ঢাকা   শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩   রাত ৮:১৪ 

Home Blog Page 136

চুরির অভিযোগ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিয়া রহমানসহ ৩ জনের শাস্তি

0

গবেষণায় চুরির অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিয়া রহমানসহ ৩ শিক্ষককে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে পদাবনতি করা হয়েছে এবং একজনের ডিগ্রি বাতিল করা হয়েছে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিয়া রহমানকে তার পদ থেকে এক ধাপ নিচে নামিয়ে সহকারী অধ্যাপক করা হয়েছে। অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানকে শিক্ষা ছুটি শেষে চাকরিতে যোগদানের পর দুই বছর একই পদে থাকার শাস্তি দেওয়া হয়েছে ।

(প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান,ছবি-সংগৃহীত)
আর পিএইচডি থিসিসে জালিয়াতির ঘটনায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক ওমর ফারুককে সহকারী অধ্যাপক থেকে প্রভাষক পদে অবনমন ঘটানো হয়েছে। তার ডিগ্রিও বাতিল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।
দুটি ঘটনায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই তিন শিক্ষকের শাস্তি নির্ধারণে দুটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।
উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, “গঠিত দুটি ট্রাইব্যুনালের সুপারিশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট। পুরো প্রসিডিংস তৈরি হলে বিস্তারিত বলা যাবে।”
সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বিডিনিউজ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, “যাদের শাস্তি হয়েছে, তাদের এখানে আর আপিলের সুযোগ নাই। তবে তারা চাইলে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করতে পারবে।”
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে সামিয়া রহমান ও মারজানের যৌথভাবে লেখা ‘এ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার : এ কেস স্ট্যাডি অব দ্য কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ শিরোনামের আট পৃষ্ঠার একটি গবেষণা প্রবন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সোশ্যাল সায়েন্স রিভিউ’ জার্নালে প্রকাশিত হয়।
এটি ১৯৮২ সালের শিকাগো ইউনিভার্সিটির জার্নাল ‘ক্রিটিক্যাল ইনকোয়ারি’তে প্রকাশিত ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর ‘দ্য সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ নামের একটি নিবন্ধ থেকে প্রায় পাঁচ পৃষ্ঠা হুবহু নকল বলে অভিযোগ ওঠে।

(সহকারী অধ্যাপক ওমর ফারুক, ছবি – সংগৃহীত)
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে এক লিখিত অভিযোগে মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এই চুরির কথা জানিয়েছিল ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস।
শুধু মিশেল ফুকোই নন, বুদ্ধিজীবী এডওয়ার্ড সাঈদের ‘কালচার অ্যান্ড ইমপেরিয়ালিজম’ গ্রন্থের পাতার পর পাতাও সামিয়া ও মারজান হুবহু নকল করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরিন আহমেদকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে গত বছর ওই কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়।
ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ২৯ অক্টোবর তাদের একাডেমিক অপরাধের শাস্তির সুপারিশ করতে আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহকে আহ্বায়ক করে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
ট্রাইব্যুনাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে শাস্তির বিষয়ে সুপারিশ জমা দিলে বৃহস্পতিবার সিন্ডিকেটের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর বলেন, “সামিয়া রহমানকে দুই বছরের জন্য সহযোগী অধ্যাপক থেকে সহকারী অধ্যাপকে পদাবনমন করা হয়েছে। দুই বছর পর সিন্ডিকেট তার পদোন্নতির বিষয় বিবেচনা করবে।
“আর যেহেতু মারজান লেকচারার এবং বিদেশে অবস্থান করছে, তাই শিক্ষা ছুটি শেষে জয়েন করার পর দুই বছর একই পদে থাকতে হবে। দুই বছর লেকচারার হিসেবে চাকরি করার পর পদোন্নতির জন্য আবেদন করতে পারবে।”
অন্যদিকে পিএইচডি থিসিসে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৮ সালে সিন্ডিকেটের এক সভায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ওমর ফারুকের ডিগ্রি বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু তখন তাকে একাডেমিক কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি।
তার শাস্তি নির্ধারণে গত ২৯ অক্টোবর সিন্ডিকেট সভায় সিন্ডিকেট সদস্য ও আইনজীবী এ এফ এম মেজবাহ উদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর বলেন, “ওমর ফারুককে শাস্তি হিসেবে সহকারী অধ্যাপক থেকে লেকচারার পদে ডিমোশন দেওয়া হয়েছে এবং তার থিসির প্রত্যাহার করা হয়েছে।”
সিন্ডিকেটের সদস্য হুমায়ুন কবির বলেন, “এত কম শাস্তির বিষয়ে সভায় বিরোধিতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)। তার যুক্তি ছিল, নৈতিকতার স্খলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরি চলে যায়। এখন কারও ডিগ্রিতে যখন জালিয়াতি ধরা পড়ে, এর চেয়ে বড় নৈতিক স্খলন আর কী হতে পারে। তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য উনি প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু সিন্ডিকেট তাতে দ্বিমত পোষণ করে তাকে ডিমোশন দিয়েছে।”

কুয়েতে লক্ষীপুরের এমপি পাপুলের চার বছর কারাদণ্ড, ৫৩ কোটি টাকার বেশি জরিমানা

0

অর্থ ও মানবপাচারের মামলায় লক্ষ্মীপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলকে চার বছরের কারাদণ্ড, ৫৩ কোটি টাকার বেশি জরিমানা করেছে কুয়েতের আদালত।
বৃহস্পতিবার কুয়েতের ফৌজদারি আদালতের বিচারক আবদুল্লাহ আল ওসমান এ রায় ঘোষণা করেন।
কুয়েতের সংবাদমাধ্যমগুলো এ খবর জানিয়েছে।
বাংলাদেশের কোনো আইনপ্রণেতার এভাবে বিদেশে দণ্ডিত হওয়ার ঘটনা আর কখনও ঘটেনি।

