৮ বছর আগে মতিঝিলের শাপলা চত্বর অবরোধ করে রাখা হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের সরানোর অভিযানে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে, বেসরকারি সংস্থা অধিকারের সম্পাদক এডভোকেট আদিলুর রহমান খান শুভ্রর বিরুদ্ধে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে ডিবির তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (বর্তমানে সিআইডির পরিদর্শক) আশরাফুল ইসলাম সাক্ষ্য দেন। যিনি এই মামলার বাদী।
তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় আদিলুর ছাড়াও আসামি করা হয়েছে সংগঠনটির পরিচালক এএসএম নাসির উদ্দিন এলানকে। দুজনই জামিনে রয়েছেন।
২০১৩ সালে ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশ ভণ্ডুলের যৌথ অভিযানে ৬১ জন নিহত হওয়ার দাবি করেছিল আদিলুরের সংগঠন অধিকার।
মঙ্গলবার পুলিশ কর্মকর্তা আশরাফুল আদালতে বলেন, হেফাজতে ইসলামের ওই সমাবেশে পুলিশের ওপর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ২০১৩ সালের ৫ মে সকালে পুলিশসহ ১১ জন মারা যান। অথচ অধিকারের ওয়েবসাইটে একই বছরের ১০ জুন ৬১ জনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বিভিন্ন সময়ে নাশকতার পুরনো কিছু ছবিও যুক্ত করা হয়। ওই প্রতিবেদনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে উসকানি ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে- ২০০৬ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭(১)(২) ধারার অপরাধের উপাদান পাওয়া যায়।
সাক্ষ্যগ্রহণের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ রুহুল আমিন ভুঁইয়া তাকে (আশরাফুল) জেরা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম শামীম।
বিভ্রান্তিকর তথ্য ; আদিলুর রহমান শুভ্রর বিরুদ্ধে মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু
কনক সরওয়ারের বোন গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা একুশে টিভির সাবেক সংবাদকর্মী কনক সরওয়ারের বোনকে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার অভিযোগে ঢাকায় গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
নুসরাত শাহরিন রাকাকে (৩৮) সোমবার রাতে উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে র্যাব এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
একুশে টিভির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার তদন্তে ২০১৫ সালে কনক সারওয়ারকেও গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তখন তিনি একুশে টিভি থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন।
পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান কনক। সেখানে তিনি ফেইসবুকে ও ইউটিউব চ্যানেল খুলে ‘রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায়’ লিপ্ত বলে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের অভিযোগ।
রাকাকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়ে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কনক সরওয়ারকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যায়িত করা হয়।
রাকার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বলা হয়, বিদেশে অবস্থানকারী একটি ‘চক্র’ দেশে থাকা ‘এজেন্টদের যোগসাজশে’ ভার্চুয়ালি ‘রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার’ চালাচ্ছে বলে র্যাবের গোয়েন্দা নজরে আসার পর তাদের ধরতে সক্রিয় হয় তারা।
এর ধারাবাহিকতায় রাকাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “তিনি রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারকারী ও ষড়যন্ত্রকারী চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কে মিথ্যাচার, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছাড়াও বিভিন্ন উসকানিমূলক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন।”
রাকা যে কনক সরওয়ারের বোন, তা তাকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে র্যাব জানতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
রাকাকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছে ‘আইস’ মাদক পাওয়ার কথাও জানিয়েছে র্যাব।
তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
র্যাব জানায়, ফেনীর বাসিন্দা রাকার স্বামী মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী। বিডি নিউজ।
রাজারবাগ পীরের সব আস্তানা বন্ধ এবং ‘আল বাইয়্যিনাত ও আল ইহসান’ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট
সাধারণ মানুষকে যাতে ধর্মের নামে ধোকা দিতে না পারে এবং নিরীহ মানুষের অর্থ-সম্পদ যাতে হয়রানিমূলকভাবে মিথ্যা মামলা করে হাতিয়ে নিতে না পারে সে জন্য রাজারবাগের কথিত পীর দিল্লুর রহমানের মূল আস্তানাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শাখা কার্যালয় বন্ধ করতে বলেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কথিত পীরের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কালো তালিকাভুক্ত জঙ্গি সংগঠন ‘উলামা আঞ্জুমান আল বাইয়্যিনাত’ এবং তাদের প্রচারিত সংবাদপত্র ‘আল বাইয়্যিনাত ও আল ইহসান’ নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। গতকাল সোমবার আদেশের লিখিত অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। মঙ্গলবার রিটকারি আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান। লিখিত আদেশে বলা হয়, কথিত পীর ও তার দরবার শরীফের নামে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় সাত হাজার একর জমি ও রাবার বাগান রয়েছে। যা তারা অবৈধভাবে দখল করে রয়েছেন।
এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর আদেশ দেন হাইকোর্ট। ওই সময় রাজারবাগ দরবার শরিফ এবং পীর দিল্লুর রহমানের সম্পদ ও দায় বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্ত করতে নির্দেশ দেন আদালত। পাশাপাশি পীর ও তাঁর সহযোগীরা দেশের ছয় জেলায় পৃথক মামলা দিয়ে রিট আবেদনকারীদের হয়রানি করছেন বলে যে অভিযোগ রয়েছে, তা তদন্ত করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেয়া হয়। তদন্ত করে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয় সিআইডিকে। সাত বছর বয়সী শিশু, দুজন নারী, একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মাদ্রাসার শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ আট ব্যক্তির করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ওই আদেশ দেন।
রাজারবাগ দরবারের জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অভিমতের ভিত্তিতে পীর ও তাঁর অনুসারীদের জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকে তদন্ত করতে বলা হয়। সিটিটিসিকেও আদালতে প্রতিবেদন দিতেও নির্দেশ দেন।
রাজারবাগ দরবার শরিফের পীর ও তাঁর ১১ সহযোগী দেশের ৬টি জেলায় পৃথক ৩৪টি মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন অভিযোগ করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা চেয়ে ওই ৮ ব্যক্তি গত ১৬ সেপ্টেম্বর রিট আবেদন করেন। এ ছাড়া রিট আবেদনকারীদের অযথা হয়রানি না করতেও নির্দেশ দেয়া হয়।
এর আগে ৪৯ মামলার চক্করে পড়ে একরামুল আহসান নামের ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। তার প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ওই সব মামলা দায়ের ও এর পেছনে কারা আছেন, তা খুঁজে বের করতে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা পড়ে। তদন্ত প্রতিবেদনে একরামুলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় করা মামলার পেছনে রাজারবাগ দরবার শরিফের পীর দিল্লুর রহমান ও তাঁর অনুসারীদের সম্পৃক্ততার তথ্য এসেছে।
আট ব্যক্তির আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ওই সময় সাংবাদিকদের জানান, দেশের ৬টি জেলায় ৮ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় বাদীর নাম থাকলেও পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। একরামুলের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর অনেক বাদী ও সাক্ষীর সঙ্গে রিট আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার বাদী ও সাক্ষীর নামের মিল পাওয়া যায়। তাই রাজারবাগের পীর ও তাঁর ১১ সহযোগীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়।
বিচারপতি এস কে সিনহার রায় পেছাল,বিচারক ছুটিতে
বিচারক ছুটিতে থাকায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) ঋণের টাকা আত্মসাতের মামলার রায় পিছিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলমের এই রায় ঘোষণার কথা ছিল। তিনি না থাকায় এ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আলী হোসেন রায় পিছিয়ে ২১ অক্টোবর নতুন দিন ধার্য করেছেন।
এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বিচারক রায় ঘোষণার জন্য ৫ অক্টোবর তারিখ রেখেছিলেন।
আসামিদের পক্ষে যুকিতর্ক শুনানি করেন আইনজীবী বোরহান উদ্দিন, শাহীনুর ইসলাম অনিসহ কয়েকজন। তারা বিচারের মুখোমুখি হওয়া সাত আসামির খালাস চান।
আর রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার আবেদন করেন।
দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের যেসব ধারায় এ মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, তাতে অপরাধ প্রমাণিত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন শাস্তি হতে পারে।
মৃত্যুদণ্ডের কোনো ধারা না থাকায় এস কে সিনহাসহ পলাতক আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবীকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিয়োগ দেয়া হয়নি।
এর আগে গত ২৯ অগাস্ট আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন বিচারের মুখোমুখি হওয়া সাত আসামি। তারা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
এই সাতজন হলেন- ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী), ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, টাঙ্গাইলের মো. শাহজাহান ও একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা। তাদের মধ্যে বাবুল চিশতী কারাগারে আছেন, বাকিরা জামিনে।
সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা, ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়কে পলাতক দেখিয়ে এ মামলার বিচার চলে।
গতবছর ১৩ অগাস্ট এই ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম।
পাঁচ বছরের বেশি পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকতে পারবেন না, আইনে বড় পরিবর্তন আসছে
পৌরসভা পরিচালনায় বেশ কয়েকটি পরিবর্তন এনে আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিপরিষদ।
সোমবার মন্ত্রিপরিষদের সভায় স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) আইন, ২০২১ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।
মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে অনুমোদনের তথ্য জানান।
দেশে সর্বশেষ পৌরসভা আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছিল ২০০৯ সালে।
আইনে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে:
এতোদিন পৌর মেয়রদের মেয়াদ শেষ হলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করে যেতেন। কিন্তু সংশোধিত আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হলেই তাদের দায়িত্ব ছাড়তে হবে।
