দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় যোগ্য ভোটারদের তালিকাভুক্ত করার কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার (২০ মে) থেকে চার ধাপে সম্ভাব্য ভোটার ও মৃত ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রথম ধাপে ৬৪টি জেলার ১৩৯টি উপজেলায় ৯ জুন পর্যন্ত ঘরে ঘরে তথ্য সংগ্রহের কাজ করবেন গণনাকারীরা।
এসময় ২০০৫ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে জন্মগ্রহণ করা ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।২০২৩ সালের ২ মার্চ, সর্বশেষ ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।তথ্য সংগ্রহ অভিযান চলাকালীন, বিদ্যমান ভোটাররা তাদের ঠিকানার তথ্য নবায়ন করার জন্য আবেদন করতে পারেন।শুক্রবার সকালে সাভার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে তথ্য সংগ্রহ অভিযানের সূচনা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল।
এছাড়া মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, খুলনা ও শরীয়তপুর-এ চারটি জেলায় এ কর্মসূচির মোড়ক উন্মোচন করেন চার নির্বাচন কমিশনার।নির্বাচন কমিশন এবার সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ ভোটার বৃদ্ধির অনুমান করেছে।
যদি কেউ ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করতে চান, তাহলে ব্যক্তির একটি ১৭ সংখ্যার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন প্রশংসাপত্র, একাডেমিক সার্টিফিকেট (যদি প্রযোজ্য হয়) এবং বাবা বা মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ইউটিলিটি বিলের ফটোকপি থাকতে হবে।
এবার ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার জন্য মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের জন্য ৫৬ হাজার গণনাকারী এবং ১১ হাজার ৩০০ সুপারভাইজার নিয়োগ করা হয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যাতে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হতে পারে, সেজন্য চট্টগ্রামের ৩২টি এলাকায় বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে ইসি।
সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদ শুরু
আফগানিস্থানে টিভি উপস্থাপিকাদের মুখ ঢেকে রাখার নির্দেশ তালেবানের
আফগান টিভি উপস্থাপিকাদের মুখ ঢেকে রাখার নির্দেশ দিয়েছে তালেবান। বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান স্থানীয় টিভি চ্যানেলগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যে নারী উপস্থাপক টিভি পর্দায় থাকাকালীন যেন তাদের মুখ ঢেকে রাখে। বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ সত্ত্বেও নারী অধিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়াচ্ছে তালেবান।
তালেবান মুখপাত্র আকিফ সাদিক নিশ্চিত করেছেন যে তারা আফগান রাজধানী কাবুলে অবস্থিত দেশীয় সমস্ত মিডিয়াকে মুখ ঢেকে না থাকলে নারী কর্মীদের সম্প্রচারে বাধা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় ফেরার পর শুধুমাত্র পুরুষের অংশগ্রহণে গঠিত অন্তর্বর্তীকালী তালিবান সরকার নারীদের ওপর একের পর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।
আফগান নারীদের জনসমক্ষে মুখ ঢেকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত পোশাক পরার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আদেশ না মানলে তাদের পুরুষ অভিভাবকদের ৩ দিন বা তার বেশি জেল হতে পারে।
বেশিরভাগ নারীকে তাদের কর্মক্ষেত্রে ফিরতে নিষেধ করা হয়েছে বা ঘনিষ্ঠ কোনো পুরুষ আত্মীয়কে সঙ্গী না করা পর্যন্ত দীর্ঘ ভ্রমণে না যেতে বলা হয়েছে। ১২ বছরের বেশি বয়সী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মেয়েদের আবার ক্লাস শুরু করার অনুমতি দেয়া হয়নি।
নারী অধিকারের ওপর এহেন দমন-পীড়ন আফগান কর্মী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ক্ষুব্ধ করেছে।
আগস্টে আফগানিস্তান দখল করার পর থেকে নির্বাচন কমিশন এবং নারী বিষয়ক মন্ত্রকসহ আফগানদের স্বাধীনতার জন্য কাজ করা আরও কয়েকটি সংস্থাকেও তালেবান বন্ধ করে দিয়েছে। ভয়েস অফ আমেরিকা।