আল-কাবাস ও আল-রাইয়ের খবরে বলা হয়, পাপুলের কাজে সহায়তাকারী হিসাবে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা মাজেন আল জারাহ এবং কুয়েতি দুই কর্মকর্তাকেও চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
ওই দুই কর্মকর্তা ছিলেন পাপুলের বিভিন্ন কাজের মধ্যস্থতাকারী এবং এজেন্ট। পাপুলসহ দণ্ডিত প্রত্যেককে ১৯ লাখ কুয়েতি দিনার যা বাংলাদেশের টাকায় ৫৩ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার সমপরিমাণ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে ওই রায়ে।

কুয়েতের দুই পার্লামেন্ট সদস্য সাদুন হাম্মাদ আল-ওতাইবি এবং সালাহ আবদুলরেদা খুরশিদকে এ মামলার অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন বিচারক।
বাংলাদেশের সংসদ সদস্য পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুলের সেখানে বসবাসের অনুমতি রয়েছে।
পাচারের শিকার পাঁচ বাংলাদেশির অভিযোগের ভিত্তিতে পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ মামলা করা হয়।
কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশন পরে তদন্ত করে পাপুলসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, মানবপাচার, ঘুষ লেনদেন ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ভঙ্গের অভিযোগ আনে।


অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পাপুলের মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হয়। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর মামলার রায় ঘোষণার জন্য তারিখ ঠিক করে দেন বিচারক।
আসামিদের মধ্যে মেজর জেনারেল মাজেন আল-জারাহ নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট ও বসবাসের অনুমতি বিষয়ক দপ্তরের অ্যাসিসট্যান্ট আন্ডার সেক্রেটারি থাকা অবস্থায় ঘুষের বিনিময়ে পাপুলের বেশ কিছু কাজে সায় দেন বলে অভিযোগ ছিল।
আর কুয়েতের পার্লামেন্টের এমপি সাদুন হাম্মাদ ও সালাহ খুরশিদের বিরুদ্ধেও বাংলাদেশি এমপির কাছ থেকে ‘ঘুষ নিয়ে’ অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে আদালতে তা প্রমাণিত হয়নি।
সাধারণ শ্রমিক হিসাবে কুয়েত গিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়া পাপুল ২০১৮ সালে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ওই নির্বাচনে ওই আসনটি আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু জাতীয় পার্টির প্রার্থী শেষ মুহূর্তে ভোট থেকে সরে দাঁড়ালে ‘বিএনপি ঠেকানোর’ কথা বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ পাপুলের পক্ষে কাজ করে বলে দলটির নেতাদের ভাষ্য।
পাপুল নিজে এমপি হওয়ার পর স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কোটায় পাওয়া সংরক্ষিত একটি আসনে তার স্ত্রী সেলিনা ইসলামকে এমপি করে আনেন।
প্রবাসী উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন পাপুল, যেখানে তার বড় অঙ্কের শেয়ার রয়েছে।
পাপুলের মালিকানাধীন মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ করেন বলে কুয়েতে বাংলাদেশি কমিউনিটির ধারণা।
বাংলাদেশে দুদকও পাপুল, তার স্ত্রী, শ্যালিকা ও মেয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলাম সেই মামলায় জামিনে আছেন। বিডিনিউজ, বিবিসি।

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ পেলেন শেখ মোরশেদ ও মেহেদী হাসান

0

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ ও মেহেদী হাসান চৌধুরী।

রোববার আইন মন্ত্রণালয় থেকে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয় বলে সলিসিটর রুনা নাহিদ আকতার জানিয়েছেন।

নিয়োগ সংক্রান্ত আইন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মহামান্য রাস্ট্রপতি দ্য বাংরাদেশ ল অফিসার্স অর্ডার, ১৯৭২ এর ৩ (২) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পুনরাদেশ না দেওয়া পর‌্যন্ত সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী জনাব শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ ও জনাব মোহাম্মদ মেহেদী হাসান চৌধুরীকে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ প্রদান করিলেন। এই আদেশ অবিলম্বে কার‌্যকর হইবে।’

২০০৯ সাল থেকে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করে আসা মাহবুবে আলম গত বছর ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এরপর গত ৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিনকে দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।

তার তিনদিন পরেই ১১ অক্টোবর অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রের দুই আইন কর্মকর্তা মুরাদ রেজা ও মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির পদত্যাগ করেন।
মুরাদ রেজা ২০০৯ সালের ২৭ মার্চ থেকে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। আর মোমতাজ উদ্দিন ওই পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন ২০১০ সালের ৪ জুলাই।
আমিন উদ্দিনের নেতৃত্বে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে নতুন নিয়োগ পাওয়া দুজনকে নিয়ে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এখন তিনজন। গত বছর ১ সেপ্টেম্বর এম এম মুনীরকে নিয়োগ দিয়েছিল সরকার।
এছাড়া ৬৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৫১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিলিয়ে মোট ২২২ জন আইন কর্মকর্তা রয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

শিশু ধর্ষণ, আশুলিয়ায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা তৌহিদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি

0

সাভারের আশুলিয়ায় নিজ মাদ্রাসার ১০ বছর বয়েসী এক ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার মাদ্রাসাটির প্রিন্সিপাল মাওলানা তৌহিদ বিন আজহার আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মনিকা খান শুক্রবার তার খাস কামরায় এই জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে জানিয়েছেন কোর্ট ইন্সপেক্টর মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।
মাদ্রাসাটির প্রিন্সিপাল আজহারকে (৪৬)বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর মিরপুরের কাফরুল থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে বুধবার আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা।
গ্রেপ্তারর মাওলানা তৌহিদ বিন আজহার নাটোর জেলার গুরদাসপুর থানার বাসিন্দা। তিনি আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকায় থেকে দুটি মহিলা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
পুলিশ জানায়, গত কয়েক দিন আগে মাওলানা তৌহিদ বিন আজহারের স্ত্রী বাসায় ছিল না। সেই সুযোগে কৌশলে ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে না জানাতে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়। পরে এক সহপাঠীর মাধ্যমে পরিবারকে বিষয়টি জানায় ওই ছাত্রী। ভুক্তভোগীর বাবা বিষয়টি জানার পর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল মামুন কবির বলেন, ভুক্তভোগী শিশুকে ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে।

শিশু ধর্ষণ, আশুলিয়ায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল গ্রেফতার

0

সাভারের আশুলিয়ায় নিজ মাদ্রাসার ১০ বছর বয়েসী এক ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় মাদ্রাসাটির প্রিন্সিপাল মাওলানা তৌহিদ বিন আজহারকে (৪৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর মিরপুরের কাফরুল থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে বুধবার আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা।

গ্রেপ্তারর মাওলানা তৌহিদ বিন আজহার নাটোর জেলার গুরদাসপুর থানার বাসিন্দা। তিনি আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকায় থেকে দুটি মহিলা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

পুলিশ জানায়, গত কয়েক দিন আগে মাওলানা তৌহিদ বিন আজহারের স্ত্রী বাসায় ছিল না। সেই সুযোগে কৌশলে ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে না জানাতে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়। পরে এক সহপাঠীর মাধ্যমে পরিবারকে বিষয়টি জানায় ওই ছাত্রী। ভুক্তভোগীর বাবা বিষয়টি জানার পর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল মামুন কবির বলেন, ভুক্তভোগী শিশুকে ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আসামিকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

অর্থপাচার ঠেকানোর দায়িত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারা কারা ছিল, তালিকা চেয়েছে হাই কোর্ট

0

অর্থ পাচার রোধ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তদারক-নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে গত এক যুগে কোন কোন কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের নাম, পদবী, ঠিকানাসহ বিস্তারিত জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট।
এই সময় (২০০৮ থেকে ২০২০ সাল) অর্থপাচার রোধে সংশ্লিষ্ট বিভাগের এসব কর্মকর্তার ব্যর্থতা আছে কি না, ব্যর্থ হয়ে থাকলে কেন হলেন, অর্থপাচারের বিষয়টি তারা টের পেয়েছিলেন কি না, পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন কি না, তাদের ইন্ধন বা যোগসাজশে অর্থপাচার হয়েছে কি না, তাও জানাতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তা বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে বলা হয়েছে।
পি কে হালদারের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানার পর এ আদেশ দিয়েছে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ।
সেই সঙ্গে এ মামলায় পক্ষভুক্ত হতে পিপলস লিজিংয়ের সাময়িক অবসায়ক (প্রবেশনাল লিক্যুডেটর) মো. আসাদুজ্জামান খানের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। 
আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের-দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন মানিক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ।
এছাড়া পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দীর পক্ষে আইনজীবী মোশারফ হোসেন ও পি কে হালদারের স্বজন ও পিপলস লিজিংয়ের সাবেক পরিচালক অমিতাভ অধিকারীর পক্ষে আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক এবং পিপলস লিজিংয়ের সাময়িক অবসায়ক আসাদুজ্জামান খানের পক্ষে আইনজীবী মেজবাহুর রহমান শুনানিতে ছিলেন।
গত বছর ১৮ নভেম্বর দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে ‘পি কে হালদারকে ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইবে দুদক’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আসার পর গত ১৯ নভেম্বর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ আদেশ দেয় এই হাই কোর্ট বেঞ্চ।
পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বা গ্রেপ্তার করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানকে ১০ দিনের মধ্যে তা জানাতে বলা হয়।
এছাড়া পিকে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কিংবা গ্রেপ্তারে কী যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে ব্যাখ্যা জানাতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে আদালত।
দুদক চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ও ঢাকা জেলা প্রশাসককে ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
আদেশ অনুযায়ী, দুদক গত বছর ২ ডিসেম্বর একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর গত ৯ ডিসেম্বর পি কে হালদারের আত্মীয় পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের সাবেক পরিচালক অমিতাভ অধিকারী ও পি কে হালদারের সাবেক সহকর্মী পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জল কুমার নন্দীকে এ মামলায় পক্ষভুক্ত করা হয়।
সেই সঙ্গে ইন্টারপোলে পি কে হালদারের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং তার বিরুদ্ধে মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানাতে বলে গত ৩ জানুয়ারি পরবর্তী আদেশের জন্য রাখে।
ওই দিন শুনানি শুরু হলে দুদক আইনজীবী আদালতে পাঁচ আমানতকারীর কথা বলে অনুমতি চান। আদালত অনুমতি দিলে এক এক করে তারা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
পরে ৫ জানুয়ারি পাঁচ আমানতকারীকে এ মামলায় পক্ষভুক্ত করে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের আবেদনে পি কে হালদারের মা লীলাবতী হালদার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী ও সাবেক সচিব ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের চেয়ারম্যান এন আই খানসহ ২৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় হাই কোর্ট।
সেদিন আদালত ২০ জানুয়ারি তারিখ রেখে আদালত পি কে হালদারকে ধরতে রেড নোটিস ইন্টারপোলের কাছে পাঠানো ও তদন্তের অগ্রগতি জানাতে বলে।
এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার অগ্রগতি জানায় দুদক।
ইন্টারনেশনাল লিজিং ও পিপলস লিজিংকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনুমতি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দেওয়া হয়েছিল কিনা, শুনানিতে সে বিষয়ে দুদকের আইনজীবী নির্দেশনা চান।
তখন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক নজরুল ইসলাম তালুকদার তাতে সাড়া না দিয়ে বলেন, “ওই দিকে আমাদের যাওয়ার দরকার নাই। তারা হয়ত প্রশাসনিক নীতিমালা অনুযায়ী সেটা করেছে। এটা আমাদের দেখার বিষয় না।
“আমাদের দেখার বিষয় হল তাদের ব্যর্থতা কেন? কেন তারা ব্যর্থ হল, তারা কেন চিহ্নিত করতে পারল না? তাদের কোনো ইন্ধন ছিল কি না? যোগসাজশ আছে কি না? আমরা সেটা জানতে চাই।“
“তারা ওই খানে চাকরি করবে, এত বড় একটা ঘটনা ঘটে যাবে, তারা কিছুই বলতে পারবে না। এটা তো হতে পারে না। তাদের অবশ্যই দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ হতে হবে। তারা পাবলিক সার্ভেন্টস। মানুষের প্রতি তাদের দায়বদ্ধ থাকতে হবে। কাজ করবেন কিছুই করতে-বলতে পারবেন না, খেয়েদেয়ে বাড়ি বানাবেন, বেতন-ভাতা নিবেন, দেশের জন্য, জনগণের জন্য কাজ করবেন না, তা তো হয় না।”
আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন,“বাংলাদেশের ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তারা ২০০৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ পর্যন্ত অর্থ পাচার রোধ সংক্রান্ত বিষয় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন তাদের নাম, ঠিকানা, স্টেটাস জানাতে বাংলাদেশ ব্যাংকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
“এছাড়া পিপলস লিজিংয়ের সাময়িক অবসায়ক (প্রবেশনাল লিকুইডেটর) হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের উপ মহাব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান খানের পক্ষভুক্তির আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।”
দুদক আদালতে কী প্রতিবেদন দিয়েছে- জানতে চাইলে খুরশীদ আলম বলেন, “পি কে হালদারের ৮৩ সহযোগীর নাম-পরিচয়সহ একটি প্রতিবেদন সারসংক্ষেপ আকারে আদালতে উপস্থাপন করেছি। এই ৮৩ জনের ব্যাপরে দুদক কী করেছে না করেছে সে ব্যপারে পরবর্তীতে বৃহৎ পরিসরে প্রতিবেদন দিব। সংক্ষেপে যেটা বলা হয়েছে তা হলো, এই ৮৩ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান চলছে। তাছাড়া আর্থিক খাতের দুর্নীতি নিয়ে আরও ১০টি মামলার প্রস্তৃতি নেওয়া হচ্ছে।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

