ঢাকা   শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩   রাত ৯:৩১ 

Home Blog Page 135

হাই প্রোফাইল মামলাঃ সকালে গ্রেপ্তার, বিকেলেই জামিনে মুক্ত রন হক, জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনই করেনি পুলিশ

0

সকালে গ্রেপ্তার হয়ে বিকেলেই জামিন পেলেন অপহরণ ও হত্যার হুমকির মামলার আসামী সিকদার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রন হক সিকদার।
নয় মাস আগে এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও ডিএমডিকে অপহরণ ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের পরপরই বিশেষ এয়ার এম্বুলেন্সে থাইল্যান্ডে পালিয়ে যান সিকদার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রন হক সিকদার ও তার ভাই দিপু হক সিকদার।

ছবি- হায়দার আলী মিয়া, এমডি এক্সিম ব্যাংক।
গত বুধবার দুবাইর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সিকদার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার, যিনি রন হক ও দিপু হকের বাবা।
জয়নুল হক সিকদার যিনি জেড এইচ সিকদার নামে সমাধিক পরিচিত তিনি ছিলেন ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। আর তার ছেলে রন হক সিকদার ওই ব্যাংকের পরিচালক।
বাবার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে শুক্রবার সকালে দেশে ফিরলে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রন সিকদারকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাকে গোয়েন্দা দফতরে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে দুপুরের পর তোলা হয় ঢাকা মহানগর হাকিম আশেক ইমামের আদালতে। আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোনো আবেদন না করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। আর রন হকের আইনজীবী জামিন চান। শুনানি শেষে আদালত ১০ মার্চ পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন। পরে সেখান থেকে মুক্ত হয়ে বের হয়ে আসেন রন হক সিকদার।
পুলিশের উপ-কমিশনার মশিউর রহমানের বরাত দিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে “রন হক সিকদার তার বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢাকা আসার সাথে সাথে বিমানবন্দরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে একটিই মামলা আছে; সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
রন ও তার ভাই দিপু হক সিকদারের বিরুদ্ধে এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া এবং অতিরিক্ত এমডি মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেনকে অপহরণ করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গত বছর ১৯ মে গুলশান থানায় একটি মামলা হয়।

এরপর গত ২৫ মে সিকদার গ্রুপের মালিকানাধীন একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে দুই ভাইয়ের ব্যাংককে পাড়ি জমানোর খবর আসে সংবাদ মাধ্যমে।
দুই ভাইর বিদেশে পাড়ি জমানোর খবরে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে ওই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রন হক সিকদারের একটি গাড়ি জব্দ করে।
গুলশান থানায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, রন হক সিকদার গত বছরের ৭ মে সকালে ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডিসহ গুলশানে এক্সিম ব্যাংকে যান। তারা তাদের প্রস্তাবিত ঋণের টাকার বিপরীতে ‘কো-লেটারেল’ হিসেবে সিকদার গ্রুপের রূপগঞ্জ কাঞ্চন প্রস্তাবিত আদি নওয়াব আসকারী জুট মিলটি পরিদর্শনের জন্য নিয়ে যান এমডি হায়দার আলী ও অতিরিক্ত এমডি ফিরোজকে।
ওই স্থানটি পরিদর্শন করে জায়গাটির বর্তমান বাজার দরের সঙ্গে গ্রাহকের বন্ধকী মূল্যের বিশাল ব্যবধান হওয়ায় এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও অতিরিক্ত এমডি দ্বিমত পোষণ করেন।
এর জের ধরে ‘কৌশলে’ এক্সিম ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পূর্বাচলে নিয়ে ‘হত্যার উদ্দেশে গুলিবর্ষণ’ এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সেখান থেকে বনানী ১১ নম্বরে সিকদার হাউজে নিয়ে ‘হেনস্তা করা হয়’ বলে অভিযোগ করা হয়েছে এজাহারে।
সেখানে বলা হয়, জমির দাম কম বলায় রন ও দীপু এক্সিম ব্যাংকের এএমডি ফিরোজকে ‘মারতে উদ্যত হলে’ তিনি মাফ চেয়ে প্রাণে বাঁচেন।
“রন হক সিকদার ও দিপু সিকদার (এক্সিম ব্যাংকের) এমডিকে প্রজেক্টের সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী আছে ব্যক্ত করে তাদের সাথে থাকা অস্ত্র তাক করে জোরপূর্বক একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়।”
এক্সিম ব্যাংকের এমডি, এএমডি ও দুই চালককে প্রায় ৫ ঘণ্টা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রেখে পরে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয় মামলায়।
জয়নুল হক সিকদারের গড়া সিকদার গ্রুপের ব্যবসা ছড়িয়ে আছে ব্যাংক ও বীমা, বিদ্যুৎ, ইকনোমিক জোন, এভিয়েশন, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মত নানা খাতে।
এর সহযোগী কোম্পানির মধ্যে রয়েছে পাওয়ার প্যাক পোর্টস, পাওয়ার প্যাক ইকনোমিক জোন, সিকদার ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, পাওয়ার প্যাক হোল্ডিংস, সিকদার রিয়েল এস্টেট ও মাল্টিপ্লেক্স হোল্ডিংস। 
কয়েকটি মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠান করেছেন জয়নুল হক সিকদার। ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ পোস্ট সিকদার গ্রুপেরই একটি প্রকাশনা।  

