বাংলাদেশের আইনে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ের লিভ টুগেদার করার পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো পরিষ্কার আইন নেই। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও লিভ টুগেদারের পক্ষে নয়। অর্থাৎ বিষয়টিকে সহজভাবে নেয়া হয় না। কিন্তু তারপরও প্রাপ্ত বয়স্ক একটি ছেলে ও মেয়ে পরস্পর সমঝোতার মাধ্যমে একসঙ্গে থাকছে। এই দুজন কিংবা তাদের ঘনিষ্ট বৃত্ত ছাড়া বিষয়টি কেউ জানেনা। এ নিয়ে বিবিসি বাংলা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আইন-আদালত’এর পাঠকদের জন্য প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হলো। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনটি করেছেন সায়েদুল ইসলাম।

ধরা যাক, ঢাকার বাসিন্দা ছেলেটির নাম ‘ক’ আর মেয়েটির নাম ‘খ’। বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে দুইজনের পরিচয়।”প্রথমে আমরা বন্ধু ছিলাম, সেখান থেকে ভালো লাগা শুরু। আমরা বেশ ক’বছর রিলেশনে ছিলাম। তারপরে আমরা ভাবলাম, যেহেতু আমাদের একটা পার্মানেন্ট রিলেশনে যাওয়া বা বিয়ের ব্যাপারে একটা চিন্তাভাবনা হচ্ছে নিজেদের ভেতরে, তখন ভাবছিলাম যে, সেটা পসিবল কিনা বা আমরা পরস্পরের জন্য ঠিক আছি কিনা। সেটা বোঝার জন্যেই একসঙ্গে থাকতে শুরু করা,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন ‘খ’।
বাংলাদেশে গত এক দশক ধরে উন্নত অনেক দেশের মতো বিয়ে বা সামাজিকভাবে স্বীকৃত সম্পর্কের বাইরে গিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের একত্রে বসবাস বা লিভ টুগেদারের চল দেখা যাচ্ছে।
পশ্চিমা দেশগুলোতে যদিও লিভ টুগেদার সামাজিকভাবে স্বীকৃত, কিন্তু বাংলাদেশের রক্ষণশীল সমাজে ছেলে-মেয়ের বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্ক বা একত্রে থাকা ভালো চোখে দেখা হয় না।
ফলে বাংলাদেশে এখনো এ ধরনের সম্পর্ক খুবই সীমিত পরিসরে এবং গোপনে রয়েছে। তবে বিশ্বায়ন ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের সম্পর্কের সংখ্যা ধীরে হলেও বাড়ছে বলে সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন।
কেন লিভ টুগেটারের প্রতি যুগলদের আগ্রহ
এই বিষয়ে বিবিসি বাংলার কথা হয়েছে ঢাকায় বসবাসকারী দুই যুগলের সঙ্গে, যারা প্রচলিত সম্পর্কের বাইরে গিয়ে একত্রে বসবাস করছেন। তাদের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তার স্বার্থে কারও নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।
‘ক’ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, ”আমাদের বিয়ের ব্যাপারে দুই পরিবারই প্রাথমিক সম্মতি জানিয়েছে । কিন্তু যখন আমরা দ্বৈত-জীবন শুরু করি এসব চিন্তা মাথায় ছিল না। দুই পরিবারই তুলনামূলক রক্ষণশীল হওয়ায় তখন এতটা অন্তরঙ্গতা মেনে নিতেন না। তাই আমরা পরিবার এ সংক্রান্ত কিছুই জানতে দেইনি। পরস্পরের বোঝাপড়া দারুণ ছিল তাই পারিবারিক স্বীকৃতির কথা না ভেবেও আমরা একসাথে থাকা শুরু করেছিলাম।
বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের চাকুরীজীবী একজন তরুণী বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ”একত্রে চাকরি করতে গিয়ে আমাদের দুজনের দুজনকে ভালো লাগে। কিন্তু ওর পরিবারে অনেক দায়িত্ব রয়েছে, এখন তার পক্ষে বিয়ে করা সম্ভব নয়। আমিও এখনি বিয়ে করতে চাই না।”
ঢাকার একটি অভিজাত এলাকায় তারা একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে থাকেন। ভাড়া নেয়ার সময় তারা স্বামী-স্ত্রী হিসাবে থাকবেন বলে পরিচয় দিতে হয়েছে।
এই তরুণী বলছিলেন, ”আমাদের দুজনকেই ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হতো। তখন ভাবলাম, তাহলে একসাথেই কেন থাকি না। দুজনের খরচ যেমন কমনে, পাশাপাশি দম্পতি হিসাবে আমরা কেমন হবো, বোঝাপড়া কেমন হবে, সেটাও পরিষ্কার হবে। এসব ভেবেই একসঙ্গে বাসা ভাড়া করে থাকতে শুরু করি।”
তবে দুজনের পরিবার তাদের একত্রে থাকার বিষয়ে এখনো জানে না।
লিভ টুগেদারে আগ্রহ কতটা বেড়েছে?
