ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩   সন্ধ্যা ৬:৫২ 

Home Blog Page 153

সাভারে স্কুল ছাত্রী নীলার ঘাতক মিজান দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার, হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার

0

সাভারে স্কুল ছাত্রী নীলা রায় হত্যা মামলার প্রধান আসামি মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 
শুক্রবার রাতে সাভার পৌরসভার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের রাজফুলবাড়িয়ার উলাইন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় মিজানের আরও দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে মানিকগঞ্জের চারীগ্রাম এলাকা থেকে র‌্যাবের একটি দল অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার অন্য দুই আসামি, মিজানুরের বাবা আব্দুর রহমান ও মা নাজমুন্নাহার সিদ্দিকাকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয় মিজানের সহযোগী সেলিম পালোয়ান নামের আরেক যুবককে। যিনি হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন।
মিজানের সঙ্গে গ্রেপ্তার অপর দুজন হলো সাকিব ও জয়। হত্যাকান্ডের সময় এরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।
সাভার থানার পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিজান ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা স্থানীয় পারভেজের বাড়িতে মাদক সেবন করছিল।

নীলা রায় স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন।
তার স্বজনদের অভিযোগ, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মিজানুর রহমান নীলাকে প্রকাশ্যে ছুরি মেরে হত্যা করে। ভাইয়ের সঙ্গে রিকশায় করে হাসপাতালে যাওয়ার পথে নীলাকে ছিনিয়ে নিয়ে বখাটে মিজান ছুরিকাহত করে হত্যা করে।
নীলার বাবা নারায়ণ রায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে সাভার থানায় মিজানুর, তার বাবা আব্দুর রহমান ও তার মা নাজমুন্নাহার সিদ্দিকাসহ অজ্ঞাতনামা আরও চারজনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
শুক্রবার ঢাকার আদালতে মিজানের মা ও বাবাকে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

চীনে আরও ৪শ উইঘুর মুসলিমদের বন্দিশিবিরের সন্ধান, গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কয়েক হাজার মসজিদ

উইঘুর মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক নিন্দা এবং চাপের মধ্যেও চীন শিনচিয়াং প্রদেশে নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। নতুন করে আরও প্রায় ৪শ বন্দিশিবিরের সন্ধান পাওয়া গেছে । গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কয়েক হাজার মসজিদ।
শিনচিয়াংয়ে বিপুল সংখ্যক নতুন বন্দিশিবিরের সন্ধান পাওয়ার কথা বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা।অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইন্সটিটিউট’ (এএসপিআই) বলছে, শিনজিয়াংয়ে আনুমানিক ৩৮০ টি বন্দিশিবির আছে। যা আগের ধারণার চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি। খবর বিবিসি, রয়টার্স, গার্ডিয়ান।

বিবিসি জানায়, আগের তদন্তে বন্দিশিবিরের যে আনুমানিক হিসাব করা হয়েছিল, তার চেয়ে আরও ১শ’টি বেশি বন্দিশিবির পাওয়ার কথা বলা হয়েছে এএসপিআই-এর প্রতিবেদনে। স্যাটেলাইটে তোলা ছবি, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন সরকারি নথি বিশ্লেষণ করে এই শিবিরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুলাইয়ের মধ্যে অন্তত ৬১ টি বন্দিশিবির বাড়ানো হয়েছে। আরও ১৪ টি শিবিরের নির্মাণকাজ এখনও চলছে।

চীন এই বন্দিশিবিরগুলোকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বলে দাবি করে আসছে। তাদের ভাষ্য, শিনচিয়াংয়ে দারিদ্র্য এবং ধর্মীয় উগ্রবাদ মোকাবেলায় এইসব কেন্দ্রে মূলত জাতীয়তাবাদ ও আদর্শের দীক্ষা দেওয়া এবং চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এই কেন্দ্রগুলোকে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের সঙ্গেই তুলনা করেছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোও বলছে, অন্তত ১০ লাখ উইঘুর ও অন্যান্য তুর্কিভাষী-মুসলিম অধিবাসীদের এই সমস্ত আটককেন্দ্রে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

উইঘুরদের কয়েক হাজার মসজিদ ধ্বংস:

এদিকে শিনচিয়াং প্রদেশে কয়েক হাজার মসজিদ ধ্বংস করেছে সরকারি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া মুসলিমদের কবরস্থান, মাজারও ধ্বংস করা হচ্ছে। গত তিন বছরে ওই প্রদেশের এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার কাজ আরও বাড়িয়েছে চীন। মসজিদ, মাজার ও কবস্থানের বেশিরভাগই এ সময়েই ধ্বংস করা হয়। অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট(এএসপিআই)- এর প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শিনচিয়াং প্রদেশটি সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত। চীনের বিরুদ্ধে ওই প্রদেশে মুসলিমদের উপর মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ নিয়মিত উঠে আসে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। চীন সরকারের হিসেব অনুযায়ী শিনচিয়াং প্রদেশে মুসলিমদের ২৪ হাজার মসজিদ রয়েছে। থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান এএসপিআই জানিয়েছে, ২০১৭ সালের পর ৩০ শতাংশ মসজিদ ধ্বংস ও আরও ৩০ শতাংশ ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১০ লাখ উইঘুর ও তুর্কিভাষী মুসলিমকে রাখা হয়েছে ডিটেনশন ক্যাম্পে।
এএসপিআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, শিনচিয়াং প্রদেশের রাজধানী উরুমকি ও কাশগর শহরের আশেপাশে ধ্বংসযজ্ঞ বেশি চালানো হয়েছে। উইঘুর মুসলিমদের ১৬ হাজার মসজিদ বা ধর্মীয় পবিত্র স্থাপনা ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাড়ে আট হাজারের বেশি মসজিদ পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্যাটেলাইটে তোলা ছবি, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন সরকারি নথি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে এএসপিআই।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শিনচিয়াং প্রদেশে বাধ্যতামূলক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত কৃষিপণ্য আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের দাবি— চীনের এ অঞ্চলে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়। মুসলিম শ্রমিকদের কৃষিকাজে বাধ্য করে উৎপাদন করা হয় কৃষিপণ্য। ফলে এসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আহমদ শফীর মৃত্যু ‘অস্বাভাবিক ‘, বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির

0

হেফাজতে ইসলামের আমির ও দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আহমদ শফীর মৃত্যুকে ‘অস্বাভাবিক’ আখ্যায়িত করে  এর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি। সংগঠনটির নেতারা এও দাবি করেন, গত এক সপ্তাহ আগে হাটহাজারী মাদ্রাসায় যে বিক্ষোভ হয়েছে, তা বহিরাগতদের উসকানিতে সংঘটিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘আল্লামা আহমদ শফীর জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা ও দোয়া মাহফিল থেকে এসব দাবি করেন আলেমরা।

হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মুফতি মো. ওয়াক্কাস বলেন, ‘‘আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, হজরত মাওলানা আহমদ শফী সাহেবের (রহ.) মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। কোনও সন্দেহ নেই এর মধ্যে আমার। একটি শক্তি হাটহাজারী মাদ্রাসায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, যার পরিণতিতে আহমদ শফী সাহেবের নির্মম মৃত্যু হয়েছে। যেটাকে বলবো ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যু, স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না।’’

পুরো বিষয়টির বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে মুফতি ওয়াক্কাস বলেন, ‘যদি এটি বিনা বিচারে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে পুরো কওমি অঙ্গনে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে।  আল্লামা শফীর এমন নির্মম মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। এর জন্য আমি  প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাই।’

অনুষ্ঠানে আল্লামা শাহ্ আহমদ শফীর জীবনের শেষ দুই দিনের ঘটনাবলী ও হাটহাজারী মাদ্রাসায় ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে ‘বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি’ করে আট  দফা প্রস্তাবনা আকারে ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের যুগ্ম মহাসচিব ও ফরিদাবাদ মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মুফতি নুরুল আমিন, জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের সহ-সভাপতি মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ, মিরপুর পল্লবী মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ওয়াহিদুজ্জামান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, ওলামানগরের পীর মাওলানা মুখলেছুর রহমান কাসেমী, জাতীয় ইমাম সমাজের কেন্দ্রীয় নেতা ও বকশিবাজার মসজিদের খতিব মাওলানা যুবায়ের, ইসলামী ঐক্য মঞ্চের সভাপতি মাওলানা মাসউদুর রহমান বিক্রমপুরী, জমিয়তের  সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা রেজাউল করিম, বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মাওলানা আতাউর রহমান আতিকী প্রমুখ। বাংলা ট্রিবিউন।

 

সাভারে নীলা হত্যার প্রধান আসামি মিজান ধরা পড়েনি, বাবা-মা রিমান্ডে, বিচার চেয়ে রাজধানীতে প্রতিবাদ সমাবেশ

0

সাভারে স্কুল ছাত্রী নীলা রায় হত্যার প্রধান আসামি মিজানুর রহমান এখনো ধরতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে তার বাবা আব্দুর রহমান ও মা নাজমুন্নাহার সিদ্দিকাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে সাভার থানার পুলিশ।

ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের হাকিম ফাইরুজ সালেকীন শুক্রবার শুনানি করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়া গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাভার পৌর এলাকার পালপাড়া এলাকায় নীলাকে ছুরি মেরে হত্যা করে বখাটে মিজানুর ।

মানিকগঞ্জ জেলার বালিরটেক এলাকার নারায়ণ রায়ের মেয়ে নীলা সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনির অ্যাসেড স্কুলের দশম শ্রেণিতে পড়ত। পৌর এলাকার কাজী মোকমা পাড়ার এক বাড়িতে তার পরিবার ভাড়া থাকে।

নীলা খুন হওয়ার পর মিজানুর ও তার বাবা-মাকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই তারা পলাতক ছিলেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জ জেলার চারীগ্রাম এলাকা থেকে আব্দুর রহমান (৬০) ও মা নাজমুন্নাহার সিদ্দিকাকে (৫০) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তাদের সাভার মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
শুক্রবার তাদের ঢাকার আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কমকর্তা এস আই নির্মল কুমার দাস।
রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঘটনার দিন নীলা ও তার ভাই অলক রিকশায় করে ফার্মেসিতে যাচ্ছিল ওষুধ আনতে। গার্লস স্কুলের পাশে রাস্তায় অলককে দূরে সরিয়ে চাপাতি, ছুরি দিয়ে আঘাত করে নীলাকে মারাত্মক জখম করে মিজানুর। পরে স্থানীয়রা এনাম মেডিকেলে নিয়ে গেলে নীলা মারা যায়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, নীলাকে বিভিন্ন সময়ে ‘উত্ত্যক্ত করত’ মিজানুর। নীলার পরিবার মিজানুরের বাবা-মায়ের কাছে অভিযোগ জানালে তারা ছেলেকে বাধা না দিয়ে ‘উল্টো এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য নীলার বাবা-মাকে হুমকি’ দিত।
“মিজানুর তার বাবা-মায়ের ইন্ধনে ও প্ররোচনায় নীলাকে হত্যা করে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।      
অন্যদিকে রিমান্ডের বিরোধিতা করে দুই আসামির পক্ষে শুনানি করেন আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ নেতা ও ঢাকা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মামুন ও মাসুদ আহমেদ।
শুনানি শেষে বিচারক দুই দিনের হেফাজতে নিয়ে মিজানুরের বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
রাজধানীতে প্রতিবাদ, সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি ঃ
দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ‘প্রকৃত দোষীদের’ বিচার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি করে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ।
সাভারের স্কুলছাত্রী নীলা রায় হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদের পাশাপাশি দুর্গা পূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটি এবং ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ বাস্তবায়নেরও দাবি জানানো হয় মানববন্ধন থেকে।

বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের সভাপতি দীপংকর শিকদার দীপু বলেন, “আমরা আশা করি, সরকার নির্বাচনী ইশতেহার মোতাবেক সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনের বাস্তবায়ন করবে।

“সেই সাথে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে চলমান নির্যাতন বন্ধ এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”

‘মিথ্যা ও উসকানিমূলক’ মামলায় যেন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ‘হয়রানি’ করা না হয়, সেই আহ্বান জানান পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মিশ্র।

হিন্দু পরিষদের মুখপাত্র সুমন কুমার রায় ‘হিন্দু মন্দির ভাংচুর, বাড়িঘর ও শ্মশানের জমি বেদখল, দেশত্যাগের হুমকি প্রদর্শনে ‘ বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

একই দিনে বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নীলা রায় হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন করে।

এ সমাবেশে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি বলেন, “আজকে সিলেটে, ফরিদপুরে কন্যাশিশু অপহরণ ও ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটেছে। নীলা রায়কে হত্যা করা হয়েছে। এসবের বিচারে যেন দীর্ঘসূত্রতা না আসে। এতে জনমনে হতাশা বাড়ে।”

গরু পাচারে জড়িত বিএসএফ: কোটি কোটি টাকা ঘুষের হদিস, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে অভিযান চালাচ্ছে সিবিআই

