ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩   ভোর ৫:৫৯ 

Home Blog Page 30

মানব নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি সন্ত্রাসবাদ: আইনমন্ত্রী

0

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আজকের বিশ্বে গণতন্ত্র, শান্তি এবং মানব নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর মধ্যে সন্ত্রাসবাদ একটি। বৈশ্বিক হুমকি হওয়ায় বিশ্বের প্রতিটি দেশকে এ সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে মামলা ব্যবস্থাপনা এবং প্রসিকিউটরিয়াল ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক বিশেষজ্ঞ প্রোগ্রামের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওপিডিএটি-এর সহযোগিতায় ঢাকায় আয়োজিত ছয়মাস মেয়াদি এই প্রোগ্রামে বাংলাদেশের সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউটরগণ অংশ নেন। বক্তৃতার প্রারম্ভে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রতি বন্দুকধারীর গুলিতে নিরপরাধ ১৯ শিক্ষার্থীসহ ২১ জন নিহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন এবং নিহতদের স্মরণে কিছু সময় দাঁড়িয়ে নিরবতা পালনের আহবান জানালে সকলে দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করেন। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ সন্ত্রাস দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা মোকাবিলায় বাংলাদেশের অর্জিত সাফল্য দেশে ও বিদেশে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত ও প্রশংসিত হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সন্ত্রাসবাদের প্রস্তুতি, সহায়তা এবং উস্কানিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে ২০০৯ সালে সন্ত্রাস বিরোধী আইন প্রণয়ন করেছে। এছাড়া ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত অপরাধ দমনের জন্য ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করেছে। উভয় আইন অনুসারে, সন্ত্রাস ও সাইবার অপরাধের সুষ্ঠু ও কার্যকর বিচারের জন্য সারা দেশে সাতটি সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এবং আটটি সাইবার ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আনিসুল হক বলেন, করোনার মহামারির সময়েও জনগণের ন্যায়বিচারের অধিকার রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায়, ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ’ জারি করে ভার্চুয়াল আদালত চালু করা হয়েছিল। করোনার মহামারি পরিস্থিতি সত্ত্বেও, সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালগুলো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি করেছে যা জরুরি সমস্যা মোকাবিলায় এবং কারাগারে বন্দীদের ভিড় কমাতে অনেক অবদান রেখেছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারোয়ার, মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক ডেভিড কার্টার অনুষ্ঠানে বক্তৃতা প্রদান করেন। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের আবাসিক আইন উপদেষ্টা মিশেল প্রিন্স অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য যা যা লাগবে

0

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক নতুন দলগুলোকে নিবন্ধন নেয়ার জন্য আবেদন আহ্বান করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি বছরের ২৯শে আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। ২৬ মে এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৯০ক এর অধীন নিবন্ধন করতে ইচ্ছুক রাজনৈতিক দলগুলোকে আগামী ২৯শে আগস্টের মধ্যে আবেদন করতে হবে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮-এ উল্লেখিত শর্তাবলী পূরণে সক্ষম রাজনৈতিক দলসমূহকে বিধিমালায় সংযোজিত ফরম-১ নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত নির্দেশিকা মোতাবেক পূরণ করতে হবে। এরপর ওই দলের স্বীয় লেটারহেড প্যাডে দরখাস্ত করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে দলের গঠনতন্ত্র, নির্বাচনী ইশতেহার (যদি থাকে), দলের বিধিমালা (যদি থাকে), দলের লোগো এবং পতাকার ছবি, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি বা সমমানের কমিটির সব সদস্যের পদবিসহ নামের তালিকা, দলের নামে রক্ষিত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও ব্যাংকের নাম এবং ওই অ্যাকাউন্টের সর্বশেষ স্থিতি, দলের তহবিলের উৎসের বিবরণ, দলের নিবন্ধনের দরখাস্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুকূলে প্রদত্ত ক্ষমতাপত্র জমা দিতে হবে।
এছাড়া নিবন্ধন ফি বাবদ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব বরাবর জমাকৃত অফেরতযোগ্য টাকার ট্রেজারি চালানের কপি জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিল করার তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যে কোনো একটিতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কমপক্ষে একটি আসন লাভের সমর্থনে প্রামাণিক দলিল জমা দিতে হবে। অথবা, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিল করার তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যে কোনো একটিতে ওই দলের নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত ভোটের শতকরা পাঁচভাগ ভোট লাভের সমর্থনে কমিশন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক ইস্যুকৃত প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে।
এছাড়াও দলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় দপ্তর, অন্তত এক তৃতীয়াংশ প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর জেলা দপ্তর এবং অন্তত ১০০টি উপজেলা বা মেট্রোপলিটন থানায় কার্যকর দপ্তর এবং প্রতি উপজেলায় বা থানায় অন্তত ২০০ ভোটার সদস্য হিসেবে দলের তালিকাভুক্ত থাকার সমর্থনে প্রামাণিক দলিল দাখিল করতে হবে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর ওই দলের অনুকূলে কমিশন ফরম-৩ এ একটি নিবন্ধন সার্টিফিকেট প্রদান করবে। এরপর নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে।

