প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ নিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারসহ যে কোনো দণ্ডিত ও পলাতক আসামির বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার প্রচার-সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাই কোর্ট।
পরবর্তী আদেশ অথবা পি কে হালদার সংক্রান্ত জারি করা রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব ধরনের প্রচার মাধ্যমের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেয়।
সোমবার রাত ১০টার খবরে পালাতক পি কে হালদারের বক্তব্য প্রচারের পর এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তাকে সরাসরি সংযুক্ত করে একাত্তর টিভি।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি নজরে এনে লিখিত আবেদন করলে বুধবার কোর্ট বেঞ্চ নিষেধাজ্ঞা জারির ওই আদেশ দেয়।

একাত্তর টিভির খবরে পি কে হালদারের প্রচারিত বক্তব্য এবং ‘টকশোর’ ভিডিও ক্লিপও তলব করেছে হাই কোর্ট।
আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে তা হাই কোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারের দপ্তরে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতে এদিন দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।
প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার)প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার)এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস লিমিটেডেরও (আইএলএফএসএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।
আইএলএফএসএল গ্রাহকদের অভিযোগের মুখে বছরের শুরুতে পি কে হালদারের বিদেশ পালানোর পর দুদক তার ৩০০ কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদের’ খবর দিয়ে মামলা করে।
বিদেশে থাকা পিকে হালদার গত ২৮ জুন আইএলএফএসএলের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে তার দেশে ফেরার জন্য ব্যবস্থা নিতে আবেদন করেন।
আদালত তাতে অনুমতি দিলেও পিকে হালদার না ফেরায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
ঢাকার জজ আদালত ইতোমধ্যে পি কে হালদারের সব স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করারও আদেশ দিয়েছে।
সোমবার রাতে একাত্তর টিভিতে পি কে হালদারের বক্তব্য প্রচার ও আলোচনা অনুষ্ঠানে তার যুক্ত হওয়ার বিষয়টি মঙ্গলবার আদালতের নজরে আনেন দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।
তিনি আদালতে বলেন, “সোমবার রাত ১০টায় একাত্তর টিভিতে পলাতক পি কে হালদারের সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয়েছে। এরপর আবার টক শোতেও ওই আসামিকে লাইভে এনেছে। আমাকেও সংযুক্ত করেছিল। আমি তার (পি কে হালদার) কথা শুনে লাইভ থেকে বেরিয়ে আসি।
“আমি তো কোনো পলাতক আসামির সঙ্গে টক-শো করতে পারি না। প্রথম কথা হল, পি কে হালদার পলাতক। দ্বিতীয় কথা হল তার বিষয়ে এই আদালতে একটা স্বতঃপ্রণোদিত মামলা বিচারাধীন।
“তাই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন পি কে হালদারের প্রচারিত সাক্ষাৎকারে কী আছে। এই আদালত সেই ভিডিও, সাক্ষাৎকার তলব করে দেখতে পারে। এরপর প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারেন।”
দুদকের আইনজীবীর বক্তব্য শুনে আদালত লিখিত আবেদন করতে বললে বুধবার সেই আবেদন জমা দেয় দুদক।
আবেদনে সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ যে কোনো প্রচার মাধ্যমে পলাতক পি কে হালদারের বক্তব্য প্রচার, পুনঃপ্রচার ও সম্প্রচার বন্ধে তথ্য সচিব ও বিটিআরসির চেয়ারম্যানের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়।
সেই সঙ্গে পি কে হালদারসহ যে কোনো পলাতক আসামির বক্তব্য প্রচার, বিতরণ ও সম্প্রচার বন্ধেরও নির্দেশনা চায় দুদক। এ আবেদনের শুনানির পরই আদেশ দেয় হাই কোর্ট।
পিকে হালদারসহ পলাতকদের বক্তব্য প্রচারে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা
নকশাবহির্ভূত দোকান বরাদ্দ, সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে মামলা পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ
প্রায় ৩৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনসহ সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ফুলবাড়িয়া সিটি মার্কেট ২, ব্লক- এ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের করা আগের দিনের মামলা গ্রহণ করে বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম আশেক ইমাম এ আদেশ দেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
আদালতের পেশকার আতিকুর রহমান জানান বিচারক মামলাটি তদন্ত করে পিবিআইকে ৩১ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
খোকন ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী মাজেদ, কামরুল হাসান, হেলেনা আক্তার, আতিকুর রহমান স্বপন ও ওয়ালিদকে আসামি করা হয়।
মামলার আর্জিতে বলা হয়, রাজধানীর ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ এর এ ব্লকে নির্মিত নকশাবহির্ভূত স্থাপনাগুলো বৈধতা দেওয়ার কথা বলে আসামিরা বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ৩৪ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ৫৭৫ টাকা নিয়েছেন। পরে তাদের সেসব দোকান উচ্ছেদ করা হলেও তারা টাকা ফেরত পাননি।
হেফাজতের বিবৃতিই প্রমাণ করে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী, নিষিদ্ধের দাবি
