ঢাকা   শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩   দুপুর ২:২৪ 

Home Blog Page 140

ভুমি অধিগ্রহণ না করে টেকনাফ পৌর এলাকায়  উচ্ছেদ কার্যক্রমের ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

0

ভুমি অধিগ্রহণ ছাড়া টেকনাফ বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন প্রধান সড়কের ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থাপনায় উচ্ছেদ কার্যক্রমমের ওপর  নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হাইকোর্ট। এর ফলে, সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং টেকনাফ পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে সেখানে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালাতে পারবে না।
একই সঙ্গে ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থাপনায় ভুমি অধিগ্রহন ব্যতীত বিনা নোটিশে উচ্ছেদ কার্যক্রমমের প্রক্রিয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা  জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সচিব,কক্সবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ,টেকনাফ পৌরসভার মেয়র, টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যন্ডকে) এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত পৃথক পৃথক ছয়টি আবেদন শুনানি নিয়ে বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি মুজিবর রহমান মিয়া বিচারপতি মহিউদ্দীন শামীম এর সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তার সাথে ছিলেনএস এম জুলফিকার আলী জুনু। অন্যাদিকে, রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যার্নি জেনারেটর ব্যারিস্টার নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

আইনজীবী এসএম জুলফিকার আলী জুনু আরো জানান, টেকনাফ পৌরসভায় সড়ক বর্ধিত করার জন্য সড়ক ও জনপদ এবং টেকনাফ পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে সম্প্রতি টেকনাফ বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন প্রধান সড়কের ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থাপনায় বিনা নোটিশে উচ্ছেদ পরিচালনার জন্য প্রশাসন কর্তৃক লাল দাগ দেয়। এর পরে উচ্ছেদ পরিচালনার জন্য মাইকিং করা হলে তারা ৮ ডিসেম্বরের পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সময় দিয়ে এবং নিয়মতান্ত্রিক উচ্ছেদের জন্যে আর্জি জানান। তাতে সাড়া না দেয়ায় হাইকোর্টে রিট করেন ভুমির মালিকরা।

বিনা নোটিশে এবং ক্ষতিপুরণ না দিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধে ওই সব স্থাপনার ৬জন মালিক যথাক্রমে হাজী হামিদ হোসেন, হাজী আব্দুল হাফেজ, মো.সিদ্দিক, বশির আহমেদ, হাজী আব্দুল কাদের ও মো: আলম বাদী হয়ে রিট করেন। ওই রিটের শুনানী করে হাইকোর্ট উচ্ছেদের উপর নিষেধাজ্ঞা ও রুল জারি করেন। 

আইনজীবীকে আটক রাখার জের; ঢাকার সিএমএম আদালতে বিচারকের অপসারণ দাবিতে আইনজীবীদের বিক্ষোভ, আদালতে তালা

