প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পারস্পরিক স্বার্থে উজবেকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে উজবেকিস্তানে সার কারখানা স্থাপন করতে আগ্রহী এবং উজবেকিস্তান বাংলাদেশে তার দূতাবাস স্থাপনের আশা করছে।
বিনিয়োগ ও বৈদেশিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং উজবেকিস্তান প্রজাতন্ত্রের বিনিয়োগ ও বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রী জামশিদ আবদুরাখিমোভিচ খোদজায়েভ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তান উভয় দেশের পারস্পরিক সুবিধার্থে বিভিন্ন ক্ষেত্র অন্বেষণ করতে একসঙ্গে কাজ করা উচিত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ ও প্রাণবন্ত জনশক্তিকে পুঁজি করে সারাদেশে ১শ’টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ উজবেকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭৩ সালে উজবেকিস্তানের তাসখন্দ সফরের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেই সফর দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করেছে এবং বছরের পর বছর তা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
সরকার প্রধান বলেন, স্থানীয় বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করার জন্য বাংলাদেশ কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও শিল্পায়নের ওপর জোর দিচ্ছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ সব দেশের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে এবং এর জন্য জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশ্ব সংকটের মধ্যে বাংলাদেশ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে।
উজবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
খোদজায়েভ বলেন, ‘বাংলাদেশ উজবেকিস্তানের সম্ভাবনাময় অংশীদার এবং আমরা এটিকে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপান্তর করতে চাই।’ তিনি বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।
উজবেক উপপ্রধানমন্ত্রী বলেন, উজবেকিস্তান সিআইএস (কমনওয়েলথ ইন্ডিপেনডেন্ট স্টেটস) দেশগুলোর একটি ভাল কেন্দ্র কারণ, এখানে ব্যবসা বাণিজ্য বিকাশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি ফার্মাসিউটিক্যালস ও আইসিটি খাতে বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন।
সফররত উজবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি এবং কৃষি খাতের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তারা ঢাকায় উজবেক দূতাবাস স্থাপনের আশা করছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ধরনের সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
জামশিদ আবদুরাখিমোভিচ খোদজায়েভ শেখ হাসিনাকে উজবেক প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিওয়েভের শুভেচ্ছা জানান।
শেখ হাসিনা উজবেক প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিয়েভকেও শুভেচ্ছা জানান এবং তাকে তার সুবিধামত সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে, উভয় পক্ষ দ্বৈত কর পরিহারের জন্য কাজ করতে সম্মত হয়েছে।
এ সময় উজবেকের বিনিয়োগ ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী লাজিজ কুদ্রাতভ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন উপমন্ত্রী জাসুরবেক চোরিয়েভ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।বাসস।
উজবেকিস্তানে যৌথ উদ্যোগে সার কারখানা করতে চায় বাংলাদেশ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উজবেক উপ-প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত
প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার নিযুক্ত
বর্তমানে ভিয়েতনামে কর্মরত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার নিযুক্ত হয়েছেন।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) এক বিবৃতিতে জানায়, ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (আইএফএস)-এর ১৯৯৪ ব্যাচের কর্মকর্তা ভার্মা বাংলাদেশে ভারতের বর্তমান হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর স্থলাভিষিক্ত হবেন।
ভার্মা এর আগে এমইএ-তে পূর্ব এশিয়া ডিভিশনের মহাপরিচালক (ডিজি) এবং ডিপার্টমেন্ট অব এটমিক এনার্জি ডিপার্টমেন্টে এক্সটারনাল রিলেশনশিপ-এর ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শিগগিরই দায়িত্ব গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে ভারতের বর্তমান হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী যুক্তরাজ্যে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হতে চলেছেন।
যুক্তরাজ্যে বর্তমান ভারতীয় হাইকমিশনার গায়ত্রী ইসার কুমার ৩০ জুন চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
