ঢাকা   শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩   সকাল ৬:৫০ 

Home Blog Page 49

ঢাকায় ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ

0

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনে অংশ নিতে তিন দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।
বাংলাদেশে নিজের প্রথম সফরে বুধবার সকাল ১১টার দিকে এয়ার ইন্ডিয়া ওয়ান ফ্লাইটে সস্ত্রীক ঢাকায় পৌঁছান কোবিন্দ। তার সঙ্গে মেয়ে স্বাতী কোবিন্দও রয়েছেন। বিমানবন্দরে ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান এবং তার স্ত্রী সবিতা কোবিন্দকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং তার স্ত্রী রাশিদা খানম।
সাধারণত ফুল দিয়ে বরণ করার রেওয়াজ থাকলেও করোনাভাইরাসে মহামারীর কারণে তা হয়নি, করমর্দনও করেননি দুই রাষ্ট্রপ্রধান।
বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে ২১ বার তোপধ্বনি দিয়ে স্বাগত জানানো হয় রামনাথ কোবিন্দকে। তিন বাহিনীর সুসজ্জিত একটি দল দেয় গার্ড অব অনার। দেয়া হয় লাল গালিচা সংবর্ধনা।

গার্ড পরিদর্শন শেষে ভারতের রাষ্ট্রপতিকে লাইন অব প্রেজেন্টেশনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
কূটনৈতিক কোরের ডিন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, আইজিপিসহ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন বিমানবন্দরে।
ভারতের রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে বিমানবন্দর এলাকা বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। টার্মিনালের উপরে এবং সামনে বাংলাদেশ ও ভারতের বিপুল সংখ্যক পতাকা রয়েছে সেই সাজে।
ভিভিআইপি টার্মিনালের দু’পাশে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের দুটি বড় ছবি স্থাপন করা হয়েছে এবং টার্মিনালের উপরে বড় করে লেখা ‘স্বাগতম হে মহামান্য অতিথি’।
বিমানবন্দর থেকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে গেছেন রাম নাথ কোবিন্দ। সেখান থেকে ফিরে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন তিনি।
জাদুঘর পরিবদর্শনের পর সোনারগাঁও হোটেলে যাবেন কোবিন্দ। সফরে এখানেই থাকছেন তিনি। বিকালে ভারতীয় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে হোটেলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আববদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হবে রাষ্ট্রপতি কোবিন্দের।
ভারতের রাষ্ট্রপতি মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত একটি টি-৫৫ ট্যাংক এবং একটি মিগ-২৯ যুদ্ধ্ববিমান বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণ এবং প্রদর্শনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে উপহার হিসেবে দেবেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে অংশ নেবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি।
বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেবেন।
সফরের তৃতীয় দিন শুক্রবার সকালে রমনা কালী মন্দির পরিদর্শনে যাবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। সেখানে সদ্য সংস্কারকৃত অংশ উদ্বোধনও করবেন তিনি। এ সময়ে মন্দির সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের সাথে সংক্ষিপ্ত পরিসরে তার মতবিনিময়ের কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করে শুক্রবার দুপুরে দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন কোবিন্দ।বিডি নিউজ।