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দায়িত্বশীল বক্তব্যের বিরুদ্ধে হেফাজত ইসলামের উস্কানীমূলক বিবৃতিই প্রমাণ করে হেফাজতের নেতারা মৌলবাদের পৃষ্ঠপোষক এবং রাষ্ট্র ও সংবিধানের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাতের বক্তব্যকে ইস্যু করে হেফাজতে ইসলামের উস্কানীমূলক বিবৃতির বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করে হেফাজতে ইসলাম আবারও প্রমাণ করেছে যে তারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। আজও পর্যন্ত হেফাজতের ইসলামের কোনো নেতা জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাননি। কারণ তারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও ভাষা আন্দোলনকে মেনে নিতে পারেননি। তাদের মাদ্রাসাগুলোতে জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয়না এবং জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়না। তারা বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে অস্বীকার করে আসছে। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতার মাধ্যমে হেফাজতে ইসলাম নিজেদের প্রকৃত চরিত্র জাতির কাছে উন্মোচিত করেছে। এরা শান্তির ধর্ম ইসলামকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। গত এক মাসে ৪০ জন মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থী বলাৎকার ও তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাগুলোর বিষয়ে নীরবতাই প্রমাণ করে হেফাজতের নেতারা বলাৎকারের সমর্থনদাতা। এরা কখনোই ইসলামের আদর্শ ধারণ করে না। এদের কাছে ইসলাম কখনোই নিরাপদ নয়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আবেগকে পুঁজি করে এরা প্রতিনিয়ত অপরাজনীতির চর্চা করছে। সম্প্রতি মামুনুল হক কর্তৃক প্রকাশ্য দিবালোকে নবীজীকে অবমাননা ও মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থী বলাৎকারকে সমর্থন করাই প্রমাণ করে যে, এরা ধর্ম ব্যবসায়ী এবং ইসলামের প্রকৃত শত্রু। ওয়াজ মাহফিলে ধর্মীয় অপব্যাখ্যা দিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তানী অপশক্তিদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই এদের মূল উদ্দেশ্যে। সম্প্রতি কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের দায়িত্বশীল বক্তব্য শতভাগ যথার্থ ও সময়োপযোগী। কারণ একটি দেশের জাতির পিতার সম্মান রক্ষা করা প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সাংবিধানিক দায়িত্ব। পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত জাতির পিতার সম্মান ও সংবিধান রক্ষার্থে অত্যন্ত দায়িত্বশীল এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। কারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধান ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা তাঁর নৈতিক দায়িত্ব। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের দায়িত্বশীল বক্তব্যকে সাধুবাদ ও স্বাগত জানানোর পাশাপাশি উক্ত দায়িত্বশীল ও সাহসী বক্তব্যের জন্য তাঁকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করলাম যে, সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী অপশক্তি হেফাজত এই বক্তব্যকে ইস্যু করে আবার ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। এরা আবার রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে অনবদ্য ভূমিকা পালনকারী বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে হেফাজতে ইসলাম। কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙ্গে হেফাজত প্রমাণ করেছে যে, এরা কখনোই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না, এরা এখনো বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেনি। পুলিশ সুপারের দায়িত্বশীল বক্তব্যের বিরুদ্ধে হেফাজতের উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত বিবৃতিই প্রমাণ করে যে, বাবুনগরী গংরা সত্যিকার অর্থে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী ও মৌলবাদের পৃষ্ঠপোষক। এরা একাত্তরে পরাজিত হওয়ার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এদের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষরা। বাংলাদেশকে ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করাই হেফাজতের মূল উদ্দেশ্যে। সরকারের নিকট আহবান, মহানবী (সা:) কে অবমাননা, সংবিধান লঙ্ঘন, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপরাধে হেফাজতকে দ্রুত নিষিদ্ধ করতে হবে। সংবিধান লঙ্ঘন ও রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে মামুনুল-বাবুনগরী গংদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।”
কারাগারে মাদক সরবরাহ বন্ধে হাইকোর্টের ৮ দফা নির্দেশনা, বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে
কারাগারে সব ধরনের মাদকদ্রব্যের সরবরাহ বন্ধ করতে যথাযথ পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা নেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে আট দফা নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট।
এক আসামির ওকালতনামায় ডেপুটি জেলারের সই না থাকা নিয়ে গত ১৯ অক্টোবর হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি রবিবার প্রকাশিত হয়েছে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বিষয়টি নিশ্চিত করেন
নির্দেশনাগুলো হচ্ছে—

