ঢাকা   সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩   বিকাল ৩:৫৯ 

Home Blog Page 18

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা, ১৮ বছরেও শেষ হয়নি বিচারকাজ

0

১৮ বছরেও শেষ হয়নি ইতিহাসের জঘন্যতম ভয়াবহ বর্বরোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারকাজ। বিচারিক আদালতের দেয়া রায় হাইকোর্টে পড়ে আছে। এখন হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানি হবে। হাইকোর্টে নিস্পত্তির পর সেটা যাবে আপিল বিভাগে। আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিস্পত্তির পর রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এদিকে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা এটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন জানিয়েছেন ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল বেঞ্চ নির্ধারণে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করা হয়েছে। এখন প্রধানবিচারপতি বেঞ্চ নির্ধারণ করে দিলেই শুনানি শুরু হবে।
২১ আগস্টে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা ইতিহাসের জঘন্যতম ঘৃণ্য ঘটনা। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে ভয়াবহ নজিরবিহীন গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীসহ ২৪ জন নিহত হন। এর মধ্যে রয়েছেন প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমান। আহত হন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাসহ দলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকসহ কয়েক’শ নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষ ।
জঘন্যতম ওই ঘটনায় আনা মামলায় সব পক্ষকে বিদ্যমান সকল আইনি সুবিধা দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে, বিএনপি-জামাত জোট আমলের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, গোয়েন্দা সংস্থার তৎকালীন দুই শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদন্ড দেন বিচারিক আদালত। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৪ জন জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি-বি) সদস্য। এছাড়া রায়ে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন ও অপর ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ডসহ অর্থদন্ড দেয়া হয়।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ১৯ জন : বিচারিক আদালতের রায়ে ১৯ আসামিকে মৃত্যুদন্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদন্ড দেয়া হয়। তাঁরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম (সম্প্রতি মারা গেছেন), হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ, জঙ্গি নেতা মাওলানা তাজউদ্দিন, মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, মাওলানা শেখ ফরিদ, মাওলানা আবু সাইদ, মুফতি মঈনউদ্দিন শেখ ওরফে আবু জান্দাল, হাফেজ আবু তাহের, মো. ইউসুফ ভাট ওরফে মাজেদ ভাট, আবদুল মালেক, মফিজুর রহমান ওরফে মহিবুল্লাহ, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হোসাইন আহমেদ তামিম, রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ও মো. উজ্জ্বল ওরফে রতন।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ১৯ জন : বিচারিক আদালতের রায়ে ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড দেয়া হয়। তাঁরা হলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ও আরিফুল ইসলাম আরিফ, জঙ্গিনেতা মুফতি আবদুর রউফ, হাফেজ ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা আবদুল হান্নান ওরফে সাব্বির, মুরসালিন, মুত্তাকিন, জাহাঙ্গীর বদর, আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, আবু বকর সিদ্দিক ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মো. ইকবাল, রাতুল আহমেদ, মাওলানা লিটন, মো. খলিল ও শাহাদত উল্লাহ ওরফে জুয়েল।
বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত দন্ডিত ১১ জন হলেন- মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমীন, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার, লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ওরফে ডিউক, সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা, সাবেক আইজিপি শহুদুল হক, সাবেক ডিআইজি খান সাঈদ হাসান, ডিএমপির সাবেক ডিসি (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান, সাবেক আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী, জোট সরকার আমলের তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ, সাবেক এএসপি মুন্সী আতিকুর রহমান ও সাবেক পুলিশ সুপার রুহুল আমীন।
বিচারিক আদালতে এই মামলার রাষ্ট্র পক্ষের প্রধান কৌসুঁলি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ রেজাউর রহমান বাসস’কে বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ধারাবাহিকতায় এই হামলা চালানো হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী গণতন্ত্রের মানসকন্যা মাদার অব হিউম্যানিটি সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশুন্য ও দেশকে অকার্যকর করাই ছিল ওই হামলার উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, ওই হামলায় সমরাস্ত্র আর্জেস গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। জঙ্গিরা তৎকালীন ক্ষমতাসীন মহলের প্রত্যক্ষ মদদ ও সহায়তায় বর্বরোচিত এ মামলা চালায় শান্তিপ্রিয় আওয়ামী লীগ ও সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ সমাবেশের ওপর। তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন ওই ঘটনায় নিহত হন। মারাত্মক আহত হন কয়েকশো নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেকে ওই ঘটনার শিকার হয়ে দেহে এর ক্ষত বহন করছেন।
সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আর্জেস গ্রেনেডের স্প্রিন্টার দেহে বহন করে অসুস্থ হয়ে পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেন ঢাকার সাবেক মেয়র ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ। এখন হাইকোর্টে দ্রুত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার শুনানি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সৈয়দ রেজাউর রহমান।
ভয়াবহ ওই ঘটনার পর আনীত মামলায় নিরীহ জজ মিয়াকে দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়ে মূল ঘটনা ও অপরাধীদের আড়ালের অপচেষ্টা চালায় বিএনপি-জামায়াত জোট আমলের প্রভাবশালী মহল।
২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেনেড হামলার তদন্ত ফের শুরু করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। গ্রেনেড হামলার নেপথ্যের অনেক তথ্যই দেশবাসীর সামনে বেরিয়ে আসে। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের উচ্চপর্যায়ের মদদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা, সিআইডি ও পুলিশের তখনকার উচ্চ পদস্থ অনেক কর্মকর্তা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ব্যাপারে অবহিত ছিল এবং অনেকেই প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে এতে জড়িতও ছিলেন।
সাক্ষ্য প্রমাণে বের হয় যে, বিএনপি-জামাত জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর বাসভবনে বৈঠক করেই এ হামলার পরিকল্পনা করা হয়। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয় গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করার। আবদুল সালাম পিন্টুর ভাই জঙ্গি তাজউদ্দিনের সম্পৃক্ততা এবং আর্জেস গ্রেনেড ঘাতকদের হাতে হস্তান্তর করার তথ্য প্রমাণ বের হয়ে আসে। আসামিদের জবানবন্দীতেই হামলার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের ওই সময়ের পরিচালক রেজ্জাকুল হায়দার ও এনএসআইয়ের মহাপরিচালক আবদুর রহিম, জামাতে ইসলামীর তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল ও মন্ত্রী আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ (যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদন্ড কার্যকর), জঙ্গীনেতা তাজউদ্দিন, মাওলানা ফরিদ, মুফতি আবদুল হান্নান (অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর), মাওলানা আবদুল সালাম এবং কাশ্মীরী জঙ্গী আবদুল মাজেদ ভাটের নামসহ সংশ্লিষ্ট সব ঘটনা ও জড়িতদের বৃত্তান্ত উঠে আসে।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা হাইকোর্টে শুনানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে : এটর্নি জেনারেল

