ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩   দুপুর ১:৪৪ 

Home Blog Page 157

ভাসানচর বসবাসের উপযোগী কি না দেখতে গেছেন ৪০ রোহিঙ্গা নেতা, তত্বাবধানে সেনাবাহিনী

0

বসবাসের উপযোগী কি না তা দেখতে কক্সবাজারের শরাণার্থী শিবিরের দুই নারীসহ ৪০ জন রোহিঙ্গা নেতা শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচর পৌঁছেছেন। ঘিঞ্চি শরণার্থী শিবির থেকে কমপক্ষে এক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা ওই দ্বীপে পাঠানোর অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
শনিবার বিকাল ৫টার দিকে রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধি দল ভাসানচরে পৌঁছেছে জানিয়ে সেনাবাহিনীর রামু-১০ পদাতিক ডিভিশনের মুখপাত্র মেজর ওমর ফারুক বলেন, ৪০ জন রোহিঙ্গা নেতার একটি প্রতিনিধি দল শনিবার ভোরে ভাসানচর দেখতে রওয়ানা দেন। তারা দুপুরে চট্রগ্রামে পৌঁছান। পরে সেখান থেকে জাহাজে করে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ভাসানচরে পৌঁছান। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

শনিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে ভাসানচর দেখতে যাওয়া কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতা মুঠোফোনে জানান, বিকাল ৫টার দিকে আমরা ভাসানচরে পৌঁছেছি। এরপর একটি কক্ষে আমাদের ভাসানচরের আবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে তৈরি ভিডিও চিত্র দেখান সেখানকার কর্মকর্তারা। রাত হয়ে যাওয়ায় রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু হবে। তবে ভাসানচরের যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে যে শঙ্কার কথা শুনছিলাম এখানে এসে সেটি মনে হয়নি। সরকারকে ধন্যবাদ জানাই আমাদের ভালো ব্যবস্থাপনায় ভাসানচরে নিয়ে আসার জন্য।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ভাসানচরে যাচ্ছেন। সরকারের আশা, রোহিঙ্গা নেতারা দেখে এসে অন্যদের বোঝালে ভাসানচর যেতে রাজি হবেন শরণার্থীরা। এই দলের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সহায়তাকারী জাতিসংঘের কোনও সংস্থার প্রতিনিধি বা গণমাধ্যমর্কীরা থাকছেন না। তবে আগে থেকে ভাসানচরে আরআরআরসি কার্যালয়ের তিন কর্মকর্তা সেখানে অবস্থান করছেন।
হাতিয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) গোলাম ফারুক বলেন, কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরের রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধি দলটি বিকেল ৫টায় ভাসানচরে পৌঁছেন। তাদের সেখানে একটি সেন্টারে রাখা হয়েছে। রবিবার থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু হবে। মূলত বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষ বিষয়টি দেখছেন।

জাতিসংঘসহ শরণার্থীদের মানবিক সেবাদানকারী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বিরোধিতা সত্ত্বেও কমপক্ষে এক লাখ শরণার্থীকে ওই দ্বীপে স্থানান্তর করার লক্ষ্যে চলমান সরকারি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ বিষয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) ঢাকাস্থ কার্যালয়ের মুখপাত্র মোস্তফা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এ সর্ম্পকে আমরা কিছুই জানি না। আমাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। তাছাড়া ভাসানচরে থাকা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তাদের স্বজনেরাও যোগাযোগ করতে পারছেন না। এখনও আমরা সরকারের নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছি।
এদিকে শুক্রবার দুপুরে টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে রোহিঙ্গা নেতারা তিন চার দিনের প্রস্তুতি নিয়ে ক্যাম্প ইনচার্জের (সিআইসি) কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর সেনা প্রহরায় মাইক্রোবাসে করে উখিয়া রওয়ানা দিয়েছেন। প্রতিনিধিরা উখিয়ায় পৌঁছানোর পর শুক্রবার রাতেই তাদের সঙ্গে দেখা করে আরআরআরসি মাহবুব আলম তালুকদার ভাসানচরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
শুক্রবার তাদের রাত কাটে উখিয়ায় কুতুপালংয়ের ট্রানজিট পয়েন্টে। সেখান থেকে শনিবার ভোরে বাসে করে তারা ভাসানচরের উদ্দ্যেশে রওনা হয়েছে বলে জানিয়ে জাদিমুরা ও শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিআইসি) মোহাম্মদ খালিদ হোসেন বলেন, শনিবার বিকেলে তারা সেখানে পৌঁছায়।

আগেই সব প্রতিনিধির করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে জানিয়ে টেকনাফ জাদিমুরা শরণার্থী শিবিরের হেড মাঝি মো. কালাম বলেন, শুক্রবার রওয়ানা দেওয়ার আগে তাদের সবার সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষাও হয়েছে। শনিবার ভোরে দুই নারীসহ ৪০ জনের একটি দল ভাসানচরের উদ্দ্যেশে উখিয়া থেকে রওয়ানা হয়েছে। সব ঠিক থাকলে হয়তো রাতের মধ্যে আমরা সেখানে পৌঁছব।
শরণার্থী শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন-১৬) পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হেমায়েতুল ইসলাম বলেন, পরিদর্শনের পর রোহিঙ্গা নেতারা ভাসানচরে যাওয়ার স্বপক্ষে জনমত গড়ে তুলতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গত জুলাইয়ের শেষ দিকে রোহিঙ্গা প্রতিনিধি দলের তালিকা তৈরি করা হয়েছিল।
টেকনাফের শালবন রোহিঙ্গা শিবিরের হেড মাঝি মো. নুর বলেন, ভাসানচর যদি বসবাসের উপযুক্ত হয় তবে অবশ্যই রোহিঙ্গারা সেখানে যাবে। আমরা স্বচক্ষে দেখে এলে সবাইকে বোঝাতে পারব। সেই উদ্দ্যেশে সেখানে যাওয়া।

