ঢাকা   শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩   বিকাল ৩:২২ 

Home Blog Page 71

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে চুল কাটা নিয়ে নানামুখি বিতর্ক

0
চুল কাটার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ সভা।

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ ছাত্রের চুল কেটে দেয়ার ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগমের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আগামী ২৯ নভেম্বরের মধ্যে ইউজিসিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ দিকে চুল কাটার কথা অস্বীকার করেছেন সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন। পুরো বিষয়টি বানোয়াট দাবি করে তিনি বলেন, এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে।

শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন

ভুক্তভোগী ছাত্ররা জানায়, গত রোববার দুপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরিচিতি বিষয়ের ফাইনাল পরীক্ষার হলে ঢোকার সময় ওই বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন আগে থেকে কাঁচি হাতে পরীক্ষার হলের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশের সময় যাদের মাথার চুল হাতের মুঠোর মধ্যে ধরা যায়, তাদের মাথার সামনের অংশের বেশ খানিকটা চুল তিনি কাঁচি দিয়ে কেটে দেন। এভাবে একে একে ১৪ জন শিক্ষার্থীর চুল তিনি কাঁচি দিয়ে কেটে দেন। এরপর পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের পরিবার তুলে গালিগালাজ করেন। এতে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। এই ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিলে বিষয়টি ব্যাপক ভাইরাল হয়।
এ ঘটনার পর নাজমুল হাসান তুহিন (২৫) নামের এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সোমবার রাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তিনি এখন এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ ছাত্রের চুল কেটে দেয়ার ঘটনাকে উদ্বেগজনক আখ্যায়িত করেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান। তিনি এ ঘটনায় অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে ঘটনাটি তদন্ত করে আগামী ২৯ নভেম্বরের মধ্যে ইউজিসির চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন।
চুলেই হাত দিইনি:
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রশাসনিক দায়িত্ব ছাড়লেও ছাত্রদের চুল কেটে দেয়ার অভিযোগটি বানোয়াট বলে দাবি করেছেন ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন।
ছাত্রদের চুল কেটেছিলেন কি না- গণমাধ্যমের এ প্রশ্নে ফারহানা বলেন, “না, এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার কাছে পুরো ব্যাপারটি শুনে অবাক লেগেছে। আমি পত্রিকায় দেখেছি খবরটা। “১৬ জন মানুষের চুল কেটে দেব, কেউ দেখবে না? তারা কোনো ছবি তুলবে না? আমি কাটতে চাইলাম আর ১৬ জন আমাকে চুল কাটতে দিল, কেউ কোনো প্রতিবাদ করবে না?”
একজন ছাত্রেরও চুল কি কেটেছিলেন- প্রশ্নে তিনি বলেন, “নাহ, একজনেরও চুল কাটিনি। কারও চুলে হাতও দিইনি। এরকম ঘটনা ঘটছে কি না, এই সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই নাই। সোমবার সকালেও তারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০০০-২০০১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারহানা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেয়ার পর কিছুদিন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছিলেন। ২০১৮ সালে যোগ দেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে।
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যানের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর এবং প্রক্টরিয়াল বোর্ডের সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর মঙ্গলবার রাতে তিনি ওই তিন প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আব্দুল লতিফ জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “চুল কাটার ঘটনার বিষয়ে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সেই প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
চুল না কাটলে কেন শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে, শিক্ষকদের দলাদলির কোনো বিষয় আছে কি না- এই প্রশ্নে ফারহানা বাতেন বলেন, “কিছু দলাদলি তো থাকেই। তবে সে কারণে হয়েছে কি না, তাও বুঝতে পারছি না।
“২০১৯ সালেও একবার বিশ্ববিদ্যালয় সমস্যা হয়েছিল। তখন আমি শিক্ষকদের পক্ষে ছাত্রদের বিরুদ্ধে একটা রিট করেছিলাম। এখন সেই সব ছাত্ররাই আমার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। মূলতঃ তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরাই আন্দোলন করছে, যার সঙ্গে যুক্ত করিয়েছে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের।”
“এখানে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করছি। কারণ একের পর এক এই যে ঘটনাগুলো ঘটে যাচ্ছে….” বলেন তিনি। প্রশাসনিক দায়িত্বগুলো ছাড়ার পরও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ায় এর মধ্যে ভিন্ন কিছু দেখতে পাচ্ছেন ফারহানা।
“যদি ধরেও নিই যে আমি চুল কেটেছি, সেটার তো তদন্ত শুরু হয়েছে। তারা তদন্ত করে কী পায় দেখা যাক। কিন্তু তার আগেই তারা ইউনিভার্সিটি থেকে আমার পদত্যাগ চাচ্ছে কেন? আমি তো নিজ থেকেই প্রক্টরশিপ, চেয়ারম্যানশিপ থেকে রিজাইন দিয়েছি। স্টুডেন্টদের কথা চিন্তা করেই এটা করেছি। তারা ছাত্র, তারা ভুল করতেই পারে। তাদের বয়স কম, তাদের প্রতি তো আমার কোনো ক্ষোভ বা রাগ নেই। আমি ধরে নিলাম যে আমি পদত্যাগ করলে ওরা যদি শান্ত হয়, তাই পদত্যাগই করলাম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার চাইবে কেন? আমার চাকরিটা কি মগের মুল্লুক?”
বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো বিষয় নিয়ে ঝামেলা রয়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অনেকে হয়ত অনেক সময় অপরিষ্কার-অগোছালোভাবে ক্লাসে চলে আসে। অন্য ছাত্রীরা সেটার জন্য আমার কাছে কমপ্লেইন করে, তখন হয়ত কাউকে কিছু বলেছি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে থাকতে বলেছি। এতটুকুই তো!”
এত শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করছে কেন- প্রশ্ন করা হলে ফারহানা বলেন, “তারা কেন করছে, সেটা তারাই জানে। তবে অনেক স্টুডেন্ট এই পরিস্থিতিতে আমাকে ফোন করছে, টেক্সট করছে। অনেকে ফোন করে আমার কাছে কান্নাকাটি করছে।”
প্রথম বর্ষ থেকে তৃতীয় বর্ষ মিলিয়ে ওই বিভাগে একশ শিক্ষার্থী রয়েছে। আন্দোলনরতদের কয়েকজনকে মাথা ন্যাড়া অবস্থায় দেখা গেছে। একজন শিক্ষার্থী ক্ষোভে-অপমানে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন বলেও খবর ছড়িয়েছে।
এবিষয়ে ফারহানা বলেন, “যে ছেলেটা আত্মহত্যা করতে উদ্যত হয়েছে, তার সঙ্গে এক বছর আগে একটা ঘটনা ঘটেছে। সে প্রথম বর্ষে থাকার সময় মেসে দ্বিতীয় বর্ষের এক ছেলেকে তার ভাড়া দিতে বাধ্য করেছে বলে আমার কাছে অভিযোগ আসে। এই ঘটনায় আমি তাকে সিআর (ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ) পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলাম। কারণ সে মিথ্যা বলছে, বড় ভাইকে সম্মান দেখাচ্ছে না।”