0

ইতিহাসের জঘন্যতম ভয়াবহ বর্বরোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা এটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন এ কথা জানিয়েছেন।
এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলা রাষ্ট্রীয় জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মামলা। নজিরবিহীন ওই হামলার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে স্থবির ও ধ্বংসের প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। সে কারণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমরা মামলাটি শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি বরাবর দরখাস্ত করেছি। প্রধান বিচারপতি মামলাটি শুনানির জন্য একটি বেঞ্চ ঠিক করে দিবেন।
এটর্নি জেনারেল বলেন, মৃত্যুদন্ডাদেশ নিশ্চিত করার জন্য বিচারিক আদালত থেকে যে রেফারেন্সগুলো হাইকোর্টে আসে তা শুনানির জন্য প্রস্তুত হলে প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ ঠিক করে দেন। সে অনুযায়ী শুনানি হয়।
এটর্নি জেনারেল আশা প্রকাশ করে বলেন, শিগগিরই রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ মামলার শুনানি হাইকোর্টে শুরু হবে। মামলায় বিচারিক আদালতে আসামিদের যে সাজা হয়েছে তা বহাল রাখতে হাইকোর্ট শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আইনগত দিক তুলে ধরবে।

রক্তাক্ত ২১ আগস্ট আজ

0

আজ রক্তাক্ত বিভীষিকাময় ২১ আগস্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসে ২১ আগস্ট একটি নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের ভয়াল দিন। এদিন নারকীয় সন্ত্রাসী হামলার ১৮তম বার্ষিকী। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী শান্তিপূর্ণ সমাবেশে এই নজির বিহীন গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হিংসার দানবীয় সন্ত্রাস আক্রান্ত করে মানবতা। আক্রান্ত হন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় আয়োজিত সমাবেশে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এসে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ওই ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীরা মানববর্ম রচনা করে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করলেও গ্রেনেডের আঘাতে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ মোট ২৪ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারান। পরবর্তী সময়ে গ্রেনেড হামলার বিচারের রায়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি জোট সরকারের মন্ত্রী ও সরকারের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলে যে ওই সরকারের প্রত্যক্ষ মদতেই হামলাটি পরিচালিত হয়েছিল।
তখন ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামাত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার। সেদিন ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি বিরোধী’ শান্তি সমাবেশের আয়োজন করেছিল তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সমাবেশের আগে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে স্থাপিত অস্থায়ী ট্রাকমঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা শেষ হওয়ার পরপরই তাকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গ্রেনেড হামলা শুরু হয়। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে থাকে একের পর এক গ্রেনেড। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহুর্মুহু ১৩টি গ্রেনেড বিস্ফোরণের বীভৎসতায় মুহূর্তেই মানুষের রক্ত-মাংসের স্তুপে পরিণত হয় সমাবেশস্থল। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ পরিণত হয় এক মৃত্যুপুরীতে। স্পিন্টারের আঘাতে মানুষের হাত-পাসহ বিভিন্ন অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। সভামঞ্চ ট্রাকের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায় রক্তাক্ত নিথর দেহ। লাশ আর রক্তে ভেসে যায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউর সামনের পিচঢালা পথ। নিহত-আহতদের জুতা-স্যান্ডেল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ভেসে আসে শত শত মানুষের গগন বিদারী আর্তচিৎকার। বেঁচে থাকার প্রাণপণ চেষ্টারত মুমূর্ষুদের কাতর-আর্তনাদসহ অবর্ণনীয় মর্মান্তিক সেই দৃশ্য।
সেদিন রাজধানীর প্রতিটি হাসপাতালে আহতদের তিল ধারণের জায়গা ছিল না। ভাগ্যগুণে নারকীয় গ্রেনেড হামলায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। ঘাতকদের প্রধান লক্ষ্য শেখ হাসিনা বেঁচে গেছেন দেখে তার গাড়ি লক্ষ্য করে ১২ রাউন্ড গুলি করা হয়। তবে টার্গেট করা গুলি বঙ্গবন্ধুকন্যাকে বহনকারী বুলেটপ্রুফ গাড়ি ভেদ করতে পারেনি। হামলার পরপরই শেখ হাসিনাকে কর্ডন করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তার তৎকালীন বাসভবন ধানমন্ডির সুধা সদনে। ২১ আগস্টের রক্তাক্ত ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৬ জন। পরে সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪ জনে। রক্তাক্ত-বীভৎস ওই ভয়াল গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমান ছাড়াও সেদিন নিহত হন ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, হাসিনা মমতাজ রিনা, রিজিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), রতন শিকদার, মোহাম্মদ হানিফ ওরফে মুক্তিযোদ্ধা হানিফ, মোশতাক আহমেদ, লিটন মুনশি, আবদুল কুদ্দুছ পাটোয়ারী, বিল্লাল হোসেন, আব্বাছ উদ্দিন শিকদার, আতিক সরকার, মামুন মৃধা, নাসির উদ্দিন, আবুল কাসেম, আবুল কালাম আজাদ, আবদুর রহিম, আমিনুল ইসলাম, জাহেদ আলী, মোতালেব ও সুফিয়া বেগম। গ্রেনেডের স্পিøন্টারের সঙ্গে লড়াই করে ঢাকার মেয়র মোহাম্মদ হানিফসহ আরও কয়েকজন পরে মৃত্যুবরণ করেন।
হামলায় আওয়ামী লীগের চার শতাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়ে শরীরে স্পিøন্টার নিয়ে আজও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আহত হয়েছিলেন বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা। এখনও অনেক নেতাকর্মী সেদিনের সেই গ্রেনেডের স্পিøন্টারের মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। অনেক নেতাকর্মীকে তাৎক্ষণিক দেশে-বিদেশে চিকিৎসা করালেও তারা এখন পর্যন্ত পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি।
এদিকে গ্রেনেড হামলার পর ভয়, শঙ্কা ও ত্রাস গ্রাস করে ফেলে গোটা রাজধানীকে। এই গণহত্যার উত্তেজনা ও শোক আছড়ে পড়ে দেশ-বিদেশে। হামলার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিজে বাঁচতে ও অন্যদের বাঁচাতে যখন ব্যস্ত হয়ে পড়েন, ঠিক তখনই পুলিশ বিক্ষোভ মিছিলের ওপর বেধড়ক লাঠি-টিয়ার শেল চার্জ করে। একইসঙ্গে নষ্ট করা হয় সেই রোমহর্ষক ঘটনার যাবতীয় আলামত। পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রত্যক্ষ মদদে ওই ঘটনা ধামাচাপা দিতে ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার।

