গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড’র তৈরি করোনাভাইরাস প্রতিরোধক ভ্যাকসিন ‘বঙ্গভ্যাক্স’ পরীক্ষা করার জন্য বানর ধরতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাসহ পাঁচজন। রোববার সকালে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে।
হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড’র মিডিয়া কনসালটেন্ট ও গ্লোবাল টেলিভিশনের অ্যাসাইনমেন্ট কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, ক্যামেরা পারসন ফাহাদ আল কাদরিসহ তাদের দুই গাড়ি চালক।
ভুক্তভোগী কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, সরকারি অনুমতি নিয়ে বানর ধরতে যান তারা। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী বাজার এলাকা থেকে ১০টি বানর ধরেও ফেলেন। এ সময় স্থানীয় কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোকজন বানরের জন্য টাকা দাবি করে। দাবি না মানায় তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। একই সঙ্গে তাদের কাছে থাকা টাকা-পয়সা ও বানরগুলোও নিয়ে যায়। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ আছে বলে দাবি করে আনিছুর বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বরমী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আবুল হাশেম বলেন, ‘সকাল ১০টার দিকে বাজারের ব্যবসায়ীসহ বরমী এলাকার স্থানীয় জনগণ বানর ধরার খবরটি আমাকে জানায়। পরে আমি সেখানে গিয়ে কয়েকটি বানর খাঁচায় আবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাই এবং এসব বানর ধরার কারণ জানতে চাই। পরে তারা গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের তৈরি করা করোনার ভ্যাকসিন বঙ্গভ্যাক্স মানব দেহে পুশ করার আগে প্রাণীর দেহে পুশ করে এর কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য বানর ধরার কথা জানান। বানর ধরার জন্য বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি থাকার কথাও জানান। কিন্তু স্থানীয়রা বানর ধরতে বারণ করার পরও তারা বানর ধরা অব্যাহত রাখায় উত্তেজনা দেখা দেয়। তাদের শান্ত করে বানর ধরতে আসা লোকজনদের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখান থেকে শ্রীপুর থানা পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে আসেন।’ তবে বানরের জন্য টাকা দাবি ও লুটের কথা অস্বীকার করেছেন আবুল হাশেম।
হাশেম আরও বলেন, ‘কয়েকশ বছরের ঐতিহ্যবাহী বরমীর বানর। শত অত্যাচার করে এ বানরগুলো তারপরও তাদের অত্যাচার সহ্য করেও আমরা তাদের খাবার দেই, যত্ন করি। লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ থাকার পরও প্রত্যেক বাড়ি থেকে খাবার যোগাড় করে দেই। বানরগুলোই বরমী বাজারকে মাতিয়ে রেখেছে। বানরগুলোকে খাঁচায় বন্দি করে অজ্ঞান করায় তারা উত্তেজিত ও মারমুখী হয়ে উঠেছিল।’
গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারি বন সংরক্ষক মো. তবিবুর রহমান জানান, গ্লোব বায়েটেক লিমিটেড কর্তৃক আবিস্কৃত কোভিড-১৯ টিকা বঙ্গভ্যাক্স মানব দেহে প্রয়োগের আগে বানরের দেহে পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এজন্য গত ২৬ জুন গ্লোব বায়েটেক লিমিটেড চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে তাদের ৫৬টি বানরের প্রয়োজন বলে আবেদন করেন। পরদিন প্রধান বনসংরক্ষক বরাবর প্রয়োজনীয় সংরক্ষক বানর ধরা ও ব্যবহারের জন্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব দীপক কুমার চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত এক পত্র পাঠানো হয়। পরে প্রধান সংরক্ষক এ সংক্রান্ত একটি চিঠি আমাকেও দিয়েছেন। এর আগে তারা গিনিপিগ ও খরগোশেও এ টিকা প্রয়োগ করেছেন। তবে আরও নিশ্চিত হতে বানরের দেহেও প্রয়োগ করার জন্য তাদের বানর প্রয়োজন। তারা গত ২৯ জুন থেকে তিনদিনে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সাফারি পার্ক থেকে ৩০টি বানর সংগ্রহ করেছেন। বাকি বানর ধরার জন্য রোববার সকালে স্থানীয় প্রশাসন ও বনকর্মকর্তাদের অবগত না করেই তারা শ্রীপুরের বরমী বাজারে গেলে জনরোষে পড়েন। পরে স্থানীয় শ্রীপুর উপজেলা ও থানার ওসি তাদের উদ্ধার করলেও বানর ধরে নিয়ে যেতে পারেননি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন জানান, উত্তেজিত জনতার রোষানল থেকে গ্লোবের ওই পাঁচ সদস্যকে উদ্ধার করে তিনি থানায় নিয়ে যান। পরে বানর ধরার জন্য তাদের সঙ্গে থাকা মন্ত্রণালয় ও বনবিভাগের অনাপত্তিপত্র তথা কাগজপত্র যাচাই বাছাই ও বন বিভাগসহ তাদের থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বঙ্গভ্যাক্স টিকা পরীক্ষা; বানর ধরতে গিয়ে গাজীপুরে জনতার রোষানলে গ্লোব কোম্পানীর ৫ জন, উদ্ধার করে পুলিশ
আফগানিস্তানে ফের ফিরে আসছে তালেবানি শাসন, মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার হলেই শুরু হবে গৃহযুদ্ধ, প্রভাব পড়বে আশপাশেও
আফগানিস্তানে ফের ফিরে আসছে তালেবানি শাসন ! মার্কিন সৈন্য পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিলেই ঝাঁপিয়ে পড়বে তালেবান বাহিনী? এমন আলামত ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে ওঠছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশটির আরও ১৩ জেলা দখলে নিয়েছে তালেবান যোদ্ধারা। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির বিভিন্ন এলাকা দখলে নিচ্ছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। আল আরাবিয়ার খবরে বলা হয়, রাজধানী কাবুল ও ৩৪টি প্রাদেশিক রাজধানী ছাড়াও ৩৭২টি জেলার মধ্যে ১১০টি দখল করেছে তালেবান।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ২২৪ তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর আফগান প্রশাসনে হতাশা বিরাজ করছে। আল আরাবিয়া জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে তালেবানদের তীব্র লড়াইয়ে সাধারণ জনগণ বেশ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। তারা চায় যে কোনো একপক্ষের বিজয়ের মাধ্যমে এই লড়াইয়ের অবসান হোক।
আফগানিস্তানে তালেবানদের অব্যাহত অভিযানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কোনো কার্যকর প্রতিক্রিয়া এখনও দেখা যায়নি। যার অর্থ অনেকেই মনে করছে তালেবানদের প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি ও পেনসিলভানিয়ায় সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পর আফগানিস্তানে হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে যুক্তরাষ্ট্র।
তৎকালীন বুশ প্রশাসন ৯/১১ এর হামলায় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার যোগসূত্র রয়েছে-এমন ঘোষণা দিয়ে সে সময় তালেবানদের দখলে থাকা আফগানিস্তানে আশ্রয় নেওয়া আল-কায়েদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। প্রায় দুই দশকের এই যুদ্ধ শেষের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সেনারা ইতোমধ্যে দেশটির সবচেয়ে বড় বাগরাম বিমানঘাঁটি ত্যাগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার করা হলে তালেবান ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করবে।
নতুন কিউএমজি সাইফুল আলম, ডিজিএফআইয়ের দায়িত্বে তাবরেজ শামস
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে রদবদলে সেনাসদরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহা-পরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালকের দায়িত্বে এসেছে নতুন মুখ।
গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসা মেজর জেনারেল মো. সাইফুল আলমকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে কিউএমজি করে সেনাসদরে নিয়ে আসা হয়েছে।
আর ডিজিএফআই এর মহাপরিচালকের দায়িত্বে আসছেন মেজর জেনারেল আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, যিনি সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।
রোববার এক আদেশে বলা হয়েছে, সাইফুল আলম কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেলের দায়িত্ব গ্রহণের সময় থেকে তার পদোন্নতি কার্যকর হবে।
গত মাসে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পাওয়া জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এর আগে সেনাসদরের কিউএমজি ছিলেন। তার পদোন্নতির পর সেই দায়িত্ব পেলেন মেজর জেনারেল মো. সাইফুল আলম।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হওয়ার আগে তিনি বগুড়ায় সেনাবাহিনীর একাদশ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্ব দেন। তার আগে ৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং বরিশালের এরিয়া কমান্ডার ছিলেন।
বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমির চতুর্দশ লং কোর্সের ক্যাডেট হিসেবে সেনাবাহিনীতে কমিশন পাওয়া সাইফুল আলম ‘সোর্ড অব অনার’ ও ‘একাডেমিক গোল্ড মেডেল’ বিজয়ী।
তার জায়গায় ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পাওয়া মেজর জেনারেল আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং কক্সবাজার এরিয়া কমান্ডারের দায়িত্ব পালনের আগে বান্দরবানের রামু ও কুমিল্লা সেনানিবাসের জিওসি ছিলেন। বিডিনিউজ ।
শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে নারী আইনজীবী ও স্বামী গ্রেপ্তার
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ১২ বছরের এক গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার তানভির আহসান একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। আর তার স্ত্রী নাহিদ একজন আইনজীবী বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নির্যাতনের শিকার মেয়েটির বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন থানার নবাবপুর গ্রামে। নয় মাস ধরে সে সেগুনবাগিচায় ওই দম্পতির বাসায় কাজ করছিল।
শনিবার রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রায় প্রতিদিনই ‘নানা অজুহাতে’ গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রী মেয়েটিকে ‘মারধর’ করত। নির্যাতনে মেয়েটির শরীরে জখমের চিহ্নসহ কিছু ছবি শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে দেন এক প্রতিবেশী।
সেসব ছবিতে মেয়েটির চোখের নিচে আঘাতের চিহ্ন, শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম এবং আগুনে পোড়া ঘা দেখা যায়। একজন সংবাদকর্মী বিষয়টি পুলিশকে জানান। আরও একজন জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন
শাহবাগ থানার ওসি মওদুত হাওলাদার জানান, খবর পাওয়ার পর পরিদর্শক (অপারেশন্স) মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে তাদের একটি দল শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তোপখানা রোডের ওই বাসায় গিয়ে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে এবং মেয়েটিকে উদ্ধার করে আনে।
মেয়েটি পুলিশকে কী বলেছে জানতে চাইলে ওসি মওদুত হাওলাদার বলেন, “সে বলেছে, কাজে কোনো ভুল হলেই তারা তাকে মারধর করত।”
মেয়েটিকে পুলিশ হেফাজতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ওসি। বিডিনিউজ ।
বর্ষায় পেটের অসুখ নাকি করোনা? শিশুদের উপসর্গ নিয়ে ধন্দে চিকিৎসকরা,সতর্কতার পরামর্শ
বর্ষাকালীন পেটখারাপ! নাকি কোভিড আক্রান্ত? বুঝতে পারছেন না চিকিৎসকরা। উপসর্গ যে হুবহু এক। আর তাই চিকিৎসকরা বলছেন, পাতলা পায়খানা হলেই বাচ্চার কোভিড টেস্ট আবশ্যক।
