নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সংলাপ ব্যর্থ নাকি সফল হবে তা দেখতে সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক । রোববার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আইন মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন দপ্তর/সংস্থার কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের সাথে খ্রীষ্টিয় নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির সংলাপ নিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খানের এক মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনমন্ত্রী বলেন, এই ব্যাপারে দুটো কথা বলবো। একটা হচ্ছে যে, বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতা আছে। বাংলাদেশের যে কোনো নাগরিক তার অভিমত ব্যক্ত করতে পারেন। আমরা মনে হয় তিনি অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তিনি এটা করতেই পারেন। মন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের বলবো এই সংলাপ ব্যর্থ হচ্ছে নাকি সফল হচ্ছে, তা সংলাপ শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি কী পদক্ষেপ নেন সেটা দেখার পর আপনারা বুঝবেন। সেই পর্যন্ত আপনাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে। বিএনপি সংলাপে যাচ্ছে না-এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি বিএনপির উদ্দেশ্যে একথাই বলতে চাই, দেখেন দেশ হচ্ছে সবার ঊর্ধ্বে। দেশের স্বার্থে আপনারা যদি এই সংলাপে আসেন, সেটা আপনাদের জন্য ভালো হবে, সবার জন্য ভালো হবে। তিনি বলেন,বিএনপি নেতারা যদি সেটা না করেন, তবে তা ওনাদের সিদ্ধান্ত। অনেকে বলেন টক্সিক সিচুয়েশন। ওনারা (বিএনপি) যদি মনে করেন, এটা “টক্সিক সিচুয়েশন”, তাহলে আমার মনে হয় “টক্সিক সিচুয়েশন” থেকে বেরোনোর জন্য ওনাদের কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। সংলাপে গেলে আমর মনে হয় সেটা পজিটিভ হবে, যোগ করেন আনিসুল হক। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আইন হলে কী এই প্রশ্নগুলো আসতো? এখনও আইন করার সুযোগ আছে কিনা- জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, এই সময়ের মধ্যে আইন করার সুযোগ নেই। আইন হবে না এই কথা তো আমি বলিনি। আমি বলেছি, এই আইনটা হবে। এই আইনটা এমন একটা আইন হওয়া উচিত, যেটা গ্রহণযোগ্য হবে সবার কাছে। শুধু এক দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হলে তো এটা সর্বজনীন আইন হলো না। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি, আইন হবে। কিন্তু এই যে কমিশন তা সংলাপের উপর নির্ভর করবে। দেখা যাক কী হয়। আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের কাছে চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের সেবা করা। এটাই এত বছর ধরে করে আসছে সরকার। এই সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হলে জনগণ মূল্যায়ন করবে যে, কারা তাদেরকে সেবা করেছে আর কারা নিজেদেরকে সেবা করার জন্য বক্তব্য দিয়েছে। জনগণ সেখানে ভুল করবে না বলে মনে করেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন,সরকারের অগ্রাধিকার হলো জনগণের প্রাপ্য সেবা তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কাকে বিদেশে পাঠানো হবে আর কাকে বিদেশে পাঠানো হবেনা সেটা অগ্রাধিকার নয়। খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বাংলাদেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শুক্রবার বিকাল ৪টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে শপথবাক্য পাঠ করান।
শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, রাষ্ট্রপতির স্ত্রী বেগম রাশিদা খানম, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সাবেক প্রধান বিচারপতিগণ, আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীগণ অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বিদায়ী প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন অবসরে যাওয়ায় রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে এ নিয়োগ দেন।
বৃহস্পতিবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক গেজেট প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নতুন প্রধান বিচারপতি শপথ নেওয়ার দিন থেকেই এই নিয়োগ কার্যকর হবে।
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর অবসরে যাবেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে যা যা বললেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক
সবই পুরোনো প্রশ্ন, কিন্তু সরকারের মন্ত্রীসভার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় যিনি সামলাচ্ছেন, সেই আইনমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে একই প্রশ্নই ঘুরপাক খায় সাংবাদিকদের ঠোঁটে। প্রশ্নবানে অনেকটা জর্জরিত আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, প্রধানবিচারপতি নিয়োগ, নির্বাচন কমিশন গঠন, খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া প্রসঙ্গ থেকে ১৮ ডিসেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত বাদ যায়নি কোনো প্রশ্নই। আর সব প্রশ্নেরই জবাব দিয়েছেন কনফিডেন্টলি। এক প্রশ্নের জবাবে মি. আনিসুল হক সাফ জানিয়ে দিলেন, বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ড হয় না, যেসব অভিযোগ ওঠে, সেগুলো ঠিক নয়।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিদেশি গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ওকাব আয়োজিত মিট দ্যা ওকাব অনুষ্ঠানে নানা প্রশ্নের জবাব দেন আইনমন্ত্রী।
