ঢাকা   শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩   সকাল ১১:২৪ 

Home Blog Page 52

রাজারবাগের পীরকে নজরে রাখতে আইনশৃংখলা বাহিনীকে হাইকোর্টের নির্দেশ

0

রাজারবাগ দরবার শরিফের পীর দিল্লুর রহমানসহ তার তিন সহযোগীর কর্মকাণ্ডের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখতে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সিআইডি, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) বলা হয়েছে, চাইলে তদন্তের স্বার্থে তাদের দেশত্যাগ বা বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে।
দেশের ছয়টি জেলায় রাজারবাগের পীর দিল্লুর ও তার সহযোগীদের করা ৩৪টি মামলার ৮ ভুক্তভোগীর করা রিট আবেদনে আদালতের এ আদেশ হয়েছে। রোববার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। বাদির আইনজীবী, ‘আদালত বলেছেন, সিআইডির প্রতিবেদন উঠে আসা রাজারবাগের পীর দিল্লুর রহমানসহ তার তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা চাইলে মামলা করতে পারবেন।’
পীর দিল্লুরের তিন সহযোগী হলেন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার সাকেরুল কবির, সদর উপজেলার ফারুকুর রহমান এবং কুমিল্লার মফিজুল ইসলাম। দেশের ছয়টি জেলায় ৩৪টি মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ এনে রাজারবাগের পীর দিল্লুর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে আট ব্যক্তি গত ১৪ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টে রিট আবেদনটি করেন।
প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল ছাড়াও পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তিনটি নির্দেশনা দেয়। এসব নির্দেশনার মধ্যে ছিল,
১. পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকে নির্দেশ দেয়া হয়, কথিত পীর দিল্লুর রহমান ও তার পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো জঙ্গি সংগঠন আছে কি না, সে বিষয়ে আগামী ৩০ নভেম্বরের আগে আদালতে প্রতিবেদন দিতে হবে।
২. দুদককে নির্দেশ দেয়া হয়, পীর দিল্লুর ও তার প্রতিষ্ঠানের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব সম্পদ রয়েছে, তা নির্ণয়ের পশাপাশি সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখে ৩০ নভেম্বরের আগে আদালতে প্রতিবেদন দিতে হবে।
৩. আর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেয়া হয়, রিট আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে যারা হয়রানিমূলক মামলা করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে হবে।
পরে হাই কোর্টের এসব আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন মফিজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি, যিনি রিট আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে করা এক মামলার বাদী।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর আবেদনটি চেম্বার আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন আদালত হাই কোর্টের আদেশে হস্তক্ষেপ না করে আবেদনটি ২৪ অক্টোবর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠায়। পরে ২৬ অক্টোবর মফিজুল ইসলাম আবেদন খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। এরপর রিট মামলাটি রোববার শুনানির জন্য ওঠে।
এর মধ্যে গত ২ ডিসেম্বর পীর দিল্লু ও তার তিন সহযোগীর বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন ঢাকার শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা একরামুল আহসান কাঞ্চন, যার বিরুদ্ধে পীর দিল্লুর ও তার অনুসারীরা দেশের বিভিন্ন জেলায় নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে করা ৪৯টি অস্তিত্বহীন মামলা করেছিল।
সেই আবেদনটিও রিট আবেদনের সঙ্গে শুনানির জন্য ওঠে। এ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এমাদুল হক বশির। তিনি বলেন, ‘আমাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেছেন, সিআইডি, পুলিশের সিটিটিসি ইউনিট কিংবা চাইলে তদন্তের স্বার্থে তাদের দেশত্যাগ বা বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে।’
এর আগে পীর দিল্লুর রহমানের অনুসারী চক্রের ‘অস্তিত্বহীন’ বাদীর মামলা চ্যালেঞ্জ করে গত ৭ জুন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন ঢাকার শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা একরামুল আহসান কাঞ্চন।
সেই আবেদনের প্রাথমিক শুনানির পর হাই কোর্ট এসব অস্তিত্বহীন মামলার বাদীকে খুঁজে বের করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছিল। নির্দেশ অনুযায়ী সিআইডি অনুসন্ধান প্রতিবেদন দিলে গত ৬ সেপ্টেম্বর সেটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। সে প্রতিবেদনে শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, অ্যাসিড নিক্ষেপ, মানবপাচারের মতো নানা অভিযোগে ৪৯টি মামলার পেছনে রাজারবাগের পীর দিল্লুর রহমানের সম্পৃক্ততা উঠে আসে।
ওই প্রতিবেদন দেখে ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম সেদিন বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে পীর সাহেবের কাণ্ড দেখেন! জায়গা-জমি দখলের জন্য পীর সাহেব কী করেছেন দেখেন! সম্পত্তির জন্য তথাকথিত মুরিদ দিয়ে মামলা করিয়েছেন। পীর সাহেবের কেরামতি দেখেন!’
সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় মোট ৪৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরমধ্যে জিআর (পুলিশি মামলা) মামলা ২৩টি এবং সিআর (নালিশি মামলা) মামলা ২৬টি। ইতিমধ্যে ১৫টি জিআর মামলা এবং ২০টি সিআর মামলায় কাঞ্চন আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন। বর্তমানে ১৪টি মামলা আদালতে বিচারাধীন, যার মধ্যে আটটি জিআর এবং ছয়টি সিআর মামলা।
পুলিশের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অধিকাংশ মামলার নথিপত্র সংগ্রহের পর পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, আবেদনকারীর বিরুদ্ধে একাধিক মানবপাচার, নারী নির্যাতন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, হত্যার চেষ্টা মামলাসহ প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি, ডাকাতির প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন ধর্তব্য ও অধর্তব্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সূত্র -আমাদের সময়।