0

গরু পাচার। অভিযোগের তীর সব সময় বাংলাদেশের চোরাকারবারিদের দিকে। ভারত থেকে গরু আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে মৃত্যু একটি স্বাভাবিক ঘটনা। ভারত সরকার এবং দেশটির সাধারণ মানুষও একতরফাভাবে দুষে থাকে বাংলাদেশী চোরাকারবারিদের। কিন্তু এই চোরাকারবারিদের পক্ষে কি এককভাবে ভারত থেকে গরু নিয়ে আসা সম্ভব? ভারত সরকারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, সেখানকার প্রশাসনের সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশে গরু পাচার সম্ভব ? এটা অনেকবার বলা হলেও বিশ্বাস করতে চায় না ভারত। কিন্তু এবার আর অবিশ্বাসের সুযোগ নেই। ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই হাতেনাতে ধরেছে গরু পাচারে জড়িত দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও শুল্ক কর্মকর্তাদের। এ নিয়ে গত দুদিন ধরে তোলপাড় চলছে দেশটির গণমাধ্যমে। সিবিআই অভিযান চালাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যজুড়ে। ধরা পড়ছে গরুপাচারে জড়িত রাঘব বোয়ালরা। এর ফলে এখন স্পষ্ট হলো গরুপাচারে শুধু বাংলাদেশের চোরাকারবারিরাই নয়, ভারতের প্রভাবশালীরাও জড়িত। আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইনে এ নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট করেছে। আইন আদালত পত্রিকার পাঠকদের কথা বিবেচনা করে রিপোর্টটি ইষৎ সম্পাদনা করে প্রকাশিত হলো।
পড়ুন বিস্তারিত।

কলমের সামান্য ‘খোঁচা’। তাতেই গরুকে বাছুর বানিয়ে ফেলা হত বড় সহজে। আর ‘নামসাফাই’য়ের সেই ফাঁক গলেই সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও কেন্দ্রীয় শুল্ক দফতর (কাস্টমস)-এর ‘বেনামী’ রোজগার হয় কোটি কোটি টাকা। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে গবাদি পশু পাচারের তদন্তে নেমে এমনটাই জানতে পেরেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। পাচারের এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বিএসএফ, কাস্টমস-সহ বিভিন্ন দফতরের একাধিক সরকারি আধিকারিক। তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে এ রাজ্যে গরু পাচার নিয়ে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই।
ওই এফআইআরে মূল অভিযুক্তদের অন্যতম সতীশ কুমার। বিএসএফের কমান্ডান্ট পদমর্যাদার আধিকারিক। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৫-র ডিসেম্বর থেকে ২০১৭-র এপ্রিল সতীশ কুমার এ রাজ্যে বিএসএফের ৩৬ নম্বর ব্যাটালিয়নের কমান্ডান্ট ছিলেন। ওই ১৬ মাসে তাঁর বাহিনী মালদহ এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় বাংলাদেশ সীমান্তে বাজেয়াপ্ত করেছিল প্রায় ২০ হাজার গরু। কিন্তু বাজেয়াপ্ত করা সেই গরুকেই বিএসএফের সরকারি নথিতে করা হচ্ছিল বাছুর। এর পর গরুর যা দাম, তার অনেক কম দামে সেই ‘বাছুর’ নিলাম হত স্থানীয় বাজারে। আর নিলামে সেই গরু ফের কম দামে কিনে নিত মুর্শিদাবাদের কুখ্যাত পাচারকারীরা। বিশু শেখ সেই চক্রের মাথা। এখানেই শেষ নয়। নিলামে কিনে নেওয়া ওই গরুই ফের সীমান্ত পেরিয়ে পাচার হয়ে যেত বাংলাদেশে। আর বিএসএফ যে গরুকে ‘বাছুর’ বানিয়ে দিল, তার ‘মূল্য’ হাতেগরমে দিত বিশু শেখের সিন্ডিকেট। বিএসএফের জন্য বরাদ্দ থাকত গরু প্রতি ২ হাজার টাকা। আর ৫০০ টাকা কাস্টমসের জন্য।

মঙ্গলবার সিবিআইয়ের কলকাতার ডিআইজি অখিলেশ কুমার সিংহ একটি এফআইআর (আরসি ১০২০২০এ০০১৯) দায়ের করেন। সিবিআইয়ের করা ওই এফআইআরে অভিযুক্ত করা হয়েছে এই সতীশ কুমারকে। সিবিআইয়ের দুর্নীতি দমন শাখার করা ওই এফআইআরে সতীশ একা নন, তাঁর ছেলে, গরু পাচার চক্রের মাথা বিশু শেখ ওরফে মুর্শিদাবাদের ডাকসাইটে ব্যবসায়ী এনামুল হক, তাঁর সঙ্গী আনারুল শেখ ও গোলাম মোস্তাফা-সহ অজ্ঞাত পরিচয়ের একাধিক সরকারি কর্মী এবং অন্যদের নাম রয়েছে। সিবিআইয়ের অভিযোগ, গরু পাচারকারী সিন্ডিকেটের কাছ থেকে সতীশ নিজে তো লাভবান হয়েছেন, সেই সঙ্গে আর্থিক মুনাফা পেয়েছেন তাঁর ছেলে ভুবন ভাস্করও। সিবিআইয়ের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, সতীশের ছেলে ভুবন ভাস্কর এনামুলের কোম্পানি ‘মেসার্স হক ইন্ডাস্ট্রি’তে চাকরি করেছেন বেশ কিছু দিন। সেখান থেকে তিনি মাসে ৪০ হাজার টাকা বেতনও পেতেন। তদন্তকারীদের দাবি, এটাও ঘুরিয়ে গরু পাচারে সুবিধে করে দেওয়া বাবদ বেআইনি রোজগার।
গরু পাচারচক্রের হদিশ পেতে বুধবার কলকাতা, সল্টলেক, রাজারহাট, মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং ভিন্‌ রাজ্যে সব মিলিয়ে ১৩টি জায়গায় তল্লাশি করে সিবিআই। রাজ্যের বাইরে অমৃতসর, গাজিয়াবাদ এবং রায়পুরে তল্লাশি চালান সিবিআইয়ের আধিকারিকরা। সতীশের সল্টেকের বাড়িতে তল্লাশি চলে। পরে এ দিন সন্ধ্যায় ওই বাড়ি সিল করে দিয়েছে সিবিআই। সতীশ বর্তমানে ছত্তীসগঢ়ের রায়পুরে কর্মরত। সেখানেও তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা। সিবিআই হানা দেয় তাঁর গাজিয়াবাদের বাড়িতেও। এ ছাড়া, মুর্শিদাবাদের কুলগাছিয়াতে অভিযুক্ত এনামুলের গ্রামে তাঁর সিন্ডিকেটের দুই শাগরেদ গোলাম মোস্তাফা এবং আনারুল শেখের বাড়িতেও তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা।
৩৬ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদর দফতর মালদহে হলেও, তার আওতায় থাকা চারটি কোম্পানির পাহারার দায়িত্ব ছিল মুর্শিদাবাদ এবং মালদহের আন্তর্জাতিক নদী সীমান্তের একটা বড় অংশে। সিবিআইয়ের এক আধিকারিক এ দিন বলেন, ‘‘এ রাজ্যে কর্মরত বিএসএফের অন্য এক কমান্ডান্ট জিবু ডি ম্যাথিউকে ২০১৮-য় বিপুল অঙ্কের হিসাব বহির্ভূত টাকাপয়সা-সহ পাকড়াও করা হয়। সেই তদন্তেই উঠে আসে, ওই বিপুল অঙ্কের টাকা তিনি ঘুষ হিসাবে পেয়েছিলেন গরু পাচারকারী সিন্ডিকেটের কাছ থেকে। জিবুকে জেরা করেই সেই সময় গ্রেফতার করা হয় মুর্শিদাবাদের ব্যবসায়ী এনামুল হককে। জানা যায়, এনামুলই গরু পাচার সিন্ডিকেটের মাথা। বিশু শেখ নামে সেই সিন্ডিকেট চালান এনামুল।’’
এনামুল ওই মামলায় পরে জামিন পান। কিন্তু জিবু এবং তাঁর বয়ানে উঠে আসে সতীশ কুমারের নাম। জানা যায়, ওই গরু পাচারকারী সিন্ডিকেটের কাছ থেকে জিবুর মতো মোটা টাকা ‘ঘুষ’ নিয়েছেন সতীশও। কী ভাবে বেআইনি লেনদেন হয়েছে, তা জানতে ২০১৮-তেই সতীশের বিরুদ্ধে একটি প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে সিবিআই। সিবিআই সূত্রে খবর, প্রাথমিক ওই অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিএসএফের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে হাজার হাজার গরু পাচার করেছে বিশুর সিন্ডিকেট। মোটা টাকার বিনিময়ে সীমান্ত খুলে দেওয়া হয়েছে গরু পাচার করতে।
শুধু পাচারে সহায়তা নয়, বাজেয়াপ্ত গরুকে খাতায়কলমে বাছুর হিসাবে দেখিয়েও সরকারকে প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ সিবিআইয়ের। সুবিধে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে পাচারকারীদের। সিবিআইয়ের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘পাচার সিন্ডিকেটের সঙ্গে আঁতাঁত করেই নির্দিষ্ট সময় অন্তর কিছু কিছু গবাদি পশু বাজেয়াপ্ত করা হত। সেই সংখ্যাটাই সতীশের এলাকায় ১৬ মাসে প্রায় ২০ হাজার।” তাঁর ব্যাখ্যা, আসলে গরু বাজেয়াপ্ত করে বিএসএফ আধিকারিকরা প্রমাণ করতেন, তাঁরা সীমান্ত প্রহরায় কতটা সতর্ক। কিন্তু সেই ফাঁকেই চলত কোটি কোটি টাকার প্রতারণা। ওই আধিকারিক আরও বলেন, ‘‘একটি পূর্ণবয়স্ক গরুর দাম যদি নিলামে ৬০ হাজার টাকা হয়, তবে বাছুরের দাম তার প্রায় অর্ধেক। খাতায়কলমে বাজেয়াপ্ত গরুকে বাছুর দেখিয়ে নিলামের সময় দাম কমানোর ব্যবস্থাটা করে দিতেন বিএসএফ আধিকারিকদের একাংশ। কম দামে সেই গরু কিনে ফের পাচার করা হত। আর সেটা করত এনামুলের সিন্ডিকেট।’’