এর আগে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মাহবুব আলম তালুকদার জানিয়েছেন, শনিবার ভোরে ভাসানচর দেখতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা নেতাদের একটি প্রতিনিধি দল রওনা হয়েছে। তারা বিকালে ভাসানচরে পৌঁছবেন।

কেমন আছেন ভাসানচরের রোহিঙ্গারা?
বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা তিন শতাধিক রোহিঙ্গাকে গত মে মাসে ভাসানচরে নিয়ে যায় সরকার। জুলাইয়ে ইউএনএইচসিআর-এর কক্সবাজার কার্যালয়ের মুখপাত্র লুইস ডোনোভান বলেছিলেন, ওই শরণার্থীদের জন্য সেখানে জাতিসংঘের প্রবেশাধিকার এখন খুবই জরুরি।
নোয়াখালীর জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেছেন, কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকে রোহিঙ্গা নেতাদের একটি দল সন্ধ্যায় তার এলাকার ভাসানচরে পৌঁছার কথা। মূলত তারা ভাসানচরে থাকার উপযোগী কিনা সেই বিষয়ে পরির্দশনে আসছে।
প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচরে আশ্রয় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সরকার। জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাস থেকে সেখানকার ৪০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা রক্ষা করতে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ এবং এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের এক সভায় ভাসানচরের জন্য নেওয়া প্রকল্পের খরচ ৭৮৩ কোটি টাকা বাড়িয়ে তিন হাজার ৯৫ কোটি টাকা করা হয়। বাড়তি টাকা বাঁধের উচ্চতা ১০ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১৯ ফুট করা, আনুষঙ্গিক সুবিধা বৃদ্ধিসহ জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের জন্য ভবন ও জেটি নির্মাণে খরচ হবে।

বাজারের প্রসেসড খাবারে ১০ গুণ বেশি ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাট, বাড়ছে হৃদরোগ,ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ; গবেষণায় তথ্য

0

চরম ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য, সবধরনের ফ্যাট, তেল এবং খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ মাত্রা প্রতি ১০০ গ্রাম ফ্যাটে যেখানে ২ গ্রাম থাকার কথা সেখানে রয়েছে ২০ গ্রামের বেশি। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক।
ঢাকার পিএইচও (পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল) নমুনার ৯২ শতাংশে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সুপারিশকৃত ২% মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট (ট্রান্স ফ্যাটি এসিড) পাওয়া গেছে।  প্রতি ১০০ গ্রাম পিএইচও নমুনায় সর্বোচ্চ ২০.৯ গ্রাম পর্যন্ত ট্রান্সফ্যাট এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত মাত্রার তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি।  ঢাকার শীর্ষস্থানীয় পিএইচও ব্র্যান্ডগুলোর নমুনা বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল পেয়েছেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট (এনএইচএফএইচআরআই) এর গবেষকরা। এই গবেষণায় সহায়তা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক নাজমা শাহীন ও গবেষণা উপদষ্টো আবু আহাম্মদ শামীম। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের উচিত ডব্লিউএইচও’র সুপারিশ অনুসরণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। 
৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ‘Assessment of Trans Fat in PHOs in Bangladesh’ শীর্ষক গবেষণা ফল প্রকাশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। গ্লোবাল হেলথ এডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) এর সহযোগিতায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) সম্মিলিতভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।


