যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার বিষয়ক একটি প্রতিবেদন সম্পর্কে অসন্তোষ ব্যক্ত করার জন্য রোববার ঢাকাস্থ ব্রিটিশ ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অপব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে যে, তিনি এখন ‘গৃহবন্দি’ রয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা উল্লেখ করতে ‘গৃহবন্দি’ শব্দগুলোর ব্যবহার একটি বড় ধরনের বিভ্রান্তি।’
এতে আরো বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) প্রকাশিত হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসি রিপোর্ট ২০২০-এর বাংলাদেশ অধ্যায়ে উল্লেখিত ইস্যুগুলোর ব্যাপারে সরকারের মনোভাব ও অসন্তোষ ব্যক্ত করার জন্য ব্রিটিশ দূত জাভেদ প্যাটেলকে তলব করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্র দফতর দূতকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, (বেগম জিয়া) তার বাড়িতে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন এবং বিদেশে ভ্রমন করতে পারবেন না এই শর্তে সরকার ২০২০ সালের মার্চ মাসে তার সাজা স্থগিত করে তাকে ‘মুক্তি’ দেয়।
এতে আরো বলা হয়, বেগম জিয়াকে তার ভাইয়ের একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোডের একটি ধারায় শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দূতকে আরো অবহিত করা হয়েছে যে, প্রাথমিকভাবে খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেয়া হয়েছিল। তবে, পরবর্তীতে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর ও ২০২১ সালের মার্চ মাসে দুই বার তার মুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়।
বিৃবতিতে বলা হয়, ‘হাইকমিশনারকে জানানো হয়েছে যে, এ ধরণের আইনি বিষয়ে যে কোন ধরনের বিভ্রান্তির ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, পশ্চিম ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন শাখার মহা-পরিচালক ফাইয়াজ মুর্শিদ কাজী বৃটিশ দূতকে মন্ত্রণালয়ে তলব করার পর তার সাথে কথা বলেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরো পরামর্শ দেয়া হয়েছে যে, যুক্তরাজ্য সরকারের যে কোন দাপ্তরিক তথ্যে বাংলাদেশ সরকার অথবা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দল সম্পর্কে ‘কোন ধরনের ইঙ্গিতপূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর’ তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
ঢাকা এই বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রতিবেদনে উল্লেখিত বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় গ্রহনকারী রোহিঙ্গাদের সংখ্যার ব্যাপারেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
প্যাটেল মানবাধিকার ও গভর্নেন্সের ব্যাপারে প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতির মাধ্যমে একটি গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
তিনি বাংলাদেশকে একটি ‘পরিপক্কতামুখী গণতন্ত্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বলেন, ব্রিটিশ সরকার বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেনি।
উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা সরকারি নথি বা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ক্ষেত্রে তথ্যের প্রামাণ্য সূত্রের ব্যবহারের গুরুত্বের ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন। বাসস।
যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার রিপোর্টে খালেদা জিয়ার অবস্থান সম্পর্কে অপব্যাখ্যা করা হয়েছে, ব্রিটিশ দূতকে ডেকে জানালো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
হাসপাতালের দুর্নীতি নিয়ে নিউজ করায় আইসিটি আইনে মামলা; জামিনে মুক্ত ঠাকুরগাঁওয়ের সাংবাদিক তানভীর
ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের খাবার পরিবেশনে অনিয়মের সংবাদ করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার সাংবাদিক তানভীর হাসান তানু আদালত থেকে জামিন পেয়ে মুক্ত হয়েছেন।
রোববার (১১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিক তানুকে ঠাকুরগাঁও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) ডালিম কুমার রায় তানভীর হাসান তানুর পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে তার জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় ঠাকুরগাঁও সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিন পাওয়ার পর তানুর আইনজীবী আরিফুল ইসলাম তার জামিননামা আদালতে দাখিল করেন। এরপরই আদালতের হাজতখানা থেকে সাংবাদিক তানু মুক্ত হন।
গত শনিবার (১০ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. নাদিরুল আজিজ বাদী হয়ে সদর থানায় তিন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় জাগোনিউজ২৪.কম, ইত্তেফাক ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি তানভীর হাসান তানুকে এক নম্বর আসামি করা হয়।
