ঢাকা   সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩   দুপুর ২:৩৫ 

Home Blog Page 17

ওয়াসার এমডি তাকসিম খানের ব্যাংক হিসাব তলব

0

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। আগামী ২৯ আগস্টের মধ্যে ব্যাংকের যাবতীয় হিসাব ও লেনদেনের তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
গত ১৭ আগস্ট তাকসিম এ খানের গত ১৩ বছরে বেতন-ভাতাসহ কী কী সুবিধা পেয়েছেন- তার হিসাব চেয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে একটি রুল জারি করেন।
২০০৯ সাল থেকে ঢাকা ওয়াসার এমডি পদে আছেন তাকসিম এ খান। নিয়োগের পর থেকে বিভিন্ন সময় আলোচিত সমালোচিত তিনি। প্রথম নিয়োগের পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৬ বার তার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

ফৌজদারি মামলায় সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে অনুমতির বিধান বাতিল করলো হাইকোর্ট

0

ফৌজদারি মামলায় সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল এবং গ্রেপ্তারের অনুমতির বিধান বাতিল করেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত বলেছেন, সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে পূর্বানুমতির বিধান বেআইনি, সংবিধান পরিপন্থি ও মৌলিক অধিকার পরিপন্থি। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিনউদ্দনি।
এর আগে বুধবার কোনো সরকারি কর্মচারীকে ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার করতে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নেয়া সংক্রান্ত সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৪১(১) ধারার বৈধতা নিয়ে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়। আদালতে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী সরোয়ার আহাদ চৌধুরী, একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া ও মাহবুবুল ইসলাম।
রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী রিপন বাড়ৈ ও সঞ্জয় মণ্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
২০১৯ সালে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুলে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪১(১) ধারা কেন বেআইনি ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না এবং সংবিধানের ২৬(১) (২), ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট।
২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর সরকারি চাকরি আইনের গেজেট জারি হয়। এরপর ২০১৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর এক গেজেটে বলা হয়, ১ অক্টোবর থেকে এ আইন কার্যকর হবে।
আইনের ৪১(১) ধারায় বলা হয়, ‘কোনো সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সহিত সম্পর্কিত অভিযোগে দায়েরকৃত ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক অভিযোগপত্র গৃহীত হইবার পূর্বে, তাহাকে গ্রেফতার করিতে হইলে, সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ করিতে হইবে।’
২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইন ৪১(১) ধারায় বিশেষ সুবিধা দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর জনস্বার্থে এ রিট করা হয়।
আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, একই ধরনের সুযোগ দিয়ে ২০১৩ সালে দুদক আইনের ৩২(ক) ধারা প্রণয়ন করলে জনস্বার্থে রিট হলে আদালত আইনটিকে বৈষম্যমূলক বলে বাতিল ঘোষণা করেন। একই সুযোগ সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দেয়ার জন্য ২০১৮ সালে প্রণীত ওই আইনের ৪১(১) ধারা আদালতের রায়ের পরিপন্থি।

মামলা বাতিলের জন্য আপিল বিভাগে ড. ইউনূসের আবেদন

0

শ্রম আইন লঙ্ঘনের করা মামলা বাতিলে জারি করা রুল খারিজের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (২৪ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন তার আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) আপিল বিভাগে সিএমপি দাখিল করেছি। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।
১৭ আগস্ট বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল খারিজ করে রায় দেন।
এর আগে, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পক্ষে এ বিষয়ে পক্ষভুক্ত হওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। পাশপাশি দুই মাসের মধ্যে রুল নিষ্পত্তি করা সংক্রান্ত আপিল বিভাগের আদেশও উপস্থাপন করা হয়।
পরে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের যে মামলাটি হাইকোর্ট স্থগিত করেছিলেন, সেটা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরে সুপ্রিম কোর্ট দুই মাসের মধ্যে বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। এখানে কলকারখানা অধিদপ্তরের পক্ষে যিনি মামলাটি দায়ের করেছিলেন সেই রুল থাকা অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। এখন যিনি এই মামলার দায়িত্বে আছেন তার পক্ষ মামলাটি পরিচালনার জন্য একটি দরখাস্ত দাখিলের অনুমতি চেয়েছিলাম। আর আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যেহেতু আপিল বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে দুই মাসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করার জন্য। সেই আদেশের অনুলিপি আমরা আদালতের কাছে দাখিল করলাম।
আদালত হলফনামা করার জন্য অনুমতি দিয়েছিলেন।
সে অনুযায়ী রুল শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে ১৭ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট।
গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।
ড. ইউনূস ছাড়াও এমডি মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহানকে মামলায় বিবাদী করা হয়েছে।
মামলায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করায় শ্রম আইনের ৪ এর ৭, ৮, ১১৭ ও ২৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। পরে ওই মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল দিয়েছিলেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে।
ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে মামলা বাতিলে জারি করা রুল ১৩ জুন দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। এই সময় পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
ওইদিন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন জানান, আইন অনুসারে শ্রমিক কর্মচারীদের বোনাস না দেয়ায় এই মামলা দায়ের করা হয়। পরে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১এ ধারায় (মামলা বাতিলের আবেদন) হাইকোর্টে আবেদন করেন। হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে দুই মাসের মধ্যে হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেছেন। আর এই সময় পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। ড.ইউনূসের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোরডট.কম।

