রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ ১১টি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ২০ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ শুনানি মুলতবি করে এ আদেশ দেন।
অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল জানিয়েছেন, বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করে জমা দেয়া পৃথক আবেদন আমলে নিয়ে আদালতে এই আদেশ দেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১১টি মামলার মধ্যে ২০১৫ সালের প্রথম ৩ মাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১০টি মামলা দায়ের হয়। অন্য মামলাটি মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্যাটকো, নাইকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে ৩টি মামলা ঢাকার আরও ৩টি আদালতে বিচারাধীন।
এছাড়া জাতীয় পতাকা অবমাননা ও ১৫ আগস্ট ‘ভুয়া জন্মদিন’ পালনের অভিযোগে দায়ের করা দুটি মামলা ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন।
বিএনপির লাগাতার আন্দোলনের সময় অগ্নিসংযোগের ঘটনায় হুকুমের আসামি করে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় তার বিরুদ্ধে ৩টি মামলা হয়।
রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ ১১ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ২০ সেপ্টেম্বর
অবসরের পর আমৃত্যু বিশেষ ভাতাসহ নানা সুযোগ সুবিধা পাবেন প্রধান বিচারপতি, সংসদে বিল উত্থাপন
অবসরের পর প্রধান বিচারপতির জন্য মাসে ৭০ হাজার টাকা বিশেষ ভাতার বিধান রেখে একটি আইনের খসড়া সংসদে উঠেছে। মঙ্গলবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (ছুটি, পেনশন ও বিশেষাধিকার) বিল-২০২২’ সংসদে উত্থাপন করেন।
পরে ৩০ দিনের মধ্যে বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিলটি সংসদে তোলার অনুমতি চাইলে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ তাতে আপত্তি করেন।
অবশ্য পরে তিনি বলেন, বিল নিয়ে তার আপত্তি নেই। ১৯৮২ সালে সামরিক আমলে অধ্যাদেশ দিয়ে এ সংক্রান্ত আইন করা হয়েছিল। সেটি বাতিল করে বাংলায় নতুন আইন করতে বিলটি আনা হয়েছে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, অবসরের পর প্রধান বিচারপতি তার জীবদ্দশায় গৃহসহায়ক, গাড়িচালক, দারোয়ান সেবা, সাচিবিক সহায়তা এবং অফিস কাম বাসভবনের রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা পাবেন। এই ব্যয় নির্বাহের জন্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি প্রতি মাসে ৭০ হাজার বিশেষ ভাতা পাবেন।
সর্বশেষ ২০১৬ সালে বিচারকদের বেতন ও ভাতা বাড়ানো হয়। বর্তমানে প্রধান বিচারপতি এক লাখ ১০ হাজার টাকা, আপিল বিভাগের বিচারক এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক ৯৫ হাজার বেতন পান। এছাড়া বেতনের ৫০ শতাংশ হারে বিশেষ ভাতা পান তারা।
বিলে বলা হয়েছে, একজন বিচারককে তার মোট কর্মকালীন ছুটির শর্ত অনুযায়ী অর্ধ গড় বেতনে মোট ৩৬ মাসের অধিক ছুটি মঞ্জুর করা যাবে না। কোনো বিচারকের প্রকৃত কর্মকালের এক-চব্বিশাংশ মেয়াদ পর্যন্ত তাকে পূর্ণ গড় বেতনে ছুটি মঞ্জুর করা যাবে। পূর্ণ গড় বেতনে ছুটি এককালীন পাঁচ মাস এবং অন্য ছুটি এককালীন ১৬ মাসের বেশি মঞ্জুর করা যাবে না। কোনো বিচারক পূর্ণ গড় বেতনে ছুটিতে থাকাকালে নির্ধারিত মাসিক বেতনের সমান হারে ছুটিকালীন বেতন প্রাপ্য হবেন। কোনো বিচারক অনভিপ্রেত কোনো আঘাতের কারণে অথবা দায়িত্ব পালনকালে আহত হয়ে কাজ করতে অক্ষম হলে বিশেষ অক্ষমতাজনিত ছুটি প্রাপ্য হবেন।
বিলে আরো বলা হয়েছে, বিচারকদের পেনশন ও আনুতোষিক মঞ্জুর করার এখতিয়ার থাকবে রাষ্ট্রপতির হাতে। অবসরে যাওয়া বিচারকরা উৎসব ও বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন। কোনো বিচারক অনুমোদিত ছুটি বা অবকাশের অতিরিক্ত অনুপস্থিতিকালের জন্য কোনো বেতন প্রাপ্য হবেন না।
বিলে উচ্চ আদালতের বিচারকদের ছুটি, ছুটি নগদায়ন, আনুতোষিক ও পারিবারিক পেনশন, ভবিষ্য তহবিল ও পেনশন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধান সম্পর্কে বলা হয়েছে।
এদিন আইনমন্ত্রী বিলটি সংসদে তোলার অনুমতি চাইলে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, বিচারকদের আরো সুযোগ দেন। আরো বিচারক নিয়োগ দেন। বিচারপ্রার্থী বিচার পেতে পেতে মারা যাচ্ছে। কিছুদিন আগে দেখলাম, হাজী সেলিম ১০ বছরের দণ্ডিত হয়ে বিদেশে গেলেন চিকিৎসা করতে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর আইনমন্ত্রী কথা বললেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী (খালেদা জিয়া) বিদেশে চিকিৎসার জন্য আবেদন করেছেন, বলেছেন সুযোগ নেই। বিরোধী দলের কর্মসূচি পালনের অধিকার আছে কিনা? আপনারা কর্মসূচি করছেন; এখানে বৈষম্য হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে কী সভ্য, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলতে পারব? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারীকে যেভাবে নিপীড়ন করেছে। ছাত্রলীগ নামধারী গুণ্ডারা যা করেছে, আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। আইন তৈরি করছেন, মানুষের জন্য করছেন তো? আইনের ব্যাপারে আপত্তি নেই। কিন্তু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশে বড় সংকট সুশাসনের।
জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, দুঃখে কাঁদবো না হাসবো- বুঝতে পারছি না। আমাকে আপনার (স্পিকার) মাধ্যমে তিনি যে জ্ঞান দিলেন, আমার না হয় কাজে লাগবে। কিন্তু উনার কতটুকু কাজে লাগবে জানি না। পঁচাত্তরে জাতির পিতার হত্যার পর বিচার হয়েছিল? ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ করে বিচার পাওয়ার পথ বন্ধ করেছিলেন। উনারা বলবেন খন্দকার মোশতাক করেছিলেন। তারপর আপনারা ক্ষমতায় ছিলেন। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ তুলে নিয়েছিলেন? আমাকে বিচার শেখাচ্ছেন। এইসব জ্ঞান উনাদের মিটিংয়ে দেন। আমাদের দেওয়ার দরকার নেই। সূত্র- আমাদের সময়।
আওয়ামীলীগ নেত্রীর দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় রাঙামাটিতে সাংবাদিক গ্রেপ্তার
আওয়ামীলীগ নেত্রীর দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এক মামলায় রাঙামাটির সাংবাদিক ফজলে এলাহীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাঙামাটির তবলছড়ি এলাকার বাসা থেকে ফজলে এলাহীকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
কোতোয়ালি থানার ওসি কবির হোসেন জানান, “২০২১ সালে করা একটি মামলায় চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে উনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উনাকে কাল (বুধবার) সকালে আদালতে তোলা হবে।”
স্থানীয় অনলাইন পোর্টাল পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডটকমে ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে ওই এলাকার সাবেক নারী সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনুর মেয়ে নাজনিন আনোয়ার এই মামলা করেন। চিনু বর্তমানে রাঙামাটি জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।
পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক ফজলে এলাহী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, কালের কণ্ঠ ও এনটিভির রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি।
ফজলে এলাহীকে গ্রেপ্তারের খবর শুনে থানা চত্বরে উপস্থিত হন রাঙামাটির সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রাঙামাটি সাংবাদিক সমিতির নেতারা ফজলে এলাহীর মুক্তি দাবি করেছেন।
সাংবাদিক ফজলে এলাহীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়নের রাঙামাটি জেলা শাখা। এক বিবৃতিতে তারা ‘হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহার করে ফজলে এলাহীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
আর ১১ বার সময় নিলেই সাগর রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সেঞ্চুরি পূর্ণ হবে
আর ১১ বার সময় নিলেই সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়ের সেঞ্চুরি পূর্ণ হবে। মঙ্গলবার তদন্তকারি কর্মকর্তার আবেদনের পর ৮৯তম বারের মতো সময় দেয়া হয়েছে। আগামী ১৯ জুলাই এ মামলার প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৭ জুন) র্যাব প্রতিবেদন দাখিল না করায় নতুন এ দিন ধার্য করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারী।
আদালতের নথি বলছে, এ নিয়ে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য আদালত ৮৯ বার সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রæয়ারী রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রনি তাদের ভাড়া বাসায় খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাÐের সময় বাসায় ছিল তাঁদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ।
সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে এই মামলার তদন্ত করছিল শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ। চার দিন পর মামলার তদন্তভার ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার ৬২ দিনের মাথায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি। এরপর আদালত র্যাবকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। তখন থেকে মামলাটির তদন্ত করছে র্যাব। তবে এখন পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি। কোনো রহস্যই উদঘাটন করতে পারেনি আইনশৃংখলা বাহিনী।
হাজী সেলিমের জামিন চেম্বার আদালতেও হয় নি