বনগাঁর তৃণমূল প্রার্থী বাংলাদেশের নাগরিক! ব্যবস্থা নিতে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের তৃণমূল কংগ্রেসের এক পরাজিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় নাম থাকার অভিযোগ ওঠেছে। বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টে ওই মামলাটি শুনানি হয়েছে। শুনানিতে আদালতকে জানানো হয়, বনগাঁ আসনের তৃণমূলের প্রার্থী আলোরানি বাংলাদেশের ভোটার। ভোটে পরাজয়ের পর তিনি হাই কোর্টে গিয়েছিলেন নির্বাচনে বিজয়ী বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে মামলা করতে। কিন্তু শুনানিতে দেখা যায় আলোরানি নিজেই বাংলাদেশের ভোটার ফলে আদালত পাল্টা তাঁর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ওই তৃণমূল প্রার্থীর ‘বেআইনি’ কাজের তালিকাও তুলে ধরল আদালত। গত বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ দক্ষিণ আসন থেকে তৃণমূলের হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আলোরানি সরকার। কিন্তু বিজেপি প্রার্থী স্বপন মজুমদারের কাছে তিনি হেরে যান। এর পর দল তাঁকে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদ দেয়। পরে সেই পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে গোপাল শেঠকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়। ভোটে হেরে সেই সময় স্বপনের জয়কে চ্যালেঞ্জ করে আলোরানি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। শুক্রবার হাই কোর্ট ওই মামলাটি খারিজ করে দেয়। তবে শুনানির সময় আদালতকে জানানো হয়, আলোরানি বাংলাদেশের ভোটার। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব রয়েছে তাঁর। হাই কোর্টে বিষয়টি সামনে আনেন বিজেপি বিধায়ক স্বপনের আইনজীবী অরিন্দম পাল। বিচারপতি বিবেক চৌধুরীর এজলাসে মামলাটি ওঠার পর অরিন্দম জানান, বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে আলোরানির। এ বিষয়ে আদালতে তথ্যপ্রমাণও দেন তিনি। মামলাকারী আলোরানি সেই তথ্যের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ দিতে পারেননি। এর পরেই বিচারপতি জানান, ভারতের সংবিধানে দ্বৈত নাগরিকত্বের কোনও জায়গা নেই। ফলে মামলাকারী নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দাবি করতে পারেন না। তিনি দেশের নির্বাচনেও অংশ নিতে পারেন না। আদালত এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে আলোরানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়।
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিচারকদের বিদেশ ভ্রমণ এড়ানোর নির্দেশ প্রধান বিচারপতির
অধস্তন আদালতের বিচারকদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ ভ্রমণের আবেদন না করার জন্য নির্দেশ জারি করেছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। বৃহস্পতিবার আদেশক্রমে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. বজলুর রহমান স্বাক্ষরিত এ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। জাতীয় অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব এড়াতে এ নির্দেশনা জারি করেছেন প্রধান বিচারপতি।
বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বিদেশ ভ্রমণের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিচারপ্রার্থী জনগণের দ্রুত বিচারিক সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব এড়াতে অধস্তন আদালতের বিচারকদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ পরিহার করতে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন প্রধান বিচারপতি। এমতাবস্থায়, অতীব প্রয়োজন ব্যতীত অধস্তন আদালতের বিচারকদের বিদেশ ভ্রমণের আবেদন না করার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো।
দেশে সব ধর্মের মানুষ সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ধর্মীয় অধিকার ভোগ করছেন: আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সকল মানুষের কাছে স্বাধীনতার সুফল পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি তাদের ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ । দেশে সব ধর্মের মানুষ সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তাদের ধর্মীয় অধিকার ভোগ করছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশের সুনাম নিয়ে গর্ববোধ করছে। এর কৃতিত্ব দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্যারিশমাটিক নেতৃত্বের।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ দ্বীনি সেবা ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিশ্বজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা ও জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা- ২০২২ অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী আলেম-উলামাগণকে উদ্দেশ্য করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন ক্ষমতায় থাকবেন, ততদিনই তাঁর সরকার আলেম-ওলামাগণের মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞান আহরণ এবং তার প্রচার ও প্রসারে ভূমিকা রেখে যাবেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুই প্রথম আলেম-ওলামাগণের কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞান অর্জন এবং তার