লিভ টুগেদারে বাংলাদেশের যুগলরা কতটা আগ্রহী হয়ে উঠেছে, এ নিয়ে বাংলাদেশে এখনো কোন গবেষণা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে যখন যুগলদের মধ্যে নানা সমস্যা দেখা দেয়, তখন তাদের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে কোন আইনগত বা সামাজিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে এভাবে একত্রে বসবাসের বিষয়টি বেরিয়ে আসে।
‘খ’ জানাচ্ছিলেন, তার পরিচিত এরকম বেশ কয়েকটি যুগল রয়েছে, যারা এভাবে একত্রে বসবাস করছেন। কয়েকটি দম্পতি রয়েছে, যারা একসময় লিভ টুগেদার করতেন, তবে এখন বিয়ে হয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ রয়েছেন, যারা একসময় লিভ টুগেদারে থাকলেও সেই সম্পর্ক এখন ভেঙ্গে গেছে। তবে অনেকের মধ্যেই এ ধরনের সম্পর্কের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে তিনি জানান।
বেসরকারি সংস্থা আইন ও শালিস কেন্দ্রের পরিচালক নীনা গোস্বামী বলছেন, ”আমাদের কাছে এমন অনেক অভিযোগ আসে, যে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একত্রে বসবাস করেছেন। কিন্তু এখন বিয়ে করতে রাজি হচ্ছে না। তারা সরাসরি লিভ টুগেদার করার কথা বলে না। কিন্তু এ ধরণের অভিযোগের সংখ্যা একেবারে কম নয়।”
এসব ক্ষেত্রে সাধারণত প্রতারণা বা বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়।
বাংলাদেশের ধর্মীয় বা সামজিকভাবে গ্রহণযোগ্য না হলেও অনেকে বিয়ে ছাড়াই একত্রে থাকার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন
খোঁজ নিয়ে যানা যাচ্ছে, শুধু উচ্চবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো নয়, সমাজের নিম্নবিত্ত পরিবারের মধ্যেও এভাবে বৈবাহিক সম্পর্ক ছাড়া একত্রে বসবাসের চল রয়েছে।
একটি কারখানার কর্মকর্তা সিদরাতুল মুনতাহা বলছেন, ”পেশাগত কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, নিজেদের মধ্যে ভালোলাগা থেকে অনেক কর্মী বা শ্রমিক আনুষ্ঠানিক কোন সম্পর্ক ছাড়াই একত্রে বসবাস করছেন। সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হলে অনেক সময় আমাদের কাছে অভিযোগও আসে। আবার কিছুদিন পরে হয়তো তাদের সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়, আবার নতুন কারও সঙ্গে সম্পর্ক হয়েছে। ”
প্রেম থেকে, একাকীত্ব কাটানো বা আর্থিক সাশ্রয়ের কথা ভেবে অনেকে এভাবে সম্পর্কে জড়ান বলে তিনি ধারণা করেন।
স্বামী-স্ত্রী হিসাবে পরিচয় দিয়ে থাকতে হয়
বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে যারা বিয়ে ছাড়া একত্রে বসবাস শুরু করেছেন, তাদের বেশিরভাগই এই বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে চাননি। বিবিসি বাংলার সঙ্গে যারা কথা বলেছেন, তারাও সামাজিকতার কথা ভেবে পরিচয় প্রকাশ করতে আগ্রহী নন।
তবে বাংলাদেশের রক্ষণশীল সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে লিভ টুগেদার করতে গিয়েও তাদের নানারকম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
যেমন বাসা ভাড়া নেয়া বা বাসার কাজের লোকজনের কাছে বিবাহিত হিসাবে পরিচয় দিতে হচ্ছে এই যুগলকে।
‘ক’ বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ”আমরা বিবাহিত, এটা বলে আমাদের বাসা নিতে হয়েছিল এবং সবসময়ই সতর্ক থাকতে হয়েছিল বাড়ির মালিকের সামনে। তবে সুখের বিষয়, তিনি আমাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি কৌতূহলী ছিলেন না। ”ইংরেজি প্রচলিত টার্ম ‘লিভ টুগেদার’ না বলে একে দুইজন মানুষের দ্বৈত-জীবন বলে বর্ণনা করতে চান ‘ক’।
ঢাকার একটি বাসায় তারা এক বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করছেন। কিন্তু তারা যে বিয়ে না করে একত্রে বাস করছেন, সেটা হাতেগোনা খুব কয়েকজন কাছের বন্ধু জানেন। এমনকি দুই পরিবারের লোকজনও এই বিষয়ে জানে না।
”যারা আমাদের জাজ করবে না বা বিষয়টি নিয়ে নেতিবাচকভাবে দেখে না, শুধু তারাই আমাদের এই বিষয়টি জানে।”
তিনি বলছিলেন, ”দ্বৈত-জীবন শুরু করা সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা ছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরস্পরের মানসিকতার সামঞ্জস্য না হলে একসাথে থাকা কষ্টকর হয়ে যায়। আমাদের বেলায় কম্প্রোমাইজ করতে হয়েছে দুই পক্ষকেই। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি আমার যতটুকু করার ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি পেয়েছি সঙ্গীর থেকে। এটা সম্ভব হয়েছে তার সাথে মানসিকতার মিল থেকেই।”
