ঢাকা   মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩   ভোর ৫:০৭ 

Home Blog Page 158

বঙ্গবন্ধু ও ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

0

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ ১৫ আগস্টের সকল শহীদদের স্মরণে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড: হাছান মাহমুদ এমপি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা এমএ কাশেম, সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিন, সাবেক এমপি মেজর (অবঃ) জসীম উদ্দীন, মহিলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক জেলা জজ মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া বেগম, দারুসসালাম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাজহার আনাম। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও বিশেষ বক্তা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল মামুন। উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি আহমেদ হাসনাইন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মিথুন মোল্লা।

প্রধানমন্ত্রীর অনুকম্পায় বিদেশ যেতে পারবেন খালেদা জিয়া, সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়াতে পরিবারের আবেদন, দলের নেতারা জানেন না

0

 

সরকারের অনুমতি পেলেই বিদেশ চলে যাবেন
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
এ জন্য তাঁর সাজা স্থগিতের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে এখন আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। সেখান থেকে যাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। আর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলেই চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারবেন খালেদা জিয়া। অর্থাৎ খালেদা জিয়া বিদেশ যেতে পারবেন কী না তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর। প্রধানমন্ত্রীর অনুকম্পাতেই তিনি যেতে পারবেন বিদেশে।
পরিবারের সদস্যরা তাকে লন্ডনে নিয়ে চিকিৎসা করাতে চান। সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন তাঁর ছেলে তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা।
গত মঙ্গলবার পরিবারের পক্ষে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই আবেদন করেন। গত তিনদিন বিষয়টা গোপনই রাখা হয়েছে। এমনকি বিএনপি নেতারাও বিষয়টি জানেন না বা মিডিয়াকে জানান নি। শনিবারই তা জানাজানি হয়। খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়,
গত ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনে সই করেন খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দর।
আবেদনে সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো এবং বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতাই বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন। দলটির অঘোষিত মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী, সাংবাদিকদের বলেন, আবেদন করা হবে এটা জানতাম কিন্তু করা হয়েছে কী না জানি না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, আবেদন সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি খালেদা জিয়া যেন বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারেন সে ব্যাপারে সরকারের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
জিয়া এতিমখানার নামে টাকা আত্মসাতের দুর্নীতির মামলায় সাজার রায়ের পর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দী হন। চলতি বছরের ২৫ মার্চ তিনি সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের জন্য মুক্তি পান। এই সময় পর্যন্ত তাঁর সাজা স্থগিত রাখা হয়। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার মুক্তির ছয় মাস শেষ হবে।
বিএনপির চেয়ারপারসনের পরিবারের সূত্রগুলো জানিয়েছে, খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। তারা তাঁর মুক্তি চেয়েছিলেন চিকিৎসা করাবেন বলে। কিন্তু যখন তিনি মুক্তি পান তখন করোনা মহামারির কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়াটা সম্ভব হয়নি। তা ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন সর্বশেষ চিকিৎসা নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রেও চিকিৎসা নিয়েছেন। কারাবন্দী থাকায় ফলোআপ চিকিৎসা হচ্ছে না। এ কারণে এবার আরও লম্বা সময়ের জন্য খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছেন। তাঁর চান যেন খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিন দেওয়া হয়। সে ব্যাপারে সরকারপ্রধান যেন ব্যবস্থা নেন।

ছয় মাসের জন্য খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হলেও সরকার সেখানে শর্ত জুড়ে দেয়। সেখানে বলা হয় খালেদা জিয়া বিদেশ যেতে পারবেন না। এবার এই শর্তটি বাতিল চান পরিবার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদনটি তারা পেয়েছেন। যেহেতু ছয় মাস মেয়াদ শেষ হচ্ছে তাই তা বাড়ানোর জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরপর আরও কিছু ধাপ রয়েছে। সেগুলো শেষ করে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। তারপর সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে।
২০১৭ সালের ১৫ জুলাই খালেদা জিয়া সর্বশেষ লন্ডনে গিয়ে চোখের ও পায়ের চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তিন মাস সেখানে অবস্থান করে ১৮ অক্টোবর দেশে ফেরেন। তাঁর এবারের চিকিৎসার জন্যও লন্ডনের কথাই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দীন খোকন শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসার সামনে সাংবাদিকদের বলেন, পরিবার বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন। তারা আশা করছেন, সরকার আবেদন মঞ্জুর করবে।

ভ্যাকসিন কূটনীতিঃ চীন- ভারত ও বেক্সিমকো, নেপথ্যে কী আছে?

0

 

ভ্যাকসিন কূটনীতি আর রাজনীতিতে বাংলাদেশ কী শক্তিমান দেশগুলোর গিনিপিগ হতে যাচ্ছে? বাইরে বাইরে তারা শত্রুতা দেখালেও বাণিজ্যে কোনো শত্রুতা নেই,এটা কী আবারো প্রমাণিত হতে যাচ্ছে?
চীনের ভ্যাকসিন যাতে বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে সে জন্য ভারত,ব্রিটেন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোম্পানীর ভ্যাকসিন উৎপাদন হচ্ছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে। ফিফটি ফিফটি শেয়ার তাদের। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। এই ভ্যাকসিনের একটা বড় বাজার হবে বাংলাদেশ। ১৭ কোটি মানুষের বাজার। এ বাজার ধরার জন্য সবার মাথা নষ্ট হওয়ার যোগাড়।


বাংলাদেশে বড় ওষুধ উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ী হলো বেক্সিমকো। বেক্সিমকোর মালিক সালমান এফ রহমান চীন ও পাকিস্তান লবি মেনটেইন করেন এটাই রাজনীতিতে প্রচার আছে। কয়েকদিন আগে পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে এখানকার দূতাবাসের অনুষ্ঠানের স্পনসর করেছে বেক্সিমকো। পাকিস্তান দূতাবাসের অনুষ্ঠান স্পনসর করে বেক্সিমকো আর খবর ছাপানো ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের নিউনেশন পত্রিকা। এ নিয়ে সাংবাদিক আর সিভিল সোসাইটির আড্ডায় নানা গল্প শোনা যায়।
সঙ্গত কারণেই বেক্সিমকো যেহেতু চীন ও পাকিস্তান লবির ফলে চীনের ভ্যাকসিন বাজারজাত করার দায়িত্ব পাওয়ার কথা বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের। তারাও আশা করেছিল চীনের এ কাজটা তারা পাবে।
কিন্তু চীন আশাভঙ্গ করে। চীন এখন জাত ব্যবসায়ী। ভ্যাকসিনের নগদ আর মনোপলি ব্যবসা তারা কাউকে দেবে না।
বাজারে খবর আছে চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাকের ভ্যাকসিন বাজারজাত করার জন্য বেক্সিমকো সবধরণের চেষ্টা চালিয়েছে। শুরুতে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন যাতে বাংলাদেশে পরীক্ষা না হয়, ঢুকতে না পারে এ জন্য সরকারের “পাওয়ার ম্যান”দের উপর খবরদারি করেছে বেক্সিমকো। চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের সুযোগ পেতেও চাপ ছিল তাদের। বেক্সিমকোকে বাজারজাতের স্বত্ব দেয়া নিয়ে চীন ছিল নীরব। ফলে বেক্সিমকো ধরে নিয়েছিল তারা চীনা ভ্যাকসিনের স্বত্ব পাবে।
গত দু মাস ধরে চীনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল নিয়ে বাংলাদেশ শাঁখের করাতের মধ্যে পড়ে।