১. বিচারাধীন মামলায় বা দণ্ডিত কারাবন্দিদের নাম, ঠিকানা, মামলার নম্বর, মামলার ধারা, কোন আদালতে মামলা বিচারাধীন বা কোন আদালতের রায়ে কী দণ্ড হয়েছে, কারা মহাপরিদর্শক, জেলার, সহকারী জেলারকে সেসব তথ্য রেজিস্ট্রারে রাখতে হবে।
২. কারা কর্তৃপক্ষকে দণ্ডিত বা বিচারাধীন মামলায় বন্দির কারাগারে আসা এবং বের হওয়ার তারিখ রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৩. যথাযথভাবে যাচাইয়ের পর নিশ্চিত হয়ে কারাকর্তৃপক্ষ বা কারা কর্মকর্তাকে দণ্ডিত ব্যক্তি বা বিচারাধীন মামলায় কারাবন্দির ওকালতনামায় সই করতে হবে, বা সিল দিতে হবে।
৪. সংশ্লিষ্ট কারাকর্তৃপক্ষ অথবা কারা কর্মকর্তা ওকালতনামার যেখানে সই ও সিল দেবেন, তার পাশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পুরো নাম, কারাগারের ল্যান্ডফোন ও মোবাইল ফোন নম্বর উল্লেখ করবেন।
৫. কোনও অশোভন, অযাচিত পরিবেশ-পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সে জন্য যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি কারাগার ও কারা প্রাঙ্গণের শান্তি, নিরাপত্তা বজায় রাখতে কারাকর্তৃপক্ষকে সবসময় সতর্ক এবং সজাগ থাকতে হবে।
৬. কারাগারের ভেতরে সব ধরনের অবৈধ মাদকদ্রব্যের সরবরাহ বন্ধে কারা কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা নিতে হবে।
৭. দর্শনার্থীদের কঠোরভাবে তল্লাশি করতে হবে এবং দর্শণার্থী কারও কাছে কোনও মাদকদ্রব্য,অবৈধ কিছু পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় এবং যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
৮. কারা আইন, ১৮৯৪, কারাবন্দি আইন, ১৯০০ এবং বাংলাদেশ জেলকোডসহ সংশ্লিষ্ট সব আইনের বিধান কারা কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে।
এসব নির্দেশনা দিয়ে আদালত বলেছেন, প্রতি তিন মাস পর পর এ রায় বাস্তবায়নের প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবরে দাখিল করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যাবের মহাপরিচালক, আইজি প্রিজনস,সব জেলার ও ডেপুটি জেলারের কাছে আদেশটি পাঠাতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ১৯ অক্টোবর আদেশ দেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ। একই সঙ্গে জামিন পেয়ে বের হওয়ায় আসামিকে চার সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এমপি পাপুল পরিবারের ৬১৭ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ, সম্পত্তি ক্রোক, স্ত্রী কন্যার জামিন
মানব পাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল এবং তার পরিবারের সদস্যদের ৬১৭টি বাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছে আদালত।
সেইসঙ্গে পাপুলদের ৯২টি তফসিলভুক্ত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করারও নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশ।
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং আইনের মামলায় দুদকের করা আবেদনের শুনানি করে রোববার বিচারক এই আদেশ দেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
এছাড়া পল্টন থানায় পুলিশের পরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) করা অর্থ পাচার মামলাতেও পাপলু, তার প্রতিষ্ঠানসহ আটজনের ৫৩টি হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন একই বিচারক।
দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস পাল।
দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে গত ১১ নভেম্বর পাপুলসহ চার জনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং আইনের মামলাটি দায়ের করেন।
এ মামলার অপর আসামিরা হলেন পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম, শ্যালিকা জেসমিন প্রধান ও মেয়ে ওয়াফা ইসলাম।
আসামিদের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১৪৮ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয় সেখানে।
আর সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের সহকারী পুলিশ সুপার আল আমিন হোসেন ২২ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ‘মানিলন্ডারিং’ প্রতিরোধ আইনে অন্য মামলা করেন।
পাপুল ছাড়াও তার শ্যালিকা জেসমিন প্রধান, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম, ভাই কাজী বদরুল আলম লিটন, ব্যক্তিগত কর্মচারী মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান মনির, জেসমিন প্রধানের কোম্পানি জে ডব্লিউ লীলাবালী, কাজী বদরুল আল লিটনের মালিনাধীন কোম্পানি জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল এবং এই কোম্পানির ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫-৬জনকে সেখানে আসামি করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, “এ মামলার আসামিরা “সংঘবদ্ধভাবে মানব পাচারের মাধ্যমে অন্যূন ৩৮ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৭ টাকা অবৈধ আয় করেন। এই আয়ের প্রকৃত উৎস গোপনের জন্য বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদে রূপান্তর, ভোগবিলাসে ব্যয় এবং অন্যান্য ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন মর্মে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়।”
লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলকে গত ৬ জুন কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সে দেশের পুলিশ।
মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সেখানে যে মামলা হয়েছে, আগামী ২৮ জানুয়ারি তার রায় হওয়ার কথা রয়েছে।
জামিন পেলেন পাপুলের স্ত্রী-মেয়ে ঃ
