মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে সরকারের যে উদ্যোগটি মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে,ভূমিহীনদের জন্য সেই আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়ম দুর্নীতির ঘটনায় সচেতন মানুষ বিষ্মিত। এমন একটি প্রকল্পেও যে দুর্নীতি হতে পারে তা যেনো অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। এই প্রকল্পটির সঙ্গে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আবেগ অনুভূতি জড়িত। কিন্তু দুর্নীতিবাজরা সেই প্রকল্পেও দুর্নীতি করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে ভূমিহীনদের জন্য নির্মাণ করা ঘর ভেঙ্গে পড়ছে। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। নেটিজেনরা এসব অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে বিচার চাচ্ছেন। এমন সুন্দর একটি প্রকল্প কারা নষ্ট করে দিচ্ছে, তাও তদন্ত করে খুঁজে বের করা এবং শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে অবশ্য টনক নড়েছে সরকারের শীর্ষ মহলে। দোষিদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে।
ইতিমধ্যে অনিয়মে জড়িত ১৮০ জনের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রয়েছেন। দুইজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। ওএসডি করা হয়েছে পাঁচজনকে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসকরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। এছাড়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিদর্শন দলের সদস্যরা। তাদের প্রতিবেদনে ঘর নির্মাণে অনিয়ম ও অবহেলার চিত্র উঠে এসেছে।
এ সব বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেছেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের স্লোগান হলো, ‘আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’। প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প। এর সঙ্গে আমাদের সবার আবেগ জড়িয়ে আছে। তাই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ক্রটিবিচ্যুতি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও শৈথিল্যের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
প্রতিবেদনে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর, বরগুনার আমতলী, বগুড়ার শেরপুর, শাজাহানপুর, হবিগঞ্জের মাধবপুর, সুনামগঞ্জের শাল্লা ও মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলায় ঘর নির্মাণে অনিয়ম, অবহেলা ও দুর্নীতির ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। গত রোববার সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে ইউএনওর দায়িত্ব পালন করে আসা শফিকুল ইসলামকে ওএসডি করা হয়েছে। বরগুনার আমতলীর ইউএনও আসাদুজ্জামানকে ওএসডি করা হয়েছে সোমবার। এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।

এছাড়া বগুড়ার শেরপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে আসা লিয়াকত আলী সেখকে গত রোববার ওএসডি করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ সদরে ইউএনওর দায়িত্ব পালন করে আসা রুবায়েত হায়াত শিপলু ওএসডি হয়েছেন সোমবার। মুন্সীগঞ্জ সদরে কর্মরত সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ মেজবাহ-উল-সাবেরিন ওএসডি হয়েছেন সোমবার। এই উপজেলার প্রকৌশলী, সংশ্নিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার সাবেক ইউএনও মাহমুদা পারভীন, হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সাবেক ইউএনও তাসনুভা নাশতারান, সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ইউএনও আল-মুক্তাদির হোসেনকে ওএসডি এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক তদন্তে এ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
ভূমিহীনদের ঘর নির্মাণে অনিয়ম করার ঘটনার সঙ্গে ৩৬ জন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জড়িত রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্নিষ্ট জেলা প্রশাসকদের জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া আরও ২৯টি উপজেলায় ঘর নির্মাণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ উপজেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে- বগুড়ার আদমদীঘি, কুমিল্লার দেবিদ্বার, খাগড়াছড়ির মহালছড়ি, মাদারীপুরের কালকিনি, লালমনিরহাট সদর, গাজীপুরের শ্রীপুর, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, নেত্রকোনার খালিয়াজুরী, মোহনগঞ্জ, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী, জামালপুরের ইসলামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল, ময়মনসিংহ সদর, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ, চুনারুঘাট, ভোলার লালমোহন, পাবনার সাঁথিয়া, মানিকগঞ্জের ঘিওর, নাটোর সদর, কুড়িগ্রামের রৌমারী, বরিশাল সদর এবং ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলেছেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঘর নির্মাণের বেলায় নীতিমালা মানা হয়নি। অনেক ঘরে নির্মাণে ক্রটি রয়েছে, গুণগত মান ঠিক হয়নি। ঘরের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। পিলার ভেঙে গেছে। দেয়াল ধসে পড়েছে। ঘর নির্মাণে ব্যবহৃত মালামালও ছিল নিম্নমানের। নিচু এলাকায় ঘর নির্মাণ করায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আবার ভূমির মালিকরাও ঘর বরাদ্দ পেয়েছে।
আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব হোসেন জানিয়েছেন, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর শুরু হওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৮০ জন ভূমিহীনকে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনিয়মের খবর বিভিন্ন সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। অনিয়মকারীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়ম: টনক নড়ছে সরকারের শীর্ষ মহলে, ৫ কর্মকর্তা ওএসডি, তদন্ত হচ্ছে
দু’দিন ভার্চ্যুয়ালি চলবে আপিল বিভাগ
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে চলমান বিধি-নিষেধের মধ্যে আজ মঙ্গল ও আগামিকাল বুধবার দুইদিন ভার্চ্যুয়ালি বিচারকাজ চলবে আপিল বিভাগে। তবে এ ক্ষেত্রে বিচারপতি ও আইনজীবীদের নিজ বাসা থেকে যুক্ত হতে হবে।
এ দুই দিনের জন্য ৫ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৪৫টি মামলার অনলাইন কজলিস্ট (কার্যতালিকা) প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে গত ৩০ জুন দেওয়া সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আপিল বিভাগ ও আপিল বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম ১ জুলাই থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে সীমিত পরিসরে পরিচালিত হবে।
আগামী ৬ ও ৭ জুলাই অনলাইন কজলিস্ট অনুযায়ী আপিল বিভাগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল শুনানি হবে। আপিল বিভাগের বিচারপতি, আইনজীবী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ বাসগৃহ থেকে ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে শুনানিতে সংযুক্ত হবেন।
অপরদিকে, চলমান বিধিনিষেধে হাইকোর্ট বিভাগে ৩ একক বেঞ্চ ভার্চ্যুয়ালি বিচার কাজ পরিচালনা করছেন। অতি জরুরি বিষয়ে রিট ও দেওয়ানি বিষয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, ফৌজদারি বিষয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান এবং কোম্পানি ও অ্যাডমিরালিটি সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করছেন বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার।
ই-কমার্সে ১০ দিনে পণ্য ডেলিভারি না হলে মূল্য ফেরত দিতে হবে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা জারি, ফিরবে শৃংখলা
রাজধানীর ভেতরে পাঁচ দিনের মধ্যে এবং রাজধানীর বাইরের শহরে ১০ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারির নিশ্চিত করা এবং সময় মতো পণ্য ডেলিভারি দিতে ব্যর্থ হলে সাত দিনের মধ্যে মূল্য ফেরত দেওয়ার বিধানসহ ‘ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা-২০২১’ জারি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সোমবার এ নির্দেশিকা জারি করে মন্ত্রণালয়।
একই সঙ্গে ইতিমধ্যে যেসব ই-কমার্স কোম্পানিতে আগাম মূল্য পরিশোধের পর ক্রেতা পণ্য ডেলিভারি কিংবা মূল্য ফেরত কোনোটিই সময়মত পাচ্ছেন না তাদের দ্রুত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত নির্দেশিকাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এ বিষয়ে হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ই-কমার্স কোম্পানিগুলো আগে থেকে ক্রেতাদের থেকে যে অগ্রিম মূল্য নিয়েছে, সেগুলোর পণ্য ডেলিভারি বা মূল্য ফেরতের ক্ষেত্রেও একই সময়সীমা কার্যকর হবে। যেসব ক্রেতা অগ্রিম মূল্য পরিশোধের পরও পণ্য বা মূল্য ফেরত পাচ্ছেন না, আমাদের পরামর্শ হলো- তারা যেন দ্রুত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ক্রেতার অগ্রিম মূল্য পরিশোধের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পণ্যটি ডেলিভারিম্যান বা ডেলিভারি সংস্থার কাছে হস্তান্তর করে তা টেলিফোন, ই-মেইল বা এসএমএসের মাধ্যমে জানাবে ই-কমার্স কোম্পানিগুলো। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ডেলিভারিম্যান পণ্যটি ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোনো পণ্য বা সেবা ডেলিভারিম্যানের কাছে হস্তান্তর করার মতো অবস্থায় না থাকলে সে ক্ষেত্রে ই-কমার্স কোম্পানিগুলো ওই পণ্যমূল্যের ১০ শতাংশের বেশি অর্থ অগ্রিম নিতে পারবে না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত এসক্রো সার্ভিসের মাধ্যমে পুরো অর্থই অগ্রিম নিতে পারবে। অগ্রিম মূল্য আদায়ের ক্ষেত্রে অফারে প্রদর্শিত পণ্য অবশ্যই দেশের ভেতরে ‘রেডি টু শিপ’ (মার্কেট প্লেসের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে বা মার্কেটপ্লেসে নিবন্ধিত থার্ড পার্টি বিক্রেতার নিয়ন্ত্রণ) পর্যায়ে থাকতে হবে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ডেলিভারির সময়সীমা আরও সংক্ষিপ্ত হবে এবং ক্রয়াদেশ গ্রহণকালে ডেলিভারির সময় সুস্পষ্টভাবে ক্রেতাকে জানাতে হবে। কোনো একটি ক্রয়াদেশে একাধিক পণ্য থাকলে আলাদা আলাদা ডেলিভারি চার্জ আরোপ করা যাবে না। তবে মার্চেন্ট ভিন্ন ভিন্ন হলে আলাদা ডেলিভারি চার্জ নেওয়া যাবে এবং ক্রয়াদেশ নিশ্চিত করার আগেই তা ক্রেতাকে জানাতে হবে।
এই নির্দেশিকা প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে সরকার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স, কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট নিবন্ধন বাতিল করাসহ সংশ্লিষ্ট মার্কেটপ্লেস নিষিদ্ধ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবে। ক্ষতিগ্রস্ত ক্রেতা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ অন্যান্য আদালতে আইনানুগ প্রতিকারের জন্য মামলা করতে পারবে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, সকল ধরনের ডিজিটাল ওয়ালেট, গিফট কার্ড, ক্যাশ ভাউচার বা অন্য কোনো মাধ্যম, যা অর্থের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, তা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া তৈরি, ব্যবহার বা ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া ডিজিটাল মাধ্যমে কোনো ধরনের অর্থ ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না।
ই-কমার্স কোম্পানিগুলো যেসব পণ্য বিক্রির অফার দেবে, তা ওই ই-কমার্স কোম্পানি বা তার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ মার্চেন্টদের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। কোনো পণ্য বিক্রির অফারে কী পরিমাণ পণ্য স্টকে আছে, তা উল্লেখ করতে হবে এবং প্রতিটি বিক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই পণ্যের স্টক আপডেট করতে হবে।
এতে বলা হয়েছে, সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের পর মানুষের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কোনো কারণে ক্রেতার চাহিদামতো পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব না হলে অর্ডার দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা ক্রেতাকে ফোন, এসএমএস বা ইমেইলে জানাতে হবে। এক্ষেত্রে অন্য কোনো পণ্য কেনার জন্য ক্রেতাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাধ্য করা যাবে না।
পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো ধরণের ডিসকাউন্ট, ফ্রি ডেলিভারি বা অন্য কোনো সুবিধা থাকলে তা পরিষ্কারভাবে পণ্যের বর্ণনায় থাকতে হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, পণ্য ও সেবার বিষয়ে ক্রেতা যাতে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করতে পারেন, সেজন্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রেতা সংখ্যার অনুপাতে কাস্টমার কেয়ার কর্মী নিয়োগ দিতে হবে। কোনো পণ্য ও সেবার বিষয়ে ক্রেতার অভিযোগ রেকর্ডেও যথাযথ ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং যেকোনো অভিযোগ ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান করে ক্রেতাকে জানাতে হবে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার সময় মুদ্রিত বিল প্রদান করতে হবে, যাতে প্রদত্ত ভ্যাট ও অন্যান্য কর (যদি থাকে) উল্লেখ করতে হবে। কোনো বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসা করতে চাইলে তাদের অবশ্যই নিবন্ধন নিতে হবে।
স্ত্রীর যৌতুকের মামলায় চিকিৎসক স্বামী কারাগারে; জামিন মিললো হাইকোর্টে
যৌতুক চাওয়ার অভিযোগে স্ত্রীর করা মামলায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের কারাবন্দি চিকিৎসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান স্বপনকে ভর্ৎসনা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই মামলায় তাকে ছয় মাসের জামিনও দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন একক ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ড. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী ও মো. ইলিয়াস হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।
শুনানিকালে চিকিৎসককে উদ্দেশ করে তার আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদীকে আদালত বলেন, আপনি (চিকিৎসক) একজন শিক্ষিত মানুষ। আপনার বিরুদ্ধে যৌতুক চাওয়ার অভিযোগ উঠবে কেন? আপনার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আসবে কেন? আপনি একজন ব্যর্থ স্বামী!