একদিকে আমাদের নতুন বন্ধু চীন আরেকদিকে পুরনো বন্ধু ভারত ও ব্রিটেন। চীনকে হ্যাঁ বললে ভারত অখুশি আর ভারতকে হ্যাঁ চীন অখুশি। এ নিয়ে গত দুমাস ধরে চলে ইঁদুর বিড়াল লড়াই। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব মি. হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা এ নিয়ে ঢাকা পর্যন্ত চলে আসেন। ভারতে উৎপাদিত অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন নিয়ে আশার বানী শুনিয়ে যান।
কিন্তু এ আশায় গুড়ে বালি দিয়ে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক জানান, সরকার চীনের ভ্যাকসিন পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে। এ নিয়ে নড়েচড়ে বসে ভারত আর ব্রিটেন। অন্যদিকে সর্বোচ্চ চাপাচাপি করে বেক্সিমকোও নিশ্চিত হয়েছে চীনা কোম্পানি তাদেরকে বাজারজাতের স্বত্ব দেবে না। তারা নিজেরাই বাজারজাত করবে আর এ দেশের অন্য কোম্পানিও ঢুকে গেছে বেক্সিমকোকে বাইপাস করে । হিসেব নিকেশ করে চায়না তাদের লাভ লোকসান দেখেছে।
ফলে আশাহত হয়ে বেক্সিমকো পুরো ইউটার্ন নিয়ে সোজা ভারতের উঠোনে ঢুকে পড়েছে। সেরামের দ্বারস্থ হয়েছে। শুক্রবারই বেক্সিমকোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন বাংলাদেশে তারা বাজারজাত করবে। এ জন্য চুক্তিও স্বাক্ষর হয়োছে। অর্থাৎ বেক্সিমকো এখন ভারতের সেরামের পক্ষ হয়ে নামবে। ফলে চীনের ভ্যাকসিন এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তারা আদৌ আর ট্রায়াল করতে পারবে কি না তা সময়ই বলে দেবে। কারণ এই ট্রায়ালও অনেক জটিল প্রক্রিয়া।
তাই বলা যায় বাণিজ্য আর রাজনীতিতে স্থায়ী শত্রু মিত্র বলতে কেউ নেই। বেক্সিমকো যেখানে চীনের স্বার্থ দেখার কথা সেখানে ভ্যাকসিনের কারণে এখন ভারতের স্বার্থ তাদের দেখতে হবে।
বাংলাদেশের উচিত হবে ভালো ভ্যকসিন পাওয়ার নিশ্চয়তা চাওয়া। গুনগত মান আর মানুষের আর্থিক সামর্থ্য দুটাই বিবেচনা করতে হবে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা আর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ল্যাবে ( সেরাম ইনস্টিটিউট) উৎপাদিত ভ্যাকসিন কার্যকর বেশী হবে এটাই মনে করেন ওষুধবিজ্ঞানীরা। আমি মনে করি করোনাভাইরাস উৎপাদনকারী দেশ চীনের উৎপাদিত ভ্যাকসিন কার্যকর কেমন হবে তা অবশ্যই যাচাই-বাছাই করতে হবে।
খবর আরও আছে। রাশিয়ার পুতিন ইতিমধ্যে বলেছেন তাদের ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়ে গেছে। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন বছর শেষে তাদের ভ্যাকসিনও চলে আসবে।
তবে বাংলাদেশের বাজার নিয়ে রাশিয়া আমেরিকার মাথাব্যথা দেখছি না। এই বাজার দখল করার যুদ্ধে নেমেছে চীন আর ভারত।
আমাদের জন্য কোনটা উপযোগী হবে সেটা আমাদেরই বিবেচনা করতে হবে। মুক্তবাজার অর্থনীতি। বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন, পক্ষপাতমুক্ত হয়ে দেশ ও জনগণের জন্য যেটা ভালো হয় সেটা বিবেচনা করলেই দেশের জন্য মঙ্গল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কব্জায় আরও দুই জঙ্গি, আইএসের সঙ্গে যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন

0

 

রাজধানীতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির (জামায়াতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশ) এক জ্যেষ্ঠ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন (সিটিটিসি) বিভাগ।

সিটিটিসি কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেপ্তার শিব্বির আহমাদ (২২) আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে অর্থ লেনদেনেও জড়িত।

বৃহস্পতিবার বিকালে সবুজবাগ থানার পূর্ব বাসাবো এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, উগ্র মতবাদের বই এবং ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার রশিদ উদ্ধার করা হয় বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া) ওয়ালিদ হোসেন জানিয়েছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

নব্য জেএমবির এক সময়ের আমির মুসার সঙ্গে শিব্বিরের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ ছিল জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ওয়ালিদ বলেন, “মুসা মারা যাওয়ার পর শিব্বির কিছুদিন নিস্ক্রিয় ছিল। পরে প্রায় দুই বছর আগে অনলাইনের বিভিন্ন আইডি ব্যবহার করে আইএস অনুপ্রাণিত বিভিন্ন বিদেশি জঙ্গি সংগঠনের সাথে যোগাযোগ করে সে।”

এর মধ্যে ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও আফগানিস্তানসহ কয়েকটি দেশে ‘আইএস অনুপ্রাণিত সদস্যদের’ সাথে যোগাযোগ রেখে শিব্বির দেশে নব্য জেএমবিকে ফের সংগঠিত করার চেষ্টা করছিলেন জানিয়ে উপ কমিশনার ওয়ালিদ বলেন, “সেজন্য সে বিদেশের বিভিন্ন নাগরিকের কাছ থেকে বিভিন্ন উপায়ে অর্থ সংগ্রহ করছিল।”

