় গড়ে তুলতে হবে।” অন্যদের মধ্যে ডাকসুর প্রাক্তন ভিপি অধ্যাপক মাহফুজা খানম, নির্মূল কমিটির সহ সভাপতি মমতাজ লতিফ, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা হাসান রফিক, সুইডেন প্রবাসী লেখক-সাংবাদিক সাব্বির খান, নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুলও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। এর আগে সকালে মিরপুরে শহীদজননী জাহানারা ইমামের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।
ভেঙে গেলো বিল গেটস ও মেলিন্ডার সংসার, প্রেম আর বিয়ে ৩৪ বছরের সম্পর্কের ইতি টানলেন বিশ্বের ধনাঢ্য ও দাতা এই দম্পতি
বিশ্বের ধনাঢ্য দম্পতি বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটস তাদের ৩৪ বছরের সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিলেন। এর মধ্যে ৭ বছরের প্রেম আর বিবাহিত জীবন ২৭ বছরের । বিশ্বের চতুর্থ ধনাঢ্য ও দাতা হিসেবে পরিচিত এই দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদের যৌথ ঘোষণা মানবহিতৈষী জগতকে নাড়িয়ে দিয়েছে বলে দেশী বিদেশী সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভার্চুয়াল মিডিয়াতেও এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের টুইটার অ্যাকাউন্টে এক বিবৃতিতে দুজন বলেন, “আমাদের সম্পর্ক নিয়ে অনেক চিন্তা ও কর্মের পর আমরা বিয়ের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

“আমাদের জীবনের পরবর্তী পর্বে দম্পতি হিসেবে একসঙ্গে জীবন এগিয়ে নিতে পারব বলে আমরা আর বিশ্বাস করি না। নতুন জীবনের পথে চলা শুরুর কালে আমাদের পরিবারের জন্য একান্ত পরিসর চাইছি।”
আশির দশকের শেষ দিকে মেলিন্ডা যখন বিল গেটসের প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটে যোগ দেন, তখন থেকে তাদের পরিচয়। এই দম্পতির তিন সন্তান রয়েছে।
২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত সিয়াটল-ভিত্তিক অলাভজনক দাতব্য প্রতিষ্ঠান বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার ও ট্রাস্টি তারা।
সর্বশেষ হালনাগাদ আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ২০১৯ সাল শেষে ফাউন্ডেশনের মোট সম্পদের পরিমাণ ৪ হাজার ৩৩০ কোটি ডলার।
বিল ও মেলিন্ডার গড়ে তোলা এ দাতব্য প্রতিষ্ঠান বিশ্বজুড়ে সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই ও শিশুদের টিকাদানে উৎসাহিত করতে কাজ করছে।
ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ৬৫ বছর বয়সী বিল ও ৫৬ বছর বয়সী মেলিন্ডা মিলে ১৯৯৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এই ফাউন্ডেশনে ৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের বেশি দান করেছেন।
গেটস দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদের পর প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বিষয়ে জানতে চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে কোনো জবাব মেলেনি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। আর আদালতে তারা যে আবেদন জমা দিয়েছেন তাতেই দেখা গেছে যদি বিচ্ছেদ হয় তাহলে সম্পদ তাদের মধ্যে কিভাবে ভাগ হবে সে সম্পর্কে কোনো চুক্তি নেই। উল্লেখ্য, এই দম্পতির রয়েছে ৫টি এস্টেট, একটি প্রাইভেট জেট, বিস্ময়কর সব আর্ট কলেকশন এবং বিলাসবহুল গাড়ির ভাণ্ডার।

সাত বছরের চুটিয়ে প্রেম অতপর বিয়ে:
নিউ ইয়র্কে ১৯৮৭ সালের একটি ব্যবসায়িক নৈশভোজের অনুষ্ঠান। তাতে একটি টেবিলে পাশাপাশি মাত্র দুটি আসন খালি। একটিতে গিয়ে বসলেন মেলিন্ডা অ্যান ফ্রেঞ্চ। এর দু’চার মিনিটের মধ্যে ফাঁকা আসনে গিয়ে বসলেন বিল গেটস। পাশাপাশি, খুব পাশাপাশি বসা মেলিন্ডা আর বিল গেটস। মেলিন্ডা তারই প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের একজন প্রজেক্ট ম্যানেজার। কোথা থেকে যেন প্রেম উড়ে এলো। বিল গেটস তার দিকে তাকালেন অন্যচোখে। ভাল লেগে গেল মেলিন্ডাকে। ভাল লাগলো মানে, একেবারে হৃদয়ে গেঁথে গেল। সেই থেকে দু’জনের প্রেম। চুটিয়ে প্রেম। এক বছর প্রেম করার পর বিল গেটস কিছু প্রস্তাবনার তালিকা তৈরি করলেন। বিয়ে করলে কি কি হবে, তার একটি তালিকা। টানা ৭টি বছর তারা প্রেমে হাবুডুবু খেলেন। এরপর ১৯৯৪ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন তারা। মেলিন্ডা অ্যান ফ্রেঞ্চ হয়ে গেলেন মেলিন্ডা গেটস। তারপর থেকে সুখে-দুঃখে একসঙ্গে কেটে গেছে দীর্ঘ ২৭টি বছর। সব মিলে তাদের প্রেম ও দাম্পত্য জীবন নিয়ে কেটে গেছে ৩৪টি বছর। এ সময়ে তারা তিনটি সন্তানের পিতামাতা হয়েছেন। বড়মেয়ে জেনিফারের বয়স এখন ২৫ বছর। এরপরে রয়েছে ছেলে রোরি (২১) এবং ১৮ বছর বয়সী মেয়ে ফোইবি (১৮)। ভরপুর সংসার, হাসিখুশি মাখা সন্তান, অর্থবিত্তে সয়লাব পরিবার, দাতা হিসেবে ব্যাপক সুনাম বিশ্বজুড়ে, দাতব্য সংস্থা পরিচালনায় আছে সুনাম। তারপরও এত বছর পরে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেন বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটস। কিন্তু কেন? কি রহস্য এই বিচ্ছেদের? এর কোনো কুলকিনারা পাওয়া যাচ্ছে না। অ্যামাজন বস জেফ বেজোসের সংসার ভেঙেছে লঁরা সানচেজ নামে এক যুবতীর সঙ্গে গোপন প্রেমের কারণে। কিন্তু মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ও তার স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসের সংসার ভাঙছে কি কারণে, তা কঠিন এক রহস্যে ঘেরা। যার চোখে চোখ রেখে বিল গেটস দেখেছিলেন তার ভালবাসার স্বর্গ, তার সঙ্গেই ২৭ বছর সংসার করার পর দু’জনেই বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেন! এ খবরে বিশ্বজুড়ে তুমুল আগ্রহ। পশ্চিমা সব অনলাইন বা প্রিন্ট ভার্সনের পত্রিকায় প্রধান সংবাদ শিরোনাম হয়ে উঠে এসেছেন তারা। সবাই জানার চেষ্টা করছে কি কারণে এই বিচ্ছেদ ঘটতে পারে। তবে এর আগে এক সাক্ষাৎকারে মেলিন্ডা বলেছিলেন, নিজের কাজ এবং পরিবারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে ভীষণ সমস্যা হচ্ছে তার স্বামী বিল গেটসের।
