ঢাকা   শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩   সকাল ১১:১৪ 

Home Blog Page 142

বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ

0

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ও সন্ধ্যা ৬টায় স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী কর্মসূচী পালন করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এসব কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন, সহ-সভাপতি শাহীন মাতব্বর, আনসার আলী, মাকসুদ হাওলাদার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদসহ নেতৃবৃন্দ।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন বলেন, “১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। বাঙ্গালি জাতির জীবনে সবচেয়ে বড় আনন্দের ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে এনেছিল। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা পেয়েছিলাম বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা। সেই জাতীয় পতাকা আবারও খামচে ধরতে চায় একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানের দোসররা। সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ও আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য বিজয়ের মাসে শপথ হোক- স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির সকল ষড়যন্ত্র আমরা রুখে দিবো। লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রার ধারা অব্যাহত রাখবো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সমগ্র দেশে তরুণ প্রজন্মের মাঝে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা ও পৌরসভা ইউনিট মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে উক্ত কর্মসূচিগুলো ধারাবাহিক ভাবে পালন করবে।”প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় দৃঢ় থাকতে দেশবাসির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহবান,বললেন এ মাটিতে সকলের সমান অধিকার থাকবে

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান বিজয় দিবসে দেশবাসীকে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় দৃঢ় থাকার আহ্বান পুণর্ব্যক্ত করে বলেছেন, এই দেশের মাটিতে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই সমান অধিকার নিয়েই বসবাস করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মনে রাখতে হবে-সকলে এক হয়ে মুক্তিযুদ্ধে রক্ত ঢেলে দিয়ে এদেশ স্বাধীন করেছে। যার যা ধর্ম তা পালনের স্বাধীনতা সকলেরই থাকবে।’
আমরা সেই চেতনায় বিশ্বাস করি এবং ইসলাম আমাদের সে শিক্ষাই দিয়ে থাকে,’ বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বুধবার বিকেলে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে একথা বলেন।
তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২৩, বঙ্গবন্ধু এভেনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটা কথাই বলবো এই মাটিতে হিন্দু, মুসলমান, খ্রীস্টান, বৌদ্ধ-সকল ধর্মের মানুষের বসবাস থাকবে অর্থাৎ আমরা মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ বলে অন্য ধর্মকে অবহেলার চোখে দেখবো তা নয়।’
তিনি বলেন, ‘হযরত মুহম্মদ (সা:) ও আমাদের সে শিক্ষাই দিয়ে গেছেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকলকে আমি এটুকুই বলবো সকলকে যেকোন পরিস্থিতি সহনশীলতার সঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে। কে কি বললো না বললো তা শোনার থেকে কতটুকু আমরা দেশের জন্য করতে পারলাম সেটাই আমাদের চিন্তায় থাকবে। তাহলেই আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবো। সঠিক কাজ করতে পারবো।’
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালের মহান বিজয়ের প্রাক্কালে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। যাতে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য জ্ঞানী, গুণী কেউ না থাকে। ঠিক যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশেষ করে ৮ ও ৯ ডিসেম্বর ব্যাপকভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যা চলে এবং আমরা ১৪ ডিসেম্বর দিনটিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালন করি।
নিজে একজন স্বজনহারা তাই স্বজনহারার বেদনা তাঁকে স্পর করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময়ে অনেকে তাঁদের পরিজনের লাশও পাননি। আবার ’৭৫ এ জাতির পিতার সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর আওয়ামী লীগ, ছাত্র লীগসহ সংগঠনের বহু নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, যাঁদের লাশ ও পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ‘এই নির্যাতন তো চলছে। অগ্নিসন্ত্রাস থেকে শুরু করে নানাভাবে, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস-সবকিছু আমরা দেখেছি।’
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে কথা ওঠানোর চেষ্টা হয়েছে। বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষ সমান সুযোগ নিয়ে চলবে।’
তিনি এ সময় কোভিড-১৯ বিষয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করায় দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি সবাইকে অনুরোধ করবো আমাদের সংগঠনটাকে শক্তিশালী করতে হবে। জাতির পিতার আদর্শকে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে।’
তিনি বলেন, যে নামটি ’৭৫ এর পরে মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল সেখানে আজ ইউনেস্কো ঘোষণা দিয়েছে-জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে অর্থনীতির ক্ষেত্রে যাঁরা অবদান রাখতে সমর্থ হবেন তাঁদের আন্তর্জাতিক পুরস্কার দেয়া হবে।
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘এটা মুজিব শতবর্ষে সমগ্র বাঙালি জাতির জন্য বড় একটি উপহার বলে আমি মনে করি।’
আলোচনা সভায় প্রারম্ভিক বক্তৃতা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদও বক্তৃতা করেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য এবং নেতৃবৃন্দের মধ্যে-সাবেক মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, কৃষিমন্ত্রী ড.আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং আব্দুর রহমান বক্তৃতা করেন।
এছাড়াও আরো বক্তৃতা করেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আজম এমপি, আওয়ামী লীগ মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও আবু আহমেদ মান্নাফি এবং কেন্দ্রীয় সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জ্বল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীরবিক্রম।
দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ এমপি গণভবন প্রান্ত থেকে আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন। বাসস।

মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিহতের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

