ঢাকা   বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩   দুপুর ১২:২৭ 

Home Blog Page 15

বিকাশ নগদ রকেটের মাধ্যমে এক বছরে ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার, সিআইডির অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য

0

গত একবছরে দেশ থেকে ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করে এই টাকা পাচার হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি এ তথ্য জানিয়েছে।
সিআইডি জানায়, দেশের ডলারের দাম বাড়াসহ নানা কারণে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, গত এক বছরে ৭৫ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ ৭.৮ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা।
গ্রেফতাররা হলেন- আক্তার হোসেন (হুন্ডি এজেন্ট), দিদারুল আলম সুমন (হুন্ডি এজেন্ট), খোরশেদ আলম ইমন (হুন্ডি এজেন্টের সহযোগী), রুমন কান্তি দাস জয় (বিকাশ এজেন্ট), রাশেদ মাঞ্জুর ফিরোজ (বিকাশ এজেন্ট), মো. হোসাইনুল কবির (বিকাশ ডিএসএস), নবীন উল্লাহ (বিকাশ ডিএসএস), মো. জুনাইদুল হক (বিকাশ ডিএসএস), আদিবুর রহমান (বিকাশ ডিএসও), আসিফ নেওয়াজ (বিকাশ ডিএসও), ফরহাদ হোসাইন ( বিকাশ ডিএসও), আবদুল বাছির (বিকাশ এজেন্ট), মাহাবুবুর রহমান সেলিম (বিকাশ এজেন্ট), আবদুল আউয়াল সোহাগ (বিকাশ এজেন্ট), ফজলে রাব্বি (বিকাশ এজেন্ট)।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮০ টাকা, চার সিমে তিন কোটি ৪৬ লাখ ৪৭ হাজার ২২৯ ইলেকট্রনিক মানি, মোবাইল ৩৪টি। এ ঘটনায় মোট ৪টি মামলা দায়ের করেছে সিআইডি।
বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া।
তিনি বলেন, যেই ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে গত চার মাসে ২০ কোটি ৭০ লাখ টাকা পাচার হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া, এমএফএসের মাধ্যমে হুন্ডি করে এমন ৫ হাজারের বেশি এজেন্টের সন্ধান পেয়েছে সিআইডি।
তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা জানতে পারি তারা বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায়ের মাধ্যমে এই ৫ হাজার এজেন্ট গত ৪ মাসে ২৫ হাজার কোটি এবং বছরে ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে।
রেমিটেন্স বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ উল্লেখ করে সিআইডি প্রধান বলেন, সম্প্রতি বিশ্ব পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতির ওপর যে চাপ তৈরি করেছে তা মোকাবিলা করার জন্য সরকার অত্যন্ত তৎপর। হুন্ডি সবসময় রিজার্ভের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের অর্থনীতির উপর এই ঝুঁকি মোকাবিলায় সিআইডি হুন্ডি কার্যক্রমের উপর নজরদারী শুরু করে।
অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থপাচার এবং বিদেশে অবস্থানরত ওয়েজ আনরিদের কষ্টার্জিত অর্থ বিদেশ থেকে বাংলাদেশে না এনে স্থানীয় মুদ্রায় মূল্য পরিশোধ করার মাধ্যমে মানি লন্ডারিং অপরাধ করে আসছে।
তিনি বলেন, সংঘবদ্ধ হুন্ডিচক্র প্রবাসে বাংলাদেশিদের উপার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করে তা বাংলাদেশে না পাঠিয়ে উক্ত বৈদেশিক মুদ্রার সমপরিমাণ মূল্যে স্থানীয় মুদ্রায় পরিশোধ করে। এ কাজে অপরাধীরা তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কাজটি করে থাকে। প্রথম গ্রুপ বিদেশে অবস্থান করে প্রবাসীদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করে, দেশ থেকে যারা টাকা পাচার করতে চায় তাদের দেয়। দ্বিতীয় গ্রুপ পাচারকারী ও তার সহযোগীরা দেশীয় মুদ্রায় উক্ত অর্থ এমএফএস এজেন্টকে দেয়। তৃতীয় গ্রুপ তথা এমএফএস এজেন্টরা বিদেশে অবস্থানকারীর কাছ থেকে প্রাপ্ত এমএফএস নম্বরে দেশীয় মুদ্রায় মূল্য পরিশোধ করে।
এসব চক্র প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে এমএফএস ব্যবহার করে ক্যাশ ইনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হুন্ডি করছে। এমএফএস এজেন্টদের সহযোগিতায় পাচারকারীরা বিদেশে স্থায়ী সম্পদ অর্জনসহ অনলাইন জুয়া, মাদক কেনাবেচা, স্বর্ণ চোরাচালান, ইয়াবা ব্যবসাসহ প্রচুর অবৈধ ব্যবসাও পরিচালনা করছে। বাংলানিউজ।