পি কে হালদারের আইনজীবী ও তার মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে দুদক

0

পি কে হালদারের ‘অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের’ মামলায় গ্রেপ্তার তার ব্যক্তিগত আইনজীবী সুকুমার মৃধা ও তার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে দুদক।
বৃহস্পতিবার দুদকের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি করে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ এই আদেশ দেন।
ঢাকার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সুকুমার ও অনিন্দিতাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করেন মামলার অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন।
তিনি বাবা-মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। অন্যদিকে একজন আইনজীবী আদালত কক্ষেই দুই আসামির ওকালতনামায় স্বাক্ষর নিতে গেলে বিচারক তাতে আপত্তি জানিয়ে সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে স্বাক্ষর নিতে বলেন।
দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারের সঙ্গে যোগশাজসে সুকুমার ও অনিন্দিতা ‘নামে বেনামে সম্পদ অর্জন করেছেন।
প্রশান্ত বিদেশে পলাতক রয়েছেন। তদন্তকালে জানা যায়, এই দুই আসামিও বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া দরকার।”
কাঠগড়ায় দাঁড়ানো আসামিরা এ সময় কোনো কথা বলেননি। শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন বলে দুদকের প্রসিকিউশন কমকর্তা মো. জুলফিকার জানান।
এর আগে দুদকে সুকুমার মৃধা ও অনিন্দিতা মৃধাকে গ্রেপ্তার করার পর কমিশন সচিব মুহা. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, “পি কে হালদার বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পর তার অবৈধ সম্পদ দেখাশোনা করতেন সুমুকার ও অনিন্দতা মৃধা। পি কে হালদারের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানও করেন সুকুমার মৃধা।
“পি কে হালদার ভুয়া ঋণ দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্জিত প্রায় ১০০ কোটি টাকা তার মা লিলাবতী হালদারের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে রাখেন। পরে লিলাবতী হালদারের ব্যাংক হিসাব থেকে সুকুমার মৃধা, অবন্তিকা বড়াল ও অনিন্দিতা মৃধার মাধ্যমে আবার পি কে হালদারের কাছে হস্তান্তর ও স্থানান্তর করা হয়। এভাবে তারা মানিলন্ডারিং করেছেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য পেয়েছেন।”
এছাড়া সুকুমার মৃধার প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পদ এবং তার মেয়ে অনিন্দিতার প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে দুদক সচিব বলেন, এসব আসলে পি কে হালদারের অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ।”
গ্রেপ্তারের পর আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুকুমার মৃধা বলেন, “পত্রপত্রিকায় যা লেখালেখি হচ্ছে, সেই বিষয়ে পি কে হালদারের কোনো ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই। তিনি কেবল আমার ক্লায়েন্ট।”
গত ১৩ জানুয়ারি পি কে হালদারের আরেক সহযোগী অবন্তিকা বড়ালকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয় দুদক। মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় গত ৪ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয় পি কে হালদারের আরেক সহযোগী শংখ ব্যাপারীকে।
শংখ ব্যাপারীর নামে ধানমণ্ডি এলাকায় একটি ‘বিলাসবহুল’ ফ্ল্যাটের সন্ধান পাওয়া যায়, যা পি কে হালদারের টাকায় কেনা বলে দুদকের ভাষ্য।
এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নানা কৌশলে নামে-বেনামে অসংখ্য কোম্পানি খুলে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনেন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে নিজের আত্মীয়, বন্ধু ও সাবেক সহকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে পর্ষদে বসিয়ে অন্তত চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন।
এই চার কোম্পানি হল- ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (আইএলএফএসএল), পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)।
এসব কোম্পানি থেকে তিনি ঋণের নামে বিপুল অংকের টাকা সরিয়ে বিদেশে পাচার করেছেন বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য।
এর মধ্যে আইএলএফএসএল গ্রাহকদের অভিযোগের মুখে গত বছরের শুরুতে পি কে হালদারের বিদেশ পালানোর পর দুদক তার ২৭৫ কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদের’ খবর দিয়ে মামলা করে।
দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, পি কে হালদার তার নিজের, আত্মীয়দের, বন্ধু ও কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে আটটি কোম্পানিতে ৬৭ কোটি ৩৫ লাখ ৪৪ হাজার ১৯৯ টাকা বিনিয়োগ করেছেন, যার ‘বৈধ কোনো উৎস’ অনুসন্ধানে মেলেনি।
পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করা হয়েছে। তার মা লীলাবতী হালদার এবং অবন্তিকা বড়ালসহ ২৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাই কোর্ট। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

