১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর জিয়াউর রহমান কর্তৃক ‘সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিচারের নামে ফাঁসি দিয়ে হত্যা, লাশ গুম ও চাকরিচ্যুতির ঘটনা’র বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন তরে তদন্তের দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জাতি জানতে চায় সেদিন কী হয়েছিল, কেন কীভাবে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল, তাদের কবর দেয়া হয়েছিল কিনা, কোথায় তাদের কবর সেসব চিহ্নিত করা এবং তাদের একটি তালিকা করতে একটি স্বাধীন শক্তিশালী তদন্ত কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে খুনি জিয়ার মরণোত্তর ফাঁসি এবং তার মুখোশ জাতির সামনে তুলে ধরার দাবি জানানো হয়।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচারের দাবিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব দাবি তুলে ধরেন।
সভাটির আয়োজন করে ‘শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কেন্দ্রীয় কমান্ড। সভায় আলোচক ছিলেন সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাংবাদিক আবেদ খান, বীর বিক্রম মাহবুব উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক বজলুল হক, ফায়ারিং স্কোয়ার্ডে নিহত সার্জেন্ট দেলোয়ার হোসেনের ছেলে নুরে আলম, মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী লায়লা আরজুমান মানু প্রমুখ।

বিচারের দাবিতে স্বজনদের আহাজারি।
বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, আমাদের দেশে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর থেকে বেশ কয়েকটি কলঙ্কজনিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে । তার মধ্যে ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবরের ঘটনা অন্যতম। এসব কলঙ্কময় দিনের মূল কুশীলব ছিল খুনি জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করে সে ক্ষান্ত হয়নি এর পরও অসংখ্য দেশপ্রেমিককে হত্যা করা হয়েছে। গত চারশো’ বছরের ইতিহাস যদি ঘাটি তাহলে যে মানুষটিকে পৃথিবীর নিকৃষ্টতম খুনি বলে আমরা বিচার করবো- সে আর কেউ নয়, সে খুনি জিয়াউর রহমান। তার হাত ছিল রক্তে কলঙ্কিত, তার হাতে রক্তের দাগ ছিল। এ কারণে সে কিন্তু ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবরের ঘটনাকে খুনের একটি উসিলা হিসেবে নিয়েছিল।
‘সে সময়ে ফাঁসি দেয়ার পরে রায় দেয়া হয়েছে’ দাবি করে এই বিচারপতি বলেন, ‘এমন নজির সারাবিশ্বে কোথাও খুঁজে পাবেন না। ফাঁসি দেয়া হলে তার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু জিয়া সেটিও হতে দেয়নি। এতেই বোঝা যায় সে কতটা নিষ্ঠুর ও নির্মম ছিল। লাশ কোথায় কবর দেয়া হয়েছে তাও কেউ জানে না। সেদিন কি ঘটেছিল তা কিন্তু এখনও দেশের মানুষ জানে না। প্রহসনের বিচারের নামে জিয়া সেদিন ২২শ’ মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছিল। কর্নেল তাহের হত্যা মামলার বিচার করার সুযোগ আমার হয়েছিল। সেখানে বহুলোক আমার আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছিল, জিয়া প্রহসনের বিচারের নামে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রভুদের নির্দেশে অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছে।’
শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, আমার মত, দেশের কোটি কোটি মানুষ বিশ্বাস করে জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিল না। এর পেছনে অনেক যুক্তি রয়েছে যে, মানুষ পঁচাত্তর সালের পরে জয় বাংলা স্লোগান বাতিল, রাজাকারদের ক্ষমতায় বসানোসহ মুক্তিযুদ্ধে চিহ্ন মুছে দেয়ার পাঁয়তারা করেছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জিয়ার কর্মকাণ্ডে খুশি হয়ে পাকিস্তান থেকে তাকে চিঠি পাঠিয়ে তার কাজে খুশি প্রকাশ করেছিল। তাই সে মুক্তিযোদ্ধা নয় সেটি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে প্রমাণিত হয়েছে।’

‘জিয়াউর রহমান একেতো খুনি ছিল, তারপর আবার পাকিস্তানি চর ছিল’ উল্লেখ করে শামসুদ্দিন মানিক বলেন, ‘সে পাকিস্তানে খবর পাচার করতো বলে তাকে রাজাকার ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। বিচারের সময় দেখেছি, যে অপরাধে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল তাতে তার ফাঁসি হয় না। ঠিক একইভাবে জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছিল।
শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিচারপতি মানিক বলেন, আপনাদের ৭ দফা দাবির সঙ্গে আমিও একটি দাবি রাখতে চাই।
সভায় সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, জিয়াউর রহমান এক আদর্শহীন নায়ক। তিনি সকাল বেলা হত্যাকাণ্ডের খবর নিয়ে কাজ শুরু করতেন। তার একমাত্র বিশ্বাসের জায়গা ছিল পাকিস্তান। তার বিশ্বাসের জায়গা ছিল আইএসআই। তার ছাত্র ছিলেন রশিদ-ফারুক। ১৯৬৪-৬৫ সালে তাদের তিনি শিক্ষা দিয়েছেন। আমি শুধু বলবো, বাংলাদেশকে সত্যিকারভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নিয়োজিত করতে হয়, তাহলে জিয়াউর কিংবা এরশাদের কোনও চিহ্ন দেশের রাজনীতিতে রাখা চলবে না।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান বা যারা বাংলাদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে তাদের প্রত্যেকের মরণোত্তর বিচার হওয়া উচিত। তাই যত বিলম্বই হোক না কেন, হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে দ্রুত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।
শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবিগুলো হলো- ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্য যারা খুনি জিয়ার সামরিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে অন্যায়ভাবে ফাঁসি, কারাদণ্ড ও চাকরিচ্যুত হয়েছেন তাদের নির্দোষ ঘোষণা করা, যারা ফাঁসি-কারাদণ্ড ও চাকুরিচ্যুত হয়েছেন তাদের প্রত্যেককে স্ব-স্ব পদে সর্বোচ্চ র্যাংকে পদোন্নতি দেখিয়ে বর্তমান স্কেলে বেতন-ভাতা ও পেনশনসহ সরকারি সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা প্রদান করা, যে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেনা ও বিমান বাহিনী সদস্যদের অন্যায়ভাবে ফাঁসি হয়েছে, তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদ ঘোষণা করা এবং কবরস্থান চিহ্নিত করে কবরস্থানে নামসহ স্মৃতি স্তম্ভ তৈরি করা, সেসব সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যকে পুনর্বাসিত করার লক্ষ্যে তাদের পোষ্যদের যোগ্যতা অনুসারে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রদান করা, সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্য যাদের অন্যায়ভাবে ফাঁসি কারাদন্ড ও চাকরিচ্যুত হয়েছেন তাদের তালিকা প্রকাশ করা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী ছিল এবং এখনও আছে কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক জান্তা তাদের পাকিস্তানী বিভিন্ন বন্দি শিবিরে আটক করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন, তাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করা এবং অন্যায়ভাবে ফাঁসি, কারাদণ্ড ও চাকরিচ্যুত করার অপরাধে খুনি জেনারেল জিয়ার মরণোত্তর বিচার করা।
সভায় সার্জেন্ট দেলোয়ার হোসেনের ছেলে বলেন ‘বাবা ছিলেন বিমানবাহিনীর সার্জেন্ট । তখন আমার এক বছর বয়স। বাবার বয়স ৩০ বছর ছিল। ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবরের পর বাবার আর খোঁজ পাইনি। কেবল একটি চিঠি পেয়েছি। তাতে লেখা, তিনি দোষী সাব্যস্ত, তাঁর কাপড়চোপড়গুলো আমরা যেন নিয়ে যাই।’ বাবার কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন ৪৫ বছর বয়সী নূরে আলম। বলেন, ‘সেদিন কী হয়েছিল, কেন তাঁদের হত্যা করা হয়েছিল, তাঁদের দোষ বা অপরাধ কী ছিল, সন্তান হিসেবে আমি জানতে চাই। বাবাকে কোথায় কবর দেয়া হলো—তা আমরা এখনো জানতে চাই।’
অনুষ্ঠানে কথা হয় বিমানবাহিনীর সদস্য ৬৯ বছর বয়সী সৈয়দ কামরুজ্জামানের সঙ্গে। ওই সামরিক আদালতে প্রথমে তাঁর মৃত্যুদণ্ড, পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। তিনি বলেন, ‘সারা রাত বিমানবন্দরে ডিউটি করে সেদিন সকালে আমি ব্যারাকে ফিরছিলাম। আমাকে চেয়ারবাড়ি থেকে হুট করে ধরে নিয়ে যায়। তারপর ১০ অক্টোবরে সামরিক আদালতে আমাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।’
সৈয়দ কামরুজ্জামান আরও বলেন, ‘পরে ১৯৮৪ সালের জুলাই মাসে রাষ্ট্রপতির আদেশে আমার মুক্তি হয়। অথচ আজও আমি জানি না, আমার কী অপরাধ ছিল। আমি এ ঘটনায় জিয়াউর রহমানের বিচার চাই।’
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বিনাবিচারে ফাঁসি: কমিশন গঠন করে জিয়ার মরণোত্তর বিচার চাইলেন স্বজন হারানো পরিবারগুলো
কলেজ পড়ুয়া তিন বান্ধবীর সন্ধান মিলেনি: থানায় মামলা, গ্রেফতার চার
রাজধানীর পল্লবী থেকে নিখোঁজ কলেজছাত্রী ৩ বান্ধবীকে তিন দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় শনিবার রাতে ৪ জনকে আসামী করে মামলা হয়েছে।
নিখোঁজ শিক্ষার্থী কাজী দিলখুশ জান্নাত নিসার বোন অ্যাডভোকেট কাজী রওশন দিল আফরোজ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই সজিব খান জানিয়েছেন ,মামলার পর চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিখোঁজ ছাত্রীদের উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
মামলার আসামিরা হলেন- মো.তরিকুল্লাহ (১৯), মো. রকিবুল্লাহ(২০), জিনিয়া ওরফে টিকটক জিনিয়া (১৮), শরফুদ্দিন আহম্মেদ আয়ন (১৮)। এছাড়াও মামলায় ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
এসআই সজিব খান জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামি রকিবুল জানিয়েছেন, ওই ৩ বান্ধবী বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তাদের উদ্ধার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় পরিবারের কাউকে কিছু না বলে ৩ ছাত্রী নিজ নিজ বাসা থেকে বের হন। বের হওয়ার সময় সবাই বাসা থেকে কয়েক লাখ টাকা, গহনা, স্কুল সার্টিফিকেট ও মোবাইল ফোন নিয়ে যান।
এ ঘটনায় ওই ৩ ছাত্রীর একজনের মা শুক্রবার (০১ অক্টোবর) পল্লবী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