প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, কাকরাইল মসজিদের জন্য জমি বরাদ্দ দিয়েছিলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাঁর পিতার আদর্শ অনুসরণ করে অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি ইসলামী অঙ্গনের শত বছরের স্বপ্ন ও দাবী ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। দেড় শতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী কওমী মাদ্রাসাকে বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং এর সর্বোচ্চ সনদকে মাস্টার্সের সমমান প্রদান করেছেন। নতুন ধারার দারুল আরকাম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে অসংখ্য কওমী আলেমের কর্মসংস্থান করেছেন। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করে এর অধীনে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করেছেন। বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ প্রতিটি প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধু কন্যার এইসব অবদান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশেষ করে হাজার বছরের ইতিহাসে তুলনাহীন অবদান ৬৫০ টি মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের গৌরবজনক কর্মটি প্রধানমন্ত্রীর নামকে বাংলাদেশের শাসন ও নেতৃত্বের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখবে ইনশাআল্লাহ।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান, ঢাকা ১৬ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা, ঢাকা ১৪ আসনের সংসদ সদস্য আগা খান মিন্টু, হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা ইয়াহইয়া তালুকদার, ফাউন্ডেশনের আহবায়ক মোহাম্মদ ওমর ফারুক প্রমুখ বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্বজয়ী ১০ জন হাফেজকে সংবর্ধিত করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জঙ্গি বলায় আব্বাসীর বিরুদ্ধে মামলা
১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জঙ্গির সঙ্গে তুলনা করে বক্তব্য দেয়ায় কথিত ইসলামি বক্তা এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মে) রাতে শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন।
ফেসবুকে প্রচারিত একটি ডিবেট শো-তে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ‘জঙ্গি’ বলে বক্তব্য দেন এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী।
অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক সাইফুল রহমানকেও আসামি করা হয়েছে।
শাহবাগ থানার ওসি মওদুত হাওলাদার মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমকে জানান, মামলায় আব্বাসীকে এক নম্বর আসামি করা হয়। অন্যদিকে সাইফুল রহমানকে করা হয়েছে দুই নম্বর আসামি।
ওসি মওদুত হাওলাদার বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের কটাক্ষ করার অপরাধের একটি অভিযোগ থানায় এসেছে ডিজিটাল নিরাপাত্তা আইনে মামলা নেয়ার জন্য। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে।সেখান থেকে মতামত আসার পর মামলা নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’
মামলার এজহারে বলা হয়েছে, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তানদের জঙ্গির সঙ্গে তুলনা করে ধৃষ্টতা দেখিয়ে এনায়েতুল্লাহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে স্পষ্ট প্রোপাগান্ডা ও প্রচারণা চালিয়েছেন। বীর মুক্তযোদ্ধাদের ও তাদের অবদানকে অপমান ও অপদস্ত করেছেন। যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮- এর ২১/২৮/২৯/৩৫ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ।
উল্লেখ্য, গত ১৪ মে ফেসবুকের একটি টকশোতে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশন প্রকাশিত ২ খণ্ডের শ্বেতপত্র নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল ‘১১৬ জন আলেম নিয়ে অভিযোগ বিশ্লেষণ’। টকশোতে হাজির ছিলেন এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী। তিনি ছাড়াও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার।
ভার্চুয়াল সংযোগের মাধ্যমে টকশোটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এক পর্যায়ে জঙ্গি শব্দটা ‘জাং’থেকে এসেছে জানিয়ে শাব্দিক অর্থে মুক্তিযোদ্ধারাও এক অর্থে জঙ্গি বলে মন্তব্য করেন এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী।
স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনায় যা বললেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপির নির্বাচন নিয়ে কথা বলার কোনো অধিকার নেই। কারণ, তারা তাদের মেয়াদে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কলুষিত করেছে।