সোমবার তারা ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটানোর ঘোষণা দেন। আকস্মিক এ ঘোষণায় বিস্মিত মানুষ। তাদের সন্তানদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। তবু সংসার অপ্রত্যাশিতভাবে ভেঙে গেছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মেলিন্ডা। তিনি বিচ্ছেদ আবেদন করে দরখাস্ত করেছেন। এতে বলেছেন, তিনি এবং বিশ্বে চতুর্থ শীর্ষ ধনী মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতার মধ্যে বিয়ের আগে কোনো লিখিত চুক্তি হয়নি। ফলে এই দম্পতির গড়ে তোলা প্রায় ১৩০০০ কোটি ডলার কিভাবে ভাগ হবে তা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। বিল গেটসের বয়স এখন ৬৪ বছর। মেলিন্ডা ৫৬। আদালতে তারা যে আবেদন জমা দিয়েছেন তাতেই দেখা গেছে যদি বিচ্ছেদ হয় তাহলে সম্পদ তাদের মধ্যে কিভাবে ভাগ হবে সে সম্পর্কে কোনো চুক্তি নেই। উল্লেখ্য, এই দম্পতির রয়েছে ৫টি এস্টেট, একটি প্রাইভেট জেট, বিস্ময়কর সব আর্ট কলেকশন এবং বিলাসবহুল গাড়ির ভাণ্ডার। বড়মেয়ে জেনিফার গেটস (২৫) জানিয়েছেন তার পরিবার কঠিন এক হতাশাজনক চ্যালেঞ্জিং সময় পাড় করছে। এরপরই মেলিন্ডা গেটসের বিচ্ছেদের আবেদন আলোর মুখ দেখে। সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলে ইন্সটোগ্রামে পিতামাতার বিচ্ছেদের ঘোষণা নিয়ে তিনি হতাশার কথা লিখেছেন।
বিল গেটস এবং মেলিন্ডা দু’জনেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে তাদের বিচ্ছেদের যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করেছেন। এতে তারা লিখেছেন, অনেক চিন্তাভাবনা এবং অনেক বিষয়ে কাজ করে আমরা সিদ্ধান্তে এসেছি বিবাহ বিচ্ছেদের। এতে তারা আরো লিখেছেন, ২৭টি বছর ধরে আমরা বড় করেছি অসাধারণ তিনটি সন্তানকে। গড়ে তুলেছি একটি ফাউন্ডেশন। এটি সারা বিশ্বে মানুষকে সুস্থ এবং উৎপাদনক্ষম জীবন যাপনে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এই মিশন সম্পর্কে আমাদের অভিন্ন বিশ্বাস রয়েছে। তা হলো, আমাদের বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও একসঙ্গে অব্যাহতভাবে এই ফাউন্ডেশনের জন্য কাজ করে যাবো। কিন্তু আমরা জীবনের বাকিটা অংশ একসঙ্গে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে কাটাতে পারবো না। আমাদের পরিবার এবং এর গোপনীয়তা অটুট রেখে নতুন জীবন শুরু করতে যাচ্ছি। বিল এবং মেলিন্ডার মধ্যে সর্বশেষ দু’সপ্তাহেরও কম সময় আগে জনসমক্ষে একত্রে দেখা গেছে। এ সময় তারা স্বাস্থ্যকর্মীদের করোনা বিষয়ক একটি ইভেন্টে ভার্চুয়ালি অংশ নিচ্ছিলেন।
বিল গেটস ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন মাইক্রোসফট। এর মধ্য দিয়ে ১৯৮৭ সালে মাত্র ৩১ বছর বয়সে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী বিলিয়নিয়ার হন। এ বছরেই নিউ ইয়র্কে এক ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎ হয় নিজের কোম্পানিতে চাকরি করা মেলিন্ডার সঙ্গে। বিল গেটস তখন মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। এর ৬ বছর পরে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহিত জীবন কাটিয়েছেন কোয়ার্টার সেঞ্চুরিরও বেশি সময়। তারপর কেন এই বয়সে এসে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে হচ্ছে তা অজানা। সোমবার ওয়াশিংটনের কিং কাউন্টিতে সুপ্রিম কোর্টে বিচ্ছেদের আবেদন জমা দিয়েছেন মেলিন্ডা। এতে তিনি বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেদিন থেকে ‘আমাদের বিচ্ছেদের চুক্তি হয়েছে’ সেদিন থেকে এই বিয়ে বিচ্ছেদকে কার্যকর হিসেবে ধরার জন্য। তবে এই আবেদনে বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত কবে হয়েছে, সেই তারিখটি পরিষ্কার নয়। বিয়ের আগে যদি সম্পত্তি ভাগাভাগির কোনো চুক্তি না থাকে, তখন বিবাহ বিচ্ছেদের চুক্তি বা কন্ট্রাক্টকে চুক্তি হিসেবে ধরা হয়। এই আবেদনে মেলিন্ডা ভরণপোষণের কোনো সাপোর্ট দাবি করেননি। ফলে তাদের বিয়ে বিচ্ছেদের বিষয়টি ট্র্যায়াল ছাড়াই সম্পন্ন হতে পারে।
প্রথম প্রেমের সেই সময়কে স্মরণ করে ২০১৯ সালে নিজের জীবনী ‘দ্য মোমেন্ট অব লিফট’-এ মেলিন্ডা বর্ণনা করেছেন তাদের প্রেমের প্রথম সেই মুহূর্তকে। অন্যদিকে নেটফ্লিক্স ডকুমেন্টারিতে নিজের জীবন সম্পর্কে বিল বলেছেন, আপনি জানেন, আমরা একে অন্যের খুব যত্ন নিই। সে যা-ই হোক, ১৯৯৪ সালে লানাইয়ের হাওয়াই দ্বীপে একটি গলফ কোর্সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এই দুনিয়াজোড়া খ্যাতিমানরা। এর দু’বছর পরেই তাদের প্রথম সন্তান জেনিফার জন্মগ্রহণ করেন ১৯৯৬ সালে। ২০১৯ সালে তাদের বিবাহের রজতজয়ন্তীর অল্প পরে মেলিন্ডা দ্য সানডে টাইমসকে একটি বিরল সাক্ষাৎকার দেন। এতে তিনি বলেন, কাজ আর সংসার এই দুটির মধ্যে সমতা রক্ষা করতে একরকম লড়াই করছেন বিল। তার ভাষায়- বিশ্বাস করুন এমন কিছু দিন আছে আমাদের দাম্পত্য জীবনে, তা অসম্ভব কঠিন। সেখানে আপনাকে ভাবতে হবে আমি কি এটা করতে পারি? এ বছরেই প্রকাশিত হয় তার স্মৃতিকথা। তাতে একজন পাবলিক আইকনের স্ত্রী হিসেবে এবং একই সঙ্গে তিনটি সন্তানের মা হিসেবে বাসায় অবস্থান করার মধ্যে একরকম ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিজেকে লড়াই করতে হয়েছে।
১৯৭৫ সালে পল অ্যালেনকে সঙ্গে নিয়ে মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা করেন বিল গেটস। ২০০০ সাল নাগাদ এখানে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর পরিচালকের ভূমিকায় চলে যান। আস্তে আস্তে সমাজহিতৈষী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন। ২০১৪ সাল পর্যন্ত পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত বছর তিনি মাইক্রোসফটের পরিচালনা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে পদত্যাগ করেন বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে থেকে ।
১৯৬৪ সালে টেক্সাসের ডালাসে একজন এরোস্পেস প্রকৌশলী এবং একজন গৃহবধূর কন্যা হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন মেলিন্ডা অ্যান ফ্রেঞ্চ। ১৯৮৭ সালে মাইক্রোসফটে যোগ দেয়ার আগে নর্থক্যারোলাইনার অভিজাত ডিউক ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেন। বিল গেটস বড় হয়েছেন সিয়াটলে। তার জন্ম ১৯৫৫ সালে। তার পিতা একজন সুপরিচিত আইনজীবী। আর মা ফাইন্যান্স হোল্ডিং কোম্পানির পরিচালনা পরিষদে দায়িত্ব পালন করেন। বিল গেটসের পড়াশোনা ভাল লাগলো না। তিনি ১৯৭৫ সালে মাইক্রোসফট চালু করবেন বলে হার্ভার্ডের পড়াশোনা বাদ দেন।