বর্তমানে এমইএ-তে অতিরিক্ত সচিব সন্দীপ আর্যকে ভিয়েতনামে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেছে। তিনি ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (আইএফএস) এর ১৯৯৪ ব্যাচের কর্মকর্তা।
টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে আইন সচিবের শ্রদ্ধা
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার। শুক্রবার (২৯ জুলাই)সড়ক পথে বেলা ১২টা ২০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ বেদীতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানান। এসময় কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় আইন সচিবের সঙ্গে ছিলেন গোপালগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ অমিত কুমার দে, জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা, আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব ড. শেখ গোলাম মাহবুব, শেখ হুমায়ুন কবীর, ড. একেএম এমদাদুল হক, এস. মোহাম্মদ আলী ও আবু সালেহ মো.সালাউদ্দিন খাঁ,উপসলিসিটর কাজী শহিদুল ইসলাম ও নুসরাত জাহান। এছাড়া সচিবের একান্ত সচিব এসএম মাসুদ পারভেজসহ বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহিদ সদস্যদের রুহের মগফিরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার। এর আগে বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্সে রক্ষিত পরিদর্শন বইতেও স্বাক্ষর করেন তিনি।
২৮ জুলাই তিনি আইন ও বিচার বিভাগের সচিব পদে যোগদান করেন। এর আগে একই বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি।
শুধু রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর না থেকে রপ্তানি বাণিজ্যের প্রতি গুরুত্ব দিতে পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেবল রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর না করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য রপ্তানির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল নয়, রপ্তানী নির্ভর বিদেশি মুদ্রা অর্জনের দিকে আমাদের আরো বেশি মনযোগ দিতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী পণ্যের বহুমুখীকরণের মাধ্যমে দেশের রপ্তানী বাস্কেটকে আরো সমৃদ্ধ করতে এবং বিদেশে নতুন বাজার খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সেন্টেনিয়াল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ সহ দেশের বিভিন্ন উপজেলায় নির্মিত ২৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
তিনি গণভবন থেকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের পণ্য যাতে বিদেশে রপ্তানী হয় সেজন্য পণ্যের বহুমুখীকরণ করা এবং পণ্যের জন্য নতুন নতুন বাজার আমাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে। যেখানে যে পণ্যের চাহিদা সেই ধরনের পণ্য বাংলাদেশে উৎপাদনের মাধ্যমে রপ্তানী করেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পদক্ষেপ আমরা নেব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটা কথা সবসময় মাথায় রাখতে হবে, পরনির্ভরশীলতা আমাদের কমাতে হবে এবং নিজেদের পায়ে নিজেরা যেন দাঁড়াতে পারি সে ব্যবস্থাটাই করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিষয়ে নানা রকম মন্তব্য ও গুজবের বিষয়েও কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এটা একটু কম-বেশি হবেই। কিন্তু আমাদের নানা লোকজন রয়েছে যারা এটা নিয়ে নানারকম মন্তব্য এবং গুজব করে বেড়ায়।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের ৩ মাসের খাদ্য কেনার যে রিজার্ভ সেটা থাকলেই যথেষ্ট। তবে ভোগ্যপণ্য এবং খাদ্যপণ্যে পরনির্ভরশীলতা কমাতে হবে, নিজের দেশে উৎপাদন বাড়াতে হবে।’
সরকার প্রধান বলেন, আমাদের যে উর্বর জমি ও জনসংখ্যা রয়েছে তাতে উদ্যোগ নিলে আমরা সেটা করতে পারি। শুধু উৎপাদন নয় খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ আধুনিকীকরণ করতে হবে এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পও ব্যাপকভাবে গড়ে তুলতে হবে। এতে করে দেশের মানুষের জন্য যেমন একটা বাজার তৈরী হবে আবার বিদেশেও আমরা রপ্তানী করতে পারবো।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করতে হয়েছে আমাদের, তারই সাথে শুরু হয়েছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ অর্থহীন। কারণ আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, এই যুদ্ধ শুধুমাত্র যারা অস্ত্র তৈরি করে তারাই লাভবান হচ্ছে, আর সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই যুদ্ধ, শুধু যুদ্ধই না তার সাথে আবার স্যাংশন। এই স্যাংশন, পাল্টা পাল্টি স্যাংশনের ফলে আজকে সারা বিশ্ব অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।’