মামলাজট কমাতে বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তির ওপর জোর দিতে বলেছেন আইনমন্ত্রী

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, মামলাজট কমাতে উদ্ভাবনী চিন্তা করতে হবে ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতির ওপর জোর দিতে হবে। তিনি বলেন, গতানুগতিক ধারায় মামলাজট কমাতে গেলে বেশ সময় লাগবে। সেজন্য এ ব্যাপারে অবিরাম চিন্তা-ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
রোববার ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জেলা ও দায়রা জজ এবং মহানগর দায়রা জজদের ২৫তম জুডিসিয়াল এডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশে একটি সুদক্ষ ও বিশ্বমানের বিচার বিভাগ গড়ে তুলতে চায়। এরই অংশ হিসেবে বিচার বিভাগের জন্য অত্যাধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। বিচারকদের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে মাত্র সাড়ে তিন বছরে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, চীন ও জাপানে ৮৫৫ জন বিচারককে উন্নতমানের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। করোনার প্রার্দুভাব না হলে এ সংখ্যা এতদিনে হয়তো ১৫০০ ছাড়িয়ে যেত। দেশিও প্রশিক্ষণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। দেশেই বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে মাদারীপুর জেলার শিবচরে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল একাডেমি গড়ে তোলা হবে। এখানে দেশিও বিচারকদের পাশাপাশি সারা দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিচারকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের উপযোগী একাডেমি গড়ে তোলা হবে। এর কাজ আগামী বছর শুরু করা হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমরা ডিজিটাইজেশনের সুফল ভোগ করছি। কিন্তু এর কুফলও আছে। সেটা হচ্ছে সাইবার অপরাধ। এটিকে মোকাবিলা করতে হবে। এজন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই আইনে যেসব অপরাধ আনা হয়েছে, তা পেনাল কোডেও আছে। প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োজনীয়তা কী ছিল। উত্তর হচ্ছে পেনাল কোডে যেটা আছে, সেটা ডিজিটালি করলে আইনের দিক থেকে তা অপরাধ নয়। সেজন্যই ডিজিটাল অপরাধ প্রতিরোধ করার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে। আনিসুল হক বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের পাতায় পাতায় গণতন্ত্রকে জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাক-স্বাধীনতা বা সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা বন্ধ করার জন্য করা হয়নি।
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক গোলাম কিবরিয়া বক্তৃতা করেন।

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আলেশা মার্টের কার্যক্রম বন্ধ, গ্রাহকদের ২০০ কোটি টাকা অনিশ্চিত

