ঢাকা   বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩   সকাল ১০:২২ 

Home Blog Page 14

দুদকের সাবেক এক ডিজির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ; অনৈতিক পন্থায় দায়মুক্তি দিয়ে গেছেন অনেক দুর্নীতিবাজের

0

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে বিদায় নেয়া সাবেক এক মহাপরিচালক(ডিজি)র বিরুদ্ধে অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করে বেশ কয়েকজন দুর্নীতিবাজকে দায়মুক্তি দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ খোদ দুদকই অনুসন্ধানে নামতে চায়। কিন্তু প্রশাসন ক্যাডারের উর্ধতন এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদৌ অনুসন্ধান করা সম্ভব হবে কী না এ নিয়ে সন্দিহান দুদক কর্মকর্তারা। কারণ দুদকের সাবেক এই কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হয়ে দুদক থেকে সরে গেছেন। দুদকের সংশ্লিষ্টরা জানান, দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ )হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন প্রশাসন ক্যাডার থেকে আসা যুগ্ম সচিব সাঈদ মাহবুব খান । এই পদটি দুদকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের, যাচাই বাছাই থেকে শুরু করে অভিযান পরিচালনার যতো দায়িত্ব রয়েছে এই টিমের।
অভিযোগ রয়েছে মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান ‘পিক এন্ড চুজ” এর ভিত্তিতে যাচাই বাছাই এবং অভিযান পরিচালনা করার নির্দেশনা দিতেন। কোনো অভিযোগ সুনির্দিষ্ট অনুসন্ধানের পর, এমন কিছু প্রভাবশালীকে তিনি দায়মুক্তি দেয়ার সুপারিশ করেছেন যার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। এমন বেশকিছু তথ্য এসেছে গণমাধ্যমের হাতে।
দুদক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)র তৎকালীন কমিশনার মো. রেজাউল কাদেরকে দায়মুক্তি দেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ছিল। দুদকের উপ-পরিচালক মো. সিরাজুল হক অভিযোগটি অনুসন্ধান করেন। এই অনুসন্ধানটি হয় দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান-তদন্তের দায়িত্বে থাকা মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খানের নির্দেশে। কিন্তু অনুসন্ধান শেষে তাকে দায়মুক্তির সুপারিশ করা হয়। অথচ রেজাউল কাদেরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দষ্ট অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানকারি কর্মকর্তা এর সত্যতাও পেয়েছেন। কিন্তু সাঈদ মাহবুবের স্বাক্ষর চলতি বছর ১১ মে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০০/৭৮/০০১.২২.৪০) দেয়া হয় মো. রেজাউল কাদেরকে। অভিযোগ,দুদকের বিদ্যমান গাইডলাইন বা ম্যানুয়াল অনুসরণ না করেই নথি পরিসমাপ্ত করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার (লজিস্টিক ও প্রকিউরমেন্ট) ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে ছিল কেনাকাটায় অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেয়ার অভিযোগ। পুলিশের রেশন সামগ্রি কেনা-কাটা, অন্যান্য সামগ্রী ও গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্রয়ের নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন ইমাম হোসেন। তার বিরুদ্ধে মামলা রুজুর অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও দুদকের তৎকালীন মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান তাকে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০০.৫০.০৪১.২২.৪১) দেন। গুরুতর এই দুর্নীতির অভিযোগ থেকে প্রভাবশালী এই পুলিশ কর্মকর্তাকে তিনি দায়মুক্তি দেন চলতি বছর ১২ মে। এ সময় তিনি সচিবের ‘রুটিন দায়িত্ব’ পালন করছিলেন।এই অভিযোগটি অনুসন্ধান করেন উপ-পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিউট (বিএসটিআই)র তৎকালীন পরিচালক (প্রশাসন) মো. খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে রয়েছে নিয়োগ বাণিজ্য, নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নামে-বেনামে বিপুল সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ। দুদক থেকে বদলি হয়ে যাওয়া তৎকালীন মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরীর নির্দেশনায় বিএসটিআই’এ ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম। অভিযানকালে দুদক টিম নিয়োগ বাণিজ্যের প্রমাণ পায়। বিএসটিআইর অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পরীক্ষার টেবুলেশন শিট জালিয়াতির মাধ্যমে নম্বর পরিবর্তন করে ৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। টেবুলেশন শিটে নিয়োগ কমিটির সদস্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী থাকা সত্বেও তাকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। ৭৭টি শূন্যপদের বিপরীতে ৬৮জনকেই নিয়োগ দেয়া হয় অর্থের বিনিময়ে। দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ফরিদপুর অফিসের অফিস সহায়ক মো. রূহুল আমিন পরিচালক (প্রশাসন) খলিলুর রহমানের শ্যালিকার ছেলে। ফরিদপুর ডাটা এন্ট্রি ও কন্ট্রোল অপারেটর সফিকুল ইসলাম খলিলুর রহমানের ভাতিজা। ঢাকায় কর্মরত খালাসি মো. সালাউদ্দিন খলিলুর রহমানের চাচাতো শ্যালক। ফরিদুপরের ডাটা এন্ট্রি ও কন্ট্রোল অপারেটর মহিউদ্দিন পরিচালকের ভাতিজি জামাই। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই অনুসন্ধানটিতে পর্যাপ্ত প্রমাণাদি থাকা সত্ত্বেও ইকবাল মাহমুদ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়মুক্তি দেয়া চেষ্টা করেন। তবে তার চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নির্দশেনা দিয়ে যান সাঈদ মাহবুব খানকে। ফলে তিনি দায়মুক্তি দেন এ অভিযোগের। দুদকের সহকারী পরিচালক শেখ গোলাম মাওলা ও উপ-সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযোগটি অনুসন্ধান করছিল। পরে উপ-পরিচালক মামুনুর রশিদ চৌধুরী সাঈদ মাহবুবের নির্দেশনায় পরিসমাপ্তির সুপারিশ প্রদানে বাধ্য হন। গত ২৫ এপ্রিল দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেনের স্বাক্ষরে মো. খলিলুর রহমানকে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০০.৫০.০৩৭.২২.৩৭) দেয়া হয়।