যুদ্ধাপরাধ: ময়মনসিংহের তিন আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড, একজন খালাস

0

মুক্তিযুদ্ধের সময় অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যার মত মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও ভালুকার তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং পাঁচ আসামিকে ২০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে যুদ্ধাপরাধ আদালত।
এ মামলার নয় আসামির মধ্যে একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত রায় আসা ৪২টি মামলার ১১৪ জন আসামির মধ্যে এই প্রথম কেউ বেকসুর খালাস পেলেন।
বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি আমির হোসেন ও বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার।
আসামিদের মধ্যে গ্রেপ্তার পাঁচজন রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আর বাকি চার আসামিকে পলাতক দেখিয়েই এ মামলার বিচার চলে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলে ময়মনসিংহের বিভিন্ন গ্রামে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যার মত অপরাধে যুক্ত হন বলে এ মামলায় অভিযোগ করা হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের চারটি ঘটনায় অভিযুক্ত করে ২০১৮ সালের মার্চে তাদের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল আদালত।
উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখা হয়।
কিন্তু করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে গতবছর একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো মামলারই রায় দিতে পারেনি ট্রাইব্যুনাল। শেষ পর্যন্ত গত মঙ্গলবার মামলার রায়ের জন্য এ দিন ঠিক করে দেয়।
সে অনুযায়ী এ ট্রাইব্যুনালে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার পর রায় ঘোষণার কার্যক্রম শুরু হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

