বিদেশি ঋণের বোঝা জনগণের ওপর না চাপিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে লেনদেনের স্বয়ংক্রিয় তথ্য আদান-প্রদান সহায়ক ‘কমন রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড’ বা সিআরএস অবলম্বন করার মাধ্যমে কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এ দাবি জানায়। এতে বলা হয়, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি মোকাবিলায় আইএমএফ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋণ নেয়া স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হলেও, সুদসহ ঋণ পরিশোধের বোঝা পুরোটাই জনগণের ওপর পড়বে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় বিনা খরচে কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধের মাধ্যমে প্রস্তাবিত বৈদেশিক ঋণের বহুগুণ বেশি অর্থ বাৎসরিক ও টেকসইভাবে উপার্জন করার পথ সরকারের জন্য উন্মুক্ত আছে বলে মনে করছে টিআইবি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি মোকাবিলায় আইএমএফ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার উদ্যোগ স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে প্রযোজ্য সুদসহ এ ধরনের ঋণ পরিশোধের বোঝা পুরোটাই জনগণকে বইতে হয়। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে-আর্থিক সংকট, বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার ক্রমবর্ধমান ঘাটতি মোকাবিলায় বৈদেশিক ঋণ সহায়তাসহ অন্যান্য চলমান উদ্যোগ জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে গ্রহণ করা হয়েছে কি না! অর্থাৎ জনগণের ওপর ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে বিকল্প উপায় অবলম্বনের পথ বিবেচনা করা হচ্ছে কি না। ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৫ মেয়াদে চালান জালিয়াতির মাধ্যমে পাচার হওয়ার পরিমাণ বছরে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।
হালনাগাদ তথ্য প্রাপ্তি সাপেক্ষে এই পরিমাণ কমপক্ষে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান অর্থ পাচার বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ যে গগনচুম্বী এ বিষয়ে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। একইভাবে কোনো সন্দেহ নেই যে, বাংলাদেশের অর্থপাচারের সিংহভাগ আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে মিসইনভয়েসিং বা চালান জালিয়াতির মাধ্যমে সংগঠিত হয়। যার ফলে একদিকে যেমন ব্যাপক কর ফাঁকি দেয়া হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে।’
‘সরকারকে মনে রাখতে হবে যে, চলমান সংকট পরিস্থিতিতে কর ফাঁকি ও অর্থপাচার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পায়। উল্লিখিত বিশাল মাত্রার অর্থপাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য কার্যকর সিআরএস অবলম্বন করা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। যার সুফল আইএমএফের থেকে এককালীন ঋণের তুলনায় বহুগুণ বেশি হারে ও বাৎসরিকভিত্তিতে সুলভ ও টেকসইভাবে বৈদেশিক মুদ্রা তথা জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে,’ বলেন তিনি।
বাংলাদেশের অর্থপাচারের গন্তব্য দেশগুলোতে এবং তথাকথিত কর-স্বর্গ দেশ বা অঞ্চলগুলোও ইতোমধ্যে সিআরএস আওতাভুক্ত হয়েছে এবং তথ্য আদান-প্রদান করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাংক-গোপনীয়তার জটিলতা থেকে মুক্তির উপায় এখন বাংলাদেশের নাগালের মধ্যে। সব প্রভাব, ভয়-করুণা ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে থেকে স্বল্পমেয়াদে আর্থিক সংকট মোকাবিলায় এবং মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদে টেকসইভাবে কর ফাঁকি ও অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণে সিআরএস অবলম্বনের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার উদাহরণ স্থাপনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা আশা করছি, অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সরকার জাতীয় পর্যায়ে প্রযোজ্য আইনি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।’
টিআইবি জানায়, ২০১৪ সালে ওইসিডির উদ্যোগে প্রণীত এবং ২০১৭ সাল থেকে কার্যকর ব্যাংক ও আর্থিক খাতে দেশে-বিদেশে সব ধরনের লেনদেনের স্বয়ংক্রিয় তথ্য আদান-প্রদান সহায়ক কমন রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ডের (সিআরএস) মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিবেশী একাধিক দেশসহ বিশ্বের ১২০টির বেশি দেশ ও তাদের দেশের বাইরে অবস্থানরত নাগরিকদের সব ধরনের ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবীক্ষণ করছে। যা দেশগুলোকে তথ্যের লেনদেনের মাধ্যমে একদিকে দেশে-বিদেশে কর ফাঁকি নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব আদায় এবং অন্যদিকে অর্থপাচার প্রতিরোধ, চিহ্নিতকরণ, উদ্ধারসহ জবাবদিহি নিশ্চিতের সুযোগকে অবারিত করেছে।
বিদেশি ঋণের বোঝা জনগণের ওপর না চাপিয়ে অর্থপাচার রোধের দাবি টিআইবির
এনটিএমসির প্রথম মহাপরিচালক হলেন মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান
ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের-(এনটিএমসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই সংস্থটির তিনিই প্রথম মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। এর আগে এ পদটি পরিচালক মদমর্যাদার ছিল এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে জিয়াউল হাসান এ দায়িত্বে ছিলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান। বিকালে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এলে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপর দু’জনের মধ্যে কিছুক্ষণ একান্ত আলাপচারিতা শেষে কেক কাটা হয়। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব আখতার হোসেন এবং সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব আব্দুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সৌজন্য সাক্ষাতের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের নানামুখী সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি তার পেশাদারিত্বের ভূয়শী প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে মেজর জেনারেল হিসাবে তিনি আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
২১ জুলাই জিয়াউল আহসানকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থেকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এ সময় তিনি এনটিএমসি’র পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন। পদোন্নতির পর এনটিএমসি’র পরিচালক পদটিকে মহাপরিচালক পদে উন্নীত করা হয়েছে। এনটিএমসি’র প্রথম মহাপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব নিলেন মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান।
জিয়াউল আহসান ২০০৯ সালে মেজর পদে প্রেষণে বদলি হয়ে প্রথমে র্যাব-২ এর উপ-অধিনায়ক পদে নিযুক্ত হন। পরের বছর ২০১০ সালের ২৭ আগস্ট র্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এরপর ২০১৩ সালের ৭ ডিসেম্বর তিনি র্যাব সদর দফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) হিসাবে দায়িত্ব পান। তিনি অসাম্প্রদায়িক এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নেপথ্যে থেকে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি স্কাই ডাইভার এবং কমান্ডো প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসাবে জিয়াউল আহসান দু’বার বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ সম্মানজনক বিপিএম (সাহসিকতা) ও দু’বার পিপিএম (প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক) প্রাপ্ত হন। বাংলাদেশে তিনিই একমাত্র কর্মকর্তা যিনি এককভাবে টানা চারবার পুলিশের সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদক অর্জন করতে সক্ষম হন। জিয়াউল আহসান ১৯৭১ সালের ১ জানুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
রব-মান্নার নেতৃত্বে সাত দলের রাজনৈতিক জোট ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’; পাঁচ’টিরই নিবন্ধন নেই ইসিতে
বিএনপিকে বাদ দিয়ে এবার সরকার পতনের জন্য নতুন একটি জোট গঠন করা হয়েছে। ৭টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত এই জোটের বেশির ভাগেরই নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন নেই। এই জোটের নাম দেয়া হয়েছে “গণতন্ত্র মঞ্চ।” নেতৃত্বে রয়েছেন আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, রেজা কিবরিয়া, জোনায়েদ সাকি।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসর“ল হামিদ মিলনায়তনে নতুন এই জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
গণতন্ত্র মঞ্চের দলগুলো হলো- আ স ম রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি, মাহমুদুর রহমান মান্নার, নাগরিক ঐক্য, সাইফুল হকের, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জোনায়েদ সাকির গণসংহতি আন্দোলন, রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নূরের গণ অধিকার পরিষদ, রফিকুল ইসলাম বাবলুর ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুমের রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।
সাতটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন আছে আ স ম রবের জেএসডি এবং সাইফুল হকের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির। বাকিগুলোর নিবন্ধন নেই।
জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে গণতন্ত্র মঞ্চের আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। এতে জোটের রূপরেখাও ঘোষণা করা হয়।
এ সময় আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘আমরা প্রকাশ্যে জনতার সামনে কথা বলি। আমরা ষড়যন্ত্র করি না। ষড়যন্ত্র করে সরকার। অবৈধ সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে ষড়যন্ত্র করছে।’ তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র নয়, প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েই সরকারবিরোধী আন্দোলনে যাবে ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারবিরোধী লড়াই-সংগ্রামের বিকল্প নেই। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে আগামী দিনের সংগ্রামে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, গণ-অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরীয়া, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বাবলু ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম প্রমুখ উপ¯ি’ত ছিলেন।