অগ্রাধিকার সুবিধাগুলো অব্যাহত রাখতে জাপান ও ওইসিডি’র দেশগুলোর সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান এবং ও ওইসিডি’র দেশগুলোর প্রতি বাংলাদেশকে সহজে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে অন্তত ২০২৯ সাল পর্যন্ত অগ্রাধিকারমূলক সুবিধাগুলো অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ থাকবো যদি জাপান এবং অন্যান্য ওসিডি’র দেশগুলো কমপক্ষে ২০২৯ সাল পর্যন্ত অগ্রাধিকার সুবিধাগুলো প্রসারিত করে। যাতে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের সর্বোচ্চ লক্ষ্য অর্জন আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়।’
এশিয়ার ভবিষ্যত বিষয়ক ২৭তম আন্তর্জাতিক নিক্কেই সম্মেলনে শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।
দুই দিনব্যাপী সম্মেলনটি জাপানের রাজধানী টোকিওতে স্ট্রিমিং এবং অন-সাইট উপস্থিতি উভয় ক্ষেত্রেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কারণ অনুষ্ঠানটি এই বছরের সম্মেলনের সাথে একটি হাইব্রিড বিন্যাসে হচ্ছে, যার শিরোনাম হচ্ছে ‘বিভক্ত বিশ্বে এশিয়ার ভূমিকা পর্যালোচনা করা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বন্ধুদেশ ও অংশীদারদের প্রতি ২০২৬ সালের পরও বর্ধিত সময়ের জন্য বাংলাদেশকে অগ্রাধিকারমূলক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর কথা বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি দেশের সাথে এফটিএ নিয়ে আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে এবং জাপানসহ অন্যান্য দেশের সাথে এফটিএ এবং সিইপিএ নিয়ে আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে।’
প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আতিথ্য দিচ্ছে এবং তাদের অবশ্যই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিজ বাসভূমে নিরাপদ, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সাথে ফেরত পাঠাতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এই সংকটের একটি গ্রহণযোগ্য মীমাংসা খুঁজে পেতে অবদান রাখতে এবং আমাদের সাহায্য করার জন্য আপনাদের সকলকে অনুরোধ করছি।’
এশিয়াকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ও জনবহুল মহাদেশ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এখানে বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ বাস করে। এটি বিশ্বের অধিকাংশ দরিদ্র মানুষেরও আবাসস্থল।
‘অতএব, আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য মিটিয়ে বিরোধপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে শান্তি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। শুধুমাত্র শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ সৃষ্টি করেই এশিয়ার দেশগুলো জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পররাষ্ট্র নীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ পন্থা অনুসরণ করে।
তিনি বলেন, এটি জাতিসংঘের একটি প্রস্তাব দ্বারা স্বীকৃত, ‘শান্তির সংস্কৃতি’ যা ১৯৯৯ সালে গৃহীত হয়েছে এবং এর পর থেকে প্রতি বছর এটাকে স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে।
এশিয়ার দেশের সরকার হিসেবে তিনি বলেন, তাঁরা এই বছরের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘এশিয়ার ভবিষ্যত’কে সম্বোধন করায় তাদের দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করতে এখানে জড়ো হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যৎ এশিয়া গড়ার জন্য সম্মেলনে পাঁচটি ধারণা শেয়ার করে বলেন, ‘আপনাদের প্রতিফলনের জন্য কিছু ধারণা আপনাদের সাথে শেয়ার করে শেষ করছি।’
শেখ হাসিনা তাঁর প্রথম প্রস্তাবে বলেন, এশিয়ার দেশগুলোকে একে অপরের প্রতি বন্ধুত্ব, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে এবং বিভাজন মোকাবেলায় সংহতি প্রচার করতে হবে।
