ঢাকা   বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩   রাত ১০:৪৯ 

Home Blog Page 24

পাকিস্তানে সেনাবাহিনীকে কটাক্ষ করায় মারধর ও লাঞ্ছনা বর্ষীয়ান সাংবাদিককে

0

পাকিস্তানের সেনা কর্তারা আসলে ‘ব্যবসায়ী’। এমনই কটাক্ষ করার জন্য দেশটির জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আয়াজ আমিরকে রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে মারধর করেছে অজ্ঞাতরা। মারধর করার পাশাপাশি ছিঁড়ে দেয়া হয় তার পোশাক। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তাঁর মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে পাকিস্তানে কীভাবে ফ্যাসিজম চরম আকার ধারণ করেছে।
গত বৃহস্পতিবার একটি সেমিনারে অংশ নিয়েছিলেন ওই সাংবাদিক। সেখানেই এমন মন্তব্য করেন তিনি। পাকিস্তানের সেনাকর্তাদের ‘ব্যবসায়ী’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া দীর্ঘ ৬ বছর ধরেই পদে রয়েছেন। এবং এরপরও তিনি ‘এক্সটেনশনে’র অপেক্ষায় রয়েছেন।
এরপরই বিতর্ক চরমে ওঠে। আর তার জেরেই হামলার সম্মুখীন হতে হয় আমিরকে। তিনি জানিয়েছেন, আততায়ীদের মুখে কাপড় বাঁধা ছিল। তারা তাঁকে গাড়ি থামাতে বাধ্য করেন। তারপর গাড়ি থেকে বের করে এনে বেধড়ক মারধর করেন। ছিঁড়ে দেয়া হয় তাঁর পোশাক। পাশাপাশি তাঁর ফোন, ওয়ালেটও ছিনিয়ে নেয় তারা। রাস্তায় ততক্ষণে ভিড় জমতে শুরু করেছে। বেগতিক দেখে দ্রুত সেখান থেকে চম্পট দেয় আততায়ীরা।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন ইমরান খান। তিনি জানিয়েছেন, ”আমি কড়া ভাষায় এই ধরনের হামলার নিন্দা করছি। পাকিস্তান অত্যন্ত খারাপ ধরনের ফ্যাসিজমের মধ্যে দিয়ে চলেছে। সাংবাদিক, বিরোধী রাজনীতিক ও আমজনতার বিরুদ্ধে এফআইআর হচ্ছে।
তবে ইমরান আমিরের পাশে দাঁড়ালেও বৃহস্পতিবারের সভায় কিন্তু আমির আগের সরকারকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ইমরান সরকারের ভুলের কারণেই এপ্রিলে সরকার পড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্য়মন্ত্রী হামজা শেহবাজ তদন্তের নির্দেশ দিলেও এখনও পর্যন্ত কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি। ডন/সংবাদ প্রতিদিন।

ভিসা থাকলে ৩ মাসের মধ্যে ভারতে পুনরায় প্রবেশ করা যাবে না খবরটি ভিত্তিহীন

0

মাল্টিপোল এন্ট্রি ভিসাধারী বাংলাদেশি নাগরিকদের পেট্রাপোল দিয়ে তিন মাসের মধ্যে ভারতে পুনরায় প্রবেশ করা যাবে না বলে যে খবর বেরিয়েছে, তা ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন। রোববার (৩ জুলাই) ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন এক বার্তায় এ তথ্য জানায়।
এতে উল্লেখ করা হয়, সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু প্রতিবেদন মিথ্যা দাবি করছে যে মাল্টিপোল এন্ট্রি ভিসাধারী বাংলাদেশি নাগরিকদের পেট্রাপোল দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না যদি তাদের পূর্ববর্তী ভারত সফর তাদের বর্তমান ভ্রমণের আগের তিন মাসের মধ্যে হয়। ভারতীয় হাইকমিশন স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মাল্টিপোল এন্ট্রি ভিসাধারী বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে সড়ক, রেল বা আকাশপথে ভারতে প্রবেশ-সংক্রান্ত নিয়মনীতিতে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। বাংলাদেশি বন্ধুদের সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ধরনের মিথ্যা পোস্ট এড়িয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