মামলার অন্য দুই আসামি হলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি আব্দুল লতিফ লিটু ও নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের জেলা প্রতিনিধি রহিম শুভ।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫(১)(ক) ২৫(১)(খ) ২৯(১)/৩১(১)/৩৫(১) ধারায় করা ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ জুলাই জাগোনিউজ২৪.কম, নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও দৈনিক যুগান্তরের অনলাইন সংস্করণে করোনা রোগীর খাবার নিয়ে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট, জনরোষ সৃষ্টিকারী মানহানিকর’ সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে খবর নিতে গেলে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ শনিবার রাত ৮টায় সাংবাদিক তানুকে গ্রেফতার করে। রাতে তানু থানা হাজতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নেয়া হয়।
পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৯ কর্মকর্তাকে বদলি
পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৯ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাদের বদলির আদেশ জারি করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর গুলশান বিভাগে উপ-কমিশনারের দায়িত্বে থাকা সুদীপ কুমার চক্রবর্তীকে বগুড়ার এসপি করে পাঠানো হয়েছে। বগুড়ার এসপি মো. আলী আশরাফ ভুঞাকে বরিশাল মহানগর পুলিশে পাঠানো হয়েছে।
পিরোজপুরের এসপির দায়িত্ব পেয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইদুর রহমান। পিরোজপুরের এসপি হায়াতুল ইসলাম খানকে ঢাকা মহানগর পুলিশে বদলি করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খানকে মানিকগঞ্জ জেলার এসপি করে পাঠানো হয়েছে। মানিকগঞ্জের এসপি রিফাত রহমান শামীমকে ঢাকা মহানগর পুলিশে বদলি করা হয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি মো. শহীদুল ইসলামকে নোয়াখালীর এসপি করা হয়েছে। নোয়াখালীর এসপি মো. আলমগীর হোসেনকে পাঠানো হয়েছে ঢাকার এসবিতে।
শিল্পাঞ্চল পুলিশের ৪ নম্বর ইউনিটের পুলিশ সুপার মো. সাখাওয়াত হোসেনকে এক নম্বর ইউনিটে বদলি করা হয়েছে।
সরকারি অফিসের দাপ্তরিক কাজ ভার্চ্যুয়ালি করার নির্দেশ,মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নির্দেশনা জারি
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে সরকারি অফিসের দাপ্তরিক কাজসমূহ ই-নথি, ই-টেন্ডারিং, ই-মেইল, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপের মতো মাধ্যমসহ ভার্চুয়ালি পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
রোববার (১১ জুলাই) এই নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয়/বিভাগের সিনিয়র সচিব/সচিবদের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস জনিত রোগ কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ বিস্তার রোধে আরোপিত বিধি-নিষেধ সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিসমূহ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের বর্তমান এই পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রম হিসেবে সকল জরুরি অফিস ও সেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ‘এক্ষণে সকল সরকারি অফিসের দাপ্তরিক কাজসমূহ ভার্চ্যুয়ালি (ই-নথি, ই-টেন্ডারিং, ই-মেইল, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য মাধ্যম) সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। ’
করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় গত ১ জুলাই সকাল ৬টা থেকে শুরু হয় সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধ। এই বিধিনিষেধ ছিল ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত। পরে বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও ৭ দিন অর্থাৎ ১৪ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ২১টি শর্ত দেয়া হয়। শর্ত অনুযায়ী, এ সময়ে জরুরি সেবা দেয়া দফতর-সংস্থা ছাড়া সরকারি-বেসররকারি অফিস, যন্ত্রচালিত যানবাহন, শপিংমল দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে হাসেম ফুডসে অগ্নিকাণ্ড: শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাই কোর্টে রিট
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবারকে এক কোটি টাকা এবং আহতদের প্রত্যেককে ৩৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ লিগ্যাল অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এবং সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটির পক্ষ থেকে শনিবার রিট আবেদনটি করা হয়।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের একক ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় রোববার আবেদনটির শুনানির জন্য রাখা হয়েছে বলে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আইনজীবী মো. শাহীনুজ্জামান জানান।

তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী করোনাভাইরাস মহামারী পরিস্থিতিতে জরুরি কোনো আবেদন থাকলে তা শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে পাঠাতে হয়। যে কারণে শনিবার রাতে রেজিস্ট্রার জেনারেলের ই–মেইলে রিট আবেদনটি পাঠানো হয়েছে।”
শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশের মহাপরিদর্শক,রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ডিআইজি (ঢাকা রেঞ্জ), নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার,রূপগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার ওসি, সিভিল সার্জন, ফায়ার সার্ভিস, হাসেম ফুডস লিমিটেড এবং হাসেম ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবারকে এক কোটি টাকা এবং আহত শ্রমিকদের প্রত্যেককে ৩৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ হিসাবে নিহত শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ এবং আহতদের ৫ লাখ টাকা করে দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে আবেদনে।
এছাড়া রিট আবেদনে হাসেম ফুড লিমিটেড ও এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল হাসেম এবং তার পারিবারের অন্য সদস্যদের ব্যাংক হিসাব চিহ্নিত করে তা জব্দ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
আহতদের দ্রুত চিকিৎসা ও চিকিৎসা খরচ দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা চাওয়ার পাশাপাশি প্রতি মাসে হাই কোর্টে আহতদের চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিতে নারায়ণগেঞ্জের সিভিল সার্জনের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিট আবেদনে
এছাড়া দুই সপ্তাহের মধ্যে সুপারিশসহ এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের ব্যর্থতা ও অবহেলা কেন ‘আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে না এবং কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না- তা জানতে রুলও চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডসের কারখানায় আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডে অর্ধশতাধিক শ্রমিক নিহত হন। আহত হন আরও অনেক শ্রমিক।
এ ঘটনায় শনিবার পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছে। ‘আগুনে পুড়িয়ে হত্যার’ অভিযোগ এনে ৩০২ ধারাসহ কয়েকটি ধারায় এই মামলা করা হয়।
ওই মামলায় কারখানা মালিক মো. আবুল হাসেম ও তার চার ছেলেসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
নরেন্দ্র মোদির নতুন মন্ত্রিসভার প্রায় অর্ধেকের বিরুদ্ধে রয়েছে ফৌজদারি মামলা, ৯০ শতাংশ মন্ত্রী কোটিপতি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল এনেছেন। গত ৭ জুলাই রাষ্ট্রপতি ভবনে শপথ নেন ভারতের নতুন ৪৩ জন মন্ত্রী। নতুন ৪৩ জনসহ মোদির মন্ত্রিসভায় এখন মোট সদস্য ৭৮। মন্ত্রিসভার ৭৮ জনের মধ্যে ৪২ শতাংশের বিরুদ্ধেই রয়েছে ফৌজদারি মামলা।
শনিবার মোদির মন্ত্রীদের নিয়ে এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস (এডিআর)। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও হিন্দুস্তান টাইমসের
এডিআর এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোদির মন্ত্রিসভার ৯০ শতাংশ মন্ত্রী কোটিপতি। আর ৪২ শতাংশ সদস্যের বিরুদ্ধে রয়েছে ফৌজদারি মামলা। যার মধ্যে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভার ৭৮ সদস্যের মধ্যে ফৌজদারি মামলা রয়েছে মোট ৩৩ জনের বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের জন বার্লা, নিশীথ প্রামাণিক-সহ চারজনের বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বার্লার বিরুদ্ধে গুরুতর ৯টি মামলা রয়েছে। এছাড়া ৩৮টি অন্য মামলাও রয়েছে। কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার পাঁচ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনের সময় অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সাত মন্ত্রীর বিরুদ্ধে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার ৯০ শতাংশ অর্থাৎ ৭০ জনই কোটিপতি। মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, পীযূষ গোয়েল, নারায়ণ তাতুরেন ও রাজীব চন্দ্রশেখরের ৫০ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ রয়েছে।
রূপগঞ্জে আগুনে পুড়ে ৫২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ৮ জন রিমান্ডে
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডসের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার সজিব গ্রুপের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (সিইও) ৮ জনকে চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এর আগে শনিবার বিকেলে রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক হুমায়ুন কবির মোল্লা আসামিদের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠান।
দুপুরে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন মজুমদার বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হাসেম, তার ছেলে হাসীব বিন হাসেম, তারেক ইব্রাহীম, তাওসীব ইব্রাহীম, তানজীম ইব্রাহীম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাহান শাহ আজাদ, উপমহাব্যবস্থাপক মামুনুর রশিদ ও প্রকৌশলী মো. আলাউদ্দিন।
রিমান্ড আবেদনে রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক হুমায়ুন করিব মোল্লা উল্লেখ করেন, ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনসহ জড়িত অজ্ঞাতনামা আসামিদের সঠিক নাম-ঠিকানা সংগ্রহ ও ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা উদ্ঘাটন করার জন্য ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার।
