ঝালকাঠিতে অভিযান-১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিন ডজন মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় লঞ্চ মালিক হামজালাল শেখকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব।
সোমবার সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান।
র্যাব বলছে, লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর এক আত্মীয়র বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন হামজালাল।
ঢাকা থেকে বরগুনা যাওয়ার পথে ঝালকাঠির গাবখানের কাছাকাছি সুগন্ধা নদীতে থাকা অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত ৩টার পর আগুনে পুড়ে যায় অভিযান-১০। ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। আহত হয়ে ৮০ জনের বেশি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
রাত ৩টার দিকে যখন চলন্ত লঞ্চে আগুনের সূত্রপাত হয়, যাত্রীদের বেশিরভাগই তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। না থামিয়ে ওই অবস্থায় চালিয়ে নেয়া হয় অনেকটা পথ। এক পর্যায়ে নদীর মধ্যে পুরো লঞ্চ দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে।
ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত তিনটি মামলা হয়েছে। ঝালকাঠির পোনাবালিয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ জাহাঙ্গীর হোসেন শনিবার ঝালকাঠি সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন।
এরপর বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম নাসির রোববার ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন বরগুনার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে। সেখানে লঞ্চের মালিক হামজালাল শেখকেও আসামি করা হয়েছে।
আর সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক শফিকুর রহমান বাদী হয়ে রোববার তৃতীয় মামলাটি দায়ের করেন মতিঝিলের নৌ আদালতে। সেখানে লঞ্চের মালিক হামজালাল শেখসহ আটজনকে আসামি করা হয়। পরে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানা এলাকা অতিক্রম করার পর ইঞ্জিন রুম থেকে আগুযনের সূত্রপাত হয়। পরপরই আগুন নিয়ন্ত্রণের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় পুরো নৌযানটি আগুনে পুড়ে যায়। সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপন যন্ত্রও ছিল না। পর্যপ্ত বালির ব্রাক্স ও বালতি ছিল না। ইঞ্জিন রুমের বাইরে অননুমোদিত অনেকগুলো ডিজেল বোঝাই ড্রাম এবং রান্নার জন্য সিলিন্ডার গ্যাসের চুলা ছিল, যা নিয়মের পরিপন্থি।
অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল আইনের ৫৬, ৬৬, ৬৯ ও ৭০ ধারায় করা এ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে।
অগ্নিকাণ্ডের পর হামজালাল শেখ দাবি করেছিলেন, তার লঞ্চের ইঞ্জিনে কোনো সমস্যা ছিল না, অগ্নি নির্বাপন যন্ত্রও ছিল। তবে ইঞ্জিন রুমের পাশে ব্যারেলে ভর্তি ছয় হাজার লিটার তেল থাকার কথা তিনি স্বীকার করেছেন।
মুন্সীগঞ্জ সদরের আবুল ওহাব আলী শেখের ছেলে হামজালাল শেখ (৫২) থাকেন ঢাকার ওয়ারীতে। গত শতকের ৯০ এর দশকের শুরু থেকে তিনি লঞ্চ ব্যবসায় জড়িত।
অভিযান-৩, ৫ ও ১০ লঞ্চে মালিকানা রয়েছে হামজালালের। এছাড়া পুরান ঢাকার ইসলামপুরে পারিবারিক কাপড়ের ব্যবসা এবং কয়েকটি দোকান রয়েছে।
২০০৪ সালের দিকে খেয়াঘাট নিয়ে বিরোধের জের ধরে কেরানীগঞ্জের তেলঘাট এলাকায় অভিযান-৩ ও রিয়াজ-৪ নামে দুটি লঞ্চে আগুন দেওয়া হয়েছিল।
হামজালাল বিভিন্ন সময়ে লঞ্চ মালিক সমিতির পরিচালক ও নির্বাহী সদস্যের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি এবং মালিকদের নিয়ে গঠিত স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য তিনি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
অভিযান-১০ লঞ্চের মালিক হামজালাল গ্রেফতার
খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেয়ার বিষয়ে আইনমন্ত্রণালয়ের মতামত স্বরাষ্ট্রে
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের আবেদনের বিষয়ে মতামত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। এই আইনি মতামত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।