ভারতের উপহার ২০ লাখ টিকা পেলো বাংলাদেশ; দুদেশের শক্তিশালী সম্পর্কের পরিচয়, বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে করোনাভাইরাসের ২০ লাখ ডোজ টিকা উপহার দেওয়াটা দুই দেশের বিদ্যমান ‘শক্তিশালী’ সম্পর্কের পরিচয় দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।
ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামীর কাছ থেকে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ওই টিকা গ্রহণের আয়োজনে একথা বলেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ওই অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আজকে একটি ঐতিহাসিক দিন, ভারত সরকার আমাদের ২০ লাখ টিকা উপহার হিসাবে দিচ্ছে। আমাদের কোম্পানিগুলো যে চুক্তি করেছে তার ৩ কোটি ডোজ আসবে। আমরা এজন্য ভারত সরকার ও ভারতের জনগণকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
“এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরি করেছেন, তারই একটি পরিচয় বহন করে।”

এর আগে বেলা সোয়া ১১টার দিকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ ফ্লাইট উপহারের এই টিকার চালান নিয়ে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম দিন থেকে বলে আসছেন, সব দেশ সহযোগিতার মাধ্যমে করোনাভাইরাস মোকাবেলা করতে হবে। এই সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের বড় নমুনা আজকে বাংলাদেশ ও ভারতের এই অর্জন। আমরা মনে করি, প্রত্যেক দেশেরই এই সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, “অনেকগুলো উন্নত দেশ এখনও ভ্যাকসিন পায় নাই, ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করে নাই। গুটি কয়েক উন্নত দেশ ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করেছে। আর আমরা প্রথমসারির দেশ হিসাবে বাংলাদেশে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করব। শুরুতে ভ্যাকসিন পাওয়ার কারণে আমরা ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।”
অনুষ্ঠানে ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ ভারতের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক সহযোগিতার অংশ হিসাবে এই টিকা উপহার বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
তিনি বলেন, “ভারত সরকার আমাদের যেভাবে সাহায্য করেছিল স্বাধীনতা যুদ্ধে, সেভাবে আজকে তারা মহামারীর সময়েও আমাদের সাহায্য করল ভ্যাকসিন দিয়ে।
“প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদীর যে বন্ধুত্ব, দুই রাষ্ট্রের বন্ধুত্ব, দুই রাষ্ট্রের জনগণের যে বন্ধুত্ব, যে সহানুভূতি-সহমর্মিতা- তার প্রমাণ রাখল এই ভ্যাকসিন প্রদানের মাধ্যমে। আমরা যে কোনো দুর্যোগ একসঙ্গে মোকাবেলা করব।”
বাংলাদেশ সরকারিভাবেও ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি ডোজ টিকা কিনছে, যার প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ টিকা ২৫ জানুয়ারির মধ্যে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেই চুক্তি বাস্তবায়নে ভারত সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা আশা করি, সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে টিকা নিয়ে যে চুক্তি তা যেভাবে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা সেভাবে বাস্তবায়ন হবে।
“আমি ভারত সরকারকে অনুরোধ করব, এই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটাও যেন উনারা দেখেন। যাতে আমরা ভ্যাকসিনটি পাই, সময়মতো।”
সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, “আগামী ৬ মাসে ৫০ লাখ করে ভ্যাকসিন আসার কথা। এই মাসে আরও ৫০ লাখ ভ্যাকসিন আসবে। যদি আমরা পেয়ে যাই, তাহলে ৭০ লাখ ভ্যাকসিন আমাদের হাতে থাকবে। ৩৫ লাখ লোককে এই ভ্যাকসিন আমরা দিতে পারব।”
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, “ভারত সরকারের যে প্রতিবেশী প্রথম নীতি, সেটা গত এক বছর ধরে মহামারীর সময়ে আমরা দেখেছি। এখন ভ্যাকসিন আসার মাধ্যমে তাদের সে নীতি আবারও প্রমাণিত হয়েছে।”
করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকার ‘সাফল্য অর্জন করেছে’ দাবি করে এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ব্লুমবার্গের হিসাবে দক্ষিণ এশিয়াতে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশ এক নম্বরে এবং বিশ্বের মধ্যে ২০ নম্বরে রয়েছে। আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তৃণমূলের সব স্বাস্থ্যকর্মীকে ধন্যবাদ জানাই।”
সামনের দিনে এই ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ভারতের হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী অনুষ্ঠানে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যকার ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনের আলোচনার ধারাবাহিকতায় এই ২০ লাখ ডোজ টিকা এলো। ভারতে টিকা কার্যক্রম শুরুর চার দিনের মাথায় ভারত বাংলাদেশকে ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে।
“যাতে আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রও একই সময়ে জনগণের ইমিউনিটি নিশ্চিত করতে পারে।”
তিনি বলেন, “প্রতিবেশী প্রথমে নীতির অংশ হিসেবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রতি ভারত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।
“কোভিশিল্ডের ২০ লাখ ডোজ উপহার আসলে ভারতের প্রতিবেশী কোনও দেশকে দেওয়া সবচেয়ে বড় পরিমাণ।”
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হাই কমিশন জানিয়েছে, উপহার হিসাবে দেওয়ার জন্য ভারত সরকার এসব টিকা তার নিজস্ব কোটা থেকে কিনেছে।