নির্বাচিত মেয়র দায়িত্ব ছাড়ার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত প্রশাসক পৌরসভার দায়িত্ব পালন করবেন। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কোন অফিসার বা সরকার নির্ধারিত কোন ব্যক্তি হতে পারেন।
প্রশাসক ছয়মাসের জন্য নিয়োগ পাবেন। এর মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বিধান থাকলেও পৌরসভার ক্ষেত্রে এসব বিধান ছিল না। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে সেই বিধান যুক্ত করা হল।
সংশোধিত আইন অনুযায়ী, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া এক বছরের বেশি সময় ধরে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বকেয়া রাখা হলে সেই পৌরসভা বাতিল করা হবে।
এতদিন পৌরসভা হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে দেড় হাজার মানুষের বসবাসের বাধ্যবাধকতা ছিল। সংশোধিত খসড়ায় সেটা দুই হাজার করা হয়েছে। এছাড়া পৌরসভার সচিব পদের নাম পরিবর্তন করে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা করা হচ্ছে।
কোন ইউনিয়ন পরিষদকে যদি পৌরসভায় রূপান্তরিত করা হয়, সেখানে যদি কোন সরকারি কর্মকর্তা থাকেন, তার দায়িত্ব যদি পৌরসভার অর্গানোগ্রামে উপযুক্ত হয়, তাহলে তিনি সেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযুক্ত হয়ে যাবেন।
কেন এসব পরিবর্তন:
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ”এর আগে আইনে ছিল, পরবর্তী পৌরসভা নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ওই কমিটি বা ওই চেয়ারম্যান দায়িত্বে থাকবেন। এর ফলে দেখা গেছে, অনেক জায়গাতে পাঁচ বছর পরে বিভিন্ন ইস্যুতে চেয়ারম্যান সাহেবরা বা বিভিন্ন লোক মামলা মোকদ্দমা করে ১৫ বছর, ১৬ বছর, ১২ বছর ধরে চেয়ারম্যান থেকে যাচ্ছেন। যেহেতু আইনে কিছু পরিষ্কার ছিল না, সেজন্য কিছু করা যাচ্ছিল না।”
এটা নিয়ে এর আগেও মন্ত্রিসভাতে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মন্ত্রিসভার অনুমোদিত এই আইনটি সংসদে পাস হওয়ার পর এখনো মেয়াদ উত্তীর্ণ পৌরসভা যারা দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের অপসারণে আর বাধা থাকবে না।
বিশেষ খাতকে অত্যাবশ্যক ঘোষণার বিধান:
অত্যাবশ্যক পরিষেবা আইন ২০২১ নামের আরেকটি আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
এসেনশিয়াল সার্ভিসেস অ্যাক্ট ১৯৫২ এবং এসেনশিয়াল সার্ভিসেস সেকেন্ড অর্ডিন্যান্স ১৯৫৮ মিলিয়ে নতুন আইনটি করা হয়েছে।
এই আইনটি সংসদে পাস হলে সরকার বিশেষ পরিস্থিতিতে ঘোষণা করতে পারবে যে, এই এই খাত অত্যাবশ্যকীয় বিভাগ, এখানে ধর্মঘট করা যাবে না। মালিকরা লে অফও করতে পারবেন না। যদি কেউ করেন, তাহলে তাদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
অত্যাবশ্যক বলতে, ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, ইন্টারনেট, ডিজিটাল সেবা, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবাহের কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান, রেলওয়ে, জল, স্থল বা আকাশপথে যাত্রী পরিবহন, বিমানবন্দর, স্থল বন্দর, নদী বন্দর পরিচালনা, কাস্টমসের মাধ্যমে পণ্য ছাড় করণ, প্রতিরক্ষা বা সশস্ত্র বাহিনীর কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত কার্যক্রম, খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহের সাথে সম্পৃক্ত কার্যক্রম ইত্যাদি বোঝাবে।
সরকার ছয়মাসের জন্য এসব খাতকে অত্যাবশ্যকীয় বলে ঘোষণা করতে পারবে। তখন সেখানে ধর্মঘট, লেঅফ বা কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না।
কেউ সেটি লঙ্ঘন করলে কারাদণ্ড বা জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার বা ৫০ হাজার অথবা ৬ মাসের কারাদণ্ড হবে। মালিকদের ক্ষেত্রে এক লক্ষ টাকা জরিমানা বা এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।বিবিসি বাংলা।
ইসি গঠনে সার্চ কমিটি ‘ধোঁকা’ দেয়ার প্রক্রিয়া; তত্বাবধায়ক সরকারের দাবি সুজনের আলোচনায়
নির্বাচন কমিশন গঠনে ‘সার্চ কমিটি’ একটি ধোঁকা দেয়ার প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে অযোগ্যদের নির্বাচন কমিশনার হিসেবে খুঁজে বের করা হয়। যার ফলে গত দুটি নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি আইন দরকার। কিন্তু শুধু একটি ভালো নির্বাচন কমিশন হলেই সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। এ জন্য নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থায় পরিবর্তন প্রয়োজন।, সেটি হতে পারে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, জাতীয় সরকার বা অন্য কিছু।
সোমবার ‘নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেছেন। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ওই অনলাইন গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে। তাতে সুজনের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন নিয়োগে প্রস্তাবিত আইনের প্রাথমিক একটি খসড়া তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত নিয়ে একটি চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করা হবে। এরপর সেটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে সুজন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম বলেন, সংবিধানের প্রতি সম্মান রেখেই কাজ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন করার ক্ষেত্রে সংবিধানের মধ্যে থেকে কী কী করা যায়, সেটি ভাবতে হবে।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সংবিধান বদলানো যাবে না, এমনটা নয়। প্রয়োজনে সংবিধান সব সময় বদলানো যায়। তিনি মনে করেন, নির্বাচনকালীন সময়ে তিন মাসের জন্য আসা একটি সরকার তেমন কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না। এ জন্য দরকার একটি জাতীয় সরকার।