‘খ’ বলছিলেন, বাড়িওয়ালা বা বুয়া বা আশেপাশের লোকজন অনেক সময় ব্যক্তিগত বিষয় জিজ্ঞেস করে শ্বশুর বাড়ি কেমন, কীভাবে বিয়ে হল। তখন আমাকে সবসময়ে একটা গল্প তৈরি করে রাখতে হয়। মনে রাখতে হয়, আমি আগেরবার কী বলেছি, সেটার সঙ্গে যেন মিল থাকে। খুবই সাবধানে থাকতে হয় বিষয়টা নিয়ে।”
একজন সঙ্গীর বাড়ির লোকজন এলে তখন অন্যজন বন্ধু বা অন্য কোথাও কয়েকদিন থেকে আসেন।
তার পরিচিত যারা এভাবে থাকছেন, তারাও নিজেদের সম্পর্কের বিষয়টি গোপন করে এভাবে থাকছেন বলে তিনি জানান।
সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি কি পাল্টাচ্ছে?
এখনো বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ বিয়ে অথবা সামাজিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে ছেলে-মেয়ের একত্রে বসবাসকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেন না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সমাজবিজ্ঞানী ড. মাহবুবা নাসরীন বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ”সমাজ তো পরিবর্তন হচ্ছে। দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না হলেও বিশ্বায়নের কারণে মানুষের আচরণে একটা পরিবর্তন তো পড়েছেই। উন্নত দেশ, আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার কিছু দেশেও ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে একসাথে বসবাসের চল তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশে এখনো সামাজিকভাবে স্বীকৃত না হওয়ায় এটা লুকানো রয়েছে। তবে এই অনুশীলন কিন্তু দেখা যায়।”
”বিশ্বায়নের কারণে অনেক কিছুর অনুকরণ হতে দেখি। সেটার একটা প্রভাব তো সমাজের ওপর পড়ে। সেই পরিবর্তনের ছোঁয়া সব জায়গাতেই লাগে। সমানভাবে না লাগলেও কোথাও কোথাও সেটা স্পর্শ করে যায়। সেটাই আমরা দেখতে পাচ্ছি,” মাহবুবা নাসরীন বলছেন।
অধ্যাপক নাসরীন বলছেন, ”আমি বলবো, প্রতিবেশী দেশ বা অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে হয়তো সংখ্যাটা এখনো নগণ্য। তবে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন কোন কোন জায়গায় হচ্ছে, সেটা তো পরিষ্কার। তবে মানুষের মধ্যে এই ধরনের জীবনযাপন বাংলাদেশে ধর্মীয় বা সামাজিকভাবে এখনো গ্রহণযোগ্য নয়। ” বলছেন অধ্যাপক নাসরীন।
‘খ’ বলছেন, তাদের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে সহপাঠী বা বন্ধুদের কাছ থেকে অনেক সময় নেতিবাচক কথাও তাকে শুনতে হয়েছে।
অন্য যুগলরাও বলছেন, ‘লিভ টুগেদার’ এখনো বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ নেতিবাচক চোখে দেখে। কারণ এটা জানতে পেরে অনেকেই সহজে মেনে নিতে পারেন না। তাদের সঙ্গে অন্যরকম আচরণ করতে শুরু করেন।
কিন্তু যেভাবে সমাজের একটি অংশ এরকম সম্পর্কে জড়াচ্ছে, তাতে একসময় মানুষের সেই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে বলে তারা আশা করছেন।
বাংলাদেশে এ নিয়ে কোন জরিপ বা গবেষণা হয়নি বলে তিনি জানান।
‘কখনো কখনো অপরাধবোধ কাজ করে’
‘খ’ বিবিসি বাংলাকে বলছেন, বৈবাহিক সম্পর্ক না থাকার পরে একত্রে বসবাসের কারণে অনেক সময় তিনি অপরাধবোধেও ভোগেন।
”আমার নিজের ধারণাও এই বিষয়ে কন্ট্রাডিক্টরি (পরস্পরবিরোধী) । মাঝে মাঝে ধর্মীয় বিষয় মাথায় আসে যে, যা করছি সেটা ঠিক হচ্ছে না, একটা পাপ করছি। আবার আরেকদিন থেকে মনে হয়, এটা ঠিক আছে, অন্যদেরও এভাবে থেকে দেখা উচিত। কারণ অনেক সময় দেখা যায়, একজন আরেকজনকে সাপোর্ট দেয়ার কথা দিচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে সেটা হচ্ছে না। একত্রে থাকতে গিয়েও অন্যজনকে আরেকভাবে চেনা যায়,” তিনি বলছেন।
তবে একজন মেয়ে হিসাবে এটা তার জন্য ভালো অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। কারণ বাংলাদেশের বাস্তবতায় একটি মেয়ে হিসাবে তাকে হয়তো পড়াশোনা বা ক্যারিয়ার এবং বাসা-দুইটাই দেখেশুনে রাখতে হয়। বাস্তবে সেটা কতটা সম্ভব হবে, সেই ধারণা তিনি এখনি পেয়ে যাচ্ছেন।
‘খ’ বলছিলেন, ”আমি বুঝতে পারছি, কতটুকু কোথায় মেইনটেইন করতে হবে, কতটুকু আমি করতে পারবো, পার্টনারের কাছ থেকে কতটুকু সাপোর্ট পাবো, সেটা বুঝতে পারছি। একসাথে থাকার কারণে অনেক গ্রো করেছি বলা যায়। ”
