ঢাকা   রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩   রাত ১০:৩৫ 

Home Blog Page 100

বরিশালে রাস্তায় প্রকাশ্যে শিশু গৃহকর্মীকে মারধর করলেন ডিবির ওসির স্ত্রী

0

বরিশাল নগরীতে রাস্তায় প্রকাশ্যে শিশু গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জেলা ডিবির পরিদর্শক মিজানুর রহমানের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ সময় বাঁধা দিতে গেলে পরিদর্শকের ছেলেও স্থানীয়দের সঙ্গে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর চৌমাথা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মীর নাম মনি (১১)। সে বাবুগঞ্জ উপজেলার মন্টু হাওলাদারের মেয়ে। ওই গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।
শিশু গৃহকর্মী অভিযোগ করে- সে রূপাতলী এলাকায় ডিবির পরিদর্শক মিজানুর রহমানের বাসায় কাজ করত। এ সময় তাকে অনেকবারই বকাঝকা করা হতো। বৃহস্পতিবার সে বাসা থেকে পালিয়ে যায়। এরপর তাকে নগরীর চৌমাথা এলাকায় মিজানুর রহমানের স্ত্রী রাস্তায় প্রকাশ্যে মারধর করে। এ সময় তার ছেলেও চড়-থাপ্পড় দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী রফিকুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, মেয়েটি চৌমাথা বাজারের সামনের রাস্তা পার হচ্ছিল। এর মধ্যে এক মহিলা ও একজন ছেলে মেয়েটির হাত ধরে টান দেয় এবং মারা শুরু করে। এ সময় মেয়েটি বলতে থাকে- ‘মুই আমনেগো লগে যামু না, ওই বাসায় মইরা গেলেও যামু না’। এ সময় লোকজন জমা হয়ে যায় এবং শিশুটিকে মারার কারণ জানতে চান। পাশাপাশি মারধরকারী ওই মহিলা ও ছেলেকে পুলিশে দেয়ার কথা বললে ওই মহিলা ও তার ছেলে উল্টো পুলিশকে গালাগালি করে।
আরও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী রাস্তায় মেয়েটির ওপর নির্যাতনের কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত মহিলার স্বামী জেলা ডিবির পরিদর্শক মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তিন দিন আগে শিশুটির মা-বাবা আমাদের বাসায় রেখে যান। আমার স্ত্রী অসুস্থ। আজ সকালে সে রিপোর্ট দেখানোর জন্য বাইরে বের হয়েছে। আমি বাসায় একটু ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। এই সুযোগে শিশুটি ঘরের বাইরে বের হয়ে যায়।
১২ বছরের শিশু আপনার বাসায় কী কারণে রেখেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিশুটি অসহায় হওয়ায় তার মা আমার বাসায় দিয়ে গিয়েছিলেন। আমার সন্তানদের সঙ্গী হিসেবে থাকতো শিশুটি। তাকে গৃহকর্মী হিসেবে রাখা হয়নি।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম বলেন, শিশুটির সঙ্গে কথা বলেছি। ৬ দিন আগে সে ওই বাসায় কাজ শুরু করেছে। সেখানে বকাঝকা করায় মেয়েটি ক্ষুদ্ধ হয়ে বাসা থেকে আজ সকালে বের হয়ে যায়। পরিদর্শকের পরিবারের লোকজন খুঁজতে বের হয়, ঘটনাস্থলে এসে শিশুটিকে পেলে তারা বাসায় নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু মেয়েটি না যেতে চাইলে টানাহেঁচড়া হয়। যে বিষয়টি দৃষ্টিকটু। এরপর পুলিশ খবর পেয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। শিশুটি বর্তমানে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রয়েছে, তার পরিবার এসে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বলেন, যেহেতু শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেহেতু শিশুটিকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। ভিকটিমের জবানবন্দি ও বাবা-মায়ের অভিযোগ সব কিছু শুনেই ঘটনার তদন্ত করে যা সামনে আসবে সেভাবেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন সবার জন্য সমান। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

সরকারি চাকরিজীবীদের পরিবার ব্যবসা করতে পারবেন না,মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠি

0

সরকারি কোনও কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের উপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা কোনও প্রকার ব্যবসা করতে পারবে না- মর্মে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সকল মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠির প্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন সিকদার স্বাক্ষরিত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে লেখা চিঠিতে দুদক বলেছে, “ দুর্নীতি দমন কমিশন পরিচালিত বিভিন্ন অনুসন্ধানে দেখা দেখা গেছে কিছু কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের উপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যগণ সরকারি অনুমোদন ছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যা সরকারি কর্মচারী চাকুরি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংগত কারণে চাকুরি বিধিমালার নির্দেশনাসমূহ অনুসরণের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে কমিশন মনে করে।”
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, “উপরিউক্ত অবস্থা নিরসনকল্পে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করার জন্য সদয় অনুরোধ করা হলো”।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই চিঠিটি গ্রহণ করে।
দুদক সচিবের লেখা এই চিঠির প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে সকল মন্ত্রণালয়ের সচিবকে তার আওতাধীন সংস্থা বা দফতরসমূহকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য অনুরোধ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মাজেদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত চলতি বছরের ৪ মার্চ লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, “ দুর্নীতি দমন কমিশন কিছু কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের উপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যগণ সরকারি অনুমোদন ছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন যা সরকারি কর্মচারী চাকুরী বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বিধায় বিষয়টি নিরসনকল্পে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করার জন্য এ বিভাগকে (মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ) অনুরোধ জানিয়েছে।
এমতাবস্থায় বর্ণিত বিষয়টি নিরসনকল্পে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক তার আওতাধীন সংস্থা বা দফতরসমূহকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।”
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা-১৯৭৯ এর ১৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “ ব্যক্তিগত ব্যবসা অথবা চাকরি। (১) এই বিধির অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, কোন সরকারি কর্মচারী সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে সরকারি কার্য ব্যতীত অন্য কোন ব্যবসায়ে জড়িত হইতে অথবা অন্য কোন চাকরি বা কার্য গ্রহণ করিতে পারিবেন না। তবে একজন ননগেজেটেড সরকারি কর্মচারী উক্তরূপ অনুমোদন ব্যতিরেকে তাঁহার পরিবারের সদস্যদের শ্রম কাজে লাগাইয়া ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাইতে পারিবেন এবং এইক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে সম্পত্তির ঘোষণাপত্রের সহিত ব্যবসার বিস্তারিত বিবরণ দাখিল করিতে হইবে”।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব গণমাধ্যমের কাছে এ বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছেন, আমরা দুদকের চিঠি পেয়েছি এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য সকল মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠিও পাঠিয়েছি। যদিও চাকরি বিধিমালায় এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া আছে। তার পরেও যেহেতু দুদক অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে, সেহেতু সেই চিঠির বরাতে আমরাও আরেকটি নোটিশ করেছি।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, সিলেটে এক প্রতারক গ্রেফতার

0

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।
গ্রেফতারকৃতের নাম- কামরুল হাসান হিমেল। এসময় তার হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি, মোবাইল ফোন, সীম কার্ড, ফেক ফেসবুক ও হোয়াটসএ্যাপ আইডি উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (৭ জুলাই) সিলেট জেলার সদর থানার সুরমা টাওয়ার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম টিম।
কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম টিমের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ইশতিয়াক আহমেদ জানান, গ্রেফতারকৃত হিমেল প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তার নিজস্ব ফেসবুক আইডি হতে বিভিন্ন ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করে। অভিযুক্ত ফেসবুক এ্যাকাউন্ট থেকে সংগৃহীত ছবি দিয়ে ফেইক ফেসবুক আইডি খুলে বিভিন্ন পেশার লোকদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট প্রেরণ করে পরিচিত হত। অতঃপর তাদের চাকুরীর লোভ, চাকুরীজীবিদের ভাল জায়গায় পোস্টিং, সরকারী কোয়াটার্স দেয়ার কথা বলে প্রতারণামূলকভাবে বিভিন্ন ব্যাংক এ্যাকাউন্ট, মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েক লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই প্রতারক।
তাকে আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ প্রেরণ করলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতির দাবিতে জেনেভায় মানববন্ধন ও সমাবেশ