সুজনের সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, দেশের নির্বাচনব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না। পরপর দুটি সার্চ কমিটির পারফরম্যান্স মানুষ দেখেছে, এ দুটি কমিটির অর্জন সন্তুষ্ট হওয়ার মতো নয়। বর্তমান কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয় না। ভোটাররা ভোট দিতে চান না, কারণ তাঁরা মনে করেন, ভোট দিয়ে লাভ নেই। নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি আইন করার জন্য জোরেশোরে আন্দোলন করা প্রয়োজন।
সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সংবিধান মানতে হলে নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি আইন করতে হবে। তবে এ আইনই যথেষ্ট নয়। এই আইন অবশ্যই হতে হবে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে জনগণের স্বার্থে। তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় সার্চ কমিটি হয়, তা দলনিরপেক্ষ মানুষ দিয়ে হয় না। কমিটি অযোগ্যদের খুঁজে বের করে, যার ফলে সর্বশেষ দুটি নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, সার্চ কমিটির নামে ধোঁকা দেয়ার একটি প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। এই কমিটি করার এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির নেই। সরকারের ইচ্ছায় এটি করা হচ্ছে, কারা এর সদস্য হবেন, সেটাও সরকারের ইচ্ছাতেই নির্ধারিত হয়। এই কমিটির মাধ্যমে গঠন করা দুটা নির্বাচন কমিশন নিয়ে অভিজ্ঞতা ভালো নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ইসি গঠনে আইন দরকার। কিন্তু বাস্তবতাটাও মাথায় রাখতে হবে। তিনি প্রশ্ন রাখেন বর্তমান সরকার এবং পুলিশ প্রশাসন একই থাকলে সাখাওয়াত হোসেন, বদিউল আলম মজুমদার দিয়েও যদি কমিশন করা হয়, সেই কমিশনও কি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে? একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলো, কিন্তু তারা কাজ করতে পারল না, তাহলে লাভ কি? নির্বাচনের সময় পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল করতে হবে। বিদ্যমান কাঠামোতে কি সেটি সম্ভব? তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। সেটি হতে পারে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, জাতীয় সরকার বা অন্য কিছু।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তাঁরা যখন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে ছিলেন, ২০১১ সালে নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইনের একটি খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে এটি নিয়ে আর কোনো আলোচনা হয়নি। বড় কোনো দলকে এই আইন প্রণয়ন নিয়ে আলোচনা করতেও দেখা যায় না। বর্তমান কমিশনের মেয়াদ আছে আর চার মাস। সময় খুব বেশি নেই। অবশ্য আইন তৈরি করতে চাইলে এই সময়ের মধ্যে তা সম্ভব।
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থায় ঝাঁকুনি দিতে না পারলে কোনো কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না। এককেন্দ্রিক সরকার যেভাবে চায় সেভাবে নির্বাচন হবে। নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা দরকার। না হলে অতীতে যেভাবে নির্বাচন হয়েছে, সামনেও সেটাই হবে। তিনি বলেন, অতীতের সার্চ কমিটিতে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা যোগ্য ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে সরকার যাদের চায়, সার্চ কমিটির সুপারিশে তাদের নামই আসে।
সাবেক বিচারপতি আবদুল মতিন বলেন, সার্চ কমিটি বিতর্কিত হয়েছে। কমিটিতে যে নামগুলো আসে এর বাইরে যাওয়া যায় না।
অন্যদের মধ্যে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত, কমিউনিস্ট পার্টির নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, ব্রতীর নির্বাহী পরিচালক শারমিন মুরশিদ প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।
মাদক মামলায় পরীমনিকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট সিআইডির
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার আলোচিত নায়িকা পরীমনিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের জিআর শাখায় এ চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক কাজী গোলাম মোস্তফা।
চার্জশিটে পরীমনি ছাড়াও আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন-পরীমনির ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম দিপু ও কবীর হাওলাদার। আসামি কবির হাওলাদার পরীমনির বড় খালু বলে জানা গেছে। তারা সবাই জামিনে রয়েছেন।
চার্জশিটের বিষয়ে পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী বলেন, ‘শুনেছি চার্জশিট দাখিল হয়েছে। এখনও চার্জশিট দেখতে পারিনি। আগামীকাল চার্জশিট আদালতে উপস্থাপন হবে বলে জানতে পেরেছি। যেহেতু চার্জশিট হাতে পাইনি। তাই এখন এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।’