এ সময় দেশে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদের আগামী ১১ই ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে নতুন এই জোট। জোটের রূপরেখায় বলা হয় – আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা এবং অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করতে হবে এবং একটি রাজনৈতিক ঐক্যমতের ভিত্তিতে গঠিত অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
আরও বলা হয়, রাষ্ট্রের তিন অঙ্গ- সংসদ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা ও সরকারের জবাবদিহিতার কার্যকরী ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কার। একইসাথে ফেডারেল পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা বিষয়ে আলোচনার জন্য জাতীয় কমিশন গঠন।’
‘বিচার বিভাগের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, নিম্ন আদালতকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে তার পরিচালনা ও তদারকি উচ্চ আদালতের হাতে ন্যস্ত করা, প্রধান বিচারপতিসহ বিচারক নিয়োগ ও পদোন্নতির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের’ কথাও বলা হয় জোটের রূপরেখায়।
এছাড়াও, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা; মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের নীতিতে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের জীবন ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানস ও অর্থনীতির টেকসই প্রকৃতিবান্ধব ভিত্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সকল জনগণের জন্য সমান সুযোগের নিশ্চয়তা তৈরি’ বিষয়েও উল্লেখ করা হয়েছে। এই জোটে বিএনপিকে অর্ন্তভ’ক্ত করা হবে কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন কেউ আসতে চাইলে আমরা আপত্তি জানাব না। কারণ সবার উদ্দেশ্য সরকারের পতন।
বাসভাড়া বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি
জ্বালানি তেলে মূল্যবৃদ্ধির পর ডিজেল চালিত বাস ও মিনিবাসের সর্বোচ্চ ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার । সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সড়ক পরিবহন আইন- ২০১৮ এর ৩৪ (২) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ প্রজ্ঞাপন জারি করে।
রোববার (৭ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব মো. মনিরুল আলম ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।
জ্বালানি তেলে মূল্যবৃদ্ধির পর ডিজেল চালিত বাস ও মিনিবাসের সর্বোচ্চ ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। রোববার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব মো. মনিরুল আলম ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।
এতে বলা হয়, আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীপ্রতি সর্বোচ্চ ভাড়া ১ টাকা ৮০ পয়সার জায়গায় ২ টাকা ২০ পয়সা; ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাসের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটার যাত্রীপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ১৫ পয়সার স্থলে ২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন জেলার (নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা) অভ্যন্তরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ০৫ পয়সার স্থলে ২ টাকা ৪০ পয়সা; ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ভাড়া যথাক্রমে ১০ টাকা ও ৮ টাকা নির্ধারিত হলো।
বিআরটিএ কর্তৃক অনুমোদিত আসন সংখ্যা কমিয়ে আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য বাস/মিনিবাসের আসন সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করা হলে উপরিউক্ত অনুচ্ছেদ ক অনুযায়ী আনুপাতিকভাবে ভাড়ার হার নির্ধারিত হবে। সে ক্ষেত্রে রুট পারমিট অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ কিংবা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি থেকে আনুপাতিকভাবে ভাড়ার হার অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।
ভাড়া বৃদ্ধি গ্যাসচালিত মোটরযানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। ডিজেল চালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারণ সংক্রান্ত ইতোপূর্বে জারিকৃত সকল প্রজ্ঞাপন ও আদেশ রহিত করা হলো। ভাড়ার হার প্রতিটি বাস ও মিনিবাসের দৃশ্যমান স্থানে আবশ্যিকভাবে টানিয়ে রাখতে হবে। জনস্বার্থে জারিকৃত এ ভাড়ার হার রোববার থেকে কার্য
জ্বালানি তেলে মূল্যবৃদ্ধির পর ডিজেল চালিত বাস ও মিনিবাসের সর্বোচ্চ ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার । সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সড়ক পরিবহন আইন- ২০১৮ এর ৩৪ (২) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ প্রজ্ঞাপন জারি করে।