দেশে ‘নাশকতামূলক কাজ’ করার লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে শিব্বিরের অর্থ সংগ্রহের বেশ কিছু প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ঢাকার বাসাবো সাইদিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০১৭ সালে দাখিল পাস করার পর বিভিন্ন মসজিদের মুয়াজ্জিন ও সহকারী ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শিব্বির আহমাদ। তার বিরুদ্ধে সবুজবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।

এদিকে রাজশাহীতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার-আল ইসলামের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

র‌্যাব ৫-এর জনসংযোগ দপ্তর থেকে ই-মেইলে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে জেলার পুঠিয়া উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ইসমাইল হোসেন (২৪) খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা থানার পলাশপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইসমাইলের কাছ থেকে সাতটি উগ্রবাদী বই ও একটি লিফলেট উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে তার বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে।

উইঘুর মুসলিম গণহত্যা বন্ধের দাবিতে ঢাকায় চীন দূতাবাস ঘেরাও করবে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ: রাজধানীতে বিক্ষোভ

0

 

২৮ আগস্ট চীনের উইঘুর মুসলিম গণহত্যা দিবস উপলক্ষে চীনের উইঘুর মুসলিম হত্যা ও নির্যাতন বন্ধের দাবিতে শুক্রবার রাজধানী ঢাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ মানববন্ধনসহ নানা কর্সসূচি পালন করেছে বিভিন্ন সংগঠন। এসব কর্সসূচি থেকে চীনের উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবিতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকায় চীনা দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও সচিত্র প্রদর্শনী কর্মসূচী পালন করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল মামুনের সঞ্চালনায় কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান রাজু, আইন বিষয়ক সম্পাদক এজেডইউ প্রিন্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তূর্য, চকবাজার থানা শাখার সভাপতি আশরাফ উদ্দিন স্বাধীন, যাত্রাবাড়ী থানা শাখার সভাপতি শেখ মাসুদসহ নেতারা।


একই দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি ও চিত্রপ্রদর্শন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সবসময় মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। বিশ্বের সকল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা প্রত্যেকটি মানুষের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি। সমগ্র পৃথিবী একটি পরিবার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় প্রত্যেকটি দেশের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু সম্প্রতি চীন সরকারের সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডে আমরা মারাত্নকভাবে উদ্বিগ্ন। চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে বসবাসরত প্রায় ১ কোটি ২৬ লক্ষ মুসলমানদের ওপর অমানবিক ভাবে নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হচ্ছে যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়। মুসলিমদের সংখ্যা কমানোর জন্য মুসলিম নারীদের জোর পূর্বক গর্ভপাত করানো, জোরপূর্বক জন্মনিয়ন্ত্রণ ঔষধ খাওয়ানো, পবিত্র কোরআন নিষিদ্ধ করা, ধর্মান্তরিত করা, নারীদের ধর্ষণ, বন্দী শিবিরে আটকে রেখে নির্যাতন করা ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে চীন সরকার প্রতিনিয়ত সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর কোন জোরালো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সম্প্রতি চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে মুসলিমদের মসজিদ ভেঙ্গে পাবলিক টয়লেট বানানো হয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া কখনোই উচিত নয়। প্রত্যেক মানুষ তাদের ধর্ম স্বাধীন ভাবে পালন করার অধিকার রাখেন। কিন্তু চীন সরকারের সাম্প্রতিক উইঘুর মুসলিম নির্যাতনের কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে তারা কখনোই অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাস করে না।

চীন সরকার সংখ্যালঘু মুসলিমদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় প্রতিনিয়ত নগ্ন হস্তক্ষেপ করছে যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ২৮ আগস্টকে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের মুসলিমরা উইঘুর গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। উইঘুর মুসলিমরা চীনা জনসংখ্যার ১ দশমিক ৫ শতাংশ। ফ্রিডম ওয়াচের মতে, চীন হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম ধর্মীয় নিপীড়ক দেশ। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকায় এসব নিপীড়নের গোঙানির শব্দ বিশ্ববাসী খুব একটা জানতে পারে না। কালেভদ্রে কিছু জানা যায়। চীনের দাবী বিচ্ছিন্নতাবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মীয় চরমপন্থার মোকাবেলা করার জন্যই তারা নানান পলিসি নিতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু দাড়ি রাখা, রমজান মাসে রোজা রাখা কীভাবে ধর্মীয় চরমপন্থা, তা বিশ্ববাসীকে তারা বোঝাতে পারে না। আসলে ধর্মীয় অনুষ্ঠান তাদের মতে চরমপন্থা। আর এই চরমপন্থা দমনের নামে নির্বিচারে গ্রেপ্তার, জেল-জরিমানা চলছে।
” উইঘুর মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবীরা কথা বলতে পারেন না, কারণ সরকারের চাপে তাদেরকে ‘বোবা’ হয়ে থাকতে হয়। প্রায় ২০ লাখের মতো উইঘুর মুসলিমকে পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং অঞ্চলে কয়েকটি শিবিরে বন্দী করে রাখা হয়েছে। এসব ক্যাম্পে তাদের ‘নতুন করে শিক্ষা’ দেয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে শিনজিয়াং প্রদেশে বসবাসকারী লোকজনের ওপর চীন সরকারের নিপীড়নমূলক নজরদারির তথ্যপ্রমাণ ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গত কয়েক দশকে সংখ্যাগুরু চীনা হান জাতির বহু মানুষ শিনজিয়াং অঞ্চলে গেছেন সেখানে বসবাস করতে। উইঘুর সম্প্রদায়ের লোকজন মনে করছেন এর ফলে তাদের সংস্কৃতি ও জীবনযাপন হুমকির মুখে পড়েছে। যেসব লোকজনের ২৬টি তথাকথিত ‘স্পর্শকাতর দেশের’ আত্মীয়স্বজন আছেন তাদের এসব ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান এবং তুরস্কসহ আরো কিছু দেশ। এছাড়াও যারা মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিদেশের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করেছে তাদের টার্গেট করেছে কর্তৃপক্ষ। এসব ক্যাম্পে যাদের রাখা হয়েছে তাদের চীনা ম্যান্ডারিন ভাষা শেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অনুগত থাকতে। উইঘুরদেরকে ধর্মীয় বিশ্বাসের সমালোচনা করতে অথবা সেই ধর্ম পরিত্যাগ করতে বলা হচ্ছে। বন্দী শিবিরে মুসলিমদেরকে ঘুমাতে দেয়া হচ্ছে না। কয়েক ঘণ্টা ধরে ঝুলিয়ে রেখে পেটানো হচ্ছে। কাঠ ও রবারের লাঠি, তারের চাবুক দিয়ে পেটানো হয়। সুই দিয়ে শরীরে ফুটানো হয়। তুলে নেয়া হয় নখ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান মিশেল ব্যাশেলেট শিনজিয়াংয়ের পরিস্থিতি দেখতে পর্যবেক্ষকদের সেখানে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু চীন সরকার কোন অনুমতি দিচ্ছে না যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। চীন কর্তৃক উইঘুর মুসলিম নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। অবিলম্বে চীনের সংখ্যালঘু উইঘুরদের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় খুব শিগগিরই বাংলাদেশে অবস্থিত চীন দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচী পালন করবে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।”
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এর দাবির মধ্যে রয়েছে চীন সরকার কর্তৃক জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিম হত্যা ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। চীনের সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে চীনের উইঘুর মুসলিম গণহত্যার বিচার করতে হবে।

নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলাকারী ব্রেন্টন টারান্টের আমৃত্যু কারাদণ্ড, নেই প্যারোলের সুযোগ

0

 

গত বছর নিউজিল্যান্ডের দুটি মসজিদে হামলা করে ৫১ জনকে হত্যায় অভিযুক্ত ব্রেন্টন টারান্টকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি দিয়েছে নিউজিল্যান্ডের একটি আদালত। সাজাপ্রাপ্ত ব্রেন্টন টারান্টের প্যারোলে মুক্তি পাওয়ারও কোনো সুযোগ থাকবে না।

এই প্রথমবারের মত নিউজিল্যান্ডে প্যারোল ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি দেয়া হলো। হামলাকারী ব্রেন্টন টারান্টকে আমৃত্যু কারাগারে থাকতে হবে।

নিউজিল্যান্ডের বিচার ব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। খবর বিবিসি।

২৯ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান, যার বিরুদ্ধে ৫১ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে, আরো ৪০ জনকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।

দণ্ডাদেশ দেয়ার সময় বিচারক মন্তব্য করেন যে, ব্রেন্টন টারান্ট পরিকল্পিতভাবে দু’টি মসজিদে হামলা করেন এবং তিনি তার কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত নন।

গত বছরের ১৫ই মার্চ ক্রাইস্টচার্চের দুইটি মসজিদে বন্দুক নিয়ে গুলি করতে শুরু করে ওই হামলাকারী।

গুলি করার দৃশ্য সে সরাসরি অনলাইনে সম্প্রচার করে।

বিচারের সময় কী হয়েছে?

ব্রেন্টন টারান্টের বিচারের শুনানি চারদিন ধরে চলেছে এবং এই সময়ে ৬০ জনের বেশি ভুক্তভোগীর বিবৃতি শুনেছেন আদালত।

বিবৃতির শেষদিনে আদালতে কোরান থেকে পাঠ করা হয় এবং ভুক্তভোগীদের মারা যাওয়া পরিবারের সদস্যদের ছবি দেখানো হয়।

বৃহস্পতিবারের সাজা শোনানোর আগে বন্দুকধারী ব্রেন্টন টারান্ট আদালতে কথা বলেননি।
কোভিড-১৯ বিধিনিষেধের কারণে আদালত কক্ষ প্রায় খালিই ছিল।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত যেতে হবে

0

বার্মার রোহিঙ্গাদের ভাসানচর বা অন্য কোথাও নয়, তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে হবে। একটা জনগোষ্ঠীকে নিজভূমি থেকে মেরেকেটে তাড়িয়ে দেবে তা মেনে নেবে কেনো দুনিয়া? বার্মা এমন কোনো শক্তি যে কারো কথা শুনবে না? বার্মাকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে কারা? এই রোহিঙ্গারা নিরাশ্রয় থেকে বাংলাদেশের জন্য কি বিপজ্জনক হবে তা সর্বোচ্চ ১০ বছরের মধ্যেই টের পাওয়া যাবে। এখন ১০ বছরের রোহিঙ্গা শিশু ২০ বছরের যুবক হউক, সে বসে থাকবে? শুধু ইয়াবা আর গাঁজার ব্যবসা নিয়ে বসে থাকবে? এই অঞ্চল পাকিস্তান- আফগানিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার সীমান্তের মতো অ-নিরাপদ জোন হবে। যেখানে প্রকাশ্যে তৈরী ও বিক্রি হয় অস্ত্র মাদক। যা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর নিরাপদ স্থান। নিরাপত্তা বাহিনীও যেখানে অভিযান চালাতে সাহস পায় না।
আমরা মনে করি বড় কোনো শক্তি বার্মার ওপর ভর করে রোহিঙ্গাদের নিয়ে খেলছে। দেশের মৌলবাদি ও সন্ত্রাসী শক্তিও এদের সমর্থন দিচ্ছে। এ খেলা বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক হবে। রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে সেখানে কারা, কী বানাচ্ছে তা পর্যালোচনা করলেই স্পষ্ট হবে বার্মার বর্বরতাকে কারা সমর্থন দিচ্ছে।
আজ তিন বছর হয়ে গেলো একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠানো গেলোনা। এখনও প্রতিদিন রোহিঙ্গারা আসছে। তাদের মাধ্যমে ইয়াবাসহ মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে পুরো দেশ।
আমরা মনে করি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত যেতে হবে। এটার কোনো বিকল্প নেই। ভাসানচরে পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত হবে বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতি। জনসংখ্যার ভারে বাংলাদেশ নিজেই আক্রান্ত। তার ওপর ১৫ লাখ রোহিঙ্গার ভার বহন করা কঠিন। বিষয়টি নিয়ে আমাদের জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে।

মার্কিন সাংবাদিক লিফশুলজের চাঞ্চল্যকর তথ্যঃ জিয়াউর রহমান ছিলেন মানসিক বিকারগ্রস্ত, বঙ্গবন্ধু হত্যায় তার সমর্থন ছিল, বিনাবিচারে ৩ হাজার সেনার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন

0

 

মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজ মনে করেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমান সম্পৃক্ত ছিলেন। জিয়াউর রহমানের সমর্থন ছাড়া এ হত্যাকান্ড হয় নি। এই সাংবাদিক তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে জিয়াউর রহমানকে ‘সাইকোপ্যাথ’ বা মানসিক বিকারগ্রস্ত হিসেবে আখ্যা দেন। জানান জিয়াউর রহমান, তখন বাংলাদেশের যে সব সেনা সদস্য ১৫ আগস্টের ঘটনার জন্য জিয়াকে দায়ী করতেন তাদেরকে আটক করেন। ওই সময় প্রায় ৩ হাজার সেনা সদস্যের বিনাবিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
যে অল্প কয়জন বিদেশি সাংবাদিক ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ঘটনায় রিপোর্ট করেছিলেন, লরেন্স লিফশুলজ ছিলেন তাদের অন্যতম। ১৫ই আগস্টের অভ্যুত্থান ও হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত অজানা অধ্যায়ের নতুন দরোজা উন্মোচন করেছেন তিনি।