এর আগে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় কারখানার মালিকসহ আটজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এ ঘটনার জন্য কারও ন্যূনতম অবহেলা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে এবং হবে। ভবন নির্মাণে ন্যূনতম ত্রুটি এবং কারখানা পরিচালনায় কোনো গাফিলতি থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
৩৩৯ কোটি টাকা পাচার: ইভ্যালির এমডি রাসেল ও স্ত্রী শামীমার দেশত্যাগে দুদকের নিষেধাজ্ঞা
৩৩৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল ও স্ত্রী শামীমা নাসরীনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
শুক্রবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক জানান, রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরীন যাতে দেশ ছাড়তে না পারেন সেজন্য বৃহস্পতিবার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
“ইভ্যালি ডটকমের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোপনে দেশ ত্যাগের প্রচেষ্টা করছেন। অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ দেশত্যাগ করলে সার্বিক অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যহত হতে পারে প্রতীয়মান হওয়ায় তাদের বিদেশ গমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।”

উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুসারে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোর্ট থেকে অনুমোদন নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, “উচ্চ আদালতের একটি রায় আছে কারো বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আগে আদালতের অনুমতি নিয়ে দিতে হবে, আরেকটি রায় আছে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর আদালতের অনুমতি নিতে হবে।”
দুদকের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইভ্যালির এমডি মোহম্মাদ রাসেলের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে এটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাসেল তার ফেইসবুকে লিখেন, তাদের বিদেশ যাওয়ার নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিকে তিনি ‘পজেটিভলি’ দেখছেন।
তিনি বলেন, “এখন আমরা অনেকটাই প্রফিট এ বিজনেস শুরু করেছি। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী গ্রাহকদের টাকা আমাদের হাতে আসার সুযোগ নাই। এছাড়া তদন্ত করলেই সবাই দেখবেন, পুরাতন অর্ডার কি পরিমান ডেইলি যাচ্ছে।”
গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া অগ্রিম এবং মার্চেন্টের পাওনা ৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা ‘আত্মসাৎ ও পাচারের’ অভিযোগে বৃহস্পতিবার ইভ্যালির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে কমিশন।
দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী ও উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শিহাব সালামকে এই অনুসন্ধানের কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
সম্প্রতি দুদক চেয়ারম্যানকে দেওয়া এক চিঠিতে ইভ্যালি ডটকমের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের চিঠির সঙ্গে ইকমার্স প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাত পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদনও যুক্ত করে দেওয়া হয়।
দুদকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক ইভ্যালির বিষয়ে তদন্ত পরিচালনা করে একটি প্রতিবেদন দেয়।
এই প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, “গত ১৪ মার্চ দেখা যায়, ইভ্যালি ডটকমের মোট সম্পদ ৯১ কোটি ৬৯ লাখ ৪২ হাজার ৮৪৬ টাকা (চলতি সম্পদ ৬৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৬ টাকা) এবং মোট দায় ৪০৭ কোটি ১৮ লাখ ৪৮ হাজার ৯৯৪ টাকা।
“উক্ত তারিখে ইভ্যালি ডটকমের গ্রাহকের নিকট দায় ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং মার্চেন্টের নিকট দায় ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ টাকা। গ্রাহকের নিকট থেকে অগ্রিম হিসেবে গৃহিত ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং মার্চেন্টের নিকট থেকে ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ টাকার মালামাল গ্রহণের পর স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিষ্ঠানটির নিকট কমপক্ষে ৪০৩ কোটি ৮০ লাখ ১ হাজার ৯১৪ টাকার চলতি সম্পদ থাকার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির নিকট সম্পদ রয়েছে মাত্র ৬৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৬ টাকা ।”
দুদকে পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়, “ইভ্যালি ডটকমের চলতি সম্পদ দিয়ে মাত্র ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ গ্রাহককে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে বা অর্থ ফেরত দিতে পারবে। বাকি গ্রাহক ও মার্চেন্টের পাওনা পরিশোধ করা উক্ত কোম্পানির পক্ষে সম্ভব নয়।
“তদুপরি গ্রাহক ও মার্চেন্টের নিকট হতে গৃহিত ৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ ১৮ হাজার ১৭৮ টাকার কোনো হদিস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে গ্রাহক ও মার্চেন্টের নিকট হতে গৃহিত ৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ ১৮ হাজার ১৭৮ টাকা আত্মসাৎ কিংবা অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের আলোকে ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্ত করে কোনো আর্থিক অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিতে দুদককে অনুরোধ করা হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