দ্বিতীয় এবং তৃতীয় প্রস্তাবে, তিনি বলেন, কীভাবে আইসিটি’র সফ্ট পাওয়ারকে আমাদের দেশ এবং এশীয় দেশগুলো ন্যায্যতা, সম্মান, ন্যায়বিচার, অন্তর্ভুক্তি এবং অন্তর্ভুক্তি রক্ষার প্রয়োজনীয়তার মধ্যকার ব্যবধান পূরণের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করতে পারে। আমাদের কাজের মধ্যে সমতা আনয়ন করতে পারে এবং তারা তা অন্বেষণ করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর চতুর্থ এবং পঞ্চম ধারনার বর্ননা করার সময় অভিমত ব্যক্ত করেন যে এশিয়ার ভবিষ্যত নির্ভর করবে টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার উন্নতি এবং উভয় পক্ষের জন্য সুবিধাজনক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপনের উপর এবং এশিয়ার দেশগুলির অভিন্ন উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং তাদের তা ঐক্যবদ্ধভাবে এবং সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করা উচিত।
তিনি বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাহায্য করার জন্য ভালো অনুশীলন, জ্ঞান ও প্রযুক্তি ভাগ করে নিতে আমাদের বাহিনীকে একত্রিত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, টেকসই বিশ্ব এবং আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে একটি শান্তিপূর্ণ, টেকসই ও সমৃদ্ধ এশিয়া নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সব বন্ধু ও অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সবে মাত্র তার স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন সম্পন্ন করেছে।
১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্কুল-শিশুসহ জাপান ও সে দেশের জনগণের অমূল্য সমর্থন ও অবদানের জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়া দেশগুলোর অন্যতম জাপান, তারা ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি এই স্বীকৃতি প্রদান করে।
তাঁরা বাংলাদেশে গত ১৩ বছরে উন্নয়নকে জনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্ঞানভিত্তিক, সমৃদ্ধ ও আধুনিক জাতি গঠনের লক্ষ্যে নেতৃত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে যেতে আমরা আমাদের আর্থ-সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পুননির্ধারণ করেছি।
তিনি বলেন, ‘যেমন, আমরা ভিশন ২০২১ এবং ভিশন ২০৪১ এর পরে ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ প্রণয়ন করেছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৃহত্তর অর্থনীতির একটিতে পরিণত হয়েছে। এই যাত্রা জাপান এবং আমাদের বন্ধু এবং অংশীদারদের দ্বারা সমর্থিত।’
বিশ্বের অন্যান্য অংশের মতো বাংলাদেশও চলমান কোভিড-১৯ দ্বারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৯ সালে মহামারির আগে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। ২০২০ সালে এটি ৩ দশমিক ৫১ এবং ২০২১ সালে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
তিনি বলেন,‘আমরা চলতি অর্থবছরে ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধির হার অর্জনের আশা করছি।’
তিনি বলেন, মহামারির প্রভাব মোকাবেলা করার সময় তাঁরা জীবন এবং জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। প্রকৃতপক্ষে, তুলনামূলকভাবে আমরা সফলভাবে মহামারির চ্যালেঞ্জগুলো পরিচালনা করতে পেরেছি।
তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টা ২০২২ সালের এপ্রিলের জন্য নিক্কেই-এর কোভিড-১৯ পুনরুদ্ধার সূচকে স্বীকৃত হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশ ১২১টি দেশের মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে এবং কোভিড ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা পারফরম্যান্সকারী দেশ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়া অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি ৪৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছানোর, পণ্য রপ্তানি আয় ৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি, রেমিট্যান্স ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং মাথাপিছু আয় ২,৮২৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত হওয়া প্রত্যাশিত।
সাম্প্রতিক কপ-২৬ সহ সকল আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ সক্রিয় এবং সোচ্চার হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে থাকা ৪৮-সদস্যের দেশগুলোর একটি কণ্ঠস্বর হিসাবে কাজ করতে ২০২০-২০২২ সালের জন্য ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছিলাম।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সার্ক, বিমসটেক, আইওআরএ, ওআইসি, ন্যাম, এআরএফ, আসেম, সিকা, কমনওয়েলথের মতো আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহযোগিতার জন্য সংলাপ প্রচারে সক্রিয় রয়েছে। বাসস।