0

এক আইনজীবীকে ‘দুই ঘণ্টা আটকে রাখার’ অভিযোগে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূরের ‘অপসারণ’ চেয়ে আদালতে বিক্ষোভ করছেন আইনজীবীরা।
বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা বুধবার সকালে মিছিল করে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূরসহ কয়েকজন বিচারকের এজলাসে ঢুকে পড়েন এবং বিচার চেয়ে শ্লোগান দিতে শুরু করেন।
এ সময় হৈ চৈয়ের মধ্যে আদালতপাড়ার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিচার কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
আইনজীবীরা ওই বিচারকের এজলাসে তালা লাগিয়ে দেন এবং পুরানো মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত ভবনের কলাপসিবল গেইটেও তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদশীরা জানান।
আইনজীবীরা জানান, মঙ্গলবার ‘এজলাসে উঠে বিচারকের আসন গ্রহণ করতে দেরি হওয়ায়’ প্রতিবাদ করেছিলেন রুবেল আহমেদ ভূইয়া নামের একজন আইনজীবী। এর জেরে ওই আইনজীবীকে ‘দুই ঘণ্টা আটকে রাখেন’ হাকিম আসাদুজ্জামান নূর।
এর প্রতিবাদে বুধবার সকালে বিক্ষোভ শুরু করেন আইনজীবীরা। খবর পেয়ে বারের আইনজীবী নেতারা বিষয়টি সুরাহা করতে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত ভবনে আসেন।
আইনজীবীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা বারের সাধারণ সভা আহ্বান করবেন।
ওই বিচারকের বিষয়ে ‘যথাযথ আইনি ব্যবস্থা’ নিতে আইন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবারের ঘটনা সম্পর্কে আইনজীবী মাহবুবুল হক ভূঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান , আইনজীবী রুবেল আহমেদ ভূইয়া মঙ্গলবার বেলা ১১টায় একটি মামলার শুনানি করতে বিচারক আসাদুজ্জামান নূরের এজলাসে যান।
“অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর ওই আদালতের পেশকার জানান, দুপুর ১২টায় বিচারক এজলাসে উঠবেন। তখন আইনজীবী বলেন, ‘একটা নির্দিষ্ট সময় বলা হোক, তা না হলে আমাদের সমস্যা হয়। সকালে অন্য আদালতেও মামলা থাকে। এক মামলার শুনানি করতে গেলে অন্যটিতে করা যায় না।’
“পরে বিচারক এজলাসে উঠে ওই আইনজীবীকে অন্য মামলা সেরে আসতে বলেন। অন্য মামলা সেরে আসার পর আইনজীবী রুবেল তার কনিষ্ঠ সহযোগী আইনজীবীকে পাঠান এ মামলা শুনানি করতে। তখন বিচারক বলেন, ‘সেই আইনজীবীকে আসতে হবে, যিনি সময় বিভ্রাটে পড়েছেন’।
“আইনজীবী রুবেল এজলাসে এলে কোনো কথা না শুনেই বিচারক এজলাসে থাকা পুলিশকে নির্দেশ দেন ওই আইনজীবকে আটক করার জন্য। পরে অন্য আইনজীবীরা বিচারককে অনুরোধ করে তাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।”
এর আগে মঙ্গলবার লক আপে আটকে রাখার অভিযোগে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বরাবর আবেদন দিয়েছেন ভুক্তভোগী আইনজীবী। আবেদনে তিনি বলেন, মঙ্গলবার আমি ওই আদালতে মামলা পরিচালনা করতে যাই। এ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় বিচারক এজলাসে উঠবেন বলে জানান। কিন্তু ১১টার দিকেও বিচারক না ওঠায় বিষয়টি পেশকারের কাছে জানতে চাই। পরে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে বিচারক আমার মামলা না শুনে পরে আসতে বলেন। পরে গেলে আমাকে দুই ঘণ্টা লক আপে আটকে রাখেন এবং বলেন, আমার সনদ বাতিল করে দেবেন এবং সব ম্যাজিস্ট্রেটকে বলে দেবেন, আমার মামলা না শোনার জন্য। আমি বিষয়টিতে চরম অপমান বোধ করছি এবং উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

নানির মামলায় মা-বাবা কারাগারে; অবুঝ দুই শিশুর মাকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ হাই কোর্টের

0

চুরি ও মারধরের অভিযোগে নানির করা মামলায় পুরান ঢাকার অবুঝ দুই শিশুর মাকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
সেই সাথে তাদের বাবাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছে আদালত।
গণমাধ্যমে আসা একটি খবর নজরে আনা হলে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেয়।
‘আদালতের বারান্দায় দুই শিশুর কান্না, বিচারের বাণী কাঁদল নিভৃতে’ শিরোনামে মঙ্গলবার ওই প্রতিবেদন প্রচার করে চ্যানেল টোয়েন্টিফোর। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনিরুজ্জামান আসাদ, শিশির মনির ও কুমার দেবুল দে প্রতিবেদনটি হাই কোর্টের নজরে আনেন।
পরে অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, আদালত শুনানি নিয়ে শিশু দুটির মাকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি শিশু দুটির বাবার জামিনের বিষয়টি বিচারিক আদালতকে বিবেচনা করতে বলেছে।
“হাই কোর্টের আদেশের সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঢাকার সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশে দুই শিশুর মাকে মুক্তি দিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশু দুটির নানি মোমেনা বেগম পারিবারিক কলহের জেরে নিজের মেয়ে ওয়াসিমা বেগম ও জামাতা তোফায়েলের বিরুদ্ধে চুরি ও মারধরের অভিযোগে বংশাল থানায় মামলা করেন। এই মামলায় তারা গ্রেপ্তার হয়ে গত শুক্রবার থেকে কারাগারে আছেন।
এ অবস্তায় আড়াই বছরের শিশু ইয়াছিন ও সাড়ে তিন বছরের টুম্পাকে দেখার কেউ নেই। মঙ্গলবার শিশু দুটিকে নিয়ে জামিনের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হন প্রতিবেশীরা। কিন্তু আদালত শিশুদের বাবা-মাকে জামিন দেয়নি বলে জানানো হয় ওই প্রতিবেদনে। সূত্র- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে সুসংহত আইনি কাঠামো অপরিহার্য – আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