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ৯১ বারের মতো পেছালো

0

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ৯১ বারের মতো পিছিয়েছে।
বুধবার (২৪ আগস্ট) এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল।
তবে নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) তদন্ত কর্মকর্তা। তাই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারী আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেন। সিএমএম আদালতে শেরে বাংলা নগর থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ পরিদর্শক জালাল উদ্দিন এ তথ্য জানান।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটির তদন্ত করেন শেরে বাংলা নগর থানার একজন কর্মকর্তা। ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত ভার পড়ে গোয়েন্দা পুলিশের ওপর।
দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় র‌্যাবকে। সেই থেকে ১০ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি সংস্থাটি।

দুর্নীতির মামলায় ১২ বছরের জন্য জেলে ঢুকলেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক

0

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে জুলাই মাসেই ১২ বছরের দণ্ড দেয়া হয়। দুর্নীতির মামলায় সাজা খাটতে ১২ বছরের জন্য কারাগারে ঢুকছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক।
রাষ্ট্রীয় তহবিল তছরুপের দায়ে ২০২০ সালে তার সাজা হয়।
ঐ সাজার বিরুদ্ধে তার সর্বশেষ আপিলটিও মঙ্গলবার সু্প্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছে।
নাজিব রাজাকই হচ্ছেন মালয়েশিয়ার শীর্ষ কোনো নেতা দুর্নীতির দায়ে যাকে জেল খাটতে হচ্ছে।
যে আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে ৬৯-বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে জেলে ঢুকতে হচ্ছে সেটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বড় কেলেঙ্কারির অন্যতম।
মি. রাজাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে ক্ষমতায় থাকার সময় ওয়ান এমডিবি নামে একটি রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন তহবিল থেকে শত শত কোটি ডলার লোপাট হয়, এবং তিনি ছিলেন এই দুর্নীতির অন্যতম প্রধান অংশীদার।
রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে প্রচুর অর্থ সরানোর অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয় এবং ২০২০ সালের জুলাইতে তার ১২ বছরের কারাদন্ড হয়।
সেইসাথে তাকে ২১ কোটি রিঙ্গিত বা প্রায় চার কোটি ৭০ লাখ ডলার জরিমানাও করা হয়।
ঐ রায়ের বিরুদ্ধে কয়েক দফা আপিলের কারণে তিনি এতদিন কারাগারের বাইরে ছিলেন।
তবে মি. রাজাকের পক্ষের আইনজীবীরা সবসময় যুক্তি দেখিয়ে গেছেন যে মি. রাজাককে তার অর্থিক পরামর্শকরা জানিয়েছিলেন যে তার ব্যাক্তিগত আ্যাকাউন্টের টাকা সৌদি রাজপরিবারের কাছ থেকে উপহার হিসাবে পাওয়া।
কিন্তু বিচারিক আদালত বা আপিল আদালত সেই যুক্তি কখনই গ্রহণ করেনি।
মঙ্গলবার রায়ের আগে পুত্রজায়ায় সুপ্রিম কোর্ট ভবনের সামনে জড়ো হওয়া তার সমর্থকদের সামনে মি. রাজাক বলেন, রায়ে তিনি সুবিচার পাননি।
এই সংকটের সময় তার পাশে থাকার জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে নাজিব রাজাক বলেন, নির্দোষ প্রমাণের জন্য তিনি সম্ভাব্য সব কিছু করেছেন, কিন্তু তার কোনো কথাই আদালত গ্রহণ করেনি।
তার বিচার প্রক্রিয়াটিও নিরপেক্ষ ছিল না বলে মি. রাজাক উল্লেখ করেন।
তবে মঙ্গলবার আপিল খন্ডন করে দেয়া রায়ে মালয়েশিয়ার প্রধান বিচারপতি বলেন, বিবাদিপক্ষের বক্তব্য সবসময় এতটাই অসংলগ্ন এবং অবিশ্বাস্য ছিল যে, অপরাধ যে সংঘটিত রয়েছে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
মি রাজাকের স্ত্রীর রোসমা মানসরের বিরুদ্ধেও অর্থ পাচার এবং কর ফাঁকির মামলা চলছে। পহেলা সেপ্টেম্বর সেই মামলার রায় হওয়ার কথা রয়েছে। বিবিসি বাংলা।