এদিকে, বিচ্ছেদ আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করতে দু’জনেই আইনজীবীদের পাওয়ার হাউজ বলে পরিচিত এমন প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া করেছেন। মেলিন্ডার প্রতিনিধিত্ব করছেন নিউ ইয়র্কভিত্তিক এটর্নিরা। তারা হলো কোহেন ক্লেয়ার লেন গ্রিফেফার থর্প অ্যান্ড রোটেনসট্রিচ এলএলপি এবং পল, ওয়েইস, রিফকাইন্ড, ওয়ারর্টন অ্যাল্ড গ্যারিসন এলএলপি’র আইনজীবী। অন্যদিকে বিল গেটসের প্রতিনিধিত্ব করবেন লস অ্যানজেলেস ভিত্তিক তিনজন আইনজীবী। তারা মাঙ্গার টোলস অ্যান্ড ওলসনের আইনজীবী। এর মধ্যে একজন আইনজীবী চার্লস টি মাঙ্গার বিল গেটসের বিলিয়নিয়ার বন্ধু ওয়ারেন বাফেটের দীর্ঘদিনের অংশীদার।
শারুনের বিরুদ্ধে আদালতে মুনিয়ার ভাইয়ের হত্যা মামলা, তবে কার্যকারিতা স্থগিত
কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়াকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছিলেন তার বোন; আর এখন তার ভাই হত্যা মামলার অভিযোগ নিয়ে গেলেন আদালতে।
আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান তানিয়া আসামি করেছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে।
অন্যদিকে মুনিয়ার ভাই আশিকুর রহমান সবুজ হত্যামামলায় আসামি করেছেন হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর ছেলে চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনকে (শারুন চৌধুরী)।
মুনিয়ার লাশ উদ্ধারের পাঁচ দিন পর রোববার আশিকুর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হত্যা মামলার আবেদন নিয়ে যান।
মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভুঁইয়া আবেদনটি নিলেও মুনিয়ার বোনের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার তদন্ত চলায় আপাতত এটির কার্যকারিতা স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছেন।
আদালতের পেশকার মাসুদ পারভেজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে গুলশান থানায় একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। এ মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ৩০২ ধারার হত্যা মামলার আবেদনটি স্থগিত থাকবে।”
হত্যামামলার আবেদনে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, তাতে শারুন কীভাবে জড়িত ছিল, তার বিবরণ জানা যায়নি।
এবিষয়ে আশিকুরের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার আইনজীবী সালাউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালালেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
মামলার প্রতিক্রিয়ায় শারুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বসুন্ধরা গ্রুপ ইস্যুটাকে ভিন্ন খাতে নিতে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আমি এই ঘটনায় সম্পৃক্ত নই। আইন এবং বিচারের প্রতি আমার শতভাগ আস্থা আছে।”
“আমি দেড় মাস ধরে চট্টগ্রামে আছি, আমি কীভাবে এই ঘটনায় জড়িত,” বলেন তিনি।
কুমিল্লার বাসিন্দা ঢাকার এক কলেজের ছাত্রী মুনিয়াকে গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাট থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
তার বোন তানিয়া কুমিল্লা থেকে এসে সেদিনই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে গুলশান থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, বসুন্ধরা এমডি আনভীর ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে মুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তাকে ওই বাসায় রেখেছিলেন। কিন্তু বিয়ে না করে তিনি উল্টো ‘হুমকি’ দেওয়ায় মুনিয়া আত্মহত্যা করেন।
এই ঘটনা নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে মুনিয়া-আনভীরের একটি ফোনালাপ সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি মুনিয়া-শারুনের হোয়াটসঅ্যাপে কথিত কথোপকথনের একটি স্ক্রিনশটও আসে।
তখন শারুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জিজ্ঞাসায় বলেছিলেন, তার সাবেক স্ত্রী সাইফা রহমান মিমের সঙ্গে আনভীরের ‘সম্পর্ক’ গড়ে ওঠার খবর জানাতে মুনিয়া গত বছর তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে তিনি তখন বলেছিলেন, সাবেক স্ত্রীর বিষয়ে তার কিছু করার নেই।
মুনিয়ার সঙ্গে সেই কথোপকথন মেসেঞ্জারে হয়েছিল জানিয়ে শারুন দাবি করেন, হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের যে স্ক্রিনশট এখন ছড়িয়েছে, তা ভুয়া।
এদিকে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনার’ মামলা করলেও মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত এর আগে বলেছিলেন, এটা আত্মহত্যা, নাকি হত্যা, তা তদন্তেই বেরিয়ে আসবে।
মামলা তুলে নিয়ে মীমাংসা করতে আসামি আনভীরের পক্ষে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন নুসরাত। এই অভিযোগ করে শনিবার কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।
মামলার তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ পুলিশ বলছে, তারা মুনিয়ার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
ভার্চুয়াল জগতে নাগরিকদের কণ্ঠরোধ করা উচিত নয়: ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট
ভার্চুয়াল জগতে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরতেই পারেন সাধারণ মানুষ, সেখানে দমননীতি চালানো উচিত নয়। করোনা পরিস্থিতিতে ভারত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হওয়ার পেছনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ভার্চুয়াল জগতে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।
আর এর জেরে ফেসবুক-টুইটারে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সেই সব অভিযোগ আটকানোর অভিযোগ উঠছে। ঠিক ওই সময় এমন মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট।