0

উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনের জন্য সুসংহত আইনি কাঠামোসহ আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন অপরিহার্য বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, সেকারণেই সরকার বিষয়ভিত্তিক নতুন নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইন যুগোপযোগী করার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এক্ষেত্রে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।
লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অতিথি হিসেবে বনানীর বাসা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথমবার সরকার গঠনের পর লেজিসলেটিভ ড্রাফটিং উইং প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০০৯ সালে পুনরায় সরকার গঠন করলে ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর উক্ত উইংকে তিনি লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে উন্নীত করেন। আইনি পরিকাঠামো বিনির্মাণে এ বিভাগ সরকারকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য, পুষ্টি, মাতৃত্ব, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন, ক্রীড়া, পরিবেশ, টেলিযোগাযোগ, সংস্কৃতি, সামাজিক নিরাপত্তা, জেন্ডার সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রভূত অগ্রগতি সাধিত হয়েছে যা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হচ্ছে । সরকারের এ সকল কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন আইন, অধ্যাদেশ ও আইনি মর্যাদা সম্পন্ন দলিল, চুক্তি ইত্যাদি প্রণয়নে এ বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মন্ত্রী জানান, এ বিভাগের সহায়তায় ২০০৯ সাল হতে অদ্যাবধি গুরুত্বপূর্ণ ৫১০টি আইনের খসড়া প্রণয়ন ও ভেটিং, ৪৪টি অধ্যাদেশ প্রণয়ন, ৪৪১৫টি বিধিমালা, প্রবিধানমালা, আদেশ, নীতিমালা ইত্যাদির খসড়া প্রণয়ন ও ভেটিং, প্রায় ৪৫০টি চুক্তি ভেটিং এবং আইনি ব্যবস্থায় জনগণের অভিগম্যতা এবং সকলের কাছে আইনের সহজবোধ্যতা ও সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণ ও আন্তর্জাতিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ১৬৮টি আইন, বিধিমালা ও চুক্তির নির্ভরযোগ্য অনূদিত পাঠ প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি জানান, “ল’জ অব বাংলাদেশ” (http://bdlaws.minlaw.gov.bd) website টি বাংলাদেশের প্রচলিত ১৭৯৯ হতে অদ্যাবধি সকল আইনের একটা বিশাল অনলাইন ভাণ্ডার। যার মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী তার চাহিদামত সর্বশেষ প্রকাশিত আইন ও অধ্যাদেশ এবং উহার সফট্‌কপি ডাউনলোডসহ প্রয়োজনে প্রিন্ট করতে পারেন। বর্তমানে এটাই বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের একমাত্র ওয়েব পোর্টাল যা প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার বার অনুসন্ধান হয়ে থাকে।
তিনি বলেন, রূপকল্প বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি মধ্য-আয়ের, জ্ঞানভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধশালী ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর যাদুকরি নেতৃত্বে দেশ আজ বিস্ময়কর অর্থনৈতিক উন্নতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধন করে চলছে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মানবাধিকারের সংগ্রামের ফসল হিসেবে। আর এই ফসল ফলিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বর্তমান সরকারই ১৯৯৬ সনে তাদের যুগান্তকারী রাজনৈতিক উত্থানের পর দেশে একটি মানবাধিকারের পরিবেশ সৃষ্টি এবং পূর্বসূরিদের অনুসৃত বিচারহীনতার সংস্কৃতি তিরোহিত করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা প্রথম অনুভব করতে পেরেছিলেন।
বক্তৃতায় লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে লেজিসলেটিভ ক্যাডার সার্ভিস গঠনের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।
লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবির এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার সহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানের প্রথমে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও কার্যক্রম নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

কোটি কোটি টাকা পাচার; লক্ষীপুরের এমপি পাপুল ও পরিবারের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মামলা সিআইডির