জিওবি’র অর্থে উন্মুক্ত জলাশয়ে আহরণযোগ্য মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠির আর্থ সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ এবং নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ছিল মৎস্য অধিদফতরের প্রকল্প পরিচালক মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। দুদদকের যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন অভিযোগটি অনুসন্ধান করেন। তাকে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৬৭১.৩১.০২৫.২২.৩৭) দেয়া হয় গত ৮ মার্চ।
পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ)র তৎকালীন ব্যবস্থপনা পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানকে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০০.৫০.০৩৪.২২.৩৪) দেয়া হয় গত ১৯ এপ্রিল। তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, নামে বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। উপ-পরিচালক (পদোন্নতিপ্রাপ্ত পরিচালক) মো. মোশাররফ হোসেইন মৃধা অভিযোগটি অনুসন্ধান করেন।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)র প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে ছিল ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ। এছাড়া সিডিএ’র ঢাকা ট্রাঙ্ক রোডের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে পছন্দসই ঠিকাদার নিয়োগ প্রদান করেন তিনি। অভিযোগ ছিল, লালখান বাজার থেকে শাহ আমনত বিমান বন্দর পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে শর্ত পরিবর্তন করে ৬টি ঠিকাদারের মধ্যে ২ হাজার ৮৫৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার কার্যাদেশ ২০ কোটি টাকার লেনদেন করে ভাগভাটোয়ারা করে দেয়ার অভিযোগ ছিল। সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করেন উপ-পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ। এটিতেও মামলার পরিবর্তে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে ‘পরিসমাপ্তি’র সুপারিশ করা হয়। আর এই পরিসমাপ্তির জন্য লেনদেন হয় বিপুল পরিমান অর্থের।
গত ১৮ মে দুদক সচিবের ‘রুটিন দায়িত্বে’ থেকে সাঈদ মাহবুব খান প্রভাবশালী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানকে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০০.৫০.০৪৪.২২.৪৪) দেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তৎকালীন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারি সচিব) আসিফ ইমতিয়াজকে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৬৭১.৩১.৩০২.২১.৩১৮) দেয়া হয় গত ১৩ মার্চ। প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরকারি অর্থ লেনদেন, সরকারি অর্থ নিজের একাউন্টে রাখা এবং ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ প্রকৃত ভূমি মালিককে না দিয়ে ভুয়া দাবিদারদের প্রদান এবং বিপুল অবৈধ অর্থ অর্জনের অভিযোগ ছিলো। দুর্নীতির পর্যাপ্ত প্রমাণাদি সত্ত্বেও দায়মুক্তি দেয়া হয় আসিফ ইমতিয়াজকে।
বাংলাদেশ জুট করর্পোরেশনের (বিজেসি)র তৎকালীন চেয়ারম্যান, অতিরিক্ত সচিব মো. শামীম ইকবালসহ তিন জনকে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০০.৫০.০৩৫.২২.৩৫) দেয়া হয় গত ২০ এপ্রিল। তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ছিলো। দায়মুক্তি পাওয়া বিজেসি’র অপর দুই কর্মকর্তা হলেন, পারচেজ অফিসার খায়রুল আলম ও পারচেজ অফিসার মো. হাবিবুর রহমান। হাবিবুর রহমান মারা যাওয়ায় তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। অভিযোগটি অনুসন্ধান করেন দুদকের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম। এমন আরও অভিযোগ ওঠেছে সাঈদ মাহবুব খানের বিরুদ্ধে। যিনি অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে দুদক ছেড়ে চলে গেছেন।
জানা যায়, ইকবাল মাহমুদ দুদকের চেয়ারম্যান থাকাকালে তিনি তার পছন্দের প্রশাসন ক্যাডারের কয়েকজনকে দুদকে নিয়ে আসেন। তাদের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয় একটি বলয়। এই বলয়ের একজন সাঈদ মাহবুব খান। কথিত আছে, সাঈদ মাহবুব খান, দায়িত্ব পালনকালে মামলা দায়ের আর চার্জশিটের সুপারিশের চেয়ে দায়মুক্তির সুপারিশ করেছেন বেশী। অনেক নিরীহ ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, ভূমি অফিসের কানুনগো, ক্লার্ক, ড্রাইভার,এমএলএসের দুর্নীতি অনুসন্ধান-তদন্ত করতে আগ্রহ দেখাতেন বেশী। নিচুস্তরের কর্মচারীদের গ্রেফতার, জিজ্ঞাসাবাদ মামলা করে বাহবা নিতেন। দুদকের হটলাইনে আসা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন দফতরে ‘অভিযান‘ পরিচালনার মাধ্যমে মিডিয়ায় খবর হতেন। কিন্তু দুর্নীতিবাজ রাঘব বোয়ালদের দায়মুক্তি দিতেন নিঃশব্দে। অনেককে ডেকেও আনাতেন। দুদকের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা মনে করেন, বাইরে থেকে ডেপুটেশনে বিশেষ ক্যাডারের কর্মকর্তারা দুদকে কিছুদিনের জন্য এসে এটাকে বাণিজ্যিক কার্যালয় বানিয়ে ফেলেন। তারা বড় পদে পদায়ন হন এবং তাদের অনৈতিক নির্দেশ অধস্তনদের মানতে বাধ্য করা হয়। নির্দেশনা না মানলে কি পরিণতি হয় তার নজির তুলে ধরে চাকরিচ্যুত উপ- সহকারী পরিচালক শরিফ উদ্দিনের বিষয়টি মনে করিয়ে দেন। ডেপুটেশনে আসা কর্মকর্তারা তাদের মিশন শেষে আবার ফিরে যান ফুলফেঁপে। আর দুদকে রেখে যান কালিমা।