0

একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে জেনেভায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।
বুধবার অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতি দাবির পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে তাদের দেশ মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবর্তনের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা এ মানববন্ধন কর্মসূচি চলে।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সর্বইউরোপীয় শাখার সভাপতি তরুণকান্তি চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সমাবেশে বক্তব্য দেন নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি লেখক, সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, ব্রিটিশ মানবাধিকার নেতা জুলিয়ান ফ্রান্সিস, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভাষাসংগ্রামী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পৌত্রী সমাজকর্মী আরোমা দত্ত এমপি, অস্ট্রেলিয়ান লেবার পার্টির এমপি লরি ফার্গুসন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, খেমাররুজ ট্রায়ালের কম্বোডিয়ান টাস্কফোর্সের উপদেষ্টা গণহত্যা বিশেষজ্ঞ ড. হেলেন জার্ভিস, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলিম চৌধুরীর কন্যা অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী, ভারতের লেখক সাংবাদিক হিরণ্ময় কার্লেকার, টার্কিশ পেন-এর সাবেক সভাপতি কবি ও নাট্যকার তারিক গুনারসেল, ভারতের জহওরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার ভরদ্বাজ, যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় গ্রহণকারী ইরানের মানবাধিকার নেতা বানাফশে যাদ, পোল্যান্ডের মানবাধিকার কর্মী নাটালিয়া সিনায়েভা পাঙ্কোভস্কা, যুক্তরাষ্ট্রের বায়োমেডিকেল বিজ্ঞানী ড. জেফ মুডি, যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার নেতা ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন, টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি ফোরাম ফর হিউম্যানিজম-তুরস্কের সভাপতি লেখক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ফেরহাত আতিক, ফোরাম ফর সেক্যুলার ইজিপ্ট অ্যান্ড মিডল ইস্টের সভাপতি মানবাধিকার নেতা সাংবাদিক মহসিন আরিশি, সুইজারল্যান্ডের আর্থ ফোকাস ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি নিকোলাস ফুরে, সুইজারল্যান্ডে আশ্রয় গ্রহণকারী বেলুচ মানবাধিকার নেতা মুনির মেঙ্গাল, ওয়ার্ল্ড সিন্ধি কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকার নেতা ড. লাকু লুহানা, যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় গ্রহণকারী সিন্ধি মানবাধিকার নেতা ড. সাগর শেখ, ভারতের ভূ-রাজনৈতিক বিশ্নেষক ও লেখক প্রিয়জিৎ দেব সরকার, ইংল্যান্ডের মানবাধিকার নেতা ভাল হার্ডিং এবং পাকিস্তানের মানবাধিকার নেতা তাহিরা আবদুল্লাহ।
বক্তারা বলেন, একাত্তরে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের দোসররা বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়ে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছিল। বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিলে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ আছে।
২০১০ সালে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এ গণহত্যায় জড়িত পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগীদের বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখনও এ কার্যক্রম চলছে। ইতিহাসের এত বড় গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া না হলে বিশ্বের অন্যান্য স্থানেও এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

সাবেক ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ করলো এনবিআর

0

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী ও তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বুধবার সংস্থাটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল থেকে সব ব্যাংকে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান দখল করে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতে অভিযুক্ত প্রশান্ত কুমার হালদারকে (পি কে হালদার) সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এনবিআরের চিঠি পাওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে নির্দেশনা কার্যকর করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি পরিপালন প্রতিবেদন পাঠাতে হবে এনবিআরে।
পি কে হালদারের অনিয়মের সহযোগী হিসেবে আটক ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক এমডি রাশেদুল হক ও পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জল কুমার নন্দি আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেন।
রাশেদুল হক তার জবানবন্দিতে বলেন, পি কে হালদারের ক্ষমতার অন্যতম উৎস ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী। তার মাধ্যমেই পি কে হালদার বিভিন্ন অনিয়ম চাপা দিতেন। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক ও বর্তমানে নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলমকে প্রতি মাসে দেওয়া হতো দুই লাখ টাকা। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন বিভাগের সহকারী পরিচালক থেকে যুগ্ম পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা বছরে দুই বার পরিদর্শনে আসতেন। অনিয়ম না ধরার জন্য প্রতিবার তাদের পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা দেওয়া হতো। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে তাদের ও পরিবারের সদস্যদের অ্যাকাউন্ট তলব করে এনবিআর।
আদালতে জবানবন্দির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর শাহ আলমকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পরিদর্শন বিভাগের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

লকডাউনে গ্রেপ্তার, গারদে গাদাগাদি: এটর্নি জেনারেলকে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি দেখতে বললেন হাইকোর্ট