0

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতা প্রতিহতের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে বুধবার মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে।
সকালে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে কৃতজ্ঞচিত্তে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়।শোক আর রক্তের ঋণ শোধ করার অঙ্গিকার ব্যাক্ত করার মধ্য দিয়ে উজ্জীবিত জাতি দিবসটি উদযাপন করে অন্য রকম অনুভূতি নিয়ে।
সকালে শীতের কুয়াশা ও ঠান্ডা উপেক্ষা করে সর্বস্তরের মানুষ সাভারে স্মৃতিসৌধের বাইরে ও আশপাশের মহাসড়ক এলাকা এবং ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে সমবেত হতে থাকে।
করোনা মহামারির মধ্যেও ভোরের সূর্য ওঠার আগেই ফুল, মাথায় বিজয় দিবস লেখা ব্যান্ড, জাতীয় পতাকা নিয়ে স্মৃতিসৌধে নামে জনতার ঢল। বিনম্র চিত্তে সমগ্র জাতি ত্রিশ লাখ শহীদকে আরো একবার জানিয়ে দিল ‘আমরা তোমাদের ভুলবো না।’
দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারিভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।
সকাল ৬টা ৩৪ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদ মুক্তিসেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামিম উজ জামান ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এ সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল সামরিক কায়দায় সালাম জানায়। শহীদদের স্মরণে বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর।
অন্যবছর রাষ্ট্রপ্রতি ও প্রধানমন্ত্রী বিজয় দিবসে সাভারে গিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে অন্য রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির মতো এবারের বিজয় দিবসের কর্মসূচিও সীমিত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষেও শহীদ বেদীতে ফুল দেওয়া হয়।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক মমোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার পক্ষথেকে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানও তার সঙ্গে ছিলেন।
এছাড়াও বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, প্রধান বিচারপতি ও তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীতে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সামনে দাঁড়ানো বাংলাদেশে এবারের বিজয়ের উৎসব বড় পরিসরে উদযাপনের কথা থাকলেও করোনার কারনে সকল ধরনের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়। তাই উৎসবের পরিসর হয়েছে সীমিত, আর যেসব কর্মসূচি রয়েছে, তাতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
আওয়ামী লীগ সূর্যোদয়ের ক্ষণে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে। সকাল ৯টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ওসেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা শ্রদ্ধা জানান বীর শহীদদের প্রতি।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, শাজাহান খান ও আব্দুর রহমান, তথ্যমন্ত্রী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এস এম কামাল হোসেন ও মির্জা আজম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা.রোকেয়া সুলতানা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, উপ দফতর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিজয় উল্লাসে জাতীয় স্মৃতিসৌধ চত্বর মুখর ছিলো বিভিন্ন বয়সী মানুষের পদচারণায়। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির ধ্বংসাত্মক, নৈরাজ্যকর কর্মকান্ড প্রতিহত করতে নানা স্লোগান, দেশাত্মবোধক গান, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বেজে চলছিল বিরামহীনভাবে। জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে আসা জনতার এই ঢল অব্যাহত থাকে বেলা ১ টা পর্যন্ত।
একে একে বেদীতে শ্রদ্ধা জানায় কেন্দ্রীয় ১৪ দল, শহীদ পরিবারের সন্তান ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা। বিএনপি, গণফোরাম, যুক্তফ্রন্ট, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানায়।
এ ছাড়া আওয়ামী যুবলীগ,স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, তাঁতিলীগ, জাতীয় পার্টি (জেপি), ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ-’৭১, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জাকের পার্টি, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদসহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন হলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি প্রদ্ধা জানায়।
পরে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ধানমন্ডিন্থ ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে দলীয়নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষথেকে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ সময় বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ ছাড়াও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধীতে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগেরকেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করাহয়। আলোচনা সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাবে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাতীয় প্রেসক্লাব, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সাংবাদিক ফোরাম, ইয়োথ জার্নালিস্ট ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন।
দিবসটি উপলক্ষে সকল সরকারি-আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়। রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা ও রঙ-বেরঙের পতাকায় সাজানো হয়।
শহীদদের আত্মার শান্তি, জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব ধর্মের উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, শিশু পরিবার ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। বাসস।