৪০ বছরেও কিনারা হয়নি জেনারেল মঞ্জুর হত্যাকাণ্ডের, মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে যাচ্ছেন এরশাদ

0

মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলা থেকে দায়মুক্তি পেতে যাচ্ছেন জেনারেল এইচ এম এরশাদ। একই কারণে দায়মুক্তি দেওয়া হতে পারে আরেক আসামী মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল লতিফকে।
তাদের অব্যাহতি দিয়ে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, সিআইডি। মৃত্যু হওয়ায় তাদেরকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিয়ে সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
মঞ্জুর হত্যা মামলাটি ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন ছিলো। গত ১২ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এই সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন। আগামী ২৫ জানুয়ারি এর গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। ওই দিন আদালত নির্ধারণ করবেন মৃত্যুজনিত কারণে মঞ্জুর হত্যার প্রধান আসামী জেনারেল এরশাদকে অব্যাহতি বা দায়মুক্তি দেওয়া হবে কী না।

ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলারা আলো চন্দনার আদালতের এ সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ সুপার কুতুব উদ্দিন।
জেনারেল এরশাদ ও জেনারেল আব্দুল লতিফকে অব্যাহতি দিয়ে মেজর (অব.) কাজী এমদাদুল হক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোস্তফা কামাল উদ্দিন ভূইঞা ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) শামসুর রহমান শমসেরকে অভিযুক্ত করে সম্পূরক চার্জশিট দিয়েছে সিআইডি।
আইনবিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফৌজদারি আইন অনুযায়ী বিচার চলাকালে কোনো আসামী মারা গেলে তাকে মামলা ও বিচার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, এটাই নিয়ম। কারণ মরণোত্তর বিচারের কোনো নজির বিচারব্যবস্থায় নেই। ফলে ধরে নেওয়া যায়, জেনারেল মঞ্জুর হত্যার দায় থেকে এরশাদ অব্যাহতি পাবেন তাঁর মৃত্যুর কারণে। রাজনৈতিক নানা অংকে জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলাটি এরশাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মরে গিয়ে এরশাদ সেই কাঁটামুক্ত হলেন।
এরশাদের নির্দেশেই মঞ্জুরকে হত্যা, নেপথ্যে নানা কাহিনী ঃ
৪০ বছর আগে ১৯৮১ সালের ৩০ মে দেশের প্রথম সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হওয়ার একদিন পরই ১ জুন হত্যা করা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর বীর উত্তমকে। ঘটনার ১৪ বছর পর ১৯৯৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মঞ্জুরের ভাই ব্যারিস্টার আবুল মনসুর আহমেদ চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। তখন রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলো বিএনপি আর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। ওই বছরের ২৭ জুন জেনারেল এরশাদসহ ( এরশাদ তখন ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রধান) পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি।