সাবেক এসপি বাবুল আক্তারসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

0

স্ত্রী মাহমুদা খানম হত্যা মামলায় সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মঙ্গলবার(১২ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. কামরুল হাসান। তিনি বলেন, আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্র জমা দেন এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক।
বুধবার জমা দেয়া এই অভিযোগপত্র দেখবেন আদালত। তা ছাড়া আগামী ১০ অক্টোবর মামলাটির শুনানির তারিখ ধার্য রয়েছে।
এই অভিযোগপত্রে বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্য ৬ আসামিরা হলেন- মো. কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা, এহতেশামুল হক ওরফে হানিফুল হক ওরফে ভোলা, মোতালেব মিয়া ওয়াসিম, আনোয়ার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম কালু এবং শাহজাহান মিয়া।
আদালত ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৫ জুন জিইসি মোড় এলাকায় খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় ওই বছরের ৬ জুন জঙ্গিরা জড়িত দাবি করে স্বামী বাবুল আক্তার পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন। পাঁচলাইশ থানা পুলিশের পর নগর গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে। তারা প্রায় তিন বছর তদন্ত করেও অভিযোগপত্র দিতে ব্যর্থ হয়। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালতের নির্দেশে মামলা তদন্তের ভার পায় পিবিআই। ২০১৬ সালের ২৪ জুন বাবুল আক্তারকে ঢাকার ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে এনে প্রায় ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে আবু নসুর গুন্নু, শাহ জামান ওরফে রবিন, সাইদুল আলম শিকদার ওরফে সাক্কু, শাহজাহান, মো. আনোয়ার ও মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিমকে আটক করেছিল পুলিশ। হত্যায় অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে আটক হন এহতেশামুল হক ভোলা ও তার সহযোগী মো. মনির। তাদের কাছ থেকে পয়েন্ট ৩২ বোরের একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়, যেটি মিতু হত্যায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছিল। গ্রেপ্তার আনোয়ার ও মোতালেব মিতু হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। তাদের স্বীকারোক্তিতে মিতু হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে নাম আসে বাবুল আক্তারের সোর্স হিসেবে পরিচিত মো. মুছার।
আরও জানা গেছে, ২০২১ সালের ১১ মে বাবুলকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। তদন্তে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য ২০২১ সালের ১২ মে ওই মামলার ৫৭৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হয়। এই হত্যায় বাবুল জড়িত বলে সন্দেহ তৈরি হলে একইদিন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন নগরীর পাঁচলাইশ থানায় আরেকটি হত্যা মামলা করেন। এতে বাবুলসহ আটজনকে আসামি করা হয়।
এ মামলায় ২০২১ সালের ১২ মে বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাবুলের করা মামলায় পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর আদালতে নারাজি আবেদন করেন তার আইনজীবী। আদালত ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ না করে পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে নিজের করা মামলায়ও ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত। গত ৬ মার্চ মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দেয়া হয়।

দুদকের মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা শহীদ খানের আরও তিন বছরের কারাদণ্ড

0

দুর্নীতি দমন কমিশন, দুদকের মামলায় বরখাস্তকৃত সেনাকর্মকর্তা লেফটেনেন্ট কর্নেল মো. শহিদ উদ্দিন খানের তিন বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আসামির ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
দণ্ডিত আসামি পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণার পর আদালত আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
দুদকের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী প্রসিকিউটর রফিকুল হক বেনু জানান মামলাটিতে আদালত গত ৮ আগস্ট চার্জগঠনের পর গত ২৩ আগস্ট এবং ৭ সেপ্টেম্বর ২ কার্যদিবসে ৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এরপর মঙ্গলবার যুক্তিতর্কের পর রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর অস্ত্র আইনের মামলায় শহীদ উদ্দিন খান, তার স্ত্রী ফারজানা আনজুম খানসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন আদালত। এরপর একই বছর ২০ ডিসেম্বর আয়কর ফাঁকির মামলায় শহীদ উদ্দিন খানের নয় বছরের কারাদণ্ডের রায় দেন আদালত।
দুদকের মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি মো. শহিদ উদ্দিন খান ১৯৮৩ সালে সেনাবাহিনীতে অষ্টম বিএমএ দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১০ সালে কর্নেল পদ থেকে অবসর নেন। তিনি ১৯৮৯ সালে মোসাম্মৎ ফারজানা আঞ্জুমকে বিয়ে করেন। তার শেহতাজ মানসী খান ও ফারিসা পিনহাজ খান নামে দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে।
অভিযোগ অনুসন্ধানে জানা যায়, শহিদ উদ্দিন স্ত্রী-সন্তানসহ যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। রাজধানীর বারিধারা তার পরিবারের সদস্যদের নামে একটি ফ্ল্যাট এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডনে দুটি বাড়ি আছে, যার মূল্য কম-বেশি মোট ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তাছাড়া তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ব্যাংকে ১২টি একাউন্ট রয়েছে। স্ত্রী-কন্যার নামে ঢাকাস্থ প্রচ্ছায়া লি. নামীয় ব্যবসায়েক প্রতিষ্ঠানে প্রতি শেয়ার ১০০/-হিসাবে ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৫ লক্ষ শেয়ার এবং কুমিল্লায় কোটি টাকা মূল্যের বন্দীশাহী কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে। লন্ডনেও তাদের নামে জুমানা ইনভেস্টমেন্টস অ্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড নামে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং সাইপ্রাসেও ব্যাংক একাউন্ট রয়েছে।
শহীদের সহোদর ভাই মোহাম্মাদ আলী খানের নামে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ব্যাংকে ৩০ লাখ ৩৯ হাজার দিরহাম জমা ছিল, যা জুমানা ইনভেষ্টমেন্টস অ্যান্ড প্রোপার্টিজ লি. নামে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তরিত হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা যায়, শহিদ উদ্দিন খানের নিজ নামে বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে দেশে-বিদেশে কম-বেশি ৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করাসহ বিদেশে তাদের নামে ১২টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে, যা একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে অস্বাভাবিক। অর্থাৎ তার/পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়। এ কারণে তাকে ২০২০ সালের ১৬ আগস্ট সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ ইস্যু করা হয়। কিন্তু আসামি সম্পদের হিসাব দাখিল না করায় ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি দুদকের উপপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ মামলাটি করেন। মামলায় একই কর্মকর্তা তদন্ত করে গত বছর ১৪ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন।
উল্লেখ্য এর আগে ২০২১ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেক মামলায় বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল শহীদ উদ্দিন খান ও তার স্ত্রী ফারজানা আনজুমকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাস কারাদণ্ডের রায় দিয়েছিলো ঢাকার আরেক আদালত।
ওই মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১৫ই জানুয়ারি ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় শহীদ উদ্দিন খানের বাসায় অভিযান চালিয়ে দুইটি পিস্তল, ছয়টি গুলি, দুইটি শটগান ও তিন লাখ সমমানের জাল টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় ১৭ই জানুয়ারি কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট শহীদ উদ্দিন খানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে নগদ ও জাল টাকা উদ্ধার করায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন। এছাড়া, অস্ত্র আইনেও একটি মামলা করা হয়।
অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সরকার ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
অস্ত্র আইনের একটি মামলায় এর আগে ২০২০ সালের ১০ই নভেম্বর শহীদ উদ্দিন খান, তার স্ত্রী ফারজানা আনজুম খানসহ মোট চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
আর বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় রায় ঘোষণা করা হলো আজ।
এছাড়া, ২০২০ সালের ২০শে ডিসেম্বর আয়কর ফাঁকির একটি মামলায় শহীদ উদ্দিন খানকে নয় বছরের কারাদণ্ড দেয় ঢাকার একটি আদালত।