মহান বিজয় দিবস আজ : একটি স্বাধীন ভূখন্ডের নাম জানান দেয়ার দিন

0

১৬ ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস। বিজয়ের ৪৯তম বার্ষিকী। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিবস এদিন। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশসহ পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখন্ডের নাম জানান দেয়ার দিন।
১৯৭১ সালের এদিনে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শেকল ভেঙ্গে প্রথম স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করে। ২৪ বছরের নাগ পাশ ছিন্ন করে জাতির ভাগ্যাকাশে দেখা দেয় এক নতুন সূর্যোদয়। প্রভাত সূর্যের রক্তাভা ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। সমস্বরে একটি ধ্বনি যেন নতুন বার্তা ছড়িয়ে দেয় ‘জয়বাংলা’ বাংলার জয়, পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল।
যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস-২০২০ উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে,। তবে কোভিড -১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে এ বছর বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে না। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। খবর বাসস।
দিনটি সরকারি ছুটির দিন। সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ সমূহ জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী প্রদান করেছেন। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এদিন সংবাদপত্র সমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এ উপলক্ষে ইলেকট্রনিক মিডিয়াসমূহ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। এছাড়াও বিজয় দিবস উপলক্ষে ভার্চুয়াালি ‘জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জন’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে ।
মহামুক্তির আনন্দ ঘোর এই দিনে এক নতুন উল্লাস জাতিকে প্রাণ সঞ্চার করে সজিবতা এনে দেয়। যুগ যুগ ধরে শোষিত বঞ্চিত বাঙালি চোখে আনন্দ অশ্রু আর ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় সামনে। বিন্দু বিন্দু স্বপ্নের অবশেষে মিলিত হয় জীবনের মোহনায়। বিশ্ব কবির সোনার বাংলা, নজরুলের বাংলাদেশ, জীবনানন্দের রূপসী বাংলা, রূপের তাহার নেইকো শেষ, বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ। বাঙালি যেন খুঁজে পায় তার আপন সত্তাকে।
আদি বাঙালির সাংস্কৃতিক ও আর্থ-সামাজিক জীবন এবং ক্রমবিকাশের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে বাঙালির শীর্য-বীর্য যেন আর একবার ধপ করে জ্বলে উঠে। প্রথম আগুন জ্বলে ৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারি। ফাগুণের আগুনে ভাষা আন্দোলনের দাবি আর উন্মাতাল গণমানুষের মুষ্টিবদ্ধ হাত একাকার হয়ে যায় সেদিন। ভাষার জন্য প্রথম বলীদান বিশ্ববাসী অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করে। সেই থেকে শুরু হয়ে যায় বাঙালির শেকল ভাঙার লড়াই। পাকিস্তানিদের সাথে হিসেব-নিকেশের হালখাতার শুরুতেই রক্তের আঁচড় দিয়ে বাঙালি শুরু করে তার অস্তিত্বের লড়াই। পলাশীর আ¤্রকাননে হারিয়ে যাওয়া সেই সিরাজদ্দৌলা আবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রূপে এ লড়াইয়ে সেনাপতি হিসেবে আবির্ভূত হন। ’৫২ সালে যে আগুন জ্বলেছিল রাজধানী ঢাকা শহরে সে আগুন যেন ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে দেশের আনাচে-কানাচে সবখানে। রবীন্দ্র নাথের গানেরমত ‘যে আগুন জ্বলেছিল মোর প্রাণে, সে আগুন ছড়িয়ে গেল সবখানে সবখানে সবখানে।
বাষট্টি, ঊনসত্তর এবং সত্তর শেষ করে একাত্তরে বাঙালি জাতি হিসাব করতে বসে। হিসেব-নিকেশ আর দেনা-পাওনায় পাকিস্তানিরাও বসে নেই। তারাও অংক কষতে থাকে কিভাবে বাঙালি জাতিকে যুগ যুগ ধরে পরাধীনতার শেকল পরিয়ে রাখা যায়। তাদের কাছে এই অলংকারই বাঙালির শ্রেষ্ঠ প্রাপ্য। ঘড়ির কাঁটার টিক টিক শব্দ জানিয়ে যায় সময় আসছে হিসেব নিকেশ চুকিয়ে দেয়ার পালা।
অবশেষে গভীর কালো নিকষ আঁধার থেকে জেগে উঠে হিরন্ময় হাতিয়ার। ৭ মার্চ একাত্তরের বিশাল জনসমুদ্র থেকে এক যুগের কবি, মহাকাব্যের প্রণেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বজ্রকণ্ঠ ঘোষণা দেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তি সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। রক্ত যখন দিয়েছি তখন আরো দেব, তবুও এদেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।’
এই একটি মাত্র উচ্চারণে যেন বাঙালি সত্যিকার দিক-নির্দেশনা পেয়ে যায়। চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে থাকে বাঙালি। বাঙালি বুঝে যায় শেষ কামড় দেয়ার সময় আসন্ন। পাকিস্তানিরাও আর বসে নেই। পুরো জাতিকে স্তব্ধ করার লক্ষ্যে মারাত্মক মারণাস্ত্র নিয়ে ২৫ মার্চ একাত্তর ঘুমন্ত জাতির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় বাঙালি নিধন যজ্ঞ। বাতাসে লাশের গন্ধ বারুদে বারুদে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন আকাশ। এ যেন এক প্রেতপুরী। আকাশে শকুনের উদ্যত থাবা, নিচে বিপন্ন মানুষের বিলাপ। হায় বাংলাদেশ।একি বাংলাদেশ। এ যেন এক জ্বলন্ত শশ্মান। কিন্তু ঠিকই হাড়ের খুলী একদিন পাললিক হয়।
মুক্তি পাগল বাংলার দামাল ছেলেরা স্বাধীনতার রক্ত সূর্যকে ছিনিয়ে আনবে বলে একদিন অস্ত্র কাঁধে তুলে নেয়। ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমার সবাই শরিক হয়ে থাকে এ লড়াইয়ে। যতই দিন অতিবাহিত হতে থাকে আরো শাণিত হয় প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার অস্ত্র। লক্ষ্য স্থির রেখে শত্রু হননে দৃঢ়তায় এগিয়ে যায় বীর বাঙালি। ইতোমধ্যেই বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন স্পষ্ট হয়ে উঠে। প্রতিবেশী ভারতও জড়িয়ে পড়ে বাঙালির ভাগ্য যুদ্ধে। ডিসেম্বর শেষ পর্যায়ে এসে চূড়ান্ত রূপ নেয় এই যুদ্ধের।
অবশেষে ন’মাসের দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটিয়ে বাঙালি জাতির জীবনে এলো নতুন প্রভাত। এ বিজয়ের মধ্যে এলো হাজার বছরের কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। ১৬ ডিসেম্বর সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সূচিত হলো মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য বিজয়। বাঙালি জাতি এদিন অর্জন করে তার ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের অধিকার। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত আর লাখ লাখ ধর্ষিতা মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বিজয়ের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতা ধরা দেয় বাঙালির জীবনে।

বলাৎকারের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডসহ সাত দফা দাবিতে রাজধানীতে মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

0

গত এক মাসে দেশে প্রায় ৪০ জন মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীকে বলৎকার করা হয়েছে যার মধ্যে ২ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। একজন শিশু আত্মহত্যা করেছে। বলাৎকার নিয়ে দেশের আলেমদের কোন মন্তব্য বা প্রতিবাদ আমাদের চোখে পড়েনি। নিজেদেরকে ইসলামিক দল হিসেবে দাবি করা হেফাজতে ইসলামের নেতারাও বলাৎকারের ঘটনাগুলো নিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করেছে। এ থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় এই বলৎকারের সাথে তারাও জড়িত বা সমর্থনদাতা।

মঙ্গলবার দুপুরে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থী বলাৎকারের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ বক্তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুনের সঞ্চালনায় কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বক্তব্য রাখেন শামসুল উলুম দাউদিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার মোহতামিম ক্বারী হাফেজ মাওলানা আব্দুল আহাদ, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ ও ভাস্কর শিল্পী রাশাসহ নেতারা।
ক্বারী হাফেজ মাওলানা আব্দুল আহাদ বলেন, “বলাৎকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আজ আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। বলাৎকার ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম। বলাৎকারকারী ও এদের সমর্থনদাতারা ইসলামের শত্রু। ধর্ষণের ন্যায় বলাৎকারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার জন্য সরকারের নিকট আমরা আলেম সমাজ দাবি জানাচ্ছি।”
বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন বলেন, “ইসলামের প্রকৃত আদর্শ চর্চাকারী আলেম-ওলামাদের কে আমরা সবসময় সম্মান ও শ্রদ্ধা করি। কিন্তু ধর্মীয় লেবাসধারী কতিপয় ভণ্ড আলেম যারা মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বলৎকার করে যাচ্ছে এবং বলৎকারের সমর্থন দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সবসময় প্রতিবাদ করে আসছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। আমরা মনে করি, বলাৎকারকারীরা প্রকৃতপক্ষে এজিদের বংশধর। এরা ইসলামের শত্রু। এসব ধর্ম ব্যবসায়ীরা পবিত্র মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এরা দেশের সংবিধান ও আইন মানে না। ইবাদতের জন্য পবিত্র মসজিদ। অথচ সেই মসজিদেও এরা রাজনীতি করার চেষ্টা করছে যা সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী। বাইতুল মোকাররম মসজিদসহ দেশের সকল মসজিদে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা বন্ধ করতে হবে।
মানববন্ধন থেকে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সাত দফা দাবি জানায়৷ এগুলো হলো ঃ

১। ধর্ষণের ন্যায় বলাৎকারের অপরাধে অভিযুক্ত ও বলৎকারের সমর্থনদাতাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে।

২। মহানবী (সা:) কে অবমাননাকারী ও বলৎকারের সমর্থনদাতা মামুনুল হক গংদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