শুরুতেই আইনমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের কাজ তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। এরপর তিনি ওকাব সদস্য সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
গুম ও ক্রসফায়ারের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডগুলোর তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি নিয়ে এক প্রশ্ন এলে আনিসুল হক বলেন, “আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না, আপনারা এক্সট্রা জুডিসিয়াল কিলিং কোথায় পেলেন? এটা আমার উল্টো প্রশ্ন।
“আমার দেখা মতে, বাংলাদেশে কোনো এক্সট্রা জুডিসিয়াল কিলিং হয় নাই। আর সেইজন্যই এরকম দাবি আমলে নেয়ার প্রয়োজন মনে করি না।”
আনিসুল হক বলেন, “আমি যখন প্রথম আইনমন্ত্রী হই, আমাকে বলা হল ২৪১টি এক্সট্রা জুডিসিয়াল কিলিং ও গুমের অভিযোগ। আমি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ডেকে বললাম এই যে ২৪১টি, এগুলোর ব্যাপারে আপনারা আমাকে হিসাব দেন।
“কিন্তু পরে দেখা গেল, এর মধ্যে দুটো সত্য। বাকি ২৩৯টি মিথ্যা। সত্য দুটোর মধ্যে একটা হচ্ছে একজন পুলিশ কর্মকর্তা একজনকে গুলি করে মেরেছেন। ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্ডার কেস হয়েছে। এরকম ঘটনা ঘটলে সরকার আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা সেটাই নেয়।”
টেকনাফের একরামুল হত্যার পর কোনো মামলা হয়নি সরকারের পক্ষ থেকে, কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি সরকারকে- এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, “কক্সবাজারে যে আরেকটি ঘটনা হয়েছে সিনহা হত্যা মামলা… তার তো বিচার হয়েছে। যিনি এটা করেছেন, তাকে তো ছাড় দেয়া হয়নি। কেউ যে কোনো অপরাধের বিরুদ্ধে মামলা করে তাহলে পরে আমি অবশ্যই এটা বলতে পারি, সরকার এটার পদেক্ষেপ নেবে। কারও জন্য আদালতে যাওয়া বারিত নয়।”
র্যাবের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, “আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ব্যাপারটাকে নিষ্পত্তি করতে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিচ্ছে।”
ডিজিটাল আইনে সাংবাদিকদের ‘সরাসরি গ্রেপ্তার নয়’
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, “এর কিছুটা অপব্যবহার হয়েছে, এটা ঠিক। এর কারণে কিন্তু একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে এই আইনটা আসলে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সঙ্কুচিত করছে। কিন্তু আসলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের কোনোটাকেই সঙ্কুচিত করার জন্য করা হয়নি।”
ওই মামলায় সাংবাদিকদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “যদি কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়, তাহলে প্রথমে সেটির তদন্ত করবে আইসিটি অ্যাক্টের আওতায় গঠিত তথ্যানুসন্ধান সেল। সেই সেল মতামত দিবে যে মামলাটা ওই আইনে নেওয়া হবে কি না?
“স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করেছি যে এই রকম মামলা করলে একজন সাংবাদিককে ইমিডিয়েটলি গ্রেপ্তার করা যাবে না। তাকে হয় সমন দিতে হবে, না হলে মামলা নেওয়ার পরে সুযোগ দিতে হবে যাতে তিনি আদালতে এসে জামিন চাইতে পারেন। আর সেলের এনকোয়ারি সম্পন্ন না হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো সাংবাদিককে অ্যারেস্ট করা যাবে না।”
এ বিষয়ে লিখিত কোনো আদেশ জারি করা হয়েছে কি না- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “এই ডাইরেকশনটা তো আমরা নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে দিতে পারি না। কিন্তু যেহেতু পুলিশ অ্যারেস্ট করার এখতিয়ার রাখে। ইন্টার্নালি প্রত্যেক থানাতে এরকম জানানো হয়েছে বলে আমার কাছে খবর আছে।”
বিচারপতি নিয়োগে জ্যেষ্ঠতার ‘নিয়মই নেই’
জ্যেষ্ঠতমকে বাদ দিয়ে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে আনিসুল হক বলছেন, “প্রধান বিচারপতি নিয়োগ রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার, এখানে জ্যেষ্ঠ্যতার কোনো নিয়ম নেই। তাই জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলাও সমীচীন নয়।
“প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে পরিষ্কারভাবে সংবিধানে বলা আছে। সেটা মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিরবচ্ছিন্ন এখতিয়ার। সেখানে কাকে তিনি প্রধান বিচারপতি বানাবেন সেটা তার প্রজ্ঞার বিষয়। সেজন্য এখানে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের বিষয়টা আসে না। লঙ্ঘনের বিষয়টা তখনই আসে যখন সেখানে একটা নিয়ম থাকে। এখানে কিন্তু এমন কোনো নিয়ম নেই যে যিনি জ্যেষ্ঠ তাকেই করতে হবে।”
আইনমন্ত্রী দাবি করেন, বিচারিক ব্যবস্থার জন্য যে অবকাঠামোর ঘাটতি ছিল, গত কয়েক বছরে তা ব্যাপক আকারে উন্নতি হয়েছে।
“জেলা শহরগুলোতে গিয়ে এখন যে সবচেয়ে লম্বা ভবনটি দেখবেন, সেটি হচ্ছে আদালত ভবন। জেলা শহরে আটতলা, দশতলা করে ভবন হয়েছে। সরকার দুই হাজার দুইশ কোটি টাকার ই-জুডিশিয়ারি প্রজেক্ট নিয়েছে। সেটি হলে দ্রুত মামলার নিস্পত্তি হবে। ই-জুডিসিয়ারির মাধ্যমে ভার্চ্যুয়াল কোর্ট করা যাবে।”
“আমাদের বিশ্বাস এসব উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে ৩৯ লাখ মামলার জট আমরা অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারব,” বলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন গঠন প্রসঙ্গে:
প্রশ্ন আসে নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির সংলাপ নিয়ে। আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছেন। সেখান থেকে যেসব নাম আসবে সার্চ কমিটি তার মধ্যে থেকে ১০ জনের নামের সুপারিশ করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে। এর মধ্যে থেকে রাষ্ট্রপতি একজনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আর চারজন কমিশনার নিয়োগ করবেন। মন্ত্রী জানান, সময় সময় স্বল্পতার কারণেই এখন আইন প্রণয়নের সময় নেই । ফলে রাষ্ট্রপতির সার্চ কমিটির মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশন হবে। তিনি বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছেন, “যদিও সার্চ কমিটির গেজেটটা আইন নয়, কিন্তু এটা যেহেতু সবার কনসেন্সের মাধ্যমে হয়েছিল। মহামান্য রাষ্ট্রপতি সেটা গেজেট করেছিলেন। সেটা কিন্তু আইনের কাছাকাছি।’তবে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন করা দরকার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন এটা রাষ্ট্রের একটা গুরুত্বপূর্ণ আইন হবে। ফলে সংসদে সর্বসম্মত আলোচনার মাধ্যমে এ আইন হতে হবে।
‘২০১৮ এর নির্বাচন প্রসঙ্গ:
২০১৮ সালের নির্বাচনকে আপনি কত নম্বর দেবেন- এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে আইনমন্ত্রী বলেন, “দ্যাখেন, আমি পরীক্ষার খাতা দেখতে বসি নাই।”
নিজের আসনে সুষ্ঠু ভোট হয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, “আমার আসনে (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪, কসবা-আখাউড়া) বিএনপি চারজনকে প্রার্থী দিয়ে রেখেছিল। অনেকটা অকশনের মতো, যে বেশি পয়সা দেবে…। তাদের সেই দোষ যদি আমাদের উপর চাপাতে চান, তাহলে আমি সেটার দায় নিতে রাজি না।”
এই প্রসঙ্গে আনিসুল হক বলেন, “১৯৯৬ সালের নির্বাচনও দেখেছি। আগে আরও অনেক ভোটও দেখেছি। নির্বাচনে যদি কেউ না আসে… তো তাকে মানুষ কি ভোট দেওয়ার জন্য গিয়ে বসে থাকবে?”
ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, “১৯৭৫ পরবর্তী নির্বাচনগুলো হয়েছিল, তার যে ইমপ্যাক্ট সেটা এখনও মানুষের মনে রয়ে গেছে। সেই ভীতিটা এখনও সম্পূর্ণভাবে দূর হয়নি। ডিজিটালি এখন আমরা অনেকটাই অগ্রসর হয়েছি। কানেক্টিভিটি নেটওয়ার্ক অনেক বেড়ে গেছে। আমার ধারণা, আগামী নির্বাচনে মানুষ অনেক বেশি ভোট দিতে আসবে।”
খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ:
বিএনপির চেয়ারপারস খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে হলে আগে কারাগারে ফিরতে হবে বলে এর আগে বলেছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
এ নিয়ে এক প্রশ্নে বৃহস্পতিবারের সভায়ও তিনি একই কথা বলেন।
কারাগারে গেলেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন? হাইপোথিটিক্যালি বিষয়টা কী দাঁড়ায়- এক সাংবাদিকের এ প্রশ্নের জবাবে আনিসুল বলেন, “হাইপোথিটিক্যাল কোনো প্রশ্নের জবাব আমি দেব না।”
খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে পরিবারের দরখাস্তের কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, তার আত্মীয়-স্বজন একটা দরখাস্ত করেছিলেন। সেখানে কোনো আইনের ধারার কথা উল্লেখ ছিল না। তারপরও সেই দরখাস্তকে গণ্য করে ফৌজদারি আইনের ৪০১ ধারার বিধান অনুযায়ী সরকার নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার দণ্ডাদেশ স্থগিত রেখে শর্তযুক্ত মুক্তি দিয়েছে। শর্ত হলো তিনি বাসায় চিকিৎসা নেবেন, কিন্তু বিদেশ যেতে পারবেন না। আনিসুল হক বলেন, ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন না হলেও সেদিন আনন্দ করে তার জন্মদিন পালন করা হয়। বঙ্গবন্ধুর খুনি লে. কর্নেল আবদুর রশিদকে ১৯৯৬ সালে ভোটার বিহীন নির্বাচনে বিরোধী দলীয় নেতা বানিয়ে ছিলেন খালেদা জিয়া। তার ছোট ছেলে মারা গেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমবেদনা জানাতে বাসায় গেলে তাঁর (প্রধানমন্ত্রীর) মুখের সামনে গেইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এতকিছুর পরও তাকে শর্তযুক্ত মুক্তি দেয়া হয়েছে। তারপরও কেন মানবিকতার প্রশ্ন ওঠে, প্রশ্ন রাখেন আইনমন্ত্রী।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওকাবের সমন্বয়ক বিবিসির সংবাদদাতা কাদির কল্লোল। ওকাবের সদস্য জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ফরিদ হোসেন ও ওকাবের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম মিঠুও সভায় বক্তব্য রাখেন।
হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী নতুন প্রধান বিচারপতি
নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন । বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইনমন্ত্রণালয়। এই নিয়োগ শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। শুক্রবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়াবেন।
হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি। তিনি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের স্থলাভিষিক্ত হলেন এবং আগামী ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর অবসরে যাবেন। আপিল বিভাগের বিচারপতিদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতার ক্রমধারায় হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর অবস্থান দ্বিতীয়। প্রথম অবস্থানে রয়েছেন বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী।
২০০১ সালে হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। ২০০৯ সালে হাইকোর্ট ডিভিশনে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান বর্তমান আপিল বিভাগের এ বিচারপতি। ২০১৩ সালের ২৮ মার্চ আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ১৯৭২ সালে খোকসা জানিপুর পাইলট হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৪ সালে সাতক্ষীরার সরকারি পিসি কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে বিএ পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে এমএ পাস করেন।