ট্যাক্স ল’ ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি সোহরাব উদ্দিন, মহাসচিব খোরশেদ আলম

0

অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিনকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট মো. খোরশেদ আলমকে মহাসচিব করে আগামী তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের(বিটিএলএ) কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে এই সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন কমিশনার ও ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ মল্লিক, বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব ও ও ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু আমজাদ, ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জাকারিয়া খান স্বপন । এছাড়াও সভায় দেশের সকল ট্যাক্সেস বার থেকে আগত বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় নতুন আয়কর আইনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আদলে একটি ট্যাক্স কাউন্সিল গঠনের উপর জোর দাবি জানান আইনজীবী নেতারা। বিজ্ঞপ্তি।

সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ শুরু

0

সাপ্তাহিক ছুটি, পবিত্র ঈদুল আজহার সরকার ঘোষিত ছুটি ও অবকাশ মিলিয়ে রোববার থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত এই অবকাশ চলবে।
এ সময়ে হাইকোর্ট বিভাগের ৯টি অবকাশকালীন বেঞ্চে অবকাশকালীন বিচার কার্যক্রম চলবে। এরই মধ্যে সুনির্দিষ্ট বিচারিক এখতিয়ার দিয়ে এসব বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি।অবকাশকালীন বিচারপতিদের তালিকা সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।
একই সময়ে আপিল বিভাগে জরুরি বিষয়াদি নিষ্পত্তির জন্য চেম্বার জজ হিসেবে বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ আগামী ৫ জুলাই, ৬ জুলাই, ১৩ জুলাই এবং ১৮ জুলাই চেম্বার আদালতে বিচারকাজ পরিচালনা করবেন।

৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট পাস

0

বৈশ্বিক মহামারি করোনা (কোভিড-১৯) পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবলা করে চলমান উন্নয়ন বজায় রাখা ও উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য সামনে রেখে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট সংসদে পাস করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ. হ. ম মুস্তফা কামাল গত ৯ জুন জাতীয় সংসদে ‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন’ শ্লোগান সম্বলিত এ বাজেট পেশ করেন।
বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীগণ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মোট ৫৯ টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করেন। এই মঞ্জুরি দাবিগুলো সংসদে কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।
এসব মঞ্জুরি দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে বিরোধীদলের ১৩ জন সংসদ সদস্য মোট ৬৬৪টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং জননিরাপত্তা বিভাগ ৪টি মঞ্জুরী দাবিতে আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করেন। পরে কণ্ঠভোটে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায়।
ছাঁটাই প্রস্তাবে আলোচনা করেন জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, রুস্তম আলী ফরাজী, পনির উদ্দিন আহমেদ, মজিবুল হক, রওশন আরা মান্নান, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বিএনপির হারুনুর রশীদ, মোশাররফ হোসেন, রুমিন ফারহানা, গণফোরামের মোক্কাবির খান এবং স্বতন্ত্র সদস্য রেজাউল করিম বাবলু।
এরপর সংসদ সদস্যগণ টেবিল চাপড়িয়ে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২২ পাসের মাধ্যমে ২০২২- ২৩ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করেন।
এর আগে গতকাল ২৯ জুন সংসদে অর্থ বিল ২০২২ পাসের মাধ্যমে বাজেটের আর্থিক ও কর প্রস্তাব সংক্রান্ত বিধি-বিধান অনুমোদন করা হয়।
এদিকে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেটে পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।
বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ৬৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর বহির্ভূত ১৮ হাজার কোটি টাকা, কর ব্যতিত প্রাপ্তি ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে, যা জিডিপির ৫.৫ শতাংশ। ২০২১-২২অর্থ বছরের বাজেটে ঘাটতি ছিল জিডিপির ৬.২ শতাংশ।
এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক ঋণ থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা আহরণ করা হবে। বৈদেশিক ঋণের মধ্যে ঋণ পরিশোধ খাতে ১৭ হাজার কোটি রাখা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ৩৫ হাজার কোটি টাকা, ব্যাংক বহির্ভূত উৎস থেকে ৪০ হাজার ১ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা সংস্থানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি ৫.৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৭.০৫ শতাংশ; এর মধ্যে মানবসম্পদ খাতে (শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাত) বরাদ্দ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা। ভৌত অবকাঠামো খাতে ২ লাখ ৮৬০ কোটি টাকা বা ২৯.৬২ শতাংশ; যার মধ্যে সার্বিক কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৮৬ হাজার ৭৯৮ কোটি; যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে ৭৯ হাজার ২৬ কোটি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৬ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। সাধারণ সেবা খাতে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২০৮ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২২.৫৯ শতাংশ। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি), বিভিন্ন শিল্পে আর্থিক সহায়তা, ভর্তুকি, রাষ্ট্রায়ত্ত, বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য ব্যয় বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫৩ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৭.৮৪ শতাংশ; সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৮০ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১১.৮৫ শতাংশ; নিট ঋণদান ও অন্যান্য ব্যয় খাতে ৭ হাজার ৪১ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১.০৪ শতাংশ।
বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।বাসস।