প্রাথমিক অনুসন্ধানে সিবিআই জানতে পেরেছে, ওই সময় কালে প্রায় ২০ হাজার গরু ধরা পড়লেও এক বারও কোনও গাড়ি বা কোনও পাচারকারী ধরা পড়েনি। সিবিআই তদন্তকারীদের ইঙ্গিত, গাড়ি বাজেয়াপ্ত করলে সেই গাড়ির মালিক কে, কোথা থেকে গরু বোঝাই করা হয়েছে— এ ধরনের প্রশ্ন ওঠে। পাচারকারীদের সঙ্গে আঁতাঁতের জন্যই সেই সূত্র কোথাও রেখে দেননি কাস্টমস বা বিএসএফের ওই আধিকারিকদের ওই অংশ। সিবিআইয়ের অভিযোগ, এ ভাবে সরকারের সঙ্গে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা করেছেন কাস্টমস এবং বিএসএফ আধিকারিকদের একাংশ। দুর্নীতি দমন শাখার ৭, ১১ এবং ১২ নম্বর ধারায় ওই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে সিবিআই। যোগ করা হয়েছে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০ বি ধারাও। আনা হয়েছে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও।

সিবিআই আধিকারিকদের ইঙ্গিত, বিএসএফ এবং কাস্টমসের পাশাপাশি, এ রাজ্যের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিরও নাম উঠে এসেছে প্রাথমিক অনুসন্ধানে। ওই প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও বিএসএফ এবং কাস্টমসের আধিকারিকদের মতোই লাভবান হয়েছেন গরু পাচারের সিন্ডিকেট থেকে। তদন্তকারীদের ইঙ্গিত, এই মামলায় ফের এনামুলকে হেফাজতে নেওয়া হতে পারে। সতীশ কুমারকেও প্রয়োজনে গ্রেফতার করে হেফাজতে নিতে পারে সিবিআই, ইঙ্গিত সিবিআই আধিকারিকদের।
গরুপাচারে যুক্ত রাঘববোয়ালদের খুঁজতে রাজ্য জুড়ে সিবিআই তল্লাশি :
কলকাতা, সল্টলেক -সহ রাজ্যের এক ডজন জায়গায় গরুপাচারের মামলায় তল্লাশি শুরু করল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। বুধবার সকাল থেকে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর একাধিক কমান্ডান্ট পদমর্যাদার আধিকারিকদের বাড়ি এবং সরকারি বাসভবনে তল্লাশি শুরু করেন সিবিআইয়ের গোয়েন্দারা।
সিবিআই সূত্রে খবর, ২০১৮ সালে হিসাব বহির্ভূত নগদ প্রায় ৪৭ লাখ টাকা-সহ গ্রেফতার করা হয় বিএসএফ কমান্ডান্ট জিবু ডি ম্যাথিউ-কে। তাঁকে জেরা করেই জানা যায়, ওই বিশাল অঙ্কের টাকা তিনি পেয়েছিলেন মুর্শিদাবাদে কর্মরত অবস্থায়। সেখানে বাংলাদেশ সীমান্তে গরুপাচারে সহায়তা করার জন্য চোরাচালানকারীরা ওই টাকা জিবুকে দিয়েছিল বলে দাবি সিবিআইয়ের। ওই মামলায় কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেল থেকে মুর্শিদাবাদের ব্যবসায়ী এনামূল হক ওরফে বিশুকে গ্রেফতার করে সিবিআই। তদন্তকারীদের দাবি, বিশুই এ রাজ্যে গরু পাচারের সব চেয়ে বড় সিন্ডিকেট চালায়।
এনামূল ওই মামলায় জামিন পেয়ে গেলেও, সেই মামলার তদন্ত এখনও চালিয়ে যাচ্ছে সিবিআই। তদন্তকারীদের দাবি, জিবুর মতো আরও একাধিক সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর আধিকারিক রয়েছেন যাঁরা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত।
সিবিআই আধিকারিকরা এ দিন সল্টলেকের বিজে ব্লকে বিএসএফের কমান্ডান্ট পদমর্যাদার আধিকারিক সতীশ কুমারের বাড়িতে হানা দেন। সূত্রের খবর, জিবুকে জেরা করেই সতীশ কুমারের নাম পেয়েছেন তাঁরা। সতীশ মালদহে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কমান্ডান্ট পদে কাজ করে গিয়েছেন কয়েক বছর আগে। সিবিআই আধিকারিকদের ইঙ্গিত, তাঁরা সতীশের আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির হদিশ পেয়েছেন। যদিও সরকারি ভাবে সতীশ তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ৪৮ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে।
সতীশ ছাড়াও, এ দিন ফের বেনিয়াপুকুরে এনামূল হকের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে হানা দেন সিবিআই আধিকারিকরা। সেখানে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা প্রায় ১ টা পর্যন্ত ছিলেন সিবিআই আধিকারিকরা। এ দিন সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা মুর্শিদাবাদে লালগোলার কুলগাছিয়ায়এনামূলের গ্রামেও হানা দেন। রাজারহাট নিউটাউনে একটি ফ্ল্যাটেও হানা দেন গোয়েন্দারা। সব মিলিয়ে রাজ্যে ১০টির বেশি জায়গায় এ দিন তল্লাশি চলে।
সিবিআই আধিকারিকদের ইঙ্গিত, এনামূলের এই চক্রের সঙ্গে পদস্থ সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে রাজ্যের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদেরও যোগ রয়েছে। সেই যোগসূত্রে খোঁজার জন্যই এ দিনের তল্লাশি, ইঙ্গিত গোয়েন্দাদের। সিবিআই সদর দফতরের এক কর্তার ইঙ্গিত, এই মামলায় খুব তাড়াতাড়ি প্রথম চার্জশিট পেশ করা হবে।