২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে সেন্টার ফর রিচার্স অ্যান্ড ইনফর্মেশন (সিআরআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ১৯৭৫: সেটিং দ্য ক্লক ব্যাক’ শীর্ষক ওয়েবিনার-এ অংশ নিয়ে লিফশুলজ এই কথা বলেন৷

তিনি ১৯৭৫ সালে ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউয়ের দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিনিধি ছিলেন৷ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধান করেছিলেন তিনি৷ জিয়ার শাসনামলে সামরিক আদালতে কর্নেল তাহেরের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে অনুসন্ধান করার সময় তাকে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়৷

ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহানের সঞ্চালনায় ওয়েবিনার-এ লিফশুলজ ছাড়াও অংশ নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, সাংবাদিক সৈয়দ বদরুল আহসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ ও নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং স্কলার সলিল ত্রিপাঠি৷

লিফশুলজ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘এটা শুধু বাংলাদেশের বিষয় নয়, এটা ন্যায় বিচারের প্রশ্ন৷ বঙ্গবন্ধু হত্যার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র উদসীনতা দেখায়৷ যেটা সন্দেহের সৃষ্টি করে৷ পরে অনেক ডকুমেন্ট পাওয়া যায়৷ যারা সামনে থেকে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের আমরা দেখেছি৷ কিন্তু যারা পিছনে ছিলেন তারা কারা৷ জিয়াউর রহমানের সমর্থন ছাড়া তারা মুভ করেননি৷ আর জিয়া মার্কিন সমর্থন ছাড়া কিছু করেননি৷ তাই আমার মত হলো, বঙ্গবন্ধু হত্যার ব্যাপারে আরো তদন্ত দরকার৷ এই সংযোগগুলোর তদন্ত দরকার৷ বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের মানুষের এটা নিয়ে কাজ করা উচিত, তাদের এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে৷’’

আলোচনায় লিফশুলজ বঙ্গবন্ধু হত্যা পরিকল্পনার বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন৷ সেখানে মেজর জিয়াউর রহমান ও তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূতের যোগাযোগের বিষয়ে তিনি কথা বলেন৷

বঙ্গবন্ধু হত্যার এক সপ্তাহ আগে মার্কিন দূতাবাসের এক সিনিয়র অফিসারের সাথে দেখা করেছিলেন জিয়াউর রহমান৷ ঢাকায় সিআইএর স্টেশন প্রধান ফিলিপ চেরির সঙ্গেও জিয়া একান্ত বৈঠক করেন৷

বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনা ছয়মাস আগে হয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয় এক সপ্তাহ আগে৷ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সময় জিয়া অন্য সৈন্যদের ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারে যেতে দেননি৷ সেনবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে তিনি হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে কোনো ব্যবস্থা নেননি ৷ বরং এই ক্যু-র বিরুদ্ধে যাতে কেউ অবস্থান না নেয় তা তিনি নিশ্চিত করেন৷” লিফশুলজ আরো বলেন, ‘‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার এক সপ্তাহ আগে জিয়া ঢাকায় এক ব্যবসায়ীর বাসায় চেরির সঙ্গে বৈঠক করেন৷ জিয়া ছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যা পরিকল্পনার কেন্দ্রে৷’’
আগস্টের বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড এবং তৎপরবর্তী সংঘাতময় নভেম্বর মাসের ঘটনাবলি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন এই মার্কিন অনুসন্ধানী সাংবাদিক। ১৯৭৪ ও ৭৫ সাল জুড়ে তার কর্মক্ষেত্র ছিল দক্ষিণ এশিয়া। ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ-এর সাবেক এই দক্ষিণ এশীয় প্রতিনিধি এবং গার্ডিয়ানের নিয়মিত লেখক বারবার ১৫ই আগস্টের অভ্যুত্থান ও হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত অজানা অধ্যায়ের নতুন দরোজা উন্মোচন করেছেন।

লরেন্স লিফশুলজ বলেন, ১৯৭৫ সালে ভারত সরকারসহ বাংলাদেশের বেশ কিছু কমিউনিস্ট পার্টি অভিযোগ করে যে মার্কিন সরকারের ইন্ধনে ১৫ আগস্টের ক্যু হয়েছে। মুজিব হত্যাকাণ্ডে বিশ্বের যে সব দেশ সংশ্লিষ্ট তাদের যুক্তরাষ্ট্রের জড়িতে থাকার অভিযোগ আনা হয়।

তখন আমি ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ ম্যাগাজিনের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রতিনিধি। ওই ক্যু-এর ঘটনা সংশ্লিষ্ট অনেক অভিযোগই আমার কাছে আসছিল। তবে এই ঘটনায় মার্কিন সংশ্লিষ্টতা তখন আমার কাছে বিশ্বাস হচ্ছিল না । আমার মনে হচ্ছিল এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির থেকে অনেক দূরের একটি বিষয়।

১৯৭৪ সালে, ফ্র্যাঙ্ক চার্চের নেতৃত্বে চার্চ কমিটি ক্যু এবং অন্যান্য হস্তক্ষেপের সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার জড়িত থাকার ইতিহাস নিয়ে একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ করে। তখন সংস্থাটির কাজ এবং জবাবদিহিতার জন্য গুরুতর সংস্কার দাবিও করা হয়েছিল।

আমি ১৯৭৫ সালে ওই প্রতিবেদনে দেখি। সিআইএ নিয়ে ওই প্রতিবেদন এবং মার্কিন কংগ্রেসে এ নিয়ে তদন্ত অনুযায়ী আমার কাছে তখন এটি অসম্ভব মনে হয়েছিলো। ১৯৭৫ সালের মাঝামাঝি আমি ঢাকায় আসি। তখন আমার এক পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে আমার কথা হয়। তবে ওই ব্যক্তির নাম আমি কখনো প্রকাশ করিনি। তিনি আমাকে জানান, শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তার উত্তেজনা চলছিল। তবুও শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডে তাকে বিচলিত দেখা যায়।