শেষ দিনে উত্তপ্ত সংসদ: নির্বাচন নিয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধী দল সদস্যদের তুমুল বিতর্ক

0

শেষ হলো সংসদের বাজেট অধিবেশন। আর শেষ দিনের অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং বিরোধীদলের কয়েকজন সদস্যের তর্ক বিতর্কের মধ্যে দিয়ে। আর এর মধ্যে দিয়ে অনেক দিন পর মনে হলো প্রাণবন্ত একটি সংসদ।
শেষ দিনের অধিবেশনে বিএনপির সংসদ সদস্যরা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি উত্থাপন করলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক স্পষ্ট জানিয়ে দেন এটা আর ফিরে আসবে না। কারণ উচ্চ আদালতের নির্দেশে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে। সরকার আদালতের রায় অমান্য করতে পারে না।
বুধবার বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা চলতি অধিবেশনকে বাজেট অধিবেশন না বলে ‘পদ্মা অধিবেশন’ নামকরণ করাসহ নানা সমালোচনা করে বক্তব্য রেখেছিলেন। অধিবেশনের শেষ দিন বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বাজেট বরাদ্দ নিয়ে রুমিন ফারহানার ছাঁটাই প্রস্তাবের বক্তব্যের জবাব দেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

ওই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা নাকি এখানে (সংসদে) খালেদা জিয়াকে বকাবকি করি। আমরা নাকি পদ্মা সেতু নিয়ে বেশি বেশি কথা বলছি। এটা নাকি ছিল সংসদের কাজ। আমরা এই সংসদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আলাপ করেছি। পদ্মা সেতু অবকোর্স বাংলাদেশের জন্য একটি বিরাট অ্যাচিভমেন্ট। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দেয়ার পরে যদি কোন ঐতিহাসিক তৎপর্যপূর্ণ স্থাপনা হয়ে থাকে, সেটা হচ্ছে পদ্মা সেতু।
পদ্মা সেতুকে স্বাধীনতার পর দেশের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অবকাঠামো উল্লেখ মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পদ্মা সেতু নিয়ে কথা বলবো না কী নিয়ে কথা বলবো? আমরা কি উনার (রুমিন ফারহানা) কাপড়-চোপড় নিয়ে কথা বলবো? আমি তো তা করবো না।’
পরে জননিরাপত্তা বিভাগের বরাদ্দের ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘যুক্তিবিদ্যার সবচেয়ে বড় ফ্যালাসি হচ্ছে যখন কোন যুক্তি থাকে না, তখন ব্যক্তিগত আক্রমণ করা। যখন যুক্তি থাকে না, তখন ব্যক্তিগত আক্রমণ আসে। উনি যুক্তি না পেয়ে আমার পোশাক নিয়ে আলোচনা হবে কিনা, এমন অভব্য বক্তব্য দিয়েছেন, যা আমরা আইনমন্ত্রীর কাছে আশা করি না। প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, সংসদের স্পিকার একজন নারী। এই বক্তব্য পুরো সংসদের জন্য লজ্জার।’
উচ্চ আদালতে জামিন জালিয়াতি প্রসঙ্গ:
উচ্চ আদালতে জামিন জালিয়াতির কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তবে উপযুক্ত বিচার না হওয়ায় একের পর এক জামিন জালিয়াতির ঘটনা ঘটার তথ্য সঠিক নয়। সংসদের প্রশ্নোত্তরে বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, উপযুক্ত বিচার না হওয়ায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতে একের পর এক জামিন জালিয়াতির ঘটনা ঘটছে, এমন তথ্য সঠিক নয়। উচ্চ আদালতে জামিন জালিয়াতির কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের অনভিপ্রেত জামিন জালিয়াতি বন্ধে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করে ফৌজদারি আইনে বিচারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
কাজিম উদ্দিন আহমেদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে কর্মরত নকল নবিশ সংখ্যা ১৬ হাজার ২৪৫ জন। নকল নবিশদের চাকরি রাজস্ব খাতে ন্যস্ত করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। শিগগিরই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হবে।
নির্বাচন নিয়ে সংসদে বিতর্ক :
বাজেটের মঞ্জুরি দাবির উপর আলোচনার সময় নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়েও বিতর্ক হয়। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন। বিএনপির সদস্যরা তুলেছেন নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি। তার জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আদালতের রায়ের বাইরে গিয়ে নির্দলীয় সরকার আনার কোনো সুযোগ নেই।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের এখনও দেড় বছর বাকি থাকলেও নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের পর সেই নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনা চলছে।
বৃহস্পতিবার সংসদে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেটে প্রস্তাবিত দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয় সম্পর্কিত মঞ্জুরি দাবির উপর আলোচনায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বরাদ্দের দাবি নিষ্পত্তির সময় নির্বাচন কমিশনের প্রসঙ্গ আসে।
জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, “সুষ্ঠু ভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা (ইসি) এখন দন্তহীন বাঘ।”