0

চলমান বিধি-নিষেধ অমান্যের অভিযোগে আটকদের প্রিজনভ্যানে করে নিম্ন আদালতের গারদে নিয়ে গাদাগাদি করে রাখার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে এনেছেন এক আইনজীবী।
এরপর অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিষয়টি দেখতে বলেছেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের একক ভার্চ্যুয়াল বেঞ্চ। আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, তিনি পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানাবেন।
লকডাউনে গ্রেফতার ব্যক্তিদের কোর্ট হাজতে না নিয়ে থানায় রেখে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করার জন্য আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. জোবায়দুর রহমান, আল রেজা মো. আমির এবং মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন।
আদালতে মো. আসাদ উদ্দিন বলেন, লকডাউনে প্রতিদিন শত শত মানুষ গ্রেফতার হচ্ছে। গত ছয়দিনে এর সংখ্যা ৩০৬৫ জন। গ্রেফতারদের প্রতিদিন প্রিজনভ্যানে গাদাগাদি করে একসঙ্গে কোর্ট হাজতে নেওয়া হয়। সেখানে শত শত মানুষ একসঙ্গে গারদের মধ্যে অবস্থান করে। পরস্পরের শরীরের সঙ্গে শরীর এবং নিশ্বাসের সঙ্গে নিশ্বাস মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। বাইরে আত্মীয়-স্বজনরাও ভিড় করেন। ফলে সেখানে আশংকাজনকভাবে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এসময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, পুলিশের বাধ্যবাধকতা আছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নেওয়ার। তখন আসাদ উদ্দিন বলেন, ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে সেটি সম্ভব।
পরে আদালত অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনের কাছে এ বিষয়ে কী করা যায় তা জানতে চান। তখন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তিনি পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানাবেন।
পরবর্তীসময়ে আসাদ উদ্দিন আদালতে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৪ ধারাটি উল্লেখ করে বলেন, এ ধারার বিধান অনুযায়ী ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিই গ্রেফতার ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা পূরণে যথেষ্ট। তখন আদালত বলেন, সরকারতো ভালো বুঝেই আইন করেছে। কিন্তু এর বাস্তবায়নে যে জনশক্তি ও লজিস্টিক সাপোর্ট লাগবে তা তো সহসাই ব্যবস্থা করা কঠিন। আপনি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলাপ করেন, চিন্তার শেয়ার করেন দেখেন কী করা যায়। অবশ্যই বিষয়টির গুরুত্ব আছে। বাংলা নিউজ।

বিচারব্যবস্থাকে কুলষিত করার অভিযোগ, মমতা বন্দোপাধ্যায়কে ৫ লাখ টাকা জরিমানা কলকাতা হাইকোর্টের

0

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হাইকোর্ট একটি মামলায় বিচারব্যবস্থাকে কুলষিত করার অভিযোগে রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। বহুল আলোচিত নন্দীগ্রাম মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৌশিক চন্দের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিলেন মমত্ বন্দোপাধ্যায়ের আইনজীবীরা। রায় ঘোষণার পরই মামলা থেকে সরে দাঁড়ান বিচারপতি কৌশিক চন্দ। এই বিচারপতির সঙ্গে বিজেপির যোগ থাকার অভিযোগে সরব তৃণমূল। চরমে ওঠে বিতর্ক। অভিযোগ-পালটা অভিযোগে সরগরম হয় রাজ্য রাজনীতি। অবশেষে মামলা থেকে সড়ে দাঁড়ালেন বিচারপতির কৌশিক চন্দ। পাশাপাশি বিচার ব্যবস্থাকে কলুষিত করার অভিযোগে মামলাকারী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করলেন তিনি। বার কাউন্সিলে সেই টাকা জমা দিতে হবে।
বুধবার নন্দীগ্রাম মামলা থেকে সড়ে দাঁড়ানোর আগে বিচারপতি কৌশিক চন্দ বলেন, ‘যদি একজন আইনজীবী কোনও দলের হয়ে দাঁড়াতে পারেন। তখন তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে না। একজন বিচারপতিও সাধারণ মানুষ। তাঁরও কাউকে ভাল লাগতে পারে। তবে কাজের সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই।’ এখানেই শেষ নয়, বিচারপতি বদলের দাবিকে ঘিরে যা যা অভিযোগ করেছেন শাসকদলের নেতা-নেত্রীরা। বুধবার সেই বিষয়টিও উল্লেখ করেন বিচারপতি। তিনি জানান, একজনের কথা মত বিচারপতি পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে যান না। এরপর মামলাকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আদালতকে কলুষিত করার অভিযোগ করেন তিনি। সঙ্গে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করেন। করোনায় সেবামূলক কাজে ব্যবহার করা হবে সেই টাকা। যদিও জরিমানার বিষয়টির বিরোধিতা করেছে তৃণমূল। শাসকদলের নেতা শেখ সুফিয়ান বলেন, ‘একজন সাংবিধানিক প্রধানকে জরিমানা করা হচ্ছে কr কারনে ! আমরা এটা রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আবেদন করব’।
কৌশিক চন্দের এজলাসে নন্দীগ্রাম মামলা উঠলে, বিচারপতির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে তৃণমূল শিবির। বিজেপির একটি অনুষ্ঠানে দিলীপ ঘোষের সঙ্গে কৌশিক চন্দের দুটি ছবি টুইট করেন ডেরেক ও’ব্রায়েন । এর পাশাপাশি আরও একটি টুইটে তিনি দাবি করেন, ১০টি মামলায় বিজেপির হয়ে কলকাতা হাইকোর্টে সওয়াল করেছেন আইনজীবী কৌশিক চন্দ। কৌশিক চন্দের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ দিন হাইকোর্টে বিক্ষোভ দেখান আইনজীবীদের একাংশ।
বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাস থেকে মামলা অন্যত্র সরানোর জন্য কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে আর্জি জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে প্রধান বিচারপতির কাছে তাঁর আইনজীবী জানান, ‘২০২১ সালের এপ্রিলে কৌশিক চন্দকে স্থায়ী বিচারপতি করার জন্য চিঠি দেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। তখন আপত্তি তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পাশাপাশি ওই বিচারপতি বিজেপির সক্রিয় সদস্য। অতএব তিনি পক্ষপাতদুষ্ট। পরিশেষে অনুরোধ করছি, পক্ষপাত এড়ানোর জন্য মামলাটি অন্য বেঞ্চে পাঠানো হোক।’ সূত্র-জি২৪ ঘন্টা।