ঢাকায় পি কে হালদারের বিচার শুরু

0

সোয়া চারশ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং কানাডায় অর্থপাচারের মামলায় গ্লোবাল ইসলামী (সাবেক এনআরবি গ্লোবাল) ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারসহ ১৪ জনের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত।
ঢাকার ১০ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য ২২ সেপ্টেম্বর দিন রেখেছেন।
পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া প্রায় তিন ডজন মামলার মধ্যে এই প্রথম কোনো মামলা বিচারে এল।
মামলার আসামিদের মধ্যে পি কে হালদার আছেন ভারতের কারাগারে। তাকেসহ দশজনকে পলাতক দেখিয়ে এ মামলার কার্যক্রম চলছে।
বাকি নয়জন হলেন: পি কে হালদারের মা লীলাবতী হালদার, পূর্ণিমা রানী হালদার, উত্তম কুমার মিস্ত্রি, অমিতাভ অধিকারী, প্রীতিশ কুমার হালদার, রাজিব সোম, সুব্রত দাস, অনঙ্গ মোহন রায়, স্বপন কুমার মিস্ত্রি।
কারাগারে থাকা বাকি ৪ আসামি অবন্তিকা বড়াল, শঙ্খ বেপারী, সুকুমার মৃধা ও অনিন্দিতা মৃধাকে আদালতে অভিযোগ পড়ে শোনানো হলে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান।
বিচারক তাদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। পাশাপাশি সুকুমার ও অনিন্দিতার জামিন আবেদনও নাকচ করা হয় বলে দুদকের আইনজীব মীর আহমেদ আলী সালাম জানান। বিডি নিউজ।