আসামিদের কার কী রায় ;
কারাগারে থাকা আসামিদের মধ্যে মো. শামসুজ্জামান ওরফে আবুল কালামকে ১ ও ৪ নম্বর অভিযোগে এবং পলাতক এ এফ এম ফয়জুল্লাহ ও আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডলকে চারটি অভিযোগের সবগুলেতেই আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আর কারাগারে থাকা মো. খলিলুর রহমান মীরকে ১ ও ৪ নম্বর অভিযোগে; মো. আব্দুল্লাহকে ১ নম্বর অভিযোগে, মো. রইছ উদ্দিন আজাদী ওরফে আক্কেল আলীকে ১, ২ ও ৪ নম্বর অভিযোগে এবং পলাতক সিরাজুল ইসলাম তোতাকে ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে; আলিম উদ্দিন খানকে ১, ২ ও ৩ নম্বরে ২০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।  
এ মামলায় অভিযুক্ত অপর আসামি আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
মামলার নয় আসামির মধ্যে কারাগারে থাকা পাঁচজনকে সকাল পৌনে ৯টায় ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের এজলাসে হাজির করে দূরত্ব বজায় রেখে বসানো হয়। আদালতের নির্দেশে তারা একে একে নিজেদের নাম বলেন।   
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের প্রারম্ভিক বক্তব্যের পর বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার ২২২ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্তসার পড়া শুরু করেন। রায়ের দ্বিতীয় অংশ পড়েন বিচারপতি আমির হোসেন। সবশেষে বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম সাজা ঘোষণা করেন।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন, জাহিদ ইমাম, তাপস কান্তি বল ও রেজিয়া সুলতানা চমন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান।
বিচার পরিক্রমাঃ
২০১৮ সালে এ মামলায় মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেছিল ট্রাইব্যুনাল।
অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে মো. আব্দুল মালেক আকন্দ ওরফে আবুল হোসেন ওরফে আবুল মেম্বার গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিচার চলাকালে মারা যান। আর আসামি নুরুল আমিন শাজাহান মারা যান পলাতক অবস্থায়। 
২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর এ মামলার তদন্ত শুরু হয়। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনে ট্রাইব্যুনাল ২৫ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। 
তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের মত অপরাধের তিনটি অভিযোগ এনে ২০১৮ সালের ৪ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
অভিযোগ গঠনের পর ওই বছরের ১০ মে থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শুরু হয়। মোট ১৮ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য দেন।
সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে শেষ হয় গত বছরের ২৬ জানুয়ারি। ওই দিনই মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষায় রাখা হয়।
সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর রাজশাহীর বোয়ালিয়ার সাবেক শিবির নেতা মো. আব্দুস সাত্তার ওরফে টিপু সুলতানের যুদ্ধাপরাধ মামলার রায় এসেছিল ট্রাইব্যুনালে। সেই রায়ে টিপু সুলতানকে মৃত্যুদণ্ড দেয় যুদ্ধাপরাধ আদালত।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত রায় আসা ৪২টি মামলার ১১১৪ জন আসামির মধ্যে আটজন বিচারাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মোট ১০৩ জনের সাজা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬৮ যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ সাজার রায় এসেছে।