সালিশে কিশোরীকে বিয়ে : পটুয়াখালির সেই চেয়ারম্যানের বরখাস্তের আদেশ হাইকোর্টে স্থগিত

0

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদারকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ এক মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন।
সালিশ-বৈঠকে অসহায় এক পরিবারকে প্রভাবিত করে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে বিয়ে করায় ঘটনায় আলোচিত হন এ চেয়ারম্যান। এ ঘটনায় তাকেও বরখাস্ত করা হয়েছিলো।
আদালতে শাহীন হাওলাদারের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
গত ২৮ জুন সালিশ-বৈঠকে অসহায় এক পরিবারকে প্রভাবিত করে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে বিয়ে করায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ৬ নম্বর কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এতে বলা হয়, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ৬ নম্বর কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদার সালিশ করতে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপ্রাপ্ত বয়স্ক (১৪ বছর ২ মাস ১৪ দিন) কিশোরীকে বিয়ে করেন। এ ঘটনায় তিনি স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪ (৪) (ঘ) ধারার অপরাধ সংঘটিত করায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এছাড়া কেন তাকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না পত্রপ্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তার জবাব সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে বিয়ে করায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: দুর্নীতির মামলায় দণ্ড নিয়ে মরতে হলো মেয়র খোকাকে, পরিচিতি ছিলো মি. টুয়েন্টি পার্সেন্ট হিসেবে, উত্তরসূরি খোকনও গেলেন সেপথে, লুট হয়েছে শত শত কোটি টাকা

0

অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনে সর্বশেষ মেয়র ছিলেন বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা। ঢাকা সিটি করপোরেশন বিভক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সব মিলিয়ে ১০ বছরের বেশি সময়। কিন্তু সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে ওঠে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ। সিটি করপোরেশনের কোটি কোটি টাকা তিনি লুটপাট করেন এবং আমেরিকায় পাচার করেছেন। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতির মামলা হয় এবং একটিতে ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয়। বাজেয়াপ্ত হয় সব সম্পত্তি। দেশ থেকে পালিয়ে যান এবং ১৩ বছরের কারাদণ্ড মাথায় নিয়েই ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর আমেরিকায় মৃত্যুবরণ করেন। একজন রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর দুর্নীতিতে জড়িয়ে যাওয়ার ঘটনায় এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সৃষ্টি হয়। দেশমাতৃকার টানে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে যিনি দেশ স্বাধীন করলেন সেই তিনি দেশ সেবার দায়িত্ব পেয়ে কেনো দুর্নীতিতে জড়ালেন এমন প্রশ্নের কোনো জবাব পাওয়া যায় নি। মি.খোকার আমলে ঢাকা সিটি করপোরেশন দুর্নীতির আখড়া হয়ে ওঠে। তিনি মেয়র থাকাকালে সিটি করপোরেশনের সব বিভাগে ‘মিস্টার টুয়েন্টি পার্সেন্ট’ নামেও আখ্যায়িত হয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে উন্নয়নমূলক টেন্ডার কার্যক্রম থেকে শুরু করে মশক নিধনের ওষুধ ছিটানো কার্যক্রম পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই মেয়রের টুয়েন্টি পার্সেন্ট পরিশোধ করে তবেই কাজ শুরুর নির্দেশনা ছিল।

