বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা এবং মানহানির পাঁচ মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছে হাই কোর্ট।
খালেদা জিয়ার আবেদনে মঙ্গলবার ঢাকা ও নড়াইলের মানহানির চার মামলায় জামিনের মেয়াদ বাড়িয়ে আদেশ দেয় বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ।
আর কুমিল্লায় বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যার মামলায় জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আদেশটি হয় সোমবার। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি কাজী মো.ইজারুল হক আকন্দের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দেয়।
আদালতে খালেদা জিয়ার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কায়সার কামাল ও এ এইচ এম কামরুজ্জামান মামুন। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শামীমা সুলতানা দীপ্তি, মো. রোকনুজ্জামান সুজা ও মো. মাকসুদ।
কুমিল্লার মামলায় হাই কোর্ট ২০১৯ সালের ৬ মার্চ খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছিল। পরে ওই বছরের ২০ অগাস্ট জামিনের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়। সোমবার তা আরও এক বছর বাড়ানো হল।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্যের জেরে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকায় তিনটি ও নড়াইলে একটি মানহানির মামলা হয়। এসব মামলায় ২০১৮ ও ২০১৯ সালে হাই কোর্ট থেকে খালেদা জিয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। পরে কয়েক দফা জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে গতবছর ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। পরে আরও তিন দফা মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। তার বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে প্রায় তিন ডজন মামলা বিচারাধীন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
পাঁচ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছে হাইকোর্ট
বিএফইউজের নির্বাচন দুমাসের জন্য স্থগিত করল হাই কোর্ট
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) নির্বাচন দুই মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাই কোর্ট। বিচারপতি মো. মুজিবর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল বেঞ্চ মঙ্গলবার রুলসহ এ আদেশ দেন।
বিএফইউজের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি এবং নির্বাচন স্থগিত চেয়ে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌসের করা এক আবেদনে এ আদেশ দিয়েছে আদালত।
আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তীর্থ সলিল পাল। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. নুরুল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ রাসেল চৌধুরী।
বিএফইউজের ভোটার তালিকায় হাসান ফেরদৌসের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
শ্রম সচিব, শ্রম অধিদপ্তরের মহারিচালক, ট্রেড অর্গানাইজেশনের পরিচালক, রেজিস্ট্রার ও বিএফইউজের সভাপতিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আইনজীবী তীর্থ সলিল পাল জানান, “হাসান ফেরদৌস সিইউজের নিয়মিত সদস্য এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক। সিইউজের ভোটার লিস্টে তার নাম থাকলেও বিএফইউজের ভোটার তালিকায় তার নাম নাই।
“বিষয়টি তিনি বারবার বিএফইউজেকে জানিয়েছেন। বিএফইউজে শ্রম অধিদপ্তরের নিবন্ধিত একটি সংগঠন। শ্রম অধিদপ্তরেও উনি জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি হাই কোর্টে রিট করেছিলেন।”
আগামি ২৩ অক্টোবর সংগঠনটি নির্বাচনের তারিখ ছিল। ইতিমধ্যে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
অবৈধ সম্পদ: এনআরবি ব্যাংকের পরিচালক বদিউজ্জামান ও তাঁর স্ত্রী’র বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এনআরবি ব্যাংকের পরিচালক এম বদিউজ্জামান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক। সোমবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ মামলা দুটি দায়ের করেন সংস্থার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সাইদুজ্জামান। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক জানান “এক মামলায় বদিউজ্জামানকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। অপর মামলায় তার স্ত্রী নাসরিন জামানকে প্রধান করে দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।”

নতুন প্রজন্মের এনআরবি ব্যাংকের পরিচালক এম বদিউজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে এক কোটি তিন লাখ ১০ হাজার ৭২২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং তা দখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অপর মালায় নাসরিন জামানের বিরুদ্ধে এক কোটি ৪৯ লাখ ২৮ হাজার ৯২২ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং তা দখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়।