0

মানব পাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের সহকারী পুলিশ সুপার আল আমিন হোসেন মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টন থানায় ‘মানিলন্ডারিং’ প্রতিরোধ আইনে এ মামলা করেন।
পাপুল ছাড়াও তার শ্যালিকা জেসমিন প্রধান, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম, ভাই কাজী বদরুল আলম লিটন, ব্যক্তিগত কর্মচারী মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান মনির, জেসমিন প্রধানের কোম্পানি জে ডব্লিউ লীলাবালী, কাজী বদরুল আল লিটনের মালিনাধীন কোম্পানি জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল এবং এই কোম্পানির ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫-৬জনকে আসামি করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলকে গত ৬ জুন কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সে দেশের পুলিশ।
মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সেখানে যে মামলা হয়েছে, আগামী ২৮ জানুয়ারি তার রায় হওয়ার কথা রয়েছে।
পাপুল কুয়েতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত ১১ নভেম্বর তার এবং তার স্ত্রী সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, শ্যালিকা ও মেয়ের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা করে দুদক।
সেই মামলায় আগামী ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
সিআইডির করা মামলার এজাহারে বলা হয়, পাপুল এবং তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘মানবপাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের’ অভিযোগ পাওয়ার পর অনুসন্ধান শুরু হয়।
“অনুসন্ধানকালে জানা যায়, কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুল সংঘবদ্ধভাবে তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তি ও সত্তার সহযোগিতায় মানব পাচারের মাধ্যমে প্রচুর অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।”
প্রকৃত উৎস গোপনের’ জন্য সেই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা ও স্থানান্তর করে ‘নামে-বেনামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদে রূপান্তর’ করার অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়।
এজাহারে বলা হয়, পাপুলের প্রতিষ্ঠান ‘মারাফিয়া কুয়েতিয়া’ কে অবৈধ ঘোষণা করে কুয়েত সরকার পাচারের শিকার ১১ জন ভিকটিমকে এ বছরের জুনে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। তারা জানান, কুয়েতে যাওয়ার জন্য পাপুলের কর্মচারী সাদিকুর রহমান মনির এবং মগবাজারের জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সি জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনালের ব্যাংক হিসাবে তারা প্রত্যেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা দিয়েছিলেন।
এরপর আব্দুল আলীম নামের একজন ভিকটিম গত ৭ জুলাই মতিঝিল থানায় পাপুল ও মনিরসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন।
অনুসন্ধানে নেমে সিআইডি জানতে পারে, পাপুলের ব্যক্তিগত কর্মচারী মনির দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কুয়েতে পাঠানোর জন্য লোক সংগ্রহ করতেন এবং জনপ্রতি ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা করে নিতেন।
এজাহারে বলা হয়, রূপালী ব্যাংকের রাজারবাগ শাখায় মনিরের একটি হিসাবে ২০১৬ থেকে ২০২০ পর্যন্ত সময়ে কুয়েত যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের দেওয়া ৩৮ কোটি ২২ লাখ টাকা জমা করা হয়েছে, যা পরে পাপুল, জেসমিন এবং ওয়াফার নামে পরিচালিত ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর ও তোলা হয়েছে।
এর মধ্যে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের হাতিরপুল শাখায় জেসমিন প্রধানের অ্যাকাউন্টে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।
একই শাখার জেসমিনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান জেডাব্লিউ লীলাবালীর অ্যাকাউন্টে আরও ৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। অথচ জেসমিন প্রধানের সঙ্গে সাদিকুর রহমান মনিরের কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্কের তথ্য পাওয়া যায়নি।
মামলায় বলা হয়, “জেসমিন প্রধানের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবসমূহে জমা ও উত্তোলনকৃত সম্পূর্ণ অর্থ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুল নিয়ন্ত্রণ, ভোগ ও অন্যান্য অজ্ঞাত স্থানে স্থানান্তর করেছেন মর্মে অনুসন্ধানকালে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়।”
মনিরের হিসাব থেকে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের গুলশান শাখায় পাপুল এবং তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘ফোর পয়েন্ট হাউজিং’ এর হিসাবে মোট ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা স্থানান্তরের কথাও মামলায় বলা হয়েছে।
আর মনিরের অ্যাকাউন্ট থেকে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের হাতিরপুল, শাখায় পাপুলের মেয়ে ওয়াফা ইসলাম এবং গুলশান শাখায় তার মালিকানাধীন কোম্পানি সাফা জেনারেলের হিসাবে মোট ১৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করার তথ্য পেয়েছে সিআইডি।
এজাহারে বলা হয়, মতিঝিল থানার মানব পাচার মামলায় পাপুলের ভাই লিটনের কোম্পানি জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজার গোলাম মোস্তফাকে গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। সেখানে জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনালের মালিক কাজী বদরুল আলম লিটনের ‘নির্দেশে’ মানব পাচারের বিভিন্ন ভিকটিমের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা নেওয়ার কথা ‘স্বীকার করেন’।
“এই টাকা জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনালের মালিক কাজী বদরুল আলম লিটন ও কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুলকে প্রদানের কথাও তিনি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।”
তবে সিআইডির অনুসন্ধানে ‘মানব পাচারের আয়’ সরাসরি পাপুলের স্ত্রী সাংসদ সেলিনা ইসলামের হিসাবে স্থানান্তরিত হওয়ার কোনো তথ্য মেলেনি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিআইডি বলছে, এ মামলার আসামিরা “সংঘবদ্ধভাবে মানব পাচারের মাধ্যমে অন্যূন ৩৮ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৭ টাকা অবৈধ আয় করেন। এই আয়ের প্রকৃত উৎস গোপনের জন্য বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদে রূপান্তর, ভোগবিলাসে ব্যয় এবং অন্যান্য ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন মর্মে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়।” সূত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