ডিজিটাল আইন প্রয়োগে দক্ষতার অভাব রয়েছে, শাল্লার ঝুমন দাসের বিরুদ্ধে মামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য : মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার
রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতা কখনই সমাজের জন্য ভাল ফল দেয় না। বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধক। বঙ্গবন্ধুর লড়াই ছিল অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র। কিন্তু তাকে হত্যার পর দেশে আবার সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার একাত্তরের ঘাতক দালল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতির চ্যালেঞ্জ: সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে আলোচকরা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ প্রয়োগে দক্ষতার অভাব রয়েছে।

সুনামগঞ্জের শাল্লায় ঝুমন দাসকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে থানা পর্যন্ত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ সম্পর্কে দক্ষতার অভাব রয়েছে।
তিনি বলেন, ঝুমন দাসকে এই আইনে থানায় একটা মামলা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। যা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য।
মোস্তাফা জব্বার বলেন, বঙ্গবন্ধুর লড়াই ছিল অসাম্প্রদায়িক, ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামোর মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্রের আন্দোলন। বঙ্গবন্ধু জাতির ভিত্তি তৈরি করেছেন ৭২-এর সংবিধানের আলোকে। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২১ বছর বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর সকল ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশকে দারিদ্রতা মুক্ত করতে চেয়েছেন। কিন্তু সব জঞ্জাল এখনও পরিষ্কার করতে পারেননি। এখনও তাকে পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে যুদ্ধ করতে হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, মামুনুল হকদের মতো কিছু লোক যারা সন্ত্রাসী, ধর্মব্যবসায়ী তাদের জন্য এই আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে। এজন্য সংস্কৃতির চর্চাকে বিকশিত করতে হবে। আমাদের রাজনীতির স্রোতে আমরা যদি বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িকতাকে ধরে রাখতে না পারি, তাহলে এখনকার যে অপকর্মগুলো হচ্ছে তা মারাত্মক রূপ ধারণ করবে।
সকলকে একত্রিতভাবে ডিজিটাল অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রপরিচালনার নীতিই আমাদের সর্বোচ্চ দিকনির্দেশনা এবং এই নির্দেশনার ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।
ওয়েবিনারে সভাপতির বক্তব্যে নির্মূল কমিটি’র সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, বর্তমান বিশ্বকে, সংঘাত, সন্ত্রাস ও গৃহযুদ্ধ থেকে মুক্ত করার পূর্বশর্ত হচ্ছে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি। বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের উল্লেখ ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধক। রাষ্ট্র কর্তৃক সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা করা কিংবা বিশেষ ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই হেফাজত-জামায়াতের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করা যায়নি। আমরা সাম্প্রদায়িক বঞ্চনা-বৈষম্য-নির্যাতন বিলোপ করার জন্য ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন এবং ‘জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন’ প্রতিষ্ঠার কথা বলছি ২০১৪ সাল থেকে।
২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে তা উল্লেখ করা হলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। আমাদের শিক্ষানীতি ও সংস্কৃতি নীতিসহ রাষ্ট্রীয় সকল কার্যক্রমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিফলন থাকতে হবে।’
নির্মূল কমিটির সহসভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধ শক্তি মৌলবাদীরা শিক্ষাক্ষেত্রে সুকৌশলে সাম্প্রদায়িক ধারা প্রণয়নের চেষ্টা করছে। তারা সর্বত্র ছদ্মবেশে বিচরণ করছে। হেফাজতের আজকের আস্ফালনের পিছনে এসব ছদ্মবেশী সাম্প্রদায়িক শক্তি কাজ করছে। এই সাম্প্রদায়িকতার বিষ ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীদের ভিতর ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত বলেন, হেফাজতের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী শিক্ষাক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ানো দূর করার জন্য অসাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতি প্রবর্তন করতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষার সাথে অন্যান্য ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি বৈষম্য দূর করতে হবে এবং জাতীয় বাজেটেও অন্যান্য ধর্মের প্রতি বৈষম্য দূর করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফাদার ড. তপন ডি রোজারিও বলেন, বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিকভাবেই সাম্প্রদায়িকতাকে দূর করতে চেয়েছেন। কারণ রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতা কখনই সমাজের জন্য ভাল ফল দেয় না, এটা তিনি দেখেছিলেন। এখন প্রত্যেকটি সরকার ধর্মকে আঁকড়ে ধরে চলার চেষ্টা করছে। ফলে স্বাধীনতাবিরোধী ধর্মান্ধ উগ্রবাদী দলগুলো অপঘটনা ঘটাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ’৭২-এর সংবিধানে পুরোপুরিভাবে ফিরে যেতে হবে।