রোববার (৭ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব মো. মনিরুল আলম ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।
জ্বালানি তেলে মূল্যবৃদ্ধির পর ডিজেল চালিত বাস ও মিনিবাসের সর্বোচ্চ ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। রোববার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব মো. মনিরুল আলম ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।
এতে বলা হয়, আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীপ্রতি সর্বোচ্চ ভাড়া ১ টাকা ৮০ পয়সার জায়গায় ২ টাকা ২০ পয়সা; ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাসের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটার যাত্রীপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ১৫ পয়সার স্থলে ২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন জেলার (নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা) অভ্যন্তরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ০৫ পয়সার স্থলে ২ টাকা ৪০ পয়সা; ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ভাড়া যথাক্রমে ১০ টাকা ও ৮ টাকা নির্ধারিত হলো।
বিআরটিএ কর্তৃক অনুমোদিত আসন সংখ্যা কমিয়ে আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য বাস/মিনিবাসের আসন সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করা হলে উপরিউক্ত অনুচ্ছেদ ক অনুযায়ী আনুপাতিকভাবে ভাড়ার হার নির্ধারিত হবে। সে ক্ষেত্রে রুট পারমিট অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ কিংবা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি থেকে আনুপাতিকভাবে ভাড়ার হার অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।
ভাড়া বৃদ্ধি গ্যাসচালিত মোটরযানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। ডিজেল চালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারণ সংক্রান্ত ইতোপূর্বে জারিকৃত সকল প্রজ্ঞাপন ও আদেশ রহিত করা হলো। ভাড়ার হার প্রতিটি বাস ও মিনিবাসের দৃশ্যমান স্থানে আবশ্যিকভাবে টানিয়ে রাখতে হবে। জনস্বার্থে জারিকৃত এ ভাড়ার হার রোববার থেকে কার্যকর হবে।
খালাসের পরও ৭ বছর ধরে কনডেম সেলে কাসেম, তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের
খালাস পাওয়ার পরও চট্টগ্রামের একটি হত্যা মামলার আসামি আবুল কাশেমকে কীভাবে সাত বছর ধরে কনডেম সেলে রাখা হল, সে বিষয়ে বিচারিক অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। আগামী ২৫ অগাস্টের মধ্যে হাই কোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত।
এ বিষয়ে এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর হাই কোর্ট বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেয়।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার জানে আলম হত্যা মামলার আসামি আবুল কাশেম জজ আদালতে মৃত্যুদণ্ড পেলেও ২০১৬ সালে হাই কোর্ট থেকে খালাস পান। কিন্তু এখনও তার মুক্তি মেলেনি।
রিট আবেদনের পক্ষে আদালতে শুনানি আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।
আবুল কাশেমের ঘটনা সংবাদমাধ্যমে এলে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বিষয়টি বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতের নজরে আনেন। আদালত কথন তাকে লিখিত আবেদন করতে বলে।
ওই দিনই আবুল কাশেমের মুক্তি চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করা হয়। একইসঙ্গে ঘটনাটির বিচারিক অনুসন্ধানের নির্দেশনা চাওয়া হয় সেই রিট আবেদনে। আবুল কাশেমের ছেলেও রোববার এ বিষয়ে আলাদা একটি আবেদন করেন।
সংবাদমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০২ সালের লোহাগাড়া রাজঘাটা আমির খান চৌধুরী পাড়ায় জানে আলেম হত্যাকাণ্ডের পর মামলা হলে তাতে আবুল কাশেমকেও আসামি করা হয়। ওই মামলায় ২০০৭ সালের ২৪ জুলাই আবুল কাশেমসহ ১২ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং আট জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ওই রায়ের সময় আবুল কাশেম পলাতক ছিলেন।
এরপর ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি করে আবুল কাশেমসহ পাঁচ আসামিকে খালাস দেয়। কিন্তু করণির ভুলের কারণে হাই কোর্টের ওই রায়ে পলাতক আবুল কাশেমের বিষয়টি কার্যকর অংশে অন্তর্ভুক্ত করা ছিল না।
সে কারণে একই বেঞ্চ পরে ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সম্পূরক আদেশে আবুল কাশেমকে খালাস দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে।
অন্য একটি মামলায় ২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই থেকে আবুল কাশেম চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে রয়েছেন।
আইনজীবী শিশির মনির বলেন, “কার কারণে, কী জন্য অথবা কার অবহেলার কারণে খালাস পাওয়ার পরও আবুল কাশেম সাত বছর ধরে কনডেম সেলে বন্দি আছেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে ২৫ অগাস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।” বিডি নিউজ টোয়েন্টি ফোর ডটকম।