৩। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশে অবিলম্বে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে এবং পবিত্র মসজিদ-মাদ্রাসাগুলোতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা বন্ধ করতে হবে।

৪। বিভিন্ন ধর্মীয় সভা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় উস্কানিমূলক গুজব ছড়ানো ও অপপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

৫। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবমাননাকারীদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে এবং দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জেলা, উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করতে হবে।

৬। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন নিপীড়ন বন্ধে মনিটরিং সেল গঠন করে নজরদারি বাড়াতে হবে।

৭। সকল মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত জাতীয় সংগীত গাওয়া , জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ মিনার নির্মাণ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানো বাধ্যতামূলক করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

ফেইসবুক ডটকমডটবিডি ডোমেইন ব্যবহারে আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা

0

ফেইসবুক ডটকমডটবিডি নামের ডোমেইনটি ব্যবহারের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।
ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের দায়ের করা একটি মামলার গ্রহণযোগ্যতার শুনানি নিয়ে ঢাকার জেলা জজ শওকত আলী চৌধুরী সোমবার এই আদেশ দেন।
মামলার পরবর্তী তারিখ রাখা হয়েছে আগামী ৯ মার্চ। সে পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হবে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

ওই ডোমেইন ব্যবহারের ওপর কেন স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে না- আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিবাদীদের সেই ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন বিচারক।

ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের নিয়োগ করা আইনজীবী মোকছেদুল ইসলাম গত ২৩ নভেম্বর এ-ওয়ান সফটওয়্যার লিমিটেড এবং এসকে শামসুল আলম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। বিবাদীদের কাছ থেকে ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয় সেখানে।

ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০১০ সালের ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর থেকে ফেইসবুক ডটকম নামটি নিবন্ধন করানো হয়।

ওই বছরই ফেইসবুক ডটকমডটবিডি নামে একটি ডোমেইন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) এর কাছ থেকে বরাদ্দ নেন এস কে শামসুল ইসলাম।

বিটিসিএলের ওয়েবসাইটে ডোমেইন সার্চ করে দেখা গেছে, ফেইসবুক ডটকমডটবিডি ডোমেইনটি ২০০৮ সালের ৭ ডিসেম্বর সক্রিয় করা হয়। এর মেয়াদ আছে আগামী বছরের ৪ ডিসেম্বর নাগাদ।

সম্প্রতি ‘ফেইসবুক ডটকমডটবিডি’ ডোমেইনটি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিলে তা ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। ডোমেইনটির দাম ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হাঁকা হয়েছে।

এরপর ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ ডোমেইনটি বন্ধ করার জন্য উকিল নোটিস পাঠালেও তা বন্ধ না করায় মামলা দায়ের করা হয়।

ফেইসবুক ডটকমডটবিডি নামের এই ডোমেইন যাতে বিবাদীরা হস্তান্তর করতে না পারে, সেজন্য স্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও চাওয়া হয়েছে এ মামলার আর্জিতে।

এ বিষয়ে বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল মতিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “প্রথমত বিষয় হচ্ছে, এই ডোমেইনটি ২০০৮ সালে বরাদ্দ দেওয়া, অর্থাৎ এক যুগ আগে। ওই সময়ের কাগজপত্র দেখতে হবে। এটি আমার মেয়াদে দেওয়া হয়নি।

“তবে আমি ফেইসবুক থেকে কোনো নোটিস পেয়েছি বলে মনে করতে পারছি না। পেলে অবশ্যই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতাম, অবশ্যই নিতাম।”

ফেইসবুক বা বিখ্যাত কোনো ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে এখন কেউ ডোমেইন বরাদ্দ নিতে চাইলে বিটিসিএল বরাদ্দ দেবে কি না- প্রশ্নে রফিকুল মতিন বলেন, “অবশ্যই কেউ বরাদ্দ পাবেন না। এখন চেষ্টা করলে কোনোভাবেই কেউ পাবেন না। সুপরিচিত যে কোনো ব্র্যান্ডের নামে কোনো ডোমেইন এখন আমরা দিই না।”

গণহত্যার অপরাধে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে ঢাকায় পাকিস্তান দূতাবাস ঘেরাও, স্মারকলিপি প্রদান

0

একাত্তরের গণহত্যা ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের অপরাধে পাকিস্তানকে বাংলাদেশের কাছে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে ১৪ ডিসেম্বর দুপুর ১২ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশ শেষে পাকিস্তান দূতাবাস অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ। শাহবাগে মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। মিছিল থেকে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে পাকিস্তান দূতাবাসে নিয়ে যায় পুলিশ। প্রতিনিধি দলে ছিলেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, ভাস্কর শিল্পী রাশা, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন, আইন বিষয়ক সম্পাদক এজেডইউ প্রিন্স ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি গ্রহণ করেন ডিপ্লোমেটিক পুলিশের ডিসি আশরাফুল ইসলাম।

সমাবেশের বক্তব্য সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, “পাকিস্তানকে অবিলম্বে গণহত্যার দায় স্বীকার করে বাংলাদেশের নিকট রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে পাকিস্তান দূতাবাস এখনো ষড়যন্ত্র চলমান রেখেছে। পাকিস্তান দূতাবাসের কার্যক্রমে নজরদারি বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।”

ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, “পাকিস্তানকে একাত্তরের গণহত্যা ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকাণ্ডের অপরাধে দ্রুত ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় গণহত্যার অপরাধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমরা আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করবো। সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী অপশক্তির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। আমরা এদের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিবো।”

