পদ্মা সেতু নিয়ে বিরোধিতাকারীদের খুঁজে বের করতে হবে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যে থেকে ষড়যন্ত্রে জড়িতদের খুঁজে বের করতে কমিশন গঠন প্রশ্নে স্বপ্রণোদিত জারি করা রুল শুনানির জন্য উঠলে আদালত বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বারোপ করে মন্তব্য করেন। শুনানিকালে আদালত বলেন, পদ্মা সেতু জাতীয় সম্পদ, জাতীয় উন্নয়ন। আমাদের অহংকার। জাতীয় স্বার্থে পদ্মা সেতুর বিরোধিতাকারীরা উন্নয়নের বিরুদ্ধে। এ ধরনের জাতীয় স্বার্থ ও উন্নয়নের বিরুদ্ধে যাঁরা থাকেন, তারা জাতির ও দেশের শত্রু। তাদের খুঁজে বের করতে হবে। আদালত প্রয়োজনীয় আদেশের বিষয়টি কালও ধার্য থাকবে বলে আদেশ দেন।
এটর্নি জেনারেল, দুদক কৌঁসুলিসহ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর বক্তব্য শুনবেন বলে জানিয়েছেন আদালত। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন ও দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান শুনানিতে ছিলেন।
পদ্মা সেতু নির্মাণ চুক্তি নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে কমিশন গঠন বিষয়ে জারি করা রুল শুনানির জন্য ২৭ জুন দিন ধার্য ছিল।
একটি জাতীয় দৈনিকে ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ইউনূসের বিচার দাবি : আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো একাট্টা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরদিন ওই প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদের কথা উল্লেখ করে এ রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
রুলে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে ‘ইনকোয়ারি অ্যাক্ট ১৯৬৫ (৩ ধারা)’ অনুসারে কমিশন গঠন এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না-তা জানতে চেয়ে স্বপ্রণোদিত রুল জারি করেন হাইকোর্ট। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র, আইন ও যোগাযোগ সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এবং আইজিপিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। পাশাপাশি এ কমিটি বা কমিশন গঠনের বিষয়ে কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সে ব্যাপারে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়। পরে ওই বছরের ২০ মার্চ রুলের জবাব ও প্রতিবেদন দিতে আট সপ্তাহের সময় চেয়ে আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ৭ মে পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেন হাইকোর্ট। পরবর্তীতে কয়েক দফা সময়ের আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। এর মধ্যে কমিশন গঠনের জন্য ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর একজন সদস্যের নাম মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রস্তাব করা হয়েছে বলে হাইকোর্টকে জানায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। তিনি হলেন পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (কারিগরি) মো. কামরুজ্জামান। পরবর্তীতে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ পুনর্গঠন হওয়ার রুলটি আর শুনানিতে ওঠেনি।
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদ্মাসেতু নির্মাণে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত থেকে বিশ্বব্যাংকের সরে যাওয়ার ঘটনা গোটা বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোতে ওই ঘটনা ফলাও করে প্রচার করায় বাংলাদেশ এবং বর্তমান সরকারের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হয়। সাড়ে তিন বছর আগের ওই ঘটনার পর বিশ্বব্যাংকের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি কিছু ব্যক্তির দৌঁড়ঝাপ, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ক্রিয়াকর্ম ও মিডিয়ার অতি উৎসাহ পদ্মা সেতু ইস্যুতে সরকারকে বিপাকে ফেলে দেয়। যা ছিল সরকারের জন্য চরম অবমাননাকর। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তায় নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলে।
