ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩   রাত ৮:২৮ 

Home Blog Page 152

নারী পাচার: রিমান্ড শেষে কারাগারে নৃত্যশিল্পী ইভান , পাওয়া গেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

0

বিদেশে নারী পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
সাত দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার ইভানকে আদালতে তোলা হলে ঢাকার মহানগর হাকিম দেবদাস অধিকারী তাকে করাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বাংলাদেশি নারীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে দুবাইসহ অন্যান্য দেশে পাচার এবং জোর করে আটকে রেখে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গত ২ জুলাই মানবপাচার চক্রের হোতা আজম খানসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে লালবাগ থানায় একটি মামলা করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মৃনাল কান্তি শাহ।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- আলামিন হোসেন ওরফে ডায়মন্ড (২৬), স্বপন হোসেন (২৮), নাজিম (৩৬), এরশাদ ও নির্মল দাস (এজেন্ট), আলমগীর, আমান (এজেন্ট) ও শুভ (এজেন্ট)।

এদের মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করার পর তাদের জবানবন্দিতে নাম আসায় গত ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিকেতনের বাসা থেকে ইভান শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয় । পরদিন আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
পরে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ইভানের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। মানবপাচারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক দালাল চক্রের কে বা কারা জড়িত তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদের দরকার বলে উল্লেখ করেন তিনি। গত ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা শুনানি শেষে তার সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

২০১৭ সালে ‘ধ্যাততেরিকি’ চলচ্চিত্রের নৃত্য পরিচালনার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ইভান শাহরিয়ার সোহাগ। তিনি ‘সোহাগ ড্যান্স গ্রুপ’ নামে একটি নাচের দল পরিচালনা করেন। ‘এক্সপ্রোজার বিডি’ নামে একটি বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের দায়িত্বেও আছেন তিনি।
তার রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা লিখেছিলেন, “ইভানসহ এই মামলার আসামিরা ভুক্তভোগীদের নাচ শিখিয়ে ভালো বেতনে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবে ভুক্তভোগীরা রাজি হলে তাদের থাকা-খাওয়া নিশ্চিতসহ ক্লাবে নাচ-গান করার বিনিময়ে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হবে বলে মৌখিক চুক্তি করেন।

“ভুক্তভোগীরা সরল বিশ্বাসে আসামিদের ওপর ভরসা করে দুবাইসহ অন্যান্য দেশে যেতে রাজি হন। আসামি আজম খান, তার ভাই নাজিম ও এরশাদের সহায়তায় এমন এক ভুক্তভোগীর পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাজগপত্র প্রস্তুত করে দেন। তারপর ২০১৯ সালের মে মাসে তাকে দুবাইয়ের শারজায় নিয়ে যান। পরবর্তীতে আজম খান সেখানে তাকে নিজেসহ বিভিন্ন লোক নিয়ে যৌন নির্যাতন চালান। কিন্তু দুবাই গমনের পর আসামিরা তাকে কোনো বেতন দেননি।

“আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিবাদী নির্মল দাস, আলমগীর, আমান ও শুভসহ অজ্ঞাতনামা এজেন্টের সহায়তায় ভুক্তভোগী অপর দুই নারীকে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় ড্যান্স ক্লাব থেকে প্রলোভনের মাধ্যমে নির্বাচন করেন। এভাবে বহু বাংলাদেশি নারীর সরলতার সুযোগ নিয়ে আসামিরা দুবাইসহ অন্যান্য দেশে পাচার করেন এবং জোরপূর্বক আটক রেখে যৌন নির্যাতন চালান।

“আসামি নির্মল চন্দ্র দাসকে গ্রেপ্তার করা হলে গত ১৩ অগাস্ট আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি বলেন, ইভান বিদেশে পারফর্ম করার জন্য অধরা ও বিথী নামে দুজন আর্টিস্ট দেন। আসামি ইয়াছিনও ২০ অগাস্ট আদালতে স্বীকোরোক্তিমূলক জবানবন্দিতে একই কথা বলেন।”
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, “আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি তরুণীদের দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করছেন। তাদের বিরুদ্ধে তিনজন ভুক্তভোগী ইতোমধ্যে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামিরা আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও আসামিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক দালাল চক্রের কে বা কারা জড়িত তা বের করার জন্য ইভানকে সাতদিনের পুলিশ রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন।”
ইভানের পক্ষে আগের আইনজীবী খান মাহমুদুল হাসানের জায়গায় সোমবার নতুন আইনজীবী সুমন কুমার রায় জামিন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে সংশ্লিষ্ট পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই স্বপন কুমার মণ্ডল ছিলেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে ইভানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বেসরকারি মেডিকেল-ডেন্টালে থাকতে হবে ৭৫% স্থায়ী শিক্ষক, নতুন আইন হচ্ছে