গত ৪ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে আটক করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। অভিযানে তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মদ জব্দ করা হয়। পরে রাজধানীর বনানী থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে পরীমনিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ওই মামলায় গত ৫ আগস্ট পরীমনির চার দিনের ও গত ১০ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তৃতীয়দফা রিমান্ড আবেদনে গত ১৯ আগস্ট পরীমনির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত এক দিনের রিমান্ড আদেশ দেন। ওই রিমান্ড শেষে গত ২১ আগস্ট পরীমনিকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর গত ৩১ আগস্ট তিন দফায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ পরীমনিকে ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত জামিন দেন। পরদিন গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় নারী কারাগার থেকে মুক্ত হন তিনি।
এরপর মামলার প্রক্রিয়া আদালতে হাজির হয়ে শুনানিতে অংশ নেন এই নায়িকা। তদন্ত কর্মকর্তার সুপারিশের ভিত্তিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর পরীমনির হ্যারিয়ার গাড়ি, আইফোন, ল্যাপটপসহ জব্দ ১৬টি আলামত ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
মামলা সূত্রে জানা যায়, পরীমনি ২০১৬ সাল থেকে মাদকসেবন করতেন। এমনকি এলএসডি ও আইসও সেবন করতেন। এজন্য বাসায় একটি ‘মিনিবার’ তৈরি করেন। সেখানে নিয়মিত ‘মদের পার্টি’ করতেন। চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজসহ আরও অনেকে তার বাসায় অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের সরবরাহ করতেন ও পার্টিতে অংশ নিতেন। গত জুনে সাভারের ব্লোট ক্লাবে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ তুলে আলোচনায় আসেন পরীমনি।
জিয়া’র শাসনামলে সশস্ত্রবাহিনীর অসংখ্য কর্মকর্তা হত্যার বিচার হওয়া উচিত : জনমত সৃষ্টির আহবান প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সামরিক ক্যু’র অজুহাতে সশস্ত্রবাহিনীর অসংখ্য কর্মকর্তা হত্যার বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত উল্লেখ করে এজন্য জনমত সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়টা নিয়ে যখন দাবি উঠেছে তখন এটা নিয়ে নিশ্চই ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। এরজন্য ভাল জনমতও সৃষ্টি হওয়া দরকার। কিভাবে মানুষগুলোকে সে (জিয়াউর রহমান) হত্যা করে গেল।’
প্রধানমন্ত্রী সোমবার বিকেলে গণভবনে তাঁর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগদান এবং যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ’৭৫ এর পর এই বাংলাদেশে বার বার ক্যু হয়েছে এবং এই ক্যু’র নামে শুধু এয়ারফোর্সের অফিসার, সৈনিক বা কর্মচারিই নয় সেনাবাহিনীরও বহুজনকে হত্য করা হয়েছে।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যদি জেলখানাগুলো খোঁজ করেন যে, কোন জেলে কতজনকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। তাহলে দেখবেন এরকম হাজার হাজার মানুষকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। তাদের পরিবারগুলো লাশতো পায়ই নি, এরা যে গুম হয়ে গেল বা হারিয়ে গেল সেজন্য কারো কোন জবাবদিহি কখনও হয়নি।
একজন ভুক্তভোগীর কথা তুলে ধরে একজন সাংবাদিক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন রেখেছিলেন, সেসব হত্যাকাণ্ড নিয়ে কোনো কমিশন গঠনের উদ্যোগ সরকার নেবে কি না।

উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, “৭৭ সালে তখন ক্যুর নামে, বিশেষ করে বিমানবাহিনীর ৫৬২ জন অফিসারসহ বহু লোক সে সময় মারা গেছে, হত্যা করা হয়েছে। এর মাঝে আরও কয়েকটি ক্যু হয়, সেটা নিয়ে প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি বিমান ও সামরিক বাহিনীর অফিসারকে মারা হয়।
“তো আমরা দেখি, বিষয়টা নিয়ে যেহেতু দাবি উঠছে, আমাদের নিশ্চয় এটা নিয়ে একটা ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। এজন্য ভালো জনমতও সৃষ্টি হওয়া উচিত।”
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে একদল সেনা সদস্য। এরপর ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসা জিয়া সেনাপ্রধান হওয়ার পর ১৯৭৬ সালে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ক্ষমতা দখল করেন। তার পরের বছর তিনি রাষ্ট্রপতির পদও নেন।
জিয়া ক্ষমতা দখলের পর সামরিক বাহিনীতে অনেকগুলো বিদ্রোহ-অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়, যাতে জড়িতদের সামরিক আদালতে বিচার করে মৃত্যুদণ্ডসহ নানা সাজা দেয়া হয়।
১৯৭৬ সালে এই রকম এক বিচারে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কর্নেল আবু তাহেরের বিচার অবৈধ বলে রায় এসেছে উচ্চ আদালত থেকে।
জিয়ার আমলের ওইসব হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কিংবা তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে স্বজনহারাদের পরিবার।
জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদান-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিশন নিয়ে প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, “সেই সময়ে, পঁচাত্তরের পর এই বাংলাদেশে বারবার ক্যু হয়েছে। এবং এই ক্যুর নামে শুধু এয়ারফোর্সের অফিসার বা সৈনিক-কর্মচারীই না, সেনাবাহিনীরও বহুজনকে হত্যা করা হয়েছে।
“এবং আপনারা যদি বিভিন্ন জেলখানাগুলিতে খোঁজ করেন যে, কোন জেলে কতজনকে এভাবে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। তাহলে দেখবেন এই রকম হাজার হাজার মানুষকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যাদেরকে ওই সময়ে হত্যা করা হয়েছে, গুম করে ফেলায় তাদের পরিবারের সদস্যরা লাশও পায়নি। তারা যে এভাবে ‘হারিয়ে গেল’ তারও কোনো জবাবদিহি হয়নি।
“এটা একটা আশার কথা যে, আজকে এত বছর পর সবার এই চেতনাটা এসছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন এতকাল সবাই কেন এটা ধরে ছিল?”