সাবেক মেয়র খোকার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ছাড়াও ডিসিসির ৮০০ কোটি টাকার সম্পদ ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ, দোকান বরাদ্দ,বাস টার্মিনাল ইজারা,যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভার নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে মেয়র খোকার বিরুদ্ধে। তার মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে দুর্নীতির মামলা, অভিযোগ, কারাদণ্ড সবকিছুই তামাদি হয়ে গেলেও দুর্নীতিমুক্ত হতে পারেনি সিটি করপোরেশন। ২০১১ সালে সরকার আইন করে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে বিভক্ত করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দু ভাগে ভাগ করে। আর এর মধ্যে দিয়ে মেয়র খোকার শাসনের অবসান হয়। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে দুই সিটিতে নির্বাচন হয়। ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের পুত্র সাঈদ খোকন আর উত্তরে নির্বাচিত হন ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক।
উত্তর সিটি নিয়ে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ না ওঠলেও দায়িত্ব গ্রহণের কিছুদিন যেতে না যেতেই দক্ষিণ সিটি নিয়ে ফের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠতে থাকে। অনেকটা মেয়র খোকার উত্তরসূরি হিসেবে নাম ওঠতে থাকে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে। বরং আরেকদফা এগিয়ে চলতে থাকেন সাঈদ খোকন। কমিশন ছাড়া তিনি কোনো কাজেই হাত দেননি। খোকার পরিচিতি ছিলো মি.টুয়েন্টি পার্সেন্ট হিসেবে আর সাঈদ খোকনের পরিচিতি পায় মি. টুয়েন্টি ফাইভ পার্সেন্ট হিসেবে। সিটি করপোরেশনে দুর্নীতিকে তিনি অনেকটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে দেন। এমন অভিযোগ ওঠায় তাকে দ্বিতীয় বার আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় নি। মনোনয়ন পান ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এবং তিনি নির্বাচিত হন।
মেয়র হিসেবে ব্যারিস্টার তাপস দায়িত্ব গ্রহণের পর বের হতে থাকে সাঈদ খোকনের দুর্নীতির চিত্র। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যে সেক্টরেই হাত দেয়া হয় সেখানেই মেলে সাঈদ খোকনের দুর্নীতির প্রমাণ। অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন। আর মিলে চাঞ্চল্যকর তথ্যপ্রমাণ। শুধু সিটি করপোরশেনের ফুলবাড়িয়ার মার্কেট নির্মাণ এবং আরো দুটি মার্কেটে দোকান বরাদ্দ দিয়েই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সাঈদ খোকন।

অনুসন্ধানে নেমে সাঈদ খোকনের দুই সহকারি একান্ত সচিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। তারা হলেন এপিএস আবুল কালাম আজাদ এবং আব্দুল কুদ্দুস। চলতি বছর ১০ ফেব্রুয়ারি আবুল কালাম আজাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তার বিরুদ্ধে সাঈদ খোকনের দুর্নীতিতে সহযোগিতা করা ছাড়াও অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনো কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্তার প্রমাণ মিলে।
চলতি বছর ২১ জানুয়ারি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এপিএস শেখ আব্দুল কুদ্দুসকে। তিনিও সাঈদ খোকনের দুর্নীতির বিষয়ে তথ্য প্রমাণ দেন। সাঈদ খোকন ঘনিষ্ট লোকজনের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেন। তার কমিশনের টাকা এসব অ্যাকাউন্টে লেনদেন হতো। দুদকের অনুসন্ধানে বের হয়েছে, বিভিন্ন সময় বাল্যবন্ধু ভুট্টো, পরিমল ও অতুলের মাধ্যমে এক্সিম ব্যাংক পল্টন শাখা থেকে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা নগদ উত্তোলন করে নেন সাঈদ খোকন। পুরান ঢাকার আলু বাজারের শিট ব্যবসায়ী মো. নাসিমের নামে বেসরকারি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টেও সাঈদ খোকন রাখেন কোটি কোটি টাকা। এটি সাবেক মেয়রেরই বেনামী একাউন্ট এবং এই একাউন্টে কোটি কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন তথ্য পায় দুদক। এভাবে ২০১৫ সালের ২১ জুন থেকে ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে চার দফা নগদ ও ৪২টি চেকের মাধ্যমে ৩৪ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ৫৭৫ টাকা তুলে নেয়া হয়। এ অর্থ সাঈদ খোকনেরই আরেকটি বেনামি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের প্রমাণ পায় দুদক।
দুদক সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন তিনটি মার্কেটে দোকান নির্মাণের ঠিকাদারি প্রদান, দোকান বরাদ্দ, বিদেশ ভ্রমণসহ নানা সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে তিনি দুর্নীতি করেন। চলতি বছর মার্চ মাসে একজন ব্যবসায়ীর দায়েরকৃত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে উদঘাটিত হয় সাঈদ খোকনের ‘ঘুষ কেলেঙ্কারি’। ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন দিলু আদালতে এ মামলা করেন। মামলায় সাঈদ খোকন কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন-মর্মে উল্লেখ করা হয়।