তিনি আরো বলেন, উন্নত দেশগুলো হিমসিম খাচ্ছে এবং তারা এখন বিদ্যুৎ সাশ্রয়, জ্বালানি সাশ্রয়, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এবং সেকারণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তিনি বলেন, সেখানে আমাদের মতো দেশ, কেবল আমরা উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করেছি। আমরা একটা লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আপ্রাণভাবে, আর তখনই এই ধরনের বাঁধা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।
আমাদেরকে থেমে থাকলে চলবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে জ্বালানি সাশ্রয়ের ব্যাপারে সকল দেশই কিন্তু নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরাও সেটা অনুসরণ করছি।
তিনি বলেন, আমাদের দরকার হচ্ছে একটা দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। কেননা আমাদের যুব সমাজ রয়েছে। এই ক্ষেত্রে আমাদের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে এবং আমরা তা নিচ্ছি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন এবং বিএমইটির মহাপরিচালক মো.শহিদুল আলম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে নবনির্মিত টিটিসিগুলোর ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে চলমান দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রথম পর্যায়ে গৃহীত ‘৪০টি উপজেলায় ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও চট্টগ্রামে ১টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্প ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর একনেকে অনুমোদন হয়। বর্তমানে প্রকল্পটি ১ হাজার ৬৬৭ কোটি ৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ৪০টির মধ্যে ইতোমধ্যে নির্মিত ২৪টি উপজেলায় ২৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আজ প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেন। অবশিষ্ট ১৬টির নির্মাণ কাজও শিগগিরই সম্পন্ন হবে।
২৪টি টিটিসি যেসব উপজেলায় হচ্ছে সেগুলো হলো- গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সেন্টেনিয়াল টিটিসি, রংপুরে পীরগঞ্জ ও গঙ্গাচড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পাবনার সুজানগর, নরসিংদীর মনোহরদী, সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দ, মুন্সিগঞ্জ সদর, দিনাজপুরের খানসামা, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও নগরকান্দায়, খুলনার দিঘলিয়ায়, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে, যশোরের কেশবপুরে, চট্টগ্রামের রাউজান ও সন্দ্বীপে, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও চৌদ্দগ্রামে, গাজীপুরের কাপাসিয়ায়, শেরপুর সদরে, টাঙ্গাইলের কালিহাতী ও নাগরপুরে, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা এবং কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায়।
বিদেশে দক্ষ কর্মী প্রেরণে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে আরো স্কিল সংযোজনের পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যানবাহন চালক হিসেবে যে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে তার সঙ্গে ভারি যানবাহন চালনার বিষয়টিও যুক্ত করতে হবে। এতে করে আরো ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে বলেও আমি মনে করি। তিনি গৃহকর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে বিদেশ গমনেচ্ছুরা যেন সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তা নিশ্চিত করার জন্যও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বিদেশে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে সকল মন্ত্রণালয়কে একযোগে কাজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাসপোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শ্রম বাজার খুঁজবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় সার্টিফিকেট দেবে আর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় মানুষ প্রেরণ করবে। এক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়কে যৌথ ও মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এসব কাজের জন্য প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয় থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়ে একটি কমিটি করে স্ব উদ্যোগে কাজ করারও পরামর্শ দেন তিনি। তাহলে সব কাজগুলো এক জায়গায় বসে সহজেই করা সম্ভব হবে। তিনি এর সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন এবং পর্যটন মন্ত্রণালয়কেও সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন।