জিয়াউর রহমান তার ক্ষমতাকে ‘নিষ্কন্টক’ করার জন্য এসব ঘটিয়েছিলেন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “এটাতো জানা কথা। এবং একের পর এক শুধু সেনাবাহিনীতেতো না, আমাদের আওয়ামী লীগসহ বহু নেতাকর্মীকেওতো হত্যা করেছে, গুম করে দিয়েছে।
“মনে হয় যেন তাকে এমন একটা ফেরেশতার মত বানিয়ে দেয়া হল, শেষকালে স্বাধীনতার ঘোষকও বানিয়ে ফেলা হল। সেটা নিয়ে তেমন কেন কেউ কথা বলেনি, এটা আমার বড় প্রশ্ন।”
বিএনপিও যে ক্ষমতায় আসার পর জিয়াউর রহমান হত্যার বিচার করেনি, সে কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মিউটিনির বিচার করে ১১ জন সামরিক অফিসারকে যে ফাঁসি দিল, সেটাও কিন্তু খুব অন্যায়ভাবে; কারণ এখানে অনেকে জানতই না, কিন্তু রাতারাতি একটা ক্যামেরা ট্রায়াল করেই তাদের ফাঁসি দিয়ে দিল।
“আমরা কিন্তু তখন তার প্রতিবাদ করেছিলাম, যে না এটা তদন্ত হওয়া দরকার। এই মিউটিনিটা কেন হল, কারা করল, কারা জড়িত, তারপর কাদের ফাঁসি দিচ্ছি- তা কিন্তু করেনি।”

ঢাকা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ড্রিমলাইনার নিয়ে জাতিসংঘ অধিবেশন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার যে সমালোচনা বিএনপিসহ বিভিন্ন মহল করছে, তার জবাবও এক প্রশ্নে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্য যে, করোনার কারণে অনেক জায়গায় যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। বিমানগুলিকে প্রতিনিয়ত বসে থাকতে হয়, আর মেনটেইন্যান্সেরও একটা খরচা আছে। পড়ে থাকলেও কিন্তু ইঞ্জিন চালু রাখা, এটাকে ফ্লাই করানো এর পেছনে কিন্তু একটা খরচ হয়।
“আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যেহেতু যাবই, তখন অন্য এয়ারলাইন্সকে টাকা দিয়ে লাভ কি? নিজেদেরটাই নিয়ে যাই। সেটার সাথে সাথে এটা বোয়িং, অ্যামেরিকান বিমান, জেএফকেতে নামবে সেটাও আমাদের জন্য একটা আনন্দের বিষয়। এর মধ্যে ফুয়েল নেয়ার জন্য আমরা ফিনল্যান্ডে অবতরণ করি।”
ঢাকা-নিউ ইয়র্ক রুটে বিমানের ফ্লাইট চালানোর যে স্লট ছিল, সেটা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানান সরকারপ্রধান।
তিনি বলেন, “আমরা যখন নতুন বিমানগুলো কিনলাম, সেটার সাথে সাথে আমাদের একটা প্রচেষ্টা ছিল ওই স্লটটাকে ধরে রাখা।
“এয়ারক্রাফটগুলো চলতে গেলে অনেক নিয়মকানুন মানতে হয়। সেটাকে সামনে রেখে আমরা নতুন আইনও করেছি, তাছাড়া আমাদের আলোচনাও চলছে।”
টরন্টো, নিউ ইয়র্কসহ আরও কয়েকটি রুটে বিমানের ফ্লাইট চালানোর জন্য সরকার চেষ্টা করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই বিমানটা বাংলাদেশ থেকে, ঢাকা থেকে সরাসরি ১৪ ঘণ্টায় নিউ ইয়র্ক পৌঁছাতে পারে। এর পরিচালন ক্ষমতা প্রায় ১৭ ঘণ্টার মত।
“আমরা যখন নিয়ে আসি, সিয়াটল থেকে একটানে চলে আসে। সেজন্য আমাদের একটা চেষ্টা আছে, বিমানটা এভাবে চালু করব।”
সমালোচকদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, “এখন অনেকে অনেক কথা বলে, বলতে পারে, যেটা বলবে, সেটা তার মুখেই থাকবে। তো যখন যেটা বলে, পরবর্তীতে জিজ্ঞেস করতে পারেন তাদেরকে, আমাদের জিজ্ঞেস করেতো লাভ নেই।
“আমার চেষ্টা আমার দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরা। দেশের মানুষের কল্যাণ করা, দেশটাকে উন্নত করা এবং একটা আন্তর্জাতিক মর্যাদায় যেন আমার দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান চলতে পারে, সেই জায়গটায় নিয়ে আসা। সেটুকু করে যাচ্ছি।” বাসস/বিডি নিউজ।
এবার প্যানডোরা পেপার্সে বহু বিশ্ব নেতার গোপন সম্পদের তথ্য ফাঁস
এবার ফাঁস হয়েছে প্যানডোরা পেপার্স। বিশ্বের বড় বড় নেতা, রাজনীতিবিদ ও ধনকুবেরদের গোপন সম্পদ ও লেনদেনের তথ্য বেরিয়ে এসেছে এই পেপার্সে। এ যাবৎকালের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক দলিলপত্র ফাঁসের এক ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে।
জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চেক প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বাবিস, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ, কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তা, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার – এমন আরো অনেক নেতার গোপন সম্পদের তথ্য এতে প্রকাশ পেয়েছে।