মহাত্মা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক মানবতার চালিকা শক্তি
মহাত্মা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুজনই ধর্ম-বর্ণ-জাতি-ভাষা-অঞ্চল নির্বিশেষে সকল মানুষের কল্যাণের জন্য বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক মানবতার শত্রু, যারা ধর্মের নামে রাজনীতি করে এবং যাবতীয় অপরাধকে বৈধতা দেয় তারাই দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই মহান নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। হত্যাকারীরা ভেবেছিল ব্যক্তি গান্ধী বা মুজিবকে হত্যা করলে তাদের মানবপ্রেমের দর্শনের আলো নিভে যাবে, সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ ও ধর্মান্ধতা জয়ী হবে। কিন্ত বাস্তবতা হচ্ছে সময়ের পরিক্রমায় এই দুই মহান নেতা মানব সভ্যতার চালিকা শক্তিতে পরিণত হয়েছেন।

শনিবার ‘মহাত্মা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধুর মানবতা ও বিশ্বশান্তির দর্শন’-শীর্ষক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে বিশিষ্টজনরা এসব কথা বলেন। মহাত্মা গান্ধীর ১৫২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এই ওয়েবিনার আয়োজন করে।
নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে বক্তব্য রাখেন মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলনের সভাপতি বিচারপতি এএইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, মানবাধিকার নেত্রী আরমা দত্ত এমপি, ভারতের সাংবাদিক মানস ঘোষ, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, মানবাধিকার নেতা তরুণ কান্তি চৌধুরী, সংগঠনের নরওয়ে শাখার সভাপতি খোরশেদ আহমেদ, ফিনল্যাণ্ড শাখার সভাপতি ড. মুজিবর দফতরি, নোয়াখালী গান্ধী আশ্রমের সম্পাদক মনু গুপ্ত, ভারতের সমাজকর্মী তাপস দাস, সংগঠনের অস্ট্রেলিয়া শাখার সভাপতি ডা. একরাম চৌধুরী, মানিকগঞ্জের আইনজীবী দীপক ঘোষ এবং নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল।
সভাপতির বক্তৃতায় শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘মহাত্মা গান্ধীর শান্তিপূর্ণ অসহযোগ আন্দোলন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং শান্তি ও মানবতার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানের প্রাক্কালে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস অসহযোগ আন্দোলনকে নতুন মাত্রা প্রদান করেছিলেন, যা বাংলাদেশে পাকিস্তানের ২৪ বছরের ঔপনিবেশিক শাসনযন্ত্র সর্ম্পুণ অচল করে দিয়েছিল। দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই মহান নেতা বিশ্বে শান্তি ও মানবতার বার্তা প্রচারে অসামান্য অবদান রেখেছেন।’
মানস ঘোষ বলেন, ‘উপমহাদেশের এই দুই উজ্জ্বল এবং অসামান্য ব্যক্তিত্বের চরিত্র এবং কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল এবং খুব কম বৈষম্য রয়েছে। উভয়েই তাদের জনগণকে গভীরভাবে ভালবাসতেন, যার কারণে তাদের জীবনের সাথে মূল্য দিতে হয়েছিল অত্যন্ত দুঃখজনক পরিস্থিতিতে, যা ইতিহাসে খুব সমান্তরাল। তাদের আদর্শ এবং নীতিগুলি তাদের মানুষের চারপাশে এতটাই সমান এবং আপোষহীন ছিল যে, উভয়ই সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন এবং অবশেষে শিকার হয়েছিলেন প্রতিক্রিয়াশীলদের ষড়যন্ত্রের কাছে।’
বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, সাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতার জন্যই ১৯৪৮ সালে গান্ধীজিকে প্রাণ দিতে হয়েছিল। অন্যদিকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকেও হত্যা করা হয়েছিল তার লালিত আদর্শসমূহের কারণে- যার অন্যতম ছিল অসাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতা। বঙ্গবন্ধু তার জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ এবং কমনওয়েলথ সম্মেলনে দেয়া ভাষণে আন্তর্জাতিক মানবতার দিক তুলে ধরতেন। উভয় নেতাই পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা রোধে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন।
শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, গান্ধী ও সুভাষ চন্দ্র বোসের দেশ স্বাধীন করার দুটি বিপরীতমুখী ধারাকে বঙ্গবন্ধু এক অপুর্ব পন্থায় নিজের মধ্যে একসুত্রে গেঁথে নিয়েছিলেন।
তরুণ কান্তি চৌধুরী বলেন, ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পুর্বে মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহ আন্দোলন অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলনের রূপ ধারণ করেছিল। বঙ্গবন্ধুও অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলন করেছিলেন পাকিস্তানি শাসকের বিরুদ্ধে। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে পাকিস্তানি স্বৈরাচারী শাসককে অচল করে দিয়েছিলেন।
খোরশেদ আহমেদ বলেন, মহাত্মা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষ মানবতার দর্শন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের সংবিধানে পরিস্ম্ফুটিত। ড. মুজিবর দফতরি বলেন, উভয় নেতাই বিশ্বজনীন অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রাণ পুরুষ। রাজনীতিতে তারা পুর্ব-পশ্চিমের আদর্শের সমন্বয় করেছেন।