ঢাবি’র শিক্ষিকা সামিয়া রহমানের পদাবনতির সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষিকা সামিয়া রহমানকে পদাবনতির আদেশ অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে তাকে সব সুযোগ-সুবিধা ফিরিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি মো. আক্তারুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে সামিয়া রহমানের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।
সামিয়া রহমানের আইনজীবী ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম জানান, গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমানকে পদাবনতি দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সামিয়া রহমানের গবেষণা জালিয়াতি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট, গঠিত ট্রাইব্যুনালের নথিসহ সব কাগজপত্র আদালতে দাখিল করতে বলা হয়। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এ শিক্ষককে সহযোগী অধ্যাপক থেকে এক ধাপ নামিয়ে সহকারী অধ্যাপক করে দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট।
এছাড়া পিএইচডি থিসিসে জালিয়াতির আরেক ঘটনায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক ওমর ফারুককে সহকারী অধ্যাপক থেকে প্রভাষক পদে অবনমন করা হয়েছে। তার ডিগ্রিও বাতিল করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। দুটি ঘটনায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ তিন শিক্ষকের শাস্তি নির্ধারণে দুটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে সামিয়া রহমান ও মারজানের যৌথভাবে লেখা ‘এ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার : এ কেস স্ট্যাডি অব দ্য কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ শিরোনামের আট পৃষ্ঠার একটি গবেষণা প্রবন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সোশ্যাল সায়েন্স রিভিউ’ জার্নালে প্রকাশিত হয়।
এটি ১৯৮২ সালের শিকাগো ইউনিভার্সিটির জার্নাল ‘ক্রিটিক্যাল ইনকোয়ারি’তে প্রকাশিত ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর ‘দ্য সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ নামের একটি নিবন্ধ থেকে প্রায় পাঁচ পৃষ্ঠা হুবহু নকল বলে অভিযোগ ওঠে।
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে এক লিখিত অভিযোগে মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ চুরির কথা জানিয়েছিল ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস।
শুধু মিশেল ফুকোই নন, বুদ্ধিজীবী এডওয়ার্ড সাঈদের ‘কালচার অ্যান্ড ইমপেরিয়ালিজম’ গ্রন্থের পাতার পর পাতাও সামিয়া ও মারজান হুবহু নকল করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরিন আহমেদকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে গতবছর ওই কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ২৯ অক্টোবর তাদের একাডেমিক অপরাধের শাস্তির সুপারিশ করতে আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহকে আহ্বায়ক করে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে শাস্তির বিষয়ে সুপারিশ জমা দিলে সিন্ডিকেটের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন সামিয়া রহমান।
খালাসের পরও কনডেম সেলে ৭ বছর : আবেদন করতে বললেন হাইকোর্ট
একটি হত্যা মামলায় ৭ বছর আগে হাইকোর্ট থেকে খাালাস পেয়েছেন আবুল কাশেম। কিন্তু হাইকোর্টের আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে না পৌঁছায় মুক্তি মিলছে না কাশেমের । ৭ বছর ধরে কারাগারের কনডেম সেলে আটক আছেন তিনি। এ নিয়ে একটি অনলাইনে খবর প্রকাশ হলে একজন আইনজীবী তা আদালতের দৃষ্টিতে আনেন। আদালত বিষয়টি আবেদন হিসেবে দাখিল করার কথা বলেন এবং তা দেখা হবে বলে জানান।
এ বিষয়ে অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
আদালত আইনজীবীকে বলেন, আপনি আবেদন নিয়ে আসুন আমরা বিষয়টি দেখব। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।
বুধবার ৩ আগস্ট ‘বিনা দোষে কারাগারে কনডেম সেলে ৭ বছর!’ এ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজ পোর্টাল বাংলা নিউজ। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, লোহাগাড়া থানার জানে আলম হত্যা মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন আবুল কাশেম। তার খালাস পাওয়ার আদেশ যথাসময়েই উচ্চ আদালত থেকে পৌঁছেছে অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে।
কিন্তু আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছেনি ৭ বছর ৩ মাস ১১ দিনও। একটি মামলায় ২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালত হাজিরা দিতে এলে আবুল কাশেমকে শোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়। সেই দিন থেকে কারাগারের কনডেম সেলে আছেন আবুল কাশেম। আবুল কাশেম, লোহাগাড়া থানার আমিরাবাদ ইউনিয়নের রাজঘাটা আমিরখান চৌধুরী পাড়ার বেলায়েত আলীর ছেলে।