সে আমাকে জানায়, পরিকল্পতিভাবে আগস্টে ক্যু করা হয়েছিল বাংলাদেশ। তখন তিনি আমাকে বলেন যে তোমার জানতে হবে ১৯৭১ সালে খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে কলকাতায় কী হয়েছিলো।
সেই প্রথম ব্যক্তি যিনি আমাকে জানায়, ১৯৭১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হেনরি কিসিঞ্জার তার বিশেষ দূত জর্জ গ্রিফিনকে কলকাতায় পাঠিয়েছিলেন। তখন গ্রিফিন মোশতাক, মাহবুবুল আলম চাষি, তাহেরউদ্দিন ঠাকুরের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে এটি তখন বাংলাদেশের তৎকালীন তাজউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সরকার জানতো না। ১৯৭১ সালের অক্টোবর মোশতাক যুক্তরাষ্ট্রে যায়। মোশতাক গ্রুপের পরিকল্পনা ছিল যে জাতিসংঘের মাধ্যমে যুকরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ থামিয়ে বাংলাদেশকে আবারো পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসিত প্রদেশ করা এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্ত করা।

তবে এই পরিকল্পনার বিষয়ে তৎকালীন তাজউদ্দিন সরকার কিছু জানতে পারলে রাষ্ট্রদোহিতার দায়ে খন্দকার মোশতাককে গৃহবন্দী রাখা হতো। এই কথোপকথনের মধ্যে আমাকে বলা হয়, যারা ১৯৭১ সালে ওই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তারাই শেখ মুজিবুরকে হত্যা করেছে এবং মোশতাককে সেনা অভিযানের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। এর পর থেকেই আমার মূলত সন্দেহ বাড়তে থাকে।
জানতে পারি যে ক্যু-এর ঘটনার কিছুদিন আগে মার্কিন দূতাবাসের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন জিয়াউর রহমান। সেখানে সিআই’র পক্ষ থেকে তাকে গোপন বার্তা দেওয়া হয়। তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূৎ ডেভিস ইউজেন বোস্টার এই ক্যু-এর পরিকল্পনায় খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন। তখন তিনি মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের এই পরিকল্পনা না প্রকাশ করার নির্দেশ দেন। ক্যু-এর ঘটনার ছয় মাস আগে ওই পরিকল্পনা হয়।
ক্যু-এর আগে বাংলাদেশের একজন ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডিনারের আয়োজনে জিয়া সিআইএ সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করেন। জিয়াউর রহমান এই ক্যু-এর অন্যতম নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন। তার প্রমাণ পাওয়া যায় তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউল্লার লেখাতেও। শফিউল্লাহ লেখেন, সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ হিসেবে জিয়া সেনাদের ৩২ নম্বরে যাওয়া ঠেকাতে পারতেন।
এছাড়া ক্যু নিয়ে জিয়ার কর্নেল ফারুক এবং কর্নেল রশিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। জিয়া তাদের আশ্বস্ত করেন যে তাদের পরিকল্পনায় সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করবে না।
১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন ।তখন বাংলাদেশের যে সব সেনা সদস্যরা ১৫ আগস্টের ঘটনার জন্য জিয়াকে দায়ী করতেন তাদেরকে আটক করা হয়। ওই সময় প্রায় ৩ হাজার সেনা সদস্যের বিনাবিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। জেনারেল শাখওয়াত আলী এবং মঈন চৌধুরী তাদের বইতে এমনটি বলেছেন।

আমার মতে জিয়াউর রহমান মানসিক বিকারগ্রস্ত একজন ব্যক্তি ছিলেন। কারণ সে অরাজকতার মাধ্যমে অনেকের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন।
লরেন্স লিফশুলজ বলেন, জিয়ার সমর্থন ছাড়া এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো সম্ভব না। আবার যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়াও জিয়াউর রহমান এমন কাজ করতে পারেননি।
ভারতীয় ইতিহাসবিদ সলিল ত্রিপাঠি ১৯৮৮ সালে তরুণ প্রতিবেদক হিসেবে এসেছিলেন বাংলাদেশ। তখন তিনি শেখ মুজিবের আত্মস্বীকৃত খুনি কর্নেল ফারুকের সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন। তিনি জানান যে বাংলাদেশের যুদ্ধের সময় তার মাত্র ৯ বছর বয়স ছিলো।
সলিল বলেন, ১৯৮৬ সালে আমি যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক শেষ করে এবং ভারতে ফিরি। পরে বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেই এটা জানার জন্য যে কি হয়েছিল সেখানে। যে দেশটি গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং উদারপন্থার পথচলা শুরু করেছিল, কেন সেখানে শেখ মুজিবকে হত্যা, জেল হত্যা, অভ্যুত্থান এবং পাল্টা অভ্যুত্থানের দিকে পর এক নায়কতন্ত্র শাসন চালু হলো। আমি ভারতেও এই ঘটনা শুনেই বড় হয়েছি ।
সলিল জানান, ঢাকায় এসে তিনি শেখ মুজিবের আত্মস্বীকৃত খুনি কর্নেল ফারুকের সাক্ষাতকারের সুযোগ পান। তখন কর্নেল ফারুক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সুতরাং আমি তার বিষয়ে কৌতূহলী ছিলাম এবং যখন আমি তাকে জানাই যে আমি ঢাকায় তখন সে আমাকে বলে যে সাক্ষাৎকার দিতে প্রস্তুত। কর্নেল ফারুক আমাকে জানায়, সে লিবিয়া ছিল। আশ্চর্যজনকভাবে সে তখন অনেক আত্মবিশ্বাসী ছিলেন।
তখন আমি বুঝতে পেরেছি যে গুরুত্বপূর্ণ কেউ তাকে সমর্থন দিচ্ছে। কারণ সে যা করেছে তারপর কারো সমর্থন ছাড়া কেউ এমন আচরণ করতে পারেন না। তার বাড়িতে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। আমি এখনো তারা গলার সেই স্বর স্পষ্টভাবে স্মরণ করতে পারি।
আমি যখন তাকে প্রশ্ন করি, কেন রাসেলকে হত্যা করা হলো। ১০ বছরের একটি শিশুকে হত্যা করা কি খুব প্রয়োজন ছিল?
তখন ফারুক আমাকে বলে যে তাকে এমনটি করতে হয়েছে কারণ সে বেঁচে থাকলে এই রাজবংশীয় ধারা চলতে থাকতো। আমরা এর শেষ করতে চেয়েছিলাম। বাংলাদেশকে বাঁচানোর জন্য আমরা সবকিছু করতে পারি। কারণ আমরাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং আমাদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এখানে ভারতের শাসন চলতো।
কর্নেল ফারুক আরো বলেন, কিছু ব্যক্তি ছিলেন যারা রাজনীতির নাম করে কলকাতায় বসে ছিলেন। তারাও নিজেদেরকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে। কিন্তু আসলে তারা কিছুই করেননি। আমরাই যুদ্ধ করেছিলাম। এমনভাবেই কর্নেল ফারুক নিজেকে উপস্থাপন করেছিলেন আমার সামনে।
শেখ মুজিব হত্যার পরে ইন্ডিমিনেটি অধ্যাদেশ জারি করে খুনিদের পুরস্কৃত করার সমালোচনা করেন সলিল ত্রিপাঠি। তিনি বলেন, মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচার হতেই হবে। সহিংসতার স্থান কোনো সমাজেই নেই।

নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং স্কলার ভারতীয় নাগরিক সলিল ত্রিপাঠি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী ফারুক রহমানের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন৷ তিনি ১৯৮৬ সালের পর বাংলাদেশেও এসেছিলেন৷ তখন তিনি সাংবাদিকতা করতেন৷ সলিল ত্রিপাঠি বলেন, ‘‘ফারুক বঙ্গবন্ধু হত্যার কথা অবলীলায় স্বীকার করেন৷ তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা আমি দেখিনি৷ ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেল হত্যারও যুক্তি দেখায় সে৷’’

তখন ফারুক তার বাসায় গার্ড পরিবেষ্টিত থাকতেন, তার কোনো চিন্তা ছিলনা জানিয়ে ত্রিপাঠি বলেন, ‘‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে নিশ্চয়ই আরো উপরের সংযোগ ছিল৷ নয়তো ইনডেমনিটি করে তাদের বিচার বন্ধ করা হলো কেন? তাদের (হত্যাকারীদের) নানা সুযোগ-সুবিধা দেয়া হলো কেন?’’ ‘‘ফারুক আমাকে বেশ উৎসাহের সাথে সাক্ষাৎকার দেন,’’ বলেন তিনি৷

ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব ছিলেন৷ তিনি বলেন, ‘‘বঙ্গবন্ধু মানুষের হৃদয়ের মুকুটহীন সম্রাট৷ ১৫ আগস্ট ভোরে আমি আব্দুল মালেক ভূঁইয়ার ( সেকশন অফিসার, কনফিডেনশিয়াল) একটি টেলিফোন কল পাই৷ সে জানালো, স্যার, ভয়াবহ ঘটনা ঘটে গেছে৷ বঙ্গবন্ধু আর নেই৷ এরপর রেডিও অন করে শরিফুল হক ডালিমের জঘন্য ঘোষণা শুনলাম৷ সেনাবাহিনী খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে বিদ্রোহ করেছে৷ মোশতাককে রাষ্ট্রপতি করা হয়েছে৷’’

১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের খলনায়ক জিয়া, আর ২১ আগস্টের হত্যাকারী খালেদা ও তারেক; অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর

0

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর জিয়াউর রহমান যেমন খুনিদের ‘পুরস্কৃত’ করেছিলেন, তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও ক্ষমতায় এসে ‘একই ঘটনা ঘটিয়েছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রোববার ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’ আয়োজিত আলোচনা সভায় তার এ মন্তব্য আসে।
খবর বাসস, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়া যেমন জাতির পিতা হত্যার সঙ্গে জড়িত, জাতীয় চার নেতাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত, একের পর এক ক্যু করে সেনাসদস্যদের হত্যা করেছে, মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের হত্যা করেছে… খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে ঠিক একই ঘটনা ঘটিয়েছে।’

“জিয়াউর রহমান যেমন সেই আবদুল আলিম থেকে শুরু করে মাওলানা মান্নান থেকে শুরু করে শাহ আজিজ থেকে শুরু করে তাদেরকে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং উপদেষ্টা বানিয়েছিল, একইভাবে আমরা দেখেছি খালেদা জিয়া সেই নিজামী থেকে শুরু করে যারা যারা একেবারে সরাসরি বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদেরকে মন্ত্রী বানিয়েছিল, খুনি রশীদ এবং হুদা- তাদের ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ভোট চুরি করে পার্লামেন্টে এনে বিরোধী দলের নেতার আসনে বসায়।”

স্বাধীনতার চার বছরের মধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ও সৈনিকের হাতে সপরিবারে জীবন দিতে হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তার পরিবারের ছয় বছরের শিশু থেকে শুরু করে অন্তঃসত্ত্বা নারীও সেদিন ঘাতকের গুলি থেকে রেহাই পায়নি।

সেই ঘটনা স্মরণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, “৪৫ বছর পার হয়ে গেছে। এটা ভাবতে আমাদের অবাক লাগে। যিনি আমাদের স্বাধীনতা এনে দিলেন, মুক্তি এনে দিলেন, আত্মপরিচয়ের সুযোগ দিলেন, একটা জাতি হিসেবে আত্মমর্যাদা এনে দিলেন, তাকেই হত্যা করা হয়েছিল এ দেশের মাটিতে।

“বারবার মৃত্যুর মুখে তিনি পড়েছেন। কিন্তু কখনো কোনো মতেই জাতির যে আকাঙ্ক্ষা, জাতির জন্য তিনি যে কিছু করতে চেয়েছেন, এই বাঙালি জাতির জন্য তিনি জীবনকে যে উৎসর্গ করেছিলেন, তার আদর্শ সামনে নিয়েই তিনি এগিয়ে গেছেন। কখনো পেছন ফিরে তাকাননি, মৃত্যুকে পরোয়া করেননি। জেল-জুলুম অত্যাচার কোনো কিছুর তিনি পরোয়া করেননি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে আদর্শ নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই আদর্শ ও লক্ষ্যকে ধ্বংস করাই ছিল জাতির পিতাকে হত্যার উদ্দেশ্য।

“মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করেছে বাঙালিরা, এটা তারা মানতে পারেনি। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা পাকিস্তানের পাশে ছিল, তারাও বাংলাদেশের অভ্যুদয় বা বাংলাদেশের বিজয়কে মানতে পারেনি। কাজেই ষড়যন্ত্র চলছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, যে আমাদের দেশের ভেতরেই অনেকে বোধহয় সেটা বুঝতে পারেননি।”

মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের তখনকার প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং প্রতিবেশী দেশটির জনগণ বাংলাদেশের পাশে থাকায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

“তিনি (ইন্দিরা গান্ধী) বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য সারা বিশ্বে যেভাবে প্রচার করেছিলেন এবং আমাদের বন্ধুপ্রতিম যেসব দেশ আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন দিয়েছিল, তারাও সেই সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মুক্তি চায় এবং এমনকি যারা আমাদের বৈরিতা করেছিল, সেসব দেশের মানুষও কিন্তু আমাদের এই মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন দেয় এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তি চায়। বিশ্বব্যাপী এই যে একটা জনমত সৃষ্টি হয়, সবকিছু মিলিয়ে কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।”