নিম্ন আদালতে সব রায় প্রকাশ্যে দেয়ার নির্দেশনা

0
ছবির উৎস গুগল।

অধস্তন আদালতের জামিনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী আদেশ ও রায় প্রকাশ্য আদালতে সংশ্লিষ্ট পক্ষ বা তাদের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে ঘোষণা করার জন্য বিচারকদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
বুধবার হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ৪৬৮/২০২১ ফৌজদারি আপিল মামলায় বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের দ্বৈত বেঞ্চ কর্তৃক সংশ্লিষ্ট আইনসমূহ অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৬ এবং ক্রিমিনাল রুলস অ্যান্ড অর্ডারস (প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রসিকিউটর অব সাব-অর্ডিনেট কোর্টস), ২০০৯-এ ১৭৯(২) অনুযায়ী অধস্তন আদালতের জামিনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী আদেশ ও রায় প্রকাশ্য আদালতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ বা তাদের আইনজীবীগণের উপস্থিতিতে ঘোষণা করার জন্য গত ২ সেপ্টেম্বর এক রায়ে নিম্নরূপ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘উপযুক্ত বিষয়ে নির্দেশিত হয়ে জানানো যাচ্ছে যে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিম্ন আদালতগুলোর বিচারকের জামিনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী আদেশ ও রায় প্রকাশ্য আদালতে সংশ্লিষ্ট পক্ষ বা তাদের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে ঘোষণা করার নির্দেশ দেওয়া হলো। আদালতের রায় অনুযায়ী উল্লিখিত নির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য অধস্তন সব আদালতের বিচারককে নির্দেশ দেওয়া হলো।’