প্যানডোরা পেপার্স নামে এসব দলিলপত্রে প্রায় ৩৫ জন বর্তমান ও সাবেক নেতা এবং তিন শতাধিক সরকারি কর্মকর্তার নাম রয়েছে – যারা বিভিন্ন বিদেশী কোম্পানির সাথে সংশ্লিষ্ট। এ দলিলপত্রগুলো উদ্ঘাটন করেছে ওয়াশিংটন-ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস।
বিবিসি প্যানোরামার প্রকাশ করা এসব দলিলে দেখা যায়, জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রে ৭ কোটি পাউণ্ডের বাড়ি-জমির মালিক হয়েছেন।
আরো জানা যাচ্ছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মোনাকোয় গোপন সম্পদের সাথে সম্পর্কিত।
আজারবাইজানি প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ ও তার সহযোগীরা যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪০ কোটি পাউন্ডের জমি-বাড়ি কেনাবেচার চুক্তিতে জড়িত ছিলেন বলে এসব দলিলে দেখা গেছে।
ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও তার স্ত্রীর ব্যাপারে জানা গেছে যে তারা লন্ডনে একটি অফিস কেনার সময় ৩১২,০০০ পাউণ্ড কর স্ট্যাম্প শুল্ক বাঁচিয়েছেন। ওই ভবনের মালিক একটি বিদেশী কোম্পানিও তারা কিনে নিয়েছেন।
জর্ডানের বাদশাহর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তার জমি-বাড়িগুলো ব্যক্তিগত সম্পদ দিয়েই কেনা এবং সাধারণতঃ এরকম উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সম্পত্তি অফশোর কোম্পানির মাধ্যমেই কেনা হয় – নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে।
গত সাত বছরে প্যারাডাইস পেপার্স, পানামা পেপার্স ইত্যাদি নামে যেসব গোপন দলিলপত্র ফাঁস হয়েছে, – এই প্যানডোরা পেপার্স হচ্ছে তার সবশেষ ঘটনা।
বিবিসি প্যানোরামা, ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান এবং আরো কিছু মিডিয়া অংশীদার মিলে বিশ্বের ১৪টি কোম্পানির এই ১ কোটি ২০ লাখ দলিলপত্র হাতে পেয়েছে। করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত পানামা, দুবাই, মোনাকো, সুইজারল্যান্ড ও ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া দ্বীপপুঞ্জের মতো দেশ ও অঞ্চলের কোম্পানিতে বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যে অর্থ রেখেছেন ও গোপন লেনদেন করেছেন, সেই তথ্যই ফাঁস হয়েছে।
ব্রিটিশ দৈনিক ‘গার্ডিয়ান’, বিবিসিসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ওই সব কোম্পানির ১ কোটি ১৯ লাখ নথি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে প্যান্ডোরা পেপারস। বিবিসি বলছে, অফশোর কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগকারী হিসেবে যাঁদের নাম পাওয়া গেছে, তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের সাবেক ও বর্তমান ৩৫ জন নেতা এবং ৩০০–এর বেশি সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন। ৯০টির বেশি দেশের এসব কর্মকর্তার মধ্যে মন্ত্রী, বিচারক, মেয়র ও সেনাবাহিনীর জেনারেলরা রয়েছেন। আরও আছেন শতাধিক বিলিওনিয়ার, বিভিন্ন ক্ষেত্রের জনপ্রিয় ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীরা।
এতে দেখা গেছে, জর্ডানের বাদশাহ গোপনে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে ১০ কোটি ডলারের সম্পদ করেছেন। যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও তাঁর স্ত্রী লন্ডনে একটি অফিস কেনার সময় ৩ লাখ ১২ হাজার পাউন্ড কর ফাঁকি দিয়েছেন।
ফাঁস হওয়া নথিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মোনাকোয় গোপন সম্পদ এবং চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রে বাবিসের ফ্রান্সে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার দিয়ে প্রাসাদ কেনার তথ্য বেরিয়ে এসেছে। দেশটিতে চলতি সপ্তাহের শেষে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।