ধানমন্ডি ল’ কলেজ থেকে এলএলবি পাস করে ১৯৮১ সালে ঢাকা জজ কোর্টে আইন পেশায় যোগদান করেন। ১৯৮৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ১৯৯৮ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।
বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ১৯৫৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম আবদুল গফুর মোল্লা ও মাতা মরহুমা নূরজাহান বেগম।
তিনি ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিদায়ী প্রধান বিচারপতি
রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতি কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারকার্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তিতে গতিশীলতা আনার জন্য বিদায়ী প্রধান বিচারপতিকে ধন্যবাদ জানান।
বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোঃ জয়নাল আবেদীন বাসসকে বলেন, ‘এটি ছিল রাষ্ট্রপতির সাথে বিদায়ী প্রধান বিচারপতির একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ।’
দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে বিচারপ্রার্থী জনগণের মহান আশ্রয়স্থল হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি হামিদ দেশের বিচার বিভাগের সার্বিক উন্নয়নে তার উদ্যোগের ও ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এদিকে, প্রধান বিচারপতি তার দায়িত্ব পালনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এসএম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, প্রেস সচিব মোঃ জয়নাল আবেদীন ও সচিব (সংযুক্ত) মোঃ ওয়াহিদুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতির সংলাপে যাবে না বিএনপি
নির্বাচন কমিশন গঠনে (ইসি) রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয় গত সোমবার। এতে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালী যোগ দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওই বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বুধবার এ ব্যাপারে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে দলের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিএনপি মনে করে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকালীন সময়ের নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা ব্যতীত নির্বাচন কমিশনের গঠন নিয়ে সংলাপ শুধু সময়ের অপচয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলীয় সরকার বহাল রেখে নির্বাচন কমিশন কখনই স্বাধীনভাবে নিরপেক্ষ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারবে না।’
এতে আরও বলা হয়, ‘বিএনপি বিশ্বাস করে, নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকার ব্যতিরেখে সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কোনো কমিশনই করতে পারবে না। রাষ্ট্রপতি নিজেই বলেছেন, তার কোনো ক্ষমতা নেই পরিবর্তন করার। সেই কারণে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ কোনো ইতিবাচক ফলাফল আনতে পারবে না। বিএনপি অর্থহীন কোনো সংলাপে অংশগ্রহণ করবে না।’
বিএনপি জানায়, বিএনপি নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে সুস্পষ্ট প্রস্তাব লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করেছিল। কিন্তু সব উদ্যোগই ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচনকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের দলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে বেআইনি ব্যবহার, নির্বাচন কমিশনের চরম ব্যর্থতা, অযোগ্যতার কারণে নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের দলীয় সংগঠনে পরিণত হয়েছে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পর পর দুটো নির্বাচন কমিশনই চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ২০ ডিসেম্বর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছেন।
নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিতর্ক করার অবকাশ নেই: আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য আইন হোক- তা তিনিও চান। কিন্তু এবার সে সময় নেই, আর সংসদকে পাশ কাটিয়ে অধ্যাদেশ জারি করা সঠিক হবে না বলে মনে করেন তিনি।
বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর সেগুন বাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি তাঁর সংলাপ শুরু করে দিয়েছেন। তিনি যেই সিদ্ধান্ত দেবেন সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী নির্বাচন কমিশন গঠন হবে। এটা রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব। মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নামের প্রস্তাব নেবেন। সেটা যাবে সার্চ কমিটিতে। সেই সার্চ কমিটি যেসব নাম প্রস্তাব করবে, তাদের মধ্যে থেকে রাষ্ট্রপতি নতুন ইসি গঠন করে দেবেন। এই এই সার্চ কমিটির সদস্য হবেন, আপিল বিভাগের একজন সিনিয়র বিচারপতি, হাইকোর্টের একজন বিচারপতি, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান এবং অডিটর অ্যান্ড কম্পট্রোলার জেনারেল। এরা সবাই সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত। আর দুজন হবেন সিভিল সোসাইটির সদস্য। তিনি বলেন, সার্চ কমিটিতে রাজনৈতিক দলের কেউ নেই। সরকারি দলের কেউ নেই। সার্চ কমিটি দশজনকে নির্বাচন করে রাষ্ট্রপতির কাছে নাম পাঠাবেন। সকলের নাম দেয়ার অধিকার আছে, ক্ষমতা আছে। সুতরাং নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কোনো বিতর্ক করার অবকাশ আছে বলে মনে হয় না।
বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োজন আছে। কিন্তু এও জানি এর কিছু অপব্যবহার ও দুর্ব্যবহার হয়েছে। এটা যাতে বন্ধ হয় সেজন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এখন কোনো সাংবাদিককে মামলা হবার সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় না। আগে যাচাই-বাছাই হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাক-স্বাধীনতা ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য করা হয়নি, বলেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৬৪ সাল থেকে আমি খবরের কাগজ পড়ি। তখন আমার বয়স আট। তখন ক্রাইম রিপোর্টিং আলাদাভাবে ছিল না। কিন্তু এখন আলাদা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠছেন সাংবাদিকরা। তিনি বলেন, অপরাধের তথ্য এখন অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানার আগেই দিচ্ছেন সাংবাদিকরা। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সবার। সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে যে সুসম্পর্ক, তা খুবই গভীর হয়েছে। আমাদের দেশে যত টকশো হয়, এত টকশো অন্য দেশের গণমাধ্যমে হয় না। বাক-স্বাধীনতা নাই তা বলা যাবে না। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাও হচ্ছে।
ক্র্যাব সভাপতি মিজান মালিকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আরিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এর মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক সাইফুল আলম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সুপ্রিমকোর্টের স্মারকগ্রন্থ : সকলের জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে বিচারকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহবান
সকলের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করতে বিচারকদের প্রতি আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সকল সুবিধা নিশ্চিত করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ন্যায় বিচার মানুষের প্রাপ্য। সেটা যেন সব সময় পায় সেটা আমরা চাই। কারণ আমরা ভুক্তভোগী। তাই আমরা জানি বিচার না পাওয়ার কষ্টটা কি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যারা ১৫ই আগস্টে সব হারিয়েছিলাম, আমার মতো বাবা মা হারিয়ে যেন কাউকে বিচারের জন্য চোখের পানি ফেলতে না হয়। সেটাই আমরা চাই। সেটা আপনারা নিশ্চিত করে দেবেন। আর আমি যতক্ষণ সরকারে আছি এর জন্য যা যা দরকার আমরা করবো।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট প্রকাশিত ‘বঙ্গবন্ধু ও বিচার বিভাগ ও ‘বঙ্গবন্ধু এন্ড জুডিসিয়ারি’ শীর্ষক বাংলা ও ইংরেজীতে মুজিব স্মারক গ্রস্থ এবং ‘ন্যায়কন্ঠ’ শীর্ষক মুজিববর্ষের স্মরণিকা’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
তিনি গণভবন থেকে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গনের মূল অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের সাহয্যে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
শোষিত বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরার পাশপাশি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্টের বিয়োগান্তক অধ্যায় তুলে ধরে দীর্ঘদিন বিচার না পাবার জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করেন জাতির পিতার কন্যা।
সে সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান জাতির পিতার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।
জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছিল- তারা তাদের দেশে ফিরতেও বাঁধা সৃষ্টি করে এবং খুনীদের বিচারের হাত থেকে রক্ষায় ইনডেমনিটি অ্যাক্টও জারি করে।
ছয় বছর প্রবাসে জীবন কাটাতে বাধ্য হবার পর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হলে দেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা এবং ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই ‘ইনডেমনিটি অ্যাক্ট’ বাতিল করে জাতির পিতা হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ সুগম হয়।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসলে বহু বছর বিচার না পেয়ে মনে অনেক দুঃখ ছিল। যা হোক, এই হত্যার বিচার পেয়েছি। এটাই হচ্ছে সব থেকে বড় কথা।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার রায় কার্যকর হওয়ায় বিচার বিভাগ, দল ও দেশবাসীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, তবে এখন আরেকটা দায়িত্ব রয়ে গেছে। চক্রান্তটা খুঁজে বের করা। এটা একদিন বের হবে। এতে কোন সন্দেহ নেই।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। আপিল বিভাগের বিচারপতি এবং স্মারক গ্রন্থ এবং স্মরণিকার সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান স্বাগত বক্তৃতা করেন।
মুজিব স্মারক গ্রন্থ এবং স্মরণিকার ওপর অনুষ্ঠানে ভিডিও ডকুমেন্টারিও প্রচারিত হয়।
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা ও বঙ্গমাতাসহ ’৭৫ এর ১৫ আগস্টের সকল শহিদ এবং বিজয়ের এই মাসে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬ সালে তিনি প্রথম সরকার গঠনের পরই কেবল এদেশে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সেনাছাউনি থেকে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেয়ার কাজটা তিনি করতে পেরেছেন।