সাংবাদিক নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এর ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী এবং করণীয় সম্পর্কে আলোকপাত করেন প্রজ্ঞা’র ট্রান্সফ্যাট বিষয়ক প্রকল্পের টিমলিডার মো: হাসান শাহরিয়ার।
পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল (পিএইচও) বাংলাদেশে ডালডা বা বনস্পতি ঘি নামে অধিক পরিচিত। বাসা বাড়িতে ব্যবহার না হলেও পিএইচও বেকারি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক ভাবে তৈরি করা খাবারে ব্যবহৃত হয়। গবেষণার আওতায় ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটের খুচরা বিক্রেতাদের সাথে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বেকারি এবং রেস্তোরাঁয় খাবার তৈরিতে সচরাচর ব্যবহার হয় এমন চারটি শীর্ষস্থানীয় পিএইচও ব্র্যান্ডের তালিকা তৈরি করা হয়। এই তালিকার ভিত্তিতে পাইকারি বাজার (হোলসেলার) এবং পিএইচও উৎপাদনকারী কারখানা থেকে ব্র্যান্ডগুলোর মোট ২৪টি নমুনা সংগ্রহ করে পর্তুগালের ন্যাশনাল হেলথ ইনস্টিটিউট ফুড কেমিস্ট্রি ল্যাবরেটরি এর সহায়তায় সেগুলো বিশ্লেষণ করা হয়।  অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি ব্যবহার করে ট্রান্স ফ্যাটি এসিড বা টিএফএ মাত্রা নির্ণয় করা হয়।  পিএইচও নমুনা বিশ্লেষণ করে প্রতি ১০০ গ্রাম নমুনায় গড়ে ১১ গ্রাম ট্রান্সফ্যাট পাওয়া গেছে। এছাড়া, একই ব্র্যান্ডের পিএইচও নমুনার মধ্যে ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতির ব্যাপক তারতম্য লক্ষ করা গেছে।  যেমন, একটি পিএইচও ব্র্যান্ডের ৭টি নমুনায় ০.৬৯ গ্রাম থেকে শুরু করে ১৪.৫ গ্রাম পর্যন্ত ট্রান্সফ্যাট পাওয়া গেছে।  বাংলাদেশে পিএইচও বা ডালডা সাধারণত ভাজা পোড়া স্ন্যাক্স ও বেকারিপণ্য তৈরি এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ ও সড়কসংলগ্ন দোকানে খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের খাবারে ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাট উপাদানের উপস্থিতি সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য-উপাত্ত না থাকার কারণেই এই গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। গবেষকদলের অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, “এই গবেষণা প্রমাণ করে বাংলাদেশে অনেক পণ্যেই বিপজ্জনক মাত্রায় ট্রান্সফ্যাট রয়েছে, যা অধিক হারে হৃদরোগ ও হৃদরোগজনিত মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের উচিত হবে সবধরনের ফ্যাট, তেল এবং খাবারে ট্রান্স ফ্যাটি এসিডের সর্বোচ্চ পরিমাণ মোট ফ্যাট বা তেলের ২ শতাংশ (2g/100g) পর্যন্ত সীমিত করে নীতিমালা প্রণয়ন করা।” অধ্যাপক নাজমা শাহীন বলেন, “বাংলাদেশে বিরাজমান হৃদরোগজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে অতিদ্রুত পিএইচও’র ট্রান্সফ্যাট এর মাত্রা ২% এ নামিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি এবং এই পদক্ষেপের মাধ্যমেই বাজারজাত প্রসেসড খাবারে ট্রান্সফ্যাটের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।”
ভেজিটেবল অয়েল বা উদ্ভিজ্জ তেল (পাম, সয়াবিন ইত্যাদি) যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেশন করা হলে তেল তরল অবস্থা থেকে মাখনের মতো অর্ধ-কঠিন মারজারিন (semi-solid margarine) বা কঠিন ডালডা বা বনস্পতি উৎপন্ন হয়, এই প্রক্রিয়ায় ট্রান্সফ্যাটও উৎপন্ন হয়। এই শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। মাত্রাতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ উচ্চহারে হৃদরোগ, হৃদরোগজনিত মৃত্যু, স্মৃতিভ্রংশ (dementia) এবং স্বল্প স্মৃতিহানি (cognitive impairment) জাতীয় রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।  ডব্লিউএইচও’র হিসেব অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। বাংলাদেশে প্রতিবছর ২ লক্ষ ৭৭ হাজার মানুষ সার্বিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ট্রান্সফ্যাটের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে ডব্লিউএইচও ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ থেকে শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট নির্মূলকে অগ্রাধিকাকৃত লক্ষ্যমাত্রা  হিসেবে নির্ধারণ করেছে। গবেষণা কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানকারী গ্লোবাল হেলথ এডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, “বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুসরণ করে ভারত, থাইল্যান্ড, ব্রাজিলসহ অনেক দেশ খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে নীতি করেছে। বাংলাদেশও এক্ষেত্রে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই গবেষণার ফলাফল ট্রান্সফ্যাট বিষয়ক নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।” ক্যাব এর প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর আহম্মদ একরামুল্লাহ বলেন,“ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে কোনো নীতি না থাকায় ভোক্তা স্বাস্থ্য চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে। ভোক্তা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ট্রান্স ফ্যাট নির্মূল করার জন্য সরকার, ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।” অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, “ট্রান্সফ্যাটের স্বাস্থ্যক্ষতি ও বিস্তার সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি এবং ট্রান্সফ্যাট নির্মূলে নীতিপ্রণেতাদের উদ্বুদ্ধ করতে গণমাধ্যম সবেচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।”
সংবাদ সম্মেলনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সবধরনের ফ্যাট, তেল এবং খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা মোট ফ্যাটের ২ শতাংশ নির্ধারণ এবং তা কার্যকর করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সহায়ক পদক্ষেপ হিসেবে মোড়কজাত খাবারের পুষ্টিতথ্য তালিকায় ট্রান্সফ্যাটের সীমা উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা, উপকরণ তালিকায় পিএইচও এর মাত্রা উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা, ফ্রন্ট অব প্যাকেজ লেবেলস বাধ্যতামূলক করা যা খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতি নির্দেশ করবে, এবং “ট্রান্সফ্যাট-মুক্ত” বা “স্বল্পমাত্রার ট্রান্সফ্যাট” এজাতীয় স্বাস্থ্যবার্তা ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। এধরনের পদক্ষেপে খাদ্যপণ্যের উপাদান সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতনতাও বৃদ্ধি পায় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

স্বামীর সব সম্পত্তিতে ভাগ পাবেন হিন্দু বিধবারা: হাই কোর্টের যুগান্তকারী রায়, অবসান হলো বৈষম্যের

0

বাংলাদেশের হিন্দু বিধবারা স্বামীর সব সম্পত্তিতে (অকৃষি-কৃষি) ভাগ পাবেন বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার এ সংক্রান্ত একটি মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় দেন হাইকোর্টের বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর একক বেঞ্চ।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছে, বাংলাদেশে প্রচলিত (১৯৩৭ সালের ‘দ্য হিন্দু ওমেন’স রাইট টু প্রোপার্টি অ্যাক্ট’) যে আইন আছে, সে আইনে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে কোনো পার্থক্য (কৃষি বা অকৃষি) করেনি। ফলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী স্বামীর রেখে যাওয়া কৃষি জমিতে তার বিধবা স্ত্রী অধিকারের দাবিদার।

খুলনার বটিয়াঘাটার জ্যোতিন্দ্র নাথ মণ্ডলের করা আবেদন (রিভিশন মামলা) খারিজ করে বুধবার বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর একক হাই কোর্ট বেঞ্চের দেওয়া রায়ে এ পর্যবেক্ষণ এসেছে।