নানা ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেশব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে গত ২৫ জুন শনিবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তায় স্বপ্ন, আবেগ ও আত্মমর্যাদার পদ্মা সেতু নির্মিত হলো। গতকাল রোববার সকাল থেকে পদ্মা সেতুতে গাড়ী চলাচল শুরু হয়েছে। বাসস।
পদ্মা সেতুর বিরোধিদের খুঁজে বের করতে হবে : হাইকোর্ট
তারেক-জোবায়দা আইনের দৃষ্টিতে পলাতক, দুর্নীতির মামলা চলবে : হাইকোর্ট
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান আইনের দৃষ্টিতে পলাতক। আদালতে উপস্থিত না হয়ে তারা কোনো প্রতিকার চাইতে পারেন না। ফলে তাদের রিট আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা চলতেও কোনো বাধা নয়। অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার বৈধতা নিয়ে তারেক রহমানের রিট খারিজ করে দিয়ে এ মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট। এর ফলে তার বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতে মামলা চলতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন দুদক আইনজীবী। আদালত স্পষ্ট করে বলেছেন, জোবায়দা রহমান পলাতক থাকায় তার রিট গ্রহণযোগ্য নয়। তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে পলাতক রয়েছেন। তার সঙ্গে তার স্ত্রীও রয়েছেন।
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ রবিবার এ রায় দেন।
দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, তারেক রহমান আলাদা তিনটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি রয়েছে। তিনি পলাতক আসামি। তার বিরুদ্ধে রুল খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। জোবায়দা রহমান আইনের দৃষ্টিতে পলাতক। এটি আপিল বিভাগের আদেশে বলা হয়েছে। দুদক আইনজীবী বলেন, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ঘোষিত আয়ের বাইরে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার মালিক হওয়া ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে রাজধানীর কাফরুল থানায় ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মামলাটি করা হয়। মামলায় তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান ও শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানুকে আসামি করা হয়।
পরে একই বছরে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী পৃথক রিট আবেদন করেন। রিটে জরুরি আইন ও এ মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। হাইকোর্ট রুল জারি করে স্থগিতাদেশ দেন। এরপর রিট মামলাগুলো ১৯ এপ্রিল কার্যতালিকায় আসে। পরে রুল শুনানির জন্য দিন ঠিক করেন হাইকোর্ট।
এদিকে, একই মামলার বৈধতা নিয়ে আরেকটি ফৌজদারি আবেদন করেছিলেন ডা. জোবায়দা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। রুলের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে মামলা বাতিলে জারি করা রুল খারিজ করে দেন। একইসঙ্গে জোবায়দা রহমানকে আট সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণেরও নির্দেশ দিয়েছিলেন। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন জোবায়দা রহমান। গত ১৩ এপ্রিল আবেদন খারিজ করেন আপিল বিভাগ। বাসস।
রাজধানীতে অবৈধ ১৬৪৬ বাস ধ্বংস করা হবে: তাপস
রাজধানীতে চিরুনি অভিযান চালিয়ে অবৈধ এক হাজার ৬৪৬টি বাস জব্দ করে সেগুলো ধ্বংস করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র (ডিএসসিসি) ও বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
মঙ্গলবার (২১ জুন) দুপুরে ডিএসসিসির প্রধান কার্যালয় নগর ভবনের বুড়িগঙ্গা হলে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির ২৩তম সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
এর আগে মেয়র বাস রুট রেশনালাইজেশনের আওতায় আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীর তিন (২২, ২৩ ও ২৬ নম্বর) রুটে ঢাকা নগর পরিবহনের ২০০ নতুন বাস চালু করার ঘোষণা দেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র তাপস বলেন, ‘ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ, বিআরটিএ এবং ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের সমন্বয়ে আমরা আগামী ১৭ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত যৌথ অভিযান করবো। এই অবৈধ এক হাজার ৬৪৬টি বাস, যারা বিভিন্নভাবে লুকিয়ে বিভিন্ন রুটে চলে। এদের আমরা ঢাকা শহরের যেখানে পাই সেখানেই ব্যবস্থা নেব। শুধু দিনের বেলায়ই নয়, প্রয়োজনে আমরা রাতেও অভিযান পরিচালনা করবো। টার্মিনালে রাখলে টার্মিনাল থেকে খুঁজে বের করবো, রাস্তায় রাখলে রাস্তার মধ্যে খুঁজে বের করবো। কাউন্টারের পাশে রাখলে কাউন্টারের পাশ থেকে আমরা খুঁজে বের করবো। আমরা চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে এক হাজার ৬৪৬টি বাস জব্দ করবো, ধ্বংস করবো। ’
আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রুটগুলোতে যাত্রী ছাউনি, বাস-বেসহ সব অবকাঠামো উন্নয়ন সম্পন্ন হবে বলে মেয়র আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
২১ নম্বর রুটে পারমিটবিহীন ও অবৈধ কোনো বাস চলবে না জানিয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘২১ নম্বর রুট ঘাটারচর থেকে কাঁচপুরে ঢাকা নগর পরিবহন ছাড়া অন্য কোনো বাস চলবে না। এই রুটে শুধু ঢাকা নগর পরিবহনই চলবে। ’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম, রাজউক চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান মিয়া, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুনিবুর রহমান, গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহ উদ্দিন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আজমল উদ্দিন আহমেদসহ কমিটির সদস্যরা। বাংলা নিউজ।
প্রতারণা মামলায় ওয়াটা কেমিক্যালসের এমডি নজরুল কারাগারে
প্রতারণা মামলায় ওয়াটা কেমিক্যালস নামক একটি কোম্পানীর এমডি মো: নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। এই মামলায় সিআইডি তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। সোমবার (২০ জুন) জামিন নিতে আদালতে গেলে ঢাকার অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূর তার জামিন আবেদন বাতিল করে কারাগারে পাঠান।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, হাইটেক সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড যা বাংলাদেশে ফিফথ জেনারেশেন টাইলস উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কারখানা স্থাপন করছে টাঙ্গাইলের মধুপুরে। অগ্রণী ব্যাংকের অর্থায়ণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। এই কারাখানায় স্থানীয় পর্যায়ে যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য দরপত্র আহবান করলে সর্বনি¤œ দরদাতা হিসেবে কাজ পান নজরুল ইসলামের মালিকানাধীন যমুনা কনস্ট্রাকশন। হাইটেক সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজের কর্তৃপক্ষ নজরুল ইসলামকে কার্যাদেশ দেয়। পরবর্তীতে নগদ ও পে অর্ডারের মাধ্যমে ১৫ কোটি টাকা দেয়া হয়। কিন্তু নজরুল ইসলাম যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করেই টাকা তুলে নেন। এ ঘটনায় হাইটেক সিরামিক কর্তৃপক্ষ ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট থানায় নজরুল ইসলামসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলা নং -৮, ধারা ৪০৬/৪২০/৫০৬/১০৬ দন্ডবিধি। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় সিআইডিকে। তদন্ত শেষে গত ১২ জুন আসামী নজরুল ইসলাম (এমডি, ওয়াটা কেমিক্যাল ও যমুনা কনস্ট্রাকশন) তার ছেলে এ এইচ এম আব্দুল্লাহ এবং হেলাল উদ্দিন নামক তাদের আরেকজন সহযোগির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা দোলন মজুমদার। (ক্যান্টনমেন্ট থানার চার্জশিট নং-৭২ ধারা ৪০৬/৪০২/৫০৬/৩৪ দ.বি)।
এই মামলার জামিনের জন্য ২০ জুন আদালতে হাজির হলে আদালত নজরুল ইসলামের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়। সিআইডির তদন্তে নজরুল ইসলামের প্রতারণার নানা চিত্র ওঠে আসে।
সর্বজনীন পেনশনে যা যা থাকছে
মন্ত্রিসভার বৈঠকে সর্বজনীন পেনশন চালু করতে এ সংক্রান্ত আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন-২০২২’ নামে আইনটি হচ্ছে।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এ নিয়ে ব্রিফিং করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। ব্রিফিংয়ে তিনি পেনশন সংক্রান্ত আইনের খসড়া অনুমোদনের বিষয়টি জানান।
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় যা যা থাকছে..