0

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলেশা মার্ট নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে তাদের অফিশিয়াল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে দিয়েছে। বুধবার মধ্যরাতে (রাত ৩টায়) নিজেদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তারা তাদের অফিশিয়াল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে। তবে তাদের কাছে গ্রাহকদের অর্ডারের বিপরীতে অন্তত ২০০ কোটি টাকার বিষয়ে কিছু জানায়নি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটি।
পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিরাপত্তাজনিত কারণবশত আলেশা মার্ট-এর সমস্ত অফিসিয়াল কার্যক্রম আজ থেকে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।’
‘গতকাল বুধবার আমাদের অফিসে কতিপয় লোকের দ্বারা অফিস কর্মকর্তাদের গায়ে হাত তোলা এবং বল প্রয়োগের চেষ্টার কারণে আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছি।’
‘উল্লেখ্য যে, বলপ্রয়োগকারীরা আমাদের কাস্টমার নয়, তাদের পেমেন্ট সিডিউল ছিল না এমনকি এসএমএস পায়নি। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পাওয়ার পরই পুনরায় আমাদের কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ পরিস্থিতির জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আলেশা মার্ট-এর সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ।’

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে আলেশা মার্টের ঊর্ধ্বতন কেউ সাড়া দেননি। আলেশা মার্টের বনানীতে একটি কর্পোরেট এবং একটি রেজিস্ট্রার্ড অফিস রয়েছে। এছাড়াও তেজগাঁওয়ের নাসরিন টাওয়ারে তাদের আরেকটি অফিস রয়েছে। সেখান থেকেই গ্রাহকদের পাওনা বুঝিয়ে দেয়া হয়।
আলেশা মার্টে বিশেষ মূল্যছাড়ে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির পাঁচ দফা ক্যাম্পেইন চালানো হয়। এসব ক্যাম্পেইনে ৪৫ হাজার গ্রাহক পণ্যের অর্ডার দেন। চার দফায় ক্যাম্পেইনের পণ্য ডেলিভারিও দেয়া হয়। তবে পঞ্চম দফায় সাত হাজার ৩০০ গ্রাহকের অর্ডারের মোটরসাইকেল দিতে পারেনি আলেশা মার্ট। এসব অর্ডারের বিপরীতে গ্রাহকদের অন্তত ২০০ কোটি টাকা আটকে গেছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটিতে।
উত্তরা মোটরসের তেজগাঁও এলাকার ডিলার এসকে ট্রেডার্সের কাছ থেকে মোটরসাইকেল সংগ্রহ করে গ্রাহকদের দিয়েছে আলেশা মার্ট। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে নজরদারি এবং বকেয়া বাড়ায় আগস্ট মাস থেকে আলেশা মার্টকে মোটরসাইকেল দেয়া বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

কুমিল্লার কাউন্সিলরসহ জোড়া খুনের মামলার প্রধান আসামিও ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

0

কুমিল্লায় কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেলসহ জোড়া খুনের মামলার প্রধান আসামি শাহ আলমও পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। বুধবার দিবাগত রাত দেড়টায় চাঁনপুর রত্নাবতী গোমতি বেড়িবাঁধে এ ঘটনা ঘটে। শাহ আলম সুজানগর বউ বাজার এলাকার মৃত জানু মিয়ার ছেলে।
এর আগে গত সোমবার রাতে নগরীর সংরাইশ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কাউন্সিলর সোহেল হত্যা মামলার এজাহারে থাকা ৩ নম্বর আসামি মো. সাব্বির হোসেন (২৮) ও ৫ নম্বর আসামি মো. সাজন (৩২) নিহত হয়। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ‌নোয়ারুল আ‌জম জানান, কয়েকজন অস্ত্রধারী গোমতী বেড়িবাঁধে অবস্থান করছে- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। দুই পক্ষের গোলাগুলিতে একজন সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়, যাকে স্থানীয়রা শাহ আলম বলে শনাক্ত করে।
পরে গুলিবিদ্ধ শাহ আলমকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, গুলি ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, নগরীর সুজানগরে নিজ কার্যালয়ে গত ২২ নভেম্বর বিকেলে কাউন্সিলর সোহেলসহ গুলিবিদ্ধ হন অন্তত ছয়জন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহেল ও তার সঙ্গী হরিপদ সাহার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় কাউন্সিলরের ভাই বাদী হয়ে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী শাহ আলমকে প্রধান করে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনের নামে মামলা করেন।

৬ ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা : ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৯ জনের যাবজ্জীবন