আদালতে আবেদনকারীর আইনজীবী ছিলেন মো. আব্দুল জব্বার। বিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন নাফিউল ইসলাম।

অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে এ মামলায় মতামত দিয়েছেন দিয়েছেন আইনজীবী উজ্জল ভৌমিক। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

রায়ের পর আইনজীবী উজ্জল ভৌমিক বলেন, “রায়ের এই পর্যবেক্ষণের আইনগত বাধ্যবাধকতা আছে। দেশের নিম্ন আদালত এই পর্যবেক্ষণ মানতে বাধ্য। এই রায়ের ফলে দেশের হিন্দু বিধবা নারীরা (জীবনস্বত্ব) তার স্বামীর রেখে যাওয়া কৃষি জমি ভোগ-দখল করতে পারবেন। এতদিন বিধবা নারীরা শুধু অকৃষি জমির অধিকারী ছিলেন। এখন স্বামীর সব সম্পত্তিতে বিধবা নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হল।”

এ আইনজীবী বলেন, ১৯৩৭ সালের আগে হিন্দু বিধবারা সম্পত্তির অধিকার পেত সন্তানের অবর্তমানে। ১৯৩৭ সালে ‘দ্য হিন্দু ওমেন’স  রাইট টু প্রোপার্টি অ্যাক্ট’ করার পরে স্বামীর রেখে যাওয়া যে কোনো (কৃষি-অকৃষি) সম্পত্তিতে সন্তানের সাথে হিন্দু বিধবা নারীকে সমান অধিকার দেওয়া হয়।

অর্থাৎ বিধবার যদি ছেলেও থাকে তাহলে সে সমান সম্পত্তি পাবে। বিধবার যদি তিনটি ছেলে থাকে তাহলে সে সম্পত্তি সমান চার ভাগ হবে, দুই ছেলে থাকলে সমান তিন ভাগ হবে। এক ছেলে থাকলে সমান দুই ভাগ হবে, এ রকম।

১৯৩৭ সালের এই আইনটি চ্যালেঞ্জ করলে ইন্ডিয়ার ফেডারেল কোর্ট ১৯৪১ সালে কৃষি জমির অধিকারের ক্ষেত্রে হিন্দু বিধবাদের অধিকার বাতিল করে দেয়।

আইনজীবী উজ্জ্বল ভৌমিক বলেন, “১৯৭২ সালের আগে ইন্ডিয়ার ফেডারেল কোর্টের রায় অনুযায়ী এই বিধানই চলে আসছিল। কিন্তু দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে ১৯৩৭ সালের ‘দ্য হিন্দু ওমেন’স রাইট টু প্রোপার্টি অ্যাক্ট’ সরাসরি গ্রহণ করে বাংলাদেশ সরকার।

“মূল আইনটিতে যেহেতু হিন্দু বিধবাদের সম্পত্তির অধিকারের ক্ষেত্রে স্বামীর যে কোনো সম্পত্তির কথা বলা আছে, সেই আইনটিকেই আজকে বিচারিক ঘোষণার মাধ্যমে আরও পরিষ্কার করল।”

বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের আদালত ভারতের ফেডারেল কোর্টের ১৯৪১ সালের দেওয়া রায় অনুসরণ করেছে জানিয়ে এ আইনজীবী বলেন, “যেমন বিচারপতি হাবিবুর রহমানের একটি রায়ে বলা হয়েছিল, হিন্দু বিধবারা স্বামীর কৃষি জমিতে অধিকার পাবেন না। আবার বিচারপতি মোস্তফা কামাল রায়ে (যেটি ৩৪ ডিএলআর) বলেছেন, কৃষি জমিতে অধিকার পাবেন। ভাগ-বাটোয়ারার মামলায় এ রকম সাংঘর্ষিক রায় আছে আমাদের। একমাত্র এই স্বত্ত্ব মামলাটিতেই এই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে আসল।”

মামলার নথি থেকে জানা যায়, খুলনার বটিয়াঘাটার হালিয়া গ্রামের অভিমূণ্য মণ্ডল মারা যাওয়ার পর তার রেখে যাওয়া কৃষি জমি স্ত্রী গৌরী দাসীর নামে রেকর্ড হয়।

এই রেকর্ড সংশোধনের জন্য ১৯৯৬ সালে খুলনার সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন গৌরী দাসীর দেবর জ্যোতিন্দ্র নাথ মণ্ডল।

আদালত ওই বছরের ৩০ মে তার আবেদন খারিজ করে দেয়। ১৯৪১ সালের ইন্ডিয়ার ফেডারেল কোর্ট এবং বাংলাদেশের হাই কোর্টের বিভিন্ন রায় অনুসরণ করে জ্যোতিন্দ্র নাথ মণ্ডলের আবেদনটি খারিজ করা হলেও রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলে দেয়, গৌরী দাসী স্বামী অভিমূণ্য মণ্ডলের কৃষি সম্পত্তিতে অধিকার পাবেন না।

এই রায়ের বিরুদ্ধে খুলনার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে আপিল করেন জ্যোতিন্দ্র নাথ মণ্ডল। ওই আদালত ২০০৪ সালের ৭ মার্চ জ্যোতিন্দ্র নাথ মণ্ডলের আবেদন খারিজ করে দেয়।

রায়ে বলা হয়, বিধবা গৌরী দাসী স্বামীর রেখে যাওয়া কৃষি সম্পত্তি পাবেন।

রায়ে আরও বলা হয়, “যেহেতু বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ধরন পরিবর্তন হয়েছে এবং যেহেতু বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সরকার এককেন্দ্রিক এবং কৃষি জমি সংক্রান্ত আইন প্রণয়নে বাংলাদেশের সংসদের আইনি কোনো অযোগ্যতা নেই, তাই ১৯৪১ সালে ইন্ডিয়া ফেডারেল কোর্টের রায় আমাদের জন্য প্রযোজ্য নয়।”