জাহাঙ্গীরের ‘দুর্নীতি’ অনুসন্ধানে দুদক; মানহানি মামলায় হাইকোর্টে জামিন

0

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি মো.আতাবুল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে এ জামিন দেন। ফরিদপুরে করা মানহানি মামলায় তাকে এই জামিন দেয়।
গত ৩১শে আগস্ট এ মামলায় ফরিদপুর আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম কে রহমান।
দুদকের অনুসন্ধান শুরু:
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমশিন,দুদক। এর অংশ হিসেবে নগর ভবনসহ বিভিন্ন দপ্তর থেকে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করছেন দুদক কর্মকর্তারা। রোববার তারা গাজীপুর সিটির নগর ভবন, কোনাবাড়ির আঞ্চলিক কার্যালয়, ব্যাংক ও দুটি পোশাক কারখানায় যান এবং নথিপত্র সংগ্রহের পাশাপাশি ওই সব দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
দুদকের উপ-পরিচালক আলী আকবরকে প্রধান করে গঠিত এই অনুসন্ধান দলের অপর সদস্য হলেন সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমান।
আলী আকবর সাংবাদিকদের বলেন, “এসব অফিস থেকে কিছু নথির ফটোকপি সংগ্রহ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত বাকি ডকুমেন্টস সংশ্লিস্ট অফিসগুলোকে আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।
“আমরা প্রত্যেকটি অভিযোগ অনুসন্ধান করব। অনুসন্ধানে অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ মিললে দুদকের নিয়ম ও আইন অনুয়ায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।“
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীরকে গত বছরের ১৯ নভেম্বর দল থেকে বহিষ্কার করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ওই ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জেলায় জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলাও হয়।
দল থেকে বহিষ্কারের এক সপ্তাহের মাথায় ২৫ নভেম্বর জাহাঙ্গীরকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পরে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়লে অনুসন্ধানের ঘোষণা দেয় দুদক।
কমিশন বলছে, জাহাঙ্গীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে অনিয়মের মাধ্যমে ‘কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ’ করে সিটি করপোরেশনের নামে ভুয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ‘লেনদেন করেছেন’ বলে অভিযোগ উঠেছে।
ওইসব ভুয়া অ্যাকাউন্টে ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে সিটি করপোরেশনের নামে কয়েক কোটি টাকা জমা এবং উত্তোলন করে জাহাঙ্গীর আলম ‘আত্মসাৎ করেছেন’ বলে অভিযোগ করা হয়েছে সেখানে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. মজিবুর রহমান কাজল জানান, রোববার দুদক কর্মকর্তারা সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আকবর হোসেন, হিসাব রক্ষক গোলাম কিবরিয়া, কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
“তারা আমাদের কাছে কিছু ডকুমেন্টের ফটোকপি চেয়েছেন। ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব ডকুমেন্টের কপি জামা দিতে বলেছেন।“

যশোরে সোনা পাচারকারিদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ১ জন নিহত, ১০ কেজি স্বর্ণ জব্দ

0

যশোরের শার্শা উপজেলায় জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ কেজি স্বর্ণ জব্দ করেছে। এসময় ডিবি পুলিশের ওপর ককটেল হামলা চালিয়েছে স্বর্ণ পাচারকারীরা।
এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময়ও হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন এক স্বর্ণ পাচারকারী। তবে তার নাম-ঠিকানা জানা যায়নি।
পাচারকারীদের ছোড়া ককটেলে তোহিদ ইসলাম ও রনবীর নামে পুলিশের দুই সিপাহি আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শার্শা উপজেলার জামতলা এলাকার মবিল ফ্যাক্টরির সামনে নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- কুমিল্লার সাজাদিয়া গ্রামের আবুল সরকারের ছেলে রবিন (৪৫) ও একই জেলার পাঁচ গাছিয়া গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে কাশেম(৩৫)।
পুলিশ জানায়, রাত দেড়টায় নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কের জামতলা এলাকার মবিল ফ্যাক্টরির সামনে শার্শা থানা পুলিশ ও যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযান পরিচালনার সময় দ্রুতগামী একটি সাদা প্রাইভেটকারের গতিরোধ করা হয়। এসময় প্রাইভেটকারে থাকা দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা কুমিল্লা থেকে এসেছেন বলে জানান। এসময় তাদের কথায় সন্দেহ হলে তাদের দেহ ও প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে তাদের কাছে নয় কেজি ৭৫৮ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যায়। এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় মহাসড়কের দুই দিক থেকে ৩০-৩৫টি মোটরসাইকেলে ৬০-৬৫ জন ব্যক্তি এসে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাঁচটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। এসময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে রাবার বুলেট ছুড়লে তারা পালিয়ে যান। সন্ত্রাসীদের ছোড়া ককটেলে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে ঘটনাস্থলের ২০০ গজ দূরে গুরুতর আহত অবস্থায় মোটরসাইকেলের নিচে চাপা পড়া এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। এ অবস্থায় আহত ব্যক্তিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
যশোরের নাভারন সার্কেলের এএসপি জুয়েল ইমরান জানান, আটক ব্যক্তিদের দেহ ও প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে নয় কেজি ৭৫৮ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করা হয়। এছাড়া পাচারের কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার এবং ককটেল হামলাকারীদের ফেলে যাওয়া তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। মোটরসাইকেলগুলোর সূত্র ধরে দ্রুত সন্ত্রাসীদের আটক করা হবে।
তিনি আরও জানান, আহত দুই পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জব্দ করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজার মূল্য সাত কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নামে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