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা চলবে: হাইকোর্ট

0

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে করা মামলা বাতিলে জারি করা রুল খারিজ দিয়েছে হাইকোর্ট।
বুধবার বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
ফলে নিম্ন আদালতে এ মামলা চলবে। ড. ইউনূসের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।
এর আগে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পক্ষে এ বিষয়ে পক্ষভূক্ত হওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। পাশপাশি দুই মাসের মধ্যে রুল নিষ্পত্তি করা সংক্রান্ত আপিল বিভাগের আদেশও উপস্থাপন করা হয়।
পরে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের যে মামলাটি হাইকোর্ট স্থগিত করেছিলেন, সেটা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরে সুপ্রিম কোর্ট দুই মাসের মধ্যে বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। এখানে কলকারখানা অধিদপ্তরের পক্ষে যিনি মামলাটি দায়ের করেছিলেন সেই রুল থাকা অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। এখন যিনি এই মামলার দায়িত্বে আছেন তার পক্ষে মামলাটি পরিচালনার জন্য একটি দরখাস্ত দাখিলের অনুমতি চেয়েছিলাম। আর আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যেহেতু আপিল বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে দুই মাসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করার জন্য। সেই আদেশের অনুলিপি আমরা আদালতের কাছে দাখিল করলাম।
আদালত হলফনামা করার জন্য অনুমতি দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী রুল শুনানি শুরু হয়।
গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে ড. ইউনূসসহ চারজনের নামে এ মামলা করেন।
ড. ইউনূস ছাড়াও এমডি মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহানকে মামলায় বিবাদী করা হয়েছে।
মামলায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করায় শ্রম আইনের ৪ এর ৭, ৮, ১১৭ ও ২৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
পরে ওই মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল দিয়েছিলেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে।
ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে মামলা বাতিলে জারি করা রুল ১৩ জুন দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়া হয়। এই সময় পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
ওইদিন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন জানান, আইন অনুসারে শ্রমিক কর্মচারীদের বোনাস না দেয়ায় এই মামলা দায়ের করা হয়। পরে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১এ ধারায় (মামলা বাতিলের আবেদন) হাইকোর্টে আবেদন করেন। হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে দুই মাসের মধ্যে হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেছেন। আর এই সময় পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। বাংলা নিউজটোয়েন্টিফোর.কম।

ঢাকা ওয়াসার এমডির বেতন-বোনাসের হিসাব চেয়েছে হাইকোর্ট,অপসারণ প্রশ্নে রুল

0

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানকে গত ১৩ বছর ধরে কত টাকা বেতন, বোনাস এবং অন্যান্য সুবিধাদি দেয়া হয়েছে, তার হিসাব চেয়েছেন হাইকোর্ট।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বুধবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল সহ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়।
পরে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া জানান, ঢাকা ওয়াসার এমডিকে অপসারণে নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং তাকে অপসারণের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
এছাড়া গত ১৩ বছরে কত টাকা বেতন, বোনাস এবং অন্যান্য সুবিধাদি দেয়া হয়েছে, সেই হিসাব আগামী ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান এই আইনজীবী। বাংলা নিউজটোয়েন্টিফোরডটকম।

চট্টগ্রামের নৌ ঘাঁটিতে বোমা হামলায় ৫ জেএমবি জঙ্গির মৃত্যুদন্ড

0

চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর ঈশা খাঁ ঘাঁটির ভেতরে বোমা হামলার ঘটনায় জেএমবির ৫ সদস্যের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৭ আগস্ট) চট্টগ্রামের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুল হালিম এই আদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- জঙ্গি আবদুল মান্নান, রমজান আলী, বাবলু রহমান, আবদুল গাফফার ও এম সাখাওয়াত হোসেন।
সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মনোরঞ্জন দাশ জানান,
গত ১ আগস্ট শুনানি শেষে এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য বুধবার (১৭ আগস্ট) দিন ধার্য করেন সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামের বিচারক আবদুল হালিম।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের ঈশা খাঁ ঘাঁটির ভেতরে জুমার নামাজের সময় পতেঙ্গা মসজিদে মুসল্লিদের ওপর দুটি বোমা (গ্রেনেড) নিক্ষেপ করেন আবদুল মান্নান। এ সময় ভীতসন্ত্রস্ত মুসল্লিরা ছোটাছুটি শুরু করলে হামলাকারী মান্নান ভিড়ের সঙ্গে মিশে যান। কিন্তু তাঁর বাঁ হাতের কবজিতে ইলেকট্রিক সুইচ দেখে মুসল্লিরা তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। তখন আবদুল মান্নান আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করে সফল হয়নি। পতেঙ্গা মসজিদে হামলার ১০ মিনিট পর ঈশা খাঁ ঘাঁটির আরেকটি মসজিদে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। ওই মসজিদে জুমার নামাজ শুরু হলে রমজান আলী মসজিদের মাঝবরাবর দুটি বোমা (গ্রেনেড) নিক্ষেপ করে মুসল্লিদের সঙ্গে মিশে যায়। পরে তাঁকেও ধরে ফেলা হয়। ওই দিন দুটি মসজিদে বোমা হামলায় নৌবাহিনীর কর্মকর্তাসহ ২৪ জন মুসল্লি আহত হন।
হামলার ৯ মাস পর ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর নৌবাহিনীর নেভাল প্রভোস্ট মার্শাল কমান্ডার এম আবু সাঈদ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী ও বিস্ফোরক আইনে চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানায় মামলা করেন। ঘটনার ২২ মাস পর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। ঘটনার ৭ বছর পর এই মামলার বিচার সম্পন্ন হলো।