আয়কর ফাঁকির মামলায় নথি থেকে জানান যায়,তিন অর্থবছরে ১৭ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ১০৭ টাকা আয়কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার আদালতে মামলা করেন সহকারী কর কমিশনার শেখ আলী হাসান।
মামলার কাগজপত্রের তথ্য বলছে, শহীদ উদ্দিন খান ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৬ টাকার আয়ের তথ্য গোপন করে আয়কর ফাঁকির অপরাধ করেছেন। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ২৫ লাখ ১২ হাজার ৬০০ টাকা আয়ের তথ্য গোপন করে আয়কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৭ লাখ ১৪ হাজার ২২১ টাকা আয়ের তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়।
তিনি আয়কর রিটার্ন দাখিলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রকৃত আয় ও সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তিনি আয়কর রিটার্ন দাখিল করেননি। মামলার আরজিতে তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ অর্থবছরে আটটি ব্যাংক হিসাবে শহীদ উদ্দিন খানের ১ কোটি ৩০ লাখ ১৫ হাজার ১৩২ টাকা জমা ছিল।
আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আটটি ব্যাংক হিসাবে ৭৬ লাখ ২৪ হাজার ৪৬৮ টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ১২টি হিসাবে ২৯ কোটি ৮৭ লাখ ৮৪ হাজার ২৬৪ টাকা এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নয়টি ব্যাংক হিসাবে ৩৩ কোটি ২৪ লাখ ৬২ হাজার ৬৯৫ টাকা জমা ছিল। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আটটি ব্যাংক হিসাবে জমা ছিল ৪০ কোটি ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৬৫ টাকা।
উল্লেখ্য দুর্নীতি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত শহীদ উদ্দিন খান পালিয়ে যুক্তরাজ্য চলে যান। সেখান থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

দুদকের মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা শহীদ খানের আরও তিন বছরের কারাদণ্ড

0

দুর্নীতি দমন কমিশন, দুদকের আরও একটি মামলায় বরখাস্তকৃত সেনাকর্মকর্তা লেফটেনেন্ট কর্নেল মো. শহিদ উদ্দিন খানের তিন বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আসামির ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
দণ্ডিত আসামি পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণার পর আদালত আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
দুদকের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী প্রসিকিউটর রফিকুল হক বেনু জানান মামলাটিতে আদালত গত ৮ আগস্ট চার্জগঠনের পর গত ২৩ আগস্ট এবং ৭ সেপ্টেম্বর ২ কার্যদিবসে ৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এরপর মঙ্গলবার যুক্তিতর্কের পর রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর অস্ত্র আইনের মামলায় শহীদ উদ্দিন খান, তার স্ত্রী ফারজানা আনজুম খানসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন আদালত। এরপর একই বছর ২০ ডিসেম্বর আয়কর ফাঁকির মামলায় শহীদ উদ্দিন খানের নয় বছরের কারাদণ্ডের রায় দেন আদালত।
দুদকের মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি মো. শহিদ উদ্দিন খান ১৯৮৩ সালে সেনাবাহিনীতে অষ্টম বিএমএ দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১০ সালে কর্নেল পদ থেকে অবসর নেন। তিনি ১৯৮৯ সালে মোসাম্মৎ ফারজানা আঞ্জুমকে বিয়ে করেন। তার শেহতাজ মানসী খান ও ফারিসা পিনহাজ খান নামে দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে।
অভিযোগ অনুসন্ধানে জানা যায়, শহিদ উদ্দিন স্ত্রী-সন্তানসহ যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। রাজধানীর বারিধারা তার পরিবারের সদস্যদের নামে একটি ফ্ল্যাট এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডনে দুটি বাড়ি আছে, যার মূল্য কম-বেশি মোট ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তাছাড়া তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ব্যাংকে ১২টি একাউন্ট রয়েছে। স্ত্রী-কন্যার নামে ঢাকাস্থ প্রচ্ছায়া লি. নামীয় ব্যবসায়েক প্রতিষ্ঠানে প্রতি শেয়ার ১০০/-হিসাবে ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৫ লক্ষ শেয়ার এবং কুমিল্লায় কোটি টাকা মূল্যের বন্দীশাহী কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে। লন্ডনেও তাদের নামে জুমানা ইনভেস্টমেন্টস অ্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড নামে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং সাইপ্রাসেও ব্যাংক একাউন্ট রয়েছে।
শহীদের সহোদর ভাই মোহাম্মাদ আলী খানের নামে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ব্যাংকে ৩০ লাখ ৩৯ হাজার দিরহাম জমা ছিল, যা জুমানা ইনভেষ্টমেন্টস অ্যান্ড প্রোপার্টিজ লি. নামে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তরিত হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা যায়, শহিদ উদ্দিন খানের নিজ নামে বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে দেশে-বিদেশে কম-বেশি ৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করাসহ বিদেশে তাদের নামে ১২টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে, যা একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে অস্বাভাবিক। অর্থাৎ তার/পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়। এ কারণে তাকে ২০২০ সালের ১৬ আগস্ট সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ ইস্যু করা হয়। কিন্তু আসামি সম্পদের হিসাব দাখিল না করায় ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি দুদকের উপপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ মামলাটি করেন। মামলায় একই কর্মকর্তা তদন্ত করে গত বছর ১৪ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন।
উল্লেখ্য এর আগে ২০২১ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেক মামলায় বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল শহীদ উদ্দিন খান ও তার স্ত্রী ফারজানা আনজুমকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাস কারাদণ্ডের রায় দিয়েছিলো ঢাকার আরেক আদালত।
ওই মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১৫ই জানুয়ারি ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় শহীদ উদ্দিন খানের বাসায় অভিযান চালিয়ে দুইটি পিস্তল, ছয়টি গুলি, দুইটি শটগান ও তিন লাখ সমমানের জাল টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় ১৭ই জানুয়ারি কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট শহীদ উদ্দিন খানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে নগদ ও জাল টাকা উদ্ধার করায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন। এছাড়া, অস্ত্র আইনেও একটি মামলা করা হয়।
অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সরকার ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
অস্ত্র আইনের একটি মামলায় এর আগে ২০২০ সালের ১০ই নভেম্বর শহীদ উদ্দিন খান, তার স্ত্রী ফারজানা আনজুম খানসহ মোট চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
আর বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় রায় ঘোষণা করা হলো আজ।
এছাড়া, ২০২০ সালের ২০শে ডিসেম্বর আয়কর ফাঁকির একটি মামলায় শহীদ উদ্দিন খানকে নয় বছরের কারাদণ্ড দেয় ঢাকার একটি আদালত।