সরকার প্রধান এ সময় দালালের খপ্পরে পড়ে সোনার হরিণ ধরতে ভিটে-মাটি বিক্রি করে কেউ যেন আর প্রবাসের পথে পাড়ি না জমান সে জন্য যুব সমাজকে সতর্ক করেন। কারণ, এভাবে গেলে তারা বিপদে পড়ে এবং সরকারের পক্ষ থেকেই তাদের উদ্ধার করতে হয় অথবা ভুমধ্যসাগরে তাদের সলিল সমাধি হয় (অবৈধভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে অভিবাসন খুঁজতে গিয়ে)। এটা দুর্ভাগ্যজনক। প্রয়োজনে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিনি বিদেশে যাবার আহবান জানিয়ে বলেন, এখানে বিনা জামানতেও ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করা রয়েছে।
তাঁর সরকার যে টিটিসি করে দিচ্ছে এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরো দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে বিদেশ গমনেচ্ছুরা যেন যথাযথ প্রশিক্ষণ নেয় তা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে ৪০টি টিটিসি ও ১টি আইএমটি স্থাপিত হলে মোট ১০৪টি টিটিসি এবং ৭টি আইএমটিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং মোট প্রশিক্ষণ প্রদানের সক্ষমতা বছরে ৯ লাখে উন্নীত হবে। তাছাড়া সরকারের প্রায় ২৩টি মন্ত্রণালয় থেকেই কোন না কোনভাবে জনশক্তি প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। তাছাড়া সশ¯্র বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে তারাও রেমিট্রান্স পাঠাচ্ছে। এটাকেও মূল রেমিট্যন্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।
তাঁর সরকার সবসময় বিদেশগামী কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৩ বছরে ৫৫টি নতুন শ্রম বাজার তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। যেখানে বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনামলে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে হয়রানিসহ নানা অভিযোগে অনেক জায়গাতেই শ্রম বাজার কমে আসে। সে সময়কার সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ করে তাঁর সরকার বিদেশগামী শ্রমিকদের হয়রানি অনেকটাই লাঘবে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ সালে জোট সরকারের বিদেশে কর্মী প্রেরণের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৭০২ জন, আর রেমিট্যান্সের পরিমান ছিল ৪ দশমিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেখানে আওয়ামী লীগ সরকার ২০২১-২২ অর্থবছরে তা ৫ গুণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়। এই সময়ে কর্মী প্রেরণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫০৫ জন এবং ২১ দশমিক ০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী এই পরিসংখ্যান তুলে সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা এখন সমালোচনা করেন তাদেরকেই জবাবটা দিতে চাই কারণ, তাহলে আর বিভ্রান্তি ছড়াতে পারবেনা, তাদেরও হিসেবটা জানা উচিত তারা ক্ষমতায় থাকতে কি অবস্থা ছিল দেশে। বাসস।
বিচার বিভাগের সম্মান বাড়লে বাংলাদেশের সম্মান বাড়বে: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বিচার বিভাগের সম্মান বাড়লে বাংলাদেশের সম্মান বাড়বে। আর বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে জনগণ সম্মান দেবে যখন বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের নিজের সম্মান স্থাপন করবে।এক্ষেত্রে তিনি শুধু সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ আয়োজিত এক অনারম্বর অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে একথা বলেন তিনি।অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. গোলাম সারওয়ারকে পূর্ণ সচিব করায় বিভাগের পক্ষ থেকে আইনমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। একই সাথে সচিব মো. গোলাম
সারওয়ারকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।
আইনমন্ত্রী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, অনেক সংগ্রাম ও যুদ্ধ করে আমরা এই বাংলাদেশ পেয়েছি। অনেক মানুষ এই দেশের জন্য জীবন দান করেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।তিনি নিজেও মুক্তিযুদ্ধের সময় দীর্ঘ নয় মাস মা-বাবা ও ভাইকে ছাড়া ছিলেন। তাই এই দেশকে আমাদের রক্ষা করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালে যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন তা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রত্যেক বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর এ স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন ।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা, যুগ্ম সচিব উম্মে কুলসুম, সলিসিটর রুনা নাহিদ, উপসচিব ড. শেখ গোলাম মাহবুব আইনমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। এ সময় আইন ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ওসি শাহজাহানের কোটিপতি স্ত্রীর আয়ের বৈধ উৎস খুঁজে পায়নি দুদক, মামলা দায়ের
চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহানের স্ত্রী ফেরদৌসী আকতার নিজেকে পোলট্রি ও মৎস্য ব্যবসায়ী দাবি করে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) যে সম্পদ বিবরণী জমা দেন তার কোনো কিছুরই সত্যতা পায়নি দুর্নীতিদমন কমিশন,দুদক।। দুদক অনুসন্ধান করে তাঁর এসব ব্যবসার কোনো অস্তিত্ব পায়নি। পরে দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় দেড় কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে শাহজাহান ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. আতিকুল আলম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে বলা হয়, ফেরদৌসী কোটিপতি হয়েছেন স্বামীর ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকায়। নিজের ঘুষের টাকা স্ত্রীকে দিয়ে সম্পদ স্থানান্তরের অভিযোগে আসামি হন শাহজাহান।
এর আগে গত ৫ জানুয়ারি শাহজাহানের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়েছিল। এতে বলা হয়, সম্পদ বিবরণীতে ৪৯ লাখ ৩৯ হাজার ১২৬ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন এবং আয়বহির্ভূত ৭৮ লাখ ১ হাজার ৫২০ টাকার স্থাবর, অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেন তিনি। এটি তদন্তাধীন।
শাহজাহান বর্তমানে চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশে পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। তিনি কুমিল্লা জেলার লালমাই থানার কাতালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে নগরের খুলশী থানার লালখান বাজার হাই লেভেল রোডে স্ত্রীসহ শাহজাহান বসবাস করেন।
দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. আতিকুল আলম জানান, শাহজাহানের স্ত্রী ফেরদৌসীর ১ কোটি ৪৮ লাখ ৪ হাজার ৪১৩ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। যা তিনি মৎস্য ও পোলট্রি ব্যবসা করে আয় করেছেন বলে দাবি করেন। কিন্তু তাঁর এসব ব্যবসার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া অন্য কোনো রেকর্ডপত্র দেখাতে পারেননি। সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী হিসেবে ব্যবসা করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র, মৎস্য এবং পোলট্রি খামারে মিটার সংযোগ থেকে শুরু থেকে যাবতীয় কাগজ, পরিবেশ ছাড়পত্র, খামারের লেনদেন–সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাব, মালামাল কেনাবেচার ভাউচার—কিছুই পাওয়া যায়নি। স্বামী শাহজাহানের ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করে ভোগ দখলে রাখতে পোলট্রি ও মৎস্য ব্যবসায়ী বানিয়ে ভুয়া আয় দেখান।
গোপনে বিদেশ যাওয়ায় ফেঁসে গেলেন দুদক উপ-পরিচালক
অনুমতি ছাড়া বিদেশ গিয়ে ফেঁসে গেলেন দুর্নীতি দমন কমিশন,দুদকের এক কর্মকর্তা। শাস্তি হিসেবে তাকে দুদক থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই কর্মকর্তার নাম ইমরুল কায়েস। তিনি প্রশাসন ক্যাডারের সহকারী সচিব। দুদকে ডেপুটেশনে এসছিলেন উপ-পরিচালক হয়ে। তাকে দেয়া হয়েছিল দুদকের গুরুত্বপূর্ণ যাচাই বাছাই কমিটিতে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ইমরুল কায়েস গত ২৯ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ১০ থেকে ১৮ মে’র মধ্যে ব্যক্তিগত সফরে ভারত যাওয়ার অনুমতি নেন। কিন্তু তিনি সে সময় যাননি। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি আদেশ তৈরি করে চলতি মাসে ভারত ভ্রমণ করেন। অনেকটা গোপনে তিনি ভারত ভ্রমন করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে টনক নড়ে দুদকের। ঘটনার সত্যতা মেলায় এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ করে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করায় তাকে দুদক থেকে প্রত্যাহার করার জন্য জনপ্রশাসন বিভাগকে জানায় দুদক। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দুদক থেকে ফেরত নেয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি আদেশ অমান্য করে অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ করায় তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিবিধি অনুসারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমাদের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে জনপ্রশাসনে ফেরত পাঠানো হয়েছে। জনপ্রশাসন বিভাগের উপ-সচিব আবু ফতেহ মোহাম্মদ সফিকুল ইসলামের সই করা এক আদেশে তার প্রত্যাহারের বিষয়টি জানা গেছে। আদেশে ইমরুল কায়েসকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি অনুবিভাগে ন্যস্ত করার কথা বলা হয়েছে।
