ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের ভবন ভাঙার ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছে হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে
বুধবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো: খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশনা দেন।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আলম চৌধুরী এ রিট দায়ের করেন।

সংস্কৃতি সচিব, প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার ও কোতোয়ালি থানার ওসিকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে।
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জ এলাকার শিশুবাগ স্কুলের ভবন ভাঙা নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ৪ জানুয়ারি দুপুরে ভবন ভাঙাকালীন দুই পক্ষকে মুখোমুখি অবস্থান নিতে দেখা যায়। পরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী রানা দাশগুপ্তসহ বিভিন্ন জনের হস্তক্ষেপে ভবন ভাঙা স্থগিত রাখা হয়। যদিও এর আগেই স্কুলের বেঞ্চ-টেবিলসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি বের করে ভবনের উপরের একাংশ বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়।
স্থানীয়দের দাবি- ভবনটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি। যা ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। ভারতীয় কংগ্রেসের নেতা যাত্রামোহন সেনগুপ্ত এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। চট্টগ্রামের এই আইনজীবীর ছেলে হলেন দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত। ব্যারিস্টার যতীন্দ্রমোহনও ছিলেন সর্বভারতীয় কংগ্রেসের নেতা। তিনি কলকাতার মেয়রও হয়েছিলেন। ইংরেজ স্ত্রী নেলী সেনগুপ্তাকে নিয়ে কিছু দিন ভবনটিতে ছিলেন তিনি। মহাত্মা গান্ধী, সুভাষ চন্দ্র বসু, শরৎ বসু, মোহাম্মদ আলী ও শওকত আলীসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সময় এই বাড়িতে এসেছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবীরাও এই বাড়ির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সূর্য সেন, অনন্ত সিংহ, অম্বিকা চক্রবর্তীর হয়ে মামলা লড়েছিলেন যতীন্দ্রমোহন। এতে ব্রিটিশ শাসকদের রোষানলে পড়ে ১৯৩৩ সালে কারাগারে মৃত্যু হয়েছিল যতীন্দ্রমোহনের। এরপর নেলী সেনগুপ্তা ১৯৭০ সাল পর্যন্ত রহমতগঞ্জের বাড়িটিতে ছিলেন। ১৯ গণ্ডা এক কড়া পরিমাণ জমিটি পরে শত্রু সম্পত্তি ঘোষিত হয়। এরপর জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে শামসুদ্দিন মো. ইছহাক নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি লিজ বা ইজারা নিয়ে ‘বাংলা কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন সেখানে। পরে নাম বদলে সেই ভবনে ‘শিশুবাগ স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইছহাকের সন্তানরা স্কুলটি পরিচালনা করছেন।
চট্টগ্রামের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত ভবন ভাঙার ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা
বাসে অগ্নিসংযোগ মামলা; ১৭৮ বিএনপি নেতাকর্মীর আগাম জামিন
বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাজধানী উত্তরা, কলাবাগান, শাহবাগ মতিঝিল, ও পল্টন থানায় দায়ের মামলায় ১৭৮ বিএনপি নেতাকর্মীর আগাম জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।
বুধবার ৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে করা ৩৬টি আবেদনের শুনানী করে বিচারপতি হাবিবুল গনির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ জামিনের মেয়াদ থাকবে। এ সময়ের মধ্যে তাদেরকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পন করতে হবে।
আদালতের আদেশের বিষয়টি জানান আসামীদের আেইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সঙ্গে ছিলেন গাজী কামরুল ইসলাম সজল।
১৭৮ জনের মধ্যে যুবদলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন শামীম রবিউল আলম অন্যতম।
প্রয়াত সাহারা খাতুনের মৃত্যুর পর ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১২ নভেম্বর। ভোট চলার সময় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামী করে মামলা করা হয়।
সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাত: পিকে হালদারের ২৫ সহযোগির দেশত্যাগে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা
সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করে পালিয়ে যাওয়া পিকে হালদারের প্রতারণায় সহায়তাকারী ২৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট। তাদেরকে দরকার হলে দুর্নীতি দমন কমিশন জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে বলেও আদেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার বিচারপতি মো: নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করে পালিয়ে যাওয়া পিকে হালদারের সহায়তাকারী ২৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ভূক্তভোগী বিনিয়োগকারীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেয় হাইকোর্ট ।