মনু গুপ্ত বলেন, দুই মানবতাবাদী নেতা একইভাবে একইস্থানে বন্ধুত্বের চিরকালীন নিদর্শন সমন্বিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। আহ্বান জানাচ্ছেন যে- হিংসা, বৈরিতা বা সাম্প্রদায়িকতা নয় বরং হাত বাড়ালেই বন্ধু হয়।
তাপস দাস বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় এই দুই জাতির পিতার মতো জনসমর্থন কেউ লাভ করেনি। কাজী মুকুল বলেন, মহাত্মা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ ও মানবতার দর্শন যদি আমরা তরুণ প্রজন্মের নিকট তুলে ধরতে পারি, তবে এই অঞ্চল মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার কালো থাবা থেকে রক্ষা পাবে।’
মুফতি ইব্রাহীম কারাগারে
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার মুফতি কাজী মো. ইব্রাহীমকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত শনিবার জামিন আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর কাজী ইব্রাহীমের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। শনিবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন ডিবির সাইবার ইউনিটের উপ-পরিদর্শক মো. হাসানুজ্জামান। আসামিপক্ষে আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিন চান। শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
করোনার টিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ফেসবুক ও ইউটিউবে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে বিতর্কিত ধর্মীয় বক্তা কাজী ইব্রাহীমকে ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পরদিন তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা হয়। প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একই থানায় আরেকটি মামলা হয়েছে।
দেশি চ্যানেল দিয়ে গ্রাহক ধরে রাখা সম্ভব নয়, দর্শকরা ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে চলে যাবে: কোয়াব
বিজ্ঞাপনবিহীন বা ক্লিন ফিড বিদেশি চ্যানেল প্রচারের বিপক্ষে না বলে জানিয়েছেন কেব্ল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) নেতারা। তবে কোয়াব নেতারা আশঙ্কা করছেন, শুধু বাংলাদেশি ৩৪টি চ্যানেল দিয়ে কেব্ল অপারেটর সেবা চালু রাখলে গ্রাহক ধরে রাখা সম্ভব হবে না। গ্রাহকেরা তাঁদের নিজেদের স্বার্থে ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে চলে যাবেন। এতে দ্রুত গ্রাহক কমে যাবে। কেব্ল অপারেটর ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। একপর্যায়ে তাঁদের পক্ষে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা দুরূহ হবে।
সরকারি সিদ্ধান্তে ক্লিন ফিড বিদেশি চ্যানেল বন্ধ রাখার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকেলে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে কোয়াব নেতারা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে কোয়াবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম আনোয়ার পারভেজ বলেন, ‘সরকার যে অর্ডার দিয়েছে, আমরা সেটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করছি। তথ্য মন্ত্রণালয় আমাদের অভিভাবক। কেব্ল অপারেটরদের পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রীর কাছে বিনীত আবেদন করছি, ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া কমপ্লিট না হওয়া পর্যন্ত অন্তত যেসব বিদেশি চ্যানেলগুলো বন্ধ আছে, সেই চ্যানেলগুলো যেন আমরা পুনরায় সচল করতে পারি, সে ব্যাপারে যেন তিনি একটা উদ্যোগ গ্রহণ করেন।’
২০০৬ সালের কেব্ল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনটি সংশোধনের দাবি জানান কোয়াবের সভাপতি আনোয়ার পারভেজ। তিনি বলেন, ‘২৫ বছরে তিলে তিলে গড়ে তোলা আমাদের এই কেব্ল ইন্ডাস্ট্রি। এখানে আমাদের চার লাখ মানুষের রুটিরুজির বিষয় জড়িত। ইউটিউবের রমরমা অবস্থা। যেসব বিদেশি চ্যানেল বাংলাদেশে বন্ধ হয়েছে, সেসব চ্যানেল তাদের প্রতিটি সিরিয়াল সঙ্গে সঙ্গে ইউটিউবে আপলোড করে দিচ্ছে। সেখানে কিন্তু বাংলাদেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন ইউটিউবে যাচ্ছে।
এই টাকাটা কিন্তু চলে যাচ্ছে ইউটিউব কোম্পানির কাছে। দেশের বাইরে থেকে অনেকগুলো অ্যাপস চলছে। হইচই, নেটফ্লিক্স, আমাজন, হট স্টার, জি-ফাইভ এরা কিন্তু বাংলাদেশ থেকে গ্রাহক নিচ্ছে। কোনো বৈধ উপায়ে তারা গ্রাহক নিচ্ছে না। এরা কিন্তু গ্রাহকের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে অনেক টাকা নিয়ে যাচ্ছে।’
বিদেশি চ্যানেল বন্ধ থাকলেও গ্রাহক বসে থাকবেন না বলে মন্তব্য করে কোয়াব সভাপতি, ‘মানুষ কিন্তু বসে থাকবে না। সুইচ করবে, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলে যাবে। এই সুইচ করার সুযোগে কেব্ল টিভি নেটওয়ার্কের ব্যবসা যদি রাস্তায় বসে যায়, আমরা যদি এই সেক্টরে জড়িত মানুষকে বেকারত্বের দিকে ঠেলে দিই, তাহলে এর দায়ভার কে নেবেন?’