এ রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরেই জ্যোতিন্দ্র নাথ মণ্ডল হাই কোর্টে রিভিশন আবেদন করেন।

এই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বুধবার উচ্চ আদালত এ রায় দিল।

সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর আর হচ্ছে না, চীনের সঙ্গে বড় এই প্রকল্পটি বাতিল করলো বাংলাদেশ

0

চীনের সঙ্গে একটি বড় ধরনের প্রকল্প থেকে সরে এসেছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ আট বছর ঝুলে থাকার পর কক্সবাজার জেলার সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ থেকে সরে আসার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাল সরকার।
সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে আট বছর আগের সেই সিদ্ধান্ত বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয় বলে বৈঠক শেষে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি জানান, সোনাদিয়ার খুব কাছাকাছি মাতারবাড়িতে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি দুটো বন্দর হলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, তাই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০১২ সালের ২ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ আইন’ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে আট বছর আগের সেই সিদ্ধান্ত বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর করার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সোনাদিয়ায় আর কোনো সমুদ্রবন্দর হবে না। সোনাদিয়ার খুব কাছাকাছি মাতারবাড়িতে একটা সমুদ্রবন্দর নির্মাণ চলছে।”

সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে আনোয়ারুল বলেন, “যেহেতু মাতারবাড়িতে হয়ে গেছে, সেজন্য সোনাদিয়ায় যদি আবার সমুদ্রবন্দর হয়, তবে আমাদের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের অনেক ভারসম্য ক্ষুণ্ন হবে। এটা যখন স্টাডিতে ধরা পড়ল তখন সরকার সিদ্ধান্ত নিল সোনাদিয়াতে প্রকৃতির ক্ষতি করে সমুদ্রবন্দর করার দরকার নেই। মাতারবাড়িতেই মাচ মোর স্যুইটেবল।”
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ঘোষণা দেয়। জাপানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক কনসালটেন্টস ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও করা হয়।
সে সময় ২৫ বছরে ৫৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই গভীর সমুদ্রবন্দরের পর্যায়ক্রমিক উন্নয়নের প্রাক্কলন করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর হলে ২০২০ সাল নাগাদ সেখানে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে ৭৪ গুণ বেশি কনটেইনার ওঠানামা করা যাবে।
এর মধ্যে চীন সরকার সোনাদিয়া বন্দরে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখায়। ২০১২ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট (তখন ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট) শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরে এলে ওই আলোচনার পালে আরও হাওয়া লাগে।
এরপর দুই দেশের মধ্যে প্রকল্পটি নিয়ে কয়েক দফা চিঠি চালাচালি হলেও বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয়নি। ২০১৪ সালের জুনে প্রধানন্ত্রী শেখ হসিনার চীন সফরের সময় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনার কথা শোনা গেলেও পরে তা আর হয়নি।
অর্থায়নের পরিমাণ নিয়ে দর কষাকষিতে বিষয়টি আর এগোয়নি বলে সে সময় রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল।
এরইমধ্যে পটুয়াখালীর পায়রাতে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের তৎপরতা শুরু হয়। ভারতও সে সময় বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজে আগ্রহ দেখায়।
কিন্তু পায়রার গভীরতা গভীর সমুদ্রবন্দরের জন্য উপযোগী কিনা- সেই প্রশ্ন উঠলে সরকারের ওই অগ্রাধিকার প্রকল্পও থমকে যায়।
২০১৪ সলের অগাস্টে সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দরের প্রস্তাবিত এলাকার মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে মহেশখালীর মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণে ৩৬ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছিল সরকার।
জাপানের অর্থায়নে ওই প্রকল্প নির্মাণ করতে গিয়ে তাদের সমীক্ষায় বেরিয়ে আসে, মাতারবাড়ি এলাকা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের উপযোগী।
এরপর চলতি বছরের ১০ মার্চ মাতারবাড়িতে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্প একনেকের অনুমোদন পায়।
প্রকল্পের ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি কোটি ১৬ লাখ টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়ের মধ্যে ঋণ সহযোগিতা হিসেবে ১২ হাজার ৮৯২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা দিচ্ছে জাপান।
বাকিটার মধ্যে সরকার ২ হাজার ৬৭১ কোটি ১৫ লাখ টাকা ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২ হাজার ২১৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা যোগান দেবে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া প্রকল্পটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ যৌথভাবে ২০২৬ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে। এর ডিজাইন ও লে-আউটসহ সব নকশা জাপানি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পের অধীনে সংযোগ সড়কসহ গভীর সমুদ্র বন্দরে ৩০০ ও ৪৬০ মিটার দীর্ঘ দুটি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। এর ফলে বিশাল জাহাজ থেকে সরাসরি পণ্য ওঠানামা সহজ হবে।

চীনের মদদে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী একাত্তরে গণহত্যা চালিয়েছে: শাহরিয়ার কবির

0

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, চীনের মদদ ছাড়া পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশে গণহত্যা সংঘটিত করতে পারত না।

একাত্তরে ভারত ও চীনের ভূমিকা সম্পর্কে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সোমবার অনলাইনে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে শাহরিয়ার কবির একথা বলেন বলে নির্মূল কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে চীনের বিতর্কিত ভূমিকা তুলে ধরে শাহরিয়ার কবির বলেন, “চীনের মদদ ছাড়া পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলাদেশে স্মরণকালের নৃশংস গণহত্যা কখনও সংঘটিত করতে পারত না।

“চীন কখনও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। বরং জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্য প্রাপ্তির বিরুদ্ধে বার বার ভিটো দিয়েছে। আমাদের পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে আমরা যেন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস ও জাতির পিতাকে ভুলে না যাই।”

মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার ও ভারতের সাধারণ জনগণের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন শাহরিয়ার কবির।

তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে পাকিস্তান, চীন, আমেরিকার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ কখনও বিজয়ী হতে পারত না যদি না শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারত সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীসহ সর্বস্তরের জনগণ আমাদের সহযোগিতা প্রদান না করত। বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য ৩০ লক্ষ বাঙালিকে যেমন জীবন দিতে হয়েছে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ১৭ হাজার সৈন্যকেও তাদের জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছে, যা বিশ্বের অন্য কোথাও জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ঘটেনি।”

শাহরিয়ার কবির বলেন, “ভারত গণহত্যার ভিকটিম বাংলাদেশের এক কোটি মানুষকে মুক্তিযুদ্ধকালে আশ্রয় দিয়ে মানবতার চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”

নির্মূল কমিটির সম্মেলনে একাত্তরের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন বলেন, “মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধা ও নিরস্ত্র বাঙালিদের হত্যার জন্য চীনা অস্ত্র ব্যবহার করেছিল। আমার হাজার হাজার সহযোদ্ধা চীনা বুলেটের দ্বারা শহীদ হয়েছেন কিংবা আমার মতো আহত হয়ে শারীরিক পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন। আমার শরীরে এখনও চীনা বুলেট রয়ে গেছে।

“অন্যদিকে আমাকে এবং আমার মতো শত শত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাকে ভারত সর্বোত্তম চিকিৎসা সেবা প্রদান করে বাঁচিয়ে তুলেছে। ভারতের কাছে আমাদের এই ঋণ কখনও অর্থ বা অন্য কিছু দিয়ে পরিমাপ করা যাবে না।”

ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিদেশি সাহায্যের প্রয়োজন আছে। কিন্তু চীনের অর্থনৈতিক সহায়তাকে পৃথিবীতে অনেক অর্থনীতিবিদ ঋণের ফাঁদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অর্থনীতির বিষয়টি রাজনীতির বাইরের কোনো বিষয় নয়। আর এর সঙ্গে দুর্নীতি যুক্ত হলে সেটা একটা নতুন মাত্রা পায়।”

বাংলাদেশের অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সহযোগী চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।
শ্যামল দত্ত বলেন, “ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেন প্রকল্প নিয়ে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন যোগাযোগ সচিব নজরুল ইসলামকে ঘুষ দিয়ে ধরা পড়েছিল চীনা কোম্পানি হারবার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। এই কোম্পানি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য ২০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছিল। সিঙ্গাপুরের জাস্ক করপোরেশনের অ্যাকাউন্টে কোকোর এই টাকা জমা হয়েছিল। এই মামলাটি এখনও দুদকে বিচারাধীন আছে।

“দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এই ধরনের দুর্নীতিবাজ চীনা কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে এখনও কাজ করছে। বিভিন্ন দেশের অভিযোগ, চীনারা ঘুষ দিয়ে সরকারি-বেসরকারি প্রশাসন তথা রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে তুলছে।”

এই সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতাকেই স্বীকার করেনি। সেই চীন আমাদের বন্ধু হতে পারে না।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মো. আবদুর রশীদ, মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক শফিকুর রহমান, সমাজকর্মী আরমা দত্ত, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহাসচিব হারুন হাবীব, নির্মূল কমিটির চিকিৎসা সহায়তা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার নির্মূল কমটির বিভন্ন শাখার নেতারা।

রেডিও, টিভি, পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে আলাদা নিবন্ধন লাগবে; নীতিমালা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

0

কেবল স্বতন্ত্র অনলাইন নিউজ পোর্টাল নয়, টেলিভিশন, বেতার ও ছাপা পত্রিকাগুলোর অনলাইন সংস্করণ এবং আইপি টিভি ও ইন্টারনেট রেডিও চালাতে হলেও সরকারের কাছ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে।

এসব ক্ষেত্রে আলাদা নিবন্ধন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রেখে অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা সংশোধনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা, ২০১৭’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপারিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আগের নীতিমালার নয়টি অনুচ্ছেদ সংশোধন করে পাঁচটি নতুন অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
“অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধনের যোগ্যতা-অযোগ্যতা, নিবন্ধন ফি, কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ, লাইসেন্সপ্রাপ্ত টেলিভিশন চ্যানেল এবং বেতারের নিউজ পোর্টাল হিসেবে প্রচারকাজ পরিচালনা এবং আইপি টিভি ও ইন্টারনেট রেডিওর সম্প্রচার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা (নীতিমালায়) ছিল না, এগুলো ইনক্লুড করা হচ্ছে।”
দেশের টেলিভিশন এবং বেতারগুলোও এখন নিউজ পোর্টাল চালাচ্ছে জানিয়ে আনোয়ারুল বলেন, এতদিন এজন্য অনুমতি নিতে হত না, এখন নিতে হবে।
“আইপি টিভি, ইন্টারনেট রেডিও সম্প্রচারের বিষয়ে (নীতিমালায়) সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছিল না, এসব বিষয় নীতিমালায় যুক্ত করা হচ্ছে।”
পত্রিকাগুলো তাদের ছাপা সংস্করণ হুবহু ওয়েবসাইটে প্রকাশ করলে কোনো অনুমোদনের দরকার নেই। তবে পত্রিকার ছাপা সংস্করণ থেকে আলাদা কোনো কনটেন্ট অনলাইনে প্রকাশ করলে নতুন করে নিবন্ধন নিতে হবে বলে জানান আনোয়ারুল।
তিনি বলেন, “পত্রিকাগুলো হার্ডকপিতে যা ছাপছে, হুবুহু সেটাই যদি অনলাইনে দিয়ে দেয়, তাহলে কোনো অনুমতি লাগবে না। কিন্তু যদি কেউ ভ্যারিয়েশেন করে, তখন তাকে অনুমতি নিতে হবে। কারণ অনেকেই হুবুহু তা দিচ্ছে না। অনলাইন সংস্করণে ভেরিয়েশন থাকলে লাইসেন্স নিতে হবে।
“রেডিও-টেলিভিশন তো অনলাইন করার জন্য না, তারা যে মাধ্যমে চালাবে সেই মাধ্যমে…, তারপরেও যদি অনলাইন করতে হয়, তাহলে রেডিও-টেলিভিশন দুটোকেই (অনলাইনের) অনুমতি নিতে হবে, নিবন্ধন নিতে হবে।”
যতক্ষণ পর্যন্ত সম্প্রচার কমিশন না হবে, ততক্ষণ তথ্য মন্ত্রণালয় যে কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে সেই কর্তৃপক্ষ এসব বিষয় দেখভাল করবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
২০১৭ সালের ৫ জুলাই জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা গেজেট প্রকাশ করে সরকার।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ১০০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বই উপহার দিলো ভারতীয় হাইকমিশন