“নির্বাচন কমিশন যত শক্তিশালী হবে তত্ত্বাবধায় সরকারের দাবি তত যৌক্তিকতা হারাবে,” মন্তব্য করে ইসির অধীনে ‘নির্বাচনী পুলিশ’ গঠনের প্রস্তাব করেন শামীম হায়দার।
জাতীয় পার্টির সদস্য রওশন আরা মান্নান বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে কাজ করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।
গত ১০ বছরে নির্বাচন কমিশনের উপর মানুষের ‘অনাস্থা তৈরি হয়েছে’ দাবি করে বিএনপির হারুনুর রশীদ কটাক্ষ করে নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দ অর্থ প্রশাসন ও পুলিশকে দেয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, “এখন নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করে না। নির্বাচন করে প্রশাসন।” সরকারের সদিচ্ছা না থাকলে কোনভাবেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে মন্তব্য করেন বিএনপির হারুন।
ইভিএমের বিরোধিতা করে বলেন, “সাবেক সিইসি নূরুল হুদা এখন বলছেন, ইভিএমে কিছু ত্রুটি আছে। তাহলে তিনি কেন ইভিএমে নির্বাচন করলেন? একজন নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, গোপন কক্ষে থাকা ডাকাত বড় চ্যালেঞ্জ। আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউ ইভিএম চায় না।
“আওয়ামী লীগ এক সময় বলেছিল, আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। এখন বিএনপিকে ছাড়া কি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে? পারবেন না। বিএনপিকে কীভাবে নির্বাচনে আনবেন সেটা বড় চ্যালেঞ্জ। বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে অবশ্যই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হবে। সে জন্য নির্বাচনকালে নিরপেক্ষ সরকার ক্ষমতায় থাকতে হবে।”
বিএনপির রুমিন ফারহানা বলেন, “যখন দেশে নির্বাচন থাকে তখন নির্বাচন কমিশনের প্রশ্ন আসে। যদি নির্বাচন না থাকে, দিনের ভোট রাতে হয়, তখন নির্বাচন কমিশন দিয়ে কী হবে?