পশ্চিমবঙ্গের ২ বছর ৭ মাস ও আরেকটি চার মাস বয়েসী পাতলা পায়খানা হচ্ছিল। বর্ষাকালীন আন্ত্রিক ভেবে তাঁদের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসেন অভিভাবকরা। সন্দেহ হওয়ায় কোভিড টেস্ট করেন চিকিৎসক। রিপোর্ট পজিটিভ! ওই দুই শিশুর চিকিৎসক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. প্রবীর ভৌমিক জানিয়েছেন, সাধারণত চিকিৎসা পরিভাষায় এ ধরনের উপসর্গকে বলে গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল সিন্ড্রোম বা জিআই সিন্ড্রোম। প্রতি বছর বর্ষার জমা জল থেকে এমন অসুখ গা সওয়া। কিন্তু এবার এমন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের অধিকাংশ কোভিড পজিটিভ। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে এমন শিশুদের বাড়ির লোকের কোভিড টেস্ট করলেও রিপোর্ট পজিটিভ আসছে।
টানা বৃষ্টিতে পানি জমে বাড়ছে বর্ষাকালীন রোগভোগের আশঙ্কা। বর্ষাজনিত রোগের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। বর্ষার জমা দূষিত জল পানীয় জলের সঙ্গে মিশে বিভিন্ন সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে এই সময়। সাধারণ পেট খারাপ ভেবে নিজে থেকে ওষুধ খেতে বারণ করছেন চিকিৎসকরা। ডা. প্রবীর ভৌমিকের কথায়, ছোট ছোট পরিসরে জল জমে পেটের অসুখ হতে পারে। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে করোনা আর আন্ত্রিকের উপসর্গ মিলে যাওয়ায়। বাড়ির একরত্তির পেট খারাপ হলেই দ্রুত কোভিড টেস্ট করানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে, তিন থেকে ছয় মাস বয়সি বাচ্চাদের মধ্যে সম্প্রতি করোনায় সংক্রমণের হার বেড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ছে বাচ্চাদের মধ্যে।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. প্রভাসপ্রসূন গিরি জানিয়েছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাচ্চাদের মধ্যে করোনার প্রথম উপসর্গ হচ্ছে পাতলা মলত্যাগ। তারপরই শুরু হচ্ছে পেটে ব্যথা। তাই শিশুর পেট খারাপ ও পেট ব্যথার সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে তার করোনা পরীক্ষার পরামর্শ নিন। অনেক সময় বাচ্চা কোভিড আক্রান্ত হলেও প্রাপ্তবয়স্কদের মতো ধুম জ্বর, স্বাদ-গন্ধ চলে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকছে না তার। অথবা গন্ধ চলে গেলেও মাস ছয়েকের বাচ্চার পক্ষে তা বলা সম্ভবও নয়। ফলে বাচ্চা কোভিড আক্রান্ত হলেও টের পাচ্ছেন না পরিবারের লোকেরা। পরবর্তীকালে এমন বাচ্চাদের মাল্টিসিস্টেম ইনফ্লামেটরি সিনড্রোম দেখা যাচ্ছে।
সেলিব্রিটি পরীমনির ‘অভিনয়ে’ সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলাম: কারামুক্ত হয়ে উপলব্দি নাসির উদ্দিনের
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বললেন, আমি আসলে ‘সেলিব্রিটি’র অভিনয়ের শিকার। বলা যায় বাটে পড়ে গেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করেছি, ব্যবসা করছি, ক্লাবের রাজনীতিও করেছি। কিন্তু এক অভিনেত্রির ইমোশনাল কান্নার কাছে ধরা খেয়ে গেলাম। সামাজিক ভাবে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছি। বিপদ পড়লে কেউ সহজে এগিয়ে আসে না। বন্ধুত্ব পর্যন্ত অস্বীকার করে। এটাও দেখলাম।
ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা এবং পুলিশের করা মাদকের মামলায় জামিন পেয়ে জাতীয় পার্টির নেতা ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ এমন আবেগি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, সেলিব্রেটির অভিনয়ে তিনি বড় ধরনের ভিকটিম হয়ে গেলেন।
শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

গত ৩০ জুন কারামুক্ত হয়েছেন নাসির উদ্দিন মাহমুদ। কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সেদিন রাত ৮টার দিকে মুক্তি পান।