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয়দানকারী দেশের কাছ থেকে মানবাধিকারের সবক নিতে হয়, দূ:খ প্রধানমন্ত্রীর

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যেসব দেশ মানবাধিকার বিষয়ে সবক দেয় বা প্রশ্ন তোলে এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তারাই বঙ্গবন্ধু ও নারী-শিশুসহ তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যাকারীদের আশ্রয় দিয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে এদের কাছ থেকে আমাদের মানবাধিকারের সবক নিতে হয়। যারা আমার বাবা, মা, ভাই, নারী-শিশুদেরকে হত্যা করেছে তাদেরকে তারা রক্ষা করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে যে সব দেশ মানবাধিকারের প্রশ্ন তোলে আমাদের স্যাংশন দেয়, তারাইতো খুনীদের আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। এই খুনী রাশেদ ছিল কমান্ডিং অফিসার, আমেরিকার সঙ্গে বার বার কথা বলেছি তাকে তারা দিচ্ছে না। তাকে তারা লালন-পালন করে রেখে দিচ্ছে। আর নূর আছে কানাডায়।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির পিতার ৪৭ তম শাহাদতবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতির ভাষণে এসব কথা বলেন।
তিনি পলাতক খুনীদের অবস্থান সম্পর্কে বলেন, রশিদ লিবিয়াতে পড়ে থাকে মাঝে মাঝে পাকিস্তানে যায়। ডালিম আছে লাহোরে এই টুকু জানি খুব বেশি খবর পাওয়া যাচ্ছে না। মোসলেমউদ্দিন নান ধাম পরিবর্তন করে বিভিন্ন সময়ে অবস্থান বদল করে বিভিন্ন স্থানে গা ঢাকা দিয়ে আছে।