প্রকাশক দীপন হত্যায় বরখাস্তকৃত মেজর জিয়াসহ আট জঙ্গির ফাঁসির রায়

0

জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকসহ আট জঙ্গির ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত।
ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান বুধবার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আট আসামির সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে রায়ে।
৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, জঙ্গি দল আনসার আল ইসলাম সাংগঠনিকভাবে ফয়সল আরেফিন দীপনকে হত্যা করে।
“তাদের দৃষ্টন্তমূলক শাস্তি হলে নিহতের আত্মা যেমন শান্তি পাবে, তেমনি ভবিষ্যতে এ রকম কাজ করার সাহস কেউ আর পাবে না। যারা কেবল বই প্রকাশের কারণে মানুষ হত্যা করতে পারে, তারা জাতি ও রাষ্ট্রের শত্রু।”
বাংলাদেশে লেখক-প্রকাশক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের উপর ধারাবাহিক হামলার মধ্যে ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর আজিজ সুপার মার্কেটে নিজের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জাগৃতির কার্যালয়ে আক্রান্ত হন দীপন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের ছেলে দীপনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
দুই আসামিকে পলাতক দেখিয়ে বিচার শুরুর এক বছর তিন মাসের মাথায় আলোচিত এ মামলার রায় হল।
এ মামলার আট আসামি হলেন- বরখাস্ত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়া, আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ, মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান, আবদুর সবুর সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু, খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল ওরফে জিসান, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার ও শেখ আবদুল্লাহ ওরফে জুবায়ের ওরফে জায়েদ ওরফে জাবেদ ওরফে আবু ওমায়ের।
আসামিদের মধ্যে জিয়া ও আকরাম পলাতক। বাকিরা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তারা সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য বলে পুলিশের ভাষ্য। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
প্রেক্ষাপট
২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি সেনাবাহিনী এক সংবাদ সম্মেলনে সরকার উৎখাতে ধর্মান্ধ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার একটি অভ্যুত্থান পরিকল্পনা নস্যাৎ করার খবর দেয়। অভ্যুত্থানচেষ্টাকারীদের নেতা হিসেবে জানানো হয় মেজর জিয়ার নাম।
তখন সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া জিয়া পালিয়ে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামে যুক্ত হন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে অভিজিৎ হত্যা মামলাসহ আরো বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।
দীপনকে যে বছর হত্যা করা হয়েছিল, সেই ২০১৫ সালে বাংলা একাডেমির একুশে বইমেলা চলার সময় টিএসসিতে কুপিয়ে হত্যা করা হয় লেখক-ব্লগার অভিজিৎ রায়কে। এরপর কয়েক মাসের ব্যবধানে নিলাদ্রী চট্টোপাধ্যায় নিলয়সহ কয়েকজন ব্লগার-লেখককে হত্যা করা হয়।
এরপর ৩১ অক্টোবর আজিজ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে দীপনকে হত্যার দিন একই সময়ে লালমাটিয়ায় আরেক প্রকাশনা সংস্থা শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে ঢুকে এর কর্ণধার আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুলসহ তিনজনকে একই কায়দায় কোপানো হয়েছিল। তবে টুটুলসহ তিনজন বেঁচে যান।
জাগৃতি ও শুদ্ধস্বর দুই প্রকাশনা থেকেই বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়ের বই প্রকাশিত হয়। দুটি ঘটনাতেই জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের নাম আসে।
বরখাস্ত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকের ছদ্মবেশ এই রকম হতে পারে বলে পুলিশের ধারণা
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই জঙ্গি দলের সামরিক কমান্ডারের দায়িত্বে থাকা জিয়ার পরিকল্পনা এবং নির্দেশেই দীপনকে হত্যা করা হয়।
ফয়সল আরেফিন দীপনকে হত্যার পর ওই দিনই তার স্ত্রী রাজিয়া রহমান শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন।
তিন বছর পর ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার ফজলুর রহমান। অভিযোগপত্রে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৬ জনকে সাক্ষী করা হয়।
২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ আদালতে আসামিদের বিচার শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ, আটক আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ২৪ জানুয়ারি বিচারক রায়ের তারিখ ঠিক করেন।

যুদ্ধাপরাধী হান্নানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালেদ

0

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ তথা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি এম এ হান্নানসহ আট আসামির বিরুদ্ধে আনা মামলায় ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে মামলার বিচার চলছে। ট্রাইব্যুনালে এসে মঙ্গলবার সকালে সাক্ষ্য দেন প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।
ট্রাইব্যুনালে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহে সংঘটিত অত্যাচার-নির্যাতনের ঘটনার সাক্ষ্য দেন।
এ সময় প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ শিমন। আর আসামি পক্ষে ছিলেন আবদুস সোবহান তরফদার।
ময়মনসিংহের ত্রিশালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমানের স্ত্রী রহিমা খাতুন ২০১৫ সালের ১৯ মে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগের একটি মামলা দায়ের করেন। সে মামলায় মুক্তিযুদ্ধকালীন ময়মনসিংহে শান্তি কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নানসহ আটজনকে আসামি করা হয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন হত্যা, আটক, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, অপহরণ ও লাশ গুমের অভিযোগ আনা হয়। এই মামলার আট আসামির মধ্যে এম এ হান্নান, ডা. রফিক সাজ্জাদ, ডা. খন্দকার গোলাম সাব্বির আহমদ, মিজানুর রহমান মিন্টু ও হরমুজ আলী গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। আরেক আসামি আবদুস সাত্তার আত্মসমর্পণ করেন। এছাড়া এই মামলায় পলাতক রয়েছেন ফখরুজ্জামান ও খন্দকার গোলাম রব্বানী। বাসস।