পরীমনি ও মাদক মামলায় দুই সপ্তাহ কারাগারে ছিলেন নাসির। তার আইনজীবী আমানুল করিম লিটন বলেন, নাসিরউদ্দিন বুধবার রাত ৮টার দিকে কারাগার থেকে বের হন। এ সময় তার ভাইসহ আত্মীয়রা কারাফটকে উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে নাসির তার উত্তরার বাসাতেই আছেন।
শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাসির উদ্দিন। সত্যিকারে অন্যায় করলে আফসোস ছিল না- এমন আক্ষেপ করে এই ব্যবসায়ী বলেন, বড় রকমের ভিকটিম হলাম। কোনো দিন হাজত দেখিনি। রিমান্ডে ১২ দিনসহ ১৮ দিন জেলহাজতে কাটিয়েছি। আমাকে আটক করার পরও কেউ আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। একজন সেলিব্রিটির (পরীমনি) অভিনয়ে আমি সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলাম।
জাতীয় পার্টির এই প্রেসিডিয়াম সদস্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নির্বাচিত জিএস ছিলাম। ঢাকার প্রথম বিভাগের ফুটবলার ছিলাম। উত্তরা ক্লাবের তিনবার সভাপতি ছিলাম। একজন ব্যবসায়ী। আমাকে আটক করার পরও কেউ আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন সন্ধ্যায় ফেসবুক পোস্টে পরীমনি অভিযোগ করেন, তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। ফেসবুক পোস্টে এ অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচার দাবি করেন পরীমনি। ১৩ জুন রাতে বনানীর নিজ বাসায় সাংবাদিকদের তিনি জানান, গত ৮ জুন রাতে পারিবারিক বন্ধু অমি ও ব্যক্তিগত রূপসজ্জাশিল্পী জিমির সঙ্গে নিয়ে আশুলিয়ার একটি ক্লাবে। সেখানে মদ্যপানরত কয়েকজনের সঙ্গে পরীমনির পরিচয় করিয়ে দেন অমি। ওই ব্যক্তিদেরই একজন হঠাৎ জোর করে তার মুখে পানীয়র গ্লাস চেপে ধরেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
পরদিন ১৪ জুন সাভার থানায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অমির নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন পরীমনি। ওইদিন বিকাল তিনটার দিকে রাজধানীর উত্তরা থেকে নাসির ও অমি এবং তিনজন নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় আসামিদের কাছ থেকে বিদেশি মদ ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মাদক মামলায় গত ১৫ জুন নাসির ও অমির সাতদিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত। এ ছাড়া পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় আদালত নাসির ও অমির পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারে বলা হয়, ‘গত ৮ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বনানীর বাসা থেকে কস্টিউম ডিজাইনার জিমি (৩০), অমি (৪০) ও বনিসহ (২০) দু’টি গাড়িতে করে তারা উত্তরার উদ্দেশে রওনা হন। পথে অমি বলে বেড়িবাঁধের ঢাকা বোট ক্লাবে তার দুই মিনিটের কাজ আছে।’
‘অমির কথামতো তারা সবাই রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা বোট ক্লাবের সামনে গিয়ে গাড়ি দাঁড় করায়। কিন্তু বোট ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অমি কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথা বলে। তখন ঢাকা বোট ক্লাবের সিকিউরিটি গার্ডরা গেট খুলে দেয়। অমি ক্লাবের ভেতরে গিয়ে বলে এখানকার পরিবেশ অনেক সুন্দর, তোমরা নামলে নামতে পার।’

এজাহারে পরীমনি আরও বলেন, ‘তখন আমার ছোট বোন বনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বোট ক্লাবে প্রবেশ করে ও বারের কাছের টয়লেট ব্যবহার করে। টয়লেট থেকে বের হতেই এক নম্বর বিবাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমাদের ডেকে বারের ভেতরে বসার অনুরোধ করেন এবং কফি খাওয়ার প্রস্তাব দেন। আমরা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে অমিসহ এক নম্বর আসামি মদপানের জন্য জোর করেন। আমি মদপান করতে না চাইলে এক নম্বর আসামি জোর করে আমার মুখে মদের বোতল প্রবেশ করিয়ে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। এতে আমি সামনের দাঁতে ও ঠোঁটে আঘাত পাই।’