এ পর্যায়ে মমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী বলেন, গত ৪ মার্চ স্বামী-স্ত্রীর (চিকিৎসক দম্পতি) মধ্যে ঝগড়া হয়। ঘটনার পর গত ৬ মার্চ স্ত্রীকে তিনি তালাক দেন। এরও প্রায় দুই মাস পর যৌতুকের মামলা করা হয়েছে। এই চিকিৎসক একজন করোনাযোদ্ধা। তিনি ২৫তম বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চিকিৎসক হিসেবে কর্তব্যরত আছেন।
তখন ওই চিকিৎসকের জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষে তুষার কান্তি রায় আদালতকে বলেন, নথিপত্রে দেখা যায়, এই চিকিৎসক তার স্ত্রীকে মারধর করেছেন। যৌতুকের অভিযোগের মামলার আগে একটি জুডিশিয়াল অনুসন্ধান হয়েছে। তাতে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এরপর মামলা রেকর্ড হয়েছে। পরে আদালত চিকিৎসকের জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন।
সরকারি খরচায় ৩ মাসে ৩৫ হাজারের বেশি অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীকে আইনি সহায়তা, আইনমন্ত্রণালয়ের ভালো একটি উদ্যোগ
জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসে অসহায়, দরিদ্র ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল ৩৫ হাজার ১৩৭ জন বিচারপ্রার্থীকে সরকারি খরচায় আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
আইন মন্ত্রণালয়ের অধিনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থাটি পরিচালিত হয়। এর পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কল সেন্টার বা হট লাইনের মাধ্যমে আইনি পরামর্শ ও তথ্য সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা ১০ হাজার ৯৬৩ জন। এছাড়াও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) করা হয়েছে ৫১৯৮টি। এর মধ্যে মামলা দায়েরের পূর্বে (প্রি-কেইস ম্যানেজমেন্ট) ৪৪৪৬ টি এবং মামলা দায়েরের পর ৭৫২টি।
মহামারি করোনা সংকটেও জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার আইনি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। করোনার মধ্যে সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে করোনার এই প্রাদুর্ভাবের কারণে আইন সহায়তা প্রত্যাশীরা অফিসের নির্ধারিত নাম্বারে (০১৭০০-৭৮৪২৭০) যোগাযোগ করলেই আইনি পরামর্শ পাচ্ছেন। জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার নির্ধারিত হটলাইন নাম্বার ১৬৪৩০ নম্বরে (টোল ফ্রি) আইনি সেবা অব্যাহত রয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসে আগত আইনগত সহায়তা প্রত্যাশীদের অফিসে মাস্ক পরিধান তথা স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা আছে । তবে বিচারপ্রার্থীদের অফিসে প্রবেশের ক্ষেত্রে হাত ধোয়া ও জীবাণুমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় হ্যান্ড সেনিটাইজারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় অফিস থেকেই সরবরাহ করা হচ্ছে। সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গনে স্থাপিত এ অফিসের প্রবেশ মূখেই প্রয়োজনীয় হ্যান্ড সেনিটাইজারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় রাখা আছে।
আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন সরকার আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল,সহায় সম্বলহীন,অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগনকে সরকারি খরচে আইনি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০০০’ প্রনয়ন করে। ২০০০সালে তৎকালীন শাসন আমলে আইনটি প্রনয়ন করে আওয়ামী লীগ। তারপরের সরকার গুলো আইনটি কার্যকরে উল্লেখযোগ্য কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্টিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর আওয়ামীলীগ দরিদ্র ও অসচ্ছল জনগণের বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিতে আইনটি কার্যকরে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং তা অব্যাহত রয়েছে।