এ মামলায় বদিউজ্জামানকে আসামি করার বিষয়ে এজাহারে বলা হয়, “বদিউজ্জামানের অপরাধলব্ধ অর্থ দ্বারা তার স্ত্রী নাসরিন জামান সম্পদ গড়েছেন।“
মামলা দুটিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন- ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ব্যাংকটির পরিচালক এম বদিউজ্জামান এবং তার পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। দুদকের উপপরিচালক শামসুল আলমকে প্রধান করে সহকারী পরিচালক শহিদুর রহমান ও সহকারী মিরাজ হোসেন সমন্বয়ে ৩ সদস্যের টিম গঠন করে ।
সূত্র জানায়, এম বদিউজ্জামানের দেশে ছাড়াও বিদেশেও ব্যবসা রয়েছে। তিনি সিঙ্গাপুরে দুটি কোম্পানি গড়ে তুলেছেন। দুদক থেকে তাদেরকে সম্পদবিবরণী দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হলে তারা প্রায় ৭০০ কোটি টাকার সম্পদের হিসাব জমা দেন।
বদিউজ্জামানের স্ত্রী নাসরিন জামানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতিসহ অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠার পর অনুসন্ধানে নামে দুদক। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়।
তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অ্যাডভান্স হোম প্রাইভেট লিমিটেড ও ফিনিক্স লিমিটেডের বিপুল অঙ্কের শেয়ার কেনা, মানি লন্ডারিং ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ ছিল।
বদিউজ্জামানের যত সম্পদ:
বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্প :এনআরবি ব্যাংকের পরিচালক বদিউজ্জামান দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকায় নামে-বেনামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর বারিধারার বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পের এফ ব্লকের ১৮নং রোডে বড় আকারের একটি প্লটে নির্মিত বাড়ি, যার মূল্য কমবেশি দশ কোটি টাকা। বসুন্ধরা প্রকল্পের এ ব্লকে মেইন রোডে পাঁচ কাঠা জমির ওপর ১৫নং প্লটে রয়েছে সাততলা বাণিজ্যিক ভবন। ভবনটির মালিকানায় রয়েছেন বদিউজ্জামানসহ তার পরিবারের সদস্যরা। এ ভবনের আনুমানিক মূল্য ২০ কোটি টাকা। বসুন্ধরা প্রকল্পের এ ব্লকের ৮নং প্লটে পাঁচ কাঠা জমিতে রয়েছে একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন। বদিউজ্জামান এ ভবনটি তিন কোটি টাকায় নির্মাণ করার পর ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের কাছে ১৬ কোটি টাকায় বিক্রি করেন।
গুলশান :রাজধানীর গুলশান ১নং রেইন্স ওয়াটার ফ্রন্ট আবাসিক ভবনে রয়েছে প্রায় তিন হাজার একশ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। এর দাম প্রায় সাত কোটি টাকা।
বনানী : বনানীর এ ব্লকের ৭৭/এ নং প্লটে রয়েছে অ্যাডভান্স রাইটস নামে বহুতল আবাসিক ভবন। যার বর্তমান মূল্য প্রায় ৬৫ কোটি টাকা।
জোয়ারসাহারা : রাজধানীর জোয়ারসাহারা মৌজায় জগন্নাথপুরে ১১ কাঠা জমিতে নির্মিত অ্যাডভান্স রেইনবো নামে ৯ তলা আবাসিক ভবন। যার আনুমানিক মূল্য ১৫ কোটি টাকা। জোয়ারসাহারায় ভাটারা থানায় ১৪ কাঠা জমিতে নির্মিত অ্যাডভান্স প্যারাডাইস নামে ৯ তলা আবাসিক ভবনে রয়েছে এক হাজার ৪৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা।
উত্তরা : রাজধানীর উত্তরার ১৩নং সেক্টরের ৩নং রোডের ৬নং প্লটে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য দশ কোটি টাকা।
ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানায় রয়েছে ১৪৮ বিঘা জমির ওপর অ্যাডভান্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক। এই জমি ও এর ওপর গড়ে ওঠা সব স্থাপনার আনুমানিক মূল্য দশ কোটি টাকা। এটি বদিউজ্জামানসহ তার ছেলের নামে কেনার পর ২০১৩ সালে লাবিব গ্রুপের কাছে ৬০ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়।
গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ জেলা সদরে প্রায় ৩৫০ বিঘা জমিতে রয়েছে দুটি আবাসিক প্রকল্প- অ্যাডভান্স নিরালা ও অ্যাডভান্স সুগন্ধা। এগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। গোপালগঞ্জ সদরে সার্কিট হাউস রোডে রয়েছে নিজের নামে বিলাসবহুল আবাসিক বাড়ি, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় দশ কোটি টাকা।
অস্থাবর সম্পদ :বদিউজ্জামানের নামে ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডে প্রায় ২০ কোটি টাকার শেয়ার রয়েছে। এনআরসি ব্যাংক থেকে কেনা হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকার শেয়ার। বিভিন্ন ব্যাংকেও বদিউজ্জমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিরাট অঙ্কের অর্থ জমা রয়েছে।
চট্টগ্রামে পুলিশ হত্যা: জামাতের শাহজাহানসহ ৯৩ জনের বিচার শুরু
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আট বছর আগের পুলিশ সদস্য হত্যা মামলায় জামাতে ইসলামীর নেতা শামসুল ইসলাম ও শাহজাহান চৌধুরীসহ ৯৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত।
চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালেল বিচারক একেএম মোজাম্মেল হক চৌধুরী সোমবার তাদের বিচার শুরুর আদেশ দেন ।