ভারতের রাষ্ট্রপতি কাল আসছেন

0

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে বুধবার ঢাকা আসছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দর এটাই হবে বাংলাদেশে প্রথম সফর।
ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী, মুজিব বর্ষের সমাপনী দিন উদযাপন এবং বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সফর করবেন। রাষ্ট্রীয় এ সফরে ভারতের ফার্স্ট লেডি এবং রাষ্ট্রপতির কন্যা, ভারতের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, দুইজন সংসদ সদস্য, পররাষ্ট্র সচিবসহ বিভিন্ন দফতরের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণ তার সঙ্গী হিসেবে যোগ দেবেন।
মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে ভারতের রাষ্ট্রপতির সফর নিয়ে আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
সফরের প্রথম দিন, ১৫ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে দশটার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে ভারতের রাষ্ট্রপতিকে হজরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে স্বাগত জানাবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। এসময় ভারতের রাষ্ট্রপতিকে বিমানবন্দরে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। ১০টা ৫০ মিনিটে তেজগাঁও হেলিপ্যাডের উদ্দেশ্য রওনা দেবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি।
১১টা ৫ মিনিটে হেলিকপ্টারে চড়ে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন। ১১টা ২৫ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করবেন, ভিজিটর বইয়ে সই এবং বৃক্ষরোপণ করবেন।
সেখানে থেকে তেজগাঁও হেলিপ্যাডে ফিরে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে গাড়িতে ধানমন্ডি ৩২-এ অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন এবং জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি সেখান থেকে বের হয়ে ঢাকায় তার আবাসস্থল হোটেল সোনারগাঁওয়ে পৌঁছাবেন ১২টা ৪০ মিনিটে। দুপুরের খাবার ও একান্ত সময় কাটিয়ে বিকেলে ৩টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
এরপর বিকেল সাড়ে তিনটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে সোনারগাঁও হোটেলে আসবেন।
ভারতের রাষ্ট্রপতি সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। ৬টা ২৫ মিনিটে তিনি বঙ্গভবন পৌঁছাবেন এবং ৬টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। তারপর সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত একটি টি-৫৫ ট্যাংক এবং একটি মিগ-২৯ যুদ্ধ বিমান বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণ এবং প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে উপহার হিসেবে প্রদান করবেন। এরপর ৭টার দিকে ভিজিটর বইয়ে সই করবেন। ৭টা ১০ মিনিটে ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক আয়োজিত নৈশভোজে অংশগ্রহণ করবেন। রাত ৯টায় বঙ্গভবন থেকে তিনি সোনারগাঁও হোটেলে ফিরে রাত্রিযাপন করবেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন ১৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে দশটায় জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ভারতের রাষ্ট্রপতি ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বাংলাদেশের বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। একই দিন বিকেলে সাড়ে ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সাউথ প্লাজাতে বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর ঐতিহাসিক মুহূর্তে জাতির পিতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং রক্তস্নাত বিজয়ের আবেগ ও আনন্দ উদ্‌যাপনের জন্য আয়োজিত ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ অনুষ্ঠানে তিনি অংশগ্রহণ করবেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।

সেখান থেকে রাত ৯টার সময় ভারতের রাষ্ট্রপতি তার আবাস সোনারগাঁও হোটেলে ফিরে যাবেন। সফরের তৃতীয় দিন ১৭ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে দশটার দিকে ভারতের রাষ্ট্রপতি ঢাকার রমনা কালিমন্দিরের সদ্য সংস্কারকৃত অংশের উদ্বোধন করবেন এবং মন্দিরটি পরিদর্শন করবেন। এসময় তিনি মন্দির সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পরে বেলা ১১টার দিকে হোটেলে ফিরে আসবেন। সেখানে থেকে ১২টা ১৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিভিআইপি টার্মিনালের উদ্দেশ্য রওনা দেবেন।
দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দিল্লির উদ্দ্যেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। তাকে বিদায় জানাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, দ্য হিন্দু যেভাবে দেখছে