২০০০ সালে প্রনীত আইনটি অনুযায়ি ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’ গঠন করা হয়। রাজধানীর ১৪৫, নেউ বেইলী রোডে এ সংস্থার প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এর ব্যাপ্তি সুপ্রিমকোর্ট, দেশের অধঃস্তন আদালত, শ্রম আদালত, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এখন প্রতিষ্ঠিত। জেলা কমিটি গঠন, প্রতিটি জেলা জজ আদালতে এর কার্যালয় রয়েছে। নানা প্রচার, প্রচরণা, সেমিনার-কর্মশালা ও প্রকল্পের মধ্য দিয়ে এ সেবা এখন মানুষের দোরগোড়ায়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার নিজস্ব ওয়েবসাইট রয়েছে । এ ওয়েবসাইটে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান বিষয়ে বিস্তরিত সকল তথ্য জানা যায়।
করোনার টিকার অগ্রাধিকার তালিকায় আইনজীবীরাও
করোনাভাইরাসের টিকা পেতে অগ্রাধিকারের জন্য দেশের সব আইনজীবীদের তালিকাভুক্ত করতে আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বরাবর এ চিঠি দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএস ও লাইন ডাইরেক্টর, এইচআইএস অ্যান্ড ই হেলথ) অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান।
গত ৩০ জুন এক আদেশে করোনাভাইরাসের টিকা পাওয়ার অগ্রাধিকার তালিকায় (সুরক্ষা অ্যাপস) অন্তর্ভুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘উপরিউক্ত বিষয়ের আলোকে আপনার সদয় অবগতি ও কার্যার্থে জানানো যাচ্ছে যে, কোভিড-১৯ অতিমারিতে আইনপেশায় নিয়োজিত আইনজীবীরা কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে আইনসেবা ও পরামর্শ কার্যক্রম চালু রেখেছেন। নিরবচ্ছিন্ন আইনসেবা কার্যক্রম চালু রাখতে সব আইনজীবীর টিকাদানের আওতায় আনা আবশ্যক। যেসব আইনজীবী এখনো সুরক্ষা সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করেননি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদানের জন্য তাদের সুরক্ষা সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করা প্রয়োজন। রেজিস্ট্রেশনের আগে তাদের সুরক্ষা সিস্টেমে হোয়াইটলিস্টিং করা আবশ্যক। এমতাবস্থায় তালিকা প্রণয়নের জন্য আপনার আওতাধীন সব রেজিস্টার্ড আইনজীবীদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংযুক্ত ছক মোতাবেক নিম্ন লিখিত ই-মেইলে এক্সেল ফরমেটে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।’
করোনা টিকার অগ্রাধিকার তালিকায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত আইনজীবীদের অন্তর্ভুক্তি চেয়ে গত ১১ এপ্রিল রিট আবেদন করেন আইনজীবী মো. আবু তালেব। এ রিটে গত ১৩ এপ্রিল রুল জারি করেন হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ৩০ জুন রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। বাসস।
রাজধানীতে গৃহকর্মীকে নির্যাতন : ব্যাংক কর্মকর্তা রিমান্ড শেষে কারাগারে
গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা আসাদুর রহমান আরিফকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল হোসেন আসামিকে রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। এর আগে গত ২ জুলাই এ আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।
মামলাটিতে ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী মাহফুজা রহমানও আসামি। গত ৪ জুলাই আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে তিনি রিমান্ডে আছেন।
এর আগে গত ১ জুলাই ১৪ বছর বয়েসি ওই গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে আসাদুর রহমান আরিফ এবং তার স্ত্রী মাহফুজা রহমানের বিরুদ্ধে রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলা দায়ের হয়।
আহত গৃহকর্মীর অভিযোগ, সে আট মাস ধরে ওই বাসায় কাজ করে। বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে তাকে গরম পানি ও খুন্তির ছ্যাঁকা এবং মাথা দেয়ালের সঙ্গে ঠুকে নির্যাতন করা হতো। অনেকবার বাসা থেকে পালানোরও চেষ্টা করেছে। কিন্তু স্যার ও ম্যাডাম (আসামিরা) তাকে পালাতে দেয়নি। গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আসামিরা তাকে কুড়িল বিশ্বরোড ওভারব্রিজের কাছে বোন ফাতেমার বাসায় দিয়ে আসে।
ওই কিশোরীর বোন ফাতেমা বেগম বলেন, তার বোন ওই বাসায় আট মাস ধরে কাজ করে। পাঁচ হাজার টাকা করে প্রতি মাসে দেয়ার কথা থাকলেও মাত্র তিন মাসের টাকা দিয়েছে। এখনো তাদের কাছে বোন অনেক টাকা পায়। টাকার কথা বললেই বিভিন্ন সময় বোনকে মারধর করা হতো। তার শরীরে অনেক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