আদালতের পিপি মো. আইয়ুব খান জানান, হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনায় মোট ৯৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হওয়ায় ৯৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামাত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রাণদণ্ডের রায় ঘোষণা হলে সেদিন জামাত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরে কর্মীরা গাছের গুঁড়ি ফেলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক নাশকতা চালায় তারা। পুলিশ এই প্রতিবন্ধকতা সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে জামাত শিবির কর্মীদের সংঘর্ষ হয়।
পরে লোহাগাড়া উপজেলার জমির কমপ্লেক্স নামে একটি কমিউনিটি সেন্টারে থেকে পুলিশ কনস্টেবল তারেকুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করা হয়।
আসামিদের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর জামাতের সাবেক আমির শাহজাহান চৌধুরী যিনি বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময় সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের এমপি ছিলেন।
চট্টগ্রাম মহানগর জামাতের সাবেক আমির শামসুল ইসলাম ২০০৮ সালের নির্বাচনে সাতকানিয়া থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
জামাতের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় গত ডিসেম্বরে একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ওই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।
অনুমোদনহীন ক্ষুদ্র ঋণ: আইনি ব্যবস্থার নির্দেশ হাই কোর্টের
দেশে যেসব সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়াই ক্ষুদ্র ঋণের কারবার করছে, সেসব বন্ধের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
সারা দেশে চড়া সুদে ঋণদাতা মহাজনদের চিহ্নিত করার নির্দেশনা চেয়ে করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের ভার্চুয়াল বেঞ্চে সোমবার রুলসহ এ আদেশ দেয়।
আদেশে বলা হয়েছে, অনুমোদনহীন ক্ষুদ্র ঋণের কারবার নিয়ে তদন্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করতে হবে। আদেশের অনুলিপি পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে এ কিমিটিকে প্রতিবেদন দিতে হবে।
তদন্তের সময় যদি অননুমোদিত বা লাইসেন্স ছাড়া ক্ষুদ্র ঋণ কারবারী সমবায়, বা কোনো অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, তাহলে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেসব প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় বন্ধের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে সুদ কারবারীদের তালিকা দিতে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই রিট মামলার বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ৩০ নভেম্বর তারিখ রাখা হয়েছে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর উস সাদিক।
সারা দেশে চড়া সুদে ঋণদাতা মহাজনদের চিহ্নিত করার নির্দেশনা চেয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টে এই রিট আবেদন করেন আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
গত ২৮ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে ‘চড়া সুদে ঋণের জালে কৃষকেরা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে তিনি রিট আবেদনটি করেন।
এতে মহাজনদের উচ্চহারে অনানুষ্ঠানিক ঋণ প্রথা নিষিদ্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়ার পাশাপাশি রুল চাওয়া হয়। কিন্তু আদালত সোমবার আবেদনে সংশোধন এনে রুলসহ আদেশ দেয়।
লাইসেন্স এবং অনুমোদন ছাড়া ক্ষুদ্র ঋণকারবারী বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও তদারকিতে বিবাদীদের নীরবতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
অর্থ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান, ও সমাজসেবা অদিদপ্তরের মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার আইনজীবী সায়েদুল হক সুমন সম্পূরক আবেদনের মাধ্যমে দেশে কারা চড়া সুদের ব্যবসা করছে, কীভাবে ব্যবসা করছে, সে তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে তিনি বলেন, ২০০৭ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ৭৪৬টি প্রতিষ্ঠান-সংগঠনকে ক্ষদ্রঋণের সনদ দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৩৪টি প্রতিষ্ঠান-সংগঠনের সনদ বাতিল করা হয়েছে।
শুনানিতে সুমন বক্তব্য ছিল, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষদ্রঋণের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ছাড়া আর করো সুদের ব্যবসা করার সুযোগ নেই। কিন্তু সারা দেশে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দেদারসে উচ্চহারে সুদের ব্যবসা চলছে। আর এর শিকার হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এমনকি মধ্যবিত্তও।
বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক জানতে চেয়েছিলেন, সনদ বাতিল করার পরও কেন বিবাদীদের নিষ্ক্রীয়তা চ্যলেঞ্জ করা হয়েছে?