২৯৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ; জি কে শামীম ও তার মায়ের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগপত্র অনুমোদন

0

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় গ্রেপ্তার,
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় বিতর্কিত ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া ওরফে জি কে শামীম ও তার মা আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২৯৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মঙ্গলবার কমিশন এই অভিযোগপত্র অনুমোদন দিয়েছে বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “শিগগিরই এই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
গত বছরের ২১ অক্টোবর শামীম ও তার মা আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে ২৯৭ কোটি ৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন। বাদী নিজেই মামলাটি তদন্ত করেন।

তদন্ত প্রতিবেদন বলা হয়, জি কে শামীম ২০১৮-২০১৯ করবর্ষ পর্যন্ত ৫০ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। এর মধ্যে আয়কর নথিতে ৪০ কোটি ২১ লাখ ৪০ হাজার ৭৪৪ টাকার তথ্য উল্লেখ করলেও মোট টাকার বৈধ উৎস পায়নি দুদক।

এছাড়া শামীমের বাসা থেকে উদ্ধার করা নগদ এক কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা ও সাত লাখ ৪৭ হাজার টাকার বিদেশি মূদ্রা, শামীম ও তার মা আয়েশা আক্তারের নামে ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকার এফডিআর, মায়ের নামে আরও ৪৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার ব্যবসার অংশীদার এবং জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানির শেয়ার, গাড়ি ও এফডিআর বাবদ ৩৬ কোটি ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৭১৯ টাকার অস্থাবর সম্পদের বৈধ উৎস দুদক পায়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
গত বছর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মধ্যে ২০ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিকেতনে শামীমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় র‌্যাব।

ওই ভবন থেকে নগদ এক কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ৯ হাজার ইউএস ডলার, ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকার ১০টি এফডিআর, ৩২টি ব্যাংক হিসাবের চেক বই, আটটি আগ্নেয়াস্ত্র ও মদ পাওয়ার কথা জানানো হয় অভিযান শেষে।
জি কে শামীমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জি কে বিল্ডার্সের হাতে সরকারি প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার ২২টি নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারি কাজ ছিল। পরে সেগুলোর কার্যাদেশ বাতিল হয়।
শামীমের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ছাড়াও অস্ত্র ও মাদক আইনে আরও দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে অর্থপাচার ও অস্ত্র মামলায় বিচার শুরু হয়েছে।

ডিএমপির কোতোয়ালি থানার ওসিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

0

চাঁদা দাবির অভিযোগে রাজধানীর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পাঁচজনের বিরুদ্ধে রহিম নামের এক ব্যক্তি মামলা করেছেন। গত ১৭ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে তিনি এই মামলা করেন। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ মামলাটি তদন্ত করার জন্য ঢাকার মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার অন্য চার আসামি হলেন কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুল ইসলাম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) খায়রুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম এবং পুলিশের কথিত সোর্স দেলোয়ার হোসেন।
মামলার কাগজপত্রের তথ্য অনুযায়ী, মামলায় বাদী মো. রহিম দাবি করেন, পেশায় তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। গত ১২ অক্টোবর তিনি কেরানীগঞ্জ থেকে বাসায় ফিরছিলেন। রাত ৮টার সময় কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া সেতুর ওপর থেকে তাঁকে তিনজন নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে কোতোয়ালি থানাধীন বাবুবাজার সেতুর কাছে নিয়ে আসেন। তখন কোতোয়ালি থানার এসআই আনিসুল ইসলামসহ অন্যরা রহিমের কাছ থেকে ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন। তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর কাছ থেকে পুলিশ এক ভরি সোনা, ৬৩ হাজার টাকা নেয়।
মামলায় রহিম দাবি করেন, ১০টি ইয়াবা বড়ি জব্দ দেখিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। ১৭ দিন কারাগারে থাকার পর তিনি গত ৩০ অক্টোবর জামিন পান। সূত্র প্রথম আলো।

