নির্বাচনের সমে যে সরকার থাকবে সেটাই নির্বাচনকালীন সরকার বলে জানিয়েছেনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেন সব দেশেই দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হচ্ছে। ভারতে, বিলেতে, আমেরিকাতেও হচ্ছে। সরকার কিন্তু সরকারই। দল ভিন্ন জিনিস। কেবিনেট যেটাকে বলা হয়- রাষ্ট্রপতি থেকে বা প্রধানমন্ত্রী থেকে ডেপুটি.., এটাই কিন্তু মূল সরকার। বাকি যারা আছে সেটা কিন্তু আমলাতন্ত্র। কাজেই যে সরকার যেটা আছে, তারা কিন্তু শপথ নিয়েছেন, সংবিধানিক অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবো, সমআচরণ করবো, পক্ষপাতিত্ব করবো না। উনারা বলেন নাই যে আমরা আমাদের দলকে আগামীতে আরো বেশি করে হেল্প করবো। আমার বিশ্বাস উনারা উনাদের শপথটা জানেন। সোমবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন।
নির্বাচনের সময় অন্তত একটা সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচনের স্বার্থে উনারা নির্বাচনকালীন সরকারের থেকে সরকারের মতোই আচরণ করবেন। সরকারের মন্ত্রী হিসেবে কোনো দলের মন্ত্রী হিসেবে নয়।
নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় যে সরকার থাকবে সেটাই নির্বাচনকালীন সরকার। অপজিশন থেকে যে দাবিগুলো করা হচ্ছে এগুলো নিয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার, এই সব বিভিন্ন ধরনের সরকার, সেটা কিন্তু আমাদের বিষয় নয়। এটা সাংবিধানিক বিষয়। পলিটিক্যাল লিডাররা যদি একমত হন তারা বিষয়গুলো দেখবেন। আমার কাছে মনে হয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বর্তমানে যে আইন আছে, সেটাই নির্বাচনকালীন সরকার। তার সঙ্গে আমাদের ইন্টারঅ্যাকশন বেড়ে যাবে। একজন মন্ত্রী কিন্তু দলের নয়। আমরা চাই তারা আমাদের সহযোগিতা করুক।
সিইসি আরো বলেন, আইন-কানুন অনুযায়ী সরকার আমাদের সহযোগিতা করতে বাধ্য। সকল নির্বাচনে আমরা সরকারের কাছে সহায়তাগুলো চাইবো এবং অবশ্যই সরকার সে সহযোগিতাগুলো করবে বলে আশা করি।
তিনি বলেন, আমরা একই কথা বারবার বলেছি, নির্বাচনটা অংশগ্রহণমূলক হওয়া খুবই প্রয়োজন। যদি মূল বিরোধী দল নির্বাচনে না আসে, তাহলে নির্বাচন স্বচ্ছ হোক, অস্বচ্ছ হোক, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা অনেক কমে যাবে। কারণ ডেমোক্রেসির মূল কথাই হচ্ছে পজিশন এবং অপজিশন। বিরোধী দলে থাকেন তারা। তাদের কাজই হচ্ছে সমালোচনা করা। এই সমালোচনার মাধ্যমেই কিন্তু এক ধরনের জবাবদিহিতা গড়ে ওঠে এবং সতর্কতা তৈরি হয়। এজন্য আমরা চাই নির্বাচনটা অংশহগ্রহণমূলক হোক।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে বসার আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, উনাদের বলেছি, আপনারাও যারা পলিটিকস করেন না, পলিটিকলসের ঊর্ধ্বে একটা অবস্থান আপনাদের আছে। প্রতিদিন যে আক্রমণাত্মক কমেন্টগুলো দিচ্ছে, সেখানে সরিয়ে নিয়ে এসে যদি টেবিলে মুখোমুখি করা যায়, তাহলে আলোচনা হবে গঠনমূলক। টেবিলের বাইরে গিয়ে যদি ধারাবাহিকভাবে আক্রমণাত্মক বক্তব্য পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে দেয়, তাহলে কিন্তু দূরত্ব কমবে না। কারণ আমরা চাচ্ছি নির্বাচনে সকল পার্টি অংশগ্রহণ করুক।
সিইসি আরো বলেন, পুলিশ প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। নির্বাচন যদি সহিংসতার কারণে বিঘ্নিত হয়ে যায় আমাদের ক্ষমতা আছে যে কোনো একটি সেন্টার বা নির্বাচনটা বাতিল করে দেবো। আমরা সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবো। বিরূপ পরিবেশ যাতে না হয়, আমরা চাইবো নির্বাচনে যাতে ভোটাররা যেতে পারে এবং নির্বিঘেœ যেন ভোট দিতে পারে, সেই খবরটা আমরা রাখবো। নির্বাচনে প্রচন্ড রকম সহিংসতা হলে সেই সেন্টার বাতিল করে দিতে পারবো।
নির্বাচনে খরচের বিষয়ে সিইসি বলেন, নির্বাচনে যে নমিনেশন নিয়ে কত খরচ হয়, যার ফলে একটা মনস্তাতিক একটা বিষয় হয়ে দাঁড়ায় যে জয়ী আমাকে হতেই হবে। যে পয়সা আমি খরচ করেছি, তা তুলে আনতেই হবে। এর ফলে কিন্তু একটা সহিংস চরিত্র গড়ে ওঠে। এই জায়গা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ হবে জানি না। তবে দলগুলোর নেতৃত্ব উপলিব্ধ করা উচিত যে নির্বাচনটা যেন বাণিজ্য না হয়।
এমপিদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো কি-না জানি না। কতগুলো বিষয় আছে উনাকে (কুমিল্ল- ৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার) চিঠি দিয়েছিলাম যেন উনি না থাকেন, এসব নির্বাচন যারা ভিভিআইপি তারা এলাকায় থাকতে পারেন না। কিন্তু সংসদ নির্বাচন যখন হবে, তখন তো তারা এলাকায় থাকবেন। উনারা সংসদীয় এলাকায় নির্বাচনী এলাকায় থাকবেন। কিন্তু কিছু আচরণ ফলো করতে হবে। আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো কি পারবো না এই বিষয়টা তো আপেক্ষিক । সুতরাং আমাদের চেষ্টা থাকবে এবং আমি আশাবাদী। সূত্র-মানবজমিন।
নির্বাচনের সময় যে সরকার থাকবে সেটাই নির্বাচনকালীন সরকার: সিইসি
রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যায় ২৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
প্রায় সাড়ে আট মাস তদন্তের পর রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুরে জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। সেখানে মোট ২৯ জনকে আসামি করা হয়েছে, তাদের সবাই রোহিঙ্গা।
গতবছর ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উখিয়ার ১-ইস্ট লম্বাশিয়া ক্যাম্পে ৪৮ বছর বয়সী রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে একদল অস্ত্রধারী।
তিনি ছিলেন ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস এন্ড হিউম্যান রাইটস’ নামের রোহিঙ্গাদের একটি সংগঠনের চেয়ারম্যান। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকার স্কুলশিক্ষক মুহিবুল্লাহ পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমে ‘রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তদন্তকারীরা জানান, হত্যাকাণ্ডে মোট ৩৬ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেলেও সাতজনের ঠিকানা ও অবস্থান জানতে না পারায় শেষ পর্যন্ত ২৯ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হল।
অভিযোগপত্রে নাম থাকা ২৯ আসামির মধ্যে ১৫ জন গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, বাকি ১৪ জন পলাতক।
গ্রেপ্তার ১৫ জনের মধ্যে ৪ জন তদন্ত চলাকালে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
বেশ কয়েকবছর আগে জীবন বাঁচাতে নিজ দেশ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে সপরিবারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা হন মুহিবুল্লাহ। সেখানেই গড়ে তোলেন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ)।
রোহিঙ্গাদের কাছে মুহিবুল্লাহ ছিলেন বাড়ি ফেরার স্বপ্নে বিভোর এক মানুষ। গত কয়েক বছর ধরে নির্যাতনের মুখে মিয়ানমারে সবকিছু ফেলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা লাখো মানুষের মাঝে সেই স্বপ্ন তিনি বিলিয়ে আসছিলেন।
মুহিবুল্লাহর স্বজন ও অনুসারীদের দাবি ছিল, দেশে ফেরার এই স্বপ্নই তার কাল হয়েছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যেই একটা অংশ দেশে ফিরতে চায় না। সশস্ত্র দলটির সঙ্গে ‘মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর যোগাযোগ’ রয়েছে বলেও ক্যাম্পের অনেকের বিশ্বাস।
মুহিবুল্লাহ উখিয়ার ১-ইস্ট লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৭ ব্লকে থাকতেন। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে আলোচনায় আসেন তিনি। জেনিভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থায়ও রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তিনি। সূত্র,বিডি নিউজ।
বড়পুকুরিয়া দুর্নীতি মামলা: খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ফের পেছাল
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারো মুলতবি করেছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২ এর বিচারক এএসএম রুহুল ইমরান এ আদেশ দেন।
এ নিয়ে ৪০ বারের মতো শুনানির তারিখ পেছাল বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার জানান, আজ বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেন চৌধুরীর পক্ষে আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানির মুলতবি চেয়ে আবেদন করার পর এ আদেশ দেয়া হয়।
খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার আদালতে প্রতিনিধিত্ব করেন।
শুনানির সময় বিএনপি নেতা ড. খোন্দকার মোশাররফসহ ৪ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেন চৌধুরী পিটিশিন আবেদন জমা দেয়ার পর অনুপস্থিত ছিলেন।
আরেক আসামি মো. সিরাজুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।
২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সর্বোচ্চ দরদাতাকে দেয়া বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি চুক্তিতে ১৫৯ কোটি টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগে খালেদা জিয়া ও তার সাবেক মন্ত্রিসভার ১০ জনসহ ১৬ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলাটি করেছিল।