‘এক নম্বর আসামি (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করেন ও আমাকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তিনি উত্তেজিত হয়ে টেবিলে থাকা গ্লাস ও মদের বোতল ভাঙচুর করে আমার গায়ে ছুড়ে মারেন। তখন কস্টিউম ডিজাইনার জিমি নাসির উদ্দিন মাহমুদকে বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করে জখম করেন।’
ফ্রান্সে সমকামী নারীরাও সন্তান নিতে পারবেন,সংসদে আইন পাস
একক ও সমকামী নারীদের সন্তানধারণের অনুমুতি দিয়ে একটি নতুন আইন পাস করেছে ফরাসি পার্লামেন্ট। আইভিএফ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সন্তানধারণ করতে পারবেন একক ও সমকামী নারীরা।
এতদিন আইভিএফ চিকিৎসা পদ্ধতি ফ্রান্সে আইনসিদ্ধ ছিল। অর্থাৎ, স্বাভাবিকভাবে সন্তান না হলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সন্তান নেওয়ার ব্যাবস্থা। এ ছাড়া স্পার্ম ডোনারও ছিল আইনসিদ্ধ। কিন্তু সমকামী কিংবা একক নারীদের ক্ষেত্রে আইভিএফ চিকিৎসা আইনসিদ্ধ ছিল না। যদিও ফ্রান্সে সমকামী বিবাহ বৈধ। এর কারণে অনেক নারী অন্য দেশে গিয়ে আইভিএফ চিকিৎসা করিয়ে সন্তান নিয়ে ফিরতেন।
দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়টি নিয়ে ফরাসি পার্লপমেন্টে বিতর্ক চলছিল। শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে একটি আইন তৈরির কথা হয়। কিন্তু রক্ষণশীলরা কোনোভাবেই এই আইনের পক্ষে ছিল না। নানাবিধ আন্দোলোনের পর প্রায় দুই বছর ধরে এই আইনটি নিয়ে ফরাসি পার্লামেন্টে বিতর্ক চলছিল। প্রায় ৫০০ ঘণ্টার বেশি সময় বিতর্ক হয় এবং ১২ হাজার বার আইনটির পবিবর্তন ও পরিবর্ধন করা হয়েছে।
অবশেষে বিপুল ভোটে ফরাসি নিম্নকক্ষে আইনটি পাস হয়েছে। এই আইনের পক্ষে সর্বমোট ৩২৬টি ভোট পড়েছে। বিপক্ষে ভোট পড়েছে ১১৫টি। সর্বশেষ মাক্রো এবং তার মন্ত্রিসভার চেষ্টায় আইনটিকে পাস করানো সম্ভব হয়েছে।
ফেসবুক লাইভে এসে পরীমণিকেই দোষলেন জয়নাল হাজারী
অভিনেত্রী পরীমণি প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্য করে ফের আলোচনায় এলেন ফেনীর আলোচিত রাজনীতিবিদ জয়নাল হাজারী। সম্প্রতি সাভারের বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন এই অভিনেত্রী। শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে জয়নাল হাজারী এ ঘটনার জন্য পরীমণিকেই দায়ী করেন।
ফেসবুকে পরীমণিকে অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, ‘মেয়েটা বোট ক্লাবে না গেলে এ ঘটনা ঘটতো না। তাকে যদি ধর্ষণ করা হয় বা নির্যাতন করা হয়, তা তার দোষেই হয়েছে। সে তো জানে ওই ক্লাবে কী হয়। মদ খাওয়া হয়, জুয়া খেলা হয়। আমি যদি জেনে-শুনে বাঘের মুখে পড়ি, বাঘ তো আমাকে খাবেই। সাপের গায়ের ওপর পা দিলে তো কামড়াবেই। এটা তো জানা কথাই, তাহলে সে কেনো গেলো। মূলত এ ঘটনার জন্য আমি তাকেই অপরাধী মনে করি।’
তিনি বলেন, ‘একটি কথাতেই সব শেষ হয় যে, এই মেয়ে বোট ক্লাবে গিয়েই অপরাধ করেছেন। তিনি বোট ক্লাবের ঘটনার পর থানায় গিয়েছিলেন মামলা করতে। তবে পরীমণি অসংলগ্ন, মাতাল ছিলেন বলে সেই মামলা নেননি থানার ওসি সাহেব। আমার প্রশ্ন, সে যদি মাতাল হয় তাকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করে হাসপাতালে নিয়ে ওয়াশ করার নিয়ম; কিন্তু তখন তা কেন করা হলো না।’