সঞ্চয়পত্র কিনতে মিথ্যা তথ্য দিলে জেল-জরিমানা,সংসদে বিল পাস

0

জাতীয় সঞ্চয়পত্র কেনার সময় মিথ্যা তথ্য দিলে জেল-জরিমানার বিধান রেখে ‘সরকারি ঋণ বিল-২০২২’ সংসদে পাস হয়েছে। বিলটিতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি নিজের বা কারো পক্ষে সরকারি সিকিউরিটি বা জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের আওতায় ইস্যু করা সার্টিফিকেটের স্বত্ব অর্জনের জন্য মিথ্যা তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জেল বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।
বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিলটি সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন। পরে সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী গত বছরের ১৬ নভেম্বর বিলটি সংসদে তোলেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
জাতীয় সঞ্চয়পত্র কেনার বিদ্যমান আইনে কোনো জরিমানা সুনির্দিষ্ট করা ছিল না। ১৯৪৪ সালের এ সংক্রান্ত আইনটি বাতিল করে নতুন করে প্রণয়নের জন্য বিলটি প্রণয়ন করা হয়। সরকারের ঋণ গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক করার লক্ষ্যে আইনটি করা হয়েছে। টেকসই ঋণ নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন, ঋণ কৌশলপত্র তৈরি, ঋণের ঝুঁকি নিরূপণ এবং সরকারের দায়ের হিসাব আরও প্রসারিত করার লক্ষ্যে নতুন আইনে ৪০টি ধারা রয়েছে।
‘সরকারি ঋণ বিল-২০২১’ এ বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক বা জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অভিযোগ ছাড়া কোনো আদালত মিথ্যা তথ্য সম্পর্কিত সংঘটিত অপরাধ আমলে নিতে পারবে না। কোনো সরকারি সিকিউরিটি বা জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের সার্টিফিকেটের মেয়াদ পূর্তির পর আসল ও মুনাফা দিয়ে দেওয়া হলে এ বিষয়ে সরকারের আর কোনো দায় থাকবে না।
সরকারি সিকিউরিটির ধারক কোনো প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হলে বা অবসান হলে ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিযুক্ত প্রশাসক সিকিউরিটির বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে বিধান রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তার সরকারি সিকিউরিটি নিয়ম মেনে হস্তান্তর করার পর ওই ব্যক্তিকে সিকিউরিটির আসল বা সুদের বিষয়ে দায়ী করা যাবে না।
সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সরকার যে ঋণ নেবে তার যথাযথ গ্যারান্টি এই বিলের মাধ্যমে থাকবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। বিলে সরকারি ঋণ অফিসগুলোর ভূমিকা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।
শরিয়াভিত্তিক সরকারি সিকিউরিটি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিধানাবলীর রাখা হয়েছে। স্বাভাবিক ডিপোজিট ব্যবস্থার পাশাপাশি শরিয়াভিত্তিক ডিপোজিট ব্যবস্থা ‘সুকুক’ নামে শুরু করা ‘বন্ড’ এই আইনের অধীনে আনা হয়েছে। এটা আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সার্কুলার দিয়ে চালু করা হয়েছিল।
সরকার বাজেট ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে অর্থায়ন বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক গৃহীত বা দেশি-বিদেশি মুদ্রায় গৃহীত সুদ বা মুনাফা যুক্ত বা সুদ বা মুনাফা মুক্ত যে কোনো প্রকারের ঋণ ও বিনিয়োগ সংগ্রহ করতে পারবে। বিলে আরও বলা হয়েছে, সরকারি ঋণ আইনের মাধ্যমে কত টাকা হলো এবং তার কী অবস্থা বা মুনাফা বা সুদ দেওয়া হলো তা জনগণকে জানানো হবে।
বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল সংসদে বলেন, যুগোপযোগী একটি ঋণ আইনের অধীনে বাংলাদেশে সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনার সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জন্য অধিকতর আধুনিক প্রক্রিয়ায় ঋণ সংগ্রহ, টেকসই ঋণনীতি ও ঋণ পরিকল্পনা প্রণয়ন, ঋণ কৌশলপত্র প্রস্তুত, ঋণের ঝুঁকি নিরূপণ, ঋণ বাজেট প্রস্তুতসহ সরকারের প্রত্যক্ষ ও প্রচ্ছন্ন দায় হিসাবায়নের পথ অধিকতর সম্প্রসারিত হবে।