আইনজীবী সুমনের জবাব ছিল, সনদ বাতিল হলেও তাদের ব্যবসা থেমে নেই।
বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান তখন সনদ বাতিল করা ১৩৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোন কোন প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্র ঋণের কারবার করছে জানতে চান।
আবেদনকারী আইনজীবী তা দেখাতে ব্যর্থ হলেও তিনি বলেন, মাইক্রোক্রেডিট অথরিটি চাইলে সুদের কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে এ অথরিটির কাছে অন্য কেউ অভিযোগ করতে পারবে না। অভিযোগ করতে হবে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের কর্তৃক্ষকে।
“এইসব কারণেই কিন্তু প্রতারক চক্র গড়ে উঠছে। মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছে। তদারককারী হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা আছে। কিন্তু তারা তো তদারক করছে না। এই জন্যে তাদের নিষ্ক্রীয়তা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে রিটে,” বলেন সুমন।
বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক তখন বলেন, “এই যে এত দুর্বল দেশ, এই দর্বল দিক দিয়ে আমরা সরকারকে কী দেব, কী বলব? রাগীব (এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান রাগীব এহসান) নামের এক হুজুর আগে শিক্ষক ছিল। শিক্ষকতার টাকা দিয়ে হচ্ছে না। তখন ইসলামের দোহাই দিয়ে সুদমুক্ত হালাল টাকা, গুনাহ-পাপ এই সমস্ত কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে গেছে।”
আইনজীবী সুমন বিচারকের কথায় সায় দিয়ে বলেছিলেন, এগুলো চিহ্নিত হওয়া প্রয়োজন। এরা মানুষকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে। মানুষ পথে বসে যাচ্ছে।
বিচারক তখন বলেন, “এই ইস্যুটা আমাদের আরও গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। আমরা শুনেছি, বিষয়টা আমরা দেখব। একটা-দুইটা পত্রিকার রিপোর্ট দিয়ে হবে না। আরও অনেক কিছু দেখতে হবে। এটা খুবই জটিল বিষয়। এর সাথে কোন অথটিরিট জড়িত, কী কী আইন আছে, সব দেখতে হবে।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
অবৈধ সম্পদ : সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান ও তার স্ত্রীর বিচার শুরু
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান ও তার স্ত্রী হাসিনা বেগমের বিচার শুরু হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় রোববার ঢাকার ৩ নং জজ আদালতে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হলো। একইসঙ্গে আগামী ২৭ অক্টোবর মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেছেন আদালত।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, মামলার শুনানির সময় আব্দুল মান্নান খান ও তার স্ত্রী হাসিনা বেগম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এই মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে তারা জামিনে রয়েছেন।
২০১৪ সালের ২১ আগস্ট মান্নান খানের বিরুদ্ধে ৭৫ লাখ ৪ হাজার টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। মামলা দায়েরের তিন দিন পর ওই বছর ২৪ আগস্ট মান্নান খান ঢাকা সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।
অন্যদিকে তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একই বছরের ২১ অক্টোবর মামলা করে দুদক। ওই বছর ২৩ অক্টোবর ঢাকার সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন হাসিনা সুলতানা।
২০১৫ সালের ১১ আগস্ট মান্নান খানের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। চার্জশিটে মান্নান খানের অবৈধ সম্পদের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাতে দেখা যায়, তার আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৬৬ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং তিনি সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার।
অন্যদিকে হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৯ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। চার্জশিটে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনে দেয়া হলফনামার তথ্যানুযায়ী পাঁচ বছর আগে আবদুল মান্নান খানের সম্পত্তি ছিল ১০ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। কিন্তু এমপি হওয়ার পাঁচ বছরের ব্যবধানে সেটা ফুলে-ফেঁপে হয় ১১ কোটি তিন লাখ টাকা। আগে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল তিন লাখ ৮৫ হাজার টাকা। সেই আয় বেড়ে দাঁড়ায় বছরে তিন কোটি ২৮ লাখ টাকায়। পাঁচ বছরের প্রতিমন্ত্রিত্বকালে তাঁর সম্পত্তি বেড়েছে ১০৭ গুণ। দুদকের তদন্তে বের হয়ে আসে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ।