পাশাপাশি বিচার বিভাগের অধিকারের জন্য বিচার বিভাগের উন্নয়নের জন্য এবং দেশের মানুষের উন্নয়নে জন্য অনেক কাজ করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর সরকার ক্ষমতায় না এলে বা তিনি বেঁচে না থাকলে এদেশে কোনদিন জাতির পিতা হত্যাকান্ডের বিচার হতো কি না তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, তখন গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার বা মানবাধিকারটা কোথায় ছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না এলে দেশে সেই ইনডেমনিটি বা সেই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই থেকে যেত।
‘বাবার হত্যাকান্ডের বিচার চাইতে মামলা করার জন্য তাঁকে, তাঁর মতন আপনজন হারাদের ক্ষমতায় আসতে হয়েছে’, উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার বিচার পাওয়ার অধিকার হরণ করা হয়েছিল এবং আমরা সরকারে আসার পরই এই বিচার সম্পন্ন হয়েছে। যদিও এই বিচারের রায় দিতে গিয়ে বা বিচার করতে যেয়ে উচ্চ আদালতে অনেকেই সেই সাহসটা পাননি, একটা পর্যায়ে সরে গেছেন।’
জাতির পিতার খুনীদের বিভিন্ন দেশে পলাতক থাকা প্রসংগে তিনি বলেন, এখনও কয়েকজন খুনী পালিয়ে আছেন, তাদেরকেও খোঁজা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব থেকে বড় কথা হচ্ছে যে, আমেরিকার মত দেশ সবসময় ন্যায়বিচার এবং গণতন্ত্রের কথা বলে, ভোটাধিকারের কথা বলে, মানবাধিকারের কথা বলে। কিন্তু আমাদের যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছিল, আমরা যে ন্যায় বিচার পাইনি- তারপরে যখন বিচার হলো, সেই খুনীদের আশ্রয় দিয়ে বসে আছে।’

তিনি সরকারে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে যে কজন রাষ্ট্রপ্রধান ক্ষমতায় এসেছেন তাঁদের কাছে খুনীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কথা বলেছেন, অনুরোধ করেছেন উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘আমি বার বার বলেছি একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে আপনারা কিভাবে আশ্রয় দেন। আপনাদের জুডিসিয়ারি কিভাবে একজন খুনীতে আশ্রয় দেয়?’
আমেরিকায় খুনী রাশেদ এবং কানাডায় মেজয় নূর আশ্রয় নিয়ে আছেন বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগের অধিকারের জন্য, বিচার বিভাগের উন্নয়নের জন্য বা দেশের মানুষের জন্য কি করেছি, সেটা আর আমি এত বেশি বলতে চাই না। তবে আমি এইটুকু বলবো যেহেতু আমার বাবা চাইতেন স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা, সরকারে এসে সেই স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা আমরা নিশ্চিত করেছি।
করোনাভাইরাসের মধ্যে বিচার কার্য পরিচালনার জন্য তাঁর সরকারের ভার্চুয়াল কোর্ট করে দেয়ার কথা উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, এরফলে বিচার কার্য স্থবির হতে পারেনি অর্থাৎ প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।
অন্য সরকারগুলোর মতো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার বিচার বিভাগে কখনো হস্তক্ষেপ করেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কখনো বিচার কাজে হস্তক্ষেপ করিনি, এর আগে অনেক ঘটনা আছে আপনারা জানেন। দেখা গেছে ফলস সার্টিফিকেট এর ব্যবহার বা ছাত্রদলের কাঁধে হাত রেখে কাকে কি রায় দেয়া হবে সেটা নিয়ে আলোচনা, এ রকম বহু ন্যাক্কারজনক ঘটনাও বাংলাদেশে ঘটেছে। ‘
‘অন্তত আমি এটুকু বলতে পারি আমরা সরকারে আসার পর, অন্তত এই পরপর তিনবার এখন আমরা ক্ষমতায় বা এর আগে একবার ছিলাম, আমরা কিন্তু সেটা করার সুযোগ দেইনি। সব সময় একটা ন্যায়ের পথে যেন সবাই চলতে পারে আমরা সেই ব্যবস্থা করেছি,’ বলেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনারা দেখবেন, একের পর এক আমরা কাজ করে গেছি। দ্বিতীয়বার যখন ক্ষমতায় এসেছি তখন আমরা দি কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট ২০০৯ পাশ করে বিচার বিভাগ পৃথিকীকরণের কাজটি স্থায়ী রূপ দেই। এমনকি অর্থনৈতিক ভাবেও যেন বিচার বিভাগ স্বাধীনতা অর্জন করে সেই ব্যবস্থাটাও কিন্তু আমি ‘৯৬ সালে এসে করে দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে এসে সব রকম সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। এর মাঝে আপনারা জানেন, বিভিন্ন জেলায় বোমা মেরে বিচারকগণকেও হত্যা করা হয়েছে। সেখানে আমরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সব সময় বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়েই চলতে হবে। আমাদের দেশটাও যেমন বিশ্বে একটা মর্যাদা নিয়ে চলবে, সাথে সাথে একটি দেশের সমস্ত অঙ্গগুলোও যেন সেইভাবে মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে, আমরা সেটাই করতে চাই। সেভাবেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।
বিচারকদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচারকদের থাকার ব্যবস্থা, তাদের চলার ব্যবস্থা, সব ধরনের ব্যবস্থা, সুযোগ সুবিধা আমরা আমাদের সাধ্যমত করে দিয়েছি।
বিচারকদের দক্ষতা বাড়াতে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আইন কমিশন গঠন করি। বিচারকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট আমি প্রতিষ্ঠা করে দেই। এখনতো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ট্রেনিং নেয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। অন্য দেশে কিভাবে হয় সেটা আমাদের দেশের মানুষের জানা উচিত, সেই ব্যবস্থাটা আমরা করে দিয়েছি।
গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, গ্রামের হতদরিদ্র মানুষ যাতে বিচার পায় সেজন্য লিগ্যাল এইড কমিটি করে তাদের জন্য বিচার প্রাপ্তির ব্যবস্থাটা করে দিয়েছি। জনসাধারণকে আইনগত সহায়তা প্রদানের বিষয়েও তাঁর সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এনেক্স ভবন করে দিয়েছি। পাশাপাশি প্রত্যেকটা জেলা কোর্ট নতুনভাবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করেছে তাঁর সরকার।
উচ্চ আদালতে নারী বিচারক নিয়োগে নিজের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান আমলে আইন ছিল, বিচার প্রক্রিয়ায় মহিলারা অংশগ্রহণ করতে পারবে না। জাতির পিতা সেই আইন পরিবর্তন করে সুযোগ দিলেন। কিন্তু আমি এসে দেখলাম আমাদের উচ্চ আদালতে কোন মহিলা নেই। আমি রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানালাম যে, সেখানে মহিলাদের সুযোগ দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় জনসাধারণের জন্য বিচারের রায় বাংলায় লেখার ওপর পুনরায় গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ইংরেজীতে লেখা বিচারের রায় আসামীরা কি কতটুকু বোঝে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং ইংরেজীতে রায় লেখার সাথে সাথে এটার বাংলায় অনুবাদটা যাতে হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার আহবান জানান।
এজন্য আলাদাভাবে ট্রান্সলেটর নিয়োগ এবং তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। আইন কমিশনের বের করা শব্দকোষ এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও তিনি অভিমত দেন।
জাতির পিতাকে হত্যার পর বাংলাদেশে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির শুরু হওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, আজকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জাতির পিতা আমাদের স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে রেখে গিয়েছিলেন। ২০০৮ এর নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা দিয়েছিলাম বাংলাদেশ ডিজিটাল হবে এবং আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হবো। আজকে আমাদের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ।
২০২১ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক ধারাটা দীর্ঘদিন ধরে সেই ২০০৮ এর নির্বাচনের পর ২০০৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেই আজকে বাংলাদেশ এই উন্নতি করতে পেরেছে।
দেশের উন্নতির জন্য কাজ করতে গিয়ে অনেক ঝড়-ঝাপ্টা মোকাবেলা করতে হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বিএনপি-জামাতের দু:সময়ের খন্ডচিত্র তুলে ধরে বলেন, কখনো সেই হেফাজতকে নিয়ে এসে তাদেরকে নিয়ে একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা, জ্বালাও পোড়াও করা, কখনো অগ্নিসন্ত্রাস সৃষ্টি করা, কখনো নানাভাবে ব্যতিব্যস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
কিন্তু দেশে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ দমন করা, দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি করা, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সেটাও সফলভাবে আমরা করে আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। সেটাই হচ্ছে সব থেকে বড় কথা। বাসস।
ইসি গঠনে সংলাপ: রাষ্ট্রপতিকে ৬ দফা প্রস্তাব দিয়েছে ওয়ার্কার্স পার্টি
রাজনীতিতে গুণগত মান নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি করা কঠিন হয়ে যাবে বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। তিনি বলেন
“রাজনীতি হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোকে তৃণমূল পর্যায়ে সঠিক জনমত গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন ওয়ার্কার্স পার্টির সাথে সংলাপ শেষে রাষ্ট্রপতিকে উদ্ধৃত করে এ কথা বলেন।
প্রেস সচিব বাসসকে জানান, নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বঙ্গভবনে চলমান সংলাপের পঞ্চম দিনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বাধীন ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির সাথে আলোচনায় অংশ নেন। সেখানে তারা একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য ছয়টি প্রস্তাবনা রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করেন।
রাষ্ট্রপ্রধান একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ইসি গঠনের ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রেস সচিব জানান, প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার উদ্যোগ নেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান। তারা নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির কাছে ছয় দফা প্রস্তাব পেশ করেন।
ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা বলেন, নির্বাচন কমিশন যাতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণমুক্ত ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, তারা বছরের শুরুতেই জরুরি ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের জন্য প্রস্তাব করেন।
এছাড়া নির্বাচন কমিশন থেকে নির্বাচনী আইনসমূহের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার ব্যাপারে তারা মতামত দেন।
ওয়ার্কার্স পার্টি নির্বাচন কমিশন গঠনে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত গ্রহণেরও প্রস্তাব দেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোঃ জয়নাল আবেদীন এবং সচিব (সংযুক্ত) মোঃ ওয়াহিদুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি হামিদ গত ২০ ডিসেম্বর সংলাপের প্রথম দিনে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সাথে আলোচনা করেন।