তবে এরকম সম্পর্কে থাকার কারণে ভবিষ্যতে কোন সমস্যা দেখেন না ‘খ’।
”যদি কখনো আমার অন্য রিলেশনে মুভ করতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমি এমন একজনকে বেছে নেবো, যে এগুলো শুনে বা তার কোন সমস্যা হবে না। স্বাভাবিকভাবে এটা মেনে নেয়া উচিত বলে আমার মনে হয়। মানুষের তো প্রেম ভেঙ্গে যায়, বিয়েও ভেঙ্গে যায়, তাই না?” তিনি বলছেন।
বেসরকারি চাকুরীজীবী একজন তরুণী বলছিলেন, ”বিয়ে হয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার চেয়ে যদি লিভ টুগেদার করে সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়, আমি তো বলতো সেটা অনেক ভালো। আনুষ্ঠানিক সম্পর্কে জড়িয়ে, আত্মীয়স্বজন সবাইকে নিয়ে একটা সম্পর্কে যাওয়ার আগে সেটা কতটা ভালো রিলেশন হবে, এটা তার একটা পরীক্ষা বলতে পারেন।”
বাংলাদেশের আইন কী বলে?
বাংলাদেশের আইনে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ের লিভ টুগেদার করার পক্ষে বা বিপক্ষে কোন পরিষ্কার আইন নেই বলে বলছেন ব্যারিস্টার মিতি সানজানা।
”বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কোন নারী-পুরুষ যদি একসঙ্গে বসবাস করতে যায়, তাহলে তাকে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী বিবাহিত হতে হয়। যেমন মুসলিম আইন অনুযায়ী তাকে রেজিস্ট্রেশনও করতে হবে। কিন্তু কেউ রেজিস্ট্রেশন না করেও ধর্মীয় বিধান মেনে সাক্ষীর উপস্থিতিতে যদি বিয়ে করে, সেটাও গ্রহণ করা হয়,” তিনি বলছেন।
ব্যারিস্টার সানজানা বলছেন, বিবাহিত ব্যক্তি যদি কোন বিবাহিত বা অবিবাহিত ব্যক্তির সঙ্গে লিভ টুগেদার করে, সেটা নানারকম আইনের মধ্যে পড়ে, নানা শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ে যদি একত্রে বসবাস করে, সেক্ষেত্রে আইনে সরাসরি বা পরিষ্কারভাবে কিছু বলা নেই।
”তবে প্রত্যেকটা ঘটনার ক্ষেত্রে আসলে ফ্যাক্টচুয়ালি ডিপেন্ড করবে। অনেক ক্ষেত্রে হয়তো পাবলিক ইনডিসেন্সি মনে করা হতে পারে। তবে সরাসরি কোন আইনের ধারায় সরাসরি কিছু করার সুযোগ নেই। সাধারণত যা হয়, এরকম ক্ষেত্রে আইনি বিষয় চলে এলে তখন নানারকম আইনের আওতায় কোন একটাভাবে তাদের ফেলে দেয়া হয়,” বলছিলেন ব্যারিস্টার মিতি সানজানা।
উন্নত দেশগুলোয় একত্রে বসবাস করলে সঙ্গীর একটা অধিকার তৈরি হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এরকম কোন বিধান নেই বলেও তিনি জানান।
বিয়ে না করেও একসাথে থাকছেন বাংলাদেশের যে তরুণ তরুণীরা
কুমিল্লায় কাউন্সিলর হত্যার দুই আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ সাহা হত্যা মামলায় দুই আসামি পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত সোয়া ১২টার দিকে শহরের সংরাইশ এলাকায় গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে বলে কোতয়ালি থানার ওসি আনোয়ারুল আজিমের ভাষ্য। নিহতরা হলেন, সুজানগর এলাকার রফিক মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেন (২৮) এবং সংরাইশ এলাকার কাকন মিয়ার ছেলে সাজন (৩২)। সোহেল ও হরিপদকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাদের নাম ছিল যথাক্রমে ৩ ও ৫ নম্বরে।
ওসি আনোয়ারুল আজিম বলেন, ওই মামলার কয়েকজন আসামি সংরাইশ ও নবগ্রাম এলাকায় অবস্থান করছে খবর পেয়ে কোতয়ালি মডেল থানা এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল অভিযানে যায়।
“তারা গোমতী নদীর বেড়িবাঁধের কাছে পৌঁছালে আসামিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। পুলিশ সদস্যরাও নিজেদের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। গোলাগুলির একপর্যায়ে কয়েকজন সন্ত্রাসী পালিয়ে যায়।তখন ঘটনাস্থলে দুইজন ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।”
গুলিবিদ্ধ দুজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
গোয়েন্দা পুলিশের এসআই পরিমল দাস বলছেন, এ অভিযানে পুলিশের তিনজন সদস্যও আহত হয়েছেন। তাদের পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি পাইপ গান, পিস্তলের অব্যবহৃত গুলি উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
গত ২২ নভেম্বর বিকালে কুমিল্লা শহরের পাথুরিয়াপাড়ায় ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেলের সিমেন্টের দোকান থ্রি স্টার এন্টারপ্রাইজে হামলা চালায় একদল মুখোশধারী। সেখানে থাকা সোহেল এবং তার সহযোগী ওয়ার্ড শ্রমিক লীগের সভাপতি হরিপদ সাহাকে তারা গুলি করে হত্যা করে। খুনিদের এলোপাতাড়ি গুলিতে আহত হন আরও চারজন।
কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল ২০১২ ও ২০১৭ সালে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি প্যানেল মেয়র ছিলেন। বিডি নিউজ।
পরদিন সোহেলের ছোট ভাই সৈয়দ মো. রুমন কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ১১ জনের নাম উল্লেখ করে সেখানে অজ্ঞাতনামা আরও ১০জনকে আসামি করা হয়।
তবে বাদী রুমন সেদিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে হত্যা করেছে। এজাহারে তাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।”
কাল থেকে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর,মালিক সমিতির ঘোষণা
গণ পরিবহনে হাফ পাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়া হলো। আগামীকাল বুধবার (১ ডিসেম্বর) থেকে বেসরকারি মালিকানাধীন গণপরিবহন বাসে অর্ধেক ভাড়ায় চলতে পারবে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ এই ঘোষণা দেন।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে একটি ভবনে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। তিনি বলেন, ছুটির দিনে এই অর্ধেক ভাড়া কার্যকর করা হবে না। এ ছাড়া ঢাকার বাইরেও এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না।
খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, যেসব শিক্ষার্থী বাসে উঠে অর্ধেক ভাড়া দেবেন তাদের কাছে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের আইডি থাকতে হবে। সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অর্ধেক ভাড়া দিতে পারবেন।
এর আগে শিক্ষার্থীদের জন্য বাসে অর্ধেক বা হাফ ভাড়া চালু করা বিষয়ে বিআরটিএ এবং পরিবহনমালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে কয়েকদফা বৈঠক হয়।
বুধবার থেকে শারীরিক উপস্থিতিতে বিচার কাজে ফিরছে সুপ্রিম কোর্ট
দেড় বছরের বেশি সময় পর সুপ্রিম কোর্টে শারীরিক উপস্থিতিতে বিচার কাজ শুরু হতে যাচ্ছে আগামী বুধবার। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১ ডিসেম্বর থেকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক উপস্থিতিতে আপিল বিভাগও ও হাই কোর্ট বিভাগে বিচারিক কাজ পরিচালিত হবে।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন জ্যেষ্ঠ বিচারকদের সঙ্গে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
গত বছর মার্চে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত ‘সাধারণ ছুটির’ সঙ্গে মিল রেখে দেশের সব আদালতেও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ফলে দেশের বিচার ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
পরে সুপ্রিম কোর্টের অনুরোধে মামলার বিচার, বিচারিক অনুসন্ধান, দরখাস্ত বা আপিল শুনানি, সাক্ষ্য বা যুক্তিতর্ক গ্রহণ, আদেশ বা রায় দিতে পক্ষদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আদালতকে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা দিয়ে গত বছর ৯ মে অধ্যাদেশ জারি হয়।
পরদিন সুপ্রিম কোর্ট ভিডিও কনফারেন্সসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘প্র্যাকটিস’ নির্দেশনা জারি করে। ১১ মে দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে প্রথমবার ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমতে থাকলে প্রথমে কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক উপস্থিতিতে নিম্ন আদালতের কার্যক্রম চালু করা হয়। পরে হাই কোর্টের কয়েকটি বেঞ্চেও শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারিক কার্যক্রম চালু করা হয়। পাশাপাশি ভার্চুয়াল আদালতও চালু থাকে।
তবে দেশের সর্বোচ্চ আদালত, অর্থাৎ আপিল বিভাগ এবং চেম্বার আদালত ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মেই চলে আসছিল।
চলতি বছর করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিস্তার ঠেকাতে সরকার ৫ এপ্রিল থেকে সারাদেশে শপিং মল, দোকান-পাট, হোটেল-রেস্তারাঁসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়।
ওইদিন রাতেই সীমিত পরিসরে দেশের আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত আসে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের কাছ থেকে।