0

বাংলাদেশে আধা-সামরিক বাহিনী র‌্যাবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা দৃশ্যত ঢাকায় প্রশাসনকে বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে। এর ফলে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। প্রতিবাদ জানাতে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলারকে তলব করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য হিন্দুর এক সম্পাদকীয়তে এ কথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ডেমোক্রেসি সামিটের শুরুর সময় এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ট্রেজারি বিভাগ। ওই সামিটে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি থেকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন এনজিও অভিযোগ করেছে ২০০৯ সাল থেকে র‌্যাব এবং বাংলাদেশের অন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা কমপক্ষে ৬০০ মানুষ গুমের জন্য দায়ী। ২০১৮ সাল থেকে প্রায় ৬০০ মানুষকে বিচারবহির্ভূত হত্যা করা হয়েছে এবং নির্যাতন করা হয়েছে।
এ ছাড়াও রিপোর্ট আছে যে, এসব নির্যাতনে টার্গেট করা হয়েছে বিরোধীদলীয় সদস্য, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের। এর প্রেক্ষিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। গ্লোবাল ম্যাগনিটস্কি হিউম্যান রাইটস একাউন্টেবলিটি অ্যাক্টের অধীনে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় যৌথবাহিনী র‌্যাব। র‌্যাবকে যে ম্যান্ডেট দেয়া হয় তার অধীনে আছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সরকার নির্দেশিত তদন্ত করা- বিশেষত বাংলাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সংক্রান্ত নীতি। তবে র‌্যাবের বিরুদ্ধে মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ আছে। এর প্রেক্ষিতে আইনের শাসন, মানবাধিকারের প্রতি সম্মান এবং মৌলিক স্বাধীনতাকে খর্ব করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ হুমকিতে রয়েছে বলে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট থেকে বলা হয়েছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সর্বশেষ দফায় যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর মধ্যে শুধু বাংলাদেশের র‌্যাবই নয়, অন্য অনেক দেশের সংগঠন ও সরকারি কর্মকর্তারাও রয়েছেন। সিনজিয়াং-এ সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর চীন নির্যাতন চালাচ্ছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ জানিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব। এ দফায় সেখানকার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার অবৈধ অস্ত্রবাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা এবং তাদের সাহায্য করা রুশ প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
তামিলদের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগে শ্রীলঙ্কার দুই সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার অধীনে আছে মিয়ানমারের একাধিক রাজ্যের সরকার প্রধানরাও।

নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এর কার্যকারিতা নিয়ে এখন প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। আবার যুক্তরাষ্ট্রেও আফ্রিকান-আমেরিকানসহ অন্য সংখ্যালঘুদের অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অত্যন্ত স্বাভাবিক। ফলে দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশকে মানবাধিকারের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেয়ার নৈতিক অধিকার রাখে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে, দক্ষিণ এশিয়ার আইন রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর অনেক সদস্যের মধ্যে অতি উৎসাহী হয়ে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংস আচরণ করতে দেখা যায়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে যদি তাদের এমন আচরণের লাগাম টেনে ধরা যায়, তাহলে তাকে স্বাগত জানানো হবে।

নির্বাচন কমিশন গঠনে সংলাপ শুরু করছেন রাষ্ট্রপতি

0

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ২০ ডিসেম্বর সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনা দিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। সংবিধানে কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের কথা উল্লেখ আছে। তবে এ-সংক্রান্ত আইন দেশে হয়নি। এ পরিস্থিতিতে গত দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সার্চ কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটি সম্ভাব্য ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করার পর রাষ্ট্রপতি সেখান থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগ দেন।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক বলেন, ‘আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি পাইনি। তবে রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে ২০ ডিসেম্বর বৈঠক হওয়ার বিষয়ে মেসেজ দেয়া হয়েছে।’
বৈঠকে তাঁদের কোনো প্রস্তাব থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মুজিবুল হক বলেন, এ বিষয়ে দলের নেতাদের নিয়ে তাঁরা বৈঠক করবেন। এরপর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কী কী বিষয়ে আলোচনা হবে, তা ঠিক করবেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবেন। এই বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পরে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

খালেদা জিয়ার জন্মদিন সংক্রান্ত নথি হাইকোর্টে, শুনানি বুধবার

0

হাইকোর্টের নির্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন সংক্রান্ত সব নথি আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- তার এসএসসি পরীক্ষার সনদ, জাতীয় পরিচয় পত্র, বৈবাহিক সনদ, পাসপোর্ট ও এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি সংক্রান্ত জন্ম সনদ।
মঙ্গলবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এসব নথি দাখিল করা হয়। পরে আদালত এ বিষয়ে বুধবার শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথী। অপরদিকে রিটের বিরোধিতা করে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
এর আগে জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্টে বিএনপি চেয়ারপারস খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের বিষয়ে যাবতীয় নথি দাখিল করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ৬০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এসব নথি দাখিল করতে বলেছিলেন আদালত।
এ ছাড়া ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন বন্ধে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন আদালত। গত ১৩ জুন এ আদেশ দেন।
জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্টে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুন অর রশিদ এ রিট দায়ের করেন।
রিট আবেদনে খালেদা জিয়ার সকল শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জন্ম নিবন্ধনের নথি হাইকোর্টে দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়। রিটে স্বরাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার, গুলশান থানার ওসি ও খালেদা জিয়াকে বিবাদী করা হয়।

ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করলেন বিএনপি নেতা আলাল

0

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বক্তব্য নিয়ে সমালোচিত হওয়ায় বক্তব্যটি প্রত্যাহার করে ক্ষমা চেয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
মঙ্গলবার আলালের বরাত দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এ কথা জানান।
ভারতের চেন্নাইয়ে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেশবাসীর উদ্দেশে সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলাল বলেন, ‘আমার শরীরে একটি গুরুতর সার্জারি হয়েছে। সঙ্গত কারণেই সকল দুঃসংবাদ থেকে পরিবার আমাকে দূরে রেখেছে। তারপরও বিলম্বে আমি জেনেছি অতীতে আমার একটি বক্তব্য বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।’ বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, ‘দীর্ঘ ৪৯ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ইচ্ছাকৃত কারও সম্মান, অনুভূতি, বিশ্বাসে আঘাত করিনি। তবুও মানুষ হিসেবে আমিতো ভুলের ঊর্ধ্বে নই।’
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আরও বলেন, ‘তাই বলছি আমার কথায় যারা কষ্ট পেয়েছেন, আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের সকলের নিকট আমি ক্ষমাপ্রার্থী। একই সঙ্গে উক্ত বক্তব্য আমি প্রত্যাহার করছি। ভালো থাকুক আমার প্রিয় স্বদেশ, শান্তিপূর্ণ থাকুক বাংলাদেশ।’

নোয়াখালীতে বিবস্ত্র করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা: দেলোয়ারসহ ১৩ আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড

0

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার ১৩ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে আসামিদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টায় নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক (জেলা জজ) জয়নাল আবদিন এ রায় ঘোষণা করেন।
এদিন সকাল ১১টার দিকে পুলিশ আসামিদের আদালত নিয়ে আসে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর রাতে বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে ঘরে ঢুকে ওই নারীর স্বামীকে অন্য কক্ষে বেঁধে রেখে আসামিরা তাকে নির্যাতন করেন। তারা নির্যাতন করার ভিডিওচিত্রও ধারণ করেন। এরপর ১ মাস ধরে গৃহবধূকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন—অনৈতিক প্রস্তাবের রাজি না হলে ভিডিওচিত্রটি তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেবেন। ৩২ দিন পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ভিডিওটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৪ অক্টোবর নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়। ওই রাতেই গৃহবধূ বেগমগঞ্জ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় দেলোয়ার বাহিনীর ৯ সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলুসহ ১৪ জনের জড়িত থাকার প্রমাণ পায়। তাদের মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি ৮ জন এবং এজাহারের বাইরের আসামি ৬ জন। গত ২৪ মার্চ মোয়াজ্জেম হোসেন নামে এক আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
আসামিদের মধ্যে নুর হোসেন বাদল, আবদুর রহিম, আবুল কালাম, ইসরাফিল হোসেন মিয়া, মাঈন উদ্দিন সাজু, সামছুদ্দিন সুমন কনট্রাকটর, নুর হোসেন রাসেল, আনোয়ার হোসেন সোহাগ ও দেলোয়ার হোসেন দেলুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আবদুর রব চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান, জামাল উদ্দিন ও মিজানুর রহমান পলাতক আছেন। তাদের অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচার কাজ চলে।
এই মামলায় বাদীসহ ৪০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনোয়ারের ৫ বছর কারাদণ্ড