ময়মনসিংহের ৯ যুদ্ধাপরাধী মামলার রায় বৃহস্পতিবার

0

ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও ভালুকার নয় আসামির বিরুদ্ধে একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বৃহস্পতিবার।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যার মত অপরাধের চারটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এ আসামির বিরুদ্ধে।
বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারকের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার এ মামলার রায়ের জন্য এ দিন ঠিক করে দেয়।
উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখা হয়েছিল।
কিন্তু করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে গতবছর একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো মামলারই রায় দিতে পারেনি ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন, জাহিদ ইমাম, তাপস কান্তি বল ও রেজিয়া সুলতানা চমন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান।
“গত বছরের শুরুর দিকে এ মামলার যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমান রেখেছিল ট্রাইব্যুনাল। পরে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এবং আরও কিছু সমস্যার কারেণ রায় ঘোষণা করা যায়নি। আজ ট্রাইব্যুনাল আদেশ দিয়ে বলেছে, বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।
২০১৮ সালের ৪ মার্চ এ মামলায় মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেছিল ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলা অবস্থায় গ্রেপ্তার ও পলাতক দুইজনের মৃত্যু হলে এখন আসামি আছেন ৯ জন।
এই ৯ জনের মধ্যে মো. খলিলুর রহমান মীর, মো. শামসুজ্জামান ওরফে আবুল কালাম, মো. আব্দুল্লাহ, মো. রইছ উদ্দিন আজাদী ওরফে আক্কেল আলী ও আব্দুল লতিফ কারাগারে আছেন।
আর এ এফ এম ফয়জুল্লাহ, আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল, সিরাজুল ইসলাম তোতা ও আলিম উদ্দিন খান পলাতক। 
অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে মো. আব্দুল মালেক আকন্দ ওরফে আবুল হোসেন ওরফে আবুল মেম্বার গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিচার চলাকালে মারা যান। পলাতক অবস্থায় মারা যান আসামি নুরুল আমিন শাজাহান।
২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর এ মামলার তদন্ত শুরু হয়। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনে ট্রাইব্যুনাল ২৫ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। 
তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের মত অপরাধের তিনটি অভিযোগ এনে ২০১৮ সালের ৪ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
অভিযোগ গঠনের পর ওই বছরের ১০ মে থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শুরু হয়। মোট ১৮ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য দেন।
সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে শেষ হয় গত বছরের ২৬ জানুয়ারি। ওই দিনই মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষায় রাখা হয়।
সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর রাজশাহীর বোয়ালিয়ার সাবেক শিবির নেতা মো. আব্দুস সাত্তার ওরফে টিপু সুলতানের যুদ্ধাপরাধ মামলার রায় এসেছিল ট্রাইব্যুনালে। সেই রায়ে টিপু সুলতানকে মৃত্যুদণ্ড দেয় যুদ্ধাপরাধ আদালত।
সব মিলিয়ে এ পর‌্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মোট রায় হয়েছে ৪০টি মামলার। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় হয়েছে ২৮টি। আর ট্রাইব্যুনাল-২ রায় দিয়েছে ১২টি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত রায় আসা ৪১টি মামলার ১০৩ জন আসামির মধ্যে ছয়জন বিচারাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মোট ৯৫ জনের সাজা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬৮ যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ সাজার রায় এসেছে।