মেয়র পদ থেকে জাহাঙ্গীরকে বরখাস্ত কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

0

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি মো. আক্তারুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। সরকারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে, মেয়র পদ ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। ওই রিটের ওপর মঙ্গলবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
গত বছরের ২৫ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় গাজীপুরের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে ১৯ নভেম্বর জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

নরসিংদী রেল স্টেশনে তরুণীকে হেনস্থার মামলায় সেই মার্জিয়ার জামিন স্থগিত

0

নরসিংদী রেল স্টেশনে তরুণীকে হেনস্তার মামলার আসামি মার্জিয়া আক্তার শিলাকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনে রোববার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম হাই কোর্টের দেয়া জামিন আদেশ স্থগিত করেন।
সেই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটির আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামী ২৯ অগাস্ট দিন ঠিক করে দিয়েছেন তিনি।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল আলম। মার্জিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জহুরুল ইসলাম ও আইনজীবী মো. কামাল হোসেন।
পরে কামাল হোসেন “হাই কোর্ট মার্জিয়া আক্তার শিলাকে যে জামিন দিয়েছিলেন, তা চেম্বার আদালত স্থগিত করে আদেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ২৯ অগাস্ট সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন আদালত।”
গত ১৬ অগাস্ট মার্জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দেয় বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাই কোর্ট বেঞ্চ। এসময় আদালতের একজন বিচারক ওই তরুণীর পোষাক নিয়ে মন্তব্য করলে বিতর্কের সৃস্টি হয়। নারীবাদি বিভিন্ন সংগঠন বিচারকের মন্তব্যের সমালোচনা করেন।
১৮ মে সকালে নরসিংদী রেলস্টেশনে ‘অশালীন পোশাক পরার’ কথা তুলে এক তরুণীকে লাঞ্ছিত করা হয়, পরদিন যার ভিডিও ছড়ায় নেট দুনিয়ায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী ও কয়েকজন যুবক ওই তরুণীকে টানা-হেঁচড়া করছে। মেয়েটিকে এক তরুণ আগলে রাখার চেষ্টা করছেন। এক পর্যায়ে কয়েকজন লোকের সহায়তায় মেয়েটি দৌড়ে স্টেশন মাস্টারের কক্ষে ঢুকে যান।
এরপর কলাপ্সিবল গেট টেনে দেয় এক লোক। কিছুক্ষণ পর লোকজন চলে গেলে এবং পরিস্থিতি শান্ত হলে স্টেশন মাস্টার ওই তরুণীকে তার কক্ষ থেকে বের করেন।
আদালতের নির্দেশে এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে রেলওয়ের ভৈরব থানায় মামলা করে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলায় মার্জিয়া আক্তার ওরফে শিলা, এক যুবক ছাড়াও সঙ্গে থাকা অজ্ঞাত অনেককে আসামি করা হয়।
পরে ৩০ মে নরসিংদীর শিবপুররের মুনছেপের চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শীলাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