“এখন নির্বাচন মল্লযুদ্ধ। সিইসি বলেছেন, ভোটের মাঠে বিএনপিকে জেলেনস্কির মতো মাঠে থাকতে হবে। ভোট কি যুদ্ধ? একজন নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, গোপন বুথে ডাকাত বড় চ্যালেঞ্জ। এই ডাকাত শুধু দলীয় ডাকাত নয়। পুলিশ প্রশাসনও এই ডাকাতি করে। এই ডাকাতির পর যেভাবে পুরস্কৃত করা হয় ভবিষ্যতে ডাকাত আরও বাড়বে।”
রুমিন বলেন, “সাবেক নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীনকে পুরস্কার হিসেবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়। অবসরে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টা আগে তিনি ইউরোপ সফরে যান। সে সফরের অভিজ্ঞতা তিনি অবসর জীবনে কাজে লাগাবেন। এভাবে পুরস্কৃত করতে থাকলে বিনা ভোটে সংসদ গঠন চলতেই থাকবে।”
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সেখানে একজন সংসদ সদস্যকে নির্বাচন কমিশন সামাল দিতে পারেনি। তার হুমকি-ধমকি সহ্য করতে পারেনি। বারবার অনুরোধ করে তাকে এলাকা থেকে সরাতে পারেনি। যে কমিশন একজন সংসদ সদস্যকে সামলাতে পারে না তারা জাতীয় নির্বাচনে তিনশ সংসদ সদস্যকে কীভাবে সামলাবেন?”
বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, “আওয়ামী লীগের একটি পুরনো খেলা আছে। জাতীয় নির্বাচন সামনে থাকলে তার আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো মোটামুটি সুষ্ঠু করা হয়। ২০১৪ সালেও এই খেলা দেখা গেছে।”
জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, “ইভিএমের কোনো দোষ নেই। যারা ইভিএমে প্রভাব খাটায় ব্যালটেও তারা প্রভাব খাটাতে পারে। এ বিষয়টি বন্ধ করতে হবে।”
একই দলের জ্যেষ্ঠ নেতা কাজী ফিরোজ রশীদ নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেন।
তিনি বলেন, “নির্বাচন করে রাজনৈতিক দলগুলো। তারা যদি সুষ্ঠু পরিবেশ করে দিতে না পারে তাহলে নির্বাচন কমিশন ঢাকায় বসে কিছুই করতে পারবে না। সবাই নির্বাচনে জিততে চায়। এখানে কোনো এথিকস মানে না। যেদিকে শক্তি বেশি থাকে, স্থানীয় প্রশাসনও সেদিকে চলে যায়।