ইতিহাসের কলঙ্কিত দিন, জিয়া হত্যার অভিযোগে প্রহসনের বিচারে ১২ জন মুক্তিযোদ্ধা সামরিক কর্মকর্তাকে ফাঁসি দেয়া হয় আজ, কুটচালে ছিলেন এরশাদ

0

বাংলাদেশের ইতিহাসে আজ এক কলঙ্কিত দিন। ১৯৮১ সালের এই দিনে প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার নামে সাজানো মামলায় সামরিক আদালতে প্রহসনমূলক বিচারে ১২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। একই অভিযোগে বিচারের রায়ে ১৯৮৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আরো এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসি দেয়া হয়। সে সময়কার সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদের কুটচালে মুক্তিযোদ্ধা সেনাকর্মকর্তাদের বিচারের নামে প্রহসন করে ফাঁসি দেয়া হয়। ৪০ বছর ধরে এই সেনাকর্মকর্তাদের স্বজনরা জানতে পারেন নি তাদের অপরাধ কি ছিল। তারা কোনো ক্ষতিপূরণ বা চাকরিবিধির সুবিধা পর্যন্ত পাননি।
১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে সেনা কর্মকর্তাদের কোর্ট মার্শালে বিচারের বিষয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তদন্ত করে, এই কোর্ট মার্শাল ও ফাঁসির রায় অন্যায্য ও আইনবহির্ভূত বলেছিল। কোর্ট মার্শালের রায় বাতিলের জন্য তখন সংসদীয় কমিটি সুপারিশ করেছিল। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন ও ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু ওই সুপারিশ আজও বাস্তবায়ন হয়নি।
জিয়া হত্যার জড়িত থাকার অভিযোগে সেনাপ্রধান এরশাদ তড়িঘড়ি করে যে ১২ জন মুক্তিযোদ্ধা সেনাক কর্মকর্তাকে ফাঁসি দেন তারা হলেন,ব্রিগেডিয়ার মহসিন উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, কর্ণেল এম এ রশীদ বীর প্রতীক, কর্ণেল নওয়াজেশ উদ্দিন পিএসসি, লে. কর্নেল মাহফুজুর রহমান বীর বিক্রম, লে. কর্নেল দেলোয়ার হোসেন বীর প্রতীক, লে. কর্নেল শাহ মোঃ ফজলে হোসেন, মেজর গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, মেজর রওশন ইয়াজদানি ভুঁইয়া বীর প্রতীক, মেজর কাজী মমিনুল হক, মেজর মুজিবুর রহমান, ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার, ক্যাপ্টেন জামিল হক ও লেঃ রফিকুল হাসান খান।
তাদের প্রাণ রক্ষায় মানবাধিকার সংগঠন এমনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারের কাছে তারবার্তা পাঠিয়েছিল। তৎকালীন বিরোধী দলের নেতারা এব্যাপারে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাত্তারের সঙ্গে কথা বলতে বঙ্গভবনে যান। কিন্ত রাষ্ট্রপতি সাত্তার সাক্ষাৎ দেননি। বঙ্গভবনের গেটে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে তারা ফেরত আসেন। শেষ চেষ্টা হিসেবে ড. কামাল হোসেন, খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ ও এডভোকেট সিরাজুল হকসহ বিশিষ্ট আইনজীবীরা ২২ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে দশটার দিকে প্রধান বিচারপতি কামাল উদ্দিন হোসেনের বাসায় রিভিউ পিটিশন নিয়ে হাজির হন। কিন্ত প্রধান বিচারপতি কামাল উদ্দিন রিভিউ পিটিশন প্রত্যাখ্যান করে আইনজীবীদের বলেন, “কোর্টকে সব সময় রাজনীতি থেকে দূরে রাখাই বাঞ্ছনীয়।” বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ এবং মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রাম পরিষদও যৌথ বিবৃতিতে জাতির সূর্য সন্তানদের ফাঁসি না দেয়ার আবেদন জানায়। মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের জীবন রক্ষায় হস্তক্ষেপ করতে জেনারেল ওসমানিকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল,কিন্ত ওসমানিও সেদিন রহস্যজনক নিরবতা পালন করেন। অথচ তার অধিনে এসব মুক্তিযোদ্ধা মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিল। সকল আবেদন-নিবেদন ও আইনগত পদক্ষেপ উপেক্ষা করে তদানীন্তন বিএনপি সরকার জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে। ১৯৮১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ৩ টার মধ্যে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও যশোর কারাগারে একে একে তাদের ফাঁসি দেয়া হয়। ফাঁসির আগে ১২ মুক্তিযোদ্ধার অন্তিম ইচ্ছাটুকুও পুরণ করতে দেয়া হয়নি। জেল কোড অনুযায়ী ফাঁসি কার্যকরের ৭২ ঘন্টা আগে দণ্ডপ্রাপ্তদের জানানোর বিধান থাকলেও মাত্র এক ঘন্টা আগে ঘুম থেকে তুলে আত্মীয়-স্বজনদের সংগে সাক্ষাতের সুযোগ না দিয়ে দণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়।
প্রহসনের এই বিচারে ১০ জন সেনা কর্মকর্তাকে ৬ থেকেই ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১৯ জন অফিসারকে কোন কারণ দর্শানো ছাড়াই চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়। যাদের অধিকাংশই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। জাতির এই বীর সন্তানদের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে পরবর্তিতে জেনারেল এরশাদ প্রেসিডেন্ট সাত্তারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেন।