মান্নান খান তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় এক কোটি ৪৪ লাখ ৬৩ হাজার ২২৭ টাকার উৎস দেখিয়েছিলেন মৎস্য চাষ থেকে; কিন্তু দুদকের তদন্তে, দোহার জয়পাড়া এলাকায় মান্নান খান বা তাঁর স্ত্রীর কোনো মৎস্য খামারের সত্যতা পায় নি।
সরকারি কর্মচারীকে গ্রেফতারে পূর্বানুমতির বিধান কেনো অসাংবিধানিক নয়, জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল
ফৌজদারি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার আগে সরকারি কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করতে হলে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে—সরকারি চাকরি আইনের এমন বিধান কেন অ-সাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রোববার এই রুল জারি করেন।
২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইনের ৪১ (১) ও ৩ ধারার বৈধতা নিয়ে কুড়িগ্রামের স্থানীয় সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিটটি করেন। ৩ ধারায় আইনের প্রাধান্য বিষয়ে এবং ৪১ ধারায় ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত কর্মচারীর ক্ষেত্রে ব্যবস্থাদি সম্পর্কে বলা আছে।
আইনের ৪১ (১) ধারা বলছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে দায়ের করা ফৌজদারি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার আগে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হলে, সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হবে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আজিজুর রহমান দুলু, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
আরিফুল অনলাইন গণমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি। গত বছরের ১৩ মার্চ মধ্যরাতে তাঁকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে জেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান। তখন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মাদকবিরোধী অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ৪৫০ গ্রাম দেশি মদ ও ১০০ গ্রাম গাঁজা পাওয়ায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরে আরিফুল জামিনে মুক্তি পেয়ে কুড়িগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা, এস এম রাহাতুল ইসলামসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
আইনজীবী মো. আজিজুর রহমান জানান, ফৌজদারি মামলাটি তদন্তাধীন। তবে সুলতানা পারভীনসহ অন্যরা জামিন নেননি। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, এসব কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের আগে অনুমতি লাগবে। এমনকি এস এম রাহাতুল ইসলামকে ইতিমধ্যে বরিশালে পদায়ন করা হয়। এ অবস্থায় আইনের ৩ ও ৪১ (১) ধারা চ্যালেঞ্জ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পদায়ন ও অন্যদের পদায়ন না করতে ওই রিটটি করা হয়।
রুলে ফৌজদারি মামলা থাকা কুড়িগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিনকে পদায়ন না করতে যথাযথ নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না এবং এস এম রাহাতুল ইসলামকে বরিশালে সহকারী কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসনসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
১৭ বছরেও ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন না হওয়ায় হাইকোর্টের বিরক্তি