এদিকে সংসদ সদস্য কাজী সহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলাম দেশে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় জামিন পেয়েছেন।
রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে আত্মসমর্পণ করে তারা জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিকালে তাদের জামিন দেন বিচারক।
এই দুই আসামি উচ্চ আদালতে জামিন আবেদন করেছিলেন। উচ্চ আদালত তাদের বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল।
তাদের আইনজীবী শ্রী প্রাণনাথ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আসামিদের নামে সুনিদিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই, আর তারা পালাবেন না।
সেলিনা সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য। তার মেয়ে ঢাকার একটি ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়েন।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পাপুল অর্থ ও মানব পাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত ১১ নভেম্বর তার এবং তার স্ত্রী, শ্যালিকা ও মেয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
তাতে অভিযোগ করা হয়, পাপুলের শ্যালিকা জেসমিন প্রধান দুই কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।
এছাড়া ‘কাগুজে প্রতিষ্ঠানের’ আড়ালে জেসমিন পাঁচ ব্যাংকের মাধ্যমে ২০১২ সাল থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৮ কোটি টাকা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
এসব কাজে পাপুল, তার স্ত্রী ও মেয়ে সহযোগিতা করেন উল্লেখ করে তাদেরও আসামি করা হয়।
মামলায় জেসমিনের বিষয়ে বলা হয়, তিনি শিক্ষার্থী থাকাবস্থায় বোন সেলিনা ও দুলাভাই পাপুলের অবৈধ অর্জিত অর্থ মানি লন্ডারিং করে বৈধতায় রূপ দিতে ‘লিলাবালি’ নাসের একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
“বিভিন্ন ব্যাংকে তার প্রায় ৪৪টি হিসাব পাওয়া গেছে। যেখানে শুধুমাত্র এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকেই রয়েছে ৩৪টি এফডিআর হিসাব। আসামি শহিদ ইসলাম পাপুল এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন বিধায় এই সুবিধা গ্রহণ করতে তার কোনো বেগ পেতে হয়নি।”
পাপুলের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে গত ২২ জুলাই সেলিনা ইসলাম ও জেসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।
এরপর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে গত ১১ নভেম্বর মামলাটি করেন।
পাকিস্তানী মানবাধিকার কর্মী কারিমা বালুচকে হত্যার নিন্দায় ঢাকায় বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ
কানাডায় নির্বাসিত পাকিস্তানের নারী মানবাধিকার কর্মী কারিমা বালুচকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার প্রতিবাদ এবং বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুনের সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আরোও বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ভাস্কর শিল্পী রাশা, কবি সরদার ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি মিলন ঢালী, সাধারণ সম্পাদক দ্বীন ইসলাম বাপ্পীসহ নেতারা।
সমাবেশে সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, “কানাডায় নির্বাসিত নারী মানবাধিকার কর্মী কারিমা বালুচকে পাকিস্তানি আইএসআই হত্যা করে প্রমাণ করেছে যে, পাকিস্তান সরকার সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের পৃষ্ঠপোষক। বেলুচিস্তানের গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। বেলুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী মানুষদের প্রতি আমরা সংহতি জানাচ্ছি। কারিমা বালুচ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।”
বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল মামুন বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন ও সংগ্রামের পাশাপাশি বিশ্বের প্রতিটি মানুষের মৌলিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। কানাডায় নির্বাসিত পাকিস্তানের নারী মানবাধিকার কর্মী কারিমা বালুচকে পাকিস্তানের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। উক্ত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। পাশাপাশি বেলুচিস্তান মুসলিমদের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি আমরা সংহতি জানাচ্ছি। বেলুচিস্তানের মানুষের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অত্যন্ত যৌক্তিক। পাকিস্তান সরকারের উচিত অবিলম্বে গণহত্যা বন্ধ করে বেলুচিস্তানকে তাদের স্বাধীনতা প্রদান করা।

সম্প্রতি কানাডায় নির্বাসিত নারী মানবাধিকার কর্মী কারিমা বালুচকে হত্যার মধ্যে দিয়ে পাকিস্তান নিজেদেরকে সন্ত্রাস ও জঙ্গীদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থাপন করেছে। বেলুচিস্তানে মুসলিম গণহত্যা ও মানবাধিকার কর্মী কারিমা বালুচকে হত্যার অপরাধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কর্তৃক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।
পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নির্যাতন কতটা নিষ্ঠুর কতটা বর্বর কতটা অমানবিক ও নির্মম হতে পারে, বাঙালি জাতিই সম্ভবত: তা সর্বাপেক্ষা বেশী জানে। সেই ১৯৪৭ এর আগস্ট থেকে শুরু করে ১৯৭১ এর তাদের রাজত্বের শেষ দিনটি শেষ মুহূর্তটি পর্যন্ত আমরা তা দেখেছি। তার উপযুক্ত জবাবও বাঙালি জাতি দিয়েছে ২৩ বছর ব্যাপী ওই শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে নিয়মতান্ত্রিক পথে জনজীবনের নানা দাবীতে, বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি ন্যায় সঙ্গত দাবীতে তীব্র গণ আন্দোলন চালানোর ফলে হাজার হাজার বাঙালী তরুণ-তরুণীদের বিনাবিচারে অনির্দিষ্টকাল ধরে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে-তাদের অনেকের পরিবার পরিজনের আর্থিক জীবন ধ্বংস করে অনাহারে মৃত্যু বরণ করতে বাধ্য করেছে, একের পর এক সংবাদপত্রকে স্বাধীন মত প্রকাশের দায়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তাদের ছাপাখানা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর দীর্ঘদিন পাকিস্তান সরকার দমন-নিপীড়ন চালিয়েছিল। পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ৩০ লক্ষ শহীদ হয়েছিল এবং দুই লক্ষ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছিল। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিকট বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এর দাবি, অবিলম্বে কানাডায় নির্বাসিত নারী মান
ভাস্কর শিল্পী রাশা বলেন, “১৯৪৮ এ ভাষা আন্দোলনের পর (শুধুমাত্র মাতৃভাষার উপযুক্ত মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে সংঘটিত ঐ আন্দোলন) শত শত ছাত্র যুব কর্মীকে বিনাবিচারে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছিল -১৯৫২ সালে ঐ আন্দোলন অধিকতর তীব্রতা অর্জন করলে ঢাকার রাজপথে মিছিলরত শান্তিপূর্ণ সুশৃঙ্খল আন্দোলন কারীদেরকে নির্মমভাবে গুলি চালিয়ে হত্যা করার মর্মান্তিক ঘটনাও তারা ঘটিয়েছিল। ১৯৭১ এর নয় মাস ব্যাপী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী ও তাদের বাংলাদেশী দোসর রাজাকার আলবদর আলশামসরা মিলে যে ভয়াবহ গণহত্যা, নারী ধর্ষণ, অপহরণ, লুটপাট চালিয়েছিল তা এক নজির বিহীন ঘটনা হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেয়েছে। তাই পাকিস্তানী সরকার ও সেনাবাহিনীর হাত রক্তরঞ্জিত, তাদের মন ও আচরণ নিষ্ঠুর। সেদিন জানতাম, বাঙালিদেরকেই শুধুমাত্র তারা তাদের শত্রু মনে করে। আজ আমরা জানতে পারছি-না, তা নয়। পাকিস্তানের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সকল জাতিসত্তাকেই সেখানকার পাঞ্জাবী শাসক ও শোষকগোষ্ঠী একই দৃষ্টিতে দেখে এবং তাদের প্রতি তাদের ব্যবহারও সমপরিমাণ নিষ্ঠুর। পাকিস্তানের অন্যতম ক্ষুদ্র প্রদেশ বেলুচিস্তানের মানুষেরা যাদের মাতৃভাষা বালুচ- দীর্ঘ দিন যাবত পাকিস্তানের পাঞ্জাবী বাহিনীর হাতে অনুরূপ নিষ্ঠুরতার যন্ত্রণায় ভুগছেন।

বেলুচিস্তানের মানুষ অত্যন্ত রাজনীতি সচেতন, প্রগতিশীল এবং ধর্মনিরপেক্ষতার অনুসারী। তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধকেও নানাভাবে সমর্থন জানিয়েছিল। বেলুচিস্তান আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল-তাই পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতন তাদের ওপর অনেক বেশী।
সিন্ধু ও পাখতুনিস্তান ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দিয়েছিল তখন বেলুচিস্তান ও সীমান্ত প্রদেশে পাখতুনিস্তান। বেলুচিস্তানের অল্প কিছু লোককে পাকিস্তানের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই জঙ্গীপনায় উদ্বুদ্ধ করেছে, প্রশিক্ষণ দিয়ে সশস্ত্র করেছে এবং সেখানকার সকল প্রগতিশীল শক্তির বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। ফারজানা মজিদ ও মামা কাদির কোয়েটার শহর থেকে ইসলামাবাদের জাতিসংঘ কার্যালয় পর্যন্ত এক লংমার্চে নেতৃত্ব দেন। তাঁদের দাবী গুম হয়ে যাওয়া বেলুচদের উদ্ধারে পাকিস্তান সরকারকে বাধ্য করতে জাতিসংঘের নজরে দাবিটি উত্থাপন করা। ফায়জানার ভাই স্বয়ং কয়েক বছর যাবত গুম হয়ে আছে এবং অন্তত: আরও ২০,০০০ বেলুচির জীবনে একই অত্যাচার নেমে এসেছে। তাঁরাও গুম। এদের মধ্যে ৬,০০০ বেলুচকে পরবর্তীতে হত্যা করা হয়েছে নিষ্ঠুরভাবে এবং তাদের দেহ হেলিকপ্টার যোগে নিয়ে অজানা স্থানে পুঁতে রাখা হয়েছে। খনন করা হয়েছে গণকবর। এমন কি এব্যাপারে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য প্রকাশ হলে জানা গেল যে, বিচারপতিরা এই “ঘটনাকে বাধ্যতামূলক নিরুদ্দেশ বা অপহরণ” বলে উল্লেখ করলেও সরকার তাদের উদ্ধারে বিন্দুমাত্র পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তাদের লংমার্চ ছিল সুবিচার, স্বাধীনতা ও প্রিয়জনদের উদ্ধারের দাবি সম্বলিত এবং যাদেরকে গুম করা হয়েছে তাদের পরিবার-পরিজনরাই ছিলেন ঐ লংমার্চের আয়োজক। আক্ষরিক অর্থেই হাজার হাজার বেলুচ রাজনৈতিক নেতাকর্মী মানবাধিকার কর্মী বেলুচ বেসামরিক জনগণ ও সাধারণ সচেতনর নাগরিককে নিরাপত্তা কর্মীরা, জঙ্গিরা এবং জিহাদ পন্থীরা যারা পাকিস্তান-অধিকৃত বেলুচিস্তানের অধিবাসী তাদের বিরুদ্ধে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
এই জাতীয় অপহরণ প্রক্রিয়া বেলুচিস্তানে চালানো হচ্ছে ১৯৪৮ সাল থেকে যখন শাসকগোষ্ঠী নিষ্ঠুরভাবে বেলুচিস্তান দখল করে নেয়।”