এই শত কোটি টাকার মধ্যে অন্তত ৩৫ কোটি টাকা লেনদেন হয় ব্যাংকিং চ্যানেলে। কোটি কোটি টাকার চেক, পে-অর্ডারে রূপান্তরের মাধ্যমে বেনামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাব নম্বরে এ অর্থ স্থানান্তর হয়। সাঈদ খোকন তার অনুগত বিশ্বস্ত প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদারের মাধ্যমে এই লেনদেন করতেন। বিনিময়ে ইউসুফ আলী সরদারও কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। ব্যারিস্টার তাপস মেয়রের দায়িত্ব নিয়েই বরখাস্ত করেন রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলীকে।
চাকরিচ্যুত এই রাজস্ব কর্মকর্তার ‘সেকেন্ড হোম’ রয়েছে কানাডায়। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। তার স্ত্রী রাশিদা আক্তার (পাসপোর্ট নং-বিকে-০৪৬৪৩৩৩), মেয়ে ইশরাত ইয়াসমিন ইরা (পাসপোর্ট নম্বর বিকে-০৪৬৪৯৬০) বর্তমানে কানাডা প্রবাসী। তাদের বিষয়েও পৃথক অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক।
ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন দেলু নিজেও সাঈদ খোকনকে ঘুষ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলার এজাহারে। ঘুষ দিয়েও কাজ না পাওয়ায় তিনি মামলা করতে বাধ্য হন। দুদকের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে , অর্থের বিনিময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তিনটি মার্কেটে অবৈধভাবে ৯১১টি দোকান তৈরি করেন দেলোয়ার হোসেন দিলু ও তার সহযোগিরা।
এসব দোকান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে বরাদ্দ দিয়ে অন্তত ১৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। এর মধ্যে ১০০ কোটি টাকাই মেয়র সাঈদ খোকনকে দিতে হয়। মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস মার্কেটে অবৈধভাবে নির্মিত দোকান ভাঙার নির্দেশ দিলে থলের বিড়াল বের হয়ে আসে।
ঠিকাদার দিলু দাবি করেন, তিনি ১০০ কোটি টাকার বেশি সাঈদ খোকনকে দিয়েছেন। খোকন ২০ লাখ টাকা থেকে শুরু করে এককালীন ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন। দিলুর মালিকানাধীন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের (হৃদি কনস্ট্রাকশন) বিল ছাড় করাতেও সাঈদ খোকনকে কোটি কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন বলে দাবি করেন। ১৩ কোটি টাকার একটি বিল ছাড় করাতে ৪ কোটি টাকা ঘুষ দেয়ারও দৃষ্টান্ত রয়েছে তার। দেলোয়ার হোসেন দিলুর মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই। কিন্তু এখনো তদন্ত শেষ হয় নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
দুদক সূত্র জানায়, ফুলবাড়িয়ায় অবস্থিত নগর প্লাজা, সিটি সুপার মার্কেট ও জাকির সুপার মার্কেটের মালিক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। পর্যায়ক্রমে নির্মাণ শেষে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে দোকানগুলোর পজেশন বিক্রি করা হয়। এর বাইরেও বিভিন্ন প্রকল্পের নামে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার তথ্য রয়েছে দুদকের হাতে।
অনুসন্ধানের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে, দুদকের উপ-পরিচালক জালালউদ্দিন আহমেদ বিষয়টি ‘অনুসন্ধানাধীন’ বলে কোনো তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানান।
তবে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে ইতিমধ্যে সাঈদ খোকন ও তার পরিবারের সদস্যদের ৮টি ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করা হয়েছে।
২৭ জুন ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েস একাউন্ট জব্দের আদেশ দেন। দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপ-পরিচালক জালালউদ্দিন আহমেদ এ আবেদন জানান। দুদক সূত্র জানায়, সাঈদ খোকন, তার স্ত্রী ফারহানা আলম, বোন শাহানা হানিফ ও মা ফাতেমা হানিফের ৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেন আদালত।
জব্দকৃত অ্যাকাউন্টের মধ্যে সাঈদ খোকনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৩টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এছাড়া তার মা ফাতেমা হানিফের একটি, বোন শাহানা হানিফের দু’টি ও স্ত্রী ফারহানা আলমের দু’টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা তার আবেদনে বলেন, ওই ব্যাংক হিসাবগুলোতে অস্বাভাবিক পরিমাণ অর্থ লেনদেন করা হয়েছে।