আয়কর ফাঁকির মামলায় নথি থেকে জানান যায়,তিন অর্থবছরে ১৭ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ১০৭ টাকা আয়কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার আদালতে মামলা করেন সহকারী কর কমিশনার শেখ আলী হাসান।
মামলার কাগজপত্রের তথ্য বলছে, শহীদ উদ্দিন খান ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৬ টাকার আয়ের তথ্য গোপন করে আয়কর ফাঁকির অপরাধ করেছেন। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ২৫ লাখ ১২ হাজার ৬০০ টাকা আয়ের তথ্য গোপন করে আয়কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৭ লাখ ১৪ হাজার ২২১ টাকা আয়ের তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়।
তিনি আয়কর রিটার্ন দাখিলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রকৃত আয় ও সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তিনি আয়কর রিটার্ন দাখিল করেননি। মামলার আরজিতে তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ অর্থবছরে আটটি ব্যাংক হিসাবে শহীদ উদ্দিন খানের ১ কোটি ৩০ লাখ ১৫ হাজার ১৩২ টাকা জমা ছিল।
আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আটটি ব্যাংক হিসাবে ৭৬ লাখ ২৪ হাজার ৪৬৮ টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ১২টি হিসাবে ২৯ কোটি ৮৭ লাখ ৮৪ হাজার ২৬৪ টাকা এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নয়টি ব্যাংক হিসাবে ৩৩ কোটি ২৪ লাখ ৬২ হাজার ৬৯৫ টাকা জমা ছিল। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আটটি ব্যাংক হিসাবে জমা ছিল ৪০ কোটি ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৬৫ টাকা।
উল্লেখ্য দুর্নীতি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত শহীদ উদ্দিন খান পালিয়ে যুক্তরাজ্য চলে যান। সেখান থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

বিশ্ব শান্তি বজায় রাখতে বাংলাদেশ সর্বদা সহায়তা করবে: প্রধানমন্ত্রী

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বশান্তি বজায় রাখায় তাঁর দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, বাংলাদেশ সর্বদা বিশ্ব শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা যে বাংলাদেশ সর্বদা বৈশ্বিক শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করবে। জাতিসংঘের অধীনে বিশ্ব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আমাদের সেনাবাহিনী প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে। আমরা এটি বজায় রাখতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর র‌্যাডিসন বøু হোটেলে ৪৬তম ইন্দো-প্যাসিফিক আর্মিজ ম্যানেজমেন্ট সেমিনার (আইপিএএমএস)-২০২২-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে এই আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করেছে। ২৭টি দেশ এতে অংশগ্রহণ করে।
শেখ হাসিনা বলেন, শান্তি সহায়তা কার্যক্রমে মহান অবদানের জন্য বাংলাদেশ আজ বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতিসংঘ মিশনে এবং বিশ্বের যে কোনো স্থানে দেশ ও বিশ্ব শান্তির জন্য সর্বদা প্রস্তুত।’
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তা গতিশীলতা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং দিন দিন জটিল হচ্ছে।
‘যেকোনো সংঘাত বা সংকট বিশ্বের প্রতিটি জাতিকে প্রভাবিত করে,’ তিনি বলেন, ’এটি রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীল উন্নয়নকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাধাগ্রস্তকরে।’
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বহুপাক্ষিকতাবাদে দৃঢ় বিশ্বাসী ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তার প্রথম ভাষণে তিনি (বঙ্গবন্ধু) আমাদের পররাষ্ট্রনীতির সারমর্ম উচ্চারণ করেছিলেন: ‘সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারো প্রতি বৈরিতা নয়’।
তিনি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বিশ্বনেতাদের সৎ ও শান্তিপূর্ণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানান।
‘আমরা সর্বদা আমাদের বৈদেশিক নীতি থেকে শক্তি নিয়ে বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সাথে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছি,’ উল্লেখ তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের একটি জাতি হিসাবে বেড়ে উঠতে দিয়েছে এবং ধীরে ধীরে আমাদের সম্প্রদায়ে আমাদের সঠিক অবস্থান দাবি করার ক্ষমতা দিয়েছে।’ অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তা বিশ্বের প্রায় সব দেশের প্রধান নীতিগত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি দেশগুলোকে টেকসই উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী সহযোগিতার দিকে নিয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি যোগাযোগ, সংলাপ এবং শীর্ষ সম্মেলনের মত বেসামরিক এবং সামরিক কূটনৈতিক চ্যানেলের পথও প্রশস্ত করেছে।’
তিনি বলেন, তিনি দেখতে পাচ্ছেন যে আইপিএএমএস একটি অনুরূপ বহুজাতিক প্লাটফর্ম ‘বন্ধুত্ব এবং উষ্ণতার অনুভূতি তৈরি করতে পারে যাতে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করে’।
ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বন্ধুত্ব, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইপিএএমএস সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তা পর্যবেক্ষণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি মনে করি, এই ফোরামের মাধ্যমে মিথস্ক্রিয়া বাস্তবসম্মত বহু-পার্শ্বিক পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য অভিন্ন স্বার্থের বিষয়ে আলোচনা করতে সক্ষম হবে।’
তিনি বাংলাদেশে এই সেমিনারে যোগদানের জন্য অংশগ্রহণকারী দেশকে ধন্যবাদ জানান এবং বিশ্বাস করেন যে এই ধরনের ফোরামের মাধ্যমে সিনিয়র সামরিক নেতাদের অবশ্যই কথা বলতে হবে, যোগাযোগ করতে হবে এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোনো দেশের সেনাবাহিনী সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার অন্যতম উপাদান। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি করেছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫১তম বছরে পদার্পণ করেছে বাংলাদেশ এবং গত ৫০ বছরে, দেশটির আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।
তিনি বলেন, এটি এখন আমাদের সাফল্যের জন্য একটি উন্নয়ন বিস্ময় হিসাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কর্তৃক স্বীকৃত, বিশেষ করে দারিদ্র্য হ্রাস, খাদ্য স্বনির্ভরতা ও সুরক্ষা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জেন্ডার সমতা, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস ইত্যাদি ক্ষেত্রে।
তিনি অব্যাহত রাখেন যে ‘আমাদের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে, কারণ, আমরা শান্তির সুবিধাগুলোতে বিশ্বাস করি এবং আমরা আমাদের জনগণের শক্তির দিকে মনোনিবেশ করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, বাংলাদেশ ১১ লাখের ও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের আশ্রয় দিয়েছে। তাদের নিজেদের দুর্দশা ছাড়াও, তিনি বলেন, ‘জোর পূর্বেক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের দীর্ঘায়িত উপস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং সামাজিক-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।’ বাসস।