0

চাকরি দেয়ার কথা বলে এক ব্যক্তির কাছ থেকে সাত লাখ টাকা নেয়ার মামলায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রশানসিক কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বখতিয়ারের ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে কারাদণ্ডের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং তা অনাদায়ে আরও ১ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এ সাজা ঘোষণা করেছেন আদালত।
রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করেছেন আদালত। এদিকে, রায়ে মামলার অপর আসামি মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
২০১৬ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপ-সহপরিচালক মো. নাজিম উদ্দিন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশিট জমা দেন দুদকের একই কর্মকর্তা।
মামলায় বলা হয়, আসামি মো. জাহাঙ্গীর আলমের নিকট হতে খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক পদে চাকরি প্রদানের আশ্বাস দিয়ে ২০১৩ সালের ১৬ সেপেটম্বর ৫ লাখ এবং পরবর্তী সময়ে ২ লাখ টাকা মোট ৭ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু পরে তিনি চাকরি দিতে পারেন নি এবং টাকাও ফেরত দেননি।

আমরা তোমাদের ভুলবো না

0

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে দখলদার পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তার দোসর রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস মিলিতভাবে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।
বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ঠিক দুই দিন পর ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বাধীন বর্বর পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীন দেশ হিসাবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
বিনয় এবং শ্রদ্ধায় জাতি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করবে। একই সাথে এবারও জাতির প্রত্যাশা, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যারা হত্যা করেছে তাদের মধ্যে যারা বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে আছে অথবা পলাতক আছে তাদের বিচারের রায় কার্যকর করে দেশকে কলংকমুক্ত করা হবে।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ নানা পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, দিনব্যাপী বিভিন্ন সংগঠন শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা, মৌন মিছিল ইত্যাদি। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের এ দেশীয় দোসর আল-বদরের সাহায্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, সংস্কৃতি কর্মীসহ বিভিন্ন পেশার বরেণ্য ব্যক্তিদের অপহরণ করা হয়। পরে নিদারুণ যন্ত্রণা দিয়ে রায়েরবাজার ও মিরপুরে তাদের হত্যা করা হয়। এ দু’টি স্থান এখন বধ্যভূমি হিসেবে সংরক্ষিত।
মুক্তিযুদ্ধের শেষ লগ্নে ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে আল-বদর বাহিনী আরও অনেক বুদ্ধিজীবীকে ধরে নিয়ে মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে স্থাপিত আল-বদর ঘাঁটিতে নির্যাতনের পর রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুর কবরস্থানে নিয়ে হত্যা করে।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক মুনির চৌধুরী, ডা. আলিম চৌধুরী, অধ্যাপক মুনিরুজ্জামান, ড. ফজলে রাব্বী, সিরাজ উদ্দিন হোসেন, শহীদুল্লাহ কায়সার, অধ্যাপক জিসি দেব, জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, সাংবাদিক খন্দকার আবু তাহের, নিজামউদ্দিন আহমেদ, এসএ মান্নান (লাডু ভাই), এ এন এম গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ নাজমুল হক, সেলিনা পারভিনসহ আরো অনেকে।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, একাত্তরে ত্রিশ লাখ শহীদের মধ্যে বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে হত্যার ঘটনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তারা শহীদ হন এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসাবে। হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী তাদের পরাজয় আসন্ন জেনে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার লক্ষ্যে বুদ্ধিজীবী নিধনের এই পরিকল্পনা করে।
তারা স্পষ্ট দেখে- চরম বিপর্যয় আসন্ন, পরাজয় একেবারেই সন্নিকটে- তখনই তারা সেই পরিকল্পনা কার্যকর করে। তালিকাভুক্ত বুদ্ধিজীবীদের চোখ বেঁধে নিয়ে হত্যা করে। তারা স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে এভাবেই অন্ধকার করার পাঁয়তারা করেছিল।
যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস-২০২১ পালনের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৭ টা ৫ মিনিটে মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে শহিদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং যুদ্ধাহত ও উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা সকাল ৭টা ২২ মিনিটে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এবং সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবকবক অর্পণ করবেন। সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে থেকে সর্বস্তরের জনগণ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। দেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ। সকাল ৮টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন। সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে এবং সকাল ৯ টায় রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ।
একাত্তরে ত্রিশ লাখ শহীদের মধ্যে বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে হত্যার ঘটনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তারা শহীদ হন এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী তাদের পরাজয় আসন্ন জেনে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার লক্ষ্যে বুদ্ধিজীবী নিধনের এই পরিকল্পনা করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শহীদ জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার সহধর্মিনী বাসন্তী গুহঠাকুরতা তার একটি গ্রন্থে লিখেছেন, ‘নীল নকশার রেখা অংকন শুরু হয়েছিল একাত্তরের পয়লা মার্চের আগেই সত্তরের ১৭ ডিসেম্বর গণভোট বা তারো অনেক আগে উনসত্তরের গণ আন্দোলনের সময় থেকেই , কিংবা বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের পরে। একাত্তরে তারা প্ল্যান করে যুদ্ধে নামে। যুদ্ধতো নয় , কেবল নিরস্ত্র মানুষ নিধন। প্রথমে ওদের এলোপাতাড়ি মারা , তারপর শহরে , গ্রামে গঞ্জে বেছে বেছে ধনী , ব্যাবসায়ী , বুদ্ধিজীবি নিধণ করে নদীতে খালে ফেলে দেয়া।
অনেকে মনে করেন, চরম বিপর্যয় আসন্ন, পরাজয় একেবারেই সন্নিকটে- তখনই তারা সেই পরিকল্পনা কার্যকর করে। তালিকাভুক্ত বুদ্ধিজীবীদের চোখ বেঁধে নিয়ে হত্যা করে। তারা স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে এভাবেই অন্ধকার করার পাঁয়তারা করেছিল। ’
একাত্তরের সেই যুদ্ধাপরাধী ও বুদ্ধিজীবী হত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে।এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত অনেকের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় ঘোষিত হয়েছে। মানবতাবিরোধী হত্যা মামলায় দণ্ডিত জামাতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়েছে। জামাতের অপর নেতা মো. কামারুজ্জামান এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার অন্যতম হোতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে ।
২০১৬ সালের ১১ মে মুক্তিযুদ্ধকালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের নীলনকশা বাস্তবায়নকারী গুপ্তঘাতক আলবদর বাহিনীর প্রধান ও জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দন্ড কার্যকর হয়। তবে বুদ্ধিজীবী হত্যায় সরাসরি জড়িত চৌধুরী মইনুউদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খান পলাতক থাকায় তাদের বিচার এখনও কার্যকর করা সম্ভব হয়নি । চৌধুরী মইনুদ্দীন যুক্তরাজ্য এবং আশরাফুজ্জামান খান যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক রয়েছে। তাদেরকে ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

মুরাদের সংসদ সদস্য পদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত স্পিকারের : হাইকোর্ট

0

সদ্য পদত্যাগ করা তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের সংসদ সদস্য পদ থাকবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত স্পিকারের বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট। তার সংসদ সদস্য থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট পিটিশনের বিষয়ে কোনো আদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হাইকোর্ট এ কথা জানান।
সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ বলেন, সংক্ষুব্ধ যে কোনো ব্যক্তি মুরাদ হাসানের সদস্যপদ চ্যালেঞ্জ করে সংসদের স্পিকারের কাছে আবেদন করতে পারেন। রিট আবেদনটি এই পর্যায়ে অপরিপক্ক। বেঞ্চ আবেদনটি ‘স্ট্যান্ড ওভার’ (শুনানির জন্য অপেক্ষমান) রাখেন।
প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার একদিন পর গত ৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইউনুস আলী আকন্দ হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হিসেবে আবেদনটি জমা দেন। তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ অশ্লীল মন্তব্য করে সংসদ সদস্য হিসেবে তার শপথ লঙ্ঘন করেছেন বলে আবেদনে বলা হয়।