দোকানপাট বন্ধের সময়সীমা জানাল ডিএসসিসি

0

ঢাকার দক্ষিণ সিটিতে দোকানপাট খোলা রাখার সময় নির্ধারণ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সোমবার এক গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, কোন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কখন বন্ধ করতে হবে। গণবিজ্ঞপ্তি অনুসারে, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এই এলাকার সব দোকানপাট, শপিংমল, মার্কেট ও বিপনীবিতান বন্ধ করার শেষ সময় রাত ৮টা। কাঁচাবাজার, ব্যবসায়িক বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা বন্ধ করতে হবে রাত ১০টার মধ্যে। এই এলাকার সব ধরনের রেস্তোরাঁ ও খাবার দোকানের রান্নাঘর বন্ধ হবে রাত ১০টার মধ্যে। তবে খাবার সরবরাহ করা যাবে ১১টা পর্যন্ত।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহসহ চিত্ত-বিনোদনমূলক প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনা রাত ১১টা পর্যন্ত, সাধারণ ওষুধের দোকান রাত ১২টা পর্যন্ত এবং হাসপাতালের সঙ্গে সংযুক্ত নিজস্ব ওষুধের দোকান রাত ২টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।
এতে বলা হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এখতিয়ারধীন সব এলাকায় শৃঙ্খলা আনতে এবং ঢাকা শহর পরিচালনায় সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে জনস্বার্থে বৃহস্পতিবার থেকে এ সময়সূচি অনুযায়ী সবকিছু পরিচালিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা নির্দেশনা মোতাবেক বিশ্বব্যাপী জ্বালানির অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধিজনিত পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে রাত ৮টার পর দোকান, শপিংমল, মার্কেট, বিপনী বিতান, কাঁচাবাজার বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই নির্দেশনার অনুবৃত্তিক্রমে ও জনস্বার্থে এ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হলো, যা পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

বিএনপি জামাতের পৃষ্ঠপোষকতায় ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা; এরা আবারও আঘাত হানতে পারে, সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