স্যালুট আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

0

সদিচ্ছা থাকলে সবকিছুই সম্ভব। নিজে সৎ থাকলে সৎ চিন্তা থাকলে চারপাশও সৎ রাখা সম্ভব। দেশের মানুষ শান্তি চায়, নিরাপত্তা চায়। রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন, সরকার যারা চালান তারা যেনো সৎ হন দেশের নাগরিকরাও সেটাই চায়। ফলে দেখা যায় সরকার পরিচালকদের মধ্যে কেউ একটু ভালো কাজ করলেই তিনি প্রশংসার জোয়ারে ভাসেন। মানুষ তাঁর প্রশংসা করেন। এর সর্বশেষ উদাহরণ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর একটা ছবি রীতিমত ভাইরাল হয়ে যায়। ছবিতে দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে যে আশ্রয়ণ প্রকল্প হচ্ছে সেই প্রকল্পের কাজে সরেজমিনে দেখতে গিয়ে এলাকার সংসদ সদস্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মই বেয়ে উপরে ওঠে কাজের মান পর্যবেক্ষণ করেছেন। রোদ আর প্রচণ্ড গরমে নেয়ে-ঘেমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে এই আশ্রয়ণ পকল্পের কাজ দেখে প্রশংসিত হয়েছেন আইনমন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগমা মাধ্যমে এ ছবি এবং খবর ব্যাপক প্রচার হয়েছে। মানুষ প্রশংসা করেছে।
স্থানীয় পরিচিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, আখাউড়ার এই আশ্রয়ণ প্রকল্পটিতে ঘর নির্মাণে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় সেখানকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে ইতিমধ্যে বদলী করা হয়েছে।
জানা গেছে, আখাউড়ার ইউএনও রুমানা আক্তার ও এসি ল্যান্ড সাইফুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠলে স্থানীয় জেলা প্রশাসক তা তদন্ত করেন। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে নিম্নমানের কাজ, নিয়ম অনুযায়ী রড, সিমেন্ট না দেয়াসহ অন্যান্য অভিযোগের ভিত্তিতে ৮৮টি ঘরের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