বিচার বিভাগ প্রধানের আদেশে এ সংক্রান্ত আলাদা তিনটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। তাতে বলা হয়, ৬ এপ্রিল থেকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে শুধু আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত, হাই কোর্টের চারটি বেঞ্চ চালু থাকবে।
আর মুখ্য বিচারকি হাকিম বা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত সীমিত পরিসরে চালু থাকবে, তবে সব অধস্তন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
এরপর গত ১৩ এপ্রিল আরেক বিজ্ঞপ্তিতে ভার্চুয়ালি সীমিত পরিসরে আপিল বিভাগের বিচারকাজ পরিচালনার কথা জানানো হয়।
১৩ জুলাই আরেক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান বিচরাপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ১৮ জুলাই থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা-বেলা সোয়া ১টা বিচারকাজ পরিচালনা করবে।
এরপর এভাবেই চলে আসছিল সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকাজ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন গত সপ্তাহে আভাস দেন, ডিসেম্বর থেকেই শারীরিক উপস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। বিডিনিউজ।
বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য অনেক ভৌত অবকাঠামো বানিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া তিনি একটি ভালো আইনি কাঠামো তৈরি করে দিয়েছেন, যাতে বিদেশিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভালো একটি ‘প্রটেকশন’ পায়। তাই বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ।
সোমবার রাজধানীর হোটেল রেডিসানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন-২০২১ এর ‘লিগ্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ শীর্ষক এক অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে স্বাধীনতার ৫০ বছর পর একটি মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। এটা বর্তমানে সময়ের জন্য বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি বড় সাফল্য। কোভিড-১৯ আঘাত হানার ঠিক আগেও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার ছিল আট শতাংশের উপরে এবং গত এক দশকে তা ছয় শতাংশের উপরে ছিল।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবকালেও প্রতিবেশি দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ভালো ছিল। এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাস্তবসম্মত ও সমযোপযোগী নীতির কারণে। বাংলাদেশ এই সফলতা ধরে রাখতে পারলে ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে। এ সফলতা ধরে রাখতে সরকার ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়নসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। কোম্পানীআইন সংশোধন করেছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাশরুর রিয়াজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অধিবেশনে অন্যান্যের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক ও বর্তমান সচিব মো. মইনুল কবির, প্রফেসর ড. রুমানা ইসলাম, ব্যারিস্টার নিহাদ কবির, ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম ‘লিগ্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ নিয়ে আলোচনা করেন।
১৩০০ বছরের পুরনো মাটির মসজিদের সন্ধান
মাটির একটা নির্মাণ হাজার বছর ধরে টিকে আছে! তা দেখে বিস্ময়ের শেষ নেই। ইরাকে ইসলামের প্রাথমিক যুগের একটি মাটির মসজিদের সন্ধান মিলেছে। ব্রিটেন ও ইরাকের একদল প্রত্নতত্ত্ববিদের যৌথ অনুসন্ধানে মসজিদটির সন্ধান পাওয়া গেছে।
ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলের আল-রাফাই শহরে মাটির তৈরি প্রাচীন এই মসজিদের সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতত্ত্ববিদেরা। তাঁদের ধারণা, মসজিদটি উমাইয়া যুগের। ইসলামের প্রাথমিক যুগে এটি ব্যবহার হয়ে থাকতে পারে। যেহেতু ইসলামের প্রাথমিক যুগের সুনির্দিষ্ট ইতিহাস অনেকটাই অজানা, এ কারণে ওই সময়ের একটি মসজিদের সন্ধান পাওয়ার ঘটনাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আবিষ্কৃত মসজিদটি লম্বায় ১৬ ফুট, চওড়ায় প্রায় ২৬ ফুট। একসঙ্গে ২৫ জন এখানে নামাজ আদায় করতে পারতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরাক সরকারের প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান ও খনন বিভাগের প্রধান আলি শালঘম বলেন, এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রত্ননিদর্শন। প্রথমত মসজিদটি মাটি দিয়ে বানানো। ঝড়-বাদল-বৃষ্টি উপেক্ষা করে এটি শতকের পর শতক ধরে কী ভাবে টিকে আছে, তা এক বিস্ময়। এই নিদর্শন ইসলামের প্রাথমিক যুগের ইতিহাস বিষয়ে অনেক কিছুই বলতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে। ওই সময়-পর্বের ইতিহাস সম্পর্কে খুব কমই জানা আছে।