0

প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ১৫ আগস্টের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যারা দেশের উন্নয়ন চায় না তারা অলস হয়ে বসে থাকবে না। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা বিএনপি-জামাতের রাষ্টীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত হয়েছিল। দেশের চলমান অগ্রযাত্রায় পুনরায় আঘাত আসতে পারে।
তিনি বলেন, “এই আঘাত হয়তো সামনে আরো আসবে, কারণ আমার আব্বা যখন দেশটাকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখনই ১৫ আগস্ট ঘটেছিল।”
প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা রোববার সকালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে একথা বলেন।
দলের কেন্দ্র্রিয় কার্যালয়ের সামনে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভেনিউতে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়, ঠিক যেখানে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা সংঘটিত হয়েছিল।
সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ হয়েছে, উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, জয় বাংলা শ্লোগান ফিরে এসেছে এবং জাতির পিতার নাম বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হচ্ছে। কাজেই এগুলো যারা সহ্য করতে পারবেনা তারা বসে থাকবে না, আঘাত করবেই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে তারা আবারো জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেষ্টা করবে, সেজন্য দেশবাসীকে আমি সতর্ক থাকার আহবান জানাচ্ছি।
দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সভায় বক্তৃতা করেন। দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ এমপি অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং ’৭৫ এর ১৫ আগষ্ট জাতির পিতা এবং তাঁর পরিবারের সদস্য এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে ২১ আগষ্টের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে পার্টি অফিসে এসেই প্রধানমন্ত্রী পার্টি অফিসের সামনে নির্মিত শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে ২১ আগষ্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি দলের সভাপতি হিসেবেও পৃথক একটি ফুলের রিং শহীদ বেদীতে অর্পণ করেন। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
আজ নারকীয় গ্রেনেড হামলার ১৮তম বার্ষিকী। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি বিরোধী শান্তিপূর্ণ সমাবেশে নজির বিহীন গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। আক্রান্ত হন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীরা মানববর্ম রচনা করে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করলেও গ্রেনেডের আঘাতে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান এবং নেতাকর্মী সহ মোট ২৪ জন প্রাণ হারান। পথচারীসহ ৫ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে ২১ আগষ্ট আমাদের যেন নতুন জন্ম হয়েছে সেদিন আমরা যারা ঐ র‌্যালিতে ছিলাম। কাজেই আমাদের দায়িত্ব জনগণের প্রতি এবং যতক্ষণ নিশ্বাস আছে সেই দায়িত্ব পালন করে যাব। সেটাই আজকের প্রতিজ্ঞা।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী যে অর্থনৈতিক মন্দার চাপ আমাদের দেশের ওপর পড়েছে তা থেকে মানুষকে কিভাবে রক্ষা করবো সেটাই আমাদের চিন্তা। সেজন্য সকলের সহযোগিতাও দরকার। শুধু সমালোচনার কথা বললেই হবেনা, সকলকে সেজন্য কাজও করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক এই মন্দার কারণে মানুষের যে কষ্ট হচ্ছে তিনি তা উপলদ্ধি করতে পারেন। কাজেই সকলকেই বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।
২০০৪ সালে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়েছিল তার উদাহারণ হিসেবে তিনি সরকারি প্রচেষ্টায় আলামত ধ্বংসের প্রচেষ্টার অভিযোগ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে একটি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড একজন আর্মি অফিসার আলামত হিসেবে সংরক্ষনের জন্য বললে খালেদা জিয়া তাকে চাকরীচ্যুত করেছিল। সিটি কর্পোরেশন থেকে পানির গাড়ি এনে ঘটনার পরই ঘটনাস্থল ধোয়া শুরু করে, যেখানে চিহ্ন রাখার জন্য তিনি তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের দিয়ে লাল পতাকা লাগিয়ে দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয় হতাহতদের উদ্ধারে দলের নেতা-কর্মীরা এগিয়ে আসলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। তাছাড়া যে কোন সমাবেশ করলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অতীতে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের বিভিন্ন ভবনের ছাদে নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী বা ভলান্টিয়ার রাখলেও সেদিন তা রাখতে দেয়া হয়নি।
২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলায় বঙ্গবন্ধুর অন্যতম পলাতক খুনী কর্ণেল রশিদ এবং ডালিম জড়িত এবং তারা বাংলাদেশে ছিল উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, খালেদা জিয়া তাদেরও দেশ থেকে পালিয়ে যেতে সে সময় সাহায্য করেছিল।
তিনি বলেন, ‘আমার রক্তাক্ত শরীর দেখে তারা প্রথমে ভেবেছিল অপারেশন সাকসেসফুল কিন্তু যখন দেখলো আমি মরি নাই তখন তারা পালিয়ে গেছে। তারা আসলো আবার চলেও গেল কিভাবে, যদি বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা করা না হয়?’
তিনি সে সময়ে খালেদা জিয়ার বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরেও সেখানে ষড়যন্ত্রের আভাস থাকার উল্লেখ করেন। গ্রেনেড হামলা নিয়ে তাঁদের জাতীয় সংসদে কথাতো বলতে দেয়াই হয়নি এমনকি তিনি বিরোধী দলের নেতা হলেও তাঁর মাইক বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল বলেও জানান।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া এমন কথাও বলেছিলেন যে, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) ভ্যানিটি ব্যাগে করে সমাবেশে গ্রেনেড নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন’।
জিয়াউর রহমান এদেশে গুম-খুনের শুরু করেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপির আমলে লাশ টানা, বোমাবাজিতে আহত হওয়া- এটা ছিল আমাদের প্রতিদিনের কাজ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬ থেকে ২০০১ অত্যন্ত সফলভাবে দেশ পরিচালনা করে আওয়ামী লীগ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল বলেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
সরকার প্রধান বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় ছিলাম, ২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারিনি। আমেরিকান কোম্পানি গ্যাস নিতে চেয়েছিল সেটাতে আমি সমর্থন করিনি কিন্তু খালেদা জিয়া সেটাতে সমর্থন করে ক্ষমতায় আসে। নানা ষড়যন্ত্র করে আমাদের হারিয়ে দেয়া হলো।
তিনি বলেন, সারাদেশে নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করলো। পাকিস্তানি সেনারা যেভাবে নির্যাতন করেছিল ঠিক সেভাবেই অত্যাচার-নির্যাতন শুরু হয়েছিল আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর।
শেখ হাসিনা আরো উল্লেখ করেন, আজকেও অনেকে গ্রেনেড হামলার নিদারুণ যন্ত্রনা বয়ে বেড়াচ্ছেন, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের পক্ষ থেকে তাদের সবরকম সহযোগিতা করা হলেও স্বজনহারাদের যে দু:খ-বেদনা কিংবা আহতদের ক্ষতের যে জ্বালা তা যেমন উপশম করা যায়না। তেমনি বার বার আঘাত আসলেও ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ কখনেই ‘রিভেঞ্জ’ নিতে যায়নি।
তিনি বলেন, আমরা তাদের ঘর-বাড়িও দখল করিনি, প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে হামলা-মামলাও করিনি। তাদের বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মামলাগুলোই চলছে। আর যারা অগ্নিসন্ত্রাস করে মানুষ হত্যা করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকে বিএনপি’র প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রচেষ্টা এবং বিদেশিদের কাছে অহেতুক নালিশ জানানোর নামে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্থ করার অভিযোগও আনেন বিএনপি’র বিরুদ্ধে।
যারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে তিনি খালেদা জিয়ার ’৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন ইলেকশনসহ জিয়া, এরশাদ এবং খালেদা জিয়ার সময় দেশে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন প্রহসনের নির্বাচনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এমনকি ২০০১ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, সেটাই বা কেমন নির্বাচন হয়েছিল? কতজন ভোট দিতে পেরেছিল? তারপরেও আমরা ভোট বেশি পেয়েছিলাম কিন্তু সিট বেশি পেতে দেয়া হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী আবারও বিএনপি’র নেতৃত্ব শূণ্যতার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তারা নির্বাচন করবে কিভাবে? তাদেরতো নেতাই নাই, সাজাপ্রাপ্ত অথবা পলাতক। তারা কিভাবে নির্বাচন করবে আর ভোট পাবে, জনগণ কাকে দেখে ভোট দেবে। তারপরেও নানারকম চক্রান্ত নির্বাচন সামনে আসলেই তাদের শুরু হয়। যদিও এদেশের মানুষের ওপর আমার আস্থা ও বিশ্বাস আছে কেননা আজকে দেশকে আমরা উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করতে সমর্থ হয়েছি।
সরকার প্রধান বলেন, তারা বিদেশিদের কাছে কান্নাকাটি করে এবং তারা এসে রিকোয়েষ্ট করে কোন রকম তাদের একটু জায়গা দেয়া যায় কিনা, জায়গা দেবে কি দেবে না সেটা বলবে জনগণ।
তিনি বলেন, সে সিদ্ধান্ত দেবে বাংলাদেশের জনগণ। আবার কি সন্ত্রাসের যুগে ফেরত যাবে, নাকি আজকে যে বাংলাদেশের উন্নয়ন হচ্ছে সেই উন্নয়নের যুগে থাকবে। বাসস।