দুর্নীতির মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের জামিন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতেও হয়নি। জামিন না দিয়ে আবেদনটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছেন চেম্বার আদালত। হাজী সেলিমের লিভ টু আপিল এবং জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ১ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।
সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
গত ২৪ মে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় জামিন আবেদন করেছিলেন হাজী সেলিম। তার আগে গত ২২ মে হাইকোর্টের রায় অনুসারে বিচারিক আদালেত আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক শহিদুল ইসলাম তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ৯ মার্চ অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় হাজী সেলিমকে বিচারিক আদালতের দেওয়া ১৩ বছর সাজা কমিয়ে ১০ বছর কারাদণ্ড বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী এবং বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
রায়ে তিন বছরের দণ্ড থেকে খালাস পান হাজী সেলিম। রায়ের কপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়।
২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছিল দুদক। এরপর দুদক মামলাটিতে চার্জশিট দাখিল করে। জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে প্রায় ২৬ কোটি ৯২ লাখ ৮ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন ও প্রায় ১০ কোটি ৪ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগের এ মামলায় ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল রায়ে তার একটি ধারায় ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়।
অপর ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া অবৈধ সম্পদ অর্জনে হাজী সেলিমকে সহযোগিতা করার দায়ে তার স্ত্রী গুলশান আরাকে তিন বছরের কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
২০০৯ সালের ২৫ অক্টোবর হাজী সেলিম ও তার স্ত্রী গুলশান আরা বেগম এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন। ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি হাইকোর্ট ১৩ বছরের সাজা বাতিল করে রায় দেন।
হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগে আপিল করে দুদক। আপিলের শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টের রায় বাতিল হয়ে যায়। সেই সঙ্গে হাজী সেলিমের আপিল পুনরায় হাইকোর্টে শুনানির নির্দেশ দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সেই নির্দেশনার আলোকে গত বছর ৯ মার্চ হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাহেদের বিচার শুরু
করোনা ভাইরাসের সনদ নিয়ে জালিয়াতি ্ও প্রতারণার মামলায় গ্রেফতার রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিচার কাজ শুরু হয়েছে। সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের আদালতে অভিযোগকারীর জবানবন্দির মধ্য দিয়ে এই বিচার শুরু হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে আংশিকভাবে জেরা করেন এবং তাদের জেরা সম্পন্ন না হওয়ায় বিচারকাজ মুলতবি করার আবেদন করেন। আগামী ২৭ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন বিচারক।
অবৈধভাবে চাল মজুত : স্কয়ারের এমডি অঞ্জন চৌধুরীকে ৬ সপ্তাহের জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট
অবৈধভাবে চাল মজুত করার মামলায় স্কয়ারের এমডি অঞ্জন চৌধুরীকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। ৬ সপ্তাহ পর তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। সোমবার (৬ জুন) বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি সাহেদ নুরউদ্দিনে সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর সদরে স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের গুদামে অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার ১২৪ টন আতপ চাল জব্দের ঘটনায় এ মামলা দায়ের হয়েছিল। মামলায় স্কয়ার গ্রুপের এমডির পক্ষে আদালতে জামিন আবেদনের শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।
গত ১ জুন দিনাজপুর সদরে স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের গুদামে অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার ১২৪ টন আতপ চাল জব্দ করে প্রশাসন। এ ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে মিলের ইনচার্জকে।
দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মর্তুজা আল মঈদ বলেন, উপজেলার ১ নম্বর চেহেলগাজী ইউনিয়নের গোপালগঞ্জ বাজারে কোম্পানিটির ছয়টি গুদামে গত ৩১ মে বিকেল থেকে রাত আড়াইটা পর্যন্ত এই অভিযান চালানো হয়।
এ সময় মিলের ছয়টি গুদামে ৫ হাজার ১২৪ টন আতপ চাল পাওয়া যায়। তবে মিলের অনুমোদন রয়েছে মাত্র ৩১২ টন। সে হিসেবে মিলে বেশি মজুত ছিল চার হাজার টনের বেশি চাল।