তবে কী মতামত দিয়েছেন সে বিষয়ে কিছু জানাননি আইনমন্ত্রী। এটি যেহেতু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে প্রধানমন্ত্রী পর্যায় পর্যন্ত যাবে, তাই এ বিষয়ে এখন কিছু বলতে চাননি তিনি।
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন,‘সেই মতামত জানানো সমীচীন হবে না। কারণ সেটা গোপন বিষয়। এটা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত যাবে। তারপর বলা সম্ভব হবে।’
ইসি গঠন: আরও ৪ রাজনৈতিক দলকে সংলাপে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ
নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বঙ্গভবনে সংলাপে বসতে আরও ৪টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
বঙ্গভবনের প্রেস উইং জানায়, গণফোরামকে ২ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় সংলাপে বসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় বিকল্পধারা বাংলাদেশকে সংলাপে বসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় গণতন্ত্রী পার্টি এবং একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ২০ ডিসেম্বর থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ শুরু করেন এবং এ পর্যন্ত সংসদের প্রধান বিরোধী দল – জাতীয় পার্টি এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাথে সংলাপ করেছেন।
আগামী ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সংলাপে যোগ দিতে ১৩টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
ইসির ওয়েবসাইট অনুযায়ী এখন ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে। কিন্তু সংসদে মাত্র নয়টি দলের প্রতিনিধিত্ব আছে।
এদিকে রোববার(২৬ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে বসার কথা রয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশনের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি।
কক্সবাজারে পর্যটক নারী ধর্ষণ, সাতজনকে আসামী করে মামলা, একজন গ্রেফতার
কক্সবাজারে নারী পর্যটককে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ওই নারীর স্বামী বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের হয়। এজাহারে চারজনের নাম উল্লেখ এবং তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান জানান, গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে চার জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও তিন জনকে আসামি করে এই মামলা করেছেন।
নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন আশিকুল ইসলাম আশিক, ইসরাফিল হুদা জয়, রিয়াজ উদ্দিন ছোটন ও বাবু।
এদের মধ্যে রিয়াজ উদ্দিন ছোটনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে র্যাব জানিয়েছে। তিনি ঘটনাস্থল আবাসিক হোটেল জিয়া গেস্ট ইন-এর ম্যানেজার।
মামলার অন্য আসামি কক্সবাজার শহরসহ জেলার অন্যান্য স্থানের বাসিন্দা। হোটেলের সিসি ক্যামেরার ভিডিও দেখে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে বলেও র্যাব জানিয়েছে।
ঢাকার যাত্রবাড়ী থেকে স্বামী ও আট মাসের সন্তনসহ ২৫ বছর বয়সী এই নারী বুধবার কক্সবাজার এসেছিলেন।
মামলাটি তদন্তের জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বুধবার বিকালে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে এক মার্কেটে ভিড়ের মধ্যে অপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর ধাক্কা লাগলে কথা-কাটাকাটি হয়।
পরে সন্ধ্যার দিকে পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে তার শিশু সন্তান ও স্বামীকে অটোরিকশায় করে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন যুবক।
আর তিন যুবক আরেকটি অটোরিকশায় করে ওই নারীকে তুলে নিয়ে গিয়ে গলফ মাঠের পেছনে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে।
ওই নারী বলছেন, ওই তিন যুবক তাকে পরে নিয়ে যায় জিয়া গেস্ট ইন হোটেলে। তৃতীয় তলার একটি কক্ষে আটকে রেখে তাকে আরেক দফা ধর্ষণ করা হয়। ঘটনা কাউকে জানালে সন্তান ও স্বামীকে ‘হত্যা করা হবে’ বলে হুমকি দিয়ে বাইরে থেকে রুম আটকে চলে যায় ওই তিন যুবক।
মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে র্যাব কর্তৃক গ্রেফতারের তথ্য নানা মাধ্যমে শোনা গেলেও এখনও থানায় হস্তান্তর করা হয়নি বলে জানান পুলিশ সুপার।
র্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর র্যাব অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে আবাসিক হোটেল কক্ষ থেকে উদ্ধার করে। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে পর্যটন গলফ মাঠ এলাকা থেকে স্বামী ও সন্তানকে উদ্ধার করা হয়।
“ঘটনায় সহায়তার অভিযোগে হোটেলটির ম্যানেজারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”
আবাসিক হোটেলটির সিসি ক্যামেরার ভিডিও দেখে তিন জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি জানান।
আইনী বাধায় মানবাধিকার কমিশন অনেক কিছু করতে পারছে না,জানালেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাবের বর্তমান ও সাবেক সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম। তিনি বলেছেন, আইনের কারণে কমিশন সরাসরি কিছু করতে পারছে না। আইন সংশোধন হলে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করতে পারবেন এবং কমিশনও শক্তিশালী হবে।
বৃহস্পতিবার আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) উদ্যোগে অনলাইনে আয়োজিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও মানবাধিকারকর্মীদের সংলাপ’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। নাছিমা বেগম বলেন, ‘কমিশন কখনোই চায় না মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটুক। কমিশন কখনো বলেনি যে সে হাত–পা বাঁধা। যতটুকু আইনি সক্ষমতা আছে, ততটুকু নিয়ে সাধ্যমতো কাজ করছে কমিশন।’
তিনি বলেন, কমিশনের আইনে বড় দুর্বল জায়গা রয়েছে। আইনে কমিশন সরকারি অন্য যেকোনো সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারলেও কিন্তু ১৮(২) ধারা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটলে সে ক্ষেত্রে কমিশন শুধু প্রতিবেদন চাইতে পারবে। নিজেদের তদন্ত করার সুযোগ নেই।
গণমাধ্যমের ওপর ক্ষোভ ঝেড়ে নাছিমা বেগম বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মীরা একটা জিনিসই মনে করেন, গুম–খুনের বাইরে কমিশনের আর কোনো কাজ নেই। প্রতিটি ক্ষেত্রেই কমিশন কাজ করতে পারে। কিন্তু সবার চোখে পড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিষয়গুলো এবং যেখানে কমিশনের সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা সেই সংশোধন চাইছি।’
তিনি আরও বলেন, কমিশন নানা কিছু নিয়ে কাজ করে কিন্তু সেগুলো নিয়ে সেভাবে কেউ চিন্তা করে না। কমিশনের ভালো কাজগুলোর প্রচার হয় না।
আসকের জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক আবু আহমেদ ফজলুল কবির এই বছরে দেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১০টি পত্রিকা থেকে জানুয়ারি-নভেম্বর পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা এ প্রতিবেদন করেছেন। সেখানে বলা হয়, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৬৭ জন ও কারা হেফাজতে ৭৮ জন মারা যান, গুমের শিকার ৬ জন, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে হত্যা ১৪ জনকে, গণপিটুনিতে ২৮ জনের মৃত্যু, ১৯৮ জন সাংবাদিককে হয়রানি, রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৩০ জন নিহত, ১৪৪ ধারা জারি হয় ১৮ বার, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি সহিংসতায় আহত ৩০১ জন, শিশু নির্যাতন ১ হাজার ৩৪৮ জন ও নিহত ৫৪৭ জন শিশু, পারিবারিক সহিংসতা ২১৩ জন নারীর মৃত্যু এবং ধর্ষণের শিকার ১ হাজার ২৪৭ জন, অ্যাসিড–সন্ত্রাসের ঘটনা ২২টি, গৃহকর্মীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ৪১টি।
আসকের নির্বাহী পরিচালক গোলাম মনোয়ার কামাল বলেন, মানবাধিকার কমিশনের কাছে কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাশা অনেক বেশি। কমিশন তার কাজের বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শেয়ার করলে ভালো হয়। কমিশনের প্রতিবেদনগুলো শেয়ার করলেও সবাই তা জানতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশন অনেক কিছু করে। কিন্তু রচনা প্রতিযোগিতা, সচেতনতা তৈরি করা এগুলো সহজ কাজ। এগুলো অন্যান্য সংস্থা যারা মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে, তারা করে দিতে পারবে। এগুলো অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু কিছু কিছু বিষয়ে কমিশন যদি একা না পারে, সবাই মিলে একসঙ্গে যাবে এবং সোচ্চার হবে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন, সিঙ্গাপুরের আদালতে বাংলাদেশি অভিযুক্ত
সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগে সিঙ্গাপুরের আদালতে অভিযুক্ত করা হয়েছে আহমেদ ফয়সাল নামে এক বাংলাদেশিকে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সিরিয়াভিত্তিক হায়াত তাহরির আল-শাম নামে জঙ্গি সংগঠনকে ৮৯১ ডলার অর্থায়ন করেছেন। সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্ট্রেইট টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০১৮ সালে ফয়সাল উগ্রবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তিনি সিরিয়ায় ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জিহাদি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি ফয়সাল হায়াত তাহরির আল-শাম নামে জিহাদি সংগঠনের প্রতি অনুগত হয়ে ওঠেন। তারাও সিরিয়ায় ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠায় সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।
২৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে গত বছর ইন্টারনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের (আইএসএ) অধীনে গ্রেফতার করে সিঙ্গাপুরের নিরাপত্তা বাহিনী। তিনি সিঙ্গাপুরে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ২০১৭ সালের প্রথম দিকে তিনি সিঙ্গাপুরে কাজ শুরু করেন।
স্ট্রেইট টাইমস জানিয়েছে, জঙ্গি সংগঠনে অর্থায়নের জন্য ফয়সাল জাস্টগিভিং, হিরোয়িক হার্টস অর্গানাইজেশন এবং গিভ ব্রাইট নামের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন। তিনি জানতেন, এই অর্থ সিরিয়ার জিহাদি সংগঠনগুলোর স্বার্থে ব্যয় করা হবে। এখন এটিকে গুরুতর অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সিঙ্গাপুরের আইন অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদে কোনোভাবে অর্থায়ন করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার জরিমানা করা হতে পারে।
নারী নির্যাতন বন্ধে আইনের পাশাপাশি দরকার সচেতনতা : আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে নারীর প্রতি নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধ করা যাবে না। এজন্য দরকার সচেতনতা। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও এই সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বুধবার রাজধানীর গুলশানের বিচারপতি সাহাবুদ্দীন পার্ক প্রাঙ্গণে নারীর প্রতি নির্যাতন ও সহিংসতাবিরোধী এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের সমাজ পুরুষভিত্তিক। এক সময় এই সমাজে নারীর প্রতি অনেক অত্যাচার ছিল, নির্যাতন ছিল। সমাজে এসব অপরাধ প্রতিহত করতে দেশে অনেক আইন করা হয়েছে।

নারীদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য এসব আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নারীরা তার অধিকার নিয়ে সমাজে বেঁচে থাকুক, এটাই এই সরকারের লক্ষ্য। নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে আইন প্রণয়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উত্তর সিটির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- সংসদ সদস্য নাহিদ ইজাহার খান, শক্তি ফাউন্ডেশনের ইমরান আহমেদ, মির্জা মোহাম্মদ সেলিম প্রমুখ।
ব্যবসায়ী রমিজউদ্দিন হত্যা: ভয়ঙ্কর খুনী মোয়াজ্জিন জাকির র্যাবের হাতে গ্রেফতার
নরসিংদীর ব্যবসায়ী রমিজ উদ্দিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল আসামী মসজিদের মোয়াজ্জিন জাকির হোসেন (৩৬) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে র্যাব। হত্যাকাণ্ডের দুমাসের মধ্যেই প্রায় ক্লুলেস এই হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হলো এলিট ফোর্স র্যাব । হত্যাকারী জাকির হোসেন লক্ষীপুরে একটি মসজিদে চিল্লারত অবস্থায় আত্মগোপনে ছিল। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং-এর পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। গ্রেফতারকৃত জাকির জানিয়েছে , রমিজ হোসেনের কাছ থেকে টাকা লুট করার জন্যই গত ৩ অক্টোবর কিশোরগঞ্জে নিয়ে সে একাই তাকে হত্যা করে ।

সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের মুখপাত্র জানান, গত ৩ অক্টোবর সকালে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার কাটবাড়িয়া ডাউকিয়া মসজিদের দক্ষিণ পার্শ্বে অচেতন অবস্থায় গুরুতর জখমপ্রাপ্ত একজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ সেই ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করলে আনুমানিক সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন। পরে নিহতের পাঞ্জাবির পকেটে থাকা কাগজপত্রের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
মৃত ব্যক্তির নাম রমিজ উদ্দিন (৬৫)। তার বাড়ি নরসিংদী জেলায়। এই ঘটনায় নিহত রমিজ উদ্দিনের ছেলে বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
জানা যায়, নিহত রমিজ উদ্দিন একজন প্রবাসী ছিলেন। তিনি ১৯৯৮ সাল হতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মালেয়েশিয়াতে অবস্থান করেছেন। ইতিপূর্বে ২০০৬ সাল হতে রমিজ উদ্দিন জাকির হোসেনকে নিয়ে গরু কেনাবেচার ব্যবসা করেন। বর্তমানে ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে খামারের মাধ্যমে লালন-পালন করে বৃহৎ আকারে গবাদি পশুর ব্যবসা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
তিনি আরও জানান, এই হত্যার ঘটনার পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-১৪ এর অভিযানে মঙ্গলবার রাতে লক্ষ্মীপুর জেলার একটি মসজিদে চিল্লারত অবস্থায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মো. জাকির হোসেনকে (৩৬) গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত জাকির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বীকার করে। র্যাব জানায় যে, গত ৫ বছর ধরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার একটি গ্রামের মসজিদে মোয়াজ্জিন হিসেবে নিযুক্ত আছেন জাকির হোসেন। ওই এলাকায় নিহত রমিজ একজন বিত্তশালী উঠতি ব্যবসায়ী।
জাকির হোসেন রমিজ উদ্দিনকে কমমূল্যে গরু কেনার ব্যাপারে নানাভাবে প্রলুব্ধ করে। জাকির তাকে জানায়, তার বাড়ি নেত্রকোনা জেলার সামীন্তবর্তী গ্রামে, সেখানে কম দামে গরু পাওয়া যায়। এ কারণে জাকির ঘটনার ১০/১২ দিন আগে নিহত রমিজ উদ্দিনকে গরু সেখানে নিয়ে গিয়েছিল।
গ্রেফতারকৃত আরও জানায় যে, নিহত জাকির প্রলুব্ধ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ব্যাংক হতে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এরপর গত ২ অক্টোবর রাতে তাকে নিয়ে প্রথমে মনোহরদী থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী এবং পরবর্তী সময়ে বড়পুল এলাকায় যায়। সেখান থেকে রিকশাযোগে ঘটনাস্থল সদর থানাধীন কাটাবাড়িয়া ডাউকিয়া মসজিদ এলাকায় যায় এবং নির্জন এলাকায় অবস্থান নেয়। গ্রেপ্তারকৃত তখন রমিজকে জানায়, গাড়িতে করে গরু এখানে আসবে এবং তারা সেখানে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করতে থাকে।
রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের সময় রমিজ উদ্দিনকে কৌশলে ডাউরিয়া মসজিদের দক্ষিণ পাশে কলাবাগানে নিয়ে যায়। অতঃপর গ্রেফতারকৃত জাকির হোসেন তার সঙ্গে থাকা হাতুড়ি দিয়ে পেছন থেকে বসে থাকা অবস্থায় রমিজ উদ্দিনের মাথায় সজোরে আঘাত করে। হাতুড়ির আঘাতে রমিজ উদ্দিন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার কপালে, মুখে, বাম চোখের উপর ও নিচে ও মাথার বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করে। পরবর্তী সময়ে সে রমিজ উদ্দিনকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
র্যাব জানায় , জাকির হোসেন ঘটনার প্রায় ২ মাস আগে রমিজউদ্দিনকে হত্যা করে টাকা লুটের পরিকল্পনা করে। হত্যার উদ্দেশ্যে বহনকৃত হাতুড়িটি সে যাওয়ার দিন রাতে কিনে একটি ছোট ব্যাগে বহন করেছিল।