ফোনে আড়ি পাতা বন্ধে রিট সরাসরি খারিজ

0

ফোনে আড়ি পাতা ও ফোনালাপ ফাঁস বন্ধে রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রেজা ই রাকিব।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।
গত ১০ আগস্ট ফোনে আড়ি পাতা বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। রিটে ফোনালাপ ফাঁসের ২০টি ঘটনা তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এ রিট দায়ের করেন।
ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) রিটে বিবাদী করা হয়।
২২ জানুয়ারি ফোনে আড়ি পাতা বন্ধে ৭ দিনের মধ্যে পদক্ষেপ জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের লিগ্যাল নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী।
নোটিশে ফোনালাপে আড়ি পাতা প্রতিরোধে আইন অনুযায়ী বিটিআরসি কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১৬টি আড়ি পাতার ঘটনা নোটিশে উল্লেখ করা হয়। তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার সংলাপ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ফোনালাপ, প্রয়াত সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার নাজমুল হাসানের ফোনালাপ উল্লেখযোগ্য। এসব আড়ি পাতার ঘটনা বাংলাদেশের গণমাধ্যমে বহুল প্রচারিত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
নোটিশে বলা হয়, সার্বজনীন মানবাধিকার সনদপত্র, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী পৃথিবীর সব আধুনিক ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার স্বীকৃত ও সংরক্ষিত। এরই ধারাবাহিকতায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদে চিঠিপত্র ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনীয়তা সংরক্ষণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এই অধিকার সংবিধান কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়েছে। অর্থাৎ সংবিধানের তৃতীয়ভাগে উল্লেখিত মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংরক্ষণ অন্যতম। এছাড়াও ২০০১ সালের ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি অ্যাক্ট, ২০০১ প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের ধারা ৬ অনুযায়ী টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ধারা ৩০(চ) অনুযায়ী টেলিযোগাযোগের একান্ততা রক্ষা নিশ্চিত করা এই কমিশনের দায়িত্ব।
কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, এই ধরনের ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনা অহরহ ঘটছে। অথচ বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কমিশনের দায়িত্ব হলো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংরক্ষণ নিশ্চিত করা। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় এ রিট করা হয়।

বসুন্ধরার এমডি আনভীরকে আগাম জামিন দেননি হাইকোর্ট, স্ত্রী সবরিনার জামিন

0

কলেজছাত্রী মোসারাত জাহানকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে আগাম জামিন দেননি হাইকোর্ট। ​তবে ওই মামলায় আনভীরের স্ত্রী সাবরিনাকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন।
এর আগে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহানকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরসহ আটজনের বিরুদ্ধে ৬ সেপ্টেম্বর মামলাটি হয়। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ আদালতে মোসারাতের বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে নালিশি মামলা দাখিল করেন। অপর ছয়জন হলেন আহমেদ আকবর সোবহানের স্ত্রী আফরোজা সোবহান, আনভীরের স্ত্রী সাবরিনা, ইব্রাহিম আহমেদ, শারমিন, সাইফা রহমান ও মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা।
সেদিন বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। ওই মামলায় সায়েম সোবহান আনভীর ও তাঁর স্ত্রী ১৬ সেপ্টেম্বর আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
এ আগাম জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হয়। আনভীর ও তাঁর স্ত্রী আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আগাম জামিনের আরজি জানান। তাঁদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ন ও হাসান ইমাম। রাস্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান।
পরে মিজানুর রহমান বলেন, আনভীর ও তাঁর স্ত্রী আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন। হাইকোর্ট শুনানি নিয়ে আনভীরকে জামিন দেননি। তাঁর স্ত্রীকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন। জামিন আবেদন থেকে আনভীরের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে গত ২৬ এপ্রিল রাতে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহানের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন মোসারাতের বড় বোন নুসরাত জাহান। এ মামলায় গত জুলাই মাসে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত গত ১৮ আগস্ট পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। এ আদেশে মামলা থেকে অব্যাহতি পান সায়েম সোবহান আনভীর।