‘এ সময় কাগজপত্র ও মিলে চাল মজুতের হিসাব চাওয়া হলে মিলের ইনচার্জ জায়েদ হোসেন সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে মিলের কর্মকর্তারা বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ করে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে আসেন। পরে রাত আড়াইটার দিকে মিলের ছয়টি গুদামে রাখা চাল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের জিম্মায় দেয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ব্যাপারে দিনাজপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব কুমার সিংহ রায় বাদী হয়ে মিলের স্বত্বাধিকারী অঞ্জন চৌধুরী ও মিলের ইনচার্জ জায়েদের নামে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। মিলের ইনচার্জকে পুলিশ গ্রেফতার করে। জব্দ চালের বাজার মূল্য প্রায় ৪১ কোটি টাকা।’
সর্বোচ্চ আদালতেই কার্যকর হয়নি আইন, ৬০ দিনের মধ্যে সুপ্রিমকোর্টে তথ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিলো হাইকোর্ট
তথ্য অধিকার আইন অনুসারে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে তথ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এ ছাড়া তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর ৪ ও ১০ ধারা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে ‘তথ্য সেল’ প্রতিষ্ঠা করে একজন তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়ার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
এর আগে গত ২৬শে মে সুপ্রিম কোর্টে তথ্য প্রদান ইউনিট চালু এবং কর্মকর্তা নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার এবং হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারকে বিবাদী করা হয়। রিট আবেদনে বলা হয়, তথ্য অধিকার আইন- ২০০৯ অনুযায়ী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসহ সকল সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে তথ্য সেল প্রতিষ্ঠা ও তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়ার বিধান রয়েছে। অথচ সুপ্রিম কোর্ট সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও এখানে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য সেল বা তথ্য কর্মকর্তা নেই। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অবাধ তথ্য প্রবাহে ব্যক্তির মৌলিক অধিকার দেয়া হয়েছে। তথ্য সেল না থাকায় এই অধিকার খর্ব হচ্ছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে আইনজীবী শিশির মনির মৃত্যুদণ্ডাদেশ সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করেছিলেন। এরপর ছয় মাস পার হলেও কোনো তথ্য সরবরাহ করেনি সুপ্রিম কোর্ট। পরে তথ্য অধিকার আইনের বিধান বাস্তবায়নের জন্য রেজিস্ট্রার জেনারেলকে গত ১৬ই মে এ বিষয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, অবাধ তথ্য প্রবাহ এবং জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণের নিমিত্তে বিধান করার লক্ষ্যে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ (২০০৯ সালের ২০ নম্বর আইন) প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা নাগরিকগণের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত এবং তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জনগণ প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক ও জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা হলে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারি ও বিদেশি অর্থায়নে সৃষ্ট বা পরিচালিত বেসরকারি সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে, দুর্নীতি হ্রাস পাবে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
এতে আরও বলা হয়, আইনের ধারা ২(খ)(অ) এ প্রদত্ত সংজ্ঞা অনুসারে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এই আইনের আওতাধীন একটি কর্তৃপক্ষ। ওই আইনের ধারা ১০ অনুযায়ী তথ্য সরবরাহের নিমিত্তে প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ তথ্য প্রদান ইউনিটের জন্য একজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করবে। উক্ত আইনের বিধান প্রতিপালনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু আইন প্রণয়নের এক যুগেরও অধিক সময় অতিবাহিত হলেও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে এমন কোনো কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়নি।
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সময় খালেদা জিয়াকে দাওয়াত দিতে আইনি বাধা নেই : আইনমন্ত্রী