এবার মনস্তাত্ত্বিক সমস্যার কথা বললেন সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, আমাদের মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা আছে, আমি নির্বাচন করবো এবং আমাকে জিততেই হবে। হারতে যে হতে পারে, এটা কিন্তু কেউ মেনে নিচ্ছে না। মনস্তাত্ত্বিক দৈন আমাদের মধ্যে আছে। তাই সহনশীলতা যদি জাগ্রত করা না যায় তাহলে সংকট থেকে যাবে।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ভবনে গণফোরামের সঙ্গে সংলাপে তিনি একথা বলেন।
সিইসি বলেন, গতকাল ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে একটা ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন হাড্ডাহাড্ডি যখন হয়, তখন ভোটের শেষে মারামারিটা হয়। কালকে একটা বাচ্চা মারা গেছে। বিষয়টি জানতে রাত ১০টা-১১টার দিকে ডিসি-এসপিকে ফোন করেছি। নির্বাচনটা শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং মেম্বার প্রার্থী হামলা করে বসলো।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, রাজনীতি আপনারা নিয়ন্ত্রণ করেন। রাজনীতির সংস্কৃতি ধারণ করা, লালন করা আপনাদের দায়িত্ব। আপনাদের দায়িত্ব অনেক বড়। আপনাদের কাছে ছোট কিন্তু আমাদের কাছে অনেক বড়। আপনাদের বক্তব্য শুনেছি। চিন্তা-ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেবো।
তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, সঠিক, সুস্থ, অংশগ্রহণমূলক এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। আমরা আমাদের দায়িত্ব বলতে চাচ্ছি না। আমরা রাজনৈতিক নেতৃত্বে নেই এবং প্রশাসনিক সংগঠন। আমাদের কাজ হবে নির্বাচনে যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার স্বাধীনভাবে প্রয়োগ করতে হবে, এই ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করবো সর্বাত্মক।
গণফোরামের নির্বাহী সদস্য মোকাব্বির খানের নেতৃত্বে সংলাপে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল, অন্য চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নোয়াখালীতে গৃহবধূকে নির্যাতনকারী সেই গ্রাম পুলিশ আটক
নোয়াখালী সদর উপজেলায় বাড়িতে ঢুকে গৃহবধূকে পিটিয়ে আহত করা সেই গ্রাম পুলিশ নুর হোসেনকে (৩০) আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।
নুর হোসেন সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ এবং কালাদরাপ গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। এর আগে, বুধবার রাতে ৫৫ সেকেন্ডের মারধরের ওই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, গ্রাম পুলিশ নূর হোসেন ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূকে একটি লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। এ সময় পাশে তার ছেলে শিশু কান্না করছিল। একপর্যায়ে নির্যাতিত ওই নারীকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে বাড়ির কয়েকজন নারী।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন নির্যাতিতা ওই গৃহবধূ। পরে বুধবার বিকেলে ওই গ্রাম পুলিশকে শোকজ করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নুর হোসেনকে আটক করে।
জানা গেছে, কালাদরাপ ১নং ওয়ার্ডের ইউনুছের বাড়ির সীমানা নিয়ে পার্শবর্তী সাহাব উদ্দিনের বিরোধ চলছিল। গত ১৯ জুলাই সকালে গ্রাম পুলিশ নুর হোসেন ওই বাড়িতে গিয়ে টিনের সীমানাটি ৪ হাত উত্তরে সরিয়ে ফেলতে চাইলে তাতে বাধা দেন ভুক্তভোগী নারী। এ সময় নূর হোসেন তাকে প্রথমে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও পরে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে অসুস্থ্য অবস্থায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ২০ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত চিকিৎসা নেন ওই গৃহবধূ।
মানবতাবিরোধী অপরাধে খুলনার ৬ রাজাকারের মৃত্যুদন্ড
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খুলনা বটিয়াঘাটার রাজাকার আমজাদ হোসেন হাওলাদারসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার অপর পাঁচ আসামি হলেন- সহর আলী সরদার, আতিয়ার রহমান, মোতাছিম বিল্লাহ, কামাল উদ্দিন গোলদার ও নজরুল ইসলাম। এদের মধ্যে নজরুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। প্রথমে এ মামলার আসামি ছিলেন আটজন। গ্রেপ্তারের পর দুই আসামি মোজাহার আলী শেখ ও আশরাফ শেখ অসুস্থ অবস্থায় মারা যান।
এর আগে, ২২ মে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
আসামিদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। মামলায় ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর মামলার তদন্ত শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৮ আগষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে ১ হাজার ২৭ পাতার প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, আমজাদ হোসেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে কনভেনশন মুসলিম লীগ এবং পরে জামাতের সমর্থক ছিলেন। অপর ছয় আসামিও একই সময়ে কনভেনশন মুসলিম লীগ এবং জামাতের সমর্থক ছিলেন।