0

মুজিববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত ১০০ টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বই উপহার দিয়েছে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত এসব বই বিখ্যাত লেখক ও ইতিহাসবিদদের লেখা। ভারতীয় হাইকমিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সোমবার ওয়েবিনারের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী। তাঁর বক্তব্যে তিনি হাই কমিশনকে এই উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের অসাধারণ শক্তি ও উষ্ণতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রীমতী রীভা গাঙ্গুলি দাশ বঙ্গবন্ধুকে আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি এবং বিংশ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী ও সাহসী নেতা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই বইগুলির মাধ্যমে তরুণ শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধুকে আরও ভালভাবে উপলব্ধি করতে পারবে এবং তাঁর ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে সহায়তা করবে। অনুষ্ঠানে অংশ নেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সত্য প্রসাদ মজুমদার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েকুজ্জামান, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জনাব ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গৌতম বুদ্ধ দাস।

মেজর সিনহা হত্যা: আদালতে লিয়াকতের জবানবন্দি, ওসি প্রদীপের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

0

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ খান হত্যা মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন পুলিশের ইন্সপেক্টর লিয়াকত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এএসপি খাইরুল ইসলাম জানান, বরখাস্ত ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
কক্সবাজার জেলা আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার দাশ জানান, রোববার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে তাকে আদালতে আনা হয়।বিকাল ৪টা ৩৫ মিনিটে জবানবন্দি শেষ হয়।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার
মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেছেন সিনহা হত্যার ঘটনায় বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। রোববার তদন্ত কমিটি জরুরি সভা শেষে সন্ধ্যায় কক্সবাজারে এক প্রেসব্রিফিং করে এ তথ্য জানানো হয়। মিজানুর রহমান জানান, তদন্ত কমিটির মেয়াদ ৩১ আগস্ট শেষ হবে। কিন্তু প্রদীপ রিমান্ডে থাকায় তার জবানবন্দি গ্রহণ করা সম্ভব হয় নি। আদালতে আবেদন করা হয়েছে, আদালত বলেছেন রিমান্ড শেষেই প্রদীপের জবানবন্দি নেয়া যাবে। সেটা ১ সেপ্টেম্বর হতে পারে। এ জন্য কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে।
মিজানুর রহমান জানান তদন্ত কমিটি এখন পর্যন্ত ৬৭ জনের জবানবন্দি নিয়েছে। এসব জবানবন্দি থেকে ঘটনার সঙ্গে ওসি প্রদীপের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রদীপের জবানবন্দি নিতে পারলেই তদন্ত শেষ পর্যায়ে পৌঁছবে বলে জানান কমিটির প্রধান।

এ দিকে তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডের দুই দিন পর লিয়াকতকে আদালতে তোলা হল। এর আগে বেলা সোয়া ১১টায় তাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

জবানবন্দি শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের এএসপি খাইরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “মামলার ১ নম্বর আসামি লিয়াকত কিছু তথ্য উপাত্ত আমাদের কাছে স্বীকার করেছেন। পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তির কোনো মূল্য নাই যদি না ম্যাজেস্ট্রট সাহেবের কাছে সেটা স্বীকার করেন।

“ওনার ‘ওয়ান সিক্সটি ফোর’ করার জন্য আমরা বিজ্ঞ আদালতে ওনাকে উপস্থাপন করেছিলাম।”

হাতে থাকা একটি খাম সাংবাদিকদের দেখিয়ে খাইরুল বলেন, “আমরা অলরেডি ওনার এটা পেয়েছি। এখন কী বলেছে না বলেছে আমরা এটা জানি না এখনও। এটা পড়ে দেখি নাই। আমার বিশ্বাস যে উনি সত্যিটাই প্রকাশ করেছেন।”

এর আগে সকালে কোর্ট ইন্সপেক্টর প্রদীপ বলেন, লিয়াকত আলীকে আদালতে আনার পর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ( কক্সবাজার-৪) তামান্না ফারাহর আদালতে তোলা হয়। এরপরই  মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য তাকে বিচারকের খাস কামরায় নেওয়া হয়।

এর আগে আর্মড পুলিশের তিন সদস্য আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তারা হলেন আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের (এপিবিএন) এএসআই শাহজাহান, কনস্টেবল রাজীব ও কনস্টেবল আব্দুল্লাহ।

গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন সিনহা।

এ ঘটনায় গত ৫ অগাস্ট সিনহার বোন শাহরিয়ার শারমিন বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ দাসসহ সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ওসি প্রদীপ রিমান্ডে রয়েছেন।