আদালত সূত্র জানা যায়, ২০০২ সালের ৩০ মার্চ রাজঘাটা আমিরখান চৌধুরী পাড়ায় জানে আলেম হত্যা মামলার আসামি ছিলেন আবুল কাশেম। লোহাগাড়া থানার মামলা নম্বর ২১ (৩১.০৩.২০০২) ও দায়রা নম্বর ৩০৮/২০০৪। ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালত ২০০৭ সালের ২৪ জুলাই আবুল কাশেমসহ ১২ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৮ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন । হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স শুনানি (নম্বর ৫৪/২০০৭) হয় ২০১৩ সালের ১১ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি । বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও শহীদুল করিমের বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষে আসামি আবুল কাশেমকে খালাস দেন।
ইউজিসির জালিয়াতি, ৪৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিবেদন ‘টেবিলে বসে বানানো’: সংসদীয় কমিটির অসন্তোষ
শিক্ষার মান, গবেষণা এবং অবকাঠামোসহ ৪৬টি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন- ইউজিসির দেওয়া প্রতিবেদনকে ‘মনগড়া’ অভিহিত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলমান এসব প্রকল্পের সব কটিতেই ভৌত এবং আর্থিক অগ্রগতি সমান দেখিয়ে ওই প্রতিবেদন দেয় সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রক সংস্থা- ইউজিসি।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় কমিটির সদস্যরা আর্থিক ও ভৌত অগ্রগতি সমান হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা অভিমত দেন, ব্যতিক্রম দু’একটির ক্ষেত্রে অগ্রগতি সমান হলেও সবগুলোর ক্ষেত্রে এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
বাস্তবতার ভিত্তিতে প্রতিবেদন না করে টেবিলে বসে তৈরি করা বলে এমন হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি আব্দুস শহীদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি একই হওয়ার বিষয়টি ইউজিসির কাছে জানতে চেয়েছিলাম। এটা কী করে সম্ভব হল, তারা সেটা জানাতে পারেনি।
“তারা কোনো জবাব দিতে পারেনি। তাদের কর্মকাণ্ডে গাফিলতি রয়েছে বলে আমাদের মনে হয়েছে। আর এই কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ডগুলো গতিশীল হচ্ছে না।”
বৈঠকের কার্যপত্রে দেখা যায়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নয়নে ৪৬টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে ২৫ শতাংশের নিচে রয়েছে ৮টি, ৫০ শতাংশের নিচে ১৬টি এবং ৫১ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে ২২টি।
বৈঠকে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প সময়মত শেষ না করে বার বার সময় ও ব্যয় বাড়ানোর বিষয়টি নিয়েও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সংসদীয় কমিটি। এক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালকদের যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
বাস্তবায়নে সফলতা না থাকলেও বিভিন্ন প্রকল্পে বিদেশ যাওয়া এবং গাড়ি কেনার প্রবণতার বিষয়টিও উঠে আসে বৈঠকে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুস শহীদ বলেন, “সার্বিকভাবে আমাদের মনে হয়েছে সব প্রকল্পগুলোর প্রকল্প পরিচালকদের যোগ্যতা নিরূপণ করে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে না।
“আমরা একটি বিষয় খুব বেশি দেখি, সেটা হল প্রকল্প হলেই গাড়ি কেনার দিকে ঝোঁক বেশি থাকে। বাস্তব কোনো অগ্রগতি নেই। কিন্তু আর্থিক ব্যয় বেশি।”
কমিটি যথাসময়ে প্রকল্প শেষ করতে বলেছে উল্লেখ করে সাবেক এই প্রধান হুইপ বলেন, “আমরা বলেছি, যথা সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার কারণে সরকারের যে আর্থিক ক্ষতি ও অর্থের ওপর চাপ পড়ে তার দায় কে নেবে? “এজন্য আমরা ব্যর্থতার জন্য দায়ীদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুশাসন দিয়েছি।” বৈঠকের কার্যপত্রে দেখা যায়- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি দুটোই সমান, ২২ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৭২ দশমিক ৩৬ শতাংশ। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৫২ দশমিক ৬৫ শতাংশ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ০ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৫৬ দশমিক ৮২ শতাংশ। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ২৬ দশমিক ০২ শতাংশ।
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৪৭ দশমিক ২৩ শতাংশ। বুয়েটের শিপ মডেল টেস্টিং সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিউইপি) উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৩৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৪২ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ১০ দশমিক ৩৯ শতাংশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৮২ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৩৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৬৩ দশমিক ০৭ শতাংশ।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯৯ দশমিক ০৬ শতাংশ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৩৭ দশমিক ১৬ শতাংশ।