শুক্রবার আদালতে শুনানি চলাকালীন বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন, দেশের নাগরিক এবং বিচারপতি হিসেবে একটা বিষয় নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন আমি। তা হল, দেশের কোনও নাগরিক যদি নেটমাধ্যমে অভাব-অভিযোগ তুলে ধরেন, সেক্ষেত্রে তথ্যের ওপর দমন নীতি নেওয়াকে সমর্থন করি না। নাগরিকদের কথা আমাদের কানে পৌঁছতে দিন। আগামী দিনে হাসপাতালে শয্যা এবং অক্সিজেনের অভাব নিয়ে নেটমাধ্যমে মুখ খুলে কাউকে যদি হেনস্থার শিকার হতে হয়, তা আদালতের অবমাননা বলে গণ্য হবে।
আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, করোনা ভাইরাস মহামারী পরিস্থিতি নিয়ে দেশ জুড়ে যে অব্যবস্থার ছবি সামনে এসেছে, তা নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদেশ দিয়েছে করেছে ভারতের শীর্ষ আদালত।
শুক্রবার শুনানি চলাকালীন নেটমাধ্যমে নাগরিকদের অভাব-অভিযোগের কথা উঠে আসে। সেখানেই আদালত সাফ জানিয়ে দেয় কোনও ধরনের তথ্য ধামাচাপা দেওয়াকে সমর্থন করে না। সূত্র: ইন্ডিয়ান টুডে
মামুনুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ ঝর্ণার, তার কুপরামর্শে সংসার ভেঙ্গেছে
হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন তার কথিত ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ জান্নাত আরা ঝর্ণা।
শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করা হয় বলে জেলার পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান।
এজাহারে বলা হয়েছে, শহীদুল ইসলামের সঙ্গে ঝর্ণার দাম্পত্য জীবন ‘সুখে শান্তিতে’ অতিবাহিত হচ্ছিল। তাদের ১৭ ও ১৩ বছর বয়সী দুই সন্তান আছে। স্বামীর ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে ২০০৫ সালে মামুনুল হকের সঙ্গে ঝর্ণার পরিচয় হয়।

বাদীর অভিযোগ, তাদের বাসায় অবাধ যাতায়াত থাকার সুবাধে ছোটখাটো সাংসারিক মতানৈক্যের মধ্যে মামুনুল ‘সুকৌশলে’ প্রবেশ করে স্বামী-স্ত্রী মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে থাকেন। সাংসারিক টানাপড়েনের এক পর্যায়ে মামুনুলের ‘কুপরামর্শে’ ২০১৮ সালের ১০ অগাস্ট শহীদুলের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়।
এই নারী অভিযোগ করেছেন, বিচ্ছেদের পর ‘তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে’ মামুনুল তাকে ঢাকায় আসার জন্য ‘প্ররোচিত’ করেন। ঢাকায় আসার পর তার পরিচিত বিভিন্ন অনুসারীর বাসায় রেখে মামুনুল নানাভাবে তাকে ‘কুপ্রস্তাব’ দেন।
এর ধারাবাহিকতায় মামুনুলের পরামর্শে কলাবাগানে এক বাসায় সাবলেট থাকতে শুরু করেন জানিয়ে বাদী অভিযোগ করেছেন, ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে এবং ‘অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে’ মামুনুল হক তার সঙ্গে ‘শারীরিক সর্ম্পকও’ করেছেন। কিন্তু বিয়ের কথা বললে মামুনুল ‘করছি, করব বলে সময়ক্ষেপণ’ করতে থাকেন।
এজাহারে বলা হয়, ঘোরাঘুরির কথা বলে ২০১৮ সাল থেকে মামুনুল বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্টে বাদীকে নিয়ে যেতেন। ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রয়েল রিসোর্টে ঘুরতে নিয়ে গিয়েও মামুনুল তাকে ‘ধর্ষণ করেন’।
সেদিন সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টের একটি কক্ষে ওই নারীসহ মামুনুলকে অবরুদ্ধ করে স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশ গিয়ে মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় খবর পেয়ে হেফাজত ও মাদ্রাসার ছাত্ররা ওই রিসোর্টে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়।
এজাহারে বলা হয়েছে, পুলিশ সেখানে উপস্থিত হলে ঝর্ণাকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন মামুনুল। পরে তাকে তাদের বাসায় উঠতে না দিয়ে পরিচিত একজনের বাসায় আটকে রাখেন; কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেননি। পরে তার বাবার আবেদনের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে জান্নাত আরা ঝর্ণাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই দিনের ঘটনায় হেফাজতের নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভাঙচুর করেছে। পুলিশ গিয়ে তাদেরকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে হেফাজতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।
রিসোর্টে মামুনুল হককে অবরুদ্ধ ও সহিংস ঘটনার উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার ওসি রফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) টিএম মোশাররফ হোসেনকে বদলি করা হয়।
এর ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ।
পুলিশ তখন জানায়, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
জান্নাত আরা ঝর্ণা শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) সাংবাদিকদের বলেন, “আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে মামুনুল হক আমার সাথে অন্যায় করেছে ও প্রতারণা করেছে। আমি রাষ্ট্রের কাছে বিচার চাই।”
হাইকোর্টে জামিন শুনানি হয় নি, ভাড়া বিমানে দেশ ছাড়লেন বসুন্ধরার এমডির স্ত্রী-সন্তানসহ ৮ জন
আগাম জামিন চেয়ে করা কোনো আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ না করায় বসুন্ধরা শিল্প গ্রুপের এমডির জামিন আবেদন শুনানি হয় নি। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খন্দকার দিলিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।
এদিকে, বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের স্ত্রী এবং তার পরিবারের সাত সদস্যসহ ৮ জন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি ভাড়া বিমানে দেশ ছেড়েছেন।

সোমবার রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে এক কলেজ শিক্ষার্থী মোসারাত জাহান মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর বড় বোন বাদী হয়ে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া’র অভিযোগ এনে বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভিরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এই মামলায় আগাম জামিনের জন্য হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চে আবেদন করেন আনভির। বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খন্দকার দিলিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে বৃহস্পতিবার কার্যতালিকায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার আগাম জামিন চেয়ে করা আবেদনটি ১৪ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