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রপরিচালনা শুরু করার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, সেই সময় প্রয়োজন ছিল এদেশের সকল মানুষের একাত্ম হয়ে বঙ্গবন্ধুর পাশে দাঁড়ানো এবং সহযোগিতা করা।

“কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে তাকে হত্যা করার এই প্রক্রিয়াটা শুরু করার জন্য দেখা গেছে যে আমাদের দলের অভ্যন্তরে যেমন নানা ধরনের খেলা শুরু হয়, কিছু লোক সব সময়ই যারা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ও দালালি করতে সচেষ্টা ছিল, আর পাশাপাশি… কিছু লোক নানাভাবে সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে।

“যারা সেই সময় বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণের পর পর সমালোচনা করেছে বা লিখেছে… হ্যাঁ সমালোচনার প্রয়োজন আছে, কিন্তু এমনভাবে তাদের লেখা এবং তাদের কার্যকলাপ ছিল এবং পরিকল্পিতভাবে সারা বাংলাদেশে অপবাদ ছড়ানো হয়েছিল, তাদের উদ্দেশ্যটাই ছিল যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে জনপ্রিয়তা সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে, যে গ্রহণযোগ্যতা, সেটা নস্যাৎ করা। সেটা যখন একান্তভাবে তারা পারেইনি, তারপরই কিন্তু তারা এই হত্যার পথ বেছে নেয়।”

বিবিসিকে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল ফারুক ও কর্নেল রশীদের সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেখানে তারা এই কথাই বলেছিল যে দীর্ঘদিন তারা চেষ্টা করেছিল বঙ্গবন্ধুকে জনগণের কাছ থেকে সরাতে। কিন্তু জনগণের মন থেকে মুছতে পারে নাই। তাই এই ধরনের হত্যাকাণ্ড তারা ঘটিয়েছে।

“এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমান যে জড়িত এটা কর্নেল ফারুক, রশীদ তারা নিজেরাই বলেছে, জিয়া সব সময় তাদের সাথে ছিল। খন্দকার মোশতাক অবৈধভাবে যখন ক্ষমতা দখল করল, নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিল এই খুনিদের সাথে নিয়েই… এই খুনিরাই অস্ত্র হাতে তার পাশে, অর্থাৎ খুনি রশীদ, ফারুক, ডালিমসহ এই গং- তারাই তাদের সাথে ছিল। জিয়াউর রহমানকে তখন সেনাপ্রধান করা হল।”

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করে মোশতাক এটাই প্রমাণ করে দিল যে তারা একই সাথে ছিল এবং একই সাথে চক্রান্তে তারা সম্পৃক্ত ছিল। কিন্তু মোশতাক বেশি দিন ক্ষমতায় থাকতে পারে নাই, পারে নাই এটা খুব স্বাভাবিক।

“আমরা ইতিহাসের দিকে যদি তাকাই, সিরাজউদ্দৌলার সাথে বেঈমানি করেছিল মীরজাফর। ব্রিটিশ বেনিয়ার দল তাকে ব্যবহার করেছিল। কিন্তু সেও কিন্তু তিন মাস ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। দুই মাসের কিছু সময় পরে তাকে বিদায় নিতে হয়েছিল। ঠিক মোশতাকও তাই। যাদের প্ররোচনায় সে বেঈমানিটা, মুনাফেকিটা করেছিল, জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডে মদদ দিয়েছিল, তারা কিন্তু তাকে ক্ষমতায় রাখে নাই। ক্ষমতায়.. আসল যিনি নায়ক, খলনায়ক, সেই চলে আসলো সামনে। সে হল জিয়াউর রহমান।”

খন্দকার মোশতাকের পর জিয়াউর রহমান একাধারে রাষ্ট্রপতি এবং সেনাপ্রধান হন- সেই ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা প্রশ্ন রাখেন- “এ থেকে কী প্রমানিত হয়?”

তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসায় পর দেশের সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করে, সেনাবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাদের হত্যা করে, ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনা ঘটে, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হত্যা করে লাশ গুম করা হয়। যারা পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনে, ১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যায় জড়িত, নারী নির্যাতন যারা করেছে, তাদের মন্ত্রী, উপদেষ্টা বানায়।”

সে সময় অনেকে কেন জিয়াউর রহমানকে সমর্থন দিয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর ‘কোনোদিন পাননি’ বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যারা বিশ্বাস করে, তারা কি এটা পারে? আর এখনো দেখা যায় যে কিছু কিছু লোক, এরা সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করে। এই দেশে যত রক্তপাত, যত হত্যাকাণ্ড, যা কিছু- সবই তো সেই থেকে শুরু। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই গভীর চক্রান্ত কাজ করছিল।”

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা এবং এদেশের মানুষের হৃদয়ে তার প্রতি ভালবাসার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ওই কয়েকটা খুনি, বেঈমান বা মুনাফেক ছাড়া অগণিত জনগণ জাতির পিতার জন্য কাঁদে। নামটা তারা মুছে ফেলার এত চেষ্টা করার পরও…। ২১ বছর চেষ্টা করেছে, কিন্তু সেই নাম মুছতে পারে নাই। যতই চেষ্টা চালাক, আজকে শুধু বাংলাদেশে না, বাংলাদেশ ছাড়িয়ে আজকে বিশ্বব্যাপী জাতির পিতার নাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাম আজকে উজ্জ্বল।”

সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এই সভায় প্রধানমন্ত্রী যুক্ত হন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলির সদস্য সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন সভায়।

হাসপাতালে অভিযানের বিষয়ে রিটের শুনানি শেষ, আদেশ মঙ্গলবার

0

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাতে পারবে না বলে জারিকৃত নির্দেশনার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের আদেশ ২৫ আগস্ট দেবে হাইকোর্ট।

রবিবার (২৩ আগস্ট) রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি তারিক-উল-হাকিম ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
গত ১৭ আগস্ট একজন আইনজীবী জনস্বার্থে এই রিটটি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইয়াদিয়া জামান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাস গুপ্ত।

রিট আবেদনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া দেশের কোনও সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাতে পারবে না বলে জারিকৃত নির্দেশনাটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তার নির্দেশনা এবং মন্ত্রণালয়ের ওই সিদ্ধান্তের কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়। পাশাপাশি মন্ত্রণালয় থেকে হাসপাতালে অভিযানের বিষয়ে যে টার্স্ক ফোর্স গঠনের কথা বলা হয়েছে, সেখানে কারা আছেন তাদের পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, আইন মন্ত্রণালয় সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৪ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া দেশের কোনও সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাতে পারবে না বলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় নির্দেশনা জারি করে।
বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে রাজধানীর বেশ কয়েকটি হাসপাতালে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে এসব হাসপাতালে নানা অনিয়ম ধরা পড়ে।