0

বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে ৭৫ শতাংশ স্থায়ী শিক্ষক রাখার বাধ্যবাধকতা রেখে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নতুন আইন করতে যাচ্ছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ আইন, ২০২০’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে ৭০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এবং ২৬টি ডেন্টাল কলেজ আছে। আর সরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে ৩৬টি এবং ডেন্টাল কলেজ একটি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলো এতদিন দুটি নীতিমালার অধীনে চলত। নীতিমালা দিয়ে সব কিছু সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছিল না, এ জন্য নতুন আইন করা হচ্ছে।
“বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের প্রত্যেক বিভাগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত হবে ১:১০। এসব প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। ২৫ শতাংশের বেশি খণ্ডকালীন শিক্ষক রাখা যাবে না, ৭৫ শতাংশ স্থায়ী শিক্ষক থাকতে হবে।”
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, রিজার্ভ ফান্ডে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোকে তিন কোটি টাকা এবং ডেন্টাল কলেজগুলোকে দুই কোটি টাকা রাখতে হবে।
মেট্রোপলিটন এলাকায় বেসরকারি মেডিকেল কলেজ করতে কমপক্ষে দুই একর জমি এবং অন্য জায়গায় স্থাপন করলে চার একর জমি থাকতে হবে বলে জানান তিনি।
আনোয়ারুল বলেন, বেসরকারি মেডিকেল কলেজে যতগুলো শষ্যা থাকবে তার ১০ শতাংশ দরিদ্রদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। মেডিকেল কলেজে কমপক্ষে ২৫০টি এবং ডেন্টালে কমপক্ষে ৫০টি শয্যা থাকতে হবে।
“আইন অমান্য করলে দুই বছর কারাদণ্ড, ১০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। এছাড়া অনুমোদন বাতিল করাও হতে পারে।”
নতুন আইন পাস হলে মেডিকেল কলেজগুলোকে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি রাখতে হবে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
তিনি বলেন, যে বিভাগে যে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ থাকবে, সেই বিভাগের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সেগুলো পরিচালিত হবে। ঢাকা বিভাগের সব বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকবে।
নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর বর্তমানে যেসব মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ রয়েছে সেগুলোকে শর্ত পূরণ করতে সময় দেওয়া হবে জানিয়ে আনোয়ারুল বলেন, খসড়া আইনে প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়নেরও ক্ষমতা দেওয়া আছে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত মাহবুবে আলম

0

মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
এর আগে সোমবার বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে তার জানাজা সম্পন্ন হয়। 
এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এবং সহকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষে তার মরদেহে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
জানাজায় অংশ নেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের (আপিল ও হাইকোর্ট) উভয় বিভাগের বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতাসহ দেশের বিভিন্ন বারের আইনজীবী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
জানাজার পর মাহবুবে আলমের কফিনে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়া প্রধান বিচারপতি, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার সিএমএইচে মারা যান রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম।  
করোনা উপসর্গ থাকায় গত ৪ সেপ্টেম্বর মাহবুবে আলমকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। ওই দিনই করোনা পরীক্ষায় তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ সেপ্টেম্বর তার করোনা নেগেটিভ আসে। তবে পরদিন শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

0

মুক্তিযোদ্ধারা যাতে আরও স্বচ্ছলভাবে জীবনযাপন করতে পারেন সেজন্য তাদের মাসিক সম্মানি ৮ হাজার টাকা বাড়িয়ে মোট ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এ সুপারিশ করে।

এছাড়া নিজ নিজ এলাকার সড়কের নামগুলো বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। সাথে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক প্রাপ্ত সম্মানী আট হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে বিশ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, কাজী ফিরোজ রশীদ এবং মোছলেম উদ্দিন আহমদ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভিন্ন সংস্থা প্রধানগণসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সকল প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের নামের পূর্বে ‘বীর’ শব্দটি ব্যবহার সংক্রান্ত সচিব কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ মুক্তিযোদ্ধাদের যোগাযোগ রয়েছে এমন সব প্রতিষ্ঠানে প্রদান করার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কিছু কার্যক্রমের বিপক্ষে সংসদীয় কমিটির নিকট বেশ কিছু লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে কমিটির সভাপতি শাজাহান খানকে আহ্বায়ক এবং কাজী ফিরোজ রশীদ ও মোছলেম উদ্দিন আহমদকে সদস্য করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

বৈঠকে জানানো হয় মুক্তিযুদ্ধের নামে কিছু ভুঁইফোঁড় প্রতিষ্ঠান নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকায় সংসদীয় কমিটির সুপারিশ মোতাবেক জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) সে সকল প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিল করে।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয় নিরূপণে গেজেটেড সংজ্ঞা রয়েছে। এ সংজ্ঞায় আরো কোনো শব্দ যোজন-বিয়োজন বা পরিবর্তন করার প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা তা নিয়ে আগামী বৈঠকে আরো বিশদ আলোচনা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

রক্ষণশীল কোনিকে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি মনোনয়ন দিলেন ট্রাম্প, বিরোধীদের প্রতিবাদ