খালেদা জিয়ার কারাদন্ড স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন

0

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাদন্ড স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছে তার পরিবার। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির জানান, “রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) খালেদা জিয়ার পক্ষে তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, বিএনপি প্রধানের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার ও তার ব্যক্তিগত সচিব আব্দুস সাত্তার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর অনুমতি চেয়েছেন শামীম ইস্কান্দার।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা আবেদনটি গ্রহণ করেছি এবং আইনি মতামতের জন্য এটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে, আইন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশসহ আবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে।”
এর আগে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ পাঁচবার বাড়ানো হয়েছে। সাজা স্থগিতের চলমান মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর।
শনিবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, “যদি খালেদা জিয়ার পরিবার সাজা স্থগিতের আবেদন করে, তাহলে বিএনপি প্রধানের দুর্নীতির দু’টি মামলার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হবে।”
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের সময়, ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে, খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করা হয়। খালেদা জিয়া গুলশানে তার বাসভবনে থাকবেন এবং দেশত্যাগ করতে পারবেন না, এই শর্তসাপেক্ষে তখন ছয়মাসের জন্য তাকে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছিল।

জজ মিয়াকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টে রিট

0

২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় আলোচিত জজ মিয়ার জন্য ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে, হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রিয়াজ উদ্দিন খানের বেঞ্চ থেকে রিট আবেদনটি করার অনুমতি নেয়া হয়।
রিট আবেদনে, জজ মিয়াকে ফাঁসানোর ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে আপিল বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটি গঠনের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। জজ মিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবীর পল্লব এ রিট দায়ের করেন।
স্বরাষ্ট্রসচিব, ঢাকার জেলা প্রশাসক, মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), নোয়াখালীর সেনবাগ থানার ওসি, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), তৎকালীন আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী, তৎকালীন এএসপি আব্দুর রশিদ, তৎকালীন এএসপি মুনশি আতিকুর রহমান এবং তৎকালীন বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিনকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে,সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী, সাবেক এএসপি আব্দুর রশিদ, মুন্সি আতিকুর রহমান, সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে, তা থেকে এই ক্ষতিপূরণের টাকা আদায় করে দিতে আবেদন করা হয়েছে।
এর আগে, জজ মিয়াকেক ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে, বিবাদীদের প্রতি গত ১১ আগস্ট এ বিষয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশের জবাব না পেয়ে এই রিট করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার পল্লব।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ ২৪ জন নিহত হন। পরে ২০০৫ সালের ৯ জুন নোয়াখালীর সেনবাগ থেকে ধরে আনা হয় জজ মিয়াকে। তাকে ১৭ দিন রিমান্ডে রেখে, ভয় ও প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে একটি জবানবন্দি আদায় করে সিআইডি।
পরে, ২০০৭ সালে তত্বাবধায়ক সরকার এসে নতুন করে এই মামলার তদন্তের উদ্যোগ নেয়। তদন্ত শেষে, ২০০৮ সালের ১১ জুন এ সংক্রান্ত মামলা দুটির অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। অব্যাহতি দেয়া হয় জোট সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হওয়া জজ মিয়াকে। সে সময় বিনা অপরাধে পাঁচ বছর কারাভোগ করতে হয়েছিল জজ মিয়াকে। ভয়েস অফ আমেরিকা।

আবেদন পেলেই খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে, জানালেন আইনমন্ত্রী; পরিবার থেকে ফের বিদেশ নেয়ার আবেদন করা হবে