জমি নিয়ে বিরোধের এক রিটের শুনানিতে হাইকোর্ট বলেছেন, ২০০৪ সালে আইন হয়েছে। আছে আদালতের রায় ও নির্দেশ। তা সত্ত্বেও ১৭ বছরেও আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন হলো না, যা আদালতের জন্য বিরক্তিকর।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োজিত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে আজ রোববার হাইকোর্ট এসব কথা বলেন। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিটের ওপর শুনানি হয়।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমারের উদ্দেশে আদালত আরও বলেন, ‘১৭ বছরেও আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারেননি। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে কথা বলেন। কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, জানান। ব্যবস্থা না নেওয়া হয়ে থাকলে প্রয়োজনে সচিবকে ডেকে আনা হবে।’
এ সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার বলেন, ২০১৩ সালে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বিচারক নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
তখন আদালত বলেন, ‘গ্রামারের কথা এই আদালতে বলবেন না।’
ডেমরার ডগার মৌজায় অবস্থিত সাড়ে চার কাটা জমি নিয়ে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের দুটি রায় ও সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে মো. আশরারুল আজিম ওই রিট করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নসীব কায়সার।
আইনজীবী নসীব কায়সার জানান, ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ২০০৪ সালে সংশোধন করা হয়। সংশোধনীতে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল ও আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা রয়েছে। সংশোধনীর পর ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলেও আপিল ট্রাইব্যুনাল এখনো গঠন করা হয়নি।
আইনজীবীরা বলছেন, ২০০৪ সালের সংশোধিত রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ২ ধারায় ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল ও ল্যান্ড সার্ভে আপিলের ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী দেশে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।ট্রাইব্যুনালগুলোর নেতৃত্বে আছেন যুগ্ম জেলা জজ পর্যায়ের বিচারক। ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল না থাকায় ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের রায়, ডিক্রি ও আদেশে সংক্ষুব্ধ বিচারপ্রার্থী উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
২০১৯ সালের ২৫ জুলাই হাইকোর্ট এক রায়ে অনুলিপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করে আদালতকে অবহিত করতে ভূমিসচিবকে নির্দেশ দেন।
রায়ে বলা হয়, ২০০৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত, তথা দীর্ঘ ১৫ বছরে ভূমি মন্ত্রণালয় আপিল ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করতে না পারায় লাখ লাখ মানুষ চরম ও সীমাহীন দুর্ভোগে নিমজ্জিত হয়েছে। সাধারণ জনগণ যাদের কারণে দীর্ঘ ১৫ বছর এই ভোগান্তি ভোগ করল, তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। দাঁড়াতে হবে জনগণের কাঠগড়ায়। খবরের সূত্র – প্রথম আলো।
ট্রাংকগুলো’ কোথায় গেল, সেই খোঁজটাও তারা দিক: শেখ হাসিনা
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে অপপ্রচারের জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, “আমি শুনলাম, কেউ কেউ বলেছে, আমি নাকি কত বস্তা, না কত ট্রাঙ্ক বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে না কি বিমানে এসেছি। যারা এই কথাগুলো বলেছে, তারা যখন এই বিষয়টা জানে, তো সেই ট্রাঙ্কগুলো গেল কোথায়, রাখলাম কোথায়, কী হল? সেই খোঁজটা তারা একটু দিক।”
শুক্রবার নিউ ইয়র্কের ম্যারিয়ট হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন শেখ হাসিনা। তিনি ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছিলেন।
সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতে দেড়শ সুটকেস নিয়ে সৌদি আরব চলে গিয়েছিল এবং সেখানে লকার ভাড়া করে নাকি অনেক জিনিস রেখে এসেছিল শোনা যায়। তখন সেটা প্রচার হয়েছিল।
“আর খালেদা জিয়ার মন্ত্রী বাবর (লুৎফুজ্জামান বাবর) যখন এখানে আসে, এয়াপোর্টে ধরা পড়েছিল কয়েক লক্ষ ডলার নিয়ে। পরে অ্যাম্বাসি থেকে লোক গিয়ে কোনোমতে মুচলেকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়েছিল।”
সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “যাদের এই সমস্ত বদ অভ্যাস তারা সবাইকে, মানে নিজে চোর, সবাইকে ওই রকমই মনে করে। এটা হল তাদের চরিত্র। এই ধরনের কথা তারা ছড়ায়, মনে করে যে এটা বোধহয় খুব প্রচার করতে পারবে।