কবি সরদার ফারুক বলেন, “বেলুচ জনগণের স্বাধীনতা আন্দোলন দমন করতে ধর্মীয় উগ্রবাদী পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এবং সন্ত্রাসীরা সম্মিলিত ভাবে নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়ে আসছে। তাদেরকে যেন লাইন্সে দেওয়া হয়েছে যখন খুশী যে কোন বালুচকে মারতে, মারতে, খুন করতে, ধর্ষণ করতে কোন বাধা নেই। বেলুচিস্তান গণহত্যা নিয়ে পাকিস্তানের পরিকল্পনা দিন দিন প্রকাশিত হচ্ছে। সেখানে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ এখন সে দেশের সংবাদ মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়েছে। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী গত ছয় বছরে বেলুচিস্তান থেকেই প্রায় ১,০০০ মানুষের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার হয়েছে। যেগুলি অধিকাংশই ছিন্নভিন্ন। তার মধ্যে ৫১% বেলুচ, ২২% পাখতুন। পাঞ্জাবী আফগান শরণার্থীদের দেহও মিলেছে । অনেক মৃত দেহই শনাক্ত করা যায় নি। সন্ত্রাসী কার্যকলাপ রুখতে গত বছর একটি জাতীয় কর্মসূচী গ্রহণ করে ইসলামাবাদ। সেই কাজে নিযুক্ত জনৈক আধিকারীকই সমীক্ষাটি সামনে এনেছেন। দেখা গিয়েছে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন জায়গা থেকে ৯৪০ টির বেশী মৃত দেহ উদ্ধার হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কয়েকটা জেলা থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩৪৬ টি দেহ – নিখোঁজ ১১২ জন। ২০১১ সালে এলাকা নিয়ে অশান্তির জেরে পরিকল্পনা মাফিক ঠাণ্ডা মাথায় হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। তাতে এখন পর্যন্ত১৮৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে – গত কয়েক বছরের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে আহত হন প্রায় ৪,০০০।বেলুচিস্তান থেকে গত কয়েক বছরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় নিহত ৪৯ টি দেহ উদ্ধার হয়েছে – পাখতুন ১৫৯ – কালটি থেকে ২৬৮ টি দেহ উদ্ধার করা গেছে। ১৭৫ টি দেহ সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এমন ভয়াবহ নির্মমতা চালাচ্ছে পাকিস্তানের পাঞ্জাবী সেনা ও মৌলবাদীরা। বেলুচরা বলছেন ১৯৭১ এ পাক বাহিনী বাঙালীদের উপর যেমন অত্যাচার চালিয়েছিল আজ পাঞ্জাবীরা তাঁদের উপর তেমনই অত্যাচার চালাচ্ছেন। তারা ছাত্র, আইনজীবী, শিক্ষক এবং রাজনৈতিকভাবে সচেতন নেতা-কর্মীরাই মূলত: এই হত্যালীলার শিকার কয়েকটি দশক যাবত।
ফলে প্রতিবাদ স্বরূপ ফারজানা অন্যান্য হাজার হাজার মানুষ ইতিহাসের লং মার্চ অভিযান চালান কোয়ের্টার শাল এলাকা থেকে শুরু করে বেলুচিস্তানের রাজধানী । যেখান থেকে সিন্ধু প্রদেশের রাজধানী করাচী এবং করাচী থেকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ পর্যন্ত দীর্ঘতম পথ তাঁরা পদযাত্রায় অতিক্রম করেন শুধুমাত্র ঐ অত্যাচারের অবসানের দাবীতে। পাকিস্তানী মিডিয়ায় তা তেমন একটা প্রকাশ করতে দেওয়া হয় নি। এমনকি, পাকিস্তানের যে সকল বুদ্ধিজীবীরা ঐ আন্দোলন কারীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন তাঁদেরকেও রেহাই দেয়া হয়নি। অত্যাচার আজ নির্মমতার ভয়াবহতম পর্যায়ে পৌঁছেছে।”
আট মাস পর জামিনে মুক্তি পেলেন ফটো সাংবাদিক কাজল
আট মাসেরও বেশী সময় কারাভোগের পর শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল।
কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ বলেন, জামিনের কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর তারা কাজলকে মুক্তি দেন।
বাইরে অপেক্ষায় থাকা ছেলে মনোরম পলককে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন তিনি।
আর মনোরম পলক জানান তার বাবা শারীরিক অসুস্থ ও দুর্বল।
যুব মহিলা লীগের নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার ওয়েস্টিন হোটেলকেন্দ্রিক কারবারে ‘জড়িতদের’ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে গত ৯ মার্চ ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা করেন মাগুরা-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর।
একই ঘটনায় পরে আরও দুটি মামলা হয় ঢাকার হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানায়। সবগুলো মামলাই আসামির তালিকায় কাজলের নাম ছিল।
এক সময় দৈনিক সমকাল ও বণিক বার্তায় ফটো সাংবাদিক হিসেবে কাজ করা কাজল ‘পক্ষকাল’ নামের একটি পাক্ষিক পত্রিকা সম্পাদনা করছিলেন। মামলা হওয়ার পরদিন ১০ মার্চ বকশিবাজারের বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তিনি।
পরদিন কাজলের স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসী চকবাজার থানায় জিডি করেন। ১৮ মার্চ কাজলের সন্ধান চেয়ে চকবাজার থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা করেন মনোরম পলক।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে লেখালেখির কারণে অজ্ঞাতনামা কেউ তাকে ‘অপহরণ’ করেছে।
এক সময়ের জাসদ ছাত্রলীগ নেতা কাজলের সন্ধান দাবিতে তার পুরনো রাজনৈতিক সহকর্মী, স্বজন ও সাংবাদিকদের আন্দোলনের মধ্যে সম্প্রতি কাজলের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
ওই ফুটেজে কাজলকে একটি জায়গায় রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল রেখে পাশের কোথাও যেতে দেখা যায়। বেশ কিছুক্ষণ ফিরে এসে মোটরসাইকেল চালিয়ে যান তিনি। এর মধ্যে তার ওই মোটরসাইকেল ঘিরে কয়েকজনকে তৎপরতা চালাতে দেখা যায়।
প্রায় দুই মাস পর গত ২ মে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত থেকে কাজলকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় বিজিবি। তার বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয়।
যশোর থেকে ঢাকায় আনার পর গত ২৩ জুন কাজলকে শেরেবাংলা নগর থানার ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচারকের মুখোমুখি করা হয়। হাকিম আদালত সেদিন কাজলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে।