মুফতি ইব্রাহীম দুদিনের রিমান্ডে

0

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় মুফতি কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীমকে দুদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) বুধবার এই আদেশ দেন।
মোহাম্মদপুর থানায় করা মামলায় মুফতি ইব্রাহীমকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপপরিদর্শক মুন্সি আবদুল লোকমান।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত মুফতি ইব্রাহীমকে দুদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত সোমবার রাতে পুলিশ ইব্রাহীমের ভাড়া করা বাসায় গেলে তিনি বাসা থেকে বের না হয়ে উসকানিমূলক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন। অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহায়তায় আসামি মুফতি ইব্রাহীম ফেসবুক, ইউটিউবে মিথ্যা, উসকানিমূলক ও ভীতি প্রদর্শক তথ্য প্রচার করেন। এ বিষয়ে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। ভিডিওতে প্রচারিত বক্তব্য নিজের বলেও দাবি করেন। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে মুফতি কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে। মোহাম্মদপুর থানায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে এই মামলা হয়।
এ ছাড়া প্রতারণার অভিযোগে মুফতি ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে জেড এম রানা নামের এক ব্যক্তি মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করেছেন। প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক মো. আবুল কালাম।
গত সোমবার রাতে রাজধানীর লালমাটিয়ার বাসা থেকে মুফতি ইব্রাহীমকে আটক করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) একটি দল। পরে মুফতি ইব্রাহীমকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পরীমনিকে দফায় দফায় রিমান্ড : দুই ম্যাজিস্ট্রেটকে ফের ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

0

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়ে দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে আবারও ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার দুই ম্যাজিস্ট্রেটকে পুনরায় ব্যাখ্যা দিতে বলেন এবং এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ২৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর এক আদেশে পরীমনির দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার রিমান্ড মঞ্জুর করার বিষয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস ও আতিকুল ইসলামকে ১০ দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলেন হাইকোর্ট। এরপর দুই বিচারক হাইকোর্টে তাদের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন। তবে তাদের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি হাইকোর্ট।
ব্যাখ্যার বিষয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বলেন, ‘হাইকোর্টকে অবজ্ঞা করেছেন এই দুই বিচারক।’ ব্যাখ্যার বিষয়ে আদালত আরও বলেন, ‘ত্রুটি হয়েছে যে তা ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বাস করেন না। হাইকোর্টকে আন্ডারমাইন করা হয়েছে।’
পরে বিষয়টি নিয়ে ফের ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট এবং পরবর্তী আদেশের দিন ধার্য করেন ২৯ সেপ্টেম্বর। সে অনুযায়ী, আজ বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে শুনানি শুরু হলে দুই বিচারকের পক্ষে আইনজীবী আবদুল আলীম মিয়া জুয়েল আদালতকে বলেন, ‘মাই লর্ড কি কারণে ওনারা (রিমান্ড) দিয়েছেন তা বলেছেন।’
এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন আদালতকে বেঞ্চকে বলেন, ‘মাই লর্ড ওনারা ইয়াং অফিসার। ঠিকমতো হয়তো ব্যাখ্যাটা দিতে পারেনি। আর ওনারা ক্ষমাও চেয়েছেন।’ তখন আদালত বলেন, ‘আচ্ছা আবার তাহলে তারা ব্যাখ্যা দিক। আমরা পরবর্তী শুনানির জন্য ২৪ অক্টোবর দিন রাখছি।’
উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়িকা পরীমনিকে দফায় দফায় রিমান্ড মঞ্জুরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিচারকদের কাছে ব্যাখ্যা চান হাইকোর্ট। পরিমনির মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া পরীমনির বিরুদ্ধে বনানী থানায় দায়ের করা মাদক মামলার সব নথি ও মামলার কেস ডকেটও তলব করা হয়।
বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওইদিন এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও সৈয়দা নাসরিন।
গত ২৯ আগস্ট উচ্চ আদালতের রায় না মেনে মাদক মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনিকে বারবার নেয়া রিমান্ড চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। আবেদনে পরীমনিকে রিমান্ডে নেয়ার ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের রায় না মানার অভিযোগ আনা হয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে অ্যাডভোকেট সৈয়দা নাসরিন এ আবেদন দায়ের করেন।
গত ১৯ আগস্ট রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় পরীমনির তৃতীয় দফা রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত পরীমনির একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে পরীমনিকে প্রথম দফায় চার দিন ও দ্বিতীয় দফায় দুদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি।
গত ৪ আগস্ট পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন র‍্যাব-১-এর কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান।
গত ২৬ আগস্ট হাইকোর্ট পরীমনিকে জামিন না দিয়ে তার আবেদন শুনানি প্রশ্নে রুল জারি করেন। রুলে রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা মাদক মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনির জামিন আবেদন আদেশ পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
এ ছাড়া পরীমনির জামিন আবেদন শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করে নিম্ন আদালতের আদেশ কেন বাতিল করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়। হাইকোর্টের আদেশের আলোকে গত ৩১ আগস্ট পরীমনিকে জামিন দেন বিচারিক আদালত।