“সমালোচনাকারীরা একটা কথা ভুলে যায় যে আমি জাতির পিতার মেয়ে। আমরা দেশের জন্য কাজ করি, আর ক্ষমতাটা আমাদের কাছে দেশসেবা করা, মানুষের সেবা করা। আমরা অর্থ সম্পদের জন্য লালায়িত না।”
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তাদের সন্তানরা ক্ষমতাটাকে ভোগের জায়গা বানিয়েছে। ক্ষমতাটাকে তারা নিজেদের ভাগ্য গড়ার জায়গা বানিয়েছে।
“আর আমাদের কাছে ক্ষমতা হচ্ছে মানুষের ভাগ্য গড়া, বাঙালির ভাগ্য গড়া, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য গড়া। দেশের মানুষের উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে সরকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।”
জাতিসংঘের ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে গত শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে ফিনল্যান্ডে দুদিন যাত্রা বিরতি শেষে রোববার নিউ ইয়র্কে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। ফিরতি যাত্রায় আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র থেকে রওনা হয়ে ফিনল্যান্ডে যাত্রা বিরতির পর ১ অক্টোবর তিনি দেশে ফিরবেন।
করোনাভাইরাস মহামারীকালে এই সফরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চার্টার ফ্লাইট ব্যবহার করছেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবারের অনুষ্ঠানে তার ব্যাখ্যাও দেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের ড্রিমলাইনার, সেটা নিয়েই আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। কেন এসেছি? দুটো কারণ। একটা হচ্ছে যে আমি যদি এই করোনার সময় অন্য এয়ারলাইন্সের টিকেট করি, তাহলে তাদেরকে টাকা দিতে হয়। আর আপনারা জানেন আন্তর্জাতিক রুটগুলো করোনার কারণে বন্ধ ছিল। আমাদের বিমানগুলো বসেই ছিল। আর একটা বিমান বসে থাকলে তার রক্ষণাবেক্ষণে একটা বিরাট টাকা খরচ হয়।
“সেজন্যই আমি বললাম, আমরা অন্য এয়ারলাইন্সকে টাকা না দিয়ে আমাদের বিমান নিয়ে আসব। কারণ ওরা তো দেশে বসে আছে। কাজেই আমাদের সাথে আসলো আর ঘরের টাকা ঘরেই থাকল, বিমানই পেল।”
দ্বিতীয় কারণ হিসেবে নিউ ইয়র্কে বিমানের ফ্লাইট পুনরায় চালুর কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
“আমাদের লক্ষ্য যে নিউ ইয়র্কে অন্তত আমাদের নিজেদের বিমান আসবে। সেটাও আমরা আনতে চাই।
জেএফকে (জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) তে ল্যান্ডিং করার প্র্যাকটিসটাও হয়ে গেল। ভবিষ্যতে তো আসব। কাজেই তার প্র্যাকটিসটা এখানে থেকেই করে গেলাম।”
বিমানের অবস্থা এক সময়ে ‘ঝরঝরে’ ছিল মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “বিএনপির আমলে বিমানের সীমাহীন দুর্নীতি ছিল। এই পর্যন্ত প্রায় ১১টা বিমান আমরা ক্রয় করেছি, আজকে আমাদের ২১টা বিমান।”
‘উন্নয়নবিরোধীরাই ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায়’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে বাংলাদেশ নিয়ে যারা বিদেশে ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায়, এরা আসলে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। এরা বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বাস করে না। এরা বাংলাদেশের সর্বনাশে বিশ্বাস করে।
“কেউ কেউ দেখি সমালোচনা করে দূর দেশে বসেই বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার। আমরা যখন কাজ করে বাংলাদেশকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছি, আর এদের কাজ হচ্ছে বাংলাদেশকে কিভাবে খাটো করবে।”
যারা আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘অবৈধ সরকার’ বলছেন, তারা বিএনপির থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তা করছেন বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
“আওয়ামী লীগ সরকারকে আমি দেখি কেউ কেউ অবৈধ সরকার বলে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে তারা এই যে কথাগুলো বলার সুযোগটা পাচ্ছে, এই সুযোগটা কোত্থেকে পাচ্ছে? আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি বলেই তো সেই সুযোগটা পাচ্ছে। এতই যদি তাদের নীতি-আদর্শ থাকে, তাহলে আমাদের করা এই ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে কেন?