তিনি বলেন, ‘আজকে বিএনপি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে কিন্তু তাদের নির্বাচনের ইতিহাস এতটা কলুষিত যে তাদের এই নিয়ে কথা বলার কোন অধিকারই নাই। কোন মুখে তারা বলে।’
রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-১০ এ ফালু (মোসাদ্দেক আলী ফালু) ইলেকশন করেছিল যে ইলেকশনের চিত্র সবার নিশ্চই মনে আছে। মাগুরা ইলেকশন হয়-যে ইলেকশন নিয়েই আন্দোলন করে আমরা খালেদা জিয়া উৎখাত করেছি। মিরপুর ইলেকশন-প্রত্যেকটা নির্বাচনের চিত্রই আমরা দেখেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৭ সালের ‘হ্যাঁ-না’ ভোট, ’৭৮ ্এর রাষ্ট্রপতি এবং ’৭৯ এর সাধারণ নির্বাচন, ’৮১ এর নির্বাচন প্রত্যেকটা নির্বাচনই আমাদের দেখা। পাশাপাশি, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটার বিহীন নির্বাচনেরও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমানে নির্বাচন ব্যবস্থার যে উন্নয়ন সেগুলো আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত এবং চিন্তা চেতনার বাস্তবায়ন। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন ব্যবস্থার আধুনিক ও যুগোপযোগিকরণে ছবিসহ ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স এবং ইভিএম ব্যবস্থা বলবৎ করারও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ সবের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটের অধিকার আবার জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দিয়েছে।
আর জনগণের শক্তিতে ক্ষমতায় আছি বলেই জনগণের জন্য আমরা কাজ করতে পেরেছি, বলেন তিনি।
আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল এবং দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে গেলেও দেশ নিয়ে তথাকথিত বুদ্ধিজীবী শ্রেনীর মিডিয়াতে ঢালাও সমালোচনার ও উত্তর দেন তিনি।
দেশের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বড় বড় অর্থনীতিবিদ ও জ্ঞানী-গুণিরা অর্বাচীনের মতো কথা বলছেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের উন্নয়ন হলে তাদের ভাল লাগে না। দেশের উন্নয়ন তারা দেখতে পারে না। এ কারণে তারা নানা কিছু বলে।
সমালোচনাকারীদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী পদ্মাসেতুসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের বিষয়ে কথা বলেন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বলেছিল, জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু বানাচ্ছে, ওখানে চড়া যাবে না, চড়লে ভেঙে পড়বে। পদ্মা সেতুতে নিয়ে গিয়ে ওখান থেকে (খালেদা জিয়াকে) টুস করে নদীতে ফেলে দেয়া উচিত।
নোবেলজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আর যিনি আমাদের একটা এমডি পদের জন্য পদ্মা সেতুর মতো সেতুর টাকা বন্ধ করেছেন, তাকেও আবার পদ্মা নদীতে নিয়ে দু’টা চুবানি দিয়ে উঠিয়ে নেওয়া উচিত। মরে যাতে না যায়। একটু পদ্মা নদীতে দু’টা চুবানি দিয়ে সেতুতে তুলে দেওয়া উচিত। তাহলে যদি এদের শিক্ষা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতুর অর্থ বন্ধ করালো ড. ইউনূস।
কেন? গ্রামীণ ব্যাংকের একটা এমডির পদে তাকে থাকতে হবে। তাকে আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম গ্রামীণ ব্যাংকের উপদেষ্টা হতে। একটা উপদেষ্টা হিসেবে থাকা আরও উচ্চ মানের। সেটা সে ছাড়বে না, তার এমডিই থাকতে হবে। কিন্তু তার বয়সে কুলায় না। ড. ইউনুস কিন্তু আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিল। কিন্তু কোর্ট আর যাই পারুক, তার বয়স তো কমিয়ে দিতে পারে না, ১০ বছর। কারণ, গ্রামীণ ব্যাংকের আইনে আছে ৬০ বছর পর্যন্ত থাকতে পারে। তখন তার বয়স ৭১ বছর। এই বয়সটা কমাবে কীভাবে? সেই মামলায় সে হেরে যায়। কিন্তু প্রতিহিংসা নেয়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড. ইউনূস এবং যেটা আমরা শুনেছি মাহফুজ আনাম, তারা আমেরিকায় চলে যায়। স্টেট ডিপার্টমেন্টে যায়। হিলারির কাছে ইমেইল পাঠায়। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মি. জোলি যিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তার শেষ কর্মদিবসে কোনও বোর্ড সভায় না, পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করে দেয়। যাক, একদিকে শাপেবর হয়েছে। কেন হয়েছে? বাংলাদেশ যে নিজের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করতে পারে, সেটা আজকে আমরা প্রমাণ করেছি। কিন্তু আমাদের এখানের একজন জ্ঞানী লোক বলে ফেললেন যে, পদ্মা সেতুতে যে রেল লাইন হচ্ছে ৪০ হাজার কোটি টাকার খরচ হচ্ছে। ৪০ হাজার কোটি টাকা তো ঋণ নিয়ে করা হচ্ছে। এই ঋণ শোধ হবে কীভাবে? দক্ষিণ বঙ্গের কোনও মানুষ তো রেলে চড়বে না। তারা তো লঞ্চে যাতায়াত করে। তারা রেলে চড়তে যাবে কেন? এই রেল ভায়াবল হবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেতুর কাজ হয়ে গেছে, এখন সেতু নিয়ে কথা বলে পারছে না। এখন রেলের কাজ চলছে, এখন রেলের কাজ নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। আমার মনে হয়, আমাদের সবার উনাকে চিনে রাখা উচিত। রেল গাড়ি যখন চালু হবে, তখন উনাকে নিয়ে রেলে চড়ানো উচিত।