রিমান্ডে নিয়ে নারীকে ‘যৌন নির্যাতন’ : বরিশালে ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তা প্রত্যাহার
রিমান্ডে নিয়ে এক নারীকে (৩০) যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বরিশালের উজিরপুর থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বরিশাল রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এস এম আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যাহারকৃত দুজন হলেন উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল আহসান ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাইনুল ইসলাম। তাদের বরিশাল জেলা পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এক নারী আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগ তদন্তের জন্য গত শুক্রবার বরিশালের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ আদালতের বিচারক মাহফুজুর রহমান। আদালত সূত্র জানায়, গত ২৮ জুন ওই নারীকে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে উজিরপুর থানায় নিয়ে যাওয়ার পরপরই এক নারী পুলিশ সদস্য লাঠি দিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালান। পরে উপস্থিত অন্য পুলিশ সদস্যরাও তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয় এবং ২৯ জুন তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
আদালতে উপস্থিত হয়ে ওই আসামি অভিযোগ করেন, রিমান্ডে নিয়ে তাকে মারধর না করা হলেও পরের দিন সকালে তাকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কক্ষে পাঠানো হয়। সেখানে তার ওপর যৌন নিপীড়ন চালানো হয়। এরপর এক নারী পুলিশ সদস্যকে ডেকে নিয়ে তাকে আবার লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। একপর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই তাকে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধরে পেটান। তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফেরার পর তিনি নিজেকে হাসপাতালের বিছানায় দেখতে পান। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উজিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক মাইনুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
গত ২৬ জুন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জামবাড়ি এলাকা থেকে বাসুদেব চক্রবর্তী নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বরুন চক্রবর্তী সেদিনই হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় এক নারীকে ২৬ জুন গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ জুন বরিশালের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম উজিরপুর আমলি আদালত ওই নারীর দুই দিনের রিমান্ডে পাঠায়।
আফগানিস্তানে তালেবানের ‘নতুন আইন’ পুরুষদের দাড়ি রাখতেই হবে, একা বের হতে পারবেন না নারীরা
আফগানিস্তানে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার হওয়ার আগেই যেসব এলাকা তালেবানরা দখল করে নিয়েছে সেখানে তালেবানি আইন বা তাদের ভাষায় শরিয়া আইন কায়েম করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানের তাকহার প্রদেশে দখল করা অঞ্চলগুলোতে নতুন আইন চালু করেছে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী তালেবান। ওই অঞ্চলে আফগান পুরুষদের দাড়ি রাখতে, নারীদের পুরুষ অভিভাবক ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা এবং বিয়ের দেনমোহর ও যৌতুক সংক্রান্ত বিধিনিষেধ জারি করেছে তালেবানরা। দেশটির সংবাদমাধ্যম আরিয়ানা নিউজ এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
আফগানিস্তানে ৯০ দশকের তালেবান শাসনের সময় চুরির জন্য হাত কেটে দেওয়া হতো। পাথর নিক্ষেপ করে মানুষ হত্যা এবং নারীদের ওপর ছিল নানা রকম বিধিনিষেধ। দেশটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন হওয়ার আগে এসব আইন জারি করেছিল তালেবান। তখন সেখানে নারীদের চাকরি তো দূরের কথা, কোনো পুরুষ আত্মীয় ছাড়া বাইরে বের হওয়াও নিষেধ ছিল। এমনকি এই নিয়ম না মানলে কঠোর শাস্তিও ভোগ করতে হতো।