সমাবেশে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল মামুন বলেন, “আজ ১৪ ডিসেম্বর: শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বাঙ্গালি জাতির জীবনে সবচেয়ে বড় কষ্টদায়ক দিন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আজকের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হত্যা করেছিলো জাতির শ্রেষ্ঠ মেধাবী সন্তানদের। প্রতিথযশা লেখক, কবি, সাহিত্যক, চিকিৎসক, শিক্ষক, বিজ্ঞানীদের কে রাতের আঁধারে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যেয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী। পাকিস্তানি জান্তারা যখন বুঝতে পেরেছিল যে, তারা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পরাজিত হতে যাচ্ছে ঠিক তখনই জাতিকে মেধা শূন্য করার জন্য এদেশীয় রাজাকার-আলবদর-আল শামসদের সহযোগিতায় হত্যা করেছিল জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যা দিয়ে শুরু করে ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের পূর্ব পর্যন্ত ত্রিশ লক্ষ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল পাকিস্তানী বাহিনী। এদের দ্বারা দুই লক্ষ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছিল। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করি বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা। একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানী দোসররা আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। লাল-সবুজের পতাকা আবারও খামচে ধরতে চায় পুরনো শকুনেরা। সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাংচুরের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে আঘাত দিয়েছে মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক অপশক্তি পাকিস্তানের দোসর মামুনুল-ফয়জুল গংরা। বিজয়ের মাসে একাত্তরের পরাজিত অপশক্তিদের আবারও পরাজিত করতে হবে। কারণ বঙ্গবন্ধুর অবমাননার মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশকে অবমাননা করা হয়েছে। পাকিস্তানী দোসররা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। সংবিধান লঙ্ঘনকারী ও জাতির পিতার অবমাননাকারী ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল-ফয়জুল গংদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পার হলেও আজ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে একাত্তরের গণহত্যার দায় স্বীকার করেনি। এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানাবিধ ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। একাত্তরের গণহত্যা, শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যা, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যা, জাতীয় চার নেতা হত্যা, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা ইত্যাদি একই সূত্রে গাঁথা। পাকিস্তানকে অবশ্যই এসব নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বাংলাদেশের নিকট রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। পাকিস্তান দ্রুত ক্ষমা না চাইলে বাংলাদেশ সরকারকে পাকিস্তানের সাথে সকল ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হব। অন্যথায় সমগ্র দেশে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আরোও কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করবে।”

ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে : ড. হাছান মাহমুদ

0

ভারতের বন্ধুত্বের সঙ্গে অন্য কারও বন্ধুত্বের তুলনাই হয় না। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক-সহ বহুমাত্রিক সম্পর্ক রয়েছে বাংলাদেশের। ভারতের বহুভাষী সংবাদ সংস্থা ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-এর সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে এমনই জানিয়েছেন বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তাঁর কথায়, “ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।” বাংলাদেশে বিএনপি-জামাতের ভারত বিরোধিতা ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারতীয় সীমান্তের রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশের শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া, শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পরের দিন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে চিনের স্বীকৃতি দেওয়া, ভারত ও বাংলাদেশ সম্পর্ক-সহ বিভিন্ন বিষয়ে হিন্দুস্থান সমাচার-এর বাংলাদেশের প্রতিনিধি কিশোর সরকারকে বিশেষ স্বাক্ষাৎকার দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

হিন্দুস্থান সমাচার: বিএনপি-জামাত সর্বদাই অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ সরকার ভারতকে প্রভু মনে করে, এক্ষেত্রে আপনার কী অভিমত?

তথ্যমন্ত্রী : ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের যে অবদান তা বাংলাদেশের ইতিহাস এবং বাংলাদেশ যতদিন থাকবে ততদিন স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা যেমন প্রাণ দিয়েছে, তেমনই মিত্রবাহিনী হিসেবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যরাও প্রাণ দিয়েছেন। সুতরাং ভারতের বন্ধুত্বের সঙ্গে অন্য কারও বন্ধত্বের তুলনা হয় না। তাই ভারতকে আমরা সর্বদা পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে দেখি, প্রভু হিসেবে নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিএনপি যেভাবে প্রচার করে তা কখনওই তেমন নয়। 

তিনি আরও বলেন, যেহেতু ভারত আমাদের প্রতিবেশী, তাই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক-সহ বহুমাত্রিক সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের সীমান্তজুড়ে ভারতবর্ষ। সুতরাং ভারতবর্ষের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়াই স্বাভাবিক। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, বিএনপি যে রাজনীতিটা করে তা ভারত-বিরোধিতার রাজনীতি। যদিও পর্দার অন্তরালে তারা ভারত তোষণের রাজনীতিটাই করে। যেটি আওয়ামী লীগ করে না। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক পুরোটাই উন্মুক্ত এবং আমরা মনে করি আমাদের প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ থাকা উচিৎ। আর ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমেই আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে।

হিন্দুস্থান সমাচার : বিএনপি-জামাতের অভিযোগ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন পদে পদোন্নতি ও বদলি করা হচ্ছে, আপনি কী মনে করেন?

তথ্যমন্ত্রী : এই দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকলের মিলিত রক্তস্রোতের বিনিময়ে। পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে। ধর্মীয় বিভাজনের ভিত্তিতে যে রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছিল বাঙালিরা সেটি মেনে নেয়নি। কারণ, আপামর বাঙালি মনে করেন, আমদের প্রথম পরিচয় আমরা বাঙালি। আমাদের দ্বিতীয় পরিচয় হচ্ছে, আমরা কেউ হিন্দু, কেউ মুসলিম, কেউ বৌদ্ধ, কেউবা খ্রিস্টান। এটাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বুকে ধারণ করে, লালন করে। কিন্তু বিএনপির ক্ষেত্রে একটা ভিন্নতা আছে। তারা মনে করে, মানুষের আগে পরিচয় হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান হিসেবে। এরপরে তারা বাঙালি না বাংলাদেশী এই নিয়েও দ্বন্দ্বের মধ্যে আছে। বিএনপি সর্বদা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ায়। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময় যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন না করে সংখ্যালঘুদের যোগ্যতা থাকা সত্বেও তাদের পদোন্নতি বা বদলি করা হয় নি। আওয়ামী লীগ সরকার যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ধর্মের ভিত্তিতে নয়। 

হিন্দুস্থান সমাচার : শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পরবর্তী দিনই, বাংলাদেশকে চিনের স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে আপনার কী অভিমত?

তথ্যমন্ত্রী : আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় ভারত যেমন আমাদের অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছে। বাংলাদেশের এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। ভারতের রাস্তায়-রাস্তায় শরণার্থীদের জন্য চাঁদা তোলা হয়েছে। ভারতের সাধারণ মানুষ শরণার্থীদের জন্য চাঁদাও দিয়েছেন। বাংলাদেশের শরণার্থীদের যে শুধু শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল তা কিন্তু নয়, সীমান্ত সংলগ্ন রাজ্যগুলোর সাধারণ মানুষেরা নিজেদের বাড়িতেও আশ্রয় দিয়েছেন। এক কোটি মানুষকে আশ্রয় দেওয়া চারটিখানি কথা নয়! তখন অনেক দেশ বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাও করেছে। কোন রাষ্ট্রগুলো বিরোধিতা করেছে, সেটি ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে। তখন পাকিস্তানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল চিন। পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র থাকার কারণেই হয়তো চিন আমাদের স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবিত থাকাকালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরে চিনও আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। 

হিন্দুস্থান সমাচার : পাকিস্তানে উন্মুক্ত, অথচ বাংলাদেশে ভারতীয় ‘ফিল্ম’ আমদানি নিষিদ্ধ কেন?