তিনি বলেন, বড় বড় অর্থনীতিবিদ, জ্ঞানী-গুণী এই ধরনের অর্বাচিনের মতো কথা বলে কীভাবে? সেটাই আমার প্রশ্ন। মেগা প্রজেক্টগুলো করে নাকি খুব ভুল করছি। তারা আয়েশে বসে থাকে, আর আমার তৈরি করা সব টেলিভিশনে গিয়ে কথা বলে। বিদ্যুৎ সরবরাহ করি। সেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি, সেটা নিয়েও এত টাকা দিয়ে স্যাটেলাইট করে কী হবে? এই প্রশ্নও কিন্তু তুলেছে তারা। অর্থাৎ বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু করলে তাদের গায়ে লাগে। কেন? তাহলে তারা কি এখনও সেই পাকিস্তানি সামরিক জান্তাদের পদলেহনকারী, খোশামদি, তোষামদির দল? গালিটালি দিই না, দেয়ার রুচিও নাই। তবে একটু না বলে পারি না, যে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেভাবে বাংলাদেশের মেয়েদের ওপর অত্যাচার করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, অগ্নিসংযোগ করেছে, পোড়ামাটি নীতি নিয়ে বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, সেই পাকিস্তানিদের পদলেহনকারীর দল এখনও বাংলাদেশে জীবিত, এটা হচ্ছে সব থেকে দুঃখজনক। এখনও তারা বাংলাদেশের ভালো কিছু হলে ভালো দেখে না। বাংলাদেশ এগিয়ে গেলে তাদের ভালো লাগে না।’
সরকার প্রধান বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশে আমরা ২০০৯-এর পরে যে সরকার গঠন করেছি, তার পরেও আমাদের কম ঝামেলা পোহাতে হয়নি। অগ্নি সন্ত্রাস করে বিএনপি জীবন্ত মানুষগুলোকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মারে। পেট্রোল বোমা মারে। আমরা রাস্তাঘাট বানাই, তারা রাস্তাঘাট কাটে। আমরা বৃক্ষরোপণ করি তারা গাছ কাটে। এ ভাবে দেশকে তারা বার বার ধ্বংসের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। সরকার উৎখাত করার তারা উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তাদের ডাকে তো জনগণ সাড়া দেয়নি।
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪১তম ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে ছিল এই সভার আয়োজন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন। এসময় তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রবাসে থাকায় ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পান। পরবর্তী সময়ে ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এরপরেই ৬ বছর প্রবাস জীবন কাটাতে বাধ্য হওয়া শেখ হাসিনা সে সময়কার সামরিক জান্তার রক্তচক্তু উপেক্ষা করে একরকম জোরকরেই ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন।
১৯৮১ সালে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে গেলে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিল বিচারপতি সাত্তার, সে প্রার্থী। সেই নির্বাচনের যেই চিত্র আমরা দেখেছিলাম, সেখানে কোন ভোটের দরকার ছিল না, কোন ভোট হয়নি। নির্বাচন মানেই হচ্ছে সিল মারা,বাক্স ভরা এবং ফলাফল ঘোষণা দেয়া উল্লেখ করে সেই সময়ের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমানের আমলে যে কয়টা নির্বাচন হয়েছে, প্রতিটি নির্বাচনে এটাই হয়েছিল। সংবিধান লঙ্ঘন এবং সেনা আইন ভঙ্গ করে ক্ষমতা দখল করার পর, একদিকে সেনাপ্রধান তারপর স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি এরপরে আবার রাষ্ট্রপতি প্রার্থী। প্রথমে ‘হ্যাঁ,না’ ভোট, এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং তারপরে দলগঠন শুরু। প্রথমে জাগো দল,তারপর ১৯ দফা বাস্তবায়ন কমিটি এবং এরপরে তৃতীয় ধাপে এসে সে বিএনপি গঠন করে।
বিএনপিতে স্বাধীনতা বিরোধী,খুনী এবং আওয়ামী লীগের কিছু ‘বেইমান’ও সেখানে যুক্ত হয় উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, খন্দকার মুশতাকও চেষ্টা করেছিল এই দল (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ) ভাঙতে। কিন্তু সেও খুব বেশি একটা সুবিধা করতে পারেনি, এরপর করেছে জিয়াউর রহমান।
সরকার প্রধান বলেন, নির্বাচন নিয়ে যে খেলা এবং প্রহসন করা এবং নির্বাচনকে কলুষিত করা এটা জিয়াউর রহমানই শুরু করে। সেই ৭৭,৭৮,৭৯ সাল, সেই সময় এটা শুরু হয়। অর্থাৎ মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া, মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া,গণতন্ত্র কেড়ে নেওয়া এবং ‘মার্শাল ল’ দিয়ে রাষ্ট্র চালানো। প্রতি রাতে থাকতো কারফিউ। ৭৫ এর পর যে কারফিউ দেয়া শুরু হয়েছিল, সেটা ৮৬ সালে এসে প্রত্যাহার হয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ থাকতো। এটাই ছিল বাংলাদেশের চিত্র। কোন মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরার অধিকার ছিল না, কথা বলার অধিকার ছিল না।