বিদেশি চ্যানেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রাহক হারিয়ে ব্যবসা বন্ধের উপক্রম হবে বলে মনে করেন কোয়াবের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ বি এম সাইফুল হোসেন। একই সঙ্গে ২০০৬ সালের কেব্ল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনটি যুগোপযোগী করার দাবি জানান সাইফুল হোসেন। কোয়াব নেতা সাইফুল হোসেন মনে করেন, ‘গ্রাহকেরা আছেন বলে আমরা গ্রাহকেরা কেব্ল অপারেটর ব্যবসায় আছি। যাঁরা টেলিভিশন ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাঁরা এই ব্যবসায় টিকে আছেন। ২০০৬ সালের কেব্ল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনটি যখন হয়, তখন কেব্ল টিভির যে প্রেক্ষাপট, বৈশ্বিক টেকনোলজিক্যাল যে প্রেক্ষাপট ছিল, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সেই সময় ইন্টারনেটের অবাধ বিচরণ ছিল না। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ছিল না। ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে চ্যানেল প্রচারিত হতো না। ইউটিউবের এত গ্রাহক ছিল না বা ইন্টারনেটের এত গ্রাহক ছিল না।’
শুধু ৩৪টি বাংলা চ্যানেল দিয়ে গ্রাহক ধরে রাখা সম্ভব নয় মন্তব্য করে এ বি এম সাইফুল হোসেন বলেন, ‘দর্শকের বিনোদন চাহিদা পূরণ করার জন্য কেব্ল টিভি একমাত্র মাধ্যম না। এখন নেটফ্লিক্স, হইচই—এ রকম হাজারো প্ল্যাটফর্ম আছে, যার মাধ্যমে সম্প্রচার মাধ্যমের কনটেন্ট সরাসরি কাস্টমারের কাছে যাবে। ক্লিন ফিড বাস্তবায়ন করা কেব্ল অপারেটরদের পক্ষে সম্ভব নয়। ক্লিন ফিড তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন ব্রডকাস্টার ক্লিন করে সেই ফিডটাকে প্রবাহিত করবেন। সেটা যতক্ষণ পর্যন্ত না হবে, একজন কেব্ল অপারেটর হিসেবে কখনো আমি গ্রাহকের কাছে ক্লিন ফিড কনটেন্ট দিতে পারব না।’
সাইফুল হোসেন মনে করেন, ‘২০০৬ সালে যখন আইনটি হয়, তখন যদি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হতো, তাহলে এখন এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। সবগুলো বিদেশি চ্যানেল বাদ দিয়ে ৩৪টি বাংলা চ্যানেল দিয়ে গ্রাহকেরা আমাদের সঙ্গে থাকবে না। সেই গ্রাহক কোনো না কোনোভাবে বিনোদনের চাহিদা পূরণ করবেন। সেটা হোক ইউটিউবের মাধ্যমে, সেটা হোক ইন্টারনেটের মাধ্যমে কিংবা অন্যান্য পদ্ধতির মাধ্যমে।
যেকোনা মাধ্যমে গ্রাহক তার চাহিদা পূরণ করে নেবে। কেউ নেটফ্লিক্স দেখবে, কেউ জি-ফাইভ দেখবে। কনটেন্ট তার কাছে পৌঁছাবে। কিন্তু কনটেন্টের যে মাধ্যম, যে মাধ্যম দিয়ে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিয়ে আসছিল, সেই মাধ্যমকে যখন আমরা বাধাগ্রস্ত করছি, তখন গ্রাহক অন্য দিকে চলে যাবে। খুব বেশি সময়ও লাগবে না। তার অর্থ এই দাঁড়াবে, একজন কেব্ল অপারেটর তাঁর কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবেন। তাঁর গ্রাহকসংখ্যা হারাবেন। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।’
বিদেশি সম্প্রচার মাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করার তথ্য জানিয়ে কোয়াব নেতা সাইফুল হোসেন বলেন, ‘ক্লিন ফিড আমরা অবশ্যই চাই। আমরা ক্লিন ফিডের বিপক্ষে না। আমরা ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছি, আইন অনুযায়ী আমাদের ক্লিন ফিড সরবরাহ করতে হবে। ক্লিন ফিড অনুষ্ঠান আমাদের কাছে সরবরাহ করা হোক। ডিস্ট্রিবিউটররা সে মোতাবেক ব্রডকাস্টারের সঙ্গে আলোচনা করেছে। আমি নিজেও ব্রডকাস্টারের সঙ্গে আলাপ করেছি।
বাংলাদেশের মার্কেটে ব্যবসার যে আকার, বাংলাদেশ থেকে যে রেভিনিউ (রাজস্ব) তারা পাচ্ছে, সেই প্রেক্ষাপটে ক্লিন ফিড কনটেন্ট সরবরাহ করা তাদের পক্ষে বাস্তবসম্মত নয়। যদি ডিজিটালাইজেশন বাস্তবায়ন হয়, তখন বাজারের আকার ৫০ গুণ বেশি বৃদ্ধি পাবে। তখন তারা ক্লিন ফিড কনটেন্ট দেবে। তখন আমরা তাদের পাল্টা প্রশ্ন করলাম, এটা আমার সরকারের আইন। আমাকে যদি বিজনেস করতে হয়, তাহলে ক্লিন ফিড করে বিজনেস করতে হবে। তখন তারা আমাদের বলেছে, আমাদের সময় দিতে হবে।
সময় এ জন্য দিতে হবে, করোনায় যন্ত্রাংশের স্বল্পতা আছে। ক্লিন ফিড বাস্তবায়ন করতে গেলে ৫০০, সাড়ে ৫০০ কন্ট্রোল রুমের যে বক্স সরবরাহ করা আছে, সেগুলো পরিবর্তন করতে হবে। স্যাটেলাইটের ফিড চেঞ্জ করতে হবে। এগুলো করতে সময় লাগবে। একটা যৌক্তিক সময় নির্ধারণের পর এই পদক্ষেপ নেয়া উচিত। অন্যথায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটি যদি চলমান থাকে, তাহলে হয়তো আমাদের পক্ষে আর ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন কোয়াবের সাবেক মহাসচিব নিজাম উদ্দিন মাসুদ। সংবাদ সম্মেলনে শতাধিক কেব্ল অপারেটর ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন। সূত্র -প্রথম আলো।
রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা: গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডের আবেদন
কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ।
শনিবার বিকালে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম দেলোয়ার হোসেনের আদালতে এই দুই আসামির রিমান্ড আবেদন করা হয় বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উখিয়া থানার এসআই কার্তিক চন্দ্র পাল।
আদালত রোববার জামিন আবেদনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে।
উখিয়া উপজেলার লম্বাশিয়া ক্যাম্পে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি পিস ফর হিউম্যান রাইটস’ অফিসে এই সংগঠনের চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহকে (৪৮) গুলি করে হত্যা করে একদল অস্ত্রধারী।
এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত চার জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে উখিয়া থানা পুলিশ।
উখিয়া থানার এসআই কার্তিক চন্দ্র পাল বলেন, গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে দুইজনকে আদালতে পাঠিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
“এছাড়া শনিবার আরও দু’জনকে উখিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে আর্মড পুলিশ। রোববার ওই দুজনকে আদালতে পাঠানো হবে।”
যে দুই আসামির রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে তারা হলেন কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-ব্লকের বাসিন্দা নুর বশরের ছেলে মো. সলিম (৩৩) এবং মধুরছড়া ৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-১৫ ব্লকের রহিম উল্লাহর ছেলে শওকত উল্লাহ (২৩)।
এদের মধ্যে শওকত উল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে উখিয়া থানা পুলিশ এভং শুক্রবার সলিমকে গ্রেপ্তার করে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন।
এদিকে, শনিবার ভোররাতে ১৪ এপিবিএন সদস্যরা বিভিন্ন ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আব্দুস সালাম (৩২) ও জিয়াউর রহমান (৩০) নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে জানান এসআই কার্তিক।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আব্দুস সালামকে লম্বাশিয়া ১-ইস্ট নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে এবং জিয়াউর রহমানকে কুতুপালং ৮-ইস্ট নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রতারণার অভিযোগে রিং আইডির পরিচালক সাইফুল গ্রেফতার
প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন সামাজিক নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম রিং আইডির পরিচালক সাইফুল ইসলাম। এক গ্রাহকের করা মামলায় শুক্রবার রাজধানীর গুলশান থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এসব তথ্য নিশ্চিত করেন সিআইডির মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করে প্রতারিত হয়ে রাজধানীর ভাটারা থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং আরো ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাত পরিচয়ে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন এক গ্রাহক। সিআইডির সিডিউলভুক্ত হওয়ায় এ মামলাটির তদন্তের কাজ শুরু করে সংস্থাটির সাইবার পুলিশ সেন্টার। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গ্রেফতার হন সাইফুল ইসলাম।তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সিআইডি জানায়, রিং আইডি প্রাথমিকভাবে একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরে তারা এ প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন সার্ভিস যোগ করে মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করেছে। এ সব সার্ভিসের ভেতরে রয়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগ, কমিউনিটি জবসসহ বিভিন্ন সার্ভিস যার আড়ালে এ আমানত সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনা করে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ জনগণ এ খাতে বিনিয়োগ করে। এর আগেও তাদের করোনাকালীন ডোনেশনের মাধ্যমে জনগণের কাছে থেকে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সন্দেহ করা হয়েছিল। বর্তমানে সন্দেহের তালিকায় থাকা বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটের মতো তারাও অস্বাভাবিক ডিসকাউন্টে বিভিন্ন প্রোডাক্ট বিক্রি এবং ক্রেতাদের কাছে থেকে ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনা করছিল।
অহিংসা দিবসে নোয়াখালীর গান্ধী আশ্রমে মহাত্মা গান্ধীকে স্মরণ
গান্ধী আশ্রম, নোয়াখালী ও ভারতীয় হাই কমিশন, ঢাকা যৌথভাবে “আজাদী কা অমৃত মহোৎসব” উদযাপনের অংশ হিসেবে ২ অক্টোবর নোয়াখালীর গান্ধী আশ্রমে ‘অহিংসা, সত্যাগ্রহ এবং মহাত্মা গান্ধীকে স্মরণ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মহাত্মা গান্ধীর ১৫২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়। ২০০৭ সাল থেকে দিনটিকে আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস হিসেবেও পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। সম্মানিত অতিথি ছিলেন, ড. এ.কে. আব্দুল মোমেন ও ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রী বিক্রম দোরাইস্বামী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, এমপি, মিস অ্যারোমা দত্ত, এমপি, জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন আবাসিক সমন্বয়কারী মি. টুয়োমো পুটিআইনেন এবং আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ও ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী। গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

এছাড়াও, গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের ট্রাস্টি অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
পরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ড. এ.কে. আবদুল মোমেন এবং হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী সদ্য সংস্কারকৃত গান্ধী স্মৃতি জাদুঘরও উদ্বোধন করেন। গান্ধী আশ্রম ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে অবস্থিত অনন্য এই জাদুঘর সংস্কারে সহায়তা করেছে ভারত সরকার। বিশিষ্ট অতিথিরা গান্ধী স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন এবং মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিচিহ্ন এবং জাদুঘরের প্রদর্শনীর শিল্পকর্মের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, গান্ধীজীর জীবন এবং তাঁর বাণী আজও প্রাসঙ্গিক। তিনি ২০১৯ সালে মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জাতিসংঘের একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন যে, গান্ধীজীর সাধারণ মানুষের প্রতি ভালবাসা এবং অহিংসার আদর্শ তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়ন ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামের দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে অবদান রেখেছিল। মুজিববর্ষ উদযাপনকালে বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী বাংলাদেশে প্রদর্শিত হওয়ায় হাই কমিশনার আনন্দ প্রকাশ করেন। তিনি ঢাকায় চলমান বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী দেখার জন্য দর্শকদের আমন্ত্রণ জানান।

প্রদর্শনীটি ১১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকায় উন্মুক্ত থাকবে এবং পরে চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা এবং রাজশাহীতে প্রদর্শিত হবে। তিনি বলেন, প্রদর্শনীটি আমাদের দুই দেশের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও উত্তরাধিকারের মতন একটি অনন্য বিষয়কে উপস্থাপন করছে।
অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চণ্ডালিকা অবলম্বনে একটি বিশেষ নৃত্যনাট্য উপস্থাপন করে ঢাকার স্পন্দন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
মিয়ানমারে ফিরতে চাওয়ায় মুহিবুল্লাহকে হত্যা : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের প্রথম সারির নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, মুহিবুল্লাহ নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত যেতে চেয়েছিলেন, সে কারণে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাকে হত্যা করেছে।
শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিক্রিয়ায় এমন মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মুহিবুল্লাহ নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত যেতে চেয়েছিলেন, সে কারণে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাকে হত্যা করেছে। এ হত্যাকাণ্ডে যে বা যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার।
মুহিবুল্লাহ হত্যাকারীদের অবশ্যই বিচারের সম্মুখীন করা হবে উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকারীদের অবশ্যই বিচারের সম্মুখীন করা হবে। এ ব্যাপারের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে নিহত মুহিবুল্লাহর ভাই হাবিবউল্লাহ বাদী হয়ে উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের শীর্ষ ৫ নেতার একজন মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলায় শুক্রবার দুপুরে মোহাম্মদ সেলিম উল্লাহ ওরফে লম্বা সেলিম নামে এক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা। একই দিন রাতে আরও দুই জন রোহিঙ্গাকে আটক করে এপিবিএন।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে আসে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা। বাস্তুচ্যুত অন্য রোহিঙ্গাদের সঙ্গে এ দেশে এসেছিলেন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহও। ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে আলোচনায় এসেছিলেন মুহিবুল্লাহ।
২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ায় লাম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একদল দুর্বৃত্ত মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করে। মুহিবুল্লাহ আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান ছিলেন। এই সংগঠনের হয়ে তিনি রোহিঙ্গাদের অধিকারের কথা তুলে ধরতেন। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের চেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন তিনি।
নয় মাসে দেশে ১৫৫ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, নিহত একজন
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহতসহ ১৫৫ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হামলা-মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এসব সাংবাদিকদের বেশিরভাগই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও দুবৃত্তদের দ্বারা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো আসক এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

এ বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে মানবাধিকারের লঙ্ঘনজনিত ঘটনা পর্যালোচনায় করে এ প্রতিবেদন তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি।
১০টি জাতীয় দৈনিক ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ এবং আসক এর নিজস্ব সূত্র থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়।।
প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু, কথিত ক্রসফায়ার, গুলিবিনিময় বা বন্দুকযুদ্ধের মাধ্যমে প্রাণহানি, নারী শিশু নির্যাতন, সীমান্ত সংঘাত, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং ১৫৪ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হামলা-মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