পরে ইউএনও রুমানা আক্তারকে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলামকে বান্দরবানের থানচি উপজেলায় বদলি করা হয়। অভিযোগ ওঠে, একজন ঠিকাদারকেই ইউএনও ১৬৯টি ঘর নির্মাণের কাজ দেন। যেখানে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে প্রশংসিত ও ভাল উদ্যোগ ছিলো ভূমিহীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে সারাদেশে ভূমিহীনদের জন্য সরকারি খাস জমিতে ঘর বানিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু এই প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির আভিযোগ ওঠে। নিম্ন মানের মালামাল দিয়ে ঘর বানানোর ফলে অনেক স্থানে ভেঙ্গে পড়ে ঘর। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে অনেক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
এ অবস্থায় আইনমন্ত্রী তার নিজের সংসদীয় এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনিয়মের খবর পেয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেন এবং নিজেই বিষয়টি মনিটর করেন। আইনমন্ত্রীর এলাকার মতো সারাদেশেই মন্ত্রী এমপিদের এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্প হচ্ছে। কিন্তু যেসব অনিয়ম দুর্নীতির খবর প্রকাশ হয় তাতে মন্ত্রী এমপিরা খুব একটা গায়ে মাখেন নি। স্থানীয় প্রশাসনের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ রাজনৈতিক অবস্থান থেকে মন্ত্রী এমপিরা দায়িত্ব নেননি। অথচ মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ করেই শুধু নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের যেসব ভাল কর্মসূচি রয়েছে তারমধ্যে সবচেয়ে ভাল ও শ্রেষ্ঠ কর্মসূচি হলো ভূমিহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ করে আশ্রয় দেয়ার প্রকল্প। মাথার ওপর যার আশ্রয় নেই তার অসহায়ত্ব সে ছাড়া কেউ বুঝবে না। গরীব এই রাষ্ট্রের এই উদ্যোগটি বিশ্বের অনেক গরীব দেশের কাছে মডেল হিসেবে স্থান পেয়েছে। কিন্তু মুজিব বর্ষে শেখ হাসিনার এই কর্মসূচী আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই সফলতার কথা রাজনৈতিকভাবে তুলে ধরে পারছেন না। তারা এটাকে আমলাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে স্থানীয়ভাবে তারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হননি। কোনো মন্ত্রী বা এমপি যদি শুরু থেকেই নিজ নিজ এলাকায় এই প্রকল্পটির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করতেন, নজরদারি করতেন তাহলে মাঠ পর্যায়ের ছোট আমলারা এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হতে পারতেন না।
যেমনটা সম্ভব হয়নি আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নিজ এলাকায়। তিনি এলাকার সংসদ সদস্য, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এতো ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি তার এলাকার এই প্রকল্পটিতে নজর রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর আবেগের একটি প্রকল্প আশ্রয়ণ প্রকল্পে কোনো অনিয়ম সহ্য করেন নি। অনিয়মের খবর পেয়ে প্রশাসনের ক্ষুদে আমলাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এটা সম্ভব হয়েছে আইনমন্ত্রীর তাঁর নিজের সততার কারণে। রাজনৈতিক আঙ্গীকারের কারণে। রাষ্ট্রের গরীব মানুষ যাদের মাথা গোঁজার ঠাই নেই, এতটুকু আশ্রয় নেই, সেই তাদের জন্য নির্মিত একটি ঘর বানাতেও যদি দুর্নীতি হয় তা হলে দেশপ্রেম বলতে কিছু থাকে না। কিন্তু অনেক মন্ত্রী এমপির এলাকাতেই দেখলাম এই অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে চুপ থাকতে।
ব্যতিক্রম করলেন আইনমন্ত্রী। একটি ভালো কাজের প্রশংসা করতেই হয়। তাঁর ছবি দিয়ে নেটিজেনারই বলছেন, স্যালুট আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এ জামানায় একজন মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতার জনগণের কাছ থেকে স্যালুট পাওয়া অনেক বড় পাওয়া। এটা স্বীকার করতেই হবে।

৪৩৭ কোটি টাকা পরিশোধ করায় ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার

0

গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১১০টি মামলার সবগুলো সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন গ্রামীণ টেলিকমের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সমঝোতার পর সম্প্রতি এসব মামলা প্রত্যাহার করা হয়।
গ্রামীণ টেলিকমের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী জানান, তার মক্কেলরা বকেয়া ৪৩৭ কোটি টাকা পরিশোধের দাবিতে শ্রম আদালতে ১০৪টি এবং হাইকোর্টে ৬টি মামলা করেছিলেন।
‘গ্রামীণ টেলিকম ম্যানেজমেন্ট টাকা দিতে রাজি হওয়ায় ১৭৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আমাদের মামলা প্রত্যাহার করতে বলেছেন এবং সেই অনুযায়ী আমরা সব মামলা প্রত্যাহার করেছি’, যোগ করেন তিনি।
উভয় পক্ষের আইনজীবীরা বিষয়টি আদালতের বাইরে নিষ্পত্তির বিষয়ে অবহিত করার পর বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ গ্রামীণ টেলিকমের অবসান চেয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়ের করা অবসায়নের আবেদনও খারিজ করে দেন।
গ্রামীণ টেলিকমের আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, ‘গ্রামীণ টেলিকমের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১০ থেকে ১২ বছর ধরে শ্রম আইনে কোম্পানির মুনাফার একটি অংশ দাবি করে আসছেন এবং তারা সেই দাবিতে শ্রম আদালত ও হাইকোর্টে মামলা করেছেন। গত মাসে গ্রামীণ টেলিকমের ম্যানেজমেন্ট এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দাবির বিষয়ে পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছেছেন। এরইমধ্যে কিছু টাকা তাদের পরিশোধ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী কোম্পানি ও অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সূত্র-ডেইলী স্টার।