“আসলে নির্বাচন কমিশনসহ কোনো কমিশনই স্বাধীন নয়। সব সরকারের আমলেই এটি হয়েছে, এটি চলতেই থাকবে।”
গণফোরামের মোকাব্বির খান বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার মূল কারণ তারা (ইসি) সরকারের আজ্ঞাবহ। চারটি দল শুধু ইভিএমের পক্ষে আর বেশিরভাগই বিপক্ষে। আজ্ঞাবহ না হয়ে নির্বাচন কমিশনকে জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ইভিএম বাদ দিয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।”
বিরোধী সদস্যদের আলোচনার জবাব দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, “বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এখানকার আসনে বসে বলছেন নির্বাচন হয় না। তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে, উনি সংসদে গেলেন কীভাবে? এর জবাব উনি দেবেন।”
বিএনপি আমলে ভোটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ভোট কীভাবে হয়েছে, তা আমরা দেখেছি। ওই সময় কারও ভোট কেন্দ্রে যাওয়া লাগত না, ভোট হয়ে যেত। আজিজ মার্কা নির্বাচন কমিশন তাদের (বিএনপি) ছিল। মাগুরার ভোটের কথাও সবাই জানে। ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি কী করেছে, এগুলো কি উনারা ভুল গেছেন?”
বিএনপির সদস্যদের নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দ ছাঁটাই করে এক টাকা দেওয়ার প্রস্তাবের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, “উনারা বলেছেন এক টাকা দিতে। উনারা পারবেন এক টাকা দিয়ে কোনো নির্বাচন করে দিতে? পারবেন না। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করার জন্য নির্বাচন কমিশনের টাকা লাগবে। নির্বাচন কমিশন তার অর্থ ব্যয়ে পুরোপুরি স্বাধীন।”
অবসরের দুই দিন আগে স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব হেলালুদ্দীনের বিদেশ সফর বিষয়ে রুমিন ফাহানার অভিযোগের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, “বিদেশের আমন্ত্রণে মন্ত্রী মহোদয় এবং সচিব টিম নিয়ে ডেল্টা প্লান বিষয়ে গিয়েছিলেন। তারা সেখান থেকে শিখে এসেছেন। এটা হয়েছে বিদেশি সরকারের ব্যবস্থাপনায়। তখন তিনি সচিব ছিলেন। এখানে কি কোনো অন্যায় আছে? জানি না, উনি কোথা থেকে অন্যায় দেখলেন।”
নির্বাচন কমিশন আইন তৈরির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আনিসুল হক বলেন, “এখন বিএনপির দাবি হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার হতে হবে, তাহলে উনারা ভোটে আসবে। এই সংসদে দাঁড়িয়ে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্ববধায়ক সরকারকে অবৈধ ঘোষণা দিয়েছে। উচ্চ আদালতের এই রায়ের এক সুতাও বাইরে সরকার যাবে না।
“বিএনপি সদস্যরা বার বার বলছেন, তাদেরকে নির্বাচনে আনতে হবে। তারা কি পাকিস্তানে থাকে যে সেখান থেকে ডেকে আনতে হবে? তারা তো বাংলাদেশে থাকে। উনারা নির্বাচন করতে চাইলেই নির্বাচন করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে প্লেইং ফিল্ড দরকার সেটা করা হবে। তার এ পদক্ষেপ হচ্ছে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন। সেটা করা হয়েছে।”
পরে আরেকটি দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ছাঁটাই প্রস্তাব তুলতে গিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে বিএনপির হারুন বলেন, “বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে বলিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ করেছেন।
“বিএনপি নির্বাচনে না এলে নির্বাচন জাতীয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। ফাঁকা মাঠে গোল দেয়াতে কোনো কৃতিত্ব নেই। মাঠে মূল প্লেয়ার দুটা, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। দুই দলকেই মাঠে রাখতে হবে।”

মানবতাবিরোধী অপরাধ: হবিগঞ্জের এক রাজাকারের ফাঁসি, ৩ জনের আমৃত্যু কারাদন্ড

0

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় হত্যা, অপহরণ, নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে শফি উদ্দিন মাওলানা নামের এক আসামিকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মো. জাহেদ মিয়া ওরফে জাহিদ মিয়া, মো. সালেক মিয়া ওরফে সায়েক মিয়া ও তাজুল ইসলাম ওরফে ফোকন নামের তিনজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. আবু আহমেদ জমাদার এবং কে এম হাফিজুল আলম।
এ ছাড়া অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় আরেক আসামি সাব্বির আহমেদকে খালাস দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। আসামিদের মধ্যে শফি উদ্দিন এবং সাব্বির আহমেদ মামলার শুরু থেকেই পলাতক। বাকিরা রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলায় শুনানি করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন। আসামিপক্ষে ছিলেন-আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান ও আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম।
আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে মানুষ হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপরাধের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছিল।
২০১৮ সালের ২১ মার্চ এ মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। পরে ওই তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দিলে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়। অভিযোগ গঠনের পর দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে গত ১৭ মে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করা হয়।

শাহজালালে পাচারের সময় ৬ কোটি টাকা মূল্যমানের ২৩ লাখ সৌদি রিয়াল আটক, পালিয়ে গেলেন যাত্রী