ইরাকের আল-রাফাই ও আশপাশের এলাকা প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে খুবই সমৃদ্ধ অঞ্চল। এর আগেও এখানে মেসোপটেমিয়া সভ্যতার নিদর্শনের সন্ধান মিলেছে। চলতি বছরের মার্চে ইরাক সফরকালে প্রাচীন এই নিদর্শনস্থল পরিদর্শন করেন পোপ ফ্রান্সিস। এর আগে ইরাকের এই অঞ্চলের লারসা শহরে মেসোপটেমিয়া সভ্যতার শাসক সিন-এদনামের ব্যবহৃত একটি প্রাসাদের সন্ধানও পেয়েছিলেন ফরাসি প্রত্নতত্ত্ববিদেরা। চলতি বছরের শুরুতে রাশিয়া ও ইরাকি প্রত্নতত্ত্ববিদদের যৌথ অনুসন্ধানে ইরাকের এই এলাকায় প্রায় চার হাজার বছরের পুরনো এক বসতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। সূত্র -অনলাইন।
শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেয়া শিক্ষিকা ফারহানা নিজ পদেই থাকছেন
ছাত্রদের চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে ৩ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে, তিনি স্বপদে বহাল থাকছেন।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস সংস্কৃতি ও বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের ১৪ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় ওই বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র নাজমুল হোসেন তুহিন (২৫) ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনার পরে অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের স্থায়ী বহিষ্কার দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। এতে করে ব্যাহত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশা করছে, তাদের নেয়া সিদ্ধান্তে ২ মাসের বেশি সময় ধরে চলা বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির অবসান হবে।
রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. সোহরাব আলী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কমিটির মতামতের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
এই ৩ শিক্ষাবর্ষের সময়কালে কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হলেও শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন স্বপদে বহাল থাকবেন বলেও জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রওশন আলম বলেন, ‘অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে গত প্রায় ২ মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা যাবে বলে আশা করছি।’সূত্র- দ্য ডেইলি স্টার।
রাজধানীতে ১২০ কেজি গাঁজা, প্রাইভেটকারসহ ৫ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও হাতিরঝিল থানা এলাকা থেকে ১২০ কেজি গাঁজা এবং ১টি প্রাইভেটকারসহ ৫ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো মোঃ সোহেল, মোঃ মামুন আক্তার ওরফে মামুন খান, মোঃ হানিফ খলিফা ও আল আমিন ও আকাশ।
রবিবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে যাত্রাবাড়ী থানার আসমা আলী সিএনজি স্টেশনের বিপরীতে মেসার্স চৌধুরী টিম্বার কমপ্লেক্স এর সামনে থেকে ৪ জনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান জোনাল টিম।

গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মাহবুবুল হক সজীব জানান,কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী সাদা রংয়ের প্রাইভেটকারযোগে বিপুল পরিমাণ গাঁজা নিয়ে ঢাকার দিকে আসছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আসমা আলী সিএনজি স্টেশনের সামনে অবস্থান নেয় গোয়েন্দারা। এ সময় অভিযান চালিয়ে প্রাইভেটকারসহ সোহেল, মামুন খান, হানিফ ও আল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাইভেটকারটি তল্লাশি করে ১০৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, গ্রেফতারকৃতরা জানায় কুমিল্লা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে গাঁজা নিয়ে জয়পুরহাট জেলায় যাচ্ছিল।