তথ্যমন্ত্রী : আকাশ যেমন উন্মুক্ত, তেমনই ভারতীয় সকল ধরনের ছবি বাংলাদেশে আমাদনি উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু, বাংলাদেশের ‘শিল্পী সমিতির’ বাধার কারণে শুধু হিন্দি ছবি আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে, সিনেমা হল মালিকদের ভারতীয় হিন্দি ছবি আমদানি বন্ধের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি আছে। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনায় ‘ফিল্ম’ তৈরিতে কোনও বাধা নেই।

মুজিব ভাস্কর্য: ‘বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিতর্ক চলবে না’- দুবৃত্তদের কঠোর হাতে দমন করার অঙ্গীকার, দেশজুড়ে আমলাদের সমাবেশ

0

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুর ও অবমাননার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সরকারি কর্মকর্তারা।
শনিবার ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘গভর্নমেন্ট অফিসিয়াল ফোরাম’-এর ব্যানারে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন কর্মসূচিটি সমন্বয় করে।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘আমরা আমাদের জীবদ্দশায় জাতির পিতার প্রতি কোনো রকম অপমান বা অসম্মান হতে দেব না। এটাই আমাদের আজকের অঙ্গীকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জনগণের সেবক। জাতির পিতা আমাদের সংবিধানের অংশ। সংবিধান রক্ষা করাই আমাদের দায়িত্ব।’
বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাংবিধানিকভাবে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃত। বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতার সম্পর্ক নিবিড়।’
‘বঙ্গবন্ধুর ওপর কোনো ধরণের আক্রমণ ও অপমান সহ্য করা হবে না,’ যোগ করেন তিনি।
এতে পুলিশের আইজিপি বেনজির আহমেদসহ বিসিএস এর সবগুলোর ক্যাডারের অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও মহাসচিবরাসহ প্রায় সব পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা যোগ দেন।
সমাবেশে দেয়া বক্তৃতায় পুলিশের আইজিপি বেনজির আহমেদ বলেন, “স্বাধীনতা, সংবিধান, রাষ্ট্র ও জাতির জনক- নো বডি ক্যান টাচ দেম”।
“আমরা তাদের মোকাবেলা করবো। বঙ্গবন্ধু দেশ, পতাকা, মানচিত্র দিয়েছেন। তার ওপর হামলা সংবিধানের ও রাষ্ট্রের ওপর হামলা। রাষ্ট্র অবশ্যই বিধিবিধান অনুযায়ী কঠোর হস্তে মোকাবেলা করবে”।
বিসিএস অডিট ও অ্যাকাউন্টস এসোসিয়েশনের মহাসচিব গোলাম সারোয়ার ভুঁইয়া বলেন, “জাতির পিতাকে যারা অসম্মান করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ করছি”।
বিসিএস কর অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফজলে হায়াত কায়সার বলেন, “বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ হতোনা, আর বাংলাদেশ না হলে এত ক্যাডার সার্ভিস হতোনা। ভাস্কর্য যারা ভেঙ্গেছে তারা দেশবিরোধী, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি”।
বিসিএস শুষ্ক ও আবগারি ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব কাস্টমস কমিশনার বলেন, “এখনো এ দেশে কিছু মানুষ দেখা যাচ্ছে যারা জাতির পিতাকে অশ্রদ্ধা করছেন। ভাস্কর্য ভাঙ্গার মতো দুঃসাহস দেখাচ্ছে। তাদের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করছি”।
তিনি বলেন, “অনেক মুসলিম দেশে ভাস্কর্য আছে। আমরা কি তাহলে বেশি মুসলমান হয়ে গেছি। আসলে তারা স্বাধীনতার প্রতি আঘাত করতে চায়। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, বঙ্গবন্ধু- এসব নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই”।
বিসিএস তথ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, “স্বাধীনতার বিপক্ষে যারা থাকবে তাদের বিপক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের কণ্ঠ সোচ্চার থাকবে”।
“ভাস্কর্য মোটেও ধর্মীয় বিষয় নয়, এটি শিল্পকর্মের অংশ। বাংলাদেশ এটি যুগ যুগ ধরে প্রচলিত। হঠাৎ করে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে এতো কথা কেন। এটি হলো রাজনীতি। কর্মকর্তাদের স্বাধীনতার প্রশ্নে অবস্থান থাকতে হবে”।
বিসিএস গণপূর্ত ক্যাডারের পক্ষে গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, “যারা বাংলাদেশের চাকা পেছনে নিতে চায় সেই একাত্তরের পরাজিত শক্তি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীকে বেছে নিয়েছে”।
“তারা রাতের অন্ধকারে ভাস্কর্য ভেঙ্গেছে । আমরা এটাকে সহজভাবে মেনে নিতে পারিনা”।
বিসিএস সড়ক ও জনপথে প্রকৌশলী সমিতি, বিসিএস টেলিকম সমিতি, বিসিএস কৃষি ক্যাডার, বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার সহ প্রায় প্রতিটি সেক্টরে বিসিএস কর্মকর্তাদের অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ সমাবেশে বক্তব্য দেন।
খাদ্য সচিব মোসাম্মৎ নাজমানারা খানুম, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক আ ম সেলিম রেজা, বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ মাসুদ মাহমুদ খন্দকার, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক প্রমুখ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে দেশব্যাপী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিক্ষোভ ঃঃ

বঙ্গবন্ধুর সম্মান অটুট রাখতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাজপথে নেমেছে বিচারক-পুলিশসহ প্রশাসন। ভাস্কর্য অবমাননার প্রতিবাদ জানিয়ে শনিবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন, মৌন মিছিল এবং বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।

জাতির পিতার সম্মান অটুট রাখার অঙ্গীকারে মাঠে নামেন চট্টগ্রামের বিচারক-পুলিশসহ প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তারা। ভাস্কর্য অবমাননার প্রতিবাদ জানিয়ে সকাল থেকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন, মৌন মিছিল এবং বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