যা বললেন সাবেক সিইসি নুরুল হুদা ও ইসি মাহবুব তালুকদার……
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা এবং নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার দায়িত্বে থাকাকালে যে দায়িত্ব পালন করতে পারেন নি বলে অভিযোগ, বর্তমান কমিশনের সঙ্গে এক সংলাপে বসে তারাই দিয়েছেন একগুচ্ছ সুপারিশ। এর মধ্যে কে এম নুরুল হুদা নির্বাচনের সময় বিপুল সংখ্যক আইন শৃংখলা বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আর মাহবুব তালুকদার নির্বাচনকালীন সময়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে নেয়ার সুপারিশ করেছেন।
আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমরা ভালো করতে পারব। আপনারা নির্বাচনের ভেতরের ও বাইরের চ্যালেঞ্জের বিষয়ে জানতে পারবেন। নানাভাবে চেষ্টা করব সবগুলো নির্বাচন সফল করার।’

রোববার সাবেক সিইসি, নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলা হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে সংলাপে যোগ দেন সাবেক সিইসি বিচারপতি মো. আব্দুর রউফ, ড. এ টি এম শামসুল হুদা, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ, সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক, জেসমিন টুলি ও মো. আবদুল্লাহসহ বেশ কয়েকজন।
সংলাপে অংশ নিয়ে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিপক্ষে মত দিয়ে বলেছেন, নির্বাচন করতে এতো আইনশৃংখলা বাহিনীর মোতায়েনের নজির পৃথিবীর আর কোথ্ওা নেই। আর সাবেক নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, বিশ্বমানের নির্বাচন করতে হলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্বাচনকালে নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত করতে হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত মার্চ মাস থেকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সংলাপ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় কয়েক দফায় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ-বুদ্ধিজীবী ও নাগরিক সমাজ, সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপে বসে ইসি।

নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দরকার নেই : নুরুল হুদা
নির্বাচনে সেনাবাহিনী কোনো কাজে আসে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। তাই নির্বাচনে সেনা মোতায়েন না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। নুরুল হুদা বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচনে যে পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন হয় এটা বিশ্বে বিরল। মনে হয়, পৃথিবীতে কোথাও নাই। শত-শত, হাজার-হাজার লোক বন্দুক হাতে যুদ্ধাবস্থার মতো দাঁড়িয়ে থাকে। আমি দায়িত্বে থাকতেও বলেছি, এখনো বলেছি যে এসবের প্রয়োজন নাই।’ তিনি বলেন, ‘৭৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে। আমার যখন স্কুলে ছিলাম তখন দেখতাম একজন চৌকিদার বাঁশি মুখে আর হাতে লাঠি নিয়ে একটা কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করতো। এখন আর্মি, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ নামে। একটা কেন্দ্রে যে পরিমাণ সশস্ত্র সদস্য থাকে তা একটা থানার সমান। এখন তো আমাদের সেই পরিস্থিতি নেই যে, বাক্স আছে লোকজন ব্যালটে ভোট দেবে। এখন আছে ইভিএম। ইভিএম এমন একটা বিষয় যেখানে বাক্স ছিনতাই করা যায় না। একজনের ভোট আরেকজন দিতে পারে না। নির্বাচন শুরু হওয়ার আগে ইভিএম চালু করা যায় না। এর যথেষ্ট সুবিধা আছে।’

মাহবুব তালুকদার যা বললেন:
সাবেক নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, বাংলাদেশে বিশ্বমানের নির্বাচন করতে হলে একটি নিরপেক্ষ সরকার দরকার। গ্রহণযোগ্য সরকারই কেবল গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিতে পারে।
লিখিত বক্তব্যে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘আমার মতে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের একটাই চ্যালেঞ্জ। তা হলো, সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন করা। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।’