১. ১৮-৫০ বছর বয়সী সব কর্মক্ষম নাগরিক সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
২. বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরা এ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে।
৩. সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীদের আপাতত নতুন জাতীয় পেনশন ব্যবস্থার বাহিরে রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সরকার যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে।
৪. জাতীয় পরিচয়পত্রকে ভিত্তি ধরে দেশের ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী সব নাগরিক পেনশন হিসাব খুলতে পারবে।
৫. প্রাথমিক এ পদ্ধতি স্বেচ্ছাধীন থাকবে যা পরবর্তীতে বাধ্যতামূলক করা হবে।
৬. ধারাবাহিকভাবে কমপক্ষে ১০ বছর চাঁদা দেয়া সাপেক্ষে মাসিক পেনশন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে।
৭. প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি পৃথক পেনশন হিসাব থাকবে। ফলে চাকরি পরিবর্তন করলেও পেনশন হিসাব অপরিবর্তিত থাকবে।
৮. এ পেনশন পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। তবে এ ক্ষেত্রে কর্মী বা প্রতিষ্ঠানের চাঁদা জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত হবে।
৯. মাসিক সর্বনিম্ন চাঁদার হার নির্ধারিত থাকবে; তবে প্রবাসী কর্মীরা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে চাঁদা জমা দিতে পারবে।
১০. সুবিধাভোগী বছরে ন্যূনতম বাৎসরিক জমা নিশ্চিত করবে। অন্যথায় তার হিসাব সাময়িকভাবে স্থগিত হবে এবং পরবর্তীতে বিলম্ব ফিসহ বকেয়া চাঁদা দেয়ার মাধ্যমে হিসাব সচল করা হবে।
১১. সুবিধাভোগী আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে চাঁদা হিসেবে বর্ধিত অর্থ (সর্বনিম্ন ধাপের অতিরিক্ত যে কোনো অংক) জমা করতে পারবে।
১২. পেনশনের জন্য নির্ধারিত বয়সসীমা (৬০ বছর) পূর্তিতে পেনশন তহবিলে পুঞ্জিভূত লভ্যাংশসহ জমার বিপরীতে নির্ধারিত হারে পেনশন প্রদেয় হবে।
১৩. পেনশনাররা আজীবন অর্থাৎ মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত পেনশন সুবিধা ভোগ করবেন।
১৪. নিবন্ধিত চাঁদা জমাকারী পেনশনে থাকাকালীন ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে মৃত্যুবরণ করলে জমাকারীর নমিনি অবশিষ্ট সময়কালের (মূল জমাকারীর বয়স ৭৫ বছর পর্যন্ত) জন্য মাসিক পেনশন প্রাপ্য হবেন।
১৫. পেনশন স্কীমে জমাকরা অর্থ কোনো পর্যায়ে এককালীন উত্তোলনের সুযোগ থাকবে না। তবে আবেদনের প্রেক্ষিতে জমাকরা অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ঋণ হিসেবে উত্তোলন করা যাবে যা সুদসহ পরিশোধ করতে হবে।
১৬. কমপক্ষে ১০ বছর চাঁদা দেয়ার পূর্বে নিবন্ধিত চাঁদা দেয়া ব্যক্তি মারা গেলে জমাকৃত অর্থ মুনাফাসহ তাঁর নমিনিকে ফেরত দেয়া হবে।
১৭. পেনশনের জন্য নির্ধারিত চাঁদা বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করে কর রেয়াতের জন্য বিবেচিত হবে এবং মাসিক পেনশন বাবদ প্রাপ্ত অর্থ আয়কর মুক্ত থাকবে।
১৮. এ ব্যবস্থা স্থানান্তরযোগ্য ও সহজগম্য; অর্থাৎ কর্মী চাকরি পরিবর্তন বা স্থান পরিবর্তন করলেও তার অবসর হিসাবের স্থিতি, চাঁদা দেয়া ও অবসর সুবিধা অব্যাহত থাকবে।
১৯. নিম্ন আয়সীমার নিচের নাগরিকদের ক্ষেত্রে পেনশন স্কিমে মাসিক চাঁদার একটি অংশ সরকার অনুদান হিসেবে দিতে পারে।
২০. পেনশন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ব্যয় সরকার নির্বাহ করবে।
২১. পেনশন কর্তৃপক্ষ ফান্ডে জমাকৃত টাকা নির্ধারিত গাইডলাইন অনুযায়ী বিনিয়োগ করবে (সর্বোচ্চ আর্থিক রিটার্ন নিশ্চিতকরণে)।
জাতীয় স্লোগানে ‘জয় বাংলার’ সঙ্গে ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ চেয়ে উকিল নোটিশ
বাংলাদেশের জাতীয় স্লোাগান ‘জয় বাংলা’র সঙ্গে ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ শব্দযুগল অন্তর্ভুক্ত করতে গেজেট সংশোধনে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশ প্রদানকারী সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া রাসেল জানান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর এ নোটিশ পাঠানো হয়।