গবেষক ও লেখক আনোয়ার কবিরের গবেষণাধর্মী গ্রন্থ, “তেরজন মুক্তিযোদ্ধার ফাঁসি এবং সশস্ত্রবাহিনীতে মুক্তিযোদ্ধা হত্যা”গ্রন্থে লিখেছেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ দ্রুততার সঙ্গে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাত্তারকে দিয়ে ৪ জুলাই সেনা আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী মেজর জেনারেল আব্দুর রহমানকে প্রেসিডেন্ট, ব্রিগেডিয়ার নুসরাত আলী কোরেশী, কর্নেল মোহাম্মদ মতিউর রহমান বীরপ্রতীক কর্নেল মফিজুর রহমান চৌধুরী, লেঃ কর্নেল মাসুদ আলী খান, লেঃ কর্নেল এম মকবুল হায়দার ও লেঃ কর্নেল হারিসকে সদস্য করে একটি কোর্ট মার্শাল গঠন করেন। মেজর জেনারেল মেজাম্মেল হোসেনকে প্রেসিডেন্ট করে করা কোর্ট অব ইনকোয়ারী কমিটির তদন্তের ভিত্তিতে কোর্ট মার্শালটি করা হয়। এই কোর্ট অব ইনকোয়ারির সদস্য ছিলেন ব্রিগেডিয়ার হাফিজউদ্দিন, কর্নেল গোলাম কাদের,ও কর্নেল আজিজুর রহমান। কোর্ট মার্শালে অভিযুক্ত করা হয়েছিল ৩৩ জনকে। চট্টগ্রাম কারাগারের অভ্যন্তরে ১৯৮১ সালের ১০ জুলাই কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে কোর্ট মার্শালের কার্যক্রম শুরু হয়। মাত্র ১৮ কার্যদিবসে সমাপ্ত হয় কোর্ট মার্শালের কার্যক্রম। ১১ আগস্ট রায় প্রদান করা হয়। রায়ে ১২ জনকে মৃত্যুদন্ড, ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, বেশ কয়েকজনকে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়।
কোর্ট মার্শালের এই রায়ের বৈধতা নিয়ে ৩ সেপ্টেম্বর (১৯৮১) হাইকোর্টে রিট করা হলে ৭ সেপ্টেম্বর তা খারিজ করে দেয়া হয়। এর বিরুদ্ধে এই দিনই প্রধান বিচারপতি কামাল উদ্দিন হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চে আপিল করা হয়। ২২ সেপ্টেম্বর সেই আপিল নাকচ হয়ে যায়। দুপুরে আপিল নাকচ হলে রাত ১২ টার পর ২৩ সেপ্টেম্বরের প্রথম প্রহরে তড়িঘড়ি করে বিভিন্ন কারাগারে থাকা ১২ জন মুক্তিযোদ্ধা সেনাকর্মকর্তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।
অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে থাকার কারণে লেঃ কর্নেল শাহ মোহাম্মদ ফজলে হোসেনের বিচার এই কোর্ট মার্শালে অনুষ্ঠিত হয় নি। পরবর্তিতে ব্রিগেডিয়ার মফিজুর রহমানকে প্রেসিডেন্ট করে মার্শাল কোর্টে বিচার করে ফজলে হোসেনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ১৯৮৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর।

ইতিহাসের কলঙ্কিত দিন, জিয়া হত্যার অভিযোগে প্রহসনের বিচারে ১২ জন মুক্তিযোদ্ধা সামরিক কর্মকর্তাকে ফাঁসি দেয়া হয় আজ, কুটচালে ছিলেন এরশাদ

0

বাংলাদেশের ইতিহাসে আজ এক কলঙ্কিত দিন। ১৯৮১ সালের এই দিনে প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার নামে সাজানো মামলায় সামরিক আদালতে প্রহসনমূলক বিচারে ১২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। একই অভিযোগে বিচারের রায়ে ১৯৮৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আরো এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসি দেয়া হয়। সে সময়কার সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদের কুটচালে মুক্তিযোদ্ধা সেনাকর্মকর্তাদের বিচারের নামে প্রহসন করে ফাঁসি দেয়া হয়। ৪০ বছর ধরে এই সেনাকর্মকর্তাদের স্বজনরা জানতে পারেন নি তাদের অপরাধ কি ছিল। তারা কোনো ক্ষতিপূরণ বা চাকরিবিধির সুবিধা পর্যন্ত পাননি।
২০০১ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে সেনা কর্মকর্তাদের কোর্ট মার্শালে বিচারের বিষয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তদন্ত করে, এই কোর্ট মার্শাল ও ফাঁসির রায় অন্যায্য ও আইনবহির্ভূত বলেছিল। কোর্ট মার্শালের রায় বাতিলের জন্য তখন সংসদীয় কমিটি সুপারিশ করেছিল। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন ও ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু ওই সুপারিশ আজও বাস্তবায়ন হয়নি।