তিনি বলেন, আমাদের দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় নির্বাচনের প্রতিটি আসনে অধিষ্ঠিত সংসদ সদস্যদের পদে বহাল রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনের ধারণা বাতুলতা মাত্র। নির্বাচনের পূর্বে সংসদ সদস্যরা পদত্যাগ না করলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, অর্থাৎ সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
‘জাতীয় নির্বাচনে জেলা প্রশাসকদের তাদের নিজস্ব এলাকায় রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়ে থাকে। জেলা প্রশাসকের বদলে নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তাদের স্থলাভিষিক্ত করা প্রয়োজন। যদি একান্তই জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করতে হয়, তাহলে জাতীয় নির্বাচনের আগে তাদের ভিন্ন জেলায় বদলি করা আবশ্যক।’
মাহবুব তালুকদার বলেন, বর্তমানে সংলাপের যে ধারা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা আমার কাছে গতানুগতিক মনে হয়। বিগত কমিশনগুলোর সংলাপ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আমন্ত্রিত সুধীজন প্রায় একই ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন। ইভিএম বা ভোটকেন্দ্রের পাহারা এই মুহূর্তের চ্যালেঞ্জ নয়।
তিনি বলেন, আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, বিশ্বমানের নির্বাচন করতে হলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্বাচনকালে নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত করতে হবে। পুলিশের কার্যক্রম কঠোরভাবে মনিটর ও নিয়ন্ত্রণ করা আবশ্যক।’
সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে হলে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের সংলাপ প্রয়োজন। আমি যে রূপরেখা উপস্থাপন করলাম, তার বাস্তবায়ন করতে হলে সংবিধান সংশোধন করা অপরিহার্য। সংবিধান সংশোধন না করা হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরিবর্তন করা যাবে না। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক এর মৃত্যু, আইনমন্ত্রীর শোক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক আর নেই। শনিবার রাত ১টার দিকে তাঁর নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি।
আইনমন্ত্রী এক শোকবার্তায় বলেন, মরহুম আব্দুর রাজ্জাক ছিলেন কুটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও জনদরদি নেতা। তাঁর মৃতুতে কুটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে হারালো। কুটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে তাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
শোকবার্তায় আইনমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নির্বাচনী এলাকার অধীন কুটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক ।
দুদকের ১৩(৩) বিধির বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ১৩(৩) বিধি অনুসারে তফসিলভুক্ত অপরাধ সংঘটনের বিষয়ে অভিযোগ কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সরাসরি আদালতে দায়ের করা যাবে না—এ বিধি প্রশ্নে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এক সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন।
দুদক নিজেই মামলা করার ক্ষমতাসংক্রান্ত দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা-২০০৭ সংশোধন করে ২০১৯ সালের ২০ জুন গেজেট জারি করে।
সংশোধনীর কয়েকটি বিধি চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ১৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস ও নওশীন নাওয়াল একটি রিট করেন।
রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে থানার পরিবর্তে দুদক কার্যালয়ে এজাহার গ্রহণ করার নিয়ম কেন বাতিল ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
আগের রিটের ধারাবাহিকতায় দুদক বিধিমালার ১৩(৩) বিধি নিয়ে গত ৯ জুন সম্পূরক আবেদনটি করা হয় বলে জানান রিট আবেদনকারী সুবীর নন্দী দাস।
সুবীর নন্দী দাস বলেন, দুদক বিধিমালার ১৩(৩) বিধি কেন বাতিল ও সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
আইনসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, দুদক চেয়ারম্যান, সচিবসহ বিবাদীদের ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছেন আদালত।
স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি আজাদ, সাহেদসহ ৬ জনের বিচার শুরু
রিজেন্ট হাসপাতাল ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন ঢাকার একটি আদালত।