র্যাব আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর সে কিশোরগঞ্জ থেকে মনোহরদী চলে আসে এবং নিজ বাসায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ফজরের আজানের সময় হলে মসজিদে গিয়ে আজান দেয় ও নামাজে অংশগ্রহণ করে ও মক্তবে ২০ জন ছাত্রকে পড়ায়।
তার ধারণা ছিল, রমিজ উদ্দিনের মৃত্যুর কথা কেউ জানতে পারবে না। তাই সে তার সাধারণ রুটিন অনুযায়ী চলাচল করতে থাকে। কিন্তু ৩ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে রমিজ উদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়টি এলাকাবাসী জানতে পারলে জাকির হোসেন ভয় পেয়ে মসজিদ থেকে ছুটি নিয়ে আত্মগোপনে নরসিংদীর মাধবদী, ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁওয়ে, ময়মনসিংহ সদরে, সিলেট জেলার ফেঞ্জুগঞ্জ এবং সিলেট থেকে পুনরায় ময়মনসিংহ এসে আত্মগোপনে থাকেন। পরবর্তী সময়ে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকার একটি মসজিদে আসেন এবং সেখান থেকে চিল্লায় লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতী উপজেলায় চলে যায় এবং আত্বগোপনে থাকে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নি। র্যাবের হাতে তাকে ধরা পড়তে হলো। প্রায় ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডটি উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে র্যাব।
অভিজিৎ হত্যাকারীদের সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের পুরস্কার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ
বিজ্ঞান মনস্ক লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকারীদের সন্ধান চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে পুরস্কার ঘোষণা করেছে তাকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘আমেরিকার ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণায় তারা সুবিধা পেতে পারে। বিন লাদেনের ক্ষেত্রেও তারা এভাবে সফল হয়েছিল বলে শুনেছি। এই পলিসি বা স্ট্র্যাটেজি মনে হয় অনেক সময় সাকসেসফুল হয়। অনেক দেশই অনেক সময় এটা ফলো করে। আমরাও তো বঙ্গবন্ধুর তিন খুনিকে খুঁজে পেতে পুরস্কার ঘোষণা করেছি। কেউ যদি তথ্য দিতে পারে, তাদেরকে অবশ্যই সরকার পুরস্কার দেবে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা জানি অভিজিতের দুই খুনি পলাতক আছে। আমরা তাদের খুঁজছি। এদের বিচার হয়ে গেছে। এরা পালিয়ে আছে। এই ঘোষণায় তাদের পেতে আমাদের সুবিধা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণায় যদি তাদের পাওয়া যায়, আমরা তাদের স্বাগত জানাই।’
যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দিক দিয়ে বাংলাদেশকে চাপে রাখতে চাচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে কিছু মানুষ আছে, যারা প্রতিনিয়ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। বিশেষ করে তাদের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে। তাদের মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে, মিথ্যা ভিডিও বানাচ্ছে। বাংলাদেশে একজন মরলে বলে ১০০ জন বিচার বহির্ভূত হত্যা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের ঘটনাকে বলে লাইন অব ডিউটি।
‘বাংলাদেশে একজন মরলে আপনারা যা বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ওরা তা-ই প্রচার করে। আপনারা সংবাদপত্র বড় হরফে ফলাও করেন। ওরা তা নিয়ে অপপ্রচার চালায়। ওদেশে ও কিছু লোক আছে, এদেশেও কিছু লোক আছে।’
আব্দুল মোমেন অভিযোগ করেন, একদল মানুষ দেশের উন্নয়নে সন্তুষ্ট নয়। তিনি বলেন, ‘তারা ভাবেন আওয়ামী লীগ কেন এত ভালো করছে? তারা ভাবে দেশের মানুষ এত ভালো থাকবে কেন? তারা ভাবে সবসময় আমরা পরনির্ভর থাকব। বাংলাদেশ তো এখন মোটামুটি নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখছে। এরা এটা পছন্দ করছে না। তাদের মধ্যে অনেকেই সম্ভবত ওদের দ্বারা পেইড ফর অলসো। তথ্যগুলো তারা সঠিকভাবে দেন না। মিথ্যা তথ্য দেন। অনেকে তা বিশ্বাসও করেন। সেখানে আমাদের কাজ করার সুযোগ আছে।’
তিনি বলেন, ‘কেউ পালিয়ে থাকা খুব বড় কিছু নয়। কারণ দেশে এত মানুষ, সেই তুলনায় আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কম। তারা তাদের কাজ করছে, আমরা আমাদের কাজ করছি। সরকারিভাবে আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই।’