ইসির পরামর্শ ছাড়া বদলি নয়, আটকে গেলো সাত ডিসির বদলির আদেশ

0

পৌর নির্বাচন পর্যন্ত ৭ ডিসির বদলির আদেশ স্থগিত রাখার জন্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, ফলাফল ঘোষণার পর ১৫ দিন পর্যন্ত ইসির পরামর্শ ছাড়া সংশ্লিষ্টদের বদলি না করার বিধান রয়েছে।
গত ২৮ জানুয়ারি ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, হবিগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, ঝিনাইদহ, জামালপুর ও ভোলায় ডিসি পদে রদবদলের আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এর মধ্যে জামালপুরের ডিসিকে ময়মনসিংহে এবং হবিগঞ্জের ডিসিকে কুষ্টিয়ায় বদলি করা হয়। অন্য সাত জেলায় নতুন কর্মকর্তাদের ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
কিন্তু ১৪ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ ধাপের এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপের পৌরসভার ভোট থাকায় ইসি বদলি স্থগিতের জন্য চিঠি দেয়।
জনপ্রশাসন সচিবকে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর ও কালীগঞ্জ পৌরসভা সাধারণ নির্বাচন, ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল পৌরসভা, ভোলা জেলায় চরফ্যাশন ও ভোলা পৌরসভাসহ ৩১টি পৌরসভায় সাধারণ নির্বাচন হবে।
তাছাড়া একই তারিখে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান পদে উপনির্বাচন এবং কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন হবে।
১৪ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার জেলার হোমনা ও দাউদকান্দি পৌরসভা, ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর ও ত্রিশাল পৌরসভা, রাঙ্গামাটি জেলার রাঙ্গামটি পৌরসভাসহ ৫৬টি পৌরসভায় সাধারণ নির্বাচন হবে।
আর কুমিল্লা জেলার লাকসাম, বরুড়া ও চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা, মায়মনসিংহ জেলায় ভালুকা, গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা, ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন ও গৌলতখান, দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর পৌরসভা এবং ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু ও কোটচাঁদপুর পৌরসভাসহ ৬৪টি পৌরসভায় ৩০ জানুয়ারি সাধারণ নির্বাচন হয়েছে, যার ফলাফল ১০ ফেব্রুয়ারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে।
চিঠিতে বলা হয়, “নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, ঝিনাইদহ ও ভোলার বদলি আদেশ ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল গেজেটে প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত স্থগিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
“একইভাবে রাঙ্গামাটির ডিসির বদলির আদেশ ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত; দিনাজপুর ও কুষ্টিয়ার ডিসির বদলির আদেশ ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল গেজেটে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখতে বলেছে ইসি।”

ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

0

দেশের ব্যাংকগুলো তাদের শেয়ারধারীদের কত লভ্যাংশ দিতে পারবে, তা নির্ধারণ করে নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রোববার জারি করা এই নীতিমালা অনুযায়ী, কোন ব্যাংক কত লভ্যাংশ দিতে পারবে, তা তাদের মূলধন কাঠামোর ওপর নির্ভর করবে। তবে কোনো ব্যাংক নগদ ও বোনাস মিলিয়ে ৩০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দিতে পারবে না।
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা এবং ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের রিটার্নের বিষয়টি বিবেচনা করে লভ্যাংশ দেওয়ার এই নীতিমালা করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
নীতিমালায় বলা হয়, মহামারীর সঙ্কেটে ব্যাংকগুলো যাতে মুনাফা যথাসম্ভব অবণ্টিত রেখে মূলধন শক্তিশালী করার মাধ্যমে পর্যাপ্ত তারল্য বজায় রাখতে পারে, সেজন্য গত বছরের ১১ মে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছিল। ওই সার্কুলার শুধু ২০১৯ সালের জন্য প্রযোজ্য ছিল।

কিন্তু সামনের বছরগুলোতে ব্যাংকগুলোর মূলধন কাঠামো আরও সুসংহত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে। সেজন্য সামগ্রিকভাবে বিবেচনায় শেয়ারের বিপরীতে লভ্যাংশ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে এই নতুন নীতিমালা অনুসরণ করতে বলা হচ্ছে।

>> যেসব ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য বাড়তি সময় নেয়নি এবং যেসব ব্যাংক মূলধনের পরিমাণ ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১৫ শতাংশ বা তার বেশি, ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ২.৫ শতাংশ ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ন্যূনতম ১৫% বা তার বেশি মূলধন সংরক্ষণ করেছে, তারা শেয়ারধারীদের ১৫ শতাংশ নগদসহ সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে।