প্রতারণার মামলায় ধামাকার সিওও সিরাজুলসহ ৩ জন গ্রেফতার

0

প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ধামাকা শপিং’-এর সিওও (চিফ অপারেটিং অফিসার) সিরাজুল ইসলামসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর তেজগাঁওসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক (এএসপি) আ ন ম ইমরান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
র‍্যাব সূত্র জানায়, টঙ্গী পশ্চিম থানার উত্তর আউচপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. শামীম খান ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম ডি জসিমউদ্দিন চিশতীসহ (৫৭) কয়েকজনের বিরুদ্ধে টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা করেন। তিনি পোশাক কারখানার পার্টস ব্যবসায়ী।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এম আলী ওরফে মোজতবা আলী (৬০), সিওও সিরাজুল ইসলাম (রানা), প্রধান ব্যবসা কর্মকর্তা দেবকর দে শুভ (৩২), হেড অব অ্যাকাউন্টস সাফোয়ান আহমেদ (৪১), উপব্যবস্থাপক আমিরুল হোসাইন (৪৬), সিস্টেম ক্যাটাগরি হেড ইমতিয়াজ হাসান (৩৫), ভাইস প্রেসিডেন্ট ইব্রাহীম স্বপন (৩৫), উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নীরদ বরণ রায় (৪৫), প্রতিষ্ঠানের কর্মী নাজিম উদ্দিন আসিফ (২৮) ও আসিফ চিশতী (২৬)।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২০ মার্চ অনলাইনে ইনভ্যারিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড পরিচালিত ধামাকা শপিং ডটকমের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন ভার্চ্যুয়াল সিগনেচার কার্ডের মাধ্যমে পণ্য কেনার অফার দেওয়া হয়। শামীম খান অনলাইনে অফারটি দেখে প্রতিষ্ঠানের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করেন। যোগাযোগ করার পর তাঁকে জানানো হয়, অর্ডার করলে ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করা হবে। সে অনুযায়ী ৮৪টি ইনভয়েসের মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানে ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটি তাঁর অর্ডার কনফার্ম করে এবং কনফার্ম ইনভয়েস জিমেইল আইডিতে পাঠায়। কিন্তু প্রতিষ্ঠান থেকে নির্ধারিত ৪৫ দিনেও পণ্য সরবরাহ করা হয়নি। ৫০ দিন পর হেল্পলাইনে যোগাযোগ করলে অপেক্ষা করতে বলে। এক মাস অপেক্ষা করার পর প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকের (অপারেশন) স্বাক্ষর করা একটি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার দুটি চেক দেয়া হয়। ওই চেক নিয়ে টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই। গত ৫ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের সিওও সিরাজুল ইসলামের কাছে যাওয়ার পর তিনি টাকা না দিয়ে তাঁকে হুমকি দেন। পরে ৫ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অফিসে গিয়ে দেখেন অফিস তালাবন্ধ।
মামলায় বলা হয়েছে, এ সময় শামীম খান বুঝতে পারেন, তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তাই টাকা পরিশোধের ইনভয়েজ, ব্যাংকের চেকের ফটোকপিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে মামলা করেন।

বাইরের আইনজীবী দিয়ে মামলা পরিচালনায় দুদকের খরচ হচ্ছে কয়েক কোটি টাকা, হারছে মামলাতেও ; ফাঁস হয়ে যায় গোপন তথ্য