চাকরির নামে ভারতে পাঠিয়ে মুক্তিপণের জন্য নির্যাতন, ৩ জন গ্রেফতার
অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপে চাকরি দেয়ার নামে ভারতে পাচার এবং ‘নির্যাতন কেন্দ্রে’ আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
এরা হলেন- মল্লিক রেজাউল হক ওরফে সেলিম (৬২), মো. বুলবুল আহমেদ মল্লিক (৫৫) ও নিরঞ্জন পাল (৫১)। সোমবার রাতে মিরপুর ও উত্তরা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার কারওয়ানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৪ এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, এই চক্রটি কয়েক বছর ধরে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ভুয়া পাসপোর্ট, নকল ভিসা, আবেদনপত্র ও মানবপাচার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগপত্র জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য তুলে ধরে র্যাব কর্মকর্তা মোজাম্মেল বলেন, সেলিম এই চক্রের ‘হোতা’, তার সহযোগী হিসেবে কাজ করেন মল্লিক ও নিরঞ্জন। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় আরও সাতজন তাদের সঙ্গে জড়িত।
ভারতেও তাদের কিছু সহযোগী সদস্য রয়েছে জানিয়ে র্যাব-৪ এর অধিনায়ক বলেন, “তারা বিদেশে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের টার্গেট করে অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখায়। পরে তাদের পাশের দেশে পাচার করে দেয়। ওই সব দেশে ভারত থেকে ভিসা পাওয়া ‘সহজ’- এমন বুঝিয়ে তাদের প্রতারিত করে।”
র্যাব কর্মকর্তা বলেন, “চক্রটি তাদেরকে ভারতে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে, মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে সেই ভিডিও পরিবারের সদস্যদের দেখিয়ে অর্থ ও মুক্তিপণ আদায় করে।”
অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপে চাকরি দেয়ার নামে ওই চক্র জনপ্রতি ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেয় জানিয়ে মোজাম্মেল বলেন, “ভারতে পাঠানোর পর দিল্লি ও কলকাতায় টর্চার সেলে আটকে মুক্তিপণ হিসেবে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা আদায় করত তারা।”
সম্প্রতি জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তি ভারতের ‘নির্যাতন কেন্দ্র’ থেকে পালিয়ে দেশে ফিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেন। তিনি জানান, চাকরির জন্য বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। এর মধ্যে ২০১৯ সালে সেলিম ও বুলবুলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
তারা জাহাঙ্গীরকে অস্ট্রেলিয়া এবং জাহাঙ্গীরের ভাগ্নে আকাশকে নেদারল্যান্ডসে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে পাঠানোর জন্য ৩৪ লাখ টাকা দাবি করে।
র্যাব কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, গত বছরের ১০ অক্টোবর সেলিমকে ৮ লাখ টাকা এবং এর কিছুদিন পর আরও ৬ লাখ দেন জাহাঙ্গীর। পরে ‘নকল ভিসায়’ ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে জাহাঙ্গীর ও তার ভাগ্নে আকাশকে ভারতে পাঠায় ওই চক্র।
“সেখানে পাচারের পর থেকে তারা দুজন এই চক্রের আরেক সদস্য নিরঞ্জন এবং অন্যান্য সহযোগীদের হাতে আটক ছিলেন। সে সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন ও মৃত্যুভয় দেখিয়ে তাদের পরিবারের কাছ থেকে আরও ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ হিসেবে আদায় করা হয়।”
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জাহাঙ্গীর কৌশলে পালিয়ে অনেক কষ্ট করে দেশে ফিরে আসে আর আকাশ এখনও ভারতে পাচারকারীদের হাতে আটক।
র্যাব জানায়, এ চক্রের সদস্য নিরঞ্জন পাল ২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল ও মালটা পাঠানোর নামে নবাবগঞ্জের বিল্লাল হোসেন, রবিন হোসেন ও শাহীন খান নামে তিনজনকে ভারতে পাচার করেছে।
“তারা সেখানে অবর্ননীয় কষ্ট ভোগ করে মুক্তিপণ দিয়ে ছয় মাস পর দেশে ফেরত এসেছে। তারাও মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।