নোটিশে গেজেট সংশোধন করে আগামী ১০ দিনের মধ্যে ‘জয় বাংলা’র সঙ্গে ‘জয় বঙ্গবন্ধু’কে জাতীয় স্লোগানে অন্তর্ভুক্ত করে সংশোধিত গেজেট প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যখনই ‘জয় বাংলা’ উচ্চারিত হয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ উচ্চারিত হয়েছে। স্বাধীনতার জন্য এ স্লোগান ছিল উৎসাহমূলক। জয় বাংলা আর জয় বঙ্গবন্ধু একটিই স্লোগান; এটি পৃথক কোনো স্লোগান নয়। নোটিশ পাওয়ার পরে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নিলে এর প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশ দাতাগণ জানান।
গত ২ মার্চ ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম-সচিব শফিউল আজিমের স্বাক্ষরিত গত ২ মার্চের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, সাংবিধানিক পদাধিকারী ব্যক্তি, দেশ ও দেশের বাইরে কর্মরত সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সব জাতীয় দিবস উদযাপন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় বা সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারণ করবেন। এছাড়া সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাত্যহিক সমাবেশ (অ্যাসেম্বলি) শেষে এবং সভা-সেমিনারে বক্তব্যের শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারণ করবেন।
সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ড. বশির আহমেদের করা এক রিটের শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। রুলে ‘জয় বাংলা’কে কেন জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। রুল শুনানি শেষে ২০২০ সালের ১০ মার্চ হাইকোর্ট এক রায়ে ‘জয় বাংলা’কে বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে রায় দেন। বাসস।
অপসাংবাদিকতা করলে ১০ লাখ টাকা জরিমানা আইনের খসড়ায় মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদন
সাংবাদিকরা অন্যায় করলে প্রেস কাউন্সিল ১০ লাখ টাকা জরিমানা করতে পারবে এমন বিধান রেখে আইনের খসড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে ,অপসাংবাদিকতা করলে সংবাদ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করার ক্ষমতা পাবে প্রেস কাউন্সিল। এই বিধান রেখে ‘প্রেস কাউন্সিল (সংশোধন) আইন-২০২২’ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপন করা এ আইনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘খসড়া আইনে অপসাংবাদিকতার জন্য সংবাদ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ডের কথা রাখা হয়েছে। আগে প্রেস কাউন্সিল শুধু তিরস্কার করতে পারত।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এই জরিমানার বিধান প্রিন্ট ও ডিজিটাল সব সংবাদমাধ্যমের জন্যই প্রযোজ্য হবে। গত ১৫ জুন রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিম বলেন, সাংবাদিকরা অন্যায় করলে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে আইন হচ্ছে।
নতুন আইন সম্পর্কে বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিম বলেন, ‘নতুন আইনে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে এক দিনের জেলের পক্ষপাতী। জেলে গেলে তার মনে হবে যে আমার কাজটা অন্যায় হয়েছিল। আর করা যাবে না। এই আইনটা কেবিনেটে আছে। আশা করছি, আগামী সংসদেই পাস হয়ে যাবে।’ তবে তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ বলেছিলেন এমন কোনো আইন করা হবে না। সাংবাদিকরাও এই আইনের বিরোধিতা করে আসছেন। এটা সাংবাদিকতার উপর নতুন কালাকানুন বলে মনে করেন তারা।
জেসিসি বৈঠক: সাইবার নিরাপত্তা ও অভিন্ন নদ-নদীর ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে ঢাকা-দিল্লী ঐকমত্য
বাংলাদেশ ও ভারত অভিন্ন নদ-নদী, পানি ব্যবস্থাপনা, সাইবার সিকিউরিটি, জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতা জোরদারে ঘনিষ্টভাবে কাজ করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।
বৈঠকের ফলাফলের বিষয়ে দেয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার সন্ধ্যায় দিল্লীতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) সপ্তম দফা বৈঠকে এ সম্মতি জ্ঞাপন করা হয়।
বৈঠকের পর দেয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর নগরীর হায়দারাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন।