নগরীর দামপাড়া থেকে শুরু হয় দিনভর এ কর্মসূচি। প্রথমে মানববন্ধন করেন বিচারক-পুলিশসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এরপর তারা মিছিল নিয়ে সমবেত হন শিল্পকলা একাডেমির মুক্ত মঞ্চে। মুর্হতের মধ্যে পুরো চত্বর লোকে-লোকারণ্য হয়ে উঠে। “জাতির পিতার সম্মান-রাখবো মোরা অম্লান” শ্লোগানে সাজানো মঞ্চে বঙ্গবন্ধুর বীরগাঁথা শোনানোর পাশাপাশি ভাস্কর্য বিরোধীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে একে একে বক্তব্য রাখেন বিচারকসহ সর্বস্তরের কর্মকর্তারা।
এতে বক্তব্য রাখেন মহানগর দায়রা জজ আশফাকুর রহমান, জেলা ও দায়রা জজ ইসমাইল হোসেন, বিভাগীয় পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পরিচালক আবু সাঈদ।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইসমাইল হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ প্রতিবাদী কর্মসূচিতে বক্তারা যে কোনো মূল্যে জাতির জনকের ভাস্কর্য রক্ষা এবং তার সম্মান অটুট রাখার অঙ্গীকার করেন। তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে মৌলবাদী গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র শুরু হওয়ার পর প্রথম প্রতিবাদ শুরু হয়েছিলো চট্টগ্রাম থেকেই। এবার চট্টগ্রামের সর্বস্তরে সরকারি কর্মকর্তারা সেই প্রতিবাদের মিছিলে সামিল হলেন।

কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে বাগেরহাটেও মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টায় বাগেরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে জেলায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তারা এই প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন, বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ গাজী রহমান, পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায়, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. খালেদ কনক, বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোছাব্বেরুল ইসলাম, বাগেরহাট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ কুমার বকসী প্রমুখ। এছাড়া বাগেরহাটে কর্মরত সকল সরকারি দপ্তরের দপ্তর প্রধান ও প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তারা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।
 
জাতির পিতার ভাস্কর্য অবমাননার প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের আয়োজনে শহীদ এম মনসুর আলী অডিটরিয়ামে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, বিচার বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারিসহ সরকারি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এসময় বক্তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অবমাননা এবং কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।

সাম্প্রতিক সময়ে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী কর্তৃক স্বাধীনতার মহান স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুর ও অবমাননার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে সভা করেছেন সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস।

এদিকে সুনামগঞ্জে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তরা বলেন, ভাস্কর্য ভেঙে স্বাধীনতা বিরোধীরা পাকিস্তানের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে চায়। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কোটি কোটি মানুষ তা মেনে নেবেন না।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের সভাপতিত্বে ও সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা ও দায়রা জজ ওয়াহিদুজ্জামান শিকদার, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, সিভিল সার্জন মো. শামছ উদ্দিন,কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. ফরিদুল হাসান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুব আলম,বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সৈকত দাসসহ জেলা প্রশাসন ও জেলায় কর্মরত বিভিন্ন অফিস প্রধানগণ। প্রতিবাদ সমাবেশে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও রাজশাহী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা, চাঁদপুর, ঝালকাঠি, মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মোংলা, ভোলা, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, রাঙামাটি, নাটোর, কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

নৈরাশ্যবাদীদের ধারণা ভুল প্রমাণিত, নিজদের টাকায় পদ্মাসেতু করে ভেঙ্গে পড়েনি দেশের অর্থনীতি