এ মন্তব্যের বিষয়ে ফেনীর স্থানীয় রাজনৈতিকরা মনে করছেন, রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাওয়া জয়নাল হাজারী সব সময় আলোচনা-সমালোচনায় থাকতে পছন্দ করেন। এই কারণেই তার এমন ফেসবুক ভাষণ। এ বিষয়ে ফেনীর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা জানান, ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক তরুণীকে প্রকাশ্যে নিপীড়নকারী যুবকদের পক্ষ নিয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন এই রাজনীতিবিদ।
শেষ হলো জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন
সংবিধান অনুযায়ি অধিবেশন সমাপ্তি সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ঘোষণা পাঠ করে শোনানোর মাধ্যমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশন সমাপ্তির ঘোষণা দেন।
শেষ দিনে রেওয়াজ অনুযায়ি সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাপনি ভাষণ দেন।
এছাড়া বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদেরও বক্তৃতা করেন।
অধিবেশন সমাপ্তির আগে ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলায় দেয়া ভাষনের অডিও ভিডিও শোনানো ও প্রদর্শন করা হয়।
এ অধিবেশনে গত ৩ জুন অর্থ মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বর্তমান সরকারের এ মেয়াদের তৃতীয় বাজেট পেশ করেন। করোনা পরিস্থিতিতে বাজেট তৈরিতে মানুষের জীবন-জীবিকাকে গুরুত্ব দিয়ে ‘জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ’ শ্লোগান শীর্ষক ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হয়। বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে গত বছর ১১ জুন অর্থমন্ত্রী ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেট পেশ করেন।
এবারো বৈশ্বিক মহামারি করোনার সংক্রমণের (কোভিড-১৯) দুর্যোগের মধ্যেই অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য ও প্রত্যাশাকে সামনে রেখে জীবন-জীবিকাকে প্রাধান্য দিয়ে বাজেট পেশ করা হয়।
এবারের বাজেট অধিবেশন গত ২ জুন শুরু হয়ে মোট ১২ কার্য দিবস চালানো হয়। সম্পূরকসহ বাজেটের উপর মোট ১৫ ঘন্টা ৩২ মিনিট আলোচনা হয়েছে। এর ওপর আলোচনায় অংশ নেন ৮৫ জন সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্য।
বাজেট পাসসহ এ অধিবেশনে ৭টি সরকারি বিল পাস হয়। আইন প্রণয়ন সম্পর্কিত কার্যাবলী সম্পাদনের পাশাপাশি কার্য প্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে ৪০টি নোটিশ পাওয়া যায়।
এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরদানের জন্য সর্বমোট ৭৩টি প্রশ্ন পাওয়া যায়। এর মধ্যে তিনি ৩০টি প্রশ্নের উত্তর দেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উত্তরদানের জন্য প্রাপ্ত মোট ১০৫৮টি প্রশ্নের মধ্যে ৭শ’টি প্রশ্নের জবাব দেয়া হয়।
এর আগে স্পিকার বলেন, নানা বিচারে এবারের বাজেট দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা প্রসূত একটি আর্থিক প্রস্তাবনা।‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামের নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮ এর অগ্রাধিকারসমূহের সাথে সঙ্গতি রেখেই এবারের বাজেট প্রণীত হয়েছে। অতীতের অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী দিনের আশা জাগানিয়া সকলের জন্য সমৃদ্ধির ভিত্তিভূমি স্থাপনের এক কৌশলী দলিল।
তিনি বলেন, বাজেটে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়নের প্রতিফলন ঘটেছে। ২০৩০ সালে এসডিজি’র লক্ষ্যসমূহ অর্জনের সময়সীমা, ‘রুপকল্প-২০২১’ এর মত ‘রুপকল্প-২০৪১’কে সামনে রেখে এবারের বাজেট প্রণীত হয়েছে সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। যেখানে অর্থনীতির চালিকা শক্তি হবে উন্নত প্রযুক্তি ও উচ্চতর প্রবৃদ্ধি।
এ অধিবেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় সংসদ সদস্যদের সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য স্পিকার সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