ছয় কোটি টাকা লোপাট; ১০ কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

0

জালিয়াতির মাধ্যমে চাহিদাপত্র ও ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে প্রায় ছয় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ও বর্তমান ১০ কৃষি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এর উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন (মামলা নম্বর ৯ ও ১০)।
দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আরিফ সাদেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদক সূত্র জানায়, একটি মামলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাবেক সহকারী পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ শরীফুল ইসলাম (৬২), সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) আবুল হাশিম (৬১), দেওয়ানহাট হার্টিকালচারের সাবেক নার্সারি তত্ত্বাবধায়ক কাজী নুরুল আবছার, দেওয়ানহাট হার্টিকালচার সেন্টারের উচ্চমান সহকারী আব্দুল হালিম ওরফে মোহাম্মদ আবদুল হালিম (৪৩), টেকনাফ উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম (৪২), ক্যাশিয়ার ফিরোজ খাঁনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে মাঠ পর্যায়ের উপজেলা কৃষি অফিস ও হর্টিকালচার সেন্টার থেকে অর্থ বরাদ্দের চাহিদাপত্র ছাড়া অনুমোদনের নথি উপস্থাপন না করে জালিয়াতি, প্রতারণা, অপরাধমূলক অসদাচরণ ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে একক স্বাক্ষরে ২০১৬-২০১৭ ও ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন উপজেলা কৃষি অফিস ও হর্টিকালচার সেন্টারে ৫ কোটি ৩২ লাখ ৭ হাজার ৮৫ টাকা বিশেষ অর্থ বরাদ্দ প্রদান করেন।
পরে আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে বরাদ্দকৃত বিশেষ অর্থ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কোডগুলোর আওতায় ব্যয় দেখিয়ে নিজেরা আত্মসাৎ করেছেন।
দুদক সূত্র জানায়, দ্বিতীয় মামলাটিতে আসামি করা হয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাবেক সহকারী পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ শরীফুল ইসলাম, প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের স্টোর কিপার অলিউল্লাহ প্রধান, সিনিয়র হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নাফিসা সরকার (৪৮), প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল হাসেম ও ক্যাশিয়ার জাহিদ হাসানকে।
তাদের বিরুদ্ধে একই অর্থবছরে ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে মোট ৫৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, প্রায় ছয় কোটি টাকা আত্মসাৎকারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই চক্রের নাটের গুরু হলেন সাবেক সহকারী পরিচালক সৈয়দ শরীফুল ইসলাম।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিস্তারিত তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হবে। সূত্র-বাংলা ট্রিবিউন।

চুমকি কারাগারে

0

অবৈধ সম্পদের মামলায় টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের স্ত্রী চুমকি কারণ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। সোমবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক মুন্সী আব্দুল মজিদ তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
দুদকের করা এ মামলায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর প্রদীপ ও চুমকির বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।
গত ১৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মুন্সী আব্দুল মজিদের আদালত দুর্নীতি মামলার চার্জগঠনের মাধ্যমে প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন।
গত ২৬ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন। প্রদীপ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকলেও এতদিন পলাতক ছিলেন তার স্ত্রী চুমকি।
জানা গেছে, চুমকির ৪ কোটি ৮০ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫১ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিপরীতে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ২ কোটি ৪৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৩৪ টাকা। বাকি সম্পদ অর্থাৎ ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় ছয়তলা বাড়ি, ষোলশহরে বাড়ি, ৪৫ ভরি স্বর্ণ, একটি কার ও মাইক্রোবাস, কক্সবাজারের একটি ফ্ল্যাট ও ব্যাংক হিসাবের মালিক প্রদীপের স্ত্রী চুমকি। প্রদীপের ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে স্ত্রী চুমকি এসব সম্পদ অর্জন করেন বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে। এ ছাড়া চুমকি নিজেকে মাছ ব্যবসায়ী দাবি করলেও তার কোনো প্রমাণ পায়নি দুদক।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই টেকনাফের বাহারছড়ায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা। এ ঘটনায় একই বছরের ৬ আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন প্রদীপ। সিনহা হত্যা মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বদির বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা চলবে: হাইকোর্ট