মহামারি করোনাভাইরাস শুরুর পর এটি সশরীরে অংশ নেয়া প্রথম বৈঠক। আগের বৈঠকটি ২০২০ সালে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দুই মন্ত্রী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে উভয় দেশে অভিন্ন ত্যাগের কথা গুরুত্বসহকারে স্মরণ করেন, যার মধ্যদিয়ে কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রচলিত বিশ্বাস অতিক্রম করে দু’দেশের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে ।
তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, মহামারি করোনাভাইরাসের চ্যালেঞ্জ দেখা দেওয়া সত্ত্বেও উভয় দেশ নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ প্রতিটি ক্ষেত্রে আগের যেকোন সময়ের চেয়ে ঘনিষ্টভাবে কাজ করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই দুই মন্ত্রী প্রশংসা করে বলেন, দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি রোল মডেল, যা গত দশকে এ দু’দেশের মধ্যে কেবলমাত্র অভিন্ন বিশ্বাস ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে জোরদার হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তারা ২০২২ সালের মে মাসে কান চলচ্চিত্র উৎসবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর যৌথভাবে প্রযোজিত বায়োপিক ‘মুজিব- মেকিং অব অ্যা নেশন’র ট্রেইলার প্রদর্শন উদ্বোধনের কথা উল্লেখ করেন।
উভয় মন্ত্রী উচ্চ পর্যায়ের সফরের প্রশংসা করে বলেন, এক্ষেত্রে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক কর্ম-কৌশলের মাধ্যমে অনেক কাজ এবং তারা নিয়মিতভাবে আরো জোরদার অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ব্যাপারে সম্মত হন।
এ ব্যাপারে উভয় মন্ত্রী সহযোগিতা জোরদারে তাদের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। তারা উভয় দেশের জনগণের পারস্পরিক স্বার্থের জন্য বিভিন্ন বিষয় মোকাবেলা এবং স্থায়ী সমাধান খঁজে বের করার ব্যাপারে আরও গুরুত্ব দেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুর কথা উল্লেখ করে উভয় পক্ষ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত সেদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা দিয়ে দ্রুত ও স্থায়ীভাবে ফেরত নেওয়ার গুরুত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করে। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন।
দুই দেশের মধ্যে চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় থাকার কথা উল্লেখ করে তারা নেতাদের সিদ্ধান্ত দ্রুততার সাথে বাস্তবায়নে ঘনিষ্ট সহযোগিতার এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সকল ক্ষেত্রে পারস্পরিক কার্যক্রম জোরদারের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
নয়াদিল্লী সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি এম. ভেঙ্কাইয়া নাইডু ও ভারত সরকারের অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ জেসিসি’র অষ্টম বৈঠক আগামী বছর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। বাসস।
কুমিল্লায় এক ফোনে ফল পাল্টে দেয়া অসম্ভব ও গুজব-সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কোনো বিপর্যয় দেখিনি। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পরবর্তী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা রাত ৮টা পর্যন্ত নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছি। কোনো বিপর্যয় দেখিনি। সিসিটিভি’র মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি দেখছিলাম। একটা ফোনে ফলাফল পাল্টে গেলো এমন কথা শোনা যাচ্ছে। শেষ মুহূর্তে একটা ফোনে বক্তব্য পাল্টে যায় এটা একেবারেই অসম্ভব। একটা বা দুইটা টেলিফোন আমি নিজেও করেছিলাম। রিটার্নিং অফিসার আমাকে খুব বিমর্ষ অবস্থায় ফোন করে বললেন, ‘ স্যার, আমি বিপদে পড়েছি’। আমি সেখানে প্রচন্ড শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। ভাবলাম তাকে মারধর করা হচ্ছে।’
সিইসি বলেন, ‘এরপর আমি ডিসি-এসপিকে ফোন করেছিলাম। তারা তখন জানালেন তাৎক্ষণিক বিষয়টি দেখছেন। এরপর রিটার্নিং অফিসারকে বললাম সমস্যা হবে না। পরে তিনি জানালেন পুলিশ এসেছে মানুষ সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বিচ্ছৃঙ্খল ঘটনা মাত্র ১৫ মিনিট ছিল। কোনোভাবেই ২০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়নি। এর পর রিটার্নিং অফিসার স্বাচ্ছন্দ্যে ফল ঘোষণা করলেন সেটা আমরা দেখেছি।’