মামলায় অপর ৫ আসামি হচ্ছেন সাবেক পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আমিনুল হাসান, উপপরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. শফিউর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রিসার্চ অফিসার ডা. মো. দিদারুল ইসলাম এবং রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহেদ করিম।
আজাদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অপর ৪ জন জামিনে রয়েছেন এবং শাহেদ জেলে আছেন। ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর আসামিদের সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর জানান, এর আগে তাদেরকে মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দে জন্য জমা দেওয়া আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক।
বিচারক মামলার বিচার শুরুর জন্য ৪ জুলাই দিন ধার্য করেছেন।
২২০০ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি : আরএসআরএমের এমডি মাকসুদুর গ্রেপ্তার
বিপুল অংকের দেনার চাপে বন্ধ হয়ে যাওয়া রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলের (আরএসআরএম) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকসুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বুধবার রাতে ঢাকার গুলশান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় ক্যামেরা এড়াতে পরনের পাঞ্জাবি দিয়ে মুখ ঢাকতে দেখা যায় তাকে।
মাকসুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করতে বুধবার রাত ১১টার দিকে গুলশান-২ নম্বর সেকশনের ১২২ নম্বর সড়কে একটি বাসায় অভিযান শুরু করে র্যাব। দুই ঘণ্টা পর তাকে গাড়িতে তুলে ওই বাড়ি থেকে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, “রতনপুর গ্রুপের এমডি মাকসুদুর রহমান দেশের অন্যতম শীর্ষ ঋণখেলাপি। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় চট্টগ্রামের আদালত তার বিরুদ্ধে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এর একটিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হল।
১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত আরএসআরএম এক সময় ছিল চট্টগ্রামের ইস্পাত খাতের নামী কোম্পানি। ৪০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) আরএসআরএম গ্রুপের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ফলে ২০২১ সালের শুরু থেকেই এ কারখানা বন্ধ রয়েছে।
সংবাদমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ব্যবসা করার জন্য ঋণ নিয়ে তা শোধ না করায় আরএসআরএমের কাছে দশটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাওনা দাঁড়িয়েছে ২২০০ কোটি টাকা। ওই পাওনা আদায়ে কোম্পানি এবং এর কর্ণধারদের বিরুদ্ধে অন্তত ২০টি মামলা হয়েছে।
এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের দায়ের করা দুটি এনআই অ্যাক্টের মামলায় মাকসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
জনতা ব্যাংকের ৩১৩ কোটি টাকা ঋণ শোধ না করায় চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি মাকসুদুরের দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
আরএসআরএমের কাছে সোনালী ব্যাংকের পাওনা ২০১ কোটি টাকা। ওই টাকা আদায় করতে না পেরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় আরএসআরএমের কারখানাসহ ১০০ শতক জমি নিলামে তোলার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সূত্র- বিডি নিউজ।
আ্ওয়ামী লীগ নেতা টিপু হত্যা: ওমানে গ্রেপ্তার মুসাকে আনা হল দেশে
মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু এবং কলেজ ছাত্রী সামিয়া আফনান প্রীতি হত্যার অন্যতম সন্দেহভাজন সুমন শিকদার মুসাকে ওমান থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবি ডেস্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মহিউল ইসলাম জানান, ওমানে গ্রেপ্তার মুসাকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে নিয়ে আসা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ওই ফ্লাইট চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় এলেও খারাপ আবহাওয়ায় নামতে না পেরে আবার চট্টগ্রামে ফিরে গেছে। আবহাওয়া ভালো হলেই মুসাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে মুসাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহিদুর রহমান, অতিরিক্ত উপকমিশনার রফিকুল ইসলাম এবং পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দীন ওমানে গিয়েছিলেন। বুধবার রাতে তারা মুসাকে নিয়ে দেশের পথে রওনা হন।