0

কক্সবাজারের টেকনাফের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে করা দুর্নীতি মামলার বিচার কার্যক্রম চলবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে বদির করা আবেদন খারিজ করে দিয়ে রোববার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এ আদেশের ফলে বদির বিরুদ্ধে বিচারকাজ পরিচালনা করতে নিম্ন আদালতের বাঁধা দূর হলো।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, জ্ঞাত আয়ের বাইরে ৬৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বদির বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানায় দুদক এ মামলা করেছিল।
মামলাটি এখন চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল মেট্রোপলিটন দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন।
হাইকোর্টে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আনা খানম কলি।
স্থগিতাদেশের আবেদনের শুনানিতে বদির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রফিকুল ইসলাম সোহেল।

গাইবান্ধায় তদন্ত করতে গিয়ে ধর্ষন: অভিযুক্ত এসআইর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি

0

মামলার তদন্ত করতে এসে বাদীর মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুল হক-এর বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে আদালতে মামলাও হয়েছে।
পুলিশের হুমকিতে ভুক্তভোগী ওই নারী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। শনিবার (২১ মে) তিনি গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এসে সংবাদ সম্মেলন করে এসআইয়ের শাস্তি দাবি করেছেন। ওই পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে রংপুরের মিঠাপুকুর থানায় কর্মরত আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ওই নারী অভিযোগ করেন, “তার বিধবা মা সোনাভান বেওয়া ২০২১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জমিজমা নিয়ে ফুলছড়ি থানায় আটজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। পরে ২৪ অক্টোবর রাতে মামলার তদন্ত করতে আসেন ফুলছড়ি থানার এসআই শামসুল হক । চরাঞ্চলের নিধুয়া পাথারের মধ্যে বাদীর বাড়িতে ঢুকে ঘর থেকে তার মা ও ছোট ভাইকে বের করে দিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে কু-প্রস্তাব দেন। এক পর্যায়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। পরদিন ভুক্তভোগী নারী থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আহম্মেদকে ঘটনাটি জানান। কিন্তু ওসি তাদের অভিযোগের কোন সুরাহা না করে থানা থেকে বের করে দেন। এ ঘটনার পর ১১ ডিসেম্বর তদন্তের কথা বলে এসআই শামসুল হক ভুক্তভোগী নারীকে বালাসীঘাটে ডাকেন। সেখানে তার খালার বাড়িতে আবারও ধর্ষণ করেন। এতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি ওষুধ প্রয়োগে তার আড়াই মাসের বাচ্চা নষ্ট করেন এসআই শামসুল। এতে ওই নারী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। এ ঘটনার পর গত ৯ জানুয়ারি গাইবান্ধা পুলিশ সুপার বরাবরে আবেদন করেন।”
ইতিমধ্যে অভিযুক্ত এসআই শামসুল হক ফুলছড়ি থানা থেকে বদলি হয়ে রংপুরের মিঠাপুকুর থানায় যোগ দেন। থানায় কোন প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তভোগী নারী গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলা করেন (নং ১২)।
দীর্ঘদিনেও পুলিশ কর্মকর্তা শামসুল হকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ওই নারী গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এসে সংবাদ সম্মেলন করেন এবং সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। তিনি সাংবাদিকদের কাছে বলেন, ‘ধর্ষণের দ্রুত বিচার না পেলে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হবেন।’ এ ব্যাপারে ওসি কাওসার আহম্মেদ জানান, ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবহিত নন। ভয়েস অফ আমেরিকা।