২০০৯ সালে সরকার গঠনের পরও নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হয়েছে জানিয়ে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অগ্নিসন্ত্রাাস করে বিএনপি জীবন্ত মানুষগুলোকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মারে, পেট্রোল বোমা মারে। আমরা রাস্তা-ঘাট বানাই, তারা রাস্তা-ঘাট কাটে। আমরা বৃক্ষরোপন করি,তারা গাছ কাটে। শেখ হাসিনা বলেন, এই ভাবে বিএনপি দেশকে বারবার ধ্বংসের দিকে নেওয়ার এবং সরকার উৎখাত করার চেষ্টা করেছে । যে কারণে আওয়ামী লীগকে জনগণ ভোট দিয়েছে আর বিএনপি’র ডাকে তারা সাড়া দেয়নি। শেখ হাসিনা এ সময় বিএনপি’র নেতৃত্ব শূণ্যতার কথাও পুণরোল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় এবং ২১শে অগাষ্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক জিয়া। ২০০৭ এ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে তারেক মুচলেকা দিয়েছিল যে, জীবনে কোনদিন রাজনীতি করবে না। এই মুচলেকা দিয়েই কিন্তু দেশ ছেড়ে চলে যায় সে। সেই বিচারের মামলার রায়ে সে সাজাপ্রাপ্ত। এতিমের অর্থ আত্মসাত করে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া।
যাই হোক, কারাগার থেকে এখন তাকে বাসায় থাকার সুযোগ দিয়েছি,অসুস্থ সেজন্য। এইটুকু মানবিকতা দেখিয়েছি। যে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে, বারবার তাকেই আমি করুনা ভিক্ষা দিয়েছি, যে কারনে সে এখন বাসায় থাকতে পারে। সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলেও এইটুকু সুযোগ তাকে আমরা দিয়েছি। এটা নির্বাহী আদেশেই দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামি দিয়ে নির্বাচন করে জেতা যায় না। আর নির্বাচনে পরাজয় হবে জেনেইতো তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। কলুষিত করতে চায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু নতুন আঁতেল আবার জুটেছে, একজন অর্থনীতিবিদ তো বলেই দিল, রুপপুরে তাঁর সরকার যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করেছে, সেটা নাকি অর্থনৈতিক ভাবে ভীষণ ক্ষতিকর। আর বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়নটা বাইরের লোক দেখলেও তারা চোখে দেখে না। তিনি বলেন, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটা হচ্ছে সবথেকে পরিবেশ বান্ধব। আর তাঁর সরকার গ্যাস ভিত্তিক, তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করেছে- যেগুলো অনেক ব্যয় বহুল এবং গ্যাসের রিজার্ভ এক সময় নি:শেষ হয়ে গেলে, এই পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রইতো বিদ্যুতটা দেবে। এটা দেশের অর্থনীতিতেও অনেক বেশি অবদান রাখবে।
এক সময় ‘কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট’ এবং ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ নিয়েও অনেক সমালোচনা শুনতে হয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের করে দেয়া বেসরকারি টেলিভিশন এবং অবাধ তথ্য প্রবাহের সুযোগ নিয়েই আজকাল ‘টক শো’ সহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে সরকারের সমালোচনা চলছে। যে সুযোগ জিয়া,এরশাদ বা খালেদা জিয়া কারো আমলেই ছিল না। প্রধানমন্ত্রী এসময়ে আক্ষেপ করে বলেন, নানা ‘টক শো’তে ঢালাও সরকার বিরোধী সমালোচনা করা হয়, যেখানে তাদের কেউ কন্ঠ রোধ করেনা। কিন্তু তারপরেও সব কথা শেষে তারা এটাও বলে যে, তাদেরকে কথা বলতে দেয়া হয়না। প্রধানমন্ত্রী এই শ্রেনীর লোকজনের দেশ পরিচালনার খায়েস থাকলে তাদের ভোটের মাঠে নেমে, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসারও আহবান জানান। দিনরাত কথা বলার পরেও বিএনপি নেতৃবৃন্দের আহবানে জনগণ সাড়া না দিলে, দোষটা কার সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী এগুলোকে ‘অর্বাচীনের মত কথা’ বলে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের জন্য ভাল কিছু করলেই তাদের গায়ে লাগে। কেন? সে প্রশ্নও করেন প্রধানমন্ত্রী এবং এরা ’৭১ এর পরাজিত পাকিস্তানীদের পদলেহনকারি কিনা সে কথাও জানতে চান।
জাতির পিতার কন্যা বলেন, পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী যেভাবে বাংলাদেশের মেয়েদের ওপর নির্যাতন ও গণহত্যা করেছে, অগ্নি সংযোগ করেছে, পোড়া মাটি নীতি নিয়ে বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, সেই পাকিস্তানীদের পদলেহনকারিদের দল এখনো বাংলাদেশে জীবিত। আর এটাই সবথেকে দু:খজনক। এখনো তারা বাংলাদেশের ভাল কিছু দেখেনা, বাংলাদেশ এগিয়ে গেলে তাদের ভাল লাগে না।