শিশুপুত্র সামিউল হত্যা: মা এশা ও প্রেমিক বাক্কুর মৃত্যুদণ্ড

0

এক দশক আগে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিংয়ে পাঁচ বছরের শিশু খন্দকার সামিউল আজিম ওয়াফিকে হত্যার ঘটনায় তার মা আয়েশা হুমায়রা ওরফে এশা ও তার প্রেমিক শামসুজ্জামান বাক্কুর ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত।
ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম রোববার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
দুই আসামি আয়েশা হুমায়রা এশা এবং শামসুজ্জামান বাক্কু জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন। আর মামলার বাদী সামিউলের বাবা কে আর আজম বিচার চলার মধ্যেই মারা গেছেন।
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি দুই আসামির প্রত্যেককে একটি ধারায় পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন বিচারক। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পরোয়ানা জারি করে পুলিশ মহাপরিদর্শক, ঢাকার পুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার, গাজীপুরের পুলিশ সুপার এবং পাবনার পুলিশ সুপারকে তার কপি পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, “এশা ও বাক্কু তিন বছর ধরে বিবাহ বহিভূর্ত সম্পর্ক চালিয়ে আসছিলেন। সামিউল ছিল এশার একমাত্র সন্তান। সে তার মায়ের ওই সম্পর্কের বিষয়ে জানত, সে কারণে এশা তার সন্তানের মুখ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বাক্কুকে প্রলুব্ধ করে। অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় সামিউলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
“মামলার ভিকটিম একজন নির্দোষ শিশু হওয়ার পরেও হত্যার হাত থেকে কোনো অনুকম্পা বা ক্ষমা পায়নি। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। তাদের জন্য মৃত্যুদণ্ডই একমাত্র উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিৎ।”
সামিউলের বাবা কে আর আজমের বন্ধু ও ব্যক্তিগত আইনজীবী ইসলাম উদ্দিন বিশ্বাস এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর ফারুক উজ্জামান ভূঁইয়া এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তবে সামিউলের পরিবারের কেউ রায়ের সময় আদালতে ছিলেন না; ছিলেন না পলতকদের আইনজীবীরাও।
নবোদয় হাউজিংয়ের গ্রিনউড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্লে গ্রুপের ছাত্র ছিল সামিউল। মায়ের ‘পরকীয়া’র জেরে ২০১০ সালের ২৩ জুন রাতে আদাবরে নিজেদের বাসায় সে খুন হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়, বাক্কু ও এশার ‘প্রেমের সম্পর্ক’ দেখে ফেলায় সামিউলকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ বস্তায় ভরে ফেলে রাখা হয় আদাবরের নবোদয় হাউজিংয়ে সামিউলদের বাসার পাশে।
লাশ উদ্ধারের পর সামিউলের মা এশা এবং তার প্রেমিক বাক্কুকে আসামি করে আদাবর থানায় হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করেন সামিউলের বাবা কে আর আজম।
গ্রেপ্তার হওয়ার পর দুই আসামিই আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন বলে সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
২০১১ সালের  ২৫ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার ওসি কাজী শাহান হক এ মামলায় বাক্কু ও এশার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
পরের বছর ১ ফেব্রুয়ারি ওই দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। এর সাত দিনের মাথায় আদালতে বাদী আজমের জবানবন্দি ও জেরা গ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার  সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
এদিকে ২০১৪ সালে মামলার বাদী কে আর আজম থানায় একটি জিডি করেন। সেখানে বলা হয়, হাই কোর্ট থেকে জামিনে বেরিয়ে বাক্কু তাকে হুমকি দিচ্ছেন, মামলা চালানো বন্ধ না করলে ‘ছেলের মতো তাকেও মেরে ফেলা হবে’।
ওই বছরই আদালতে আবেদন করে স্ত্রীর জামিন করিয়েছিলেন আজম, পরে কিছুদিন স্ত্রীর সঙ্গে ঘরও করেছিলেন তিনি।
কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত আজম মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই মারা যান। মৃত্যুর আগে ২০১৫ সালের নভেম্বরে মামলার গতিপ্রকৃতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
এ মামলার বিচার চলাকালে মোট ২২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। গত ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে।

মামলাজট কমাতে আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তিতে জোর দেয়ার তাগিদ আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের

0

বর্তমান বিশ্বে শতকরা ৯০ ভাগ মামলা স্বাভাবিক আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি হয়। মামলাজট কমাতে বাংলাদেশকে সেদিকেই যেতে হবে। এ জন্যই সরকার বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতি চালু করেছে। বিচারপ্রার্থী জনগণসহ আইনজীবীদের এ পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে হবে।
রোববার ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জিপি (জেনারেল প্রসিকিউটর ) এবং পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর)দের জন্য অনলাইনে আয়োজিত ২২তম বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
মীমাংসাযোগ্য মামলাগুলো আদালতের বাইরে নিষ্পত্তির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলে গেছেন যদি কোনো দেওয়ানী মামলা দাদা শুরু করেন তাহলে তা বাবা চালায়, ছেলে চালায়, নাতি চালায় তাও শেষ হয়না। এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। আমরা আর এর মধ্যে থাকতে চাই না। এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
দুর্নীতির ক্ষেত্রে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের বিষয়টি সরকারি আইন কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আদালত অঙ্গনে দুর্নীতি সংক্রান্ত সকল প্রচলিত প্রথা পরিহার করে সততা, স্বচ্ছতা, সাহসিকতা এবং গাতিশীলতার সমন্বয় ঘটিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নিজ নিজ কর্মস্থলে উন্নত নৈতিকমান ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে আন্তরিকতার সাথে সরকারি মামলা পরিচালনা করতে হবে। বিচারপ্রার্থী জনগণ যাতে তাদের নিকট সবরকম সহোযোগিতা পায় সে বিষয়েও সজাগ থাকতে বলেন আইনমন্ত্রী।
আইন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী আরও বলেন, সকল প্রকার দুর্নীতি হতে দূরে থেকে দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার প্রতিটি পর্যায়ে সততা, দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও আন্তরিকতার সাথে আইনানুগভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাহলেই জনগণের প্রত্যাশিত স্বল্পসময়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে এবং বিচার বিভাগের প্রতি সাধারণ জনগণের আস্থা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, আপনারা স্ব স্ব জেলার সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা। সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই উপলব্ধি করেছি যে, আপনাদের বেতন বা ফি বাড়ানো দরকার। আপনাদের একটি সম্মানজনক এবং আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মতো ফি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
মন্ত্রী বলেন, আজকে আমাদের এই ভার্চুয়াল সিস্টেম না থাকলে কিন্তু জীবনযাত্রা পথ বন্ধ হয়ে যেত। আমরা দেখেছি যতক্ষণ পর্যন্ত সেই ভার্চুয়াল অ্যাক্ট না করতে পেরেছি ততক্ষণ পর্যন্ত কিন্তু আদালত ও বিচার কাজ বন্ধ ছিল, আইনজীবীদের কাজও বন্ধ ছিল। ভার্চুয়াল কোর্ট চালু হওয়ার পরে ৭২ হাজার লিটিগ্যান্ট পাবলিককে রিলিফ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এটা আমাদের একটা গর্বের বিষয়। ভার্চুয়াল কোর্ট করার এই পদক্ষেপগুলো বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে।
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার এবং ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. গোলাম কিবরিয়া বক্তৃতা করেন।

সিগারেটের দাম ও করকাঠামোর আন্তর্জাতিক সেরা মানদণ্ডের চেয়ে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ

0

বাংলাদেশসহ ১৭০টিরও বেশি দেশের সিগারেট করনীতির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে প্রথমবারের মত ইন্টারন্যাশনাল সিগারেট ট্যাক্স স্কোরকার্ড প্রকাশ করেছে টোব্যাকোনমিকস। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েস শিকাগো (ইউআইএস) এর হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইনস্টিটিউটের অধীনে টোব্যাকোনমিকস মূলত অর্থনৈতিক গবেষণা করে থাকে।
গবেষণায় বাংলাদেশের প্রাপ্ত স্কোর ২.৩৮ (৫ এর মধ্যে), যা বৈশ্বিক গড় স্কোরের (২.০৭) চেয়ে সামান্য বেশি। তবে সিগারেটে করারোপের ক্ষেত্রে যেসব দেশ খুব ভালো স্কোর (৪.৬৩) করেছে তাদের তুলনায় বাংলাদেশের এখনও অনেক উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি স্কোর পাওয়া দুটি দেশ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড। দেশদুটিতে সিগারেটের উপর উচ্চহারে সুনির্দিষ্ট একক এক্সাইজ কর চালু থাকায় এবং নিয়মিতভাবে তা বৃদ্ধি করায় সিগারেটের সহজলভ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
টোব্যাকোনমিকস স্কোরকার্ড বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের তথ্য ব্যবহার করে দেশগুলির সিগারেট কর নীতিমালা মূল্যায়ন করেছে। প্রায় অর্ধেক দেশ দুইয়ের নিচে স্কোর পেয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সার্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে খুব সামান্যেই, বৈশ্বিক গড় স্কোর ১.৮৫ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.০৭।
টোব্যাকোনমিকস এর পরিচালক এবং এই স্কোরকার্ডের প্রধান লেখক ফ্রাঙ্ক জে. চালুপকা বলেন, “এই স্কোরকার্ডের মাধ্যমে এটি পরিস্কার যে, সিগারেটের কর বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে যা কোভিড-১৯ ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় ব্যবহার করা সম্ভব এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, এরফলে অকাল মৃত্যু রোধ হবে এবং যা একটি সুস্থ ও উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠী গঠনে অবদান রাখবে।”
সিগারেট করনীতির স্কোর এ ২০১৪ সালের (০.৮৭৫) তুলনায় ২০১৮ সালে (২.৩৮) বাংলাদেশের কিছুটা অগ্রগতি হলেও সিগারেটের দাম ও করকাঠামোর দিক থেকে বাংলাদেশের তেমন কোনো অগ্রগতি নেই বললেই চলে। উভয় ক্ষেত্রেই মাত্র ১ স্কোর পেয়েছে বাংলাদেশ। বহুস্তরবিশিষ্ট অ্যাডভেলোরেম করকাঠামো এবং ভিত্তিমূল্য খুব কম থাকাই এর অন্যতম প্রধান কারণ।
জাতীয় তামাকবিরোধী মঞ্চের আহ্বায়ক বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, “সিগারেটের বিদ্যমান জটিল মূল্যস্তর প্রথা বাংলাদেশের স্কোর কম পাওয়ার অন্যতম কারণ। বাংলাদেশে সিগারেটে করারোপের ক্ষেত্রে বহুস্তর বিশিষ্ট মূল্যস্তর প্রথা বিলুপ্ত, সুনির্দিষ্ট করপদ্ধতি প্রবর্তন এবং সর্বোপরি জীবন বাঁচাতে, ক্যানসারসহ তামাকজনিত রোগের প্রকোপ কমাতে ও প্রয়োজনীয় রাজস্ব আহরণের জন্য সমস্ত তামাকজাত পণ্যের উপর বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক উল্লেখযোগ্যহারে বাড়াতে হবে।”
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এর রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মাহফুজ কবীর বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে তামাকাসক্ত ফুসফুস করোনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে এবং প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিজ বাড়িতেই পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তামাকের ক্ষতির শিকার এই বিপুল প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠী বর্তমানে মারাত্মকভাবে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সস্তা তামাকপণ্যই এর প্রধান কারণ। তামাকজাত পণ্যের কর বৃদ্ধি করা হলে এর ব্যবহার কমে এবং সরকারের বাড়তি রাজস্ব আয় অর্জন সম্ভব হয়। অতিরিক্ত এই অর্থ সরকার করোনা মহামারি সংক্রান্ত স্বাস্থ্য ব্যয় এবং প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ব্যয় করতে পারবে।”
বাংলাদেশে বছরে ১ লক্ষ ২৬ হাজার মানুষ তামাক ব্যবহারজনিত রোগে অকাল মৃত্যুবরণ করে এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তামাক ব্যবহারের অর্থনৈতিক ক্ষতির (চিকিৎসা ব্যয় এবং উৎপাদনশীলতা হারানো) পরিমাণ ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা, যা উক্ত বছরের জিডিপির ১.৪ শতাংশ। উপরন্তু, কোভিড-১৯ মহামারি বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সুনিশ্চিতভাবে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। প্রয়োজনীয় রাজস্ব সংগ্রহের মাধ্যমে এই অার্থিক ক্ষতি পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশের জন্য একটি দ্রুত এবং সহজ উপায় হবে তামাক কর সংস্কার করা। তামাক ব্যবহারের অর্থনৈতিক এবং স্বাস্থ্য ক্ষতি হ্রাস করার একমাত্র কার্যকর উপায় তামাক কর এবং এক্ষেত্রে সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা হচ্ছে তামাকপণ্যের খুচরা মূল্যের কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ একক সুনির্দিষ্ট এক্সাইজ কর আরোপ এবং মূল্যস্ফীতি ও মাথাপিছু আয়বৃদ্ধির সাথে সঙ্গতি রেখে নিয়মিত কর বৃদ্ধি করা।