0

দুর্নীতি দমন কমিশনের নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট না থাকায়, ভাড়া করা আইনজীবী দিয়ে মামলা পরিচালনার পেছনেই বছরে খরচ হয়ে যাচ্ছে কয়েক কোটি টাকা। আর এসব আইনজীবী দিয়ে মামলা পরিচালনা করে দুদক আশানুরূপ সফলতা পাচ্ছে না। অনেকক্ষেত্রে মামলার গোপন তথ্য আগেভাগে চলে যায় আসামীপক্ষের হাতে। ফলে বেশিরভাগ মামলাতেই হেরে যাচ্ছে দুদক। যদিও দুদক আইনে নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট গঠনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো গত ১৭ বছরেও এই আইন বাস্তবায়ন হয় নি। বেশিরভাগ মামলাতে হেরে যাওয়ায় দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত পর্যায়ের কর্মকর্তারা হতাশ হয়ে পড়ছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিচারিক আদালতে ৫৩ ভাগ এবং উচ্চ আদালতে ৯৫ ভাগ মামলাতেই হেরে যাচ্ছে দুদক।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪’র ৩৩ ধারায় দুদকের নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট গঠনের কথা বলা হয়েছে। আইনের ৩৩ (১) উপ-ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইনের অধীন কমিশন কর্তৃক তদন্তকৃত এবং স্পেশাল জজ কর্তৃক বিচারযোগ্য মামলাগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রসিকিউটরের সমন্বয়ে কমিশনের অধীন উহার নিজস্ব একটি স্থায়ী প্রসিকিউশন ইউনিট থাকিবে।’ অর্থাৎ এই আইনের আওতায় দুদকের নিয়োগকৃত স্থায়ী আইনজীবী বা আইনকর্মকর্তা থাকবে। যারা দুদকের মামলা পরিচালনা করবেন। কিন্তু গত ১৭ বছরে ৫টি কমিশন গঠিত হলেও কোনো কমিশনই আইনের এ অংশটি কার্যকর করেনি। নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালালেও রহস্যজনক কারণে তা বেশিদূর এগুতে পারেনি। বর্তমানে দুদকের মামলা পরিচালনায় আইনের ৩৩ (৩) ধারা প্রয়োগ হচ্ছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, ‘কমিশনের নিজস্ব প্রসিকিউটর নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কমিশন কর্তৃক অস্থায়ী ভিত্তিতে নিযুক্ত বা অনুমোদিত আইনজীবীগণ এই আইনের অধীন মামলাসমূহ পরিচালনা করিবে।“
আইনের এই ক্ষমতাবলেই দুদকের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবীদের একটি প্যানেল তৈরী করা হয়েছে । তারাই আদালতে মামলা পরিচালনা করেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, বেশিরভাগ আইনজীবী পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন না হওয়ায় এবং ক্ষমতাবান আসামীরা তাদের পক্ষে বড় বড় আইনজীবী নিয়োগ করায় আইনী লড়াইয়ে পারছেন না দুদকের আইনজীবীরা। ফলে অধিকাংশ মামলায় হেরে যেতে হয়। আর হারলেও এসব প্যানেল আইনজীবীদের কোনো দায় থাকে না। দুদকও তাদেরকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে না।
দুদকের উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, বিচারিক এবং উচ্চ আদালতে কোথায় কতজন আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হবে- তাদের মানদণ্ড কী হবে- এমন একটি নীতিমালা থাকলেও সেটা অনুসৃত হয় না।
দুদক থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, কমিশন প্রতিষ্ঠার পর প্রথম ১০ বছরে দুদক ৩ হাজার ৬শ’ ৬২টি মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে বিচারের জন্য আদালতে উঠেছে ৩ হাজার ১২টি মামলা। এসব মামলায় বিভিন্ন আদালতে দুদকের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য যেসব প্যানেল আইনজীবী রয়েছেন, এর মধ্যে ঢাকার বিশেষ আদালতে ১৩ জন, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে ৩৯ জন এবং অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড হিসেবে রয়েছেন ৭ জন। ঢাকার বাইরেও দুদকের নিয়োগকৃত আইনজীবী রয়েছেন। তাদের সঙ্গে দুদকের রয়েছে মামলাভিত্তিক (কেস টু কেস) চুক্তি। অর্থাৎ মামলা অনুসারে তাদের ফি বা অর্থ পরিশোধ করা হয়। সূত্র মতে, ২০১১-২০১২ অর্থ বছরে প্যানেল আইনজীবীদের ফি বাবদ দিতে হয়েছে ৩ কোটি ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৩৫৩ টাকা। ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫ হাজার ৩৯০ টাকা। ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে আইনজীবীদের দেয়া হয় ৪ কোটি ৬২ লাখ ৯৭ হাজার ৭২১ টাকা। অর্থাৎ বছরে গড়ে সাড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা শুধু আইনজীবীদের মামলা খরচ দিতে হয়।