শেখ হাসিনা বলেন, মেগা প্রজেক্ট জনগণের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে। বাংলাদেশের সকল ভূ’মিহীন-গৃহহীণ মানুষ ঘর পাবে, একটি মানুষও গৃহহীণ থাকবেনা। পাশাপাশি মানুষের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণের কাজ আমরা করে যাচ্ছি। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই বাংলাদেশের এই উন্নতি হয়েছে। আমরা আমাদের ৯০ ভাগ উন্নয়ন প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের সক্ষমতা অর্জন করেছি। তিনি বলেন, অতীতে বাংলাদেশকে যে ভিক্ষুকের জাতি বানিয়ে রাখা হয়েছিল, সেখান থেকে বাংলাদেশ আজ মর্যাদা নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
আওয়ামী লীগই একমাত্র দল, যাঁরা বাংলাদেশের মানুষকে কিছু দিতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দলটির নেতা-কর্মীদের দলটির নীতিও আদর্শ মেনে চলার আহবান জানান। বাবার স্¦প্ন পূরণ করবেন বলেই আল্লাহ তায়ালা তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এবং এত প্রতিকুলতার মাঝেও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি থেকে দলকে এবং দেশকে মুক্ত রাখার জন্যও প্রত্যেকটি নেতা-কর্মীকে প্রত্যয়ী হওয়ার আহবান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, লাখো শহিদের রক্ত ব্যর্থ হতে পারেনা, আর সেটা ব্যর্থ হয় নাই। আমরা সেখানে সাফল্য অর্জন করেছি এবং বাংলাদেশকে যে স্তরে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম সেটা করতে পেরেছি।
গণভবন থেকে আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।
পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দুস্থদের মধ্যে সেলাই মেশিন ও অন্যান্য সহায়তা বিতরণ করেন।
পদ্মা সেতুর টোল হার নির্ধারণ, প্রজ্ঞাপন জারি
পদ্মা বহুমুখী সেতু দিয়ে পারাপারের জন্য অনুমোদিত যানবাহনের শ্রেণি ও টোলের হার নির্ধারণ করেছে সরকার। আজ মঙ্গলবার (১৭ মে ২০২২) পদ্মা সেতুতে টোলের হার চূড়ান্ত করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের উন্নয়ন অধিশাখা থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
সরকার নির্ধারিত টোল হার অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের জন্য ১০০ টাকা, কার ও জিপে ৭৫০ টাকা, পিকআপে এক হাজার ২০০ টাকা, মাইক্রোবাসে এক হাজার ৩০০ টাকা টোল পরিশোধ করতে হবে। বাসের ক্ষেত্রে ছোট বাস (৩১ আসন) এক হাজার ৪০০ টাকা, মাঝারি বাস (৩২ আসন বা এর বেশি) দুই হাজার টাকা, বড় বাস (থ্রি-এক্সেল) প্রতি দুই হাজার ৪০০ টাকা টোল দিতে হবে।
এছাড়া ছোট ট্রাককে (পাঁচ টন পর্যন্ত) এক হাজার ৬০০ টাকা, মাঝারি ট্রাকে (পাঁচ টনের বেশি ও সর্বোচ্চ আট টন পর্যন্ত) দুই হাজার ১০০ টাকা, মাঝারি ট্রাক (আট টনের বেশি ও সর্বোচ্চ ১১ টন) দুই হাজার ৮০০ টাকা, ট্রাকে (থ্রি-এক্সেল পর্যন্ত) পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা, ট্রেইলার (ফোর-এক্সেল পর্যন্ত) ছয় হাজার টাকা। আর ট্রেইলার (ফোর-এক্সেলের অধিক) ছয় হাজারের সঙ্গে প্রতি এক্সেলের জন্য এক হাজার ৫০০ টাকা যুক্ত হবে।
রাজধানীতে ৫০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকা থেকে ৫০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো বেলাল হোসেন ও মোঃ আনোয়ার হোসেন।
মঙ্গলবার (১৭ মে ২০২২) তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার মিনি ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকা হতে তাদেরকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিম। অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার রাজন কুমার সাহা ডিএমপি নিউজকে জানান, একটি নীল রঙের ট্রাকে দুইজন মাদক ব্যবসায়ী গাঁজা নিয়ে তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ডের দিকে আসছে মর্মে তথ্য পাওয়া যায়। এমন তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার সাতরাস্তা মোড়ে চেকপোস্ট স্থাপন করে। কাঙ্ক্ষিত ট্রাকটি আসলে থামার জন্য সংকেত দেয়া হয়। কিন্তু ট্রাকটি না থামিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশের মাইক্রোবাস দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে ট্রাকটি থামানো হয়। এসময় ড্রাইভিং সিটে বসা বেলাল ও পাশের সিটে বসা অবস্থায় আনোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ট্রাকটি তল্লাশি করে ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গাঁজা পরিবহনে ব্যবহৃত হওয়ায় ট্রাকটিও জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্ন মাদক কারবারিদের কাছ থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে ঢাকা শহরসহ আশপাশ এলাকায় বিক্রয় করতো বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। এদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা রুজু হয়েছে ।
ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এসডিজির অন্যতম টার্গেট – জনগণের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অন্যতম লক্ষ্যও এটা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ডিজিটাইজেশনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতে সীমিত পরিসরে ডিজিটাইজেশন চালু করা হয়েছে। অধিকন্তু আইন ও বিচার বিভাগ একটি গণমুখী বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুগান্তকারী ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলনের প্যারালাল সেশন- ১ এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, জনগণের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার সংরক্ষণের জন্য করোনার মহামারীকালেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আইন ও বিচার বিভাগ ‘আদালত কর্তৃক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০ এর আওতায় ভার্চুয়াল আদালত ব্যবস্থা চালু করে। ১১ মে ২০২০ থেকে ১০ আগস্ট ২০২১ সময়কালে এ আদালত দ্বারা মোট ৩,১৪,৪৮২টি পিটিশন নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং ১,৫৮,৫০৭ জনকে জামিন দেয়া হয়েছে, যা করোনাকালে জরুরি সমস্যা মোকাবেলায় এবং কারাগারে বন্দীদের বাড়তি চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, উপজেলা ও ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটি প্রতিষ্ঠা সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ায় সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রম এখন দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। এমনকি করোনার মহামারীকালে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ৭৮ হাজার ৮৪৭ জনকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে যার মধ্যে ৩৮ হাজার ৫৩৯ জন মহিলা । আইনমন্ত্রী বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নের যাত্রায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ৭ম এবং ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সাথে একটি সমন্বিত কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করেছে এবং মন্ত্রণালয়গুলোর ম্যাপিং, আর্থিক কৌশল, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন, ডেটা গ্যাপ বিশ্লেষণ, জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা, এপিএ-তে এসডিজি অর্ন্তভুক্তসহ অনেকগুলো কাজ সম্পন্ন করেছে। তিনি বলেন, জাতি হিসেবে আমরা গর্বিত বোধ করি যে, জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতাকৃত টেকসই উন্নয়ন সমাধান নেটওয়ার্ক ২০১৫-২০২০ সালের মধ্যে অধিকাংশ এসডিজি বাস্তবায়নের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘এসডিজি প্রগ্রেস অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত করেছে। এই পুরস্কার দারিদ্র্যের অবসান, পৃথিবী নামক গ্রহ রক্ষা এবং শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার বৈশ্বিক আহ্বানের প্রতি আমাদের ঐক্য ও অঙ্গীকারের প্রতীক। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছিল। সেই সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের এমডিজি অ্যাওয়ার্ড, সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড, চ্যাম্পিয়নস অফ দ্য আর্থ এবং প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার একটি জনকেন্দ্রিক আধুনিক গণতন্ত্র গ্রহণ করেছে। ফলে দেশে সর্বোচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালীসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়েছে, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে। আর এসব উন্নয়ন বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে। এসডিজি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক তিনদিনব্যাপী চলমান সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে প্যারালাল সেশন- ১ এ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিবগণ তাদের স্ব-স্ব মন্ত্রণালয়/বিভাগের এসডিজি বাস্তবায়ন বিষয়ক অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এই সেশনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বিশেষ অতিথি ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোসাররফ হোসেন ভূঁইয়া সঞ্চালক ছিলেন। আলোচক ছিলেন প্রতিরক্ষা সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক।