কিন্তু বৃহস্পতিবার আদালতের শুরুতেই বিচারপতি মামনুন রহমান বলেন, করোনা পরিস্থিতি এবং বিধিনিষেধ চলাকালে আদালত কোনো আগাম জামিনের ওপর শুনানি করা হবে না। ভুলবশত কিছু আগাম জামিনের আবেদন আজকের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।’
সায়েম সোবহান আনভীরের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আদালত বলেছেন, আগাম জামিন আবেদন শুনবেন না। তাই আমরা মুভ করিনি।’ আনভীর অবশ্য আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

এক প্রশ্নের জবাবে মনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘পরবর্তী কার্যক্রম কী হবে তা ক্লায়েন্টের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে।’
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মামুন চৌধুরীর মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই জামিন আবেদন করা হয়েছিলো।
দেশ ছেড়েছেন এমডির স্ত্রী সন্তানঃ
বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের স্ত্রী এবং তার পরিবারের সাত সদস্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি ভাড়া বিমানে দেশ ছেড়েছেন।
এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভিএসইসি) এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, চার্টার্ড বিমানটি সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা বলেন, সায়েম সোবহানের পরিবারের আট সদস্য বৈধ কাগজপত্র নিয়েই দেশের বাইরে গেছেন।
তিনি আরও জানান, ছয় ডানার বেসরকারি জেট বিমানটি রাত ৮টা ৫৬ মিনিটে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায়। এটি পরিচালনা করে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান স্কু সলিউশন লিমিটেড।
তিনি আরও বলেন, সায়েম সোবহান আনভীর যেন দেশ ছাড়তে না পারেন সে জন্য নিরাপত্তা ও অভিবাসন কর্মকর্তারা সজাগ ছিলেন।
এক নথি থেকে জানা যায় ওই ফ্লাইটে ছিলেন, সাবরিনা সোবহান, আহমেদ ওয়ালিদ সোবহান, আরিশা আফরোজ সোবহান, ঈয়াশা সোবহান, রানিয়া আফরোজ সোবহান, ডিয়ানা হেরনানদেজ কাকানানদো, মোহাম্মদ কাদের মীর এবং হোসনেআরা খাতুন।
এই আট জনের মধ্যে ডিয়ানা হেরনানদেজ কাকানানদো, মোহাম্মদ কাদের মীর এবং হোসনেআরা খাতুন তাদের পরিবারের গৃহকর্মী বলে জানা গেছে।
সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ মফিদুর রহমান বলেন, তারা একটি বিশেষ ফ্লাইটের অনুমতি নিয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ছাড়পত্র পাওয়ার পর চার্টার্ড ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার থেকে তারা বিশেষ ফ্লাইটের অনুমতি চাইছিলেন।
বিনামূল্যে সরকারের আইনী সহায়তা, আইনমন্ত্রনালয়ের প্রশংসনীয় উদ্যোগ
গত ১২ বছরে ছয় লাখ সাত হাজার ৮’শ ৮০ জন অসহায় মানুষকে বিনামূল্য আইনি সহায়তা প্রদান করেছে সরকারি আইনগত সহায়তা সংস্থা। যার মধ্যে ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাধ্যমে ২,৮৯,৯৬৮ জনকে সরকারি খরচে মামলা দায়ের ও আইনজীবী নিয়োগসহ প্রাসঙ্গিক সকল খরচ নির্বাহ করতে সহায়তা করেছে। সহায়তাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১,৪৬,৪১১ জন নারী ও ১,৪২,৪১৫ জন পুরুষ এবং ১১৪২ জন শিশু। সংস্থাটি ২০১৫ সালের জুলাই মাস থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত মোট ৪৭,১২৮টি বিরোধ মোকদ্দমার মধ্যে ৪১,০০২টি বিকল্প পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করেছে এবং উপকারভোগীদের সাতান্ন কোটি নয় লাখ পনেরো হাজার দুইশত আটষট্টি টাকা আদায় করে দিতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৩৪ টি মোকদ্দমা বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির ফলে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। মন্ত্রণালয়ের এই যুগান্তকারী উদ্যোগ অসহায় দরিদ্র বিচারপ্রার্থিদের মধ্যে আশার আলো সঞ্চার করেছে।
তবে আইন মন্ত্রণালয়ের এই ভালো উদ্যোগটি প্রচারের আভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে পারছে না। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ অনেকেই জানেনা সরকারের এই সহায়তার কথা। এমন বাস্তবতা নিয়েই আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস আজ। করোনাভাইরাসের কারণে সীমিত পরিসরে উদযাপিত হবে দিবসটি।
এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে শেখ হাসিনার সরকার।”
আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনগত সহায়তা প্রদান করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০’ প্রণয়ন করেন এবং জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে সরকারি আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন। কিন্তু ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের পর এ আইনের বাস্তবায়ন কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে যায়। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পুনরায় সরকার গঠন করলে আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রম সক্রিয়করণের জন্য ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ২০১৪ সালে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে আনিসুল হক দায়িত্ব গ্রহণের পরেই সরকারি আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব ও সম্প্রসারিত করার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন । তাঁর দিক-নির্দেশনায় সুপ্রীম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস, চৌকি আদালত বিশেষ কমিটি, শ্রম আদালত বিশেষ কমিটি, উপজেলা ও ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটি গঠন ও সক্রিয়করণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসগুলোতে একজন করে সিনিয়র সহকারী জজ/সহকারী জজ পদমর্যাদার বিচারককে লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। মামলা জট কমানোর লক্ষ্যে লিগ্যাল এইড অফিসগুলোকে ‘এডিআর কর্নার’ বা ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির কেন্দ্রস্থল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১৬ সালে সরকারি আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রমকে ডিজিটাইজেশন করা হয়। এ ব্যবস্থাপনার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় জাতীয় হেল্পলাইন কলসেন্টার ১৬৪৩০।সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় লিগ্যাল এইড সেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে চালু করা হয় লিগ্যাল এইড অনলাইন কার্যক্রম।

তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের জনকল্যাণমূলক আইনি সেবার বার্তা পৌঁছে দেয়া ও সরকারি আইনি সেবার বিষয়ে অধিকতর জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০১৩ সালের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৮ এপ্রিলকে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং প্রতি বছর দেশব্যাপী রেলি, লিগ্যাল এইড মেলা, রক্তদান কর্মসূচি, পথনাটক, সভা-সেমিনার আয়োজনের মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালন করা হয়। করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড ১৯ এর প্রাদুর্ভাবের কারণে এ বছর সীমিত পরিসরে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব বাণী দিয়েছেন। দরিদ্র, অসহায় ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষকে আইনি সহায়তা প্রদানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়, এবং দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সীমিত পরিসরে স্ব স্ব কর্মসূচি পালিত হয়।
এদিকে এ দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা তাদের আইনি সহায়তা কার্যক্রমের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেছে।
আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রম : সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ২০০৯ থেকে মার্চ ২০২১ পর্যন্ত সংস্থাটি সর্বমোট ৬,০৭,৮৮০ (ছয় লক্ষ সাত হাজার আটশত আশি) জনকে সরকারি আইনি সেবা প্রদান করেছে; যার মধ্যে ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাধ্যমে ২,৮৯,৯৬৮ জনকে সরকারি খরচে মামলা দায়ের ও আইনজীবী নিয়োগসহ প্রাসঙ্গিক সকল ব্যয় নির্বাহ করতে সহায়তা করেছে। সহায়তাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১,৪৬,৪১১ জন নারী ও ১,৪২,৪১৫ জন পুরুষ এবং ১১৪২ জন শিশু।
বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রম: সংস্থাটি জুলাই ২০১৫ হতে মার্চ ২০২১ পর্যন্ত সর্বমোট প্রাপ্ত ৪৭,১২৮টি বিরোধ/মোকদ্দমার (প্রি-কেইস+পোষ্ট কেইস) মধ্যে ৪১,০০২টি বিরোধ/মোকদ্দমা বিকল্প পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করে উপকারভোগীদের ৫৭,০৯,১৫,২৬৮/- (সাতান্ন কোটি নয় লক্ষ পনেরো হাজার দুইশত আটষট্টি) টাকা আদায় করে দিতে সক্ষম হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ১৩৩৪ টি মোকদ্দমা বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির ফলে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
লিগ্যাল এইড মামলা নিষ্পত্তি : ২০০৯ থেকে মার্চ ২০২১ পর্যন্ত পারিবারিক, দেওয়ানি, ফৌজদারিসহ সর্বমোট ১,৩৭,৬৫৪ (এক লক্ষ সাঁইত্রিশ হাজার ছয়শত চুয়ান্ন) টি লিগ্যাল এইডের মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। নিষ্পত্তিকৃত মামলার মধ্যে দেওয়ানি ১৮,৬৭২ টি, ফৌজদারি ৮৯,৩৯৯ টি, পারিবারিক ২৮,৬৮৭ টি এবং অন্যান্য ৮৯৬ টি। তাছাড়া ২০০৯ থেকে মার্চ ২০২১ পর্যন্ত সুপ্রীম কোর্টে ২০৪৬ টি মামলায় সরকারি খরচে আইনি সহায়তা দেয়া হয়েছে এবং ১৯,৭৩৭ জনকে আইনি পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রীম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল : দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শ্রমিকদের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংস্থা ২০১৩ সালে ঢাকার শ্রম আদালতে ও ২০১৬ সালে চট্টগ্রামস্থ শ্রম আদালতে শ্রমিক আইন সহায়তা সেল স্থাপন করেছে। এ দু’টি সেলের মাধ্যমে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ১৪,৯৫৫ জনকে আইনি পরামর্শ প্রদান, ৩৩৭০ টি মামলা দায়ের, ৩০০ টি মামলা নিষ্পত্তি, ২৫৮ জনকে চাকুরিতে পুনর্বহাল এবং ৭১ টি সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ১১৭৭ টি বিরোধ বিকল্প পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি এবং ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪,৭৮,৯৯,২৩৭/- (চার কোটি আটাত্তর লক্ষ নিরানব্বই হাজার দুইশত সাঁইত্রিশ) টাকা আদায় করা হয়েছে।
কারাবন্দিদের আইনগত সহায়তা : জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা ২০১২ সাল থেকে মার্চ ২০২১ পর্যন্ত কারাগারে আটকে থাকা ৮৫,৭৫১ জন অসহায় কারাবন্দিকে সরকারি আইনগত সহায়তা প্রদান করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছে।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকালে আইনি সেবা কার্যক্রম: করোনাভাইরাসের এ প্রাদুর্ভাবকালে আইন ও বিচার বিভাগের অধীন জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা সাধারণ মানুষের জন্য আইনগত পরামর্শ কার্যক্রম আরো জোরদার করেছে। এ উদ্দেশ্যে ১২ ই এপ্রিল ২০২০ তারিখে জাতীয় হেল্পলাইন ১৬৪৩০ টোলফ্রি নম্বরটি ৮ ঘন্টার পরিবর্তে ২৪ ঘন্টার জন্য চালু করা হয়েছে। ফলে যে কোন সময়ে অসহায় শ্রমিকরা ফোন করে তাদের আইনগত সমস্যা জানাচ্ছে এবং শ্রম আইন অনুসারে তাদের আইনগত অধিকার কি সে বিষয়ে জানতে পারছে। পারিবারিক সহিংসতা বা যে কোনো আইনি বিষয়ে সাধারণ মানুষ ১৬৪৩০ হেল্পলাইন নম্বরের সহায়তা নিচ্ছে। সারাদেশের লিগ্যাল এইড অফিসারদের এ সেবার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। জরুরি আইনি সেবা প্রদানের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী লিগ্যাল এইড অফিসারদের কাছে কল ট্রান্সফার করা হচ্ছে।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকালে মার্চ ২০২০ থেকে মার্চ ২০২১ পর্যন্ত এ সংস্থার মাধ্যমে ৫৪,৩০৩ জনকে আইনি পরামর্শ প্রদান, ২৩,১৬৯ জনকে আইনগত সহায়তা প্রদান এবং ১৩,৩৫৪টি মামলা বিকল্প বিরোধ পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। একই সময়ে সংস্থাটি ক্ষতিগ্রস্ত বিচারপ্রার্থিদের ২৪,৩২,৩৯,৯৮০ (চব্বিশ কোটি বত্রিশ লক্ষ উনচল্লিশ হাজার নয়শত আশি) টাকা আদায় করে দিতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্যভাবে ৯,৬৪৫ টি মামলা নিষ্পত্তি করেছে। করোনাকালীন সংস্থা অনলাইনে আবেদন গ্রহণের মাধ্যমে কারাবন্দিসহ অসহায় বিচারপ্রার্থীদের জন্য প্যানেল আইনজীবী নিয়োগসহ সকল কার্যক্রম সম্পাদন করেছে। এছাড়াও অনলাইন মেডিয়েশনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের এ বৈশ্বিক বিপর্যয়ের সময়ে ৭,৩৬০ জন কারাগারে আটককৃত ব্যক্তিকে আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