এ পর্যন্ত মোট সাতটি রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চলমান সংলাপের অংশ হিসেবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর বুধবার বিকেল চারটায় বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ সাথে এবং ইসলামী ঐক্যজোটের সাথে আলোচনা হবে ২৯ ডিসেম্বর বুধবার সন্ধ্যা ৬ টায়, ২ জানুয়ারি বৈঠক হবে গণফোরামের সাথে সন্ধ্যা ছয়টায় এবং বিকল্প ধারা বাংলাদেশ এর সাথে সন্ধ্যা সাতটায়, আগামী ৩ জানুয়ারি সংলাপ হবে গণতন্ত্রী পার্টির সাথে সন্ধ্যা ৭ টায় এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সন্ধ্যা সাতটায়।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
এর আগে নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতিকে সিইসি এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। গত কয়েকটি মেয়াদে রাষ্ট্রপতি ‘সার্চ কমিটি’র সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন।
বর্তমান ইসির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি। এ সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নতুন কমিশন গঠন করবেন, যাদের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
ইসি গঠনে সংলাপ: রাজনীতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে এগিয়ে আসার আহবান রাষ্ট্রপতির
রাজনীতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ । তিনি বলেন, এক্ষেত্রে শুধু সদিচ্ছা ব্যক্ত করাই যথেষ্ট নয়; ঘরে বসে না থেকে মাঠে নেমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারলেই সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের চলমান রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপের চতুর্থ দিনে খেলাফত মজলিস এবং তরিকত ফেডারেশনের সাথে আলোচনার সময় তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপ্রধান এ ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করেন, সংলাপ শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোঃ জয়নাল আবেদীন বাসসকে জানান। আবেদীন বলেন, একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সংলাপের চতুর্থ দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (বিটিএফ) এবং খেলাফত মজলিসের সাথে আলোচনায় বসেন রাষ্ট্রপতি।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে এ আলোচনায় অংশ নেন।
খেলাফত মজলিস নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য একটি যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ও শক্তিশালীকরণ এবং নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষাসহ পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রস্তবনা দেন আবদুল হামিদের কাছে।
এর আগে বিকেল চারটায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে বসেন সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর এমপির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল।

তরিকত ফেডারেশন রাষ্ট্রপতির কাছে চার দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে। প্রস্তাবনাগুলো হলো: বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য একটি সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন করা, অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটি গঠন যেখানে গণমাধ্যমের একজন প্রতিনিধিসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ইসিতে যাতে মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারী বা তাদের পরিবারবর্গের কাউকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়া না হয়।
রাষ্ট্রপ্রধান বলেন একটি নির্বাচন কমিশন গঠন একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনই সংলাপের আলোচনার মূল লক্ষ্য।
রাষ্ট্রপতি হামিদ আশা প্রকাশ করেন পর্যায়ক্রমে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার ভিত্তিতে একটি দক্ষ, শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করা সম্ভব হবে। তিনি দেশের ইসি গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করেন।
গত ২০ ডিসেম্বর প্রথম দিনে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সাথে সংলাপে বসেন রাষ্ট্রপতি হামিদ।
এ পর্যন্ত মোট ছয়টি রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
২৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকেল চারটায় বৈঠক হবে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সাথে, ২৯ ডিসেম্বর বুধবার বিকেল চারটায় বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ সাথে এবং ইসলামী ঐক্যজোটের সাথে আলোচনা হবে ২৯ ডিসেম্বর বুধবার সন্ধ্যা ৬ টায়, ২ জানুয়ারি বৈঠক হবে গণফোরামের সাথে সন্ধ্যা ছয়টায় এবং বিকল্প ধারা বাংলাদেশ এর সাথে সন্ধ্যা সাতটায়, আগামী ৩ জানুয়ারি সংলাপ হবে গণতন্ত্রী পার্টির সাথে সন্ধ্যা ৭ টায় এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সন্ধ্যা সাতটায়।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
সংলাপের সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতিকে সিইসি এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। গত কয়েকটি মেয়াদে রাষ্ট্রপতি ‘সার্চ কমিটি’র সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন।
বর্তমান ইসির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি। এ সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নতুন কমিশন গঠন করবেন, যাদের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।