0

সাভারের আমিনবাজারে ২০১১ সালে শবে বরাতের রাতে ছয় ছাত্রকে ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা মামলার রায়ে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ইসমত জাহান এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মামলার চার্জশিটভুক্ত মোট আসামি ৬০ জন। যাদের মধ্যে তিনজন বিচারকালে মারা গেছেন। তাই আদালত মামলায় ৫৭ জনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত বাদে অপর আসামিদের খালাস দিয়েছেন আদালত।
রায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিতরা হলেন, আব্দুল মালেক, সাঈদ মেম্বার, আব্দুল রশিদ, ইসমাইল হোসেন রেপু, ইহর জমসের আলী, মির হোসেন, মজিবুর রহমান, আনোয়ার হোসেন, রজ্বব আলী, আলম, মোহাম্মদ রানা, আব্দুল হানিফ ও আসলাম মিয়া।
যাবজ্জীবন দণ্ডিতরা হলেন, শহিন আলম, মো. ফরিদ খান, রাজিব, ওয়াসিম, ছাত্তার, নাজিম মিয়া, মনির হোসেন, আলমগীর, খাটা ইসলাম, অখিল খোন্দকার, বশির, রুবেল, নুর ইসলাম, শাহদাত হোসেন অরফে জুয়েল, টুটুল, মাসুদ, মোখলেস, ততন ও সাইফুল।
এর আগে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মামলার ৫৭ আসামির মধ্যে ৪১ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় তাদের রাখা হয় আদালতের হাজতখানায়। এ মামলার বাকী আসামিরা পলাতক। গত ২২ নভেম্বর মামলার যুক্তিতর্কের শুনানির পর একই আদালত ২ ডিসেম্বর রায় ঘোষণার দিন ঠিক করেন। সেদিন এ মামলায় জামিনে উপস্থিত আমিন বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনসহ ৪১ আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অপর ১৬ আসামি পলাতক রয়েছেন। মামলায় ৯২ সাক্ষীর মধ্যে ৫৫ জন সাক্ষ্য দেন।
২০১১ সালের ১৭ জুলাই শবে বরাতের রাতে আমিনবাজারের বড়দেশি গ্রামের কেবলার চরে ডাকাত সন্দেহে ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ম্যাপললিফের এ লেভেলের ছাত্র শামস রহিম শামীম (১৮), মিরপুর বাংলা কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তৌহিদুর রহমান পলাশ (২০), একই কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ইব্রাহিম খলিল (২১), উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র কামরুজ্জামান কান্ত (১৬), তেজগাঁও কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র টিপু সুলতান (১৯) ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সিতাব জাবির মুনিব (২০)।
ঘটনার পর নিহতদের বিরুদ্ধেই ডাকাতির অভিযোগ এনে গ্রামবাসীর পক্ষে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন আব্দুল মালেক নামে এক বালু ব্যবসায়ী। অন্যদিকে ছয় কলেজছাত্র হত্যাকাণ্ডে ৬০০ গ্রামবাসীকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন।
২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি র‍্যাব সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন আহমেদ ৬০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ওই বছরের ৮ জুলাই মামলার ৬০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গঠন করেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. হেলালউদ্দিন।
চার্জশিটভুক্ত ৬০ আসামি হলেন- ডাকাতি মামলার বাদী আব্দুল মালেক, সাঈদ মেম্বর, আব্দুর রশিদ, ইসমাইল হোসেন রেফু, নিহর ওরফে জমশের আলী, মীর হোসেন, মজিবর রহমান, কবির হোসেন, আনোয়ার হোসেন, রজুর আলী সোহাগ, আলম, রানা, আ. হালিম, ছাব্বির আহম্মেদ, আলমগীর, আনোয়ার হোসেন আনু, মোবারক হোসেন, অখিল খন্দকার, বশির, রুবেল, নূর ইসলাম, আনিস, সালেহ আহমেদ, শাহাদাত হোসেন রুবেল, টুটুল, অখিল, মাসুদ, নিজামউদ্দিন, মোখলেছ, কালাম, আফজাল, বাদশা মিয়া, তোতন, সাইফুল, রহিম, শাহজাহান, সুলতান, সোহাগ, লেমন, সায়মন, এনায়েত, হায়দার, খালেদ, ইমান আলী, দুলাল , আলম, আসলাম মিয়া, শাহীন আহমেদ, ফরিদ খান, রাজীব হোসেন, হাতকাটা রহিম, মো. ওয়াসিম, সেলিম মোল্লা, সানোয়ার হোসেন, শামসুল হক ওরফে শামচু মেম্বার, রাশেদ, সাইফুল, সাত্তার, সেলিম ও মনির। আসামিদের মধ্যে কবির হোসেন ও রাশেদসহ তিনজন মারা গেছেন।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনই হচ্ছে: সুজনের সংবাদ সম্মেলন