২ হাজার কোটি টাকা পাচার: ফরিদপুরের দুই ভাই বরকত-রুবেলের মামলা ফের তদন্তের নির্দেশ

0

অর্থ পাচারের অভিযোগে ফরিদপুরের বহুল আলোচিত দুই ভাই সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চলমান মামলাটি ফের তদন্তের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের আদালতে এই মামলার চার্জ শুনানির দিন ধার্য ছিল। তদন্তে কিছু অসঙ্গতি থাকায় আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সিআইডিকে মামলাটি পুনরায় তদন্তের আদেশ দিয়েছেন। আগামী ১৩ই অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।
২০০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ফরিদপুরের বহুল আলোচিত দুই ভাইসহ ১০ জনের চার্জশীট দিয়েছিল সিআইডি। তারা সাবেক মন্ত্রী ও ফরিদপুরের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত।
এর আগে ২০২১ সালের ৩ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) উত্তম কুমার সাহা সিএমএম আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করেন। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এই মামলায় ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করে আদেশ দেন ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ।
এই মামলার চার্জশিটভুক্ত অপর ৮ আসামি হলেন—ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভী, শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান ফারহান, খোন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর, এএইচএম ফুয়াদ, ফাহাদ বিন ওয়াজেদ ওরফে ফাহিম, কামরুল হাসান ডেভিড, মুহাম্মদ আলি মিনার ও তারিকুল ইসলাম ওরফে নাসিম।
এছাড়া তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন অনুযায়ী ফরিদপুর জেলা শ্রমিক লীগের অর্থ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন ও ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহমুদ শামীম এবং মো. জাফর ইকবাল, ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফকির বেলায়েত হোসেন এবং গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মজনু অব্যাহতি পান।
দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ২০২০ সালের ২৬ জুন বরকত ও রুবেলের বিরুদ্ধে রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা দায়ের করেন সিআইডির পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ।
মামলার বিবরণে বলা হয়, আসামি বরকত ও রুবেল ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন ব্রাক্ষণকান্দা গ্রামের মৃত আব্দৃস সালাম মন্ডলের ছেলে। তারা প্রথম জীবনে ফরিদপুর জেলার রাজবাড়ী মোড়ে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা চাঁন খন্দকারের অফিসে চা-পান সরবরাহ করত। ১৯৯৪ সালে চাঁন খন্দকারের নির্দেশে এ দুই ভাই ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন খোকনকে নির্মমভাবে হত্যা করলে বরকতসহ অন্যান্যদের নামে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় মামলা হয়। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে।
২০০২ সালের পর বরকত ও রুবেল তাদের গুন্ডাবাহিনী নিয়ে ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ড, ট্রাকস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা ব্যাপকভাবে শুরু করে। মামলায় বলা হয়, ২০০৮ সাল থেকে বরকত ও রুবেল সহোদর ফরিদপুর জেলার এলজিইডি, বিআরটিএ, রোডস এন্ড হাইওয়ে, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, পাসপোর্ট অফিস, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারী তারা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। সেখানে তাদের লোকজন দিয়ে পরিচালনা করে অবৈধ পন্থায় কোটি কোটি টাকা চাঁদা করে এবং মাদক ব্যবসায় তাদের মনোনীত লোকজন দিয়ে পরিচালনা করে প্রচুর অংকের টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেন।
মামলায় বলা হয়, ঢাকা শহরের কাফরুল থানাধীন মহাখালী ডিগএইচএস বাড়ী নং-৩১৬, রোড নং-২১, লেভেল নিউ ডিওএইচএস এ অফিস ভাড়া নিয়ে বাংলাদেশের সকল এলজিইডি অফিসের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে রাখে। বিগত দুই দশকের মধ্যে চাঁদাবাজির মাধ্যমে তারা অবৈধ অর্থ দিয়ে সাউথ লাইন যাত্রী পরিবহনের এসি/ননএসি ২৪টি বাস, ১০টি ট্রাক, দুইটি পাজেরো, দুইটি মাইক্রোবাস, ১টি নিশান মিনিবাস নামান । যার অধিকাংশ নম্বরহীন।
এ ছাড়া ১টি গেষ্ট হাউজ, ৮ হাজার বর্গফিটের উপর নবনির্মিত বিণ্ডিং, বরকত এগ্রো প্রা. লিমিটেড, মেসাস এসবি ডেইরি ফার্ম, নর্থ চ্যানেল বাগানবাড়ী, এসবি ব্রিকফিল্ড, এসবি পাথর ক্রসিং, এসবি প্রেস, এসবি ট্রেডার্স, বরকত কনষ্ট্রাকশন এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ও ১টি পেট্রোল পাম্প প্রতিষ্ঠা করে।
মামলায় আরও বলা হয়, আসামিরা অবৈধ পন্থায় অর্জিত টাকা দ্বারা উল্লেখিত সম্পদের মালিক হয়েছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাদের সম্পত্তির মূল্য অনুমান ২ হাজার কোটি টাকা। এই টাকা তারা বিদেশে পাচার করে দেয়।