এই ২৫ জন হলেন :১. হারুনুর রশিদ( ফার্স ফাইনান্স),২.উজ্জ্বল কুমার নন্দী ৩. সামি হুদা ৪. অমিতাভ অধিকারী ৫. অবন্তিকা বড়াল ৬. শামীমা( ইন্টারন্যাশনাল লিজিং)৭. মিস রুনাই ( ইন্টারন্যাশনাল লিজিং)৮. এন আই খান ( ইন্টারন্যাশনাল লিজিং) ৯. সুকুমার মৃধা(ইনকাম ট্রাক্স আইনজীবী) ১০. মিস অনিন্দিতা মৃধা, ১১. তপন দে ১২. স্বপন কুমার মিস্ত্রি ১৩. অভিজিৎ চৌধুরী ১৪. রাজিব সোম ১৫. ইরফান উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী( সাবেক এমডি ব্যাংক এশিয়া),১৬. অঙ্গন মোহন রায় ১৭. নঙ্গ চৌ মং ১৮. নিজামুল আহসান ১৯.মানিক লাল সমাদ্দার ২০. সোহেল সামস ২১. বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গর্ভনর এস কে সুর ২২. মাহবুব মুসা ২৩ এ কিও সিদ্দিকী ২৪. মোয়াজ্জেম হোসেন ও ২৫ লিলাবতী হালদার।
এর আগে গত ৩ জানুয়ারি পিকে হালদারের প্রতারণার শিকার সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামালের মেয়েসহ ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারীরা রুল শুনানিতে পক্ষভূক্ত হন।
ওইদিন পিকে হালদারের প্রতারণার শিকার সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামালের মেয়েসহ ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারীরা আত্মসাতকৃত টাকা ফিরিয়ে দিতে আদালতের কাছে আকুতি জানান।
তারা উচ্চ আদালতকে বলছেন, ‘আর্থিক ও মানসিক কষ্টে আমরা মারা যাচ্ছি আমাদের বাঁচান।’
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, পিকে হালদার জালিয়াতির মাধ্যমে দেশের কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নামে-বেনামে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করেন। যার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো দেউলিয়া হতে বসেছে এবং গ্রাহকের আমানতের টাকা ফেরত দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এসবের মাঝেই পিকে হালদার গোপনে দেশ ছাড়েন।
একপর্যায়ে পি কে হালদারের বিষয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পিকে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনা ও তার গ্রেপ্তারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চান উচ্চ আদালত।
ই-প্রকিউরমেন্ট ব্যবস্থার যথাযথ বাস্তবায়নে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় জনগণের অংশ গ্রহণ বাড়বে, বললেন আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সরকারের প্রকিউরমেন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে দুর্নীতি হ্রাস করে দ্রুত সময়ে সঠিক আইটেম, সঠিক মূল্যে পাওয়ার ক্ষেত্রে ই-প্রকিউরমেন্ট এর গুরুত্ব অপরিসীম। বিচার বিভাগসহ দেশের সকল সেক্টরে ই-প্রকিউরমেন্ট ব্যবস্থার যথাযথ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় জনগণের অংশ গ্রহণ বাড়বে ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। মঙ্গলবার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট কর্তৃক আয়োজিত ই-প্রকিউরমেন্ট বিষয়ক অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। অধস্তন আদালত শক্তিশালীকরণে আইন ও বিচার বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৩৩ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার অংশগ্রহণে তিন সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণ চলবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, এনালগ পদ্ধতিতে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত বিষয়ে দুর্নীতির সুযোগ থাকে। দুর্নীতি দূর করে সকল সেক্টরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাকে অধিক স্বচ্ছ ও জনমুখী করার লক্ষ্যে গত ১০ বছরে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে নানা সংস্কার আনা হয়েছে। বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা সঠিকভাবে অনুসরণ করেই দক্ষতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সময়মতো সরকারি ক্রয় কার্যাবলি সম্পাদন করতে পারলে দুর্নীতি কমবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে বলে মনে করেন তিনি ।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে ই-প্রকিউরমেন্ট পদ্ধতি চালু করা হয়েছে যার মাধ্যমে দক্ষতা, স্বচ্ছতার পাশাপাশি বেড়েছে প্রতিযোগিতা।
মন্ত্রী বলেন, বিচারকগণের বিচার কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকৃতির সরকারি ক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকতে হয়। সেজন্য তাদেরকে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত আইনি কাঠামো, আধুনিক সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সাইকেলের বিভিন্ন ধাপ, প্রকিউরমেন্ট প্রসেস ও প্রকিউরমেন্ট প্ল্যান সহ বিভিন্ন বিষয়ে মৌলিক ধারণা অর্জন করতে হবে।