সিআইডির দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়, ১৯৮১ সালে তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদের পরিকল্পনা ও নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল এম এ মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়।
বিমানবাহিনীর তৎকালীন প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল সদরউদ্দিন এ মামলায় দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, এরশাদের নির্দেশে মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়।
মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এ মামলায় পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থার তৎকালীন দায়িত্বশীল ও সংশ্লিষ্ট ২৮ জন কর্মকর্তা ও সদস্যকে সাক্ষী করা হয়েছে।
বেশির ভাগ সাক্ষীর জবানবন্দিতে এসেছে, এরশাদের নির্দেশেই মঞ্জুরকে হাটহাজারী থানার পুলিশ হেফাজত থেকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তাঁকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নিয়ে ১৯৮১ সালের ১ জুন মধ্যরাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যা করা হয়।
মামলার নথিপত্রে দেখা যায়, মঞ্জুর হত্যার দুই দিন আগে, ৩০ মে (১৯৮১) ভোররাতে চট্টগ্রামে এক সেনা অভ্যুত্থানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও সেনাশাসক জিয়াউর রহমান নিহত হন। তখন চট্টগ্রামে অবস্থিত সেনাবাহিনীর ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি (জেনারেল অফিসার কমান্ডিং) ছিলেন এম এ মঞ্জুর। তিনি ১ জুন স্ত্রী-সন্তান এবং অনুগত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে নিয়ে সেনানিবাস থেকে পালিয়ে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর নিরাপত্তা কর্মকর্তা মেজর মো. রেজাউল করিম। মঞ্জুরের সঙ্গে তিনিও আটক হয়েছিলেন। মেজর রেজার জবানবন্দি অনুযায়ী, সেনানিবাস থেকে বেরিয়ে তাঁরা ফটিকছড়ির রাস্তার দিকে রওনা হন। একপর্যায়ে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে এক চা-বাগানের ভেতরে একটি বাড়িতে ওঠেন। পরে ওই বাড়িটি পুলিশ ঘেরাও করলে মঞ্জুর ও মেজর রেজা আত্মসমর্পণ করেন। পরিবারের সদস্যদেরসহ তাঁদের হাটহাজারী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আসামি মেজর (তৎকালীন ক্যাপ্টেন) কাজী এমদাদুল হক, সাক্ষী মেজর রেজা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের জবানবন্দি ও সাক্ষ্য অনুযায়ী ১ জুন সন্ধ্যার পরে মঞ্জুরকে হাটহাজারী থানায় নেওয়া হয়। পরে ব্রিগেডিয়ার আবদুল লতিফ (পরবর্তী সময়ে মেজর জেনারেল ও ডিজিএফআইয়ের প্রধান হন) ও ব্রিগেডিয়ার এ কে এম আজিজুল ইসলামের নির্দেশে ক্যাপ্টেন এমদাদ রাত সাড়ে আটটার দিকে হাটহাজারী থানায় যান। তিনি মঞ্জুর, তাঁর স্ত্রী-সন্তান ও মেজর রেজাকে পৃথক গাড়িতে তুলে সেনানিবাসে নিয়ে যান। জেনারেল মঞ্জুরকে হাত ও চোখ বেঁধে মেজর এমদাদের গাড়িতে তোলা হয়।
ওই গাড়িতে থাকা সুবেদার আশরাফ উদ্দীনসহ আরও কয়েকজন সেনাসদস্য জবানবন্দিতে বলেন, মঞ্জুরকে নিয়ে রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাঁরা সেনানিবাসে প্রবেশ করেন। পরে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
মঞ্জুরের লাশের ময়নাতদন্ত করেন চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের চিকিৎসক কর্নেল এ জেড তোফায়েল আহমদ। সাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ময়নাতদন্তে মঞ্জুরের মাথার ডান দিকে পেছনে একটি বুলেটের আঘাত দেখতে পান। তাঁর শরীরে আর কোনো জখমের চিহ্ন ছিল না।
এ মামলার সাক্ষী চট্টগ্রাম পুলিশের তৎকালীন উপকমিশনার আলী মোহাম্মদ ইকবাল জবানবন্দিতে বলেছেন, হাটহাজারী থানা থেকে সেনাসদস্যরা মঞ্জুরকে নিতে গেলে তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডেন্ট ব্রিগেডিয়ার আজিজকে টেলিফোন করেন। তখন আজিজ জানান, সেনাপ্রধানের (এরশাদ) নির্দেশক্রমে মঞ্জুরসহ আটক করা ব্যক্তিদের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের জন্য তিনি ও ব্রিগেডিয়ার লতিফ ক্যাপ্টেন এমদাদকে পাঠিয়েছেন।
পরে আসামি এমদাদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, ব্রিগেডিয়ার লতিফ ও আজিজের নির্দেশে তিনি মঞ্জুরকে পুলিশ হেফাজত থেকে নিয়ে আসেন এবং পরে হত্যা করা হয়।
মঞ্জুরকে হত্যার পর প্রচার করা হয় যে সেনানিবাসে নেওয়ার পর একদল উচ্ছৃঙ্খল সেনাসদস্য তাঁকে হত্যা করেছে। কিন্তু এ মামলায় যেসব সেনাসদস্য জবানবন্দি দিয়েছেন, তাঁদের কেউ উচ্ছৃঙ্খল সেনাসদস্যের কথা বলেননি।
বিমানবাহিনীর তৎকালীন প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল সদরউদ্দিন পরবর্তী সময়ে এ মামলায় সাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে মঞ্জুরকে হত্যার জন্য সরাসরি এরশাদকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ১ জুন বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তিনি বঙ্গভবনে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের অফিসে ছিলেন। তখন সেখানে জেনারেল এরশাদও ছিলেন। এ সময় টেলিফোন আসে। রাষ্ট্রপতি টেলিফোন রেখে জানান যে মেজর জেনারেল মঞ্জুর পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। এ খবর শুনে জেনারেল এরশাদ চেয়ার থেকে উঠে রাষ্ট্রপতির লাল টেলিফোন দিয়ে কাউকে ফোন করে বলেন, ‘মঞ্জুরকে পুলিশ আটক করেছে। তাকে শিগগির নিয়ে আসো এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করো।’ তখন সদরউদ্দিন পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে এরশাদ বেশ উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘এয়ার চিফ, আপনি কিছুই বোঝেন না।’
সদরউদ্দিন বলেন, তিনি ও তৎকালীন আইজিপি এ বি এম জি কিবরিয়া অস্থায়ী রাষ্ট্রপতিকে বলেন, যেন মঞ্জুরকে বেসামরিক হেফাজতে রাখা হয় এবং বিচারের মুখোমুখি করা হয়। এ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে এরশাদের দীর্ঘ বাদানুবাদ হয়। পরে এরশাদের পরামর্শে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার জেনারেল মঞ্জুরকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত দেন।
সদরউদ্দিন আরও বলেন, ২ জুন রাত দেড়টা থেকে দুইটায় তিনি মঞ্জুরকে হত্যার খবর পান। পরদিন সকালে তিনি এরশাদকে টেলিফোন করে বলেন, ‘এরশাদ সাহেব, আপনারা জেনারেল মঞ্জুরকে মেরে ফেললেন? এইটা কিন্তু ভালো করলেন না।’ জবাবে এরশাদ বলেছেন, ‘বিক্ষুব্ধ সৈনিকেরা তাঁকে হত্যা করেছে।’
এ ঘটনার ১৪ বছর পর ১৯৯৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মঞ্জুরের ভাই ব্যারিস্টার আবুল মনসুর আহমেদ চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। ওই বছরের ২৭ জুন এরশাদসহ পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। অভিযোগপত্রভুক্ত বাকি আসামিরা হলেন মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল লতিফ, মেজর কাজী এমদাদুল হক, লে. কর্নেল শামসুর রহমান শামস ও লে. কর্নেল মোস্তফা কামাল উদ্দিন। ব্রিগেডিয়ার আজিজ ও নায়েক সুবেদার আবদুল মালেক মারা যাওয়ায় অভিযোগপত্রে তাঁদের আসামি করা হয়নি।
ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ মামলার বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায় ঘোষণার কথা ছিল। কিন্তু এরই আগে ২৯ জানুয়ারি বিচারক পদে রদবদল করা হয়। ফলে নির্ধারিত দিনে রায় ঘোষণা হয় নি।
নতুন বিচারক দায়িত্ব গ্রহণ করলে সরকার পক্ষের আইনজীবী মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন জানান। এতে বলা হয় মঞ্জুরকে আটক ও হত্যা করার সময় তাঁর স্ত্রী এবং মেয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। কিন্তু তাদের সাক্ষী করা হয়নি। ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে তাদের সাক্ষী করার জন্য আদালতের কাছে অধিকতর তদন্তের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন। এই অধিকতর তদন্ত চলতে থাকে। এরশাদের জীবদ্দশায় তদন্ত আর শেষ হয় না। মঞ্জুর হত্যা মামলাটি অনেকটা রাজনৈতিক মামলার রূপ নেয় এবং এরশাদের সঙ্গে চলতে থাকে চোর পুলিশ খেলা।
এর মধ্যে ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই মারা যান এইচ এম এরশাদ। পরবর্তী শুনানি ২ অক্টোবর এরশাদের মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য আদালতকে অবহিত করেন এরশাদের আইনজীবী আবদুর রশিদ। তিনি আদালতে দরখাস্ত দিয়ে জানান, এরশাদ গত ১৪ জুলাই মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁকে রংপুরে দাফন করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা চলতে পারে না। এর আগে মারা যান অপর আসামী জেনারেল লতিফ। সরকার পক্ষ থেকে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হয়।
শেষ পর্যন্ত এরশাদের মৃত্যুর দেড়বছর পর সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করে এরশাদকে মৃত্যুজনিত কারণে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানালো তদন্তকারি সংস্থা সিআইডি।
৪০ বছর আগে এরশাদের নির্দেশেই যে জেনারেল মঞ্জুরকে হত্যা করা হয় মামলার সাক্ষ্য প্রমাণে তা স্পষ্ট। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানে এরশাদের পতন হলেও বছর কয়েক যেতেই এরশাদ ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিণত হন। ফলে আরও অনেক মামলার মতো মঞ্জুর হত্যা মামলাটিও এরশাদের বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে এমনটিই বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মামলাটির তদন্ত এবং বিচারকাজ চলার সময় কয়েকবার সরকার বদল হয়েছে, বিএনপি,আওয়ামী লীগ কয়েক দফায় ক্ষমতায় এসেছে কিন্তু এ মামলাটির বিচার বিচারিক আদালতেই শেষ হয় নি। সব সরকারের সময় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে দফায় দফায় সময় নেওয়া হয় আর বছরের পর বছর ঝুলে থাকে মামলার বিচার।
এখন মূল অভিযুক্ত জেনারেল এরশাদের মৃত্যুর পর সম্পূরক চার্জশিট দেয়া হয়েছে, এরশাদকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে ।
চূড়ান্ত আদেশ দেবে আদালত ২৫ জানুয়ারী। যদি অব্যাহতি দেওয়া হয় তা হলে বলাই যাবে সৌভাগ্যবান, সামরিক শাসক এরশাদ, যার হাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল মঞ্জুর হত্যার রক্ত, জীবদ্দশায় তাঁর বিচারই করতে পারলো না রাষ্ট্র।