প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার চক্রান্ত হচ্ছে, আওয়ামী লীগের লোকজনও জড়িত: সংসদে সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চক্রান্ত হচ্ছে বলে সংসদে বক্তৃতা করে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। তার দাবি, এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে সরকারি দলের লোকজনও জড়িত।
বুধবার সংসদের বৈঠকে ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ড নিয়ে ঘৃণা জানাতে আনা একটি সাধারণ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে আবুল কালাম আজাদ এ কথা বলেন।
এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।
সরকারি দলের এই সংসদ সদস্য বলেন, কী ধরণের ষড়যন্ত্র চলছে, তা তিনি সংসদে বিস্তারিত বলতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্তে কথা বলতে পারলে তাকে বলতে পারতেন। কোভিডের কারণে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্তে কথা বলতে পারছেনও না বলেও জানান তিনি।
জামালপুর-১ আসনের সরকার দলীয় সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, এখনও যে ষড়যন্ত্র চলছে, এই ষড়যন্ত্রের ভেতরে আমাদের নিজেদের অনেক লোকও অর্থের বিনিময়ে সম্পৃক্ত আছে। ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিবিসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনেক সময় সঠিক তথ্য দেয় না। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে তৃণমূলের নেতা–কর্মীদের মাধ্যমে নিজস্ব ম্যাকানিজমে তথ্য সংগ্রহের পরামর্শ দেন।
বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা যারা কাজকর্ম করছে তাদের দিকে দৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদ সদস্য যারা আছেন তাদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজনদের প্রত্যেককে সতর্ক করতে হবে। কারণ বিএনপি-জামাতের কিছু মহিলা ধর্মের কথা বলে, রাজনীতির কথা বলে। সেইদিকে খেয়াল রাখবেন। সবাই যদি সতর্ক থাকি, চোখ-কান খাড়া রাখি, তাহলে যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
বিএনপি ও জামাত এখনও চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র করছে দাবি করে আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাহির থেকে বহু অর্থ আসতেছে। ইতিমধ্যে তারা বিভিন্ন এলাকায় কিছু কিছু লোক ঠিক করেছে। আমি মনে করি আমরা যদি এগুলো শক্ত হাতে দমন না করি তাহলে তো হবে না।