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সময় খালেদা জিয়াকে দাওয়াত দিতে আইনি কোন বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। আইনমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার ব্যাপারে দুটি শর্ত আছে, তা হলো তিনি বাংলাদেশের ভিতরে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন আর বিদেশে যেতে পারবেন না। সে কারণে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সময় তাকে দাওয়াত দিতে আইনি কোন বাধা নেই। রোববার ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য আয়োজিত ১৪৬তম রিফ্রেসার কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সরকার খালেদা জিয়াকে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সময় দাওয়াত দিবে। এ বিষয়ে আইনি কোন বাধা নেই বলে তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। আনিসুল হক বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিদ্বেষের বশীভূত হয়ে কারও প্রতি কোন ‘অ্যকশন’ নেন না। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়া ও তার পুত্রদ্বয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দেয়া হয়েছিল। সেগুলো দুদকের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। তারা যদি এটা বলে যে, আওয়ামী লীগ সরকার এই মামলাগুলো করেছে, তাহলে আমার মনে হয় যে, তারা শুধুশুধু জনগণ যেটা বিশ্বাস করে তাদের দুর্নীতির ব্যাপারে, সেটাকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য আওয়ীমী লীগ সরকারকে দোষারোপ করছে। তাদের দোষারোপ করাটা ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। ২০০৪ সালের আইনের পরে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দুদককে চেয়ার টেবিলও দেয়নি বিএনপি সরকার। ২০০৭ সালে এটাকে প্রকৃত কার্যকর করা হয়েছে। বিচার বিভাগের বাজেট বাড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তিসংগত যে কোন প্রয়োজনে অর্থ দিতে অর্থ মন্ত্রণালয় কার্পণ্য করবে না। জাতীয় বাজেটে আইন মন্ত্রণালয়কে যে টাকা দেয়া হয় তা আগে কোন সরকার দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারই প্রথম বিচারকদের প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে ই-জুডিসিয়ারি প্রকল্পের একটি অংশ বাস্তবায়নের জন্য ২১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এটা আইন মন্ত্রণালয়ের নামে বরাদ্দকৃত মূল বাজেটের বাইরে। এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি আবারও বলেন, বাক স্বাধীনতা ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা বন্ধ করার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়নি। সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ করার জন্য এই আইন করা হয়েছে। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, কোর্স পরিচালক মীর মো. এমতাজুল হক বক্তৃতা করেন।
২২ বছর পর মিয়ানমারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে সামরিক জান্তা; ফাঁসী দেয়া হচ্ছে সূচির দুই সহযোগিকে
মিয়ানমারের জান্তা সরকার সন্ত্রাসবাদের দায়ে দোষী সাব্যস্ত অং সান সু চির দলের একজন সাবেক সদস্য এবং একজন বিশিষ্ট গণতন্ত্রকামী সক্রিয় কর্মীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে। একজন মুখপাত্র এএফপি সংবাদ মাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছে। ১৯৯০ সালের পর এটাই হবে দেশটিতে প্রথম বিচার বিভাগীয় মৃত্যুদণ্ড।
সাবেক এমপি ফিয়ো জেয়া থাও এবং গণতন্ত্রকামী সক্রিয়কর্মী কো জিমিসহ চারজনকে “কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী ফাঁসি দেওয়া হবে।” জাও মিন তুন এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত বছর ক্ষমতা দখলের পর ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে জান্তা সরকার অভ্যুত্থান বিরোধী কয়েক ডজন কর্মীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে কিন্তু মিয়ানমার কয়েক দশক ধরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেনি।
অং সান সু চির ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির সাবেক সদস্য ফিয়ো জেয়া থাওকে নভেম্বরে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইনের অধীনে অপরাধের জন্য তাকে জানুয়ারি মাসে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
বিশিষ্ট গণতন্ত্রকামী সক্রিয়কর্মী কিয়াও মিন ইউ যিনি “জিমি” নামে বেশি পরিচিত – সামরিক ট্রাইবুনালতাকেও একই শাস্তি দিয়েছে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি বলেও জানান তিনি।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উপ-পরিচালক ফিল রবার্টসন বলেন, “দু’জন বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার জন্য জান্তা সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের প্রগতিশীল সামরিক-বিরোধী প্রতিরোধের আগুনে গ্যাস ঢালার মতো কাজ হবে।