বলা যায়, মেয়র খোকা তার দুর্নীতির যোগ্য উত্তরসুরি হিসেবে রেখে যান সাঈদ খোকনকে। খোকার পরিচিত ছিলো মি.টুয়েন্টি পার্সেন্ট হিসেবে আর খোকনের পরিচিতি আরেক ধাপ এগিয়ে পরিচিতি পেয়েছেন মি. টুয়ৈন্টি ফাইভ পার্সেন্ট।
যদিও সাঈদ খোকন তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগকে মেয়র তাপসের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করছেন। তিনিও তাপসের বিরুদ্ধে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শত শত কোটি টাকা তার( মেয়র তাপস) নিজ মালিকানাধীন মধুমতি ব্যাংকে স্থানান্তরিত করেছেন এবং শত শত কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লাভ হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন। গত ৯ জানুয়ারী ফুলবাড়িয়া মার্কেটের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িদের মানববন্ধনে সাঈদ খোকন বলেছেন, ব্যারিস্টার তাপস মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে গলাবাজি করে চলেছেন। আমি তাকে বলবো রাঘব বোয়ালের মুখে চুনাপুটির গল্প মানায় না। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে হলে সর্বপ্রথম নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত করুণ, তারপর চুনোপুটির দিকে দৃষ্টি দিন।
নগরবাসী চায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র সাদেক হোসেন খোকা ও মেয়র সাঈদ খোকনের আমলে যে দুর্নীতি লুটপাট হয়েছে এর সুষ্টু তদন্ত হউক,বিচার হউক।

সুপ্রিম কোর্টের করোনা টেস্ট বুথে আইডি কার্ড দেখে আইনজীবীরা টেস্ট করতে পারবেন, পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রধান বিচারপতি

0

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, ‘করোনায় দেশের অবস্থা খুবই খারাপ।’
আদালত খুলে দেয়ার আর্জি জানানোয় সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে উদ্দেশ্য করে মঙ্গলবার (৬ জুলাই) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন।
শুনানির শুরুতেই সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল হাইকোর্ট বিভাগের অধিকসংখ্যক বেঞ্চ খুলে দেয়ার দাবি তোলেন। তখন প্রধান বিচারপতি তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আপনি খবর রাখেন? দেশের অবস্থা খুব খারাপ।’
জবাবে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, মাই লর্ড সেটা তো জানি। আমি অন্য একটা বিষয়ে বলতে চাই। সেটা হলো লকডাউন ঘোষণার পূর্বে দেয়া হাইকোর্টের আদেশগুলো পাঠানো/কমিউনিকেট করার ব্যবস্থা করুন। অন্যটি হলো সুপ্রিম কোর্টের করোনা টেস্টের বুথটি খোলা রেখে আইনজীবীদের টেস্টের সুযোগ করে দিন।
তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি তো বাইরের লোক আসতে দিতে চাই না। এ সময় বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, ‘করোনা টেস্ট তো হচ্ছে।’
বেঞ্চের আরেক বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, বারের মেম্বাররা (সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি) কি আসেন?
প্রধান বিচারপতি বলেন, আচ্ছা আমরা এটা বুঝে বলব, এটা করলে অনেক লোক চলে আসবে। আইনজীবীরা তো অ্যাফেক্টেড হচ্ছে।
প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকিয়ে দেখেন আইনজীবীদের জন্য আলাদা একটা বুথের ব্যবস্থা করতে পারেন কি-না?’ জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘ওখানে পারা যাবে না।’
পরে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের করোনা টেস্ট বুথে আইনজীবীদের আইডি কার্ড দেখে করোনা টেস্টে সম্মতি জানান।