তিন দিনে অবৈধ সাড়ে ৬০০ হাসপাতালে তালা

0

দেশব্যাপী অভিযানে তিন দিনে প্রায় সাড়ে ৬০০ অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিক বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে নিবন্ধন থাকলেও নবায়ন না করা ও আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম না করাসহ নানা অভিযোগে এসব প্রতিষ্ঠানকে ১১ লাখের বেশি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা এই তথ্য জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত সোমবার থেকে ৩১ আগস্ট বুধবার পর্যন্ত সারাদেশে চলমান অভিযানে ৬৪৬টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অবৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে এসব প্রতিষ্ঠানকে ১১ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সরকারি সংস্থাটি বলছে, অভিযানে সবচেয়ে বেশি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে খুলনা বিভাগে। এই বিভাগে বন্ধ করা হয়েছে ১৬৯টি। এরপর ঢাকা বিভাগে ১৫৮টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৫৪টি, রাজশাহী বিভাগে ৮১টি, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬টি, রংপুর বিভাগে ২৪টি, বরিশালে ১৩টি এবং সিলেটে বন্ধ হয়েছে মাত্র একটি।
এদিকে জরিমানা আদায়ে শীর্ষে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। এই বিভাগে সর্বোচ্চ ৭ লাখ ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এরপর ঢাকা বিভাগে এক লাখ, খুলনা বিভাগে দুই লাখ ১৭ হাজার এবং বরিশাল বিভাগে জরিমানা আদায় করা হয়েছে দুই লাখ ও রংপুরে ১১ হাজার টাকা। তবে, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগসহ ঢাকা মহানগরীতেও কোনো জরিমানা আদায় করা হয়নি।
এর আগে গত ২৬ মে ৭২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে প্রথম দফায় গত ৩০ মে বেআইনিভাবে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অভিযানে নামে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যেখানে এক হাজার ৬৪১টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় দফায় গত সোমবার থেকে সপ্তাহব্যাপী অভিযানে নামে সরকার। যেখানে প্রথম দুদিনে ৫২৪টির কার্যক্রম বন্ধ করতে পেরেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে গত তিন মাসে দুই হাজার ২৮৭টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হলো।
স্বাস্থ্য হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার সহকারী পরিচালক ডা. শেখ দাউদ আদনান বলেন, আমাদের কথা পরিষ্কার, কার্যক্রম চালাতে হলে নিবন্ধন নিতে হবে। যারাই বেআইনিভাবে কার্যক্রম চালাবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র-সমকাল।

ধর্ষণ মামলায় বাদীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ বাতিলে সংসদে বিল

0

ঔপনিবেশিক আমলের করা বিদ্যমান সাক্ষ্য আইনের দুটি ধারায় ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের মামলায় বাদীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ বাতিলে সংসদে বিল আনা হয়েছে। এছাড়া মামলার বিচারে ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ আদালতের আমলে নেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত এই আইনে।
বুধবার সংসদের বৈঠকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ‘এভিডেন্স (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২২’ উত্থাপন করেন। ১৮৭২ সালের এভিডেন্স অ্যাক্ট সংশোধন করে নতুন এই বিল আনা হয়েছে। পরে বিলটি ৩০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
বিদ্যমান আইনের ১৫৫ (৪) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যখন বলাৎকার কিংবা শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে ফৌজদারি মামলার আসামি হন, তখন দেখানো যেতে পারে যে অভিযোগকারিণী সাধারণভাবে দুশ্চরিত্রা। সংসদে উত্থাপিত নতুন বিলে এই ধারাটি বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আর ১৪৬ (৩) ধারা সংশোধন করে বলা হয়েছে, মামলার জেরা চলকালে বাদীর চরিত্র নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না। ন্যায় বিচারের স্বার্থে এমন কোনো প্রশ্ন করার প্রয়োজন হলে আগে আদালতের অনুমতি নিতে হবে।
মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা দীর্ঘ দিন ধরে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এই ঔপনিবেশিক আইনটি সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এছাড়া সাক্ষ্য আইনের বিভিন্ন ধারা সংশোধন ও নতুন ধারা যুক্ত করে মামলার বিচারে ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
কেউ যাতে ভুয়া বা জাল সাক্ষ্য প্রমাণ ডিজিটাল মাধ্যমে হাজির করতে না পারে, আদালত যদি মনে করে যে কোথাও আপত্তিজনক কিছু আছে, অথবা কেউ যদি আপত্তি তোলে, তাহলে ওই সাক্ষ্য-প্রমাণের ফরেনসিক পরীক্ষা করা যাবে-বিলে এমন বিধান রাখা হয়েছে।