0

 
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি হিসেবে রক্ষণশীল প্রার্থী অ্যামি কোনি ব্যারেটকে মনোনয়ন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে তার সম্পর্কে বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, অতুলনীয় কৃতিত্বসম্পন্ন নারী তিনি।

অ্যামিকে মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে প্রেসিডেন্ট তাকে ‘সংবিধানের প্রতি নিরপেক্ষ আনুগত্য’ সহকারে একজন ‘অগ্রণী কার্যক্ষম এবং বিচারক’ হিসেবে বর্ণনা করেন ট্রাম্প। সিনেটরদের সমর্থন প্রয়াত উদারপন্থী বিচারপতি রুথ বাড গিন্সবার্গের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি। রয়টার্স।

ট্রাম্পের এ মনোনয়নের ঘোর বিরোধিতা করছে ডেমোক্র্যাট দল। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের চক্ষুশূল সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্বাস্থ্যবীমা ওবামাকেয়ারকে নিশ্চিহ্ন করতেই তাকে বিচারপতি মনোনয়ন দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এ ষড়যন্ত্র ঠেকাতে শনিবার রাতেই যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল কোর্টে কোনির বিরুদ্ধে মামলা করেছে তারা। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট এবং পরবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন না করা পর্যন্ত সিনেটকে এই শূন্যপদ নিয়ে কাজ না করার আহ্বান জানিয়েছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান আদালতে কে কাজ করবে সে সম্পর্কে একবারই ভোটারদের আওয়াজ দেয়ার একটি সুযোগ দিয়েছে। সেই মুহূর্তটি এখন এবং তাদের কণ্ঠস্বর শোনা উচিত।

বিচারক অ্যামি কোনি নিশ্চিত হয়ে গেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের ৯ বিচাপতির মধ্যে রক্ষণশীলদের সংখ্যা হবে ৬। বাকি তিনজন উদারপন্থী বা ডেমোক্রেটিক। এই সংখ্যা আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় যে কোনো প্রেসিডেন্টের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৪৮ বছর বয়সী অ্যামি কোনি হবেন বর্তমান রিপাবলিকান রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত তৃতীয় বিচারপতি। এর আগে ২০১৭ সালে নেইল গরসাচ এবং ২০১৮ সালে ব্রেট কাভানফকে মনোনয়ন দেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্টে ৯ জন বিচারপতিকে আজীবনের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়। তাদের শাসন বন্দুক থেকে শুরু করে গর্ভপাত এবং প্রচারের অর্থের ক্ষেত্রে সব কিছুকে জননীতির আকার দিতে পারে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যান্সারে আক্রান্তে হয়ে গিন্সবার্গের মৃত্যুর পর নির্বাচনের বছরে সুপ্রিমকোর্টের মনোনয়নে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ভণ্ডামির আশ্রয় নেয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

চলে গেলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম

0

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই৷
ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়েছে।
মাহবুবে আলমের ছেলে সুমন মাহবুব বলেছেন, সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে তার বাবার মৃত্যু হয়েছে।

মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন মাহবুবে আলম।
তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।  সোমবার বেলা ১১ টায় মাহবুবে আলমের মরদেহ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গনে নেয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে মরদেহ মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর জ্বর নিয়ে ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি হয়েছিলেন মাহবুবে আলম। সেখানে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর তার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটলে গত ১৮ সেপ্টেম্বর আইসিইউতে নেওয়া হয়।

তবে সর্বশেষ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরীক্ষায় ফল নেগেটিভ এসেছি।
মাহবুবে আলম ২০০৯ সালে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদে নিয়োগ পান। তারপর মৃত্যু অবধি ওই পদে ছিলেন। পদাধিকার বলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সর্বোচ্চ আদালতে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মাহবুবে আলম।
এছাড়া সংবিধানের পঞ্চম, সপ্তম, ত্রয়োদশ ও ষোড়শ সংশোধনী মামলা পরিচালনাও করেন তিনি।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের মামলায়ও যুক্ত ছিলেন মাহবুবে আলম। আলোচিত বিডিআর বিদ্রোহ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
তার এসব ভূমিকা স্মরণ করেছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, “মাহবুবে আলম বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা পরিচালনায় অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন একজন প্রথম সারির যোদ্ধা। ”
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “তিনি একজন প্রথিতযশা আইনজীবী হিসেবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক আইনি বিষয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ভূমিকা রেখেছেন এবং সবসময় ন্যায়নিষ্ঠ থেকে আইনপেশায় নিয়োজিত ছিলেন, যা অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।”
মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
তিনি এক মেয়াদে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং এক মেয়াদে সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।
মাহবুবে আলমের জন্ম ১৯৪৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মৌছামান্দ্রা গ্রামে।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স এবং ১৯৬৯ সালে লোক প্রশাসনে ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি নেন তিনি।
ছাত্র জীবনে বাম আন্দোলনে যুক্ত মাহবুবে আলম পরে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে বাংলাদেশে কমিউনিস্ট পার্টিতে বিভক্তির পর রাজনীতি ছেড়ে আইন পেশায় পুরোদমে সক্রিয় হন মাহবুবে আলম।
তিনি অবশ্য ১৯৭৩ সালেই বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্ত হয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হন।  
মাহবুবে আলম ১৯৭৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগে এবং ১৯৮০ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আইন পেশা পরিচালনার অনুমতি পান। ১৯৯৮ সালে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি।
১৯৯৩-৯৪ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হন।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৯৮ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন মাহবুবে আলম।
২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারির আগে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছিলেন মাহবুবে আলম।
সেনা নিয়ন্ত্রিত ওই সরকার আমলে শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হওয়ার পর শীর্ষ আইনজীবীদের অনেকে পিছুটান দিলেও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর পক্ষে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মাহবুবে আলম।
দৃশ্যত সেই কারণেই তার উপর আস্থাবান ছিলেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান মাহবুবে আলম। তার পর থেকে টানা ১১ বছর তিনি এ দায়িত্বে বহাল ছিলেন।
সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে জন্মস্থান মুন্সীগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন মাহবুবে আলম। তবে তাকে প্রার্থী না করে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বই চালিয়ে যেতে বলা হয়।