>> যেসব ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য বাড়তি সময় নেয়নি এবং ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ২.৫ শতাংশ ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ১৩.৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ মূলধন সংরক্ষণ করেছে, তারা ১২.৫ শতাংশ নগদসহ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ দিতে পারবে।
>> যেসব ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য বাড়তি সময় নেয়নি এবং ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ন্যূনতম ১১.৮৭৫ শতাংশ মূলধন সংরক্ষণ করেছে, তারা সাড়ে ৭.৫ শতাংশ নগদসহ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ দিতে পারবে।
>> যেসব ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য বাড়তি সময় নিয়েছে, মুনাফা থেকে তা সমন্বয়ের পর লভ্যাংশ দিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে যেসব ব্যাংক ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ন্যূনতম ১২.৫ শতাংশ বা তার বেশি মূলধন সংরক্ষণ করেছে, তারা ৬ শতাংশ নগদসহ ১২ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে।
>> যেসব ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য বাড়তি সময় নিয়েছে, মুনাফা থেকে তা সমন্বয়ের পর যারা ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ন্যূনতম ১১.৮৭৫ শতাংশ থেকে ১২.৫ শতাংশ মূলধন সংরক্ষণ করেছে, তারা ৫ শতাংশ নগদসহ ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে।
>> যেসব ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য বাড়তি সময় নিয়েছে, মুনাফা থেকে তা সমন্বয়ের পর যারা ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ১০.৬২৫ শতাংশ থেকে ১১.৮৭ শতাংশ মূলধন সংরক্ষণ করেছে, তারা সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিতে পারবে।
৩১ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে সমাপ্ত বছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণার ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তার স্বাক্ষর জালিয়াতি, আসামীকে পুলিশে দিলো হাইকোর্ট

0

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহকারী সামরিক সচিবের সীল-স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলায় লালমনিরহাটের মো. করিম মিয়া নামের এক আসামীকে জামিন না দিয়ে পুলিশে দিয়েছে হাইকোর্ট।
তার আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেয়। আদালত থেকে করিম মিয়াকে শাহবাগ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আমজাদ হোসেন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহকারী সামরিক সচিব মো. সাইফ উল্লাহর সীল-স্বাক্ষর জাল করেছে আসামি মো. করিম মিয়া। এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা হয়। এই মামলায় দুই আসমি গ্রেফতার হলেও করিম মিয়া পলাতক ছিলেন। এর মধ্যে তিনি হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আজ তার আবেদনটি শুনানির পর জামিন না দিয়ে তাকে শাহবাগ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫টায় রংপুর-বগুড়া মহাসড়কে বড় ঈদগাহ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে রাত্রীকালীন পাহাড়ার সময় বরাগ বাঁশ বোঝাই লালমনিহাট থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রাক থামায় হাইওয়ে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে ট্রাকের ড্রাইভার মো. আজিম উদ্দিন ও তার সহযোগী (হেলপার) মো. মোতালেব হোসেন জানায় এই বাঁশ প্রধানমন্ত্রীর বাস ভবনে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তখন তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহকারী সামরিক সচিব মো. সাইফ উল্লাহর সীল-স্বাক্ষর দেয়া একটি চিঠি দেখায়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ড্রাইভার আজিম উদ্দিন জানান, এ চিঠিটি ট্রাকের মালিক মো. করিম মিয়া তাকে দিয়েছে। এতে পুলিশের সন্দেহ হলে বাঁশভর্তি ট্রাক ও চিঠিটি জব্দ করে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা হাইওয়ে পুলিশের বগুড়া অঞ্চলের সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপারকে জানান। পুলিশ সুপার (এসপি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহকারী সামরিক সচিব মো. সাইফ উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান যে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ ধরনের কোনো চিঠি দেয়া হয়নি। এ পর্যায়ে আসামিরা স্বাক্ষর জালের কথা স্বীকার করেন।
পরে ট্রাকের মালিক করিম মিয়াসহ তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন রংপুরের পীরগঞ্জের বড়দরগাহ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মোয়াজ্জেম হোসেন।
ট্রাকের মালিক আসামি মো. করিম মিয়ার বাড়ি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর বালাপাড়া গ্রামে। ট্রাকের ড্রাইভার মো. আজিম উদ্দিনের বাড়ি একই উপজেলার উত্তর বত্রিশ হাজারী গ্রামে। আর ড্রাইভারের সহযোগী (হেলপার) মো. আজিম উদ্দিনের বাড়ি উপজেলার হরেরাম গ্রামে।