এদিকে রবিবার রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল থানা এলাকা হতে গাঁজাসহ একজন মাদক ব্যবসায়ী আকাশ মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। রাত সোয়া ৯টার দিকে হাতিরঝিল থানার মগবাজার রেলগেইট এলাকায় অভিযান চালায় গোয়েন্দা মিরপুর জোনাল টিম। সূত্র -ডিএমপি নিউজ।
সাগরে জলদস্যুতায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড; মেরিটাইম জোন আইন সংশোধনের প্রস্তাব সংসদে পাস
সাগরে জলদস্যুতার অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রেখে আইন সংশোধনের প্রস্তাব সংসদের অনুমোদন পেয়েছে। রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ১৯৭৪ সালের ‘টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোন’ আইন সংশোধনের জন্য ‘টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২১’ সংসদে পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিলের ওপর দেয়া জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠান এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।
বিলটি পাস হওয়ায় অভ্যন্তরীণ জলসীমা ও রাষ্ট্রীয় জলসীমা, ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানে সমুদ্রসম্পদের ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলো। বিলে বলা হয়েছে, জলদস্যুতা, সশস্ত্র চুরি, সমুদ্র সন্ত্রাস করতে গিয়ে কেউ খুন করলে মৃত্যুদণ্ড হবে। আর জলদস্যুতা বা সমুদ্র সন্ত্রাসের শাস্তি হবে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এছাড়া দস্যুতা করে যা সে লুট করবে, তার জন্য জরিমানা হবে। কোনো ব্যক্তি জলদস্যুতা বা সমুদ্র সন্ত্রাসের চেষ্টা বা সহায়তা করলে সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় জলসীমায় অবস্থানকালে কোনো বিদেশী জাহাজে অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধী গ্রেফতার ও তদন্ত পরিচালনায় এ আইন প্রযোজ্য হবে।
শেষ হলো জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশন
জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশন শেষ হয়েছে। নয় কার্যদিবসের এ অধিবেশন শুরু হয় ১৪ নভেম্বর। রোববার অধিবেশন সমাপনী সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির আদেশ পড়ে শোনানোর মধ্য দিয়ে অধিবেশনের সমাপ্তি টানেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এর আগে সংসদ কক্ষে দেখানো হয়, ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে সত্তরের ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয়ের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ।
কভিড১৯ মহামারীর মধ্যে অনুষ্ঠিত অন্য অধিবেশনগুলোর মতো এবারো স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংসদ চলে। এক্ষেত্রে কভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ থাকা সংসদ সদস্যরাই অধিবেশনে যোগ দেন। প্রতিদিন ১০০-১২০ জন সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে বসে সংসদ। তবে ২৪ ও ২৫ নভেম্বর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ আলোচনায় কভিড-১৯ নেগেটিভ সব সদস্য অংশ নেন।
এ অধিবেশনে ২৪ নভেম্বর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বিশেষ আলোচনায় স্মারক বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। পরে সংসদে বিশেষ আলোচনার জন্য প্রস্তাব তোলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুদিন আলোচনার পর সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে পুরস্কার চালু করায় জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানাতে জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে সংসদ। এ অধিবেশন চলাকালীন টাঙ্গাইলের সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন মারা যান। মহামারী কালের অন্য অধিবেশনগুলোর মতো এবারো সংসদ ভবনে প্রবেশাধিকার ছিল না গণমাধ্যমকর্মীদের। সংসদ সচিবালয়ের তথ্যমতে, এবারের অধিবেশনে নয়টি বিল পাস হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৪১টি প্রশ্ন পাওয়া যায়, যার মধ্যে তিনি ১০টির উত্তর দিয়েছেন। অন্য মন্ত্রীদের এক হাজার ১২টি প্রশ্ন পাওয়া যায়, যার মধ্যে মন্ত্রীরা ৫৬৬টি প্রশ্নের উত্তর দেন।