এতো অর্থ খরচ করেও দুদক আশানুরূপ ফল পাচ্ছে না। বিচারিক আদালতে ৫৩ শতাংশ মামলায় হেরে যাচ্ছে। আর যে গুলোতে জিতলেও অর্থাৎ আসামীর সাজা হলেও উচ্চ আদালতে এসব সাজা টিকছে না। উচ্চ আদালতে দুদকের মামলায় হারের সংখ্যা বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী যা ৯৫ শতাংশ। বিচারিক আদালত বা উচ্চতর আদালত পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে দুদক হেরে গেলেও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারেনা দুদক। খুব বেশী হলে ওই আইনজীবীকে প্যানেল থেকে বাদ দেয়া হয়।
সূত্র জানায়, যোগ্যতার চেয়েও রাজনৈতিক আনুগত্য, ব্যক্তি সম্পর্ক, তদবির ও অনুরোধের ভিত্তিতে দুদকে আইনজীবী নিয়োগ পেয়ে যান। সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও যোগ্যতার মানদণ্ড বিবেচনায় আসছে না। দুদকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের ঘটনাও ঘটছে। এ ছাড়া অনেক আইনজীবী প্রকাশ্যে দুদকের পক্ষে আর নেপথ্যে আসামিপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ পর্যন্ত ওঠে। অনেকের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের সুবিধা অনুযায়ী শুনানিতে বার বার তারিখ চাওয়া, আদালতে দুদকের সাক্ষীকে অনুপস্থিত দেখানো, জামিনে যথাযথ বিরোধিতা না করা, রেকর্ডপত্র উপস্থাপন না করার মতো নানা কৌশল অবলম্বনের অভিযোগ ওঠে। এই আনৈতিক ভূমিকার কারণে দুদকের অনেক গোপন তথ্য এবং মামলার আইনী ফাঁকফোকর আসামীপক্ষ জেনে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, যদি দুদকের নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট থাকতো তা হলে এ সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো না।
এসব বিষয় নিয়ে দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খানের সঙ্গে কথা বললে ,তিনি জানান এ সমস্যাটি নিয়ে তারাও ভাবছেন। তিনি বলেন, দুদকের নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট অবশ্যই থাকা দরকার। এটা কি ভাবে কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে কমিশনের সভায় আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।

টাকার উপর লেখা ও স্ট্যাপলিং করতে নিষেধ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

0

টাকার বাণ্ডিলে স্ট্যাপলিং, টাকায় ঠিকানা লেখা নাম লেখা এমন কী প্রেমপত্র লেখার ঘটনাও আছে । এটা বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের আর কোথাও নেই। স্ট্যাপলিংএর ফলে টাকা ছিড়ে যায়, নষ্ট হয়। কিন্তু টনক নড়েনা কারও। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে নতুন ও পুনঃপ্রচলনযোগ্য ব্যাংক নোটের উপর যেকোনো ধরনের লেখা, সিল মারা এবং নোটের প্যাকেটে স্ট্যাপলিং না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়, প্রতিটি প্যাকেটে নোটের সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে প্যাকেট ব্র্যান্ডিং করার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখার নাম, সিল, নোট গণনাকারীর স্বাক্ষর ও তারিখ সম্বলিত লেবেল/ফ্ল্যাইলিফ লাগানোর বিধান থাকলেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে, উক্ত নির্দেশনা লঙ্ঘন করে সরাসরি টাকার ওপর সংখ্যা ও তারিখ লেখা, শাখার সিল, স্বাক্ষর ও অনুস্বাক্ষর প্রদান, স্ট্যাপলিং ইত্যাদি করা হচ্ছে। ফলে, নোটগুলো অপেক্ষাকৃত কম সময়ে অপ্রচলনযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় অর্থেরও অপচয় হচ্ছে।
নোটের ওপর লেখা, সিল মারা এবং নোটের প্যাকেটে স্ট্যাপলিং করা বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্লিন নোট পলিসি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্যতম অন্তরায়, যা মোটেই কাঙ্ক্ষিত নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নির্দেশনায় বলা হয়, গণনাকালে নোটের ওপর লেখা, স্বাক্ষর, সিল প্রদান এবং নোটের প্যাকেটে স্ট্যাপলিং (১ হাজার টাকা মূল্যমান নোট ব্যতীত) থেকে বিরত থাকা এবং প্যাকেটে নোটের সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে প্যাকেট ব্যান্ডিং করার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখার নাম, সিল, নোট গণনাকারীর স্বাক্ষর ও তারিখ সম্বলিত লেবেল/ফ্ল্যাইলিফ লাগানোর বিষয়টি কঠোরভাবে পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকে কারেন্সি নোট/ব্যাংক নোট জমা দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সব বিধি-বিধান ও নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য আপনাদের পুনরায় নির্দেশনা দেয়া গেল।