সুপ্রিমকোর্ট বারে সভাপতি প্রার্থী হবেন ড. বশির আহমেদ

0

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে সভাপতি পদে নির্বাচন করতে চান সমিতির সাবেক সম্পাদক, বিশিষ্ট আইনজীবী ড. বশির আহমেদ। এ উপলক্ষে বুধবার সুপ্রিম কোর্ট বারের ২ নং হলে আইনজীবীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বারের সাবেক সিনিয়র সহ- সভাপতি অ্যাডভোকেট ওয়াজি উল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ভার্চুয়াল বক্তব্য রাখেন বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার।
সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট আবু সায়ীদ সাগর সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বাবলি অ্যাডভোকেট প্রবীর কুমার হালদার ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম অ্যাডভোকেট শামীম সরদার। সভায় ড. বশির আহমেদ সুপ্রিম কোর্ট বারের আগামী নির্বাচনে সভাপতি পদে তাকে সমর্থন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সম্পাদক থাকাকালে বারের উন্নয়নে তার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

যারাই মানবাধিকার লঙ্ঘন করবে তাদেরকেই আইনের আওতায় আনা হবে- আইনমন্ত্রী

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার।বাংলাদেশে যারাই মানবাধিকার লঙ্ঘন করবে তাদেরকেই আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।
শনিবার “বঙ্গবন্ধু ও মানবাধিকার” শীর্ষক এক রচনা প্রতিযোগিতার ভার্চুয়াল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত দেশব্যাপি অনুষ্ঠিত এ রচনা প্রতিযোগিতায় নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ৫২ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
মন্ত্রী বলেন, শিশু বয়সেই বঙ্গবন্ধুর চরিত্রের মধ্যে পরোপকারী বৈশিষ্ট্য ও মানবিক গুণাবলীর পরিস্ফুটন ঘটে। কোন অসহায় লোক তাঁর কাছ থেকে সাহায্য চেয়ে পায়নি এমন নজির নেই। মানুষের দুঃখ কষ্টে আমৃত্যু তাঁর মন কেঁদেছে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘ কর্তৃক মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের প্রতি সম্মান জানিয়ে মানবাধিকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করেন।
আনিসুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মূল চেতনা হচ্ছে স্বাধিকার, সুশাসন আর বৈষম্য বিলুপ্তির মাধ্যমে দরিদ্রতা দূর করা। আজকের পৃথিবীতেও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার এবং সুরক্ষার বড় চ্যালেঞ্জ হলো সন্ত্রাস ও দরিদ্রতা দূর করা।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সব ধরনের সন্ত্রাস ও দরিদ্রতা মোকাবিলা ও দূরীকরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাস ও দরিদ্রতা দূরীকরণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করে দেশে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে তাঁর সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।
তিনি বলেন, বিচারপ্রাপ্তির অধিকার মানবাধিকারের একটি অংশ। তাই জনগণ যাতে বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য সরকার বিচার কার্যক্রমকে অনলাইনের আওতায় আনতে করোনা মহামারী শুরু হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই জাতীয় সংসদে আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার আইন,২০২০ প্রণয়ন করায়। ফলে করোনার প্রকোপ যখন খুব বেশি তখনও বাংলাদেশের সকল আদালত বিচার কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড, জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ড ও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধসহ বড় বড় মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এদেশের মাটিতে হয়েছে। মানুষের মানবাধিকার রক্ষা এবং সুবিধা বঞ্চিত জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে বাংলাদেশে স্বাধীন ও সংবিধিবদ্ধ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বাংলাদেশ তিন তিনবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্যপদ লাভ করেছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মূখার্জি প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হন।