সংসদ অধিবেশন পরিচালনায় সহযোগিতা প্রদানের জন্য স্পিকার সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
এছাড়া তিনি চিফ হুইপ ও হুইপবৃন্দ, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বিরোধী দলীয় নেতা, উপনেতাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এর পর স্পিকার অধিবেশন সমাপ্তি সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করেন। বাসস।
বগুড়ায় হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা সংকট, হাইকোর্টের বিচারপতির হস্তক্ষেপে সমাধান হচ্ছে ; স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ কী?
বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার জন্য হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। হাইকোর্টের একজন বিচারপতিকে জানানোর পর এটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে বিষয়টি স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানানো হয়। এর পর তারা কথা দেন রোববারের মধ্যে বগুড়ার এই হাসপাতালের হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার সংকট সমাধান হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন হাইকোর্টের বিচারপতি যদি বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ না করতেন তা হলে এ সমস্যার সমাধান হতো না। সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কী এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। এ ছাড়া যেসব জায়গায় হাইকোর্টে বিচারপতিরা হস্তক্ষেপ করবেন না এখানে এসব সমস্যার সমাধান হবে কী ভাবে ? স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোনো দায়িত্ব নেবে না?
সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস পরিবেশিত খবরে জানান গেছে, বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা সংকটে ৭ করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আরো ১০ জন রোগীর অবস্থা মুমূর্ষ, এমন সংবাদ গণমাধ্যমে দেখে শনিবার মধ্যরাতেই সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে বিচারপতি এম, ইনায়েতুর রহিমকে অবহিত করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। এর পর বিষয়টি এটর্নি জেনারেলকে দেখতে বলেন আদালত। মনজিল মোরশেদ বলেন, রাতেই এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেন। কাল রোববারের মধ্যে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা সংকটের সামাধান হবে।
শুক্রবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, বগুড়ায় পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পেয়ে ৭ জন মারা গেছে। আরো ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত গেল ১৬ ঘণ্টায় চাহিদা অনুযায়ী উচ্চ মাত্রার অক্সিজেন না পাওয়ায় ৭ করোনা রোগীর মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে উচ্চ আদালতের নজরে আনেন এডভোকেট মনজিল মোরশেদ।
উল্লেখ্য, ১ জুলাই থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত চলমান লকডাইনে উচ্চ আদালতে অতীব জরুরি বিষয় শারিরীক উপস্থিতি ব্যাতিরেকে ভার্চুয়ালি শুনানি ও নিস্পত্তির জন্য বিচারপতি এম, ইনায়েতুর রহিমের বেঞ্চসহ তিনটি বেঞ্চকে সুনির্দিষ্ট বিচারিক এখতিয়ার দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা নিজ নিজ বাসা থেকে ভার্চূয়ালী শুনানিতে সংযুক্ত হবেন বলে প্রধান বিচারপতির নির্দেশক্রমে জারি করা এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। যা সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে চলমান লকডাউনে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের না আসতে অনুরোধ জানান হয়।