0

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দন্ড স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে বিবেচনা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
শনিবার সকালে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ১৪৭তম রিফ্রেশার কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার শর্তসাপেক্ষ মুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তির মেয়াদের আবেদন পেলেই সরকার তা আবারও বাড়াবে।
এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর বোন সেলিমা রহমান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরীক অবস্থা খুবই খারাপ। চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ নেয়া জরুরী। এবারো তাকে বিদেশ নেয়ার আবেদন জানানো হবে।
এদিকে নি¤œ আদালতের বিচারকদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী বলেন, ঋণখেলাপিরা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই ঋণখেলাপিদের মামলা দ্রæত নিষ্পত্তি করতে হবে। এ ছাড়া মামলার শুনানিতে ঋণখেলাপিদের অযৌক্তির সময় দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
বিগত প্রায় সাড়ে ১৩ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ঈর্ষণীয় উন্নয়ন ঘটেছে। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার ”অর্থনীতির শত্রæ” হিসেবে খ্যাত খেলাপি ঋণ- এর পরিমাণ কমিয়ে আনতে চায়। কারণ ঋণ খেলাপি মামলাজট দেশের অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে আমাদের অবশ্যই ঋণ খেলাপি মামলাজট খুলতে হবে এবং এই মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে খেলাপি ঋণ বাড়ার লাগাম টানতে হবে। ঋণ খেলাপি মামলা দ্রæত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ সংশোধন করে আদালতের বাইরে এডিআর বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতিতে মামলা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মামলার পক্ষগণের অনাগ্রহের কারণে এডিআর পদ্ধতির সফল প্রয়োগ হচ্ছে না। ঋণ খেলাপি মামলা দ্রæত নিষ্পত্তি করতে- এডিআর পদ্ধতিকে আরও কার্যকরভাবে অনুসরণ করতে হবে। এর পাশাপাশি শুনানি পর্যায়ে বিবাদীর অযৌক্তিক কালক্ষেপণ রোধ করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচারের সঙ্গে সামাজিক অপরাধ, রাষ্ট্রের আইন শৃঙ্খলা ও নাগরিক জীবনের নিরাপত্তাসহ অন্যান্য মৌলিক অধিকারগুলো নিবিড়ভাবে জড়িত। তাছাড়া ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন ব্যতিত রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি লাভ করা যায় না।
মামলাজটের পরিসংখ্যান তুলে ধরে আনিসুল হক বলেন, দেশের আদালতগুলোতে দায়েরকৃত সিভিল মামলার অর্ধেকেরও বেশি ভূমি সম্পর্কিত। অনেক ফৌজদারি মামলার মূলেও রয়েছে ভূমি বিরোধ। এসব মামলার বিচার পাওয়ার জন্য প্রতিদিন লাখ লাখ বিচারপ্রার্থীকে আদালতে ধরনা দিতে হয়। এতে যে কেবল তাদের সময় ও অর্থ অপচয় হচ্ছে তা নয়, মূল্যবান কর্মঘণ্টাও নষ্ট হচ্ছে। যেসময়ে তাদের উৎপাদনের কাজে থাকার কথা, সেসময় আদালতের বারান্দায় ঘুরেঘুরে বিচার পাওয়ার প্রহর গুণতে হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন বিচারকগণ,এসব বিষয় গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিবেন এবং জনগণকে দ্রæত ন্যায়বিচার প্রদান করে তাঁদের বিচার পাওয়ার দুর্ভোগ লাঘব করবেন।
প্রশিক্ষণার্থী বিচারকদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সারা জীবনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে এমন এক স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গতিশীল বিচার বিভাগের স্বপ্ন দেখেছিলেন – যেখানে শোষিত, বঞ্চিত, নির্যাতিত এবং অসহায় মানুষ স্বল্প খরচে দ্রæত ন্যায়বিচার পাবে। বঙ্গবন্ধুর এই স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন- বিচারক হিসেবে আপনাদের ওপরই নির্ভর করে। এই নির্ভরতা আপনাদেরকে যেমন দায়িত্বশীল করেছে, তেমনি মর্যাদাবানও করে তুলেছে। আপনাদের দায়িত্ব পালনে আমরা সহায়ক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছি মাত্র। আমরা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, দক্ষতার সাথে সুচারুরূপে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের দাপ্তরিক সমস্যার যুক্তিসঙ্গত সমাধানসহ পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোটাও অপরিহার্য। আর পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। সেকারণে আমরা দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ কোর্স আয়োজন করে যাচ্ছি। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন মন্ত্রণালয় এবং বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অচলায়তন ভাঙছে দুদকের, মহাপরিচালক পদে পদোন্নতি পেলেন বিভাগীয় তিন কর্মকর্তা