নাইকো দুর্নীতি মামলা: স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখিয়ে খালেদা জিয়ার সময়ের আবেদন

0

কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে সময় চাওয়ায় নাইকো দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমান ১ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ঠিক করেন বলে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল জানান।

খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার ও জিয়া উদ্দিন জিয়া আবেদন করেন।

শুনানি শেষে বিচারক বলেন, “আপনারা অব্যাহতির আবেদন দেন না কেন? এক আসামির জন্য চার্জ শুনানি করা যাচ্ছে না।”

তখন মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার বলেন, “আগামী তারিখে আবেদন দাখিল করব।”

বিচারক বলেন, “শেষবারের মতো সময়ের আবেদন মঞ্জুর করা হলো। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি চার্জ শুনানির পরবর্তী তারিখ। ওই দিন অব্যাহতির আবেদন না দিলে মামলাটির চার্জের আদেশ দেওয়া হবে।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার জানান, “আমরা বিচারককে বলি যে এর আগে বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে অন্তরীন অবস্থায় অসুস্থ থাকায় তাকে এজলাসে আনা হয়নি বার বার। এজন্য শুনানি পিছিয়েছে- এটা আমাদের কোনো ব্যথর্তা নয়।”

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলাটি তদন্তের পর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।