করোনাকালে জাতীয় হেল্প লাইনের মাধ্যমে আইনি সেবা কার্যক্রম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার অসহায়, দরিদ্র ও নির্যাতিত সকল শ্রেণীর মানুষের বিচারে প্রবেশাধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করে সর্বোত্তম সহজ পন্থায় আইনি সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২৮ এপ্রিল, ২০১৬ তারিখে সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় হেল্পলাইন কলসেন্টার ১৬৪৩০ উদ্বোধন করেন। এরপর থেকেই উক্ত হেল্পলাইন নম্বরে সারা দেশ হতে অসহায় ও সাধারণ মানুষ আইনি পরামর্শ ও তথ্যের জন্য ফোন কল করে যাচ্ছেন। এ হেল্প লাইনের মাধ্যমে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত ২৯,২৩৩ জন নারী, ৮১,১৮৬ জন পুরুষ, ১,২৯২ শিশু এবং ২৭ জন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিসহ মোট ১,১১,৭৩৮ (এক লক্ষ এগারো হাজার সাতশত আটত্রিশ) জনকে বিনামূল্যে আইনগত তথ্য সেবা ও পরামর্শ প্রদান করেছে।
মুনিয়ার মৃত্যু রহস্যঃ আত্মহত্যায় প্ররোচনার’ মামলায় বসুন্ধরা এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে কলেজ শিক্ষার্থী মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায়, ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনার’ মামলায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।
পুলিশের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা হলে বিচারক শহীদুল ইসলাম তা মঞ্জুর করেন।
ঢাকার মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার জাফর হোসেন এ তথ্য জানান।
সোমবার সন্ধ্যায় গুলশান-২ এর একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামের এক তরুণীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই তরুণীর বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে গুলশান থানায় পরে মামলা করেন। সেখানে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়।
পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ্যার পর গুলশান ২ এর ১২০ নম্বর রোডের ১৯ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামের ২১বছরের এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
কুমিল্লার উজির দিঘির
পাড় গ্রামে তাদের বাড়ী। মাস দুয়েক আগে রাজধানীর গুলশানের উল্লেখিত ফ্ল্যাটটি মাসে এক লাখ টাকা ভাড়া নেন তরুনী মোসারাত। সে মিরপুর ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন শিক্ষার্থী। মামলার এজাহারে বলা হয় দুই বছর আগে বসুন্ধরা গ্রুপের এম ডি সায়েম সোবহান আনভীরের সঙ্গে তার বোন মোসারাতের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে তাঁরা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় দেখা করতেন এবং সব সময় মোবাইলে কথা বলতেন। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এজাহারে আরো বলা হয়,২০১৯ সালে। মোসারাতকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আনভীর রাজধানীর বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। সেখানে তাঁরা বসবাস করতে শুরু করেন। ২০২০ সালে আনভীরের পরিবার এক নারীর মাধ্যমে এই প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারে। এরপর আনভীরের মা মোসারাতকে ডেকে ভয়ভীতি দেখান এবং তাঁকে ঢাকা থেকে চলে যেতে বলেন। আনভীরে মোসরাতকে বিয়ে করা আশ্বাসে দিয়ে তাকে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন। দেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, সর্বশেষ গত ১ মার্চ মোসারাতকে ঢাকায় বাসা ভাড়া নিতে আনভীর প্ররোচিত করেন। মোসরাত বাসা বাসা ভাড়া নিতে বোন নুসরাত ও তাঁর স্বামীর পরিচয়পত্র ব্যবহার করেন। ফুসলিয়ে তিনি মোসারাতকে ঢাকায় আনেন। তিনি গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কে বাসা (ফ্ল্যাট-বি-৩) ভাড়া নেন। ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে আসামি ও তাঁর বোন স্বামী-স্ত্রীর মতো ছবি তুলে তা বাঁধিয়ে রাখা হয়। আসামি বাসায় এলে কক্ষটি পরিপাটি করে রাখা হতো।
নিহতের বোন নুসরাত এজাহারে আরো বলেন, বোনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসামি তাঁকে বিয়ে করে বিদেশে স্থায়ী হবেন। কারণ, দেশে থাকলে আসামির মা,বাবা আসামিকে কিছু না করলেও তাঁর বোনকে মেরে ফেলবেন। গত ১ মার্চ থেকে আসামি মাঝে মধ্যে ফ্ল্যাটে আসা-যাওয়া করতেন।
এজাহারে তিনি বলেন, ২৩ এপ্রিল মোসারাত তাঁকে ফোন করেন। মোসারাত তাঁকে বলেছেন, আনভীর তাঁকে বকা দিয়ে বলেছেন, কেন তিনি ফ্ল্যাটের মালিকের বাসায় গিয়ে ইফতার করেছেন, ছবি তুলেছেন। ফ্ল্যাটের মালিকের স্ত্রী ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেছেন। এ ছবি পিয়াসা দেখেছেন। পিয়াসা মালিকের স্ত্রীর ফেসবুক বন্ধু। এখন পিয়াসা তাঁর মাকে সবকিছু জানিয়ে দেবেন। তিনি এখন দুবাই যাচ্ছেন, মোসারাত যেন কুমিল্লায় চলে যান। আসামির মা জানতে পারলে মোসারাতকে মেরে ফেলবেন।
এজাহারে যা আছে ঃ
গুলশান বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, ঠিক কী কারণে তরুণী আত্মহত্যা করলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রাতেই তাঁরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করেছেন।