জিয়া হত্যার জড়িত থাকার অভিযোগে সেনাপ্রধান এরশাদ তড়িঘড়ি করে যে ১২ জন মুক্তিযোদ্ধা সেনাক কর্মকর্তাকে ফাঁসি দেন তারা হলেন,ব্রিগেডিয়ার মহসিন উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, কর্ণেল এম এ রশীদ বীর প্রতীক, কর্ণেল নওয়াজেশ উদ্দিন পিএসসি, লে. কর্নেল মাহফুজুর রহমান বীর বিক্রম, লে. কর্নেল দেলোয়ার হোসেন বীর প্রতীক, লে. কর্নেল শাহ মোঃ ফজলে হোসেন, মেজর গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, মেজর রওশন ইয়াজদানি ভুঁইয়া বীর প্রতীক, মেজর কাজী মমিনুল হক, মেজর মুজিবুর রহমান, ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার, ক্যাপ্টেন জামিল হক ও লেঃ রফিকুল হাসান খান।
তাদের প্রাণ রক্ষায় মানবাধিকার সংগঠন এমনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারের কাছে তারবার্তা পাঠিয়েছিল। তৎকালীন বিরোধী দলের নেতারা এব্যাপারে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাত্তারের সঙ্গে কথা বলতে বঙ্গভবনে যান। কিন্ত রাষ্ট্রপতি সাত্তার সাক্ষাৎ দেননি। বঙ্গভবনের গেটে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে তারা ফেরত আসেন। শেষ চেষ্টা হিসেবে ড. কামাল হোসেন, খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ ও এডভোকেট সিরাজুল হকসহ বিশিষ্ট আইনজীবীরা ২২ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে দশটার দিকে প্রধান বিচারপতি কামাল উদ্দিন হোসেনের বাসায় রিভিউ পিটিশন নিয়ে হাজির হন। কিন্ত প্রধান বিচারপতি কামাল উদ্দিন রিভিউ পিটিশন প্রত্যাখ্যান করে আইনজীবীদের বলেন, “কোর্টকে সব সময় রাজনীতি থেকে দূরে রাখাই বাঞ্ছনীয়।” বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ এবং মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রাম পরিষদও যৌথ বিবৃতিতে জাতির সূর্য সন্তানদের ফাঁসি না দেয়ার আবেদন জানায়। মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের জীবন রক্ষায় হস্তক্ষেপ করতে জেনারেল ওসমানিকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল,কিন্ত ওসমানিও সেদিন রহস্যজনক নিরবতা পালন করেন। অথচ তার অধিনে এসব মুক্তিযোদ্ধা মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিল। সকল আবেদন-নিবেদন ও আইনগত পদক্ষেপ উপেক্ষা করে তদানীন্তন বিএনপি সরকার জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে। ১৯৮১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ৩ টার মধ্যে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও যশোর কারাগারে একে একে তাদের ফাঁসি দেয়া হয়। ফাঁসির আগে ১২ মুক্তিযোদ্ধার অন্তিম ইচ্ছাটুকুও পুরণ করতে দেয়া হয়নি। জেল কোড অনুযায়ী ফাঁসি কার্যকরের ৭২ ঘন্টা আগে দণ্ডপ্রাপ্তদের জানানোর বিধান থাকলেও মাত্র এক ঘন্টা আগে ঘুম থেকে তুলে আত্মীয়-স্বজনদের সংগে সাক্ষাতের সুযোগ না দিয়ে দণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়।
প্রহসনের এই বিচারে ১০ জন সেনা কর্মকর্তাকে ৬ থেকেই ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১৯ জন অফিসারকে কোন কারণ দর্শানো ছাড়াই চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়। যাদের অধিকাংশই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। জাতির এই বীর সন্তানদের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে পরবর্তিতে জেনারেল এরশাদ প্রেসিডেন্ট সাত্তারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেন।

গবেষক ও লেখক আনোয়ার কবিরের গবেষণাধর্মী গ্রন্থ, “তেরজন মুক্তিযোদ্ধার ফাঁসি এবং সশস্ত্রবাহিনীতে মুক্তিযোদ্ধা হত্যা”গ্রন্থে লিখেছেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ দ্রুততার সঙ্গে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাত্তারকে দিয়ে ৪ জুলাই সেনা আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী মেজর জেনারেল আব্দুর রহমানকে প্রেসিডেন্ট, ব্রিগেডিয়ার নুসরাত আলী কোরেশী, কর্নেল মোহাম্মদ মতিউর রহমান বীরপ্রতীক কর্নেল মফিজুর রহমান চৌধুরী, লেঃ কর্নেল মাসুদ আলী খান, লেঃ কর্নেল এম মকবুল হায়দার ও লেঃ কর্নেল হারিসকে সদস্য করে একটি কোর্ট মার্শাল গঠন করেন। মেজর জেনারেল মেজাম্মেল হোসেনকে প্রেসিডেন্ট করে করা কোর্ট অব ইনকোয়ারী কমিটির তদন্তের ভিত্তিতে কোর্ট মার্শালটি করা হয়। এই কোর্ট অব ইনকোয়ারির সদস্য ছিলেন ব্রিগেডিয়ার হাফিজউদ্দিন, কর্নেল গোলাম কাদের,ও কর্নেল আজিজুর রহমান। কোর্ট মার্শালে অভিযুক্ত করা হয়েছিল ৩৩ জনকে। চট্টগ্রাম কারাগারের অভ্যন্তরে ১৯৮১ সালের ১০ জুলাই কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে কোর্ট মার্শালের কার্যক্রম শুরু হয়। মাত্র ১৮ কার্যদিবসে সমাপ্ত হয় কোর্ট মার্শালের কার্যক্রম। ১১ আগস্ট রায় প্রদান করা হয়। রায়ে ১২ জনকে মৃত্যুদন্ড, ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, বেশ কয়েকজনকে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়।
কোর্ট মার্শালের এই রায়ের বৈধতা নিয়ে ৩ সেপ্টেম্বর (১৯৮১) হাইকোর্টে রিট করা হলে ৭ সেপ্টেম্বর তা খারিজ করে দেয়া হয়। এর বিরুদ্ধে এই দিনই প্রধান বিচারপতি কামাল উদ্দিন হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চে আপিল করা হয়। ২২ সেপ্টেম্বর সেই আপিল নাকচ হয়ে যায়। দুপুরে আপিল নাকচ হলে রাত ১২ টার পর ২৩ সেপ্টেম্বরের প্রথম প্রহরে তড়িঘড়ি করে বিভিন্ন কারাগারে থাকা ১২ জন মুক্তিযোদ্ধা সেনাকর্মকর্তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।
অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে থাকার কারণে লেঃ কর্নেল শাহ মোহাম্মদ ফজলে হোসেনের বিচার এই কোর্ট মার্শালে অনুষ্ঠিত হয় নি। পরবর্তিতে ব্রিগেডিয়ার মফিজুর রহমানকে প্রেসিডেন্ট করে মার্শাল কোর্টে বিচার করে ফজলে হোসেনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ১৯৮৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর।

ভিপি নুরকে নিয়ে পুলিশের ইঁদুর বিড়াল খেলা, দু’দফা আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হয় মধ্যরাতে

0

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের সহযোগিতার অভিযোগে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গে ইঁদুর বিড়াল খেলছে পুলিশ। তাকে দু দফা আটক করে ছেড়ে দেওয়া হয়। নুর বলছেন, তাকে কেনো আটক করে আর কেনো ছেড়ে দেয় তা তিনিও জানেন না।
মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে সোমবার সন্ধ্যায় একবার আটক করে মুচলেকা দিয়ে ছাড়ার পর রাতে তাকে আবারও আটক করে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। মধ্যরাতে আবার তাকেসহ আটককৃতদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের স্নাতকোত্তর শ্রেণির এক ছাত্রী রোববার রাতে লালবাগ থানায় নূরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। এই মামলার প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যার পর টিএসসিতে সমাবেশ করে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় মৎস্য ভবন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় নুরের সমর্থকরা।
ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রীর মামলা করার পর তা ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে এই বিক্ষোভ করছিল নূরের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে নূরসহ সাতজনকে সেখানে আটক করে পুলিশ। “পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশকে মারধর করার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে মুচলেকা দিয়ে নুরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। রাত ১০টার দিকে নুর তার সহযোগিদের নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান পুলিশের হামলায় আহত নেতা-কর্মীরা চিকিৎসা করাতে।