এ মামলার তদন্তে মুসার নাম আসার পর তাকে ধরতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতা চেয়েছিল বাংলাদেশের পুলিশ। এর ভিত্তিতে ইন্টারপোল ১২ মে ওমানে গ্রেপ্তার করে মুসাকে।
বাংলাদেশের হয়ে ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবি ডেস্কের। তারা মুসার গ্রেপ্তারের বিষয়ে নিশ্চিত হয় ২৬ মে। এরপর গত ৩ জুন এনসিবি ডেস্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মহিউল ইসলাম মুসার ধরা পড়ার তথ্য সংবাদমাধ্যমকে জানান।
মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক টিপু সড়কে গাড়িতে থাকা অবস্থায় গত ২৪ মার্চ রাতে খিলগাঁও রেলগেইটের কাছে আক্রান্ত হন। মোটর সাইকেলে আসা এক ব্যক্তি যানজটে আটকে পড়া টিপুর গাড়ির কাছে এসে তাকে গুলি করে।
সে সময় গাড়ির পাশে রিকশার আরোহী কলেজছাত্রী প্রীতিও গুলিবিদ্ধ হন। হাসপাতালে নিলে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
হত্যাকাণ্ডের পর টিপুর স্ত্রী স্থানীয় নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি যে মামলা করেছেন, তাতে আসামির তালিকায় কারও নাম উল্লেখ করা ছিল না।
পরে ২৬ মার্চ রাতে বগুড়া থেকে মাসুম মোহাম্মদ ওরফে আকাশ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই ব্যক্তিই টিপুকে গুলি করেছিলেন। পরে আরফান উল্লাহ দামাল নামে আরও একজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয় কমলাপুর থেকে।
এরপর ২ এপ্রিল মুসার ভাই সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ, মতিঝিল থানার ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় র্যাব।
র্যাব সে সময় বলেছিল, চাঁদাবাজি ও দরপত্র নিয়ে আধিপত্যের দ্বন্দ্ব, রিয়াজুল হক মিল্কী হত্যার বদলা এবং বোঁচা বাবু হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে টিপুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ওমর ফারুকসহ স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা। বাজেট ছিল ১৫ লাখ টাকা।
তদন্তকারীদের ভাষ্য, মুসা ‘রাজনীতি ও অপরাধজগতের মধ্যে যোগসূত্র’ হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। ঢাকা ও দুবাইয়ের অপরাধজগতের মধ্যেও সংযোগের সমন্বয় করতেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের ১২ দিন আগেই মুসা দুবাই চলে যান। হত্যা পরিকল্পনা এবং যাবতীয় নির্দেশনা সেখান থেকেই দেয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পর দুবাইতে বার্তা যায় ‘কাজ শেষ’।
এরপর মুসা দুবাই থেকে ওমানে গেছেন বলে গত মাসেই সংবাদপত্রে খবর আসে। পুলিশ সদরপ্তরও মুসার দুবাই থেকে ওমান যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে।
এদিকে বাংলাদেশের পুলিশও মুসাকে ধরার জন্য ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। সেই প্রক্রিয়াতেই সাফল্য এসেছে বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য।খবর –বিডি নিউজ ।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সাংবাদিক ফজলে এলাহীর জামিন
রাঙ্গামাটিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার সাংবাদিক ফজলে এলাহীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (৮ জুন) দুপুর ১টার দিকে রাঙ্গামাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ফাতেমা বেগম মুক্তা তার জামিন মঞ্জুর করেন।
ফজলে এলাহী দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক। একই সঙ্গে তিনি দৈনিক কালের কণ্ঠ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, এনটিভি ও ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর জেলা প্রতিনিধি।
রাঙ্গামাটি জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম ফজলে এলাহীর জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে সাত কার্যদিবসের মধ্যে উপস্থিত হওয়ার শর্তে ফজলে এলাহীকে জামিন দেয়া হয়েছে।’
গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুন) সন্ধ্যায় সাংবাদিক ফজলে এলাহীকে ডিজিটাল নিরাপত্তার আইনের মামলায় গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে করা এ মামলার বাদী জেলা মহিলা আওয়ামী সভাপতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনুর মেয়ে নাজনীন আনোয়ার নিপূণ। ২০২১ সালে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।