সময়মত বিচার না পেলে জনগণ বিচার বিভাগের ওপর আস্থা হারাবে: আইনমন্ত্রী

0

মামলার জট কমিয়ে আনতে বার বার সময় চেয়ে আবেদন না করতে আইনজীবীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, বলা হতো- সিভিল কেস বেগুন খেতের মতো। এটা প্রচলিত ছিল। এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। জনগণ সময়মত বিচার না পেলে বিচার বিভাগের ওপর আস্থা হারাবে। শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আইন ও বিচার বিভাগের আয়োজনে মামলাজট নিরসনে জিপি (গভর্নমেন্ট প্লিডার) ও পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর)দের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে মামলাজট এক বিরাট সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বাংলাদেশও এই সমস্যার বাইরে নয়। মামলাজট থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অনেক রকম পদক্ষেপ নিয়েছে। আরও অনেক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দেওয়ানী কার্যবিধির (সিপিসি) কিছু ধারা সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সিপিসি যখন তৈরি করা হয়েছিল তখন প্রযুক্তির এত উন্নয়ন হয়নি। প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে এখন বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় খবর পাঠাতে সময় লাগে কয়েক সেকেন্ড। পৃথিবী যখন এত এগিয়ে গেছে, আমার মনে হয় সিপিসির যেখানে বলা আছে অমুকটার জন্য ৪৫ দিন সময় দিতে হবে, অমুকটার জন্য ৬০ দিন সময় দিতে হবে। এত সময়ের আর প্রয়োজন নেই। বলেন, আদালত ও বিচারক সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সাক্ষ্য আইন যুগোপযোগী করা হচ্ছে। এই আইনের ১৫৫(৪) ধারা বাতিল করা হচ্ছে। এনআই অ্যাক্ট, ১৮৮১ সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) ওপর জোর দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেওয়ানী আদালতগুলোতে অনেক আপষযোগ্য মামলা দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। এই মামলাগুলো এডিআর পদ্ধতিতে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা গেলে মামলাজট অনেক আসবে। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানে সংযোজন করে দিয়ে গেছেন সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার কথা, যেটা অনেক গণতান্ত্রিক দেশের সংবিধানে নেই। বঙ্গবন্ধু এটা সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসেবে সংযোজন করে দিয়ে গেছেন। তার কন্যার সরকার এমন কোনো আইন করবে না, যাতে বাক-স্বাধীনতা বা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ব্যাহত হয়। আমরা সেটা করিনি। তিনি বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে কিছু সমস্যারও সৃষ্টি হয়েছে। সেসব সমস্যা হলো সাইবার ক্রাইম। আমাদের এই সাইবার ক্রাইম মোকাবিলা করতে হবে। অনেক অপরাধ আছে যেগুলো আর ফিজিক্যালি করা হয় না, কম্পিউটারের মাধ্যমে করা হয়। সেটার বিচার করা হবে কীভাবে? সে জন্য তো একটা আইন করতে হবে। আমরা সে জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট করেছি। তিনি বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট করার পরে কিছু মিসইউজ এবং অ্যাবিউজ যে হয়নি তা তো নয়। তিনি বলেন, আগে দেখা যেত, থানায় ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা হলেই একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হতো। আমি সেখানেও বলেছি যাতে এই মামলা করার সঙ্গে সঙ্গে যেন কাউকে গ্রেপ্তার না করা হয়। আদালত যদি মনে করেন এটা অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ তাহলে, সে রকম ব্যবস্থা নেবে। আর যদি মনে করেন, সমন দিলেই যথেষ্ট, সমন দেবেন। তাই বলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল করে ফেলতে হবে, আমি এটা সমর্থন করি না। আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী বলেন, আপনারা আগে দেখবেন ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে কোনো একটি ঘটনায় আদৌ মামলা হয়েছে কি না। তারপর সেটা বিবেচনা করবেন। আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের আট বিভাগের আটজন জিপি ও আটজন পিপি মামলাজট নিরসনের বিষয়ে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন। সভায় জিপি-পিপিগণ মামলাজট নিরসনে আদালতে সময়মত সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা, আরও বিচারক নিয়োগ, আদালত সংখ্যা বাড়ানো, সময়মত সমন জারি ও তার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, দেওয়ানী কার্যবিধির কিছু ধারা সংশোধন, মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও ডাক্তারের আদালতে সময়মত উপস্থিতি, বার ও বেঞ্চ এর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা সহ বিভিন্ন সুপারিশ করেন।