ফিনসেন ফাইলস, প্যারাডাইস পেপারস, পানামা পেপারস ও লুক্সলিকস নামে সাত বছর ধরে বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী ও সম্পদশালী ব্যক্তিদের অন্য দেশে বেনামে বিনিয়োগের তথ্য ফাঁসের যে ধারাবাহিকতা চলে আসছে, সেখানে সর্বশেষ এল প্যান্ডোরা পেপারস। গার্ডিয়ান বলছে, ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বেশি তথ্য ফাঁস হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জোট ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসের (আইসিআইজে) উদ্যোগে ৬৫০ জনের বেশি সাংবাদিক এসব নথি বিশ্লেষণ করেন।
বিবিসি বলছে, এসব নথিতে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে, তা হলো খ্যাতিমান ও সম্পদশালী ব্যক্তিরা কীভাবে যুক্তরাজ্যে গোপনে সম্পদ কিনতে আইনি পথেই বিভিন্ন কোম্পানি গঠন করেছেন। এসব কেনাকাটার পেছনে থাকা প্রায় ৯৫ হাজার অফশোর কোম্পানির মালিকদের নাম এসেছে।
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ ও তাঁর পরিবার তাঁদের একজন। এই পরিবারের বিরুদ্ধে নিজ দেশের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আলিয়েভ পরিবার ও তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা যুক্তরাজ্যে গোপনে ৫০ কোটির বেশি ডলারের সম্পদ কেনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এই পরিবার লন্ডনে তাদের একটি সম্পত্তি ব্রিটিশ রাজপরিবারের কাছে বিক্রি করেছে। তাতে তাদের চার কোটি ডলারের বেশি অর্থ লাভ হয়েছে।
ফেনসিডিলকে টপকে মাদকের শীর্ষে এখন ইয়াবা: রাজধানীতে প্রতি মাসে ৪ লাখ পিস উদ্ধার
মাদক দ্রব্য ব্যবহারের হট স্পট হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজধানী ঢাকা। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ পিস শুধু ইয়াবাই ব্যবহার করছে মাদকসেবীরা। মিয়ানমার হয়েই বেশিরভাগ ইয়াবা আসছে রাজধানীতে। আইনশৃংখলা বাহিনীর অভিযানে কিছু ধরা পড়লেও বেশিরভাগই থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে । চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে শুধু রাজধানীতেই উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩২ লাখ পিস ইয়াবা। এ ছাড়া অন্যান্য গাঁজা, ফেনসিডিলতো আছেই। এ সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ১৪ হাজার লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে আর প্রায় ১০ হাজার মামলা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী মাদকদ্রব্য ব্যবহারে এখন শীর্ষ স্থান দখল করেছে ইয়াবা। এর পরই আছে গাঁজা ও ফেনসিডিল। সম্প্রতি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস নামক আরও একটি ভয়ঙ্কর মাদক সংযুক্ত হয়েছে মাদকসেবিদের কাছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপত্র ডিএমপি নিউজ এমন তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয় বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ মাদক মামলায় ৮ মাসে মোট ১৩,৯৪২ জনকে গ্রেফতার করেছে। আর এ সংক্রান্তে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৯,৮২১টি মামলা রুজু হয়েছে। ডিএমপির মাদকবিরোধী অভিযানে অত্যন্ত ভয়াবহ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ একটি ব্যয়বহুল নতুন ধরণের মাদক আইস (ক্রিস্টাল মেথ বা ডি মেথ) ৭২৭ গ্রাম আইস উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও পাশ্চাত্য বিশ্বে hallucinogenic drug হিসেবে পরিচিত LSD (Lysergic acid diethylamide) ড্রাগ ২ গ্রাম ১২ মি.গ্রা. ও ৪০ পিস উদ্ধার করা হয়। যা খুব ছোট একটি কাগজের টুকরো সদৃশ মাদকমিশ্রিত বস্তু। মাদকসেবীরা উক্ত মাদকের ব্লন্ট জিহবার নিচে বা উপরে দিয়ে নেশা করে।

উদ্ধারকৃত অন্যান্য মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- ৩১,৬৭,৭২৩ পিস ইয়াবা, ৫৮৯৮ কেজি ৬৩ গ্রাম গাঁজা , ৬১ কেজি ৬৬০ গ্রাম হেরোইন, ১০ কেজি আফিম, ৪৪৪২৬ ক্যান বিয়ার, ৪০৫৫৪ বোতল ফেনসিডিল, ১৩৭৪৬ এ্যাম্পুল নেশাজাতীয় ইনজেকশন, ৩৭৪৬ বোতল ও ৫৯.৪০ লিটার বিদেশি মদ, ৬৭১৮ লিটার ২৫০ মি.লি দেশি মদ, ১০৫২১ লিটার চোলাই মদ, ৮১৭১ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৪ পাউন্ড সাপের বিষ, ৩৩০০ পিস সিন্ডা ট্যাবলেট, ২৫ কৌটা ড্যান্ডি, ২২ কেজি শিষা ও শিষার স্ট্যান্ড ১৮ টি, ২ গ্রাম এমফিটামিন, ১ গ্রাম ৩ মি.গ্রা. ডিএমডি, এমকেডিএল ২২৪ বোতল ও এস্কাফ ১২৯ বোতল।