0


বিড়াল কালো না ধলো সেটা দেখার দরকার নেই। বিড়াল ইঁদুর মারে কি না সেটাই বিবেচ্য।
পদ্মা সেতুর নির্মাণ খরচ লক্ষ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাক, সেতু শেষ পর্যন্ত হয়ে গেলো এটাই সত্য।
প্রকল্পের টাকা লুট হয়, সরকারি মাল দরিয়ায় ঢালা হয় এগুলো চিরন্তন সত্য। বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত যতো টাকা বিদেশী সাহায্য এসেছে তার অর্ধেকও যদি সঠিক প্রয়োগ হতো তা হলে দেশের প্রতিটি পরিবারের একটি করে দ্বিতল পাকা বাড়ি থাকতো, অন্ন বস্ত্রের নিশ্চয়তা হতো।
কিন্তু বিদেশী সাহায্যের ২০ থেকে ৩০ পার্সেন্ট পর্যন্ত প্রকল্পের কাজে ব্যয় হয়, সাধারণ মানুষের কল্যাণে পৌঁছে। বাকিটা নয়ছয় হয় বা লুট হয়। এমন হিসেব বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জেনেছি।
যতো বড় প্রকল্প ততো বেশী লুটপাট,কমিশন। এটা হয় বলেই মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম হয়,অষ্ট্রেলিয়া, কানাডায় বেগম পাড়া হয়, দেশে আমলা কামলারা আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়।
আমরা এসব জানি। মিডিয়ার সুবাদে আরও বেশী জানি,বেশী খবর রাখি ও খবর পাই।
দেশী টাকায় হউক আর বিদেশী টাকায়ই হউক যে কোনো কেনাকাটায় এমন কি একটা আলপিন কিনতে হলেও কমিশন দিতে হয়।
এটা সবাই জানে। দুদক জানে, পুলিশ জানে, আর্মি জানে, সচিব জানেন, মন্ত্রী জানেন।
আমরাও জানি। প্রকল্পের পিডি নিয়োগে কতো কতো তদ্বির,শর্ত নির্ধারণ করা হয় তা যে কোনো প্রকল্পে অনুসন্ধান করলেই জানা যায়। ডিপিএম,ওটিএমের নামে কি দুর্নীতি হচ্ছে তা নিউজের কাজে সংশ্লিষ্ট হলেই বুঝা যায়।
শতভাগ তথ্যপ্রমাণ পেলেও নিউজ করার হিম্মত নেই। নিজে করতে পারিনি, অনেক বাঘা সাংবাদিককে তথ্যপ্রমাণ দিয়েছি। কিন্তু তাদেরও হিম্মত হয়নি নিউজ করার।
তাই কমিশনটাও প্রকল্পের অংশ বলেই আমি ধরে নিয়েছি। এ কারণে এটার এখন আর নিউজ ভ্যালু আছে বলে মনে করি না। সরকারি কেনো? বেসরকারি কেনাকাটাতেও কমিশন লাগে। এক মিডিয়া হাউজে দেখেছি বিকেলের নাস্তা, রাতের খাবার থেকেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীলকে কমিশন দিতে হতো যারা খাবার সাপ্লাই দিতো তাদের। একই অবস্থা পত্রিকা,এনজিওসহ ব্যক্তিমালিকানা প্রতিষ্ঠানে পর্যন্ত।
কাজেই কমিশন, দুর্নীতি, লুটপাট এসব এখন গাসওয়া হয়ে গেছে, স্বাভাবিক হয়ে গেছে।
মিডিয়ায় সময় সুযোগ পেলে খবর হয়। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে খবর হয়। দুদক উপরের কোনো নির্দেশনা পেলে ডেকে নিয়ে আসে। মিডিয়ার খবর দেখে তারা ডাকে, পরে আর খুব একটা খবর হয় না।
এসব আমরা জানি। খবরের কারবারির অভিজ্ঞতা থেকে জানি। ২০ বছরে চোখের সামনে কতোকিছু লুট হতে দেখলাম। কতোজনকে আঙুল ফুলে কলাগাছ হতে দেখলাম। এখন আর অনুভূতি কাজ করে না।
তারচেয়ে মনে করি, লুট হতে হতে যে কাজটুকু হয় সেটাই দেশের লাভ, আমাদের লাভ। ৫ বছরের কাজ ১০ বছরে হয়েছে। প্রকল্পের খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। আপত্তি নেই। হয়েছে তো। এটাই বোনাস। টাকা লুট হয়েছে। হোক। কারও না কারও পকেটে তো গেছে। সে তো অন্তত পরিবার পরিজন নিয়ে ভালো করে বাঁচতে পারছে। বাঁচুক, সেটাই বা কম কিসে। সে প্রাডো চড়ুক, পাজারো চড়ুক। আমরা যে ৮ নাম্বার বাসে চড়তে পারছি সেটার জন্যই ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা।এটা নিয়ে এতো আফসোসের কিছু নেই।
এতো কথা বললাম,কারণ শেষ পর্যন্ত পদ্মা সেতু হয়েছে। শেষ স্প্যান বসেছে। এই সেতু নিয়ে কতো কথা। শেখ হাসিনা সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিল বিশ্বব্যাংক আর দেশের কিছু মিডিয়া, সিভিল সোসাইটি। তাদের মিথ্যা তথ্য, পরিকল্পিত মিথ্যাচার আমরাও প্রথমে বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্ত বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন এবং প্রমাণ করতে বললেন তখন কিন্তু নানা চেষ্টা করেও তারা দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারে নি। ঘৃণাভরে শেখ হাসিনা প্রত্যাখ্যান করলেন বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ণকে। বললেন আমরা নিজেদের টাকায় পদ্মাসেতু করবো। শেখ হাসিনা দেখিয়ে ছাড়লেন তিনি যা বলেন তা করেন। আজ পদ্মাসেতু হয়েছে। বিজয়ের মাসে বাঙালী আরেক বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। এটাই সত্য। বৃহস্পতিবার পদ্মাসেতুর সর্বশেষ (৪১তম) স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে যখন নদীর দুই প্রান্ত ছুঁয়ে এক হলো তখন দেশের বেশিরভাগ মানুষ আনন্দে আপ্লুত হলেও অনেকের মনেই দেখেছি বিষাদের ছায়া। যারা বলেছিলেন এ সরকার পদ্মাসেতু করতে পারবে না, করলেও জোড়াতালি দিয়ে একটা করে রাখবে, যারা বলেছিলেন এ সেতু হলেও তারা তা ব্যবহার করবেন না, তারা এখন লজ্জায় মুখ লুকোচ্ছেন। তাদেরই একজন বুদ্ধিজীবী, যিনি একসময় ক্ষমতার শীর্ষ ব্যক্তির মিডিয়াদূত ছিলেন, দেখলাম ফেসবুকে বিশাল লেখা লিখেছেন। পদ্মাসেতুর খরচের হিসাব চাচ্ছেন, জনগণের টাকা কোথায় কিভাবে খরচ হলো হিসাব দিতে বলেছেন।
আমি মনে করি এসব হিসেব নিকেশ চেয়ে লাভ নেই, দরকারও নেই। দরিয়া বাঁধাই করতে টাকা দরিয়ায় ঢালা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দরিয়া বাঁধাই হয়েছে এটাই নির্ভেজাল সত্য। আপনারা নিজেরা কিছু করতে পারেন না, করেনও না। কাজ করতে হলে হিম্মত লাগে।
আপনারা কখনও ভেবেছিলেন রাজধানীতে মেট্রোরেল হবে? কিন্তু হচ্ছে এটাই সত্য।
আপনারা কখনও ভেবেছিলেন কর্নফুলি নদীর তলদেশে টানেল হবে? কিন্তু হচ্ছে এটাই সত্য।
দেশে অবকাঠামো খাতে গত ১০ বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে, হচ্ছে সেটা বিষ্ময়কর। এসব সত্য স্বীকার করতে হবে। বড় প্রকল্পের টাকা নয়ছয় হবে এসব মেনে নিয়েই উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখতে হবে।
পদ্মাসেতু দুর্নীতি নিয়ে যখন বিশ্বব্যাংক আঙুল তুলেছিল তখন দেশের কথিত কিছু বুদ্ধিজীবী, কিছু অর্থনীতিবিদের হায় হায় বক্তব্য এখনও মনে পড়ে। মনে হয়েছিল দেশটা শেষ, শেখ হাসিনা শেষ করে দিয়েছেন। পরে যখন দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারেনি তখন এরা নিশ্চুপ হয়ে যান। কিন্তু শেখ হাসিনা যখন বললেন, কারও সাহায্যে নয়, নিজেদের টাকায় পদ্মাসেতু বানাবেন তখন সেই হায় হায় বিশারদরা যেনো আকাশ থেকে পড়লেন। তারা বলতে থাকলেন নিজেদের টাকায়
এতোবড় প্রকল্প করা সম্ভব না এবং করলে দেশের অর্থনীতির উপর চাপ পড়বে।
কিন্তু তাদের এই ধারণা মিথ্যা প্রমাণিত হলো। ভুল প্রমাণিত হলো। এখন স্বপ্নের পদ্মাসেতু বাস্তবতা। বছরখানেকের মধ্যে যানবাহন চলাচল শুরু হবে। নিজেদের অর্থে পদ্মাসেতু বানিয়ে দেশের অর্থনীতিও ভেঙ্গে পড়ে নি। বরং দেশ এগিয়ে যাবে।