0

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৬ কোটি মূল্যমানের ২২ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশী টাকায় যার পরিমাণ ৬ কোটি টাকা। তবে বিপুল পরিমাণ রিয়ালের মালিককে পাওয়া যায়নি। বুধবার রাতে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের (ঊক ৫৮৫) ফ্লাইটে দুবাই যাওয়ার জন্য চেক ইন করলেও ইমিগ্রেশন না করেই বিমানবন্দর ছেড়ে চলে যাওয়ায় তাকে ধরতে পারেনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে এই যাত্রির নাম মামুন খান বলে জানা গেছে।
ঢাকা কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার (প্রিভেন্টিভ) মোহাম্মদ আবদুস সাদেক জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের চেকিং হচ্ছিল। সে সময় ফ্লাইটের প্যাসেঞ্জার’স হোল্ড ব্যাগেজ স্ক্রিনিং রুমের স্ক্যানিং মেশিনে লাগেজটি স্ক্যান করা হলে মুদ্রা সদৃশ বস্তুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। লাগেজটির মালিককে খোঁজাখুজি করেও পাওয়া যায়নি।
পরে এভিয়েশন সিকিউরিটি ও কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তার সহায়তায় লাগেজটি কাস্টমস হলে এনে অন্যান্য সংস্থার উপস্থিতিতে খোলা হয়। লাগেজে থাকা ৩১টি নতুন শার্টের ভেতরে কাগজের বোর্ডের মধ্যে মুদ্রাগুলো বিশেষ কায়দায় লুকায়িত অবস্থায় রাখা ছিল। জব্দকৃত সৌদি রিয়ালের পরিমাণ ২২ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০, বলেন মোহাম্মদ আবদুস সাদেক।
‘যাত্রীকে খুঁজে না পাওয়ায় লাগেজের সঙ্গে থাকা ট্যাগ থেকে এমিরেটস কাউন্টার, ইমিগ্রেশন ও এভিয়েশন সিকিউরিটির সহায়তায় যাত্রীর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।’
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার এড়াতে লাগেজের মালিক ইমিগ্রেশন কমপ্লিট না করেই এয়ারপোর্ট থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানান ঢাকা কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার। তিনি আরও বলেন, জব্দকৃত বৈদেশিক মুদ্রা ও লাগেজ ট্যাগের সঙ্গে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছে। জব্দকৃত বৈদেশিক মুদ্রা কাস্টমস গুদামে জমা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া কাস্টমস অ্যাক্ট ও বিশেষ ক্ষমতা আইনেও মামুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান মোহাম্মদ আবদুস সাদেক।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের প্রিজন সেল রিসোর্টে পরিণত হয়েছে : হাইকোর্টে দুদক আইনজীবী

0

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বিএসএমএমইউ’র প্রিজন সেল রিসোর্টে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চে ডেসটিনি মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদের চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠনের আবেদনের শুনানিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আইনজীবী খুরশীদ আলম খান শুনানিকালে বলেন, ভিআইপি বন্দিরা কারাগারে গেলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারা চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউ’র প্রিজন সেলে আসেন। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, যেন প্রিজন সেল রিসোর্টে পরিণত হয়েছে। এই চর্চা বন্ধ করতেই হবে।
ডেসটিনির গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় নিম্ন আদালতে ৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কারাগারে থাকা সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদের চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠনে গতকাল আবেদন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে শুনানি নিয়ে আদালত আজ সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদের চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠনে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত ৯ জুন হারুন-অর-রশিদের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। ওইদিন আদালতে হারুনের পক্ষে শুনানি করেন এডভোকেট রবিউল আলম বুদু। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের দায়ে গত ১২ মে ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনকে ১২ বছর কারাদন্ড দেয়া হয়। কিন্তু একই মামলায় কোম্পানির প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদকে চার বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়। ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের’ কথা বিবেচনায় নিয়ে আদালত তার সাজা কমিয়ে দেন বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম এই রায়ে ৪৫ আসামির সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়ার পাশাপাশি ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা জরিমানা করেছেন।
ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির প্রায় ১ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১২ সালের ৩১ জুলাই কলাবাগান থানায় মামলা করেছিল দুদক। ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট অভিযোগ গঠন করে আদালত আসামিদের বিচার শুরুর আদেশ দেন।
২০০০ সালে ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড নামে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি দিয়ে এই গ্রুপের যাত্রা শুরু। পরের বছরে বিমান পরিবহন, আবাসন, মিডিয়া, পাটকল, কোল্ড স্টোরেজ, বনায়নসহ বিভিন্ন খাতে ৩৪টি কোম্পানিতে ডেসটিনির নামে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়। পরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে চার হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠে এ কোম্পানির বিরুদ্ধে। এর মধ্যে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভের নামে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯০১ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল ডেসটিনি। সেখান থেকে ১ হাজার ৮৬১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। তাতে সাড়ে ৮ লাখ বিনিয়োগকারী ক্ষতির মুখে পড়েন।
আইন অনুযায়ী অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের সর্বোচ্চ শাস্তি ১২ বছরের কারাদন্ড। ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমীনকে সেই দন্ডই দেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ২০০ কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে রায়ে।
আর ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট হারুন-অর-রশীদকে চার বছরের কারাদন্ড এবং সাড়ে ৩ কোটি টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। চার বছরের দন্ড এ আইনে সর্বনিম্ন সাজা।

পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়ন্ত্রকারীদের খুঁজতে ৩০ দিনের মধ্যে কমিশন গঠনে নির্দেশ হাইকোর্টের

0

পদ্মা সেতু নির্মাণ চুক্তি নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে কমিশন গঠনের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।
আদেশে ৩০ দিনের মধ্যে কমিশন গঠন করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ২৮ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার বিষয়টি শুনানিকালে আদালত পদ্মা সেতু নিয়ে বিরোধিতাকারীদের খুঁজে বের করতে হবে বলে অভিমত প্রকাশ করেন। শুনানিকালে আদালত বলেন, পদ্মা সেতু জাতীয় সম্পদ, জাতীয় উন্নয়ন। আমাদের অহংকার। জাতীয় স্বার্থে পদ্মা সেতুর বিরোধিতাকারীরা উন্নয়নের বিরুদ্ধে। এ ধরনের জাতীয় স্বার্থ ও উন্নয়নের বিরুদ্ধে যাঁরা জড়িত থাকেন, তারা জাতির ও দেশের শত্রæ। তাদের খুঁজে বের করতে হবে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন ও দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান শুনানিতে ছিলেন।
একটি জাতীয় দৈনিকে ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ইউনূসের বিচার দাবি : আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো একাট্টা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরদিন ওই প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদের কথা উল্লেখ করে এ রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
রুলে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে ‘ইনকোয়ারি অ্যাক্ট ১৯৬৫ (৩ ধারা)’ অনুসারে কমিশন গঠন এবং দোষীদের কেন বিচারের আওতায় আনতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না-তা জানতে চেয়ে স্বপ্রণোদিত রুল জারি করেন হাইকোর্ট। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র, আইন ও যোগাযোগ সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এবং আইজিপি’কে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। পাশাপাশি এ কমিটি বা কমিশন গঠনের বিষয়ে কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সে ব্যাপারে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়। পরে ওই বছরের ২০ মার্চ রুলের জবাব ও প্রতিবেদন দিতে আট সপ্তাহের সময় চেয়ে আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ৭ মে পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেন হাইকোর্ট। পরবর্তীতে কয়েক দফা সময়ের আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। এর মধ্যে কমিশন গঠনের জন্য ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর একজন সদস্যের নাম মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে বলে হাইকোর্টকে জানায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। তিনি হলেন পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (কারিগরি) মো. কামরুজ্জামান। পরবর্তীতে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ পুনর্গঠন হওয়ার রুলটি আর শুনানিতে ওঠেনি।
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদ্মাসেতু নির্মাণে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত থেকে বিশ্বব্যাংকের সরে যাওয়ার ঘটনা গোটা বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোতে ওই ঘটনা ফলাও করে প্রচার করায় বাংলাদেশ এবং বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুর্ণ হয়। সাড়ে তিন বছর আগের ওই ঘটনার পর বিশ্বব্যাংকের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি কিছু ব্যক্তিত্বের দৌঁড়ঝাপ, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ক্রিয়াকর্ম ও মিডিয়ার অতি উৎসাহ পদ্মা সেতু ইস্যুতে সরকারতে বিপাকে ফেলে দেয়। যা ছিল সরকারের জন্য চরম অবমাননাকর। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তায় নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
নানা ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেশব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে গত ২৫ জুন শনিবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তায় স্বপ্ন, আবেগ ও আত্মমর্যাদার পদ্মা সেতু নির্মিত হলো। গত ২৫ জুন শনিবার জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত রোববার সকাল থেকে পদ্মা সেতুতে গাড়ী চলাচল শুরু হয়েছে।