মাহবুবে আলম ১৯৭৯ সালে ভারতের নয়াদিল্লির ‘ইনস্টিটিউট অব কনস্টিটিশনাল অ্যান্ড পার্লামেন্টারি স্টাডিজ’ থেকে সাংবিধানিক আইন ও সংসদীয় প্রতিষ্ঠান ও পদ্ধতি বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন।
ভ্রমণপ্রিয় হিসেবে পরিচিত এই আইনজীবী দেশে ও দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে অংশ নিতে বিভিন্ন সময় ভারত, শ্রীলঙ্কা, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, হংকং, কোরিয়া ও তানজানিয়াসহ অনেক দেশ সফর করেছেন।

বিচারবিভাগ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় আইনজীবীর বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টের নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা, মামলায় লড়তে পারবেন না, ফেইসবুক বন্ধের নির্দেশ

0

বিচার বিভাগ নিয়ে ফেসবুকে ‘বিরূপ মন্তব্য’ করার কারণে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সুপ্রিমকোর্ট। ইউনুছ আলী আকন্দ নামের এই আইনজীবী দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাই কোর্ট বিভাগে কোনো মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না। শুধু তাই নয়,
এই আইনজীবীর ফেইসবুক পেইজ থেকে বিচার বিভাগ নিয়ে তার মন্তব্য অপসারণ করে তার অ্যাকাউন্ট ‘ব্লক করতে’ বিটিআরসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নৃতৃত্বে চার বিচারপতির ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ রোববার এই আদেশ দেন।
আদেশে ইউনুছ আলীর বিরুদ্ধে যে আদালত অবমাননার নোটিস জারি হয়েছে, আগামী ১১ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে উপস্থিত হয়ে তাকে সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
কোনো ব্যক্তির ফেইসবুক বন্ধ করতে বিটিআরসিকে আদালতের নির্দেশ দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন বলে জানিয়েছেন অনেক আইনজীবী।
নানা কারণে আদালত অঙ্গনে আলোচিত আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। বিশেষ করে
যে কোনো বিষয় নিয়ে রিট করা নিয়ে তিনি আলোচিত। নামের আগে তিনি ডক্টরও লাগান। তার ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। আদলতও একবার এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।
গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রার্থী হয়ে হেরে যান।
সম্প্রতি আইনজীবী ইউনুছ আলী বিচার বিভাগ নিয়ে ফেইসবুকে বিরূপ মন্তব্য করেন এমন অভিযোগে রোববার সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চের নজরে আনেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।
ইউনুছ আলীর সেসব মন্তব্যে ‘গুরুতর আদালত অবমাননা’ হয়েছে দাবি করে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনার আবেদন জানান তিনি।   
আদালত সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, মনসুরুল হক চৌধুরী, আব্দুল মতিন খসরু, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন, আইনজীবী মনজিল মোরেসদ ও আইনজীবী সমিতির সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজলের বক্তব্য শুনেন। পরে আদেশ দেন। আদেশে এসব নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
এর আগে গত আগস্ট মাসে বিচার বিভাগ নিয়ে ফেইসবুকে ‘বিরূপ মন্তব্য’ করায় আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুবের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল করেছিল সর্বোচ্চ আদালত।
পরবর্তিতে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আর ‘অবমাননাকর মন্তব্য ’না করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলে আপিল বিভাগ মামুন মাহবুবকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়।
তবে সেই আদেশে আদালত বলে দেয়, “ভবিষ্যতের জন্য এই মামলার কার্যক্রম ধারণ করা হয়েছে এবং তা সংরক্ষণ করা হবে।’
আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ তার ফেইসবুকে বিচারবিভাগ নিয়ে কি মন্তব্য করেছেন তা জানা যায় নি। কারণ তার ফেইসবুক একাউন্ট লক করা থাকায় বন্ধু তালিকা ছাড়া কেউ ঢুকতে পারেন না।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ, রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান

0

করোনা মহামারির কারণে বিদ্যমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো আরও প্রকট হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এ মহামারি আমাদের উপলব্ধি করতে বাধ্য করেছে যে এ সংকট উত্তরণে বহুপাক্ষিকতাবাদের বিকল্প নেই। আমরা কেউই সুরক্ষিত নই, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা সকলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশনে শনিবার দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাসস।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলায় ভাষণ দেন। আগে ধারণ করা এ ভাষণে তিনি সম্ভাব্য কোভিড-১৯ টিকার সময়োপযোগী ও সমান প্রাপ্তি নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘আশা করা হচ্ছে বিশ্ব শিগগিরই কোভিড-১৯-এর টিকা পাবে। এই টিকাকে বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।’

কোভিড-১৯–এর কারণে জাতিসংঘের ইতিহাসে এই প্রথম নিউইয়র্কের সদর দপ্তরে সদস্যদেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের অনুপস্থিতিতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৭ মিনিটের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা, জলবায়ু সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোভিড-১৯ প্রমাণ করেছে, আমাদের সকলের ভাগ্য একই সূত্রে গাঁথা। কাজেই সকল দেশ যাতে এই ভ্যাকসিন সময়মতো এবং একই সঙ্গে পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’ দেশের ওষুধশিল্পের অবকাঠামোগত সক্ষমতার বিষয়টির উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কারিগরি জ্ঞান ও মেধাস্বত্ব প্রদান করা হলে এই ভ্যাকসিন বিপুল পরিমাণে উৎপাদনের সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে।’
সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে এ নিয়ে ১৭তম বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী কোভিড-১৯ মহামারির কারণে অভিবাসী শ্রমিকদের দুর্দশার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘এই মহামারির কারণে অনেক শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। অনেককে নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেশে ফিরে আসা অভিবাসী শ্রমিকদের প্রণোদনা বাবদ ৩৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছি। তবে কোভিড-পরবর্তী সময়ে তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ প্রধানমন্ত্রী অভিবাসী শ্রমিকদের বিষয়টি সহমর্মিতার সঙ্গে ও ন্যায়সংগতভাবে বিবেচনা করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অভিবাসী গ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান।

দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই সমস্যা মিয়ানমারের সৃষ্টি এবং এর সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের ১১ লাখেরও বেশি নাগরিককে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। তিন বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত মিয়ানমার একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি।’ তিনি বলেন, ‘আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে আরও কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।’
দেশের আর্থিক খাতের আশু সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তাঁর সরকার ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। বিশ্বে খাদ্যাভাবের আশঙ্কা থাকায় এ নিয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা করোনাকালে খাদ্য উৎপাদনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। সেই সঙ্গে পুষ্টি নিশ্চয়তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের শিল্পকারখানা সচল রাখা এবং কৃষি ও শিল্পপণ্য যথাযথভাবে বাজারজাতকরণের বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি। যার ফলে বাংলাদেশের স্ব্যাস্থ্য ও অর্থনীতি এখনো তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো আছে।’
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর বিদ্যমান সমস্যাগুলো প্রতিনিয়ত প্রকট হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯–এর এই সংকটকালেও আমাদের বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় আম্পানের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সিভিএফ ও ভি-টোয়েন্টি গ্রুপ অব মিনিস্টার্স অব ফিন্যান্সের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু সমস্যা উত্তরণে একটি টেকসই পরিকল্পনা প্রণয়নে নেতৃত্ব প্রদান করবে। এ ছাড়া গ্লাসগো কপ-এ গঠনমূলক ও কার্যকর ফলাফল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।’
বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ বছর আমরা “উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি” অ্যাজেন্ডা-এর ২০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করছি। এই অ্যাজেন্ডার অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে আমরা শান্তি ও নিরাপত্তায় নারীর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করি।’ বাংলাদেশ ইতিমধ্যে এ বিষয়ে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতকরণে ‘বেইজিং ঘোষণা’ এবং ‘প্ল্যাটফর্ম অব অ্যাকশন’ কার্যকরে বাংলাদেশ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ শিশুদের উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইউনিসেফের এক্সিকিউটিভ বোর্ডের বর্তমান সভাপতি হিসেবে আমরা শিশুর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে কাজ করে যাচ্ছি।’
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশের পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এর উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় শান্তিরক্ষী প্রেরণে বাংলাদেশের অবস্থান এখন শীর্ষে। সংঘাতপ্রবণ দেশগুলোয় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও শান্তি বজায় রাখতে আমাদের শান্তিরক্ষীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘শান্তির প্রতি অবিচল থেকে আমরা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত পৃথিবী বিনির্মাণে বৈশ্বিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি আমাদের সমর্থন অবিচল।’
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ও সে সময় দেশে সংঘটিত গণহত্যার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রামে বাঙালি জাতি অবর্ণনীয় দুর্দশা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়েছে। সেই কষ্টকর অভিজ্ঞতা থেকেই আমরা নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায়সংগত দাবির প্রতি সমর্থন দিয়ে আসছি।’####