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক খোন্দকার মূসা খালেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) বিকাশ কুমার সাহা এবং ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. গোলাম কিবরিয়া বক্তৃতা করেন।
তামাক ব্যবহারে কঠোরতা আরোপে আইন সংশোধনের আশ্বাস স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
দেশে তামাকের ব্যবহার কমাতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি। বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কিছু দুর্বলতা থাকার কারণে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা এবং এবিষয়ে করণীয় সম্পর্কে তুলে ধরতে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স- আত্মা’র একটি প্রতিনিধি দল সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করে। এসময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ধাপে ধাপে কঠোরতা আরোপ করা হবে। ইতিপূর্বে তামাকপণ্যের প্যাকেটে ছবি ব্যবহার ছিলনা, সেটি করা হয়েছে। পাশাপাশি একসময় বিমানসহ বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে ধূমপানের সুযোগ ছিল। আইন করে সেটি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনটি আরো যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে আইনের সংশোধনী আনা হচ্ছে। এসময় তিনি প্রজ্ঞা এবং আত্মা’র প্রস্তাবসমূহ আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে গুরুত্বসহকারে বিবেচনার করবেন বলে আশ্বাস দেন।
বৈঠকে প্রজ্ঞা এবং আত্মা’র পক্ষ থেকে ১. ‘ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান’ বিলুপ্ত সহ সকল পাবলিক প্লেস, কর্মক্ষেত্র ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে শতভাগ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা; ২. বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা; ৩. তামাক কোম্পানির ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি’ বা সিএসআর কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা; ৪. বিড়ি-সিগারেটের খুচরা শলাকা এবং প্যাকেটবিহীন জর্দা-গুল বিক্রয় নিষিদ্ধ করা; ৫. ই-সিগারেট এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টস (এইচটিপি) এর মতো ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টসমূহ আমদানি ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করা; এবং ৬. সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার বৃদ্ধিসহ তামাকপণ্য মোড়কজাতকরণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ প্রভৃতি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রস্তাব করা হয়। উল্লেখ্য, তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) এর আলোকে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন।
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, আত্মা’র কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী, বাংলা ট্রিবিউন এর বিজনেস ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম এবং প্রজ্ঞা’র তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কর্মসূচি প্রধান মো. হাসান শাহরিয়ার। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
বিআইএফসির দুর্নীতি; দুর্বৃত্তরা প্রশ্রয় পাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাছে: হাই কোর্ট
দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তদারকির দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাজে ক্ষোভ জানিয়েছে উচ্চ আদালত।
হাই কোর্ট বলেছে, “দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি-উন্নয়নের জন্য সরকার প্রধান যেখানে ক্লান্তিহীন কাজ করে যাচ্ছেন, সেখানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেখভালের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বিশেষ করে ডিজিএম, জিএম, নির্বাহী পরিচালক ও ডেপুটি গভর্নররা ঠগবাজ, প্রতারক ও অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তদের প্রশ্রয় দিচ্ছে।”
ব্যক্তি স্বার্থের জন্য আর্থিক খাতের এই বিপর্যয়ের জন্য তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিৎ বলে মন্তব্য করেছে আদালত।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফসি) পরিচালনা পর্ষদ অপসারণের নির্দেশনা চেয়ে একটি বিদেশি অংশীদারী প্রতিষ্ঠানের করা আবেদনে এই পর্যবেক্ষণসহ আদেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