নির্যাতিত সাংবাদিকদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আট জন, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মীদের দ্বারা ১৪ জন, স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৩ জন এবং হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালের সময় ১৩ জন সাংবাদিক আহত হন।
এ ছাড়া ১০৬ জন সাংবাদিক ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও সন্ত্রাসীদের দ্বারা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
প্রতিবদেন বলা হয়, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে এবং কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ মোট ৪৮ জন মারা গেছেন।
এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে কথিত ‘ক্রসফায়ার’, বন্দুকযুদ্ধ, গুলিবিনিময় বা ‘এনকাউন্টারে’ নিহত হয়েছেন ৩৪ জন, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ‘গুলিতে’ ৯ জন ও ‘নির্যাতনে’ চার জন মারা গেছেন। এ ছাড়া গ্রেফতারের পরে হার্ট অ্যাটাকে (পুলিশের ভাষ্যমতে) এক জনের মৃত্যু হয়।
এছাড়াও এ সময়ের মধ্যে কারাগারে অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে মারা যান ৬৭ জন। এর মধ্যে কয়েদি ২৫ জন এবং হাজতি ৪২ জন। গত নয় মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ বা গুমের শিকার হন ছয় জন। এর মধ্যে পরবর্তী সময়ে তিন জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও তিনজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ নয় মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১০৮৫ জন নারী, যার মধ্যে একক ধর্ষণের শিকার হন ৮৭৯ জন এবং দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ২০৩ জন নারী।
ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হন ৩৯ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন আটজন নারী। এছাড়া ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ২৫৬টি বলে এতে উল্লে করা হয়। গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে মোট ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন ৯৭৫ নারী।
এই নয় মাসে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১০১ জন নারী, এর মধ্যে ১০ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন এবং হত্যার শিকার হয়েছেন তিনজন। এ ছাড়া যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৭১ জন পুরুষ, যার মধ্যে ৪ জন খুন হয়েছেন।
এ সময়কালে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৫২৭ নারী। এদের মধ্যে স্বামী, স্বামীর পরিবার এবং নিজ পরিবার কর্তৃক হত্যার শিকার হন ৩০৩ নারী এবং পারিবারিক নির্যাতনের ফলে আত্মহত্যা করেছেন ১১৮ নারী।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছেন মোট ১৮২ নারী। যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে ৬০ জনকে এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ১২ জন নারী। এর মধ্যে যৌতুকের কারণে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৯৮ জন।
এ সময়ের মধ্যে ৩৮ জন গৃহকর্মী নির্যাতন ও হত্যার শিকার হন। যাদের মধ্যে হত্যার শিকার হয়েছেন ১২ জন এবং ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২৬ গৃহকর্মী ।
শিশুর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, গত নয় মাসে হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১ হাজার ৬৩৬ শিশু। এর মধ্যে হত্যার শিকার হয় ৪৭১ জন এবং শারীরিক ও যৌন নির্যাতনসহ নানাভাবে সহিংসতার শিকার হয় ১১৬৫ শিশু। এই ১১৬৫ জনের মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয় ৬৪৮ কন্যাশিশু এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৬৪ জন ছেলে শিশু।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময়ের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১০২টি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিমা, মন্দির ও পারিবারিক পূজামন্ডপে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে ৭৮টি। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭ জন। জমি ও বাড়িঘর দখল এবং উচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে সাতটি। এছাড়া বৌদ্ধসম্প্রদায়ের পরিবার ও বাড়িঘরে হামলা হয়েছে একটি।
এই সময়কালে ভারত সীমান্তে মোট নিহত হয়েছেন ১১ জন। এর মধ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এর গুলিতে ৯ জন, শারিরীক নির্যাতনে একজন এবং বিএসএফ এর ধাওয়া খেয়ে পানিতে ডুবে একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ছয় জন এবং অপহরণের শিকার হয়েছেন তিন জন।
এছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়, গত নয় মাসে প্রধান প্রধান জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা গেছে, রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে মোট ৩২১টি। এতে নিহত হয়েছেন ৬৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৪ হাজার ৪০৫ জন। এর মধ্যে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতা ও সংঘর্ষের ১৬৭টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ৯৪২ জন এবং নিহত হন ৩০ জন। বিডি নিউজ।