তামাক কোম্পানির অপতৎপরতা বন্ধে আইন সংশোধন চায় তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো

0

চলমান কোভিড-১৯ মহামারীতে ব্যবসা অব্যাহত রাখতে তামাক কোম্পানিগুলো সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি (সিএসআর), লবিং, অনুদান ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারসহ বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে। ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত ‘কোভিড-১৯ ও তামাক কোম্পানি’ শীর্ষক ওয়েবিনারে প্রজ্ঞা’র পক্ষ থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক প্রকল্প প্রধান হাসান শাহরিয়ার এ বিষয়ে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন। গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রগতির জন্য জ্ঞান- প্রজ্ঞা’র পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তামাককে করোনা সংক্রমণ সহায়কপণ্য হিসেবে চিহ্নিত করলেও দুইটি বহুজাতিক তামাক কোম্পানি করোনা মহামারীর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে সিগারেট উৎপাদন, বিপণন ও তামাক পাতা ক্রয় অব্যাহত রাখার জন্য অনুমতিপত্র আদায় করে নিতে সক্ষম হয়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির নামে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাঠ প্রশাসনকে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান, ব্রান্ড ইমেজ প্রচারের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পেইজে লাইভ টকশো এ অংশগ্রহণ, করোনায় ধূমপায়ীদের ক্ষতি কম এজাতীয় ভ্রান্ত তথ্য প্রচার ইত্যাদি অব্যাহত রেখেছে কোম্পানিগুলো।  তরুণ সমাজকে টার্গেট করে ভ্যাপিং ব্যবসায়ীরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে তরুণদের ভ্যাপিং পণ্যে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।  ওয়েবিনারে অংশ নেয়া তামাকবিরোধী সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ জানান তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার সুযোগ থাকায় সরকারের নীতিপ্রণেতাদের সাথে অপ্রয়োজনীয় যোগাযোগ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তামাক কোম্পানিগুলো তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক নীতি গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে থাকে। অবিলম্বে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে তামাক কোম্পানির সকল সিএসআর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তারা।  একইসাথে ওয়েবিনারে ই-সিগারেটসহ সকল ভ্যাপিং এবং হিটেড তামাকপণ্যের উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধের আহবান জানানো হয়।   এছাড়া সিগারেটের মতো বিষাক্তপণ্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের তালিকায় থাকাকে প্রধানমন্ত্রীর ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।  তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ১৯৫৬ সালের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে তামাকপণ্যকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকা থেকে বাদ দেয়ার দাবি জানান।
ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভাইটাল স্ট্রাটেজিস এর বাংলাদেশ কান্ট্রি এডভাইজার মো. শফিকুল ইসলাম, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস এর মুখ্য পরামর্শক ড. মো. শরিফুল আলম, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (এনটিসিসি) এর সাবেক সমন্বয়কারী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর সাবেক অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ রূহুল কুদ্দুস, বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটি এর প্রজেক্ট ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং আর্ক ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক ড. রুমানা হক, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এর ইপিডেমিওলজি এন্ড রিসার্চ বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট এর নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ, দি ইউনিয়ন এর কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, তামাকবিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ) এর আহবায়ক ফরিদা আক্তার, ঢাকা আহছানিয়া মিশন এর হেলথ ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ, জাতীয় যক্ষা নিরোধ সমিতি (নাটাব) এর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মাদ কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রাম (বিসিসিপি) এর টোব্যাকো কন্ট্রোল প্রোগ্রাম টিম লিডার মোহাম্মদ শামিমুল ইসলাম, ভয়েস এর নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ, গ্রাম বাংলা উন্নয়ন কমিটি এর নির্বাহী পরিচালক একেএম মাকসুদ এবং প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। এছাড়াও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (এনটিসিসি) এর প্রতিনিধিবৃন্দসহ ওয়েবিনারে অংশ নেন তামাকবিরোধীসংগঠন প্রত্যাশা, বাংলাদেশ তামকবিরোধী জোট, বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি), এইড ফাউন্ডেশন, টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি), ডেভেলপমেন্ট অ্যাকটিভিটিজ অফ সোসাইটি (ডিএএস), ইপসা ও ইউনাইটেড ফোরাম এগেইনস্ট টোব্যাকো (উফাত)। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

সুপ্রিমকোর্টেও ন্যায় বিচার পাননি ফাঁসিতে মৃত্যুবরণকারী ১৩ মুক্তিযোদ্ধা সামরিক কর্মকর্তা, পত্রপাঠে বিদায় করেছিলেন প্রধানবিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেন

0

১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যার ঘটনায় সামরিক আদালতে ১২ জন মুক্তিযোদ্ধা সামরিক কর্মকর্তার ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করেও ন্যায়বিচার পাননি অভিযুক্তরা। সামরিক আদালতের বৈধতা নিয়ে করা রিট হাইকোর্ট খারিজ করে দেওয়ার পর প্রধানবিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চে আপিল করা হয়েছিল। কিন্তু আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চে পাঁচ দিন শুনানি করে তা খারিজ করে সামরিক আদালদের দণ্ড বহাল রাখা হয়। দণ্ডিতদের আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির বাসভবনে গিয়ে রিভিউ আবেদন করেছিলেন। কিন্তু প্রধানবিচারপতি তা শুনেনতো না – ই বরং পত্রপাঠে বিদায় করে দিয়ে বলেছিলেন, রাজনীতিকে আদালতে টেনে আনবেন না।

ঘটনার প্রায় চল্লিশ বছর পর প্রশ্ন ওঠছে, মুক্তিযোদ্ধা সামরিক কর্মকর্তাদের প্রহসনমূলক বিচারে ফাঁসির যে দণ্ড দেয়া হয়েছিল,যে আইনবহির্ভূত বিচার হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে অভিযুক্তরা দেশের সর্বোচ্চ আদালতে প্রতিকার চেয়েও পান নি কেনো? কোন ভয়ে ভীত ছিলেন বিচারকরা?একজন নাগরিক, সর্বোপরি মুক্তিযোদ্ধা সামরিক কর্মকর্তাদের জীবন রক্ষায় কেনো ব্যর্থ্য হয়েছিলেন সর্বোচ্চ আদালত?
মুক্তিযোদ্ধা সামরিক কর্মকর্তাদের বিচারের নামে ফাঁসির দায় তখনকার সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকরা এড়াতে পারেন না। ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না, এমনটাই বলছেন অনেক বিশ্লেষক।

লেখক ও গবেষক আনোয়ার কবির, যিনি এই ঘটনার গভীর অনুসন্ধান করে বই লিখেছেন, তথ্যচিত্র বানিয়েছেন তিনি তার বইয়ে অভিযুক্তদের স্বজন ও বিশিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে উল্লেখ করেছেন, মুক্তিযোদ্ধা সেনাকর্মকর্তাদের ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা ছিল হীন পরিকল্পনার অংশ। আর এই পরিকল্পনার মূলে ছিলেন জেনারেল এরশাদ, যিনি তখন ছিলেন সেনাপ্রধান। এরশাদ তার সামনের পথের কাঁটা সরিয়ে ফেলতেই সুযোগ কাজে লাগান। জিয়াউর রহমানের হত্যার পর ক্ষমতায় বহাল থাকে বিএনপিই। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার। যার কাঁধে বন্দুক রেখে এরশাদ তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন।

এরশাদের নির্দেশে সামরিক আদালত সৃষ্টি করে মাত্র ১৮ দিনে শেষ করা হয় বিচার। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে কঠোর গোপনীয়তার মাধ্যমে বসানো হয় সামরিক আদালত। আদালতের বিচারকরাও ছিলেন জেনারেল এরশাদের পছন্দের নিয়োগপ্রাপ্ত। সামরিক আদালতের সভাপতি ছিলেন, মেজর জেনারেল আব্দুর রহমান, সদস্য ছিলেন ব্রিগেডিয়ার নুসরাত আলী কোরেশী, কর্নেল মোহাম্মদ মতিউর রহমান, কর্নেল মফিজুর রহমান চৌধুরী, লেঃ কর্নেল মাসুদ আলী খান, লেঃ কর্নেল এম মকবুল হায়দার, ও লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ হারিস। এই পাঁচ জনের মধ্যে একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কর্নেল মতিউর রহমান বীরপ্রতীক, বাকি চার কর্মকর্তাই ছিলেন পাকিস্তান প্রত্যাগত । ৪ জুলাই সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ সেনাআইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী এই সামরিক আদালত গঠনের নির্দেশ নেন।
এর আগেই মেজর জেনারেল মেজাম্মেল হোসেনকে প্রেসিডেন্ট করে কোর্ট অব ইনকোয়ারী কমিটি গঠন করা হয়। এর সদস্য ছিলেন ব্রিগেডিয়ার হাফিজউদ্দিন, কর্নেল গোলাম কাদের ও কর্নেল আজিজুর রহমান।
সামরিক আদালত ও কোর্ট অব ইনকোয়ারির সদস্য সবাই ছিলেন এরশাদের পছন্দের ।
কোর্ট অব ইনকোয়ারিতে অভিযুক্ত করা হয়েছিল ৩৩ জনকে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে ১৯৮১ সালের ১০ জুলাই কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে সামরিক আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। ১০ জুলাই আদালতের কার্যক্রম শুরুর পর সে দিনই রহস্যজনক কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। ১৬ জুলাই পুনরায় শুরু হয় বিচারকার্যক্রম। সামরিক আদালতে সরকার পক্ষে ডিফেন্ডিং অফিসার বা আইনজীবী নিযুক্ত হন ব্রিগেডিয়ার নাজিরুল আজিজ চিশতি,কর্নেল এ এম এ আমিন ও লেঃ কর্নেল আবু নঈম আমিন আহমেদ। আর আসামী পক্ষে ডিফেন্ডিং অফিসার নিযুক্ত হন ব্রিগেডিয়ার এম আনোয়ার হোসেন,কর্নেল মোহাম্মদ আইনউদ্দিন ও লেঃ কর্নেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম।