গুম নিয়ে জাতিসংঘকে তদন্তে সাহায্যের অনুমতি দিতে বাংলাদেশের প্রতি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আহবান

0

বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের উচিৎ জোরপূর্বক গুমের অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের আন্তর্জাতিক আহবানে সাড়া দেয়া। ৩০শে আগস্ট বিশ্ব গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক রিপোর্টে এই আহবান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এতে বলা হয়, সম্প্রতি তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট। তিনি সরকারের প্রতি গুমের ভিক্টিম, তাদের পরিবার এবং সুশীল সমাজকে সঙ্গে নিয়ে একটি বিশেষ মেকানিজম বা পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার আহবান জানান, যার মাধ্যমে দেশের গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগগুলো তদন্ত করা যাবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ওই মেকানিজম বাস্তবায়নে তিনি জাতিসংঘের সহযোগিতার প্রস্তাবও দেন। নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দোষী সাব্যস্ত করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরণের নির্যাতন বন্ধ করতে বাংলাদেশের কৌশলগত এবং বাণিজ্য সহযোগীরা সরকারের প্রতি এরইমধ্যে আহবান জানিয়েছে। এ নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, অসংখ্য গুমের সঙ্গে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের যুক্ত থাকার যে প্রমাণ রয়েছে তা বেশ শক্ত। বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ এ নিয়ে তাদের অজ্ঞতা জাহির বন্ধ করা এবং অভিযুক্তদের জবাব ও দায় নিশ্চিতে জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করা। ২০২১ সালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশে গুম নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। এতে এ ধরণের ৮৬টি ঘটনা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ সরকার ওই রিপোর্ট অস্বীকার করা ছাড়া আর কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। এছাড়া হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কাছে কোনো ধরণের আপডেট তথ্যও দেয়নি বাংলাদেশ সরকার।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের ওই রিপোর্টে বলে, ২০২১ সালের ১০ই ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের র‍্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন র‍্যাব ও এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কিন্তু এরপর বাংলাদেশ সরকার ভিক্টিমদের পরিবারকে হুমকি ও ভয় দেখাতে থাকে। যদিও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা সত্যিকার অর্থে সেখানে দাবিগুলো যাচাই করে দেখছিল। মায়ের ডাক নামের একটি সংস্থা জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ অন্তত ১০টি পরিবারকে হুমকি দিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে তাদের থেকে জোরপূর্বক মিথ্যা বিবৃতিতে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। এতে তারা দাবি করেছেন, তাদের কোনো স্বজন গুম হয়নি এবং তারা ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি, গুম হওয়া ব্যক্তিদের ভাগ্য কিংবা বর্তমান অবস্থা জানতে কোনো বড় উন্নয়ন না দেখে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু এর পরিবর্তে কর্তৃপক্ষ র‍্যাব কর্মকর্তাদের ও অন্য নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে গভীর তদন্ত এবং অপরাধের দায় থেকে রক্ষার চেষ্টা করছে। মিশেল ব্যাচেলেট বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানান যাতে, গুম নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এতে করে এ ইস্যু চিহ্নিত করায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখা যাবে। তিনি বাংলাদেশকে গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বীকৃতি দেয়ার কথাও বলেন।
মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা বছরের পর বছর ধরে কর্তৃপক্ষের নির্যাতনের মধ্যে রয়েছে, তাদের প্রিয়জনের হদিস সম্পর্কে তাদের জানানো হচ্ছে না। বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ অপরাধীদের দায় নিশ্চিতে প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসটি পালন করা।