এই আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ওমর ফারুখ। বিআইএফসির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হাসান আজিম, মাহফুজুর রহমান মিলন ও মো.সাইফুল ইসলাম সাইফ।
বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ১৭ ডিসেম্বর এ আদেশ দেয়। সোমবার পূর্ণাঙ্গ আদেশের অনুলিপিতে এই পর্যবেক্ষণ দেখা যায়।
ওমর ফারুখ বলেন, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফসি) ১০ শতাংশের বিদেশি অংশীদার ‘টিজ মার্ট ইনকরপোরেটেড’ গত বছর মার্চে আবেদনটি করেছিল।
বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ নিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদার ও তার সহযোগীরা বিআইএফসি থেকে কী পরিমাণ টাকা নিয়েছে, তা নির্ধারণের জন্য একটি স্বতন্ত্র নিরীক্ষক কোম্পানি নিয়োগের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল আবেদনে।
ব্যারিস্টার ওমর ফারুখ বলেন, “আদালত পর্যবেক্ষণসহ আদেশ দেয়। আদেশে বিআইএফসির নতুন চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদ এবং নিরীক্ষক কোম্পানি নিয়োগ দিয়েছে।”
সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীকে বিআইএফসির চেয়ারম্যান ও স্বাধীন-স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগের আদেশ দিয়েছে আদালত। তিনি পরিচালনা পর্ষদ এবং বার্ষিক সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করবেন।
পাশাপাশি আদালত আরও চারজনকে স্বাধীন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তারা হলেন, সাবেক সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. জামিল শরিফ, আইসিএবির সাবেক সহ-সভাপতি মো. মাহামুদ হোসেন ও মো. শাহাদাত হুসাইন।
এছাড়ও এই আর্থিক সংস্থার নিরীক্ষা পরিচালনার জন্য নিরীক্ষক কোম্পানি নূরুল ফারুখ হাসান অ্যান্ড কো. চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টসকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এই নিরীক্ষক কোম্পানি বিআইএফসির সম্পদ, বিআইএফসির দায়, এর মূলধন, বিআইএফসিতে পৃষ্ঠপোষক অংশীদারদের বিনিয়োগের পরিমাণ এবং পৃষ্ঠপোষক অংশীদারদের বিনিয়োগের পদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখবে বলে জানান ওমর ফারুখ।
আদালত পর্যবেক্ষণে আরও বলেছে, ২০০২ সাল থেকে আজ অবধি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিযুক্ত কর্মকর্তাদের সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
আদালত মনে করে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উচিত এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালানো।
পর্যবেক্ষণে আদালত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেছে, “বাংলাদেশ ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ঠগবাজ ব্যবসায়ী, প্রতারকরা যাতে জনসাধারণের অর্থ আত্মসাত করতে না পারে, বাংলাদেশে ব্যাংকের গভর্নর সে বিষয়ে সচেষ্ট থাকবেন। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এদের গোপন আঁতাত, পরিকল্পনা ভেঙে দিতে হবে “
ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি) পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
গত বছর এই প্রতিষ্ঠানটির বিদেশি পৃষ্ঠপোষক অংশীদার ‘টিজ মার্ট ইনকরপোরেটেড’ অর্থ আত্মসাত, অব্যবস্থাপনাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিল বিআইএফসি পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগে বিআইএফসি চেয়ারম্যানের অপসারণ, নতুন করে পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের নির্দেশনা চেয়ে গত বছর হাই কোর্টে আবেদন করা হয়।
সেই সঙ্গে পি কে হালদার সংশ্লিষ্ট ‘সুকুজা ভেনচার লিমিটেড’ ও ‘কাঞ্চি ভেনচার লিমিটেড’ কীভাবে বিআইএফসির পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হয়েছে, সেজন্য এ দুটি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করার নির্দেশনাও চাওয়া হয়।
এছাড়া ২০১৫ থেকে গত পাঁচ বছর পি কে হালদার ও তার সহযোগীরা বিআইএফসির কত টাকা আত্মসাত করেছে, তা খতিয়ে দেখতে স্বাধীন-স্বতন্ত্র নিরীক্ষক নিয়োগ এবং পি কে হালদারসহ তার আত্মীয়-স্বজন, সুকুজা ভেনচার লিমিটেড ও কাঞ্চি ভেনচার লিমিটেডের পরিচালক, বিআইএফসির সব পরিচালকসহ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।
আদালত এ আবেদনের শুনানি নিয়ে গত বছর ১১ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী আদেশ দেয়। সে আদেশে বিআইএফসির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিক্রি, স্থানান্তরে নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছিল আদালত।
সে আবেদনের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ গত ১৭ ডিসেম্বর পর্যবেক্ষণসহ আদেশ দিল উচ্চ আদালত।
আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী তারিখ রেখে এই সময়ের মধ্যে এ আদেশ প্রতিপালনের অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের।
সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশ সদস্যদের আরো আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাইবার ক্রাইম, মানি লন্ডারিং, মানবপাচার, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের মত মারাত্মক সামাজিক অপরাধ দমনে পুলিশ সদস্যদের আরো আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
অপরাধের ধরন বদলাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আধুনিক প্রযুক্তির যুগ এবং সাইবার ক্রাইম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটাকে আমাদের দমন করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গতানুগতিক অপরাধের পাশাপাশি সাইবার ক্রাইম, মানি লন্ডারিং, মানবপাচার ইত্যাদি বৈশ্বিক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের মতো মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা-নির্যাতনসহ নিত্য নতুন সামাজিক অপরাধ। এসব অপরাধকে আরো দক্ষতার সঙ্গে দমন করতে হবে। বাসস।
প্রধানমন্ত্রী রোববার সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৭তম ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারি পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও লিংকের সাহায্যে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, কেবল দেশে নয়, বিদেশে পাঠিয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এটা অব্যাহত রাখা দরকার। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, একটা নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিলে তারা যতক্ষণ কাজে থাকবেন তাতে তাদের কর্মদক্ষতা আরো বৃদ্ধি পাবে। সে ব্যবস্থাও করতে হবে।’
ফেসবুক, অ্যাপস বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে গুজব ছড়নো বা মিথা তথ্য প্রদানসহ কিশোর ও উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা নানা অপরাধে যুক্ত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেখান থেকে তাদের বের করে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণভাবে গুজব রটানো বা এ ধরনের কাজ যেন করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।’
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে নিরলসভাবে কাজ করার জন্যও শেখ হাসিনা আহ্বান জানান।
এসব কাজে পুলিশের শক্তিশালী ও সাহসী ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী কর্তব্য পালনকালে মৃত্যুবরণকারী পুলিশ সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি ও সমবেদনা জানান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, মানুষের সেবা দেয়া, তাদের জীবন মান উন্নত করা-এটাই হচ্ছে আমাদের সব থেকে বেশি প্রয়োজন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। পুলিশের আইজি ড. বেনজির আহমেদ স্বাগত বক্তব্য রাখেন ।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল খন্দকার গোলাম ফারুক, স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ গ্রহণকালে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ শিক্ষানবিশ সহকারি পুলিশ সুপারদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পুরস্কার বিতরণ করেন।
সকল বিষয়ে কৃত্বিপূর্ণ অবদানের জন্য সহকারি পুলিশ সুপার স্নেহাশিষ কুমার দাস ‘বেস্ট প্রবেশনার’ পুরস্কার লাভ করেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষানবিশ সহকারি পুলিশ সুপারদের শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয় এবং তিনি মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন।
প্রধানমন্ত্রী নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বাংলাদেশকে সকলে মিলে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি উন্নত হয়, তবে, গ্রাম, গঞ্জে ছড়িয়ে থাকা আপনাদের আত্বীয়-স্বজন এবং পরিবারের সদস্যরাই উপকৃত হবে। তাদের জীবন সুন্দর হবে, তারাই নিরাপদে বাঁচতে পারবেন বা ভবিষ্যত বংশধরদের জীবনটা সুন্দর হবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত অসাম্প্রদায়িক উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের সরকারেরও সেটাই দায়িত্ব, বলেন তিনি।
নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনী সব সময় সরকারের পাশে রয়েছে, উল্লেখ করে সরকার প্রধান নবীন কর্মকর্তাদের ‘আগামীর কর্ণধার’ আখ্যায়িত করে দায়িত্ব পালনে আরো আন্তরিক হবার পরামর্শ দেন।
শেখ হাসিনা এ সময় ১৯৭৫ সালের ১৫ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পুলিশ সপ্তাহে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে জাতির পিতা প্রদত্ত ভাষণের উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধৃত করেন।
জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘একটা কথা ভুললে চলবে না তোমাদের। তোমরা স্বাধীন দেশের পুলিশ, তোমরা ইংরেজের পুলিশ নও, তোমরা পাকিস্তানি শোষকদের পুলিশ নও, তোমরা জনগণের পুলিশ। তোমাদের কর্তব্য জনগণকে সেবা করা, জনগণকে ভালোবাসা, দুর্দিনে জনগণকে সাহায্য করা।’
জাতির পিতার এই বক্তব্যকে প্রতিটি নবীন পুলিশ সদস্যকে চলার পথের পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করে সেভাবেই দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে জাতির পিতার ‘আপনাদের মানুষ যেন ভয় না করে। আপনাদের যেন মানুষ ভালোবাসে। অনেক দেশে পুলিশকে মানুষ শ্রদ্ধা করে। আপনারা শ্রদ্ধা অর্জন করতে শিখুন’ উদ্ধৃতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের জনগণের আস্থা ও ভালবাসা অর্জনে ব্রতী হওয়ারও আহ্বান জানান।
পুলিশের বাজেট ২০০৯ সালের ৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ১৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, উল্লেখ করে সরকার প্রধান অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট প্রতিষ্ঠাতেও তাঁর সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
পিবিআই, ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ, স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, নারী আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, এয়ারপোর্ট আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও কক্সবাজার এলাকার নিরাপত্তার জন্য দু’টি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠন করার তথ্যও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পুলিশ এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া, অপরাধী শনাক্তকরণ এবং তদন্তে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার পুলিশ সেন্টার, ডিএনএ ল্যাব, অটোমেটেড ফিঙ্গার প্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম এবং আধুনিক রাসায়নিক পরীক্ষাগার স্থাপন করা হয়েছে, বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ পুলিশে সংযোজিত হতে যাচ্ছে সর্বাধুনিক অপারেশনাল গিয়ার ‘ট্যাকটিক্যাল বেল্ট’ যাতে অপারেশনাল ডিউটিতে অফিসার এবং ফোর্সগণ হ্যান্ডফ্রি রেখে অধিকতর দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
পুলিশের জন্য কমিউনিটি ব্যাংক, আটটি বিভাগীয় শহরে বাংলাদেশ পুলিশ পরিচালিত আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিকে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁর সরকারের পদক্ষেপ সমূহও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
করোনার কারণে ‘মুজিববর্ষে পুলিশের জন্য গৃহীত ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভবপর না হওয়ায় সেখানকার বাজেট গৃহহীনদের জন্য তাঁর সরকারের গৃহ নির্মাণ কর্মসূচিতে ব্যয়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী সকল পুলিশ সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
‘মুজিববর্ষে দেশের একটি মানুষও আর গৃহহীন থাকবে না’ এবং ‘দেশের সকল ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের মাধ্যমে সমগ্র দেশকে আলোকিত করায় তাঁর সরকারের অঙ্গীকারের কথাও এ সময় পুণর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার কারণে বিশ^ব্যাপী একটি স্থবির অবস্থার সৃষ্টি হলেও বাংলাদেশ পুলিশ অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেছে।’
মৃতের সৎকার বা রোগাক্রান্তকে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া বা ঘরে ঘরে রিলিফ পৌঁছে দেয়ায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী কর্তব্য পালনকালে মৃত্যু বরণকারী পুলিশ সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
তিনি আরো বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে আত্বীয়-স্বজন লাশ ফেলে চলে গেছে কিন্তু আমার পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সেখানে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।’
সে কারণে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের চিকিৎসার জন্য রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের পাশাপাশি তিনি একটি হাসপাতাল ভাড়া করে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পুলিশে পৃথক একটি মেডিকেল ইউনিট গঠন করাটা একান্তভাবে দরকার বলে আমি মনে করি। তাদের নিজস্ব একটি মেডিকেল ইউনিট থাকুক যারা এই চিকিৎসা সেবা দেখবে।’
তাছাড়া, ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগ ও জেলাগুলোতে পুলিশ হাসপাতালগুলোর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত পুলিশের সেবা বিস্তৃত করার প্রয়াস হিসেবে ‘বিট পুলিশিং’ চালু করেন। যার মাধ্যমে আজ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’র মাধ্যমে কেউ ফোন করলে তাৎক্ষণিক ভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে পুলিশ এবং তাদের সেবা প্রদান করছে।
এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা গত ১৯ ডিসেম্বর হিমছড়ির পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলা চার শিক্ষার্থীর ’৯৯৯’ এ ফোন করে পুলিশের চাহিদার প্রেক্ষিতে বিমান বাহিনীর সহযোগিতায় পরিচালিত ‘সার্চ এন্ড রেসকিউ’ অপারেশনের মাধ্যমে হেলিকপ্টারের সাহায্যে উদ্ধার পাবার ঘটনাটির পুনরুল্লেখ করেন এবং সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য তাঁর আহ্বান পুণর্ব্যক্ত করেন।
বুড়িগঙ্গায় দূষণ : ৩০ ওয়াশিং প্লান্টের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ হাইকোর্টের
বুড়িগঙ্গার পানি দূষণের জন্য কেরানীগঞ্জ এলাকার ৩০টি ওয়াশিং প্লান্টের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেন।
একইসঙ্গে বুড়িগঙ্গার পানিতে বা নদী তীরে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেন ময়লা-আবর্জনা ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে মনিটরিং ব্যবস্থা করতে ঢাকার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কেরানীগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। যদি কেউ দূষণ করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতিমাসের প্রথম রোববার এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান।
আদেশের বিষয়টি আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ২০১৪ সালের করা এক রিট মামলার আদেশের ধারাবাহিকতায় এ আদেশ দেয়া হয়।
ওয়াশিং প্লান্টগুলো হচ্ছে- আহামদ হোসেন ওয়াশিং, আমেনা ওয়াশিং, সানমুন ওয়াশিং, ইডেন ওয়াশিং, বিসমিল্লাহ ওয়াশিং, লোটাস ওয়াশিং, গ্লোবাল ওয়াশিং, রুবেল ওয়াশিং, আনুস্কা ওয়াশিং, সততা ওয়াশিং, চঞ্জল ওয়াশিং, আব্দুর রব ওয়াশিং, ঢাকা ওয়াশিং, আজান ওয়াশিং, নিউ সাহারা ওয়াশিং, দোহার ওয়াশিং, রিলেটিভ ওয়াশিং, নিউনাশা ওয়াশিং, ইউনিক ওয়াশিং, মৌ ওয়াশিং, সেতু ওয়াশিং, কোয়ালিটি ওয়াশিং, জোয়েনা ওয়াশিং, কালাম ওয়াশিং, ওয়াটার কালার ওয়াশিং, পারজোয়ার ওয়াশিং, জিএম ওয়াশিং, কুমিল্লা ওয়াশিং, আছিয়া ওয়াশিং ও লিলি ওয়াশিং।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত
মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ণাঢ্য ও যথাযথ মর্যাদার সাথে উদযাপনের লক্ষ্যে গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি’র সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে আ. ক. ম মোজাম্মেল হক বছরব্যাপী নানান আয়োজনে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের পরিকল্পনার কথা জানান। বাসস।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে এবং তৃণমূলে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে বছরব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
মন্ত্রী জানান, সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে একটি থিম সং, লোগো এবং পৃথক ওয়েসাইট করা হবে। থিমসং এর জন্য তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ , লোগোর জন্য শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এবং ওয়েবসাইটের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে আহ্বায়ক করে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে ।
বছরব্যাপী আয়োজনের ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ। বিস্তারিত কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রীর চুড়ান্ত অনুমোদনের পর জানানো হবে বলে মন্ত্রী জানান। সভায় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ. কে আব্দুল মোমেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, ভার্চুয়ালভাবে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি, জন প্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, জন প্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুনসহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বছরের প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সঙ্গে আইনমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়
২০২১ এর প্রথম কর্মদিবসে নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি।
রবিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন আইনমন্ত্রী ।
শুভেচ্ছা বিনিময়কালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নেন তিনি।
এ সময় উৎসবমুখর পরিবেশে মন্ত্রণালয়ের উভয় বিভাগের সচিবসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে নতুন বছরের কেক কাটেন আইনমন্ত্রী।
শেষে আইনমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দপ্তরে মিষ্টির প্যাকেট পাঠানো হয়।