হুদাকে সে দেশের সরকারের সহযোগিতায় থাইল্যান্ড থেকে এবং মহিউদ্দিনকে দেশে এনে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীর মধ্যে ফারুক সহ ৬ জনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে এই ৪৭ বছরে। তাহলে তাঁর এবং পরিবারের ভাগ্যহতদের মানবাধিকার কোথায় সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সূচনা বক্তৃতা করেন। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বর্ষিয়ান নেতা আমি হোসের আমু ও তোফায়েল আহমদ, সভাপতি মন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক,আব্দুর রহমান ও এডভোকেট কামরুল ইসলাম, মুক্তিয্দ্ধু বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, মহানগর উত্তর সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও দক্ষিণ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মান্নাফী বক্তৃতা করেন।
দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ সভা সঞ্চালনা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ ’৭৫ এর ১৫ আগষ্টের সকল শহীদ স্মরণে সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, আজ অনেকেই সোচ্চার হন, মানবাধিকারের কথা বলা হয়, মানবাধিকারের প্রশ্ন আসে, আমাদের সরকারকে অনেকে মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন করেন। যারা এই প্রশ্ন করেন তাদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা ১৫ আগস্ট আমরা যাঁরা আপনজন হারিয়েছি তাদের মানবাধিকার কোথায় ছিল? আমাদেরতো বিচার চাওয়ার অধিকার ছিলনা। আমরা যারা মা-বাবা হারিয়েছি তারা মামলা করতে পারবোনা। বিচার চাইতে পারেবানা, কেন? আমরা এ দেশের নাগরিক নই? উল্টো খুনীদের ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স’র মাধ্যমে দায়মুক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরী দিয়ে জিয়াউর রহমান পুরস্কৃত করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন জিয়াউর রহমান যদি খুনী না বা ষড়যন্ত্রকারি না হন তাহলে খুনী মোশতাক তাকে সেনা প্রধান করবে কেন? আর সেই বা এই খুনীদের পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ভূট্টোকে অনুরোধ করে তাকে দিয়ে লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট গাদ্দাফিকে অনুরোধ করিয়ে সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেবে কেন? পরবর্তীতে তাদের আবার বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরী দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।
খুনীদের আশ্রয়-প্রশয়ের বিষয়ে তিনি ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেনের ভুমিকা তুলে ধরে বলেন, তিনি খুনী পাশা এবং হুদাকে নিয়ে ‘প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তি’ (প্রগশ) নামে একটি রাজনৈতিক দল গড়েছিলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, জেনারেল এরাশাদ ক্ষমতায় এসে খুনী ফারুককে দিয়ে ‘ফ্রিডম পার্টি’ গঠন করায়। খালেদা জিয়া আরো একধাপ উপরে উঠে খুনী ফরুক, রশিদ এবং হুদাকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী করে। ’৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটার বিহীন নির্বাচনে হুদাকে চুয়াডাঙ্গা থেকে এবং রশিদকে কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত ঘোষণা করে সংসদে বিরোধী দলের নেতা বানায়। কাজেই তারা কিভাবে অস্বীকার করবে এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে তারা জড়িত নয়?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপিতো এদের মদদদাতা। এদের লালন পালনকারী।