0

নির্বাচন কমিশন গঠন আইন প্রণয়নে সরকারের ভূমিকাকে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। বুধবার সকালে ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে সুজনের পক্ষ থেকে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের আগে ইসি নিয়োগে আইন করা সম্ভব নয়, আইনমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষন করা হয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই এই আইন পাস করা সম্ভব। অতীতের অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে অস্বচ্ছ পদ্ধতিতে নিয়োগের ফলে আমরা রকিবউদ্দিন কমিশন ও নূরুল হুদা কমিশন পেয়েছি। এই দুই কমিশনের সদস্যদের চরম পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের ফলে আমাদের নির্বাচন প্রক্রিয়াই প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
শুধুমাত্র জালিয়াতির নির্বাচনের মাধ্যমে গুরুতর অসদাচরণেরই নয়, নূরুল হুদা কমিশনের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। বর্তমান সরকার কি এই দুই কমিশনের সব অপকর্মের দায় এড়াতে পারবে?
সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আইন প্রণয়ন না করে অতীতের ন্যায় অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠিনের ফলাফল হবে তার উল্টো। কারণ অতীতের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত দুটি অনুসন্ধান কমিটিতে একজনও সংসদ সদস্য ছিলেন না।
পক্ষান্তরে আমাদের প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় সাত সদস্যবিশিষ্ট অনুসন্ধান কমিটির তিনজনই হবেন সংসদ সদস্য। তাই আমাদের প্রস্তাবিত খসড়াটি গৃহীত হলে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন নিয়োগে সাংসদদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে এবং সংসদকে এড়িয়ে যাওয়া হবে না।
সংবিধানের ৪৮(৩) অনুযায়ী, শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাই রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গঠিত অনুসন্ধান কমিটি আবারও প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়েই গঠিত হবে। সে অনুসন্ধান কমিটি এবং তার সুপারিশে গঠিত নির্বাচন কমিশন কতটুকু গ্রহণযোগ্য এবং জনস্বার্থ সংরক্ষণ করতে সক্ষম হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ও বিতর্ক থেকেই যাবে। ফলে নির্বাচন কমিশন নিয়ে যে চরম আস্থা’র সঙ্কট বর্তমানে বিরাজ করছে তা অব্যাহতই থাকবে, যা কারোই কাম্য হতে পারে না। তাই আমরা মনে করি, প্রেক্ষাপট ও গুরুত্বের বিবেচনায় জরুরিভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি এবং এর কোনো বিকল্প নেই।

সুজনের নির্বাহী সদস্য ড. শাহদীন মালিক হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, সরকার একটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনে উদ্যোগী হবে। আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে এটা স্পষ্ট ওনারা আইন করবেন না। আজ্ঞাবহ সার্চ কমিটির মাধ্যমে আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার বদ্ধপরিকর। সরকার কি ভাবছে জানি না। কিন্তু দেশের নাগরিকদের একটা হলেও ভোট দেয়ার অধিকার আছে। গত জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারা আমাদের ভোট দেয়ার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আইনমন্ত্রীর বক্তব্য এটাই ইঙ্গিত করছে, পরবর্তী নির্বাচনে আমরা ভোট দিতে পারবো না। আবার আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদের নির্দেশনার আলোকে ‘আইনের বিধানাবলী- সাপেক্ষে’ নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ প্রদানের লক্ষ্যে একটি আইন প্রণয়নের দাবি করে আসছে সুজন। এ ব্যাপারে সরকারের দিক থেকে কোনোরূপ উদ্যোগ না দেখে, অনেক নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে, ড. শামসুল হুদা কমিশনের রেখে যাওয়া একটি খসড়া এবং প্রতিবেশী দেশগুলির সংশ্লিষ্ট আইন পর্যলোচনা করে সুজন ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২১’-এর একটি খসড়া তৈরি করে।
উল্লেখ্য গত ১৮ নভেম্বর আইনমন্ত্রী সংসদে বলেন, ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই আইন করা সম্ভব হবে না। তবে চলতি সংসদেই এই আইন হবে বলে জানান। আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়ে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আইনমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে এটি সুস্পষ্ট যে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন নিয়োগ পুরোনো নিয়মেই, অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে, অস্বচ্ছ পদ্ধতিতেই হবে।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেন, আগামী অধিবেশনেই আইনটি পাস করা যেন সম্ভব হয়, সেটা সরকার বিবেচনা করবে বলে তিনি আশা করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রুবায়েত ফেরদৌস বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যখন ব্যর্থ হয়, তখন রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়। নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। কমিশন আইন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।
সুজনের কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।