0

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক (ডিজি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন সংস্থাটির নিজস্ব তিনি কর্মকর্তা। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন—দুদকের পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা ইউনিটের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী, দুদক বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখা-২ এর পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন ও দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের বিশেষ পরিচালক মো. আক্তার হোসেন।
বৃহস্পতিবার দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এছাড়া পৃথক আরও দুটি আদেশে ৬ জন উপ-পরিচালককে পরিচালক ও ৮ জন সহকারী পরিচালককে উপ-পরিচালক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়।
পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া ছয় কর্মকর্তা হলেন; এস এম সাহিদুর রহমান, মো. লুৎফর রহমান, মির্জা জাহিদুল আলম, মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী, ঋত্বিক সাহা ও মো. মোশারফ হোসেইন মৃধা।
এছাড়া সহকারী পরিচালক থেকে ৮ আটজন উপ পরিচালক হলেন, মো. শহীদুল আলম সরকার, মো. এ.একেএম বজলুর রশীদ, সৈয়দ আতাউল কবীর, মো. শহীদুল ইসলাম মোড়ল, মো. হাফিজুর রহমান, মো. আমিনুল ইসলাম, মো. ফজলুল বারী ও এ এক এম ফজলে হোসেন।
দুদকের মোট আটজন মহাপরিচালক পদের মধ্যে ডেপুটেশনে আসা সরকারের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার সাত কর্মকর্তা বিভিন্ন শাখায় কর্মরত ছিলেন। একটি পদ ছিলো খালি। এর মধ্যে একজনকে নির্ধারিত দায়িত্ব ছাড়াও অতিরিক্ত হিসেবে এই শাখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ উর্ধতন পদটিতে প্রশাসন ক্যাডার থেকে নিয়ে আসা হতো,যার ফলে দুর্নীতি দমনে সংস্থাটির ভাবমূর্তী প্রশ্নের মুখে পড়ে। বিশেষ ক্যাডার থেকে আসা কর্মকর্তারা বিশেষ ক্যাডারের কারও দুর্নীতি তদন্তে অনাগ্রহ দেখাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তা ছাড়া স্বল্পকালীন সময়ের জন্য প্রেষণে এ পদে এসে তারা নিজেরাও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়তেন। দুদকের নিজস্ব পরিচালকদের মধ্য থেকে ডিজি পদে পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য হলেও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের পদোন্নতি না দেয়ায় ক্ষোভ ছিলো কর্মকর্তাদের মধ্যে।
এদিকে প্রেষণে আসা বিশেষ তদন্ত শাখার ডিজি সাঈদ মাহবুব খানকে পাঠানো হয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে। তিনি প্রায় ৫ বছর ধরে দুদকে মহাপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আর আইসিটি ও প্রশিক্ষণ শাখার ডিজি এ কে এম সোহেলকে বদলি করা হয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে। তিনিও ৪ বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত ছিলেন।
প্রেষণে এসে দুদকের গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থাকা এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার,বড় বড় দুর্নীতির দায় থেকে প্রভাবশালীদের দায়মুক্ত প্রদান,স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে কমিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৮ বছরের বেশি সময়ে দুদকের নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে মাত্র চারজন ডিজি হতে পেরেছেন। সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত তিনজনসহ ১৮ বছরের বেশি সময়ে ডিজি হলেন মোট সাতজন। এই দীর্ঘ সময়ে প্রশাসন বা অন্য ক্যাডার থেকে প্রেষণে আসারাই এ পদগুলো দখল করে রেখেছিলেন।
মহাপরিচালক পদে পদোন্নতি পাওয়া তিনজন আক্তার হোসেন, মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী ও সৈয়দ ইকবাল হোসেন ১৯৯৫ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোতে কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। দুর্নীতি দমন কমিশন হওয়ার পর তারা উপপিরচালক এবং ২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে তাঁরা পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পান। সাত বছর পর তাঁরা মহাপরিচালক হলেন।
এদিকে ‘একসঙ্গে তিনজন মহাপরিচালকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এত পদোন্নতি দুদকের ইতিহাসে কখনো হয়নি মন্তব্য করেছেন দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো:জহুরুল হক। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি যে নষ্ট হওয়ার দিকে যাচ্ছিল, তা অনেকখানি পুনরুদ্ধার হবে’।
তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস পদোন্নতি হওয়ায় আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উদ্বেলিত ও উৎসাহিত হবেন। কর্মচারীরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন। এতদিনের হতাশা দূর হবে। যারা পদোন্নতি পাননি আক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা জ্যেষ্ঠতা অনুসরণ করে পদোন্নতি দিয়েছে। যারা বাদ পড়েছেন তারা বিভিন্ন কারণে বাদ পড়েছেন। অনেক আগে থেকে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের রিপোর্ট ছিল। যে কারণে তাদের আমরা বিবেচনা করতে পারিনি।

দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রতিটা সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে একমাসের মধ্যে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হবে- আইনমন্ত্রী

0

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে দেশের প্রতিটি সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে একটি করে অভিযোগ বাক্স
স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, একমাসের মধ্যে এ অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হবে এবং সেখানে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো উচ্চ পর্যায়ের
কর্মকর্তারা যাচাই করে দেখবেন।
বৃহস্পতিবার (০৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ধামরাই উপজেলার কালামপুর এলাকায় কালামপুর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের নতুন ভবন উদ্বোধন
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
ভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন সাংবাদিকদের ওপরে কোন অত্যাচার হোক, সেটা সরকার সহ্য করবেনা। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা অভিযোগ করলে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, ছোট বেলা থেকেই দেখে এসেছি, আমাদের সাব-রেজিস্ট্রিার অফিসগুলোর ঠিকানা ছিল বৃটিশ বা পাকিস্তান আমলের পুরাতন, জীর্ণ কিংবা পরিত্যক্ত কোন সরকারি ভবন। অনেক রেজিস্ট্রি অফিসের ভাগে জীর্ণ কিংবা পরিত্যক্ত ভবন বরাদ্দ পাওয়াটাও ছিল দুষ্কর। আর দলিল লেখক ভাইদের ঠিকানা ছিল, মাথার উপরে টিনের শেড এবং নিচে মাটি, খুব ভালো হলে অর্ধপাকা মেঝে। তাদের ঘরে বেড়া ছিলো না বললেই চলে। এই অবস্থাতেই তারা মেঝেতে পাটি বিছিয়ে সেখানে বসেই অনেক কষ্টে আমাদের দলিল লিখে দিয়েছেন।
আনিসুল হক বলেন, শুধু অবকাঠামো সমস্যা নয়, রেজিস্ট্রি অফিসগুলো নানা ধরণের সমস্যায় জর্জড়িত ছিল। দলিল নকল করার
জন্য বালাম বহি ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগন্য। ফলে মূল দলিল ফেরত পাওয়ার জন্য আমাদের বছরের পর বছর অপেক্ষা
করতে হতো। নকলনবিশদের পারিশ্রমিক পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরনা দিতে হতো। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না।
সময়মত নিয়োগ না দেয়ায় অনেক পদ শূন্য থাকতো। সবমিলিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও ছিল চরম হতাশা।
তিনি বিশ্বাস করেন, অবহেলিত অবস্থাকে পিছনে ফেলে বিগত প্রায় সাড়ে সাত বছরে নিবন্ধন অধিদপ্তর অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যেও দূর হয়েছে হতাশা। কারণ বিগত প্রায় সাড়ে সাত বছরে নিবন্ধন অধিদপ্তরের উন্নয়নের ক্ষেত্রে
বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনয়ন করা হয়েছে। ঢাকার কালামপুরে নবনির্মিত সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভবন এর অন্যতম উদাহরণ।
নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শহিদুল আলম ঝিনুক এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেনজীর আহমদ, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী
মোসলেহ্ উদ্দীন আহাম্মদ, ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ভাস্কর দেবনাথ, ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ
মালেক বক্তৃতা করেন।