এরপর গত ২৪ আগস্ট ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতও কাজলের জামিন আবেদন নাকচ করলে তিনি ৮ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টে আবেদন করেন।
সেই আবেদনে গত ২৪ নভেম্বর এবং এরপর ১২ ডিসেম্বর অন্য দুই মামলায় হাই কোর্ট থেকে জামিন পান কাজল। সেই জামিনের কাগজ নিম্ন আদালত হয়ে কারাগারে পৌঁছালে শুক্রবার তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। সূত্র- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
এমপি পাপুল ও স্ত্রী মেয়ে শ্যালিকার ৬১৩ কোটি টাকা, জমি, ফ্ল্যাট জব্দ করবে দুদক
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহীদুল ইসলাম পাপুল, তার স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের নামে মোট ৮টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৬১৩ কোটি টাকা ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। গত বুধবার দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন তা মঞ্জুর করে। বিষয়টি এখন আদালতকে অবহিত করা হবে।
এদিকে তাদের ৪ জনের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩০.২৭ একর জমি ও গুলশানের একাধিক ফ্ল্যাট জব্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। গত মঙ্গলবার পাপুলসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ এনে মামলা করে সিআইডি। এ ছাড়া পাপুলের ভাই ও শ্যালিকার দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও এই মামলা করা হয়েছে। পল্টন থানায় মানিলন্ডারিং আইনে এই মামলাটি দায়ের করে সিআইডি। মামলায় ৩৮ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৭ টাকা পাচার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমপি পাপুল ছাড়াও মামলার অপর আসামিরা হলেন-পাপুলের মেয়ে ওয়াফা ইসলাম (২৬), শ্যালিকা জেসমিন প্রধান (২৩), ভাই কাজী বদরুল আলম লিটন, ব্যক্তিগত কর্মচারী মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান মনির (৩৫) এবং জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা (৫৬)। এছাড়াও পাপুলের ভাই কাজী বদরুল আলম লিটনের প্রতিষ্ঠান জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের প্রতিষ্ঠান জে. ডব্লিউ লীলাবালীর বিরুদ্ধে অর্থপাচারের এই মামলা করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের মামলায় এমপি পাপুলের স্ত্রী সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম ও তার মেয়ে ওয়াফা ইসলামকে আগাম জামিন না দিয়ে তাদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে বিচারিক আদালতে তাদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
প্রসঙ্গত, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুলের সেখানে বসবাসের অনুমতি রয়েছে। পাচারের শিকার পাঁচ বাংলাদেশির অভিযোগের ভিত্তিতে পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ এনেছে কুয়েতি প্রসিকিউশন। ১৭ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর এখন তাকে রাখা হয়েছে কুয়েতের কেন্দ্রীয় কারাগারে।
কুয়েতি কর্মকর্তাদের কীভাবে কত টাকা ঘুষ দিয়েছেন, সে বিষয়ে রিমান্ডে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন পাপুল। যা প্রসিকিউটরদের বরাতে প্রকাশ করছে স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। সেখানে নাম আসায় কুয়েতের দুই এমপির বিরুদ্ধেও পাপুলকে বেআইনি কাজে সহযোগিতা এবং অর্থপাচারে জড়িত থাকার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়। মামলার তদন্তের সময় অভিযুক্ত হিসেবে ১৩ জনের নাম উঠে আসে। এর মধ্য থেকে চারজনকে তদন্তকালে বাদ দেয়া হয়। সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কুয়েত গিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়া পাপুল ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার মালিকানাধীন মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানি পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেয়ার কাজ করলেও কুয়েতে অন্য ব্যবসার কাজও বাগিয়েছিলেন পাপুল।
এর আগে গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছিল, জেনারেল ট্রেডিং অ্যান্ড কনট্রাক্টিং নামক লাইসেন্স ছিল পাপুলের। যার মাধ্যমে শিশুদের খেলনা থেকে শুরু করে অ্যানটিক কার্পেটের ব্যবসাও তিনি করতে পারেন। পাপুল ও তার কোম্পানির ব্যাংক হিসাব ইতোমধ্যে জব্দ করেছে কুয়েত কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশেও তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকটাই অপরিচিত শহিদ ইসলাম পাপুল ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে তাক লাগিয়েছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সমর্থন আদায় করে। মহাজোটের প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছিলেন পাপুলকে কেন্দ্রীয়ভাবে তার জোট সমর্থন দেয়ায়। নির্বাচনের পর আরেক চমক ছিল পাপুলের স্ত্রীর সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া। এরপর দেশের রাজনীতির চমক এই সংসদ সদস্য আবারো আলোচনায় আসেন গত ফেব্রুয়ারিতে কুয়েতের একটি সংবাদপত্রে বাংলাদেশি মানবপাচারকারীদের নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশের পর। সূত্র – দৈনিক জনতা।
শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টায় দণ্ডিত আসামি রাজশাহী কারাগারের চিফ রাইটার!