২০ মাস পর শারীরিক উপস্থিতিতে সুপ্রিমকোর্টে বিচারকাজ শুরু

0

করোনা মহামারির কারণে প্রায় ২০ মাস পর সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম শারীরিক উপস্থিতিতে শুরু হয়েছে। বুধবার (১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে উভয় বিভাগের বিচারকরা শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারকার্য শুরু করেন।
এর আগে ২৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের উভয় (আপিল ও হাইকোর্ট) বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম শারীরিক উপস্থিতিতে পরিচালিত হবে বলে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে সিদ্ধান্ত নেন যে, ১ ডিসেম্বর (বুধবার) হতে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করত: শারীরিক উপস্থিতিতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে করোনা মহামারিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে আপিল বিভাগ ভার্চুয়ালি বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। পাপাশাপাশি হাইকোর্টের সীমিত সংখ্যক বেঞ্চে শারীরিক উপস্থিতিতে মামলার বিচার কার্যক্রম চলছিল।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের মামলা ৯০ কার্যদিবসে নিষ্পত্তির নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

0

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের মামলা বিচারিক আদালতে বিচার শুরু হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নিস্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন । বুধবার (১ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘দেশের সকল অধস্তন ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের মামলার অভিযোগপত্র বিচারিক আদালতে প্রাপ্তির ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে আবশ্যিকভাবে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশনা প্রদান করা হলো।’

নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হলে তার কারণ উল্লেখপূর্বক ব্যাখ্যা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে কোর্ট প্রশাসন।

স্বাধীনতা সংগ্রামসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ঃ আইনমন্ত্রী

0

ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রামসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। নারী শিক্ষার প্রসার ও নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।  বিশ্ববিদ্যালয়টি পূর্ববঙ্গের বাঙালি নারীর জীবনের দরজা খুলে দিয়েছিল। এখানে উচ্চশিক্ষা নিতে এসে কেবল পড়াশোনাতেই থেমে থাকেননি নারীরা। তারা সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও জড়িত হয়েছেন।
বুধবার (১ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এসব কথা বলেন ।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার শতবর্ষে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করছি, বঙ্গভঙ্গ রদের কারণে এতদ্বঞ্চলে শিক্ষা ক্ষেত্রে যে ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তার অনেকটাই পুষিয়ে দিতে পেরেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় নিরবচ্ছিন্নভাবে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে বাঙালি জাতিকে বহু অজানা ও নতুন পথ দেখিয়েছে।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘কীভাবে অধিকার ও স্বাধীকার অর্জন করতে হয়, কীভাবে স্বাধীনতা অর্জন করতে হয়, কীভাবে দেশ গড়তে ও পরিচালনা করতে হয়— তা উর্বর ও তীক্ষ্ণ মস্তিষ্কে বিস্তরভাবে শিখিয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। এই শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বাঙালি জাতি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ এর নির্বাচন এবং ১৯৭১ এর মহান স্বাধীনতার সংগ্রামসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে সফল হতে পেরেছে। আর এসব আন্দোলন ও সংগ্রামের সূতিকাগার ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।’
তিনি জানান, ভারত বিভক্তির পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও এই বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞান অর্জন ও রাজনীতি চর্চার তীর্থ স্থান হিসেবে বেছে নেন। তাঁর পাকিস্তানবিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনের অভিযাত্রাও শুরু হয় এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
এসব কারণেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর প্রধান চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছিল এই বিদ্যাপিঠ। তারই প্রতিশোধ হিসেবে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে এখানে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। আবার বাঙালির  কাছে পরাজয় নিশ্চিত জেনে ১৪ ডিসেম্বরেও এখানে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায় তারা, বলেন আনিসুল হক।
নব্য স্বাধীন বাংলাদেশ গঠন ও পরিচালনার ক্ষেত্রেও রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অসামান্য অবদান। স্বাধীন বাংলাদেশেও সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘জনগণের অধিকার ও স্বাধিকার অর্জন, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষা এবং দেশ গঠন ও পরিচালনা করার ক্ষেত্রে বিশ্বের আর কোনও বিশ্ববিদ্যালয় এতসব অবদান রাখতে পেরেছে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ রয়েছে। সে কারণেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বে একটি অনন্য বিশ্ববিদ্যালয়।’
ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ এফ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত  সভায় অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  প্রফেসর ড. সোনালী চক্রবর্তী ব্যানার্জি,  ডাকসুর সাবেক  সহ-সভাপতি   মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সিনিয়র সাংবাদিক  ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বক্তৃতা করেন।

পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় নাসির-অমির জামিন

0

চিত্রনায়িকা পরীমনির দায়ের করা ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ এবং তুহিন সিদ্দিকী অমির জামিন মঞ্জুর করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আজ বুধবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ এর বিচারক হেমায়েত উদ্দিনের আদালত এই জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে আদালতে উপস্থিত হয়ে অভিযোগপত্রের ওপর নারাজি দেন পরীমনি।
অপরদিকে নাসির ও অমি আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। তাদের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। আর নারাজি আবেদনের আদেশ পরে দেবেন বলে জানান।
আদালতে উপস্থিত ছিলেন পরীমনি, নাসির ও অমি। তবে মামলার অপর আসামি শহিদুল আলম পলাতক রয়েছেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কামাল হোসেন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন।
এর আগে ১৪ জুন ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নাসির উদ্দিন ও তার বন্ধু অমির নাম উল্লেখ করে এবং চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে সাভার থানায় মামলা করেন পরীমনি। এরপর বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয় পুলিশ।
পরীমনির মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জুন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার বন্ধু অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় করা মাদক মামলায় সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর ২৩ জুন পরীমনির ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টার মামলায় তাদের পাঁচদিনের রিমান্ড দেয়া হয়। রিমান্ড শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ৮ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে বনানীর বাসা থেকে কস্টিউম ডিজাইনার জিমি (৩০), অমি (৪০) ও বনিসহ (২০) দুটি গাড়িতে করে উত্তরার উদ্দেশে রওনা হন পরীমনি। পথে অমি বলে বেড়িবাঁধের ঢাকা বোট ক্লাবে তার দুই মিনিটের কাজ আছে।
অমির কথামতো তারা সবাই রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা বোট ক্লাবের সামনে গিয়ে গাড়ি দাঁড় করায়। কিন্তু বোট ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অমি কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তখন ঢাকা বোট ক্লাবের সিকিউরিটি গার্ডরা গেট খুলে দেয়। অমি ক্লাবের ভেতরে গিয়ে বলেন- এখানকার পরিবেশ অনেক সুন্দর, তোমরা নামলে নামতে পারো।
এজাহারে আরও বলা হয়, তখন আমার (পরীমনির) ছোট বোন বনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বোট ক্লাবে প্রবেশ করে ও বারের কাছের টয়লেট ব্যবহার করে। টয়লেট থেকে বের হতেই এক নম্বর বিবাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমাদের ডেকে বারের ভেতরে বসার অনুরোধ করেন ও কফি খাওয়ার প্রস্তাব দেন। আমরা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে অমিসহ এক নম্বর আসামি মদপানের জন্য জোর করেন। আমি মদপান করতে না চাইলে এক নম্বর আসামি জোর করে আমার মুখে মদের বোতল প্রবেশ করিয়ে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। এতে আমি সামনের দাঁতে ও ঠোঁটে আঘাত পাই।
এজাহারে পরীমনি আরও বলেন, এক নম্বর আসামি (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন ও আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করেন। এছাড়া জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তিনি উত্তেজিত হয়ে টেবিলে থাকা গ্লাস ও মদের বোতল ভাঙচুর করে আমার গায়ে ছুড়ে মারেন। তখন কস্টিউম ডিজাইনার জিমি নাসির উদ্দিন মাহমুদকে বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করে জখম করেন।
পরীমনি বলেন, আমি প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরে ফোন দিতে গেলে আমার ফোনটি কেড়ে নিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় দুই নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা চারজন এক নম্বর আসামিকে ঘটনা ঘটাতে সহযোগিতা করেন।