আগামীতেও আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করবে, জনগণই দলের শক্তি ,বললেন আইনমন্ত্রী

0

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের দল। আমাদের শক্তি জনগণের শক্তি। ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে সরকার গঠন করেছে। আগামী নির্বাচনেও জনগণের ভোটে সরকার গঠন করবে ইনশাআল্লাহ। এ জন্য অন্য কোন কিছুর ওপর নির্ভর করার দরকার নেই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদাবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, তৎকালীন পূর্ব বাংলার অনেক বড় বড় নেতা পাকিস্তানের সামরিক জান্তাদের সাথে আপোষ করলেও বঙ্গবন্ধু কখনও আপোষ করেননি। এজন্য পাকিস্তানের সামরিক শাসকরা বঙ্গবন্ধুকে ভয় পেতেন, তাঁকে গুণতেন। বঙ্গবন্ধুকে ভয় পাওয়ার যুক্তিও ছিলো। বঙ্গবন্ধু সবসময় নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করতেন। তিনি গেরিলা যুদ্ধে বিশ্বাস করতেন না। ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন না। তিনি সবসময় জনগণকে সাথে নিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলনে বিশ্বাসী ছিলেন। কারণ তাঁর ছিল প্রবল দেশপ্রেম এবং ছিল জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা, বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি দুঃখ করে বলেন, পাকিস্তানের সামরিক জান্তারা যাকে হত্যা করার সাহস পায়নি, সেই বঙ্গবন্ধুকে আমরা হত্যা করেছি। এই কলঙ্ক আমরা কোনদিন মোচন করতে পারবো না। আনিসুল হক বলেন, জাতির পিতার আদর্শ, দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও আত্ম মর্যাদার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আমরা বর্তমানে কঠিন সময় পার করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই কঠিন সময় অবশ্যই আমরা মোকাবিলা করতে পারবো ইনশাআল্লাহ। তাঁর নেতৃত্বে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে পারবো। আলোচনা সভায় আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবির, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শহিদুল আলম ঝিনুক, সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. গোলাম রাব্বানী, অতিরিক্ত সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, যুগ্ম সচিব উম্মে কুলসুম ও কাজী আরিফুজ্জামান, উপসচিব শেখ গোলাম মাহবুব ও গাজী কালিমুল্লাহ প্রমুখ বঙ্গবন্ধুর জীবন আদর্শ নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠান শেষে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে নৃশংস হত্যাকণ্ডের শিকার বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।