তিনি বলেন, ‘একটা ফোনে ফল পাল্টে গেলো এটা- একজন বলার পর হাজার মানুষ তাই বললো। আসলে আমাদের দেশের কালচারই এটা, এটা একটা গুজব। মেশিনের ফল অথবা হাতের রেজাল্ট আমরা ওয়েবসাইটে তুলে দিয়েছি। এমন ঘটনা ঘটেনি।’
ফল প্রকাশের সময় মিছিল হওয়ার বিষয়ে সিইসি বলেন, মানুষের আবেগ উচ্ছ্বাসের কারণে মিছিল হয়েছে। এটা আমাদের কাছে অনাকাক্সিক্ষত, কিন্তু তাদের কাছে কাক্সিক্ষত। তারা উচ্ছ্বাসের কারণেই এটা করেছেন।
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি, বিনীত অনুরোধ করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বাহাউদ্দিনকে প্রকাশ্যে প্রচারণায় অংশ নিতে দেখিনি। কিন্তু কেউ কেউ বলছেন উনি কৌশলে অংশ নিয়েছেন। আমাদের একটা প্রত্যাশা ছিল উনাকে যদি অনুরোধ করি তাহলে আর কথা উঠবে না। নির্বাচন কমিশন কাউকে এলাকা ত্যাগ করার আদেশ দিতে পারে না।’
সিইসি বলেন, আচরণবিধি অনুযায়ী উনি অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাতে সন্দেহ নেই। আমরা তাকে এলাকা ত্যাগ করার আদেশ করিনি। তাকে বিনীতভাবে অনুরোধ করেছিলাম, সেই চিঠি আছে। কিন্তু চারদিকে ছড়িয়ে গেলো আদেশ করার পরও তিনি প্রতিপালন করতে পারলেন না। এ কথা পুরোপুরি সত্য নয়। সংসদ সদস্য কেন, কোনো সাধারণ মানুষকেও এলাকা ত্যাগ করার আদেশ দিতে পারে না নির্বাচন কমিশন।
তিনি বলেন, এর আগে বলা হয়েছিল একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী গিয়েছিলেন তাকে এক ঘণ্টার মধ্যে এলাকা ত্যাগ করাতে পেরেছিলাম। সেটা ভিন্ন কথা। সেই মন্ত্রী ছিলেন বহিরাগত। আর বাহাউদ্দিনের তো ওটা স্থায়ী ঠিকানা। একজন মানুষ তার বাড়িতে থাকতে পারবে না তা তো নয়। হয়তো উনি ডিস্টার্ব করছেন বা কৌশলে প্রচারণা চালিয়েছেন। সেজন্য তাকে অনুরোধ করা হয়েছিল। আমরা আইনকানুন দেখে চিঠি দিয়েছিলাম।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, বাহাউদ্দিন সাহেব কোনো আইন ভঙ্গ করেননি। অভিযোগ আসছিল তিনি গোপনে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাই তাকে অনুরোধ করেছি। তবে উনি চলে গেলে হয়তো ভালো হতো।
মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশিদা সুলতানা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবীব খান, মো. আলমগীর ও ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার উপস্থিত ছিলেন। বাসস।
শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এনামুল ২২ বছর পর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার
২০০০ সালে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক ব্যক্তিকে রাজধানী ঢাকার উত্তরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তার শেখ মো. এনামুল হক গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার বাসিন্দা। তিনি কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। শনিবার (১৮ জুন) রাতে,তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব সদরদপ্তরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, “একটি অভিযানের সময় শেখ মো. এনামুল হককে উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের রায় ঘোষণার পর থেকেই এনামুল হক পলাতক ছিলেন।”
২০০০ সালের ২০ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ লুৎফুর রহমান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি দোকানের সামনে ৭৬ কেজি ওজনের একটি বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। সেখানে ২২ জুলাই এক সমাবেশে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল। এছাড়া, ২০০০ সালের ২৩ জুলাই কোটালীপাড়া হেলিপ্যাডের কাছে সেনাবাহিনীর বোমা বিশেষজ্ঞ স্কোয়াড ৪০ কেজি ওজনের আরও একটি বোমা উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় তিনটি পৃথক মামলা করা হয়। ২০২১ সালের ২৩ মার্চ ঢাকার একটি ট্রাইব্যুনাল, ২০০০ সালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনাকে হত্যারচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে শেখ মো. এনামুল হক একজন।