হাইকোর্টের আদেশে শেষ পর্যন্ত মুক্তি মিলেছে ঝুমন দাশের

0

দীর্ঘ ৬ মাস কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সুনামগঞ্জের শাল্লার ঝুমন দাশ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে তিনি সুনামগঞ্জ কারাগার থেকে মুক্তি পান। গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।
মুক্তির পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ঝুমন দাশ প্রথমেই প্রধানমন্ত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান এবং বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করেন। তার পাশে দাঁড়ানোয় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আর কারা ফটকে ঝুমন দাশের মা নিভারানী দাশ বলেন, ‘৬ মাস ধরে ছেলের মুখ দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। আজ সেই আশা পূরণ হলো। খুব কষ্টে দিন গেছে, বলে বোঝাতে পারব না। ঝুমন মুক্তি পাওয়ায় আমি খুশি। তবে নিঃশর্ত মুক্তি পেলে আরও বেশি খুশি হতাম।’
সুনামগঞ্জে ঝুমন দাশের আইনজীবী দেবাংশু শেখর দাশ বলেন, ‘ঝুমন দাশের কারামুক্তিতে তার পরিবারের সঙ্গে আমরাও খুশি। তবে আরও আগেই তার জামিন হওয়া উচিত ছিল। এ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় ঝুমন ন্যায়বিচার পাবেন।’
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ঝুমন দাশ গত ১৭ মার্চ থেকে সুনামগঞ্জ কারাগারে ছিলেন। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে।
হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হক গত ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা শহরে এক সমাবেশে বক্তব্য দেন। মামুনুল হকের ওই বক্তব্যের সমালোচনা করে পরদিন ১৬ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ তুলে ১৭ মার্চ সকালে নোয়াগাঁওয়ে আশপাশের তিনটি গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
এ ঘটনায় ঝুমন দাশকে ১৬ মার্চ রাতেই আটক করে পুলিশ। পরদিন তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করলে আদালতের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ২২ মার্চ শাল্লা থানায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করে পুলিশ।
পরে তার মুক্তির দাবিতে সুনামগঞ্জ, সিলেট, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালিত হয়। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ তার মুক্তির দাবি জানান। সুনামগঞ্জে ঝুমন দাশ একাধিকবার জামিনের আবেদন করলেও তার জামিন হয়নি। পরে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়।
এ দিকে নোয়াগাঁও গ্রামে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলার ঘটনায় থানা ও আদালতে আরও তিনটি মামলা হয়েছিল। এসব মামলায় আসামি প্রায় দুই হাজার। এর মধ্যে ঝুমন দাশের মা নিভারানী দাশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এসব মামলায় এ পর্যন্ত ১১৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। বর্তমানে সবাই জামিনে আছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঝুমন দাশ একসময় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পণ্য বিক্রেতার কাজ করতেন। পরে নিজেই প্রসাধনসামগ্রী বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। তার স্ত্রী সুইটি রানী দাশ সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে পড়েন। তাদের এক বছর বয়সী এক ছেলে আছে। এ ছাড়া পরিবারে তার মা, এক ভাই ও দুই বোন আছেন। ঝুমনের আয়েই সংসার চলে।