সম্প্রতি যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তান থেকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে মার্কিন সেনারা। এরই মধ্যে ফের সক্রিয় হতে শুরু করেছে তালেবান। এরই মধ্যে দেশটির ৪২১টি জেলার মধ্যে ১৪০টি জেলা দখলে নিয়েছে এই সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।
তাকহার প্রদেশে গভর্নর আবদুল্লাহ কারলুক বলেন, তালেবানরা তাদের দখলকৃত এলাকায় বহু সরকারি স্থাপনা ধ্বংস করে ফেলেছে। তালেবান অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে।
আফগানিস্তান: সব বিদেশি বাহিনীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চলে যেতে হবে, বলছে তালেবান
নেটোর ঠিক করা আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ সময়সীমার পরও যদি আফগানিস্তানে কোন বিদেশি সৈন্য রয়ে যায়, তবে তারা দখলদার বাহিনীতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে। বিবিসিকে বলেছে তালেবান।
এমন সময়ে তালেবান এই কথা বলছে, যখন খবর বেরিয়েছে যে আমেরিকা আফগানিস্তানে এক হাজার সৈন্য রাখতে চায় মূলত কূটনৈতিক মিশন এবং কাবুলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে সুরক্ষা দেবার জন্য।
দেশটিতে নেটোর কুড়ি বছরের সামরিক অভিযান সমাপ্তির অপেক্ষায়।

কিন্তু তালেবান নতুন নতুন এলাকা দখল করায় দেশটিতে সহিংসতা বাড়ছে।
আফগান বাহিনী যখন এককভাবে দেশটির নিরাপত্তার হাল ধরতে যাচ্ছে তখন কাবুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তালেবানের মুখপাত্র সুহাইল শাহীন বলেন, সামরিকভাবে কাবুল দখল করা “তালিবানদের নীতি নয়”।
কিন্তু কাতারে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির অফিসে বসে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মি. শাহীন বলেন, প্রত্যাহার সম্পূর্ণরূপে শেষ হবার পর কাবুলে কোন বিদেশি সৈন্য এবং সামরিক কনট্রাক্টরের থাকা উচিৎ নয়।
“দোহা চুক্তির বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যদি কোন সৈন্য রেখে যায় তাহলে সেক্ষেত্রে আমাদের নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেবে আমরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাব”, বিবিসিকে বলেন মি. শাহীন।
“আমরা প্রতিক্রিয়া দেখাব এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আমাদের নেতৃত্ব”,
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কূটনীতিবিদ, এনজিওকর্মী এবং বিদেশি বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হবে না। ফলে তাদের সুরক্ষার জন্য কোন বাহিনী দরকার নেই।
“আমরা বিদেশি সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে। কূটনীতিবিদ, এনজিওকর্মী, এনজিও এবং দূতাবাসের বিরুদ্ধে নই। আমাদের জনগণের এদেরকে দরকার। আমরা তাদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াব না”।
আফগানিস্তানের একসময়কার বৃহত্তম মার্কিন বিমান ঘাঁটি বাগরাম এয়ারফিল্ড থেকে গত সপ্তাহের সেনা প্রত্যাহারের ঘটনাকে “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” হিসেবে বর্ণনা করেন মি. শাহীন।
তালেবানের সাথে এক চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এবং নেটো জোটের মিত্ররা আফগানিস্তান থেকে সব সৈন্য প্রত্যাহারে একমত হয়েছে। বদলে তালেবান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে আল-কায়েদা বা অন্য কোন চরমপন্থি গোষ্ঠীকে তৎপরতা চালাতে দেবে না।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেনা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করেছেন এ বছরের এগারোই সেপ্টেম্বর। দিনটি ৯/১১ হামলার কুড়িতম বর্ষপূর্তি।
কিন্তু খবর বেরিয়েছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই হয়তো প্রত্যাহার সমাপ্ত হয়ে যাবে।
আফগান সরকারের পক্ষে দেশটির একজন এমপি বলেছেন, এই প্রত্যাহার দায়িত্বহীনতার সাথে সম্পন্ন হচ্ছে।
রাজওয়ান মুরাদ নামের এই এমপি বিবিসিকে বলেন, সরকার সংলাপ এবং অস্ত্র বিরতির জন্য প্রস্তুত ছিল। এখন তালেবানকে প্রমাণ করতে হবে তারা শান্তি চায়।
কিন্তু সাম্প্রতিক কোন সহিংসতায় তালেবানের যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করেন মি. শাহীন
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বহু এলাকায় তালেবানদের দখলে এসেছে আলোচনার মাধ্যমে এবং লড়াইয়ে আফগান সৈন্যদের অনীহার ফলশ্রুতিতে।