সেখানে তাদের চিকিৎসা হয়। রাত সাড়ে ১১ টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশ আবারও নুরকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে দ্রুত বের হয়ে যায়। এ সময় নুরের সমর্থকরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
নুরকে হাসপাতাল থেকে গোয়েন্দা পুলিশের মিন্টু রোডের দপ্তরে নেওয়া হয়। সেখান তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে মধ্যরাতে নুরসহ সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
রাত ১টার দিকে ডিবি কার্যালয়ে থেকে বেরিয়ে নুর সাংবাদিকদের বলেন, মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
নুর বলেন “আমরা বুঝলাম না, আমাদের উপর কেন আক্রমণ করা হল, কেন গ্রেপ্তার করা হল? আবার কেনইবা ছেড়ে দেওয়া হল? রাষ্ট্রযন্ত্রের কারও সাথে কারও মিল নাই, একজন মারে-ধরে, আরেকজন ছেড়ে দেয়। আমি আগেও বলেছি এদেশে বিচার নাই, আইনের শাসন নাই, গণতন্ত্র নাই।”
ডিবি কার্যালয়ে কোনো অত্যাচার হয়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাকে তো পুলিশ স্পটেই সিনেমা স্টাইলে জাম্প করে লাথি মেরেছে, কাঠ দিয়ে মেরেছে। ডিবি কার্যালয়ে আমাদের সাথে ভালো ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু রাস্তা থেকেই আমাদের আধা মরা করে ফেলছে।”
নূরসহ কোটা আন্দোলনের ৬ নেতার নামে ধর্ষণের মামলা :
এর আগে রোববার রাতে লালবাগ থানায় নূরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের স্নাতকোত্তর শ্রেণির এক ছাত্রী।
মামলার প্রধান আসামি ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হাসান আল মামুন, যিনি ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। নূর এই পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক।
পরিষদের আরও দুই যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ (২৮) ও সাইফুল ইসলাম (২৮), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা (২৫) ও কর্মী আবদুল্লাহ হিল বাকিকে (২৩) মামলাটিতে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, হাসান আল মামুন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি বেলা ১টার দিকে ওই ছাত্রীকে মামুন লালবাগের নবাবগঞ্জ বড় মসজিদ রোডে তার বাসায় যেতে বলে। ওই ছাত্রীর ভাষ্য, ‘বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে’ সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
এরপর মামুনকে বিয়ের কথা বললে তিনি টালবাহানা শুরু করেন বলে ওই ছাত্রীর অভিযোগ।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ২০ জুন নুরের কাছে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। নূর তখন ‘মীমাংসার আশ্বাস’ দিলেও পরে অবস্থান পাল্টে তাকে ‘বাড়াবাড়ি করতে’ নিষেধ করেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, “নূর বলছে, আমি যদি বাড়াবাড়ি করি, তাহলে তাদের ভক্তদের দিয়ে আমার নামে উল্টাপাল্টা পোস্ট করাবে এবং আমাকে পতিতা বলে প্রচার করবে।”
কোটা সংস্কারের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা ছাত্র অধিকার পরিষদ গত বছর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিলে তাদের প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচিত হন নুরু। এক সময় তিনি ছাত্রলীগে যুক্ত থাকলেও এখন তিনি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের কড়া সমালোচক।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের মায়ের পরলোক গমন

0

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের মা মাজেদা বেগম(৭৫) আর নেই। সোমবার রাত ১১টা ৫৩ মিনিটে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন(ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন) তিনি।

জানা গেছে, অসুস্থ হওয়ার পরে তাকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।  মৃত্যুর সময় তিনি চার ছেলে, এক মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এর আগে, গত বছরের এপ্রিল মাসে মারা যান প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর বাবা আব্দুল খালেক শেখ।

এদিকে, মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম তার মায়ের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় সকলের দোয়া কামনা করেছেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার তারাবুনিয়া ঈদগাহ মাঠে মরহুমার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মহানুভবতায় নবজাতককে ফিরে পেলেন মা আঞ্জুলা বেগম

0

‘একজন মা গাইবান্ধার একটি ক্লিনিকে সন্তান জন্ম দিয়ে মেডিকেল বিল পরিশোধ করার জন্য ১৬ হাজার টাকায় তার সন্তানকে বিক্রি করেছেন।’ এ নিয়ে একটি ইংরেজি দৈনিকে খবর প্রকাশিত হলে তা আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপির নজরে আসে। বিষয়টি তাঁর মনে দারুনভাবে পীড়া দেয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তিনি গাইবান্ধার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং উক্ত টাকা ফেরত দিয়ে নবজাতককে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান।

আইনমন্ত্রীর অনুরোধে রোববার গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন নবজাতককে জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলা থেকে উদ্ধার করে মা আঞ্জুলা বেগমের কোলে ফেরত দেয়। সেই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আঞ্জুলা বেগমকে ২০ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ২ লিটার সয়াবিন তেল, একটি শাড়ী, একটি লুঙ্গি এবং নগদ দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া ক্লিনিকের বিল পরিশোধ করার জন্য যে টাকা গ্রহণ করা হয়েছিল তা ফেরত দেওয়ার জন্য আইনমন্ত্রীর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসন বরাবর ১৬ হাজার টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আঞ্জুলা বেগমের বোনের ছেলে ছানারুল ইসলাম জানান, আঞ্জুলা বেগমের স্বামী শাহজাহান মিয়া ছোট বেলায় গাইবান্ধার সদর উপজেলার সোলাগাড়ী গ্রামে আসেন এবং সেখানেই বসবাস করতে থাকেন। এরপর একই গ্রামের আঞ্জুলা বেগমকে বিয়ে করেন। ইতোপূর্বে তাদের ২ ছেলে ও ১ মেয়ে সন্তান হয়। তাঁদের নিজস্ব কোন জমি ও বাড়ি নেই। শাহজাহান মিয়া অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। স্ত্রী ও সন্তান সহ পাঁচ জনের পরিবারে খুব অভাব অনটন তাঁর।
গাইবান্ধার যমুনা ক্লিনিকের মালিক ফরিদুল হক সোহেল জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া বারটার দিকে চতুর্থ সন্তান জন্মদানের জন্য আঞ্জুলা বেগম তাঁর ক্লিনিকে ভর্তি হন এবং রাত একটার দিকে সিজারের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্র সন্তান জন্ম লাভ করেন। অনেক চেষ্টায় বিল পরিশোধ করে ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ক্লিনিক থেকে রিলিজ নেন আঞ্জুলা।