নেত্রকোণায় শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৪৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৪৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ২৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৩৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ২৭ দশমিক ১০ শতাংশ। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৬৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ১৫ দশমিক ৭২ শতাংশ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯০ দশমিক ১৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৫৯ দশমিক ১৭ শতাংশ। বুয়েটের ইনকিউবিটর স্থাপন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৭৮ দশমিক ১৭ শতাংশ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশ। কলেজে এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৩৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে সমীক্ষা প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ২৬ দশমিক ২২ শতাংশ।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৭৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯২ দশমিক ৭১ শতাংশ।
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৬৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের ৫৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৬৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৫০ শতাংশ।
হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। টেক্সটাইল বিষয়ে জার্মান-বাংলাদেশ উচ্চ শিক্ষা বিষয়ক প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৪ দশমিক ০৮ শতাংশ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯৭ দশমিক ২০ শতাংশ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৪৭ দশমিক ২৬ শতাংশ।
এদিকে সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারা কয়েকটি প্রকল্প পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সরকারি কলেজে বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধিতে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে নেয়া প্রকল্পটি গত ৩০ জুন শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পটির এখন পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে ২৬ শতাংশ।
আঞ্চলিক স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের মূল মেয়াদ শেষ হয় গত ৩১ ডিসেম্বর। কিন্তু প্রকল্পের অগ্রগতি ৩ দশমিক ২০ শতাংশ। অবশ্য ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া এ প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
সিলেট ও মৌলভীবাজারে স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের সময়সীমা ছিলো গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু এরও কাজ হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ। এই প্রকল্পটির মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো- ব্যানবেইসের এস্টাবলিশমেন্ট অব ইনটিগ্রেডেট এডুকেশন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রকল্পটির মেয়াদ ছিলে গত ৩০ জুন। কিন্তু এর কাজের অগ্রগতি ৫২ শতাংশ।
ব্যানবেইসের আরেকটি প্রকল্পের মূল মেয়াদ গত এপ্রিলের শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এর বাস্তবায়নের অগ্রগতি ২০ শতাংশ। এই প্রকল্পের আর্থিক ও ভৌত অগ্রগতি দুটোই সমান।
অবশ্য প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ ধরনের আরও কিছু প্রকল্পের তথ্য মঙ্গলবারের সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।
আব্দুস শহীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন, এ বি তাজুল ইসলাম, ফজলে হোসেন বাদশা, আহসান আদেলুর রহমান ও ওয়াসিকা আয়শা খান অংশ নেন। বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
কম তেল দেয়ায় রাজধানীর সেই পেট্রলপাম্পসহ আরও দুটিকে জরিমানা
মাপে জ্বালানি তেল কম দেয়ার অভিযোগে এক যুবকের প্রতিবাদী অবস্থানের পর রাজধানীর কল্যাণপুরে পেট্রলপাম্প সোহরাব সার্ভিস স্টেশনে অভিযান চালিয়ে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)মঙ্গলবার বিকেলে অভিযান চালায়। এ সময় পেট্রলপাম্পটির দুটি ইউনিটে প্রতি ১০ লিটার ডিজেলে ৪০ মিলিলিটার করে কম দেওয়ায় দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন বিএসটিআইয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জ্বালানি তেল কম দেয়ার অভিযোগে সোমবার এই পেট্রলপাম্পের সামনে সাত ঘণ্টা ধরে অবস্থান করে প্রতিবাদ জানান বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা ইসতিয়াক আহমেদ। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরে এসে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। এরপর অভিযানে নামে বিএসটিআই।
মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযানে দক্ষিণ কল্যাণপুরের খালেক ফিলিং স্টেশনে প্রতি ১০ লিটার ডিজেলে ৫০ মিলি কম, দুটি ইউনিটে অকটেনে যথাক্রমে ৪০ মিলি ও ৩১০ মিলি কম দেয়ায় ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় রহমান ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ইউনিটে প্রতি ১০ লিটারে ৬০ মিলি কম দেয়ায় ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তেলের পরিমাণ কম পাওয়ায় এই তিন ফিলিং স্টেশনের ৬টি ইউনিট সিলগালা করা হয়েছে। বিএসটিআইয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাসিব সরকার।
বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক (সিএম) রিয়াজুল হক বলেন, মাপে তেল কম দেয়ার প্রমাণ পাওয়ায় সোহরাব ফিলিং স্টেশনকে দুই লাখ টাকা ও পার্শ্ববর্তী আরও দুটি ফিলিং স্টেশনকে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরে ইসতিয়াক আহমেদ অভিযোগ জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামানও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনেক দিন ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোয় তেলের মান ও পরিমাণ নিয়ে অভিযোগ আসছে। তাঁরা বিএসটিআইয়ের সঙ্গে কথা বলে সারা দেশে অভিযান পরিচালনা করবেন। সূত্র-প্রথম আলো।
কাবুলে ড্রোন হামলা চালিয়ে আল-কায়দা প্রধান জাওয়াহিরিকে হত্যা করলো যুক্তরাষ্ট্র
আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন আল কায়েদার শীর্ষ নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরি। এ খবর নিশ্চিত করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। রোববার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ পরিচালিত এক ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন। তাকে হত্যার খবর নিশ্চিত করে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, জাওয়াহিরির বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের হত্যা ও সহিংসতার প্রমাণ রয়েছে। এখন ন্যায় বিচার হয়েছে এবং এই সন্ত্রাসী নেতা আর নেই। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে জানানো হয়, জাওয়াহিরি মূলত তার একটি সেফ হাউজে পালিয়ে ছিলেন এবং সেখানে হামলা চালিয়েই তাকে হত্যা করা হয়। তাকে টার্গেট করে পরপর দুটি মিসাইল চালানো হয়। এতে তার বাড়ির বারান্দা ধ্বংস হয়ে যায়। হামলার সময় তিনি বারান্দায় অবস্থান করছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, হামলার সময় জাওয়াহিরির পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সে বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু তাদের কোন ক্ষতি হয়নি।
প্রেসিডেন্ট বাইডেন জানিয়েছেন, ৭১ বছর বয়সী জাওয়াহিরিকে হত্যার জন্য হামলা করতে তিনি অনুমোদন দিয়েছিলেন। এজন্য কয়েকমাস ধরে পরিকল্পনা করা হয়। জাওয়াহিরিকে হত্যার মধ্য দিয়ে ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে হামলায় নিহতদের পরিবার বিচার পেলো। বাইডেন আরও বলেন, তাকে হত্যা করতে কত বছর লেগেছে সেটা বড় বিষয় নয়, কোথায় লুকিয়ে ছিল সেটাও কোন ব্যাপার নয়। কিন্তু কেউ যদি মার্কিন জনগণের জন্য হুমকি হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাকে খুঁজে বের করবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার সময় তালেবানের তরফ থেকেও জানানো হয়েছে যে, কাবুলের একটি আবাসিক এলাকায় মার্কিন ড্রোন হামলা হয়েছে। ি এই আক্রমণকে আন্তর্জাতিক নীতির পরিষ্কার লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে তালেবান।
আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন এবং আল-জাওয়াহিরি এক সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের টুইন টাওয়ারে আক্রমণের পেছনেও দুজনেরই হাত ছিল। বিবিসি জানিয়েছে, আল-জাওয়াহিরি মিশরের ‘ইসলামি জিহাদ’ নামক জঙ্গি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে আল-কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে। এরপর থেকে আয়মান আল-জাওয়াহিরি আল-কায়েদার প্রধান হন। তার আগে আল-জাওয়াহিরিকে ওসামা বিন লাদেনের ডান হাত আর আল-কায়েদার মূল চিন্তাবিদ বলে গণ্য করা হত।
এদিকে আল-জাজিরার খবরে জানানো হয়েছে, আল-জাওয়াহিরিকে আশ্রয় দেয়ায় তালেবানকে দায়ি করছে যুক্তরাষ্ট্র। তালেবান চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করে একটি বিবৃতি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। তিনি বলেন, দোহায় তালেবানের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বিশ্বকে তালেবান বারবার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা লঙ্ঘন করা হয়েছে। তারা বলেছিল, আফগানিস্তানে কোনো সন্ত্রাসীকে তারা আশ্রয় দেবে না।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ওয়াশিংটন এবং তালেবান একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি অনুযায়ীই আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। অপরদিকে তালেবান প্রতিশ্রুতি দেয় তারা আল-কায়দা ও ইসলামিক স্টেটের মতো জিহাদি গোষ্ঠীগুলোকে আফগানিস্তানের মাটিতে আশ্রয় দেবে না। তালেবানের আশ্বাস পেয়ে ২০২১ সালের ৩১শে আগস্ট দেশটি ছেড়ে আসে বিদেশী সেনারা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আল-কায়দাকে আফগানিস্তানের মাটিতে আশ্রয় দিয়ে তালেবান শুধু আফগান জনগণকেই ঠকায়নি, তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে নিজেদের স্বীকৃতি আদায়কেও হুমকিতে ফেলেছে।