’৯৬ সালের ভোটার বিহীন নির্বাচন জনগণ মেনে না নিলে গণআন্দোলনের মুখে ৩০ মার্চ খালেদা জিয়া পদত্যাগে বাধ্য হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি এবং তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় সেই নির্মম হত্যাকান্ড থেকে বেঁচে গেলেও সেই বাঁচা ছিল যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকা বলেন জাতির পিতার কন্যা।
শেখ হাসিনা বলেন, ’৯৬ সালে যদি তিনি সরকারে আসতে না পারতেন, ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স বাতিল করতে না পারতেন তাহলে এই হত্যাকান্ডের বিচার কোনদিন হতোনা। তারপরেও ’৯৮ সালে যেদিন জাতির পিতা হত্যা মামলার বিচারের রায় হবার কথা সেদিনও হরতাল ডেকেছিল বিএনপি, খুনীদের বাঁচাতে। আর ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসেই খালেদা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন এই মামলার সব বিচারকার্য বন্ধ করে দেয়।
বেঁচে থাকলে সকলেই পাশে থাকে আর মরে গেলে যে কাউকে পাশে পাওয়া যায়না তাঁর প্রমাণ ১৫ আগষ্টের হত্যাকান্ডের পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের ঐ বাড়িটিতে মৃতদেহগুলো পরদিন পর্যন্ত পড়েছিল বলেও তিনি জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, সব সহ্য করে নীল কন্ঠ হয়ে শুধু অপেক্ষায় থেকেছি কবে ক্ষমতায় যেতে পারবো আর এই দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবো এবং দু:খী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবো। আর তাহলেই এই হত্যাকান্ডের প্রকৃত প্রতিশোধ নেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের এই শোক সভায় আজকে আমরা এই প্রতিজ্ঞাই নেব- জাতির পিতার যে আদর্শ সেই আদর্শকে ধারণ করে এই দেশকে আমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব।
তিনি বলেন, জাতির পিতা এদেশের মানুষের জন্য জন্য রক্ত দিয়ে গেছেন, রক্ত দিয়ে গেছেন আমার মা, ভাইয়েরা সেকথা আমি ভুলতে পারি না। সেই মানুষগুলোর পাশে থাকা কর্তব্য বলে মনে করি। এখানে কোন মানুষ কষ্ট পাক আমরা তা চাইনা।
তিনি বলেন, যে নাম ঘাতকের দল মুছে ফেলতে চেয়েছিল আজ আর সেই নাম মুছতে পারবেনা। আজকে বিশ্বব্যাপী সে নাম সমাদৃত। সেই জয় বাংলা শ্লোগান আবার ফিরে এসেছে। ৭ মার্চের ভাষণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। বিকৃত ইতিহাস নয়, আজকে সঠিক ইতিহাস মানুষ জানতে পারছে। বিশ্ব দরবারে আজ আমরা মাথা উঁচু করে চলতে পারছি, মাথা উঁচু করেই চলবো। কিন্তু এই দু:সময়ে দু;স্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যার যেটুকু সামর্থ সে অনুযায়ী মানুষের সেবা করতে হবে।
তিনি সমাজের বিত্তবানদের সাধারণ দু:স্থ জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সহযোগিতা করার আহবান জানান। সরকার যথাসাধ্য করবে এবং তিনি তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের এ সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার তালিকা করে ভূমিহীন-গৃহহীনকে ঘর করে দিচ্ছে। কিন্তু এর বাইরেও যদি কেউ কারো এলাকায় থাকেন তাহলে সে ব্যাপারে তাঁর সরকারকে জানালে তাদেরকে গৃহনির্মাণ করে দেয়া হবে। কেননা তাঁর সরকার চায় দেশে আর কোন মানুষ গৃহহীন থাকবেনা।
তিনি এ সময় কোথাও এতটুকু জমিও অনাবাদি না রেখে তাকে উৎপাদনের আওতায় আনার মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের তাঁর আহবান পুণর্ব্যক্ত করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর একটাই লক্ষ্য জাতির পিতা স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা। যে লক্ষ্য অর্জনের পথে তাঁর সরকার অনেকদূর এগিয়েছে, ইনশাল্লাহ এই যাত্রা আর কেউ থামাতে পারবেনা।বাসস।

বাংলাদেশ পুলিশি রাষ্ট্র নয় বলেই তারা জাতিসংঘ প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করতে পেরেছেন: আইনমন্ত্রী