পাবনার ঈশ্বরদীতে ছাব্বিশ বছর আগে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনের বগিতে বোমা হামলা ও গুলিবর্ষণ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাজা হয় আনোয়ার হোসেন জনির।
সম্প্রতি ওই ব্যক্তিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের চিফ রাইটারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সাধারণত কারাগারের পুরনো বিশ্বস্ত কয়েদিদের গুরুত্বপূর্ণ পদটিতে নিয়োজিত করা হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় দণ্ডিত কয়েদিকে এ দায়িত্ব দেওয়ায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কারা কর্মকর্তা বলেন, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের মতো দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কারাগারের প্রধান রাইটারের দায়িত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ পরীক্ষিত কয়েদি ছাড়া কাউকে এই পদে দেয়ার নিয়ম নেই।
প্রধান রাইটার কারাগারে আসামি ও কয়েদিদের অপরাধের অভ্যন্তরীণ বিচার, তাদের শৃঙ্খলা ও সুযোগ-সুবিধা দেখাশোনা ছাড়াও বাড়তি আয় উপার্জনের বেশ সুযোগ আছে। পাশাপাশি এটি কারাগারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদ বলেও মনে করা হয়।
জানতে চাইলে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. তারেক কামাল বলেন, কয়েকদিন আগে আনোয়ার হোসেন জনিকে প্রধান রাইটার করা হয়েছে। সে কেস টেবিলে (আসামি-কয়েদিদের বিচার) কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করে।
তবে বিষয়টি আলাদা করে ভেবে করা হয়নি। সে কয়েদি বলেই এই দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠলে তাকে বাদ দেওয়া হবে বলেও জানান তারেক কামাল।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার খুলনা থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত ট্রেন মার্চ কর্মসূচি ছিল। শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনটি ঈশ্বরদী স্টেশনে পৌঁছলে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার বগি লক্ষ্য করে উপর্যুপরি বোমা নিক্ষেপ করে ও গুলিবর্ষণ করে তাকে হত্যার চেষ্টা চালায়।
ওইদিন রাতে ঈশ্বরদী জিআরপি থানার ওসি নজরুল ইসলাম শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়।
দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে পাবনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রোস্তুম আলী ২০১৯ সালের ৩ জুলাই স্পর্শকাতর এই মামলার চার্জশিটভুক্ত ৫২ আসামির মধ্যে ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৩ জনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
আনোয়ার হোসেন জনির এই মামলায় ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড হয়। রায় ঘোষণার কয়েকদিন পরেই জনিসহ দণ্ডপ্রাপ্তদের পাবনা জেলা কারাগার থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সম্প্রতি এই জনিকেই রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান রাইটার নিয়োগ করা হয়েছে।
সিগারেট কারখানা স্থাপনে অনুমতি দিল বেপজা, উদ্বিগ্ন তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো
২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকারের বিপরীতে একটি নতুন সিগারেট উৎপাদন কারখানা স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে এশিয়ান টোব্যাকো লিমিটেড। ২৩ ডিসেম্বর তামাক কোম্পানিটি এ বিষয়ে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) এর সাথে একটি চুক্তি সম্পাদন করে। ঈশ্বরদী রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় তারা এই কারখানাটি স্থাপন করবে। জনস্বাস্থ্যের বিপরীতে একটি মৃত্যুবিপণনকারী প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ প্রদান অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাংলাদেশে প্রতিবছর ১ লাখ ২৬ হাজার মানুষ তামাক ব্যবহারের কারণে অকালে মারা যায় এবং পঙ্গুত্ব বরণ করে আরো কয়েক লাখ মানুষ। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও সুরক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সুতরাং রাষ্ট্র কোনোভাবেই এই মৃত্যুবিপণনকে উৎসাহিত করতে পারেনা। তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞা’র (প্রগতির জন্য জ্ঞান) নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তামাক ব্যবহারের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। তামাক কোম্পানিকে উৎসাহিত করে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জন সম্ভব নয়।” তিনি আরো বলেন, কেবল রপ্তানির উদ্দেশ্যে সিগারেট কারখানা স্থাপন করা হলেও দেশে তামাক চাষ এবং উৎপাদন দুটোই বেড়ে যাবে। তামাক নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক চুক্তি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল- এফসিটিসি’র প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বে বহুল সমাদৃত। তামাকপণ্য রপ্তানি বিশ্বকে নেতিবাচক বার্তা প্রদান করবে।
তামাকের ভয়াবহতা থেকে জাতিকে রক্ষার জন্য এবং তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনের পথ সুগম করতে অবিলম্বে এ ধরনের উদ্যোগ প্রত্যাহার করতে হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।