ল’রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাশহুদুল ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন

0

 

আইন আদালত, সংবিধান ও মানবাধিকার বিষয়ক রিপোর্টারদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) ২০২০-২১ ইং সালের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে এটিএন নিউজের বার্তা সম্পাদক মাশহুদুল হক ও সাধারণ সম্পাদক পদে ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার মুহাম্মদ ইয়াছিন নির্বাচিত হয়েছেন।
সহসভাপতি পদে দীপ্ত টিভির আজিজুল ইসলাম পান্নু, যুগ্ম সম্পাদক পদে জিটিভির সাইদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ পদে সারা বাংলা ডটনেটের আব্দুল জাব্বার খান, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দৈনিক ঢাকা টাইমস এর আমিনুল ইসলাম মল্লিক, দফতর সম্পাদক পদে বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম এর খাদেমুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে এনটিভি অনলাইনের জাকের হোসেন, প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ সম্পাদক পদে বাংলা টিব্রিউনের বাহাউদ্দিন আল ইমরান নির্বাচিত হন। এছাড়া কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম এর ইলিয়াছ সরকার, নিউজ ২৪ এর মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব, দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের মাহমুদুল আলম নির্বাচিত হয়েছেন।
৩০ আগস্ট(রবিবার) বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে অবস্থিত ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম কার্যালয়ে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও দৈনিক কালের কন্ঠের স্পেশাল রিপোর্টার আশরাফ-উল আলম। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার স্পেশাল রিপোর্টার মিজান মালিক ও আমার কাগজের বার্তা সম্পাদক তোফায়েল হোসেন। নির্বাচনি কাজে কমিশনকে সহযোগিতা করেন বিদায়ী ২০১৯-২০ইং সেশনের সভাপতি ও দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার ওয়াকিল আহমেদ হিরন। চলতি বছরের মার্চ মাসে তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন প্রার্থীরা। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এরপর করোনা ভাইরাসের কারণে নির্বাচনি প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়।

১৪ বছরে ৬০৪ জন গুম, অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের দাবি

0

 

গত ১৪ বছরে ৬০৪ জনকে গুম করা হয়েছে। গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এ তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
সংগঠনটি এসব গুমের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করার দাবি জানিয়েছে। আসকের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম বা বলপূর্বক অন্তর্ধান প্রতিরোধ দিবস। এর আগে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গুমের শিকার সব নিখোঁজ ব্যক্তিকে অবিলম্বে খুঁজে বের করা, প্রতিটি গুমের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠন, দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গুমের শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবারের যথাযথ পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানাচ্ছে। একইসঙ্গে গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদ স্বাক্ষর করে গুম প্রতিরোধে সরকারের সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়েছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০০৭ থেকে ২০২০ (২৫ আগস্ট) পর্যন্ত ৬০৪ জন গুমের শিকার হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্বজনরা অভিযোগ তুলেছেন। এদের মধ্যে পরবর্তী সময়ে ৭৮ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। ৮৯ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং ৫৭ জন ফেরত এসেছে। অন্যদের বিষয়ে সুর্নিদিষ্ট তথ্য গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়নি।
এসব ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিবার, স্বজন বা প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা, সাংবাদিক বা মানবাধিকার সংগঠনের তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, বিশেষ বাহিনী-র‌্যাব, ডিবি পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের পরিচয়ে সাদা পোশাকে ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের তুলে নেওয়া হচ্ছে। প্রায়ই সংশ্লিষ্ট বাহিনী তাদের গ্রেফতার বা আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে। পরিচিত কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ ছাড়া খুব কম ক্ষেত্রেই আলোচনা বা আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং উদ্ধারের তৎপরতা লক্ষ করা যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে গুম হওয়ার কিছুদিন পর হঠাৎ করেই তাদের কোনও মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় বা ক্রসফায়ারে তাদের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়। যারা ফিরে আসতে পেরেছেন তাদের ক্ষেত্রেও কী ঘটেছে তা জানা যায় না।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গুমের ঘটনা বরাবর অস্বীকার করা হলেও দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার ব্যবস্থার আওতাধীন বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ বা বিশেষজ্ঞ কমিটি এ বিষয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করে এসেছেন। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটির ৬৭তম অধিবেশনে নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক অথবা মর্যাদাহানিকর আচরণ বা শাস্তিবিরোধী সনদের আওতায় বাংলাদেশের অগ্রগতি পর্যালোচনা হয়। এ পর্যালোচনায় অঘোষিত আটক, যাকে কমিটি অন্তর্ধান বা গুম হিসেবে বর্ণনা করেছে। সেই বিষয়টিতে কমিটি বলেছে, এভাবে আটককৃত ব্যক্তিকে যদি হত্যা করা হয় অথবা তিনি ফিরে আসেন−যাই ঘটুক না কেন, তাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে গুম হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
কমিটি তাদের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণে সব আটক ও আটকাবস্থায় মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্ত বাহিনীর বাইরে একটি স্বাধীন তদন্ত সংস্থা দ্বারা দ্রুততার সঙ্গে পরিপূর্ণ তদন্ত সম্পাদন করা এবং গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনের মাধ্যমে ‘গুম’কে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সনদটি স্বাক্ষর করার সুপারিশ করে।
গুম প্রতিরোধ দিবসে আইন ও সালিশ কেন্দ্র সব গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানায় আসক। একটি ন্যায় ও মানবাধিকার ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গুমের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বন্ধ করতে হবে বলেও তারা মনে করে। আসক গুমের ঘটনা প্রতিরোধে এবং ভুক্তভোগী ও পরিবারের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানায়।