অভিযুক্ত ব্রিগেডিয়ার মোহসীনউদ্দীন বীরবিক্রম, কর্নেল এম এ রশিদ বীরপ্রতীক ও মেজর দোস্ত মোহাম্মদ শিকদারের পক্ষে এডভোকেট গাজীউল হক ও এডভোকেট আমিনুল হককে নিয়োগ দেয়ার জন্য তাদের স্বজনরা সামরিক আদালত কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন। এডভোকেট আমিনুল হক চট্টগ্রাম গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে এ আবেদন করেন। কিন্তু তাদের আবেদন নাকচ করে দেয়া হয়। শুরু হয় একতরফা বিচার কাজ। মাত্র ১৮ দিনেই বিচারকাজ শেষ করা হয়। ২৮ জুলাই বিচারকাজ শেষ করে ২৯ জুলাই আসামিদের বিভিন্ন কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ১১ আগস্ট রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে ১২ জনকে মৃত্যুদন্ড, ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অন্যদের সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়।
কোর্ট মার্শালের এই রায়ের বৈধতা নিয়ে ৩ সেপ্টেম্বর (১৯৮১) হাইকোর্টে রিট করা। রিটে বলা হয়েছিল সামরিক আদালতে এই বিচার কার্যক্রম চলতে পারে না। শুনানি শেষে ৭ সেপ্টেম্বর তা খারিজ করে দেন বিচারপতি এ এম ফয়সুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি লকিফুর রহমানের বেঞ্চ। এর বিরুদ্ধে এই দিনই প্রধান বিচারপতি কামাল উদ্দিন হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চে আপিল করা হয়। আপিল বিভগের পূর্নাঙ্গে বেঞ্চে অন্য বিচারপতিরা ছিলেন বিচারপতি রুহুল ইসলাম বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী ও বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ। অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন,এম এইচ খন্দকার,এডভোকেট সিরাজুল হক, ড. কামাল হোসেন,ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমদ,এডভোকেট খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমাদ ও ড. এম জহির। ১৭ সেপ্টেম্বর শুনানি শুরু হয়। ২২ সেপ্টেম্বর সেই আপিল নাকচ হয়ে যায়। বহাল থাকে সামরিক আদালতের রায়। দুপুরে আপিল নাকচ হলে রাতেই শীর্ষ আইনজীবীরা প্রধানবিচারপতি কামাল উদ্দিন হোসেনের বাসভবনে যান রায় পুনর্বিবেচনা বা রিভিউ এর জন্য। প্রধানবিচারপতি সেই রিভিউ একবাক্যে নাকচ করে দিয়ে রাজনীতিকে আদালতে না আনার পরামর্শ দেন। রিভিউ নাকচ হওয়ার পরপরই রাত ১২ টার পর অর্থাৎ ২৩ সেপ্টেম্বরের প্রথম প্রহরে তড়িঘড়ি করে বিভিন্ন কারাগারে থাকা ১২ জন মুক্তিযোদ্ধা সেনাকর্মকর্তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। আর এর মাধ্যমে সৃষ্টি হয় ইতিহাসের আরেক কলঙ্কিত দিনের।
একই অভিযোগে ১৯৮৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আরও এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসি দেয়া হয়। তিনি হলেন লেঃ কর্নেল শাহ মোহাম্মদ ফজলে হোসেন। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন ছিলেন। কিন্তু তাকেও পরবর্তিতে ব্রিগেডিয়ার মফিজুর রহমানকে প্রেসিডেন্ট করে মার্শাল কোর্টে বিচার করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ১৯৮৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর।
যে বীর সেনানীরা জীবনবাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেন মাত্র ১০ বছরের মধ্যেই মিথ্যা অপবাদে প্রহসনের বিচারে তাদের ফাঁসিতে ঝুলে জীবন দিতে হলো। আর এর পেছনে কুটচাল ও হীন পরিকল্পনা করলেন তিনি, যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিলেন পাকিস্তানে। এইচ এম এরশাদ, যিনি দেশ স্বাধীনের পর ফিরে এসে হয়ে ওঠলেন দৌর্দণ্ডপ্রতাপশালী সামরিক কর্মকর্তা। জেনারেল জিয়া হত্যার পর জেনারেল এরশাদ প্রতিটা সুযোগ কাজে লাগান তার ক্ষমতা আরোহণে। কখনো রাষ্ট্রপতি সাত্তারকে আবার কখনোবা সর্বোচ্চ বিচারালয়কে ব্যবহার করে।