বাদী মামলার এজাহারে বলেন, মোসারাত জাহান (২১) মিরপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। দুই বছর আগে মামলার আসামি সায়েম সোবহান আনভীরের (৪২) সঙ্গে মোসারাতের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে তাঁরা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় দেখা করতেন এবং সব সময় মোবাইলে কথা বলতেন। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালে মোসারাতকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আসামি রাজধানীর বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। সেখানে তাঁরা বসবাস করতে শুরু করেন। ২০২০ সালে আসামির পরিবার এক নারীর মাধ্যমে এই প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারে। এরপর আসামির মা মোসারাতকে ডেকে ভয়ভীতি দেখান এবং তাঁকে ঢাকা থেকে চলে যেতে বলেন। আসামি কৌশলে তাঁর (বাদী নুসরাতের) বোনকে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন এবং পরে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, সবশেষ গত ১ মার্চ মোসারাতকে প্ররোচিত করেন আসামি। তিনি বাসা ভাড়া নিতে বাদী নুসরাত ও তাঁর স্বামীর পরিচয়পত্র নেন। ফুসলিয়ে তিনি মোসারাতকে ঢাকায় আনেন। তিনি গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কে বাসা (ফ্ল্যাট-বি-৩) ভাড়া নেন। ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে আসামি ও তাঁর (বাদীর) বোনের স্বামী-স্ত্রীর মতো ছবি তুলে তা বাঁধিয়ে রাখা হয়। আসামি বাসায় এলে কক্ষটি পরিপাটি করে রাখা হতো।
বাদী নুসরাত এজাহারে বলেন, বোনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসামি তাঁকে বিয়ে করে বিদেশে স্থায়ী হবেন। কারণ, দেশে থাকলে আসামির মা–বাবা আসামিকে কিছু না করলেও তাঁর বোনকে মেরে ফেলবেন। গত ১ মার্চ থেকে আসামি মাঝেমধ্যে ফ্ল্যাটে আসা-যাওয়া করতেন।
বাদী এজাহারে বলেন, ২৩ এপ্রিল মোসারাত তাঁকে ফোন করেন। মোসারাত তাঁকে বলেছেন, আনভীর তাঁকে বকা দিয়ে বলেছেন, কেন তিনি (মোসারাত) ফ্ল্যাটের মালিকের বাসায় গিয়ে ইফতার করেছেন, ছবি তুলেছেন। ফ্ল্যাটের মালিকের স্ত্রী ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেছেন। এ ছবি পিয়াসা দেখেছেন। পিয়াসা মালিকের স্ত্রীর ফেসবুক বন্ধু। এখন পিয়াসা তাঁর মাকে সবকিছু জানিয়ে দেবেন। তিনি (আসামি) দুবাই যাচ্ছেন, মোসারাত যেন কুমিল্লায় চলে যান। আসামির মা জানতে পারলে তাঁকে (মোসারাত) মেরে ফেলবেন।
এজাহারে নুসরাত বলেন, দুদিন পর ২৫ এপ্রিল মোসারাত তাঁকে ফোন করেন। ওই সময় তিনি কান্নাকাটি করে বলেন, আনভীর তাঁকে বিয়ে করবেন না, শুধু ভোগ করেছেন। আসামিকে উদ্ধৃত করে মোসারাত বলেন, আসামি তাঁকে বলেছেন, তিনি (মোসারাত) তাঁর শত্রুর সঙ্গে দেখা করেছেন। মোসারাতকে তিনি ছাড়বেন না। মোসারাত চিৎকার করে বলেন, আসামি তাঁকে ধোঁকা দিয়েছেন। যেকোনো সময় তাঁর বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাঁরা (বাদী নুসরাতের পরিবার) যেন দ্রুত ঢাকায় আসেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, নুসরাত তাঁর আত্মীয়স্বজন নিয়ে বেলা দুইটার দিকে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় রওনা দেন। আসার পথে বারবার মোসারাতের ফোনে ফোন করেন, কিন্তু তিনি আর ফোন ধরেননি। গুলশানের বাসায় পৌঁছে দরজায় নক করলে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে নিচে নেমে আসেন। তাঁরা নিরাপত্তারক্ষীর কক্ষ থেকে বাসার ইন্টারকমে ফোন করেন। পরে ফ্ল্যাটের মালিকের নম্বরে ফোন দিলে মিস্ত্রি এনে তালা ভেঙে ঘরে ঢোকার পরামর্শ দেন। মিস্ত্রি ডেকে তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর তিনি দেখেন, তাঁর বোন ওড়না পেঁচিয়ে শোয়ার ঘরের সিলিংয়ে ঝুলে আছেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পুলিশ এসে ওড়না কেটে মোসারাতের মৃতদেহ নামায়। আলামত হিসেবে আসামির সঙ্গে ছবি, আসামির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে লেখা ডায়েরি ও তাঁর ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন নিয়ে যায় পুলিশ।
পুলিশ সূত্র বলছে, আসামির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় ২৬ এপ্রিল বেলা ১১টা থেকে বিকেল সোয়া ৪টার মধ্যে যেকোনো সময় মোসারাত মারা যান। বাদী নুসরাত মামলার আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
মাওলানা মামুনুলের কথিত স্ত্রী ঝর্ণাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ, দেয়া হয়েছে বাবার জিম্মায়
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্নাকে উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
ছেলে ও তার বাবার করা জিডির পরিপ্রেক্ষিতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মোহাম্মদপুরের বসিলার একটি বাসা থেকে ঝর্ণাকে উদ্ধার করে।
গত ১১ এপ্রিল জান্নাত আরা ঝর্নার বড় ছেলে আব্দুর রহমান জামি রাজধানীর পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।এছাড়া সোমবার ঝর্নার বাবা মেয়েকে উদ্ধারের জন্য কলাবাগান থানায় আরেকটি জিডি করেন। এরপরই গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল জান্নাত আরা ঝর্নার অবস্থান জানার চেষ্টা করেন।
জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে মোহাম্মদপুরের বসিলায় একটি বাসায় ঝর্নাকে আটকে রাখা হয়েছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। ওই বাসাটি মামুনুল হকের বোন দিলরুবার বাসা বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ঝর্নাকে উদ্ধারের পর ডিবি কার্যালয়ে আনা হয় পরে তার আইনগত অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঝর্ণার বাবা ওলিয়ার রহমান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি সাবেক সেনাসদস্য এবং ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন। তাকে সম্প্রতি দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ।
হেফাজতের বহুল আলোচিত নেতা মামুনুল হককে ১৮ এপ্রিল ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ১৮ মামলা রয়েছে।
এর আগে ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়্যাল রিসোর্টে এই নারীসহ আটক হন মামুনুল হক। ওই নারীকে তিনি ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ হিসেবে দাবি করেন।