0

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বাংলাদেশ পুলিশি রাষ্ট্র নয় বলেই মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেতের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করতে পেরেছেন। বৈঠক করতে পেরেছেন। মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বাঙালির শোকের শ্রাবণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশে সফররত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে সোমবার বৈঠক করেন মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তারা বলেছেন, বাংলাদেশ জনগণের রাষ্ট্র নয়, পুলিশি রাষ্ট্র। আমার প্রশ্ন, বাংলাদেশ যদি পুলিশি রাষ্ট্র হয়ে থাকে, তাহলে এই যে আপনারা বললেন, এটা বলতে কি কেউ আপনাদের বাধা দিয়েছে? দেয়নি। মিটিং করলেন, কেউ বাধা দিয়েছে? সরকার দেয়নি। সেই বক্তব্য খবরের কাগজে ছাপালেন, আমরা কি রাতের বেলা গিয়ে খবরের কাগজকে গলা চিপে ধরেছি যে ছাপানো যাবে না? তা করা হয়নি।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘টক শো-তে বিরোধী দলের লোক যা খুশি তা-ই বলেন, কিন্তু সরকার বাধা দেয় না। এটাই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, বাক্‌স্বাধীনতা।’

আনিসুল হক বলেন, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু অবিচ্ছেদ্য। বঙ্গবন্ধুকে যারা সপরিবারে হত্যা করেছে, তারা বুঝতে পেরেছিল বঙ্গবন্ধু পরিবারের এক ফোটা রক্ত বেঁচে থাকলে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা যাবে না। এ থেকেই বোঝা যায় এটি পূর্বপরিকল্পিত, ষড়যন্ত্রমূলক হত্যা। আইনমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু নিজেকে খুব সাধারণ মানুষ মনে করতেন। কিন্তু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি মোটেও একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন না। তিনি সারা বিশ্বের দুঃখী মানুষের নেতৃত্ব দেওয়ার পর্যায়ে চলে গিয়েছিলেন। এ কারণে তার শত্রু বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই শত্রুরা দেশে একটি ষড়যন্ত্র করে তাকে হত্যা করবে, এটা কখনও ভাবা হয়নি। মন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান তো শুরুই করেছিল শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে। তিনি (শাহ আজিজুর)ছিলেন রাজাকার নম্বর ওয়ান। এছাড়াও তার (জিয়াউর রহমানের) মন্ত্রিসভার অনেকেই আইয়ুব খানের মন্ত্রী ছিলেন। এ থেকে তো পরিস্কারভাবে বুঝা যায়, মুক্তিযুদ্ধের ধারাকে সম্পূর্ণভাবে বা ৩৬০ ডিগ্রী পরিবর্তন করার জন্যই জিয়াউর রহমান এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর দেশ শাসন শুরু করেছিলেন। তার মানে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে তারা বাংলাদেশকে সম্পূর্ণভাবে হত্যা করতে চেয়েছিল। আইনমন্ত্রী মনে করেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হওয়ার পর এখন এদেরকে চিহ্নিত না করলে আমরা কিন্তু এই শত্রুদেরকে তাদের নিজেদেরকে লালন-পালন করার অবকাশ দিবো। আমি বলছি না যে তাদের সকলকে জেলখানায় ঢুকাতে হবে, হয়তো অনেকেই মরে গেছেন। তারা জেলখানায় যাওয়ার অনেক দূর চলে গেছেন। কিন্তু এদেরকে এবং এই গোষ্ঠীটাকে যদি আমরা চিহ্নিত করতে পারি এবং তাদের সম্পর্কে সাবধান থাকতে পারি তাহলে আমরা ২০৪১ সালে যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছি, সেই জায়গায় পৌঁছতে পারবো।’ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত কমিশন গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কমিশনের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। প্রথমে করোনা ভাইরাসের অতিমারি ও পরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কমিশন গঠন একটু দেরি হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, কমিশন কয় সদস্য বিশিষ্ট হবে, কমিশনের উদ্দেশ্য ও কাজ কী হবে, কিভাবে কাজ করবে তা কমিশনের রূপরেখায় আছে। কমিশনের কাজ হবে অনেকটাই গবেষণামূলক। এই কমিশন গঠনের সাথে জননেত্রী শেখ হাসিনা ওতোপ্রতভাবে জড়িত। তার অভিমত এখানে শিরোধার্য। সেই ক্ষেত্রে তার সাথে আলাপ না করে এটা প্রকাশ করা হবে না। কারণ প্রধানমন্ত্রী এটা সংশোধন, পরিমার্জন, পরিবর্ধন করার কথা বলতে পারেন। তিনি যেটা চূড়ান্ত করে দিবেন সেটাকেই জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে। সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব এ কে এম আতিকুর রহমান এবং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার প্রমুখ।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো কেন অবৈধ নয়, জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল

0

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সংক্রান্ত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
গত ৫ আগস্ট ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পেট্রল ও অকটেনের দাম যথাক্রমে ৫১ দশমিক ১ শতাংশ ও ৫১ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়িয়েছে মন্ত্রণালয়।
সরকারি সিদ্ধান্তের বৈধতা গত ৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইউনুস আলী আকন্দ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করেন।
রিটে তেলের দাম বৃদ্ধি করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন স্থগিত, বাতিল ও প্রত্যাহার চাওয়া হয়।
রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়।
উল্লেখ্য বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে বাড়িয়ে দয়ো হয়েছে। যা বিরূপ প্রভাব পড়েছে বাজারমূল্য ও মানুষের জীবন যাত্রার ওপর।

এখনই পরমাণু যুদ্ধ বাধলে মারা যাবে ৫০০ কোটি মানুষ! আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের

0

তুলনামূলকভাবে ছোট আকারের পারমাণবিক সংঘাত বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদনের জন্য বিধ্বংসী পরিণতি ডেকে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্থানীয় যুদ্ধের ফলে পাঁচ বছরের মধ্যে ফসলের ফলন আনুমানিক সাত শতাংশ হ্রাস পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। গবেষণায় এই খবর জানা গিয়েছে। অন্যদিকে আমেরিকা এবং রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধের ফলে তিন থেকে চার বছরের মধ্যে উৎপাদন ৯০ শতাংশ কমে যাবে।
পাঁচ বিলিয়ন। সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। কিন্তু পৃথিবী জুড়ে মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এত মানুষেরই। একটি আধুনিক পারমাণবিক যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষের। আর এর প্রভাবেই পাঁচ বিলিয়ন মানুষ মারা যাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের ফলে বায়ুমণ্ডলে সূর্যালোক আটকানর চাদরে ফুটো হতে পারে। এরফলে হতাহতের সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে বিস্ফোরণের ফলে ঘটা মৃত্যুর পরিমাণ। রুটগার্স ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা ছয়টি সম্ভাব্য পারমাণবিক সংঘাতের পরিস্থিতির প্রভাবকে ম্যাপ করেছেন। নেচার ফুড জার্নালে প্রকাশিত সমীক্ষায় তারা জানিয়েছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মধ্যে একটি পূর্ণ যুদ্ধ সবথেকে খারাপ সম্ভাবনা। এই যুদ্ধ যদি হয় সেই ক্ষেত্রে পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি মানুষ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্ফোরণ হলে তাতে যে অগ্নিঝড় সৃষ্টি হবে তাতে বায়ুমণ্ডলে কতটা ধোঁয়া প্রবেশ করবে তার গণনার উপর ভিত্তি করে এই অনুমান করা হয়। গবেষকরা ন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফিয়ারিক রিসার্চের একটি জলবায়ু পূর্বাভাসের যন্ত্র ব্যবহার করেছেন। এর সাহাজ্যে তাঁরা বিভিন্ন দেশের প্রধান ফসলের উৎপাদনশীলতার পরিমাপ করতে পেরেছেন।
এমনকি তুলনামূলকভাবে ছোট আকারের পারমাণবিক সংঘাত বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদনের জন্য বিধ্বংসী পরিণতি ডেকে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্থানীয় যুদ্ধের ফলে পাঁচ বছরের মধ্যে ফসলের ফলন আনুমানিক সাত শতাংশ হ্রাস পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। গবেষণায় এই খবর জানা গিয়েছে। অন্যদিকে আমেরিকা এবং রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধের ফলে তিন থেকে চার বছরের মধ্যে উৎপাদন ৯০ শতাংশ কমে যাবে।
গবেষকরা এই কথাও মনে করেছেন যে বর্তমানে পশুর খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত ফসল ব্যবহার করা অথবা খাদ্যের বর্জ্য হ্রাস করলে তা সংঘাতের পরের ক্ষতিপূরণ করতে পারে। তবে এর পাশাপাশি তাঁরা আরও বলেছেন যে বড় আকারের যুদ্ধের পরে সঞ্চয় খুবই কম হবে।
ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেনে আক্রমণের পর আমেরিকা এবং রাশিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্বের আভাস আসা শুরু হওয়ার পরে এই গবেষণাটি করা হয়েছে। রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এপ্রিল মাসে সতর্ক করেন যে পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
গবেষণার সহ-লেখক এবং রুটগার্স ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের জলবায়ু বিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যালান রোবক বলেছেন, ‘তথ্যগুলি আমাদের একটি জিনিস বলে। আমাদের অবশ্যই একটি পারমাণবিক যুদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে বাধা দিতে হবে।’ বিদেশী পত্রিকা অবলম্বনে।