সুপ্রিম সংঘ কাউন্সিল অব বাংলাদেশ-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভদন্ত এস. লোকজিৎ থেরো বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ধারা বজায় না থাকলে একটি দেশের মানবতা বিপন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক। রাজনীতি ও ধর্মনীতি একে অন্যের সাথে পরিপূরক হয়ে পড়ায় রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘বিধর্মী’ শব্দটি শিশুদের মনে অন্যের প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি করছে। এসব দিকে লক্ষ করা প্রয়োজন। সরকারি ব্যয়ে ‘মডেল মসজিদ’ যখন হচ্ছে তখন এর মতো ‘মডেল মন্দির’, ‘মডেল প্যাগোডা’ তৈরি কারা হোক তাতে সমতা সৃষ্টি হবে।’
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শঙ্কর মঠ ও মিশন-এর অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী তপনানন্দ গিরি মহারাজ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ’৭২-এর সংবিধান ফিরিয়ে দেবেন এই অঙ্গীকার থেকেই সরকার গঠন করেছিলেন। কিন্তু তা পুরোপুরি ফিরে আসে নি। প্রত্যেক ধর্মেই আমরা মানবতার কথা দেখতে পাই। সবার কাছে অনুরোধ সত্যকে প্রকাশ করব। সত্যই ধর্ম আর এই সত্যই হচ্ছে মানবতা।’
বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোটের সভাপতি হাফেজ মওলানা জিয়াউল হাসান পবিত্র কোরআন, মদিনার সনদ এবং বঙ্গবন্ধুর ’৭২-এর সংবিধানে পরমতসহিষ্ণুতার কথা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলা হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ‘নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে। সরকারের সেরকম পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মিথ্যাবাদী, ধর্মব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী বাবুনগরী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তান্ডব নিয়ে মিথ্যা বক্তব্য দিচ্ছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। সরকারের কাছে দাবি করি- অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী মিথ্যাবাদী বাবুনগরীর সন্ত্রাসী জঙ্গীবাদী কার্যক্রমের বিচার করতে হবে।’
আন্তধর্মীয় সংলাপের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক সমাজকর্মী কাজী মুকুল বলেন, ‘বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতা ও প্রতিনিধিদের নিয়ে এই ধরনের সম্প্রীতির কার্যক্রম নির্মূল কমিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়ে যাবে। নির্মূল কমিটির বৈদেশিক শাখাগুলোকেও সেসব দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য নিরলসভাবে কাজ করতে হবে।’ ওয়েবিনারে লেখক মারুফ রসুলসহ বহির্বিশ্বে নির্মূল কমিটির ১২টি শাখার নেতারা যুক্ত ছিলেন।
হদিস নেই গ্রাহকের ৩৩৯ কোটি টাকার: ইভ্যালির অনিয়ম অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক
গ্রাহক ও মার্চেন্টের প্রায় ৩৩৯ কোটি টাকার হদিস না থাকার বিষয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার দুই সদস্য বিশিষ্ট অনুসন্ধান দল গঠন করেছে সংস্থাটি।
দুদক সূত্র জানায়, গ্রাহক ও মার্চেন্টের টাকাগুলো আত্মসাৎ অথবা পাচার হয়েছে কি–না তা খতিয়ে দেখতে এই অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, ইভ্যালির দুর্নীতি অনুসন্ধানের দায়িত্ব পেয়েছেন দুদকের একজন সহকারী পরিচালক ও একজন উপসহকারী পরিচালক।
এর আগে গত ৪ জুলাই ইভ্যালির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের চার প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে– দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
দুদক চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪ মার্চে ইভ্যালির মোট সম্পদ ৯১ কোটি ৬৯ লাখ ৪২ হাজার ৮৪৬ টাকা (চলতি সম্পদ ৬৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৬ টাকা) এবং মোট দায় ৪০৭ কোটি ১৮ লাখ ৪৮ হাজার ৯৯৪ টাকা। এ সময় গ্রাহকের কাছে ইভ্যালির দায় ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং মার্চেন্টের কাছে দায় ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ টাকা। গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম নেওয়া ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং মার্চেন্টদের কাছ থেকে ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ টাকার মালামাল নেওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ৪০৩ কোটি ৮০ লাখ ১ হাজার ৯১৪ টাকার চলতি সম্পদ থাকার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ রয়েছে মাত্র ৬৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৬ টাকা।