“আর যাদের পয়সা খেয়ে তারা করে ..আমি বিএনপির কথাই বললাম। বিএনপি, জামাত বা ৭৫ এর খুনি, এদের অর্থ দিয়েই তো এরা চলে।”
শেখ হাসিনা বলেন, “উচ্চ আদালতের রায়ে আছে জিয়াউর রহমানের সরকার অবৈধ, এরশাদের সরকার অবৈধ। কারণ মার্শাল ল দিয়ে তারা সরকার গঠন করেছে। আর জিয়াউর রহমানের স্ত্রী এতিমের টাকা মেরে খেয়ে সাজাপ্রাপ্ত, আর তার ছেলে দশ ট্রাক অস্ত্র পাচার করতে গিয়ে সেই মামলায় ধরা পড়েছে, ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় ধরা পড়েছে, এমনকি বিদেশে শুধু আমাদের দেশে না আমেরিকার আফবিআইয়ের হাতেই তাদের দুর্নীতি ধরা।”
তিনি বলেন, “তাদের এত টাকা! বাংলাদেশের মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে তারা এত অর্থ বানিয়েছে যে এফবিআইয়ের লোক তারা হায়ার করে ফেলেছিল। যেটা এফবিআইয়ের কাছেই ধরা পড়ে। আর সেই মামলা করতে গিয়ে সেখানে ধরা পড়ে যে এই বিএনপি অর্থ দিয়েছে জয়কে (সজীব ওয়াজেদ জয়) আমেরিকায় বসে তাকে কিডন্যাপ করার,তাকে হত্যা করার। এটা আমরা জানতাম না। এই মামলা চলার পরেই সে রায়ে বেরিয়েছে তাদের নাম।
“যারা জনগণের অর্থ সম্পদ লুট করে, খুন করে অথবা অস্ত্র পাচার করার অথবা গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি, সেই আসামিদের হাতের টাকা খেয়েই তো তারা এই বড় বড় কথা বলে আর তারাই বলে আওয়ামী লীগ অবৈধ।”
জিয়াউর রহমানে র ক্ষমতা দখলকে আদালত অবৈধ বলে রায় দিয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “তো অবৈধ সরকারের তাঁবেদারি করে আওয়ামী লীগকে বা আওয়ামী লীগ সরকারকে অবৈধ বলায় অধিকারটা তাদেরকে কে দিল?
“জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে এবং বিএনপির যদি শক্তি থাকত তাহলে তারা নির্বাচন করত।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে ‘আইন প্রণয়নের’ জন্য ৫৩ নাগরিকের আহবান
নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠনে ‘আইন প্রণয়নের’ আহবান জানিয়ে এবং এ বিষয়ে মতামত দিয়ে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন ৫৩ জন নাগরিক।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এমন আহবান জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। তাই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের উদ্যোগ এখনই শুরু করতে হবে। এর প্রাথমিক পদক্ষেপ হবে একটি আইন প্রণয়ন করা।
“আমরা আশা করি যে, সঠিক ব্যক্তিদের নিয়ে ইসি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সরকারের নির্দেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয় একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ জরুরি ভিত্তিতে গ্রহণ করবে।
“নাগরিক হিসেবে মতামত প্রদানের মাধ্যমে আমরা এ ব্যাপার প্রয়োজনীয় সহায়তা করতে পারি।” গত দুটি নির্বাচন কমিশন নিয়োগে রাষ্ট্রপতি দুটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেন। বিবৃতিতে ২০১২ সালে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ এবং ২০১৭ সালে কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে গড়া ওই দুটি কমিশনের সমালোচনা করা হয়।
সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে ‘আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে’ নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ প্রদানের নির্দেশনা থাকলেও গত ৫০ বছরে কোনো সরকারই এমন একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদে বলা আছে, “প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে।
“উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোনো আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করিবেন।” এ জন্য প্রস্তাবিত আইনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ করতে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে অনুসন্ধান কমিটি গঠনের বিধান রাখার পরামর্শ দেয়া হয় বিবৃতিতে।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য আইনজীবী আমীর-উল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান, আকবর আলি খান ও রাশেদা কে চৌধূরী, সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি আব্দুল মতিন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেনসহ বিভিন্ন পেশার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি রয়েছেন।
এছাড়াও রয়েছেন, মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মহিউদ্দিন আহমদ, অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর পারভীন হাসান, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, অর্থনীতিবিদ আহসান মনসুর, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও শাহদীন মালিক, ফেমার সাবেক সভাপতি মুনিরা খান, নারীপক্ষের সদস্য শিরিন হক, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সালমা আলী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারা হোসেন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, একশনএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, সাবেক সচিব আবদুল লতিফ মণ্ডল, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, আলোকচিত্র শিল্পী শহিদুল আলম, ব্রতীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন মুরশিদ, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সি আর আবরার, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, লেখক অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আকমল হোসেন, সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের গবেষক অধ্যাপক স্বপন আদনান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম, সাবেক ব্যাংকার সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস ও শাহনাজ হুদা, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক গোলাম মোনোয়ার কামাল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের ক্লিনিক্যাল নিউরোসায়েন্স সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক নায়লা জামান খান, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, আর্টিকেল ১৯-এর আঞ্চলিক পরিচালক ফারুক ফয়সাল, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সিনিয়র ডিরেক্টর আবদুল আলিম ও মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন।









